বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ৪০১৫০০ / ৭,১৯১

৪০১.
বাংলাদেশের কোন জেলায় প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়?
  1. ক) নরসিংদী
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) কুমিল্লা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নরসিংদীতে প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়। সৌরবিদ্যুতে চলছে কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ—সবই। এমনকি পানি তোলা, ওয়েল্ডিং করাসহ সব ভারী যন্ত্রপাতিও চালানো হয় এই বিদ্যুতে।
উৎসঃ কালের কণ্ঠ
৪০২.
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (ICC) এর বর্তমান চেয়ারম্যান কে?
  1. ক) ডেভিড ক্যাপেল
  2. খ) নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন
  3. গ) শশাঙ্ক মনোহর
  4. ঘ) গ্রেগ বারক্লে
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা International Cricket Council (ICC)।
- আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান - গ্রেগ বারক্লে (Greg Barclay)।
- তিনি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং তিনি নভেম্বর, ২০২০ - এ আইসিসির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
- ১২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। 
- তিনি ভারতের শশাঙ্ক মনোহর এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার এবং আইসিসি ওয়েবসাইট।
 
৪০৩.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. রাশিয়া
  3. ফিলিপাইন
  4. মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
• 'রাশিয়া' - নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয়।
------------------------ 
• নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের অবস্থান ও দেশসমূহ:
নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত। সূর্যের উত্তরায়ণ ও
দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
এছাড়াও,
নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
'বলিশিয়া ভ্যালি' কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. মৌলভীবাজার
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ভ্যালি:
- দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী প্রশস্ত সমতল ক্ষেত্র বা অসমতল ঢালু ক্ষেত্রকে উপত্যকা বা ভ্যালি বলে।

⇒ দেশের বিভিন্ন ভ্যালি:

- ভেঙ্গি ভ্যালি: রাঙামাটি,
- হালদা ভ্যালি: খাগড়াছড়ি,
- বলিশিয়া ভ্যালি: মৌলভীবাজার,
- সাজেক ভ্যালি: রাঙামাটি,
- সাঙ্গু ভ্যালি: চট্টগ্রাম,
- নাপিত খালি ভ্যালি: কক্সবাজার,
- মাইনমুখী ভ্যালি: রাঙামাটি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪০৫.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো-
  1. ক) আষাঢ় -শ্রাবণ
  2. খ) ফাল্গুন -জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) চৈত্র- বৈশাখ
  4. ঘ) ভাদ্র - আশ্বিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৪০৬.
ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলা -
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
• সীমান্তবর্তী জেলা:
→ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২ টি: ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে।
→ রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থ্যাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা।
→ ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলা রাঙামাটি।
→ বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

তথ্যসূত্র: ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন ওয়েবসাইট।
৪০৭.
ফিনল্যান্ড ও রাশিয়াকে পৃথককারী সীমারেখার নাম কী?
  1. ম্যাকনামারা লাইন
  2. ম্যানারহেইম লাইন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. ওডারনিস লাইন
ব্যাখ্যা
- ম্যানারহেইম লাইন : ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া।
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- ডুরান্ড লাইন হলো পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমারেখা।
- ম্যাকনামারা লাইন : উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৪০৮.
বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ডানজিগ
  2. খ) ফ্রাঙ্কফুর্ট
  3. গ) মিউনিখ
  4. ঘ) বার্সিলোনা
ব্যাখ্যা
বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৫০০ বছর ধরে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
(সূত্রঃ ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট)
৪০৯.
কোনটিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়?
  1. এন্টার্কটিকা
  2. পামির মালভূমি
  3. সাহারা মরুভূমি
  4. আমাজন বনভূমি
ব্যাখ্যা
আমাজন বনভূমিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।
পৃথিবীতে মোট অক্সিজেনের ২০ ভাগ সরবরাহ করে আমাজন রেইনফরেস্ট একাই। যার কারণে এটিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত এ বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ২১ লক্ষ বর্গ মাইল।
এটি বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট।
(উৎসঃ WEF ওয়েবসাইট)
৪১০.
Which one is known as the mangrove forest in Bangladesh?
  1. ক) Bhawal National Park
  2. খ) Ratargul Swamp Forest
  3. গ) Lawachara National Park
  4. ঘ) Sundarbans
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি। সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- খুলনা হার্ডবোর্ড মিলে কাঁচামাল হিসেবে এই সুন্দরী গাছের কাঠ ব্যবহৃত হয়।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- শাল বা গজারি শালবনের প্রধান বৃক্ষ।

তথ্যসূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট
৪১১.
প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. ক) অগ্ন্যুৎপাত
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ (Disaster): একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না ।

• বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমা রেখাটি কোনো সালে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয়?
  1. ১৮৭৪ সালে
  2. ১৮৮৪ সালে
  3. ১৮৯৪ সালে
  4. ১৯০৪ সালে
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমা রেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমা রেখাকে মূলমধ্য রেখা হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
মেঘনা নদী কোথায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়?
  1. ভৈরববাজারে
  2. আজমিরীগঞ্জে
  3. চাঁদপুরে
  4. গোয়ালন্দে
ব্যাখ্যা

মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
iv) বাংলাপিডিয়া।

৪১৪.
সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম কী?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. ইছামতি
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
⇒ সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা: ১২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা: ৩৬টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম: ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা: ২২২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম: সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা: ৯৭টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৪১৫.
কোন নদীটি বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় সমাপ্ত হয়েছে?
  1. গোমতী নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. হালদা নদী
  4. সুরমা নদী
ব্যাখ্যা
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের জলসীমায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হালদা নদী।
- হালদা নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

সূত্র: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৪১৬.
ইউরেনিয়াম আকরিক পাওয়া যায় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) পঞ্চগড়
  4. ঘ) বরগুনা
ব্যাখ্যা
• ইউরেনিয়াম আকরিক (Uranium Ore): 
- কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে ইউরেনিয়াম আকরিক পাওয়া যায়। 
- এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম আকরিক পাওয়া গেছে। 
- এটি প্রধানত পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম আকরিক কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• চীনামাটি (China Clay):
- দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর, শেরপুর জেলার ভুরুংগা, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাও, কাঞ্চপুর ও এলাহাবাদ এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় চীনামটি পাওয়া গেছে।
- চীনামাটি প্রধানত তৈজসপত্র, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র, বাসনপত্র, কাগজ প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

• নুড়িপাথর (Gravel):
- পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম এবং সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ ও পিরানগঞ্জে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। নুড়িপাথর রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ও গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়।

• গন্ধক (Sulphur): কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে। সাধারণত দিয়াশলাইয়ের বারুদ, সালফিউরিক এসিড, আতশবাজি, বিস্ফোরক, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরিতে গন্ধক ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৭.
নিচের কোনটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভুক্ত অঞ্চল নয়?
  1. ক) গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর
  2. খ) রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি
  3. গ) রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট
  4. ঘ) টাঙ্গাইল ও গাজীপুর
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ:
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা দেওয়া হলো - 

