বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন২৮৫এই পাতা৮৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ২০১২৮৪ / ২৮৫

২০১.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।
  2. তোমাকে এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে।
  3. আজ সারারাত রাস্তার আলো জ্বলেনি।
  4. জানালার কাচ ভাঙল।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
 অসমাপিকা ক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত বাক্যকল্পের সংগঠন যেখানে বাক্যের উদ্দেশ্যের স্থান নেয়, আমাদের মতে সেগুলিই ভাববাচ্য। যেমনঃ
- তোমার এক্ষুনি বাজারে যাওয়া দরকার।
 - তোমাকে এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে। 
- এখানে এই কথা বলা চলে না।
- এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়। 
- ওকে আমার কথা অবশ্যই শুনতে হবে।

কর্তা বাচ্যকে ২ ভাগে করা যায়।
১) ঘটক- কর্তাবাচ্য
২) ঘটিত-কর্তাবাচ্য (কর্মকর্তা বাচ্য)

ঘটিত-কর্তাবাচ্য (কর্মকর্তা বাচ্য) এর উদাহরণঃ
- কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।
- জানালার কাচ ভাঙল। 
- এসিটা চালু হল।
- আজ সারারাত রাস্তার আলো জ্বলেনি। 
 
এইসব উদাহরণে অন্তর্গত অর্থের সাহায্য নিয়ে আমরা কোনো অদৃশ্য মানবিক agent-কে কর্তা হিসাবে গ্রহণ করি না, বাক্যের সংগঠনে যে শব্দটি কর্তা, অর্থাৎ যার সঙ্গে ক্রিয়ার সাযুজ্য (agreement) ঘটছে তাকেই (বাঁশি, কাচ, এসি, রাস্তার আলো) উদ্দেশ্য হিসাবে গণ্য করে বাক্যগুলিকে কর্তাবাচ্য হিসাবে গণ্য করা হয়।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক অভিধান।
২০২.
তুমি কখন এলে?- এ বাক্যের ভাববাচ্যের রূপান্তর-
  1. এসেছো কখন?
  2. কখন আসা হলো?
  3. আসা হলো, কখন?
  4. তুমি এসছো?
সঠিক উত্তর:
কখন আসা হলো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখন আসা হলো?
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
• ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?
------------------------------
• কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্য রূপান্তর:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়।
যেমন
• কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
• ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২০৩.
কোনটি কর্তাবাচ্যের উদাহরণ?
  1. তোমাকে বাজারে যেতে হয়েছে।
  2. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
  3. তোমাকে বাজারে যেতে হবে।
  4. আমার যাওয়া হল না।
সঠিক উত্তর:
দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অন্যদিকে,
- তোমাকে বাজারে যেতে হবে। এবং আমার যাওয়া হল না। - ভাববাচ্যের উদাহরণ।
- তোমাকে বাজারে যেতে হয়েছে। - কর্মবাচ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২০৪.
ভাববাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  2. আমার যাওয়া হল না।
  3. তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
  4. এবার বাঁশিটি বাজাও।
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হল না।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
-----------
কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৫.
"পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা

বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কৰ্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০৬.
ভাববাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
  4. এবার বাঁশিটি বাজাও।
সঠিক উত্তর:
কোথা থেকে আসা হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোথা থেকে আসা হলো।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০৭.
বাচ্য বলতে বোঝায় বাক্যের - 
  1. প্রয়োগ
  2. বাক্যের অর্থ
  3. প্রকাশভঙ্গি
  4. বাক্যের রূপান্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকাশভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকাশভঙ্গি
ব্যাখ্যা

• বাচ্য: 
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।

যেমন -
- সে বাজারে যায়।
- সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
- কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

- উপরের প্রথম বাক্যে ‘যায়' ক্রিয়াটি ‘সে' কর্তার অনুসারী।
- দ্বিতীয় বাক্যে ‘করা হয়েছে' ক্রিয়াটি ‘সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী।
- তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২০৮.
কোন বাক্যটি কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ নির্দেশ করছে?
  1. ছেলে বই পড়ছে
  2. মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন
  3. বাঁশি বাজে
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ- বাঁশি বাজে।

→ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা:
- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলতে সেই ধরনের বাক্যকে বোঝায় যেখানে কাজটি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কে করছে তা বলা হয় না।
- এখানে ক্রিয়ার কাজের ওপর গুরুত্ব থাকে।
- বাক্যে আলাদা কোনো কর্তা থাকে না বা কর্তা অনুপস্থিত থাকে।
- কর্মটিই যেন কর্তা হিসেবে কাজ করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে।

