বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন২৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৮৫

.
'জ্ঞানীজন সকলের দ্বারা সম্মানিত হন' এ বাক্যের কর্তৃবাচ্য হবে -
  1. ক) জ্ঞানীজনকে সকলেই সম্মান করে।
  2. খ) জ্ঞানীজনকে সকলেই পছন্দ করে।
  3. গ) জ্ঞানীজনকে দ্বারা সবাই সম্মানিত হন।
  4. ঘ) জ্ঞানীজনকে সম্মান করা হয়।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে রুপান্তরিত করার নিয়ম: 
- কর্তায় প্রথমা, কর্মে দ্বিতীয়া বা শূন্য বিভক্তি হয়ে থাকে।
- ক্রিয়া কর্তা অনুযায়ী হয়।

যেমন: 
কর্মবাচ্য: জ্ঞানীজন সকলের দ্বারা সম্মানিত হন। 
কর্তৃবাচ্য: জ্ঞানীজনকে সকলেই সম্মান করে।

কর্মবাচ্য: দস্যুদল কর্তৃক গৃহটি লুণ্ঠিত হয়েছে।
কর্তৃবাচ্য: দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'তোমরা কখন এলে?' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে। কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- তোমরা কখন এলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'বাবার শরীর খারাপ, শোওয়া হয়নি।'- কোন বাচ্য?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• 'বাবার শরীর খারাপ, শোওয়া হয়নি।'- ভাববাচ্য।

• ভাববাচ্য :

- বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে।
- এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তায়- ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
- মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়।
- কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে।
• যেমন-
- আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)।
- তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।

.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কর্মে কোন বিভক্তি হয়?
  1. দ্বিতীয়া
  2. শূন্য
  3. তৃতীয়া
  4. পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় তৃতীয়া, কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

- জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

উদাহরণ:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

[লক্ষণীয়: কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  2. একটু বেড়িয়ে আসা যাক বাইরে।
  3. বাইরে একটু বেড়ানো যায়।
  4. একটু বেড়ানো হউক।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
ভাববাচ্যের কর্তায় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, শূন্য
  2. শূন্য, তৃতীয়া, ষষ্ঠী
  3. শূন্য, দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী
  4. ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
- ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।

যেমন:
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
 বাচ্য বলতে বোঝায়—
  1. বাক্যের ভাব
  2. বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
  3. বাক্যের অর্থ
  4. বাক্যের প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।

যেমন -
- সে বাজারে যায়।
- সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
- কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

- উপরের প্রথম বাক্যে ‘যায়' ক্রিয়াটি ‘সে' কর্তার অনুসারী।
- দ্বিতীয় বাক্যে ‘করা হয়েছে' ক্রিয়াটি ‘সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী।
- তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।

প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার।
যথা: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'রোগী পথ্য সেবন করে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বাচ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া কী হলে সেই বাক্যের কর্মাবাচ্য হয় না?
  1. অসমাপিকা
  2. সকর্মক
  3. সমাপিকা
  4. অকর্মক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় তৃতীয়া, কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

- জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

উদাহরণ:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। 
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

[লক্ষণীয়: কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
কোনটি কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ?
  1. কাজটা ভালো দেখায় না।
  2. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য - আমাকে এখন যেতে হবে।
কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
কর্মবাচ্য- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
'চাঁদ দেখা যাচ্ছে'- এ বাক্যে কোন বাচ্যের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ভাববাচ্য 
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ দেখা যাচ্ছে'- এ বাক্যে কর্মকর্তৃবাচ্যের প্রয়োগ ঘটেছে। 

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
- যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অর্থ্যাৎ ক্রিয়ার কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- বিষয়টি ভালো শোনায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
- এসিটা চালু হলো। 
- ফুল ফোটে।

উল্লেখ্য,
- সাধারণত প্রাকৃতিক ঘটনামূলক ক্রিয়ায় এই বাচ্যের প্রয়োগ দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
ভাববাচ্যের কর্তায় কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না?
  1. ষষ্ঠী
  2. দ্বিতীয়া
  3. তৃতীয়া
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্যের কর্তায় সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয় না।

• ভাববাচ্য:

