বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন৬৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৬৬০

.
গম ফসলের সেচের প্রতি সংবেদনশীল পর্যায় কোনটি?
  1. মুকুট মূল গজানো
  2. কুশি গজানোর শেষ দিকে
  3. পুষ্পায়ন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়: 
- ফসলের শারীরতাত্ত্বিক বৃদ্ধির সকল পর্যায়ে সমানভাবে পানির প্রয়োজন হয় না।
- যে সকল পর্যায়ে মাটিতে পানি স্বল্পতায় ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় তাকে সেচের প্রতি সংবেদনশীল পর্যায় বলে।
- আর যেসব পর্যায়ে পানির অভাবে ফসলের ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় তাকে সংকটময় পর্যায় বলে
- গম ফসলের সেচের প্রতি সংবেদনশীল পর্যায়: মুকুট মূল গজানো, কুশি গজানোর শেষ দিকে, পুষ্পায়ন। 
- গম ফসলের সেচের প্রতি সংকটময় পর্যায়: পুষ্পায়ন, মুকুট মূল গজানো। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
কোন গাছ জমে থাকা পানি সহ্য করতে পারে না?
  1. পেঁপে
  2. ধান
  3. গেওয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পানি নিষ্কাশনের ধারণা ও উদ্দেশ্য:
- পরিমিত পানি সেচ যেমন ফসলের জন্য ভালো তেমনি অতিরিক্ত পানি ফসলের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- ফসলের জমি থেকে অতিরিক্ত পানি অপসারণ করাকেই পানি নিষ্কাশন বা পানি নিকাশ বলে।
- ফসলের জমিতে জমে থাকা পানি অধিকাংশ ফসলের জন্য ক্ষতিকর।
- ধানের জমিতে পানি জমে থাকা উপকারী হলেও পেঁপে গাছ জমে থাকা পানি সহ্য করতে পারে না।
- ফসলের জমিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় ধরে গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছ মারা যায়।
- আবার পানি জমে থাকা ফসলের জমি থেকে পানি নিকাশ না করা পর্যন্ত সেখানে বীজ বপন করা যায় না, চারা রোপণ করা যায় না এবং গাছও লাগানো যায় না।
- সুতরাং পানির অভাব হলে গাছে পানি দিতে হবে।
- জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে কিংবা সেচের পানি বেশি হলে অতিরিক্ত পানি তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ কত?
  1. ৪০ শতাংশ
  2. ৪৫ শতাংশ
  3. ৫০ শতাংশ
  4. ৫৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান:
- সেবা খাতের অবদান ৫১.০৪ শতাংশ।
- শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ।
- কৃষি খাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- সেবা খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি।

এছাড়াও -
- অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কৃষিখাতে বেশি কর্মসংস্থান হয়।
- কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ ৪৫.০০%
- শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ১৭.০০%
- সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ৩৮.০০%

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
.
ব্রি ধান ৫৬ ব্রি ধান৫৭ কী সহনশীল ধানের জাত?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. লবণাক্ততা
  4. জলাবদ্ধতা
ব্যাখ্যা
- বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বাংলাদেশের প্রধান কৃষি সমস্যা।
- বিজ্ঞানীরা ব্রি ধান ৫৬ ব্রি ধান৫৭ নামের খরা সহনশীল ধান উদ্ভাবন করেছেন।
- উপকূল অঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৬, ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-৫৩, ব্রি ধান-৫৪ ও ব্রি ধান-৫৫ উদ্ভাবন হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
নিচের কোন ফসল খরার সময় পাতার উপর লিপিড জমা করে প্রস্বেদন হারকে কমিয়ে দেয়?
  1. ভুট্টা
  2. সয়াবিন
  3. গম
  4. ধান
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রণ:
- এটি  ফসলের খরা পরিহারকরণ কৌশল।
- অনেক ফসল খরায় পতিত হলে পাতার উপর লিপিড জমা করে প্রস্বেদন হারকে কমিয়ে দেয়;
- যেমন- সয়াবিন ফসল।
- আবার অনেক ফসল পাতার উপরে মোম বা ঘন রোমের আচ্ছাদন সৃষ্টি করে প্রস্বেদন হ্রাস করে। 

ফসলের খরা পরিহারকরণ কৌশল:
নিচে ফসলের প্রধান প্রধান খরা পরিহারকরণ কৌশলগুলো বর্ণনা করা হলো:
১। পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণ: অনেক ফসল পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পানির অপচয় হ্রাস করে খরা অবস্থা মোকাবেলা করে। যেমন-যব ও লম্বা জাতের অনেক গম ফসল সকালের দিকে অল্প সময়ের জন্য পত্ররন্ধ্র খোলা রাখে এবং দিনের বাকি সময় পত্ররন্ধ্র বন্ধ রাখে। আবার অনেক ফসলের কোষে পানি ঘাটতি হলে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পত্ররন্ধ্রের আকার কমিয়ে দেয়, পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে দেয়। শিমের অধিকাংশ জাত এভাবে খরা পরিহার করে। আবার অনেক ফসলের পাতায় পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা কম থাকে, পত্ররন্ধ্র পাতার ছোট ছোট ভাঁজ বা গর্তের মধ্যে থাকে। ফলে প্রস্বেদন কম হয়, পানি সংরক্ষিত থাকে।

২। পাতার আকার হ্রাসকরণ অনেক ফসল খরাকবলিত অবস্থায় পাতার আকার হ্রাস করে প্রস্বেদন কমিয়ে দেয়; যেমন- ফেলন। পাতার কিনারা বা পাতার অগ্রভাগ পুড়িয়ে অনেক উদ্ভিদ পাতার আকার হ্রাস করে।

৩। পাতা ঝরানো খরার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনেক ফসল নিচ থেকে পুরাতন পাতা ঝরিয়ে প্রস্বেদন হ্রাস করে। তুলা, চিনাবাদাম, জোয়ার ও ফেলনের এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। খরার অবসান হলে এ ধরনের ফসলে কাণ্ডের শীর্ষ বা পাতার কক্ষ থেকে পুনরায় কুশি গজায়। খরার ফলে ইথিলিন (এনজাইম) উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

৪। সালোকসংশ্লেষণ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ: কিছু ফসল পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রস্বেদন কমালেও পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে খুব কম পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে বেশি পরিমাণ খাদ্য তৈরি করে। ভুট্টা, আখ ইত্যাদি ফসলে এটা দেখা যায়।

৫। দক্ষ মূলতন্ত্র: কিছু কিছু উদ্ভিদ মূলের দৈর্ঘ্য, সংখ্যা ও ঘনত্ব বাড়িয়ে অধিক পরিমাণ পানি আহরণের মাধ্যমে খরা অবস্থা মোকাবেলা করে; যেমন- ভুট্টা, তুলা ও গমের অনেক জাতে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। মূলের অধিক গভীরতা ও ঘনত্ব একই ফসলে বিরাজমান থাকলে সে ফসল অধিক খরা প্রতিরোধী হয়; যেমন- জোয়ার ও বাজরা। আবার ধইনচা, তুলা, অড়হর গভীরমূলী হওয়ায় খরা প্রতিরোধী হয়।

৬। পাতা মোড়ানো ও পাতা কুঞ্চিতকরণ অনেক দানা ফসল; যেমন- জোয়ার, কাউন পাতার আকার হ্রাসকরণ ছাড়াও খরা পরিবেশে পাতা কুঞ্চিত করে। আবার অনেক ফসল পাতা মুড়িয়ে সূর্যালোক প্রাপ্তির আয়তন কমিয়ে দেয়। ফলে এদের প্রস্বেদন কমে যাওয়ার কারণে পানির অপচয় হ্রাস পায় এবং খরা পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেয়।

৭। পাতার দিক পরিবর্তন অনেক উদ্ভিদে খরা অবস্থায় সূর্যালোকের সাথে বা খাড়াভাবে পাতার দিক পরিবর্তন করে। ফলে প্রস্বেদনের হার হ্রাস পেয়ে পানি সাশ্রয় হয়। চিনাবাদাম, তুলা ও ফেলনসহ আরও অনেক দ্বি-বীজপত্রী উদ্ভিদ এ প্রক্রিয়ায় খরা প্রতিরোধ করে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
.
ইপিল-ইপিল গাছের সাথে আনারস লাগানো কোন চাষ পদ্ধতির অন্তর্গত?
  1. বৃক্ষ ও মাঠ ফসল চাষ পদ্ধতি
  2. বৃক্ষ ও গোখাদ্য চাষ পদ্ধতি
  3. বনজ ও ফলদ বৃক্ষ চাষ পদ্ধতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বনজ ও ফলদ বৃক্ষ চাষ পদ্ধতি: 
- এ ধরনের কৃষি বনায়নে বনজ বৃক্ষের সাথে ফলদ বৃক্ষের চাষ করা হয়।
- এ পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত।
- এ পদ্ধতিতে জমির বহুমুখী উৎপাদন নিশ্চিত হয়।
- তাছাড়া জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়।
- পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস সৃষ্টি হয়, পরিবেশ সংরক্ষিত হয়।
- উদাহরণ: ইপিল-ইপিল, নারিকেল, লিচু গাছের সাথে আনারস।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
কোন জাতীয় ফসল বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল?
  1. ডাল ফসল
  2. আঁশ ফসল
  3. নারকোটিক ফসল
  4. দানাজাতীয় ফসল
ব্যাখ্যা
বস্ত্র:
- বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আঁশ ফসল।
- তুলা ও পাট আমাদের প্রধান আঁশ ফসল।
- পশুর চামড়া ও পশম দিয়েও বসত্র তৈরি হয়।
- আঁশ ফসল উৎপাদনে কৃষি ও কৃষকের বড় ভূমিকা রয়েছে।
- পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্য রক্ষায় উপযোগী বলে বিশ্বব্যাপী আঁশ ফসলের উপর মানুষ নির্ভরশীল হচ্ছে।
- আমাদের দেশেও তুলা উৎপাদন এলাকা প্রতিবছর বেড়ে চলেছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
.
প্রকৃত বীজ কাকে বলে?
  1. নিষিক্ত ডিম্বককে
  2. নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে
  3. বীজাত্বক দ্বারা আবৃত ভ্রূণকে
  4. স্ত্রী ও পুরুষ ফুলের রেণুর মিলনের ফলে উদ্ভাবিত ডিম্বককে
ব্যাখ্যা
• বীজ:
- বীজ উদ্ভিদের বংশ বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যাবলী এবং কৃষি কাজের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার অনুসারে বীজের সংজ্ঞা দু'রকম হতে পারে।
- প্রথমত, উদ্ভিদতত্ত্বানুসারে ফুলের পরাগরেণু দ্বারা ডিম্বক নিষিক্ত হবার পর পরিপক্ক ডিম্বককে বীজ বলে। যেমন: ধান, গম, পেঁপে বীজ।
- দ্বিতীয়ত, কৃষিতত্ত্বানুসারে গাছের যে অংশ (শারীরিক বা জাননিক) বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত হয় তাকেই বীজ বলে। যেমন: আলুর টিউবার, মিষ্টি আলুর লতা, কলার সাকার, কুলের কুঁড়ি, পাথরকুচির পাতা, বিভিন্ন ফুল গাছের শাখা-প্রশাখা, ধান, গম ইত্যাদি।

- উপরিউক্ত সংজ্ঞা দ্বারা প্রকৃত বীজ ও কৃষি বীজের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারি।
- প্রকৃত বীজ বা যৌন বীজ হচ্ছে বীজত্বকদ্বারা আবৃত এক সুপ্ত ভ্রূণধারী পরিণত ও নিষিক্ত ডিম্বক।
- আর গাছের যে কোন অংশ বিশেষ, যা উপযুক্ত পরিবেশে একই রকম গাছের বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে, তাকে কৃষি বীজ বলে।

উৎস: বীজ ও বীজ প্রযুক্তি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের স্থানীয় ধানের জাত?
  1. টেপি
  2. দুধসর
  3. লতিশাইল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ধানের জাত: 
- বাংলাদেশে তিন জাতের ধান আছে।
১। স্থানীয় জাত: টেপি, গিরবি, দুধসর, লতিশাইল ইত্যাদি।
২। স্থানীয় অনুমোদিত জাত: হবিগঞ্জ, কটকতারা, পাজাম, কালিজিরা, হাসিকলমি, নাইজার শাইল, লতিশাইল, বিনাশাইল ইত্যাদি।
৩। উচ্চ ফলনশীল জাত: মুক্তা, ময়না, শাহজালাল, মঙ্গল, নিজামী ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২৮টি
  2. ২৯টি
  3. ৩০টি
  4. ৩২টি
ব্যাখ্যা
মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি পরিবেশ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিন্নতা রয়েছে।
- এ ভিন্নতার কারণেই এক এক অঞ্চলে এক এক রকম ফসল ভালো জন্মে।
- মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
- এ শ্রেণিভাগ মাটির ধরন, উর্বরতা, ফসল জন্মানোর প্রকৃতি, জমিতে বন্যার সময় পানির উচ্চতা, এলাকাভেদে ফসল জন্মানোর সময়সীমা, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রাকে বিবেচনা করে করা হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১.
বৃত্তাকার সেচ পদ্ধতিতে সাধারণত কোথায় সেচ দেওয়া হয়?
  1. সমতল জমিতে
  2. ঢালু জমিতে
  3. বহুবর্ষজীবী ফলগাছের গোড়ায়
  4. অনুর্বর ও উঁচু-নিচু জমিতে
ব্যাখ্যা
বৃত্তাকার সেচ: 
- এই সেচ পদ্ধতিতে সমস্ত জমিতে সেচ না দিয়ে শুধু যে স্থানে গাছ রয়েছে সেখানেই পানি সরবরাহ করা হয়।
- সাধারণত বহুবর্ষজীবী ফলগাছের গোড়ায় এই পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হয়।
- ফল বাগানের মাঝ বরাবর একটি প্রধান নালা কাটা হয়।
- অতঃপর প্রতি গাছের গোড়ায় বৃত্তাকার নালা কাটা হয় এবং প্রধান নালার সাথে সংযোগ দেওয়া হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২.
কোন পাতার রস খেলে কাশি ভালো হয়?
  1. বাসক
  2. থানকুনি
  3. পাথরকুচি
  4. অ্যালামন্ডা
ব্যাখ্যা
ঔষধি উদ্ভিদ:
- অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রোগব্যধি নিরাময়ে ঔষধি উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- এই ভিত্তিতে বাংলাদেশে ভেষজ, আয়ুর্বেদ ও ইউনানী চিকিৎসাশাস্ত্র প্রসার লাভ করায় এই সকল ঔষধি গাছের চাষও প্রসার লাভ করে।
- নানা কারণে স্বাস্থ্য রক্ষায় বর্তমানে ঔষধি গাছপালা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
- এই সকল ঔষধি গাছের চাষও তাই বাড়ছে এবং লাভজনক হচ্ছে।
- এদের মধ্যে অ্যালোভেরা (ঘৃতকুমারী), স্টিভিয়া, কালোজিরা, রসুন এগুলো বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- চিরতা, লবঙ্গ এমন আরও অনেক চাষযোগ্য ঔষধি গুল্ম, লতা, বৃক্ষের একটা বড় তালিকা তৈরি করা যায়।
- মাঠ ও উদ্যান ফসলের রোগ-বালাই চিকিৎসায় ও প্রতিরোধে নিম ও অ্যালামন্ডা গাছের পাতার রস এবং রসুনের রসের ব্যবহার সুফলদায়ক প্রমাণিত হয়েছে।
- বাসক ও তুলসী পাতার রস খেলে কাশি ভালো হয়।
- থানকুনি ও পাথরকুচি পাতার রস আমাশয় রোগ নিরাময় করে।
- এই সকল উদ্ভিদজাত ঔষধের বড় গুণ হচ্ছে এগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
১৩.
গমের কোন জাতটি ব্লাষ্ট প্রতিরোধী?
  1. বারিগম ২৫
  2. বারিগম ২৭
  3. বারিগম ৩৩
  4. বারিগম ৩০
ব্যাখ্যা
ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের জাত:
- ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের জাত বারিগম ৩৩।

