বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্যের প্রকারভেদ

মোট প্রশ্ন৭৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্যের প্রকারভেদ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৭৫৪

.
কোন বাক্যে সাপেক্ষ ভাব বিদ্যমান?
  1. ক) ভাল করে পড়লে সফল হবে
  2. খ) ছাতাটা দিন তো ভাই
  3. গ) যা হয় হোক
  4. ঘ) বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ ভাবঃ একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
‘ভাল করে পড়লে সফল হবে’ বাক্যটিতে সফল হওয়া পড়ার উপর নির্ভর করছে। সুতরাং বাক্যটিতে সাপেক্ষ ভাব বিদ্যমান।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
.
"যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।" - বাক্যটির সরলরূপ কোনটি?
  1. পশুরা মাংস ভোজন করে বলে তারা বলবান।
  2. মাংস ভোজন করে পশু বলবান হয়।
  3. মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।
  4. মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান কারণ তারা মাংস ভোজন করে।
ব্যাখ্যা
• "যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।" - এর সরল বাক্যের রূপ: "মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।"
------------------- 

মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য:আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
''বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিকরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।'' বাক্যটি __ বাক্য।
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) জটিল
  3. গ) মিশ্র
  4. ঘ) সরল
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিকরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।
মহারাজ শুদ্ধোদনের পুত্র শাক্যসিংহ যৌবনে সংসার ত্যাগ করেন।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের কোন জোড় ব্যবহার করা হয়?
  1. যেটুকু-সেটুকু
  2. যখন-তখন
  3. যত-তত
  4. যে-সে
ব্যাখ্যা
• সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের ‘যখন-তখন’ জোড় ব্যবহার হয়।
যেমন:
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

--------------------
• জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
.
‘যে লোক মূর্খ সে অবজ্ঞার পাত্র।’ - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
.
‘পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। 

অন্যদিকে, 
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
-  সে যে অপরাধ করেছে,
• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
যৌগিক বাক্যের অন্যতম গুণ কী?
  1. একটি জটিল ও একটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
  2. একটি সংযুক্ত ও একটি বিযুক্ত বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
  3. দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
  4.  দুটি মিশ্র বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন
ব্যাখ্যা
• একটি যৌগিক বাক্যের অন্যতম গুণ হচ্ছে- দুটি সরল বাক্যের সাহায্যে বাক্য গঠন।

• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
অন্যভাবে, দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
'যারা দেশপ্রেমিক তারা দেশকে ভালবাসে' বাক্যটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
'যারা দেশপ্রেমিক তারা দেশকে ভালবাসে' বাক্যটি জটিল বাক্যের উদাহরণ। 

সরল বাক্য
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

জটিল বাক্য
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। 
যেমন –
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিনণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যেমন, বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
আমাকে একটি কলম দাও । তার মঙ্গল হোক ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
.
'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।' বাক্যটির শুদ্ধ জটিল রূপ কোনটি?
  1. ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  2. যদিও ইহারা যেরূপ রূপবতী, তেমন রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  3. যেহেতু ইহারা যেরূপ, সেহেতু এরূপ রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই। 
  4. খ ও গ 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

----------------------
সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০.
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।- কী ধরণের বাক্য?
  1. ক) মৌলিক বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথাবাক্য:
আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য
• যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা - আমাদের এই বসুন্ধরা।
• যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. মিশ্র 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।' - এটি প্রকার বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক
  2. মিশ্র
  3. জটিল
  4. সরল
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
যে ধরনের বাক্যে অনুরোধ, আদেশ, আশীর্বাদ ইত্যাদি প্রকাশ পায় তাকে কী বলে?
  1. ক) বিস্ময়বোধক বাক্য
  2. খ) বিবৃতিমূলক বাক্য
  3. গ) জিজ্ঞাসাবোধক বাক্য
  4. ঘ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

যে ধরনের বাক্যে অনুরোধ, আদেশ, আশীর্বাদ ইত্যাদি প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে।
যেমনঃ
- উঠে দাঁড়াও।
- চুপটি করে বস।
- শিক্ষক মহোদয় শ্রেণীকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে।

