বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ৬০১৭০০ / ৭,১৯১

৬০১.
ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোন ধরনের বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) অনিয়মিত বায়ু
  3. গ) সাময়িক বায়ু
  4. ঘ) স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) অনিয়মিত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের সময় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহিত হয়। এরূপ বায়ু দুই প্রকার, যথা- ঘূর্ণিবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণিবাত। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৬০২.
আমাজন বনের কত শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত?
  1. ৪৮%
  2. ৫২%
  3. ৫৮%
  4. ৬৪%
সঠিক উত্তর:
৬৪%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪%
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল।
- আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- আমাজন নদী সহ অনেক নদী বনের পাশ দিয়ে গেছে।
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

⇒ আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ৯টি দেশ: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: i) World Atlas.
ii) Al Jazeera. [link]
৬০৩.
পৃথিবী পৃষ্ঠের শতকরা কতভাগ জলরাশি দখল করে আছে?
  1. ৭১ ভাগ
  2. ৭২ ভাগ
  3. ২৯ ভাগ
  4. ৬০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৭১ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭১ ভাগ
ব্যাখ্যা
•পানির উৎস ও বন্টন:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের মোট আয়তন প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ১৯৭ মিলিয়ন বর্গমাইল।
- এর মধ্যে  ৭১% জলভাগ।
- এবং ২৯% স্থলভাগ।
- আবার পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে।
- অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে ।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পানি একই অবস্থায় না থেকে তিনটি বিশেষ অবস্থায় রয়েছে।
- পানির তিনটি অবস্থা হলো-কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল।
- পানি বায়ুমন্ডলে রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে এবং ভূ-পৃষ্ঠে রয়েছে কঠিন ও তরল অবস্থায়।

• পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর রয়েছে-
১. প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean);
২. আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean);
৩. ভারত মহাসাগর (Indian Ocean);
৪. দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean);
৫. উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean)।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
গোয়াদার কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) ইরান
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) মরক্কো
  4. ঘ) সিরিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
- গোয়াদার, করাচি : পাকিস্তানের সমুদ্রবন্দর
- চাবাহার, বন্দর আব্বাস, আবাদান : ইরানের সমুদ্রবন্দর
- তাঞ্জিবার ও কাসাব্লাংকা : মরক্কোর সমুদ্রবন্দর
- লাতাকিয়া : সিরিয়ার সমুদ্রবন্দর।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৬০৫.
বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ কোনটি?
  1. ক) কাস্পিয়ান সাগর
  2. খ) টিটিকাকা হ্রদ
  3. গ) লেক আসাল
  4. ঘ) বৈকাল হ্রদ
সঠিক উত্তর:
গ) লেক আসাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লেক আসাল
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ হলো জিবুতিতে অবস্থিত লেক আসাল

অন্যদিকে,
- বৈকাল হ্রদ : পৃথিবীর গভীরতম (১,৬২০ মিটার) এবং প্রাচীনতম হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর: পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ
- টিটিকাকা হ্রদ  (বলিভিয়া): পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ
- সুপিরিয়র হ্রদ (যুক্তরাষ্ট্র): বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা
৬০৬.
নিচের কোনটি "Date line divider" হিসেবে পরিচিত?
  1. ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  2. ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
  3. ০° দ্রাঘিমারেখা
  4. ক এবং খ উভয়
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line):
- ১৮০° দ্রাঘিমারেখা বা অন্তর্রাষ্ট্রীয় তারিখরেখা (International Date Line) পৃথিবীর পশ্চিম ও পূর্ব গোলার্ধকে আলাদা করে দেয়।
- এই রেখা ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম ও ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার সাথে সমান্তরাল।
- সুতরাং ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম এবং ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব অবস্থানের দৃষ্টিকোণ থেকে একই স্থান।
- ফলে এই রেখা পৃথিবীর তারিখ ও সময় বিভাজনের কাজ করে।

অর্থাৎ ১৮০° দ্রাঘিমারেখা পৃথিবীর পশ্চিম বা পূর্ব গোলার্ধের তারিখ বিভাজিকার (Date line divider) কাজ করে। ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম একই স্থান।
- এজন্যই ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। ১৮০° দ্রাঘিমা রেখা "Date line divider" হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
৬০৭.
চাকমা সার্কেল কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি সার্কেল বা প্রথাগত প্রশাসনিক এলাকা বিদ্যমান। এগুলো হলো : চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেল।
চাকমা সার্কেল রাঙ্গামাটি জেলায়, বোমাং সার্কেল বান্দরবান জেলায় এবং মং সার্কেল খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। সার্কেল প্রধানরা রাজা নামে পরিচিত। বর্তমান চাকমা রাজা দেবাশ্বিস রায়। এই প্রথাগত শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশ সরকারের আইন দ্বারা স্বীকৃত।
সূত্র : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণী এবং পার্বত্য রাঙামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
৬০৮.
ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা কোনটি?
  1. ক) উত্তর - দক্ষিণাঞ্চল
  2. খ) দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চল
  3. গ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  4. ঘ) পূর্ব - পশ্চিমাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা -  উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ।

- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এদেশ।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।

এগুলো হলো-
রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭ হলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ,
মাত্রা ৬ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং
মাত্রা ৫ হলে কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে।

তাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা যথাক্রমে - 
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
আতিতলাম আগ্নেয়গিরি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) গুয়েতেমালা
  2. খ) ইতালি
  3. গ) চিলি
  4. ঘ) আর্জেন্টিনা
সঠিক উত্তর:
ক) গুয়েতেমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুয়েতেমালা
ব্যাখ্যা

আতিতলাম আগ্নেয়গিরিটি গুয়েতেমালায় অবস্থিত।
এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
সূত্র: volcanodiscovery.com

৬১০.
নিচের কোনটি প্রবাল দ্বীপ?
  1. ক) সোনাদিয়া
  2. খ) সেন্ট মার্টিন
  3. গ) কুতুবদিয়া
  4. ঘ) মহেশখালি
সঠিক উত্তর:
খ) সেন্ট মার্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেন্ট মার্টিন
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
৬১১.
পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের বিস্তৃতি কত কিলোমিটার?
  1. ৪৪০ কিলোমিটার
  2. ৪৮০ কিলোমিটার
  3. ৫৬০ কিলোমিটার
  4. ৭৮০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৪৪০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৪০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- কোন দেশের ভৌগলিক অবস্থান বলতে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা রেখাভিত্তিক অবস্থানকে বোঝায়।
- বাংলাদেশ ৮৮° ০১′ থেকে ৯২° ৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২০°৩৪′, থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষ রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃতি ৪৪০ কিলোমিটার।
- উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃতি প্রায় ৭৬০ কিলোমিটার।
- দেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১২.
পদ্মা নদী কোন জেলায় মেঘনার সাথে মিলিত হয়?
  1. চাঁদপুর
  2. শরিয়তপুর
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. মাদারিপুর
সঠিক উত্তর:
শরিয়তপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরিয়তপুর
ব্যাখ্যা
পদ্মা-মেঘনা মিলনস্থল
- পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ - ৩৪১ কিলোমিটার।
-  হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে এই নদী গঙ্গা নামে ভারতে প্রবাহিত হয়।
- গঙ্গা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করে পদ্মা নামে পরিচিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে।
- পদ্মা চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে  কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৪৪ কিমি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নির্দেশ করে ।

- রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মা-যমুনা মিলিত হয়ে পদ্মা নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়।
- এই প্রবাহ শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ এর নিকট এসে মেঘনা নদীতে মিশে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
- পদ্মা-মেঘনা মোহনার পদ্মা অংশ শরিয়তপুর এবং মেঘনা অংশ চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত।
- তাই বলা যায়, পদ্মা শরিয়তপুরে এসে মেঘনায় মিশেছে আর মেঘনা চাঁদপুরে এসে পদ্মায় মিলেছে।

- কীর্তিনাশা পদ্মার আরেক নাম।
- মধুমতি, ভৈরব, কপোতাক্ষ , ইছামতি, কালিগঙ্গা ইত্যাদি পদ্মার শাখা নদ ও নদী।

