বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন৬৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৬০

২০১.
উদ্ভিদের নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে কী বলে?
  1. বীজ
  2. পরাগধানী
  3. পরাগরেণু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ
ব্যাখ্যা
বীজ:
- উদ্ভিদের বংশবিস্তারের মাধ্যম হলো বীজ।
- বীজ থেকেই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়।
- সাধারণভাবে বীজ বলতে উদ্ভিদের নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে বোঝায়
- যেমন: ধান, গম, পাট ইত্যাদির বীজ।
- তবে ব্যাপকভাবে বীজ বলতে উদ্ভিদের যে কোনো জীবন্ত অংশ যা পরবর্তীতে বংশবিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন ধান, মিষ্টি আলুর লতা, আখের কাণ্ড, পাথর কুচির পাতা, পেঁয়াজ, গোলআলু ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২০২.
মাছ ও মুরগির সমন্বিত চাষ পদ্ধতিতে প্রতি শতাংশে কতটি মুরগি রাখলে মাছ চাষের জন্য কোনো সার বা খাদ্য সরবরাহের প্রয়োজন হয় না?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ টি
ব্যাখ্যা
মুরগির সংখ্যা:
- জলাশয় বা পুকুরের আয়তনের ওপর মুরগির সংখ্যা নির্ভর করে।
- সমন্বিত মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে ২টি হারে মুরগি লালন করলে মাছ চাষের জন্য কোনো সার বা খাদ্য সরবরাহের প্রয়োজন হয় না।
- উল্লিখিত হারে মুরগি পালন করলে সমন্বিত মাছ চাষের পুকুরের পানিতে সাধারণত কোনো প্রকারের দূষণ পরিলক্ষিত হয় না।

হাঁসের সংখ্যা:
- সমন্বিত মাছ চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে ২টি করে হাঁস পালন করা ভালো।
- এ পরিমাণ হাঁস পালন করলে পুকুরে কোন প্রকার সার ও মাছের খাদ্য সরবরাহের প্রয়োজন হয় না।
- তবে পুকুরের পানির গভীরতা ২ মিটারের অধিক হলে প্রতি শতকে ৩টি করে হাঁস পালন করা যেতে পারে।
- তবে হাঁসের বয়স ২.৫ বৎসর হয়ে গেলে তা বিক্রি করে দিয়ে সমান সংখ্যক বাচ্চা হাঁস পালে ঢুকিয়ে দিতে হবে।
- প্রতি পুকুরে ২/১ টি পুরুষ হাঁস রাখা উচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
পিঁয়াজ উত্তোলনের কমপক্ষে কত দিন পূর্বে সেচ বন্ধ করা উচিত?
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৩ সপ্তাহ
  3. ৪ সপ্তাহ
  4. ৫ সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
৩ সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ চাষ:
- পিঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত মসলা জাতীয় ফসল।
- সবজি ও সালাদ হিসেবে এবং আচার, কেচাপ ও সস তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।
- এর অনেক ওষধি গুণ রয়েছে।
- উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচিতি পিঁয়াজ একটি দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
- তবে আমাদের দেশে এর একবর্ষজীবী জাতও দেখা যায়।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.

⇒ পিঁয়াজের রূপান্তরিত কান্ড সংলগ্ন পাতার গোড়ায় খাদ্য জমাটের ফলে স্ফীত হয় এবং কান্ডের সাথে একটির পর একটি সংযোজিত হয়ে শল্ককন্দ উৎপাদন করে।
- এ শল্ককন্দ পিঁয়াজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এ থেকে নতুন গাছ জন্মে থাকে।

⇒ বংশবিস্তার:
- বীজতলায় চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপণ, সরাসরি ক্ষেতে বীজ বপন বা ছোট ছোট কন্দ রোপণ সাধারণত এ তিনটি পদ্ধতিতে পিঁয়াজের চাষ করা হয়।
- এদের মধ্যে চারা রোপণ পদ্ধতিতে পিঁয়াজের ফলন বেশী হয়।

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- সহনশীল তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত দিনের আলো ও মাটিতে রস থাকলে পিঁয়াজের ভাল ফলন পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটি ছাড়া অন্য যে কোন মাটিতে পিঁয়াজের চাষ করা যায়।
- তবে দোঁআশ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা দোআঁশ বা পলিযুক্ত মাটি পিঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির অম্লত্ব বা pH ৫.৮-৬.৫ পিঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উত্তম, অধিক ক্ষার বা অম্ল মাটিতে পিঁয়াজের আকার ছোট হয় ও পুষ্ট হতে বেশী সময় লাগে।

⇒ উৎপাদন মৌসুম:
- বাংলাদেশে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে অর্থাৎ সারা বছরই পিঁয়াজ চাষ করা সম্ভব।
- জীবনকাল চারা রোপণের ৯০ থেকে ১০৫ দিন পর পিঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়।

⇒ সেচ:
- মাটির রস স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে পিঁয়াজের ফলন কমতে থাকে।
- এজন্য পিঁয়াজের জমিতে যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন।
- চারা মাটিতে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ৩ দিন অন্তর সেচ দেওয়া প্রয়োজন।
- পিঁয়াজ উত্তোলনের ৩ সপ্তাহ পূর্ব থেকে সেচ বন্ধ রাখতে হয়।
- নতুবা পিঁয়াজের গুণাগুণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
- পিঁয়াজের সম্পূর্ণ জীবন চক্রে ৮-১০ বার সেচের প্রয়োজন হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৪.
NATP এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Agricultural Technology Program
  2. National Agricultural Techniques Program
  3. National Agricultural Transfer Program
  4. New Agricultural Technology Program
সঠিক উত্তর:
National Agricultural Technology Program
উত্তর
সঠিক উত্তর:
National Agricultural Technology Program
ব্যাখ্যা
NATP-এর সামগ্রিক উদ্দেশ্য হল জাতীয় কৃষি উৎপাদনশীলতা এবং দৃঢ় আয়ের উন্নতির জন্য GOB-এর কৌশলকে সমর্থন করা, বিশেষ করে ৩৫% মহিলা কৃষকদের পাশাপাশি NATP-2 প্রকল্পের লক্ষ্য এলাকার মধ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উপর ফোকাস করা।

National Agricultural Technology Program (ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম) – ফেজ II প্রকল্প (NATP-2): 
- এটি ছয় বছরের প্রকল্প 
- প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল: 
- বিশ্বব্যাংক, IFAD, UDAID এবং GoB এর আর্থিক সহায়তায় শুরু হয়েছিল এবং ১২ এপ্রিল ২০১৬-এ অনুমোদিত হয়েছিল।
- প্রকল্প বাস্তবায়ন ০২ আগস্ট ২০১৬-এ শুরু হয়েছে।

NATP-2-এর দুটি পৃষ্ঠপোষক মন্ত্রক/বিভাগ রয়েছে
(i) কৃষি মন্ত্রণালয় (MOA), প্রধান মন্ত্রক এবং
(ii) মন্ত্রণালয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (MOFL) এবং
পাঁচটি উপাদান:-
(1) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (PIU-BARC), MOA,
(2) কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (PIU-DAE), MOA,
(3) মৎস্য বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (PIU-DOF), MOFL,
(4) বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট লাইভস্টক সার্ভিসেস (PIU-DLS), MOFL এবং
(5) প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (PMU), MOA ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেম (NARS) ইনস্টিটিউট এবং পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলি 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
২০৫.
আমাদের দেশে কোন সময় রুই জাতীয় মাছ হালদা নদীতে ডিম পাড়ে?
  1. বর্ষাকালে
  2. বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
  3. ভাদ্র মাসে প্রচন্ত গরমের সময়
  4. শীতের প্রারম্ভে
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
ব্যাখ্যা
আভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনের প্রভাব:
• বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে ফলে একদিকে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে এবং অন্যদিকে প্রজননক্ষম মাছ সহজে ধরা পড়ায় নদীতে মাছের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে এবং জীব বৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে।
• সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় এলাকার স্বাদু পানির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে।
• অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আমাদের দেশে এপ্রিল মে মাসে আভ্যন্তরীণ জলাশয়ে দেশীয় ছোট মাছের প্রজনন ব্যহত হচ্ছে।
• বৈশাখ মাসে বাংলাদেশে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি শুরু হলে রুই জাতীয় মাছ হালদা নদীতে ডিম পাড়ে।
- কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে একদিকে ডিমের পরিপক্কতার সময় এগিয়ে আসছে অন্যদিকে বৃষ্টিপাতে দেরি হওয়ায় মাছের শরীরবৃত্তীয় অবস্থায় পরিবর্তনে মাছের ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

এছাড়াও,
⇒ মাছ চাষ ও পোনা উৎপাদনে প্রভাব:
১। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে আমাদের দেশে মৌসুমী পুকুরগুলোতে পোনা অবমুক্তকরণ দেরিতে হয়।
- অন্যদিকে দ্রুত পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষের সময়কাল কমে যায় এবং মাছের আকার ছোট হয়।
২। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতের ফলে প্রজনন অনুকূল পরিবেশের অভাবে হ্যাচিরিতে মাছের কৃত্রিম প্রজনন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে পুকুরের পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছ সহজে রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং মাছের মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩। ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস হওয়ার কারণে মৎস্য পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় মৎস্য চাষে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪। পুকুরের পানির স্বাভাবিক গভীরতা ধরে রাখার জন্য চাষীকে পুকুরে পানি সরবরাহের জন্য বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে কোন মৌসুমে লবণাক্ততা বেড়ে যায়?
  1. বর্ষা মৌসুমে
  2. শুষ্ক মৌসুমে
  3. সারা বছর
  4. উপরের কোনটিইই নয়
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক মৌসুমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক মৌসুমে
ব্যাখ্যা
ফসল উৎপাদনে লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাব:
- বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি প্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকেনা।
- ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি যতটুকু এলাকা জুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকেনা, পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনা পানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে।
- ফলে লবণাক্ততা বেড়ে বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়।

⇒ লোনা পানির অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের একটি মারাত্মক সমস্যা।
- গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটা সময় পরে আমাদের দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলো সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাবে এবং লবণাক্ত হয়ে পড়বে।
- ফলে সেখানে স্বাভাবিক ফসল ফলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
- সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউট এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমি ফসল চাষের উপযুক্ততা হারিয়েছে, ভবিষ্যতে লবণাক্ত অঞ্চলের পরিমান আরও বাড়বে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ কোনটি?
  1. তড়কা
  2. খুরা-রোগ
  3. ওলান-ফোলা
  4. বাদলা
সঠিক উত্তর:
খুরা-রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুরা-রোগ
ব্যাখ্যা
গবাদিপশুর সংক্রামক রোগ: 
- যে সকল রোগ রোগাক্রান্ত পশু হতে সুস্থ পশুর দেহে সংক্রমিত হয় তাকে সংক্রামক রোগ বলে।
- ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে পশুতে এ সকল রোগ হয়ে থাকে।
- উল্লিখিত রোগের মধ্যে সংক্রামক রোগই সবচেয়ে বেশি মারাত্মক।
- সংক্রামক রোগের মধ্যে আবার ভাইরাসজনিত রোগ পশুর বেশি ক্ষতি করে থাকে, যেমন- খুরা-রোগ, জলাতঙ্ক, গোবসন্ত ইত্যাদি।
- ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগের মধ্যে গবাদিপশুতে বাদলা, তড়কা, গলাফোলা, ওলান-ফোলা, বাছুরের নিউমোনিয়া ও ডিপথেরিয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২০৮.
যে প্রস্বেদন কিউটিকলের মধ্য দিয়ে ঘটে তাকে কী বলে?
  1. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  2. ত্বকীয় প্রস্বেদন
  3. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ত্বকীয় প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বকীয় প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে।

ত্বকীয় প্রস্বেদন (Cuticular transpiration):

- যে প্রস্বেদন কিউটিকলের মধ্য দিয়ে ঘটে তাকে ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিনের আবরণকে কিউটিকল বলে।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করা কিউটিকলের প্রধান কাজ।
- কিউটিকল পাতলা হলে উহা ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৯.
সেচের পানি মাটির স্তর ভেদ করে সোজাসুজি নিচের দিকে চলে যাওয়াকে কী বলা হয়?
  1. বাষ্পীভবন
  2. পানির অনুস্রবণ
  3. পানির অভিস্রবণ
  4. পানি চুয়ানো
সঠিক উত্তর:
পানির অনুস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির অনুস্রবণ
ব্যাখ্যা
পানির অনুস্রবণ:
- সেচের পানি মাটির স্তর ভেদ করে সোজাসুজি নিচের দিকে চলে যাওয়াকে পানির অনুস্রবণ বলা হয়।
- অনুস্রবণের মাধ্যমে সেচের পানির অনেক অপচয় হয়।
- সেচের নালায় বা জমিতে শক্ত স্তর না থাকলে সহজেই পানির অনুস্রবণ ঘটে।
- অতএব, নালা বা জমিতে শক্ত স্তর সৃষ্টি করে পানির অনুস্রবণ রোধ করা যায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২১০.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কী তৈরি হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. ভিটামিন
  4. স্নেহ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে আলোর উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে শর্করা ও পানি উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন অবমুক্ত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া।
- বিক্রিয়া: 6CO2 + 12H2O = C6H12O6 + 6H2O + 6O2
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোক্সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোক্সংশ্লেষণের দুটি পর্যায় রয়েছে: আলোকনির্ভর পর্যায় এবং আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ।
২১১.
ধান চাষের জন্য উপযোগি তাপমাত্রা কত?
  1. ২০-২৫° সে
  2. ২২-২৮° সে
  3. ২৩-২৮° সে
  4. ২৫-৩০° সে
সঠিক উত্তর:
২০-২৫° সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০-২৫° সে
ব্যাখ্যা
ধান চাষ: 
- ধান বাংলাদেশের প্রধান দানা জাতীয় ফসল এবং প্রধান খাদ্য।
- বিশ্বের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯২ শতাংশ ধান এশিয়া দেশ গুলোতে উৎপন্ন হয়।

⇒ চাষাবাদের মৌসুম অনুযায়ী ধানের ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
১। আউশ ধান: মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
২। আমন ধান: জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।
৩। বোরো ধান: নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়।