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রতীয়মান হয় তাকে কোন বাচ্য বলে?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
- ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪.
কোথায় থাকা হয়? - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. ক্রিয়াবাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
  2. চিঠিটা পড়া হয়েছে।
  3. হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
  4. একটি গান কর।
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
- একটি গান কর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে বলে-
  1. ক) কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. খ) ভাববাচ্য
  3. গ) কর্মবাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় ‘বাচ্য’।
বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার :
(১) কর্তৃবাচ্য (২) কর্মবাচ্য ও (৩) ভাববাচ্য।
কর্তৃবাচ্য : যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য : যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য : যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭.
"কখন আসা হলো?"- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তা বাচ্য
  2. কর্ম বাচ্য
  3. ভাব বাচ্য
  4. করণ বাচ্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কখন আসা হলো? - ভাববাচ্যের উদাহরণ।

• ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- কোথা থেকে আসা হলো।
- কখন আসা হলো?
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
বিষয়টি ভালো শোনায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
'পূজার কঠোর পরিশ্রম করতে হয়' কর্মবাচ্যের এই বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. পূজার কর্তৃক কঠোর পরিশ্রম হয়।
  2. পূজা কঠোর পরিশ্রম করে।
  3. পূজার দ্বারা কঠোর পরিশ্রম হয়।
  4. পূজার কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে।
ব্যাখ্যা
- কর্মবাচ্য: পূজার কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
- কর্তাবাচ্য: পূজা কঠোর পরিশ্রম করে।

• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:
কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
- কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
- কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উল্লেখ্য: 
• কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন: ঝরনা ছবি আঁকে।

• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৯.
কোন বাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
বিষয়টি ভালো শোনায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
'বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছেন।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তাবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:  
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:  
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
• বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
 ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। 
- যেমন:  
• আমার যাওয়া হল না। 
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

কর্মবাচ্য: 
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন: 
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। 
• চিঠিটা পড়া হয়েছে । 
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। 
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।   
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২১.
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্তাবাচ্য
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অন্যদিকে,
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
আমার যাওয়া হল না।
কোথা থেকে আসা হলো।
এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. তৃতীয়া
  2. প্রথমা
  3. ষষ্ঠী
  4. দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
- ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে-
- কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং 
- ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।

যেমন-
(ক) তোমাকে হাঁটতে হবে। (ভাববাচ্য)
(ক) তুমি হাঁটবে। (কর্তৃবাচ্য)

(খ) এবার একটা গান করা হোক। (ভাববাচ্য)
(খ) এবার (তুমি) একটা গান কর। (কর্তৃবাচ্য)

(গ) তার যেন আসা হয়। (ভাববাচ্য) 
(গ) সে যেন আসে। (কর্তৃবাচ্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩.
"মাছ ধরা যাক।" এটি কোন বাচ্য?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য 
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
বাচ্য:
- বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'।
- বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন -
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- মাছ ধরা যাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্য মূলত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• বাচ্য:
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
বাচ্য তিন প্রকার:
- কর্তাবাচ্য,
- কর্মবাচ্য ও
- ভাববাচ্য।

১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

২৫.
’আমরা কঠোর পরিশ্রম করি' কর্তাবাচ্যের এই বাক্যটি কর্মবাচ্যে কী হবে?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়
  2. আমার কঠোর পরিশ্রম হয়
  3. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে
  4. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা লাগে
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য: আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
• কর্তাবাচ্য: আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।

• বাচ্য পরিবর্তন
• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:
কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৬.
"আমরা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসলাম" বাক্যটি ভাববাচ্যে রূপান্তর করলে কী হবে?
  1. পাহাড় থেকে নেমে আসলাম।
  2. আমাদের দ্বারা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসতে হলো।
  3. আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।
  4. আমরা পাহাড় থেকে নেমে আসলাম।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
১. কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।
২. ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন -
- আমি যাবো না। -- আমার যাওয়া হবে না।
- তুমিই ঢাকা যাবে। -- তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
- তোমরা কখন এলে? -- তোমাদের কখন আসা হলো?
- আমরা সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসলাম। -- আমাদের সেদিন পাহাড় থেকে নেমে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
”এবার ট্রেনে ওঠা যাক।” কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্তৃকর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

উল্লেখ্য,
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
২৮.
'এ পথে চলা যায় না' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না। 
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

তেমনিভাবে,
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয় গঠিত হয়।
যেমন-
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯.
'জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।'- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তাবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের বাক্যটিতে 'জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে' কর্মবাচ্যের উদাহরণ।

• যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
'তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা আশা করা যায়নি।' বাক্যটি যে বাচ্যের উদাহরণ -
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) ভাববাচ্য
  3. গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্যঃ
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন -
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- এ পথে চলা যায় না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না। 
তেমনিভাবে,
- তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা আশা করা যায়নি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৩১.
ভাববাচ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  2. এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
  3. শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
  4. কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

----------------
• ভাববাচ্য: 

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় যষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের কিয়া)
(গ) তোমার যারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম যারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৩২.
"আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।" – এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তাবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
- আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
- কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের দৃষ্টান্ত?
  1. আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
  2. শরতে শিউলি ফোটে।
  3. তুমি কখন এলে?
  4. আমার যাওয়া হলো না।
ব্যাখ্যা
⇒ ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার যাওয়া হলো না।
- কোথা থেকে আসা হলো।

এখানে ‘যাওয়া’ , ‘আসা’ এগুলো হলো ক্রিয়া-বিশেষ্য।  

অন্যদিকে,
• আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।- বাক্যটি কর্তাবাচ্যের দৃষ্টান্ত।
• শরতে শিউলি ফোটে।-  বাক্যটি কর্তাবাচ্যের দৃষ্টান্ত।
• তুমি কখন এলে?- বাক্যটি কর্তাবাচ্যের দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩৪.
'মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।' - এটি কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন -
  1. পুস্তক মুবারক পাঠ করছে।
  2. মুবারক পুস্তকটি পাঠ করেছে।
  3. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  4. মুবারক দ্বারা পুস্তকটি পাঠ করা হবে।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
কোন বাক্যে কর্ম -কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) সে গ্রামে যাবে
  2. খ) ঘণ্টা বাজে
  3. গ) তাকে গ্রামে যেতে হবে
  4. ঘ) আমার যাওয়া হবে না
ব্যাখ্যা
• ‘ঘণ্টা বাজে‘ বাক্যটি কর্ম-কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।
• যে বাক্যে কর্তার উল্লেখ থাকে না, কর্ম পদটিই কর্তার মতো কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
- যেমন—
- ঢাক বাজে।
- ঘুড়ি ওড়ে।
- পাতা নড়ে ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৬.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ? 
  1. সে যেন আসে।
  2. এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
  3. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। 
ব্যাখ্যা
• 'এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।'- ভাববাচ্যের উদাহরণ।

 • ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন- এ পথে চলা যায় না।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্যদিকে,
- সে যেন আসে।- কর্তৃবাচ্য।
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।- কর্মবাচ্য। 
- মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। - কর্তৃবাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭.
'তোমাকে হাঁটতে হবে।' বাক্যটির কর্তৃবাচ্যে রূপ কোনটি?
  1. এবার হাঁটতে হবে। 
  2. তোমাকে হাঁটা লাগবে।  
  3. তুমি হাঁটা লাগবে। 
  4. তুমি হাঁটবে।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য:
নিয়ম: ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তৃবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে-
(১) কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং (২) ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-
ভাববাচ্য - কর্তৃবাচ্য:
(ক) তোমাকে হাঁটতে হবে। - (ক) তুমি হাঁটবে।
(খ) এবার একটি গান করা হোক। - (খ) এবার (তুমি) একটি গান কর।
(গ) তার যেন আসা হয়। - (গ) সে যেন আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৩৮.
'শরতে শিউলি ফোটে।' কোন ধরনের বাচ্য?
  1. কর্মবাচ্য 
  2. কর্তাবাচ্য
  3. ভাববাচ্য 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৯.
'আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।' - কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন -
• ঝরনা ছবি আঁকে।
আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব
- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন -
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০.
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে কোন অনুসর্গ যোগ করতে হয়?
  1. অথবা
  2. এবং
  3. কর্তৃক
  4. জন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর:
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন-
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪১.
'আমাকে বই পড়তে হয়েছে।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি যদি কর্তৃবাচ্য না হয় আর যেখানে যদি কর্ম থাকে তবে সেটি কর্মবাচ্য কিংবা ভাববাচ্য হতে পারে। তবে বাক্যের ক্রিয়ার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে; যদি ক্রিয়া দ্বারা ভবিষ্যতের কোনো কাজ হবে বোঝায়। অর্থাৎ কামনা, বাসনা, প্রার্থনা বোঝায় তবে সেটি ভাববাচ্য হবে, তা না-হলে কর্মবাচ্য হবে। যেমন :