উল্লেখ্য, 
- দিন দিন পদ্মা ছোট হয়ে আসছে। একই সাথে দূষিতও হচ্ছে।
- এদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যহত রাখতে পদ্মা নদী সহ সকল জলাশয়ের পরিবেশ সংরক্ষণে সকলের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আবশ্যক।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি), 
২. বাংলাদেশের নদ এবং নদী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। লিংক
৬১৩.
বর্তমানে বিশ্বের গভীরতম হ্রদ কোনটি?
  1. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  2. বৈকাল হ্রদ
  3. টাঙ্গানিকা হ্রদ
  4. সুপিরিয়র হ্রদ
সঠিক উত্তর:
বৈকাল হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকাল হ্রদ
ব্যাখ্যা
বৈকাল হ্রদ: 
- যা দক্ষিণ সাইবেরিয়ার বুরিয়াত প্রজাতন্ত্র ও ইরকুতস্ক ওব্লাস্ট-এর মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- বিশ্বের বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ হিসেবে এটি খ্যাত।
- যা আয়তনের দিক থেকে নয় বরং পানির পরিমাণ বা আয়তন (volume) অনুসারে প্রথম।
- পৃথিবীর মোট ভূপৃষ্ঠের কমপক্ষে ২২% মিঠা পানি এই হ্রদে সংরক্ষিত।
- উত্তর আমেরিকার সমস্ত গ্রেট লেকসের পানির পরিমাণ একত্র করলেও তা লেক বাইকাল পূর্ণ করতে পারে - 
- বৈকাল হ্রদ সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের অন্যতম স্বচ্ছ (clearest) হ্রদ হিসেবেও পরিচিত।

অপরদিকে,
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশুদ্ধ পানির আধার।
- টাঙ্গানিকা হ্রদ এটি বিশ্বের দীর্ঘতম স্বাদু পানির হ্রদ।
- সুপিরিয়র হ্রদ উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ হ্রদ। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 
৬১৪.
বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান কোনটি?
  1. লালখান
  2. ঈশ্বরদী
  3. রামু
  4. লালপুর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
ব্যাখ্যা

উষ্ণতম:
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।

শীতলতম:
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

উৎস: বাংলিপিডিয়া।

৬১৫.
Which two countries are separated by the 'Strait of Dover'?
  1. France and Italy
  2. Italy and Portugal
  3. United Kingdom and France
  4. Spain and Portugal
  5. United Arab Emirates and Iran
সঠিক উত্তর:
United Kingdom and France
উত্তর
সঠিক উত্তর:
United Kingdom and France
ব্যাখ্যা
ডোভার প্রণালী:
- ডোভার প্রণালী যুক্তরাজ্যকে ফ্রান্স থেকে পৃথক করেছে।
- এটি ইংলিশ চ্যানেল তথা আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ১৮ থেকে ২৫ মাইল (৩০ থেকে ৪০ কিমি) প্রশস্ত।
- এর গভীরতা ১২০ থেকে ১৮০ ফুট (৩৫ থেকে ৫৫ মিটার) পর্যন্ত।
- ডোভার প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপ্রণালী।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬১৬.
'গাবখান চ্যানেল' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. গাইবান্ধা
  3. ঝালকাঠি
  4. নীলফামারী
সঠিক উত্তর:
ঝালকাঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝালকাঠি
ব্যাখ্যা
গাবখান চ্যানেল:
- গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
- ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে গাবখান চ্যানেল।
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
- এর ঝালকাঠি অংশে সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীর মোহনা এবং পিরোজপুর অংশে কচা নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার।

⇒ ঝালকাঠি জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি ৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশরা ঝালকাঠি পৌর শহরের গাবখান থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াঝড়ি পর্যন্ত খনন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১৭.
সাহারা মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ইউরোপ মহাদেশে
  2. এশিয়া মহাদেশে
  3. আফ্রিকা মহাদেশে
  4. উত্তর আমেরিকা মহাদেশে
সঠিক উত্তর:
আফ্রিকা মহাদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফ্রিকা মহাদেশে
ব্যাখ্যা
→ সাহারা মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।

সাহারা মরুভূমি:

- সাহারা হল বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি, যার আয়তন ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল (৯ মিলিয়ন বর্গ কিমি)।
- মরুভূমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৮০০ কিলোমিটার এবং সর্বাধিক প্রস্থ ১,৮০০ কিলোমিটার। 
- সাহারা মরুভূমির নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘সাহরা’ থেকে যার অর্থ ‘মরুভূমি’।।
- এটি আফ্রিকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
- মরুভূমিটি আলজেরিয়া, মিশর, মালি, মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, তিউনিসিয়া, চাদ, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং সুদান সহ ১১টি উত্তর আফ্রিকার দেশের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।
- ১৮৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু পাহাড়ী বালির টিলাগুলির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- এই মরুভূমিতে জলের উত্স বিরল, তবে সাহারায় দুটি নদী এবং বিশটি মৌসুমী হ্রদ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট।
৬১৮.
The geographic location of Bangladesh is on the line of
  1. ক) Tropic of Capricorn
  2. খ) Tropic of Cancer
  3. গ) Equator
  4. ঘ) Arctic Circle
সঠিক উত্তর:
খ) Tropic of Cancer
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Tropic of Cancer
ব্যাখ্যা
উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn) বলে।
বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। এই দুটি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে৷

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৬১৯.
বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. নিস
  2. মার্বেল
  3. গ্রাফাইট
  4. কোয়ার্টজাইট
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা:
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন যে ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয়, তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
⇒ চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
⇒ বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
⇒ কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
⇒ গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
⇒ কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২০.
হর্ন অন্তরীপ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) চিলি
  3. গ) পর্তুগাল
  4. ঘ) সোমালিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) চিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চিলি
ব্যাখ্যা
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- উত্তমাশা অন্তরীপ : দক্ষিণ আফ্রিকা
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড
- গার্দাফুই অন্তরীপ : সোমালিয়া
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত
- ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন।
(সূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৬২১.
মরমর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে সংযুক্ত করেছে-
  1. ফ্লোরিডা প্রণালী
  2. বেরিং প্রণালী
  3. হরমুজ প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর:
বসফরাস প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা
• বসফরাস প্রণালী:
- পৃথক করেছে: এশিয়া ও ইউরোপ।
- সংযুক্ত করেছে: কৃষ্ণ সাগর ও মরমর সাগর।
- বসফরাস প্রণালী ১৯ মাইল দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ প্রস্থ উত্তর প্রান্তে ২.৩ মাইল।

অপরদিকে, 
- বেরিং প্রণালী: আমেরিকা-এশিয়া পৃথক করেছে।
- হরমুজ প্রণালী: ইরান-আরব আমিরাত পৃথক করেছে।
- ফ্লোরিডা প্রণালী: কিউবা-ফ্লোরিডা পৃথক করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬২২.
কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) নিস
  2. খ) শেল
  3. গ) গ্রাফাইট
  4. ঘ) মার্বেল
সঠিক উত্তর:
খ) শেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেল
ব্যাখ্যা
- ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত
- গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার। যথা:-
১। আগ্নেয় শিলা,
২। পাললিক শিলা ও
৩। রূপান্তরিত শিলা ।

পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম ও স্তর লক্ষ্য করা যায় ।
- পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর ও সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ৷
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে রূপান্তরিত শিলা গঠন করে।
- রূপান্তরিত শিলা স্ফটিকযুক্ত এবং খুব কঠিন হয়।
- এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।
- গ্রানাইট থেকে নিস বা নাইস, কয়লা থেকে গ্রাফাইট, চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি ৷
৬২৩.
গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্যের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা কত?
  1. ১৫°-২০° সেলসিয়াস
  2. ২০°-২৫° সেলসিয়াস
  3. ৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
  4. ৩৫°-৪০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
→ উদ্যান ও মাঠ ফসলের উপর তাপমাত্রার প্রভাব:
- ফলের উৎপাদন তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।
- ফুল ও ফল ধারণের সময় সঠিক তাপমাত্রা না থাকলে ফলন কমে যায়।
- তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে শস্য দুই ভাগে বিভক্ত:
১) গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্য
২) শীতকালীন বা রবি শস্য

→ গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন (খরিফ) ফসল:
- উপযোগী তাপমাত্রা: ৩০°-৩৫° সেলসিয়াস
- উদাহরণ: আউশ ধান, পাট, সয়াবিন, জোয়ার ইত্যাদি গ্রীষ্মকালীন শস্য।