- বরেন্দ্র ভূমি:
• উত্তরবঙ্গের পদ্মা-যমুনার দোআঁশ অঞ্চলের মধ্যভাগে নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এ সুবিশাল বরেন্দ্র ভূমি অবস্থিত।
• এর আয়তন ৩২৪ বর্গ কি.মি. এবং বঙ্গ অববাহিকায় এটি সর্ববৃহৎ প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি।
• এ এলাকার ভূমি অসমতল এবং মাটি লাল ও কাঁকরময়। বরেন্দ্র ভূমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, পান প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে।

- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
• উত্তরে সাবেক ব্রহ্মপুত্র নদ হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ অঞ্চল বিস্তৃত। এটি প্লাইস্টোসিন যুগে দ্বিতীয় বৃহত্তর উচ্চভূমি। এ উচ্চ উত্থিত অঞ্চলটির মোট আয়তন ৪,১০৫ বর্গ কি.মি।
• টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে অবস্থিত এ অঞ্চলের উত্তরাংশ মধুপুর গড় এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত।
• এর মাটির রং লাল এবং কংকর মিশ্রিত। ফলে গজারী বন ছাড়া অন্যান্য কৃষি ফসলের জন্য এ মাটি অনুপযুক্ত।
• এ অঞ্চলের ভূমি সমুদ্র হতে গড়ে প্রায় ৬ হতে ৩০ মিটার (১০ হতে ১০০ ফুট) উঁচু।

 -ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়:
• কুমিল্লা শহরের ৮ কি.মি. (৫ মাইল) পশ্চিমে ময়নামতি ও লালমাই পাহাড় অবস্থিত।
• এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গ কি.মি.। গড় উচ্চতা ২১ মিটার (৭০ ফুট)। স্থানভেদে এর উচ্চতা ৪৬ মিটার (১৫০ ফুট) হয়ে থাকে।
• এর মটির রং লাল। তাই একে লালমাই পাহাড় বলা হয়। এটি হস্ট শ্রেণীভুক্ত পাহাড় এবং বালি, নুড়ি, কংকর ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

অন্যদিকে,
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।
 
উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৮.
পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে কী বলা হয়?
  1. আকস্মিক বন্যা
  2. স্বাভাবিক বন্যা
  3. মৌসুমী বন্যা
  4. জোয়ার-ভাঁটা জনিত বন্যা
ব্যাখ্যা

• পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।

• বন্যা:
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়।
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- বাংলাদেশে বিগত শতাব্দীতে বড় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৯.
প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমির উচ্চতা কত মিটার?
  1. ৬-১২ মিটার
  2. ৮-১৬ মিটার
  3. ২৪-৩০ মিটার
  4. ৩০-৫২ মিটার
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি:
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২০.
আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম তীরে কোনটি অবস্থিত?
  1. এশিয়া
  2. ইউরোপ
  3. আমেরিকা
  4. আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- এর পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা এবং পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আয়তন ৮১,৭৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট  এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪২১.
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা কতবার বাংলার রাজধানী ছিল?
  1. ৩ বার
  2. ৪ বার
  3. ৫ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ সালে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
-  ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
-  ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

অর্থাৎ,
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০ সাল, ১৬৬০ সাল, ১৯০৫ সাল ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানী ছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪২২.
খরা এর ফলে কী ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয়?
  1. শিলা বৃষ্টি হয়
  2. মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
  3. জমির মধ্যে পানি জমে যায়
  4. বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি ও খরা:

- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৩.
আল্পস পর্বতমালা কোথায় অবস্থিত?
  1. পশ্চিম ইউরোপে
  2. পূর্ব ইউরোপে
  3. দক্ষিণ ইউরোপে
  4. দক্ষিণ আমেরিকায়
ব্যাখ্যা

• আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৪.
আইসোহাইট কী?
  1. ক) ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
  2. খ) সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা
  3. গ) ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
  4. ঘ) ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
ব্যাখ্যা
• আইসোহাইট: ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
• আইসোহেলাইন: সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
• আইসোথার্ম: ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা। 
• আইসোবার: ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা। 

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৫.
গ্রিনিচ মান সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য কত মিনিট? 
  1. ২৬০ মিনিট
  2. ৩৬০ মিনিট
  3. ৪৬০ মিনিট
  4. ৩১০ মিনিট
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান সময়:
- গ্রিনিচ মান মন্দির যুক্তরাজ্য অবস্থিত।
- Greenwich Mean Time (GMT) একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রণীত সময় পদ্ধতি।
- বাংলাদেশের সাথে GMT এর পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ এর থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে -
  1. ফোকাস
  2. এপিসেন্টার
  3. ফ্রাকচার
  4. ফল্ট
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে এপিসেন্টার।

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।

⇒ ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

⇒ ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৪২৭.
২০২৫ সালের হারিকেন এরিন কোন মহাসাগরে সক্রিয় ছিল?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

উল্লেখ্য,
- আটলান্টিক মহাসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততম শক্তি অর্জনকারী ঝড়গুলোর একটি হারিকেন এরিন। 
​- ২০২৫ সালের আগস্টে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
​- এটি খুব দ্রুত শক্তি অর্জন করে ক্যাটাগরি ৫ স্তরে পৌঁছেছিল।
​- এটি আটলান্টিকের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত শক্তি অর্জনকারী ঝড়ে পরিণত হয়। 
​- ঝড়ের প্রভাবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।

৪২৮.
কোন মাসে বাংলাদেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে?
  1. নভেম্বর
  2. ডিসেম্বর
  3. জানুয়ারি
  4. ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।

তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
৪২৯.
যমুনা এবং পদ্মা নদীর মিলনস্থল -
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) ভৈরববাজার
  3. গ) আজমিরীগঞ্জ
  4. ঘ) গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna) 
• ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম নদী।
• যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই।
• এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।  
• মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• পদ্মা + মেঘনা = চাঁদপুর,
• সুরমা + কুশিয়ারা = আজমিরীগঞ্জ (কালনী নাম),
• পুরাতন ব্রহ্মপুত্র + মেঘনা = ভৈরববাজার,
• যমুনা + বাঙ্গালী = বগুড়া,
• রুপসা + ভৈরব = খুলনা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
  1. ক) লেক আসাল
  2. খ) কাস্পিয়ান সাগর
  3. গ) সুপিরিয়র
  4. ঘ) বৈকাল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ হলো বৈকাল হ্রদ। এটির গভীরতা ১,৬২০ মিটার। এটি রাশিয়ায় অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম ও বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ
- লেক আসাল বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৪৩১.
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের আয়তন কত?
  1. ক) ১২ কিলোমিটার
  2. খ) ১৪ কিলোমিটার
  3. গ) ১৮ কিলোমিটার
  4. ঘ) ২৪ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
- কুয়াকাটা স্থানীয়ভাবে 'সাগরকন্যা' নামে পরিচিত।
-  বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে কুয়াকাটার অবস্থান।
- কুয়াকাটা সাগর-সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় ৩ কিলোমিটার। 
- কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩২.
বাংলাদেশে ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল- 
  1. পেট্রোলিয়াম
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কয়লা
  4. জ্বালানি তেল
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন) প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
------------------------ 
• ইউরিয়া সার:
- বাংলাদেশে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) এর অধীনে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সার কারখানা রয়েছে।
- এই কারখানাগুলো দেশের কৃষিক্ষেত্রের জন্য ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার উৎপাদন করে।
- ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপিত হয়। 
- এর নাম ছিল ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
- এই কারখানায় ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সার উৎপাদন করা হতো।

