উত্তর
ব্যাখ্যা
Source: History.com
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১ / ১২ · ১,০০১–১,১০০ / ১,১৮৫
• জাস্টিনিয়ান কোড (Justinian Code) :
- জাস্টিনিয়ান কোড হলো বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ান - এর নির্দেশে ৫২৮-৫৩৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সংকলিত রোমান আইনের একটি বিশাল ও যুগান্তকারী সংগ্রহ।
- এটি আধুনিক ইউরোপীয় সিভিল আইন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আজও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেনসহ অনেক দেশের আইন ব্যবস্থায় এর প্রভাব রয়েছে।
- এটি ৪ খন্ডে বিভক্ত।
উল্লেখ্য,
- জাস্টিনিয়ানের শাসনকালে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য (বাইজেন্টাইন) আইনি বিশৃঙ্খলায় ভুগছিল।
- রোমান আইনের বিভিন্ন সংগ্রহ ছিল পুরনো, অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বহুবিধ ।
- জাস্টিনিয়ান চেয়েছিলেন একটি সুসংগঠিত, স্পষ্ট এবং একক আইনি ব্যবস্থা যাতে – আইনের অসঙ্গতি দূর হয়, আদালতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, রোমান আইনের ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়, খ্রিস্টান মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০৮ অব্দে এথেন্সে বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়। এটি ছিল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিত।
গণতন্ত্রের সূচনা:
- 'গণতন্ত্র' পরিভাষাটি ইংরেজি 'Democracy' থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র - ব্রিটানিকা ও কালের কণ্ঠ।
• রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।
তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কলোসিয়াম:
- কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে।
⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো।
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার।
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
সুমেরীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল:
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা।
- তাদের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে। তাদের নামানুসারে এ অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল।
⇒ নগররাষ্ট্র:
- কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে সুমেরীয়রা সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছিল।
- সুমেরীয়রা কতকগুলি নগরের গোড়াপত্তন করেছিল।
- এগুলোর মধ্যে তাদের রাজধানী ছিল উর।
- রাজধানী উর ছাড়াও সভ্যতার প্রাণ কেন্দ্র ছিল লাগাস, কিস, ইরিদু এবং উরুক অন্যতম।
- সুমেরীয়রা প্রথম মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে খাল খনন, জলাশয় ও বাঁধ নির্মাণ করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং নিজেদের উন্নতি ঘটিয়ে নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটায়।
- ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রায় ১৮টি নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব নগর রাষ্ট্রের প্রশাসকরা 'এনসি' নামে পরিচিত ছিলেন।
- বিখ্যাত শাসক সারগন সুমেরের নগর রাষ্ট্রগুলিকে একত্রিত করে সভ্যতার বিকাশ ঘটান।
- সুমেরিয়ায় সারগনের প্রতিষ্ঠিত আক্কাদীয় রাজ্য দুশো বছর স্থায়ী ছিল।
উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মিশরীয় সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় নয়।
মেসেপটেমীয় সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতা। -
- আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও ইরাক অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল প্রাচীন এই সভ্যতা। মেসোপটেমিয়া এলাকার বেশির ভাগ বর্তমানে ইরাকে অবস্থিত।
- এটি ছিলো - নদীমাতৃক সভ্যতা। মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- 'মেসোপটেমীয়' কথাটি দ্বারা বুঝায় 'দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল'। অর্থ্যাৎ,
- ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলেই এই সভ্যতার উত্থান হয়েছিলো।
- গ্রীকরা এই অঞ্চলকে 'মেসোপটেমিয়া' নামকরণ করেন।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি।
যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাসেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
