বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ২১ / ৭২ · ২,০০১২,১০০ / ৭,১৯১

২,০০১.
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কবে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ক) ৯ নভেম্বর
  2. খ) ১৯ নভেম্বর
  3. গ) ২৯ নভেম্বর
  4. ঘ) ৯ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
ঘূ্ণঝিড় বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর আঘাত হানে। এটির নামকরণ করে পাকিস্তান। এ ঘূর্ণিঝড়ের সময় মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
২,০০২.
নিম্নোক্ত কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে? 
  1. খরা
  2. বন্যা
  3. সুনামি
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। 
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৩.
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত।
- এর মোট আয়তন ৫০২২ হেঃ।
- এটি ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। 

• প্রাণিবৈচিত্র্য:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে একসময় বাঘ, কালোচিতা, চিতাবাঘ, মেঘলা চিতা, হাতি, ময়ূর, মায়া হরিণ ও সম্বর হরিণ দেখা যেত। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল, গন্ধগোকুল, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুই সাপ আর কয়েক প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, ভাওয়াল গড়ে ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বনবিভাগ এ বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ ও মেছোবাঘ ছেড়েছে। এছাড়া ২০১২ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ১৬টি তক্ষক ছাড়া হয়।

• উদ্ভিদ:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। এ বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। শাল (Shorea robusta) এ উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। অন্যান্য বৃক্ষের মধ্যে কাঁঠাল, আজুলি, কুম্ভী, গান্ধী গজারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,০০৪.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের জেলা-
  1. ফেনী
  2. কক্সবাজার
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:

- সর্ব উত্তরে - পঞ্চগড়(জেলা), - তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
- সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
- সর্ব পূর্বে - বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং (স্থান)। 
- সর্ব দক্ষিণে - কক্সবাজার (জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন (ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,০০৫.
সনোরা লাইন কোন দুটি দেশের সীমানা নির্দেশ করে?
  1. আর্জেন্টিনা ও চিলি
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  3. ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে
  4. কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
ব্যাখ্যা

• সনোরা লাইন:
- সনোরা লাইন হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোকে বিভক্তকারী একটি আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
- সোনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী সীমানার দক্ষিণাংশ।
- এই সীমান্ত অ্যারিজোনা রাজ্য (যুক্তরাষ্ট্র) ও সোনোরা রাজ্য (মেক্সিকো)-এর মধ্যে অবস্থিত।
- এই সীমান্ত অংশটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এখানে বৈধ ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম, বাণিজ্য ও অভিবাসন কার্যক্রম নিয়মিত ঘটে।

অন্যদিকে,
• আর্জেন্টিনা ও চিলি: এদের মধ্যে আন্দিজ পর্বতমালা সীমান্ত হিসেবে কাজ কর
• ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে: এদের মধ্যে সীমান্তের প্রধান অংশ পারানা নদী দ্বারা নির্ধারিত।
• কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র: এদের মধ্যে ৪৯° অক্ষাংশ বরাবর দীর্ঘতম শান্তিপূর্ণ সীমান্ত আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,০০৬.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ কোথায় সর্বাপেক্ষা কম?
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ৯০° উত্তর অক্ষাংশে
  3. ২২.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৯০° উত্তর অক্ষাংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০° উত্তর অক্ষাংশে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা (Equator):
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত।
- ভূ-গোলককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা।
- নিরক্ষরেখার মান হলো ০°।
- এই অক্ষরেখার অপর নামসমূহ হলো বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাধিক।

অন্যদিকে,
⇒ ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে আহ্নিক গতি সর্বাপেক্ষা কম।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।
- অন্যদিকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা কম তাই এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা কম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০০৭.
ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? 
  1. ভূমিধস
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূগর্ভস্থ চাপ
  4. টেকটোনিক প্লেটের সরণ
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সরণ
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়- টেকটোনিক প্লেটের সরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন প্লেট বা ফলকে গঠিত।
- এই প্লেটের সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। 
- টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা ঘর্ষণের ফলে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।

• অপ্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- শিলাচ্যুতি বা শিলায় ভাঁজ পড়া,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্পের চাপ,
- ভূত্বকের তাপ বিকিরণ,
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত,
- পাহাড়ি শিলাখণ্ডের ধস;
- এবং মানুষের কার্যকলাপ (যেমন খনন বা বড় বাঁধ নির্মাণ)।
- এগুলো মূলত টেকটোনিক প্লেটের সরণের কারণে সৃষ্ট বড় ভূমিকম্পের সঙ্গে ছোটখাটো কম্পন বা মানুষের সৃষ্টি কম্পন ঘটাতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০০৮.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ কী দ্বারা গঠিত?
  1. চুনাপাথর, মার্বেল ও গ্রানাইট
  2. বেলেপাথর, শেল ও কদম
  3. মাটি, পাথর ও শিলা
  4. চুনাপাথর, শেল ও বেলেপাথর
সঠিক উত্তর:
বেলেপাথর, শেল ও কদম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলেপাথর, শেল ও কদম
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
→ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
→ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
→ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
• এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
• এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ;
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০৯.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. জলাবদ্ধতা
  2. অগ্ন্যুৎপাত 
  3. রাসায়নিক দূষণ
  4. যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত 
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
 যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১০.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৭.৫°
  2. ৬৯.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ৭৩.৫°
সঠিক উত্তর:
৬৬.৫°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৬.৫°
ব্যাখ্যা
• দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি:
- প্রধানত পাঁচটি কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- অর্থাৎ একটি দিবসে দিন ও রাত্রির সময়কাল সকল সময়ে এক হয় না।
- নিম্নোক্ত কারণে এইরূপ হয়ে থাকে।
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়; 
২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথটি, অর্থাৎ কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার (Elliptical);
৩. পৃথিবীর দুইটি গতি যেমন: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি;
৪. পৃথিবী আপন কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত এবং
৫. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১১.
যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল কোনটি?
  1. বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ
  2. গাঙ্গোত্রী হিমবাহ
  3. আসামের লুসাই পাহাড়
  4. মানস সরোবর হ্রদ
সঠিক উত্তর:
মানস সরোবর হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানস সরোবর হ্রদ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১২.
বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় কোন বায়ুর প্রভাবে?
  1. ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
  2. খ) উত্তর-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
  3. গ) দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
  4. ঘ) উত্তর-পশ্চিম অয়ন বায়ু
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,০১৩.
বাংলাদেশের কোন নদীটি ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত?
  1. পদ্মা 
  2. মেঘনা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. তিস্তা
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।

উল্লেখ্য,
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (Yarlung Tsangpo) নামে পরিচিত। 
- তিব্বতে এর নাম ইয়ারলুং সাংপো, অরুণাচলে সিয়ং এবং আসাম ও বাংলাদেশে এর নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,০১৪.
কোন স্থানীয় বায়ু আরব মরুভূমির বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত?
  1. সাইমুম
  2. টাইফুন
  3. খামসিন
  4. সিরোক্কো
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১৫.
ল্যাকোলিথ পর্বত শ্রেণির উদাহরণ হচ্ছে -
  1. যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
  2. পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো
  3. দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত
ব্যাখ্যা
পর্বত:
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে, যেমন- হিমালয় পর্বতমালা।

• পর্বতের প্রকারভেদ:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত,
(খ) আগ্নেয় পর্বত,
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত।

ল্যাকোলিথ পর্বত:
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে।
- কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাগমাসমূহ বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে।
- এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৬.
'চর আলেকজান্ডার' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. লক্ষ্মীপুর
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মীপুর
ব্যাখ্যা

চর আলেকজান্ডার:
- চর আলেকজান্ডার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৪নং ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতি এসিল্যান্ড অফিসে আলেকজান্ডার নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক রেভিনিউ কালেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন।
- তার নাম অনুসারে এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় আলেকজান্ডার।
- চর আলেকজান্ডার বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকা।