• যেমন:
- "বাঁশি বাজে", বাক্যে 'বাঁশি' নিজেই হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা।
- “বাঁশি বাজে” বাক্যে বাঁশিই নিজে বাজছে, কে বাজাচ্ছে বলা হয় না।
- এই বাক্যে আসল কর্তা উহ্য রয়েছে।
- বাক্যের কর্মপদটিই মুখ্য হয়ে কর্তার মতো আচরণ করছে। 

কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তার কিছু উদাহরণ:
- গাড়ি চলে বাক্যে গাড়িই নিজে চলছে।
- চোর ধরা পড়েছে (এখানে চোর নিজেই ধরা পড়েছে)। 
- বই পড়া হচ্ছে (বই নিজেই পড়া হচ্ছে)।
- ঘটনাটি ঘটেছে (ঘটনাটি নিজেই ঘটেছে)। 
- ঝড় আসছে (ঝড় নিজেই আসছে)।
- জল পড়ে (জল নিজেই পড়ে)।
- পাতা নড়ে (পাতা নিজেই নড়ে)।
- বাতাস বইছে (বাতাস নিজেই বইছে)। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০৯.
তাকে খেতে বলেছি। কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্যে অবশ্যই কর্তা থাকবে, তবে কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকতে পারে এবং কর্তৃবাচ্যের কর্মে দ্বিতীয়, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
তাকে খেতে বলেছি। (কর্তা ‘আমি’ উহ্য আছে)
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২১০.
“আমার খাওয়া হলো না” - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন -
- ''কোথায় থাকা হয়'',
- “আমার খাওয়া হলো না”,
- “কোথা থেকে আসা হচ্ছে”,
- ''আমাকে এখন যেতে হবে''।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২১১.
'আমাকে এখন যেতে হবে।'- বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- এ পথে চলা যায় না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২১২.
'কোথায় থাকা হয়?' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৩.
'জল পড়ে, পাতা নড়ে।' বাক্যটি প্রকাশভক্তি অনুসারে - 
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।

অনুরূপ, জল পড়ে পাতা নড়ে। বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
২১৪.
'মাছ ধরা যাক।' কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য 
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য 
ব্যাখ্যা

• বাচ্য: বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'। বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
 যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- মাছ ধরা যাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৫.
'মহাজনকে সুদ দিই'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য 
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
- 'মহাজনকে সুদ দিই' কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

• কর্তৃবাচ্য:
- কর্তৃবাচ্যে অবশ্যই কর্তা থাকবে, তবে কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকতে পারে।
- কর্তৃবাচ্যের কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন : 
তাকে খেতে বলেছি। (কর্তা ‘আমি’ উহ্য আছে)
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
রোগী পথ্য সেবন করে।
চোর আমগুলো চুরি করে নিয়ে গিয়েছে।
কাঠুরে বনে কাঠ সংগ্রহ করছে।
মহাজনকে সুদ দিই। (কর্তা ‘আমি’ আছে)

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২১৬.
‘হুইসেল বাজে।’ - বাক্যে কোন বাচ্যের দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

⇒ কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- হুইসেল বাজে।
[ এই বাক্যে ‘হুইসেল’ কর্ম। তবে কর্তাস্থানীয় হয়ে ‘বাজা’ ক্রিয়া নিজে সম্পাদন করছে।]

- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২১৭.
"তোমাকে পাশ করতে হবে।" - এর 'কর্তৃবাচ্যের' রূপান্তর কোনটি?
  1. তুমি পাশ করবে।
  2. তোমার পাশ করা হবে।
  3. তুমি পাশ করতে হবে।
  4. তোমার পাশ করা উচিত।
সঠিক উত্তর:
তুমি পাশ করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি পাশ করবে।
ব্যাখ্যা
• "তোমাকে পাশ করতে হবে।" বাক্যটি কর্মবাচ্য রূপে রয়েছে। এটি কর্তৃবাচ্যে রূপান্তর করলে হবে— "তুমি পাশ করবে।"
----------------------
• ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তর করার সময়:

- কর্তৃবাচ্যের  কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি হবে।
- ক্রিয়াপদ কর্তা অনুযায়ী হবে।
যেমন-
তোমাকে পাশ করতে হবে- তুমি পাশ করবে।
তাঁর যেন আসা হয় - সে যেন আসে।
চা পান করা হোক - চা পান কর।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।।

