বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন

মোট প্রশ্ন৫২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৫২৮

৪০১.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নে কোন বাঙালির ভূমিকা ছিল?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. একে ফজলুল হক
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের ১ম সংবিধান
- পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষে প্রথমে একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- এ পরিষদের সভাপতি ছিলেন পর্যায়ক্রমে শ্রী যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল, জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খান।
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।
- এ সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তান 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র' নাম ধারণ করে।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়।
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়।
- সংবিধানে দুই প্রদেশের পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং সকল বিষয়ে সংখ্যাসাম্য নীতি স্বীকৃত হয়।
- বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।
- পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের জন্য দীর্ঘ নয় বছর সময় নেয়া হয়।
- সংবিধান মাত্র আট মাস স্থায়ী হয়।
- ১৯৫৮ সালে অক্টোবর মাসে ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং সংবিধান বাতিল করেন।
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, The Daily Star বাংলা, ডিসেম্বর ৫, ২০২২।
৪০২.
১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রটি ছিল- 
  1. চতুর্থ শাসনতন্ত্র
  2. তৃতীয় শাসনতন্ত্র
  3. প্রথম শাসনতন্ত্র
  4. দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
প্রথম শাসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• শাসনতন্ত্র ১৯৫৬:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে। 

• ১৯৫৬ সালের শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:
- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে।
- এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়।
- এ ক্ষেত্রে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনসরণ করা হয়।

• প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়।
- রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।


উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৩.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে কতটি দফা ছিল?
  1. ৬ টি
  2. ২১ টি 
  3. ২২ টি
  4. ১১ টি 
সঠিক উত্তর:
২২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ টি
ব্যাখ্যা
৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:

• ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২ টি দফা ছিল।
• ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
• ৬২-র শিক্ষা কমিশন পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বৃদ্ধি করে।
• ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
• গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেপ্তার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
• ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। 
• ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।
• শিক্ষা দিবস: ১৭ সেপ্টেম্বর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বি শ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি করেন কে?
  1. জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
  2. জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার অবসান: 
- ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল ফজলুল হক আমন্ত্রিত হয়ে কলকাতায় বক্তৃতা দেয়ার সময় শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে দুই বাংলা যে অভিন্ন তা বর্ণনা করেন।
- তাঁর এই বক্তৃতার সূত্র ধরে মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সুযোগ পেয়ে যান। 
- মে মাসে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং আদমজী জুট মিলে বাঙালি ও বিহারী শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক গোলযোগ হয়।
- ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করা হয়।
- ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন। পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে। 
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৫.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কবে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৯ বছর পর ১৯৫৬ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশের প্রথম সংবিধান রচিত ও কার্যকর হয়।

প্রথম সংবিধান ঘোষণা: 
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এ সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র নাম ধারণ করে।
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়।
- বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় গণপরিষদে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র সংবিধান বিল উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি গণপরিষদে ২১ জানুয়ারি গৃহীত হয় এবং ২ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি প্রদান করে।
- এ সংবিধান ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- সংবিধান প্রণয়নের জন্য দীর্ঘ নয় বছর সময় নেয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- এ সংবিধান মাত্র আট মাস স্থায়ী হয়।
- ১৯৫৮ সালে অক্টোবর মাসে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব:) ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং সংবিধান বাতিল করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৬.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ১৬৭টি
  2. ১৮৮টি
  3. ২২৩টি
  4. ২৭৭টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৭.
যুক্তফ্রন্টের কোন দফায় 'বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার' দাবি জানানো হয়?
  1. ১ম দফা
  2. ২য় দফা
  3. ৩য় দফা
  4. ৪র্থ দফা
সঠিক উত্তর:
১ম দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

উল্লেখ্য,
- যুক্তফ্রন্টের ১ম দফা ছিল - বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।

অন্যদিকে,
২য় দফা- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩য় দফা- পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪র্থ দফা- সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৮.
১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করেন -
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) ইস্কান্দার মির্জা
  3. গ) খাজা নাজিমুদ্দীন
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
খ) ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অনিহার কারণে এই কাজে বিলম্ব হয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালে গভর্ণর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। 
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ যে সংবিধান প্রণীত ও কার্যকর করা হয়েছিল তা মাত্র ২ বছর ৮ মাসকাল চালু ছিল ।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব.) ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল ঘােষণা করেন।

উৎস:- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র,  এইচ এস সি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৯.
'পলিটিক্যাল পার্টিজ এ্যাক্ট' কে প্রবর্তন করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা 
  4. মোনায়েম খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

পলিটিক্যাল পার্টিজ এ্যাক্ট:
- প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ছিলেন রাজনৈতিক উচ্চভিলাসী।
- এজন্য তিনি 'পলিটিক্যাল পার্টিজ এ্যাক্ট' বা রাজনৈতিক দলবিধি প্রবর্তন করে রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবন ঘটান।
- প্রেসিডেন্ট স্বয়ং নিজে 'কনভেনশন মুসলিম লীগ' নামে একটি দল গঠন করেন। এই বিধির মাধ্যমে তিনি গণ ঐক্য ধ্বংস ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।
- সোহরাওয়ার্দীসহ পূর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। অবশ্য পশ্চিম পাকিস্তানে কাউন্সিল মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টি সক্রিয় হয়।
- এসময় সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ 'জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট' (এন.ডি.এফ) নামে একটি রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করেন। এন.ডি.এফ. গঠনের মূল উদ্দেশ্যে গণ ঐক্য সৃষ্টি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সুদৃঢ় করা। এর মূল দাবি ছিল ১৯৫৬ সালের সংবিধান পুনর্বহাল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১০.
পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে 'পাকিস্তান সংবিধান বিল' পেশ করেন কে? 
  1. মোহাম্মদ আলী বগুড়া 
  2.  আই আই চুন্দ্রীগড়
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন 
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
 আই আই চুন্দ্রীগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 আই আই চুন্দ্রীগড়
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের সংবিধান: 
- স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘ নয় বছর পর পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নে সক্ষম হয়।
- মারী চুক্তির আলোকে ১৯৫৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় গণপরিষদের করাচী অধিবেশনে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করে 'এক ইউনিট' কার্যকর করা হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের আইন সচিব আই আই চুন্দ্রীগড় পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে 'পাকিস্তান সংবিধান বিল' পেশ করেন।
- ব্যাপক আলোচনা সাপেক্ষে বিলটি ২৯ ফেব্রুয়ারী গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস (লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের দিন) থেকে তা কার্যকর হয়।
- এই সংবিধানে ৬টি তপসিল, ১৩টি অনুচ্ছেদ এবং ২৩৪টি ধারা ছিলো।