সোর্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫.
"যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।" - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. টাকায় কি না হয়।
  2. টাকায় সব হয় না। 
  3. টাকায় কখনো সব হয় না।
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নবোধক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- বাক্যের মূল অর্থ ঠিক রেখে প্রশ্নবাচক বাক্যে কি তুলে দিতে হবে। 
- না, নাই, নি, জানি না, বুঝি না ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
- প্রশ্ববোধক যতিচিহ্ন বাদ দিয়ে দাঁড়ি দিতে হবে।

সে অনুসারে,
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ - টাকায় সব হয় না।

উৎস : বাংলা একাডেমির প্রমিত ব্যাকরণ; ভাষা শিক্ষা- ডহায়াৎ মামুদ। 

১৭.
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।' এটি কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।' একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৮.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।' এটি একটি-
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি'- এটি একটি জটিল বাক্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

-------------------
• সরল বাক্য: 
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন :
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

---------------
• জটিল বাক্যে:  
জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো।

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই।

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]
যেমন:
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

• আরো কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
- ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

-----------------
• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। 
জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। 
যেমন:
- ত্যাগ এবং জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে। এখানে দুটি বাক্য আছে। যেমন :
- ত্যাগ মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে।
- জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে। বাক্য দুটির সংযোজক অব্যয় ‘এবং’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ।
১৯.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে' – বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. খ) বিপদের পরপরই দুঃখ আসে।
  3. গ) আগে বিপদ তারপর দুঃখও আসে।
  4. ঘ) বিপদ তারপর দুঃখ আসে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের যৌগিক বাক্যরূপ হচ্ছে বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।
যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২০.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. ক) সে একটু হাসুক
  2. খ) তার মঙ্গল হোক
  3. গ) সদা সত্য কথা বলবে
  4. ঘ) পরিশ্রম করলে সফল হবে
ব্যাখ্যা

আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা-
আদেশ : সদা সত্য কথা বলবে।
সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত)।

২১.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. দ্বিরুক্ত
  2. সরল
  3. পদাত্মক দ্বিরুক্তি
  4. জটিল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।’- উক্ত বাক্যে একটি কর্তা (বৃষ্টি) এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া (পড়ে) আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।

⇒ সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: 
• পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। 
• তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
-  জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
'যতদিন জীবিত থাকবো ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

এখানে,'এ ঋণ স্বীকার করব' প্রধান বাক্য আর 'যতদিন জীবিত থাকবো' হলো অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য। 'ততদিন' দিয়ে যুক্ত হয়েছে।     

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

২৩.
"যদি তুমি না গিয়ে থাকো, তবে বলোনা কেন?" — বাক্যটির কাঠামো?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। 

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা, যদি- তবে ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন - তখন, যেমন - তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু - সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- যদি তুমি না গিয়ে থাকো, তবে বলোনা কেন?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
অনুরোধ প্রকাশ পেয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ’সুরঞ্জনা’ ওইখানে যেও নাকো তুমি।
  2. খ) আরমান আমার চিঠিটা দিয়ে এসো তো।
  3. গ) আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
  4. ঘ) দোয়া করি, ধনী নয়, মানুষের মত মানুষ হও।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্যঃ যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদি বুঝায় সেই বাক্যকে অনুজ্ঞা বাচিক বাক্য বলে।
২৫.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসকে ____ বলে।
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলাের মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে পদ বিন্যাসকেই বলা হয় ক্রম বা আসত্তি। যেমন- আছে নামে যন্ত্র এক রকম অনুবীক্ষণ। এখানে শব্দগুলাে এলােমেলােভাবে সাজানাে হয়েছে এবং শব্দগুলাের মধ্যে কোনাে অর্থগত মিল নেই। সুতরাং এটি বাক্য নয়। কিন্তু যদি বলা হয়- অণুবীক্ষণ নামে এক রকম যন্ত্র আছে। এখানে বাক্যের শব্দগুলাে। সঠিকভাবে সাজানাে হয়েছে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশে কোনাে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়নি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে কী বলে?
  1. মিশ্র বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
‘সে বলতে চায় তথাপি বলে না’ - এটি কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. ব্যাসবাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বসত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

