বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা ১১ / ১২ · ১,০০১১,১০০ / ১,১৮৫

১,০০১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ পুনর্গঠনের প্রোগ্রাম “Marshall Plan” - এর প্রবক্তা কোন দেশ?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
  5. ঙ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
The Marshall Plan was an American initiative passed in 1948 to aid Western Europe, in which the United States gave over $12 billion in economic assistance to help rebuild Western European economies after the end of World War II.
Source: History.com
১,০০২.
'ককেশীয়' সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. গায়ের রং বাদামি
  2. চুলের রং বাদামি
  3. মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির
  4. ঠোঁট পাতলা ধরনের
ব্যাখ্যা
ককেশীয়:
- ককেশীয় বা শ্বেতকায় ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি।
- এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।

উল্লেখ্য,
- মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অধিবাসী ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর।

অন্যদিকে,
⇒ মঙ্গোলীয় বা বাদামি মঙ্গোলীয়দের মাথার আকৃতি প্রধানত চওড়া এবং গোল। এদের মুখাকৃতি চওড়া ও খর্বাকৃতির, নাক মোটা এবং চ্যাপটা। এদের গায়ের রং বাদামি বা হলুদ ধরনের, ঠোঁট মাঝারি ধরনের, চোখ কালো বাদামি। একমাত্র মঙ্গোলীয়দের চোখের পাতায় একটি ভাঁজ থাকে যাকে এপিক্যানথিক ফোল্ড বা নৃতাত্ত্বিক ভাঁজ বলে। মঙ্গোলীয়রা উচ্চতায় মাঝারি এবং তাদের শারীরিক গঠন খুব সুঠাম ও শক্তিশালী।

⇒ নিগ্রীয় বা কৃষ্ণকায় নিগ্রোদের মাথা সাধারণত লম্বাকৃতির, তবে কারো কারো মাথা চওড়া। এদের মুখাকৃতি ককেশীয়দের মতো অতটা লম্বা বা সরু নয়। এদের নাক মোটা ও মাংসল। এদের গায়ের রং ঘোর কৃষ্ণবর্ণের হয়ে থাকে। নিগ্রোদের ঠোঁট মোটা ও পুরু, চোখের রং কালো, কান ছোট ও প্রশস্ত। এদের চুলের রং কালো ও চুল কোঁকড়ানো হয়ে থাকে। নিগ্রো জনগোষ্ঠীর লোকেরা লম্বাকৃতি, মাঝারি এবং খর্বাকৃতি ধরনের হয়ে থাকে।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) The New York Times.
১,০০৩.
'অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড' শুরু হয় কত তারিখ?
  1. ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
  2. ৮ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
  3. ৯ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
  4. ১০ অক্টোবর, ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা
অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড:

- ইসরাইলে হামাস ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে আক্রমণের মধ্য দিয়ে দুদেশের সংঘাত শুরু হয়।
- এ লড়াইয়ের নাম দেয়া হয়েছে 'অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড'।
- বস্তুত বন্যার জলের মতই সশস্ত্র হামাস বাহিনী ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে।
- এর আগে ২০২১ সালে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ১১ দিন ধরে সংঘাত চলেছিল। 
- হামাস সদস্য ইজেত আল-রাশক জানান, আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা লড়ছেন।
- ইহুদিদের এখন উৎসব পর্ব চলছে।
- সেই উৎসবের শেষ দিনে এই আঘাত হেনেছে হামাস।
- ইসরায়েলের বন্দর শহর তেল আবিবের উত্তরে পর্যন্ত রকেট হামলা করা হয়েছে।
- সেই সাথে হামাসের সশস্ত্র বাহিনী ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের দক্ষিণে।

তথ্যসূত্র - ৮ অক্টোবর, ২০২৩, বিবিসি বাংলা ও দৈনিক যুগান্তর, ০৩ নভেম্বর ২০২৩।
১,০০৪.
‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির কোন সভ্যতার শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি?
  1. ক্যালডীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল -
  1. ১৯১৩-১৯১৭
  2. ১৯১৪-১৯১৮
  3. ১৯১৫-১৯১৯
  4. ১৯১৬-১৯২০
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:

- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে - আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল ১৯১৪-১৯১৮ সাল।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল: রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১,০০৬.
রেনেসাঁ যুগের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. শিল্পকলা
  2. যুক্তিবাদ
  3. পুঁজিবাদ
  4. মানবধর্ম
ব্যাখ্যা
পুঁজিবাদ রেনেসাঁ যুগের বৈশিষ্ট্য নয়। 

রেনেসাঁ:

- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

⇒ রেনেসাঁ যুগের বৈশিষ্ট্য:
- মানবতাবাদ: রেনেসা দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল মানবতাবাদ। মানবতাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধ্রুপদী সাহিত্য চর্চা। সে সময়ের মানবতাবাদ (Humanism)-কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: i. পেত্রার্কের পুনর্জন্মবাদ, ii. পৌর মানবতাবাদ ও iii. নতুন ধাতুত্ববাদ।

- ব্যক্তিত্বের বিকাশ: রেনেসাঁর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ব্যক্তিত্বের বিকাশ। এ বিকাশ শিল্পকলা, সাহিত্যসহ সর্বক্ষেত্রে লক্ষণীয়। 

- যুক্তিবাদী মানসিকতার উদ্ভব: রেনেসাঁর উদ্ভব হয়েছিল মানুষের যুক্তিবাদী মানসিকতা ও ধ্যানধারণা থেকে। তখন ইউরোপে যেকোন বিষয়ে যুক্তিবাদী আলোচনার সূচনা হয়। সে সময় মানুষ মধ্যযুগীয় ধ্যানধারণাকে যুক্তির আলোচনায় যাচাই করতে শুরু করে এবং এরফলে অনেক তত্ত্বই ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

- ধর্মনিরপেক্ষতা: রেনেসাঁর সর্বপ্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা এবং এটাই ছিল রেনেসাঁর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। 

- ধর্মনিরপেক্ষ ও জীবনমুখী সাহিত্য: রেনেসাঁর সময় ইউরোপে যেসব সাহিত্য রচিত হয়েছিল তার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও জীবনমুখিতা। 

- চিত্রকলা: ধর্মীয় বিষয়াদির পাশাপাশি প্রকৃতি, মানুষ, বাস্তবতা প্রভৃতি চিত্রকলায় স্থান পায়। চিত্রকলা নিয়মগতভাবেও পরিবর্তিত হয়। আলো ছায়া, মানবদেহের সঠিক সংস্থাপন প্রভৃতি চিত্রকলায় প্রতিফলিত হয়। এ সময়কার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীরা হলেন মাসা কেকা, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, রাফেল, মাইকেল অ্যাঞ্জেলা, টাইটিয়ান প্রমুখ। এছাড়া ভাস্কর্যে দোনাতোল্লা, অ্যাঞ্জেলা এবং স্থাপত্য ব্রামান্ডে নতুনত্ব নিয়ে আসেন।

- বিজ্ঞানের চর্চা: এ সময়কার গবেষকরা প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন। আর এক্ষেত্রে কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, কেল্লার, টলেমি প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,০০৭.
কোন নৃগোষ্ঠী 'দেল' নামক পোশাক পরিধান করে?
  1. ককেশীয়
  2. মঙ্গোলীয়
  3. নিগোয়েড
  4. অস্ট্রিলীয়
ব্যাখ্যা
দেল নামক পোশাক পরিধান করেন মঙ্গোলীয়রা।

মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠী:

- মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মূল স্থান মঙ্গোলিয়া, যা চীনের উত্তরাংশে অবস্থিত। এটি ঘন তৃণভূমি এবং প্রচুর উচুঁ পাহাড়ে ভরা।
- মঙ্গোলীয়রা একটি প্রচলিত nomadic (যাযাবর) জীবনযাপন করে। তারা ঘোড়ার পেছনে বেশী নির্ভরশীল এবং ঘোড়া পালনের জন্য পরিচিত।
- মঙ্গোলীয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে গান, নৃত্য এবং কথাসাহিত্য। তাদের ঐতিহ্যগত গানগুলোর মধ্যে "হোোমেই" নামে এক বিশেষ ধরণের গান উল্লেখযোগ্য।
- ১২শ শতাব্দীতে চেঙিস খান (Genghis Khan) এর নেতৃত্বে মঙ্গোলীয় সাম্রাজ্য বিশ্বে বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বৌদ্ধ ধর্ম এবং শামানিজম উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। শামানিজম প্রাচীন এবং প্রচলিত বিশ্বাস, যেখানে প্রকৃতি এবং আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা থাকে।
- মঙ্গোলীয় ভাষা আলতাইক ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। এটি লেখার জন্য একটি নিজস্ব বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- মঙ্গোলীয়রা ঐতিহ্যবাহী "দেল" নামে একটি পোশাক পরে, যা সাধারণত উষ্ণ এবং আরামদায়ক।

উৎস: ব্রিটানিকা, Cultural Atlas.
১,০০৮.
ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল-
  1. ইরাক
  2. গ্রিস
  3. ইরান
  4. স্লোভানিয়া
ব্যাখ্যা
ইজিয়ান সভ্যতা:
- ইজিয়ান সভ্যতা প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।
- ইজিয়ান সাগরের অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় ৭০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে এবং প্রায় ৩০০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্বে গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার অপর নাম মিনীয় (Minoan) সভ্যতা।
- মিনীয় সভ্যতা অঞ্চলটি ক্রিট, সাইক্লেডস এবং অন্যান্য কিছু দ্বীপ এবং গ্রীক মূল ভূখন্ড, পেলোপোনিজ, মধ্য গ্রীস এবং থেসালি নিয়ে গঠিত।
- ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গ্রিস।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চল নিয়ে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে।
- ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

উৎস: Britannica.
১,০০৯.
জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক কোন সভ্যতার মানুষদের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন?
  1. পারস্য সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. রোমান সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১০.
'বার বিধি' (The Twelve Tables) কী?
  1. রোমান আইনের ভিত্তি
  2. স্থাপত্যের ১২টি নির্দেশনা
  3. ফুটবল খেলার নিয়মাবলি
  4. স্থানীয়/দেশি খেলা
ব্যাখ্যা
'বার বিধি' (The Twelve Tables):
- খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে সর্বপ্রথম লিখিত রোমান আইন প্রচলিত হয়। ইতিহাসের পাতায় 'Twelve Tables বা বারো বিধি' নামে পরিচিত সেই আইনের মাধ্যমে রোমে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। প্রায় বারটি ধাপে রোমের সকল নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রণীত সেই বারো টেবিল আইনটি আজও ইতিহাসবিদগণের নিকট এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

• রোমান সভ্যতা:

- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

⇒ সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০১১.
কুর্দি কোন অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী?
  1. ক) চীনের জিনজিয়াং
  2. খ) মধ্যপ্রাচ্য
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
- কুর্দি হলো মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতিগোষ্ঠীর নাম।
- দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক, পশ্চিম ইরান এবং উত্তর ইরাকে কুর্দি জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস। এছাড়া সিরিয়া ও আর্মেনিয়ায় কুর্দি জনগোষ্ঠী রয়েছে।
- জনসংখ্যায় কুর্দিরা প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ মিলিয়ন। কিন্তু এদের নিজস্ব কোন দেশ নেই।
- কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দিস্থান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ডটকম)
১,০১২.
বলশেভিক বিপ্লবের নেতা কে ছিলেন?
  1. ফ্লেডরিক এঙ্গেলস
  2. স্ট্যালিন
  3. ভ্লাদিমির লেনিন
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
রুশ বিপ্লব: 
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। 
- এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব। 
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯৯৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।

ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলে। 
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়। 
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে। 
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।

তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com
১,০১৩.
'জাস্টিনিয়ান কোড' কী ? 
  1. ধর্মগ্রন্থ 
  2. সামরিক কৌশল
  3. আইনের সংকলন 
  4. স্থাপত্যের নিয়ম
ব্যাখ্যা

• জাস্টিনিয়ান কোড (Justinian Code) : 
- জাস্টিনিয়ান কোড হলো বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ান - এর নির্দেশে ৫২৮-৫৩৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সংকলিত রোমান আইনের একটি বিশাল ও যুগান্তকারী সংগ্রহ। 
- এটি আধুনিক ইউরোপীয় সিভিল আইন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আজও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেনসহ অনেক দেশের আইন ব্যবস্থায় এর প্রভাব রয়েছে।
- এটি ৪ খন্ডে বিভক্ত। 