⇒ ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)। 
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী গমের একটি জাত উদ্ভাবন করে।
- ২০১৭ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ব্লাস্ট রোগপ্রতিরোধী জাত হিসেবে ‘বারি গম-৩৩’ নামে জাতটিকে অনুমোদন দেয়।
- এই জাত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে সক্ষম।

উৎস: প্রথম আলো।
১৪.
বাংলাদেশের সরকারি বীজ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. BRRI
  2. BARI
  3. BADC
  4. Lal Teer
ব্যাখ্যা
BADC (Bangladesh Agricultural Development Corporation):
- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (BADC) কৃষি খাতে উন্নয়ন ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বীজ, সার এবং অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের জন্য কাজ করে।
- এটি বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি সংস্থা।
- BADC প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন নামে।
- স্বাধীনতার পর এটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন নামে আত্মপ্রকাশ করে।
- এর সদর দপ্তর ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

প্রধান কার্যাবলী:
সেচ সুবিধা প্রদান: সেচ কাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ।
বীজ উৎপাদন ও বিতরণ: উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন ও কৃষকদের মাঝে বিতরণ।
সার সরবরাহ: কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় সার বিতরণ।
কৃষি প্রযুক্তি প্রসার: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রচার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
১৫.
এঁটেল মাটিতে কমপক্ষে শতকরা কত ভাগ কর্দমকণা থাকে?
  1. ৪০ ভাগ
  2. ৩০ ভাগ
  3. ৫০ ভাগ
  4. ৬০ ভাগ
ব্যাখ্যা
এঁটেল মাটি:
- যে মাটিতে কমপক্ষে শতকরা ৪০ ভাগ কর্দমকণা থাকে, তাকে এঁটেল মাটি বলে।
- এ মাটিতে পলিকণাও বেশি থাকে।
- ঢাকা জেলার উত্তরাংশ, টাঙ্গাইল জেলার পূর্বাংশ ও ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে এ মাটি দেখা যায়।
- এ মাটিতে চাষ করা খুব কষ্টকর।
- জৈব সার প্রয়োগে চাষের উপযোগী করা সম্ভব।
- ধান, পাট, আখ ও শাকসবজি এ মাটিতে ভালো জন্মে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
১৬.
ভ্রূণমূল (radicle) থেকে কী উৎপন্ন হয়?
  1. শিকড়
  2. কান্ড
  3. বিটপ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভ্রূণ (Embryo):
- বীজত্বক দ্বারা আবৃত সুপ্ত উদ্ভিদকে ভ্রূণ বলে।
- ভ্রূণের দুইটি অংশ যথাঃ ভ্রূণাক্ষ বা টাইজেলাম (Tigellum) ও বীজপত্র (Cotyledon)।
- ভ্রূণাক্ষের দুইটি অংশ যেমন: ভ্রূণমূল (Radicle) যা থেকে বীজ গজানোর পর শিকড় হয় এবং ভ্রূণকান্ড/ভ্রূণমুকুল (Plumule) যা থেকে কান্ড উৎপন্ন হয়।

উৎস: Seed and Seed Technology, B.Ag.Ed, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
টিএসপিতে কোন পুষ্টি উপাদানের প্রাধান্য থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
জৈব সার:
- উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের সবগুলোই জৈব সারে পাওয়া যায়।
- গোবর, কম্পোস্ট, আবর্জনা, খড়কুটা ও আগাছা পচিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রাসায়নিক সার:
- ইউরিয়াতে নাইট্রোজেন, টিএসপিতে ফসফরাস, এমওপিতে পটাশিয়াম এবং জিপসামে ক্যালসিয়াম ও সালফারের প্রাধান্য থাকে।
- এছাড়া জিঙ্ক সালফেটে জিঙ্ক ও সালফার থাকে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৮.
উৎস অনুযায়ী সারকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
উৎস অনুযায়ী সারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক) জৈব সার।
খ) রাসায়নিক সার।

(ক) জৈব সার: 
- যেসব সার জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায়, তাদেরকে জৈব সার বলে।
- যেমন- গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি।
- গাছের প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্য উপাদানই জৈব সারে থাকে। 

(খ) রাসায়নিক সার: 
- কলকারখানায় যে সকল সার তৈরি করা হয় তাদেরকে রাসায়নিক সার বলে।
- যেমন: ইউরিয়া, ডিএপি, জিপসাম, দস্তাসার।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৯.
কতদিন বয়সের ধানের চারা রোপণ করা ভালো?
  1. ৬৫-৭৫ দিন
  2. ৫০-৬৫ দিন
  3. ২৫-৪৫ দিন
  4. ১০-২০ দিন
ব্যাখ্যা
ধানের চারা তৈরি:
- ধানের চারা তৈরির জন্য সাধারণত চার ধরনের বীজতলা তৈরি করা হয়:
১। শুকনা বীজতলা;
২। ভিজা বীজতলা;
৩। ভাসমান বীজতলা;
৪। দাপোগ বীজতলা।
- জাত ও মৌসুম ভেদে ২৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করা ভালো।
- চারা তোলার পূর্বে বীজতলাতে পানি সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নেয়া ভালো।
- এতে চারা তুলতে সুবিধা হয়।
- চারা তোলার পর তা ছোট ছোট আঁটি আকারে বেঁধে নিতে হয়।

⇒ চারা রোপণ পদ্ধতি:
- সমান জমিতে ছিপছিপে পানি থাকা অবস্থায় চারা রোপণ করতে হয়।
- লম্বা রশির সাহায্যে সোজা সারি করে চারা রোপণ করা উত্তম।
- এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ২০-২৫ সে.মি. এবং সারিতে গুছি থেকে গুছির দূরত্ব হবে ১৫-২০ সে.মি.।
- প্রতিটি গুছিতে ২-৩টি চারা দিতে হয়।
- দেরিতে রোপণ করলে চারার সংখ্যা বেশি ও ঘন করে লাগাতে হয়।

উল্লেখ্য,
- জমি সমান হলে মুক্ত প্লাবন পদ্ধতিতে এবং ঢালু হলে আইলবদ্ধ মুক্ত প্লাবন পদ্ধতিতে পানি সেচ দিতে হয়।
- দেশী জাতের ধানে পানি সেচ অবশ্যই প্রয়োজন।
- চারা রোপণ করার পর ৬-৭ দিন পর্যন্ত ৩-৫ সে.মি. সেচ দিতে হয়।
- এতে আগাছা দমন হয়।
- এরপর কুশি উৎপাদন পর্যায়ে ২-৩ সে.মি. এবং চারার বয়স ৫০-৬০ দিন হলে ৭-১০ সে.মি. পরিমাণ পানি সেচ দেয়া উত্তম।
- থোড় আসার সময় পানি সেচ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- দানাপুষ্ট হতে শুরু করলে আর সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোন জাতীয় ফসল আমিষ সরবরাহ করে?
  1. স্নেহ জাতীয়
  2. দানা জাতীয়
  3. ডাল জাতীয়
  4. নারকোটিক জাতীয়
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, গম, ভুট্টা, পাট, তুলা ইত্যাদি।
- ধান, গম, ভুট্টা হলো দানা জাতীয় ফসল।
- দানা জাতীয় ফসল মানুষের প্রধান খাদ্য।
- দানা জাতীয় ফসল আমাদের শর্করার জোগান দেয়।
- মসুর, মাষকলাই, মুগ ইত্যাদি ডাল জাতীয় ফসল আমিষ সরবরাহ করে।
- তেল জাতীয় ফসলের মধ্যে রয়েছে তিল, সরিষা, তিষি, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- এসব ফসল আমাদের খাদ্যের স্নেহ জাতীয় উপাদান সরবরাহ করে।
- পাট হচ্ছে আঁশ জাতীয় ফসল। পাট আমাদের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- পানীয় জাতীয় ফসল হচ্ছে চা, কফি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২১.
বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল কোন ফসল হতে পাওয়া যায়?
  1. আঁশ জাতীয় ফসল
  2. নারকোটিক ফসল
  3. ডাল জাতীয় ফসল
  4. দানা জাতীয় ফসল
ব্যাখ্যা
বস্ত্র:
- বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আঁশ ফসল হতে পাওয়া যায়।
- তুলা ও পাট আমাদের প্রধান আঁশ ফসল।
- পশুর চামড়া ও পশম দিয়েও বসত্র তৈরি হয়।
- আঁশ ফসল উৎপাদনে কৃষি ও কৃষকের বড় ভূমিকা রয়েছে।
- পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্য রক্ষায় উপযোগী বলে বিশ্বব্যাপী আঁশ ফসলের উপর মানুষ নির্ভরশীল হচ্ছে।
- আমাদের দেশেও তুলা উৎপাদন এলাকা প্রতিবছর বেড়ে চলেছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২.
মাটির উপরিভাগের সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিলে-
  1. রস সংরক্ষণ হবে
  2. আগাছা নিয়ন্ত্রণ হবে
  3. জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে
  4. উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে
ব্যাখ্যা
মাটির ছিদ্র নষ্টকরণ: 
- খরাপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির মৌসুম শেষ হওয়ার পর মাটিতে জো আসার সাথে সাথে অগভীর চাষ দিয়ে রাখতে হবে।
- এতে মাটির উপরিভাগের সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
- ফলে সূর্যের তাপে মাটির রস শুকিয়ে যাবে না। 
- অর্থাৎ মাটির উপরিভাগের সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিলে রস সংরক্ষণ হবে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৩.
সাধারণত ধান ক্ষেতে মাছ চাষের ফলে ধানের ফলন শতকরা কত ভাগ বৃদ্ধি পায়?
  1. ৫ ভাগ
  2. ১০ ভাগ
  3. ১৫ ভাগ
  4. ২০ ভাগ
ব্যাখ্যা
ধান ক্ষেতে মাছ চাষ: 
- ধান ক্ষেতে নির্দিষ্ট সময় ধরে বর্ষার পানি জমে থাকে যা নিঃসন্দেহে মাছ চাষের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ।
- ধান ক্ষেতে ব্যবহৃত সার, গোবর ইতাদি, পানি ও মাটির সাথে মিশে প্রাকৃতিকভাবে খাবার তৈরি করে যা মাছ উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী।
- এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধান ক্ষেতে মাছ চাষের প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন চাষী ধান উৎপাদনের সাথে সাথে বাড়তি আয়ও পেতে পারে।
- আমন ও বোরো দুই মৌসুমেই ধান ক্ষেতে মাছ চাষ করা সম্ভব ।
- তবে আমন মৌসুমে ধান ক্ষেতে মাছ চাষ বেশী লাভজনক।
- সেচ সুবিধার আওতাধীন যে সমস্ত ধান জমি রয়েছে সেসকল জমিতে স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে ধানের পাশাপাশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।
- ধান ক্ষেতে মাছ চাষ প্রযুক্তি গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে শুধু অর্থই যোগান দেয় না সেই সাথে তাদের পুষ্টিও নিশ্চিত করে।
- ধান ক্ষেতে মাছ চাষের ফলে ধানের ফলন সাধারণত শতকরা ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়। 

ধান ক্ষেতে মাছ চাষের সুবিধা: 
- একই জমি থেকে ধানের সাথে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে মাছ পাওয়া যায় সুতরাং জমির সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব।
- ধান ক্ষেতে আগাছা কম জন্মে এবং অনিষ্টকারী পোনা-মাকড় মাছ খায়ে ফেলে। ফলে ধানক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
- মাছের চলাফেরার মাধ্যমে ক্ষেতের কাদামাটি উলটপালট হয় ফলে জমি হতে ধানের পক্ষেঅধিকতর পুষ্টি গ্রহণযোগ্য হয়।
- মাছের বিষ্টা সার হিসাবে ধান ক্ষেতের উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে।