⇒ বাংলাদেশের চরসমূহ:
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,০১৭.
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা' এর অর্থ কী?
  1. তীব্র বাতাস
  2. কালো মেঘ
  3. সুগন্ধি ফুল
  4. উত্তাল ঢেউ
সঠিক উত্তর:
সুগন্ধি ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুগন্ধি ফুল
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫)-এ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মোন্থা’।
- ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'র নাম প্রদান করেছে থাইল্যান্ড।
- থাইল্যান্ডের দেওয়া এই নামের অর্থ ‘সুগন্ধি ফুল’।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ স্থানীয় সময় রাতে ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজুড়ে যে ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ঘনীভূত হওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে থাকে আবহাওয়া দপ্তর, পালা করে বিভিন্ন দেশ তার নামকরণ করে।
- আর এটি করে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)।
- ডব্লিউএমও সে জন্য পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করেছে।

উৎস: প্রথম আলো।

২,০১৮.
ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ নিচের কোনটি?
  1. ভূমিকম্প
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. সুনামি
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ:
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।

• দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে।
যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।

১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১৯.
'মাধবকুণ্ড' জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবানে
  2. খাগড়াছড়িতে
  3. কক্সবাজারে
  4. মৌলভীবাজারে
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা

- হামহাম, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

২,০২০.
মহাদেশীয় ভূত্বকে কোন কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. লোহা ও নিকেল
  2. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম ও লোহা
  4. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন আবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
- মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) নামে পরিচিত।
- মহাসাগরীয় ভূত্বক ৫ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই স্তরটি সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০২১.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ফিলিপাইন
  2. জাপান
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ব্রুনাই
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - জাপান।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২২.
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিবেশ সম্পর্কিত 'জাতীয় পরিবেশ নীতি' সর্বপ্রথম প্রণয়ন হয় কত সালে?
  1. ১৯৯২ সালে 
  2. ১৯৯৫ সালে 
  3. ১৯৯৬ সালে 
  4. ১৯৯৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে 
ব্যাখ্যা

‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ :
বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা থেকে ১৯৯২ সালে ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ প্রথম প্রণীত হয়।
এই নীতির মাধ্যমে বন, জলসম্পদ, ভূমি, বায়ু, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে এই নীতির ভিত্তিতেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ প্রণীত হয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়।

উল্লেখ্য,
পরিবেশ বিপর্যয়, নানাবিধ দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতার নিরিখে ঈপ্সিত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে এবং সংবিধানের মূলনীতি হিসাবে গৃহীত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় নীতিসমূহে প্রতিফলন করিবার মাধ্যমে পরিবেশকে উন্নয়নের মূলধারায় আনয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ নীতি ১৯৯২ সংশোধন ও পরিমার্জন করিয়া জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮ গ্রহণ করা হয়।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,০২৩.
কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য হলো -
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) আবহাওয়া
  3. গ) বায়ুমন্ডল
  4. ঘ) বারিপাত
সঠিক উত্তর:
খ) আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
• জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
• জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৪.
ঢাকার প্রতিপাদ স্থান কোথায় অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগরে
  2. ভারত মহাসাগরে
  3. আটলান্টিক মহাসাগরে
  4. উত্তর মহাসাগরে
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে সরলরেখা টানলে চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে বের হবে।
- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান- চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।

উল্লেখ্য:
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০০।
- অর্থাৎ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত বাংলাদেশ আর চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরের ঐ স্থানটি ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে অর্থাৎ ঠিক বিপরীত ঢাকার প্রতিপাদ স্থান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০২৫.
২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিলো?
  1. প্রকৃতির জন্য সময়
  2. প্লাস্টিক দূষণের সমাধান
  3. প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই জীবনযাপন
  4. গাছপালা পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক দূষণের সমাধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক দূষণের সমাধান
ব্যাখ্যা
• UNEP:
- জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP)
- UNEP-এর পূর্ণরুপ- United Nations Environment Programme 
- চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার প্রদান করে - UNEP
- সদর দপ্তর- নাইরোবি, কেনিয়া।
- ২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় - প্লাস্টিক দূষণের সমাধান।
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে- ৫ জুন, ১৯৭২ সালে।
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়-৫ জুন।
- সদস্য রাষ্ট্র- ১৯৩ টি।

তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (UNEP)
২,০২৬.
নিচের কোনটি বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি-
  1. সাহারা মরুভূমি
  2. আরব মরুভূমি
  3. কালাহারি মরুভূমি
  4. গোবি মরুভূমি
সঠিক উত্তর:
সাহারা মরুভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহারা মরুভূমি
ব্যাখ্যা
সাহারা মরুভূমি:
- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,০২৭.
অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে কত ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৪ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৮ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ :
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৮.
তিয়েন আনমেন স্কয়ার কোন দেশে অবস্থিত?
  1. তুরস্ক
  2. মিশর
  3. জাপান
  4. চীন
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা
তিয়েন আনমেন স্কয়ার
-তিয়েন আনমেন স্কয়ার চীনের রাজধানী বেইজিং শহরে অবস্থিত। 
-১৯৮৯ সালের ৪ জুন তিয়েন আনমেন স্কয়ারে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের দাবীতে  দাবিতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভে শত শত ছাত্র-শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার।
-সেই বছর এপ্রিল থেকে সরকারের দুর্নীতি বন্ধ ও গণতন্ত্রের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনশন শুরু করে।
-পরে তার সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিকেরা। 
-ওই ঘটনা নিয়ে এরপর কোনোরকম আলোচনা নিষিদ্ধ করে চীন। 

উল্লেখ্য,
- চীন আয়তনে বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম দেশ এবং জনসংখ্যায় ২য় বৃহত্তম।
- চীনের মুদ্রা - ইউয়ান।
- আধুনিক চীনের জনক - সান ইয়াত সেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা। 
২,০২৯.
লালন শাহ সেতু কোন নদীর উপর অবস্থিত?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. আড়িয়াল খাঁ
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
ব্যাখ্যা
লালন শাহ সেতু: 
- লালন শাহ সেতু ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অদূরে পদ্মা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়।
- ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন: ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারী।
- সেতুটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৩ সালে।
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১.৮ কিমি এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
২,০৩০.
বাংলাদেশে বজ্রপাতকে কত সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২০১৬ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত:
- ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

⇒ আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান।
- বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাত-প্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম।
- গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, 
- প্রতিবছর কম বেশী প্রায় ৩০০ হতে ৪০০ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। অন্যান্য দুর্যোগের তুলনায় বর্তমানে বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই প্রাণহানি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। 
- বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসাবে ঘোষণার পর ২০১৭ সালে বজ্রপাতে প্রাণহানি হ্রাসে সরকার দেশব্যাপী ৬০ লাখ তালগাছ লাগানো হয়। 
- এ ছাড়া বজ্রপাত চিহ্নিতকরণ যন্ত্র লাইটেনিং ডিটেক্টর এবং লাইটেনিং অ্যারেস্টার সেন্সর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

উৎস: i) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো। 

২,০৩১.
কোন প্রণালি প্রশান্ত মহাসাগর ও উত্তর মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. ক) মালাক্কা প্রণালি
  2. খ) বেরিং প্রণালি
  3. গ) ফরমোজা প্রণালি
  4. ঘ) বাবেল মান্দেব প্রণালি
সঠিক উত্তর:
খ) বেরিং প্রণালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেরিং প্রণালি
ব্যাখ্যা
• বেরিং প্রণালি: বেরিং সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) ও চুকচি সাগর (উত্তর মহাসাগর) কে যুক্ত করেছে।

অন্যদিকে,
• ফরমোজা প্রণালি: দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরকে যুক্ত করেছে।
• মালাক্কা প্রণালি: আন্দামান সাগর (ভারত মহাসাগর) ও দক্ষিণ চীন সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) কে যুক্ত করেছে।
• বাবেল মান্দেব প্রণালি: লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে যুক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ও ব্রিটানিকা।
২,০৩২.
কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে কোনটি অবস্থিত?
  1. আবু মুসা দ্বীপ
  2. পেরেজিল দ্বীপ
  3. সুমাত্রা দ্বীপ
  4. ক্রিমিয়া উপদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
ক্রিমিয়া উপদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিমিয়া উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা
ক্রিমিয়া:
- ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে অবস্থিত।
- এটি নিয়ে ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়।
- রাশিয়া "ক্রিমিয়া উপদ্বীপ" দখল করে রাশিয়ার অংশ করে নেয় ২০১৪ সালে।
- ক্রিমিয়ার ৬০ ভাগ অধিবাসী রাশিয়ান জাতিগোষ্ঠীর।
- কৃষ্ণসাগর কিংবা ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেবাস্তাপুল বন্দর যা ক্রিমিয়ায় অবস্থিত।
- এতে রাশিয়া সেখানে একটি গণভোট আয়োজন করে যেখানে অধিকাংশ রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেয়।