→ শীতকালীন (রবি) ফসল:
- উপযোগী তাপমাত্রা: ২০°-৩০° সেলসিয়াস
- উদাহরণ: আমন ধান, বোরো ধান, গম, যব, সরিষা, ছোলা, মটর, মসুর, তামাক।

→ উভয় মৌসুমের ফসল:
- তিল, চীনাবাদাম, তুলা, ভুট্টা— উভয় মৌসুমে চাষ করা যায়।
- আখ— রবি ও খরিফ উভয় মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসুত্র: কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  [লিঙ্ক]
৬২৪.
ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত থেকে কোন নদী উৎপত্তি লাভ করে?
  1. নীলনদ
  2. দানিয়ুব নদী
  3. ওডার নদী
  4. ভলগা নদী
সঠিক উত্তর:
দানিয়ুব নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানিয়ুব নদী
ব্যাখ্যা
ব্ল‍্যাক ফরেস্ট:
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত জার্মানিতে অবস্থিত।
- জার্মানির দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি বনভূমি 'ব্ল্যাক ফরেস্ট।
- এটি পশ্চিম এবং দক্ষিণে রাইন উপত্যকা দ্বারা আবদ্ধ।
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি ঘটেছে।
- দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী (২,৮৫০ কি.মি.)।
- ইউরোপের দশটি দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দানিয়ুব নদী কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ভলগা নদীর উৎপত্তিস্থল রাশিয়ার ভলদাই পাহাড়।
- ওডার নদীর উৎপত্তিস্থল চেক প্রজাতন্ত্রের রুক্ষ পাহাড়ে উৎপন্ন হয়।
- নীলনদ উৎপত্তি লাভ করে ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে। 

উৎস: Worldatlas ও ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৫.
নিম্নের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা হয়?
  1. বরিশাল
  2. লালমনিরহাট
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 

- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা:
১. মৌসুমী বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা.

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে। এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।

উল্লেখ্য, 
- ২০০২, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৯, এবং ২০১০ সালে আকস্মিক বন্যা উত্তর পূর্ব হাওড় অঞ্চলের শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৬.
শান্ত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বুধগ্রহে
  2. খ) বুধগ্রহে
  3. গ) চাঁদে
  4. ঘ) শনিগ্রহে
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদে
ব্যাখ্যা
- শান্ত সাগর (Sea of Tranquility) চাঁদে অবস্থিত। 
- Sea of Tranquility এর অপর নাম Mare Tranquillitatis. 
- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
 
উৎস: নাসা ওয়েবসাইট
৬২৭.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে কোন বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে বাংলাদেশে বর্ষাকালে ঘূর্ণিঝড় হয়। 

বর্ষাকাল:
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
গ্রীণল্যান্ড সম্পর্কিত কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. ক) বিশেষ গুপ্ত সংগঠন
  2. খ) এটি একটি ফ্যান্টাসি পার্ক
  3. গ) বাংলাদেশের চেয়েও সবুজ শ্যামল দেশ
  4. ঘ) ডেনমার্কের অধিনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেনমার্কের অধিনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেনমার্কের অধিনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল
ব্যাখ্যা
গ্রীণল্যান্ড পৃথিবী সবচেয়ে বড় আইল্যান্ড বা দ্বীপ যা কিংডম অব ডেনমার্কের অধিনে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল৷
source: Britannica
৬২৯.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগত জলপথ কোনটি?
  1. বাব এল-মান্দেব প্রণালী
  2. সুয়েজ খাল
  3. পানামা খাল
  4. হরমুজ প্রণালী
সঠিক উত্তর:
পানামা খাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানামা খাল
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগত জলপথ। 
- পানামা খাল একটি লক-টাইপ খাল।
- এটি পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- খালটি পানামার সরু ভূমি দিয়ে আটলান্টিক (বিশেষত ক্যারিবিয়ান সাগর) এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- খালটি আগস্ট ১৯১৪ সালে সম্পন্ন হয়।
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের একটি (অন্যটি সুয়েজ খাল)।
- যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের মধ্যে ভ্রমণকারী জাহাজগুলো কেপ হর্ন ঘুরে আসার পরিবর্তে প্রায় ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল (১৫,০০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- উত্তর আমেরিকার একটি উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার বিপরীত পাশে বন্দরগুলোর যাত্রাপথে প্রায় ৩,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৬,৫০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার যাত্রাপথে প্রায় ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- পানামা খাল বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য এবং নৌচলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু।

উল্লেখ্য,
- বাব এল মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি প্রণালী।
- সুয়েজ খাল ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করেছে।
- হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি প্রণালী।

উৎস: Britannica.
৬৩০.
'চর গজারিয়া' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মাদারগঞ্জ
  2. খ) মুন্সীগঞ্জ
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) রামগতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রামগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রামগতি
ব্যাখ্যা
চর আলেকজান্ডার ও চর গজারিয়া লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবস্থিত। দুর্গম চর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অবস্থিত। উৎস: lakshmipur.gov.bd
৬৩১.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় কোনটি?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত
  3. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. বায়ু প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র। 

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান :
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ:
- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ,
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ু প্রবাহ,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বনভূমির অবস্থান,
- ভূমির বন্ধুরতা, ভূমির ঢাল কিংবা পর্বতের অবস্থান (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)।
- মৃত্তিকার গঠন,
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (উপরের দিকে বায়ুর চাপ/তাপ পরিবর্তিত হয়)।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কী বলা হয়?
  1. কসমিক ইয়ার
  2. সৌর বছর
  3. আলোক বর্ষ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কসমিক ইয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমিক ইয়ার
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

তথ্যসুত্র - Britannica.com
৬৩৩.
বাংলাদেশের আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. দক্ষিণাঞ্চল
  4. পশ্চিমাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Daily Star বাংলা।
৬৩৪.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইস্টোসিন কালের সোপান দেখা যায়?
  1. বান্দরবান
  2. কুষ্টিয়া
  3. কুমিল্লা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৫.
বাংলাদেশে ঢোকার পর গঙ্গা নদী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার সাথে নিম্নোক্ত একটা জায়গায় মেশে-
  1. গোয়ালন্দ
  2. বাহাদুরাবাদ
  3. ভৈরববাজার
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোয়ালন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা (Padma) নদী:
বাংলাদেশের প্রধান নদী পদ্মা। এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

- পদ্মা নদী রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে।

- অত:পর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

• পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে-
- কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।

• পদ্মার উপনদীগুলোর মধ্যে — মহানন্দা প্রধান।

• আর মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে — পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন,  পাগলা প্রভৃতি। 

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল (১ম পত্র), নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৬.
সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ চীন সাগর
  2. খ) জাপান সাগর
  3. গ) পূর্ব চীন সাগর
  4. ঘ) পীত সাগর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ব চীন সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ব চীন সাগর
ব্যাখ্যা
- সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত।
- দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- দ্বীপাঞ্চলটির চীনা নাম দিয়াউ দ্বীপ।
- পাঁচটি ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের আয়তন ১,৭০০ একর।
(সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট)
৬৩৭.
বরিশাল শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কীর্তনখোলা
  2. মধুমতী
  3. আড়িয়াল খাঁ
  4. পদ্মা
সঠিক উত্তর:
কীর্তনখোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীর্তনখোলা
ব্যাখ্যা
• বরিশাল জেলা:
- বরিশাল জেলা কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত।
- বরিশাল জেলাকে বাংলার শস্যভান্ডার বলা হয়।
- এ শহরের পুরাতন নাম চন্দ্রদ্বীপ।
- এই বরিশাল নগরীতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী ও খাল।
- এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ অনেকাংশেই নির্ভরশীল ছিল এইসব নদী ও খালের উপর।
- ধান- নদী -খাল এই তিনে বরিশাল' খ্যাত বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ রাজ্য প্রতিষ্ঠার পূর্বে এ অঞ্চল ‘বাকলা' নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৩৮.
'গ্রেট বেরিয়ার রিফ' নামের প্রবাল প্রাচীরটি কোন মহাদেশের তীর ঘেঁষে উত্থিত হয়েছে?
  1. এশিয়া
  2. আফ্রিকা
  3. ইউরোপ
  4. অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কুইন্সল্যান্ডের কোরাল সাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত।
- অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতটে গড়ে ওঠা এই প্রবাল প্রাচীরটি প্রায় ৩৪,৪৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার স্থান জুড়ে অবস্থিত।
- অর্থাৎ 'গ্রেট বেরিয়ার রিফ' নামের প্রবাল প্রাচীরটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের তীর ঘেঁষে উত্থিত হয়েছে।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। লিঙ্ক
৬৩৯.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের মধ্যে কোনটি সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি?
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় 
  2. লালমাই পাহাড়
  3. বরেন্দ্রভূমি 
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রভূমি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রভূমি 
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪০.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভূক্ত -
  1. ক) চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ 
  2. খ) রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির পাহাড়সমূহ
  3. গ) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি
  4. ঘ) কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
▪ আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
▪ এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
▪ দেশের উত্তর - পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা করা হলো।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪১.
পদ্মা ও যমুনা নদী মিলিত হয় কোন জেলায়?
  1. চাঁদপুর
  2. ফরিদপুর
  3. রাজবাড়ী
  4. গাইবান্ধা
সঠিক উত্তর:
রাজবাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবাড়ী
ব্যাখ্যা
যমুনা:
- যমুনা নদী ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৪২.
নায়াগ্রা জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো
  3. গ) কানাডা-অষ্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
ব্যাখ্যা
নায়াগ্রা জলপ্রপাত:

- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় অবস্থিত।
- উত্তর-পূর্ব - নায়াগ্রা জলপ্রপাত, উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পাশের সবচেয়ে বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্টারিও, কানাডা এবং নিউইয়র্ক রাজ্যের সীমান্তে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬৪৩.
অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? 
  1. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  2. প্রশিক্ষণ
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. বেড়িবাঁধ তৈরি
সঠিক উত্তর:
বেড়িবাঁধ তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়িবাঁধ তৈরি
ব্যাখ্যা

• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪৪.
বাংলাদেশে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয় -
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
জিআইএস (GIS):
- GIS-এর পূর্ণরূপ: Geographic information systems.
- GIS হলো ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।
- সাধারণ অর্থে জিআইএস বলতে স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সমন্বয় করে তা মানচিত্রে উপস্থাপন করাকে বুঝায়।
- অর্থাৎ জিআইএস হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো তথ্য ধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অবস্থানের চিত্র বর্ণনা করা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- সত্তরের দশকে নগর পরিকল্পনায় প্রথম কম্পিউটারভিত্তিক জিআইএস ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৮০ সালের পর জিআইএস এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
- বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়

জিআইএসের উপাদান (Elements of GIS):
- জিআইএস পাঁচটি উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে থাকে।
১. হার্ডওয়্যার
২. সফট্ওয়্যার
৩. উপাত্ত
৪. উপাত্ত ভিত্তি এবং
৫. প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ৷

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
শীতকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা কত?
  1. ৫° - ১৫° সেলসিয়াস
  2. ১০° - ২০° সেলসিয়াস
  3. ২০° - ৩০° সেলসিয়াস
  4. ৩০° - ৩৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২০° - ৩০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০° - ৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
তাপমাত্রার প্রভাব:
- তাপমাত্রা শস্যের সার্বিক বৃদ্ধি সাধনে সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলে।
- এই তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শস্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- গ্রীষ্মকালীন বা খরিফ শস্য এবং শীতকালীন বা রবি শস্য।
- শীতকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ২০° - ৩০° সেলসিয়াস।
- গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন উদ্যান ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ৩০° - ৩৫° সেলসিয়াস। 
- পাতা জাতীয় শাক সবজির অধিক তাপে পাতায় সঞ্চিত শর্করার পরিমান কম হয়।
- অতিরিক্ত তাপে লেটুস ও পালংশাক দ্রুত ফুল উৎপন্ন করে।
- গোল আলু, মিষ্টি আলু, গাজর, মূলা, শাল গম ইত্যাদিতে অতিরিক্ত তাপে শর্করার সঞ্চয়ের পরিমান কম হয় বলে ফলন কম হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
বাংলাদেশের কোথায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ক) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
  2. খ) আলুটিলা পাহাড়ে
  3. গ) লালমাই পাহাড়ে
  4. ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হারাগাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
উৎসঃ মৌলভীবাজার জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৬৪৭.
পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় কত ভাগ সমভূমি?
  1. অর্ধেক
  2. দুই-তৃতীয়াংশ
  3. এক-তৃতীয়াংশ
  4. এক-চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
→ সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
→ পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
→ সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
→ সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
→ মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয়।
→ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
→ আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
→ ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৮.
'হিন্ডেনবার্গ লাইন' কোন নিচের কোন দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. জার্মানি ও বেলজিয়াম
  2. আফগানিস্তান ও ভারত
  3. জার্মান ও পােল্যান্ড
  4. উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
সঠিক উত্তর:
জার্মানি ও বেলজিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি ও বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
হিন্ডেনবার্গ লাইন (Hindenburg Line):
অবস্থানঃ জার্মানি - ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, উত্তর পূর্ব ফ্রান্স সীমান্ত)।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬-১৭ সালে জার্মানি কর্তৃক এর পশ্চিম ফ্রন্টে নির্মিত প্রতিরক্ষা ব্যূহ। ১৯১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণে এর পতন হয়।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা লাইনঃ
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
- ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৬৪৯.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ
  3. টাঙ্গাইল
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।

⇒ জলবায়ুর ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়।
১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।
- বার্ষিক গড় উষ্ণতা গ্রীষ্ম ও শীতকালে যথাক্রমে ৩৩° সে. ও ১৩° সে. এর মধ্যে বিরাজ করে।
- চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৪৫ সে.মি. এর বেশি।
- তবে বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনার উপকূলীয় এলাকায় গড়ে ২২৮-৩০৫ সেঃমিঃ বৃষ্টিপাত হয়।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।
- এ অঞ্চলের বার্ষিক গড় উষ্ণতা ৩৮° সে. এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২৫৪ সে. মি. এর অধিক।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২০৩ সেঃমিঃ।

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত।
- বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ। 
- গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধের ফলে এ অঞ্চলের আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন।
- অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে।
- এর দক্ষিণ দিকের তুলনায় উত্তরদিকে ক্রমশ অধিক বৃষ্টিপাত হয়।

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩০৫ সে. মি. এর বেশি।
- উত্তর-পূর্ব দিকে ক্রমেই বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায়।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫০.
নিচের কোনটি পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি?
  1. স্পেনের মেসেটা মালভূমি
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
  4. আফ্রিকার দক্ষিণ মালভূমি
সঠিক উত্তর:
তিব্বত মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বত মালভূমি
ব্যাখ্যা

পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি:
- ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হবার সময় পর্বত দ্বারা বেষ্টিত নিম্নস্থান সমূহ উঁচু হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি করে তাই পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি।
- এ ধরনের মালভূমির উচ্চতা সাধারণত ৩০০০-৫০০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- উৎপত্তি: সংকোচনজনিত চাপের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের মাঝে এ ধরণের মালভূমি সৃষ্টি হয়।
- এছাড়া পাত সঞ্চালন এবং ভূ-আলোড়নের সময় কখনও কখনও ভূ-পৃষ্ঠের ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণী তাদের মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্থানসমূহকে ওপরে তুলে আনে এবং মালভূমিতে পরিণত করে। এভাবে গঠিত মালভূমি পর্বত বেষ্টিত থাকে বলে একে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।
- উদাহরণ: তিব্বতের মালভূমি।
- উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিনে হিমালয় পর্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চল জুড়ে তিব্বত মালভূমি অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ও উচ্চতম মালভূমি। তিব্বত মালভূমির গড় উচ্চতা ৪০০০ মিটারের বেশি।
- এছাড়া এশিয়ার আল তিতাগ ও তিয়েনশান পর্বতমালার মধ্যে তারিম মালভূমি,
- এলবুর্জ ও জাগ্রোস পর্বত শ্রেণীর মধ্যে ইরানের মালভূমি পর্বত।