উৎস: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
২৪.
বাংলাদেশে টমেটোর শীতকালীন জাত কোনটি?
  1. বারি টমেটো-২ (রতন)
  2. বারি টমেটো-৯ (লালিমা)
  3. বারি টমেটো-১০ (অনুপমা)
  4. বারি টমেটো-১১ (ঝুমকা)
ব্যাখ্যা
টমেটোর জাত:
- বাংলাদেশে টমেটোর অনেক অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- শীতকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে বারি টমেটো-২ (রতন), বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বিনা টমেটো-৩ এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা জাত মারগ্লোব, রুমা ভিএফ, অক্সহার্ট ইত্যাদি।
- গ্রীষ্মকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে-বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বারি টমেটো-১১ (ঝুমকা), বারি হাইব্রিড টমেটো-৩, বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৫.
উদ্ভিদের সবুজ কণিকা (ক্লোরোফিল) গঠনে সাহায্য করে কোন পুষ্টি উপাদান?
  1. পটাশিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. দস্তা
  4. বোরণ
ব্যাখ্যা
দস্তা (জিঙ্ক):
(১) ফুল ও ফল উৎপাদনে সহায়তা করে, 
(২) উদ্ভিদের সবুজ কণিকা (ক্লোরোফিল) গঠনে সাহায্য করে
(৩) দানা ও ফলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ায়, 
(৪) বীজ গঠনে অংশগ্রহণ করে, 
(৫) পেঁয়াজ, মটর প্রভৃতি ফসলের উৎপাদন বাড়ায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
২৬.
কোন পোকা ধানের টুংরো ভাইরাস ছড়ায়?
  1. সবুজ পাতা ফড়িং
  2. বাদামি গাছ ফড়িং
  3. গান্ধী পোকা
  4. পামরি পোকা
ব্যাখ্যা
ধানের ক্ষতিকর পোকামাকড়:
- প্রায় ৩৩টি প্রজাতির পোকাকে ধানের প্রধান ক্ষতিকর পোকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- তিন মৌসুমেই প্রায় একই ধরনের পোকা আক্রমন করে যদিও আক্রমনের মাত্রা ভিন্ন।
- আউশ ও আমন মৌসুমে পোকার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। 

উল্লেখ্য,
⇒ সবুজ পাতা ফড়িং (Green leaf hopper):
- ক্ষতির লক্ষণ:
১) পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা উভয় অবস্থায় এ পোকা ধানের পাতার রস শুষে খায়।
২) গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও গাছ খাটো হয়।
৩) এ পোকা টুংরো ভাইরাস ছড়ায়।

- দমন ব্যবস্থা:
১) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
২) হাতজাল ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
৩) প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-২, বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-১০, বিআর-১২ জাতের ধান চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
PAN- এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Pacific Area Network
  2. Preferential Area Network
  3. Personal Area Network
  4. Primary Area Network
ব্যাখ্যা
• পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক:
- PAN এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Personal Area Network।
- কোন ব্যক্তির নিকটবর্তী ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তথ্য আদান প্রদানের নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান বলে।
- তবে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ডিভাইসগুলো ব্যক্তিগত নাও হতে পারে।
- প্যান এর বিস্তৃতি সাধারণত কয়েক মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- প্যান USB Bus এবং Fireware Bus দ্বারা সংযুক্ত হতে পারে।
- প্যানে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিভাইস হচ্ছে- ল্যাপটপ, পিডিএ, মোবাইল, প্রিন্টার ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৮.
পেঁপের রিং স্পট রোগ কীসের আক্রমণে ঘটে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রিং স্পট:
- ভাইরাসের আক্রমণে পাতার উপর কিছুটা অঞ্চল ঘিরে গোলাকার বা হরিদ্রাভ দাগ সৃষ্টি হয়।
- এ রকম লক্ষণকে রিং স্পট বলা হয়।
- এটি ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক রোগ।
- এ রোগের ফলে আমাদের মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন হয়।
- ভারতে ১৯৪৮ সালে প্রথম এ রোগটি লক্ষ করা যায়।
- অন্যান্য ফসলের ন্যায় পেঁপেরও নানা রকমের রোগ বালাই হয়।
- পেঁপের সবচেয়ে ক্ষতিকারক রোগ হলো রিং স্পট।
- এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ।
- এটি এতই মারাত্মক যে এর ফলে ক্ষেতের পুরো ফসলই নষ্ট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
নিচের কোনটি উদ্যান ফসল নয়?
  1. লাউ
  2. শিম
  3. ধান
  4. নারিকেল
ব্যাখ্যা
উদ্যান ফসল:
- সারা বছরই কৃষকেরা উদ্যান ফসল উৎপাদন করেন।
- উদ্যান ফসলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, ফুল, মসলা ইত্যাদি।
- লাউ, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, আলু ইত্যাদি শীতকালের প্রধান সবজি।
- চাল কুমড়া, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কচু, পটল, করলা ইত্যাদি গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের সবজি।
- ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য মৌসুমি ফল।
- পেঁপে, নারিকেল, কলা ইত্যাদি সারা বছর পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ধান হচ্ছে মাঠ ফসল। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৩০.
সেক্স ফেরোমন ফাঁদ পোকার কোন বৃদ্ধির পর্যায়ে কার্যকরী?
  1. ডিম
  2. লার্ভা
  3. পিউপা
  4. পূর্ণাঙ্গ পোকা
ব্যাখ্যা
- সেক্স ফেরোমন ফাঁদ পূর্ণাঙ্গ পোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। 

সেক্স ফেরোমন:

- প্রতিটি পোকার স্ত্রী পোকা পূর্ণাঙ্গ হওয়ার সাথে সাথে পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করার জন্য একধরনের গন্ধ নিঃসরন করে।
- সেই গন্ধে পুরুষ পোকা স্ত্রী পোকার দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মিলিত হয়।
- পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী পোকা কর্তৃক নিঃসৃত উক্ত গন্ধ সেক্স ফেরোমন নামে পরিচিত।
- বিভিন্ন পোকার ফেরোমন প্রথমত: প্রাকৃতিকভাবে সনাক্ত করে পরবর্তীতে তা কৃত্রিমভাবে উৎপাদন করা হয় এবং যা বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়।

সেক্স ফেরোমনের ব্যবহার:
- প্রাথমিক অবস্থায় কোন পোকার অবস্থান সনাক্ত করা এবং সেই সাথে তাদের নিয়ন্ত্রন বা দমন করার জন্য ফেরোমন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- এক্ষেত্রে সেক্স ফেরোমনের গন্ধ, যা টোপ বা লিউর নামে পরিচিত একটি ফাঁদের মধ্যে স্থাপন করে প্রথমত: পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট এবং পরবর্তীতে ধরে বা মেরে ফেলা হয়।

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
৩১.
কৃষি জলবায়ু নিচের কোনটি উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
  1. ফসল উৎপাদন
  2. পশুপাখি উৎপাদন
  3. মৎস্য উৎপাদন
  4. ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
কৃষি জলবায়ু:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে।
- এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের কৃষি উৎপাদনের ওপরে পড়তে শুরু করেছে।
- খরাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিনে দিনে নিম্নমুখী হয়ে সেচ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
- এর ফলে বিভিন্ন কৃষির উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

⇒ ফসল উৎপাদন:
- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশে ফসল উৎপাদন ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
- দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ছাড়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
- ফলে অতিবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি, বন্যা, তীব্র খরা, নদীর নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
- এর সবগুলোই কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাবফেলছে।

⇒ মৎস্য উৎপাদন:
- আধুনিক পদ্ধতিতে পরিকল্পিতভাবে মৎস্য চাষের ফলে সামুদ্রিকভাবে মৎস্য উৎপাদন মুক্ত ও বদ্ধ জলাশয় বৃদ্ধি পেলেও বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রবৃদ্ধি কাঙ্খিত পর্যায়ে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
- এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, খরা, বন্যা সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদিজনিত জলবায়ু পরিবর্তন। 

⇒ পশুপাখি উৎপাদন:
- বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মানুষ কর্তৃক পরিবেশ ধ্বংসই জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
- বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন:- জলোচ্ছ্বাস, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বায়ুপ্রবাহ, বন্যা ও খরা প্রভৃতি কারণে পশুপাখির ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়তই এদেশে আঘাত হানছে।
- ফলে খামারি বা কৃষকরা অর্থনেতিকভাবে লাভবান হতে পারছে না। 
- মৃত পশুপাখির কারণে পরিবেশেরও দুষণ ঘটে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
উন্নত ও সংকর জাতের গাভীর ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য কত কেজি সবুজ ঘাস সরবরাহ করতে হবে?
  1. ১-২ কেজি
  2. ৩-৪ কেজি
  3. ৫-৬ কেজি
  4. ১০-১৫ কেজি
ব্যাখ্যা
সবুজ ঘাস:
- সবুজ ঘাসই গাভীর প্রধান খাদ্য।
- কিন্তু এদেশে চারণভূমি ও খোলা সবুজ মাঠ না থাকায় পশুর সবুজ ঘাসের অভাব লেগেই থাকে।
- তাই বাড়ির পাশের পতিত জমি, পুকুরপাড়, রাস্তা, রেললাইন ও বাঁধের ধারে উন্নত জাতের ঘাস চাষ করতে হবে।
- উন্নত জাতের ঘাস হিসেবে নেপিয়ার, পারা, জার্মান, গিনি এবং দেশি ঘাস চাষ করা যেতে পারে।
- তাছাড়া গরুকে সবুজ ঘাসের পরিবর্তে সুবিধামতো কোনো গাছের পাতা যেমন- ইপিল-ইপিল, আম পাতা, কলা পাতা, কাঁঠাল পাতা, কচুরিপানা ইত্যাদি খাওয়ানো যায়।
- রান্নাঘরের বিভিন্ন তরিতরকারি ও ফলের খোসা ফেলে না দিয়ে পশুকে সরবরাহ করা যেতে পারে।
- উন্নত ও সংকর জাতের গাভীর ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ৩-৪ কেজি সবুজ ঘাস সরবরাহ করতে হবে

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৩.
মাঠ ফসল বলতে বোঝায় -
  1. সার্বিক পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল
  2. প্রতিটি গাছের জন্য পরিচর্যার ব্যবস্থা করা
  3. অল্প পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপন্ন ফসল
  4. মাঠে বুনা ফসল
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- ধান, পাট, আখ চাষে প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেবার প্রয়োজন হয় না।
- সার্বিকভাবে মাঠের ফসলের যত্ন নেওয়া হয়।
- কিন্তু কলা বা পেঁপে বা আনারসের প্রতিটি গাছের যত্ন না নিলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।
- সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও যত্নে যে ফসল উৎপাদিত হয় তা হলো মাঠ ফসল।

অন্যদিকে,
⇒ যে ফসলের প্রতি গাছের যত্নের প্রয়োজন তা হলো উদ্যানতাত্বিক ফসল। 

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান ১৪৪, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
সেচের পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করার পদ্ধতির নাম কী?
  1. ইরিগেশন
  2. ফার্টিগেশন
  3. হাইড্রোপনিক্স
  4. মালচিং
ব্যাখ্যা
ফার্টিগেশন:
- ফার্টিগেশন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সেচ প্রযুক্তি।
- সেচের পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করা হচ্ছে ফার্টিগেশন।
- পানিতে দ্রবণীয় সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশ ইত্যাদি ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়।
- ফার্টিগেশন এর মাধ্যমে ফসলের জমিতে সেচ এবং সার একই সঙ্গে প্রয়োগ করা যায়।
- প্রতি ১৪০ লিটার পানিতে ১ কেজি সার মিশাতে হয়।
- সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিজ্ঞানীগণ উদ্যানতত্ত্ব ফসলের উপর এ পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভাল ফল পেয়েছেন।

উৎস: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই
৩৫.
বীজবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিচের কোনটি ব্যবহার করে বীজ শোধন করা হয়?
  1. ম্যালাথিয়ন
  2. প্রভেক্স ২০০
  3. সুমিথিয়ন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বীজ শোধন: 
- বপনের আগে বীজ শোধন করে নিলে বীজবাহিত অনেক রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
- প্রতি কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রভেক্স ২০০-এর সাথে ভালো করে মিশিয়ে বীজ শোধন করা যায়।

উল্লেখ্য,
- ম্যালাথিয়ন ও সুমিথিয়ন মূলত পোকা দমনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৬.
বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. CIMMYT
  2. BSRI
  3. BARI
  4. BWMRI
ব্যাখ্যা
BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটিই বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

- উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণা করত।

উৎস: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৩৭.
একজন মানুষের দৈনিক কতটুকু মাংসের চাহিদা থাকে?
  1. ২৫০ গ্রাম
  2. ২৩৪.৪৫ গ্রাম
  3. ১২০ গ্রাম
  4. ১৪৩.৭৭ গ্রাম
ব্যাখ্যা
দুধ, মাংস এবং ডিমের চাহিদা, উৎপাদন এবং প্রাপ্যতা (২০২৩-২৪):

পণ্যের নাম চাহিদা উৎপাদন প্রাপ্যতা
দুধ ১৫৮.৭৮ লাখ মেট্রিক টন (২৫০ মি.লি./দিন/প্রতি জন) ১৫০.৪৪ লাখ মেট্রিক টন ২৩৪.৪৫ মি.লি./দিন/প্রতি জন
মাংস ৭৬.২১ লাখ মেট্রিক টন (১২০ গ্রাম/দিন/প্রতি জন) ৯২.২৫ লাখ মেট্রিক টন ১৪৩.৭৭ গ্রাম/দিন/প্রতি জন
ডিম ১৮০৯.৬০ কোটি (১০৪টি/বছর/প্রতি জন) ২৩৭৪.৯৭ কোটি ১৩৫.০৯টি/বছর/প্রতি জন