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১১.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক দলের নাম ছিল -
  1. ক) আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. খ) নেজাম-ই-ইসলামী
  3. গ) কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  4. ঘ) বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষক-শ্রমিক পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষক-শ্রমিক পার্টি
ব্যাখ্যা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক দলের নাম ছিল - কৃষক-শ্রমিক পার্টি।

• ১৯৪৯ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। 
– ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয় চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

• দলগুলো ছিল: 
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন– আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন– কৃষক-শ্রমিক পার্টি।
- মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন– নেজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের– বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

তথ্যসূত্র:  ইতিহাস প্রথম পত্র (এইস এস সি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়- নবম-দশন শ্রেণী।
৪১২.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্থায়িত্বকাল কতদিন?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৫৬ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় মুসলিম লীগ শুরু থেকেই সুনজরে দেখেনি।
- মুসলিম লীগ যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
- বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করা হয়।
- এতে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয় এবং যুক্তফ্রন্টের প্রতি বিরূপ হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকার যেকোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিলের সুযোগ খুঁজতে থাকে।
- মে মাসে কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।
- আদমজী জুটমিলে বাঙালি ও বিহারি শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক গোলযোগ হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্টকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ বলে দায়ী করে।
- নিউইয়র্ক টাইমস-এ ফজলুল হকের সাক্ষাৎকার বিকৃতভাবে প্রকাশিত হয়।
- এতে বলা হয় তিনি পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা চান—মুসলিম লীগ তা রাষ্ট্রদ্রোহী দাবি করে।
- কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২ (ক) ধারা প্রয়োগ করা হয়।
- পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। এই শাসন ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত বহাল থাকে।

- মাত্র ৫৬ দিনের শাসনের পর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪১৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন কে?
  1. আবুল ফজলুল হক 
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. মাওলানা ভাসনী 
  4. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
 - মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং
- হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফার প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

উল্লেখ্য
নোট: [বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খণ্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৪.
মহান শিক্ষা দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ৩০ ডিসেম্বর
  2. ২৬ আগস্ট
  3. ৭ জুন
  4. ১৭ সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৭ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
শিক্ষা দিবস:
- ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস।

⇒ পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী, শিক্ষা সংকোচনমূলক শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ ও একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রবর্তনের দাবিতে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত দিন।
- ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া ‘শরীফ কমিশনে’র শিক্ষানীতি প্রতিহত করতে গড়ে উঠেছিল ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ‘অল-পার্টি স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটি’ দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচির ডাক দেয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা লেলিয়ে দেয় পুলিশ বাহিনী। এক পর্যায়ে হাইকোর্ট মোড়ে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজীউল্লাহ প্রমুখ শহীদ হন।
- সেই থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন প্রতি বছর দিনটিকে ‘মহান শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৪১৫.
শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট মূলত কোন শাসনামলে গঠিত হয়?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

শরিফ শিক্ষা কমিশন:
- আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পর ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শরিফ শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষাবিভাগের সচিব এস এম শরিফ।
- উক্ত কমিশনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ৪ জন ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৬ জন সদস্য নিযুক্ত করা হয়। শিক্ষাকমিশনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোনাজাতউদ্দিন, ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আতোয়ার হোসেন ও ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ রশীদ।
- পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক প্রশাসক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালের ৫ জানুয়ারি শিক্ষা কমিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষনা করেন। 
- কমিশন ১৯৬২ সালের ২৬ আগষ্টের মধ্যেই অন্তবর্তীকালীন এক প্রতিবেদন প্রেসিডেন্ট বরাবর পেশ করে। পরে ১৯৬২ সালে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট গন্থাকারে মুদ্রিত করা হয়। 

• এই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়।
- পাকিস্তানে যে সকল ভাষা রয়েছে সেসকল ভাষার জন্য অভিন্ন বর্ণমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ, বাংলা ভাষা বাংলা বর্ণমালায় না লিখে আরবি অথবা রোমান বা উর্দু বর্ণমালায় লেখার সুপারিশ করা হয়। একইসাথে বাংলা বর্ণামালার সংস্কারের সুপারিশও করা হয়।
- কমিশনের রিপোর্টে ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষাকোর্সের মেয়াদ তিন বছর করার সুপারিশ করা হয়।
- এই রিপোর্টে শিক্ষাকে 'অধিকার' হিসেবে না দেখে শিক্ষাকে 'বাণিজ্য' হিসেবে দেখা হয়েছিল, অর্থাৎ রিপোর্টে 'অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা'কে অসম্ভব বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৪১৬.
শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে কোথায়? 
  1. ঢাকা কলেজে
  2. জগন্নাথ কলেজে
  3. ঢাকা মেডিকেলে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কলেজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কলেজে
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা আন্দোলন:
• শরীফ কমিশনের সুপারিশ ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার ছাত্ররা তৃতীয়বারের মত আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।

- ঢাকা কলেজ থেকে প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
- এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের মেডিকেল, স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা আন্দোলনের ডাক দেয়।
- ১০ আগস্ট ঢাকা কলেজের ক্যান্টিনে স্নাতক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্ররা এক সমাবেশে মিলিত হয়ে ১৫ আগস্ট দেশব্যাপী ধর্মঘট এবং ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়।
- ১৫ আগস্ট দেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয় এবং এদিন থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেওয়া হয়।
- এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে মুক্তি প্রদান করে সরকার তাঁর মুক্তিপ্রদান সম্পর্কে কটাক্ষ করলে ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্ররা রাস্তায় রাস্তায় পিকেটিং শুরু করে। ঐদিন ছাত্রদের সঙ্গে পূর্ববাংলার ব্যবসায়ী সমিতি, কর্মচারী সমিতি, রিকশা ইউনিয়ন, শ্রমিক ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠন যোগ দেয়।
- সরকার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার লক্ষে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশী নির্যাতনে কয়েকজন ছাত্র নিহত ও আহত হয়।
- এদিন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে যশোর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের নির্যাতনে বহু ছাত্র আহত ও গ্রেফতার হয়।
- তিনদিন পূর্ববাংলায় ব্যাপক ছাত্র অভ্যুত্থান ঘটে। ঘটনার ক্রম অবনতি লক্ষ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর গোলাম ফারুকের সাথে কয়েক দফা বৈঠকে মিলিত হন।
- তাঁরই পরামর্শে ছাত্র অভ্যুত্থানের তৃতীয় দিনের মধ্যে সরকার শরীফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৭.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের ফলে কী ঘটে?
  1. নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়
  2. শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়
  4. আইয়ুব খানের শাসন শক্তিশালী হয়
সঠিক উত্তর:
শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়
ব্যাখ্যা