স্পেনে মুসলিম শাসন:
- মুসলিম শাসনামলে স্পেন আন্দালুসিয়া নামে পরিচিত ছিল।
- এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের একটি বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
- এই শাসনকাল ৭১১ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়ে ১৪৯২ সালে গ্রানাডার পতনের মাধ্যমে শেষ হয় যা প্রায় ৮০০ বছরের দীর্ঘ সময়।
- মুসলিম স্পেনে একসময় ছিল বিজ্ঞান, সাহিত্য, স্থাপত্য ও ধর্মীয় সহাবস্থানের অনন্য নজির।
- মুসলমান শাসনের অধীনে আন্দালুস একটি সাম্যবাদী সমাজে পরিণত হয়, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা একত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করেছিল।
- এটি ‘Convivencia’ নামে পরিচিত যা এই যুগে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
উল্লেখ্য,
- মধ্যযুগে যেসকল স্থানে আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এর মধ্যে স্পেন অন্যতম।
- শুরুতে স্পেন দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের অধীনে একটি প্রদেশ হিসেবে পরিণত হয়।
- ৭৫৬ সালে আব্দুর রহমান আদ্-দাখিল এখানে একটি স্বাধীন উমাইয়া আমীরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৯২৯ সালে তৃতীয় আব্দুর রহমান এই আমীরাতকে খিলাফতে উন্নীত করেন।
- ১০৩১ সালে উমাইয়া খিলাফতের অবসানের পর স্পেনে আরব, বার্বার ও স্লাভরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশের সৃষ্টি করে শাসন করতে থাকে।
- উত্তরের খ্রিস্টানরা ক্রমাগত আক্রমণ করে যখন ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি একে একে গ্রাস করছিল।
- সেসময় উত্তর আফ্রিকার মরক্কো হতে মুরাবিতুন (১০৯১-১১৪৬) রাজবংশ স্পেনের রাজক্ষমতা গ্রহণ করে এবং মরক্কো হতেই স্পেন শাসন করতে থাকে।
- এরপর মুরাবিতুনদের হটিয়ে মুয়াহিদুন (১১৪৬-১২৪৮) রাজবংশ মরক্কো হতে স্পেন শাসন করে।
- স্পেনে মুসলিমদের শেষ রাজবংশ ছিল গ্রানাডার নসর বংশ (১২৩২-১৪৯২)।
- ১৪৯২ সালে এই বংশের পতনের মধ্য দিয়ে স্পেনে মুসলিম শাসনের চির অবসান হয়।
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর:
- পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর হলো জেরিকো (Jericho)।
- এটি প্রাচীনতম পরিচিত প্রতিরক্ষা প্রাচীরের শহরও বটে।
⇒ জেরিকো বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত যা পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর হিসেবে বিবেচিত।
- প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, এর উৎপত্তি প্রায় ৯০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- দামেস্ক এবং আলেপ্পোর মতো শহরগুলোও প্রাচীন, তবে জেরিকোর ইতিহাস তাদের তুলনায় পুরোনো।
অন্যদিকে,
- দামেস্ক বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে জনবসতিপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৩,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা শহর হিসেবে পরিচিত।
উৎস: i) Britannica.
ii) Times of India.
কমোডাস প্যাসেজ:
- কমোডাস প্যাসেজ মূলত রোমান সাম্রাজ্যের (Roman Empire) সাথে সম্পর্কিত। এটি ইতালিতে অবস্থিত।
⇒ রোমান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গ ‘কমোডাস প্যাসেজ’।
- এখানে বসেই কলোসিয়ামের মঞ্চে গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই উপভোগ করতেন রোমান সম্রাটরা।
- জনসাধারণের সংস্পর্শ এড়াতেই গোপন এ সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন তারা।
- কথিত আছে, রোমান ইতিহাসের কুখ্যাত সম্রাট কমোডাস হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন এই টানেলেই।
⇒ মূলত, প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের এক ত্রাসের নাম কমোডাস, যিনি ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছেন ক্ষমতা, বিলাসিতা আর নির্মমতার জন্য।
- জনতার চোখ এড়িয়ে এই সুড়ঙ্গ তথা ‘কমোডাস প্যাসেজ’-এ বসেই ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে গ্ল্যাডিয়েটরদের বাঁচা-মরার লড়াই উপভোগ করতেন এই রোমান সম্রাট।
⇒ ঐতিহাসিক মতবাদ অনুযায়ী, কলোসিয়ামের মূল নকশার অংশ ছিল না এই প্যাসেজ। খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের শেষ ভাগ থেকে দ্বিতীয় শতকের শুরুতে কলোসিয়ামের ভিত্তির নিচ দিয়ে নতুন করে কেটে তৈরি করা হয় গোপন এই সুড়ঙ্গ। যাতে সম্রাটরা এড়াতে পারেন সাধারণ মানুষের সরাসরি সংস্পর্শ।
উৎস: BBC.
• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- বর্তমান লেবানন এবং সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এই প্রাচীন সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা স্থলপথের চেয়ে জলপথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল।
- গ্রীকরা এদের নাম দিয়েছিল 'ফিনিশীয়' বা 'পার্পল পিপল' (Purple People), কারণ তারা এক ধরণের বিশেষ সামুদ্রিক শামুক থেকে রাজকীয় বেগুনি রং তৈরি করত এবং এর ব্যবসা করত।
• বর্ণমালা আবিষ্কার (Invention of Alphabet):
- ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি সেট তৈরি করে, যা ছিল আধুনিক বর্ণমালার পূর্বপুরুষ।
- পরবর্তীতে গ্রীকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ (Vowels) যুক্ত করে এবং রোমানদের হাত ধরে তা বর্তমান ইংরেজি বর্ণমালায় রূপ নেয়।
• প্রধান নগর রাষ্ট্রসমূহ:
- ফিনিশীয়রা কোনো একক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেনি, বরং তারা ছোট ছোট স্বাধীন 'নগর রাষ্ট্র' বা 'সিটি স্টেটস'-এ বিভক্ত ছিল।
- তারা ছিল প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করতে জানত, যাকে গ্রীকরা 'ফিনিশীয় তারা' বলত।
• কার্থেজ (Carthage):
- ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় (বর্তমান তিউনিসিয়া) অবস্থিত 'কার্থেজ' ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যা পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য,
- আলেকজান্ডার ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের প্রধান শহর টায়ার দখল করে নিলে ফিনিশীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং তারা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।
উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং বিশ্ব ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।
- প্রাচীন চীনে ভাগ্যগণনা এবং রেকর্ড রাখার জন্য হাড়ের উপর লেখা হতো, এটা 'ওরাকল বোন' নামে পরিচিত। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এর মাধ্যমে প্রাচীন চীনা লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
চৈনিক সভ্যতা:
- প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং ধারাবাহিকভাবে বিকশিত সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচিত।
- প্রায় ৪০০০ বছর পূর্বে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে, চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং নদীর তীরে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- নদীগুলোর উর্বর তীরভূমি এবং পানির সহজলভ্যতা কৃষিভিত্তিক জীবনব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করে, যার ফলে সমাজ ও শাসনব্যবস্থার একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়। চীনের তিনটি অঞ্চল—হোয়াংহো নদী তীর, ইয়াংসিকিয়াং নদী তীর, এবং দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে—এই সভ্যতার বিস্তৃত প্রভাব পড়ে।
উল্লেখ্য,
- চৈনিক সভ্যতা কখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি; বরং এটি আজ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। শাং (Shang) ও জোও (Zhou) রাজবংশের শাসনামলে সভ্যতার ভিত দৃঢ় হয় এবং সমাজ, প্রশাসন ও ধর্মীয় রীতিনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটে।
সূত্র: হিস্টরি.কম ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
- মিনোয়ান সভ্যতা এজিয়ান সাগরের ক্রিট দ্বীপে গড়ে উঠেছিল। এটি মিশরীয় প্রভাব সত্ত্বেও নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছিল এবং এর elaborate প্রাসাদ ও সুন্দর দেয়ালচিত্রের জন্য পরিচিত ছিল।
মিনোয়ান সভ্যতা:
- মিনোয়ান সভ্যতা ছিল ইউরোপের প্রথম সুসংগঠিত ব্রোঞ্জ যুগের উন্নত সভ্যতা, এটি প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত ক্রিট দ্বীপে বিকশিত হয়।
- সভ্যতাটির নাম এসেছে কিং মিনোসের নাম থেকে, যিনি গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীতে ল্যাবিরিন্থ ও মিনোটরের সঙ্গে যুক্ত।
- মিনোয়ানদের প্রধান নগরী ছিল কনোসোস।
- এরা দক্ষ নাবিক ও ব্যবসায়ী ছিল।
- মিনোয়ানরা ‘লিনিয়ার-এ’ নামক একটি লিপি ব্যবহার করত।
- সমাজ ব্যবস্থায় ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং নারীদের উচ্চ মর্যাদা।
- শিল্পকলায় তারা ছিল অগ্রগামী—বিশেষত তাদের দেয়ালচিত্র, মৃৎপাত্র ও অলংকার ছিল অত্যন্ত রঙিন ও জীবন্ত।
সূত্র: ব্রিটানিকা।
⇒ 'Hagia Sophia' বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন।
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
ব্যবিলনীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা অপর সভ্যতা (ব্যাবিলনীয়) সভ্যতার জনক ছিলো-সেমিটিক জাতি।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি। প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সেমিটিক জাতির অবদান সর্বাধিক। প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে। সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা আরব মরুভূমির উত্তরাঞ্চল থেকে মেসোপটেমিয়ায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যবিলনে সভ্যতা গড়ে তোলে। এই সভ্যতাকে প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা বলা হয়।
⇒ ব্যবিলনীয় সভ্যতা চরম খ্যাতি অর্জন করে বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরারীর শাসনামলে। হাম্মুরারীর আইন জগত বিখ্যাত। পরবর্তীতে ব্যবিলনীয় সভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ব্যবসা বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করে।
⇒ রাজা হাম্মুরাবী (১৭৯২-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন এ্যামোরাইট জাতির বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ক্যালডীয়:
- খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার। তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত।
- হাম্মুরাবির পর থেকে প্রায় এক হাজার বছরব্যাপী যুদ্ধ বিগ্রহ আর হানাহানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মেসোপটেমিয়া।