⇒ জলবায়ু:
- ব্যাপক ও বিস্তৃত জলবায়ুতে ধান চাষ করা যায়।
- ধান চাষের জন্য উপযোগি তাপমাত্রা হলো ২০-২৫° সে.।
- বৃষ্টিপাত কম হলে সেচ দিতে হবে।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০% এর কম ও ৯৫% এর বেশি হলে পুষ্পায়ন ব্যাহত হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
আধুনিক মতবাদ অনুসারে, পত্ররন্ধ্র বন্ধ এবং খোলা রাখার বিষয়ে কোন আয়ন কে দায়ী করা হয়?
  1. সোডিয়াম আয়ন
  2. পটাসিয়াম আয়ন
  3. ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
  4. ক্যালসিয়াম আয়ন
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম আয়ন
ব্যাখ্যা
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ:
- পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের প্রধান গ্যাসীয় বিনিময় অঙ্গ যার মাধ্যমে উদ্ভিদ O2, CO₂, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি গ্যাসীয় উপাদান বিনিময় করে থাকে।
- উদ্ভিদের বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যাবলী (যেমন- শ্বসন, সালোকসংশ্লেষণ, প্রস্বেদন ইত্যাদি) সম্পাদনের জন্য গ্যাস বিনিময় আবশ্যক।
- এ বিনিময় কার্যক্রম পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
- এ মতবাদ অনুসারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ এবং খোলা রাখার বিষয়ে পটাসিয়াম আয়ন (K+) কে দায়ী করা হয়।
- দিনের বেলায় রক্ষীকোষ প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) শোষণ করে।
- ফলে রক্ষীকোষে অভিস্রবণিক চাপ বাড়ে এবং তখন পার্শ্ববর্তী মেসোফিল টিস্যু থেকে রক্ষীকোষে পানির ব্যাপন ঘটে।
- এ সময় রক্ষীকোষে টারগার প্রেসার (TP) বেড়ে যাবার ফলে তা স্ফীত হয়ে ধনুকের ন্যায় বেঁকে যায় ও পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
- রাতের বেলায় পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) রক্ষীকোষ হতে বের হয়ে আসে।
- ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ কমে।
- এর ফলে পানি রক্ষী কোষ থেকে বের হয়ে আসে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৩.
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন ব্যক্তির দৈনিক কত গ্রাম শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত?
  1. ১৫০ গ্রাম
  2. ২৫০ গ্রাম
  3. ৩৫০ গ্রাম
  4. ৪৫০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
৪৫০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
উদ্যান ফসলের পুষ্টি ও পারিবারিক গুরুত্ব:
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন ব্যক্তির দৈনিক ৪৫০ গ্রাম শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত
- বসতবাড়ির চারপাশে উদ্যান ফসল চাষ করে পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো যায়।
- বাড়তি ফসল বিক্রি করে পরিবারের আয়ও বাড়ানো যায়।
- আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের গাছ থেকে দামি কাঠ পাওয়া যায়।
- এসব কাঠ ঘর-বাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- কাঠ বিক্রি করে অনেক অর্থ পাওয়া যায়।
- তাছাড়া বিভিন্ন ফলদ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষের ডালপালা ছাঁটাই করে প্রচুর জ্বালানি পাওয়া যায়।
- পরিবারের রান্নাবান্নার কাজে এসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে জ্বালানি খাতে অর্থ সাশ্রয় হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২১৪.
মিউটেশনের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিনা) কোন আইসোটোপ ব্যবহার করে?
  1. নাইট্রোজেন-১৫ আইসোটোপ
  2. নাইট্রোজেন-১৪ আইসোটোপ
  3. কোবাল্ট-৬০ আইসোটোপ
  4. কোবাল্ট-৫৯ আইসোটোপ
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-৬০ আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবাল্ট-৬০ আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিনা) মিউটেশনের মাধ্যমে উন্নত জাত উদ্ভাবনে 60Co আইসোটোপ ব্যবহার করে।
- এ জন্য গামা রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বিনা ওয়েবসাইট।
২১৫.
কৃষি চুন কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম ফসফেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• কৃষিতে চুন:
- চুন শব্দটির অর্থ বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা হয়।
- রসায়ন বিদ্যায় ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে চুন বলে।
- কিন্তু কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে, একজন কৃষক বা একজন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে কৃষি চুন বুঝেন এবং ৯০% এর বেশি ক্যালসিয়াম কার্বনেট কৃষি চুন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- জমিতে ব্যবহৃত চুন জাতীয় পদার্থগুলো নিম্নরূপ-
১) ক্যালসিক চুনাপাথর বা গুঁড়ো চুনাপাথর। 
২) ডলোমাইট চুনা পাথর। 
৩) কুইক লাইম। 
৪) কলিচুন। 
৫) চক (নরম চুনাপাথর থেকে হয়)। 
৬) বেসিক পাগ। 
৭) কোরাল খোসা লাইম। 
৮) কাঠের ছাই, ঝিনুক চূর্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
ধান রোপনের পূর্বে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক কোনটি?
  1. গ্লাইফোসেট
  2. প্রিটাইলাক্লোর
  3. ২, ৪ ডি
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ধানের জমিতে সঠিক আগাছানাশক নির্বাচন: 
১) ধান রোপনের পূর্বে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (প্রি-প্লান্ট):

- এটি সাধারণত রোপনের পূর্বে যে সমস্ত আগাছা জমিতে জন্মায়, তাদের দমন করে।
- উদাহরণ- গ্লাইফোসেট, গ্রামোক্সন এবং ২, ৪ ডি ইত্যাদি।

২) রোপনের পর ধান ক্ষেতে আগাছা জন্মানোর আগে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (প্রি-ইমারজেন্স):
- জমিতে ধান রোপনের পর এবং আগাছা অংকুরোদগমের পূর্বে ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত রোপন/বপনের ৩-৫ দিন পর ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ আগাছানাশকই এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- উদাহরণ- বুটাক্লোর ৫জি, প্রিটাইলাক্লোর ৫০০ ইসি, বিসপাইরিবেক সোডিয়াম + বেনসালফিউরান মিথাইল, এসিটাক্লোর + বেনসালফিউরান মিথাইল, অক্সাডায়াজন ২৫ ইসি গ্রুপের আগাছানাশক।

৩) আগাছা অংকুরোদগমের পর ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (পোস্ট ইমারজেন্স):
- এ শ্রেণীর আগাছানাশক ধানের জমিতে আগাছা জন্মানোর পর ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত আগাছার পাতা যখন ১-২টি হয়, তখন এই আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ স্বরূপ- পাইরাজোসালফিউরান ইথাইল ১০ ডব্লিউপি, প্রিটাইলাক্লোর+পাইরাজোসালফিউরান ইথাইল, ডায়াফিমনি ২০০ এসসি, ইথক্সিসালফিউরান ১৫০ ডব্লিউপি, বিসপাইরিবেক সোডিয়াম এসসি, ফেনক্সলাম ২৪০ এসসি ইত্যাদি গ্রুপের আগাছানাশক। 

৪) ধানের আগাছার পাতা ৩-৪টি হওয়ার পর ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (লেট পোস্ট ইমারজেন্স):
- এ ধরনের আগাছানাশক আগাছার পাতায় স্প্রে করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।
- যেমন- ২, ৪ ডি এমাইন, কারফেন্ট্রাজন ইথাইল এবং এমসিপিএ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
২১৭.
জৈব সার ব্যবহারের সুফল কোনটি?
  1. জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি
  2. অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি
  3. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
জৈব সার:
জৈব সার ব্যবহারের সুফল -
(১) মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
(২) মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণের উন্নতি হয়।
(৩) মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি পায়।
(৪) মাটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
(৫) মাটি থেকে পুষ্টির অপচয় কম হয়।
(৬) মাটির উর্বরতা বাড়ে
(৭) মাটির সংযুক্তির উন্নতি হয়।
(৮) ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধি পায়।
(৯) মাটির পরিবেশ উন্নত হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২১৮.
টঙ্গিয়া পদ্ধতি প্রথম কোন দেশে শুরু হয়?
  1. বাংলাদেশ
  2. মায়ানমার
  3. শ্রীলংকা
  4. থাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
ব্যাখ্যা
টঙ্গিয়া পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতি ১৮৫৬ সালে সর্বপ্রথম বার্মায় (মায়ানমার) শুরু হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হয়।
- এ পদ্ধতিতে কৃষিজ ফসল ও বনজ প্রজাতি একই জমিতে এক সময়ে শুরু হয়।
- কয়েক বৎসর পর যখন বনজ প্রজাতির শাখাপ্রশাখা এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যে, নিচে রোদ পড়ে না এবং আর কৃষি ফসল চাষ করা সম্ভব না, তখন শুধু বন প্রজাতিই থাকে।
- অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে রোপিত বন প্রজাতি বড় হয়ে উপরের দিকে ঘন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কৃষি ফসল চাষ করা যায়।
- বন প্রজাতি পূর্ণ বিকশিত হওয়ার পর কেটে একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা হয়।
- পাহাড়ি বনাঞ্চলে এ পদ্ধতির বেশি প্রচলন দেখা যায়।

উৎস: বনায়ন, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
ড্যাম্পিং অফ কী জনিত রোগ?
  1. ভাইরাস জনিত
  2. পুষ্টির অভাব জনিত
  3. ব্যাকটেরিয়া জনিত
  4. ছত্রাক জনিত
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক জনিত
ব্যাখ্যা
ড্যাম্পিং অফ রোগ:
- ছত্রাকজনিত এ রোগে চারার গোড়ায় পানি ভেজা দাগ পড়ে ও পচে যায়।
- অনেক সময় শিকড় পচেও চারা মারা যায়।
- আক্রান্ত জায়গায় রিডোমিল গোল্ড দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২০.
গমের সেচের প্রতি সংকটময় পর্যায় কোনটি?
  1. কুশি গজানোর শেষ দিকে
  2. মুকুট মূল গজানো
  3. পুষ্পায়ন
  4. দানা পুষ্ট হওয়া
সঠিক উত্তর:
মুকুট মূল গজানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুট মূল গজানো
ব্যাখ্যা
ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়: 
- ফসলের শারীরতাত্ত্বিক বৃদ্ধির সকল পর্যায়ে সমানভাবে পানির প্রয়োজন হয় না।
- যে সকল পর্যায়ে মাটিতে পানি স্বল্পতায় ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় তাকে সেচের প্রতি সংবেদনশীল পর্যায় বলে।
- আর যেসব পর্যায়ে পানির অভাবে ফসলের ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় তাকে সংকটময় পর্যায় বলে।

গমের সেচের প্রতি সংবেদনশীল পর্যায়: 
মুকুট মূল গজানো, কুশি গজানোর শেষ দিকে, পুষ্পায়ন। 

গমের সেচের প্রতি সংকটময় পর্যায়: 
পুষ্পায়ন, মুকুট মূল গজানো।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২১.
ধানের উফরা রোগ কী জনিত রোগ?
  1. কৃমিজনিত
  2. ভাইরাস জনিত
  3. ব্যাকটেরিয়া জনিত
  4. ছত্রাক জনিত
সঠিক উত্তর:
কৃমিজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃমিজনিত
ব্যাখ্যা
রোগের নাম: 
- ধানের উফরা রোগ Ufra Disease of Rice (Ditylenchus angustus) কৃমিজনিত রোগ।

লক্ষণ: 
- এটি মাটি, রোগাক্রান্ত নাড়া ও খড়ে থাকে।
- এ কৃমি ধান গাছের আগার কচি অংশের রস শুষে খায়, ফলে প্রথম পাতার গোড়ায় অর্থাৎ পাতা ও খোলের সংযোগ স্থলে সাদা ছিাটা ফোটা দাগের ন্যায় দেখা যায়।
- সাদা দাগ ক্রমেই বাদামী রঙের হয় এবং পরে দাগগুলি বেড়ে সম্পূর্ণ পাতাটা শুকিয়ে ফেলে।
- ফলে অনেক সময় থোড় বা ছড়া বের হতে পারে না অথবা ছড়া ভিতরে কুচকানা বা মোছড়ানো অবস্থায় থাকে।

উৎস: Plant Disease Clinic.
২২২.
ভেজাল TSP সার চেনার উপায় কি?
  1. পানিতে মেশালে ঘোলা দ্রবণ হয়
  2. পানিতে মেশালে ডাবের পানির মতো পরিষ্কার দ্রবণ তৈরী হয়
  3. পানিতে মেশালে লাল রংয়ের দ্রবণ তৈরী হয়
  4. কোনটাই নয়
সঠিক উত্তর:
পানিতে মেশালে ঘোলা দ্রবণ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিতে মেশালে ঘোলা দ্রবণ হয়
ব্যাখ্যা
ভেজাল TSP সার চেনার উপায় হলো পানিতে মেশালে ঘোলা দ্রবণ হয়।

ভেজাল সার:

- অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে নকল সার বা ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছেন। কৃষকভাইয়েরা একটু সতর্ক হলেই আসল সার ও ভেজাল সারের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

⇒ টিএসপি সার চেনার উপায়:
- টিএসপি সার পানিতে মিশালে সাথে সাথে গলবে না।
- আসল টিএসপি সার ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পানির সাথে মিশবে।
- কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মিশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যাবে বা পানির সাথে মিশে যাবে।
- প্রকৃত টিএসপি সারে অম্ল স্বাদ ও ঝাঁঝালো গন্ধ থাকবে কিন্তু ভেজাল টিএসপি সারে অম্ল সাদ ও ঝাঁঝালো গন্ধ থাকবে না।
- এক চা চামুচ ভাল টিএসপি সার আধা গ্লাস ঠান্ডা পানিতে মিশালে সার সম্পূর্ণ গলে ডাবের পানির মতো দ্রবণ তৈরী করবে। পক্ষান্তরে ভেজাল টিএনপি সার পানিতে মিশালে ঘোলা দ্রবণ তৈরী করবে।
- প্রকৃতি টিএসপি সার বেশ শক্ত বিধায় দুটো বুড়ো আঙ্গুলের নখের মাঝে রেখে চাপ দিলে সহজে ভেঙ্গে যাবে না। কিন্তু ভেজাল টিএসপি অপেক্ষাকৃত নরম হওয়ায় দুটো বুড়ো আঙ্গলের নখের মাঝে রেখে দিলে সহজে ভেঙ্গে যাবে। ভেজাল টিএসপি সারের ভাঙ্গা দানার ভিতরের অংশের রং বিভিন্ন রকমের হতে পারে। কিন্তু আসল টিএসপি সারে ভাঙ্গা অংশের দানার রং এবং বাইরের রং একই রকমের হয়।

এছাড়াও,
⇒ ইউরিয়া সার চেনার উপায় :
- আসল ইউরিয়া সারের দানাগুলো সমান হয়। তাই কেনার সময় প্রথমেই দেখে নিতে হবে যে সারের দানাগুলো সমান কিনা। ইউরিয়া সারে কাঁচের গুড়া অথবা লবণ ভেজাল হিসাবে যোগ করা হয়। চা চামচে অল্প পরিমান ইউরিয়া সার নিয়ে তাপ দিলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হয়ে সারটি গলে যাবে। যদি ঝাঁঝালো গন্ধ সহ গলে না যায়, তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

⇒ ডিএপি সার চেনার উপায়:
ডিএপি সার চেনার জন্য চামচে অল্প পরিমান ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ হয়ে তা গলে যাবে। যদি না গলে তবে বুঝতে হবে সারটি সম্পূর্ণরুপে ভেজাল। আর যদি আংশিকভাবে গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক পরিমান ভেজাল আছে। এছাড়াও কিছু পরিমান ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। যদি অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

⇒ এমওপি বা পটাশ সার চেনার উপায়:
পটাশ সারের সাথে ইটের গুড়া ভেজাল হিসাবে মিশিয়ে দেয়া হয়। গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এমওপি বা পটাশ সার মিশালে সার গলে যাবে। তবে ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসাবে মিশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বুঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল।

⇒ জিংক সালফেট সার চেনার উপায়:
জিংক সালফেট সারে ভেজাল হিসাবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট সার চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমান পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
২২৩.
ফসলের রোগের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা কোনটি?
  1. জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার করা
  2. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফসল আবাদ
  3. বীজ শোধন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রতিকার:
- রোগাক্রান্ত হওয়ার পূর্বে ফসলের রোগের প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হয়।
- কারণ ফসল একবার রোগাক্রান্ত হয়ে গেলে প্রতিকার করা কঠিন।
- তাই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার আগে নিচে উল্লিখিত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করা জরুরি:

১। জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার করা: বীজের মাধ্যমে অনেক রোগ ছড়ায়। তাই কৃষককে নীরোগ বীজ সংগ্রহ করতে হবে বা বীজ শোধন করে বুনতে হবে।

২। বীজ শোধন: অনেক বীজ আছে নিজেরাই রোগ বহন করে। বীজবাহিত রোগ জীবাণু নীরোগ করার জন্য বীজ শোধন একটি উত্তম প্রযুক্তি। এজন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়।

৩। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফসল আবাদ করা ফসলের ক্ষেতে আগাছা থাকলে ফসল রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। কারণ আগাছা অনেক রোগের উৎস। তাই আগাছা পরিষ্কার করে চাষাবাদ করতে হবে।

৪। রোগাক্রান্ত গাছ পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা এক গাছ রোগাক্রান্ত হলে অন্য গাছেও ছড়িয়ে পড়ে। যাতে রোগ পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত গাছটি তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। নতুবা মাটি খুঁড়ে পুঁতে ফেলতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২৪.
একটি আদর্শ বীজতলার মাপ কত?
  1. ৩ মিটার x ১ মিটার
  2. ৩ মিটার x ২ মিটার
  3. ৫ মিটার x ১ মিটার
  4. ৫ মিটার x ২ মিটার
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার x ১ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার x ১ মিটার
ব্যাখ্যা
আদর্শ বীজতলা:
- একটি আদর্শ বীজতলার পরিমান ৩ মি. দৈর্ঘ্য এবং ১ মি. প্রস্থ ।
- চারাগাছের পরিচর্যার সুবিধার জন্য বীজতলা প্রস্থে ১ মিটার রাখা হয়।