২১৮.
নিচের কোনটি ভাব বাচ্যের উদাহরণ?
  1. সে যেন আসে।
  2. চোরটা ধরা পড়েছে।
  3. কোথায় থাকা হয়।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
সঠিক উত্তর:
কোথায় থাকা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোথায় থাকা হয়।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- সে যে আসে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২১৯.
তুমি কখন বেড়ালে? - বাক্যটিকে ভাববাচ্যে পরিণত করলে কোনটি হবে?
  1. তুমি কখন বেড়ানো হলো?
  2. তুমি দ্বারা কখন বেড়ানো হলো?
  3. তোমার কখন বেড়ানো হলো?
  4. তোমার দ্বারা কখন বেড়ানো হলো?
সঠিক উত্তর:
তোমার কখন বেড়ানো হলো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার কখন বেড়ানো হলো?
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
- নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং
(২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন -
কর্তৃবাচ্য ⇒ ♦ ভাববাচ্য
(ক) আমি যাব না। ⇒ (ক) আমার যাওয়া হবে না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে। ⇒ (খ) তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
(গ) তুমি কখন বেড়ালে? ⇒ (গ) তোমার কখন বেড়ানো হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২০.
কোনটি কর্তাবাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  2. আমার যাওয়া হল না।
  3. চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
  4. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:  
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অন্যদিকে, 
কর্মবাচ্য: - আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। চিঠিটা পড়া হয়েছে।   
ভাববাচ্য: - আমার যাওয়া হল না। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২২১.
বাক্যের প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে।
যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

২২২.
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কোনটিকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়?
  1. ক্রিয়া
  2. ক্রিয়াবিশেষ্য
  3. কর্ম
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্য: কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়।
যেমন -
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলাে?
কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলাে?

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২২৩.
ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. প্রথমা
  4. সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমা
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তায় প্রথমা বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না।
- কোথা থেকে আসা হলো।

বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশ আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার কিছু কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কর্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ)।
২২৪.
‘হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন’ এটি কোন ধরণের বাচ্য?
  1. ক) ভাববাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) কর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য - এখানে কর্তার অর্থ প্রাধান্য পায় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়।
- যেমন: 
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 

• কর্মবাচ্য: 
- কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি হয়। 
- দ্বারা,দিয়ে ও কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার হয়। 
- ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়ে থাকে।
যেমন: 
হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।

• ভাববাচ্য: 
- এই বাচ্যে কোন কর্ম থাকে না।
- ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়।
যেমন-
- আমার খাওয়া (কর্তায় ষষ্ঠী) হল না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়া) এ কাজ হবে না।  
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২২৫.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে, কর্তার ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. প্রধান পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?

• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)

২২৬.
”বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।” বাক্যটির কর্মবাচ্য রূপ কী হবে?
  1. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হয়।
  2. বিদ্বানকে সকলে আদৃত করে।
  3. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
  4. বিদ্বানকে সকলে সমাদৃত করে।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
-  কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
-  কর্তায় তৃতীয়া , কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২২৭.
‘বৈদ্যুতিক পাখাটি ধীরে ধীরে ঘুরছে।’- বাক্যটিতে কোন ধরনের বাচ্য বিদ্যমান?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• অজীব বিশেষ্যও অনেক কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন:
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- বৈদ্যুতিক পাখাটি ধীরে ধীরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২২৮.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন।
  2. সভাপতি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন।
  3. সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়নি।
  4. সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- সভাপতি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন।

কর্মবাচ্য:

- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়নি।
- সভাপতি কর্তৃক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৯.
'সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৩০.
অজীব বিশেষ্য কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করেছে কর্তাবাচ্যের কোন বাক্যে?
  1. ঝরনা ছবি আঁকে।
  2. আমার যাওয়া হলো না।
  3. ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
  4. আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
সঠিক উত্তর:
ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩১.
'বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।' - বাক্যটিকে কর্তৃবাচ্য পরিণত করলে কোনটি হবে?
  1. বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
  2. বিদ্বান দ্বারা সবাই আদৃত হন।
  3. বিদ্বানকে সকলেই পছন্দ করে।
  4. বিদ্বান দ্বারা সবাই সমাদৃত হন।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।

কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ)  সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩২.
”শরতে কাশফুল ফোটে।” কোন প্রকার বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তাবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে কাশফুল ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২৩৩.
'কোথা থেকে আসা হচ্ছে?'- উক্ত উদাহরণটি কোন বাচ্যের?
  1. কর্তবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৪.
কোনটি কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ?
  1. বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
  2. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
  3. তোমাকে ভাবতে হবে।
  4. রোগী পথ্য সেবন করে।
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- বিষয়টি ভালো শোনায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য - তোমাকে ভাবতে হবে।
কর্মবাচ্য - আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
কর্তৃবাচ্য - রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৫.
কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. আমাকে আবৃত্তি করতে হবে।
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
→ আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
→ আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হবে।
→ আমার যাওয়া হল না।
→ কোথা থেকে আসা হলো।
→ এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৬.
‘এই রাস্তা আমার চেনা নেই।’ কাব্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।
 
ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
• ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
 
• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
 
• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ।
২৩৭.
কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়ান।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
  4. এপথে চলা যায় না।
সঠিক উত্তর:
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন -
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

অন্যদিকে,
• ভাববাচ্য:
- এ পথে চলা যায় না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়ান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৮.
ভাববাচ্যের ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. কর্তৃ পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. উত্তম পুরুষ
  4. নাম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৯.
'তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।' কোন ধরনের বাচ্যর উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য 
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪০.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।' কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য 
  3. কর্মবাচ্য 
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন-
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২২ সংস্করণ)। 

২৪১.
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- 'ভাববাচ্য' এর উদাহরণ।  
 
ভাববাচ্য:  
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪২.
'শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৩.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  4. শরতে শিউলি ফোটে।  
সঠিক উত্তর:
চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন – 
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। 
শরতে শিউলি ফোটে।  

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৪.
তুমি কখন এলে? - এর ভাববাচ্য রূপ কোনটি?
  1. কখন এসেছ তুমি?
  2. তুমি এসেছ কখন?
  3. কখন আসা হলো?
  4. তুমি কখন এসেছিলে?
সঠিক উত্তর:
কখন আসা হলো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখন আসা হলো?
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪৫.
‘এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।’- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তাবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।   

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন – 
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। 
• শরতে শিউলি ফোটে।  

কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে । 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৬.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
  2. পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  4. শরতে শিউলি ফোটে।
সঠিক উত্তর:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। - এটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ। 
 
বাচ্য:  
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:  
১. কৰ্তাবাচ্য, 
২. কর্মবাচ্য ও 
৩. ভাববাচ্য। 
 
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 
 
- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন – 
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। 
• শরতে শিউলি ফোটে।  
 
কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে। 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।    
 
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
• তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কোন বাচ্য বলে?
  1. ক) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।
•  ভাববাচ্য :
- বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে।
- এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না।
- কাউকে কোন কিছু সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলতে গেলে ভাববাচ্যে বলা যায়।
- যেমন
- আমার খাওয়া হল না। 
- তোমার যাওয়া হবে না।
- এ পথে চলা যায় না। 
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২৪৮.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. রোগী পথ্য সেবন করে।
  4. চোরটা ধরা পড়েছে।
সঠিক উত্তর:
চোরটা ধরা পড়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরটা ধরা পড়েছে।
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৯.
যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কোন বাচ্য বলে?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
- ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫০.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।'- বাক্যটির শুদ্ধ কর্তাবাচ্য কোনটি?
  1. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসেছি।
  2. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসুন।
  4. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা হোক।
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫১.
'ওখানে কেন গেলে?'- এর ভাববাচ্য রূপ কোনটি?
  1. কেন ওখানে যাওয়া হয়েছিল?
  2. ওখানে যাওয়া কেন হয়েছিল?
  3. কেন কেউ ওখানে গিয়েছিল?
  4. ওখানে কেন যাওয়া হলো?
সঠিক উত্তর:
ওখানে কেন যাওয়া হলো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওখানে কেন যাওয়া হলো?
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।

যেমন:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫২.
"যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।" এখানে 'হারায়' কোন ধাতুর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) নাম ধাতু
  2. খ) ণিজন্ত ধাতু
  3. গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. ঘ) প্রযােজক ধাতু
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
মৌলিক ধাতুর সঙ্গে আ প্রত্যয় যােগ করে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।
- এটি বাক্যে ব্যবহারের সময় বাক্যের ক্রিয়াপদকে অনুসরণ করে ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- দেখ + আ = দেখা, বাক্যে প্রয়ােগ- কাজটি ভালাে দেখায় না।
- হার + আ = হারা, বাক্যে প্রয়ােগ- যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টা বেটাই চোর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৩.
'এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. এবার বাঁশিটি বাজাও।
  2. বাঁশিটি বাজাও তোমারা।
  3. তোমরা বাঁশিটি বাজাও।
  4. বাঁশিটি বাজানাে হােক।
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
- ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।

যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৫৪.
’ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।’-কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা
•  কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২৫৫.
'সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে।' - বাক্যটিকে কর্মবাচ্যে পরিণত করলে কোনটি হবে?
  1. সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  2. সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  3. পুস্তক সুমাইয়া কর্তৃক পাঠ হচ্ছে।
  4. পুস্তক কর্তৃক সুমাইয়া পঠিত হচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।
 
→ কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ) সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৬.
বাচ্য বলতে কোনটিকে বোঝায়?
  1. ক) বাক্যের অর্থ
  2. খ) বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
  3. গ) বাক্যের ভাব
  4. ঘ) বাক্যের প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
খ) বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
ব্যাখ্যা
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। 
ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে। 
 
যেমন:
সে বাজারে যায়।
সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
উপরের প্রথম বাক্যে 'যায়' ক্রিয়াটি 'সে' কর্তার অনুসারী। 
দ্বিতীয় বাক্যে 'করা হয়েছে' ক্রিয়াটি 'সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী। 
তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।
 
 প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ। 
২৫৭.
‘কোথায় থাকা হয়।’ - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
 যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
 যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৮.
"আমি যাব না।" - বাক্যটি ভাববাচ্যে রূপান্তর কোনটি?
  1. আমাকে যেতে হবে না।
  2. আমি যেতে চাই না।
  3. আমার যাওয়া হবে না।
  4. আমি কর্তৃক যাওয়া হবে না। 
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হবে না।
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?

• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫৯.
কোনটি কর্তাবাচ্যের উদাহরণ?
  1. সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
  2. কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
  3. সে বাজারে যায়।
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সে বাজারে যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে বাজারে যায়।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
যেমন:
- সে বাজারে যায়।
- সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
- কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

উপরের প্রথম বাক্যে 'যায়' ক্রিয়াটি 'সে' কর্তার অনুসারী সুতরাং বাক্যটি কর্তাবাচ্য।
• দ্বিতীয় বাক্যে 'করা হয়েছে' ক্রিয়াটি 'সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী সুতরাং বাক্যটি কর্মবাচ্য।
• তৃতীয় বাক্যে 'যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য এটি ভাববাচ্যের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২৬০.
'এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. এবার বাঁশিটি বাজানো হবে।
  2. এবার আমি বাঁশিটি বাজাই।
  3. এবার বাঁশিটি বাজাও।
  4. এবার বাঁশিটি বাজায়।
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
- ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।

যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬১.
বাচ্য বলতে বুঝায় বাক্যের -
  1. বাক্যের অর্থ
  2. প্রকাশভঙ্গি
  3. বাক্যের রূপান্তর
  4. প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
প্রকাশভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকাশভঙ্গি
ব্যাখ্যা

• বাচ্য: 
- বাক্যের বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ ভঙ্গিকে বলা হয়।
- বাচ্য তিন প্রকার।

- যথা:
কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য। 
 
১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

২৬২.
"রোগী পথ্য সেবন করে।" - কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৩.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. চোরটা ধরা পড়েছে।
  2. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  3. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  4. আমাকে এখন যেতে হবে।
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা অঙ্ক করছে। শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
কর্মবাচ্য - চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৪.
এবার (তুমি) একটি গান কর।”- বাক্যটির ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
  1. তুমি একটি গান করো।
  2. এবার একটি গান হোক
  3. এবার একটি গান করা হোক
  4. একটি গান করা হোক
সঠিক উত্তর:
এবার একটি গান করা হোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবার একটি গান করা হোক
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য: এবার একটি গান করা হোক।
• কর্তৃবাচ্য: এবার (তুমি) একটি গান কর।
------------------------------
• ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য:
- ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে- কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং (২) ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-

• ভাববাচ্য: তোমাকে হাঁটতে হবে।
• কর্তৃবাচ্য: তুমি হাঁটবে।

• ভাববাচ্য: তার যেন আসা হয়।
• কর্তৃবাচ্য: সে যেন আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২৬৫.
কোথা থেকে আসা হচ্ছে? - কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• কোথা থেকে আসা হচ্ছে? - ভাববাচ্য