অপরদিকে,
- আগ্নেয়জাত মালভূমি: ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।
- ক্ষয়জাত মালভূমি: দক্ষিণ ভারতের মালভূমি, সৌদি আরবের মালভূমি, সাইবেরিয়ার পূর্ব মালভূমি, আফ্রিকার দক্ষিন মালভূমি ক্ষয়জাত মালভূমি।
- চ্যুতি বিশিষ্ট মালভূমি: স্পেনের মেসেটা মালভূমি।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫১.
দেশের প্রথম কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. পাবনা
  4. বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- দেশের প্রথম কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটিতে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট (৩য় ইউনিট) রয়েছে।
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

অন্যদিকে,
⇒ পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- দেশের দ্বিতীয় কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- পটুয়াখালীর জেলার কলাপাড়ায় উপজেলার ধানখালীতে অবস্থিত।
- উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৩২০ মেগাওয়াট।
- উৎপাদনের দিক থেকে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের বৃহত্তম কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

উৎস জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৫২.
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের কত অংশ সংঘটিত হয়?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. এক-চতুর্থাংশ
  3. এক-পঞ্চমাংশ
  4. এক-দশমাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-পঞ্চমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বিবিসি বাংলা।
৬৫৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কমানোর ধাপ কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. সাড়াদান
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
-
দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
- এর ছয়টি ধাপ রয়েছে: প্রতিরোধ, প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, এবং উন্নয়ন।
- এই চক্রে ঝুঁকি হ্রাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কমানোর ধাপ হচ্ছে- প্রশমন প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, 
• প্রতিরোধ (Prevention): দুর্যোগ ঘটতেই না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন: বন্যাপ্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণ।
• প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন তৈরি।
• প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন: মহড়া, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখা, পরিকল্পনা তৈরি।
• সাড়াদান (Response): দুর্যোগ চলাকালীন বা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য প্রদান, যেমন: উদ্ধার, খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা।
• পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, যেমন: অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠন।
• উন্নয়ন (Development): ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হ্রাস ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি, যা পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি ও প্রশমনে সাহায্য করে।
- এই ধাপগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৪.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো-
  1. ক) ফেব্রুয়ারী-মে
  2. খ) মার্চ-এপ্রিল
  3. গ) মার্চ-মে
  4. ঘ) মার্চ-জুলাই
সঠিক উত্তর:
গ) মার্চ-মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মার্চ-মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৬৫৫.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম জিআইএস প্রযুক্তি চালু হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• জিআইএস (GIS):
- এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Geographic information systems.
- Geographical Information System (GIS) বা ভৌগোলিক তথ্য পদ্ধতি হলো ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।
- সাধারণ অর্থে জিআইএস বলতে স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সমন্বয় করে তা মানচিত্রে উপস্থাপন করাকে বুঝায়। অর্থাৎ জিআইএস হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো তথ্য ধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অবস্থানের চিত্র বর্ণনা করা।
==============
 → ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান — The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।  → সত্তরের দশকে নগর পরিকল্পনায় প্রথম কম্পিউটারভিত্তিক জিআইএস ব্যবহার করা হয়।
 → ১৯৮০ সালের পর জিআইএস এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
 → বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৬.
The Nord Stream-2 pipeline is located under -
  1. ক) Caspian Sea
  2. খ) Baltic Sea
  3. গ) Red Sea
  4. ঘ) Mediterranean Sea
সঠিক উত্তর:
খ) Baltic Sea
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Baltic Sea
ব্যাখ্যা
নর্ড স্ট্রিম-২:
- নর্ড স্ট্রিম-২ হলো বাল্টিক সাগরের মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত ১২৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ (৭৬৭ মাইল) প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন।
- নর্ড স্ট্রিম-১ এর অনুরূপ রুট অনুসরণ করে ২০১১ সালে পাইপলাইনের নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
- ২০১৫ সালে চালু হওয়া নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইনটি বাল্টিক সাগরের মাধ্যমে সরাসরি রাশিয়া এবং জার্মানির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বিলম্বের কারণে নির্মাণে বেশ কয়েক বছর লেগেছে। 
- নর্ড স্ট্রিম-২ এর  অল্প কিছু জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।
- পাইপলাইনের মালিক গাজপ্রম।
- এটি একটি রাশিয়ান রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি।
- গ্যাস আমদানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এটি প্রয়োজন।
- জার্মানির জ্বালানি খাত পাইপলাইনটিকে একটি কার্যকর বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসেবেও দেখে।

উৎস: The Nord Stream 2 pipeline - European Parliament, europa.eu.
৬৫৭.
মেরু রেখা বা অক্ষের দক্ষিণ প্রান্তকে বলে-
  1. সুমেরু
  2. কুমেরু
  3. বিষুব রেখা
  4. দ্রাঘিমা রেখা
সঠিক উত্তর:
কুমেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমেরু
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- ৬৬.৫° দক্ষিণ  অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৮.
Western Wall কোন শহরে অবস্থিত?
  1. ক) বার্লিন
  2. খ) নিউইয়র্ক
  3. গ) জেরুজালেম
  4. ঘ) ওয়াশিংটন
সঠিক উত্তর:
গ) জেরুজালেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেরুজালেম
ব্যাখ্যা

'Western Wall' জেরুজালেমে অবস্থিত।
Western Wall, also called Wailing Wall, in the Old City of Jerusalem, a place of prayer and pilgrimage sacred to the Jewish people.
সূত্র: ব্রিটানিকা

৬৫৯.
বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্কটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) রাঙ্গামাটি
  3. গ) সীতাকুন্ড
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
গ) সীতাকুন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সীতাকুন্ড
ব্যাখ্যা
সীতাকুন্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত চিরসবুজ বনাঞ্চলে ১৯৯৯ সালে ৮০৮ হেক্টর জায়গা নিয়ে ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক। ইকোপার্কের প্রধান গেট হতে ৫ কিমি ভিতরে চন্দ্রনাথ শিবমন্দির অবস্থিত। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬৬০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় চা বাগান সবচেয়ে বেশি?
  1. চট্টগ্রাম
  2. মৌলভীবাজার
  3. পঞ্চগড়
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

চা শিল্প:
- ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়।
- তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়।
- ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত।
- সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে।
- বর্তমানে দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১৭০টি।[আগস্ট - ২০২৫]

উল্লেখ্য,
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

৬৬১.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা থেকে হিমালয়ের কোন শৃঙ্গ দেখা যায়?
  1. এভারেস্ট
  2. লোৎসে
  3. মাকালু
  4. কাঞ্চনজংঘা
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চনজংঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চনজংঘা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

⇒ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে হিমালয়ের কাঞ্চনজংঘা দেখা যায়।
- তেঁতুলিয়ায় ডাক বাংলোতে দাঁড়িয়ে মহানন্দা নদীর পাড় থেকে এবং বাংলাবান্ধা গিয়ে উত্তরের মেঘমুক্ত আকাশে তাকালেই চোখে পড়ে হিমালয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য।

উল্লেখ্য,
- কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত।
- বাংদেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন (স্থলবন্দর) থেকে নেপালের দূরত্ব ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের দূরত্ব ৬৪ কিলোমিটার, চীনের দূরত্ব ২শ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিংয়ের দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার, শিলিগুড়ির দূরত্ব ৮ কিলোমিটার।
- অন্যদিকে হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গের দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার।
- কিন্তু মেঘ-কুয়াশামুক্ত আকাশের উত্তর-পশ্চিমে তাকালেই দেখা মেলে বরফ আচ্ছাদিত সাদা পাহাড় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৬২.
দুইটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী সমতল বা অসমতল ভূমিকে বলা হয় -
  1. হ্রদ
  2. উপত্যকা
  3. গিরিশৃঙ্গ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা
ব্যাখ্যা
উপত্যকা:
- দুইটি পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত সমতল বা অসমতল, ঢালু, প্রশস্ত ভূমিক্ষেত্রকে উপত্যকা বলে।
- পর্বতের শীর্ষ থেকে যখন বরফ গলা পানি বা বৃষ্টির পানির স্রোত যখন পর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে দ্রুতবেগে নেমে আসে, তখন পাহাড়ের শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে, হাজার হাজার বছর ধরে উপত্যকার সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় হিমবাহ অর্থাৎ বরফের নদী পর্বতের শীর্ষ থেকে ধীরে ধীরে নিচে নামার সময় উঁচু নিচু শিলাপাথরগুলিকে সরিয়ে চূর্ণ করে সমতল মাটির স্তর তৈরি করে এবং ফলে উপত্যকার জন্ম হয়।
- আবার কখনো কখনো কোন নদী গতিপথ বদলালে এর পুরাতন অববাহিকাটি উপত্যকার জন্ম দেয়।
- উপত্যকা সাধারণত V-আকারের ও U- আকারের হয়ে থাকে।