• অপরদিকে,
- 'আবু মুসা দ্বীপ' অবস্থিত পারস্য উপসাগরে।
- 'পেরেজিল দ্বীপ' ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত।
- 'সুমাত্রা দ্বীপ' ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম এবং বিবিসি ওয়ার্ল্ড পত্রিকা রিপোর্ট।
২,০৩৩.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) মানিকগঞ্জ
  4. ঘ) নড়াইল
সঠিক উত্তর:
ঘ) নড়াইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নড়াইল
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে। (সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৩৪.
পৃথিবীর কেন্দ্র মণ্ডলের প্রধান উপাদান কোনগুলো?
  1. লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম
  2. নিকেল ও সিলিকন
  3. নিকেল ও লোহা
  4. অ্যামোনিয়াম ও সিসা
সঠিক উত্তর:
নিকেল ও লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকেল ও লোহা
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রমন্ডল(Centrosphere):
- গুরুমন্ডলের ঠিক পরেই রয়েছে কেন্দ্রমন্ডল।
- কেন্দ্রমন্ডল, গুরুমন্ডলের নিম্ন ভাগ থেকে কেন্দ্র পর্যন্তপ্রায় ৩,৪৭৯ কিলোমিটার বিস্তৃত।
- এর গড় ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ সে.মি.।
- কেন্দ্রের দিকে ঘনত্ব বাড়তে থাকে।
- ভূ-কম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে, কেন্দ্রমন্ডলে একটি তরল বহিরাবরণ আছে, যা প্রায় ২,২৭০ কিলোমিটার পুরু এবং কঠিন অন্তঃভাগ আছে যা প্রায় ১,২১৬ কিলোমিটার পুরু।
- কেন্দ্রমন্ডলের উপাদানগুলো হলো লোহা, নিকেল, পারদ ও সিসা।
- তবে প্রধান উপাদান হলো নিকেল ও লোহা যা নাইফ নামে পরিচিত।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩৫.
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে কোন উপজেলা অবস্থিত?
  1. থানচি
  2. রুমা
  3. কয়রা
  4. শিবগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
থানচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থানচি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- সীমান্তবর্তী স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।

বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের:
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা বান্দরবান।

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের:
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের:
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,০৩৬.
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. হবিগঞ্জ
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. মুন্সীগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

নিচু ভূমি:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে নিচু ভূমিগুলো সাধারণত হাওর, বাওর, বিল এবং খাল এসব নিয়েই গঠিত।
- হাওর ও বিল সাধারণত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে সিলেট, ​​সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলা জুড়ে অবস্থিত।
- তাই কিশোরগঞ্জে নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

কিশোরগঞ্জ জেলা:
- হাওর-বাওর ও সমতলভূমির বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতির একটি বিস্তীর্ন জনপদ হলো কিশোরগঞ্জ জেলা।
- ২৪ ডিগ্রী ০২ মিনিট থেকে ২৪ ডিগ্রী ৩৮ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ নরসুন্দা নদী বিধৌত এ জেলার উত্তরে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ, দক্ষিণে নরসিংদী, পূর্বে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মনবাড়ীয়া এবং পশ্চিমে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা অবস্থিত।
- লোকজ সাহিত্য সংস্কৃতিতে এ জেলার রয়েছে বিশাল ঐতিহ্য।
- এ জেলার লোকজ সংগীত, পালা, কীর্তন, কিস্সা, জারী, বিয়ের প্রবাদ-প্রবচন, পুঁথি, টপ্পা, নৌকা বাইচের গান, হাস্য রসাত্মক ধাঁ ধাঁ ইত্যাদি আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে আজও স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল রেখেছে।
- কিশোরগঞ্জের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নরসুন্দা নদী।

নদ-নদী: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, মেঘনা, কালনী, সুতী, নরসুন্দা, ঘোড়াউত্রা, ধনু, বৌলাই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি।
প্রশাসন: ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় রূপান্তরিত হয়। কিশোরগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।
অর্থনীতি: কিশোরগঞ্জের অর্থনীতির চালিকাশক্তি অনেকটা হাওরের ওপর নির্ভরশীল। হাওরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় যা দেশের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম। 
জলবায়ু: কিশোরগঞ্জের জলবায়ু উষ্ণ। কিশোরগঞ্জের গড় তাপমাত্রা ২৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত হয় ২২৫০ মি.মি.।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
২,০৩৭.
বাংলাদেশ কোন রেখার উপর অবস্থিত?
  1. ক) মকরক্রান্তি
  2. খ) ট্রপিক অব ক্যাপ্রিকন
  3. গ) ট্রপিক অব ক্যানসার
  4. ঘ) আর্কটিক বৃত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রপিক অব ক্যানসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রপিক অব ক্যানসার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী
২,০৩৮.
বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৫৫ সালে 
  2. ১৯৫৭ সালে 
  3. ১৯৬২ সালে 
  4. ১৯৯৮ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস:
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন গভীরতায় শিলাস্তরে সঞ্চিত পেট্রোলিয়াম খনিজ তেলের উপরে উচ্চ চাপে গ্যাসীয় হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।
- মূলত, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে ৯৫–৯৯% মিথেন থাকে।

- বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩০টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অবস্থিত।
- প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে দুটি (সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া) উপকূলীয় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত।
- বাকিগুলি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ সালে, সিলেটের হরিপুরে।
- এরপর ১৯৫৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক গ্যাস উত্তোলন করা হয় বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
- এছাড়া, সমুদ্র এলাকার প্রথম গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু। 

উৎস:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

২,০৩৯.
কৃষ্ণসাগর ও মর্মরসাগরকে সংযুক্তকারী প্রণালির নাম কী?
  1. ক) জিব্রাল্টার প্রণালি
  2. খ) হরমুজ প্রণালি
  3. গ) দার্দানেলিস প্রণালি
  4. ঘ) বসফরাস প্রণালি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসফরাস প্রণালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসফরাস প্রণালি
ব্যাখ্যা
- বসফরাস প্রণালি: কৃষ্ণসাগর ও মর্মরসাগরকে সাগরকে যুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি: ভূমধ্যসাগর ও আটিলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- হরমুজ প্রণালি: পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
- সুয়েজ খাল: লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে।
- দার্দানেলিস প্রণালি: মর্মর সাগর ও ঈজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.
২,০৪০.
ঘূর্ণিঝড় ’মোন্থা'র নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ভিয়েতনাম
  2. থাইল্যান্ড
  3. ইন্দোনেশিয়া 
  4. মালদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
থাইল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫)-এ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম 'মোন্থা'।
- ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'র নাম প্রদান করেছে থাইল্যান্ড।
- থাইল্যান্ডের দেওয়া এই নামের অর্থ 'সুগন্ধি ফুল'।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ স্থানীয় সময় রাতে ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করে।

উল্লেখ্য
- ডব্লিউএমও পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করেছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার নিউজ।

২,০৪১.
নিম্নের কোন স্থানের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে সবচেয়ে বেশি?
  1. সুন্দরবন
  2. বগুড়া
  3. ময়মনসিংহ
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে ভিবিন্ন অঞ্চলের উচ্চতা:

- বাংলাদেশের সমভূমি উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন।
- সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে বাকি অঞ্চলগুলো
-যেমন- দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার,
- বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার,
- ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার এবং
- নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।

- সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর।

উল্লেখিত প্রশ্নে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার যা সবচেয়ে বেশি।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
২,০৪২.
নিচের কোনটি শিলা পরিবারের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে ভূ-ত্বক গঠন করে।
  2. প্রাকৃতিকভাবে বন্ধনে আবদ্ধ।
  3. অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
  4. বিভিন্ন প্রকার শিলার সংমিশ্রণই মৃত্তিকার উৎস।
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা
⇒ শিলা পরিবার:
বিভিন্ন ধরনের শিলাকে একত্রে শিলা পরিবার বলা যায়। 
মানব সমাজে আমরা যেমন একে অপরের সাথে পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সমাজ গঠন করে থাকি, তেমনি বিভিন্ন ধরনের শিলা নানা ভাবে একত্রিত হয়ে বা পারস্পরিক সহাবস্থানে ভূ-ত্বক গঠন করে থাকে।