বাচ্য:
- বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'।
- বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৬.
কর্তৃবাচ্যে কর্মে কোন বিভক্তি হতে দেখা যায়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. পঞ্চমী
  3. ষষ্ঠী
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন -
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

১. কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
২. কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৭.
"আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।"- বাক্যটি কোন প্রকার বাচ্য?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

• কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা-
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

• কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা –
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২৬৮.
'কোথায় থাকা হয়।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৬৯.
'বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৭০.
'সে যেন আসে' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- সে যেন আসে

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

ভাববাচ্য:
- বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তায় প্রথমা বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭১.
কোনটি কর্তাবাচ্য নয়?
  1. ক) ঝরণা ছবি আঁকে।
  2. খ) শরতে শিউলি ফোটে।
  3. গ) তুমি কখন এলে।
  4. ঘ) একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসা যাক।
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসা যাক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসা যাক।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন,
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্তাবাচ্য- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।

ভাববাচ্য- যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- কোথা থেকে আসা হলো।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭২.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
 যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
 যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৩.
কর্তৃবাচ্যকে ভাববাচ্য রূপান্তরের সময় বাক্যের ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. শূন্য পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
কর্তৃবাচ্য - ভাববাচ্য:
(ক) আমি যাব না। - আমার যাওয়া হবে না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে। -  তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
(গ) তোমরা কখন এলে - তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৪.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করলে ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. দ্বিতীয় পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য রূপাতনের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-  কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৭৫.
'নৌকা টেনে বের করতে হবে।' কোন ধরনের বাচ্য?
  1. কর্ম বাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন- এ পথে চলা যায় না।
- তেমনি ভাবে 'নৌকা টেনে বের করতে হবে।'

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭৬.
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে,কী বলে?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে

যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৭.
'কলমটা ভালো লেখে'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য 
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য 
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
'কলমটা ভালো লেখে'- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

• কর্ম-কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অথার্ৎ ক্রিয়ার কর্ম কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন : 
- এসিটা চালো হলো।
- জানালার কাচ ভাঙল।
- আজ সারারাত রাস্তায় আলো জ্বলেনি।
- কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।
- আম পেকেছে খুব।
- বইটি বাজারে বেশ কাটছে।
- কাপড় ছেঁড়ে।
- বাঁশি বাজে ওই মধুর লগনে।
- কলমটা ভালো লেখে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে বেশি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২৭৮.
"আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তাবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তাবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৭৯.
বাচ্যের প্রকারভেদ নয় কোনটি ?
  1. ক) কর্তাবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: 
- কর্তাবাচ্য, 
- কর্মবাচ্য ও 
- ভাববাচ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৮০.
"কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।" – এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
→ কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।
→ আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
→ আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮১.
কোন বাচ্যে রূপান্তরের সময়ে কর্তার সঙ্গে বিভিন্ন অনুসর্গ যোগ করতে হয়?
  1. কর্তাবাচ্যে
  2. কর্মবাচ্যে
  3. ভাববাচ্যে
  4. কর্মকর্তৃ বাচ্যে
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যে
ব্যাখ্যা
♠ কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন:   
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়। 
- যেমন: 
• কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন। 
• কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে। 

• কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। 
• কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।  

• কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• কর্মবাচ্য: প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
২৮২.
'মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন -
  1. পুস্তক পাঠ করা হচ্ছে মুবারক দ্বারা।
  2. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  3. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পাঠ হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।

কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৩.
"এ রাস্তা আমার চেনা নেই।" - এটি কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য: 
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮৪.
"সে কাজটি করেছে" - এর ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
  1. তার দ্বারা কাজটি হয়েছে।
  2. কাজটি করা হয়েছে।
  3. কাজটি সে করেছে।
  4. তার কাজটি করা হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
কাজটি করা হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজটি করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• "সে কাজটি করেছে" — এর ভাববাচ্য রূপ - (খ) কাজটি করা হয়েছে।

মূল বাক্য: সে কাজটি করেছে। - এটি একটি কর্তাবাচ্য বাক্য।

কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম: 
• কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।
• কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।

তাই "সে কাজটি করেছে" এর ভাববাচ্য রূপ হচ্ছে — "কাজটি করা হয়েছে"।

অনুরূপভাবে:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।