উল্লেখ্য,
- জাস্টিনিয়ানের শাসনকালে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য (বাইজেন্টাইন) আইনি বিশৃঙ্খলায় ভুগছিল।
- রোমান আইনের বিভিন্ন সংগ্রহ ছিল পুরনো, অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বহুবিধ ।
- জাস্টিনিয়ান চেয়েছিলেন একটি সুসংগঠিত, স্পষ্ট এবং একক আইনি ব্যবস্থা যাতে – আইনের অসঙ্গতি দূর হয়, আদালতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, রোমান আইনের ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়, খ্রিস্টান মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১,০১৪.
মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. তৈমুর লং
  2. হালাকু খান
  3. চেঙ্গিস খান
  4. কুবলাই খান
ব্যাখ্যা
মোঙ্গল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেঙ্গিস খান।

মোঙ্গল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য।
- ১২০০ শতকের শুরুতে মঙ্গোল সেনাপতি চেঙ্গিস খান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য।
- এটি ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অবিচ্ছিন্ন স্থলসাম্রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মোঙ্গলদের অভিযানগুলো নিষ্ঠুরতা লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ডের কাহিনীতে ভরপুর।
- এ কারণে অনেক ঐতিহাসিক মঙ্গলদিগকে "বিধাতার অভিশাপ" ও "বিশ্বের ত্রাস" বলে অভিহিত করেছেন।

⇒ চেঙ্গিস খান মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গোলরা তাকে জাতির জনক হিসেবে মান্য করে। চেঙ্গিস খানের আদিনাম তিমুজিন। তার পিতার নাম ইয়েসুকাই ও মাতার নাম হয়লুন।
- তিনি উত্তর-পূর্ব এশিয়ার যাযাবর জাতিগুলোকে একত্র করে এবং প্রভাবশালী মঙ্গোলীয় গোত্রপ্রধানদের পরাজিত করে পৃথিবীর বৃহৎ এক সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন।
- ১২১৯ থেকে ১২২২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে উত্তর-পূর্ব ইরানে চেঙ্গিস খানের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মুসলিম ভূখণ্ডে মঙ্গোলীয়দের অভিযান শুরু হয়. এরপর মাত্র ৪০ বছরে তারা চারটি প্রভাবশালী মুসলিম সাম্রাজ্যের পতন ঘটায়। সেগুলো হচ্ছে আব্বাসী, আইয়ুবী, সেলজুক ও খাওরিজম।
- চেঙ্গিস খান ১২২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৫.
তৈমুর লঙ ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেন কত সালে?
  1. ক) ১২৮৮
  2. খ) ১৩৫৬
  3. গ) ১৩৯৮
  4. ঘ) ১৩৯২
  5. ঙ) ১৩৯৪
ব্যাখ্যা
মধ্য এশিয়ার সমরকন্দের অধিবাসী দুর্ধর্ষ বিজেতা তৈমুর লঙ এক বিশাল তুির্ক সৈন্যবাহিনী নিয়ে ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত আক্রমণ করেন। ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মার্চ অগণিত লুণ্ঠিত দ্রব্য, যুদ্ধবন্দী এবং কতিপয় বিখ্যাত শিল্পীসহ সমরকন্দে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে খিজির খানকে লাহোর, মুলতান ও দিপালপুরের শাসনভার অর্পণ করেন। অর্থাৎ সমরকন্দের অধীনে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন খিজির খান।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১,০১৬.
ওয়াটার লু যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. ক) এডলফ হিটলার
  2. খ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  3. গ) জোসেফ স্ট্যালিন
  4. ঘ) ভ্লাদিমির লেনিন
ব্যাখ্যা
ওয়াটারলু যুদ্ধ:
- বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধক্ষেত্র বেলজিয়ামে অবস্থিত।
- 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছে।
- তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ওয়াটার লুর যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অব ওয়েলিংটন)।

উৎস: Britannica.
১,০১৭.
'উরুগুয়ে রাউন্ড' এর সময়কাল-
  1. ১৯৮৫-১৯৯০
  2. ১৯৮৬-১৯৯৪
  3. ১৯৮৮-১৯৯৪
  4. ১৯৯৪-১৯৯৬
ব্যাখ্যা
GATT চুক্তির রাউন্ড:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT চুক্তির দুর্বলতা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মোট ৮টি রাউন্ড সম্পন্ন হয়।
- সেগুলো হলো:
1. Geneva Round,
2. Annecy Round,
3. Torquay Round,
4. Geneva II Round,
5. Dillon Round,
6. Kennedy Round,
7. Tokyo Round,
8. Uruguay Round.

উরুগুয়ে রাউন্ড:
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- এই রাউন্ড শুরু হয় ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে।
- Uruguay Round (১৯৮৬ - ৯৪)। 
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তি হয় GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে World Trade Organization (WTO) -এর জন্ম হয়।

উৎস: WTO ওয়েবসাইট।
১,০১৮.
কোন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার উদ্ভব হয়?
  1. ক) গ্রিক-পারস্য যুদ্ধ
  2. খ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  3. গ) কলিঙ্গ যুদ্ধ
  4. ঘ) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
গ্রিক-পারস্য যুদ্ধ:
- পারস্যের অ্যাকামেনীয় সম্রাট ছিলেন বিখ্যাত সাইরাস।
- তিনি প্রথমে গ্রিক অভিযান করেন এবং নগর রাষ্ট্র সমূহের ওপর ধ্বংসলীলা চালান।
- সাইরাসের পর পারস্য সম্রাট দারিয়ুস গ্রিক আক্রমণ করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪৯০ অব্দে ম্যারাথন নামক স্থানে সংঘটিত যুদ্ধে গ্রিকরা পারস্য বাহিনীকে পরাজিত ও বিতাড়িত করে।
- উল্লেখ গ্রিক-পারস্য যুদ্ধের ঘটনাকে স্মরণ করে পরবর্তীতে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার উদ্ভব হয়
- প্রতি ৪ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এ খেলায় বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা অংশ গ্রহণ করত।
- ফলে এ খেলার সূত্র ধরে পারস্পরিক শত্রুতা অপসারিত হয়ে গ্রিকদের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে ওঠে।
- ম্যারাথনে পরাজয়ের পর দারিয়ুসের পুত্র জারেক্সস খ্রিস্টপূর্ব ৪৮০ অব্দে গ্রিক যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেন।
- কিন্তু থার্মোপলীর যুদ্ধে পারস্য বাহিনী আবার পরাজিত হয়।
- গ্রিকদের বিজয়ের ফলে গ্রিক গণতন্ত্র আরো সুদৃঢ় হয় এবং গ্রিসের মূলভূখণ্ড থেকে এশিয়া মাইনর পর্যন্ত গ্রিক গণতন্ত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- গ্রিক গণতন্ত্র পৃথিবীর ইতিহাসে আজও স্বরণীয়। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৯.
রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল?
  1. সিন
  2. টাইবার
  3. টেমস
  4. দানিয়ুব
ব্যাখ্যা
রোম ও রোমান সাম্রাজ্য: 
- রোম একটি ঐতিহাসিক শহর এবং ইতালির রাজধানী।
- এটি ইতালির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে টাইবার নদীর তীরে অবস্থিত। 
- টাইবার নদী থেকে শহরটি প্রায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) অভ্যন্তরে এবং টিরেনিয়ান সাগরের কাছে অবস্থিত।
- প্রাচীনকালে এটি একটি প্রজাতন্ত্র ও সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- রোমুলাস ছিলেন রোমের প্রথম রাজা।
- রোম পশ্চিম বিশ্বের রাজনীতি ও সামরিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব রেখেছে।
- এটি রোমান ক্যাথলিক চার্চের কেন্দ্র এবং বহু শিল্প ও জ্ঞানচর্চার শীর্ষস্থান।
- রোমের ইতিহাস শুরু হয় ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- প্রজাতন্ত্রের সূচনা হয় ৫০৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এবং সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয় ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- ৫ম শতকে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- প্রাচীন রোম সামরিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি করেছিল।
- গ্রীকরা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক ও শিল্পকলায় অগ্রণী ছিল।
- অন্যদিকে, রোমানরা সামরিক ও সামাজিক কাঠামোতে দক্ষতা দেখিয়েছে।
- রোম বিজিত জাতিগুলিকে নিজেদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- যারা রোমান সংস্কৃতি গ্রহণ করত, তাদের রোমান নাগরিকত্ব প্রদান করা হত।
- রোমান সাম্রাজ্যের প্রভাব এখনও ইউরোপে ভাষা, আইন ও সংস্কৃতিতে বিদ্যমান।
- রোমের ভাষা ল্যাটিন থেকে ইটালিয়ান, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ এবং রোমানিয়ান ভাষার উদ্ভব হয়েছে।
- রোম পশ্চিমা ২৬-অক্ষরের বর্ণমালা এবং ১২-মাসের ক্যালেন্ডার উপহার দিয়েছে।
- রোমের ইতিহাসে ইট্রাস্কান ও গ্রীকদের গভীর প্রভাব রয়েছে।
- ইট্রাস্কানদের কাছ থেকে রোমানরা ধর্ম, বর্ণমালা এবং স্থাপত্য কৌশল শিখেছিল।
- প্রাচীন রোমের ঐতিহ্য এবং অবদান আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছে।

উৎস: Britannica.
১,০২০.
সর্বপ্রথম লোহা আবিষ্কৃত হয় -
  1. এশিয়া মাইনরে
  2. গ্রিসে
  3. ইতালিতে
  4. মিশরে
ব্যাখ্যা
⇒ এশিয়া মাইনরে হিট্রাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।

লোহা:
- আধুনিক সভ্যতা মূলত লৌহের ওপর নির্ভরশীল।
- আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি লোহা।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়। এ
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

তথ্যসূত্র - সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২১.
পেলোপোনেশিয়ান যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. গ্রিস ও তুরস্ক
  2. গ্রিস ও ইতালি
  3. এথেন্স ও স্পার্টা
  4. রোম ও সিসিলি
ব্যাখ্যা
পেলোপোনেশিয়ান যুদ্ধ:
- পেলোপোনেশিয়ান যুদ্ধ (৪৩১–৪০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রাচীন গ্রীসের দুই প্রধান নগর-রাষ্ট্র, এথেন্স এবং স্পার্টার মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।
- প্রতিটি নগর-রাষ্ট্র তাদের নিজ নিজ মিত্রদের নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা প্রায় প্রতিটি গ্রীক নগর-রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
- এই যুদ্ধ প্রায় পুরো গ্রীক বিশ্বকে গ্রাস করেছিল এবং ইতিহাসবিদ থুসিডিডিস এটিকে সেই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করেন।
- এথেনীয় জোট আসলে একটি সাম্রাজ্য ছিল, যা এজিয়ান সাগরের উত্তর ও পূর্ব উপকূলের বেশিরভাগ দ্বীপ এবং উপকূলীয় নগর-রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
- স্পার্টা ছিল স্বতন্ত্র রাজ্যগুলোর একটি জোটের নেতা, যার মধ্যে পেলোপোনেশাস এবং মধ্য গ্রীসের প্রধান স্থলশক্তিগুলো এবং নৌ শক্তি করিন্থ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এথেনীয়দের নৌবাহিনী ছিল শক্তিশালী।
- স্পার্টার স্থলবাহিনী ছিল অধিকতর ক্ষমতাবান।
- এথেনীয়রা তাদের সাম্রাজ্য থেকে প্রাপ্ত নিয়মিত খাজনার মাধ্যমে বড় আর্থিক সংস্থান তৈরি করেছিল, যা তাদের শত্রুদের তুলনায় আর্থিকভাবে বেশি প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করেছিল।
- সর্বশেষ ফলাফল: এথেন্স এর পরাজয়। 

উৎস: Britannica. 
১,০২২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব- পশ্চিম দ্বন্ধের ফলে সৃষ্ট পূর্বের অর্থনৈতিক জোটটির নাম ছিল?
  1. ক) কমিন্টার্ন
  2. খ) কমেকন
  3. গ) কমিনফর্ম
  4. ঘ) কলিম্পোন
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব- পশ্চিম দ্বন্ধের ফলে সৃষ্ট পূর্বের অর্থনৈতিক জোট - কমেকন।

• COMECON:
- COMECON এর পূর্ণরূপ Council for Mutual Economic Assistance.
- সোভিয়েত ব্লকের অন্তর্গত পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুবিধার্থে এবং সমন্বয় করার জন্য ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা। 
- প্রতিষ্ঠাতা দেশ -পোল্যান্ড এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- পরবর্তীতে পূর্ব জার্মানি , আলবেনিয়া, উত্তর কোরিয়া, উত্তর ভিয়েতনাম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।
- সংগঠনটি ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,০২৩.
কোন সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'?
  1. রোমান
  2. মায়া
  3. সুমেরীয়
  4. হিব্রু
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন। 
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৪.
প্রাচীন গ্রিসের কোন নগর-রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল?
  1. স্পার্টা
  2. করিন্থ
  3. এথেন্স
  4. থিবস
ব্যাখ্যা

- খ্রিস্টপূর্ব ৫০৮ অব্দে এথেন্সে বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়। এটি ছিল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিত।

​গণতন্ত্রের সূচনা:
- 'গণতন্ত্র' পরিভাষাটি ইংরেজি 'Democracy' থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র - ব্রিটানিকা ও কালের কণ্ঠ। 