অতএব, ‘সে বলতে চায় তথাপি বলে না’- এটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
"তাঁর চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি পাকেনি।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি পাকেনি'- এটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য: 
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন,
- লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
- তাঁর চুল পেকেছে, কিন্তু বুদ্ধি পাকেনি। - বাক্যটি ‘কিন্তু’ যোজকযোগে গঠিত যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
২৯.
‘যিনি উপকার করেন, তাঁর সবাই শ্রদ্ধা করেন।’ - কোন ধরনের বাক্য?
  1. মিশ্র বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. প্রশ্নবোধক বাক্য
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
• যেমন:
- যে নির্বোধ, সে একাজ করে।
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
ভাষার বিচারে বাক্যের গুণ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন:
(১) আকাঙ্ক্ষা,
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।

যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।

যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১.
এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠান যুগে নির্মিত হয়েছে। বাক্যের ধরণ নির্ণয় করুন।
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
যৌগিকঃ এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।
মিশ্র / জটিলঃ এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠান যুগে নির্মিত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩২.
আশ্রিত বাক্যের দেখা পাওয়া যায় কোন বাক্যে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। 
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩.
নিচের আসত্তি সম্পন্ন বাক্যটি শনাক্ত করুণ।
  1. ক) কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে
  2. খ) কাল স্কুলে পুরষ্কার উৎসব বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে আমাদের
  3. গ) কাল স্কুলে আমাদের বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে পুরষ্কার
  4. ঘ) কাল আমাদের স্কুলে উৎসব পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে
ব্যাখ্যা
কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩৪.
‘জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. খণ্ড
  3. জটিল
  4. সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি কর্তা বা উদ্দেশ্য ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- খোকন বই পড়ছে।
- আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
- জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
- ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
- দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
- এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৫.
নিচের কোনটি সরল বাক্য নয়?
  1. স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।
  2. মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
  3. তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
  4. মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন;
‘তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম’;
‘মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’।
‘মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি’ এটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
[সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]

৩৬.
”বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে”- কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৩৭.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।' এটি কোন বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র বা জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
ব্যাখ্যা
একটি প্রধান বাক্যের সঙ্গে অঙ্গীভূত এক বা একাধিক খন্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোনো অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষে সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যাবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৩৮.
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" বাক্যটি  যৌগিক বাক্য।

- এই বাক্যের সরলরূপ: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, ফলে প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

• গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার:
(১) সরল বাক্য,
(২) মিশ্র বা জটিল বাক্য,
(৩) যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৯.
যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক কোনটি?
  1. যেহেতু 
  2. যদিও 
  3. সেজন্য
  4. যত-তত 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে, 
• যেহেতু, যদিও, যত-তত যোজকগুলো জটিল বাক্যে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০.
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
  2. গুরুজনদের মান্য করা উচিত।
  3. দেশের সেবা করা কর্তব্য।
  4. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্যের কতিপয় উদাহরণ-
- গুরুজনদের মান্য করা উচিত।
- দেশের সেবা করা কর্তব্য।
- বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১.
"যে গাছটি আমি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।" — এই জটিল বাক্যের সরল রূপ কী হবে?
  1. গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  2. আমি গাছটি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  3. আমার লাগানো গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
  4. সে গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• "যে গাছটি আমি লাগিয়েছি, সেটি দ্রুত বড় হচ্ছে।" - এই জটিল বাক্যের সরল বাক্যের রূপ হলো: "আমার লাগানো গাছটি দ্রুত বড় হচ্ছে।"

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
----------------------------- 
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২.
'তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. বিস্ময়বোধক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না।’ - যৌগিক বাক্য