উৎস: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
২২৫.
পোল্ট্রির জন্য প্রক্রিয়াজাত করা খাদ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. হে
  2. সাইলেজ
  3. পিলেট
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
পিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিলেট
ব্যাখ্যা
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ: 
- কোনো খাদ্যের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
- আবার তৈরি করা পশুখাদ্যের গুণাগুণ ঠিক রাখার জন্যও গুদামজাত করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়।
- খাদ্য সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে খাদ্যকে রোগজীবাণু ও পচনের হাত থেকে রক্ষা করা।
- পশুপাখির দানাদার খাদ্যকে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত কক্ষে সংরক্ষণ করে বেশি দিন গুণাগুণ ঠিক রেখে সংরক্ষণ করা যায়।
- খাদ্যের আর্দ্রতা বেশি হলে এতে ছত্রাক জন্মায়। ছত্রাক জন্মানো খাদ্য খেলে পশুপাখির দেহে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফলে অনেক সময় পশু অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে।

খাদ্য সংরক্ষণের উপায়: 
ক) হে তৈরি:
- হে তৈরির মাধ্যমে সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করা হয়। 
- হে তৈরির জন্য শিম গোত্রীয় ঘাস যেমন, সবুজ খেসারি, মাসকলাই বেশি উপযোগী।

খ) সাইলেজ তৈরি:
- সাইলেজ তৈরির মাধ্যমে সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করা হয়। 
- সাইলেজ তৈরির জন্য ভুট্টা, নেপিয়ার, গিনি ঘাস বেশি উপযোগী।
- ফুল আসার সময় রসাল অবস্থায় ঘাস কাটতে হয়।

ঘ) দানাশস্য ও তৈলবীজ: 
- দানাশস্য ও তৈলবীজের উপজাত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়।
- ধান, গম, ভুট্টা, খেসারি, কলাই ইত্যাদি দানাশস্যের উপজাতসমূহ যেমন, চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, ডালের খোসা, খৈল ইত্যাদি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়।

ঙ) কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে: 
- কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়।
- যেমন, পোল্ট্রির জন্য দানাদার খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে মেশ, পিলেট ও ক্রাম্বল ফিড তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২৬.
নিচের কোন বীজে দুটি বীজপত্র থাকে?
  1. গম
  2. ছোলা
  3. ধান
  4. ভুট্টা
সঠিক উত্তর:
ছোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোলা
ব্যাখ্যা
বীজপত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে বীজকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) একবীজপত্রী বীজ: এসব বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে। যেমন; ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি
(খ) দ্বিবীজপত্রী বীজ: এসব বীজে দুটি বীজপত্র থাকে। যেমন: ছোলা, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
(গ) বহুবীজপত্রী বীজ: এসব বীজে দুইয়ের অধিক বীজপত্র থাকে। যেমন: পাইন।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২২৭.
কোন জাতীয় সার মাটিকে নরম রাখতে রাখতে সহায়তা দান করে?
  1. জিপসাম
  2. এমপি
  3. টিএসপি
  4. ইউরিয়া
সঠিক উত্তর:
টিএসপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিএসপি
ব্যাখ্যা
• রাসায়নিক সারের উপকারিতা:
- কতকগুলো রাসায়নিক সার, বিশেষ করে টিএসপি মাটির সংযুক্তি উন্নত করে, আয়তনী ঘনত্ব কমায় এবং মাটিকে নরম করতে সহায়তা দান করে।
- টিএসপি সার মৃত্তিকা দ্রবণের কিছুটা রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করার পর খুব অল্প সময়ে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। জমিতে উপস্থিত ফসল খুব দ্রুত এর উপকার পায়। ইউরিয়া সার ব্যবহার করার কয়েকদিনের মধ্যে গাছ সবুজ ও সতেজ হয়ে ওঠে।
- রাসায়নিক সারে আয়তনের তুলনায় খাদ্যোপাদন বেশি থাকে ফলে বেশি পরিমাণ সার আনা নেয়া করার প্রয়োজন দেখা দেয় না। তাছাড়া উচ্চ ফলনশীল জাতের জন্য বেশি খাদ্যোপাদান প্রয়োজন হয় বলে রাসায়নিক সার এখানে খুবই কার্যকরী।
- অনেক রাসায়নিক সার, যেমন- ইউরিয়া এবং কিছু গৌণ উপাদান সার উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পাতার উপর স্প্রে করে প্রয়োগ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে গাছ তা
রাসায়নিক সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে দ্রুত খাদ্যোপাদান মাটিতে সরবরাহ হয় যার ফলে মাটির অণুজীবগুলোর পরিমাণ ও কার্যাবলী বৃদ্ধি পায়।
- রাসায়নিক সার, বিশেষ করে ইউরিয়া মাটির জৈব পদার্থ বিযোজনে সহায়তা করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
নিম্নের কোন গাছের ছাল হৃদরোগের ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. বট
  2. অর্জুন
  3. আমলকি
  4. নিম
সঠিক উত্তর:
অর্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জুন
ব্যাখ্যা
অর্জুন গাছ:
- অর্জুন গাছের ছাল হৃদরোগের ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- অর্জুন গাছের ছাল (Terminalia arjuna bark) একটি প্রাকৃতিক ঔষধি উপাদান হিসেবে প্রচলিত। এটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত। অর্জুন গাছের ছাল প্রধানত হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, এবং নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা নিরাময়ে কার্যকর।

⇒ অর্জুন (Terminalia arjuna) একটি ঔষধি গাছ।
- এটি সাধারণত নদীর তীরে, জলাভূমি এলাকায় বা আর্দ্র মাটিতে জন্মায়।
- অর্জুন গাছের উচ্চতা ২০-২৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এর ছাল মসৃণ ও ধূসর রঙের।
- গাছটির পাতা চওড়া, লম্বাটে এবং চামড়ার মতো শক্ত।
- এই গাছের ছাল শুকিয়ে গুঁড়ো করে অর্জুন পাউডার তৈরি করা হয়।
- অর্জুন গাছের সবচেয়ে বেশি ব্যাবহৃত হয় এর ছাল। পরে এই ছাল কে চূর্ণ বা পাউডার করে পানিতে মিশিয়ে সেবন করা হয়। ইউনানি এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় অর্জুন গাছ খুবই কার্যকরী একটি মহা ঔষধ।

⇒ অর্জুন গাছের ঔষধি গুণাবলি
- হৃদরোগের চিকিৎসায়: অর্জুনের ছাল থেকে তৈরি ওষুধ হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি হৃদয়ের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অর্জুন গাছের উপকারিতা গাছ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদস্পন্দনের হার নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: অর্জুন ছালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
- চর্মরোগ: অর্জুন গাছের ছাল বিভিন্ন চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

⇒ অর্জুন গাছের ছালের উপকারিতা:
- হৃদরোগের চিকিৎসা:অর্জুন গাছের ছাল হৃদযন্ত্রের পেশি শক্তিশালী করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- এটি হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- উচ্চ রক্তচাপ কমানো:অর্জুন গাছের ছাল রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:অর্জুন গাছের ছালে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
- চর্মরোগের চিকিৎসা:অর্জুন গাছের ছাল চর্মরোগের চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য দ্বারা ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:অর্জুন গাছের ছাল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এটি ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।
- শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা:অর্জুন গাছের ছাল শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

উৎস: i) কৃষক বাজার। 
ii) Herbolife.
২২৯.
পাটের জিনোম আবিষ্কারক কে?
  1. ড. মোবারক হোসেন খান
  2. ড. মাকসুদুল আলম
  3. ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ
  4. ড. আব্দুল খালেক
সঠিক উত্তর:
ড. মাকসুদুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
- বায়োটেকনোলজি বা জীবকৌশল বিজ্ঞানে অগ্রগতি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
- বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কর্তৃক পাটের জেনেটিক ম্যাপ আবিষ্কার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, অর্থাৎ বাংলাদেশে কৃষির আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছে।
- পাটের জিনোম আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলম। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২৩০.
চা, কফি কী জাতীয় ফসল?
  1. ডাল জাতীয়
  2. নেশা জাতীয়
  3. আঁশ জাতীয়
  4. পানীয় জাতীয়
সঠিক উত্তর:
পানীয় জাতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানীয় জাতীয়
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, গম, ভুট্টা, পাট, তুলা ইত্যাদি।
- ধান, গম, ভুট্টা হলো দানা জাতীয় ফসল।
- দানা জাতীয় ফসল মানুষের প্রধান খাদ্য।
- দানা জাতীয় ফসল আমাদের শর্করার জোগান দেয়।
- মসুর, মাষকলাই, মুগ ইত্যাদি ডাল জাতীয় ফসল আমিষ সরবরাহ করে।
- তেল জাতীয় ফসলের মধ্যে রয়েছে তিল, সরিষা, তিষি, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- এসব ফসল আমাদের খাদ্যের স্নেহ জাতীয় উপাদান সরবরাহ করে।
- পাট হচ্ছে আঁশ জাতীয় ফসল। পাট আমাদের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- পানীয় জাতীয় ফসল হচ্ছে চা, কফি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩১.
নিচের কোনটি ডাল জাতীয় ফসল?
  1. ভূট্টা
  2. ছোলা
  3. সয়াবিন
  4. খেজুর
সঠিক উত্তর:
ছোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোলা
ব্যাখ্যা
ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ: 
১। দানাজাতীয় শস্য: এরা গ্রামিনী পরিবারের অন্তর্গত। এ পরিবারের খাবার উপযোগী দানা জাতীয় শস্যগুলো হচ্ছে ধান, গম, ভূট্টা, যব, চীনা, কাওন ইত্যাদি।
২। ডাল ফসল: লিগুমিনোসি পরিবারের প্যাপিলিওনেসি উপ-পরিবারের যে সমস্ত দানাজাতীয় ফসল ডালের জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে ডাল ফসল বলা হয়। যেমন- মসুর, খেসারি, মুগ, ছোলা, মাসকালাই ইত্যাদি।
৩। তৈল ফসল: যে সমস্ত ফসলের বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করা হয়। সেগুলোকে তৈল ফসল বলা হয়। যেমন- সরিষা, সয়াবিন, তিল, তিসি, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
8। চিনি ফসল: যে সমস্ত ফসলের রস থেকে মিষ্টিজাতীয় পদার্থ যেমন- চিনি, গুড়, মিছরি ইত্যাদি তৈরি করা হয়, সেগুলোকে চিনি ফসল বলে। যেমন- আখ, বিট, খেজুর, তাল ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৩২.
মাঠ ও উদ্যান ফসলের রোগ-বালাই চিকিৎসায় ও প্রতিরোধে কোন উদ্ভিদের ব্যবহার সুফলদায়ক প্রমাণিত হয়েছে?
  1. নিম
  2. অ্যালামন্ডা
  3. রসুন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
ঔষধি উদ্ভিদ: 
- অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রোগব্যধি নিরাময়ে ঔষধি উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- এই ভিত্তিতে বাংলাদেশে ভেষজ, আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসাশাস্ত্র প্রসার লাভ করায় এই সকল ঔষধি গাছের চাষও প্রসার লাভ করে।
- তাই কৃষি ও কৃষকের অবদানও প্রসারিত হয়।
- নানা কারণে স্বাস্থ্য রক্ষায় বর্তমানে ঔষধি গাছপালা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
- এই সকল ঔষধি গাছের চাষও তাই বাড়ছে এবং লাভজনক হচ্ছে।
- এদের মধ্যে অ্যালোভেরা (ঘৃতকুমারী), স্টিভিয়া, কালোজিরা, রসুন এগুলো বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- চিরতা, লবঙ্গ এমন আরও অনেক চাষযোগ্য ঔষধি গুল্ম, লতা, বৃক্ষের একটা বড় তালিকা তৈরি করা যায়।
- মাঠ ও উদ্যান ফসলের রোগ-বালাই চিকিৎসায় ও প্রতিরোধে নিম ও অ্যালামান্ডা গাছের পাতার রস এবং রসুনের রসের ব্যবহার সুফলদায়ক প্রমাণিত হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩৩.
পাটের বিছা পোকা শুককীট বা কীড়া অবস্থায় কয়দিন থাকে?
  1. ৫-৭ দিন
  2. ১০-১২ দিন
  3. ১৮-২১ দিন
  4. ৭-১০ দিন
সঠিক উত্তর:
১৮-২১ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮-২১ দিন
ব্যাখ্যা
পাটের বিছা পোকা শুককীট বা কীড়া অবস্থায় ১৮-২১ দিন থাকে।

পাটের বিছাপোকা (Jute hairy caterpillar):

- পাটের অনিষ্টকারী পোকাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
- এটি শুয়া পোকা নামেও পরিচিত।
- কোনো কোনো অঞ্চলে এ পোকাকে "ছেংগা" নামেও অভিহিত করা হয়।
- এটি একটি বহুভোজী পতঙ্গ।

⇒ বিছা পোকার স্ত্রী মথ পাটের পাতার উল্টো দিকে গাদা করে ডিম পাড়ে।
- ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার পর প্রায় ৬-৭দিন পর্যন্ত বাচ্চা গুলো পাতার উল্টো দিকে দলবদ্ধভাবে থাকে।
- দলবদ্ধভাবে থাকা অবস্থায় কীড়াগুলো পাতার উল্টো পিঠের সবুজ অংশ (ক্লোরোফিল) খেয়ে পাতাকে সাদা পাতলা পর্দার মত করে ফেলে।
- এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতাগুলো দূর থেকে সহজে চেনা যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যপক ক্ষতি সাধন করতে পারে।
- এদের গায়ে অসংখ্য শুয়ো গুচ্ছাকারে সাজানো থাকে।
- কীড়া অবস্থায় ১৮-২০দিন স্থায়ী থাকে।
- পাটে বিছা পোকার জীবন চক্র পাঁচ সপ্তাহের কম/বেশী স্থায়ী হয়।
- পাট মৌসুমে এ পোকার অন্তত: তিনটি বংশ চক্র দেখা যায়।
- পোকা প্রায় সর্বভূক্ত, পাট ছাড়াও এরা রবি মৌসুমে সরিষা, তুলা, বাদাম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মূলা, মটর, সয়াবিন ও অন্যান্য সীম জাতীয় ফসলের ক্ষতি করে।

⇒ ক্ষতির ধরন:
- এ পোকার কীড়া পাটগাছের চারা অবস্থা থেকে শুরু করে আগষ্ট মসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাতার ক্ষতি সাধন করে।
- ডিম ফুটে বের হবার পর কীড়াগুলো ৫-৬ দিন পর্যন্ত একটি পাতায় দলবদ্ধ ভাবে থাকে।
- এ অবস্থায় এরা পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাটিকে পাতলা পর্দার মত করে ফেলে।
- তারপর কীড়াগুলো সমস্ত জমিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাতা খেতে শুরু করে।
- আক্রমণ তীব্র হলে এরা গাছের ডগা পর্যন্ত খেয়ে ফেলে।
 বিছা পোকার আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন কম হয়।
- এ পোকার আক্রমণে প্রতি হেক্টরে ১৮৫-৬৫০ কেজি পর্যন্ত ফলন কম হতে পারে।