১,০২৫.
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতা মেসোপটেমিয়া বর্তমানে কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ইরাক
  2. পেরু
  3. মেক্সিকো
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।

মেসোপটেমিয়া সভ্যতা:

- মেসোপটেমিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- মেসোপটেমিয়া একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ হলো "দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি"।
- এই সভ্যতা টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকায় গড়ে উঠেছিল, এটা বর্তমানে ইরাকের সীমানার মধ্যে অবস্থিত।
- মেসোপটেমিয়া দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিল: উত্তর অংশ এবং দক্ষিণ অংশ।
- মেসোপটেমিয়ার জনগণ বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল এবং এই সভ্যতা বিশেষত তার ধর্ম, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও আইনের জন্য ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: Britannica.
১,০২৬.
'সম্রাট নিরো' কোন সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন?
  1. রোমান
  2. গ্রিক
  3. মোঙ্গল
  4. জার্মান
ব্যাখ্যা
সম্রাট নিরো:
- 'সম্রাট নিরো' রোমান সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন।
- নিরো ছিলেন পঞ্চম রোমান সম্রাট।
- রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সম্রাট নিরো, যিনি 'রোম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সময় বাঁশি বাজানোর (নির্লিপ্ত অর্থে) জন্য কুখ্যাত'।

উল্লেখ্য,
- নিরোর জন্ম ৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর রোম সাম্রাজের অ্যান্টিয়ামে।
- তিনি ছিলেন রোমের পঞ্চম সেনাপতি এবং জুলিও-ক্লদিয়ান বংশের শেষ শাসক। এই জুলিও-ক্লদিয়ানই রোমান সমাজ্র্যের প্রতিষ্ঠাতা। 
- নিরোর মায়ের প্র-পিতামহ ছিলেন অগাস্টাস, যিনি ছিলেন এই এই সাম্রাজ্যের প্রথম রাজা।

⇒ ৬৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাইতে নিরো অ্যান্টিমে (যেটি এখন ইতালির অ্যানজিও শহর) ছুটি কাটানোর সময় রোমে আগুন লাগার কথা জানতে পারেন, যেটি পরবর্তীতে ইতিহাসে দ্য গ্রেট ফায়ার অব রোম নামে পরিচিতি পায়।
- এক সপ্তাহ পর যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, ততক্ষণে রোমের ১৪টি জেলার ১০টি পুরোপুরি ভষ্ম হয়ে যায় এবং শহরের ৫-১০ লাখ মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।
- অনেকের ধারণা নিরো নিজেই এই আগুন লাগিয়েছেন।

⇒ তিনি একজন কুখ্যাত শাসক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন, বিশেষত তার মায়ের হত্যাকাণ্ড (অগ্রিপিনার) এবং তার সৎভাই ক্লডিয়াসের হত্যার জন্য তিনি পরিচিত।
- ৬৮ খ্রিষ্টাব্দে নিরো বিদ্রোহের সম্মুখীন হন এবং রোমের সেনা তাকে সম্রাট হিসেবে অস্বীকার করে।
- অবশেষে, নিরো আত্মহত্যা করেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১,০২৭.
রোমান সভ্যতার অন্যতম কৃতিত্ব কোনটি? 
  1. চিত্রকলা 
  2. আইন প্রণয়ন
  3. ধাতব মুদ্রা
  4. বর্ণমালা
ব্যাখ্যা

• রোমান সভ্যতা:

- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি। 
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল। 
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৮.
পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন কে?
  1. ফারাও ইখনাটন
  2. জরথুষ্ট্র
  3. সম্রাট কাইরাস
  4. সম্রাট দারিয়ুস
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

⇒ সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন। তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ। জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'। জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৯.
গ্রিকদের 'শিকার এবং অরণ্যদেবী' ছিলেন -
  1. এথেনা
  2. হেরা
  3. আফ্রোদিতি
  4. আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
 গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিকদের ১২ টি দেবদেবী ছিলো।
- গ্রিকদের বিশ্বাস ছিলো দেবদেবীরা বাস করতেন অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।

উল্লেখ্য,
- জিউস ছিলো দেবতাদের রাজা।
- আর্টেমিস ছিলেন শিকার এবং অরণ্যদেবী।
- আফ্রোদিতি ছিলেন প্রেম, যৌনতা এবং সৌন্দর্যের দেবী।
- অলিম্পাসের রাণী দেবী হেরা ছিলেন জিউসের বোন এবং স্ত্রী।
- অ্যারেস ছিলেন রক্তপানের দেবতা।
- এথেনা ছিলেন যুক্তি, প্রজ্ঞা এবং যুদ্ধের দেবী।
- আর্টেমিসের যমজ ভাই অ্যাপোলো ছিলেন দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- ডিমিটার একজন কৃষি দেবী।
- ডায়োনিসাস ছিলেন জিউসের এক পুত্র যার জন্ম একজন নশ্বর মা।
- গ্রীক প্যান্থিয়নের অনেক দেবতার মতো, হার্মিস একাধিক গোলকের সভাপতিত্ব করেছিলেন।
- পসেইডন গ্রীক সমুদ্র দেবতা হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত, তবে তিনি ঘোড়া এবং ভূমিকম্পেরও দেবতা ছিলেন।

উৎস: Britannica.
১,০৩০.
উত্তর ও দক্ষিণ মিসরকে একত্রিত করে একটি বড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) রাজা মেনেস
  2. খ) রাজা তুথমোস
  3. গ) প্রথম র‍্যামেসিস
  4. ঘ) দ্বিতীয় র‍্যামেসিস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিসরীয় শাসন ব্যবস্থা:
- নীল নদের অববাহিকায় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সূচনা হয় প্রাক-রাজবংশীয় যুগে। 
- এ যুগে মিসরীয়রা কৃষি কাজে সেচব্যবস্থার বিভিন্ন কৌশল আবিষ্কার করে। 
- এ ছাড়া তারা লিখন পদ্ধতি, উন্নতমানের কাপড়, সৌরপঞ্জিকা প্রস্তুত করতে শিখে। 
- ৩২০০ খ্রি: পূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত এ প্রাচীন রাজত্বকালের লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়। 
- রাজা মেনেস উত্তর ও দক্ষিণ মিসরকে এক করে একটি বড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন
- প্রাচীন মিসরের সম্রাটদের ‘ফারাও' বলা হতো। 
- ফারাও শব্দের অর্থ ‘বড়বাড়ি। 
- বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান। 
- তাঁরা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। 
- 'ফারাওরা নিজেদের রক্তের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য ভাই-বোনের সাথে বিয়ের প্রচলন করেন। 
- সম্রাটের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োজিত থাকতেন একজন উজির বা প্রধানমন্ত্রী। 
- মিসরের ‘ফারাও’ বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথম আহমোজ, রাজা তুথমোস, সম্রাট ইখনাটন, তৃতীয় আমেনহোটেপ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস। 
- পরাক্রমশালী তৃতীয় র‍্যামেসিসের মৃত্যুর পর শক্তিশালী শাসক না থাকায় ‘ফারাও’ বা সম্রাটদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা পরিবর্তনের পর ৫২৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পার্সীয়ানদের হাতে এ সভ্যতার পতন ঘটে। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩১.
'কলোসিয়াম' কোন সভ্যতার নিদর্শন? 
  1. গ্রিক সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• কলোসিয়াম:
- কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৩২.
লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে কারা?
  1. মিশরীয়রা
  2. হিব্রুরা
  3. সুমেরীয়রা
  4. ব্যাবিলনীয়রা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি। এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

উল্লেখ্য,
- লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে মিশরীয়রা।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতকে মিশরীয়রা লেখার জন্য কালির ব্যবহার শুরু করলে এটি লেখালেখির আদর্শ অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
- লেখার জন্য মিশরীয়রা প্যাপিরাস নামের একধরনের কাগজ ব্যবহার করত।
- এরপর ওই প্যাপিরাসের উপযোগী করে কালিও তৈরি করত তারা।
- এই কালি তৈরি হতো হাড়ের গুঁড়ো থেকে।
- পুরোপুরি কালো রঙের অমোচনীয় কালির উদ্ভাবন ঘটে চীনের হার্ন রাজবংশের শাসনামলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
১,০৩৩.
মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার প্রথম শুরু হয় কবে?
  1. খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে
  2. খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে
  3. খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে
  4. খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে
ব্যাখ্যা
লৌহযুগ:
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রোঞ্জযুগের একচেটিয়া অধিকার ও কর্তৃত্ব হ্রাস পেয়েছিল।
- ব্রোঞ্জ ছিল দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু। এর ব্যবহার মূলত অভিজাত শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। 
- সহজ লভ্য ও দামে সস্তা হওয়ায় লোহার ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করে।
- এভাবেই লৌহযুগ নামে নতুন এক সভ্যতার বিকাশ লাভ ঘটে।
- এশিয়া মাইনরে হিট্টাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহার সভ্যতার সামাজিক ভিত্তিকে অনেক মজবুত এবং এর পরিধিকে আরও প্রসারিত করে।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়। 
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রিসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০৩৪.
কোন দুটি দেশের মধ্যে শাত-ইল-আরব জলপথকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) সৌদি আরব-ইয়েমেন
  2. খ) বাহরাইন-ইরান
  3. গ) ইরাক-কুয়েত
  4. ঘ) ইরাক-ইরান
ব্যাখ্যা
‘শাত-ইল-আরব’: 
-  এই জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- এর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ইরাক ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে। 
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে যুদ্ধ চলে।
- তাঁর আগে, শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।

তথ্যসূত্র: হিস্টরি.কম এবং ব্রিটানিকা।
১,০৩৫.
কোন নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ সাদা বা লালচে সাদা?
  1. ককেশীয়
  2. মঙ্গোলীয়
  3. নিগ্রীয়
  4. অস্ট্রালয়েড
ব্যাখ্যা
ককেশীয়:
- ককেশীয় বা শ্বেতকায় ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি।
- এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।
- ককেশাস বা (ককেসিয়া) কৃষ্ণ সাগর এবং কাস্পিয়ান সাগরের মাঝে অবস্থিত একটি অঞ্চল।

অন্যদিকে,
- মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ হলদেটে।
- নিগ্রীয় নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ কৃষ্ণবর্ণের।
- অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীর গায়ের রঙ কালো বা বাদামী।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৬.
ইহুদি ধর্মের উপাসানালয়-
  1. প্যাগডা
  2. সিনাগগ
  3. মন্দির
  4. আল-আকসা
ব্যাখ্যা
-প্যালেস্টাইনের জেরুজারেম  নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে হিব্রু সভ্যতা।
- হিব্রু একটি সেমেটিক ভাষা।
- বর্তমানে ইসরায়েলের অধিবাসীরা হিব্রুদের বংশধর।
- হিব্রু সভ্যতার লোকেরা ইহুদি ধর্মে বিশ্বাসী ছিল।
- তারা একেশ্বরবাদের প্রচারক ছিল।

 ইহিুদি ধর্মে :
♦ ইহুদি ধর্মে উপাসনালয়- সিনাগগ।
♦ পবিত্র স্থান- জেরুজালেম।
♦ ধর্মগ্রন্থ- তাওরাত।
♦ উপাসনালয়- সিনাগগ।

উৎস: britannica
১,০৩৭.
'পিস স্ট্যাচু (Peace Statue)' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিউল
  2. খ) হিরোশিমা
  3. গ) নাগাসাকি
  4. ঘ) লন্ডন
ব্যাখ্যা
পিস স্ট্যাচু:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ২য় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া জাপানের অধীন ছিলো।
- যুক্তরাষ্ট্র জাপানে ২ টি পারমাণবিক বোমা ফেলে:
- হিরোশিমায় লিটল বয় - ৬ আগস্ট, ১৯৪৫।
 -নাগাসাকিতে ফ্যাট ম্যান - ৯ আগস্ট ১৯৪৫।

- নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরনে নিহতদের স্মরণে শান্তি পার্ক স্থাপন করা হয়।
- এই পার্কে স্থাপিত হয়েছে পিস স্ট্যাচু

গুরুত্বপূর্ণ:
- স্ট্যাচু অব পিস অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী শিউলে জাপানি দূতাবাসের সামনে।
- ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী সামরিক যৌন দাসত্বের শিকার হওয়া মহিলাদের সান্ত্বনা ও ভোগান্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি ইংরেজি নিউজ।
১,০৩৮.
‘মাচু পিচু’ কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মায়া
  2. ইনকা
  3. অ্যাসিরিয়ান
  4. ফিনিশীয়
ব্যাখ্যা
মাচু পিচু:
- ইনকা সভ্যতার অন্যতম নির্দশন মাচু পিচু।
- মাচু পিচু পেরুতে অবস্থিত।