- বাংলাদেশে ইউরিয়া সার তৈরির মূল কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন, CH₄)।
- মিথেন থেকে হাইড্রোজেন নেওয়া হয় এবং নাইট্রোজেনের সঙ্গে মিশিয়ে অ্যামোনিয়া (NH₃) তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়।
- পরে এই অ্যামোনিয়াকে Haber-Bosch প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চ চাপে ইউরিয়া সারে রূপান্তর করা হয়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউরিয়া সার কারখানা —যেমন যমুনা, শাহজালাল, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড —এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সার উৎপাদন করে।
- উৎপাদিত ইউরিয়া সার দেশের কৃষিক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৪৩৩.
বাটনাতলী পর্বতশৃঙ্গ থেকে কোন নদীর উৎপত্তিস্থল?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) হালদা
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা
• নদীর উৎপত্তি ও গতিপথঃ
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- সুউচ্চ পর্বত শ্রেণীমালা উত্তরে রেখে হালদা নদী এর পর দক্ষিণ-পশ্চিমে বরাবর প্রবাহিত হয়ে আবার দক্ষিণ গতিপথে এর মূল অববাহিকা গঠনকারী ফটিকছড়ির বিবিরহাট, নাজিরহাট, সাত্তারঘাট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাটহাজারী, রাউজান, এবং চট্টগ্রাম শহরের চাঁদগাও থানা দিয়ে অতিক্রম করে গেছে। কালুরঘাটের কাছে এটি কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিমি, যার মধ্যে নাজিরহাট পর্যন্ত ২৯ কিমি সারা বছরই বড় নৌকা পরিবহণের উপযোগী, আর ছোট নৌকাগুলো আরও ২০ থেকে ২৫ কিমি অভ্যন্তরে অর্থাৎ নারায়ণহাট পর্যন্ত চলাচল করতে পারে। কাঠ, বাঁশ, ছন ইত্যাদি বনজ সম্পদ রামগড়ের দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই নদী দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে আসা হয় এবং - চট্টগ্রাম শহরের পণ্যসামগ্রীর অধিকাংশই হালদা নদীপথে বড় মালবাহী নৌকার মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়।

• নদীর নামকরণঃ
- হালদা নদীর উৎপত্তি স্থল মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের পাহাড়ী গ্রাম সালদা।
- সালদার পাহাড়ী র্ঝণা থেকে নেমে আসা ছড়া সালদা থেকে হালদা নামকরণ হয়।
- সালদা নামে বাংলাদেশে আরো একটি নদী আছে যেটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে উৎপন্ন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হাটহাজারী উপজেলা ওয়েবসাইট।
৪৩৪.
নিচের কোন জেলার সাথে মায়ানমারের সীমানা রয়েছে?
  1. হবিগঞ্জ
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাঙ্গামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার সাথে মায়ানমারের সীমানা রয়েছে।

• ভারত ও মিয়ারমার এদুটি দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের মোট ৩২ টি জেলার সাথে দেশ দুটির সীমানা রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০ টি জেলা এবং মিয়ানমারের সাথে রয়েছে তিনটি জেলার সীমানা রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা তিনটি হলো - রাঙামাটি , বান্দরবান ও কক্সবাজার।
- রাঙামাটি বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের  সীমানা রয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৪৩৫.
বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) জলীয়বাষ্প
  4. ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
বায়ুর উপাদানের শতকরা হার

⇒ নাইট্রোজেন - ৭৮.০২
⇒ অক্সিজেন - ২০.৭১
⇒ কার্বন ডাই-অক্সাইড - ০.০৩
⇒ অন্যান্য গ্যাসমূহ  - ০.০২
(ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম ও ক্রিপটন)
⇒ জলীয়বাষ্প - ০.৪১
⇒ ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে নিম্নের কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. হালদা
  2. যমুনা
  3. কর্ণফুলী
  4. মহানন্দা
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রবেশের পর রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদী বঙ্গোপসাগরের পতিত হয়েছে।
- নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২০ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।
- হালদা, কাসালং প্রভৃতি কর্ণফুলীর উপনদী।

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
পদ্মা নদী: হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
মেঘনা নদী: আসামের লুসাই পাহাড়।
যমুনা নদী: ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
করতোয়া: সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
সাঙ্গু নদী: মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
হালদা নদী: খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
মহানন্দা নদী: মহালড্রীম, দার্জিলিং।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
২০০৭ সালে বাংলাদেশে সিডর আক্রান্ত এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিলিফ কার্যক্রমের নাম-
  1. অপারেশন ব্লু স্টোর্ম
  2. অপারেশন বুশ
  3. অপারেশন সি-এঞ্জেল-২
  4. অপারেশন মান্না
ব্যাখ্যা

- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।
- অপরদিকে, ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।

৪৩৮.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে?
  1. ক) কালা পাহাড়ে
  2. খ) ময়নামতি পাহাড়ে
  3. গ) চন্দ্রনাথের পাহাড়ে
  4. ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কুলাউড়া পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে। এটি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
৪৩৯.
শীতকালে কোন বনভূমির পাতা ঝড়ে যায়?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) শালবন
  3. গ) প্যারাবন
  4. ঘ) সিলেট পাহাড়িয়া বনভূমি
ব্যাখ্যা
টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়। শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর। এই বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী।
(সূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৪৪০.
সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায় বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল : 
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।

• ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪১.
কোন ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ বাংলাদেশ করেছে?
  1. মিধিলি
  2. বিপর্যয়
  3. হামুন
  4. মিগজাউম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নামকরণ- বিপর্যয়। 
মায়ানমারের নামকরণ-  মিগজাউম।
ইরানের নামকরণ - হামুন।
মালদ্বীপের নামকরণ - মিধিলি।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

-  ১৯৫৩ সালে অ্যামেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড়ো শহর মায়ামির জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টার আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে জাতিসংঘের একটি ইউনিট ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য একটি তালিকা তৈরি করা হয়।
- ওয়ার্ল্ড মেটিরিওলজিকাল ওয়েদার অর্গানাইজেশন এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ২০০০ সালে এর সদস্য দেশগুলোর পরামর্শ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় ঝড়ের জন্য নাম প্রস্তুত করার কাজ শুরু করে।
- বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, ওমান, পাকিস্তানের মতো আরও ১২টি দেশকে সাথে নিয়ে।
- শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্যানেলের অংশ।
- আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়—তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলো নামকরণ করে।
- পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- নামকরণের এই সামগ্রিক বিষয়টা নিয়ন্ত্রণিত হয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিওএমও) মাধ্যমে। 