ভাববাচ্য:
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।
- আমাকে বই পড়তে হবে।

কর্মবাচ্য:
- ডিঙি টেনে বের করা হয়েছে।
- আমাকে বই পড়তে হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২.
"শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা-
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- তাঁর সেখানে যাওয়া হবে না। 
- তাঁর দ্বারা এ কাজটি করা হবে। 

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩.
'বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে' - এটা কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪.
'বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।' - বাক্যটিকে কর্তৃবাচ্য রূপান্তর করলে কোনটি হবে?
  1. বিদ্বান দ্বারা সবাই আদৃত হন।
  2. বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
  3. বিদ্বান দ্বারা সবাই সমাদৃত হন।
  4. বিদ্বানকে সকলেই পছন্দ করে।
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।

কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ)  সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৫.
কোন বাক্যটি ভাববাচ্য?
  1. রোজিনা স্কুলে যায়।
  2. আমি বইটি পড়ি।
  3. আমার খাওয়া হলো না।
  4. সে বন্ধুদের নিয়ে বেড়ায়।
ব্যাখ্যা
• "আমার খাওয়া হলো না।" - ভাববাচ্যের উদাহরণ। 

• ভাববাচ্য: 

- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্য অপশন:
ক) রোজিনা স্কুলে যায়। → এটি কর্তৃবাচ্য, কারণ কর্তা (রোজিনা) নিজেই কাজ করছে।
খ) আমি বইটি পড়ি। → এটি কর্তৃবাচ্য।
ঘ) সে বন্ধুদের নিয়ে বেড়ায়। → এটি কর্তৃবাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬.
বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন। - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
'একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।' বাক্যটির কর্তাবাচ্যের রূপান্তর কোনটি?
  1. বাইরে বেড়িয়ে আসা হোক।
  2. আমরা একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  3. একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
  4. তুমি বাইরে বেড়াতে পারো।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

তেমনিভাবে,
ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৮.
ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে নিচের কোনটিকে কর্তার অনুসারী করতে হয়?
  1. কর্মকে
  2. বিশেষণকে
  3. ক্রিয়াকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য:  
- ভাববাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।  
- যেমন: 
• ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক। 
• কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি। 

• ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
• কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও। 

• ভাববাচ্য: এবার একটি গান করা হোক।
• কর্তাবাচ্য: এবার (তুমি) একটি গান কর।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯.
‘তার যেন সেখানে যাওয়া হয়’ -বাক্যটি কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
• আমার খাওায়া হলো না।
• আমাকে এখন যেতে হবে।
• তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
• কোথায় থাকা হয়।
• তার যেন সেখানে যাওয়া হয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫০.
”তুমি হাঁটবে।” - বাক্যটির ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
  1. তোমাকে হাঁটতে হবে।
  2. তুমি হাঁটো।
  3. তুমি হাঁটতে থাক।
  4. তোমাকে হাঁটবে।
ব্যাখ্যা
• কর্তায় প্রথমা বিভক্তি প্রযুক্ত হয় এবং ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।
যেমন-
- কর্তৃবাচ্য: তুমি হাঁটবে।
- ভাববাচ্য: তোমাকে হাঁটতে হবে।


- ভাববাচ্য: এবার একটি গান করা হোক।
- কর্তৃবাচ্য: এবার (তুমি) একটি গান কর।

- ভাববাচ্য: তার যেন আসা হয়।
- কর্তৃবাচ্য: সে যেন আসে।

উল্লেখ্য,
• কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
• ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫১.
'রোগী পথ্য সেবন করে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২.
কর্মবাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. তা, আপনার কী করা হয়
  2. দূর থেকে পাহাড় নিচু মনে হয়
  3. কেমন শীত শীত করছে
  4. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩.
'রাজু পুস্তক পাঠ করছে।' বাক্যটির কর্মবাচ্যে রূপ হবে-
  1. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  2. রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  3. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ্য হচ্ছে।
  4. পুস্তক কর্তৃক রাজু পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য: রাজু পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
------------------------------------------
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
-  কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
-  কর্তায় তৃতীয়া , কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫৪.
নিচের কোনটি  ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
  2. বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
  3. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য: 
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না;
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।