১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরিফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- এ প্রতিবেদনের সুপারিশে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
- ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়।
- এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েক'শ আহত হয়।
- এ আন্দোলনের ফলে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৪১৮.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল কেন?
  1. জনগণকে আশ্বাস দেয়ার জন্য
  2. সরকার বিরোধী প্রচারনায় ২১ সহায়ক ছিল বলে
  3. একুশে ফেব্রুয়ারিকে চির অম্লান রাখার জন্য
  4. একুশ সংখ্যাটি মঙ্গলজনক ছিল বলে
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারিকে চির অম্লান রাখার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারিকে চির অম্লান রাখার জন্য
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন। ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক আদেশ জারি করেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জুলফিকার আলই ভুট্টো
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান জনগণের কিছু আস্থা অর্জনের পর রাজনৈতিক সাফল্য অর্জনের পথে ধীর পদক্ষেপে অগ্রসর হন।
- তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নেন।
- ১৯৫৯ সালের ৭ আগস্ট 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।

⇒ মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন:
- ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান তাঁর বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্র সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
- তাঁর উদ্ভাবিত পরিকল্পনা মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত।
- আইয়ুব খান প্রচার করেন যে, আধুনিক পাশ্চাত্য সংসদীয় গণতন্ত্র পাকিস্তানের স্বল্প শিক্ষিত মানুষের জন্য অনুপযোগী।
- তাঁর প্রবর্তিত 'মৌলিক গণতন্ত্র' সর্বসাধারণের উপযোগী।
- এতে জনগণ সহজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
- মৌলিক গণতন্ত্র কার্যকর করার জন্য তিনি পাকিস্তানের দুই অংশ থেকে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।
- এরা ছিলেন ৫ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনের সর্ব নিম্নস্তর ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য।
- এ ৮০ হাজার ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য মৌলিক গণতন্ত্রীরাই প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদসহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমাত্র ভোট প্রদান ক্ষমতার অধিকারী ছিল।
- ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থাসূচক ভোটে আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২০.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক জোট বিপুলভাবে জয়লাভ করে?
  1. যুক্তফ্রন্ট
  2. কংগ্রেস
  3. মুসলিম লীগ
  4. নেজামে ইসলাম
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।

'যুক্তফ্রন্ট' সম্পর্কিত তথ্য:
- যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র ছিলো - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব বাংলার গভর্নর সরকার গঠনের জন্য যুক্তফ্রন্ট নেতা একে ফজলুল হককে আমন্ত্রণ জানান।

সূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২১.
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ৩০৯টি
  2. ২২৩টি
  3. ২২৫টি
  4. ২৪০টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।

• যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- অন্যান্য সদস্যের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার;
- সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লি উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২২.
নিম্নোক্ত কোন সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ১৯৫৩ সালের ৪ নভেম্বর
  2. ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর
  3. ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
  4. ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইসতেহার ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।

- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।

- পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য:-
১। এ.কে. ফজলুল হক
২। হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও
৩। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।


তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৪২৩.
২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) মাওলানা আতাহার আলী
  3. গ) হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  4. ঘ) এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৪.
'শরিফ শিক্ষা কমিশন' কত সদস্য বিশিষ্ট ছিল?
  1. ১১ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৩ জন
  4. ১৪ জন
সঠিক উত্তর:
১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জন
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- আইয়ুব খান শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
- তদানীন্তন শিক্ষা সচিব এস.এম. শরীফকে সভাপতি করে গঠিত এগার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন 'শরিফ কমিশন' নামে অভিহিত।
- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তার সুপারিশ পেশ করে। কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল নিম্নরূপ:
• তিন বছরের বি.এ কোর্স পদ্ধতি চালু করা (এর আগে ছিল দু'বছরের বি.এ পাস কোর্স)।
• স্কুল-কলেজের সংখ্যা সীমিত রাখা।
• শিক্ষা ব্যয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবককে বহন করতে হবে।
• ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করা হবে।
- কমিশনের এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়।
- ঢাকা কলেজে সর্বপ্রথম আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- ঐ কলেজের ছাত্ররা 'ডিগ্রি স্টুডেন্টস ফোরাম' নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে।
- এই সংগঠনের নামে ঢাকা শহরের অন্যান্য কলেজের ছাত্ররা আন্দোলন পরিচালনা করে।
- পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্দোলনে যোগ দেয়।
- তখন সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে করা হয় 'ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফোরাম'।
- এক পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বের হাতে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. শিক্ষা, স্বাস্থ্য
  2. শিল্প, অর্থ
  3. বাণিজ্য, শ্রম
  4. কৃষি, সমবায়
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:

- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র-এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার-আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী-আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক-শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
- ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৪২৬.
১৯৬৫ এর নির্বাচনে আইয়ুব খান কোন দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন?
  1. কনভেনশন মুসলিম লীগ
  2. পাকিস্তান মুসলিম লীগ
  3. পশ্চিম পাকিস্তান মুসলিম লীগ
  4. সর্বদলীয় মুসলিম লীগ
সঠিক উত্তর:
কনভেনশন মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনভেনশন মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- আইয়ুব খান নিজে কনভেনশন মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন।
- ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আবার আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (Combined Opposition Party, COP) নামে একটি জোট গঠন করে।
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কপের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মৌলিক গণতন্ত্রীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আইয়ুব খান ফাতেমা জিন্নাহকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হন।
- তিনি দ্বিতীয় বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৫ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় এবং মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফলও সরকারী দলের পক্ষে যায়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৭.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কতদিন স্থায়ী ছিল?
  1. ৫২ দিন
  2. ৫৪ দিন
  3. ৫৬ দিন
  4. ৫৮ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাতকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে।
- পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
- মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
⇒ কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকার:
- আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন।
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ইস্কান্দার মীর্জার গোপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছু সদস্য সমর্থন প্রত্যাহার করায় সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভা দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ফলে ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৪২৯.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. মো. আজফার
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. হাজী দানেশ
সঠিক উত্তর:
মো. আজফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মো. আজফার
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে।
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোট:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।
- মুসলমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম লীগ, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, যুবলীগ, গণতন্ত্রী দল, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি।
- অমুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস, তফশিলি ফেডারেশন, গণসমিতি, অভয় আশ্রম (কুমিল্লা), পূর্ব পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল প্রভৃতি।
- কমিউনিস্ট পার্টির মুসলমান সদস্যগণ মুসলমান আসনে এবং হিন্দু সদস্যগণ হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মুসলমান আসনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং নেজামে ইসলামী 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- হিন্দু আসনে গণসমিতি, অভয় আশ্রম ও পূর্ব পাকিস্তান সমাজতান্ত্রিক দল 'সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন লাভ করেছিল?
  1. ক) ২২৩ টি
  2. খ) ১৪৩ টি
  3. গ) ২৩৬ টি
  4. ঘ) ১৩২ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪৩ টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রাপ্ত আসন ২২৩ টি যার মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৪৩ টি আসন লাভ করে, কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮টি, নেজামে ইসলাম ১৯ টি এবং গণতন্ত্রী পার্টি ১৩ টি আসন লাভ করে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩১.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা কয়টি?
  1. একটি
  2. তিনটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
একুশ দফা: 
- একুশ দফা  ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর  যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এ মোর্চা গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত।
- যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিলো ৫টি। 
- এগুলা হলো ১, ১০, ১৬, ১৭, ১৮ নং দফা। 

এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হল:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে;
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩২.
আইয়ুব খান বিরোধী জোট এন.ডি.এফ গঠিত হয় কার উদ্যোগে?
  1. ফাতেমা জিন্নাহ
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. ইস্কান্দার আলী মির্জা
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
এন. ডি. এফ
- এন. ডি. এফ এর পূর্ণরূপ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
- এটি গঠিত হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে।
- ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে বা এন. ডি. এফ গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্ট ১৯৬২ সালে গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
যুক্তফ্রন্টের কোন দফায় বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের প্রতিশ্রুতি ছিল?
  1. ৯ নং
  2. ১৮ নং
  3. ১৫ নং
  4. ৩ নং
সঠিক উত্তর:
১৫ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ নং
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ১৫ নং দফা: বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,

অন্যদিকে,
৩নং দফা: পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৯ নং দফা: অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১৮ নং দফা: একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৪.
যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় কী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল?
  1. ব্যালট জয়
  2. ভোট–বিপ্লব
  3. ব্যালট–বিপ্লব
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ব্যালট–বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যালট–বিপ্লব
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের বিজয়:
- যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় ব্যালট–বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

⇒ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাঙালি জাতি, বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি এবং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগ নেতৃত্বের কার্যকলাপ ও পাকিস্তানি শাসকদের ছয় বছরের শোষণের বিরুদ্ধে এই নির্বাচন ছিল 'ব্যালট বিপ্লব'। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিভিন্ন উপদল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি প্রভৃতির কারণে এই সময়ে পূর্ব বাংলায় আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামী, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্ব-স্ব জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে এই নির্বাচন সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৫.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ৮ ডিসেম্বর
  2. ১৬ মার্চ
  3. ৮ মার্চ
  4. ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ
ব্যাখ্যা

• প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি) জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৬.
যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক ২১ দফা কর্মসূচির প্রধান্তিক রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  5. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৭.
কাগমারী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল হক
  3. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন: 
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের  'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ০৫ জানুয়ারি ২০১৮।
৪৩৮.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কত দফার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল?
  1. ৬ দফা 
  2. ১১ দফা 
  3. ২০ দফা 
  4. ২১ দফা 
সঠিক উত্তর:
২১ দফা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা 
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন। 

- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা ৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা ১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কততম দফায় 'বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা'-এর উল্লেখ ছিল?
  1. ১ম
  2. ৩য়
  3. ৪র্থ
  4. ২য়
সঠিক উত্তর:
১ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ১ম দফায় 'বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা'-এর উল্লেখ ছিল।

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪০.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কবে কার্যকর হয়?
  1. ২১ মার্চ, ১৯৫৬
  2. ২২ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  4. ২৪ মার্চ, ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে।
- আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিলো কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
একুশ দফা:
- একুশ দফা ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এ মোর্চা গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত।
- যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিলো ৫টি।
- এগুলা হলো ১, ১০, ১৬, ১৭, ১৮ নং দফা।

এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হল:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে;
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
Who played a key role in the formulation of the 21-point manifesto of the 'United Front'?
  1. A.K. Fazlul Haque
  2. Maulana Atahar Ali
  3. Abul Monsur Ahmed
  4. Maulana Vashani
সঠিক উত্তর:
Abul Monsur Ahmed
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Abul Monsur Ahmed
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৩.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন কে?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. আইয়ুব খান
  3. ওমরাও খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালেই এ শাসনতন্ত্রের সমাধি রচিত হয়। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের চাপের কারণে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন। এটি ছিল আসলে সামরিক অভ্যুত্থান।
- সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা এক ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারকে তিনি বরখাস্ত করেন। সাথে সাথে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদগুলো ভেঙে দেন। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেও বাতিল করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৪.
কোন ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা বেসামরিক শাসন অবসানের উদ্যোগ নেন?
  1. যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রীসভা গঠন
  2. কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় সোহরাওয়ার্দী স্থান পাওয়া
  3. ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলীর মৃত্যু
  4. জুটমিলে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা
সঠিক উত্তর:
ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলীর মৃত্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলীর মৃত্যু
ব্যাখ্যা
প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ: 
- গোলাম মুহাম্মদের পদত্যাগের পর ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।
- তাঁর অগণতান্ত্রিক আচরণ ও হস্তক্ষেপের ফলে ১৯৫৬-৫৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রে তিনটি মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- এই সময় পূর্ব পাকিস্তানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের মধ্যে গোলযোগে পরিষদ কক্ষেই ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলী আহত হন এবং পরদিন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা বেসামরিক শাসন অবসানের উদ্যোগ নেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৫.
একুশ দফার প্রথম দাবী ছিলো কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর করা
  2. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
  3. জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
  4. ২১শে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার
সঠিক উত্তর:
বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে একুশ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- এর প্রথম দফা বা দাবী ছিলো বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৪৬.
যুক্তফ্রন্ট মূলত কয়টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তফ্রন্ট একটি একুশ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং এটিকে নির্বাচনী ইশতেহারের অর্ন্তভুক্ত করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো,
• আওয়ামী লীগ।
• কৃষক শ্রমিক পার্টি।
• নেজামে ইসলাম।
• গণতন্ত্রী দল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। 
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন। পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৭.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কবে গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়?
  1. ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৬
  2. ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  3. ২ মার্চ, ১৯৫৬
  4. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন: 
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র। এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে। সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়। এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে। আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে। অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৮.
১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ কে পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন জারি:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৯.
নিচের কোনটি যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক দল নয়?
  1. ক) গণতন্ত্রী দল
  2. খ) নেজামে-ই-ইসলাম
  3. গ) খিলাফত-ই রাব্বানী
  4. ঘ) কৃষক-শ্রমিক পার্টি
সঠিক উত্তর:
গ) খিলাফত-ই রাব্বানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খিলাফত-ই রাব্বানী
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট গঠন  - ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস - সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
• যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি। এগুলো হলো - 
১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক-শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হক) 
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী) 
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)
• যুক্তফ্রন্টের সভাপতি - হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য - এ.কে. ফজলুল হক, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক - নৌকা।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫০.
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে কতটি আসনে নির্বাচন হয়?
  1. ২৫০টি
  2. ৩০০টি
  3. ৩০১টি
  4. ৩০৯টি
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি) জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
নিচের কোন দলটি যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. নেজাম-ই-ইসলামী
  2. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
  3. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  4. তফশিলি ফেডারেশন
সঠিক উত্তর:
তফশিলি ফেডারেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তফশিলি ফেডারেশন
ব্যাখ্যা
- তফশিলি ফেডারেশন যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। 

চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫২.
কত সদস্য নিয়ে যুক্তফ্রন্টের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১৩ জন
  2. ১৪ জন
  3. ১৫ জন
  4. ১৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ জন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:

- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে
- ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- যুক্তফ্রন্টের ১৪ জন সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কততম দফায় ‘বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা’র কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৫তম
  2. ১৬তম
  3. ১৭তম
  4. ১৮তম
সঠিক উত্তর:
১৬তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬তম
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে। ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৪.
পাকিস্তানের নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য আইয়ুব খান কোন কমিশন গঠন করেন?
  1. ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
  2. কমিটি ফর ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
  3. ন্যাশনাল লেজিসলেটিভ রিভিউ বোর্ড  
  4. প্রাদেশিক প্রশাসন কমিশন
সঠিক উত্তর:
ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
ব্যাখ্যা

• শাসনতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন:
- বাষট্টির ছাত্র আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা ঘটে আইয়ুব খান কর্তৃক পরিকল্পিত শাসনতন্ত্রকে কেন্দ্র করে।
- আইয়ুব খান ১৯৬০ সলের জানুয়ারি মাসে মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচন শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি ৯৫.৬ শতাংশ মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- এর দুদিন পর পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনার জন্য 'ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন' (BNR) নামক একটি কমিশন গঠন করেন।
- কমিশন '৬২ সালের ২৮ এপ্রিল জাতীয় পরিষদের এবং ৬ মে প্রাদেশিক পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচনের সুপারিশ করে।
- কমিশন আইয়ুব খানের সাংবিধানিক পরিকল্পনা সম্বলিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এতে ব্রিটিশ পদ্ধতির পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র পাকিস্তানে প্রযোজ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেয়া হয় -
  1. ১৯৫৪ সালের ৮ জুন
  2. ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল
  3. ১৯৫৪ সালের ৮ মে
  4. ১৯৫৪ সালের ৩০ মে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সালের ৩০ মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সালের ৩০ মে
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য ছিল - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।

- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। 
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।

উৎস:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
যুক্তফ্রন্টের একুশ দফা কর্মসূচি প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  3. গ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  4. ঘ) আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২১ দফা সম্বলিত ইশতেহার ঘোষণা করে।
আওয়ামী মুসলিম লীগের ৪২ দফা কর্মসূচির প্রধান বিষয়সমূহ নিয়ে রচিত এই একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
একুশ দফার এক নম্বর দফা ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৫৭.
পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান রচিত হয় -
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৬৩ সালে
  3. ১৯৬৪ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের ২য় সংবিধান:
- ১৯৬২ সালের মার্চ মাসে আইয়ুব খান পাকিস্তানের নতুন সংবিধান ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ১ মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং ক্লাশ বর্জন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ঐদিন সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়।
- এর ফলে রাজনীতিবিদগণ ও ছাত্র সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায়।

উল্লেখ্য,
- এ সংবিধানটি ছিল এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক।
- এই সংবিধানে কেন্দ্র ও প্রদেশের আইনসভা মন্ত্ৰী পরিষদ ও গভর্নরের ক্ষমতাকে সংকুচিত করে প্রেসিডেন্টের হাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়।
- এতে বিচার বিভাগের ক্ষমতাও খর্ব করা হয়।
- ঢাকাকে নাম মাত্র দ্বিতীয় রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়।
- এটি পাকিস্তানের ২য় সংবিধান।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে কত দফা দাবি উত্থাপন করে?
  1. ৮ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ১২ দফা
  4. ১১ দফা
সঠিক উত্তর:
১১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ সালে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালের সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
-  ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৫৯.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে মোট কয়টি  দল অংশগ্রহণ করে?
  1. ১৪টি
  2. ১৫টি
  3. ১৭টি
  4. ১৬টি
সঠিক উত্তর:
১৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬টি
ব্যাখ্যা

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোট:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।
- মুসলমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম লীগ, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, যুবলীগ, গণতন্ত্রী দল, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি।
- অমুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস, তফশিলি ফেডারেশন, গণসমিতি, অভয় আশ্রম (কুমিল্লা), পূর্ব পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল প্রভৃতি।
- কমিউনিস্ট পার্টির মুসলমান সদস্যগণ মুসলমান আসনে এবং হিন্দু সদস্যগণ হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মুসলমান আসনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং নেজামে ইসলামী 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- হিন্দু আসনে গণসমিতি, অভয় আশ্রম ও পূর্ব পাকিস্তান সমাজতান্ত্রিক দল 'সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬০.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয় দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা দিয়েছিল?
  1. ১১ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ৪ দফা
  4. ৬ দফা
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ও নেজামে ইছলামীর সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যদিও যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, গণতন্ত্রী দল ও যুবলীগ, কিন্তু ফ্রন্টের কৃষক শ্রমিক পার্টি ও নেজামে ইছলামীর নেতৃবৃন্দের বিরোধিতায় এই দলগুলোকে ফ্রন্টভুক্ত করা হয়নি।
- নির্বাচনের প্রাক্কালে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফার অন্যতম দাবি ছিল: 
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬১.
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন-
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী 
  4. মাওলানা আতাহার আলী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট:
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪টি ।
• আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী )।
• কৃষক প্রজাপার্টি ( এ. কে. ফজলুল হক )।
• নেজামে-ই-ইসলাম ( মাওলানা আতাহার আলী )।
• গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ )।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬২.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করেছিল?
  1. ২১৭টি
  2. ২২৩টি
  3. ২২৭টি
  4. ২৩৫টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল:
- নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- ফলে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা ভাসানী
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. হাবিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট: 
• ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। 
• কৃষক প্রজাপার্টির নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি চুক্তির মাধ্যমে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করেন।  