⇒ শিলা পরিবারের বৈশিষ্ট্য:
- এরা পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে ভূ-ত্বক গঠন করে।
- এরা প্রাকৃতিকভাবে বন্ধনে আবদ্ধ।
- বিভিন্ন প্রকার শিলার সংমিশ্রণই মৃত্তিকার উৎস।
অর্থাৎ পারস্পরিক সহাবস্থান, বন্ধন, সংমিশ্রণ শিলা পরিবারের বৈশিষ্ট্য।

কিন্তু 'শিলা পরিবারে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে' এটি শিলা পরিবারের বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৩.
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) পদ্মা
  3. গ) নাফ
  4. ঘ) কর্ণফুলি
সঠিক উত্তর:
গ) নাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাফ
ব্যাখ্যা
নাফ নদী:
- টেকনাফ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা।
- এটি কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। 
- টেকনাফ মায়ানমারের সীমান্তবর্তী নাফ নদীর তীরে অবস্থিত। 
- কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত প্রলম্বিত খাঁড়ি সদৃশ নাফ নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া। 
২,০৪৪.
বাংলাদেশে কখন সবচেয়ে বেশি নদীভাঙন সংঘটিত হয়ে থাকে?
  1. জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে
  2. মার্চ থেকে মে মাসে
  3. জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে
  4. অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে
সঠিক উত্তর:
জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
• নদীভাঙন:
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।
- নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে।
- ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

• নদীভাঙনের কারণসমূহ:
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন,
- নদী গর্ভে নরম,
- ক্ষয়িষ্ণু শিলার উপস্থিতি,
- বাহিত শিলার কাঠিন্যতা,
- নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি,
- বন্যার সময়ে প্রবল পানির আঘাত,
- অত্যধিক বৃষ্টিপাত,
- নদী তীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে বৃক্ষ নিধন,
- নদী তীর ও তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন
- নদী তীর দখলের মাধ্যমে নদীর গতিপথে বাধা দেয়া ও গতিপথ পরিবর্তন করা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৫.
জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুর চাপ
  3. ভূমির ঢাল
  4. দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু (Climate):
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।
- অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়।

• নিম্নে জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১। অক্ষাংশ,
২। উচ্চতা,
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
৫। সমুদ্রস্রোত,
৬। ভূমির ঢাল,
৭। ভূ-প্রকৃতি,
৮। বায়ুপ্রবাহ,
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৬.
দার্দানেলিস প্রণালি পৃথক করেছে-
  1. আনাতোলিয়া ও গ্যালিপোলি উপদ্বীপ
  2. কৃষ্ণসাগর ও গ্যালিপোলি উপদ্বীপ
  3. মর্মর সাগর ও আনাতোলিয়া
  4. মর্মর সাগর ও কৃষ্ণসাগর
সঠিক উত্তর:
আনাতোলিয়া ও গ্যালিপোলি উপদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনাতোলিয়া ও গ্যালিপোলি উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা

দার্দানেলিস প্রণালী:
- দার্দানেলিস প্রণালী হলো উত্তর-পশ্চিম তুরস্কে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
-  এটি কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- এটি এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করে।
- এই প্রণালী এশিয়া মাইনরের আনাতোলিয়াকে ইউরোপের গ্যালিপোলি উপদ্বীপ থেকে আলাদা করে।
- এই প্রণালী এজিয়ান সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা পরে বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- ফলে কৃষ্ণ সাগরের দেশগুলোর জন্য এটি বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র সমুদ্র সংযোগ হিসেবে কাজ করে।
- সংযোগটি হলো: এজিয়ান সাগর → মর্মর সাগর → বসফরাস প্রণালী → কৃষ্ণ সাগর।
- প্রাচীনকালে দার্দানেলিস প্রণালী হেলেস্পন্ট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: Britannica.

২,০৪৭.
টাঙ্গন ও কুলিক কোন নদীর উপনদী?
  1. মহানন্দা
  2. যমুনা
  3. তিস্তা
  4. ব্রহ্মপুত্র
সঠিক উত্তর:
মহানন্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহানন্দা
ব্যাখ্যা
মহানন্দা:

- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
- জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে।
- অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।
- মহানন্দার উপনদী পুবর্ভবা, নাগর, কুলিক, টাঙ্গন, পাগলা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৮.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) যুদ্ধ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) ভূমিকম্প
  4. ঘ) রাসায়নিক বিষক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে। 

 • বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন-ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন-পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ ইত্যাদি।

• মনে রাখতে হবে যে, বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র। একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয় কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৪৯.
কততম COP সম্মেলনে Green Climate Fund গঠিত হয়?
  1. ক) COP - 10
  2. খ) COP - 12
  3. গ) COP - 14
  4. ঘ) COP - 16
সঠিক উত্তর:
ঘ) COP - 16
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) COP - 16
ব্যাখ্যা
UNFCCC এর উদ্যোগে কপ - ১৬ সম্মেলনে ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে Green Climate Fund গঠিত হয়।
এর প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন শহরে অবস্থিত।
এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া উন্নয়নশীল বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশের জন্যেও GCF ফান্ড থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
উন্নত দেশসমূহ এ ফান্ডে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।
(সূত্রঃ Green Climate Fund ওয়েবসাইট)
২,০৫০.
পৃথিবীর বারিমন্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ ভূগর্ভস্থ পানি ধারণ করে?
  1. ০.৩৭
  2. ০.৪৯
  3. ০.৬৮
  4. ০.৯১
সঠিক উত্তর:
০.৬৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৬৮
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর জলভাগের অবস্থানভিত্তিক বণ্টন:
- সমুদ্র : ৯৭.২৫ শতাংশ
- হিমবাহ : ২.০৫ শতাংশ
- ভূগর্ভস্থ পানি : ০.৬৮ শতাংশ
- হ্রদ : ০.০১ শতাংশ
- মাটির আর্দ্রতা : ০.০০৫ শতাংশ
- বায়ুমণ্ডল : ০.০০১ শতাংশ
- নদী : ০.০০০১ শতাংশ
- জীবমণ্ডল : ০.০০০০৪ শতাংশ।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,০৫১.
‘প্রান্তিক হ্রদ' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) নেত্রকোনা
সঠিক উত্তর:
ক) বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক হ্রদ:
- বান্দরবান জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের হলুদিয়ার সন্নিকটে প্রায় ২৫.২৯ একর এলাকা নিয়ে প্রান্তিক হ্রদ গঠিত।

• বান্দরবানে অবস্থিত আরো কয়েকটি হ্রদ:
- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক, 
- কিয়াচলং হ্রদ ইত্যাদি।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।
২,০৫২.
'ক্রিমিয়া উপদ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ চীন সাগর
  2. খ) কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে
  3. গ) কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণে
  4. ঘ) পূর্ব চীন সাগর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে
ব্যাখ্যা
- ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে অবস্থিত।
- এটি নিয়ে রাশিয়া - ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ হয় ২০১৪ সালে। 
- রাশিয়া "ক্রিমিয়া উপদ্বীপ" দখল করে রাশিয়ার অংশ করে নেয় ২০১৪ সালে।
- ক্রিমিয়ার ৬০ ভাগ অধিবাসী রাশিয়ান জাতিগোষ্ঠীর।
- এতে রাশিয়া সেখানে একটি গণভোট আয়োজন করে যেখানে অধিকাংশ রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেয়।
- কিন্তু জাতিসংঘ সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তা স্বীকৃতি দেয়নি।
- কৃষ্ণসাগর কিংবা ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেবাস্তাপুল বন্দর যা ক্রিমিয়ায় অবস্থিত।
- এই বন্দর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ইয়াল্টা কনফারেন্স ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।

সূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং বিবিসি ওয়ার্ল্ড।
২,০৫৩.
বেশিরভাগ গ্রহাণুর অবস্থান কোথায়?
  1. শনি এবং বৃহস্পতির মাঝে
  2. মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
  3. পৃথিবী ও মঙ্গল এর মাঝে
  4. শনি ও ইউরেনাস এর মাঝে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
ব্যাখ্যা
গ্রহাণু: 
- গ্রহাণু, যেগুলোকে কখনও বামন গ্রহ বলা হয়, সৌরজগতের প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে গঠনের সময় অবশিষ্ট থাকা শিলাময় এবং বায়ুহীন অংশ।
- বেশিরভাগ গ্রহাণুর মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে অ্যাস্টারয়েড বেল্টে অবস্থান। 
- বৃহত্তম গ্রহাণু ভেস্তা, যার ব্যাস প্রায় ৩২৯ মাইল (৫৩০ কিমি)।
- সবচেয়ে ছোট গ্রহাণুর আকার ১০ মিটার (৩৩ ফুট) এর চেয়েও কম।
- সব গ্রহাণুর মোট ভর একত্র করলে তা পৃথিবীর চাঁদের ভরের চেয়েও কম।

উৎস: NASA
২,০৫৪.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রকার বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. সংঘর্ষ বৃষ্টি
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উল্লেখ্য,
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা, জলবায়ু ও অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।

⇒ পরিচলন বৃষ্টি:
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৫৫.
কোন প্রণালীকে বঙ্গোপসাগরের প্রবেশপথ বলা হয়?
  1. দার্দানেলিস প্রণালী
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. মোজাম্বিকা প্রণালী
সঠিক উত্তর:
পক প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

⇒ পক প্রণালী:
- দক্ষিণ-পূর্ব ভারত এবং উত্তর শ্রীলঙ্কার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের একটি প্রবেশপথ।
- এটি ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পৃথক করে।
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর কে যুক্ত করে।

⇒ হরমুজ প্রণালী:
- পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগর এর সাথে সংযুক্তকারী চ্যানেল।
- এই প্রণালীটি ইরানকে ও আরব উপদ্বীপ ওমান (দক্ষিণ) থেকে পৃথক করে।

⇒ মোজাম্বিকা প্রণালী: 
- ভারত মহাসাগরের একটি প্রণালী যা, মোজাম্বিকা ও মাদাগাস্কার কে পৃথক করেছে।

⇒ দার্দানিসিলস প্রণালী:
- ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে সংযুক্তকারী প্রণালী, দার্দানেলিস প্রাণালী।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও The Business Standard.

২,০৫৬.
'ভবদহ' বিল কোথায় অবস্থিত?
  1. ফরিদপুর
  2. ঢাকা
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর
ব্যাখ্যা
ভবদহ বিল: 

- বৃহৎ আকৃতির প্রাকৃতিক জলাধার, যেগুলোতে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরীণ ও পৃষ্ঠ নিষ্কাশনের মাধ্যমে বয়ে আসা পানি জমা হয় তাঁদের বিল বলে।
- “ভবদহ” বিল যশোরে অবস্থিত।
- যশোর জেলার উল্লেখযোগ্য আরী কয়েকটি বিল হল: জলেশ্বর, বিল বকর, হরিণা, অরল, ইছামতি, বিল কেদারিয়া, বিল খুকশিয়া ও বিল পাজিয়া পাত্রা। 
- বাংলাদেশে প্রায় এক হাজারেরও বেশি বিভিন্ন আকারের বিল রয়েছে। 

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিল হল: 
• চলন বিল: পাবনা,নাটোর,সিরাজগঞ্জ,রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত।
• গোপালগঞ্জ-খুলনা বিল: গোপালগঞ্জ ও খুলনা অঞ্চলে অবস্থিত।
• আড়িয়াল বিল: মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত।
• ডাকাতিয়া বিল: খুলনা জেলার পূর্বাঞ্চলে ফুলতলা উপজেলায় অবস্থিত।
•  গাজনার বিল: পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় অবস্থিত।
• বাইক্কা বিল: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত।
• বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিল / মিঠাপানির মাছের উৎস চলন বিল।এটি পাবনা, সিরাজগঞ্জ রাজশাহী ও নাটোরে অবস্থিত
• পশ্চিম বাহিনীর নদী বলা হয় ডাকাতিয়া বিলকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া
২,০৫৭.
বিশ্বের গভীরতম খাল -
  1. ক) সুয়েজ খাল
  2. খ) পানামা খাল
  3. গ) গ্রান্ড খাল
  4. ঘ) কিয়েল খাল
সঠিক উত্তর:
খ) পানামা খাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানামা খাল
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল ।
- খালটি উত্তর আমেরিকার দেশ পানামাতে অবস্থিত।
- পানামা খালটির নির্মাণ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল এবং ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
- ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।

অন্যদিকে -
- সুয়েজ খাল ভূমধ্য সাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে।
- পৃথিবীর প্রাচীন ও দীর্ঘতম খাল চীনের গ্রান্ড খাল।
- কিয়েল খাল জার্মানিতে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
২,০৫৮.
ফ্রান্স কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা কোনটি?
  1. সিগফ্রিড লাইন
  2. হিন্ডেনবার্গ লাইন
  3. ম্যাজিনো লাইন
  4. ডুরান্ড লাইন
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিনো লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাজিনো লাইন
ব্যাখ্যা
জার্মান আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফ্রান্স কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা ম্যাজিনো লাইন।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা:

সনোরা লাইন:
- মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রেকে বিভক্তিকারী  সীমারেখা।
- যা মেক্সিকোর সনোরা রাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মধ্যে অবস্থিত।
- এই সীমারেখা উভয় দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভাজন নির্ধারণ করে।
- মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মোট সীমান্তের একটি অংশ, যা প্রায় ১৮৫৪ কিলোমিটার। 

ডুরান্ড লাইন
- স্যার হেনরি ডুরান্ড কর্তৃক ১৮৯৬ সালে তৎকালীন ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে চিহ্নিত সীমারেখা।

হিন্ডেনবার্গ লাইন
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি এ রেখা পর্যন্ত পশ্চাদপসরণ করেছিল। এটি জার্মান ও পোল্যান্ডের সীমানা চিহ্নিতকরণ রেখা।

সিগফ্রিড লাইন
- জার্মানি কর্তৃক জর্মান-ফ্রান্স সীমান্তে নির্মিত সুরক্ষিত সীমারেখা।

ম্যাকমোহন লাইন
স্যার ম্যাকমোহন কর্তৃক চিহ্নিত ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা নির্দেশক লাইন।

উৎস: Britannica.
২,০৫৯.
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ক) উষ্ণ ও আদ্র গ্রীষ্মকাল
  2. খ) শুষ্ক শীতকাল
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল, বৃষ্টিবহুল বর্ষাকাল এবং শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই (উন্মুক্ত)
২,০৬০.
পৃথিবীর কোন দেশে সবচেয়ে বেশি পাহাড় রয়েছে?
  1. তাজিকিস্তান
  2. কিরগিজস্তান
  3. ভুটান
  4. মন্টেনিগ্রো
সঠিক উত্তর:
ভুটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুটান
ব্যাখ্যা
সবচেয়ে বেশি পাহাড় আছে যে দেশে:
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল ভুটানে। 
- এর ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাহাড়ে আবৃত। 
- তিব্বত ও ভারতের মধ্যে স্থলবেষ্টিত এই দেশ।
- পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি ‘ল্যান্ড অফ দ্য থান্ডার ড্রাগন’ নামেও পরিচিত। 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,৭৬০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দেশ।
- ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেতিবাচক দেশ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ২য় স্থানে রয়েছে তাজিকিস্তান  (৯১.৯%)।
- ২য় স্থানে রয়েছে কিরগিজস্তান (৯০.৭%)।

উৎস: Worldatlas.
২,০৬১.
সিয়াচেন হিমবাহ কোন দুইটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ক) ভারত ও চীন
  2. খ) ভারত ও পাকিস্তান
  3. গ) চীন ও পাকিস্থান
  4. ঘ) চীন ও নেপাল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ভারত ও পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
সিয়াচেন হিমবাহ, বিশ্বের দীর্ঘতম পর্বত হিমবাহগুলির মধ্যে একটি, যা ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু যুদ্ধক্ষেত্র। সূত্রঃ ব্রিটানিকা।
২,০৬২.
কোনটি উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ু?
  1. এল নিনো
  2. লা নিনা
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এল নিনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এল নিনো
ব্যাখ্যা
এল নিনো:
- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে।
- ‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী।
- এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১৮ মাস।
- এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
- এল-নিনো সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।