সূত্র: Tropical Cyclone Naming/World Meteorological Organization. 
৪৪২.
বাল্টিক রাষ্ট্র কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
• বাল্টিক রাষ্ট্র:
- উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের পূর্বতীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে।
১. এস্তোনিয়া,
২. লাতভিয়া এবং
৩. লিথুয়ানিয়া।
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ বর্তমানে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ।

উৎস: Britannica.com & WorldAtlas.com.
৪৪৩.
পানামা খাল কোন দুইটি মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  2. উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকা
  3. দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ
  4. এশিয়া ও ইউরোপ
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- অবস্থিত: পানামা প্রজাতন্ত্র, বুক চিরে কৃত্রিম খাল।
- খনন শুরু: ১৯০৪, সমাপ্ত: ১৯১৪।
- দৈর্ঘ্য: ৬৫ কিমি (গভীর জলভাগ থেকে ৮২ কিমি)।
- প্রস্থ: ৩০-৯০ মিটার।
- গভীরতা: ৪৬-৮৫ ফুট, স্থানভেদে পরিবর্তিত।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- পানামা খাল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজের পথ প্রায় ১৫,০০০ কিমি হ্রাস করেছে।

 উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪৪৪.
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৫.
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয় কোনটি?
  1. অস্ট্রিয়া
  2. ডেনমার্ক
  3. সুইডেন
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা
অস্ট্রিয়া স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়।

স্ক্যান্ডিনেভিয়া:

- স্ক্যান্ডিনেভিয়া ঐতিহাসিকভাবে স্ক্যান্ডিয়া, উত্তর ইউরোপের অংশ।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি।
- যথা: নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ তবে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফারো আইল্যান্ডকেও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র হিসেব গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে,
⇒ নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলো আসলে নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে পরে।

• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি।
- যথা: আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে পাতলা জনবহুল উত্তর অঞ্চল, মৎস্য সম্পদের একটি আপেক্ষিক সম্পদ, দীর্ঘ আয়ু এবং উচ্চ স্তরের সাক্ষরতা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Britannica.
৪৪৬.
'চলন বিল' কোন কোন জেলার অংশ?
  1. নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ
  2. পাবনা ও নাটোর
  3. বরিশাল ও পটুয়াখালী
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

চলন বিলের অবস্থান - পাবনা ও নাটোর জেলায়।

চলন বিল:
- চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৪৪৭.
'মাউন্ট এটনা (Mount Etna)' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. গ্রিস
  2. জাপান
  3. ইতালি
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
• মাউন্ট এটনা:
- মাউন্ট এটনা ইউরোপের সর্ববৃহৎ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- এটি ইতালির সিসিলি (Sicily) দ্বীপে অবস্থিত।
- মাউন্ট এটনার উচ্চতা প্রায় ৩,৩৩০ মিটার (১০,৯২৫ ফুট), যদিও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে এ উচ্চতা পরিবর্তিত হতে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৪৮.
গলিত শিলা বা ম্যাগমাসমূহ ভূ-ত্বকের নিচে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে, জমাট বেঁধে ও স্ফীত হয়ে কোন ধরনের পর্বত সৃষ্টি করে?
  1. ক) ভঙ্গিল পর্বত
  2. খ) আগ্নেয় পর্বত
  3. গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত
ব্যাখ্যা
ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ম্যাগমাসমূহ বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে। এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪৪৯.
ধলেশ্বরীর শাখা নদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. বুড়িগঙ্গা
  3. করতোয়া
  4. আত্রাই
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা :
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
- এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী
- এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
- করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৫০.
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের কোন মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত?
  1. পদ্মা নদীর মোহনা
  2. নাফ নদীর মোহনা
  3. মেঘনা নদীর মোহনা
  4. কর্ণফুলী নদীর মোহনা
ব্যাখ্যা

- সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের নাফ নদীর মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
- এটি পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। নিচে এর মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
- অবস্থান: বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত, কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণতম সীমান্তবর্তী দ্বীপ।
- আয়তন: মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার (কখনও কখনও ৮.৭ বর্গকিলোমিটার বলা হয়), যা জোয়ারের সময় আংশিকভাবে পানিতে ডুবে যায়।
- নামকরণের ইতিহাস: ১৮শ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্মকর্তা আলেকজান্ডার মার্টিনের নামে নামকরণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে 
- এর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা (নারিকেলের দ্বীপ) কারণ এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ রয়েছে।
- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: সাদা বালুকাময় সৈকত, নীল জল, প্রবাল প্রাচীর (কোরাল রিফ), নারিকেলের বন এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবন। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা। 

৪৫১.
ল্যানোস ও প্যাম্পাস তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) উত্তর আমেরিকা
  2. খ) পূর্ব ইউরোপ
  3. গ) অস্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
ল্যানোস ও প্যাম্পাস হলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত দুটো তৃণভূমির নাম।

তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
- প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
- সাভানা (আফ্রিকা)
- স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৪৫২.
গঙ্গা নদীর উৎপত্তি কোন দেশে?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. নেপাল
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়োগ নামক স্থানে ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদী মিলিত হয়ে গঙ্গা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। হিন্দু ধর্মে ভাগীরথী নদীকে গঙ্গার মূলধারা বিবেচনা করা হয়। ভাগীরথী নদী ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অলকানদীর উৎপত্তিও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে।

গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে উৎপত্তি হয়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে

বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরবর্তীতে এটি গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়ে পদ্মা নামধারণ করেছে।

পদ্মা নদী চাঁদপুরের নিকট মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। গঙ্গা নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২,৬০০ কিলোমিটার।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪৫৩.
ঘুর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ক) থাইল্যান্ড
  2. খ) ভুটান
  3. গ) নেপাল
  4. ঘ) ভিয়েতনামি
ব্যাখ্যা
• ২৪ অক্টোবর ২০২২ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী বরিশাল, চট্রগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানে।
• ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে থাইল্যান্ড
• ভিয়েতনামি ভাষায় যার অর্থ ‘পাতা’।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর-২০২২।
৪৫৪.
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) গোপালগঞ্জ
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্ববধায়নে নির্মিত শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক যশোরে অবস্থিত।
Source:bhtpa.gov.bd
৪৫৫.
ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সকল বড় শহরে কোন ধরনের বন্যা দেখা যায়?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. উপকূলীয় বন্যা
  3. আকস্মিক বন্যা
  4. নগর বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের উপজেলার নাম কি?
  1. ক) শিবগঞ্জ
  2. খ) থানচি
  3. গ) টেকনাফ
  4. ঘ) তেঁতুলিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ, সর্ব পূর্বের উপজেলা থানচি, সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ এবং সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
উৎসঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৪৫৭.
কোনটি ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়?
  1. কড়ই
  2. হরিতকি
  3. গামার 
  4. ছাতিম
ব্যাখ্যা

• 'গামার' ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়।
---------------------------  
• ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমি বা শালবন:
- এ ধরনের বন মূলত ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, কুমিল্লার লালমাই এবং রংপুর-দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত।
- এ বনের প্রধান গাছ হলো শাল, যা অনেকেই গজারি নামে চেনে।
- শুষ্ক মৌসুমে বা শীতের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি–মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে এ বনকে পতনশীল বা Deciduous Forest বলা হয়।
- শাল ছাড়াও এখানে হরিতকি, ছাতিম, কড়ই, কদম, বহেরা, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন বৃক্ষ জন্মে।
- শাল গাছকে বৈদ্যুতিক খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শিমুল দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
- ছাতিম টেক্সটাইল মিলে ব্যবহৃত হয়।

- এ বনে বসবাসকারী উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে- 
- মেছোবাঘ, বনরুই (এক ধরনের স্তন্যপায়ী), বানর ও শিয়াল ইত্যাদি।
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- গামার হচ্ছে- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বনের বৃক্ষ।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন:
- এই ধরনের বনভূমি প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে বিস্তৃত।
- এসব এলাকায় অতিবৃষ্টিপাতের কারণে চিরহরিৎ বন গড়ে উঠেছে।
- এ বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১০,৩০০ বর্গকিলোমিটার।
- এখানে দীর্ঘকায় চিরসবুজ বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, বইলাম ও চান্দুল উল্লেখযোগ্য।
- মাঝারি উচ্চতার গাছের মধ্যে অর্জুন, জারুল, কুসুম, হরগজ ও বহেরা প্রধান।
- এছাড়া এ বনাঞ্চলে বেত ও নানা প্রজাতির বাঁশঝোপ জন্মে।
- এসব বনে চিতাবাঘ, হাতি, হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, খরগোশ, সাপ ও বেজির মতো বন্যপ্রাণী দেখা যায়।

উৎস:
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি; 
অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৫৮.
ভূ-ভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সাথে মিশে যাওয়া অংশকে কী বলে?
  1. শৈলশিরা
  2. সমুদ্রখাত
  3. মহীঢাল
  4. মহীসোপান
ব্যাখ্যা
মহীঢাল (Continental Slope):
- মহীঢাল হলো খাড়া ঢালু অংশ।
- মহীসোপানের শেষ সীমা হতে ভূ-ভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সাথে মিশে যাওয়া অংশটিই মহীঢাল।
- সমুদ্রে এর গভীরতা ২০০ মিটারের পর হতে ৩,৬০০ মিটার পর্যন্ত।
- মহীঢাল অধিক খাড়া হওয়ায় প্রশস্ততা খুব বেশি হয় না।
- এটি গড়ে ১৬ থেকে ৩২ কিলোমিটার পর্যন্তপ্রশস্ত।
- এখানে অসংখ্য আন্ত:সাগরীয় গিরিখাত অবস্থান করায় তা খুবই বন্ধুর প্রকৃতির।
- মহীঢালের শেষ প্রান্তে জীবজন্তুর দেহাবশেষ, বিভিন্ন খনিজ ও পলি জমা হয় এবং সেখানে মহীউত্থানের সৃষ্টি করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৯.
বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন কোন মালভূমিতে অবস্থিত?
  1. কলোরাডো মালভূমি
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. দাক্ষিণাত্য মালভূমি
  4. আল্পাইন মালভূমি
ব্যাখ্যা
কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

⇒ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন:
- বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- গ্রান্ড ক্যানিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম অ্যারিজোনার কলোরাডো উচ্চ মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
- এই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে।
- এটি এর চমৎকার আকার এবং রঙের জন্য বিখ্যাত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত অনুভূমিক স্তরযুক্ত শিলা এবং লাভা প্রবাহ নিয়ে গঠিত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে অনেক উপনদীর পাশের গিরিখাত এবং পার্শ্ববর্তী মালভূমিও রয়েছে।

উৎস: Britannica.
৪৬০.
কোন নদী উৎপত্তি হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে?
  1. পদ্মা
  2. কর্ণফুলী
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
- এরপর প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অতঃপর ব্রহ্মপুত্র কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান শাখানদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪৬১.
কোন কোন মাসে নদীভাঙন বেশি হয়?
  1. ক) জুন থেকে সেপ্টেম্বর
  2. খ) জুন থেকে জুলাই
  3. গ) আগস্ট থেকে অক্টোবর
  4. ঘ) জানুয়ারি থেকে মার্চ
ব্যাখ্যা
নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি চলমান প্রক্রিয়া বিশেষ। এ দেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা কম-বেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে। দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় নদীভাঙন সংঘটিত হয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতে নদীভাঙনে জমির মালিকগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা কখনই আর সে জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে না। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
৪৬২.
সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় -
  1. মকরক্রান্তি রেখায়
  2. কর্কটক্রান্তি রেখায়
  3. নিরক্ষরেখায়
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা (Equator):
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত। 
- ভূ-গোলককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা।
- নিরক্ষরেখার মান হলো ০°।
- এই অক্ষরেখার অপর নামসমূহ হলো বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবী আহ্নিক গতির বেগ সর্বাধিক।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

উল্লেখ্য,
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।

অন্যদিকে,
দ্রাঘিমা রেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমা রেখা বলে।
- অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমা রেখা (Latitude)।
- প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা একেকটি অর্ধবৃত্ত।

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৩.
একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায় কোনটির জন্য?
  1. মৃত্তিকার গঠন
  2. ভূমির ঢাল
  3. উচ্চতা
  4. মেঘ
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর একটি নিয়ামক হলো উচ্চতা।
উচ্চতা:
- উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়। 
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬°/৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
কোন প্রণালী রাশিয়া ও শাখালিন দ্বীপকে বিচ্ছিন্ন করেছে?
  1. তাতার প্রণালী
  2. মেসিনা প্রণালী
  3. ডোভার প্রণালী
  4. হরমুজ প্রণালী
ব্যাখ্যা
তাতার প্রণালী:
- তাতার প্রণালী (Tatar Strait) হলো একটি সামুদ্রিক প্রণালী যা রাশিয়ার প্রিমোরি অঞ্চলের পূর্ব উপকূলে এবং সাখালিন দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত।
- এটি জাপান সাগর এবং ওখোটস্ক সাগর কে যুক্ত করেছে।
- এটি রাশিয়া ও শাখালিন দ্বীপকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

উল্লেখ্য,
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪৩ মাইল) এবং প্রস্থ সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল)।
- শাখালিন দ্বীপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

অন্যদিকে,
- মেসিনা প্রণালী পৃথক করেছে ইতালী-সিসিলি।
- আরব আমিরাত ও ইরানকে পৃথক করেছে হরমুজ প্রণালী।
- ডোভার প্রণালী গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপকে ফ্রান্স থেকে পৃথক করেছে।

উৎস: Britannica.
৪৬৫.
বসফরাস প্রণালী কোন দুটি সমুদ্রকে সংযুক্ত করে?
  1. ভূমধ্যসাগর এবং কাস্পিয় সাগর
  2. লোহিত সাগর এবং আরব সাগর
  3.  কৃষ্ণ সাগর এবং মার্মারা সাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা

• বসফরাস প্রণালী:
- পৃথক করেছে: এশিয়া ও ইউরোপ।
- সংযুক্ত করেছে:  কৃষ্ণ সাগর এবং মার্মারা সাগর।
- বসফরাস প্রণালী ১৯ মাইল দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ প্রস্থ উত্তর প্রান্তে ২.৩ মাইল।
- এর গভীরতা মাঝখানে ১২০ থেকে ৪০৮ ফুট পর্যন্ত।
- বসফরাস প্রণালীটি ব্যাপকভাবে মাছ ধরা হয়,
- কারণ এটি মাছের ঋতুকালীন অভিবাসন পথ হিসেবে কাজ করে,
- যা মাছকে কৃষ্ণ সাগর থেকে মারমারা সাগরে এবং বিপরীত দিকে নিয়ে যায়।

এছাড়াও,
- কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) শহরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বসফরাস প্রণালীটি।
- এই কারণে বাইজেন্টাইন সম্রাটরা এবং পরবর্তীতে উসমানীয় সুলতানরা প্রণালীর তীরে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন,
- বিশেষ করে ইউরোপীয় তীরে।
- আনাদোলুহিসারি, যা ১৩৯০–৯১ সালে বাইয়াজিদ প্রথম নির্মাণ করেছিলেন,
- এবং রুমেলিহিসারি, যা ১৪৫২ সালে মেহমেদ দ্বিতীয় নির্মাণ করেছিলেন।

উৎস: Britannica.

৪৬৬.
দেশের মোট ভূমির কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৭
  2. ২৫
  3. ২৭
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু ২০১৩-২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৭.
কোনটিকে আন্তর্জাতিক নদী বলা হয়?
  1. ক) রাইন নদী
  2. খ) লা প্লাটা নদী
  3. গ) দানিয়ুব নদী
  4. ঘ) ইউফ্রেতিস নদী
ব্যাখ্যা
- দানিয়ুব নদীকে আন্তর্জাতিক নদী বলা হয়।
- দানিয়ুব নদী জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে উৎপন্ন হয়ে ইউরোপের দশটি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে। এটি ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- দানিয়ুব নদীর তীরে ভিয়েনা, বেলগ্রেড, বুদাপেস্ট, ব্রাটিস্লাভা প্রভৃতি শহর অবস্থিত।
(তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস এবং ব্রিটানিকা)
৪৬৮.
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone) কতটুকু রয়েছে?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  3. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
  4. ১৩০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive economic zone): 
- ১৯৫৮ সালের কনভেনশন অনুযায়ী, সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর স্থলভাগের বেসলাইন থেকে লম্বালম্বিভাবে সমুদ্রের ২০০ মাইল পর্যন্ত এলাকার মালিকানা সম্পূর্ণ ওই দেশের।
- একে বলা হয় এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক অঞ্চল (ইইজেড) বা একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- এখানে সমুদ্রের পানি ও তলদেশের ওপর ওই দেশের একছত্র অধিকার থাকে।
- সেখানকার সমুদ্রে অন্য কোন দেশ মাছ ধরতে পারে না।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা (Territorial Sea) ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার এবং
- একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল (Exclusive Economic Zone) ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ভূখণ্ড সমুদ্রে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার ভৌগোলিক নাম মহীসোপান।
- (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)।  

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪৬৯.
জয়পুরহাটে নিচের কোন খনিজটি পাওয়া যায়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কয়লা
  3. চীনা মাটি
  4. খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪৭০.
নিচের কোনটি দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ?
  1. মহীসোপান
  2. ড্রামলিন
  3. ব-দ্বীপ
  4. গিরিখাত
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ:
→ মহাদেশীয় ভূ-ভাগ ও মহাসাগরের তলদেশে পরবর্তী পর্যায়ে যে প্রধান ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে তাকে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ বলে। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি এবং গভীর সমুদ্রখাত।
→ ভূ-পৃষ্ঠের বন্ধুরতা বলতে মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপকেই বুঝায়।

উল্লেখ্য,
- প্রথম পর্যায়ের ভূমিরূপ – (First order relief)- উদা, মহাদেশ ও মহাসাগর।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ – (Second order relief) – উদা: পর্বত, মালভূমি, সমভূমি।
- তৃতীয় পর্যায়ের ভূমিরূপ- (Third order relief)- উদা: গিরিখাত, প্লাবনভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. তিস্তা
  3. বংশী
  4. ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র: 
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। 
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য যে, 
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়। যা যমুনা নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান উপনদী।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭২.
The Strait of Malacca connects -
  1. Pacific Ocean and Atlantic Ocean
  2. Atlantic Ocean and Indian Ocean
  3. Indian Ocean and Pacific Ocean
  4. Arctic Ocean and Indian Ocean
  5. Antarctic Ocean and Arctic Ocean
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- প্রণালীটির দক্ষিণ প্রান্তে অনেকগুলি দ্বীপ আছে ।
- মালাক্কা প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে আছে মালয় উপদ্বীপের পেনাং, পোর্ট সোয়েটেনহাম ও মালাক্কা, এবং সুমাত্রা দ্বীপের বেলাওয়ান বন্দর।
- সিঙ্গাপুর এই প্রণালীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৪৭৩.
বড় পুকুড়িয়া কয়লা খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বিরামপুর
  2. খ) চিরিরবন্দর
  3. গ) পার্বতীপুর
  4. ঘ) নবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৪৭৪.
ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি কোথায়?
  1. মণিপুর
  2. উত্তর প্রদেশ
  3. আসাম
  4. তিব্বত
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের হিমালয়ের কৈলাশ শৃঙ্গের নিকট মানস সরোবর হ্রদ থেকে উৎপত্তি লাভ করে তীব্বত (চীন) ও ভারত উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ভারতে এটি দিহাঙ নামে পরিচিত।
- ব্রহ্মপুত্র নদের মোট দৈর্ঘ্য ২,৮৫০ কিলোমিটার।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ভৈরববাজারের নিকট মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। তবে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এটির প্রধান শাখা যমুনা নামে প্রবাহিত যা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মায় মিলিত হয়েছে।
- ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪৭৫.
খরা সংঘটিত হওয়ার কারণ হলো-
  1. ক) প্রচুর বৃষ্টিপাত
  2. খ) লবণাক্ততা
  3. গ) অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত
  4. ঘ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আদ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়। আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৪৭৬.
What is the process where the river abandons its old river channel and forms a new one?
  1. Avulsion
  2. Attrition
  3. Abrasion
  4. Corrasion
  5. None
ব্যাখ্যা
অ্যাভালশন:
- প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নির্দিষ্ট খাতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত জলধারাকে নদী বলে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্তবিভিন্ন পর্যায়ে নদী ক্ষয়, ক্ষয়িত পদার্থ বহন এবং সঞ্চয় কার্য করে থাকে।
- নদীর গতি ও কাজের ফলে গতিপথে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
- 'অ্যাভালশন' প্রক্রিয়ায় নদী তার পুরাতন নদীপথ পরিত্যাগ করে নতুন একটি গঠন করে।
- যখন একটি নদী একটি নতুন চ্যানেল তৈরি করে, অন্যটি শুকিয়ে যায় বা স্থবির হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটিকে অ্যাভালশন বলা হয়।
- অ্যাভালশন ঘটে যখন একটি জলপথের ঢাল কমে যায় এবং পলল তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র - National Geographic Education ওয়েবসাইট।
৪৭৭.
আতাকামা মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. চিলি
  2. ব্রাজিল
  3. উরুগুয়ে
  4. কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা
আতাকামা মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকার চিলি দেশে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিগুলোর একটি।

আতাকামা মরুভূমি:

- আতাকামা মরুভূমি চিলির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ থেকে ৭০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারিত নয়, তবে এটি মূলত লোয়া নদীর দক্ষিণ বাঁক এবং সালাডো-কোপিয়াপো জলাধারের মধ্যবর্তী পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত।
- উত্তরে, মরুভূমি পেরুর সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত।

কয়েকটি মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি: চিলি ও আর্জেন্টিনা,
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান,
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা,
- কালাহারি মরুভূমি: নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা,

সূত্র: Britannica.
৪৭৮.
একটি দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির কতভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ২৫ ভাগ
  2. ২৯ ভাগ
  3. ২৩ ভাগ
  4. ১৭ ভাগ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বনাঞ্চল (Forest of Bangladesh):
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭.৪৭৯১ ভাগ।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:

ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
খ) ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
গ) স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৯.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. ক) স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
  2. খ) স্ট্রেটাস
  3. গ) নিম্বোস্ট্রেটাস
  4. ঘ) সিরাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৪৮০.
নিয়ত বায়ু কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
 • নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।

- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা:
• অয়ন বায়ু,
• পশ্চিমা বায়ু ও
• মেরু বায়ু।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয়- অয়ন বায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮১.
 দুর্যোগের সময় উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয় প্রদানের কার্যক্রম কোন ধাপে সম্পন্ন হয়?
  1. পূর্বপ্রস্ততি
  2. প্রশমন
  3. সাড়া প্রদান
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

◉ সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ কালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়া প্রদান (Response):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে সাড়াপ্রদান গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
- দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর নিজের এবং অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে সাড়া প্রদান বলে।
- সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।
- উপযুক্ত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকার লোকজন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
- এসব কারণে দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়া প্রদান প্রয়োজন হয়। 

অন্যদিকে:  
প্রশমন (Mitigation):
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।

পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে। 

সূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮২.
Cyclone শব্দের উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. সিংহলি
  4. জাপানি
ব্যাখ্যা
Cyclone হলো ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে যার অর্থ Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী। সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় স্যাটেলাইটের ছবিতে সাপের কুণ্ডলীর মতো দেখায়।

ঘূর্ণিঝড় আমাদের দেশে সাইক্লোন নামে পরিচিত হলেও দূরপ্রাচ্যে এটি টাইফুন এবং আমেরিকায় হ্যারিকেন নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৮৩.
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. মেঘনা
  2. ব্রক্ষপুত্র
  3. পদ্মা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

• বৃহত্তম নদী বলতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইটে  কিছু নেই। প্রচলিত উত্তর হিসেবে মেঘনা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইট অনুযায়ী বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।

মেঘনা নদী:
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- শাখানদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম পদ্মা।
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর দৈর্ঘ্য ৩৪১ কি.মি.
- নদীটি রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগ দিয়ে প্রবাহিত।
- নদীটির উৎসমুখ: ভারত (শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
- নদীটির পতনমুখ: মেঘনা (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর)।
- বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদীর নাম ইছামতি (৩৩৪ কি.মি.)।
- বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদীর নাম সাঙ্গু/শঙ্খ (২৯৪ কি.মি.)।

উৎস: বাংলাদেশের নদ-নদী সংজ্ঞা ও সংখ্যা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

৪৮৪.
Which one is the second highest mountain on the earth? 
  1. ক) Makalu
  2. খ) Himalayas
  3. গ) Annapurna
  4. ঘ) K2
ব্যাখ্যা
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ K2.
এটি কারাকুম রেঞ্জে অবস্থিত। 
K2 বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি - ওয়াসফিয়া নাজরীন।
 
- মাউন্ট এভারেস্ট বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- এই শৃঙ্গটি হিমালয়ের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা, Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার, আগস্ট ২০২২।
৪৮৫.
আগ্নেয়গিরি থেকে যে পদার্থগুলো বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে কী বলে?
  1. ক) ভস্ম
  2. খ) ম্যাগমা
  3. গ) লাভা
  4. ঘ) ধাতু
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরি (Volcano):
- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত, ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ, যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে।
- এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে।
- এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।
⇒ আগ্নেয়গিরি থেকে যে পদার্থগুলো বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসে,তাকে লাভা (Lava) বলে
- বাইরে উৎক্ষিপ্ত হয়ে বেরিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত এই পদার্থগুলো ম্যাগমা (Magma) নামে পরিচিত।
- আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরে বিশাল এলাকা জুড়ে ম্যাগমা অর্থাৎ উত্তপ্ত ও গলিত শিলা, কাঁদা, ভষ্ম ও বাষ্প জমাকৃত হয়ে থাকে, যাকে ম্যাগমা চেম্বার বলা হয়।
- লাভা বের হবার মুখটিকে জ্বালামুখ (Crater) বলা হয়।
- যে পথে লাভা বের হয় সেটিকে আগ্নেয় গ্রীবা (Vent) বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৬.
কোন অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) মধ্যপ্রাচ্য
  2. খ) দূরপ্রাচ্য
  3. গ) আমেরিকা
  4. ঘ) দক্ষিণ এশিয়া
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ‘সাইক্লোন’ নামে পরিচিত।
- তবে, দূরপ্রাচ্যে ‘টাইফুন’ নামে এবং আমেরিকা অঞ্চলে ‘হ্যারিকেন’ নামে পরিচিত।
- ঘূর্ণিঝড় হলো ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচন্ড ঘূর্ণি বাতাস সংবলিত আবহাওয়ার একটি নিম্ন-চাপ প্রক্রিয়া।
- ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা)
৪৮৭.
বাংলাদেশ ভূখন্ডের মহীসোপানের সীমানা কত?
  1. উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটার
  2. উপকূল থেকে ৩৫০ কিলোমিটার
  3. উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা
- বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা - ১২ নটিক্যাল মাইল।
- অর্থনোইতিক সমুদ্রসীমা - ২০০ নটিক্যাল মাইল।
- মহীসোপান বা সমুদ্রের তলদেশে বাংলাদেশ ভূখন্ডের সীমানা - উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিমি।