• পরবর্তীতে নেজাম-ই-ইসলাম, খেলাফতে রব্বানী পার্টি, গণতন্ত্রী দল শরীক হয়।  
• সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রোডে প্রধান অফিস স্থাপিত হয়।

• মহান একুশে ফেব্রুয়ারির স্মৃতিতে যুক্তফ্রন্ট প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।  
• পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।  
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল 'নৌকা'।  
• সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  
• নির্বাচনে তারা মোট ৩০৯ আসনের মধ্যে ২২৩ টি মুসলিম আসন ও ১৩ টি অমুসলিম আসনে জয় লাভ করে।    

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।  
৪৬৪.
আইয়ূব খানের জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বুঝায়?
  1. সর্বদলীয় অংশগ্রহন 
  2. সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা 
  3. সামরিক শাসনের কাঠামো
  4. যুক্তরাষ্টীয় শাসন ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা 
ব্যাখ্যা

মৌলিক গণতন্ত্র:
- মৌলিক গণতন্ত্র একধরনের পরোক্ষ ও সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
- এই ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে সার্বজনীন ভোটাধিকারকে অগ্রাহ্য করা হয়।
- আইয়ূব খান প্রবর্তিত ব্যবস্থায় জনগণ স্থানীয় প্রতিনিধিদের নির্বাচন করতো।
- পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ও আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাতে কেবলমাত্র কিছু লোকের অধিকারে সরকার নির্বাচনের অধিকার ছিলো।

উল্লেখ্য,
- আইয়ূব খান ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি 'মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ' জারি করেন।
- এই অধ্যাদেশ বলে তিনি যে স্থানীয় সরকারের পরিকল্পনা করেন তার নামকরণ করা হয় 'Basic Democracy' বা 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে ৪ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
- প্রথম স্তরে ছিল গ্রামে 'ইউনিয়ন কাউন্সিল, পৌর এলাকায় 'ইউনিয়ন কমিটি', এবং ছোট শহরে 'টাউন কমিটি।'
- দ্বিতীয় স্তরে ছিল থানায় থানা কাউন্সিল, পৌর এলাকায় 'মিউনিসিপ্যাল কমিটি', সামরিক এলাকায় 'ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড'।
- তৃতীয় স্তরে ছিল 'জেলা কাউন্সিল' এবং চতুর্থ স্তরে ছিল 'বিভাগীয় কাউন্সিল'। 

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার কে রচনা করেন?
  1. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল হক খান
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
- হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৬.
১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি করেন-
  1. আইয়ুব খান
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. ফজলুল হক
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন
→ ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করেন।
→ তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
→ তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন।
→ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন।
→ মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
→ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
→ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
→ মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
→ এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৬৭.
১৯৫৮ সালের কত তারিখে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয়?
  1. ১১ সেপ্টেম্বর
  2. ১৪ সেপ্টেম্বর
  3. ৭ অক্টোবর
  4. ২৭ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

⇒ ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৪৬৮.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কত তারিখে কার্যকর হয়েছিল?
  1. ২৩ এপ্রিল, ১৯৫৬
  2. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  4. ২৩ জানুয়ারি, ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
৫৬ সালের শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।

এছাড়াও,
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- আলোচনার পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়। 
- কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি।
- এ শাসনতন্ত্র দিনে দিনে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যেই এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৯.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারণ ছিল -
  1. হামিদুর রহমান কমিশন
  2. মনায়েম খান কমিশন
  3. শরিফ শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
শরিফ শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরিফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।

• শরিফ শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ,১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ। এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট, ১৯৫৯।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কারণ এর কয়েকটি সুপারিশকে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চশিক্ষা সংকোচনের জন্য উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেমন ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করা, কলেজ পর্যায়ে বছর শেষে পরীক্ষা ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হওয়ার শর্ত, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত।
- এগুলোকে ছাত্ররা সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে। 
- তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ নিয়ে। ক্ষমতায় এসেই আইয়ুব খান (অক্টোবর ১৯৫৮) সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, এ সময় সব ধরনের রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ।
- ফলে রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৪৭০.
পূর্ববঙ্গের নাম পূর্ব পাকিস্থান করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৬
  3. ১৯৬২
  4. ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা নতুন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে পাকিস্তান গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এটি ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান।
- ১৯৫৬ সালে এ সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র' করা হয়।
- এই সংবিধান চালু ছিল মাত্র দু বছর।
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।
- সংবিধান স্থগিত করার সাথে সাথে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের সময় প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. ইস্কান্দার মীর্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
সংবিধান কাঠামো: 
- ১৯৪৭ সালে সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি গণপরিষদকে।
- এই গণপরিষদ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা হিসেবে কাজ করত।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত হয়।
-এ সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইস্কান্দার মীর্জা। 
- এটি ১৯৩৫ সালের আইনের রূপ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করার ক্ষমতা প্রদান করে।

উৎস: Britannica.
৪৭২.
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৮ মার্চ
  2. ১৮ মার্চ
  3. ২৮ মার্চ
  4. ১৮ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট এবং প্রাদেশিক নির্বাচন (১৯৫৪ সাল): 
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- মূলত এ নির্বাচন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও তার দোসরদের শোষণের বিরুদ্ধে এক 'ব্যালট বিপ্লব'।
- পাকিস্তান সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিভিন্ন উপদল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি প্রভৃতির কারণে নতুন নতুন রাজনৈতিক দল গঠন আবশ্যক হয়ে পড়ে।
- বিশেষ করে এ সময় পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক- শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়।
- আগে থেকেই ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম লীগ সরকার পরাজয়ের আশঙ্কায় নানা টালবাহানা করে নির্বাচনের তারিখ বারবার পিছিয়ে দেয়।
- অবশেষে সরকার পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য করে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৪৭৩.
'কাগমারি সম্মেলন' কখন অনুষ্ঠিত হয়? 
  1. ১৯৫৭ সালে 
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
ব্যাখ্যা
• কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- কাগমারি সম্মেলনের মূল আলোচনা হয় ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ সালে।
- স্থান: টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষ।
- সভাপতি: মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- প্রধান অতিথি: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের প্রতি 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।
- এজেন্ডা: পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭৪.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন ছিল-
  1. ২২৩টি
  2. ২৩৭টি
  3. ৩১০টি
  4. ৩০৯টি
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ২৩৭টি এবং অমুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ৭২টি। এই দুইয়ের যোগফলে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন সংখ্যা হয় ৩০৯টি।
যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল। মুসলিম ২২৩টি এবং অমুসলিম ১৩টি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ১৯৫৪:

১. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক - মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ)।
২. আবু হোসেন সরকার - অর্থমন্ত্রী।
৩. আতাউর রহমান খান - খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী।
৪. আবুল মনসুর আহমদ - জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী।
৫. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী।
- 'যুক্তফ্রন্ট' নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারকে ২১ দফা কর্মসূচিতে লিপিবদ্ধ করেন।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- মুসলিম লীগের প্রতীক ছিলো 'হারিকেন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭৬.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেয়া হয় কখন?
  1. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে
  2. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে
  3. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল
  4. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার অবসান:
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ শুরু থেকেই তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
- ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল ফজলুল হক  শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে দুই বাংলা যে অভিন্ন তা বর্ণনা করেন।
- এই বক্তৃতার সূত্র ধরে মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনে।
- 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এ ফজলুল হকের এক সাক্ষাৎকার বিকৃত করে প্রকাশিত হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে।
- পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- এই সময় চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলোদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন -
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. আতাউর রহমান খানআতাউর রহমান খান
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৮.
মৌলিক গণতন্ত্রের কতটি স্তর ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৯.
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন কে?
  1. গোলাম মুহাম্মদ
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. আইয়ুব খান
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা: 
- গোলাম মুহাম্মদের পদত্যাগের পর ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।
- তাঁর অগণতান্ত্রিক আচরণ ও হস্তক্ষেপের ফলে ১৯৫৬-৫৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রে তিনটি মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- এই সময় পূর্ব পাকিস্তানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের মধ্যে গোলযোগে পরিষদ কক্ষেই ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলী আহত হন এবং পরদিন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট মীর্জা বেসামরিক শাসন অবসানের উদ্যোগ নেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৮০.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন?
  1. ৩৪ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৩৬ বছর
  4. ৩৮ বছর
সঠিক উত্তর:
৩৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪ বছর
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
⇒ ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
- তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
 
উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৮১.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে কতটি আসন ছিল?
  1. ক) ২২৩টি
  2. খ) ২৩৭টি
  3. গ) ৩০৯টি
  4. ঘ) ৩১০টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচন।
- পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে আসন ছিল ৩০৯টি।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ ৯টি আসন লাভ করে।
- মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনসহ প্রভাবশালী ৫ সদস্যের সকলেই নির্বাচনে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য,
- মুসলিম নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনে ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- এই ৯টি আসনের সবগুলোতে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮২.
মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে প্রশাসনিক কাঠামো কয় স্তর বিশিষ্ট ছিল?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র :
মৌলিক গণতন্ত্র ১৯৬০-এর দশকে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রবর্তিত একটি স্থানীয় সরকার পদ্ধতি।
-মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ জারি হয় - ২৭ অক্টোবর ১৯৫৯ সাল।
-এ সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসনিক কাঠামো ৪ স্তর বিশিষ্ট ছিল-
১. ইউনিয়ন পরিষদ।
২. থানা পরিষদ।
৩. জেলা পরিষদ।
৪. বিভাগীয় পরিষদ।

তাছাড়াও,
- একজন চেয়ারম্যান এবং প্রায়শ ১৫ জন সদস্য নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হতো।
- সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিনিধি নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের থানা পরিষদ গঠিত হতো।
- তৃতীয় স্তরে ছিল জেলা পরিষদ। একজন চেয়ারম্যান এবং সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের নিয়ে এ পরিষদ গঠিত হতো।
- চতুর্থ ও শীর্ষ স্তর ছিল বিভাগীয় পরিষদ। বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকারবলে এ পরিষদের চেয়ারম্যান থাকতেন।

উল্লেখ্য যে,
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৮৩.
১৯৭০-এ ইয়াহিয়া খান কোন নীতিতে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেন?
  1. এক ব্যক্তি এক ভোট
  2. এক ব্যক্তি দুই ভোট
  3. এক ব্যক্তি বহু ভোট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এক ব্যক্তি এক ভোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ব্যক্তি এক ভোট
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন:
- ২৫শে মার্চ ১৯৬৯ তারিখে সারা দেশে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর হলেও সামরিক সরকার গণ-দাবিকে উপেক্ষা করার মত শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি।
- তাই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সারা দেশে এক ব্যক্তি এক ভোটের নীতিতে সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
- ৭ই ডিসেম্বর '৭০ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর' ৭০ এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে দেশব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ৬ দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে রায় প্রদান করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৮৪.
বঙ্গবন্ধু কত সনে প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য নির্বাচিত হন?
  1. ক) ১৯৪৮
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৮৫.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা কত দফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়?
  1. ৬ দফা
  2. ২০ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৬.
কত সদস্য নিয়ে যুক্তফ্রন্টের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১২ সদস্য
  2. ১৩ সদস্য
  3. ১৪ সদস্য
  4. ১৫ সদস্য
সঠিক উত্তর:
১৪ সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ সদস্য
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠনঃ
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- যুক্তফ্রন্টের ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- আবু হোসেন সরকার, -বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার।
- সৈয়দ আজিজুল হক - শিক্ষা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- শেরে বাংলা এবং যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে থাকেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমী করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল -
  1. হারিকেন
  2. নৌকা
  3. বই
  4. বাতি
সঠিক উত্তর:
হারিকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারিকেন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে মূলত ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'হারিকেন'।
- নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
  2. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী
  3. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  4. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  5. শিক্ষা ও চিকিৎসা
সঠিক উত্তর:
অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র: এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী: আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প: সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৪৮৯.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন?
  1. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  2. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  3. কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
  4. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র-এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার-আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী-আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক-শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৪৯০.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে -
  1. ক) মুসলিম লীগ
  2. খ) কংগ্রেস
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট
  4. ঘ) ন্যাপ
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তফ্রন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯১.
আইয়ুব সরকার বিরোধী রাজনীতিবিদদের হয়রানির জন্য কতটি নির্বতনমূলক আইন জারি করেছিলেন?
  1. ৫টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