⇒ উপত্যকা সাধারণত ৩ প্রকারের।
১.নদী উপত্যকা,
২.বরফ গঠিত উপত্যকা,
৩.সমতল উপত্যকা।

অন্যদিকে,
• হ্রদ:
- প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বা মানুষের দ্বারা তৈরি স্থলভাগের কোনো অবনমিত বা নিচু অংশে বৃষ্টির পানি, নদীর পানি, হিমবাহ গলিত পানি, সমুদ্রের পানি সঞ্চিত হয়ে যে বিশাল জলরাশি সৃষ্টি হয় তাকে হ্রদ বলে।

• গিরিশৃঙ্গ:
-  গিরিশৃঙ্গ হল একটি পাহাড় বা পর্বতের শীর্ষস্থানের অংশ, যা সাধারণত অন্যসব স্থানের তুলনায় উঁচু এবং পাহাড়ের সর্বোচ্চ বিন্দু হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
৬৬৩.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায়?
  1. বরিশাল
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৪.
বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় কেন?
  1. শুধুমাত্র আবহাওয়ার নিয়ামকের প্রভাবে 
  2. আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
  3. শুধুমাত্র স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থানের কারণে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের প্রভাবে
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল নিয়ামকগুলো প্রধানত আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধরনের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা 
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল 
৭। ভূ-প্রকৃতি 
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং 
১০। বনভূমির অবস্থান।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ যথা-বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বনভূমির অবস্থান, ভূ- প্রাকৃতিক অবস্থা, উচ্চতা, অক্ষাংশ, স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান, ভূমির ঢাল ইত্যাদির প্রভাবে বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৫.
কোন নদীতে জোয়ার ভাটা হয় না?
  1. সাঙ্গু
  2. তিস্তা
  3. গোমতী
  4. ধরলা
সঠিক উত্তর:
গোমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোমতী
ব্যাখ্যা
গোমতী নদী:
- নদীটির উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্বপ্রান্তীয় পার্বত্য অঞ্চল ডুমুর নামক স্থানে।
- এটি কুমিল্লা সদর উপজেলার কটক বাজারের কাছে বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশ ভূখন্ডে গোমতী নদীর মোট দৈর্ঘ্য ১৩৫ কিমি।
- গোমতীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদীসমূহের একটি  ডাকাতিয়া এবং এর শাখা নদীর নাম বুড়ি।
- আকস্মিক  বন্যা এ নদীর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং এ বন্যা মোটামুটি নিয়মিত বিরতিতে সংঘটিত হয়ে থাকে। এজন্য এ নদী একসময় ‘কুমিল্লা শহরের দুঃখ’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
- গোমতী নদীতে জোয়ার ভাটা হয় না।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৬৬.
পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ৫-৬ ঘণ্টা 
  2. ২৪-৪৮ ঘণ্টা 
  3. ৫-৬ দিন
  4. ১০-১২ দিন 
সঠিক উত্তর:
৫-৬ ঘণ্টা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫-৬ ঘণ্টা 
ব্যাখ্যা

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্থায়িত্বকাল ৫-৬ ঘন্টা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬৭.
বাংলাদেশে জি-কে প্রকল্প একটি-
  1. ক) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
  2. খ) নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
  3. গ) জল পরিবহন প্রকল্প
  4. ঘ) সেচ প্রকল্প
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেচ প্রকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এটি বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৬৬৮.
ঘূর্ণীঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশে আঘাত হানে কবে?
  1. ক) ২ মে ২০১৯
  2. খ) ৩ মে ২০১৯
  3. গ) ৫ জুন ২০১৯
  4. ঘ) ৯ নভেম্বর ২০১৯
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ মে ২০১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ মে ২০১৯
ব্যাখ্যা
২০১৯ সালের ৩ মে বাংলাদেশে আঘাত হানে ঘূর্ণীঝড় ‘ফণী’। ঘূর্ণিঝড় 'ফণী' এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ, এর অর্থ সাপ। উৎসঃ প্রথম আলো
৬৬৯.
কোন অঞ্চলকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়?
  1. সাভানা তৃণভূমি
  2. সাহারা মরুভূমি
  3. আমাজন রেইনফরেস্ট
  4. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
সঠিক উত্তর:
আমাজন রেইনফরেস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাজন রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা
আমাজন রেইনফরেস্ট:
- বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেইনফরেস্ট আমাজন বনভূমি।
- আমাজন প্রায় ২,১২৩,৫৬২ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এই বনভূমি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আমাজন রেইনফরেস্ট ৯টি দেশে বিস্তৃত।
- পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের আনুমানিক ১০ শতাংশ রয়েছে আমাজনে।
- এখানে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন গাছের অস্তিত্ব রয়েছে, যা ১৬,০০০ প্রজাতিতে বিভক্ত।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর ২০ ভাগ অক্সিজেন আসে আমাজন থেকে।
- এই কারনে একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।

তথ্যসূত্র - World Atlas.com
৬৭০.
স্পেন ও মরক্কোর মধ্যবর্তী বিভাজন কোন প্রণালীর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে?
  1. হরমুজ প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. দারদানেলিস প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর:
জিব্রাল্টার প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা

• প্রণালী :
- প্রণালী হলো এমন এক সংকীর্ণ জলপথ, যা দুটি বৃহৎ জলভাগকে একত্রে সংযুক্ত করে এবং পাশাপাশি দুটি ভূখণ্ডের মাঝে স্বাভাবিকভাবে বিভাজন তৈরি করে। 
- এটি মূলত প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হলেও কখনো কখনো মানবসৃষ্ট পথও হতে পারে।

- কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মধ্যে জিব্রাল্টার প্রণালী অন্যতম :

• জিব্রাল্টার প্রণালী :

 - এ প্রণালী ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং 
- ইউরোপের স্পেনকে আফ্রিকার মরক্কো থেকে পৃথক করেছে।

  অন্যদিকে,
- হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং 
- ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পৃথক করেছে।
- দারদানেলিস প্রণালী মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং তুরস্কের ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে পৃথক করেছে।
- বসফরাস প্রণালী কৃষ্ণ সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং তুরস্কের এশিয়া ও ইউরোপ অংশকে পৃথক করেছে।

তথ্যসূত্র: Britannica.

৬৭১.
নিচের কোন অঞ্চলের পুরাতন ভৌগলিক নাম ছিল শ্রীহট্ট?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
শ্রীহট্ট বা সিলেট: 
- সিলেটের পুরাতন ভৌগলিক নাম ছিল শ্রীহট্ট। 

- মহান সাধক হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এর ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দের ভ্রমণ বিবরণী থেকে এ জেলা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- চীন দেশীয় পর্যটক হিউয়েন সাং বলেছেন, ‘‘শ্রীহট্ট একটা প্রাচীন ও গৌরবশালী দেশ’’।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমভাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি এ জেলা জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা সিলেট বা শ্রীহট্ট বহু আগে থেকেই একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৭২.
ভিক্টোরিয়া হ্রদ কোন নদীর উৎসস্থল?
  1. নীলনদ
  2. দানিয়ুব
  3. টাইগ্রিস
  4. আমাজান
সঠিক উত্তর:
নীলনদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলনদ
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- "নীল" নামটি গ্রিক শব্দ "নিলোস" থেকে এসেছে, যার অর্থ উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- নীল নদ আফ্রিকায় অবস্থিত এবং এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬,৬৫০ কিলোমিটার।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ নীল নদের প্রধান উৎস।
- নীল নদ বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে মিশে যায়।
- এটি ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৬৭৩.
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চুয়াডাঙ্গা
  2. চাপাই নবাবগঞ্জ
  3. দিনাজপুর
  4. সাতক্ষীরা
সঠিক উত্তর:
চাপাই নবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপাই নবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- সোনা মসজিদ স্থলবন্দর : চাপাই নবাবগঞ্জ
- ভোমরা স্থলবন্দর : সাতক্ষীরা
- দর্শনা স্থলবন্দর : চুয়াডাঙ্গা
- বিরল ও হিলি স্থলবন্দর : দিনাজপুর।
(সূত্র: স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ)
৬৭৪.
'লেক জেনেভা' কোন দুইটি দেশে অবস্থিত?
  1. সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া
  2. সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স
  3. সুইজারল্যান্ড ও ইতালি
  4. সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি
সঠিক উত্তর:
সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
লেক জেনেভা:
- লেক জেনেভা এর আরেক নাম লেক লেমান।
- এটি দুইটি দেশে অবস্থিত।
- দেশগুলো হলো সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স।
- এর আয়তন ৫৮১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি আল্পস পর্বতমালার উত্তর দিকে একটি গভীর হ্রদ।