- নেবুচাঁদ নেজারের হাতে ব্যাবিলন আবার শক্তি ফিরে পায়। সিরিয়া অধিকার করে রাখা মিশরীয়দের তিনি তাড়িয়ে দেন।
- নেবুচাঁদ নেজার খুব কঠোর শাসক ছিলেন। তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তিনি জেরুজালেম নগরী খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ধ্বংস করে দেন এবং ইহুদি অধিবাসীদের বন্দি করে খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলনে আটকে রাখেন।
- ইতিহাসে এর নাম 'ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা'। খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
• অবদান:
- বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষত জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের যথেষ্ট অবদান লক্ষ্য করা যায়।
- ধর্মীয় কারণে তারা গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে। তাই জ্যোতির্বিদ্যায় তারা হয়ে উঠেছিল দক্ষ।
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে। বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।
উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ইতিহাস প্রথম পত্র।
ফা হিয়েন:
- ফা-হিয়েন ছিলেন একজন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী ও পরিব্রাজক।
- তিনি বাংলায় আগমনকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন এবং ভ্রমণকালে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন।
- ভারতে আগত চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁর লিখিত বিবরণ পাওয়া যায়, তিনি ফা-হিয়েন।
- তিনি পঞ্চম শতকের সূচনায় ভারত ভ্রমণ করেন।
- সে সময় গুপ্ত বংশীয় শাসকরা বাংলার অংশবিশেষসহ ভারত শাসন করছিলেন।
- ফা-হিয়েন ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং ১৪ বছর পর (প্রায় ৪১৩ খ্রি.) চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ভারত ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে তিনি সীমান্ত রাজ্য চম্পার মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- তাঁর প্রধান গন্তব্য ছিল তৎকালীন বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান তমলুক, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত)।
- তাম্রলিপ্তি থেকেই তিনি সমুদ্রপথে বৌদ্ধপ্রধান দেশ শ্রীলংকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
- শ্রীলংকা যাওয়ার পূর্বে তিনি দীর্ঘ দুই বছর তাম্রলিপ্তিতে অবস্থান করেন।
উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারো ও পাঞ্জাবের হরপ্পা শহরে।
- সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদের অববাহিকায়, তাই এর নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- অনেক সময় একে হরপ্পা সভ্যতা বা হরপ্পা সংস্কৃতি বলা হয়।
- সিন্ধু সভ্যতার মানুষরা ছিল মূলত দ্রাবিড় জাতি, তবে তাদের মধ্যে অস্ট্রোলয়েড, ভূ-মধ্যসাগরীয়, মঙ্গোলীয় ও আলপানীয় জাতির লোকও ছিল।
- এই কারণে সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে দ্রাবিড়ীয় সংস্কৃতি বলা হয়।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৫০ সালে এক বড় বন্যায় হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো শহর প্লাবিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
- সিন্ধু সভ্যতার মানুষরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে রাজা দ্বিতীয় জেমসের পতন ঘটে এবং উইলিয়াম ও মেরি সিংহাসনে বসেন। এই বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution):
- গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution) ছিল ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন।
- ১৬৮৮ সালে রাজা দ্বিতীয় জেমসের স্বেচ্ছাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভে উইলিয়াম অব অরেঞ্জকে সিংহাসনে আহ্বান করা হয়। এই বিপ্লব রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন হয়, তাই একে ‘গৌরবময়’ বলা হয়।
- উইলিয়াম ও মেরির অভিষেকের মাধ্যমে প্রোটেস্ট্যান্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ক্যাথলিক প্রভাব কমে যায়। ১৬৮৯ সালে গৃহীত Bill of Rights রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে এবং সংসদের অধিকার সুনিশ্চিত করে। এর ফলে সংবিধানিক রাজতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ধারার প্রসার ঘটে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠা পায়।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও World History Online Textbook.
- গ্রীকদের 'ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের দেবতা' আফ্রোডাইট।
- কৃষিবিষয়ক দেবী ডিমিটার।
- দেবতাদের রাজা জিউস এবং
- যুদ্ধদেবতা এরিস।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের শহর।
- এই শহরের ধ্বংসাবশেষ বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৮৯ কিমি) দক্ষিণে, ইরাকের আধুনিক শহর আল-হিল্লার কাছে অবস্থিত।
- এটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে আমোরীয় রাজাদের শাসনের অধীনে আসে।
- শহরটি ব্যাবিলোনিয়ার রাজধানী হয়ে ওঠে এবং টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ব্যবস্থার প্রধান বাণিজ্যিক শহর ছিল।
- এটি নেবুচাঁদনেজার দ্বিতীয় এর অধীনে নিও-ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসাবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন করেছিল।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
মিশরীয়দের লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের মন্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- পরে এই কাগজের উপর তারা লিখতে শুরু করে।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। যে শব্দ থেকে ইংরেজি ‘পেপার’শব্দের উৎপত্তি।
- এখানে উল্লেখ্য নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় একটি পাথর আবিষ্কৃত হয়, যা রসেটা স্টোন নামে পরিচিত।
- এতে গ্রিক এবং ‘হায়ারোগ্লিফিক’ ভাষায় অনেক লেখা ছিল; যা থেকে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা যায়।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।