উৎস: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৮.
কৃষির প্রধান উপাদান কী?
  1. পানি
  2. আপেক্ষিক আর্দ্রতা
  3. তাপমাত্রা
  4. মাটি
ব্যাখ্যা
কৃষি:
- আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি।
- কৃষির প্রধান উপাদান হল মাটি।
- তাছাড়া আরোও অনেক উপাদান যা কৃষির উৎপাদনের সাথে জড়িত যেমন: পানি, তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ইত্যাদি কৃষি উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।
- বিজ্ঞানের যে শাখায় কৃষির উৎপাদন প্রযুক্তি ও কৃষি বিষয় সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়াদি জানা যায় তাকে কৃষি শিক্ষা বলে। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ।
- কৃষি কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে দেশজ অর্থনীতি।
- বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের মূল উপাদান হল কৃষি।
- দেশের প্রায় শতকরা ৭০-৮০ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে এবং তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে যুক্ত।
- দেশের মোট রপ্তানিতে কৃষিজাত পণ্য যেমন- কাঁচাপাট, পাটজাত দ্রব্য, চিংড়ি চামড়া ও চা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
বীজের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কোনটি?
  1. BADC
  2. DAE
  3. NSB
  4. SCA
ব্যাখ্যা
SCA:
- পূর্ণরূপ Seed Certification Agency বা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী।
- কাজ: সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদিত ও বাজারজাতকৃত নিয়ন্ত্রিত ফসলের (ধান, গম, পাট, আলু, আখ, মেস্তা ও কেনাফ) বীজের প্রত্যয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ।
- এছাড়া বীজের মান পরীক্ষা করে ভ্যারাইটি অবমুক্তকরণ ও নিবন্ধন, বীজের মান পরীক্ষা, ট্যাগ প্রদান প্রভৃতি।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী ওয়েবসাইট। 
৪০.
ধানের উন্নত জাত ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
  2. বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট
  3. বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান:
- বাংলাদেশে অনেকগুলো কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- বেশিরভাগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানই নির্দিষ্ট ফসলের উপরে গবেষণা করে থাকে।
- যেমন: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ধানের উন্নত জাত ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে।
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাট উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে।
- বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট ইক্ষু উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে থাকে।
- বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন ফসলের উপর গবেষণা করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ধান নিয়ে গবেষণা করে না। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই। 
৪১.
নিষিক্ত পরিপক্ক ডিম্বককে কী বলা হয়?
  1. উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ
  2. কৃষিতাত্ত্বিক বীজ
  3. অপ্রকৃত বীজ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বীজ: 
- বীজ একটি মৌলিক কৃষি উপকরণ।
- বীজের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশ বিস্তার ঘটে।
- উদ্ভিদ বিজ্ঞান অনুযায়ী নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বককে বীজ বলে।
- আমরা জানি উদ্ভিদের অন্যান্য অঙ্গ ব্যবহার করেও বংশ বিস্তার সম্ভব।
- কৃষিতত্ত্ব এগুলোকেও বীজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- কৃষিবিদগণ এগুলোকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বলেন আর নিষিক্ত পরিপক্ক ডিম্বককে বলা হয় সত্যিকার বীজ (true seed) বা উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ (sexual seed)।
- বীজের মাধ্যমে উদ্ভিদের জাতের গুণাগুণ পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪২.
হানি কুইন কোন ফসলের জাত?
  1. আম
  2. কাঁঠাল
  3. আনারস
  4. পেঁপে
ব্যাখ্যা
আনারস: 
- আনারস ভিটামিন এ, বি ও সি সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল।
- আনারস সাধারণত তাজা পাকা ফলই খাওয়া হয়।
- কচি ফলের শাঁস ও পাতার রস সেবন করলে কৃমি হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
- এটি বলবৃদ্ধিকারী ও কাশি কফ নিরাময়ে কাজ করে।
- আনারস একটি যৌগিক ফল বা সরোসিস নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের সিলেট, টাঙ্গাইলের মধুপুর, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নরসিংদী এলাকায় চাষ হয়।
- বাংলাদেশের জাতগুলি হল হানি কুইন, জায়ান্ট কিউ, ঘোড়াশাল ও জলচুপি।
- হানি কুইন: এটি একটি আগাম জাত। মে-জুন মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়। ফল খুব মিষ্টি ও রসালো হয়।
- জায়ান্ট কিউ: এটি একটি নাবী জাত। এ ফলের ওজন অন্যান্যগুলোর তুলনায় বড় অর্থাৎ ১.৫ ৩.০ কেজি হয়। ফল মিষ্টি এবং আঁশ কম।
- ঘোড়াশাল: ঘোড়াশাল অঞ্চলে হয় বলে এর নাম ঘোড়াশাল হিসেবে পরিচিত। অন্য জাতের তুলনায় টক হয়। ফল মে-জুন মাসে আহরণের উপযোগী হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
নিচের কোনটি বহিঃপরজীবীর উদাহরণ?
  1. আটালি
  2. পাতা কৃমি
  3. ফিতা কৃমি
  4. গোল কৃমি
ব্যাখ্যা
পরজীবী: 
- যেসব ক্ষুদ্র প্রাণী বড়ো প্রাণীর দেহে আশ্রয় নেয় তাদেরকে পরজীবী বলে।
- এরা আশ্রয়দাতার দেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে বেঁচে থাকে ও বংশবিস্তার করে।
- পরজীবীকে দুইভাগে ভাগ করা হয়, যথা-
১) বহিঃপরজীবী- উকুন, মশা, মাছি, আটালি, মাইট ইত্যাদি পশুর চামড়ার উপর বাস করে এবং দেহ হতে রক্ত শোষণ করে পশুর ক্ষতি করে থাকে।
২) দেহাভ্যন্তরের পরজীবী: এরা পশুর দেহের ভেতর বাস করে, যা কৃমি নামে পরিচিত। কৃমি দেখতে পাতা, ফিতা ও গোল বলে এদেরকে পাতা কৃমি, ফিতা কৃমি ও গোল কৃমি বলা হয়। এরা আশ্রয়দাতার দেহের ভিতর হতে পুষ্টি গ্রহণ করে পশুকে রোগাক্রান্ত করে তোলে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৪.
নিচের কোনটি কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য নয়?
  1. জৈব এসিড
  2. প্রোপায়োনেট
  3. অ্যাসিটিক এসিড
  4. সরিষার তেল
ব্যাখ্যা
সংরক্ষকদ্রব্য (Preservatives বা প্রিজারভেটিভস): 
- খাদ্য পচে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বহুদিন যাবৎ অবিকৃত রাখার জন্য যেসব দ্রব্য ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে খাদ্য সংরক্ষক (Food Preservatives) দ্রব্য বলে।
খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Food Preservatives) দু প্রকার। যথা-
i) প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Natural Food Preservatives) 
ii) কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Artificial Food Preservatives)।

i) প্রাকৃতিক সংরক্ষক দ্রব্য (Natural Food Preservatives):
- প্রকৃতি থেকে সরাসরি প্রাপ্ত কিছু কিছু রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে সেগুলো খাদ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এগুলোকে প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক (Natural Food Preservatives) দ্রব্য বলে।
- যেমন- সরিষার তেল, চিনির দ্রবণ, খাদ্য লবণের দ্রবণ প্রভৃতি।

ii) কৃত্রিম সংরক্ষক দ্রব্য (Artificial Food Preservatives):
- যেসব কৃত্রিম রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্য সংরক্ষণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেগুলোকে কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Artificial Food Preservatives) বলে।
- যেমন- জৈব এসিড ও এর লবণ, প্রোপায়োনেট, বেনজোয়েট, সরবেট, অ্যাসিটিক এসিড প্রভৃতি।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
গমের ব্লাস্ট রোগের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. নেমাটোড
ব্যাখ্যা
গমের ব্লাস্ট রোগ (Wheat Blast):
- Magnaporthe oryzae Triticum (MoT) নামক এক ধরনের ছত্রাক এর আক্রমণে গমের ব্লাস্ট রোগ হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, গম চাষের ব্লাস্ট-সংবেদনশীল এলাকা প্রায় ৬৫%।
- ২০১৬ সালে, বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ভোলা এবং দক্ষিণের অন্যান্য জেলায় হঠাৎ করে গমের ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়।
- ব্রাজিল থেকে এ রোগ বাংলাদেশে আসে।
- ব্লিচড স্পাইকস এবং স্পাইকের গোড়ায় কালচে ধূসর বর্ণের দাগ (গমের ব্লাস্টের সাধারণ লক্ষণ)
- পাতায় চোখের আকৃতির গাঢ় ধূসর দাগ পড়ে। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)
৪৬.
নিম্নের কোনটি গ্রীষ্মকালীন ফুল?
  1. স্যালভিয়া
  2. পপি
  3. জিনিয়া
  4. ডায়ান্থাস
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকালীন ফুল - জিনিয়া।

গ্রীষ্মকালীন ফুল:

- বাংলা বারো মাসের ছয় ঋতুর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও প্রথম ঋতু গ্রীষ্মকাল।
- বৈশাখ আর জ্যৈষ্ঠ মাস মিলে গ্রীষ্মকাল। 
- গ্রীষ্মকালীন ফুল" বলতে মূলত গ্রীষ্মকালে ফোটে এমন ফুলকে বোঝায়। 

⇒ বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে।
- এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, জারুল, জিনিয়া, অর্জুন, ইপিল, কনকচূড়া, করঞ্জা, কামিনী, ক্যাজুপুট, গাব, জারুল, জ্যাকারান্ডা, তেলসুর, দেবদারু, নাগকেশর, নাগেশ্বর, নিম, পরশপিপুল, পলকজুঁই, পাদাউক, পারুল, পালাম, বনআসরা, বরুণ, বাওবাব, বেরিয়া, মাকড়িশাল, মিনজিরি, মুচকুন্দ, মেহগনি, রক্তন, সোনালু, স্বর্ণচাঁপা অন্যতম।

অন্যদিকে,
- সালভিয়া, পপি, ডায়ান্থাস শীত মৌসুমের ফুল। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৭.
ধান রোপনের পূর্বে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক কোনটি?
  1. গ্লাইফোসেট
  2. এমসিপিএ
  3. কারফেন্ট্রাজন ইথাইল
  4. প্রিটাইলাক্লোর
ব্যাখ্যা
ধানের জমিতে সঠিক আগাছানাশক নির্বাচন:

১) ধান রোপনের পূর্বে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (প্রি-প্লান্ট):
- এটি সাধারণত রোপনের পূর্বে যে সমস্ত আগাছা জমিতে জন্মায়, তাদের দমন করে।
- উদাহরণ- গ্লাইফোসেট, গ্রামোক্সন এবং ২, ৪ ডি ইত্যাদি।

২) রোপনের পর ধান ক্ষেতে আগাছা জন্মানোর আগে ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (প্রি-ইমারজেন্স):
- জমিতে ধান রোপনের পর এবং আগাছা অংকুরোদগমের পূর্বে ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত রোপন/বপনের ৩-৫ দিন পর ব্যবহার করা হয়।
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ আগাছানাশকই এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- উদাহরণ- বুটাক্লোর ৫জি, প্রিটাইলাক্লোর ৫০০ ইসি, বিসপাইরিবেক সোডিয়াম + বেনসালফিউরান মিথাইল, এসিটাক্লোর + বেনসালফিউরান মিথাইল, অক্সাডায়াজন ২৫ ইসি গ্রুপের আগাছানাশক।

৩) আগাছা অংকুরোদগমের পর ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (পোস্ট ইমারজেন্স):
- এ শ্রেণীর আগাছানাশক ধানের জমিতে আগাছা জন্মানোর পর ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত আগাছার পাতা যখন ১-২টি হয়, তখন এই আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ স্বরূপ- পাইরাজোসালফিউরান ইথাইল ১০ ডব্লিউপি, প্রিটাইলাক্লোর+পাইরাজোসালফিউরান ইথাইল, ডায়াফিমনি ২০০ এসসি, ইথক্সিসালফিউরান ১৫০ ডব্লিউপি, বিসপাইরিবেক সোডিয়াম এসসি, ফেনক্সলাম ২৪০ এসসি ইত্যাদি গ্রুপের আগাছানাশক।

৪) ধানের আগাছার পাতা ৩-৪টি হওয়ার পর ব্যবহারযোগ্য আগাছানাশক (লেট পোস্ট ইমারজেন্স):
- এ ধরনের আগাছানাশক আগাছার পাতায় স্প্রে করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।
- যেমন- ২, ৪ ডি এমাইন, কারফেন্ট্রাজন ইথাইল এবং এমসিপিএ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৪৮.
গমের আলগা ঝুল রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় কখন?
  1. শিষ বের হওয়ার পূর্বে
  2. শিষ বের হওয়ার সময়
  3. শিষ বের হওয়ার পরে
  4. গম পাকার পরে
ব্যাখ্যা
গমের ছত্রাকজনিত রোগ: 
- গমের শিষ বের হওয়ার সময় আলগা ঝুল রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- আক্রান্ত গমের শিষ প্রথম দিকে পাতলা পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকে।
- পরে তা ফেটে যায় এবং দেখতে কালো ঝুলের মতো দেখায়।
- গমের ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে।
- রোগ প্রতিরোধী জাতের গম যেমন- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব চাষ করতে হবে।
- রোগমুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
- গম বীজ বপনের আগে শোধন করে নিতে হবে।
- সুষম হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৯.
কার্ডিনাল কোন ফসলের একটি জাতের নাম?
  1. কলা
  2. আলু
  3. গম
  4. ধান
ব্যাখ্যা
কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, অগ্নিশ্বর, কবরী।

আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫০.
নিচের কোনটি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. জলবায়ু কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের বায়ুমণ্ডলের গড় অবস্থা
  2. জলবায়ু ধীরে পরিবর্তনশীল
  3. মাটির গুণাবলিতে প্রভাব ফেলে না
  4. ফসলের প্রকার ও জাত নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে
ব্যাখ্যা
জলবায়ু: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কথাটি আমরা প্রায়ই শুনতে পাই।
- জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে হয়।
- কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে সেই স্থানের জলবায়ু বলে।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১) জলবায়ু কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের বায়ুমণ্ডলের গড় অবস্থা।
২) জলবায়ু ধীরে পরিবর্তনশীল।
৩) মাটির গুণাবলিতে প্রভাব ফেলে।
৪) কোনো কোনো অঞ্চলে ফসলের প্রকার ও জাত নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১.
মাটির ভৌত গুণাগুণ বলতে নিচের কোনটিকে বোঝায়?
  1. মাটির লবণাক্ততা
  2. মাটির বর্ণ
  3. অণুজীবের কার্যাবলি
  4. মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব
ব্যাখ্যা
মাটির গুণাগুণ: 
- ফসল উৎপাদনে মাটির গুণাগুণ প্রভাব বিস্তার করে।
- কোন মাটিতে কোন ধরনের ফসল উৎপাদন করা যাবে তা মাটির গুণাগুণের উপর নির্ভর করে।
- মাটির সকল গুণাবলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা- (ক) ভৌত গুণাগুণ (খ) রাসায়নিক গুণাগুণ (গ) জৈবিক গুণাগুণ।