উৎস: Britannica.
৬৭৫.
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে কয়টি লেক বুঝানো হয়?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
গ্রেট লেকস (Great Lakes):
- গ্রেট লেক উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সেন্ট লরেন্স নদীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- গ্রেট লেকের আয়তন প্রায় ৯৪,২৫০ বর্গ মাইল (২৪৪,১০৬ বর্গ কিলোমিটার)।
- এটি কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানায় বিস্তৃত।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে ৫টি লেক বুঝানো হয়।
- ৫টি লেক বা হ্রদ হলো: সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, এরি এবং অন্টারিও।

উৎস: Britannica.
৬৭৬.
তেনেরিফে দ্বীপ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. স্পেন
  2. ইতালি
  3. অস্ট্রিয়া
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
স্পেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পেন
ব্যাখ্যা
তেনেরিফে দ্বীপ:
- স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে তেনেরিফে দ্বীপ অবস্থিত।
- মোট আয়তন - ২,০৩৪ বর্গকিমি।
- তেনেরিফে দ্বীপের সর্বোচ্চ বিন্দু তেইদে (৩,৭১৮ মিটার (১২,১৯৮ ফুট)।
- এটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সর্ববৃহৎ দ্বীপ।
- আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- তেনেরিফের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক।

⇒ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ:
- ‘ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ’ স্পেনে অবস্থিত।
- স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে তেনেরিফে দ্বীপে অবস্থিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- দ্বীপগুলি আগ্নেয় দ্বীপ।

উৎস: Britannica.
৬৭৭.
নিচের কোনটি উত্তর ইউরোপের দেশ?
  1. বুলগেরিয়া
  2. স্লোভাকিয়া
  3. পোল্যান্ড
  4. আইসল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
আইসল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহ:
• বেলারুশ
• বুলগেরিয়া
• চেক প্রজাতন্ত্র
• হাঙ্গেরি
• পোল্যান্ড
• মলদোভা
• রোমানিয়া
• রাশিয়া
• স্লোভাকিয়া
• ইউক্রেন

উত্তর ইউরোপের দেশসমূহ:
• নরওয়ে
• সুইডেন
• ডেনমার্ক
• ফিনল্যান্ড
• আইসল্যান্ড
• যুক্তরাজ্য
• আয়ারল্যান্ড
• লিথুয়ানিয়া
• লাটভিয়া
• এস্তোনিয়া

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৬৭৮.
এন্টার্কটিকা মহাদেশের চতুর্দিকে কোন মহাসাগর রয়েছে? 
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

এন্টার্কটিকা (Antarctica):
- এন্টার্কটিকা মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে পঞ্চম।
- এর মোট আয়তন :১ কোটি ৪২ লক্ষ বর্গকিমি; পঞ্চম বৃহত্তম।
- এটি ৯০° দক্ষিণ মেরুরেখা থেকে ৬০° দক্ষিণ অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মহাদেশটি পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে প্রায় বৃত্তাকারে অবস্থিত।
- এ মহাদেশের চতুর্দিকে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত।
- মহাদেশটি সারাবছর বরফে আচ্ছন্ন থাকে বলে মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী।
- শীতলতম এই মহাদেশে কোনো দেশ নেই।
- এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রাণি অ্যালবাট্রস, পেঙ্গুইন, সীল ইত্যাদি। এছাড়া এ মহাদেশে মস ও শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচ এসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা।

৬৭৯.
এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. সেচ প্রকল্প
  3. পানি নিষ্কাশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৬৮০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ-পূর্ব
  2. উত্তর-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
• খরার কারণগুলো:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাটির আর্দ্রতা কমে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়ায়।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়।
- আবহাওয়ার চক্র: বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮১.
লোহিত সাগরের তীরবর্তী দেশ কোনটি?
  1. ইরান 
  2. ইরিত্রিয়া 
  3. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  4. কুয়েত
সঠিক উত্তর:
ইরিত্রিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরিত্রিয়া 
ব্যাখ্যা

- লোহিত সাগরের তীরবর্তী দেশ ইরিত্রিয়া।

• লোহিত সাগর (Red Sea):

- ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- যা আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি সুয়েজ প্রণালী ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত।

• অবস্থান ও সীমান্তবর্তী দেশসমূহ:
- উত্তর সীমা: সিনাই উপদ্বীপ, সুয়েজ উপসাগর ও আকাবা উপসাগর;
- দক্ষিণ সীমা: বাব এল-মানদেব প্রণালী, যা গালফ অব অ্যাডেনের সাথে সংযুক্ত;
- লোহিত সাগরের তীরবর্তী ৬টি দেশ;
- পূর্ব তীর: সৌদি আরব ও ইয়েমেন;
- পশ্চিম তীর: মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি।

উল্লেখ্য,
- লোহিত সাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত আকাবা উপসাগর (Gulf of Aqaba) এবং সুয়েজ উপসাগর (Gulf of Suez) এর কারণে ইসরায়েল এবং জর্ডানও তীরবর্তী হিসেবে গণ্য হয়। তবে সরাসরি সংযুক্ত নেই লোহিত সাগরের সাথে।

উৎস: Britannica.

৬৮২.
খরার প্রভাবে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
ব্যাখ্যা

খরা:
- খরা হলো দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়ার অবস্থা।
- খরা মূলত স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়া, অতিরিক্ত বাষ্পীভবন ও উদ্ভিদের প্রস্বেদনের কারণে সৃষ্টি হয়।
• খরা এর ফলে:
- জলসম্পদের ঘাটতি দেখা দেয়;
- নদী–খাল ও কুয়া শুকিয়ে যায়;
- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়;
- এবং পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
• খরার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত,
- দীর্ঘস্থায়ী গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া,
- বেশি তাপমাত্রাজনিত বাষ্পীভবন;
- এবং ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ জলের স্বল্পতা।
- এসব কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং স্বাভাবিক জলচক্র ব্যাহত হয়।
- খরার প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়, ফসল নষ্ট হয় এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
- পাশাপাশি পানীয় জল ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়।
- অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং পরিবেশগতভাবে ভূমি অনুর্বর হয়ে মরুকরণের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৬৮৩.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ- 
  1. পানামা
  2. হন্ডুরাস
  3. কোস্টারিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু: 
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা,
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা,  নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৪.
নীলনদ কয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ৯টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১১টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি 
ব্যাখ্যা

• নীল নদ:
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica. [link] 

৬৮৫.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরানো, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্য
  2. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  3. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরানো, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরানো, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্য
ব্যাখ্যা
পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness):
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়।
- ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

উন্নয়ন (Developement):
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৬.
গোমতী, তিতাস কোন নদীর উপনদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
মেঘনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন,
ii) ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
iii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি,
iv) বাংলাপিডিয়া।
৬৮৭.
বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র কয়টি?
  1. ক) ১৫ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১৮ টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ টি
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন ৩৫টি।
- সাইক্লোন শেল্টার ১৮৪১টি।
- কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র ১২টি।
- আবহাওয়া কেন্দ্র ৪টি।
- রাডার স্টেশন ৫টি।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