উল্লেখ্য,
- ২০১২ সালে ITLOS এবং ২০১৪ সালে PCA ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে করা মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ মোট ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিমি সমুদ্রসীমা অর্জন করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৮.
কুমিল্লা জেলার বিবিরবাজার সীমান্তের বিপরীতে ভারতের সীমান্ত কোনটি?
  1. শ্রীমন্তপুর
  2. ডাউকি
  3. কৃষ্ণনগর
  4. পেট্রাপোল
ব্যাখ্যা
- কুমিল্লা জেলার বিবির বাজারের বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার শ্রীমন্তপুর।
- সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দর।
- চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর স্থলবন্দর।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোর জেলার বেনাপোল সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর পেট্রাপোল।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মোহাদিপুর স্থলবন্দর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৮৯.
The deepest river in the world is-
  1. ক) The Amazon
  2. খ) The Yangtze
  3. গ) The ississippl-Missouri
  4. ঘ) The Nile
ব্যাখ্যা
বিশ্বের গভীরতম নদী হলো কঙ্গো (Congo ) নদী। 
বিশ্বের ২য় শীর্ষ গভীরতম নদী হলো Yangtze নদী। 
 
অপশনে, Yangtze নদী থাকায় একে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।  
 
বিশ্বের গভীরতম নদীর তালিকা :
1. Congo  
2. Yangzte    
3. Danube   
4  Zambezi    
5  Amazon
 
উৎস : ওয়ার্ল্ড এটলাস 
৪৯০.
সৌরজগতের সবচেয়ে দ্রুততম গ্রহ কোনটি? 
  1. শুক্র
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

• বুধ (Mercury): 
- বুধ গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ এবং সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- বুধ হল সবচেয়ে দ্রুততম গ্রহ, প্রতি ৮৮দিনে সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে।
- এটি প্রতি ৮৮ দিনে সূর্যের চারপাশে দ্রুত গতিতে ঘুরে আসে, মহাকাশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৯ মাইল (৪৭ কিলোমিটার) গতিতে ভ্রমণ করে, যা অন্য যেকোনো গ্রহের চেয়ে দ্রুত।
- সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
-  এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি। সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র: NASA.

৪৯১.
দেশের বৃহত্তম কয়লা খনি আবিষ্কৃত হয়েছে কোথায়?
  1. ক) বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
  2. খ) জামালগঞ্জ, জয়পুরহাট
  3. গ) খালীসপুর, রংপুর
  4. ঘ) ফুলবাড়ী, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমান পর্যন্ত মোট পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। এটিতে কয়লার আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫ কোটি মেট্রিক টন। গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।

- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে। বড়পুকুরিয়ায় কয়লা মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৯ কোটি মেট্রিক টন।
দেশের অন্যান্য কয়লা খনিসমূহ হলো:
- দীঘিপাড়া : দিনাজপুর
- ফুলবাড়ী : দিনাজপুর
- খালীসপুর : রংপুর।

(তথ্যসূত্র: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৪৯২.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়?
  1. ক) উল্টোভাবে
  2. খ) লম্বভাবে
  3. গ) তির্যকভাবে
  4. ঘ) সোজাসুজি
ব্যাখ্যা
সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৪৯৩.
নিচের কোনটি জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. ভূমিকম্প
  3. ডেঙ্গু
  4. বজ্রপাত
ব্যাখ্যা

- ডেঙ্গু জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 

- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা-
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ,
- মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং
- জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- মহামারি কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্ল, নিপাহ ভাইরাস, জিকা ভাইরাস প্রভৃতিও জৈবিক হ্যাজার্ড এর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৪.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজি অনুবাদক-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৮ সালে ‘জাতীয় সঙ্গীত বিধিমালা’ অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের একটি ইংরেজী অনুবাদ প্রণয়ন করা হয়।  
- ইংরেজি অনুবাদটি করেছিলেন সৈয়দ আলী আহসান।
- জাতীয় সঙ্গীতের মোট চরণ সংখ্যা পঁচিশটি (২৫)।
- এর মধ্যে গানের প্রথম ১০ ছত্র কণ্ঠসঙ্গীত এবং
- প্রথম ৪ ছত্র যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
কোথায় সারাবছর দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান?
  1. কুমেরুবৃত্ত
  2. সুমেরুবৃত্ত
  3. বিষুবরেখা
  4. মূল মধ্যরেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- বিষুবরেখাকে 0° অক্ষাংশও বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর মাঝখানে পূর্ব এবং পশ্চিমে চলে।
- পৃথিবীর কেন্দ্রীয় অক্ষের সাথে এর সম্পর্ক ঘূর্ণন এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
- বিষুব রেখার আশেপাশে অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা এবং জলবায়ু তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে, যেখানে ঋতু পরিবর্তন খুবই কম হয়।

⇒ দিন-রাত্রি সমান:
- বিষুবরেখায় সারাবছর দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

অন্যদিকে,
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমা রেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- সুমেরুবৃত্ত: ২১ শে জুন তারিখে সূর্য ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে (কর্কটক্রান্তি) লম্বভাবে কিরণ দেয়। ঐ দিন উত্তর গোলার্ধে মেরুবিন্দু অর্থাৎ ৯০° উত্তর থেকে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা দিন থাকে। এ জন্য ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে উত্তর মেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত নামে অভিহিত করা হয়।
- কুমেরুবৃত্ত: ২২ শে ডিসেম্বর তারিখে সূর্য ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখায় (মকরক্রান্তি) লম্বভাবে কিরণ দেয়। উক্ত তারিখে দক্ষিণ মেরু বিন্দু অর্থ্যাৎ ৯০° দক্ষিণ থেকে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা দিন থাকে। ফলে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle) নামে অভিহিত করা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৬.
মৌসুমী স্রোত কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী স্রোত (Monsoon Current):
- উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী স্রোত বলে।
- গ্রীষ্মকালে এটি পশ্চিম হতে পূর্বদিকে এবং শীতকালে একই পথে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাই মৌসুমী স্রোত দু’প্রকার, যেমন- গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমী স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
বাংলাদেশকে কতটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০। 

৪৯৮.
দুর্যোগে যে ক্ষতি হয়ে থাকে, তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে কী বলে?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. উন্নয়ন
  3. সাড়াদান
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৯.
আপালেশিয়ান পর্বত কোথায় অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ইতালি
  3. ফ্রান্স
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা
আপালেশিয়ান পর্বত:
- আপালেশিয়ান পর্বতমালা উত্তর আমেরিকার পূর্ব অংশে অবস্থিত।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা জুড়ে বিস্তৃত।
- আপালেশিয়ান পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি)।
- এটি অ্যালাবামা রাজ্য থেকে শুরু হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
- আপালেশিয়ান পর্বত খুবই প্রাচীন, এবং এটি পৃথিবীর অন্যতম পুরনো পর্বত শ্রেণী।

উৎস: Britannica.
৫০০.
বাংলাদেশে খরা প্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. দক্ষিণাঞ্চল
  2. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর - পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর - পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা

খরা প্রবণ অঞ্চল:
- খরা দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গরমের সময় রাজশাহী এবং বিশেষ করে নাটোর জেলার লালপুরে তাপমাত্রা ৪৫° সেন্টিগ্রেড বা তারও বেশি হয়।
- আর শীতকালে দিনাজপুর ও রংপুরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা এমনকি ৫° সেন্টিগ্রেডেরও নিচে নেমে যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।