(ক) মাটির ভৌত গুণাগুণ: মাটির ভৌত গুণাগুণ বলতে ১) মাটির বুনট ২) মাটির সংযুতি ৩) মাটির ঘনত্ব ৪) মাটির বর্ণ ৫) মাটির তাপমাত্রা ৬) মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ৭) মাটির বায়ু চলাচল ইত্যাদিকে বোঝায়।
(খ) মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ: মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ বলতে ১) মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব ২) উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ৩) মাটির লবণাক্ততা ইত্যাদিকে বোঝায়।
(গ) মাটির জৈবিক গুণাগুণ: মাটির জৈবিক গুণাগুণ বলতে ১) অণুজীবের প্রকার ২) অণুজীবের সংখ্যা ৩) অণুজীবের কার্যাবলি ইত্যাদিকে বোঝায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫২.
বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান -
  1. ক্রমহ্রাসমান
  2. ক্রমবর্ধমান
  3. সবচেয়ে বেশি
  4. সবচেয়ে কম
ব্যাখ্যা
• অর্থনীতিতে কৃষির অবদান:
- জিডিপিতে সবচেয়ে ছোট খাত কৃষিখাত।
- আবার কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত কৃষিখাত।
- অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম।
- সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান: ক্রমহ্রাসমান।

• স্থিরমূল্যে জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান:
- ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে: ১৩.৬২ শতাংশ,
- ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে: ১৩.১৪ শতাংশ,
- ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে: ১২.৫৬ শতাংশ,
- ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে: ১২.৫২ শতাংশ,
- ২০২০-২০২১ অর্থবছরে: ১২.০৭ শতাংশ,
- ২০২১-২০২২ অর্থবছরে: ১১.৫০ শতাংশ।
- ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে: ১১.২০ শতাংশ।
- ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে: ১১.০২ শতাংশ।

উৎস: BBS ও অর্থ মন্ত্রণালয়।
৫৩.
নিম্নোক্ত কে কৃষকদের কৃষিবিষয়ক তথ্যাদি ও সেবা দিয়ে থাকে?
  1. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
  2. প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
  3. মৎস্য অধিদপ্তর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
কৃষিবিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস: 
- অভিজ্ঞ কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কৃষকদের কৃষিবিষয়ক তথ্যাদি ও সেবা দিয়ে থাকেন।
- অভিজ্ঞ কৃষক একজন স্থানীয় নেতা এবং একজন পরামর্শদাতা।
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা যার যার অবস্থান থেকে কৃষকদের তথ্য প্রদান ও সেবা দিয়ে থাকেন।
- তারা নির্দিষ্ট প্রযুক্তির উপর পোস্টার, লিফলেট, বুকলেট তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।
- আবার রেডিও, টেলিভিশনের মাধ্যমেও কৃষিতথ্য প্রচার করেন।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৪.
ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz Anatomy) কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?
  1. C3 উদ্ভিদ
  2. CAM উদ্ভিদ
  3. C4 উদ্ভিদ
  4. সব উদ্ভিদে দেখা যায়
ব্যাখ্যা
হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র (Hatch and Slack cycle):
- দু'জন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M. D. Hatch এবং C. R. Slack (১৯৬৬) ইক্ষু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার সময় দেখান যে, সালোকসংশ্লেষণের সময় এদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার-কার্বনবিশিষ্ট।
- এ চার কার্বনবিশিষ্ট পদার্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড।
- তাদের নাম অনুযায়ী সালোকসংশ্লেষণের এ চক্রকে হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র বলা হয়।
- যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz Anatomy):
- ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি হল C4 উদ্ভিদ-এর পাতার একটি বিশেষ গঠন যা উচ্চ তাপমাত্রা এবং শুষ্ক পরিবেশে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে।
- C4 উদ্ভিদের পাতার বান্ডলশীথ কোষের চারপাশে মেসোফিল কোষগুলো একটি বিশেষ বলয় তৈরি করে, একেই ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Byzus and Researchgate.
৫৫.
সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় বালাইসমূহের ঘনত্ব কীরূপ থাকবে?
  1. সম্পূর্ণ ধ্বংস করা
  2. অর্থনৈতিক দ্বার প্রান্তের নিচে রাখা
  3. অর্থনৈতিক ক্ষতির ঘনত্বের উপরে যাওয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমন্বিত বালাই বা আপদ দমন ব্যবস্থাপনা (Integrated Pest Management, IPM) :
- উদ্ভিদ সংরক্ষণের একটি পদক্ষেপ যার মাধ্যমে অনেক প্রকারের দমন পদ্ধতি সমন্বয় করে বালাইসমূহ অর্থনৈতিক স্বারপ্রান্তের (Economic threshold) নিচে রাখা হয়।
- সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য বা মূলনীতি হলো পোকা-মাকড় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস নয় বরং অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে শস্যকে রক্ষা করা।
- শস্য ভিত্তিক (Cropping system) সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা করা হয়ে থাকে।
- একটি শস্য উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ বীজ বপন থেকে ফসল কাটার পূর্ব পর্যন্ত নানাবিধ দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

উৎস: স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডিভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
নিচের কোনটি ছত্রাকজনিত রোগ?
  1. পাতা কুঁকড়ানো
  2. উফরা
  3. পাউডারি মিলডিউ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গোলাপের পাউডারি মিলডিউ: 
- এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ।
- শীতকালে কুয়াশার সময় এ রোগের বিস্তার ঘটে।
- এ রোগে আক্রান্ত হলে পাতা, কচিফুল ও কলিতে সাদা পাউডার দেখা যায়।
- ফলে কুঁড়ি না ফুটে নষ্ট হয়ে যায়।
- এ রোগ দমন করতে হলে আক্রান্ত ডগা বা পাতা তুলে পুড়িয়ে দিতে হবে।
- এছাড়া থিওভিট বা সালফার, ডাইথেন এম-৪৫ যেকোনো একটি পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।

উল্লেখ্য,
- ধানের উফরা রোগ Ufra Disease of Rice (Ditylenchus angustus) কৃমিজনিত রোগ।
- পাতা কুঁকড়ানো রোগ সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭.
কোন মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়?
  1. বেলে মাটি
  2. দোঁআশ মাটি
  3. এঁটেল মাটি
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
- এদেশের প্রায় সব জেলায় পাটের চাষ হয়।
- গত কয়েক বছরে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য যেমন, ব্যাগ, বস্তা, জুতা এমনকি শাড়ী বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিদেশের বাজারে এসব পণ্য রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি উৎপাদনের জন্য এর আধুনিক চাষপদ্ধতি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জলবায়ু:
- পাট উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল, পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হল ২৫-৩৫° সে. এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯০%।
- পাট চাষের সময় সুষমভাবে বর্ণিত ১২৫-২০০ সে. মি. বৃষ্টিপাত উপকারী, চাষ অবস্থায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ক্ষতিকর।

⇒ মাটি:
- পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব পদার্থযুক্ত দোঁআশ মাটি পাটের জন্য ভাল।
- বেলে দোআশ বা এটেল দোঁআশ মাটিতে পাট চাষ করলেও ভাল ফসল পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটিতে পানি জন্মে থাকে বলে তা পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়।

⇒ জমি নির্বাচন:
- উঁচু, মাঝারি নিচু এবং মাঝারি নিচু জমি অর্থাৎ যে জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না বা জমে গেলেও নিষ্কাশন করা সম্ভব তেমন জমিই পাট চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

⇒ পাটের জাত:
- পাটের প্রধান প্রজাতি ২টি:
১। দেশী পাট: Corchorus capsularis
- ডি-১৫৪-২' সিভিএল-১ (সবুজ পাট), সিভিই-৩ (আশু পাট), সিসি-৪৫ (জো পাট); এটম পাট-৩৮, বিজেআরআই দেশিী পাট-৫; বিজেআরআই দেশি-৬, বিজেআরআই দেশি পাট-৭, বিজেআরআই দেশি
২। তোষা পাট: Corchorus olitorius
- ফাল্গুনী তোষা (ও-৯৮৯৭), ওএম-১, ৩-৪, ৩-৭২, বিজেআরআই তোষা পাট-৪, বিজেআর আই তোষা পাট-৫, ৩-৭৯৫, বিজেআরআই তোষা পাট-৬ (ও-৩৮২০)।

⇒ বীজ বপনের সময়:
- বাংলাদেশের কৃষি ঋতুর ভিত্তিতে পাট উৎপাদনের জন্য খরিপ-১ ঋতু হল উপযুক্ত সময় (মার্চ-এপ্রিল থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত)।
- দেশি পাট সাধারণত ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে এই সময়ের মধ্যে বুনতে হয়।
- তবে কোন জমিতে যদি জুলাই আগষ্টের দিকে বর্ষার পানি জমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সে জমিতে কিছুটা আগাম বীজ বোনা উচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮.
নিচের কোনটি গমের অনুমোদিত জাত?
  1. অগ্নিশ্বর
  2. আকবর
  3. বর্ণালি
  4. বিপ্লব
ব্যাখ্যা
গমের অনুমোদিত জাত: 
- পৃথিবীর সকল দেশে খাদ্যশস্য হিসেবে দানা ফসল চাষ করা হয়।
- বিশ্বের অনেক দেশে গম প্রধান খাদ্যশস্য।
- বাংলাদেশে ধানের পরে খাদ্যশস্য হিসেবে গমের অবস্থান দ্বিতীয়।
- বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলাতেই গমের চাষ করা হয়।
- তবে দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয়।
- বাংলাদেশে গমের অনেক উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- তন্মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয় ইত্যাদি জাত জনপ্রিয়।

উল্লেখ্য,
- অগ্নিশ্বর কলার জাত।
- বর্ণালি ভুট্টার জাত।
- বিপ্লব ধানের জাত। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯.
ফার্টিগেশন বলতে কী বুঝায়?
  1. আর্টিফিসিয়াল ফার্টিলাইজেশন
  2. সেচ এর সাথে হরমোনের প্রয়োগ
  3. সেচ এর সাথে পেস্টিসাইড প্রয়োগ
  4. সেচ এর সাথে রাসায়নিক সার প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
ফার্টিগেশন:
- ফার্টিগেশন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সেচ প্রযুক্তি।
- এতে সেচের পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করা হয়।
- কেবলমাত্র পানিতে দ্রবণীয় সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশ ইত্যাদি ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়।
- ফলে ফসলের জমিতে সেচ এবং সার একই সঙ্গে প্রয়োগ করা যায়।
- প্রতি ১৪০ লিটার পানিতে ১ কেজি সার মিশাতে হয়।
- সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিজ্ঞানীগণ উদ্যানতত্ত্ব ফসলের উপর এ পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভাল ফল পেয়েছেন।

উৎস: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই 
৬০.
সাইলেজ বলতে নিচের কোনটিকে বোঝায়?
  1. রোদে শুকানো ঘাস
  2. বায়ুনিরোধক স্থানে সংরক্ষিত ঘাস
  3. কৃত্রিম উপায়ে শুকানো ঘাস
  4. বায়ুনিরোধক ধারক
ব্যাখ্যা
সাইলেজ তৈরি: 
- বায়ুনিরোধক স্থানে (সাইলো) সংরক্ষিত ঘাসকে সাইলেজ বলে।
- সাইলেজ তৈরির প্রক্রিয়াকে অ্যানসাইলেজিং বলে।
- সাধারণত তাজা ও সবুজ ঘাস সংরক্ষণের জন্য এ পদ্ধতিটি ব্যবহার হয়।
- সাইলেজ তৈরির জন্য বায়ুনিরোধক বা মোটামুটিভাবে বায়ু চলাচল করতে পারে না এমন ধরনের ধারককে সাইলো বলে।
- সাইলো তিন প্রকার। যথা:- ট্রেন্স সাইলো, বাংকার সাইলো ও টাওয়ার সাইলো।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
ভিজ্যুয়াল এইড এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ছবি
  2. চার্ট
  3. বক্তৃতা
  4. নকশা
ব্যাখ্যা
- বক্তৃতা ভিজ্যুয়াল এইড এর অন্তর্ভুক্ত নয়। 

ভিজ্যুয়াল এইড: 
- ভিজ্যুয়াল এইড ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বক্তব্য শিক্ষর্থীর নিকট যথাযথভাবে পৌছে দেওয়া ও বক্তব্যকে বিষদভাবে ব্যাখ্যা করা।
- ভিজ্যুয়াল এইড হচ্ছে সেই সমস্ত সামগ্রী যা শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ছবি, চার্ট, নকশা ইত্যাদির সাহায্যে বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করে।
- প্রাচীন চীনা প্রবাদে আছে "এক হাজার বার শোনার চেয়ে এক বার দেখা অনেক ভাল"।
- কোন প্রযুক্তি শিক্ষাদানের সময় আলোচনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিছু ভিজ্যুয়াল এইড প্রদর্শন করলে শিক্ষার্থীগণ উপস্থাপিত বিষয়বস্তু তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে।
- কাজেই ভিজ্যুয়াল এইড বলতে আমরা সেসব দৃশ্যবস্তুকে বুঝাই যা দেখে শিক্ষার্থী বিষয় সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পেতে পারে।