উল্লেখ্য
- ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, মাচু পিচু ১৪৪০ কিংবা ১৪৫০ সালে নির্মাণ করা হয়েছে।
- যেসব 'ইনকা' এই প্রাচীন শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিল, তারা আসলে শহরটিকে 'হুয়ানা পিচু' নামে ডাকতো।
- পরবর্তীতে স্প্যানিশরা ইনকা সাম্রাজ্য দখল করে নিলে হুয়ানা পিচু পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
- ১৯১১ সালে আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ হিরাম বিংহাম এটি পুনরায় আবিষ্কার করেন।
- মাচু পিচুকে ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) UNESCO.
ii) Britannica.
১,০৩৯.
প্রাচীন মিশরীয় বর্ণমালায় কতটি বর্ণ ছিলো?
  1. ক) ২০টি
  2. খ) ২২টি
  3. গ) ২৪টি
  4. ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা
• মিশরীয়দের বর্ণমালা:
- সভ্যতায় মিশরীয়দের অন্যতম অবদান হলো বর্ণমালার আবিষ্কার।
- প্রথমদিকে মিশরীয়রা চিত্রলিপির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতো যাকে বলা হতো হায়ারোগ্লিফিক্স বা পবিত্র অক্ষর।
- আনুমানিক ৫,০০০ বছর পূর্বে মিশরীয়রা ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- বর্ণমালা ব্যতীত মিশরীয়রা নলখাগড়া থেকে প্যাপিরাস নামক কাগজ উদ্ভাবন করে যা থেকে পেপার শব্দের উৎপত্তি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেনি।
১,০৪০.
ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তির মাধ্যমে কোন যুদ্ধের অবসান ঘটে?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের শতবর্ষ যুদ্ধ
  3. লুন্ধ যুদ্ধ
  4. ইউরোপের ত্রিশ বছরের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
Thirty years war:
- ইউরোপে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ ছিলো ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধ।
- প্রোটেস্টান্ট জার্মানির উপর অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গের-এর প্রভাব অক্ষুন্ন রাখা, ডেনমার্কের রাজার উচ্চভিলাষ, বাল্টিক অঞ্চলে সুইডেনের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং হ্যাপসবার্গকে পরাজিত করে ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা এসব নিয়েই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকে।
- ধর্মান্ধতা, স্বার্থপরতা, নিজেদের উচ্চাকাংক্ষা এবং প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সকল দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ত্রিশ বছরব্যাপী অবিরামভাবে যুদ্ধ করার পর বিপর্যস্ত ইউরোপের সকল দেশের প্রতিনিধিরা ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়াতে মিলিত হয়ে দুটি ভিন্ন শান্তিচুক্তি পাস করে
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টাফেলিয়া চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘ ত্রিশ বছরব্যাপী ধর্মজনিত এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি ইউরোপের শান্তির স্বপক্ষে প্রথম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- এটি ইউরোপকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
- এই সন্ধির ভূ-খন্ডগত সীমানা নেপোলিয়নের যুগ পর্যন্ত বহাল থাকে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪১.
কোন আদিবাসী সম্প্রদায় ‘কুকুরের গাড়ি বা স্লেজ ' যোগাযোগের বাহন হিসেবে ব্যবহার করে-
  1. ক) হার্সাই
  2. খ) এস্কিমো
  3. গ) নর্ডিকরা
  4. ঘ) জিয়ান্তে
ব্যাখ্যা
• আদিবাসী সম্প্রদায়:
- এস্কিমো বা ইনুইট জাতির বসবাস উত্তর গোলার্ধের উত্তর আলাস্কা, কানাডা এবং সাইবেরিয়ায় অবস্থিত আর্কটিক তুন্দ্রা অঞ্চলে।
- সারা বছরই এই অঞ্চলসমূহ ঢাকা থাকে বরফে। বরফের নিচে বইছে সমুদ্র।
- এস্কিমো বা ইনুইট জাতি বরফ এলাকায় যোগাযোগের অন্যতম বাহন হলো নৌকা এবং কুকুরের গাড়ি বা স্লেজ।
- এ গাড়িকে তারা বলে কামুতিক।
- পশুর চামড়া, শক্ত হাড়— এসব সাধারণ জিনিস দিয়েই তারা তৈরি করে একেকটি গাড়ি।
- এই গাড়িকে জুড়ে দেয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরের গলায়। এরা নদীতে শিকারে যায় ছোট নৌকায় চড়ে। নাম কায়াক।
- মালামাল পরিবহন, লোক আনানেওয়া এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পরিবহনের সময় এরা বড় নৌকা ব্যবহার করে, যাকে ‘উমিয়াক’ বলে।

উৎস: বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা]
১,০৪২.
The 'Opium War' was fought between -
  1. ক) China and France
  2. খ) China and India
  3. গ) China and Britain
  4. ঘ) China and America
ব্যাখ্যা
আফিম যুদ্ধ
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধদ্বয় সংঘটিত হয়েছিলম, তাই আফিট যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে।
- চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানজিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- ব্রিটেনের প্রয়োজন ছিল আফিম ব্যবসা অব্যাহত রাখার অনুমতি লাভ করা।
- আফিমের বাজার সম্প্রসারণের দাবির প্রশ্নে ব্রিটিশের সঙ্গে চীনাদের দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ (১৮৫৮) শুরু হয়।
- চীন আবারও পরাজিত হয়।
- এই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দখল করে আছে।
- এই যুদ্ধ তৎকালীন চীনের স্বাধীনতাকে খর্ব করে দিয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৩.
মিশরীয় লিপি কী নামে পরিচিত?
  1. প্যাপিরাস
  2. কিউনিফর্ম
  3. হায়ারোগ্লিফিক
  4. ইউনিফর্ম
ব্যাখ্যা
হায়ারোগ্লিফিক লিপি:
- নগরসভ্যতা গড়ে তোলার সাথে মিশরীয়রা প্রথম লিখন ও লিপি পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) বা চিত্র লিখন পদ্ধতি।
- এটি গ্রীকদের দেয়া নাম যার অর্থ দাঁড়ায় 'পবিত্র লিপি'।
- তারা এমনি ২৪টি ব্যঞ্জনধ্বনি বা চিহ্ন আবিষ্কার করে।
- তারা প্যাপিরাসের পাতায় লিখত, ক্রীট, ফিনিশিয়া, লিভিয়া সভ্যতা এ লিপির ব্যবহার করে।
- অনেক ভাষাবিদের মতে, ফারাও রাজা মেনেসের রাজত্বকালে এই লিপির সূচনা হয়।

অন্যদিকে,
- কিউনিফর্ম লিপি বিশ্বের প্রাচীন লিপিগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেক ভাষাবিদ মনে করেন, কিউনিফর্ম লিপি মিসরীয় হায়ারোগ্লিফিকের চেয়েও পুরনো। সুমেরীয়রা এর আবিষ্কারক।
- প্যাপিরাস হল এক প্রকারের কাগজ যা প্রাচীনকালে লেখার কাজে ব্যবহৃত হত। প্রাচীন মিশরীয়রা প্যাপিরাস গাছের মজ্জা থেকে এটি তৈরি করত এবং লেখার জন্য ব্যবহার করত। 

উৎস: i) Britannica.
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৪.
রোমের প্রেমের দেবতা কে ছিলেন?
  1. নেপচুন
  2. জুপিটার
  3. ভেনাস
  4. জিউস
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৫.
সুমেরীয় সভ্যতার রাজধানী কোনটি?
  1. উর
  2. নিনেভে
  3. সুসা
  4. ব্যাবিলন
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল:
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা।
- তাদের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে। তাদের নামানুসারে এ অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল। 

⇒ নগররাষ্ট্র:
- কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে সুমেরীয়রা সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছিল।
- সুমেরীয়রা কতকগুলি নগরের গোড়াপত্তন করেছিল।
- এগুলোর মধ্যে তাদের রাজধানী ছিল উর।
- রাজধানী উর ছাড়াও সভ্যতার প্রাণ কেন্দ্র ছিল লাগাস, কিস, ইরিদু এবং উরুক অন্যতম।
- সুমেরীয়রা প্রথম মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে খাল খনন, জলাশয় ও বাঁধ নির্মাণ করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং নিজেদের উন্নতি ঘটিয়ে নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটায়।
- ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রায় ১৮টি নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব নগর রাষ্ট্রের প্রশাসকরা 'এনসি' নামে পরিচিত ছিলেন।
- বিখ্যাত শাসক সারগন সুমেরের নগর রাষ্ট্রগুলিকে একত্রিত করে সভ্যতার বিকাশ ঘটান।
- সুমেরিয়ায় সারগনের প্রতিষ্ঠিত আক্কাদীয় রাজ্য দুশো বছর স্থায়ী ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪৬.
নিচের কোনটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় নয়? 
  1. ক্যালেডীয় সভ্যতা
  2. সুমেরীয় সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- মিশরীয় সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায়  নয়।

মেসেপটেমীয় সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):

- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতা। -
- আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও ইরাক অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল প্রাচীন এই সভ্যতা। মেসোপটেমিয়া এলাকার বেশির ভাগ বর্তমানে ইরাকে অবস্থিত।
- এটি ছিলো - নদীমাতৃক সভ্যতা। মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- 'মেসোপটেমীয়' কথাটি দ্বারা বুঝায় 'দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল'। অর্থ্যাৎ,
- ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলেই এই সভ্যতার উত্থান হয়েছিলো।
- গ্রীকরা এই অঞ্চলকে 'মেসোপটেমিয়া' নামকরণ করেন।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি।
যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাসেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৪৭.
মুসলিম শাসনামলে স্পেন কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ইবেরিয়া
  2. হিস্পানিয়া
  3. আন্দালুসিয়া
  4. কাস্তিল
ব্যাখ্যা

স্পেনে মুসলিম শাসন:
- মুসলিম শাসনামলে স্পেন আন্দালুসিয়া নামে পরিচিত ছিল।
- এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের একটি বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। 
- এই শাসনকাল ৭১১ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়ে ১৪৯২ সালে গ্রানাডার পতনের মাধ্যমে শেষ হয় যা প্রায় ৮০০ বছরের দীর্ঘ সময়।
 - মুসলিম স্পেনে একসময় ছিল বিজ্ঞান, সাহিত্য, স্থাপত্য ও ধর্মীয় সহাবস্থানের অনন্য নজির।
- মুসলমান শাসনের অধীনে আন্দালুস একটি সাম্যবাদী সমাজে পরিণত হয়, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা একত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করেছিল।
- এটি ‘Convivencia’ নামে পরিচিত যা এই যুগে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

উল্লেখ্য,
- মধ্যযুগে যেসকল স্থানে আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল এর মধ্যে স্পেন অন্যতম।
- শুরুতে স্পেন দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের অধীনে একটি প্রদেশ হিসেবে পরিণত হয়।
- ৭৫৬ সালে আব্দুর রহমান আদ্‌-দাখিল এখানে একটি স্বাধীন উমাইয়া আমীরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৯২৯ সালে তৃতীয় আব্দুর রহমান এই আমীরাতকে খিলাফতে উন্নীত করেন।
- ১০৩১ সালে উমাইয়া খিলাফতের অবসানের পর স্পেনে আরব, বার্বার ও স্লাভরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশের সৃষ্টি করে শাসন করতে থাকে।
- উত্তরের খ্রিস্টানরা ক্রমাগত আক্রমণ করে যখন ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি একে একে গ্রাস করছিল।
- সেসময় উত্তর আফ্রিকার মরক্কো হতে মুরাবিতুন (১০৯১-১১৪৬) রাজবংশ স্পেনের রাজক্ষমতা গ্রহণ করে এবং মরক্কো হতেই স্পেন শাসন করতে থাকে।
- এরপর মুরাবিতুনদের হটিয়ে মুয়াহিদুন (১১৪৬-১২৪৮) রাজবংশ মরক্কো হতে স্পেন শাসন করে।
- স্পেনে মুসলিমদের শেষ রাজবংশ ছিল গ্রানাডার নসর বংশ (১২৩২-১৪৯২)।
- ১৪৯২ সালে এই বংশের পতনের মধ্য দিয়ে স্পেনে মুসলিম শাসনের চির অবসান হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪৮.
কোথায় প্রথম সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়?
  1. সিন্ধু
  2. পাঞ্জাব
  3. বিহার
  4. হরিয়ানা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা ছিল ভারতের উপমহাদেশের প্রথম নগরসভ্যতা।
- এই সভ্যতার মূল সময়কাল ছিল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে ১৭০০ সাল পর্যন্ত।
- বিশ্বের তিনটি প্রাচীনতম সভ্যতার মধ্যে (অন্য দুটি হলো মেসোপটেমিয়া ও মিশর), সিন্ধু সভ্যতাই ছিল আয়তনে সবচেয়ে বিস্তৃত।
- প্রথমবার ১৯২১ সালে হরপ্পা (বর্তমানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব) এবং ১৯২২ সালে মোহেনজো-দাড়ো (বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু) শহরে এই সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
- ১৯৮০ সালে মোহেনজো-দাড়োকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা গড়ে তুলেছিল দ্রাবিড় জাতি।
- সিন্ধু সভ্যতা দুটি বড় শহর হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো এবং ১০০ টিরও বেশি শহর ও গ্রাম নিয়ে গঠিত বলে জানা যায়।
- সিন্ধু সভ্যতা ছিল বিশ্বের প্রথম নগরসভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও বাণিজ্যের সমৃদ্ধি, এবং সাংস্কৃতিক উন্নতির জন্য এটি ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১,০৪৯.
নিচের কোনটি বিশ্বের প্রাচীনতম শহর হিসেবে পরিচিত?
  1. উরুক
  2. জেরিকো
  3. দামেস্ক
  4. আলেকজান্দ্রিয়া
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর:
- পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর হলো জেরিকো (Jericho)।
- এটি প্রাচীনতম পরিচিত প্রতিরক্ষা প্রাচীরের শহরও বটে।

⇒ জেরিকো বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত যা পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর হিসেবে বিবেচিত।
- প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, এর উৎপত্তি প্রায় ৯০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- দামেস্ক এবং আলেপ্পোর মতো শহরগুলোও প্রাচীন, তবে জেরিকোর ইতিহাস তাদের তুলনায় পুরোনো।

অন্যদিকে,
- দামেস্ক বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে জনবসতিপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রায় ৩,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা শহর হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) Britannica.
ii) Times of India.