উৎস: i) ফসলের পোকামাকড় ও ইদুর দমন, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।
২৩৪.
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণে যে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় তাকে কী বলে?
  1. সমতল বন
  2. গজারী বন
  3. সামাজিক বন
  4. ম্যানগ্রোভ বন
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বন
ব্যাখ্যা
সামাজিক বন:
- সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনায় জনসাধারণ সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে।
- জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণে যে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়, তাকেই সামাজিক বনায়ন বলা হয়।
- বাংলাদেশের বন বিভাগ এরই মধ্যে উপকূলীয় চরাঞ্চলসমূহে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির প্রয়াস গ্রহণ করেছেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার জনালগ্ন থেকেই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
- এতে জনসাধারণ সরাসরি অংশগ্রহণ করছে এবং উপকৃত হচ্ছে।
- বর্তমানে দেশের প্রায় সকল সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়েছে।
- বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রধানত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে সামাজিক বন প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩৫.
নিচের কোনটিকে মাটির প্রাণ বলা হয়?
  1. খনিজ পদার্থ
  2. অজৈব পদার্থ
  3. জৈব পদার্থ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
জৈব পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব পদার্থ
ব্যাখ্যা
জৈব পদার্থ:
- জৈব পদার্থ মাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জীবজন্তুর মৃতদেহ, গাছপালা, লতাপাতা, খড়কুটা, প্রাণীর মলমূত্র, প্রভৃতি মাটিতে পচে জৈব পদার্থের সৃষ্টি হয়।
- মাটিতে আয়তনের ভিত্তিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকে।
- জৈব পদার্থকে মাটির প্রাণ বলা হয়। কেননা জৈব পদার্থের উপস্থিতিতে মাটির অণুজীবগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়াও জৈব পদার্থ-
(১) মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্মাবলি উন্নত করে;
(২) ভূমিক্ষয় রোধ করে;
(৩) মাটিতে পানি ও বায়ু চলাচল সহজতর করে;
(৪) মাটিস্থ কেঁচোর সংখ্যা ও এর কার্যাবলি বাড়ায়;
(৫) মাটির রস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩৬.
কোনটি ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয়/অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান:
– গাছ যে সকল খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে তারমধ্যে ১৬ টি উপাদানকে অত্যাবশ্যকীয়/অপরিহার্য মনে করা হয়।
– কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন ব্যতিত অন্যান্য ১৩ টি উপাদান গাছ মাটি হতে সংগ্রহ করে থাকে এবং এই ১৩ টি উপাদান কে বলা হয় খনিজ পুষ্টি (Mineral Nutrients)। গাছ কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে বাতাস এবং পানি হতে।

– গাছের পুষ্টি গ্রহনের পরিমাণের উপরে নির্ভর করে এ সকল পুষ্টি উপাদান কে মোট ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
(১) মূখ্য উপাদান (Macro nutrient)- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার,
(২) গৌন উপাদান (Micro nutrient) - আয়রণ, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, মলিবডেনাম, বোরণ ও ক্লোরিন।

এ পুষ্টি উপাদানসমূহ এর অভাবে গাছ এর স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

উপকারী/প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:
– সোডিয়াম, সিলিকন, এলুমিনিয়াম, কোবাল্ট, সেলেনিয়াম প্রভৃতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
এগুলো সব গাছের জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয় তবে সুনির্দিষ্ট গাছের জন্য দরকারি বলে ধরা হয়।
যেমন: নারিকেল গাছের জন্য সোডিয়াম।

উৎস: i) উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, Bachelor of Agriculture Education, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Texus A&M Agrilife Extension ওয়েবসাইট
২৩৭.
কপিসিং ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?
  1. ছাটাইয়ের পর প্রচুর ডালপালা ও পাতা উৎপন্ন হওয়া
  2. প্রচুর শিকড় গজানো
  3. একটি কান্ড থেকে একাধিক কান্ড উৎপন্ন হওয়া
  4. এক গাছ হতে একাধিকবার ফসল পাওয়া
সঠিক উত্তর:
ছাটাইয়ের পর প্রচুর ডালপালা ও পাতা উৎপন্ন হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাটাইয়ের পর প্রচুর ডালপালা ও পাতা উৎপন্ন হওয়া
ব্যাখ্যা
কপিসিং (Coppicing) ক্ষমতা:
প্রধান কান্ডসহ সব ধরনের ডালপালা ছাটাইয়ের পর প্রচুর পরিমাণে নতুন ডালপালা ও পাতা উৎপাদিত হয়

উৎস: AFORESTRATION, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৮.
ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে কোন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'বি'
  3. ভিটামিন 'সি'
  4. ভিটামিন 'ডি'
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 'এ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 'এ'
ব্যাখ্যা
- আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ।
- এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার।
- আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রায় ৬০% আমিষের জোগান দেয় মাছ।
- একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের দৈনিক ৮০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাবারের প্রয়োজন হয়।
- কিন্তু বর্তমানে আমরা গড়ে মাত্র ৬০ গ্রাম আমিষ খেয়ে থাকি।
- মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের চাহিদা মেটানো সম্ভব। 
- এছাড়া মাছের তেল দেহের জন্য উপকারী।
- বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়।
- ভিটামিন 'এ' রাতকানা রোগ দূর করে।
- মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায় যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩৯.
কোথায় টঙ্গিয়া পদ্ধতি প্রথম শুরু হয়?
  1. মায়ানমার
  2. বাংলাদেশ
  3. থাইল্যান্ড
  4. নেপাল
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
ব্যাখ্যা
টঙ্গিয়া পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতি ১৮৫৬ সালে সর্বপ্রথম বার্মায় (মায়ানমার) শুরু হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হয়।
- এ পদ্ধতিতে কৃষিজ ফসল ও বনজ প্রজাতি একই জমিতে এক সময়ে শুরু হয়।
- কয়েক বৎসর পর যখন বনজ প্রজাতির শাখাপ্রশাখা এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যে, নিচে রোদ পড়ে না এবং আর কৃষি ফসল চাষ করা সম্ভব না, তখন শুধু বন প্রজাতিই থাকে।
- অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে রোপিত বন প্রজাতি বড় হয়ে উপরের দিকে ঘন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কৃষি ফসল চাষ করা যায়।
- বন প্রজাতি পূর্ণ বিকশিত হওয়ার পর কেটে একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা হয়।
- পাহাড়ি বনাঞ্চলে এ পদ্ধতির বেশি প্রচলন দেখা যায়।

AFORESTRATION, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪০.
ফসলের পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহৃত কৃষি উপকরণ কোনটি?
  1. নিড়ানি
  2. আঁচড়া
  3. স্প্রেয়ার
  4. পাম্প
সঠিক উত্তর:
স্প্রেয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্প্রেয়ার
ব্যাখ্যা
ঔষধ ছিটানো যন্ত্র বা স্প্রেয়ার: 
- স্প্রেয়ার ফসলের রোগ ও পোকা দমনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- এতে পানি মিশ্রিত ঔষধ ভর্তি করে ট্রিগারের সাহায্যে নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিটানো হয়।
- স্প্রেয়ারের প্রধান প্রধান অংশ হচ্ছে (১) নজল (২) ট্রিগার (৩) পাম্প করার বাল্ব (৪) ব্যারেল (৫) ঔষধ ছিটানোর নল।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৪১.
টমেটোর হলুদ পাতা কুঁকড়ানো রোগ কী জনিত রোগ?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. পুষ্টির অভাব
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
টমেটোর হলুদ পাতা কুঁকড়ানো রোগ:
- ভাইরাসজনিত এ রোগে পাতা কিনারা থেকে মধ্যশিরার দিকে গুটিয়ে যায়।
- পাতা খসখসে হয়ে শিরাগুলো স্বচ্ছ হলুদ হয়ে কুঁকড়িয়ে যায়।
- আক্রান্ত গাছের ডগায় ছোট ছোট পাতা গুচ্ছ আকার ধারণ করে।
- এ রোগ দমনের জন্য টমেটো ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখতে হবে, রোগমুক্ত চারা লাগাতে হবে, আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
- সাদা মাছি পোকা এ রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটায়।
- মাছি পোকা দমনের জন্য ৭-১০ দিন পর পর এডমায়ার নামক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪২.
প্রাণিদেহের শতকরা কতভাগ পানি?
  1. শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ
  2. শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ
  3. শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ
  4. শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ
ব্যাখ্যা
গৃহপালিত পশু-পাখির খাবার পানি:
- পানির অপর নাম জীবন।
- পানি ছাড়া মানুষ, পশু-পাখি, গাছপালা কোনো জীবই বাঁচতে পারে না।
- পুষ্টি উপাদান দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের জন্য পানি প্রয়োজন।
- এটি হজম, বিপাকপ্রক্রিয়া ও দূষিত পদার্থ দেহ থেকে নির্গত হতে সাহায্য করে।
- শরীরের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পানির ভূমিকা রয়েছে।
- পানি জীবদেহের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান।
- দেহের গঠনের উপাদানের মধ্যে পানির পরিমাণ সবচেয়ে অধিক।
- প্রাণিদেহের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই পানি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪৩.
নিচের কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত?
  1. BARC
  2. BADC
  3. BJRI
  4. BINA
সঠিক উত্তর:
BINA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
BINA
ব্যাখ্যা
BINA:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Institute of Nuclear Agriculture বা বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। 
- ঢাকায় তদানীন্তন আণবিক শক্তি কমিশনের একটি ছোট্ট রেডিও-ট্রেসার ল্যাবরেটরিতে (RAGENE) এর প্রথম যাত্রা শুরু ১৯৬১-তে, যাকে কেন্দ্র করে ১৯৭২-এর জুলাইয়ে একটি অধিকতর সংগঠিত ব্যবস্থাপনায় ঢাকার বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনে "পরমাণু কৃষি ইনস্টিটিউট (ইনা)" গড়ে ওঠে।
- এটি ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- ইনা ১৯৮২-তে বারি ও ব্রি-র মতো "একটি স্বতন্ত্র কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা" লাভ করে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় ন্যস্ত হয়।
- ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশ নং-২ জারি করে এটিকে জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)।

উৎস: BINA ওয়েবসাইট।
২৪৪.
সরিষা চাষে যে অরোবাংকি দেখা যায় সেটি আসলে কী?
  1. রোগ
  2. আগাছা
  3. পোকামাকড়
  4. সরিষা পাকার লক্ষণ
সঠিক উত্তর:
আগাছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগাছা
ব্যাখ্যা
সরিষার আগাছা দমন:
- সরিষার জমিতে আগাছা দেখা মাত্র নিড়ানি দিয়ে তুলে ফেলতে হবে।
- চারা পাতলা করার সময়ই আগাছা দমন করা যায়।
- যেসব জমিতে অরোবাংকির আক্রমণ দেখা যায়, সেসব জমিতে পর পর দুই বছর সরিষা চাষ না করাই ভালো।

ব্রুমরেপস বা অরোবাংকি: 
- ব্রুমরেপস (Orobanche spp.) হলো ক্ষতিকর পরজীবী আগাছা।
- অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফসলের জন্য নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও অরোবাংকি সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে যা লক্ষাধিক কৃষকের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে।
- অরোবাংকি (Orobanche) গণের উদ্ভিদগুলো বার্ষিক, দ্বিবার্ষিক বা বহুবর্ষজীবী মাংসল পরজীবী হার্ব।
- এগুলো ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত ঔষধ এবং বন্য খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- সাম্প্রতিককালে Orobanche spp. খাদ্য ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ঔষধি হিসেবে আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
- তবে তাদের ঔষধি বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জাতিগত-ফার্মাকোলজিক্যাল বিশ্লেষণের অভাব রয়েছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
ScienceDirect ওয়েবসাইট। 
২৪৫.
নিচের কোনটি সারা বছর ধরে চাষ করা হয়?
  1. ফুলকপি
  2. বেগুন
  3. মুখিকচু
  4. চালকুমড়া
সঠিক উত্তর:
বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুন
ব্যাখ্যা
সবজি ও শাক:
- এ দেশে সকল ঋতুতে রকমারি সবজি উৎপাদিত হয়।
- বিশেষ করে শীতকাল বা রবি মৌসুমে সবজির বৈচিত্র্য অনেক বেশি।
- শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গোলআলু, ব্রোকলি, লাউ, ওলকপি, মুলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজির মধ্যে চালকুমড়া, পটোল, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, মুখিকচু অন্যতম।
- শাকের মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পুঁইশাক, পালংশাক, পাটশাক, কলমিশাক ইত্যাদি। 
- পেঁপে, কাঁচাকলা, বেগুন, লালশাক ইত্যাদি শাকসবজি সারা বছর ধরে চাষ করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৪৬.
কোন পানি গাছ সহজে গ্রহণ করতে পারে?
  1. মহাকর্ষীয় পানি
  2. জলাকর্ষী পানি
  3. কৈশিক পানি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কৈশিক পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৈশিক পানি
ব্যাখ্যা
মাটিতে রন্ধ্র:
- মাটিতে দুই প্রকার রন্ধ্র থাকে:
• সূক্ষ্ম রন্ধ্র ও
• স্থূল রন্ধ্র। 

⇒ মাটির রন্ধ্র পরিসরে যে পানি থাকে তাকে মৃত্তিকা পানি বলে।
- পানি একটি সার্বজনীন দ্রাবক যাতে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান দ্রবীভূত থাকে।
- পানি মাটি থেকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের বাহক হিসেবে কাজ করে।

⇒ মৃত্তিকা পানি প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
• মহাকর্ষীয় পানি,
• কৈশিক পানি ও,
• জলাকর্ষী বা আদ্রিক পানি।
- কৈশিক পানি গাছের গ্রহণ উপযোগী পানি।

⇒ ফসলের বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য জমি বা মাটির কোন ক্ষতি সাধন না করে কৃত্রিম উপায়ে প্রয়োজনীয় পরিমান পানি ফসলের জমিতে সরবরাহ করাকে পানি সেচ বলে।
- সেচের পানি মাটির খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত করে এবং গাছের জন্য সহজলভ্য করে।
- জমির জো অবস্থা আনতে, জমির লবনাক্ততা, ক্ষারত্ব দূর করতে, অনুজীবের কার্যাবলি বাড়াতে, সারের কার্যকারিতা বাড়াতে সেচ প্রয়োজন।
⇒ সেচের পানির দুইটি উৎস রয়েছে:
• ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও,
• ভূ-গর্ভস্থ পানি।
- মাটির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদন সেচের পানির গুণাগুণের উপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- ফসলের পানির ন্যূনতম চাহিদা হল যে পরিমাণ পানি গ্রহণ করতে না পারলে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
- আবার ফসলের যে বৃদ্ধি পর্যায় পানির অভাব হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় তাকে ফসলের পানির ক্রান্তিকাল বলে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
নিচের কোনটি ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না
  2. বীজ অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কম পক্ষে ৮০ ভাগ
  3. বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট
  4. অন্য জাতের মিশ্রণযুক্ত
সঠিক উত্তর:
অন্য জাতের মিশ্রণযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য জাতের মিশ্রণযুক্ত
ব্যাখ্যা
- ভালো বীজে ভালো ফসল অর্থাৎ গুণগত মানসম্পন্ন বীজ থেকেই ভালো ফসল জন্মায়।
- ফসল উৎপাদনে ভালো বীজের গুরুত্ব অপরিসীম।
- অনেক সময় ভালো বা উন্নত জাতের বীজ হলেও নানা কারণে বীজ ভালো হয় না।
- বীজে অনেক কিছু থাকতে পারে যা উন্নত জাতের বীজকেও নির্গুণ করে দেয়।

ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য:
১। অন্য জাতের মিশ্রণমুক্ত থাকতে হবে।
২। বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট হবে।
৩। বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
৪। বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না।
৫। ইট, পাথরের কণা ও আগাছা থেকে বীজ মুক্ত হবে।
৬। বীজ অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কম পক্ষে ৮০ ভাগ হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪৮.
কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য শতকরা কত ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার?
  1. ১৭ ভাগ
  2. ২০ ভাগ
  3. ২৫ ভাগ
  4. ৩০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
২৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
বন ও বনায়ন:
- গাছপালা দ্বারা আচ্ছাদিত এলাকাকেই আমরা বন বলি।
- যে পদ্ধতিতে বন তৈরি হয় তা-ই হলো বনায়ন।
- আমরা জানি, প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক আছে।
- গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে।
- আবার প্রাণী কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- কাজেই প্রাণীকে বাঁচতে হলে গাছপালাকে বাঁচাতে হবে।
- কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য সে দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার।
- বনে বিভিন্ন ধরনের পাখি, পশু, কীটপতঙ্গ থাকে।
- বনের মাধ্যমে একদিকে কাঠ ও জ্বালানির চাহিদা পূরণ হয় এবং অন্যদিকে পরিবেশ ভালো থাকে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৪৯.
আঙ্গুর (কিসমিস), খেজুর সাধারণত কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়?
  1. টিনজাত করে
  2. লবণের দ্রবণে সংরক্ষণ
  3. নির্জলীকরণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নির্জলীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্জলীকরণ
ব্যাখ্যা
শুকিয়ে ফল সংরক্ষণ: 
- কিছু কিছু ফল আছে যাদেরকে শুকিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
- আবহাওয়া শুষ্ক থাকলে ফল রোদে শুকানো যায়।
- তবে রোদে ফল শুকালে অনেক সময় তাতে ধুলাবালি লাগে, পশুপাখির উপদ্রব হয়।
- রোদে শুকানো ছাড়াও ওভেন বা ডিহাইড্রেটর যন্ত্রের সাহায্যে ফলকে শুকানো যায়।
- এই প্রক্রিয়াকে নির্জলীকরণ বা ডিহাইড্রেশন বলে।
- আঙ্গুর (কিসমিস), এপ্রিকট, কুল, খেজুর, ডুমুর, নাসপাতি ইত্যাদি ফল শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।
- ফল যদি রোদে শুকানো হয় তাহলে শুকানোর পূর্বে ২-৩ মিনিট ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করে নিতে হয়।
- এতে এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট হয় এবং বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে ফল রক্ষা পায়।
- মেশিনে শুকালে ফল সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই।
- শুকনো ফল এরপর বায়ুরোধী পাত্রে বা পলিথিন ব্যাগে ভরে সংরক্ষণ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
নিম্ন তাপমাত্রার কারণে ধানগাছে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না?
  1. চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়
  2. ধানগাছ হলদে বর্ণ ধারণ করে
  3. ধানের চারা দুর্বল হয়
  4. ফসলের জীবনকাল বেড়ে যায়
সঠিক উত্তর:
চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• ধান উৎপাদনে তাপমাত্রার প্রভাব:
- ধানের জন্য অসহ্য গরম তাপমাত্রা হলো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- ফুল ফোটার সময় ধানগাছ সবচেয়ে বেশি কাতর।
- এ সময় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হলে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়।
নিম্ন তাপমাত্রার কারণে-
- ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়,
- ধানগাছ হলদে বর্ণ ধারণ করে,
- ধানের চারা দুর্বল হয় এবং ফসলের জীবনকাল বেড়ে যায়।

• ফসল উৎপাদনে তাপমাত্রার প্রভাব:
- আমরা আগেই জেনেছি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- পাশাপাশি গ্রীষ্ম ও শীতকালে তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধির অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে।
- কখনো কখনো গ্রীষ্মকালে অতি উচ্চ তাপমাত্রা এবং শীতকালে অত্যাধিক শীত পড়তে দেখা যাচ্ছে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে উফশী ধানের ফলন কমে যাবে এবং গমে রোগের আক্রমণ বেড়ে যাবে।
- এখনকার চেয়ে দেশের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে গম চাষ সম্ভব হবে না।
- আলু ও অন্যান্য শীতকালীন ফসল উৎপাদনে ধস নামবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২৫১.
উদ্যান ফসলের বীজতলার জন্য প্রতিটি বেডের আকার কত হবে?
  1. ৩ মিটার × ১ মিটার
  2. ৩ মিটার × ১.৫ মিটার
  3. ৪ মিটার × ২ মিটার
  4. ৫ মিটার × ২.৫ মিটার
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার × ১ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার × ১ মিটার
ব্যাখ্যা
উদ্যান ফসলের বীজতলা: 
- নার্সারিতে উদ্যান ফসলের বীজ/চারা/স্ট্যাম্প বপন বা রোপণ করে মূল জমিতে রোপণের উপযোগী করে তোলা হয়।
- এর ফলে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় এবং অল্প জায়গায় সুষম পরিচর্যার মাধ্যমে বেশি চারা উৎপাদন করা হয়।

আদর্শ বীজতলার গঠন: (উদ্যান ফসল)
(১) নার্সারির বেড তৈরির জন্য সুনিষ্কাশিত উঁচু, আলো-বাতাসযুক্ত উর্বর জমি নির্বাচন করতে হবে,
(২) প্রতিটি বেডের আকার হবে ৩ মিটার × ১ মিটার এবং খুঁটি দিয়ে তা চিহ্নিত করতে হবে;
(৩) কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে বেড তৈরি করতে হবে;
(৪) প্রতিটি বেডে ২৫ কেজি গোবর বা কম্পোস্ট সার দিয়ে মাটির সাথে উত্তমরূপে মেশাতে হবে;
(৫) পাশাপাশি দুটি বেডের সাথে ৫০ সে.মি. নালা তৈরি করতে হবে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫২.
ধান গাছে ‘ডেডহার্ট’ দেখা যায় কোন পোকার আক্রমণে?
  1. মাজরা পোকা
  2. ধানের পাতা মোড়ানাে পোকা
  3. বাদামি ঘাস ফড়িং
  4. সবুজ পাতা ফড়িং
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
ব্যাখ্যা
ধান গাছে মাজরা পোকার আক্রমণ: 
লক্ষণ: 
১। মাজরা পোকার কীড়াগুলো কাণ্ডের ভেতরে থেকে খাওয়া শুরু করে এবং ধীরে ধীরে গাছের ডিগ পাতার গোড়া খেয়ে কেটে ফেলে। ফলে ডিগ পাতা মারা যায়। একে ‘মরা ডিগ’ বা ‘ডেডহার্ট’ বলে।
২। ক্ষতিগ্রস্ত গাছের কাণ্ডে মাজরা পোকা খাওয়ার দরুণ ছিদ্র এবং খাওয়ার জায়গায় পোকার মল দেখতে পাওয়া যায়।
৩। মাজরা পোকার কীড়াগুলো ডিম থেকে ফুটে বের হবার পর আস্তে আস্তে কাণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে।
৪। কীড়ার প্রথমাবস্থায় এক একটি ধানের গুছির মধ্যে অনেকগুলো করে গোলাপী ও কালোমাথা মাজরার কীড়া জড়ো হতে দেখা যায়। কিন্তু হলুদ মাজরা পোকার কীড়া ও পুত্তলীগুলো কাণ্ডের মধ্যে যে কোন জায়গায় পাওয়া যেতে পারে।

ব্যবস্থাপনা: 
১। নিয়মিতভাবে ক্ষেত পর্যবেক্ষণের সময় মাজরা পোকার মথ ও ডিম সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেললে মাজরা পোকার সংখ্যা ও ক্ষতি অনেক কমে যায়। থোর আসার পূর্ব পর্যন্ত হাতজাল দিয়ে মথ ধরে ধ্বংস করা যায়।
২। ক্ষেতের মধ্যে ডালপালা পুঁতে পোকা খেকো পাখির বসার সুযোগ করে দিলে এরা পূর্ণবয়স্ক মথ খেয়ে এদের সংখ্যা কমিয়ে ফেলে।
৩। ধান ক্ষেতে ২০০-৩০০ মিটার দূরে আলোক ফাঁদ বসিয়ে মাজরা পোকার মথ সংগ্রহ করে মেরে ফেলা যায়।
৪। অনুমোদিত কীটনাশক যেমন: ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি ৭৫ গ্রাম/হেক্টর হারে অথবা কার্বোফুরান গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ফুরাডান ৫ জি ১০ কেজি/হেক্টর হারে অথবা ডায়াজিনন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: সার্বিয়ন ৬০ ইসি ৩.৪ মিলি./ লি: প্রয়োগ করা।

উৎস: কৃষি বাতায়ন।
২৫৩.
জমিতে জৈব সার প্রয়োগের ফলে নিচের কোন সুবিধা পাওয়া যায়?
  1. মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি
  2. মাটির অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি
  3. মাটির সংযুতির উন্নতি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
জৈব সার: 
- যেসব সার জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায়, তাদেরকে জৈব সার বলে।
- যেমন- গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি।
- গাছের প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্য উপাদানই জৈব সারে থাকে।

জমিতে জৈব সার প্রয়োগের সুবিধা:
• জৈব সারে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদানই থাকে।
• মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
মাটির অণুজীবের কার্যাবলি বাড়ায়
মাটির সংযুতির উন্নতি ঘটায়
মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
• মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫৪.
পানির স্বচ্ছতা কতখানি হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়?
  1. ৫ সেন্টিমিটার বা তার কম
  2. ১৫ সেন্টিমিটার বা তার কম
  3. ২৫ সেন্টিমিটার বা তার কম
  4. ৩৫ সেন্টিমিটার বা তার কম
সঠিক উত্তর:
২৫ সেন্টিমিটার বা তার কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ সেন্টিমিটার বা তার কম
ব্যাখ্যা
পানির স্বচ্ছতা: 
- পানির স্বচ্ছতা ২৫ সেন্টিমিটার বা তার কম হলে পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হয়
- পানিতে কনুই পর্যন্ত হাত ডুবানোর পর যদি হাতের তালু দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে মাছের জন্য বেশি খাদ্য নেই।
- তখন পুকুরে সার দিতে হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫৫.
সুন্দরবন কোন ধরনের বনের অন্তর্গত?
  1. প্রাকৃতিক বন
  2. পাহাড়ি বন
  3. সামাজিক বন
  4. কৃত্রিম বন
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক বন
ব্যাখ্যা
- গাছপালায় ঢাকা বিস্তৃত এলাকাকে বন বলা হয়।
- বনে বড় বড় উদ্ভিদের সংখ্যা বেশি থাকে।
- এ ছাড়া মাঝারি গাছপালা ও লতা-গুল্মও বনে জন্মে থাকে।
- হরেক রকমের পশু-পাখি এবং কীটপতঙ্গ বনে বাস করে।
- এসব গাছপালা ও জীবজন্তু এক সাথে মিলেমিশে বনজ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- প্রকৃতিতে আপনা-আপনি যে বিস্তৃত বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়, তাকে প্রাকৃতিক বন বলে।
- শত শত বছর ধরে এ বনাঞ্চল গড়ে ওঠে।
- সুন্দরবন এরকম একটি প্রাকৃতিক বন।
- খুলনা শহরের দক্ষিণ অঞ্চলে এ বন অবস্থিত।
- উৎপত্তি অনুসারে বন প্রধানত তিন প্রকার, যথা- ক) প্রাকৃতিক বন খ) সামাজিক বন ও গ) কৃষি বন। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৫৬.
বীজ ফসলের জমিকে অবীজ ফসলের জমি থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার নাম -
  1. বীজ শোধন
  2. পৃথকীকরণ
  3. রগিং
  4. হেজিং
সঠিক উত্তর:
পৃথকীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথকীকরণ
ব্যাখ্যা
বীজ ফসলের পৃথকীকরণ:
- বীজ ফসলের জমিকে অবীজ ফসলের জমি থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার নামই পৃথকীকরণ।
- নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অনেক সময় সম্ভব হয় না।
- তাই বীজ ফসলের চারদিকে বর্ডার লাইন হিসেবে একই ফসলের অতিরিক্ত চাষ করতে হয়।
- এতে পর-পরাগায়নের সম্ভাবনা থাকে না।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৫৭.
নিচের কোনটি হ্যালোফাইটস?
  1. তুলা
  2. শিম
  3. কেওড়া
  4. সুগারবিট
সঠিক উত্তর:
কেওড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেওড়া
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততার প্রতি সাড়া প্রদানের উপর ভিত্তি করে ফসলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়;
ক) হ্যালোফাইটস- গোলপাতা, কেওড়া ও
খ) গ্লাইকোফাইটস- সুগারবিট, শিম, তুলা।
হ্যালোফাইটস জাতীয় উদ্ভিদ লবণাক্ত পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে সেখানেই জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে যা গ্লাইকোফাইটস পারে না।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২৫৮.
ইনকিউবেটর কেন ব্যবহার করা হয়?
  1. মুরগির ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা
  2. বাচ্চার ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা
  3. কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানো
  4. বাচ্চাকে খাবার খাওয়ানো
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানো
ব্যাখ্যা
ডিম ফোটানো পদ্ধতি:
- ডিম ফোটানোর দুই ধরনের পদ্ধতি রয়েছে।
- যেমন প্রাকৃতিক পদ্ধতি ও কৃত্রিম পদ্ধতি।
- প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হাঁস মুরগি দ্বারা ডিম ফোটানো হয়।
- গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়। এতে অর্থের বিনিয়োগ লাগে না।
- অন্যদিকে তুষ পদ্ধতি বা ইনকিউবেটর পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানোর মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫৯.
নিচের কোনটি ঔষধি গাছ?
  1. পাট
  2. ধনিয়া
  3. থানকুনি
  4. তুলা
সঠিক উত্তর:
থানকুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থানকুনি
ব্যাখ্যা
ঔষধি উদ্ভিদ ও এর ব্যবহার: 
- আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ অতি প্রাচীনকাল থেকে রোগব্যাধি উপশমে বিভিন্ন রকম উদ্ভিদ ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছে।
- ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয় বলে এসব উদ্ভিদকে ঔষধি বা ভেষজ উদ্ভিদ বলা হয়।
- থানকুনি একটি ঔষধি গাছ। 

থানকুনি:
- থানকুনি একটি ছোট লতানো বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।
- এর প্রতি পর্ব থেকে নিচে মূল এবং উপরে শাখা ও পাতা গজায়। পাতা সরল বৃক্কের মতো, একান্তর।
- ব্যবহার্য অংশ: সমস্ত উদ্ভিদ
- ব্যবহার: ছেলে মেয়েদের পেটের অসুখ, বিশেষ করে বদহজম ও আমাশয় রোগ নিরাময়ে থানকুনি খুব বেশি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া থানকুনি আয়ুবর্ধক, স্মৃতিবর্ধক, আমরক্ত নাশক, চর্মরোগনাশক।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬০.
প্রত্যায়িত ধান বীজ উৎপাদনের আইসোলেশন দূরত্ব কত মিটার?
  1. ১ মিটার
  2. ২ মিটার
  3. ৩ মিটার
  4. ৪ মিটার
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রত্যায়িত ধান বীজ উৎপাদনের আইসোলেশন:
- প্রত্যায়িত ধান বীজ উৎপাদনের জন্য আইসোলেশন দূরত্ব সাধারণত ৩ মিটার রাখা হয়।

⇒ বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজ নির্বাচন করা থেকে শুরু করে বীজ সংগ্রহ এবং সংগ্রহোত্তর সকল পর্যায়ে বিশেষ যত্ন এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
- অধিক জাত বৃদ্ধি পাওয়াতে কৃষকগণ পাশাপাশি জমিতে বহু সংখ্যক জাতের ধান আবাদ করেন, ফলে ক্রসিং ওভারের ফলে জাতগুলি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পারছে না।
- বীজের মানের সঙ্গে কৃষকের ভাগ্য জড়িত, সে কারণে বীজ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
- প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদনের জন্য আমাদেরকে যে বিষয়গুলি বিশেষভাবে অনুসরণ করতে হবে তা নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ

⇒ পৃথকীকরণ দুরত্ব অনুসরণ:
- এটি জাত ঠিক রাখার জন্য একটি জরুরী বিষয়।
- অধিক জাত বৃদ্ধি পাওয়াতে কৃষকগণ পাশাপাশি জমিতে বহু সংখ্যক জাতের ধান আবাদ করেছেন, ক্রসিং ওভারের ফলে জাতগুলি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পারছে না।
- তাই বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জাত এবং ফসল ভিত্তিক মাঠমান অনুযায়ী নির্ধারিত পৃথকীককরণ দূরত্ব মেনে চলতে হবে।
- প্রত্যায়িত ধান বীজ উৎপাদনের জন্য আইসোলেশন দূরত্ব সাধারণত ৩ মিটার রাখা হয়।




উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী।
২৬১.
খরা সহিষ্ণু গমের জাত কোনটি?
  1. প্রদীপ
  2. আকবর
  3. বর্ণালি
  4. শুভ্রা
সঠিক উত্তর:
প্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদীপ
ব্যাখ্যা
• খরা সহিষ্ণু গমের জাত:
- বারি গম ২০ (গৌরব) ও বারি গম ২৪ (প্রদীপ) দুইটি খরা সহিষ্ণু গমের জাত।
- এর মধ্যে বারি গম ২৪ এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
- বারি গম ২৪ (প্রদীপ) এ জাতটি মধ্যম খাটো, উচ্চ ফলনশীল এবং খরা সহিষ্ণু।
- এ জাতের পাতা চওড়া, বাঁকানো ও হালকা সবুজ রঙের।
- জাতটির জীবনকাল ১০২-১১০ দিন এবং ফলন ৪.৩-৫.১ টন/হেক্টর।