৫৫.
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কী বলে?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. কোথায় থাকা হয়।
  2. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  3. তোমার পড়া হোক।
  4. আমার খাওায়া হলো না।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে, 
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার পড়া হোক।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭.
'জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন' - কর্তাবাচ্যের বাক্যটির কর্মবাচ্যের রূপ কোনটি?
  1. ক) জাহানারা ইমাম নিজে একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  2. খ) জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  3. গ) জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
  4. ঘ) জাহানারা ইমামের হাত ধরেই একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের কর্তাবাচ্যের বাক্যটি কর্মবাচ্যের রূপ - জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৮.
ভাববাচ্যের উদাহরণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ পথে চলা যায় না।
  2. শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  5. রোগী পথ্য সেবন করে।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।


অন্যদিকে,
--------------------
• কর্মবাচ্য:

যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯.
'বিষয়টি ভালো শোনায় না' কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য 
  2. ভাববাচ্য 
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- বিষয়টি ভালো শোনায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০.
কোন ধরনের ‘বাচ্যে’র ক্রিয়াপদ সর্বদা নাম পুরুষের অনুসারী হয়?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১.
ভাববাচ্যের উদাহরণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. একদিন তো মরবই।
  2. তবে যাওয়া হোক।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. তা বিশেষ ক্ষতি করে না।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- তবে যাওয়া হোক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

---------------------
অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

------------------
• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- একদিন তো মরবই।
- তা বিশেষ ক্ষতি করে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬২.
‘পতাকাটি উড়ছে।’ - বাক্যটিতে কোন ধরনের বাচ্য বিদ্যমান?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- জল পড়ে পাতা নড়ে।

অনুরূপ,
- পতাকাটি উড়ছে। - বাক্যে উড়ার কাজ পতাকা নিজেই করছে। সুতরাং কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৬৩.
'আমাকে এখন যেতে হবে।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪.
"আনন্দময়ী পুস্তুক পাঠ করেছে।" এটি কোন বাচ্য?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন -
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- আনন্দময়ী পুস্তুক পাঠ করেছে।

১. কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
২. কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫.
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কোন পদকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়?
  1. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়া-বিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়।
যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?

• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৬৬.
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে বলে-
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. সম্বন্ধ পদ
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন -
- ঝরনা ছবি আঁকে।
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

• কর্মবাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন -
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

• ভাববাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন -
- আমার যাওয়া হলাে না।
- কোথা থেকে আসা হলাে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
৬৭.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. শরতে শিউলি ফোটে।
  2. আমার যাওয়া হল না।
  3. চিঠিটা পড়া হয়েছে।
  4. তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কর্তাবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন:
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।

• কর্মবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

• ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার যাওয়া হল না।
- কোথা থেকে আসা হলো।
- এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৬৮.
"এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়।" - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য:
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
----------------------
সে অনুসারে, 
"এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়।"- ভাববাচ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. কর্তায় প্রথমা
  2. কর্তায় তৃতীয়া
  3. কর্তায় পঞ্চমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় তৃতীয়া, কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

- জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

উদাহরণ:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

[লক্ষণীয়: কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০.
ভাববাচ্যের কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. চতুর্থী
  2. তৃতীয়া
  3. ষষ্ঠী
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়।
- ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭১.
‘আমার খাওয়া হলো না।’- বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭২.
'ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।' উপরের বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. ক) কারক জনিত
  2. খ) পুনরুক্তি জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বাচ্যজনিত
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে৷
উপরে উল্লিখিত বাক্যটির সঠিক রূপ হবে 'ঘটনা বর্ণিত হয়েছে'।
অর্থাৎ, বাক্যে বাচ্যজনিত ভুল ছিলো।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩.
মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কোন ধাতু গঠিত হয়?
  1. ক) অজ্ঞাতমূল ধাতু
  2. খ) সংযোগমূলক ধাতু
  3. গ) কর্মবাচ্যের ধাতু
  4. ঘ) সংস্কৃত ধাতু
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু: 
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্য মধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
- হার্‌ + আ = হারা; যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটায় চোর। 
- এটি প্রযোজক ধাতুরই অন্তর্ভুক্ত।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৪.
‘তুমিই ঢাকা যাবে।’- বাক্যটিকে ভাববাচ্যে পরিণত করলে কোনটি হবে?
  1. তোমার ঢাকা যাওয়া হবে।
  2. তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
  3. তোমার ঢাকা যেতে হবে।
  4. তোমাকেই ঢাকা যাওয়া লাগবে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?

• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. আমাকে এখন যেতে হবে।
  2. চোরটা ধরা পড়েছে।
  3. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা অঙ্ক করছে। শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
কর্মবাচ্য - চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৬.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. চোরটা ধরা পড়েছে।
  2. রোগী পথ্য সেবন করে।
  3. তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য - শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।, রোগী পথ্য সেবন করে।
কর্মবাচ্য - চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭.
কোনটি ভাববাচ্য?
  1. রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য- আমাকে এখন যেতে হবে।

---------------
প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কর্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য।

১. কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়।
যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৭৮.
"তোমরা কখন এলে?" এই বাক্যের ভাববাচ্যে রূপান্তর কী হবে?
  1. কখন আসলে?
  2. তোমরা কখন এসেছো ?
  3. তোমরা কখন আসবে?
  4. তোমাদের কখন আসা হলো?
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।

যেমন-
কর্তৃবাচ্য:
(ক) আমি যাব না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে।
(গ) তোমরা কখন এলে?

ভাববাচ্য:
(ক) আমার যাওয়া হবে না।
(খ) তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
(গ) তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৯.
"এখানে এই কথা বলা চলে না" কোন বাচ্যের উদাহরণ-
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তাবাচ্য
  4. ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
"এখানে এই কথা বলা চলে না" কোন ভাববাচ্যের উদাহরণ। 
অসমাপিকা ক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত বাক্যকল্পের সংগঠন যেখানে বাক্যের উদ্দেশ্যের স্থান নেয়, সেগুলোই ভাববাচ্য। 
যেমন - 'তোমার এক্ষুনি বাজারে যাওয়া দরকার।'
             'তোমাকে এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে।'
             'এখানে এই কথা বলা চলে না'
             'এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়।' 
            'ওকে আমার কথা অবশ্যই শুনতে হবে।' 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৮০.
'কোথায় থাকা হয়?'- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্যের 
  2. কর্তৃকর্মবাচ্যের
  3. কর্তৃবাচ্যের
  4. ভাববাচ্যের 
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
 - কোথায় থাকা হয়?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮১.
‘তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরী হয়েছে’- কর্মবাচ্যের এই বাক্যটি  কর্তাবাচ্যে কি হবে?
  1. ক) তারা বাড়িটি তৈরী করেছে
  2. খ) তারাই বাড়িটি তৈরী করছে
  3. গ) বাড়িটি তারা তৈরী করেছিল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যটির কর্মবাচ্যের রূপ - তারা বাড়িটি তৈরী করেছে

• কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।

যেমন –
- কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
- কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

- কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম -দশম শ্রেণি)
৮২.
'তাতে সমাজজীবন চলে না।' - এ বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) তাতে সমাজজীবন চলে।
  2. খ) তাতে না সমাজজীবন চলে।
  3. গ) তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।
  4. ঘ) তাতে সমাজজীবন সচল হয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা
মূলভাব বা অর্থ অপরিবর্তিত রেখে এক শ্রেণীর বাক্যকে অন্য শ্রেণীর বাক্যে পরিবর্তন কারার নামই হলো বাক্য রূপান্তর।
নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
নেতিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলে দিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দ দ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

তেমনিভাবে,
নেতিবাচক: তাতে সমাজজীবন চলে না।
অস্তিবাচক: তাতে সমাজজীবন অচল হয়ে পড়ে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৩.
‘তাঁর দ্বারা ভিখারিকে টাকা দেওয়া হলো।’- বাক্যেটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? কর্তৃবাচ্য
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

১. কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

২. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা:
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য কর্ম কর্তা হয়, গৌণকর্ম দ্বিতীয়া / চতুর্থী বিভিক্তি যুক্ত হয়। যেমন-
- তাঁর দ্বারা ভিখারিকে টাকা দেওয়া হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৪.
'আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্তাবাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৫.
"এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।" বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. ক) এবার বাঁশিটি বাজাও।
  2. খ) এবার বাঁশিটি বাজানো হচ্ছে।
  3. গ) তাঁর কর্তৃক বাঁশিটি বাজে।
  4. ঘ) সে বাঁশি বাজায়।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর
ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৬.
'সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।' কোন বাচ্য? 
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্ম বাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়। যেমন-
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮৭.
‘এ পোশাকটি মানায় নি।' এই বাক্যটি— উদাহরণ ।
  1. ক) কর্মবাচ্যের
  2. খ) ভাববাচ্যের
  3. গ) কর্মকর্তৃবাচ্যের
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্যের
ব্যাখ্যা
- ‘এ পোশাকটি মানায় নি।' এই বাক্যটি— হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের অন্তর্গত।