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ, BAged, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬২.
পুকুরে রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করা হয় কেন?
  1. পুকুর শুকানোর জন্য
  2. পুকুর জীবাণুমুক্ত করা
  3. রাক্ষুসে মাছ নিধন
  4. চুনের পরিবর্তে প্রয়োগ করা হয়
ব্যাখ্যা
রাক্ষুসে ও অপ্রয়োজনীয় মাছ নিধন:
- পুকুরে রাক্ষুসে মাছ ও অপ্রয়োজনীয় মাছ রাখা যাবে না।
- সেচের মাধ্যমে পুকুর শুকিয়ে বা ঘন ফাঁসের জাল বারবার টেনে এ কাজ করা যেতে পারে।
- পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ৩০ সেমি পানির গভীরতার জন্য প্রতি শতকে ৩০ ৩৫ গ্রাম মাছ মারার বিষ রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করে রাক্ষুসে মাছ মেরে ফেলতে হবে।
- রোটেনন দেওয়ার পর পুকুরের পানি ৭-১০ দিন ব্যবহার করা যাবে না।
- রোটেনন ব্যবহারে মৃত মাছ খাওয়া যাবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩.
ফসলের গাছ বড় হওয়ার জন্য জমিতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সরবরাহ করাকে কী বলা হয়?
  1. সেচ
  2. নিষ্কাশন
  3. ফার্টিলাইজেশন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সেচ ও নিষ্কাশন: 
- গাছ পানি পায় সেচ বা বৃষ্টি থেকে।
- যখন পানি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়, তখন তা সরানোর প্রয়োজন পড়ে, যাকে নিষ্কাশন বলে।
- ফসলের গাছ বড় হওয়ার জন্য জমিতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সরবরাহ করাকে সেচ বলা হয়।
- যেকোনো জীবের বাঁচার জন্য যেমন পানি অপরিহার্য, ফসলের জন্যও তেমনি।
- ফসল সুন্দরভাবে বাঁচার ও ফলন দেবার জন্য মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও পানিতে দ্রবীভূত পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে।
- খরা, অনাবৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে ফসলের জমিতে পানির আবশ্যকতা দেখা দেয়।
- আধুনিক কৃষিব্যবস্থায় সেচ অত্যাবশ্যক।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৪.
চিনি ফসলের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. আখ
  2. খেজুর
  3. তাল
  4. চা
ব্যাখ্যা
চিনি ফসল:
- যে সমস্ত ফসলের রস থেকে মিষ্টিজাতীয় পদার্থ যেমন- চিনি, গুড়, মিছরি ইত্যাদি তৈরি করা হয়, সেগুলোকে চিনি ফসল বলে।
- যেমন- আখ, বিট, খেজুর, তাল ইত্যাদি।
- খেজুর, তাল মাঠ ফসলের আওতাধীন না হলেও এরা চিনি ফসলের অন্তর্ভুক্ত।

পানীয় ফসল:
- যে সকল ফসল পানীয় দ্রব্য উৎপাদনের জন্য চাষ করা হয়, সেগুলোকে পানীয় ফসল বলে।
- যেমন-চা, কফি, কোকো ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
উদ্ভিদের অধিক কুশি সৃষ্টিতে সহায়তা করে কোন পুষ্টি উপাদান?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের কাজ:
- উদ্ভিদের জীবনচক্রে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন কাজ করে থাকে।
- নিচে উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পুষ্টি উপাদানের কার্যাবলি বর্ণনা করা হলো-

নাইট্রোজেন:
(১) গাছকে ঘন সবুজ রাখে
(২) গাছের পাতা, কান্ড ও ডালপালার বৃদ্ধি ঘটায়
(৩) অধিক কুশি সৃষ্টিতে সহায়তা করে
(৪) শিকড় বিস্তারে সহায়তা করে।

ফসফরাস:
(১) উদ্ভিদের শিকড় মজবুত করে
(২) সময়মতো ফুল ফোটায় ও ফসল পাকায়
(৩) ফসলের গুণগত মান বাড়ায়।

পটাশিয়াম:
(১) শক্ত ও মজবুত কাণ্ড গঠনে সহায়তা করে
(২) উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
(৩) উদ্ভিদের পাতা, কান্ড ও ফলের বৃদ্ধি সমুন্নত রাখে
(৪) গাছের শিকড় বৃদ্ধি করে (৫) দানা জাতীয় শস্যের দানা পুষ্ট করে।

ক্যালসিয়াম:
(১) উদ্ভিদের মূল গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
(২) উদ্ভিদকোষকে শক্তি প্রদান করে
(৩) ডাল ফসলের ফলন বাড়ায়
(৪) ফল জাতীয় শস্যের কাণ্ড শক্ত করে
(৫) খাদ্যশস্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৬.
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS) এ কোন ধরনের সার ব্যবহৃত হয়?
  1. রাসায়নিক সার ও হরমোন
  2. জৈব সার
  3. রাসায়নিক সার
  4. জৈব ও রাসায়নিক সার
ব্যাখ্যা
• সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS):
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System – IPNS) হলো একটি বৈজ্ঞানিক কৌশল, যার মাধ্যমে ফসলের সঠিক পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়
- এ ব্যবস্থায় জৈব ও রাসায়নিক উভয় ধরনের সার মিলিয়ে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।


IPNS ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্যসমূহ:
• পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষা:
ফসলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যথাযথ পরিমাণে সরবরাহ করা।
• মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন:
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে এর গুণগত মান বজায় রাখা।
• উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি:
ফসলের পরিমাণ ও মান – উভয়ই উন্নত করা।
• পরিবেশ রক্ষা:
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।

IPNS-এর প্রধান উপাদানসমূহ:
• জৈব সার:
যেমন – কম্পোস্ট, গোবর সার, পচা উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি।
• রাসায়নিক সার:
যেমন – নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়ামসহ অন্যান্য মৌলিক সার।

উৎস: Fao Website.
৬৭.
কোন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাট উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে?
  1. BRRI
  2. BARI
  3. BINA
  4. BJRI
ব্যাখ্যা
কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান:
- বাংলাদেশে অনেকগুলো কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
- বেশিরভাগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানই নির্দিষ্ট ফসলের উপরে গবেষণা করে থাকে।
- যেমন: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ধানের উন্নত জাত ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে।
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) পাট উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে।
- বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট চিনি ফসল উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে থাকে।
- বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) ও পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) বিভিন্ন ফসলের উপর গবেষণা করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৮.
বন্যাকবলিত এলাকার জন্য উদ্ভাবিত ধানের জাত কোনটি?
  1. ব্রি ধান৫১
  2. ব্রি ধান৫৬
  3. ব্রি ধান৫৪
  4. ব্রি ধান৫৭
ব্যাখ্যা
- বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বাংলাদেশের প্রধান কৃষি সমস্যা।
- বন্যার শেষে ধান চাষের জন্য বিলম্ব জাত হিসেবে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ব্রিধান ২২ ব্রি ধান২৩ ব্রি ধান-৩৭ এবং ব্রি ধান-৩৮ নামে চারটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।
- এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ব্রি ধান-১১, ব্রি ধান-১২, ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ ও ব্রি ধান৭৯ নামের আরও পাঁচটি জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে।
- এই পাঁচ জাতের ধান পানির নিচে ১০-১৫ দিন টিকে থাকতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৯.
আবৃত বীজের উদাহরণ কোনটি?
  1. ধান
  2. সাইকাস
  3. পাইন
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বীজাবরণের উপস্থিতির ভিত্তিতে বীজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) অনাবৃত বীজ: এসব বীজে কোনো আবরণ থাকে না। যেমন: পাইন, সাইকাস ইত্যাদি।
(খ) আবৃত বীজ: এসব বীজের আবরণ থাকে। যেমন: ধান, সরিষা, ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭০.
বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কত সাল থেকে কৃষি ঋণ প্রদান করছে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে কৃষি ঋণ বিতরণে বিভিন্ন কর্মসূচী:
- বর্তমানে বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহ প্রত্যক্ষভাবে কৃষকদেরকে ঋণ প্রদান করে থাকে।
- পূর্বে পাট বাজারজাতকরনের জন্য কৃষিক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋন প্রদান সীমাবদ্ধ ছিল।
- কিন্তু ১৯৭৭ সাল হতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশ ও সহযোগিতায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

১. ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলো ঋণগ্রহীতা কৃষকদেরকে যাতে অযথা হয়রানি কিংবা শোষণ করতে না পারে সেজন্য সরকার একটি জাতীয় ঋণ সালিশ বোর্ড গঠন করেছে। এ বোর্ড ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে।
২. কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগের স্বল্পতা দূর করার জন্য সরকার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। এগুলোর মাধ্যমে মাঝারি সুদের হারে কৃষকদেরকে স্বল্প, মধ্যম দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া নগদ তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে সরাকার ৪ টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কৃষি ঋণদান কার্যক্রমের সাথে জড়িত করেছে।
৩. সরকার কৃষি ঋণবিতরণ সহজতার করার লক্ষ্যে বর্ধিত কলেবরে কৃষি/পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য নীতিমালায় নতুন নতুন বিষয় সন্নিবেশিত হচ্ছে।
৪. সকল ব্যাংকের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিঋণের পরিমান ও আওতা বাড়ানো এবং পল্লী এলাকায় ব্যাংকিং কর্মকান্ডের সম্প্রসারণের কৌশলগত পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে।
৫. প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালু করেছে।
৬. আমদানি বিকল্প শস্য চাষে শতকরা ৪ ভাগ রেয়াতি সুদের হারে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচ, এস, সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
রুই জাতীয় মাছ চাষের জন্য কত তাপমাত্রা উত্তম?
  1. ৫°-১৫° সেলসিয়াস
  2. ১০°-২০° সেলসিয়াস
  3. ১৫°-২০° সেলসিয়াস
  4. ২৫°-৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
মাছ চাষের জন্য পানির তাপমাত্রা:
- পানির তাপমাত্রার উপরও মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে।
- শীতকালে মাছের বৃদ্ধি কম হয় এবং গরমকালে বেশি বাড়ে।
- যেমন: রুই জাতীয় মাছ চাষের জন্য ২৫°-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উত্তম

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭২.
উদ্ভিদের কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলতে কী বুঝায়?
  1. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  2. ত্বকীয় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  4. কাণ্ডীয় প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন:
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে।

• ত্বকীয় প্রস্বেদন (Cuticular transpiration):
- যে প্রস্বেদন কিউটিকলের মধ্য দিয়ে ঘটে তাকে ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিনের আবরণকে কিউটিকল বলে।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করা কিউটিকলের প্রধান কাজ।
- কিউটিকল পাতলা হলে উহা ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৩.
উপযুক্ত পরিবেশে কোন সজীব বীজের অঙ্কুরোদগম না হওয়াকে কী বলে?
  1. বীজের তেজ
  2. বীজের সুপ্তাবস্থা
  3. বীজের সতেজতা
  4. অঙ্কুরোদগম অক্ষমতা
ব্যাখ্যা
বীজের সুপ্ততা: 
- কোন সজীব বীজকে উপযুক্ত পরিবেশে বপন করলে অঙ্কুরোদগম হওয়াই স্বাভাবিক।
- কিন্তু সকল বীজে এরূপ ঘটেনা।
- কোন কোন বীজের জীবনকালে সকল বৃদ্ধি প্রক্রিয়া থেমে থাকে, যদিও শ্বসন প্রক্রিয়া অতি ধীর গতিতে চলতে থাকে।
- বীজের এ অবস্থাকে সুপ্ততা বলে। সুপ্ততার অবসান হলে বীজের অঙ্কুরোদগম হয়।
- বীজের সুপ্ততা বীজ ভেদে কয়েকদিন থেকে কয়েক বৎসর হতে পারে।
- উপযুক্ত পরিবেশে কোন সজীব বীজের অঙ্কুরোদগম না হওয়াকেই বীজের সুপ্তাবস্থা বলে। উক্ত বীজকে সুপ্ত বীজ বলে।

উৎস: SEED AND SEED TECHNOLOGY, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪.
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৭৫.
সোর্ড সাকার এর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে কোনটি?
  1. আলু
  2. কলা
  3. আনারস
  4. পেঁপে
ব্যাখ্যা
কলার বংশ বিস্তার: 
- কলার বংশ বৃদ্ধি সাধারণত অযৌন উপায়ে মাটির নীচ থেকে উৎপন্ন চারা বা সাকার দ্বারা হয়ে থাকে।
- দুই প্রকারের সাকার উৎপন্ন হয়-
১। সোর্ড বা অসি সাকার: এটি প্রশস্ত গুড়িকন্দ, পাতাগুলি সরু বা তরবারি আকৃতির। এগুলো মাতৃ গুড়িকন্দ থেকে উৎপন্ন হয়।
২। পানি বা ওয়াটার সাকার: এর পাতাগুলি চওড়া, গুড়িকন্দ ছোট। এটি মাতৃ গুড়িকন্দের গুড়িকন্দের গভীরে পার্শ্বমুকুল থেকে উৎপন্ন হয়।
- বংশ বৃদ্ধির জন্য সোর্ড সাকার ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। কারণ সোর্ড সাকারে গাছের বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট খাদ্য জমা থাকে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
AIS এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Agriculture Information System
  2. Agricultural Information System
  3. Agriculture Information Service
  4. Agricultural Information Service
ব্যাখ্যা
AIS:
- AIS এর পূর্ণরূপ Agriculture Information Service বা কৃষি তথ্য সার্ভিস।
- এটি কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন একটি সংস্থা।
- এটি ১৯৬১ সালে কৃষি তথ্য সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- পরে ১৯৮০ সালে কৃষি তথ্য সার্ভিসে পরিণত হয়।
- কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কৃষি উন্নয়নমূলক প্রচার-প্রচারণার কাজটি করে থাকে।

ভিশন:
আধুনিক কৃষি তথ্য সেবা সহজলভ্যকরণ।

মিশন:
- প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও আইসিটি গণমাধ্যমের সহায়তায় কৃষি বিষয়ক তথ্য ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে সহজলভ্য করে জনসচেতনা সৃষ্টি।
- কৃষি তথ্য সার্ভিস মূলত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নলেজ সেন্টার থেকে প্রাপ্ত কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের গ্রহণযোগ্য করে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও আইসিটি মাধ্যমে কৃষি তথ্য বিস্তার করে থাকে।

উৎস: AIS ওয়েবসাইট
৭৭.
রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার আগে নিচের কোনটি করা জরুরি?
  1. জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার
  2. বীজ শোধন
  3. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফসল আবাদ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রতিকার:
- রোগাক্রান্ত হওয়ার পূর্বে ফসলের রোগের প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হয়।
- কারণ ফসল একবার রোগাক্রান্ত হয়ে গেলে প্রতিকার করা কঠিন।
- তাই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার আগে নিচে উল্লিখিত প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করা জরুরি:

১। জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার করা: বীজের মাধ্যমে অনেক রোগ ছড়ায়। তাই কৃষককে নীরোগ বীজ সংগ্রহ করতে হবে বা বীজ শোধন করে বুনতে হবে।

২। বীজ শোধন: অনেক বীজ আছে নিজেরাই রোগ বহন করে। বীজবাহিত রোগ জীবাণু নীরোগ করার জন্য বীজ শোধন একটি উত্তম প্রযুক্তি। এজন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়।

৩। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফসল আবাদ করা: ফসলের ক্ষেতে আগাছা থাকলে ফসল রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। কারণ আগাছা অনেক রোগের উৎস। তাই আগাছা পরিষ্কার করে চাষাবাদ করতে হবে।

৪। রোগাক্রান্ত গাছ পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা এক গাছ রোগাক্রান্ত হলে অন্য গাছেও ছড়িয়ে পড়ে। যাতে রোগ পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত গাছটি তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। নতুবা মাটি খুঁড়ে পুঁতে ফেলতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭৮.
বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান -
  1. ক্রমহ্রাসমান
  2. ক্রমবর্ধমান
  3. স্থিতিশীল
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান:
- কৃষিখাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩.২১ শতাংশ।
- কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৪৫.০০%।

⇒ স্থিরমূল্যে জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান:
- ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে: ১৩.৬২ শতাংশ,
- ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে: ১৩.১৪ শতাংশ,
- ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে: ১২.৫৬ শতাংশ,
- ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে: ১২.৫২ শতাংশ,
- ২০২০-২০২১ অর্থবছরে: ১২.০৭ শতাংশ,
- ২০২১-২০২২ অর্থবছরে: ১১.৫০ শতাংশ।
- ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে: ১১.২০ শতাংশ।
- ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে: ১১.০২ শতাংশ।

উল্লেখ্য,
- জিডিপিতে সবচেয়ে ছোট খাত কৃষিখাত।
- আবার কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত কৃষিখাত।
- অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম।
- সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান: ক্রমহ্রাসমান।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৭৯.
গ্রীষ্মকালীন সবজির জন্য কখন বীজতলা তৈরি করতে হবে?
  1. আশ্বিন-কার্তিক মাসে
  2. ফাল্গুন-চৈত্র মাসে
  3. বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে
  4. ভাদ্র-আশ্বিন মাসে
ব্যাখ্যা
বীজ হতে চারা উৎপাদন:
- বীজ থেকে চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমত বীজতলা তৈরি করতে হবে।
- শীতকালীন সবজির জন্য আশ্বিন-কার্তিক মাসে আর গ্রীষ্মকালীন সবজির জন্য ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বীজতলা তৈরি করতে হবে
- আগাম ফসলের জন্য আরও একমাস আগে থেকে বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে।
- টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ, পুঁইশাক, পেঁপে ইত্যাদির বীজ প্রথমে বীজতলায় ফেলে চারা উৎপাদন করতে হয়।
- চারার বয়স চার সপ্তাহ থেকে একমাস হলে মূল জমিতে রোপণ করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮০.
উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ নয় কোনটি?
  1. আলুর কন্দ
  2. ধান বীজ
  3. গম বীজ
  4. মরিচ বীজ
ব্যাখ্যা
- সাধারণভাবে একটি নতুন উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য গাছের যে অংশ ব্যবহার করা হয় তাকেই বীজ বলা হয়।
- বীজ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে বীজের দু'রকম সংজ্ঞা দেয়া যায়। যথা-

ক. উদ্ভিদতত্ত্ব অনুসারে:
- উদ্ভিদের নিষিক্ত ও পরিপক্ক ডিম্বককে বীজ বলা হয়।
- এ রকম বীজকে ফসলের উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ বা প্রকৃত বীজ বলে।
- যেমন- ধান, গম, সরিষা, টমেটো, শিম, ফুলকপি, মরিচ, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি বীজ।

খ. কৃষিতত্ত্ব অনুসারে:
- উদ্ভিদের যে কোনো অংশ যা উপযুক্ত পরিবেশ পেলে একই রকম নতুন উদ্ভিদের জন্ম দিতে পারে, তাকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বা অঙ্গজ বীজ বলে।
- এ রকম বীজকে বংশ বিস্তারক উপকরণও বলা হয়।
- যেমন- লিচুর কলম, আমের কলম, আলুর কন্দ, আনারসের মুকুট, কলাগাছের সাকার, কাকরোলের মূল, পাথরকুচি গাছের পাতা, উদ্ভিদতাত্ত্বিক বীজ ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
বীজ যে অংশ দ্বারা ফলের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই সংযোগস্থলকে কী বলে?
  1. টেস্টা
  2. টেগমেন
  3. হাইলাম
  4. মাইক্রোপাইল
ব্যাখ্যা
বীজত্বক:
- বীজের আবরণকে বীজত্বক বলে।
- ডিম্বকের ত্বক বীজত্বকে পরিণত হয়।
- বীজত্বক আবার দুইটি আবরণ দ্বারা গঠিত।
- বাহিরের অপেক্ষাকৃত পুরু ও শক্ত স্তরটিকে বলে বহিঃত্বক বা টেস্টা (Testa)।
- ভিতরের পাতলা স্বচ্ছ আবরণকে বলে অন্তঃত্বক বা টেগমেন (Tegmen)।
- বীজত্বক দুইটি সংযুক্ত থাকতে পারে অথবা একটি হতে অন্যটি পৃথক থাকতে পারে।
- বীজ যে অংশ দ্বারা ফলের সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই সংযোগস্থলকে বলে হাইলাম (Hilum) বীজনাভি বা ডিম্বকনাভি।
- বীজ ফিউনিকুলাস (Funiculus) নামক বোঁটার সংগে হাইলামের সংগে যুক্ত থাকে।
- হাইলামের সন্নিকটে বীজত্বকে একটি ছিদ্র থাকে যাকে মাইক্রোপাইল (Micropyle) বা বীজরন্ধ্র বলে।
- কোন কোন বীজের ত্বকে লম্বালম্বি যে প্রবর্ধন দেখা যায় তাকে র‍্যাফি (Raphe) বলে।
- র‍্যাফির সাহায্যে বীজ বোঁটার সংগে লেগে থাকে।

উৎস: SEED AND SEED TECHNOLOGY, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS) এ ব্যবহৃত হয় –
  1. রাসায়নিক সার ও হরমোন
  2. রাসায়নিক সার
  3. জৈব সার
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS):
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS) হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কৃষকদের তাদের ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপাদানগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হয়।
- এটি মূলত জৈব এবং রাসায়নিক উভয় ধরনের পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে একটি সুসমন্বিত পদ্ধতি।

⇒ সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য:
- পুষ্টির সমতা: পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করা যাতে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানো যায়।
- মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: মাটির উর্বরতা বাড়ানো এবং তার স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
- ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি: ফসলের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়কেই বাড়ানো।
- পরিবেশ সুরক্ষা: রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো।
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মূল উপাদান:
- জৈব সার: কম্পোস্ট, পশুর বর্জ্য, সবজি পচা ইত্যাদি।
- রাসায়নিক সার: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: Integrated Plant Nutrition System (IPNS) - A Practice for Sustainable Agriculture Resource management. Indian Journal of Environment and Ecoplanning
৮৩.
কোন এসিডের দ্রবণ দ্বারা বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গা যায়?
  1. হাইড্রোক্লোরিড এসিড
  2. বেনজোয়িক এসিড
  3. নাইট্রিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
• সালফিউরিক এসিড দ্রবণ দ্বারা বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গা যায়। 

• অম্লদ্রব্য সহযোগে বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গানো:
- এ পদ্ধতিতে বীজকে ঘন সালফিউরিক এসিডে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হয়।
- ঘন সালফিউরিক এসিডের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৮৪ হওয়া দরকার।
- সাধারণত বীজের দ্বিগুণ পরিমাণ এসিড (নিদিষ্ট ঘনমাত্রার) একটি কাঁচ বা মাটির পাত্রে নিতে হয়।
- তারপর বীজকে উক্ত পাত্রে ঢেলে মুখ আটকাতে হবে এবং মাঝে মাঝে কোন কাঠির সাহায্যে বীজকে নাড়াচাড়া করতে হবে।
- উপযুক্ত তাপমাত্রা হলো ৬০-৮০ ফাঃ।
- সময়ের পরিমাণ ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টা পর্যন্ত হতে পারে।
- বীজাবরণ যখন পাতলা হয়ে আসে তখন সাবধানে এসিড ঢেলে নিতে হয় এবং তৎক্ষনাৎ বীজগুলোকে প্রবাহমান পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়।
- উক্ত ধোয়া বীজ ভিজা অবস্থায় সরাসরি জমিতে বপন করা চলে।
- অথবা ভালোভাবে শুকিয়ে গুদামেও রাখা চলে।

উৎস: Seed and Seed Technology, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
আলু চাষে কোন আগাছা অবশ্যই নির্মূল করতে হবে?
  1. শ্যামা
  2. বথুয়া
  3. কচুরিপানা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলু চাষে আগাছা দমন:
- বীজ আলু রোপণের পর থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে।
- সাধারণত গাছ ছোট থাকাকালীন অবস্থায় আগাছা যথাসম্ভব দমন করে রাখতে হবে।
- এছাড়া বথুয়া জাতের আগাছা যা ভাইরাস রোগের বিকল্প বাহক হিসাবে কাজ করে তা অবশ্যই নির্মূল করে ফেলতে হবে।

উল্লেখ্য,
- শ্যামা সাধারণত ধান ক্ষেতে জন্মায় ও কচুরিপানা জলজ আগাছা। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৫.
ফল সংরক্ষণের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. টাটকা অবস্থায় ফল সংরক্ষণ
  2. শুকিয়ে ফল সংরক্ষণ
  3. প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ
  4. বর্ণিত সবগুলোই ফল সংরক্ষণের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
ফল সংরক্ষণ:
ফল সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলোকে সুবিধাজনক ভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১। টাটকা অবস্থায় ফল সংরক্ষণ;
২। শুকিয়ে ফল সংরক্ষণ;
৩। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ।

টাটকা অবস্থায় ফল সংরক্ষণ: 
- কিছু ফল উৎপাদন মৌসুমের দীর্ঘদিন পরও টাটকা অবস্থায় খাওয়া যায়।
- যেমন: কমলা, মালটা, আপেল, আঙ্গুর, নারিকেল ইত্যাদি।

শুকিয়ে ফল সংরক্ষণ: 
- কিছু কিছু ফল আছে যাদেরকে শুকিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
- শুকনো ফলে জীবানুর আক্রমণ কম হয়। আবহাওয়া শুষ্ক থাকলে ফল রোদে শুকানো যায়।
- তবে রোদে ফল শুকালে অনেক সময় তাতে ধুলাবালি লাগে, পশুপাখির উপদ্রব হয়।
- রোদে শুকানো ছাড়াও ওভেন বা ডিহাইড্রেটর যন্ত্রের সাহায্যে ফলকে শুকানো যায়।
- এই প্রক্রিয়াকে নির্জলীকরণ বা ডিহাইড্রেশন বলে।
- আঙ্গুর (কিসমিস), এপ্রিকট, কুল, খেজুর, ডুমুর, নাসপাতি ইত্যাদি।

প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল দিয়ে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে ১-৩ বছর পর্যন্ত ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে কখনও কখনও ফলের স্বাদ ও গন্ধের তেমন পরিবর্তন হয় না আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের খাদ্য তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬.
ফল সংগ্রহ করার পরই শর্করা থেকে চিনি তৈরি বন্ধ হয়ে যায় কোন ফলগুচ্ছে?
  1. কলা, লেবু, লিচু
  2. বেল, কলা, আঙুর
  3. পেঁপে, আঙুর, জাম্বুরা
  4. আঙুর, লিচু, লেবু
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন উদ্যান ফসলের ফল, পাতা, কুঁড়ি, অঙ্কুর, মূল, কাণ্ড, কলি ও ফুল ইত্যাদি অংশ আমরা ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করি। 
- এক ধরনের ফল গাছ থেকে তোলার পর ফলের মধ্যে শর্করা থেকে চিনিতে রূপান্তর বন্ধ হয়ে যায়।
- যেমন- জাম্বুরা, লেবু, আঙ্গুর, লিচু ইত্যাদি। এসব ফল পাকার পরই তোলা উচিত।
- আবার আম, কাঁঠাল, পেঁপে, কলা, বেল ইত্যাদি ফল গাছ থেকে তোলার পরও শর্করা থেকে চিনিতে রূপান্তর হতে থাকে, সুগন্ধ ছড়ায় ও রং ধারণ করে। এসব ফল পাকার আগে গাছ থেকে পাড়া হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৭.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রদান করে থাকে?
  1. DAE
  2. DLS
  3. DoF
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
- কৃষকদের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছানোর জন্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রযুক্তি উৎপাদন ও প্রসার প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে গবেষণা এবং সম্প্রসারণ উভয়ই সরকারি খাতে রয়ে গেছে।
- ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেম (NARS) কৃষি সংক্রান্ত প্রযুক্তি তৈরির জন্য দায়ী এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (DAE), ডিপার্টমেন্ট অফ ফিশারিজ (DoF), এবং ডিপার্টমেন্ট অফ লাইভস্টক সার্ভিসেস (DLS) পাবলিক সেক্টরে উৎপাদিত প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য দায়ী।

DAE:
- পূর্ণরূপ Department of Agricultural Extension বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
- এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
- ১৯৮২ সালে ফসল প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়োজিত ছয়টি সংস্থা একিভূত করে বর্তমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সৃষ্টি করা হয়।
- কাজ: চাহিদাভিত্তিক এবং সমন্বিত কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রদান।

