উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২১ / ৭২ · ২,০০১–২,১০০ / ৭,১৯১
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত।
- এর মোট আয়তন ৫০২২ হেঃ।
- এটি ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়।
• প্রাণিবৈচিত্র্য:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে একসময় বাঘ, কালোচিতা, চিতাবাঘ, মেঘলা চিতা, হাতি, ময়ূর, মায়া হরিণ ও সম্বর হরিণ দেখা যেত। ১৯৮৫ সালে এ বনে খেঁকশিয়াল, গন্ধগোকুল, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুই সাপ আর কয়েক প্রজাতির সাপ দেখা গেছে। একটি হিসাব অনুযায়ী, ভাওয়াল গড়ে ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে যার মধ্যে ৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর ও ৩৯ প্রজাতির পাখি রয়েছে। বনবিভাগ এ বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ ও মেছোবাঘ ছেড়েছে। এছাড়া ২০১২ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ১৬টি তক্ষক ছাড়া হয়।
• উদ্ভিদ:
- ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান মূলত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি। এ বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির লতা, ২৭ প্রজাতির তৃণ, ৩ প্রজাতির পামজাতীয় বৃক্ষ, ১০৫ প্রজাতির ঔষধি, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ। শাল (Shorea robusta) এ উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। অন্যান্য বৃক্ষের মধ্যে কাঁঠাল, আজুলি, কুম্ভী, গান্ধী গজারি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এ বনে কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস আর রাবারের বনায়ন করা হয়েছে।
উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:
- সর্ব উত্তরে - পঞ্চগড়(জেলা), - তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
- সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
- সর্ব পূর্বে - বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং (স্থান)।
- সর্ব দক্ষিণে - কক্সবাজার (জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন (ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• সনোরা লাইন:
- সনোরা লাইন হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোকে বিভক্তকারী একটি আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
- সোনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী সীমানার দক্ষিণাংশ।
- এই সীমান্ত অ্যারিজোনা রাজ্য (যুক্তরাষ্ট্র) ও সোনোরা রাজ্য (মেক্সিকো)-এর মধ্যে অবস্থিত।
- এই সীমান্ত অংশটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এখানে বৈধ ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম, বাণিজ্য ও অভিবাসন কার্যক্রম নিয়মিত ঘটে।
অন্যদিকে,
• আর্জেন্টিনা ও চিলি: এদের মধ্যে আন্দিজ পর্বতমালা সীমান্ত হিসেবে কাজ কর
• ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে: এদের মধ্যে সীমান্তের প্রধান অংশ পারানা নদী দ্বারা নির্ধারিত।
• কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র: এদের মধ্যে ৪৯° অক্ষাংশ বরাবর দীর্ঘতম শান্তিপূর্ণ সীমান্ত আছে।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণের অন্তর্ভুক্ত নয়- টেকটোনিক প্লেটের সরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন প্লেট বা ফলকে গঠিত।
- এই প্লেটের সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।
- টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা ঘর্ষণের ফলে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।
• অপ্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- শিলাচ্যুতি বা শিলায় ভাঁজ পড়া,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্পের চাপ,
- ভূত্বকের তাপ বিকিরণ,
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত,
- পাহাড়ি শিলাখণ্ডের ধস;
- এবং মানুষের কার্যকলাপ (যেমন খনন বা বড় বাঁধ নির্মাণ)।
- এগুলো মূলত টেকটোনিক প্লেটের সরণের কারণে সৃষ্ট বড় ভূমিকম্পের সঙ্গে ছোটখাটো কম্পন বা মানুষের সৃষ্টি কম্পন ঘটাতে পারে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
উল্লেখ্য,
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (Yarlung Tsangpo) নামে পরিচিত।
- তিব্বতে এর নাম ইয়ারলুং সাংপো, অরুণাচলে সিয়ং এবং আসাম ও বাংলাদেশে এর নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র।
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চর আলেকজান্ডার:
- চর আলেকজান্ডার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৪নং ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতি এসিল্যান্ড অফিসে আলেকজান্ডার নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক রেভিনিউ কালেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন।
- তার নাম অনুসারে এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় আলেকজান্ডার।
- চর আলেকজান্ডার বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকা।
⇒ বাংলাদেশের চরসমূহ:
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ঘূর্ণিঝড়:
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫)-এ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মোন্থা’।
- ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'র নাম প্রদান করেছে থাইল্যান্ড।
- থাইল্যান্ডের দেওয়া এই নামের অর্থ ‘সুগন্ধি ফুল’।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ স্থানীয় সময় রাতে ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে।
উল্লেখ্য,
- বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজুড়ে যে ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ঘনীভূত হওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে থাকে আবহাওয়া দপ্তর, পালা করে বিভিন্ন দেশ তার নামকরণ করে।
- আর এটি করে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)।
- ডব্লিউএমও সে জন্য পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করেছে।
উৎস: প্রথম আলো।
দুর্যোগ:
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।
• দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে।
যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।
১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।
২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ:
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি ইত্যাদি।
সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- হামহাম, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ :
বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা থেকে ১৯৯২ সালে ‘জাতীয় পরিবেশ নীতি’ প্রথম প্রণীত হয়।
এই নীতির মাধ্যমে বন, জলসম্পদ, ভূমি, বায়ু, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে এই নীতির ভিত্তিতেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ প্রণীত হয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়।
উল্লেখ্য,
পরিবেশ বিপর্যয়, নানাবিধ দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতার নিরিখে ঈপ্সিত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে এবং সংবিধানের মূলনীতি হিসাবে গৃহীত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় নীতিসমূহে প্রতিফলন করিবার মাধ্যমে পরিবেশকে উন্নয়নের মূলধারায় আনয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ নীতি ১৯৯২ সংশোধন ও পরিমার্জন করিয়া জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮ গ্রহণ করা হয়।
উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
প্রতিপাদ স্থান:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে সরলরেখা টানলে চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে বের হবে।
- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান- চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।
উল্লেখ্য:
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০০।
- অর্থাৎ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত বাংলাদেশ আর চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরের ঐ স্থানটি ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে অর্থাৎ ঠিক বিপরীত ঢাকার প্রতিপাদ স্থান।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
বজ্রপাত:
- ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতকে ১৩তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।
⇒ আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান।
- বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাত-প্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম।
- গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।
উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর কম বেশী প্রায় ৩০০ হতে ৪০০ জন মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারায়। অন্যান্য দুর্যোগের তুলনায় বর্তমানে বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই প্রাণহানি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন।
- বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসাবে ঘোষণার পর ২০১৭ সালে বজ্রপাতে প্রাণহানি হ্রাসে সরকার দেশব্যাপী ৬০ লাখ তালগাছ লাগানো হয়।
- এ ছাড়া বজ্রপাত চিহ্নিতকরণ যন্ত্র লাইটেনিং ডিটেক্টর এবং লাইটেনিং অ্যারেস্টার সেন্সর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
উৎস: i) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- সীমান্তবর্তী স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের:
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা বান্দরবান।
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের:
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের:
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন গভীরতায় শিলাস্তরে সঞ্চিত পেট্রোলিয়াম খনিজ তেলের উপরে উচ্চ চাপে গ্যাসীয় হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।
- মূলত, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে ৯৫–৯৯% মিথেন থাকে।
- বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩০টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অবস্থিত।
- প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে দুটি (সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া) উপকূলীয় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত।
- বাকিগুলি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ সালে, সিলেটের হরিপুরে।
- এরপর ১৯৫৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক গ্যাস উত্তোলন করা হয় বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
- এছাড়া, সমুদ্র এলাকার প্রথম গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু।
উৎস:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
প্রথম আলো পত্রিকা।
ঘূর্ণিঝড়:
- সম্প্রতি (অক্টোবর, ২০২৫)-এ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম 'মোন্থা'।
- ঘূর্ণিঝড় 'মোন্থা'র নাম প্রদান করেছে থাইল্যান্ড।
- থাইল্যান্ডের দেওয়া এই নামের অর্থ 'সুগন্ধি ফুল'।
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ স্থানীয় সময় রাতে ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করে।
উল্লেখ্য
- ডব্লিউএমও পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সঙ্গে সমন্বয় করে ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করেছে।
উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার নিউজ।
• দার্দানেলিস প্রণালী:
- দার্দানেলিস প্রণালী হলো উত্তর-পশ্চিম তুরস্কে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- এটি কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- এটি এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করে।
- এই প্রণালী এশিয়া মাইনরের আনাতোলিয়াকে ইউরোপের গ্যালিপোলি উপদ্বীপ থেকে আলাদা করে।
- এই প্রণালী এজিয়ান সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা পরে বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- ফলে কৃষ্ণ সাগরের দেশগুলোর জন্য এটি বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র সমুদ্র সংযোগ হিসেবে কাজ করে।
- সংযোগটি হলো: এজিয়ান সাগর → মর্মর সাগর → বসফরাস প্রণালী → কৃষ্ণ সাগর।
- প্রাচীনকালে দার্দানেলিস প্রণালী হেলেস্পন্ট নামে পরিচিত ছিল।
উৎস: Britannica.
⇒ পক প্রণালী:
- দক্ষিণ-পূর্ব ভারত এবং উত্তর শ্রীলঙ্কার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের একটি প্রবেশপথ।
- এটি ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পৃথক করে।
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর কে যুক্ত করে।
⇒ হরমুজ প্রণালী:
- পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগর এর সাথে সংযুক্তকারী চ্যানেল।
- এই প্রণালীটি ইরানকে ও আরব উপদ্বীপ ওমান (দক্ষিণ) থেকে পৃথক করে।
⇒ মোজাম্বিকা প্রণালী:
- ভারত মহাসাগরের একটি প্রণালী যা, মোজাম্বিকা ও মাদাগাস্কার কে পৃথক করেছে।
⇒ দার্দানিসিলস প্রণালী:
- ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে সংযুক্তকারী প্রণালী, দার্দানেলিস প্রাণালী।
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও The Business Standard.
♦ ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকা:
- ডেথ ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত।
- ডেথ ভ্যালি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক নিম্নভূমি বা গহ্বর।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু, উষ্ণ এবং শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- অবস্থান: গ্রেট বেসিন ও মোহাভে মরুভূমি এর সীমান্তবর্তী এলাকা।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু স্থান, যার সর্বনিম্ন বিন্দু বেডওয়াটার বেসিন , সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮২ ফুট নিচে।
- এটি বিশ্বের অন্যতম গরমতম স্থান, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়শই ৫০°C ছাড়িয়ে যায়।
- বার্ষিক বৃষ্টিপাত খুবই কম, মাত্র কয়েক ইঞ্চি।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
• সীমান্তবর্তী নদী:
- আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী হলো এমন নদী যা অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমান্ত অতিক্রম করে।
- বাংলাদেশে মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্তবর্তী নদী রয়েছে।
- এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি নদী প্রবেশ করেছে।
- যা হলো: নাফ, মাতামুহুরী এবং সাঙ্গু।
- এই তিনটি নদীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী হলো নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
- বঙ্গোপসাগরে মিশে নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত গঠন করে।
- অন্য দুটি নদী, মাতামুহুরী ও সাঙ্গু, মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ।
- মধুপুর গড় টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
(ক) বরেন্দ্রভূমি: দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।
(খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এরউচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ধূসর।
(গ)লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
• চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।
- এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত।
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটি বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলা হয়।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।
উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি (নভেম্বর, ২০২৫) বাংলাদেশের সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাম রাজ্যের ধুবড়ি শহরে ‘লাচিত বোরফুকান নামে একটি সেনাঘাঁটি করছে ভারত সরকার।
তথ্যসূত্র: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পঞ্চগড়:
- ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হাজার বছরের গৌরবগাথা আর প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতিমণ্ডিত জেলা পঞ্চগড়।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় 'হিমালয় কন্যা'।
- অবস্থানগত কারণে পঞ্চগড় একটি শীতপ্রবণ জেলা।
- অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এখানে প্রচণ্ড কুয়াশাসহ শীত পড়ে।
- আর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এখানকার তাপমাত্রা ৪-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।
উল্লেখ্য,
- পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন, তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট, বারো আউলিয়ার মাজার, শাহী মসজিদ, সমতল ভূমির আরগনিক চায়ের বাগান, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, আনন্দ ধারা, ভিতরগড় ও মহারাজের দীঘি, বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, গোলক ধাম মন্দির, বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, পাহাড়ি স্বচ্ছ জলের মহানন্দা নদী, পাথর সমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, চতুর্থ চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু, খয়ার বাগানসহ বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল ময়নামতিরচর।
তথ্যসূত্র: পঞ্চগড় জেলার ওয়েবসাইট।
ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।
উৎস: Britannica.com
• রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট হলো রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট।
- এটি সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- এই বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর।