উল্লেখ্য,
• খরা সহিষ্ণু ধানের জাত:
ব্রি ধান ৫৬ ও ব্রিধান ৫৭ দুইটি খরা সহিষ্ণু ধানের জাত। এর মধ্যে ব্রি ধান ৫৭ এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা
হলো:
ব্রি ধান ৫৭:
এ জাতটিও রোপা আমন। গাছের উচ্চতা ১১০-১১৫ সেমি জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন। প্রজনন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮-১৪ দিন বৃষ্টি না হলেও ফলনের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। খরা কবলিত অবস্থায় জাতটি হেক্টরপ্রতি ৩.০-৩.৫ টন এবং খরা না হলে ৪.০-৪.৫ টন ফলন দিতে সক্ষম। ব্রি ধান ৫৬ ও ব্রি ধান ৫৭ এর জীবনকাল কম বলে এরা খরা সহ্যের পাশাপাশি খরা এড়াতেও পারে।
খরা সহিষ্ণু আখের জাত:
ঈশ্বরদী ৩৫: এ জাতটির ফলন ৯৪ টন/হেক্টর। আখের অন্যান্য খরা সহিষ্ণু জাতের মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী ৩৩, ঈশ্বরদী ৩৭, ঈশ্বরদী ৩৯ ও ঈশ্বরদী ৪০ ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
২৬২.
নিচের কোন তথ্যটি ডিস্ক প্লাউয়ের ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
  1. এটি আবর্জনাকে মাটির ওপরেই রাখে ফলে মাটির আর্দ্রতা রক্ষিত হয়
  2. আগাছা আক্রান্ত, শক্ত শিকড়যুক্ত জমিতে এ প্লাউ উপযোগী নয়
  3. অনাবাদী জমিতে গভীর চাষ দেয়ার জন্য এটি উপযোগী
  4. আঠালো, ভারী কর্দম মাটিতে এ প্লাউ ভাল কাজ করে
সঠিক উত্তর:
আগাছা আক্রান্ত, শক্ত শিকড়যুক্ত জমিতে এ প্লাউ উপযোগী নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগাছা আক্রান্ত, শক্ত শিকড়যুক্ত জমিতে এ প্লাউ উপযোগী নয়
ব্যাখ্যা
ডিস্ক প্লাউ:
১। যেখানে আবহাওয়া শুষ্ক এবং মাটি শক্ত ও কংকরময়।
২। আঠালো, ভারী কর্দম মাটি ও আলগা বেলে মাটিতেও ডিস্ক প্লাউ ভাল কাজ করে। এটি আবর্জনাকে মাটির ওপরেই রাখে ফলে মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষিত হয়।
৩। খুব বেশি আগাছা আক্রান্ত, শক্ত শিকড়যুক্ত জমিতে ডিস্ক প্লাউ প্রাধান্য পায়।
৪। অনাবাদী জমিকে আবাদের আওতায় আনার নিমিত্তে গভীর চাষ দেয়ার জন্য এ প্লাউ উপযুক্ত।

উৎস: ফার্ম মেশিনারিজ, কৃষি শিক্ষা ব্যাচেলর (B.Ag.Ed) প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
শাকসবজি ও ফল সংরক্ষণের সময় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে কীসের ভারসাম্য নষ্ট হয়?
  1. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. অক্সিজেন ও সালফার
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সংরক্ষণের সময় প্রতিকূল পরিবেশ:
(ক) তাপমাত্রা:
- উচ্চতাপমাত্রা শাক সবজি ও ফল পচনের জন্য দায়ী। 
- ফল ও শাকসবজির কোষ স্বাভাবিক থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- প্রতি ১০ সে. তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শ্বসনের মাত্রা প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। 
- ফলে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত ইথিলিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা শাকসবজি ও ফলে দ্রুত পচন ঘটায়।
- এমতাবস্থায় রোগজীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ বেড়ে যায় যা ফল ও শাকসবজিতে পচন ঘটায়।

(খ) আর্দ্রতা:
- আর্দ্রতা কমে গেলে (৮৩-৮৫% এর কম) ফল ও শাক সবজি অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

(গ) বায়ুচলাচল:
- শাকসবজি ও ফল যেখানে সংরক্ষণ করা হয় সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য নষ্ট হয়। 
- এতে ফল ও শাকসবজি দ্রুত পচে যায়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
SRI (System of Rice Intensification) পদ্ধতিতে ধান চাষের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করা হয়?
  1. প্লাবন সেচ
  2. ড্রিপ সেচ
  3. পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD)
  4. ফোয়ারা সেচ
সঠিক উত্তর:
পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD)
ব্যাখ্যা
SRI:
- SRI (System of Rice Intensification) হলো পানি সেচের মাধ্যমে ধান চাষের এমন একটি কৃষি পরিবেশিক পদ্ধতি যেখানে ফসল, মাটি, পানি এবং উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের ভিন্নতর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধানের ফসল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
- SRI পদ্ধতিতে চাষ করার কৌশল সর্বপ্রথম ১৯৮০ সালের দিকে মাদাগাস্কারে উদ্ভাবিত হয়।
- এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, রোপন, সেচ, সার, কীটনাশক কম লাগে।
- কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা করতে হয় এবং ফলন বেশি হয়।

SRI পদ্ধতিতে ধান চাষের মূলনীতি/বৈশিষ্ট্য:
১. এ পদ্ধতিতে ধান চাষের ক্ষেত্রে ৮-১২ দিন বয়সের চারা একটি করে রোপন করতে হয়।
২. বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে চারা ভেঙ্গে না যায়; চারা তোলার পর পরই রোপন করতে হবে।
৩. চারা বর্গাকারে ২৫-৪০ সে.মি দূরত্বে লাগাতে হবে; অর্থাৎ সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব সমান। বর্গাকারে লাগানো গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাবে এবং আগাছা দমন সহজ হবে।
৪. জমিতে পর্যাপ্ত পরিমানে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে এবং যদি প্রয়োজন হয় তবে রাসায়নিক সারও প্রয়োগ করতে হবে।
৫. মাটি পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD) পদ্ধতিতে সেচ দিতে হবে। এতে মূলের বৃদ্ধি ভালো হবে ও মাটির অনুজীবের কার্যাবলী বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও মিথেন গ্যাস উৎপাদন কম হবে।
৬. ধানের থোড় অবস্থা থেকে ফসল পাকার ১৫ দিন আগ পর্যন্ত ধানের জমিতে ১-২ সে.মি. এর একটি পানির স্তর রাখতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৫.
উদ্যান ফসলের আদর্শ বীজতলার প্রতিটি বেডের আকার কত?
  1. ৩ মিটার × ১ মিটার
  2. ৩ মিটার × ১.৫ মিটার
  3. ৫ মিটার × ১ মিটার
  4. ৫ মিটার × ২ মিটার
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার × ১ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার × ১ মিটার
ব্যাখ্যা
উদ্যান ফসলের বীজতলা: 
- নার্সারিতে উদ্যান ফসলের বীজ/চারা/স্ট্যাম্প বপন বা রোপণ করে মূল জমিতে রোপণের উপযোগী করে তোলা হয়।
- এর ফলে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় এবং অল্প জায়গায় সুষম পরিচর্যার মাধ্যমে বেশি চারা উৎপাদন করা হয়।
- আদর্শ বীজতলার গঠন: (উদ্যান ফসল)
(১) নার্সারির বেড তৈরির জন্য সুনিষ্কাশিত উঁচু, আলো-বাতাসযুক্ত উর্বর জমি নির্বাচন করতে হবে,
(২) প্রতিটি বেডের আকার হবে ৩ মিটার × ১ মিটার এবং খুঁটি দিয়ে তা চিহ্নিত করতে হবে;
(৩) কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে বেড তৈরি করতে হবে;

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬৬.
অঙ্গজ চারার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বংশবিস্তার করা সম্ভব নয়
  2. মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে
  3. বীজ ছাড়া অঙ্গজ চারা তৈরি হয় না
  4. দেরিতে ফল আসে
সঠিক উত্তর:
মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে
ব্যাখ্যা
অঙ্গজ চারা উৎপাদন:
- প্রায় সব গাছই বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- তবে বীজ ছাড়াও গাছের বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে চারা উৎপাদন এবং বংশবিস্তার করা সম্ভব।
- অঙ্গজ চারার ব্যবহার কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে এবং এ থেকে কৃষকেরা অনেক লাভবান হচ্ছেন।
- অঙ্গজ চারার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এ থেকে জন্মানো গাছে মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
- চারা গাছ থেকে তাড়াতাড়ি ফল পেতে হলে অঙ্গজ চারা উৎপাদন পদ্ধতির জুড়ি নেই।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬৭.
কাঙ্ক্ষিত ফসলের বীজের সাথে অন্য ফসলের বীজ, আগাছার বীজ, কাঁকর জাতীয় পদার্থ প্রভৃতি মিশ্রিত থাকলে কোনটি নষ্ট হয়?
  1. বীজ বিশুদ্ধতা
  2. জাত বিশুদ্ধতা
  3. গজানোর ক্ষমতা
  4. বীজের জীবনীশক্তি
সঠিক উত্তর:
বীজ বিশুদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ বিশুদ্ধতা
ব্যাখ্যা
১. বীজ বিশুদ্ধতা:
- কাঙ্ক্ষিত ফসলের বীজের সাথে যেন অন্য ফসলের বীজ, আগাছার বীজ, কাঁকর জাতীয় পদার্থ প্রভৃতি মিশ্রিত না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে বীজের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে না।

২. জাত বিশুদ্ধতা:
- কোনো বীজের নমুনায় একই ফসলের অন্য জাতের বীজ থাকলে বীজের জাত বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়।
- যেমন: নাইজারশাইল ধানের বীজের সাথে বিনাশাইল ধানের মিশ্রণ থাকলে জাত বিশুদ্ধতা থাকে না।
- নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করলে জাত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৬৮.
অতিরিক্ত পানি ফসলের ক্ষেতে জমে থাকলে কী ক্ষতি হয়?
  1. পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা কমে যায়
  2. উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়
  3. শিকড় এলাকায় বায়ু চলাচলের বিঘ্ন ঘটে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
অতিরিক্ত পানির ক্ষতিকর দিক: 
অতিরিক্ত পানি ফসলের ক্ষেতে জমে থাকলে কী কী ক্ষতি হয় তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. মাটিতে ফসলের শিকড় এলাকায় বায়ু চলাচলের বিঘ্ন ঘটে। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শিকড় তথা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২. দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার ফলে মাটির বন্ধ পরিসর পানি পূর্ণ হয়ে পড়ে এতে অক্সিজেন শূন্য হয়ে ফসলের শিকড় পঁচে গাছ মারা যায়।
৩. উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। অন্যদিকে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের সংখ্যা ও সংক্রমণ বাড়ে।
৪. কোনো কোনো পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা কমে যায়

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৬৯.
বেগুনের ফোমোপসিস ব্লাইট রোগ কীসের আক্রমণে হয়?
  1. নেমাটোড
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. পোকা
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
বেগুনের ফোমোপসিস ব্লাইট রোগ: 
- ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়।
- এতে ছোট চারা গাছের গোড়ায়, কান্ডে গাঢ় বাদামি ক্ষত দেখা যায় ও গাছ বড় হলে ফলের গায়ে হালকা বাদামি ক্ষত দেখা দেয় এবং ফল পঁচে যায় ।

ব্যবস্থাপনা:
১। স্প্রিংলার সেচ বা গাছের উপর দিয়ে সেচের পরিবর্তে ক্ষেতে নালা করে সেচ দেয়া।
২। আক্রান্ত ফল,পাতা ও ডগা অপসারণ করা।
৩। প্রপিকোনাজলগ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করা।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৭০.
রুই মাছ জলাশয়ের কোন স্তরের খাবার খায়?
  1. উপরের স্তরের
  2. মধ্য স্তরের
  3. নিচের স্তরের
  4. সবগুলো স্তরের
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্তরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্তরের
ব্যাখ্যা
মাছের মিশ্র চাষের সুবিধা: 
- যেসব প্রজাতির মাছ রাক্ষুসে স্বভাবের নয়, খাদ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা করে না, জলাশয়ের বিভিন্ন স্তরে বাস করে এবং বিভিন্ন স্তরের খাবার গ্রহণ করে- এসব গুণের কয়েক প্রজাতির মাছ একই পুকুরে একত্রে চাষ করাকেই মিশ্র চাষ বলে।
- মিশ্র চাষ করার জন্য কার্প বা বুই জাতীয় মাছ বেশি উপযোগী, যেমন সিলভার কার্প, বুই, কাতলা, কার্পিও ইত্যাদি।
- আমাদের দেশি কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে বুই, কাতলা ও মৃগেল অন্যতম।
- এরা পুকুরে মিশ্র চাষের জন্য খুবই উপযোগী। 
- এরা জলাশয়ের বিভিন্ন স্তরের খাবার খায় যেমন- কাতলা পুকুরের উপরের স্তরে, রুই মধ্য স্তরে ও মৃগেল নিচের স্তরের খাবার খায়।
- এরা রাক্ষুসে স্বভাবের নয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭১.
কোনটি পাটের কাণ্ড পচা রোগের লক্ষণ?
  1. কাণ্ডে কালো বেষ্টনীর মতো দাগ থাকে
  2. কাণ্ডে গাঢ় বাদামি দাগ হয়
  3. আক্রান্ত স্থান ফেটে যায়
  4. কাণ্ডে কালচে দাগ হয়
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডে গাঢ় বাদামি দাগ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডে গাঢ় বাদামি দাগ হয়
ব্যাখ্যা
কাণ্ড পচা রোগ: 
- পাতা ও কাণ্ডে গাঢ় বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয়।
- এ দাগ গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত যে কোনো অংশে দেখা দিতে পারে।
- দাগগুলোতে অসংখ্য কালো বিন্দু দেখা যায়।
- এ কালো বিন্দুগুলোতে ছত্রাক জীবাণু থাকে।
- কখনো কখনো আক্রান্ত স্থানে গোটা গাছই ভেঙে পড়ে।
- কেনাফ ও মেস্তা পাটে এ রোগ দেখা দিতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭২.
মৃত্তিকা সৃষ্টিকারী প্রথম ও প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. সূর্যতাপ
  2. উৎস শিলা
  3. খনিজ পদার্থ
  4. উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ
সঠিক উত্তর:
উৎস শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎস শিলা
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকা সৃষ্টি: 
- পৃথিবীর বুকে মৃত্তিকা সৃষ্টি এক অনন্য রহস্য।
- বিজ্ঞানীদের মতে, সৃষ্টির শুরুতে পৃথিবী উত্তপ্ত গলিত পদার্থে পূর্ণ ছিল।
- ক্রমান্বয়ে তা ঠান্ডা হয়ে কঠিন শিলা বা প্রস্তর খন্ড সৃষ্টি হয়।
- লক্ষ লক্ষ বৎসর ধরে তাপমাত্রা, শৈত্য, বায়ুপ্রবাহ, অন্যান্য ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ঐ সমস্ত শিলাখন্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।
- এসব চূর্ণ-বিচূর্ণ পদার্থই মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রথম ও প্রধান উপাদান।
- মৃত্তিকা সৃষ্টিকারী এসব পদার্থকে উৎস বস্তু (Parent material) বা উৎস শিলা (Parent rock) বলা হয়।