⇒ লা নিনা :
- লা-নিনা (La Lina) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে।
- ‘লা-নিনা’ শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ।
- লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
- দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।
- লা-নিনার স্থায়ীত্ব ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।
- সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়। 
- দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।

উৎস: i) National Oceanic and Atmospheric Administration.
ii) BBC.
২,০৬৩.
সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার জলবায়ু -
  1. সমভাবাপন্ন জলবায়ু
  2. মহাদেশীয় জলবায়ু
  3. চরমভাবাপন্ন জলবায়ু
  4. নিরক্ষীয় জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমভাবাপন্ন জলবায়ু
ব্যাখ্যা
জলবায়ু ও তাপমাত্রার উপর সমুদ্র উপকূল এর দূরত্বের প্রভাব
- সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়।
- এ জন্য সমুদ্রতীর থেকে দূরবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই তীব্র বা চরম হয়।
- গ্রীষ্মকালে মহাদেশের মধ্য ভাগের তাপমাত্রা অনেক বেশী থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন বা মহাদেশীয় জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম এবং দিনরাত্রির তাপমাত্রার তেমন পার্থক্য হয় না।
- এই ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উল্লেখ্য,
- কোনো এলাকার প্রতি দিনের গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের তথ্যের ভিত্তিতে সামগ্রিক যে অবস্থা প্রকাশ পায় তাকেই সেই আবহাওয়া বলে।
- সাধারণত কোনো এলাকার ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়াজনিত অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- সাধারণত বৃহৎ এলাকাজুড়ে জলবায়ু পরিমাপ করা হয়ে থাকে।
- আবহাওয়া সম্পর্কীয় বিজ্ঞান মেটিওরোলজি (Meteorology) নামে পরিচিত।

উৎস- ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৪.
জেট বিমান কোন স্তরে চলাচল করে?
  1. তাপমন্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
•স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
ক) এ স্তর  জলীয়বাষ্পবিহীন।
খ) এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
গ) এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ঘ) স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
চ) এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,০৬৫.
কৃষ্ণসাগর ও অ্যাজভ সাগর কোন প্রণালি দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত?
  1. ডেভিস প্রণালি
  2. বেরিং প্রণালি
  3. কার্চ প্রণালী
  4. মেসিনা প্রণালী
সঠিক উত্তর:
কার্চ প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্চ প্রণালী
ব্যাখ্যা
কার্চ প্রণালী:
- কৃষ্ণসাগর ও অ্যাজভ সাগর কার্চ প্রণালী দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত।
- কার্চ প্রণালী রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে পৃথক করেছে।
- অ্যাজভ সাগরের তীরে ইউক্রেনের মারিয়াপোল ও রাশিয়ার রোস্টভ সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।
- ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কার্চ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে,
- মেসিনা প্রণালী টির ইনিয়ান – আইওনিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- বেরিং প্রণালী বেরিং সাগর ও সুমেরু সাগরকে যুক্ত করেছে।
- ব্যাফিন সাগর ও ল্যাব্রাডর সাগরকে সংযুক্ত করেছে ডেভিস প্রণালী।

উৎস: Britannica.
২,০৬৬.
পানামা খাল নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয় কবে?
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯১২ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযোগকারী কৌশলগত জলপথ।
- পানামা খাল একটি লক-টাইপ খাল।
- এটি পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- খালটি পানামার সরু ভূমি দিয়ে আটলান্টিক (বিশেষত ক্যারিবিয়ান সাগর) এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- খালটি আগস্ট ১৯১৪ সালে সম্পন্ন হয়।
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের একটি (অন্যটি সুয়েজ খাল)।
- যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের মধ্যে ভ্রমণকারী জাহাজগুলো কেপ হর্ন ঘুরে আসার পরিবর্তে প্রায় ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল (১৫,০০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- উত্তর আমেরিকার একটি উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার বিপরীত পাশে বন্দরগুলোর যাত্রাপথে প্রায় ৩,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৬,৫০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার যাত্রাপথে প্রায় ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- পানামা খাল বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য এবং নৌচলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু।

উৎস: Britannica.
২,০৬৭.
ডেথ ভ্যালি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. ব্রাজিল
  3. লিবিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

♦ ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকা:
- ডেথ ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত।
- ডেথ ভ্যালি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক নিম্নভূমি বা গহ্বর।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু, উষ্ণ এবং শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- অবস্থান: গ্রেট বেসিন ও মোহাভে মরুভূমি এর সীমান্তবর্তী এলাকা।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু স্থান, যার সর্বনিম্ন বিন্দু বেডওয়াটার বেসিন , সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮২ ফুট নিচে।
- এটি বিশ্বের অন্যতম গরমতম স্থান, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়শই ৫০°C ছাড়িয়ে যায়।
- বার্ষিক বৃষ্টিপাত খুবই কম, মাত্র কয়েক ইঞ্চি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২,০৬৮.
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা কত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

• সীমান্তবর্তী নদী:
- আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী হলো এমন নদী যা অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমান্ত অতিক্রম করে।
- বাংলাদেশে মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী রয়েছে।
- এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি নদী প্রবেশ করেছে।
- যা হলো: নাফ, মাতামুহুরী এবং সাঙ্গু। 
- এই তিনটি নদীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
-  বঙ্গোপসাগরে মিশে নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত গঠন করে। 
- অন্য দুটি নদী, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু, মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ।

২,০৬৯.
জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক রামসার কনভেনশন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. সৌদিআরব
  4. নেদারল্যান্ডস
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা
• রামসার কনভেনশন 
- ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জলাভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ক রামসার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- রামসারের ডকুমেন্ট অনুসারে - Number of Contracting Parties: 171

• বাংলাদেশ ও রামসার
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস-  রামসার ওয়েবসাইট।
২,০৭০.
মধুপুর গড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. টাঙ্গাইল
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

- মধুপুর গড় টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

(ক) বরেন্দ্রভূমি: দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

(খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এরউচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ধূসর।

(গ)লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

২,০৭১.
কক্সবাজার সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ (প্রকল্প) গড়ে তােলা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৬
  2. ১৯৯৮
  3. ১৯৯৭
  4. ২০১০
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭
ব্যাখ্যা
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিদুর্গত মানুষের জন্য নােয়াখালীতে (বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার অংশ) ‘গুচ্ছগ্রাম' গড়েছিলেন।
- একই দৃষ্টান্ত সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭-এর কক্সবাজার সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ (প্রকল্প) গড়ে তােলেন।।
- স্থানীয় প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ সহায়তায় গড়ে উঠেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামাে।
- দরিদ্র জনগােষ্ঠীকে ঋণ ও প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তােলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
উৎস : https://pmo.gov.bd/
২,০৭২.
BCCTF এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) Bangladesh Climatology Change Trust Fund
  2. খ) Bangladesh Climatology Change Trust Foundation
  3. গ) Bangladesh Climate Change Trust Fund
  4. ঘ) Bangladesh Climate Change Trust Foundation
সঠিক উত্তর:
গ) Bangladesh Climate Change Trust Fund
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Bangladesh Climate Change Trust Fund
ব্যাখ্যা
• BCCTF এর পূর্ণরূপ Bangladesh Climate Change Trust Fund
• বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF): সরকার ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন কার্যকর করে এবং এর আগে ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড নীতিমালা তৈরি করে। এই ট্রাস্টের আওতায় অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন এবং স্থানচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,০৭৩.
পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত কোনটি?
  1. গ্যান্ডিকোটা গিরিখাত
  2. কলোরাডো গিরিখাত
  3. গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
  4. ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত
সঠিক উত্তর:
ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত
ব্যাখ্যা
ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত:
- পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত হলো ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত।
- এটি ব্রহ্মপুত্র গিরিখাত নামেও পরিচিত।
- এটি চীনের তিব্বত অঞ্চলে অবস্থিত।
- এই গিরিখাতের গভীরতা সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৭১৪ ফুট এবং এটির দৈর্ঘ্য ৩১৩ মাইলের বেশি।
- ইয়ারলাং সাংপো নদীর উৎপত্তিস্থল কৈলাস পর্বতের কাছে। সেখান থেকে এই নদী পূর্ব দিকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মাইল বয়ে গেছে এবং তিব্বতের পেই গ্রামের কাছে গিরিখাতে প্রবেশ করার আগে হিমালয়ের উত্তর অংশে প্রবাহিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের ২য় গভীরতম গিরিখাত কালি গণ্ডকি। নেপালে হিমালয়ের যে অংশ দিয়ে কালি গণ্ডকি নদী প্রবাহিত হচ্ছে, সেখানে এই গিরিখাত তৈরি হয়েছে।
- বিশ্বের ৩য় গভীরতম গিরিখাত সিন্ধু নদী গিরিখাত। সিন্ধু নদী পাকিস্তানের পাঞ্জাব সমভূমির দিকে প্রবাহিত হওয়ার আগে নাঙ্গা পর্বত শৃঙ্গের (হিমালয়ের পশ্চিম অংশ) চারপাশে বাঁক নেওয়ার সময় একটি বড় গিরিখাত তৈরি করেছে।