কর্মকর্তৃবাচ্যে
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন-
কাজটা ভালো দেখায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৮৮.
'শিহাব বাড়িটি তৈরি করেছে।' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৯.
কর্তাবাচ্যের বাক্যে কর্তার অবস্থান কীভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. কর্তা গোপন থাকে।
  2. ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
  3. ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে।
  4. ক্রিয়ার মাধ্যমে কর্তার ক্রিয়াকলাপ প্রকাশিত হয় না।
ব্যাখ্যা
• বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।

- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার।
যথা - 
১. কৰ্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• চিঠিটা পড়া হয়েছে ।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯০.
'বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।' - বাক্যেটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2.  কর্তৃবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১.
'জানালার কাচ ভাঙল'। কোন বাচ্যের উদহারণ? 
  1. ক) কর্তৃবাচ্য 
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
- 'জানালার কাচ ভাঙল' কর্ম-কর্তৃবাচ্য বাচ্যের উদহারণ

• যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অথার্ৎ ক্রিয়ার কর্ম কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন : 
এসিটা চালো হলো।
জানালার কাচ ভাঙল।
আজ সারারাত রাস্তায় আলো জ্বলেনি। 
কোথায় যেন বাঁশি বাজছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৯২.
'বাঁশি বাজে ঐ দূরে।' যে বাচ্যের উদাহরণ-
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. যৌগিকবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ দূরে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩.
'বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন-
  1. সকলের আদরে বিদ্বান অভিভূত।
  2. সকলেই বিদ্বানকে আদর করে থাকে।
  3. বিদ্বানকে সবাই খুব আদর করেন।
  4. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।

কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৯৪.
কোনটি কর্তৃবাচ্য?
  1. তুমিই ঢাকা যাবে।
  2. তোমাদের কখন আসা হলো?
  3. আমার যাওয়া হবে না।
  4. এবার একটি গান করা হোক।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- তুমিই ঢাকা যাবে।
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য - তোমাদের কখন আসা হলো? আমার যাওয়া হবে না। এবার একটি গান করা হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫.
'তোমার দ্বারা ভ্রমণে যাওয়া হবে না।' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'তোমার দ্বারা ভ্রমণে যাওয়া হবে না।' ভাববাচ্যের উদাহরণ।

• ভাববাচ্য :

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

অন্যদিকে,

• কর্তৃবাচ্য :
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

• কর্মবাচ্য :
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।

- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৯৬.
কোনটি কর্তাবাচ্য নয়?
  1. শরতে শিউলি ফোটে।
  2. কোথা থেকে আসা হলো।
  3. ঝরণা ছবি আঁকে।
  4. আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য নয় -  কোথা থেকে আসা হলো। 

কর্তাবাচ্য:

- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

অন্যদিকে, 
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- কোথা থেকে আসা হলো।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. খ) শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  3. গ) আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  4. ঘ) এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য: 
- এই বাচ্যে কোনো কর্ম থাকে না।
- বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়।
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া বিভক্তি হয়ে থাকে।
যেমন: 
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) বাড়ি যাওয়া হলো না (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) ঢাকা যেতে হবে (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 
- এই পথ দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়া যায়। 
- এখানে এই কথা বলা চলে না।

অন্যান্য অপশনগুলো: 
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান = কর্মবাচ্য। 
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয় = কর্তৃবাচ্য। 
- রোগী পথ্য সেবন করে = কর্মবাচ্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৮.
‘কাজটি ভালো দেখায় না।’ - এখানে 'দেখায়' কোন ধাতু?
  1. ক) সংযোগমূলক ধাতু
  2. খ) কর্মবাচ্যের ধাতু
  3. গ) ভাববাচ্যের ধাতু
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্যের ধাতু
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্যের ধাতু:
- মৌলিক ধাতুর সাথে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়।
- এটি বাক্য মধ্যস্ত কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু।
- যেমন: দেখ্‌ + আ = দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না।
- হার্‌ + আ = হারা; যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা বেটাই চোর।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৯৯.
"প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কৰ্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০০.
“ডিঙি টেনে বের করতে হবে”। - কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. যৌগিক
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

তেমনিভাবে,
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।