উৎস: SOIL SCEINCE, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৩.
টমেটোর হলুদ পাতা কুঁকড়ানো রোগ কীভাবে বিস্তার লাভ করে?
  1. বাতাসের মাধ্যমে
  2. পানির মাধ্যমে
  3. পোকার মাধ্যমে
  4. ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
পোকার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
টমেটোর হলুদ পাতা কুঁকড়ানো রোগ:
- ভাইরাসজনিত এ রোগে পাতা কিনারা থেকে মধ্যশিরার দিকে গুটিয়ে যায়।
- পাতা খসখসে হয়ে শিরাগুলো স্বচ্ছ হলুদ হয়ে কুঁকড়িয়ে যায়।
- আক্রান্ত গাছের ডগায় ছোট ছোট পাতা গুচ্ছ আকার ধারণ করে।
- এ রোগ দমনের জন্য টমেটো ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখতে হবে, রোগমুক্ত চারা লাগাতে হবে, আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
- সাদা মাছি পোকা এ রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটায়।
- মাছি পোকা দমনের জন্য ৭-১০ দিন পর পর এডমায়ার নামক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭৪.
Phytophthora infestans এর কারণে আলুর কোন রোগ হয়?
  1. আগাম ধ্বসা রোগ
  2. পাতা কুঁকড়ানো রোগ
  3. নাবী ধ্বসা রোগ
  4. দাদ রোগ
সঠিক উত্তর:
নাবী ধ্বসা রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাবী ধ্বসা রোগ
ব্যাখ্যা
আলুর নাবী ধ্বসা রোগ (Late Blight of Potato):
- গাছের পাতা, কান্ড, ফুল ইত্যাদি শুকিয়ে যাওয়াকে বলা হয় ধ্বসা রোগ (Blight)।
- আলু গাছে দু'ধরনের ব্লাইট দেখা যায়। যথা- (ক) নাবী ধ্বসা রোগ এবং (খ) আগাম ধ্বসা রোগ।
- বিলম্বিত ধ্বসা রোগের জন্য অনেক সময় ক্ষেতের সমস্ত ফসলই নষ্ট হয়।
- তাই একে অনেক সময় মড়ক রোগও বলা হয়।
- ১৮৪৫ সালে আয়ারল্যান্ডে এ রোগ মারাত্মকভাবে দেখা দেয়ায় সে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়।
- সাধারণত বপনের প্রায় দু'মাস পর এ রোগের আবির্ভাব হয় বলে এ রোগকে বিলম্বিত ধ্বসা রোগ বলা হয়।
- Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের কারণে আলুর নাবী ধ্বসা রোগের সৃষ্টি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৫.
রিপটিং বলতে কী বোঝায়?
  1. চারাগাছ অন্য কোথাও রোপণের উদ্দেশ্যে পট থেকে খুলে নেওয়া
  2. চারা বা গাছকে একটি পটে স্থাপন
  3. চারাগাছকে এক পট থেকে খুলে একই পটে স্থাপন
  4. চারাগাছকে এক পট থেকে খুলে অপর পটে স্থাপন
সঠিক উত্তর:
চারাগাছকে এক পট থেকে খুলে অপর পটে স্থাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারাগাছকে এক পট থেকে খুলে অপর পটে স্থাপন
ব্যাখ্যা
পটিং:
চারা বা গাছকে একটি পটে স্থাপন হচ্ছে পটিং।

ডিপটিং:
পটে-জন্মানো চারা কিংবা গাছ অন্য কোথাও রোপণের উদ্দেশ্যে পট থেকে খুলে নেওয়ার পদ্ধতি ডিপটিং বলে অভিহিত হয়। পট না ভেংগে এবং চারার গোড়ার সম্পর্ণ মাটি অবিকৃত অবস্থায় রেখে এই কাজটি করা হয়।

রিপটিং:

রিপটিং (Repotting) কোন চারা বা গাছকে এক পট থেকে খুলে অপর পটে স্থাপন বা রোপণ করাকে রিপটিং বলা হয়।
কোন কোন ফুলের চারার বেলায় চারাকে এক পট থেকে অপর পটে স্থানান্তরিত করে তার পুষ্পোৎপাদন-ক্ষমতা বাড়ানো হয়। এর একটি উদাহরণ চন্দ্রমল্লিকা।



উৎস: CULTIVATION OF ORNAMENTAL PLANTS, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
কোন পোকার আক্রমণে শীষ বের হবার পূর্বে হলে 'ডেডহার্ট' এবং শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' লক্ষণ প্রকাশ পায়?
  1. পামরি পোকা
  2. মাজরা পোকা
  3. গলমাছি
  4. বাদামি গাছ ফড়িং
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
ব্যাখ্যা
• মাজরা পোকা (Stem borer):

• ক্ষতির লক্ষণ:
- মাজরা পোকার মথ ধানের পাতায় ডিম পাড়ে।
- ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে কান্ড ছিদ্র করে ভিতরে ঢুকে কান্ডের নীচের দিকে কেটে দেয়।
- আক্রমন শীষ বের হবার পূর্বে হলে 'ডেডহার্ট' এবং শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' লক্ষণ প্রকাশ করে।

• দমন ব্যবস্থা:
১) ডিমের গাদা সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলা।
২) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে মথ সংগ্রহ করে মেরে ফেলা।
৩) জমিতে ডালপালা পুঁতে পাখি বসবার ব্যবস্থা করা।
৪) জমিতে ১০-১৫% মরা ডগা অথবা শতকরা ৫% সাদা শীষ দেখা গেলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
৫) মাজরা পোকা প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-১০, বিআর-১১, বিআর-২২, ব্রিশাইল ইত্যাদি চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
ঘাসের পুষ্টিমানের কোন পরিবর্তন না করে পচনশীল সবুজ ঘাস প্রাথমিক অবস্থার মতো করে সংরক্ষণ করাকে কী বলে?
  1. হে
  2. সাইলেজ
  3. প্যালেট
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাইলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইলেজ
ব্যাখ্যা
সাইলেজ:
- ঘাসের পুষ্টিমানের কোন পরিবর্তন না করে পচনশীল সবুজ ঘাস প্রাথমিক অবস্থার মতো করে সংরক্ষণ করাকে সাইলেজ বলে।
- যে মৌসুমে সবুজ ঘাসের অভাব হয়, সে মৌসুমে এই সাইলেজ ব্যবহার করে গো-খাদ্যের অভাব অনেকাংশেই পূরণ করা যায়।
- সাইলেজে সবুজ ঘাসের মান অক্ষুন্ন থাকে বলে এটি খাওয়ালে গরুর মাংস ও দুধ উৎপাদন ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৭৮.
উদ্ভিদের কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলতে বোঝায় -
  1. সর্বোত্তম তাপমাত্রা
  2. সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
  3. সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
তাপমাত্রা:
- বেঁচে থাকার জন্য সকল উদ্ভিদে একটি সর্বনিম্ন, সর্বোত্তম এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে, একে কার্ডিনাল তাপমাত্রা বলে।
- কার্ডিনাল তাপমাত্রা উদ্ভিদের প্রজাতি ও জাত ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়।
- কোনো স্থানের ফসলের বিস্তৃতি কার্ডিনাল তাপমাত্রা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- তাপমাত্রার চাহিদা অনুযায়ী আবাদযোগ্য ফসলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- ঠান্ডা ঋতুর ফসল ও উষ্ণ ঋতুর ফসল।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৭৯.
নিচের কোনটি নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণের মতবাদ?
  1. মাস ফ্লো মতবাদ
  2. আয়ন বাহক মতবাদ
  3. অভিস্রবণ মতবাদ
  4. শ্বসন মতবাদ
সঠিক উত্তর:
মাস ফ্লো মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস ফ্লো মতবাদ
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণ:
- এ শোষণ প্রক্রিয়ায় কোন বিপাকীয় শক্তি বা ATP এর প্রয়োজন হয় না বলে একে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ বলা হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের খনিজ লবণ শোষণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ঘটে।
- এক্ষেত্রে মাটির দ্রবণে আয়নের ঘনত্ব মূলরোমের কোষের দ্রবণে আয়নের ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি থাকে।
- মাটির দ্রবণ এবং মূলরোমের কোষের দ্রবণের ঘনত্বের এ অসমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ উদ্ভিদ কোষে প্রবেশ করে।
- দ্রবণ দুটির ঘনত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত সমান না হয় ততক্ষণ এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- এতে শ্বসনের হার স্বাভাবিক থাকে।
- নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণের মতবাদগুলো হলো-
(ক) ব্যাপন মতবাদ,
(খ) আয়ন বিনিময় মতবাদ,
(গ) মাস ফ্লো মতবাদ
এবং
(ঘ) ডোন্যান ইকুইলিব্রিয়াম মতবাদ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮০.
BWMRI কী নিয়ে গবেষণা করে থাকে?
  1. গম
  2. ভুট্টা
  3. আখ
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
BWMRI:
- BWMRI এর পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
২৮১.
ধান, গম বীজ সংরক্ষণের জন্য আর্দ্রতার মাত্রা কত?
  1. ৫-৬%
  2. ১০-১২%
  3. ১৫-২০%
  4. ১৬-২২%
সঠিক উত্তর:
১০-১২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০-১২%
ব্যাখ্যা
বীজ সংরক্ষণে আর্দ্রতার মান: 
- প্রত্যেক ফসলের জন্য বীজ শুকানোর আলাদা মান থাকতে পারে।
- অর্থাৎ বীজের আর্দ্রতার নির্দিষ্ট নিরাপদ মাত্রা রয়েছে।
- ধান, গম বীজের জন্য এই আর্দ্রতার মাত্রা ১০-১২% । 
- বীজ খুব বেশি শুকালে ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে এবং বীজের ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে।
- আবার বীজ নিরাপদ আর্দ্রতার মাত্রার কম শুকালে সহজেই জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং পোকার আক্রমণ ঘটতে পারে।
- তাছাড়া অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শ্বসন দ্রুত হওয়ায় দ্রুত বীজের সজীবতা (viability) ও সতেজতা (vigour) কমে যেতে পারে এবং গুদামে সংরক্ষণ অবস্থায় বীজ অঙ্কুরিত হয়ে যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮২.
শীতকালীন সবজি নয় কোনটি?
  1. ফুলকপি
  2. চিচিঙ্গা
  3. মুলা
  4. বাঁধাকপি
সঠিক উত্তর:
চিচিঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিচিঙ্গা
ব্যাখ্যা
সবজি ও শাক:
- এ দেশে সকল ঋতুতে রকমারি সবজি উৎপাদিত হয়।
- বিশেষ করে শীতকাল বা রবি মৌসুমে সবজির বৈচিত্র্য অনেক বেশি।
- শাকের বৈচিত্র্যও এ দেশে কম নয়।
- শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গোলআলু, ব্রোকলি, লাউ, ওলকপি, মুলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজির মধ্যে চালকুমড়া, পটোল, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, মুখিকচু অন্যতম।
- শাকের মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পুঁইশাক, পালংশাক, পাটশাক, কলমিশাক ইত্যাদি।
- আবার পেঁপে, কাঁচাকলা, বেগুন, লালশাক ইত্যাদি শাকসবজি সারা বছর ধরে চাষ করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৩.
কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ রগিং করা ভালো?
  1. ফুল আসার আগে
  2. ফুল আসার পরে
  3. ফসল তোলার পর
  4. চারা লাগানোর পর
সঠিক উত্তর:
ফুল আসার আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল আসার আগে
ব্যাখ্যা
রগিং:
- বীজের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য রগিং একটি জরুরি কাজ।
- রগিং অর্থ হচ্ছে আকাঙ্ক্ষিত বীজের গাছ ছাড়া আগাছাসহ অন্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ জমি থেকে শিকড়সহ তুলে ফেলা।
- ফুল আসার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ রগিং করা ভালো।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৪.
ধান, গম বীজ শুকানোর জন্য আর্দ্রতার নির্দিষ্ট নিরাপদ মাত্রা কত?
  1. ৫-৮%
  2. ১০-১২%
  3. ১৫-২০%
  4. ১৮-২২%
সঠিক উত্তর:
১০-১২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০-১২%
ব্যাখ্যা
বীজের আর্দ্রতা: 
- প্রত্যেক ফসলের জন্য বীজ শুকানোর আলাদা মান থাকতে পারে।
- অর্থাৎ বীজের আর্দ্রতার নির্দিষ্ট নিরাপদ মাত্রা রয়েছে।
- ধান, গম বীজের জন্য এই আর্দ্রতার মাত্রা ১০-১২%, বীজ খুব বেশি শুকালে ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে এবং বীজের ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে।
- বীজ নিরাপদ আর্দ্রতার মাত্রার কম শুকালে সহজেই জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং পোকার আক্রমণ ঘটতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৫.
ঘাসে কোনটি বেশি থাকলে সাইলেজের জন্য ভালো?
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. ফ্যাট
  4. অ্যামিনো এসিড
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
সাইলেজ: 
- যেসব ঘাসে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, সেসব ঘাস সাইলেজের জন্য ভালো।
- কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ বা সাইলেজের জন্য উন্নত জাতের কাঁচা ঘাস যেমন: প্যারা, নেপিয়ার, জার্মান, গিনি, ভুট্টা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
- তবে ভুট্টার সাইলেজ অনেক ভালো।
- কাঁচা ধানের খড় ও কাঁচা ঘাস ১:৫ অনুপাতে মিশিয়ে সাইলেজ তৈরি করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৬.
ধান ক্ষেতে মাছ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাছ কোনগুলো?
  1. শিং, মাগুর
  2. কমন কার্প, গ্রাস কার্প
  3. সরপুটি, কমন কার্প
  4. রুই, কাতলা
সঠিক উত্তর:
সরপুটি, কমন কার্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরপুটি, কমন কার্প
ব্যাখ্যা
ধান ক্ষেতে মাছ চাষের জন্য উপযোগী মাছ: 
- ধান ক্ষেতে মাছ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো সর পুঁটি, কমনকার্প মাছ।
- ধান ক্ষেতে এসব জাতের মাছের একক বা মিশ্র চাষ করা যায়।
- একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকের জমিতে উল্লিখিত জাতের মাছগুলোর মজুদ ঘনত্ব হলো সরপুটি ২০-২৫ টি এবং কমন কার্প ১০-১৫ টি।
- মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকের জমিতে উল্লিখিত জাতের মাছগুলোর মজুদ হলো সরপুটি ১২টি+কমন কার্প ৮টি = মোট ২০টি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৭.
উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুযায়ী নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বককে কী বলে?
  1. পুংদন্ড
  2. পুংকেশর
  3. বীজ
  4. গর্ভাশয়
সঠিক উত্তর:
বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ
ব্যাখ্যা
ভালো উন্নত বীজ নির্বাচন: 
- বীজ একটি মৌলিক কৃষি উপকরণ।
- বীজের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশ বিস্তার ঘটে।
- উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুযায়ী নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বককে বীজ বলে
- আমরা জানি উদ্ভিদের অন্যান্য অঙ্গ ব্যবহার করেও বংশ বিস্তার সম্ভব।
- কৃষিতত্ত্ব এগুলোকেও বীজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- কৃষিবিদগণ এগুলোকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বলেন আর নিষিক্ত পরিপক্ক ডিম্বককে বলা হয় সত্যিকার বীজ (true seed) বা উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ (sexual seed)।
- বীজের মাধ্যমে উদ্ভিদের জাতের গুণাগুণ পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।
- অঙ্গজ প্রজননে মাতৃ উদ্ভিদের অর্থাৎ যে উদ্ভিদের অঙ্গ ব্যবহার করা হলো তার গুণাগুণ পরবর্তী বংশধরে প্রকাশ ঘটতে পারে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৮.
নজল, ট্রিগার কোন কৃষিযন্ত্রের অংশ?
  1. মোল্ডবোর্ড লাঙ্গল
  2. পেডেল থ্রেসার
  3. ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার
  4. বারি পাম্প
সঠিক উত্তর:
ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার
ব্যাখ্যা
ঔষধ ছিটানো যন্ত্র: ন্যাপস্যাক স্প্রেয়ার
- স্প্রেয়ার ফসলের রোগ ও পোকা দমনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- এতে পানি মিশ্রিত ঔষধ ভর্তি করে ট্রিগারের সাহায্যে নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিটানো হয়।
- স্প্রেয়ারের প্রধান প্রধান অংশ হচ্ছে
(১) নজল
(২) ট্রিগার
(৩) পাম্প করার বাল্ব, 
(৪) ব্যারেল, 
(৫) ঔষধ ছিটানোর নল।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৮৯.
নিচের কোনটি মাটির ভৌত গুণাগুণ এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব
  2. অণুজীবের কার্যাবলি
  3. মাটির লবণাক্ততা
  4. মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
মাটির গুণাগুণ:
- ফসল উৎপাদনে মাটির গুণাগুণ প্রভাব বিস্তার করে।
- কোন মাটিতে কোন ধরনের ফসল উৎপাদন করা যাবে তা মাটির গুণাগুণের উপর নির্ভর করে।
- মাটির সকল গুণাবলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) ভৌত গুণাগুণ,
(খ) রাসায়নিক গুণাগুণ ও
(গ) জৈবিক গুণাগুণ।