মৎস্য অধিদপ্তর (DoF):
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে মৎস্য অধিদপ্তর (DoF) মৎস্য উন্নয়নে একটি অগ্রগামী সরকারি সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মৎস্য বিভাগকে বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য বিভাগকে মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক মৎস্য শাখার সঙ্গে একীভূত করা হয়।
- মৎস্য অধিদপ্তর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন।
- এর প্রধান হলেন মহাপরিচালক।
- অধিদপ্তরের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে।
- অধিদপ্তরের অধীনে তিনটি মাছ পরিদর্শন ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ স্টেশন রয়েছে।
- এর পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তরে সামুদ্রিক মৎস্য স্টেশন, মৎস্য প্রশিক্ষণ একাডেমি, মৎস্য প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র এবং মাছের হ্যাচারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৮.
শীতকালীন সবজি নয় কোনটি?
  1. টমেটো
  2. ফুলকপি
  3. মুখিকচু
  4. মুলা
ব্যাখ্যা
সবজি ও শাক:
- এ দেশে সকল ঋতুতে রকমারি সবজি উৎপাদিত হয়।
- বিশেষ করে শীতকাল বা রবি মৌসুমে সবজির বৈচিত্র্য অনেক বেশি।
- শাকের বৈচিত্র্যও এ দেশে কম নয়।
- শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গোলআলু, ব্রোকলি, লাউ, ওলকপি, মুলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজির মধ্যে চালকুমড়া, পটোল, করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, মুখিকচু অন্যতম।
- শাকের মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পুঁইশাক, পালংশাক, পাটশাক, কলমিশাক ইত্যাদি।
- আবার পেঁপে, কাঁচাকলা, বেগুন, লালশাক ইত্যাদি শাকসবজি সারা বছর ধরে চাষ করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৯.
ধানের টুংরো রোগ ছড়ায় কার মাধ্যমে?
  1. অ্যাফিড
  2. ঘাস ফড়িং
  3. পাতা ফড়িং
  4. পামরি পোকা
ব্যাখ্যা
• ধানের টুংরো রোগ:
- এটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- পাতা ফড়িং এ রোগ ছাড়ায়।
- চারা রোপণের এক মাসের মধ্যে টুংরো রোগ দেখা দিতে পারে।
- আক্রমণের প্রথমে পাতার রং হালকা সবুজ, পরে আস্তে আস্তে হলদে হয়ে যায়।
- গাছ টান দিলে সহজেই উঠে আসে।
- কুশি হয় না।
- প্রথমে দুই-একটি গোছায় এ রোগটি দেখা যায়, পরে ধীরে ধীরে আশেপাশের গোছায় ছড়িয়ে পড়ে।

• দমন পদ্ধতি:
- পাতা ফড়িং এ রোগ ছাড়ায়, তাই পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।
- আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে সবুজ পাতা ফড়িং মেরে ফেলা।
- রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলা।
- ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি স্প্রে করা।

 উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০.
ধানের পামরী পোকা দমনে কোন কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে?
  1. বাসুডিন
  2. ভেপোনা
  3. ম্যালাথিয়ন
  4. ডায়োথিন
ব্যাখ্যা
ধানের পোকা দমন:
- ধান ফসলে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা যায়।
- যেমন- সবুজ পাতা ফড়িং, মাজরা পোকা, পামরী পোকা, গান্ধী পোকা, গল মাছি, শীষ কাটা, লেদা পোকা ইত্যাদি।
- জমিতে গাছের ডাল বা বাশের কঞ্চি পুঁতে দিলে সেখানে পাখি বসে এবং পোকা ধরে খায়।
- তাছাড়া প্রতিরোধী ফসলের জাত ও বিভিন্ন দমন পদ্ধতি দ্বারা পোকা দমন করা যায়।
- তবে দ্রুত দর্শনের ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিচে একটি তালিকা দেয়া হলো:
 
পোকার নাম কীটনাশকের নাম
গান্ধী পোকা, পামরী পোকা, গল মাছি, ছাতরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, পাতা শোষক পোকা, চুঙ্গী পোকা সুমিথিয়ন ৫০, ম্যালাথিয়ন ৫৭
বাদামী গাছ ফড়িং বাসুডিন ১০, ফুরাডান ৩, ডায়াজিনন ১৪
শীষ কাটা লেদা পোকা ভেপোনা ১০০
উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
‘তিতাস’ কোন ফসলের জাতের নাম?
  1. ধান
  2. ভুট্টা
  3. গম
  4. কাউন
ব্যাখ্যা
কাউন: 
- ছোট দানা বিশিষ্ট শস্যটি এ দেশে গরীবদের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
- প্রায় সব ধরনের মাটিতে কাউনের চাষ করা যায়। তবে পানি দাঁড়ায় না এমন বেলে দোঁআশ মাটিতে এর ফলন ভাল হয়।

জাত পরিচিতি: 
- কাউনের স্থানীয় জাত ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘তিতাস’ নামের একটি জাত আছে।
- তিতাস জাত উচ্চ ফলনশীল, আগাম রোগ ও পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন।
- তিতাস জাতের গাছ মাঝারি লম্বা, পাতা সবুজ , কান্ড শক্ত ।
- গাছ সহজে নুয়ে পড়ে না ।
- শীষ বেশ লম্বা, মোটা এবং রেশমী।
- বীজ মাঝারি আকারের এবং ঘিয়ে রংয়ের ।
- হাজার বীজের ওজন ২.৩-২.৫ গ্রাম ।
- স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন প্রায় ৩০-৩৫% বেশী ।
- জাতটি রবি মৌসুমে ১০৫-১১৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৮৫-৯৫ দিনে পাকে ।
- তিতাস জাতটি গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ।
- রবি মৌসুমে তিতাসের ফলন হেক্টর প্রতি ২.০-২.৫ টন।
- খরিফ মৌসুমে এর ফলন একটু কম হয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
৯২.
লেজ বা পাখনা পচা রোগ কীসের আক্রমণে হয়?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. নেমাটোড
ব্যাখ্যা
লেজ বা পাখনা পচা রোগ:
- এ্যারোমোনাডস ও মিক্সোব্যাকটার জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
- প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশ্রিত করে আক্রান্ত মাছকে ৩-৫ মিনিট গোসল করাতে হবে।
- পুকুরে সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
- প্রতি শতক পুকুরে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৩.
পাউডারি মিলডিউ কীসের আক্রমণে হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. নেমাটোড
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
পাউডারি মিলডিউ: 
- এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ।
- শীতকালে কুয়াশার সময় এ রোগের বিস্তার ঘটে।
- এ রোগে আক্রান্ত হলে পাতা, কচিফুল ও কলিতে সাদা পাউডার দেখা যায়।
- ফলে কুঁড়ি না ফুটে নষ্ট হয়ে যায়।
- এ রোগ দমন করতে হলে আক্রান্ত ডগা বা পাতা তুলে পুড়িয়ে দিতে হবে।
- এছাড়া থিওভিট বা সালফার, ডাইথেন এম-৪৫ যেকোনো একটি পানিতে মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৪.
জাতীয় বীজ বোর্ড এর অনুমোদন ব্যতীত নিচের কোনটি পাওয়া সম্ভব নয়?
  1. Line
  2. Cultivar
  3. Variety
  4. Strain
ব্যাখ্যা
- জাতীয় বীজ বোর্ড এর অনুমোদন ব্যতীত Variety পাওয়া সম্ভব নয়।
- কেননা, Variety হতে গেলে অবশ্যই জাতীয় বীজ বোর্ড এর অনুমোদন প্রয়োজন।

অন্যদিকে:
Line: A group of individuals having common parents or ancestors. (একই পিতামাতা বা পূর্বপুরুষের সাথে সম্পর্কিত)
Variety: A variety is a strain released for commercial cultivation by a variety release committee of national seed board (NSB). (জাতীয় বীজ বোর্ডের (NSB) জাত মুক্তি কমিটি (Variety Release Committee) কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত)
Cultivar: Which are cultivated by farmers for unique features but not officially released as variety. (বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে চাষাবাদ করা হয়) 
Strain: A group of individuals similar in phenotype and often genotype. They are not approved by NSB so they are not variety. (ফেনোটাইপ এবং প্রায়শই জিনোটাইপে একরকম হয়। এটি জাতীয় বীজ বোর্ডের জাত মুক্তি কমিটি (TC of NSB) দ্বারা অনুমোদিত নয়, তাই এটি জাত হিসেবে বিবেচিত হয় না। অনুমোদিত হলে ভ্যারাইটি বা জাত হিসেবে বিবেচিত হয়।) 

উৎস: কৃষি মন্ত্রণালয়
Agri Career, Mukhlesur Rahman Mukit
৯৫.
নিচের কোনটি IPM এর পূর্ণরূপ?
  1. Integrated Plant Management
  2. Integrated Pest Management
  3. Integrated Pesticide Management
  4. Integrated Post Management
ব্যাখ্যা
- কৃষি ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার উন্নয়নকল্পে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে যথাক্রমে 'Integrated Pest Management (IPM)' ও 'National Agricultural Technology Programme (NATP)' উল্লেখযোগ্য।
- কৃষিকে অধিকতর পরিবেশবান্ধব করার জন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) সহ উত্তম কৃষি কার্যক্রমে কৃষকগণকে উৎসাহিত ও দক্ষ করে তোলার জন্য বিবিধ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৬.
ডাল জাতীয় ফসল আমাদের কীসের চাহিদা মেটায়?
  1. শর্করার
  2. আমিষের
  3. স্নেহের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- দানা, ডাল ও তেল ফসল আমাদের খাদ্যশস্য ফসল।
- দানা জাতীয় ফসলের মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা মানুষের প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- ডাল জাতীয় ফসল আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়
- বিভিন্ন তেল জাতীয় ফসল থেকে ভোজ্যতেল পাওয়া যায়।
- গম, ভুট্টা ও ডাল ফসল পশু, পাখি ও মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য প্যারা, গিনি, নেপিয়ার, খেসারি চাষ করা হয়।
- এগুলো সবুজ অবস্থায় খাওয়ানো হয়। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে পশু, পাখি ও মাছ চাষ প্রসার লাভ করেছে।
- আখ, সুগারবিট থেকে চিনি তৈরি করা হয়। 
- আঁশ ফসল থেকে সুতা, কাপড়, দড়ি, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৯৭.
কোন ধরনের মাটিতে আলু উৎপাদন বেশি হয়?
  1. দোআঁশ মাটিতে
  2. বেলে দোআঁশ মাটিতে
  3. পলি মাটিতে
  4. দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
ব্যাখ্যা
গোল আলু চাষোপযোগী মাটির বৈশিষ্ট্য
১) দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি আলু উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী।
২) আলুর জন্য বায়ু চলাচল করতে পারে এরূপ নরম ও ঝুরঝুরে মাটি দরকার। এতে আলু বড় হওয়ার সুযোগ পায়।
৩) গোল আলুর মাটিতে প্রচুর জৈব পদার্থ থাকা দরকার।
৪) মাটির PH মাত্রা ৬-৭ এর মধ্যে থাকা ভালো।

আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতি: 

- নিচু এলাকায় বর্ষার পানি নেমে গেলে বা উঁচু এলাকায় আশ্বিন মাস হতে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হয়।
- সাধারণত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে আলুর চাষ করা হয়।
- এই মাটি চাষ করা মোটামুটি সহজ। আলুর জমি ৫-৬ বার চাষ ও বার কয়েক মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে জমি প্রস্তুত করা হয়।
- আজকাল পাওয়ার টিলার দ্বারা চাষ করা হয় বলে ৩-৪ বার আড়াআড়ি চাষ দিলেই ঝুরঝুরা হয় এবং সমান করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৮.
'ব্ল‍্যাক বেঙ্গল' কীসের জাত?
  1. ভেড়া
  2. ছাগল
  3. গরু
  4. হাঁস
ব্যাখ্যা
ছাগল:
- যাবর কাটা পশুদের মধ্যে গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে এ দেশে ছাগল বেশ জনপ্রিয়।
- আমরা ছাগল থেকে দুধ, মাংস ও চামড়া পেয়ে থাকি।
- নানা জাতের ছাগল পোষা হলেও সবচেয়ে জনপ্রিয় এদেশীয় জাতটির নাম 'ব্ল‍্যাক বেঙ্গল'।
- এটি মাঝারি আকার ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী।
- এর মাংস খুবই সুস্বাদু এবং চামড়া উন্নত।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৯.
নিচের কোন কাজটি জৈব পদার্থ করে থাকে?
  1. ভূমিক্ষয় রোধ করে
  2. মাটিতে পানি ও বায়ু চলাচল সহজতর করে
  3. মাটিস্থ কেঁচোর সংখ্যা ও এর কার্যাবলি বাড়ায়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
জৈব পদার্থ:
- জৈব পদার্থ মাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জীবজন্তুর মৃতদেহ, গাছপালা, লতাপাতা, খড়কুটা, প্রাণীর মলমূত্র, প্রভৃতি মাটিতে পচে জৈব পদার্থের সৃষ্টি হয়।
- মাটিতে আয়তনের ভিত্তিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকে।
- জৈব পদার্থ-
(১) মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্মাবলি উন্নত করে;
(২) ভূমিক্ষয় রোধ করে;
(৩) মাটিতে পানি ও বায়ু চলাচল সহজতর করে;
(৪) মাটিস্থ কেঁচোর সংখ্যা ও এর কার্যাবলি বাড়ায়;
(৫) মাটির রস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০০.
ফার্টিগেশন এক ধরনের -
  1. আগাছা দমন প্রযুক্তি
  2. সেচ প্রযুক্তি
  3. পোকা দমন পদ্ধতি
  4. কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
ফার্টিগেশন:
- ফার্টিগেশন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সেচ প্রযুক্তি।
- এতে সেচের পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করা হয়।
- কেবলমাত্র পানিতে দ্রবণীয় সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশ ইত্যাদি ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়।
- ফলে ফসলের জমিতে সেচ এবং সার একই সঙ্গে প্রয়োগ করা যায়।
- প্রতি ১৪০ লিটার পানিতে ১ কেজি সার মিশাতে হয়।
- সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিজ্ঞানীগণ উদ্যানতত্ত্ব ফসলের উপর এ পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভাল ফল পেয়েছেন।

উৎস: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই