বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ১০১২০০ / ৭,১৯১

১০১.
পলাশী দিবস কবে?
  1. ক) ২২ জুন
  2. খ) ২৩ জুন
  3. গ) ২৪ জুন
  4. ঘ) ২৫ জুন
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়। ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার নবাব হওয়ার পর তিনি ইংরেজদের তাদের দুর্গের সম্প্রসারণ বন্ধ করার আদেশ দিয়েছিলেন। রবার্ট ক্লাইভ নবাবের সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মীর জাফরকে ঘুষ দেন এবং তাকে বাংলার নবাব করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ্দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতর্বষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০২.
ওজোন স্তর সুরক্ষা এবং সংরক্ষণ বিষয়ক কনভেনশন -
  1. ক) মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. খ) বাসেল কনভেনশন
  3. গ) ভিয়েনা কনভেনশন
  4. ঘ) রামসার কনভেনশন
ব্যাখ্যা

১৯৮৯ সালের ২২শে মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে ওজোন স্তর সুরক্ষা এবং সংরক্ষণে ভিয়েনা কনভেনশন গৃহীত হয়।
মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোন স্তর বিনষ্টকারী ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ কমানোর জন্য গৃহীত হয়৷
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১০৩.
আলোক বর্ষ কোন ভৌত রাশির একক?
  1. আলোর তীব্রতা
  2. দূরত্ব
  3. সময়
  4. দ্রুতি
ব্যাখ্যা
• আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
১০৪.
বিশ্ব সুনামি সতর্কতা দিবস কত তারিখ?
  1. ১ এপ্রিল
  2. ১০ জানুয়ারি
  3. ৫ নভেম্বর
  4. ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
• ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভার মাধ্যমে ৫ নভেম্বর কে World Tsunami Awareness Day হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

• সুনামি:
- সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এটি মূলত জাপানি শব্দ। এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রচণ্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণে ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
- ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৫.
২৪তম প্যারালাল কোন দুইটি দেশের সীমারেখা নির্দেশ করে?
  1. ভারত ও পাকিস্তান
  2. উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
  3. ভারত ও মায়ানমার
  4. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৬তম প্যারালাল: নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলা,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ২০তম প্যারালাল: লিবিয়া ও সুদান,
- ২২তম প্যারালাল: মিশর ও সুদান।
- ২৪তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ২৫তম প্যারালাল: মৌরিতানিয়া এবং মালি,
- ২৮তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ৩১তম প্যারালাল: ইরাক ও ইরান,
- ৩৭তম প্যারালাল: ভারত ও মায়ানমার,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ৪৯তম প্যারালাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা,
- ৮⁰ চ্যানেল: ভারত (মিনিকয় দ্বীপ) ও মালদ্বীপ,

উৎস: Britannica.
১০৬.
বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় -
  1. ক) ৫ জুন
  2. খ) ১১ জুলাই
  3. গ) ১০ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৬ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
• UNEP:
- জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP)
- UNEP-এর পূর্ণরুপ- United Nations Environment Programme 
- চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার প্রদান করে - UNEP
- সদর দপ্তর- নাইরোবি, কেনিয়া।

- প্রতিষ্ঠা লাভ করে- ৫ জুন, ১৯৭২ সালে।
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়-  ৫ জুন।
- সদস্য রাষ্ট্র- ১৯৩ টি।
- UNEP পরিবেশগত মাইলফলকের  ৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে- ২০২২ সালে।
-জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) নির্বাহী পরিচালক- ইঙ্গার অ্যান্ডারসন।

তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (UNEP)
১০৭.
শীতলক্ষ্যা নদী কোন নদীর শাখানদী?
  1. পদ্মা 
  2. মেঘনা 
  3. তিস্তা
  4. ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

⇒ ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য
- কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে স্রোতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে।

অন্যদিকে, 
- পদ্মা নদীর শাখা নদী: মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১০৮.
বাংলাদেশের জলবায়ু কি নামে পরিচিত?
  1. উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
  2. ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
  3. আদ্র মৌসুমী জলবায়ু 
  4. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- সুতরাং ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুর এ রূপ উৎপত্তির কারণ পানি এবং জলের উষ্ণতার তারতম্য।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক তাপের জন্য উত্তর গোলার্ধের কোন স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের তাপ কম বলে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়।
- তখন দক্ষিণের উচ্চ চাপ অঞ্চল হতে বায়ু উত্তরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- অর্থাৎ ঋতুভেদে বায়ুচাপের পরিবর্তন দেখা হয়।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৯.
First oil reserve was discovered in Bangladesh in -
  1. 1974
  2. 1978
  3. 1984
  4. 1986
  5. 1988
ব্যাখ্যা
হরিপুর খনিজ তেল ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তেল ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি হরিপুর তেলক্ষেত্র।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০২৩ সালে সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপ খনন করে প্রথম স্তরে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
iii) বাংলাপিডিয়া।
১১০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
  2. তিস্তা সেচ প্রকল্প
  3. কাপ্তাই সেচ প্রকল্প
  4. ফেনী সেচ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
• তিস্তা সেচ প্রকল্প:
- তিস্তা সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প।
- এ প্রকল্পটি নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৫ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করে।
- তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কাজ ১৯৮৪ সালে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয়।
- জুন ১৯৯৮ প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়।
- মোট নির্মাণ ব্যয় ৯৬৯.৫৩ কোটি টাকা।
- ব্যারেজের দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার, সর্বমোট গেট ৫২ টি।
- সেচ প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