আইয়ুবি শাসনামলে রাজনৈতিক হয়রানি: 
- আইয়ূব খান একনায়কতান্ত্রিক সামরিক জান্তার মতোই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন।
- তার শাসনামলের প্রথম চার বছর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ছিলো।
- পরবর্তীতে রাজনীতিবিদরা সীমিত পরিসরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করলেও পদে পদে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
- পোডো (PODO, Public Office Disqualification Order) এবং এবডোর (EBDO, Executive Bodies Disqualification Order) মাধ্যমে দেশের বিরোধী রাজনীতিবিদদের জব্দ  করেন।
- এবং হয়রানি করার জন্য দু'টি নির্বতনমূলক আইন আইয়ুব সরকার জারি করেছিলেন।
- এ দুটি আইনের প্রধান শিকার হয়েছেন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদরা।
- স্বনামধন্য রাজনীতিবিদদের নিষিদ্ধ করা ছাড়াও আইয়ূব খান বিভিন্ন সময়ে তার বিরোধিতা করার জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, মিয়া দৌলতানা, আতাউর রহমান খান, শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ গণতান্ত্রিক নেতাদের বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটক রেখেছেন।

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯২.
ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট্রের ২১ দফা দাবির প্রথম দাবি কি ছিল?
  1. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
  4. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা
সঠিক উত্তর:
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কবে বাতিল ঘোষণা করা হয়?
  1. ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮
  2. অক্টোবর, ১৯৫৮
  3. আগস্ট, ১৯৫৮
  4. মার্চ, ১৯৫৮
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর, ১৯৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর, ১৯৫৮
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

⇒ এ শাসনতন্ত্রের অধীনে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যে এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের চাপের কারণে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন এবং পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

- এটি ছিল আসলে সামরিক অভ্যুত্থান। 
- সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৪.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে নিচের কোন দলটি যুক্তফ্রন্টের অংশ ছিল না?
  1. ক) গণতন্ত্রী দল
  2. খ) কৃষক শ্রমিক পার্টি
  3. গ) পিপলস পার্টি
  4. ঘ) নেজামে ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) পিপলস পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পিপলস পার্টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তফ্রন্ট একটি একুশ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং এটিকে নির্বাচনী ইশতেহারের অর্ন্তভুক্ত করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

বি.দ্র : বোর্ড বইয়ে ৫টি দল উল্লেখ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের দলিলে যুক্তফ্রন্ট ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। তাই অপশনে ৪ এবং ৫ থাকলে ৪টি অধিক গ্রহনযোগ্য।
৪৯৫.
১৯৬৫ এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কে?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. ফাতেমা জিন্নাহ
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ফাতেমা জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাতেমা জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
১৯৬৫ সালের নির্বাচন:

- ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- আইয়ুব খান নিজে কনভেনশন মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন।
- ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আবার আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (Combined Opposition Party, COP) নামে একটি জোট গঠন করে।
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কপের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মৌলিক গণতন্ত্রীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আইয়ুব খান ফাতেমা জিন্নাহকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৬.
পাকিস্তানে ১৯৫৮ সালে কোন শাসক সামরিক শাসন জারি করেন এবং সংবিধান স্থগিত করেন?
  1. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- পাকিস্তান গঠনের পর একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়নের দাবি ওঠে, বিশেষ করে পূর্ব বাংলার জনগণের পক্ষ থেকে।
- কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তা উপেক্ষা করে।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত মূলনীতি কমিটিতে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য, এবং তাদের স্বার্থ উপেক্ষা করায় প্রতিবাদ শুরু হয়।
- দীর্ঘ জটিলতা ও প্রতিবাদের পর ১৯৫৬ সালে একটি সংবিধান প্রণীত হয়, যা দুই বছর কার্যকর ছিল।
- ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সংবিধান স্থগিত করেন এবং পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৯৭.
আইয়ুব খান কত সালে মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:

- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল।
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
‘আওয়ামী মুসলিম লীগ” থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন-
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) শামসুল হক
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন কাজী বশিরের স্বামীবাগস্থ বাসভবন "রোজ গার্ডেন" এ অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের মাধ্যমে "পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ" গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলিম লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হওয়ার অভিপ্রায়ে আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়।
- এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৫৫ সালের ২১ - ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- ফলে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোক আওয়ামী লীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে এটি একটি সেকুলার ও সর্বজনীন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৯.
আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে কী বিপ্লব বলে আখ্যা দেন?
  1. মার্চ বিপ্লব
  2. আগস্ট বিপ্লব
  3. সেপ্টেম্ববর বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল:
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ছিলেন গণতন্ত্র বিরোধী।
- গণতন্ত্র ধ্বংসে তাঁর অপতৎপরতার অন্যতম সহযোগী ছিলেন প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাঁর একান্ত পার্শ্বচর আইয়ুব খানের হাতেই তাঁর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে।
- সামরিক শাসন জারির ২১ দিন পরেই আইয়ুব খান ইস্কান্দর মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন।
- ১৯৫৮ সালের ২৭ আক্টোবর আইয়ুব খান নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। একই সংগে তিনি প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বহাল থাকেন।
- আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে অক্টোবর বিপ্লব বলে আখ্যা দেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০০.
১৯৫৫ সালে শেখ মুজিবের প্রকাশিত প্রচার পুস্তিকার নাম -
  1. ক) সোনার বাংলা শশ্মান কেন?
  2. খ) পাকিস্তান সৃষ্টির যৌক্তিকতা
  3. গ) ছয়দফা- আমাদের বাঁচার দাবী
  4. ঘ) কেন পূর্ববঙ্গের অটনমি চাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেন পূর্ববঙ্গের অটনমি চাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেন পূর্ববঙ্গের অটনমি চাই
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৫ সালে কেন্দ্রীয় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- শেখ মুজিব এ সময় ‘কেন পূর্ববঙ্গের অটনমি চাই' শীর্ষক এক পুস্তিকা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে প্রকাশ করে পূর্ব বাংলার উপর উপনিবেশিক শোষণ ও পশ্চিম পাকিস্তানের বাজারে পরিণত করার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জনগণকে সচেতন করতে শুর করেন। 
- আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে দলের নাম হতে ‘মুসলিম' কথাটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আনলে প্রায় সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হয়।
 
উৎস: সিভিক এডিকশন -২, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।