১,০৫০.
মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় কারা?
  1. সুমেরীয়রা
  2. এ্যাসিরীয়রা
  3. ক্যালডীয়রা
  4. ব্যাবিলনীয়রা
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা।
- সুমেরীদের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- সুমেরীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের পূর্বেই সুমেরু নগর গড়ে তোলে।

⇒ সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'। সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

⇒ সুমেরীয়রা একটি ভিন্ন ধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিল। মিশরীয়দের মতো প্রথম দিকে তারা চিত্রলিপি ধরনের লেখা শুরু করে। দ্রুত ভাব প্রকাশের জন্য ধীরে ধীরে লিখন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। কাদামাটির শ্লেটে নল-খাগড়ার কলম দিয়ে এক রকম কৌণিক রেখা ফুটিয়ে তোলা হতো। খাঁজ কাটা এ চিহ্নগুলো দেখতে অনেকটা ইংরেজি অক্ষর "V" এর মতো। আবার কখনো কখনো তীরের মতো ডিজাইন। প্রাচীন সুমেরীয়দের এ লিপির নাম দেয়া হয় কিউনিফর্ম যা মেসোপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই লিপি বাম থেকে ডানে লেখা হতো।

⇒  প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট 'ডুঙ্গি' এ আইন তৈরি করেন। তাদের আইন ছিল খুব কঠোর। চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত ও অঙ্গের পরিবর্তে অঙ্গ কর্তন ছিল আইনের বিধান।

⇒ সুমেরীয়রা জলঘড়ি, চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন। তারা ৩৬০ ডিগ্রিতে বৃত্ত বিভাগ, ৬০ ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি চালু করে।

উল্লেখ্য,
- মেসোপটেমিয়ার অর্থ হচ্ছে দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ অব্দে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে মিশরীয় সভ্যতার সমকালীন একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে। মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যেমন- সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা। সভ্যতাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও একই ভূখণ্ডে গড়ে উঠার কারণে এগুলোকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,০৫১.
কমোডাস প্যাসেজ কোন সাম্রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রোমান সাম্রাজ্য
  2. পারস্য সাম্রাজ্য
  3. গ্রিক সাম্রাজ্য
  4. মঙ্গোল সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

কমোডাস প্যাসেজ:
- কমোডাস প্যাসেজ মূলত রোমান সাম্রাজ্যের (Roman Empire) সাথে সম্পর্কিত। এটি ইতালিতে অবস্থিত।

⇒ রোমান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক সুড়ঙ্গ ‘কমোডাস প্যাসেজ’।
- এখানে বসেই কলোসিয়ামের মঞ্চে গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই উপভোগ করতেন রোমান সম্রাটরা।
- জনসাধারণের সংস্পর্শ এড়াতেই গোপন এ সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন তারা।
- কথিত আছে, রোমান ইতিহাসের কুখ্যাত সম্রাট কমোডাস হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন এই টানেলেই।

⇒ মূলত, প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের এক ত্রাসের নাম কমোডাস, যিনি ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছেন ক্ষমতা, বিলাসিতা আর নির্মমতার জন্য।
- জনতার চোখ এড়িয়ে এই সুড়ঙ্গ তথা ‘কমোডাস প্যাসেজ’-এ বসেই ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে গ্ল্যাডিয়েটরদের বাঁচা-মরার লড়াই উপভোগ করতেন এই রোমান সম্রাট।

⇒ ঐতিহাসিক মতবাদ অনুযায়ী, কলোসিয়ামের মূল নকশার অংশ ছিল না এই প্যাসেজ। খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের শেষ ভাগ থেকে দ্বিতীয় শতকের শুরুতে কলোসিয়ামের ভিত্তির নিচ দিয়ে নতুন করে কেটে তৈরি করা হয় গোপন এই সুড়ঙ্গ। যাতে সম্রাটরা এড়াতে পারেন সাধারণ মানুষের সরাসরি সংস্পর্শ।

উৎস: BBC.

১,০৫২.
পিকিং মানব এর নিদর্শন কোথায় পাওয়া যায়?
  1. হেইডেলবার্গ
  2. বেইজিং
  3. জাভা
  4. মাস্কারা
ব্যাখ্যা
পিকিং মানব:
- পিকিং (বেইজিং) এ প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক মানুষ।
- পিকিং মানব বিলুপ্ত হোমিনিন, যা হোমো ইরেক্টাস প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।
- এর জীবাশ্ম বেইজিংয়ের কাছাকাছি ঝউকউডিয়ান (Zhoukoudian) এলাকায় পাওয়া গেছে।
- ১৯২৭ সালে ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি একক দাঁতের ভিত্তিতে পিকিং মানবকে মানুষের বংশের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।
- প্রমাণ অনুযায়ী, ঝউকউডিয়ান জীবাশ্মগুলো (Zhoukoudian fossils) প্রায় ৭,৭০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর পুরনো।
- হোমো ইরেক্টাস হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হওয়ার আগে, এগুলোকে পিথেক্যানথ্রোপাস এবং সিনানথ্রোপাস নামেও চিহ্নিত করা হয়েছিল।

পরবর্তী খননে পাওয়া গেছে:
- বেশ কয়েকটি খুলি এবং চোয়াল।
- মুখমণ্ডল ও অঙ্গের হাড়।
- প্রায় ৪০ জন ব্যক্তির দাঁত।

হেইডেলবার্গ মানব:
- হোমো হাইডেলবার্গেনসিস , প্রাচীন মানুষের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি।
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গের দক্ষিণ-পূর্বে মাউয়ার শহরের কাছে পাওয়া যায়।
- জার্মানির হেইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উদ্ধার করেন।

জাভা মানব:
- ১৮৯১ সালে জাভার (ইন্দোনেশিয়া) সোলো নদীর তীরে প্রাপ্ত।

আফ্রিকান জীবাশ্ম: 
উত্তর আফ্রিকায় ১৯৫৪-৫৫ সালে, আলজেরিয়ার মাস্কারার পূর্বে টাইগেনিফ (টার্নিফাইন) খননের ফলে আনুমানিক ৭০০,০০০ বছর আগের অবশেষ পাওয়া গেছে যার নিকটতম সম্পর্ক এইচ ইরেক্টাসের চীনা রূপের সাথে বলে মনে হচ্ছে । 

উৎস: Britannica.
১,০৫৩.
প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমির দেশ কোনটি?
  1. ক) চীন
  2. খ) মিসর
  3. গ) লিবিয়া
  4. ঘ) গ্রিস
ব্যাখ্যা
মিসরীয় সভ্যতার কাল ও ভৌগোলিক অবস্থান:
- প্রাচীন সভ্যতার লীলাভূমির দেশ মিসর। 
- এছাড়া বর্তমান উত্তর আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ এই মিসর। 
- আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর পূর্বে নীলনদের অববাহিকায় মিসরীয় সভ্যতার উন্মেষ ঘটে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। 
- দেশটির উত্তরে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণে সুদান নামক রাষ্ট্রটি অবস্থিত। 
 
- এর পূর্ব দিকে বয়ে গেছে লোহিত সাগর এবং পশ্চিম দিকে অবস্থিত লিবিয়া। 
- আর উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত তিউনিসিয়া। 
- নীল নদের দান বলে খ্যাত মিসর ভৌগোলিক দিক থেকে দক্ষিণাঞ্চল (Upper) এবং উত্তরাঞ্চল (Lower) এই দু'ভাগে বিভক্ত। 
- মিসরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত নীলনদ ভূমধ্যসাগরে মিলিত হয়েছে। 
- বর্ষার সময় নীল নদের দু'কূল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হতো। 
- নীলনদের দু'কুলে ৪ মাস স্থায়ী এ বন্যার সময় গাছ-গাছড়া পচে গিয়ে এবং এর সাথে জলধারায় পাহাড়ি লাল পাথুরে মাটি মিশে এক উর্বর পলিমাটির সৃষ্টি হতো। 
- এ কারণে মিসরের এ অঞ্চলসমূহের জমি খুব উর্বর হতো। 
- বিখ্যাত গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডটাস মিসরের উৎকর্ষতা দেখে বিস্মিত হয়ে তিনি মিসরকে “নীলনদের দান” বা “The gift of the Nile” বলে উল্লেখ করেছেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৪.
চীনের মহাপ্রাচীর কত সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল?
  1. ১৯৮৩ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চীনের মহাপ্রাচীর (The Great Wall of China) হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যগুলোর মধ্যে একটি। 
- এটি পাথর ও ইট দিয়ে তৈরি দীর্ঘ নিরাপত্তাবেষ্টনী।
- খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতক থেকে খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতক পর্যন্ত সময়ে চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়।  
- এই প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮৫০ কিলোমিটার।
- উচ্চতা ৫ - ৮ মিটার।
- প্রাচীরটি চওড়ায় প্রায় ৯.৭৫ মিটার।
- প্রশস্ত প্রাচীরের ওপর চলাচলের জন্য রাস্তা করা আছে।
- বর্তমান প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।

উল্লেখ্য,
- এটি ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। 

উৎস: Britannica.
১,০৫৫.
সূর্য ও চন্দ্র গ্রহনের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হয় কারা?
  1. ক) চীনের জ্যোতির্বিদরা
  2. খ) গ্রিক জ্যোতির্বিদরা
  3. গ) মিশরীয় জ্যোতির্বিদরা
  4. ঘ) সিন্ধু জ্যোতির্বিদরা
ব্যাখ্যা
গ্রিক বিজ্ঞানীদের অবদান:

- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহনের কারন নির্ণয় করতে সক্ষম হয়।

- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করে গ্রিক বিজ্ঞানীরা।
- গ্রিক বিজ্ঞানীরা প্রথম প্রমান করেন পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- চাদের নিজের কোন আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারনে নয় প্রাকৃতিক কারনে ঘটে।এই সত্য তারাই আবিষ্কার করে।
- বিখ্যাত গনিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের গ্রিক সভ্যতায় যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৬.
পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন কোন সভ্যতা?
  1. রোম সভ্যতা
  2. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
অ্যাসেরীয় সভ্যতা:

- বিজ্ঞান ও জ্যোতিশাস্ত্রে অ্যাশেরীয়রা অতুলনীয় অবদান রাখেন যা বর্তমান সময়েও কাজে লাগে।
- তারা সর্বপ্রথম পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য তারা মেসোপটেমিয়ায় সর্বপ্রথম লাইব্রেরি স্থাপন করেন যা বর্তমানে ইরাকের 'নিনেভাহ' তে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম লাইব্রেরী হিসাবে পরিচিত যা মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরী থেকেও কয়েকশ বছরের পুরনো।
- অ্যাসেরীয়রা প্রথম লোহার তৈরি তলোয়ার, বর্শা, ধনুক ইত্যাদি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতো।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৭.
'চীনের মহাপ্রাচীর' কোন রাজার শাসনামলে নির্মিত হয়?
  1. ঝেং রাজ-বংশ
  2. কেকিয়াং রাজ-বংশ
  3. কিয়াং রাজ-বংশ
  4. চৌ রাজ-বংশ
ব্যাখ্যা
চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনের আদি মানুষ 'পিকিং মানুষ' নামে পরিচিত।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত।
- তাদের লিখন পদ্ধতির নাম আইডিও গ্রাফ।