(ক) মাটির ভৌত গুণাগুণ: মাটির ভৌত গুণাগুণ বলতে ১) মাটির বুনট ২) মাটির সংযুতি ৩) মাটির ঘনত্ব ৪) মাটির বর্ণ ৫) মাটির তাপমাত্রা ৬) মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ৭) মাটির বায়ু চলাচল ইত্যাদিকে বোঝায়।

(খ) মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ: মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ বলতে ১) মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব ২) উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ৩) মাটির লবণাক্ততা ইত্যাদিকে বোঝায়।

(গ) মাটির জৈবিক গুণাগুণ: মাটির জৈবিক গুণাগুণ বলতে ১) অণুজীবের প্রকার ২) অণুজীবের সংখ্যা ৩) অণুজীবের কার্যাবলি ইত্যাদিকে বোঝায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯০.
নিচের কোন কাজ ডিস্ক হ্যারো দিয়ে করা যায়?
  1. কর্ষিত জমির উপরিভাগ সমতল করা
  2. মাটি ভাঙ্গা ও গুড়া করা
  3. আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
ডিস্ক হ্যারো:
- ডিস্ক হ্যারো সাধারণত মাটি ভাঙ্গা, গুড়া করা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ করাকর্ষিত জমির উপরিভাগ মোটামুটি সমতল করে বীজ বপনের উপযুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্ষনযন্ত্র তবে কোন কোন নরম মাটিতে প্রাথমিক কর্ষনযন্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- এটিতে একটি শ্যাফটে অনেকগুলো ডিস্ক লাগানো থাকে।
- ডিস্কগুলোসহ একেকটি শ্যাফ্টকে গ্যাং বলে।
- একটি ডিস্ক হ্যারোতে এক বা একাধিক গ্যাং থাকতে পারে।

ডিস্ক হ্যারো বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন-
ক) সিঙ্গেল এক্টিং
খ) টেনডেম
গ) অফসেট

উৎস: ফার্ম মেশিনারিজ, কৃষি শিক্ষা ব্যাচেলর (B.Ag.Ed) প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯১.
বাংলাদেশের কৃষির প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তি প্রধানত -
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
কৃষির প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তি:
- বাংলাদেশের কৃষির প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তি প্রধানত: তিন প্রকার-জমি, জল ও জলবায়ু।
- কৃষি উৎপাদন যেহেতু প্রধানত: একটি প্রাকৃতিক জীবন প্রক্রিয়া সেজন্য এর গতি প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তির উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

⇒ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের কারণে আবাদযোগ্য মোট জমি ক্রমশ: কমবে, বাড়বে না।
- ফলে বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মিটানোর জন্য একই জমিতে ক্রমাগত অধিকতর খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
- এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে জলসেচের দ্বারা এক ফসলী জমিকে দুই ফসলী এবং দুই ফসলী জমিকে তিন ফসলী জমিতে রূপান্তরিত করা।

⇒ সাধারণভাবে বাংলাদেশের জলসম্পদের অভাব নেই।
- বস্তুত: বাংলাদেশকে বলাই হয় নীদমাতৃক বাংলাদেশ।
- কিন্তু লক্ষ্যণীয় যে, মৌসুম ভেদে এই জলসম্পদের ভূমিকা বদলে যায়।
- বর্ষা মৌসুমে জলসম্পদের আধিক্য বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি করে এবং শুল্ক মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় সহজলভ্য পানির অভাব দেখা যায়।
- তবে ভূগর্ভের পানি ঠিকমত ব্যবহার করলে এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও বাংলাদেশের শতকরা আশি ভাগ আবাদী জমিকে জলসেচের অধীনে আনা সম্ভব।

⇒ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপের কারণে বাংলাদেশে নানারকম পরিবেশগত দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে।
- এর মধ্যে কৃষি সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া বা পরিবেশ দূষণগুলো হচ্ছে-জমির উর্বরতা হ্রাস, পানির দূষণ, বন-উজাড়, পশুখাদ্যের অভাব মাছের অভাব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের অর্থনীতি, এস.এস.এইচ.এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯২.
নারিকেল গাছের সাদা মাছির নতুন প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. প্যারালেইরোডেস বোন্দারি
  2. আলিউরিডিকাস রুজিওপারকিউলেটাস
  3. মাইজাস পারসিসি
  4. এগ্রোটিস ইপসিলন
সঠিক উত্তর:
প্যারালেইরোডেস বোন্দারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারালেইরোডেস বোন্দারি
ব্যাখ্যা
বোন্দার নেস্টিং সাদা মাছি: 
- নারিকেল গাছে সাদা মাছির আরও একটি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।
- গবেষণা দলের সদস্যরা সাদা মাছির নানা প্রজাতি শনাক্তে সম্প্রতি যশোর, খুলনা ও বাগেরহাট গেলে সেখানে নতুন প্রজাতির উপস্থিতি লক্ষ করেন।
- পরে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর নতুন এই প্রজাতি শনাক্ত করা হয় (২০২৪ সালে)।
- তবে সাদা মাছির নতুন এই প্রজাতি নারিকেল শিল্পের জন্য হুমকি হতে পারে বলে মনে করছে গবেষক দল।
- নতুন প্রজাতির সাদা মাছির বৈজ্ঞানিক নাম প্যারালেইরোডেস বোন্দারি। যাকে বাংলায় বলা হয় বোন্দার নেস্টিং সাদা মাছি।
- ২০১৮ সালে এটি ভারতের কেরালায় এবং ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পোকাটি শ্রীলঙ্কায় শনাক্ত করা হয়।

রুগোস স্পাইরালিং হোয়াইটফ্লাই: 
- রুগোস স্পাইরালিং হোয়াইটফ্লাই (বৈজ্ঞানিক নাম-আলিউরিডিকাস রুজিওপারকিউলেটাস) যা নারিকেলের সাদা মাছি নামে পরিচিত।
- এটি একটি বিদেশি পোকা। পোকাটি দেশের নারিকেল শিল্পে একরকম বিপর্যয় ঘটিয়েছে।
- নারিকেল চাষিদের জন্য সর্বনাশকারী এই সাদা মাছি।
- ২০১৯ সালে বারির কীটতত্ত্ববিদরা দেশে এর উপস্থিতি শনাক্ত করেন।

উৎস: কালবেলা (২৭ ডিসেম্বর ২০২৪)
২৯৩.
উদ্ভিদ প্রজন্ম বিজ্ঞানীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বংশগত গুণাগুণ সম্পন্ন যে বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে কী বলে?
  1. মৌল বীজ
  2. ভিত্তি বীজ
  3. প্রত্যয়িত বীজ
  4. সত্যায়িত বীজ
সঠিক উত্তর:
মৌল বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌল বীজ
ব্যাখ্যা
মৌল বীজ:
- উদ্ভিদ প্রজন্ম বিজ্ঞানীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বংশগত গুণাগুণ সম্পন্ন যে বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে মৌল বীজ বলে।
- মৌল বীজ সাধারণত কম পরিমাণে উৎপাদন করা হয়।
- এ বীজ বিক্রয়যোগ্য নয়।

ভিত্তি বীজ:
- বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের খামারে বীজ অনুমোদন সংস্থার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মৌল বীজ থেকে যে বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে ভিত্তি বীজ বলে।

প্রত্যয়িত বীজ:
- ভিত্তি বীজ থেকে বীজ অনুমোদন সংস্থার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যে বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে প্রত্যয়িত বীজ বলে।
- এই বীজ কৃষকদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন সংস্থা অনুমোদন প্রদান করে।
- প্রত্যয়িত বীজ কৃষকদের নিকট বিক্রি করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৯৪.
মাটিতে খনিজ পদার্থের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. প্রায় ৫ ভাগ
  2. প্রায় ২৫ ভাগ
  3. প্রায় ১৫ ভাগ
  4. প্রায় ৪৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৪৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৪৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
মাটির গঠন উপাদান:
- মাটি প্রধানত ৪টি উপাদান দ্বারা গঠিত।
- উপাদানগুলো হলো-
(১) অজৈব পদার্থ বা খনিজ পদার্থ
(২) জৈব পদার্থ
(৩) পানি ও
(৪) বায়ু।

খনিজ পদার্থ:
- ভূ-পৃষ্ঠ প্রকৃতপক্ষে শিলা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- প্রাকৃতিক শক্তি তথা তাপ, চাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, পানিপ্রবাহ ইত্যাদির প্রভাবে সময়ের ব্যবধানে আদি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটির অজৈব বা খনিজ পদার্থ সৃষ্টি করেছে।
- নুড়িপাথর, বালিকণা, পলিকণা ও কর্দমকণা হচ্ছে মাটির খনিজ পদার্থ।
- এসব খনিজ পদার্থ নানাভাবে মিশে মাটির বুনট সৃষ্টি হয়েছে।
- মাটিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ আয়তন ভিত্তিতে শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ অর্থাৎ মাটির সর্ববৃহৎ অংশ জুড়ে আছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯৫.
মধ্যম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল কোনটি?
  1. সুগার বিট
  2. নারিকেল
  3. মিষ্টি আলু
  4. তুলা
সঠিক উত্তর:
মিষ্টি আলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের চাষ: 
- লবণাক্ত অঞ্চলে চাষের জন্য আমাদের লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত নির্বাচন করতে হবে।
- উত্তম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলগুলো হলো- নারিকেল, সুপারি, সুগার বিট, তুলা, শালগম, ধৈঞ্চা, পালংশাক ইত্যাদি।
- মধ্যম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলগুলো হলো- আমড়া, মিষ্টি আলু, মরিচ, বরবটি, মুগ, খেসারি, ভুট্টা, টমেটো, পেয়ারা ইত্যাদি।
- গম, কমলা, নাশপাতি কম লবণাক্ততা সহিষ্ণু।
- লবণাক্ত এলাকায় আমন মৌসুমে চাষের জন্য অনুমোদিত জাত হলো-বিআর ২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৫৩, ব্রি ধান ৫৪ ইত্যাদি। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯৬.
‘বিছা পোকা’র ডিম পাট গাছের কোন অংশে থাকে?
  1. পাতার উপরে
  2. পাতার নিচে
  3. গাছের ডগায়
  4. গাছের কাণ্ডে
সঠিক উত্তর:
পাতার নিচে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতার নিচে
ব্যাখ্যা
পাটের বিছা পোকা:
– স্ত্রী মথ পাটের পাতার নিচের/উল্টো দিকে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।

⇒ ক্ষতির ধরণ :
ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পর থেকে এরা পাতার নিচে থাকে ও পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পর্দার মতো করে ফেলে।
– দলবদ্ধভাবে ৬-৭ দিন থাকার পর এরা গাছের সব পাতায় ছড়িয়ে পড়ে ও সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা অনেক দূর থেকে সহজেই চেনা যায়।
– বড় হবার সাথে সাথে এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
– আক্রমণ বেশি হলে এরা কচি ডগা পর্যন্ত খেয়ে গাছকে পাতাশূন্য বা ডাটাসার করে ফেলে ।ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও আঁশের ফলন কম হয়।

⇒ দমন পদ্ধতি:
– ফসলের জমির দুই প্রান্ত থেকে কেরোসিন তেলে ভিজানো দড়ি পাট গাছের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে হবে।
– পাটের বিছা পোকা দমনের জন্য ডায়াজিনন ৬০% ইসি, নূভাক্রন ৪০% ইসি ১.৫ মিলি ঔষধ ১ লিটার পানিতে বা ১৮ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে অথবা রিপকর্ড ১০% বা সিমবুশ ১০% ইসি অথবা কারাতে ১.৫ ইসি ৬ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
– পাট কাটার পর গভীরভাবে চাষ করলে পুত্তলীগুলো (লার্ভা) উপরে উঠে আসে এবং প্রাকৃতিক শত্রু (যেমন: পাখি) দ্বারা ধ্বংস হয়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
২৯৭.
স্টোমাটাল রেসপিরেশন কীসের মাধ্যমে হয়ে থাকে?
  1. পত্ররন্ধ্র
  2. লেন্টিসেল
  3. কিউটিকল
  4. মূল
সঠিক উত্তর:
পত্ররন্ধ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্ররন্ধ্র
ব্যাখ্যা
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration) :
- পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে যে প্রস্বেদন হয় তাকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (স্টোমাটাল রেসপিরেশন) বলে।
- পাতা এবং কচি কান্ডে অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকে।
- পত্ররন্ধ্র প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠদেশে দেখা যায়।
- এছাড়া ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে পত্ররন্ধ্র থাকে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়েই প্রধানত বেশির ভাগ প্রস্বেদন ঘটে।
- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের পরিমাণ মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫%।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৮.
হাঁস-মুরগির ঘর কোনমুখী হওয়া উত্তম?
  1. পশ্চিমমুখী বা উত্তরমুখী
  2. পশ্চিমুখী বা দক্ষিণমুখী
  3. পূর্বমুখী বা উত্তরমুখী
  4. পূর্বমুখী বা দক্ষিণমুখী
সঠিক উত্তর:
পূর্বমুখী বা দক্ষিণমুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বমুখী বা দক্ষিণমুখী
ব্যাখ্যা
হাঁস-মুরগির ঘর:
- হাঁস-মুরগির ঘর নানা ধরনের হতে পারে।
- তবে, যে ধরন বা ডিজাইনেরই হোক না কেন মুরগি পালনের জন্য আয়তাকার ঘরই সবচেয়ে উপযোগী।
- মুরগির দলের (Flock) সংখার ওপর নির্ভর করে ঘরের দৈর্ঘ্য।
- তবে ঘরের দৈর্ঘ্য যাই হোক না কেন প্রস্থ ৪.৫-৯.০ মিটারের বেশি হবে না।
- ঘরটি পূর্বপশ্চিমে লম্বা হবে এবং পূর্বমুখী বা দক্ষিণমুখী হবে।
- এতে বায়ু চলাচলের সুবিধা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৯.
খৈল এ কোন পুষ্টি উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
খৈল তৈরি:
- তেল বীজ হতে তেল বের করে নেওয়ার পর যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তাকে খৈল বলে।
- সার ও গোখাদ্য হিসেবে খৈল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- বিভিন্ন রকম তেলবীজ থেকে বিভিন্ন রকমের খৈল পাওয়া যায়।
- যেমন- তুলা বীজের খৈল, সরিষার খৈল, বাদামের খৈল, তিলের খৈল, নিমের খৈল, তিসির খৈল ইত্যাদি।
- এ ধরনের সারে নাইট্রোজেন বেশি থাকে।
- এ সার ভালোভাবে গুঁড়া করে জমিতে ব্যবহার করতে হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩০০.
নিচের কোনটি উন্নত মুরগির জাত?
  1. খাকি ক্যাম্বেল
  2. জেন্ডিং
  3. লেগহর্ন
  4. রানার
সঠিক উত্তর:
লেগহর্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেগহর্ন
ব্যাখ্যা
গৃহপালিত পাখি: 
- গৃহপালিত পশুর মতো হাঁস, মুরগি, কবুতর ইত্যাদিকে গৃহপালিত পাখি বলা হয়।
- কারণ, এদের পোষ মানিয়ে গৃহে লালনপালন করা যায়।
- এরা গৃহে ডিম পাড়ে এবং ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে থাকে।
- শিশু-কিশোররাও বড়দের মতো কবুতর, হাঁস ও মুরগি পালনে খুব আগ্রহ দেখায়।
- গ্রামবাংলার মানুষ প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন দেশি মোরগ-মুরগিও ৪৬ মিলিয়ন হাঁস লালনপালন করছে।
- আমাদের দেশি মুরগি বছরে গড়ে ৪৫টি এবং দেশি হাঁস ৭০টি ডিম পাড়ে।
- কিন্তু উন্নত জাতের লেগহর্ন, ফাওমি, আর আই আর জাতের মুরগি বছরে ২০০-২৫০টি ডিম পাড়ে।
- বিদেশি জাতের ইন্ডিয়ান রানার, খাকি ক্যাম্বেল ও জেন্ডিং হাঁস বছরে গড়ে ২৫০টি ডিম উৎপাদন করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।