অন্যদিকে -
- মুহুরী প্রকল্প বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে এই সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়িত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম 'সেচ প্রকল্প' গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৭ মার্চ ২০২৪, প্রথম আলো।
১১১.
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত-
  1. ডাকাতিয়া নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
  4. গোমতী নদী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানা : 
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য।
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা , মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার।
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত - হাড়িয়াভাঙ্গা নদী।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত - নাফ নদী।
- দক্ষিণে- বঙ্গপোসাগর।
- বাংলাদেশের মোট সীমানারেখা - ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট সীমানা রেখা - ৩৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশে - মিয়ানমারের সীমানা রেখা - ২৮০ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ - নবম ও দশম শ্রেণি।
১১২.
বঙ্গোপসাগরের মোট আয়তন কত?
  1. প্রায় ১,০০০,০০০ বর্গকিলোমিটার
  2. প্রায় ১,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার
  3. প্রায় ২,১৭০,০০০ বর্গকিলোমিটার
  4. প্রায় ৩,০০০,০০০ বর্গকিলোমিটার
ব্যাখ্যা

বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal):
- অবস্থান: দক্ষিণ এশিয়া, ভারত মহাসাগরের উত্তরে। 
- সংলগ্ন দেশসমূহ: ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা। 
- উত্তরে সংযুক্ত: বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে বাংলাদেশের উপকূল।
- পশ্চিমে সংযুক্ত: ভারতের পূর্ব উপকূল। 
- দক্ষিণে সংযুক্ত: আন্দামান সমুদ্র ও ভারত মহাসাগর।
- মোট আয়তন: প্রায় ২,১৭০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা: প্রায় ২,৬০০ মিটার।
- সর্বোচ্চ গভীরতা: প্রায় ৪,৬৭০ মিটার।
- নদী যোগদানকারী: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, ইন্দাস, কাবিনী, মালয়াল নদী প্রভৃতি।
- বিশেষত্ব: বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের জন্য পরিচিত; মাছ ও খনিজ সম্পদের জন্য সমৃদ্ধ।
- প্রধান বন্দর: চট্টগ্রাম (বাংলাদেশ), কলকাতা ও বিশাখাপত্তনম (ভারত), চেন্নাই (ভারত), সিটওয়েট (মিয়ানমার)।

উৎস: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

১১৩.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. বান্দরবান
  3. রংপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
বন্যা:
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
- এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র - বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১১৪.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. বরিশাল
  2. দিনাজপুর
  3. রংপুর
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া:
→ বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রুতিক্রিয়ার ফলো আমাদের দেশের সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালি জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
→ এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৫.
তাজমহল কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. যমুনা
  2. গঙ্গা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. কাভেরী
ব্যাখ্যা
তাজমহল: 
- ভারতের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধিসৌধ। 
- মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী, যিনি মুমতাজ বেগম নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। 
- সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। 
- তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। 
- এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। 
- তখন একে বলা হয়েছিল “the jewel of Muslim art in India and universally admired masterpiece of the world's heritage"।
- বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহল। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১১৬.
বাংলাদেশের কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. রাঙামাটি
  3. সুনামগঞ্জ
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

চিনামাটি:
- নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ও এর আশপাশের এলাকায় রয়েছে চিনামাটির খনি।
- খনিজের নাম: চিনামাটি (Kaolin/China Clay)।
- ব্যবহার: সিরামিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- মজুদের পরিমাণ: প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।
- তথ্য প্রদানকারী সংস্থা: খনিজ সম্পদ ব্যুরো।
- গুরুত্ব: তখনকার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ বছরের চাহিদা পূরণে সক্ষম।
- আহরণ: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমতি নিয়ে বেসরকারি কোম্পানি।
- শ্রমিক: প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক খননকাজে নিয়োজিত।
- উত্তোলিত চিনামাটি সিরামিক শিল্পের কারখানায় পাঠানো হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১৭.
'সাইক্লোন' শব্দটির অর্থ কী?
  1. ক) এক চোখা ঘোড়া
  2. খ) বিশালাকার দানব
  3. গ) ঘূর্ণিপাক
  4. ঘ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন' শব্দটির অর্থ হচ্ছে কুন্ডলী পাকানো সাপ। 

- ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়।
- এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি।
- ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে।
- ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ  হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন। 

সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বিভক্তকারী রেখা হলো ______ উত্তর অক্ষাংশ। 
  1. ৩৮° 
  2. ৩৪°
  3. ৪৯° 
  4. ২৩.৫০° 
ব্যাখ্যা

• ৩৮° অক্ষরেখা:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ৩৮° সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে।
- ফলে কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া গঠন করে। 
- উত্তর কোরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে এবং দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

অন্যদিকে,
• ৪৯° উত্তর অক্ষাংশ:
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমা রেখা হিসেবে পরিচিত।
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে পৃথক করেছে।
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখাকে (49th parallel) মেডিসিন লাইন বলা হয়।
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা  (49° N latitude) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি অংশ যা প্রধানত সোজা রেখা।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ অরক্ষিত (unfortified) সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি প্রায় ৫,৫২৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত। 
- এই সীমান্ত ১৮৪৬ সালের ওরেগন ট্রিটি (Oregon Treaty) দিয়ে নির্ধারিত হয়।
 
• ২৩.৫°:
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়। 

• কর্কটক্রান্তি রেখা:
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়। 
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উৎস: i) Americas.org
ii) History.com
iii) Britannica.

১১৯.
'লিপুলেখ' নিয়ে কোন দুইটি দেশের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ চলমান?
  1. ক) চীন-ভারত
  2. খ) চীন-মিয়ানমার
  3. গ) ভারত-নেপাল
  4. ঘ) মিয়ানমার-ভারত
ব্যাখ্যা
১৮১৪ শুরু থেকে হয়ে  ১৮১৬ সালে পর্যন্ত ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 
যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হিসেবে ১৮১৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত এবং নেপালের মধ্যে সুগাউলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে ভারত-নেপালের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ দেখা দেয়। 
ভারত-নেপালের বিরোধের কেন্দ্রে থাকা ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে কালাপানি, লিপুলেখ এবং সুস্তা অন্যতম। 

লিপুলেখ হলো হিমালয়ের একটি গিরিপথ। ইহা ভারতের উত্তরাখন্ড, চীনের তিব্বত এবং নেপালের সীমানায় গিয়ে মিশেছে। 

২০২০ সালে নেপালের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র এবং নতুন জাতীয় প্রতীক নির্ধারণে দেশের সংবিধান সংশোধনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয় নেপালের পার্লামেন্ট। নতুন এই মানচিত্র ও প্রতীকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধাউরাকে নেপালের ভূখণ্ড হিসাবে প্রদর্শিত হবে।

সূত্র: ব্রিটানিকা, বিবিসি। 
১২০.
সূর্যের নিকটতম গ্রহ-
  1. বৃহস্পতি
  2. শনি
  3. ইউরেনাস
  4. বুধ
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury):
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার;
- এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি। সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।  - বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

অন্যদিকে,
- বৃহস্পতি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ।
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২১.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব না?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) খরা
ব্যাখ্যা
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে,
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল।
১২২.
কোন জলবায়ু অঞ্চলকে বিশ্বের ফলের ঝুড়ি হয়?
  1. ক) তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল
  3. গ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল
  4. ঘ) ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের উদ্ভিজ্জ এর জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল থাকে। 
- গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুস্ক থাকায় শীতকালের বৃষ্টির পানি গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত খাদ্য হিসেবে ধরে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন বৃক্ষ ও ঝোপঝাড় এ অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিজ্জ। 
- এ অঞ্চলের গাছগুলোর কোনটির মূল দীর্ঘ, গাছের ছাল মোটা ও পুরু, কোন গাছের পাতা কন্টকাবৃত্ত, আবার কোন কোন গাছের পাতা তৈলাক্ত ও ভারি হয়।
- এ অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য উদ্ভিজ্জগুলোর মধ্যে জলপাই, নিম, চেষ্টনাট, ওক, পাইন, সিডার, কর্ক, তুত গাছ ইত্যাদি। 
- তবে কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে ছোট লতাগুল্ম ও ঝোপঝাড় ইত্যাদি বেশী জন্মায়। 
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে এত বেশী ফল জন্মায় যে একে বিশ্বের ফলের ঝুড়ি (Fruits Basket of the World) বলা হয়। 
- উল্লেখযোগ্য ফলগুলো হলো আপেল, আঙ্গুর, কমলালেবু, ডুমুর, পীচ, বাদাম, আখরোট, খুবানী, জলপাই নাসপাতি ইত্যাদি ।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২৩.
সুয়েজ খাল কোন দুটি সাগরকে সংযোজিত করেছে?
  1. ভূমধ্যসাগর ও কাস্পিয়ান সাগর
  2. ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগর
  3. লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর
  4. লোহিত সাগর ও আরব সাগর
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল:
• সুয়েজ খাল একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল যা লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
• ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দ্য লেসেপ্সের উদ্যোগে ১৮৫৯ সালে সুযেজ খালের খননকার্য শুরু হয়।
• ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর খালটি নৌ চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত‍ করে দেওয়া হয়।
• শুরুতে খালটি ফ্রান্স ও মিশরের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে মিশর তার ৪৪ ভাগ শেয়ার ব্রিটেনের নিকট বিক্রি করে দেয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের গামাল আবদেল নাসের সরকার সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন।
• এর ফলে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সাথে মিশরের যুদ্ধ বেধে যায় যা ‘দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ’ বা ‘সুয়েজ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
• বর্তমানে সুয়েজ খাল মিশর সরকারের অধীন ‘সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
• আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে সুয়েজ খাল সবদেশের জন্যে সকল ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের চন্যে উন্মুক্ত থাকবে।