উল্লেখ্য,
- চৌ বংশের রাজা শি-হুয়াং তি-এর রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল 'চীনের মহাপ্রাচীর'।
- হুনদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল।
- দেড় হাজর মাইল দীর্ঘ এই প্রাচীরের উচ্চতা ছিল গড়ে ২৪ ফুট।
- এই প্রাচীরের উপর দিয়ে ৬ জন অশ্বারোহী পাশাপাশি চলতে পারত।
- চীনের প্রাচীর বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুর একটি।
- চীনের মহাপ্রাচীরকে বলা হয় মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৮.
সর্ব প্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে কোন সভ্যতায়?
  1. অ্যাসিরীয় সভ্যতায়
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়
  3. সুমেরীয় সভ্যতায়
  4. চৈনিক সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
সভ্যতায় অ্যাসিরীয়দের অবদান:
- সভ্যতার ইতিহাসে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়দের অবদান লক্ষ্য করা যায়-
- সামরিক ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভূমিকা ছিল।
- তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- সে যুগের বিচারে তাদের সৈন্যবাহিনী ছিল বেশ আধুনিক।
- বহু নতুন নতুন অস্ত্র, যুদ্ধ কৌশল আবিষ্কারের কারণে প্রতিবেশীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে।
- সামরিক প্রয়োজনে শক্তিশালি গুপ্তচর ও যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৯.
প্রাচীন মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম-
  1. কিউনিফর্ম
  2. হায়ারোগ্লিফিক
  3. ব্রাহ্মী লিপি
  4. আরামাইক
ব্যাখ্যা
মিশরীয় লিখন পদ্ধতি: 
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগরসভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখনপদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- সেই কাগজের ওপর তারা লিখত।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় 'প্যাপিরাস'।
- এই শব্দ থেকে ইংরেজি পেপার শব্দের উৎপত্তি।

উল্লেখ্য,
- নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় একটি পাথর আবিষ্কৃত হয় যা রসেটা স্টোন নামে পরিচিত।
- যাতে গ্রিক এবং 'হায়ারোগ্লিফিক' ভাষায় অনেক লেখা ছিল। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৬০.
'মাদামতুসো মিউজিয়াম' কোথায় অবস্থিত?
  1. লন্ডন
  2. প্যারিস
  3. মিলান
  4. রোম
ব্যাখ্যা
• মাদামতুসো মিউজিয়াম:
- মাদাম তুসো জাদুঘর যুক্তরাজ্যের লন্ডন নগরে অবস্থিত।
- বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মোম দিয়ে তৈরি মূর্তির সংগ্রহশালা।
- মাদাম ম্যারি তুসো নামীয় এক ফরাসী মহিলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংগ্রহশালাই পরবর্তীকালে মাদাম তুসো জাদুঘর নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

উৎস: মাদাম তুসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,০৬১.
'জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির কাদের স্থাপত্যকীর্তি?
  1. সুমেরীয়
  2. ব্যাবিলনীয়
  3. অ্যাসিরীয়
  4. ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় স্থাপত্য ও শিল্প:
- ধারনা করা হয় সুমেরীয়রা নগর সভ্যতায় পোড়া ইটের প্রথম ব্যবহার করে।
- তবে মিসরীয়দের মতো সুমেরীয়রা পাথরের ব্যবহার করতো না বলে তাদের তৈরী ইমারত দীর্ঘস্থায়ী হতো না।
- সম্ভবতঃ সুমের অঞ্চলে পাথর দুষ্প্রাপ্য ছিল। 
- তবে তাদের নগর পরিকল্পনা ছিল খুবই নিখুঁত। 
- দালানের দেয়াল ইটের তৈরী হলেও ছাদ ছিল কাঠের দ্বারা তৈরী।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি 'জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।
- প্রায় প্রতি নগরেই এইরূপ জিগগুরাট নামক ধর্মমন্দির বা ইমারত তৈরী হয়েছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,০৬২.
মঙ্গোলীয়দের আদি ভূমি কোথায় ছিল?
  1. চীনের দক্ষিণাঞ্চল
  2. সাইবেরিয়া
  3. তিব্বত
  4. হিমালয়ের পাদদেশে
ব্যাখ্যা
মঙ্গোলীয়: 
- মঙ্গোলীয় গোত্রের মানুষ আকারে বেঁটে, দেহ সুগঠিত, শক্ত চিবুক, দাঁড়ি-গোঁফ নেই বললেই চলে, মুখাকৃতি গোলাকার এবং গায়ের বর্ণ হলদেটে।
- তিব্বতীয়, চিনা, জাপানি এবং বর্মিদের সমগোত্রীয় এরা।
- তিব্বত এবং মঙ্গোলিয়া হচ্ছে- মঙ্গোলীয়দের আদি ভূমি।
- এরা উত্তর পূর্বের পাহাড়ি পথ ধরে ভারতে প্রবেশ করে।
- এক সময় এরা আর্যদের সাথে মিশে যায়।
- বর্তমানে এই গোষ্ঠীর লোকেরা হিমালয়ের পাদদেশে সিকিম, আলমোরা, গারওয়াল, ভুটান এবং আসামের পাহাড়ে বসবাস করছে।
- ভারতে মঙ্গোলীয় জাতির লোক হিসাবে গুর্খা, ভুটিয়া এবং খাসিয়াদের নির্দেশ করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৩.
ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমানে কোথায় অবস্থিত?
  1. তুরস্ক
  2. গ্রীস
  3. মিশর
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা
ইতিহাস এবং অবস্থান:
- হোমারের মহাকাব্যে বর্ণিত ইতিহাসে, ট্রয় নগরী হলো বিখ্যাত একটি নগরী যা বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হেসারলিক নামক স্থানে অবস্থিত ছিল।
- উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ফ্র্যাঙ্ক কালভার্ট এবং জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক হেনরিক শ্লিম্যানের প্রচেষ্টায় ট্রয় নগরীর সন্ধান লাভ করা সম্ভব হয়।
- গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- ট্রয় এর ধ্বংসের কারণ হেলেনকেন্দ্রিক ঐতিহাসিক ট্রোজান যুদ্ধ।

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট।
১,০৬৪.
ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান কী?
  1. কাগজ আবিষ্কার
  2. বর্ণমালার উদ্ভাবন
  3. চাকা আবিষ্কার
  4. কৃষিকাজের সূচনা
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- বর্তমান লেবানন এবং সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এই প্রাচীন সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা স্থলপথের চেয়ে জলপথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল।
- গ্রীকরা এদের নাম দিয়েছিল 'ফিনিশীয়' বা 'পার্পল পিপল' (Purple People), কারণ তারা এক ধরণের বিশেষ সামুদ্রিক শামুক থেকে রাজকীয় বেগুনি রং তৈরি করত এবং এর ব্যবসা করত।

• বর্ণমালা আবিষ্কার (Invention of Alphabet):
- ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি সেট তৈরি করে, যা ছিল আধুনিক বর্ণমালার পূর্বপুরুষ।
- পরবর্তীতে গ্রীকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ (Vowels) যুক্ত করে এবং রোমানদের হাত ধরে তা বর্তমান ইংরেজি বর্ণমালায় রূপ নেয়।

• প্রধান নগর রাষ্ট্রসমূহ:
- ফিনিশীয়রা কোনো একক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেনি, বরং তারা ছোট ছোট স্বাধীন 'নগর রাষ্ট্র' বা 'সিটি স্টেটস'-এ বিভক্ত ছিল।
- তারা ছিল প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করতে জানত, যাকে গ্রীকরা 'ফিনিশীয় তারা' বলত।

• কার্থেজ (Carthage):
- ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় (বর্তমান তিউনিসিয়া) অবস্থিত 'কার্থেজ' ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যা পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- আলেকজান্ডার ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের প্রধান শহর টায়ার দখল করে নিলে ফিনিশীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং তারা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট  এবং বিশ্ব ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।

১,০৬৫.
'ওরাকল বোন' (Oracle Bones) কোন প্রাচীন সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত?
  1. হিট্টাইট সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. চীনা সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন চীনে ভাগ্যগণনা এবং রেকর্ড রাখার জন্য হাড়ের উপর লেখা হতো, এটা 'ওরাকল বোন' নামে পরিচিত। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এর মাধ্যমে প্রাচীন চীনা লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। 

চৈনিক সভ্যতা:
- প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং ধারাবাহিকভাবে বিকশিত সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচিত।
- প্রায় ৪০০০ বছর পূর্বে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে, চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং নদীর তীরে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- নদীগুলোর উর্বর তীরভূমি এবং পানির সহজলভ্যতা কৃষিভিত্তিক জীবনব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করে, যার ফলে সমাজ ও শাসনব্যবস্থার একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়। চীনের তিনটি অঞ্চল—হোয়াংহো নদী তীর, ইয়াংসিকিয়াং নদী তীর, এবং দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে—এই সভ্যতার বিস্তৃত প্রভাব পড়ে।

উল্লেখ্য,
- চৈনিক সভ্যতা কখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি; বরং এটি আজ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। শাং (Shang) ও জোও (Zhou) রাজবংশের শাসনামলে সভ্যতার ভিত দৃঢ় হয় এবং সমাজ, প্রশাসন ও ধর্মীয় রীতিনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ ঘটে।

সূত্র: হিস্টরি.কম ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,০৬৬.
রোমের শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সব ক্ষেত্রেই কাদের প্রভাব ছিল?
  1. ফরাসিদের
  2. মিশরীয়দের
  3. গ্রিকের
  4. বর্ণিত সবার
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে সর্বপ্রথম লিখিত রোমান আইন প্রচলিত হয়। ইতিহাসের পাতায় 'Twelve Tables বা বারো বিধি' নামে পরিচিত সেই আইনের মাধ্যমে রোমে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। প্রায় বারটি ধাপে রোমের সকল নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রণীত সেই বারো টেবিল আইনটি আজও ইতিহাসবিদগণের নিকট এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

⇒ সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৬৭.
কোন সভ্যতা হেলেনীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত?
  1. গ্রিক সভ্যতা
  2. চৈনিক সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে গ্রিক সভ্যতা হেলেনীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত।

গ্রিক সভ্যতা:

- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরবর্তী সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত ছিল।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল, যেমন এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতিকে হেলেনীয় সংস্কৃতি হিসেবে অধিক পরিচিতি পাওয়া যায়।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' গ্রিক সাহিত্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারা প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৬৮.
মিনোয়ান সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে
  2. ক্রিট দ্বীপে
  3. সাইপ্রাস দ্বীপে
  4. ইতালির সিসিলিতে
ব্যাখ্যা

- মিনোয়ান সভ্যতা এজিয়ান সাগরের ক্রিট দ্বীপে গড়ে উঠেছিল। এটি মিশরীয় প্রভাব সত্ত্বেও নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছিল এবং এর elaborate প্রাসাদ ও সুন্দর দেয়ালচিত্রের জন্য পরিচিত ছিল।

মিনোয়ান সভ্যতা: 
- মিনোয়ান সভ্যতা ছিল ইউরোপের প্রথম সুসংগঠিত ব্রোঞ্জ যুগের উন্নত সভ্যতা, এটি প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত ক্রিট দ্বীপে বিকশিত হয়।
- সভ্যতাটির নাম এসেছে কিং মিনোসের নাম থেকে, যিনি গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীতে ল্যাবিরিন্থ ও মিনোটরের সঙ্গে যুক্ত।
- মিনোয়ানদের প্রধান নগরী ছিল কনোসোস।
- এরা দক্ষ নাবিক ও ব্যবসায়ী ছিল।
- মিনোয়ানরা ‘লিনিয়ার-এ’ নামক একটি লিপি ব্যবহার করত।
- সমাজ ব্যবস্থায় ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং নারীদের উচ্চ মর্যাদা।
- শিল্পকলায় তারা ছিল অগ্রগামী—বিশেষত তাদের দেয়ালচিত্র, মৃৎপাত্র ও অলংকার ছিল অত্যন্ত রঙিন ও জীবন্ত। 

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

১,০৬৯.
কিউনিফর্ম হচ্ছে -
  1. মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম
  2. সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম
  3. ফিনিশিয় লিখন পদ্ধতির নাম
  4. রোমান লিখন পদ্ধতির নাম
ব্যাখ্যা
- কিউনিফর্ম হচ্ছে সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম। 