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন -
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- তারা দুজনে আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩.
সময় নির্দেশ করতে জটিল বাক্যে যোজকের কোন জোড়টি ব্যবহার করা হয়?
  1. যত-তত
  2. যা-তা 
  3. যখন-তখন
  4. যেটুকু-সেটুকু
ব্যাখ্যা

• উত্তর: গ) যখন-তখন।

--------------------
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

• সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের ‘যখন-তখন’ জোড় ব্যবহার হয়।
যেমন:
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪৪.
নিচের বাক্যটিকে প্রশ্নাত্নক বাক্যে রূপান্তর করুন:
'মৃত্যুই জীবনের শেষ।'
  1. মৃত্যু হলো জীবনের শেষ?
  2. মৃত্যু কি জীবনের শেষ নয়?
  3. জীবনের শেষ কি মৃত্যু?
  4. মৃত্যুই কি জীবনের শেষ?
ব্যাখ্যা
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্নক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্নক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।
 
নির্দেশাত্মক বাক্য: মৃত্যুই জীবনের শেষ।
প্রশ্নাত্নক বাক্য: মৃত্যু কি জীবনের শেষ নয়?

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৪৫.
'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল 
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

---------------------
সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৬.
'যখন মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অপ্রধান খণ্ডবাক্য 
  2. সরল বাক্য 
  3. জটিল বাক্য 
  4. যৌগিক বাক্য 
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যখন মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।

উৎস: ভাষ-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭.
'তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন' - বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অধীন বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।

• যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮.
‘প্রিয়াংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) প্রিয়াংবদা যথার্থ কহে নাই
  2. খ) প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহিয়াছে
  3. গ) প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই
  4. ঘ) কোনটিই নাই
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে ‘প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই’ বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে। এখানে এ দুটো বাক্যের মূলভাবের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
৪৯.
'ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. সন্দেহদ্যোতক বাক্য
  3. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য
  4. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় ডাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
- বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক।
- হর্ষ : ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো। হুররে, আমরা জিতেছি।
- ঘৃণা শোক : : ছিঃ ছিঃ। অমন কথা মুখে আনলে কী করে? ছিঃ ছিঃ! তোমার এই কাজ। তুমি এত নীচ।
- ক্রোধ: হায় হায়। কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি। আহা। গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে। এত বড় স্পর্ধা। মুখের ওপর কথা বলে। আমি তোমাকে দেখে নেব।
- ভয় : ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
- আবেগ: বাহ। সুন্দর লিখেছ তো। আদর বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০.
'ওখানে যাস না' - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) প্রার্থনা
  2. খ) উপদেশ
  3. গ) অভিশাপ
  4. ঘ) আদেশ
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:--যে বাক্যে আদেশ,অনুরোধ,উপদেশ,প্রার্থনা ইত্যাদি বুঝায় সেই বাক্যকে অনুজ্ঞা বাচিক বাক্য বলে। প্রশ্নে “ওখানে যাস না” বাক্যটি উপদেশ নির্দেশ করে।
৫১.
'একটু আগে যিনি এখানে এসেছিলেন, তিনি আমার আত্মীয় নন'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) সরল
  3. গ) খন্ড
  4. ঘ) জটিল
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে।
এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে।
যেমন-
লোকটি যদিও ধনী, তবুও সে কৃপণ।
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
একটু আগে যিনি এখানে এসেছিলেন, তিনি আমার আত্মীয় নন।
সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২.
'সৎপথে তার মতি হোক।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. আদেশাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা

• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

---------------------
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
 সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৩.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে তাকে কোন বাক্য বলা হয়?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য 
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল ও যৌগিক।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৫৪.
একটি পরিপূর্ণ বাক্যে কী কী থাকলে তা যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হবে না?
  1. ক) বাগ্‌ধারার রদবদল
  2. খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. গ) উপমার সঠিক প্রয়োগ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, দুর্বোধ্যতা, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্যদোষ, বাগ্‌ধারার রদবদল, গুরুচণ্ডালী দোষ ইত্যাদি থাকলে বাক্য যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৫৫.
‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি ______বাক্য।
  1. অস্তিবাচক বাক্য
  2. নেতিবাচক বাক্য
  3. সমবাচক বাক্য
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
- প্রশ্ন: ‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি ______বাক্য। 

• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
- যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।

যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।
- প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে।
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।
৫৬.
‘তারা তোমাদের ভোলেনি’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

'তারা তোমাদের ভোলেনি' বিবৃতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়।
বিবৃতিবাচক বাক্য- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭.
'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।' এটি একটি ___ বাক্য।
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কঠিন
ব্যাখ্যা
যে-সে, যারা- তারা, যিনি- তিনি, যাঁরা - তাঁরা, যা- তা, প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি - তবে, যদিও-তবু যেহেতু- সেহেতু, যত- তত, যেটুকু - সেটুকু, যেমন - তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। 
যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। 
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৫৮.
'পানিতে নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে' - বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
  5. গ ও ঘ
ব্যাখ্যা

পরষ্পর নিরপেক্ষ দুটি বাক্য মিলিত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠিত হয়।
যেমন - এখানে দুটি নিরপেক্ষ বাক্য হলো 'পানিতে নাম 'এবং 'সাঁতার শিখতে পারবে'।
এই দুটি নিরপেক্ষ বাক্য 'তবে' অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

৫৯.
'আমাকে একটি কলম দাও।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগসূচক
  2. প্রশ্নবোধক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. বিবৃতিমূলক
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

উল্লেখ্য,
বিবৃতিমূলক বাক্য - আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬০.
'বাজার শেষ করে বাড়ি'- বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) যােগ্যতা
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) মাধুর্য
ব্যাখ্যা
'বাজার শেষ করে বাড়ি'— বাক্যটিতে আকাঙ্ক্ষার অভাব রয়েছে। বাজার শেষ করে বাড়ি যাব’ লেখা হলে বাক্যটি দ্বারা সম্পূর্ণ মনােভাব প্রকাশ পেত। যােগ্যতা- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যােগ্যতা হারায়। কারণ রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না। আসক্তি- ‘শেষ বাজার করে যাব বাড়ি’ লিখলে বাক্যের আসত্তি গুণ হারায়। তাই বাক্যের আসত্তি গুণ রক্ষা করতে লিখতে হবে- বাজার শেষ করে বাড়ি যাব।
৬১.
‘যত পরিশ্রম করবে, ততই ফল পাবে'- বাক্যটি-
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্য এবং এক বা একাধিক অপ্রধান বাক্য থাকে তাকে জটিল বা মিত্র বাক্য বলে। এক্ষেত্রে অপ্রধান খণ্ডবাক্য প্রধান বাক্যের উপর নির্ভরশীল থাকে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬২.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে _____তৈরী হয়।
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সহজ বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩.
তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

• তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।

‘বাক্যে তিনি আসতে পারলেন না’ একটি স্বাধীন বাক্য এবং ‘তিনি অসুস্থ’ আর একটি স্বাধীন বাক্য। এই দুটি স্বাধীন বাক্যকে ‘কারণ’ শব্দটি যোজক হিসেবে যুক্ত করেছে।

⇒ যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪.
'যদি বৃষ্টি হয়, তবে বাহিরে যাব না'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) হ্যাঁ-বাচক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি 'জটিল বাক্যের' উদাহরণ।
জটিল বাক্য: 

- এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে।
- গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন,
» সরল বাক্য,
» জটিল বাক্য,
» যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

»সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

»সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• সরল বাক্য - আমার দেখাবে আমার সত্য। জটিল বাক্য - যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

»সরল বাক্য - সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
• জটিল বাক্য - যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০.২২ সংস্করণ) ।
৬৫.
"পড়াশুনায় অসম্ভব বলে কিছু নেই।" - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পড়াশুনায় সবকিছু সম্ভব তাই কিছুই অসম্ভব নয়।
  2. পড়াশুনায় কিছু অসম্ভব নেই তাই সবকিছু সম্ভব।
  3. পড়াশুনায় যা কিছু আছে তা সবই সম্ভব এবং কিছুই অসম্ভব নয়।
  4. পড়াশুনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু অসম্ভব বলে কিছু নেই।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
- সরল বাক্য: পড়াশুনায় অসম্ভব বলে কিছু নেই।
- যৌগিক বাক্য: পড়াশুনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু অসম্ভব বলে কিছু নেই।

- সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
- যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

- সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
- যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৬.
'রক্ষকই ভক্ষক' বাক্যটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

"রক্ষকই ভক্ষক" বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি একটি সরল বাক্য। 

• সরল বাক্য:

- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: 
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৭.
বাক্যের পদগুলিকে অর্থসঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম -
  1. ক) যোগ্যতা
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৬৮.
সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের কোন জোড়াটা ব্যবহার করা হয়?
  1. যা-তা
  2. যারা-তারা
  3. যখন-তখন
  4. যে-সে
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

• সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের - ‘যখন-তখন’ জোড়টি ব্যবহার হয়।
যেমন:
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬৯.
'তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি।' এটি কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

• ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- 'যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।'
- তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০.
'যেসব লোক দুর্জন তারা পরিত্যাজ্য।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: বৃষ্টি হলে বের হব না।
জটিল বাক্য: যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭১.
''এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি সুলতানী আমলে নির্মিত হয়েছে।'' বাক্যের ধরণ নির্ণয় করুন -
  1. ক) জটিল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) মিশ্র
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
খেয়াল করুন-
যৌগিক বাক্য-এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি সুলতানী আমলে নির্মিত হয়েছে।
জটিল বা মিশ্র বাক্য – এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি সুলতানী আমলে নির্মিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যের অন্য নাম মিশ্র বাক্য।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২.
‘সে অশিক্ষিত বটে কিন্তু দেশপ্রেমিক।’- কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. প্রশ্নাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- সে অশিক্ষিত বটে কিন্তু দেশপ্রেমিক।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩.
"যে কাজটি তুমি করতে চাও, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।" — এই জটিল বাক্যের সরলরূপ কী হবে?
  1. তুমি করা কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
  2. তোমার করা কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
  3. তোমার করতে চাওয়া কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
  4. সে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

জটিল বাক্য:যে কাজটি তুমি করতে চাও, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
সরল বাক্য: তোমার করা কাজটি গুরুত্বপূর্ণ।

জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৪.
'সদা সত্য কথা বলবে।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'সদা সত্য কথা বলবে।'-  এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। 

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৭৫.
বাক্যের গঠন নির্ভর করে প্রধানত কয়টি বিষয়ের উপর?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

বাক্যের গঠন নির্ভর করে প্রধানত দুটি বিষয়ের উপর
১. শব্দের (পদের) রূপ ও পারস্পরিক সংগতি এবং
২. এই সংগতি অনুসারে পদসমুহের বিন্যাস।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যাকঃ কোনও সাহেব যদি বলে, 'রাস্তায় করে যাবার সময় গাড়ি দিয়ে যেয়ো' বুঝব সে বাঙালি নয়।'
-ব্যাকুরণের নিয়ম পালিত হয়নি বলে উক্তিটি যথার্থ বাক্য হয়নি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৬.
'ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে আর পারলে না।'- এই বাক্যে কোন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. লজ্জা
  2. ধিক্কার
  3. ঘৃণা
  4. বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে আর পারলে না। বাক্যটি দ্বারা - 'লজ্জা প্রকাশ' পেয়েছে। 

আদেশ বাচক বাক্য (Imperative sentence):
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যথা : শিক্ষক মহােদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে। চুপটি করে বস। উঠে দাঁড়াও। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
- স্বরভঙ্গি তথা বাগৃভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
যথা :
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশে: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তােমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বােঝাতে: বড় শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালাে হয়েছে।
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালাে লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তাে।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তােমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ।
১৩. অনুরােধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তােমার মঙ্গল করুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭.
'দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?'- এখানে 'না' এর ব্যবহার কী অর্থে?
  1. প্রশ্নবোধক
  2. বিষ্ময়সূচক
  3. হ্যাঁ-বাচক
  4. নির্দেশাত্মক
ব্যাখ্যা
• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮.
বাক্যের কোন দুটি অংশ থাকে?
  1. সাধু, চলিত
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়
  3. উপমা, অলংকার
  4. প্রসাদগুণ, মাধুর্যগুণ
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। 
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।

যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।

যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৯.
বাক্যে কী কী থাকলে তা যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হবে?
  1. ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্যদোষ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, দুর্বোধ্যতা, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্যদোষ, বাগধারার রদবদল, গুরুচণ্ডালী দোষ ইত্যাদি থাকলে বাক্য যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮০.
'কাল যদি বৃষ্টি হয়, তবে স্কুল বন্ধ থাকবে' কোন প্রকার বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সংযুক্ত বাক্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য বাক্যটি জটিল বাক্যের উদাহরণ। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
কোনাে কোনাে বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এই অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ।
- এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন- 'সে যদি আসে তবে আমি খাব।' বাক্যটিতে 'সে যদি আসে’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য আর “তবে আমি খাব প্রধান খণ্ডবাক্য।

জটিল বাক্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা
ক. আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য
খ. সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য ও
গ. প্রতি-নির্দেশক সর্বনামযুক্ত জটিল বাক্য।

আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য: যে জটিল বাক্যের আশ্রিত খণ্ডবাক্যটি প্রধান খণ্ডবাক্যের আশ্রয়ে থাকে এবং প্রধান খণ্ডবাক্যের সম্পূরক রূপে কাজ করে তাকে আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- নিপা যে আসবে, তা বলা যায় না।

সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য: যে জটিল বাক্যের আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের বিধেয় ক্রিয়া সংগঠনের উপর নির্ভর করে, তাকে সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- ‘কাল যদি বৃষ্টি হয়, তবে স্কুল বন্ধ থাকবে।'
এ ধরনের জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যে সাধারণত সাপেক্ষ অব্যয় ‘যদি’ এবং আশ্রিত খণ্ডবাক্যে ‘তাহলে / তবে / না হয় ইত্যাদি যুক্ত থাকে।

প্রতি-নির্দেশক সর্বনামযুক্ত জটিল বাক্য: যখন-তখন, যা-তা, যাহা-তাহা, যার-তার, যেখানে-সেখানে, যথা-তথা ইত্যাদি প্রতিনির্দেশক সর্বনাম ব্যবহার করে জটিল বাক্য গঠন করলে। তাকে প্রতিনির্দেশক সর্বনাম যুক্ত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- ‘যখন রােদ উঠল, তখন আমরা বাড়ি পৌছে গেছি।'

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
"যে পরিশ্রম করে সেই সুখ লাভ করে।" - বাক্যের "সেই সুখ লাভ করে" কোন ধরনের খণ্ডবাক্য?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  2. বিশেষ্যস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  3. বিশেষণস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।

অন্যদিকে,
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮২.
'তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. আশ্রিত 
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য: 
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়,তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন :
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।

জটিল বাক্যে- ক. বিশেষ্য স্থানীয়, খ. বিশেষণ স্থানীয়, গ. ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণীয় বিশেষণস্থানীয় জাতিক বাক্য বসে।
ক. বিশেষ্য স্থানীয় (খণ্ডবাক্য) আশ্রিতবাক্য যেমন:
- সে যে উপস্থিত, তা সবাই দেখেছে।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।
[এখানে মোটা অক্ষরের বাক্যগুলো প্রধান বাক্যের 'বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত বাক্য'।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৩.
একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী শর্ত থাকতে হয়?
  1. আসত্তি ও যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি, বাকবিধি ও যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি
  4. আসত্তি, যোগ্যতা ও আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৮৪.
‘লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: 
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন :
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:

- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫.
“যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না”- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) নির্দেশাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্র বাক্য : যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও তাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে। এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে।
যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে; যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো; যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী
৮৬.
‘সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল৷’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭.
"হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠ।"- এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• “হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠ।”- এটি যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন- 
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-- - তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন –
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২২)।
৮৮.
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে—কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষাবাচক
  2. খ) জটিল
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) যৌগিক
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