উৎস: World Atlas.
২,০৭৪.
‘চিকেন নেক’ খ্যাত ভূখণ্ডটি ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. মিজোরাম
  3. নাগাল্যান্ড 
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা

• চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।
- এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত।

- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটি বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলা হয়। 
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি (নভেম্বর, ২০২৫) বাংলাদেশের সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাম রাজ্যের ধুবড়ি শহরে ‘লাচিত বোরফুকান নামে একটি সেনাঘাঁটি করছে ভারত সরকার। 

তথ্যসূত্র: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

২,০৭৫.
ব্রহ্মপুত্র নদ কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. রাজশাহী
  2. কুষ্টিয়া
  3. নওগাঁ
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। 
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৭৬.
বাংলাদেশের কোন জেলাকে ‘হিমালয় কন্যা’ বলা হয়?
  1. কুয়াকাটা 
  2. পঞ্চগড়
  3. চট্টগ্রাম
  4. পটুয়াখালী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

• পঞ্চগড়:
- ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হাজার বছরের গৌরবগাথা আর প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতিমণ্ডিত জেলা পঞ্চগড়।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় 'হিমালয় কন্যা'।

-  অবস্থানগত কারণে পঞ্চগড় একটি শীতপ্রবণ জেলা।
- অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এখানে প্রচণ্ড কুয়াশাসহ শীত পড়ে।
- আর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এখানকার তাপমাত্রা ৪-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন, তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট, বারো আউলিয়ার মাজার, শাহী মসজিদ, সমতল ভূমির আরগনিক চায়ের বাগান, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, আনন্দ ধারা, ভিতরগড় ও মহারাজের দীঘি, বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, গোলক ধাম মন্দির, বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, পাহাড়ি স্বচ্ছ জলের মহানন্দা নদী, পাথর সমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, চতুর্থ চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু, খয়ার বাগানসহ বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল ময়নামতিরচর।

তথ্যসূত্র: পঞ্চগড় জেলার ওয়েবসাইট।

২,০৭৭.
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি ভূকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি ভূকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমনঃ অঞ্চল ১ (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ), অঞ্চল ২ (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ) এবং অঞ্চল ৩ (কম ঝুঁকিপূর্ণ)। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২,০৭৮.
পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ-
  1. দ্রাঘিমা রেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. নিরক্ষরেখা
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমা রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
• দ্রাঘিমাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানে মূল মধ্যরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলে।

• দ্রাঘিমা রেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
- অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমা রেখা (Latitude)।
- প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা একেকটি অর্ধবৃত্ত।

অন্যদিকে,
- অক্ষাংশ: ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
- অক্ষরেখা: যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখা: পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- কর্কটক্রান্তি রেখা: উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- মকরক্রান্তি রেখা: দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৭৯.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ইয়াংসিকিয়াং নদী
  2. আমুর নদী
  3. হোয়াংহো নদী
  4. মেকং নদী
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং নদী
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং:
- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২,০৮০.
কোন প্রণালি মর্মর সাগর ও ঈজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. বসফরাস প্রণালি
  2. জিব্রাল্টার প্রণালি
  3. কার্চ প্রণালি
  4. দার্দেনেলিস প্রণালি
সঠিক উত্তর:
দার্দেনেলিস প্রণালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দার্দেনেলিস প্রণালি
ব্যাখ্যা
- দার্দানেলিস প্রণালি মর্মর সাগর ও ঈজিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে ও এশিয়া-ইউরোপকে পৃথক করেছে।
অন্যদিকে,
- বসফরাস প্রণালি মর্মর সাগর ও কৃষ্ণসাগরকে যুক্ত করেছে এবং এশিয়া-ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক সাগরকে যুক্ত করেছে এবং আফ্রিকা-ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- কার্চ প্রণালি অ্যাজব সাগর ও কৃষ্ণসাগরকে যুক্ত করেছে এবং ক্রিমিয়া ও রাশিয়াকে পৃথক করেছে।
(তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
২,০৮১.
লিলি ফুলের দেশ বলা হয়- 
  1. সিরিয়া
  2. ইসরায়েল
  3. কানাডা 
  4. মিশর
সঠিক উত্তর:
কানাডা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাডা 
ব্যাখ্যা

ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।

উৎস: Britannica.com

২,০৮২.
বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট কোনটি?
  1. রাতারগুল
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. শালবন
  4. সুন্দরবন
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতারগুল
ব্যাখ্যা

• রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট হলো রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।
- এটি সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- এই বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর।
- বনের ৫০৪ একরকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে।
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি।
- এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।

উল্লেখ্য,
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,০৮৩.
দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল কোথায় অবস্থিত? 
  1. হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট
  2. কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
  3. পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
  4. আদিতমারী, লালমনিরহাট
সঠিক উত্তর:
পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা

দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল,
- যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,০৮৪.
কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসের গড় গতিবেগ ঘন্টায়-
  1. ১০ থেকে ২০ কিমি
  2. ৪০ থেকে ৬০ কিমি
  3. ১০০ থেকে ১৫০ কিমি
  4. ৮০ থেকে ১৪০ কিমি
সঠিক উত্তর:
৪০ থেকে ৬০ কিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০ থেকে ৬০ কিমি
ব্যাখ্যা

-  কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসের গড় গতিবেগ ঘন্টায়-৪০ থেকে ৬০ কিমি।

কালবৈশাখী:

- কালবৈশাখী উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে ইংরেজিতে একে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ঝড় দেখা যায়। বাংলাদেশ এবং উত্তর–পূর্ব ভারতে মার্চ থেকে কালবৈশাখী শুরু হয়।
- গ্রীষ্ম ঋতুর সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এ ঝড়ের আগমন ঘটে। বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখীর মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ‌- - সাধারণত কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশিও হতে পারে।
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী সাধারণ বৈশাখ মাসে বেশি হয় ।
- সাধারণ এ ঝড়ের অনেক আগাম পূর্বাভাস বলা খুব কঠিন।
- খুব অল্প সময়েই সংঘটিত হয়ে থাকে। আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না বলে এ ঝড়ের ক্ষতির মাত্রা বেশি থাকে।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

২,০৮৫.
হালদা ও বোয়ালখালি কোন নদীর উপনদী?
  1. পদ্মা নদীর
  2. ফেনী নদীর
  3. মেঘনা নদীর
  4. কর্ণফুলী নদীর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী নদীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী নদীর
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের লংলেহ কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- অর্থাৎ হালদা ও বোয়ালখালি কর্ণফুলী নদীর উপনদী।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮৬.
নদী উপত্যকার তলদেশকে কী বলা হয়?
  1. দোয়াব অঞ্চল
  2. নদীসঙ্গম
  3. নদীতট
  4. জলবিভাজিকা
সঠিক উত্তর:
নদীতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীতট
ব্যাখ্যা
নদীগর্ভ বা নদীতট:
- নদী উপত্যকার তলদেশকে বলা হয় নদীগর্ভ।

নদীর উৎস (Source):
- নদীর উৎপত্তিস্থলকে নদীর উৎস বলে।

নদীর মোহনা (Mouth):
- নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

দোয়াব অঞ্চল:
- দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।

উপনদী (Tributary):
- বিভিন্ন উৎস হতে যখন ছোট ছোট নদী উৎপত্তি লাভ করে কোনো বড় নদীতে মিলিত হয় তখন এ ছোট নদীগুলোকে সে বড় নদীর উপনদী বলে। যেমন- যমুনার উপনদী করতোয়া, তিস্তা এবং মেঘনার উপনদী সুরমা ও কুশিয়ারা।

শাখানদী (Distributory):
- কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে স্রোতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। যেমন- ইছামতি, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি পদ্মার শাখানদী।

নদীসঙ্গম (Confluence):
= পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।

নদী অববাহিকা (River Basin):
- মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

নদী উপত্যকা (River Valley):
- নদীর উৎস হতে মোহনা পর্যন্তগতিপথে যে স্থানের মধ্য দিয়ে পানিরাশি প্রবাহিত হয় সেই খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।

জলবিভাজিকা:
- যে উচ্চভূমি বিভিন্ন নদীজ এলাকাকে আলাদা করে থাকে তাকে জলবিভাজিকা বলে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮৭.
কোন নদী মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. মহানন্দা
  2. তিস্তা
  3. কর্ণফুলী
  4. পদ্মা
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী: 
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- কর্ণফুলী মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮৮.
ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বড় বড় ঢেউসমূহ কী নামে পরিচিত?
  1. বন্যা
  2. জোয়ার
  3. সুনামি
  4. জলোচ্ছাস
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা
• সুনামি:
- সুনামি এটি জাপানী শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ ‘পোতাশ্রয়ের ঢেউ’।
- সমুদ্র বা বৃহদাকার হ্রদের তলদেশে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণ ও পারমানবিক বা অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণের ফলে উঁচু ও বিশালাকার ঢেউ উপকূলে আঘাত হানে। এই ঢেউগুলো সুনামি নামে পরিচিত।
ক্রমাগত একের পর এক ঢেউ আসতে থাকায় সুনামি-কে ওয়েভ ট্রেন বা ঢেউ-এর রেলগাড়ি নামেও অভিহিত করা হয়। ’

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৮৯.
পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা কোনটি?
  1. লাইন অব ডিমারকেশন
  2. ডুরান্ড লাইন
  3. ওডার-নেইস লাইন
  4. ম্যাকমোহন লাইন
সঠিক উত্তর:
লাইন অব ডিমারকেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইন অব ডিমারকেশন
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দেশের সীমানা:
⇒ পার্পল লাইন: ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
⇒ সনেরা লাইন: মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ওডার-নেইস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ব্লু লাইন: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সীমানা।
⇒ লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
⇒ ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ রেডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
⇒ লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল / ম্যাকমোহন লাইন: চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
⇒ লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২,০৯০.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা কত?
  1. ৩৩টি
  2. ৩২টি
  3. ৩০টি
  4. ৩১টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:

- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী মোট জেলা ৩ টি। 
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি জেলার যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বান্দরবান এবং কক্সবাজার জেলার সাথে ভারতের কোনো সীমানা নেই। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা ৪,১৫৬ কিলোমিটার (সূত্র: BGB)

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, BGB এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,০৯১.
চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমির দেখা মেলে কোন জেলায়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রংপুর 
  4. টাঙ্গাইল
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,০৯২.
২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেন্ট্রিগ্রেড বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হয়েছে?
  1. ক) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ২.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
  2. খ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ৩° সেন্ট্রেগ্রেড
  3. গ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
  4. ঘ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ৩.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
সঠিক উত্তর:
গ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অনুভূত হতো।
• কিন্তু বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠেছে।
• ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১° সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ১.৫° সেন্ট্রেগ্রেড পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করেছে। 

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৩.
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. লোহিত মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ হলো কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছ থেকে দ্বীপগুলো দখল করে নেয়।

উল্লেখ্য,
- এই বিরোধ মূলত দক্ষিণ কুড়িলের চারটি দ্বীপ নিয়ে।
- বিরোধপূর্ণ চারটি দ্বীপ হলো:
- ইটুরুপ (Iturup / Etorofu)
- কুনাশির (Kunashir)
- শিকোটান (Shikotan)
- হাবোমাই (Habomai)
- এই চারটির মধ্যে কুনাশির দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- জাপান এই চারটি দ্বীপকে একত্রে “নর্দান টেরিটরিজ (Northern Territories)” বলে দাবি করে।
- দ্বীপগুলো প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে, জাপানের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- এই ভূখণ্ড বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,০৯৪.
বেরিং প্রণালী কোন দুটি দেশকে পৃথক করেছে?
  1. চীন ও জাপান
  2. কানাডা ও রাশিয়া
  3. রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বেরিং প্রণালী:
-বেরিং প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ।
- এই প্রণালী এশিয়া মহাদেশ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ পৃথক করেছে।
- দেশ হিসেবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথক করেছে এই প্রণালী।
- বেরিং প্রণালী এবং সাগর উভয়েরই নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিংয়ের সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর। 
- এর গড় গভীরতা ৫০ মিটার। এটি গভীরতম বিন্দুতে মাত্র ৯০ মিটার গভীর।
- প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

২,০৯৫.
‘চর লরেন্স’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নোয়াখালীতে
  2. খ) সুন্দরবনে
  3. গ) রাজশাহীতে
  4. ঘ) ভোলায়
সঠিক উত্তর:
ক) নোয়াখালীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নোয়াখালীতে
ব্যাখ্যা
চর লরেন্স, চর শাহাবানী, চর শ্রীজনী, চর কাদিয়া, ঠেঙ্গার চর ইত্যাদি নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায় অবস্থিত।
২,০৯৬.
দক্ষিণ গোলার্ধে শীতলতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. জুলাই
  4. ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই
ব্যাখ্যা

গোলার্ধ:
- নিরক্ষরেখা নামক একটি কাল্পনিক রেখা উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধকে বিভক্ত করে।
- বিষুবরেখাকে 0° অক্ষাংশও বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর মাঝখানে পূর্ব এবং পশ্চিমে চলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তরে অবস্থিত স্থানগুলি উত্তর গোলার্ধের অংশ।
- নিরক্ষরেখার দক্ষিণে স্থানগুলি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
 আফ্রিকার কিছু অংশ, দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ অংশ এবং সমস্ত অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।

• দক্ষিণ গোলার্ধ:
- দক্ষিণ গোলার্ধ হল পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

২,০৯৭.
স্থলবায়ু বলতে নিচের কোনটিকে বোঝায়?
  1. দিনের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
  2. দিনের বেলায় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
  3. রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
  4. রাতের বেলায় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
সঠিক উত্তর:
রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতের বেলায় স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়
ব্যাখ্যা
সমুদ্র ও স্থলবায়ু (Sea and Land Breeze):
- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়; কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপযুক্ত হয়।
- ফলে তখন জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
- আবার রাত্রিকালে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ বেশি শীতল বলে স্থলভাগের বায়ু উচ্চচাপযুক্ত হয়।
- তখন স্থলভাগ থেকে জলভাগ বা সমুদ্রের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে স্থলবায়ু বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থানের কারণে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,০৯৮.
নিচের কোনগুলো বায়ুমণ্ডলের উপাদান?
  1. বিভিন্ন প্রকার কঠিন পদার্থ
  2. ধূলিকণা, তরল পদার্থ, জলের কণা
  3. বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্প
  4. কঠিন পদার্থ, জলীয় বাষ্প ও ধুলা-বালি
সঠিক উত্তর:
বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
  1. কেওক্রাডং
  2. চিম্বুক
  3. তাজিনডং
  4. লাউয়াছড়া
সঠিক উত্তর:
তাজিনডং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজিনডং
ব্যাখ্যা

বান্দরবানে অবস্থিত তাজিনডং শৃঙ্গটির উচ্চতা ১,২৮০ মিটার, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি: 

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। গঙ্গা নদী পশ্চিম, ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তর, সুরমাও কুশিয়ারা নদী উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একযোগে সুবিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।

ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, 
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ, 
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। 

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত। পাহাড়গুলো আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়। এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়),যার উচ্চতা ১,২৮০ মিটার।
- এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবেটিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

২,১০০.
মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়ায় কোন ধরনের জলবায়ু দেখা যায়?
  1. মৌসুমী জলবায়ু
  2. তুন্দ্রা ধরনের জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, কোস্টারিকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।