কিউনিফর্ম: 
- কিউনিফর্ম ছিল সুমেরীয়দের উদ্ভাবিত একটি লিখন পদ্ধতি, এটি বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।
- এটি কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণমালা অনুসরণ করত না, এবং এতে নির্দিষ্ট অক্ষরও ছিল না।
- প্রথমদিকে প্রাথমিক ছবি ব্যবহার করা হলেও, পরবর্তীতে আরো অর্থবহ কীলক আকৃতি ব্যবহৃত হতে থাকে। 
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন লিখন পদ্ধতি। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এটি মিসরীয় হায়ারোগ্লিফিক্সের চেয়ে প্রাচীন। হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
- মিশরীয়রা চিত্রলিপির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতো যাকে বলা হতো হায়ারোগ্লিফিক্স বা পবিত্র অক্ষর। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,০৭০.
ফকল্যান্ড যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. ক) ইতালি ও জার্মান
  2. খ) ফ্রান্স ও আর্মেনিয়া
  3. গ) আর্জেন্টিনা ও তুরস্ক
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা
• ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে।
- শেষ হয়- ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- পকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ  দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার  তৎকালাীন সামরিক সরকার দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপে আক্রমণ করে দখল করে নেয়।
- ব্রিটিশ তৎকালাীন প্রধানমন্ত্রী আজেন্টিনার উপর সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- সকল নৌযুদ্ধে হেরে আর্জেন্টিনা ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে আত্মসর্মপনে সম্মত হয় । এর ফলে ঐসকল দ্বীপে আবার ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ১৯৮৩ সালে আজের্ন্টিনায় সামরিক সরকার ক্ষমতা হারায়।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
১,০৭১.
কোথায় হেলেনিস্টিক সভ্যতা গড়ে উঠে?
  1. টাইগ্রিস নদীর তীরে
  2. আলেকজান্দ্রিয়ায়
  3. ইরাকে
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা
হেলেনিস্টিক সভ্যতা:
-মেসিডেনিয়া রাজ্যের রাজা ফিলিপসের পুত্র আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট গ্রিক সভ্যতার উপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মিশর সহ প্রাচ্যের অনেক দেশ দখল করেন। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মিলন ঘটিয়ে এক নতুন সভ্যতার বিকাশ ঘটান। বিকাশিত এ প্রাচীন সভ্যতাটি হল, হেলেনিস্টিক সভ্যতা ।

- হেলেনিস্টিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে- আলেকজান্দ্রিয়ায়।
- এ সভ্যতার ব্যাপ্তিকাল ছিল- প্রায় ৩০০০-৩১ খ্রিষ্টপূর্ব।
-হেলেনিস্টিক সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু - আলেকজান্দ্রিয়া।
- এ সভ্যতা উৎপত্তি ও ক্রম বিকাশে ভূমিকা রাখেন- আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট।
- আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট ছিলেন- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের ছাত্র।

উৎস: britannica. ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭২.
পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য কোনটি?
  1. আচেমেনিয়ান সাম্রাজ্য
  2. রোমান সাম্রাজ্য
  3. মোঙ্গল সাম্রাজ্য
  4. ওসমানীয় সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
মঙ্গোল সাম্রাজ্য:

- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- চেঙ্গিস খান ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার আসল নাম ছিলো তেমুজিন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান।
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,০৭৩.
বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল -
  1. কনস্টান্টিনোপল
  2. অ্যাথেন্স
  3. রোম
  4. আলেকজান্দ্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,০৭৪.
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল কতদিন?
  1. ক) ৬ দিন
  2. খ) ৯ দিন
  3. গ) ১২ দিন
  4. ঘ) ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধ
▪ যুদ্ধ সংঘটনকাল: ৫ জুন - ১০ জুন, ১৯৬৭ সাল।
▪ বিবাদমান পক্ষসমূহ - ইসরায়েল এবং মিশর, সিরিয়া ও জর্ডান।
▪ ফলাফল - সকল ফ্রন্টে ইসরায়েল বিজয়ী।   
▪ বেশ কয়েকটি সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে ইসরায়েল প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৬৭ সালে সিরিয়া গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল গোলান মালভূমি দখল করে নেয়।    
▪ ইসরায়েল অতর্কিত হামলা করে মিশরের প্রায় ৯০ শতাংশ বিমান ধ্বংস করে দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। মিশর ও জর্ডানের নিয়ন্ত্রণ থেকে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিমতীরসহ অনেক অঞ্চল দখল করে নেয়।
▪ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আহবানে ১৯৬৭ সালের ৭ জুন ইসরায়েল জর্ডান, ৮ জুন মিশর ও ১০ জুন সিরিয়া অস্ত্রবিরতিতে যায়।
▪ জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে ১৯৬৭ সালের ১০ জুন যুদ্ধ বিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের সীমান্ত “গ্রীন লাইন” বিলুপ্ত হয় এবং নতুন সীমানা নির্ধারিত হয়। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।
১,০৭৫.
মায়া সভ্যতা নিচের কোন দেশে বিকশিত হয়েছিলো?
  1. ক) পেরু
  2. খ) ইকুয়েডর
  3. গ) গুয়েতেমালা
  4. ঘ) কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা (Mayan Civilization):
- মায়া সভ্যতা মেসোআমেরিকা অঞ্চলে বিকশিত সভ্যতাসমূহের মধ্যে অন্যতম।
- বর্তমান মধ্য আমেরিকার গুয়েতেমালা, মেক্সিকোর দক্ষিণাংশ, বেলিজ, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে মায়া সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো।

- খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেক ২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময় মায়া সভ্যতার প্রি-ক্লাসিক (প্রারম্ভিক) যুগ হিসেবে অভিহিত।
- ২৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে মায়া সভ্যতার ক্লাসিক যুগের সূচনা হয় যা ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিরাজমান ছিলো।
- ৯০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অজানা কারণে মায়া সভ্যতার পতন ঘটে।

- মায়া সভ্যতা পাথুরে শহর, পঞ্জিকা উদ্ভাবন, পিরামিড তৈরি, শূন্যের ব্যবহার প্রভৃতির জন্যে বিখ্যাত।
- মেক্সিকোতে অবস্থিত চিচেন ইতজা মায়া সভ্যতার একটি নিদর্শন।

(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
১,০৭৬.
এথেন্সের পতন হয় কাদের কাছে?
  1. স্পার্টা
  2. মিনিয়ন
  3. ডোরীয়
  4. রোম
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতায় দুটি স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতীয় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে হোমারিক যুগের অবসান ঘটে।
- হোমারিক যুগের গ্রাম সম্প্রদায়গুলি ভেঙ্গে কালক্রমে নগর রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- এথেন্স, থিক্স, মেগারা, স্পার্টা এবং করিন্থ প্রভৃতি নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এসব ক্ষুদ্র রাষ্ট্র।
- এগুলির মধ্যে এথেন্স ছিল সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার ধারক বাহক।
- এথেন্সই ছিল গ্রিসের অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ৫৯৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সোলন নামক একজন সংস্কারক এথেন্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার সাধন করেন।
- এই সংস্কারের ফলে এথেন্সের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ এথেনীয় (হেলেনিক) সভ্যতার পতন:
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীসের দুটি শক্তিশালী নগর রাষ্ট্র এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে বিরোধ বাধে।
- স্পার্টা নগর রাষ্ট্রটি বরাবরই সামরিক তন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
- উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তা ইতিহাসে পেলোপনেসীয় যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১-৪০৪ অব্দ) বলে খ্যাত।
- এই যুদ্ধে এথেন্সের পতন ঘটে এবং স্পার্টা এথেন্স দখল করে নেয়।
- ফলে হেলেনিক সভ্যতারও পতন ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৭.
'অ্যাজটেক সভ্যতা' নিম্নের কোন অঞ্চলে বিরাজমান ছিল?
  1. ক) উত্তর আমেরিকা
  2. খ) দক্ষিণ আমেরিকা
  3. গ) মেসোআমেরিকা
  4. ঘ) ইউরোপ
ব্যাখ্যা
মেসোআমেরিকা হলো বর্তমান মেক্সিকো এবং মধ্য আামেরিকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল।
১৬ শতকে স্পেনিশদের আর্বিভাবের পূর্বে মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল মেসোআমেরিকা হিসেবে অভিহিত।

মেসোআমেরিকা অঞ্চলে স্থানীয় আদিবাসীদের দ্বারা বেশ কয়েকটি বিখ্যাত সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। এগুলোর মধ্যে ওলমেক সভ্যতা, মায়া সভ্যতা ও অ্যাজটেক সভ্যতা প্রধান।
এদের মধ্যে ওলমেক সভ্যতা হলো প্রথম মেসোআমেরিকান সভ্যতা এবং অ্যাজটেক সভ্যতা হলো সর্বশেষ মেসোআমেরিকান সভ্যতা।
 
- অ্যাজটেক সভ্যতা চতুর্দশ শতক থেকে ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মেক্সিকোর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বিরাজমান ছিলো।
- কৃষি ও বাণিজ্যে অ্যাজটেক সভ্যতা অনেক সমৃদ্ধ ছিলো।
- ১৫২১ সালে স্পেনিশদের দ্বারা অ্যাজটেক সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।


অন্যদিকে,
ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিলো।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,০৭৮.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময়কাল কোনটি?
  1. ক) ১৮৪১-১৮৪৫ খ্রি.
  2. খ) ১৮৪৪-১৮৪৮ খ্রি.
  3. গ) ১৮৫৫-১৮৫৯ খ্রি.
  4. ঘ) ১৮৬১-১৮৬৫ খ্রি.
ব্যাখ্যা
- ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কনফেডারেট ও ইউনিনিস্টদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা মার্কিন গৃহযুদ্ধ নামে পরিচিত।
- গৃহযুদ্ধের পেছনে মূল কারণ ছিলো দাসপ্রথা নিষিদ্ধকরণ।
- যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের রাজ্যগুলো ছিলো শিল্পনির্ভর এবং দাসপ্রথা বিলুপ্তের পক্ষপাতী। বিপরীতে দক্ষিণের রাজ্যগুলো ছিলো কৃষিনির্ভর। এসব রাজ্যের কৃষিকাজের জন্যে আফ্রিকান দাসদের ভূমিকা ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফলে দাসপ্রথার বিষয়ে উদার মনোভাবসম্পন্ন রিপাবলিকান পার্টির নেতা আব্রাহাম লিংকন ১৮৬১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দক্ষিণের মোট ১১টি রাজ্য ফেডারেল সরকার থেকে পৃথক হয়ে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে চার বছরের মার্কিন গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।
- ১৮৬৫ সালে সমাপ্ত হওয়া এই যুদ্ধে কনফেডারেটরা পরাজিত হয়।
- ১৮৬৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী কার্যকরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়।
(তথ্যসূত্রঃ মার্কিন ন্যাশনাল আর্কাইভস এবং হিস্টোরি ডটকম)
১,০৭৯.
ফিনিশীয়রা কয়টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে?
  1. ১৯টি
  2. ২১টি
  3. ২২টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত।
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।
- আধুনিক বর্ণমালার সূচনা এখান থেকে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮০.
ইতিহাসের জনক কে?
  1. থুকিডাইডেস
  2. এসকাইলাস
  3. হেরোডোটাস
  4. লিওপোল্ড ভন্ র‍্যাংকে
ব্যাখ্যা
ইতিহাস:
- মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্য নির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস।
- হেরোডোটাস ইতিহাসের জনক নামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম গ্রিক হিস্টরিয়া (Historia) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- তার মতে ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিলো বা সংঘটিত হয়েছিলো তা অনুসন্ধান করা ও লেখা।
- হেরোডোটাস রচিত ইতিহাস-সংক্রান্ত প্রথম বইটি ছিল গ্রিস ও পারস্যের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে।

⇒ হােমারের ‘ইলিয়াড ও ওডিসি' মহাকাব্য এ সভ্যতার অপূর্ব নির্দশন।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে চুড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়।
- বিয়ােগান্ত নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিল।
- এসকাইলাসকে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়।
- তার রচিত নাটকের নাম প্রমিথিউস বাউন্ড'।

⇒ আধুনিক ইতিহাসের জনক হচ্ছেন লিওপোল্ড ভন্ র‍্যাংকে।

⇒ থুকিডাইডেস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক।
- তাঁর বইটির শিরােনাম ছিল 'দ্য পেলােপনেসিয়ান ওয়র'।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮১.
'Hagia Sophia' কোন সভ্যতার অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. মায়া
  2. বাইজেন্টাইন
  3. সুমেরীয়
  4. মিশরীয়
ব্যাখ্যা

⇒ 'Hagia Sophia' বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

১,০৮২.
লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত কারা?
  1. ফিনিশীয়রা
  2. হিব্রুরা
  3. মিশরীয়রা
  4. পারস্যরা
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৩.
এ্যামোরাইট জাতির বিখ্যাত রাজা -
  1. রাজা সারগন
  2. রাজা ইখনাটন
  3. রাজা ডুঙি
  4. রাজা হাম্মুরাবি
ব্যাখ্যা

ব্যবিলনীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা অপর সভ্যতা (ব্যাবিলনীয়) সভ্যতার জনক ছিলো-সেমিটিক জাতি।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি। প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সেমিটিক জাতির অবদান সর্বাধিক। প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে। সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা আরব মরুভূমির উত্তরাঞ্চল থেকে মেসোপটেমিয়ায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যবিলনে সভ্যতা গড়ে তোলে। এই সভ্যতাকে প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা বলা হয়।