৮৯.
'উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. মিশ্র
  3. জটিল
  4. সরল
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯০.
কোন বাক্যে যিনি-তিনি, যা-তা, যে-সে ইত্যাদি সর্বনাম থাকে?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

তেমনিভাবে,
সরল বাক্য: 'তিনি এ বাড়িতে থাকতেন।'
জটিল বাক্য: এ সেই বাড়ি যেটিতে তিনি থাকতেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯১.
'ড. আখতার হামিদ খান হলেন বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- ড. আখতার হামিদ খান হলেন বাংলাদেশর পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২.
‘নালিশটা অযৌক্তিক' কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) নেতিবাচক
  2. খ) অস্তিবাচক
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) প্রশ্নবাচক
ব্যাখ্যা
অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।
যেমন - তুমি কালকে আসবে।
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য 'নালিটশটা অযৌক্তিক' - এটি অস্তিবাচক বাক্য।
এর নেতিবাচক রূপ - নালিশটা যৌক্তিক নয়।
৯৩.
"আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।" - বাক্যের "আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম" কোন ধরনের খণ্ডবাক্য?
  1. বিশেষণস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  2. বিশেষ্যস্থানীয় খণ্ডবাক্য
  3. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।
 
অন্যদিকে,
বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯৪.
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) প্রশ্নবোধক
  2. খ) অনুজ্ঞাবাচক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) নির্দেশাত্মক
ব্যাখ্যা
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে আদেশ, উপদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ইত্যাদি প্রকাশ পায়। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯৫.
‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’-এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে।
- এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
- যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।
- যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

তেমনিভাবে,
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
৯৬.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. বাইরে এলাম এবং প্রায় প্রভাত হয়েছে দেখলাম।
  2. পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি ভায়।
  3. এই সব প্রকাণ্ড গাছের ভিতর যে মানুষ আছে তাকে বলাই যেন দেখতে পায়।
  4. আমার এক চাকর ছিল তার নাম আবদুল রহিম।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি ভায়।

অন্যদিকে,
- বাইরে এলাম এবং প্রায় প্রভাত হয়েছে দেখলাম।; আমার এক চাকর ছিল তার নাম আবদুল রহিম।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- এই সব প্রকাণ্ড গাছের ভিতর যে মানুষ আছে তাকে বলাই যেন দেখতে পায়।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭.
কোনটি বিবৃতিমূলক বাক্য?
  1. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  2. কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
ব্যাখ্যা
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

অন্যদিকে,
প্রশ্নবোধক বাক্য - সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য - আমাকে একটি কলম দাও।
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৮.
দোষ স্বীকার করলে তোমাকে কোন শাস্তি দেবনা এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. সরল
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা-
- অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
- ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
- অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।

অর্থ্যাৎ,
সরল বাক্য: দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।

জটিল বাক্য: যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৯.
'তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে নেয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ-
  1. তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে নেয় না।
  2. তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না।
  3. তবু না দেখা বিষয়টি সবার না মানার উপায় থাকে না।
  4. তবু না দেখা বিষয়টি সবার মানতে হয়।
ব্যাখ্যা
• 'তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে নেয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ - তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না

• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

• অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে। যেমন -
'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০০.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. বৃষ্টি থামল এবং আমরা স্কুলে রওনা হলাম।
  2. সাঁতার কাট, তবে স্বাস্থ্য ভালো হবে।
  3. যখন বৃষ্টি থামল, তখন আমরা স্কুলে রওনা হলাম।
  4. তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য: যখন বৃষ্টি থামল, তখন আমরা স্কুলে রওনা হলাম।
• যৌগিক বাক্য: বৃষ্টি থামল এবং আমরা স্কুলে রওনা হলাম।

অপশনে প্রদত্ত যৌগিক বাক্যগুলো হলো-
• বৃষ্টি থামল এবং আমরা স্কুলে রওনা হলাম।
• সাঁতার কাট, তবে স্বাস্থ্য ভালো হবে।
• তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।