তথ্যসূত্র: সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
১২৪.
'নিস' কোন শিলার উদাহরণ?
  1. ক) পাললিক শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) রূপান্তরিত শিলা
  4. ঘ) স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিলো একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। এর পর আবার তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে বলে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় বলে তাকে প্রাথমিক শিলা ও অস্তরীভূত শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা স্ফটিকার, অপেক্ষাকৃত ভারী, কঠিন ও কম ভঙ্গুর। - আগ্নেয় শিলায় কোন জীবাশ্ম নেই।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক, সিল, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পাললিক শিলার উদাহরণ- চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- নিস, মার্বেল, স্লেট, গ্রাফাইট, কোয়ার্টাজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস।
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৫.
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল কোন ধরনের প্লাবন সমভূমি?
  1. ক) পাদদেশীয় সমভূমি
  2. খ) স্রোতজ সমভূমি
  3. গ) ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. ঘ) উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের বন্যা প্রবণ প্লাবন সমভূমি।
ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১২৬.
কোন বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. বাণিজ্য বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির উপর আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভরশীল।
- পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে।
- যেমন- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়।
- তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।
- হিমালয় পবর্তের অবস্থানের জন্য শীতল সাইবেরীয় বায়ুর প্রভাবে হিমালয়ের উত্তরাংশের চীন ভূ-খন্ডে উষ্ণতা-১০° সেলসিয়াস থেকে -৫° সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০° সেলসিয়াস থেকে ২৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
কোন নদীর তীরে 'সারদা পুলিশ একাডেমি' অবস্থিত?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) শীতলক্ষ্যা
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) বালেশ্বর
ব্যাখ্যা
•নদীর তীরবর্তী স্থান/শহর:
- সারদা - পদ্মা,
- নারায়ণগঞ্জ - শীতলক্ষ্যা,
- বরিশাল - কীর্তনখোলা,
- ঢাকা - বুড়িগঙ্গা।
- কক্সবাজার - নাফ,
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া - তিতাস,
- চাঁদপুর - মেঘনা,
- বান্দরবান - শংখ।
- মাদারীপুর - আরিয়াল খাঁ,
- পিরোজপুর - বালেশ্বর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. মেসোমন্ডল
  2. আয়নমণ্ডল
  3. এক্সোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলা হয়।
- এই স্তরে বায়ু অত্যন্ত হালকা এবং বায়ু চাপ অত্যন্ত ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলা হয়।

তাপমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ১৪৮০° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
- তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রা প্রায় স্থির থাকে।
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
১২৯.
নিম্নের কোনটি যমুনার উপনদী নয়?
  1. ধরলা
  2. করতোয়া
  3. আত্রাই
  4. কপোতাক্ষ
ব্যাখ্যা

• যমুনা নদী:
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি শাখা নদী।
- ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে একটি সরু খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা পরবর্তীতে যমুনা নদী নামে পরিচিত হয়।
- নদীটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়।
- এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নদী নামে প্রবাহিত হয়।

» শাখা নদী
- যমুনার প্রধান শাখা নদী হলো:
• ধলেশ্বরী নদী,
• ধলেশ্বরীর শাখা নদী হলো বুড়িগঙ্গা নদী।

» উপনদী
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• ধরলা
• তিস্তা
• করতোয়া
• আত্রাই
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৩০.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) যশোর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাগেরহাট জেলায় খান জাহান আলী বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নির্মাণ করেন। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৩১.
ওডেসা সমুদ্রবন্দর কোন সাগরের অববাহিকায় অবস্থিত?
  1. মর্মর
  2. ভূমধ্য
  3. আজিয়ান
  4. কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
ওডেসা সমুদ্রবন্দর:
- ওডেসা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচীন বন্দরগুলোর একটি।
- এটি ইউক্রেনে অবস্থিত। 
- দেশটির বৃহত্তম বন্দর হওয়ার পাশাপাশি এটি কৃষ্ণ সাগর অববাহিকারও অন্যতম বৃহৎ বন্দর।
- মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটির অংশ হিসেবে রেল সংযোগ রয়েছে এই বন্দরের সঙ্গে, যার মাধ্যমে রপ্তানিমুখী পণ্য বন্দরে পৌঁছানো ও আমদানীকৃত পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত দেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর সুব্যবস্থা রয়েছে।
- ১০৯ একর জায়গার ওপর অবস্থিত ওডেসা বন্দর বেশ প্রাচীন একটি বন্দর। 
- ওডেসা বন্দরের অবস্থান ওডেসা উপসাগরের পশ্চিম উপকূলে।
- ওডেসা বন্দরের মালিক ইউক্রেনিয়ান সি পোর্টস অথরিটি।
- ওডেসা মেরিন ট্রেড পোর্ট বন্দরটি পরিচালনা করে।
- ওডেসা বন্দরের প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল হলো কনটেইনার টার্মিনাল ওডেসা (সিটিও)।
- ইউক্রেনের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল এটি। 
- কৃষ্ণ সাগর অববাহিকার সবচেয়ে বড় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটি এই ওডেসা বন্দরেই অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইরানের সমুদ্রবন্দরের নাম আব্বাস।

উৎস: Britannica
১৩২.
সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল কোথায়?
  1. ক) রাজবাড়ী
  2. খ) ভৈরববাজার
  3. গ) চিলমারি
  4. ঘ) আজমিরিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল (মেঘনা) : আজমিরিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
- পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল : গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
- - পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল : ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)
- পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল : চাঁদপুর
- ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল : চিলমারি (কুড়িগ্রাম)।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১৩৩.
কাঁটাতারের বেড়া থেকে শূন্য পয়েন্ট কত পর্যন্ত কত মিটার জায়গা 'No-Man's-Land' হিসেবে চিহ্নিত?
  1. ১৫৮ মিটার
  2. ১৫০ মিটার
  3. ১৪৩ মিটার
  4. ১৩৯ মিটার 
ব্যাখ্যা

• কাঁটাতারের বেড়া থেকে শূন্য পয়েন্ট পর্যন্ত ১৫০ মিটার জায়গা নো ম্যানস ল্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত।

- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি, ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নামে পরিচিত।
- এ চুক্তির অন্য সব বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় ছিল যে, যদি কোনো দেশ সীমান্ত বরাবর বেড়া দেয়, তবে তা শূন্য পয়েন্ট থেকে নিজ ভূখণ্ডের ১৫০ মিটার ভেতরে নির্মাণ করতে হবে।

• স্থলসীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪:

- ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী স্থল সীমান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত স্থল সীমানা চূড়ান্ত করা।
- এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ভেতরে থাকা দক্ষিণ বেরুবাড়ি ভারতের দখলে চলে যায় এবং দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের অধিকারে আসে।
- ছিটমহল দুটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় পানবাড়ি মৌজার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য তিনবিঘা জমি ভারত বাংলাদেশের অনুকূলে স্থায়ী ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- চুক্তি সইয়ের পরপরই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এটি অনুমোদন করে।

এছাড়াও
➝ ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত সম্পর্কিত প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
➝ উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি প্রটোকল নয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছিলো।

➝ ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফর করেন।
➝ ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে ওই প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
➝ উক্ত প্রটোকলে সীমান্তে অচিহ্নিত অংশগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল এবং অপদখলীয় ভূমি সমস্যার সমাধান করে স্থায়ী সীমানা চিহ্নিত করা হয়।
➝ এর আওতায় বাংলাদেশের ভেতর থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল ও ভারতের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময়ে সম্মত হয়।
➝ পরবর্তীতে এই চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময় হয়।

উৎস: জাতীয়  তথ্য বাতায়ন।

১৩৪.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. উত্তর- পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

 উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৫.
পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ কোনটি?
  1. ভারত
  2. শ্রীলঙ্কা
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. বাংলাদেশ 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি (Physiography of Bangladesh):
- ভূপ্রকৃতি দেশের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূপ্রকৃতির প্রভাব অপরিসীম।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। 
- গঙ্গা নদী পশ্চিম, ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তর, সুরমা ও কুশিয়ারানদী উত্তর-পূর্বদিক থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একযোগে সুবিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে।

 • বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩৬.
নিচের কোনটি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ
  3. নদী খনন
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:  
• দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 
• সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয় । 
• দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। 
• অতীতে দুর্যোগে  সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো। 

♣ প্রতিরোধ:
• প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
• দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
• কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।
• কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। 
অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ, যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।  

♣ সাড়াদান: 
• সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। 
• সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়। 

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৭.
সিলেটের পাহাড়গুলো কোন ভূমিরূপের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. টারশিয়ারি যুগের
  2. প্লাইস্টোসিন যুগের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. প্রাচীন প্রস্তর যুগের
ব্যাখ্যা
উচ্চতা ও ভূমিরূপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
-  টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ,
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড় সমূহ আবার দুইভাগে বিভক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- উত্তর- পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
 প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলে।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৮.
বাংলাদেশের সর্বশেষ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোনটি? (অক্টোবর, ২০২৪)
  1. বেতবুনিয়া
  2. তালিবাবাদ
  3. মহাখালী
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা:
- বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি), 
- তালিবাবাদ (গাজীপুর),
- মহাখালী (ঢাকা) এবং 
- সিলেট।

- প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া (১৯৭৫) এবং সর্বশেষ কেন্দ্র সিলেট (১৯৯৭)।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৯.
নিচের কোনটি মেঘনার শাখা নদী?
  1. গোমতী
  2. বাউলাই
  3. মনু
  4. ডাকাতিয়া
ব্যাখ্যা
→ ডাকাতিয়া,  মেঘনার শাখা নদী।

• মেঘনা (Meghna):

- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে;
- বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- একটি উত্তর সিলেট থেকে সুরমা নামে;
- এবং অন্যটি দক্ষিণ সিলেট থেকে কুশিয়ারা নামে।
- হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা এবং কালনী নদীর মিলিত স্রোত কালনী নামে।
- পরে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়েছে।
- চাঁদপুরের পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

→ মেঘনার উপনদীসমূহ:
- মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।

→ শাখা নদী:
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে কী বলে?
  1. কর্কটক্রান্তি
  2. কুমেরুবৃত্ত
  3. মকরক্রান্তি
  4. সুমেরুবৃত্ত
ব্যাখ্যা
- ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে কর্কটক্রান্তি বলে।
- ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলে সুমেরুবৃত্ত এবং
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলে কুমেরুবৃত্ত।
- বিষুবরেখাকে মহাবৃত্ত বা গুরুবৃত্ত বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৪১.
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কি প্রকৃতির দ্বীপ?
  1. ক) প্রবাল দ্বীপ
  2. খ) কৃত্রিম দ্বীপ
  3. গ) আগ্নেয় দ্বীপ
  4. ঘ) ব-দ্বীপ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার মাঝে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম।
- কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এ দ্বীপটি অবস্থিত।
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি নারকেল জিঞ্জিরা হিসেবে পরিচিত। 
 
সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
১৪২.
কোনটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়?
  1. নরওয়ে
  2. লিথুনিয়া
  3. সুইডেন
  4. ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
→ উল্লিখিত প্রশ্নে 'লিথুনিয়া' স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ:
- ইতালি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া সাধারণত নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্ক নিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
- নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
- নর্ডেন শব্দটি এই পাঁচটি দেশকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যথা- আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।
- যাদের মধ্যে ভাষাগত, সাংস্কৃতিক এবং ভৌগোলিক মিল রয়েছে।
- যা উচ্চ সাক্ষরতা, দীর্ঘ জীবন প্রত্যাশা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যের জন্য পরিচিত।
 
তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৪৩.
হাজার হ্রদের দেশ কোনটি?
  1. ক) নরওয়ে
  2. খ) ফিনল্যান্ড
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
হাজার হ্রদের দেশ - ফিনল্যান্ড।
সূর্যোদয়ের দেশ – জাপান
হাজার দ্বীপের দেশ - ইন্দোনেশিয়া
ম্যাপল পাতার দেশ – কানাডা।

(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১৪৪.
বাংলাদেশে কোন ভূমিরূপটি নেই?
  1. সমভূমি
  2. পার্বত্য ভূমি
  3. মালভূমি
  4. জলাভূমি
ব্যাখ্যা
ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ তিনভাগে বিভক্ত।
এগুলো হলো:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের চত্বরভূমি এবং
- সাম্প্রতিক কালের প্লাবনসমভূমি।

বাংলাদেশে হাওর, বাওর, বিল, নদ-নদী, হ্রদ, জলাভূমি, চত্বরভূমি, উপকূলীয় সমভূমি, প্লাবিত সমভূমি, পাহাড় শ্রেণী প্রভৃতি বিদ্যমান রয়েছে।
তবে এদেশে মালভূমি নেই।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪৫.
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির রায় হয় কত সালে?
  1. ২০১২
  2. ২০১৩
  3. ২০১৪
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশর সমুদ্রসীমা:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয় নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত Permanent Court Arbitration (PCA) বা স্থায়ী সালিশী আদালতে।
-এই আদালত শুনানি শেষে ৭ জুলাই ২০১৪ রায় প্রদান করে।
- এতে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিমি সমুদ্রসীমার মধ্যে বাংলাদেশ ১৯,৪৬৭ এবং ভারত ৬,১৩৫ বর্গকিমি এলাকা পায়।

উল্লেখ্য,
⇒ Permanent Court Arbitration (PCA) ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ ও কমিউনিটির মধ্যে বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য এই আদালত স্থাপন করা হয়। 
- এর সদস্য সংখ্যা ১২২ টি । বাংলাদেশ ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল এর সদস্য হয়।