⇒ ব্যবিলনীয় সভ্যতা চরম খ্যাতি অর্জন করে বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরারীর শাসনামলে। হাম্মুরারীর আইন জগত বিখ্যাত। পরবর্তীতে ব্যবিলনীয় সভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ব্যবসা বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করে।

রাজা হাম্মুরাবী (১৭৯২-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন এ্যামোরাইট জাতির বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮৪.
সাত দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করে কারা?
  1. এ্যাসিরীয়
  2. ক্যালডীয়
  3. সুমেরীয়
  4. মিশরীয়
ব্যাখ্যা

• ক্যালডীয়:
- খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার। তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত।
- হাম্মুরাবির পর থেকে প্রায় এক হাজার বছরব্যাপী যুদ্ধ বিগ্রহ আর হানাহানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মেসোপটেমিয়া।
- নেবুচাঁদ নেজারের হাতে ব্যাবিলন আবার শক্তি ফিরে পায়। সিরিয়া অধিকার করে রাখা মিশরীয়দের তিনি তাড়িয়ে দেন।
- নেবুচাঁদ নেজার খুব কঠোর শাসক ছিলেন। তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তিনি জেরুজালেম নগরী খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ধ্বংস করে দেন এবং ইহুদি অধিবাসীদের বন্দি করে খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলনে আটকে রাখেন।
- ইতিহাসে এর নাম 'ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা'। খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

• অবদান:
- বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষত জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের যথেষ্ট অবদান লক্ষ্য করা যায়।
- ধর্মীয় কারণে তারা গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে। তাই জ্যোতির্বিদ্যায় তারা হয়ে উঠেছিল দক্ষ।
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে। বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ইতিহাস প্রথম পত্র।

১,০৮৫.
বাংলায় আগমনকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক কে?
  1. ইউয়েন সাং
  2. ফা হিয়েন
  3. মেগাস্থিনিস
  4. ই-সিং
ব্যাখ্যা

ফা হিয়েন:
- ফা-হিয়েন ছিলেন একজন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী ও পরিব্রাজক।
- তিনি বাংলায় আগমনকারী প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন এবং ভ্রমণকালে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন।
- ভারতে আগত চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁর লিখিত বিবরণ পাওয়া যায়, তিনি ফা-হিয়েন।
- তিনি পঞ্চম শতকের সূচনায় ভারত ভ্রমণ করেন।
- সে সময় গুপ্ত বংশীয় শাসকরা বাংলার অংশবিশেষসহ ভারত শাসন করছিলেন।
- ফা-হিয়েন ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং ১৪ বছর পর (প্রায় ৪১৩ খ্রি.) চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ভারত ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে তিনি সীমান্ত রাজ্য চম্পার মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- তাঁর প্রধান গন্তব্য ছিল তৎকালীন বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান তমলুক, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত)।
- তাম্রলিপ্তি থেকেই তিনি সমুদ্রপথে বৌদ্ধপ্রধান দেশ শ্রীলংকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
- শ্রীলংকা যাওয়ার পূর্বে তিনি দীর্ঘ দুই বছর তাম্রলিপ্তিতে অবস্থান করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৬.
কোন যুগে আগুন আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ
  2. খ) মধ্য প্রস্তর যুগ
  3. গ) নব্য প্রস্তর যুগ
  4. ঘ) তাম্রযুগ
ব্যাখ্যা
আগুনের আবিষ্কার হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১ লক্ষ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ ধরা হয়।
নব্য প্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো চাকা এবং কৃষিকাজ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান ২য়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,০৮৭.
সর্বপ্রথম 'লেখার কালি' কোন সভ্যতায় ব্যবহৃত হয়?
  1. মিশরীয়
  2. ফিনিশীয়
  3. রোমান
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
• সভ্যতা:
- লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে মিশরীয়রা।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতকে মিশরীয়রা লেখার জন্য কালির ব্যবহার শুরু করলে এটি লেখালেখির আদর্শ অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
- লেখার জন্য মিশরীয়রা প্যাপিরাস নামের একধরনের কাগজ ব্যবহার করত।
- এরপর ওই প্যাপিরাসের উপযোগী করে কালিও তৈরি করত তারা।
- এই কালি তৈরি হতো হাড়ের গুঁড়ো থেকে।
-  পুরোপুরি কালো রঙের অমোচনীয় কালির উদ্ভাবন ঘটে চীনের হার্ন রাজবংশের শাসনামলে।

এছাড়াও,
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।[লিঙ্ক]
১,০৮৮.
ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় কোথায়?
  1. চিলি
  2. ভেনেজুয়েলা
  3. পেরু
  4. বলিভিয়া
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১,০৮৯.
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো কোন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মিশরীয়
  2. সিন্ধু
  3. গ্রিক
  4. মেসোপটেমীয়
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারো ও পাঞ্জাবের হরপ্পা শহরে।
- সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদের অববাহিকায়, তাই এর নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- অনেক সময় একে হরপ্পা সভ্যতা বা হরপ্পা সংস্কৃতি বলা হয়।
- সিন্ধু সভ্যতার মানুষরা ছিল মূলত দ্রাবিড় জাতি, তবে তাদের মধ্যে অস্ট্রোলয়েড, ভূ-মধ্যসাগরীয়, মঙ্গোলীয় ও আলপানীয় জাতির লোকও ছিল।
- এই কারণে সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে দ্রাবিড়ীয় সংস্কৃতি বলা হয়।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৫০ সালে এক বড় বন্যায় হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো শহর প্লাবিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
- সিন্ধু সভ্যতার মানুষরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯০.
কোন সভ্যতার চিত্রলিপিকে ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বলা হয়?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. ইনকা সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ মিশরীয় সভ্যতার চিত্রলিপিকে ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বলা হয়।

মিশরীয় সভ্যতা:

- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- মানব সভ্যতার অগ্রগতি তাদের অবদানে সমৃদ্ধ।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- চিত্রকলায় আছে বিশেষ বৈচিত্রপূর্ণ অবদান।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯১.
ক্রিমিয়ার যুদ্ধে বিজয়ী হয় -
  1. ফ্রান্স
  2. ব্রিটেন
  3. অটোমান সাম্রাজ্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্রিমিয়ার যুদ্ধ:
- ১৮৫৩ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ার যুদ্ধ চলে।
- রাশিয়ার সঙ্গে এই যুদ্ধ চলে তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যের মিত্রশক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সারডিনিয়ার।
- ১৮৫৩ সালে ইউরোপের তুর্কি এলাকায় রাশিয়া আক্রমণ চালালে এ যুদ্ধের সূচনা হয়।
- রাশিয়া তুরস্কের নিয়ন্ত্রিত দারদানেলিস প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ জাহাজ চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তুরস্কের খ্রিস্টানদের রক্ষার অজুহাত তুলে এই যুদ্ধ শুরু করে।
- ব্রিটেন ও ফ্রান্স তুরস্কের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
- প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর ১৮৫৬ সালে এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- এই যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হয়। 
- যুদ্ধে বিজয়ী হয় ফ্রান্স, ব্রিটেন ও অটোমান সাম্রাজ্য।

উৎস: Britannica.
১,০৯২.
ইংল্যান্ডের 'গৌরবময় বিপ্লব' (Glorious Revolution) এর ফলাফল কী ছিল?
  1. ক্যাথলিক ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা
  2. রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি
  3. সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  4. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- ১৬৮৮ সালের গৌরবময় বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে রাজা দ্বিতীয় জেমসের পতন ঘটে এবং উইলিয়াম ও মেরি সিংহাসনে বসেন। এই বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। 

গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution):
- গৌরবময় বিপ্লব (Glorious Revolution) ছিল ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন।
- ১৬৮৮ সালে রাজা দ্বিতীয় জেমসের স্বেচ্ছাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভে উইলিয়াম অব অরেঞ্জকে সিংহাসনে আহ্বান করা হয়। এই বিপ্লব রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন হয়, তাই একে ‘গৌরবময়’ বলা হয়।
- উইলিয়াম ও মেরির অভিষেকের মাধ্যমে প্রোটেস্ট্যান্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ক্যাথলিক প্রভাব কমে যায়। ১৬৮৯ সালে গৃহীত Bill of Rights রাজতন্ত্রের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে এবং সংসদের অধিকার সুনিশ্চিত করে। এর ফলে সংবিধানিক রাজতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ধারার প্রসার ঘটে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠা পায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও World History Online Textbook.

১,০৯৩.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন‍?
  1. ক) জর্জ ওয়াশিংটন
  2. খ) জন এডামস
  3. গ) টমাস জেফারসন
  4. ঘ) আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘােষক ও যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জর্জ ওয়াশিংটন দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। আর জন এডামস, টমাস জেফারসন ও আব্রাহাম লিংকন যত্রাক্রমে দেশটির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও ষােড়শ প্রেসিডেন্ট। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া।
১,০৯৪.
সম্রাট অশোক কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন?
  1. সেন
  2. পাল
  3. মৌর্য
  4. গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের শাসক ছিলেন।

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৫.
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল বর্তমানে কোথায় অবস্থিত? 
  1. ইরানে
  2. ইরাকে
  3. গ্রিসে
  4. ইতালিতে
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
- ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি৷ টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- মেসোপটেমিয়া দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো: উত্তর ও দক্ষিণ। উত্তর অংশের বর্তমান নাম অ্যাসেরীয়। দক্ষিণ অংশের নাম মেসোপটেমিয়া।

⇒ বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।
- মেসোপটেমিয়ার লোকজন বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো।

উৎস: i) History.com
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯৬.
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন কাদের মাধ্যমে হয়েছিল?
  1. পর্তুগীজদের
  2. স্প্যানিশদের
  3. তুর্কীদের
  4. ফরাসিদের
ব্যাখ্যা
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৩৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাজধানীর নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো

⇒ বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন:
- পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার উত্থান ও বিকাশের পটভূমিতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমা ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে পড়তে থাকে।
- আব্বাসীয় শাসনামল পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য পশ্চিম ইউরোপের স্পেন, সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- ১২৫৮ সালে মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতন ঘটার পর ইসলামী সভ্যতার নেতৃত্ব গ্রহণ করে ওসমানীয় তুর্কিরা।
- চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ওসমানীয় তুর্কিদের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় তুর্কি খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।
- পরবর্তী পর্যায়ে তুর্কি শক্তি সমগ্র গ্রিস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৪৫৩ সাল ইউরোপ তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৭.
গ্রিক পুরাণে দেবতাদের রাজা-
  1. ক) পোসাইডন
  2. খ) অ্যাপোলো
  3. গ) এরিস
  4. ঘ) জিউস
ব্যাখ্যা

- গ্রীকদের 'ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের দেবতা' আফ্রোডাইট।
- কৃষিবিষয়ক দেবী ডিমিটার।
- দেবতাদের রাজা জিউস এবং
- যুদ্ধদেবতা এরিস।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

১,০৯৮.
ব্যবিলনীয়দের শূন্য উদ্যান কে নির্মাণ করেন?
  1. দারিউস
  2. হাম্মুরাবি
  3. সাইরাস
  4. নেবুচাঁদনেজার
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের শহর।
- এই শহরের ধ্বংসাবশেষ বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৮৯ কিমি) দক্ষিণে, ইরাকের আধুনিক শহর আল-হিল্লার কাছে অবস্থিত।
- এটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে আমোরীয় রাজাদের শাসনের অধীনে আসে।
- শহরটি ব্যাবিলোনিয়ার রাজধানী হয়ে ওঠে এবং টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ব্যবস্থার প্রধান বাণিজ্যিক শহর ছিল।
- এটি নেবুচাঁদনেজার দ্বিতীয় এর অধীনে নিও-ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসাবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন করেছিল।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১,০৯৯.
মিশরীয়রা ব্যঞ্জনবর্ণের কয়টি বর্ণ আবিষ্কার করে?
  1. ১১ টি
  2. ৩৯ টি
  3. ২৩ টি
  4. ২৪ টি
ব্যাখ্যা

মিশরীয়দের লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের মন্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- পরে এই কাগজের উপর তারা লিখতে শুরু করে।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। যে শব্দ থেকে ইংরেজি ‘পেপার’শব্দের উৎপত্তি।
- এখানে উল্লেখ্য নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় একটি পাথর আবিষ্কৃত হয়, যা রসেটা স্টোন নামে পরিচিত।
- এতে গ্রিক এবং ‘হায়ারোগ্লিফিক’ ভাষায় অনেক লেখা ছিল; যা থেকে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১০০.
মিশরীয় সভ্যতায় পাতালের দেবতা কে ছিলেন?
  1. হোরাস
  2. শেঠ
  3. আনুবিস
  4. ওসিরিস
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।