৬৮৮.
নাফাখুম ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান জেলায়
  2. কক্সবাজার জেলায়
  3. মৌলভীবাজার জেলায়
  4. রাঙ্গামাটি জেলায়
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান জেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান জেলায়
ব্যাখ্যা
নাফাখুম ঝর্ণা: 
- বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় নাফাখুম ঝর্ণা অবস্থিত। 
- মারমা ভাষায় 'খুম' মানে হচ্ছে জলপ্রপাত।
- পানি প্রবাহের ভলিউমের দিক থেকে সম্ভবত নাফাখুম-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত।
- সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে নাফাখুমের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখা যায়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৮৯.
বৃষ্টিপাত শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয় -
  1. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:
- চারটি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain)
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain)
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি (Cyclonic Rain)
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টি (Frontal Rain)
অর্থাৎ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি (Drizzling Rain) বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ নয়।

১) পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain): দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে নিনান হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

(২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain): জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়।এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

(৩) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain): শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে। বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- এ প্রকার বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

(৪) ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain): কোনো অঞ্চলে বায়ুমন্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯০.
পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানীর নাম কী?
  1. কিটো
  2. লাপাজ
  3. প্যারিস
  4. রিয়াদ
সঠিক উত্তর:
লাপাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাপাজ
ব্যাখ্যা
বলিভিয়ার রাজধানী:
- বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজ পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানী।
- দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের একটি দেশ যা আন্দিজ পর্বতমালায় অনেক উঁচুতে অবস্থিত।
- এজন্য দেশটিকে পৃথিবীর ছাদ নামে অনেক সময় ডাকা হয়।
- সরকারিভাবে বলিভিয়ার রাজধানীর নাম শুক্রে,তবে লাপাজ দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী ও বলিভিয়া সরকারের প্রধান কর্মস্থল।
- প্রায় ৩৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্বের উচ্চতম রাজধানী।
- শহরের কেন্দ্রস্থল, প্লাজা মুরিলো, নদীর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
- এখানে প্রধান ক্যাথেড্রাল, সরকারী ভবন এবং আইনসভা ভবন রয়েছে।
- লাপাজে সান আন্দ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৩০), বলিভিয়ান ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬), ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ আর্ট এবং অন্যান্য মিউজিয়াম রয়েছে।
- ১৯৯৮ সালে, শহরটি এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের শিকার হয়, যাতে শত শত মানুষ নিহত হয় এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়।

অন্যদিকে,
- দ্বিতীয় উচ্চতম রাজধানী হচ্ছে ইকুয়েডরের কিটো।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৬৯১.
গভীর সমুদ্রখাতের গড় গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে -
  1. ক) ৫,৪০০ মিটারের অধিক
  2. খ) ৬,২০০ মিটারের অধিক
  3. গ) ৪,৪০০ মিটারের অধিক
  4. ঘ) ৫,৮০০ মিটারের অধিক
সঠিক উত্তর:
ক) ৫,৪০০ মিটারের অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫,৪০০ মিটারের অধিক
ব্যাখ্যা
• গভীর সমুদ্রখাত (Oceanic Trench):
- মহাসাগরের তলদেশে বিভিন্ন স্থানে গভীর খাত থাকে। এইগুলিকে গভীর সমুদ্রখাত বলে।
- গভীর সমুদ্র খাতগুলো সাধারণত আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অধিক দেখতে পাওয়া যায়।
- গভীর সমুদ্রখাতের গড় গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ৫,৪০০ মিটারের অধিক
- সমুদ্রতলে মোট সাতান্নটি গভীর সমুদ্রখাত রয়েছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরেই গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক।
- নিউগিনির উত্তর দিকে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত পৃথিবীর মধ্যে গভীরতম সমুদ্র খাত এর গড় গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার।
- আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টোরিকো খাত (৮,৫৩৮ মিটার) উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯২.
বৃষ্টিপাতকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৫ ভাগে
  2. খ) ৬ ভাগে
  3. গ) ৩ ভাগে
  4. ঘ) ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাত
• জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে শীতল হয়ে যায় ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের মধ্যে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা থাকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়। মূলত পানির কণাগুলো যখন বড় বড় কণায় পরিণত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে তাকেই বলা হয় বৃষ্টিপাত।

বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ
• ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাতকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -  
১। পরিচলন বৃষ্টিপাত
২। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
৩। ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত 
৪। সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত 

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৯৩.
'সুমাত্রা' দ্বীপটি কোন দেশের অধিভুক্ত?
  1. ক) মালয়শিয়া
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) ফিলিপাইন
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দোনেশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
ইন্দোনেশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র। ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপগুলো হচ্ছে - সুমাত্রা, জাভা, বালি ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে, প্রায় ১৭,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়াই জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ।
সূত্র: Worldatlas
৬৯৪.
জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে কয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।
জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নিম্নোক্ত ছয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়। যেমন-

১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিন-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত। বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ। 

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে। 

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। 

তথ্যসূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৬৯৫.
হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি স্থল কোথায়?
  1. হিমালয়
  2. কুয়েনলুন পর্বত
  3. ব্ল্যাক ফরেস্ট
  4. আল্‌পস
সঠিক উত্তর:
কুয়েনলুন পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুয়েনলুন পর্বত
ব্যাখ্যা
বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো নদী: কুয়েনলুন পর্বত, চীন,
- মিসিসিপি নদী: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব নদী: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৬৯৬.
'নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল' নামে পরিচিত -
  1. চলন বিল
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. মিঠামইন হাওর
  4. হাকালুকি হাওর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গুয়ার হাওর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গুয়ার হাওর
ব্যাখ্যা
টাঙ্গুয়ার হাওর:
- সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর স্থানীয় লোকজনের কাছে 'নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল' নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর টাঙ্গুয়ার হাওর।
- টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলাধীন ১০টি মৌজা নিয়ে বিস্তৃত একটি হাওর।
- এ হাওরটিতে ছোটবড় ১২০টি বিল রয়েছে।
- ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিমি, এর মধ্যে ২৮০২.৩৬ হেক্টর জলাভূমি রয়েছে।
- প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
- এখানে ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ পাওয়া যায়।
- টাঙ্গুয়ার হাওরে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৫০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ অক্টোবর ২০২৩।
৬৯৭.
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কত?
  1. ০.০০৩%
  2. ০.২%
  3. ০.০৩%
  4. ০.০৫%
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০৩%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৮.
সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর অপর নাম কী?
  1. নারিকেল জিঞ্জিরা
  2. সোনাদিয়া
  3. কুতুবদিয়া
  4. নিঝুম দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
নারিকেল জিঞ্জিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেল জিঞ্জিরা
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন:
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো - সেন্টমার্টিন।
- সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় নাম - নারিকেল জিঞ্জিরা।
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী।
- এই দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে।
- এছাড়া এখানে আদিনাথ মন্দির রয়েছে।

অন্যদিকে,
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য দ্বীপ ও তাদের অবস্থান:
- ভোলা - ভোলা(দ্বীপজেলা)।
- সেন্টমার্টিন - টেকনাফ, কক্সবাজার।
- দক্ষিণ তালপট্টি/পূর্বাশা/নিউমুর - শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।
- নিঝুম দ্বীপ - হাতিয়া, নোয়াখালী।
- সোনাদিয়া - মহেশখালী, কক্সবাজার।
- মনপুরা দ্বীপ - মনপুরা, ভোলা।
- কতুবদিয়া - কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৬৯৯.
SPARRSO কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. যশোর
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

- মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO- Space Research and Remote Sensing Organisation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।

৭০০.
বাংলাদেশের কোন নদী ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুরের একটি জলাশয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
  1. মহানন্দা
  2. ভৈরব
  3. করতোয়া
  4. পুনর্ভবা
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা
- যমুনার দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম উপনদী করতোয়া ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুরের একটি জলাশয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- ভারতীয় অংশে করতোয়া অনেকগুলো উপনদী গ্রহণ করেছে। পূর্বে এটিই ছিল তিস্তার প্রধান প্রবাহখাত এবং সম্ভবত ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী ছিল।
- দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলা থেকে করতোয়া নদী আত্রাই নাম ধারণ করে বরেন্দ্রভূমিকে দৈর্ঘ্য বরাবর ছেদ করেছে।
- অতঃপর এটি পাবনার বেড়া উপজেলায় গঙ্গার সঙ্গে যমুনার সংযোগ সাধনকারী বড়াল নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
উৎস : বাংলা পিডিয়া