- বনের ৫০৪ একরকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে।
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি।
- এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।
উল্লেখ্য,
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি।
- একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল,
- যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাসের গড় গতিবেগ ঘন্টায়-৪০ থেকে ৬০ কিমি।
কালবৈশাখী:
- কালবৈশাখী উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে ইংরেজিতে একে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ঝড় দেখা যায়। বাংলাদেশ এবং উত্তর–পূর্ব ভারতে মার্চ থেকে কালবৈশাখী শুরু হয়।
- গ্রীষ্ম ঋতুর সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এ ঝড়ের আগমন ঘটে। বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখীর মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করে। - - সাধারণত কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশিও হতে পারে।
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী সাধারণ বৈশাখ মাসে বেশি হয় ।
- সাধারণ এ ঝড়ের অনেক আগাম পূর্বাভাস বলা খুব কঠিন।
- খুব অল্প সময়েই সংঘটিত হয়ে থাকে। আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না বলে এ ঝড়ের ক্ষতির মাত্রা বেশি থাকে।।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।[লিঙ্ক]
কর্ণফুলী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- কর্ণফুলী মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বিভিন্ন দেশের সীমানা:
⇒ পার্পল লাইন: ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
⇒ সনেরা লাইন: মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ওডার-নেইস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ব্লু লাইন: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সীমানা।
⇒ লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
⇒ ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ রেডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
⇒ লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল / ম্যাকমোহন লাইন: চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
⇒ লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ হলো কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছ থেকে দ্বীপগুলো দখল করে নেয়।
উল্লেখ্য,
- এই বিরোধ মূলত দক্ষিণ কুড়িলের চারটি দ্বীপ নিয়ে।
- বিরোধপূর্ণ চারটি দ্বীপ হলো:
- ইটুরুপ (Iturup / Etorofu)
- কুনাশির (Kunashir)
- শিকোটান (Shikotan)
- হাবোমাই (Habomai)
- এই চারটির মধ্যে কুনাশির দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- জাপান এই চারটি দ্বীপকে একত্রে “নর্দান টেরিটরিজ (Northern Territories)” বলে দাবি করে।
- দ্বীপগুলো প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে, জাপানের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- এই ভূখণ্ড বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
উৎস: ব্রিটানিকা।
বেরিং প্রণালী:
-বেরিং প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ।
- এই প্রণালী এশিয়া মহাদেশ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ পৃথক করেছে।
- দেশ হিসেবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথক করেছে এই প্রণালী।
- বেরিং প্রণালী এবং সাগর উভয়েরই নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিংয়ের সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর।
- এর গড় গভীরতা ৫০ মিটার। এটি গভীরতম বিন্দুতে মাত্র ৯০ মিটার গভীর।
- প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।
তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
গোলার্ধ:
- নিরক্ষরেখা নামক একটি কাল্পনিক রেখা উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধকে বিভক্ত করে।
- বিষুবরেখাকে 0° অক্ষাংশও বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর মাঝখানে পূর্ব এবং পশ্চিমে চলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তরে অবস্থিত স্থানগুলি উত্তর গোলার্ধের অংশ।
- নিরক্ষরেখার দক্ষিণে স্থানগুলি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
আফ্রিকার কিছু অংশ, দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ অংশ এবং সমস্ত অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
• দক্ষিণ গোলার্ধ:
- দক্ষিণ গোলার্ধ হল পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।
উৎস: ব্রিটানিকা।
বান্দরবানে অবস্থিত তাজিনডং শৃঙ্গটির উচ্চতা ১,২৮০ মিটার, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। গঙ্গা নদী পশ্চিম, ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তর, সুরমাও কুশিয়ারা নদী উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একযোগে সুবিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ,
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত। পাহাড়গুলো আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়। এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়),যার উচ্চতা ১,২৮০ মিটার।
- এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবেটিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।