সূত্র: Permanent Court Arbitration ওয়েবসাইট।
১৪৬.
বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:

- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-প্রকৃতি এখানকার জলবায়ুর ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
- মৌসুমী বায়ুর অত্যধিক প্রভাবের দরুণ এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• গ্রীষ্মকাল।
• বর্ষাকাল।
• শীতকাল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
ফেরেলের সূত্রানুযায়ী দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ডাক দিকে
  2. বাম দিকে
  3. উপরের দিকে
  4. নিচের দিকে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে উৎপন্ন কোরিওলিস বলের প্রভাবে উচ্চতা অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু সোজা পথে না প্রবাহিত হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
 - বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা-নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে ক্ষয়সাধন বেশি হয়?
  1. মধ্যগতি
  2. ধীরগতি
  3. উর্ধ্বগতি
  4. নিম্নগতি
ব্যাখ্যা
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪৯.
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. প্রায় ৫০ মাইল
  2. ১০০ মাইল
  3. প্রায় ৭৫ মাইল 
  4. ১২০ মাইল
ব্যাখ্যা

• কক্সবাজার: 
- কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত।
-  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম  সমুদ্র সৈকত।
- এই সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল)।
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম ছিল পালংকি।
- এর আগে এটিকে প্যানোয়া নামেও ডাকা হতো, যার অর্থ হলুদ ফুল।
- পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হিরাম কক্সের নামে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় কক্সসাহেবের বাজার।
- এরপর থেকে ধীরে ধীরে এটি কক্সবাজার নামে পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৫০.
বাংলাদেশের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে? 
  1. গাজীপুর
  2. শরীয়তপুর
  3. রাজবাড়ি
  4. চাঁদপুর
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১৫১.
ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সতর্কতা ও বিপদ সংকেত:
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।
নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হলঃ

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।
৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।
১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎসঃ ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
১৫২.
বাংলাদেশ ডেল্টাপ্লান- ২১০০ বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দেশ কোনটি?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ঃ 
বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’।
-বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এটি।
-এই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
-এই পরিকল্পনার মেয়াদ ১০০ বছর।
-এটি প্রণয়নে সহায়তা করছে নেদারল্যান্ডস।

উৎসঃ পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো।
১৫৩.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যর সংলগ্ন নয়? 
  1. হবিগঞ্জ
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বান্দরবান জেলাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন অবস্থান নয়।

ভারতের রাজ্য: 

• বাংলাদেশের সংলগ্ন জেলা 
- আসাম ৪টি (কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার)
- ত্রিপুরা ৭টি (ফেনী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি)
- মেঘালয়: ৪টি (নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর)
- মিজোরাম: ১টি (রাঙ্গামাটি)
- অপরদিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের জেলা ৯টি। যথা: মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর চব্বিশ পরগোনা, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার ও দার্জিলিং।
- বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের চিন প্রদেশের মংডু শহর অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫৪.
পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যকার সীমানার নাম কী?
  1. ওডার-নেইস লাইন
  2. লাইন অব ডিমারকেশন
  3. ম্যাজিনো লাইন
  4. র‍্যাডক্লিফ লাইন
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন দেশের সীমানা:
⇒ পার্পল লাইন: ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
⇒ সনেরা লাইন: মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ওডার-নেইস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ব্লু লাইন: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সীমানা।
⇒ লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
⇒ ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ রেডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
⇒ লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল / ম্যাকমোহন লাইন: চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
⇒ লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ ‘আলপাইন লাইন'- ইতালি - ফ্রান্স।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৫৫.
আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান -
  1. ক) খনিজ
  2. খ) লবণ
  3. গ) ম্যাগমা
  4. ঘ) আগুন
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা:
- আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান ম্যাগমা।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশ থেকে (প্রায় ২০০ কি.মি.) ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরেই জমাটবদ্ধ হয় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- এই ম্যাগমা যখন ভূ-ত্বকের গভীর থেকে ফাঁটল বরাবর সজোরে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এসে প্রবাহিত হয় তখন তাকে লাভা বলে।

• আগ্নেয় শিলা সৃষ্টির প্রথমে পৃথিবী উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিন্ড ছিল। এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরো তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

• অভ্যন্তরে উত্তপ্ত ম্যাগমা শীতল ও কেলাসিত হয়ে আগ্নেয় শিলা গঠিত হয়।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ের শিলা বলে একে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই এই শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা।
- এই শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই।

- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
প্রাচীন শহর পেট্রা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জর্ডান
  2. সিরিয়া
  3. ইরাক
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
পেট্রা:
- পেট্রা হলো মরুভূমির মাঝে একটি প্রাচীন গোলাপি শহর। 
- পেট্রা ছিল একটি প্রাচীন নগরী, যা হেলেনিস্টিক ও রোমান যুগে একটি আরব রাজ্যের কেন্দ্র ছিল।
- এর ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে জর্ডানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত।
- শহরটি গড়ে তোলা হয়েছিল একটি উঁচু চত্বরে, যার মধ্যে দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে ওয়াদি মুসা (মুসার উপত্যকা)।
- ঐতিহ্য অনুসারে, এটি সেই স্থানগুলোর একটি যেখানে ইসরায়েলি নেতা মুসা (আঃ) একটি পাথরে আঘাত করলে সেখান থেকে পানি বের হয়েছিল।
- পুরো উপত্যকাটি ঘিরে আছে রঙিন বালুকাপাথরের পর্বত, যেগুলোতে লাল, বেগুনি এবং হালকা হলুদের বিভিন্ন শেড দেখা যায়।
- এ কারণেই ১৯শ শতকের ইংরেজ বাইবেল বিশারদ জন উইলিয়াম বারগন পেট্রাকে বর্ণনা করেছিলেন: "rose-red city half as old as Time."
- আধুনিক ওয়াদি মুসা শহর, যা পেট্রার ঠিক পাশেই অবস্থিত, মূলত এই বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রে আসা দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য গড়ে উঠেছে।

উৎস: Britannica.
১৫৭.
উত্তর গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন কত তারিখে?
  1. ২০ ডিসেম্বর
  2. ২২ ডিসেম্বর
  3. ২৫ ডিসেম্বর
  4. ২৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সম্পর্কিত তথ্য:
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- একই দিন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম রাত ও ক্ষুদ্রতম দিন।

অর্থাৎ,
পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত-২২ ডিসেম্বর।  
- কারণ এই দিনে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে, ফলে সূর্যের আলো কম পড়ে এবং দিন দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

অন্যদিকে,
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত।
- এদিন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।

২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর:
- পৃথিবীর সব স্থানে দিন ও রাত সমান থাকে (ব্রক্ষুস্তিতি বা ইকুইনক্স)।
অর্থাৎ ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান থাকে। 

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৫৮.
রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ কোনটি?
  1. নিস
  2. মার্বেল
  3. গ্রাফাইট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক চাপ, তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে যে নতুন রূপ ধারণ করে তাকে ‘রূপান্তরিত শিলা’ বলে।

⇒ রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
• কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট
• চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
• বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট।
• গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস

⇒ উল্লেখ্য:
- ল্যাকোলিথ ও গ্রানাইট : অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
- কয়লা : পাললিক শিলা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৯.
প্রেইরি কোন অঞ্চলের তৃণভূমি?
  1. ক) পূর্ব ইউরোপ
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) দক্ষিণ আমেরিকা
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।
পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
• প্যাম্পাস ও ল্যানোস (দক্ষিণ আমেরিকা)
• সাভানা (আফ্রিকা)
• স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা। 
১৬০.
বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল-
  1. ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল
  2. ২৪ নটিক্যাল মাইল
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ১২ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা

- মিয়ানমার ও ভারতের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার টেরিটোরিয়াল সমুদ্র,
- ১২ নটিক্যাল মাইল রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা,
- ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল,
- চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে পেরেছে।

১৬১.
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি?
  1. কয়লা
  2. পেট্রোলিয়ম
  3. চুনাপাথর
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রধান খনিজ সম্পদ:
- বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- এটি দেশের জ্বালানি চাহিদার অন্যতম প্রধান উৎস।
- বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যেমন- বিবিয়ানা, তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুর ইত্যাদি।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি সিলেটের হরিপুর এলাকায় প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়।
- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।
- এর মধ্যে ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের সর্বশেষ (২৯তম) গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং পেট্রোবাংলা।
১৬২.
কোন জেলাকে হাওরের মা বলা হয়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের হাওর বেসিন বা হাওরাঞ্চল গঠিত। এই হাওরাঞ্চল এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম। সুনামগঞ্জ জেলাকে এই হাওরাঞ্চলের মা বলা হয়।
- সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ৯৫টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো টাঙ্গুয়ার হাওর।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১৬৩.
প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র? [অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪]
  1. বিবিয়ানা
  2. বাখরাবাদ
  3. হরিপুর
  4. তিতাস
ব্যাখ্যা
গ্যাসক্ষেত্র:
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। এর উত্তোলনের পরিমাণ ৬৩৬৭ বিলিয়ন ঘনফুট। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা। এর উত্তোলনের পরিমাণ ৫৮১৮.৩ বিলিয়ন ঘনফুট। এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

⇒ প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা। প্রাথমিক মোট মজুদ পরিমাণ – ৮৩৫০.০ বিলিয়ন ঘনফুট। এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। এর পরিমাণ ৮১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট।

⇒ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার – ৩৮৯.৪ বিলিয়ন ঘনফুট (৪২.০০%)। [ব্যবহারের দিক থেকে এই খাতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।]
- শিল্পখাতে ব্যবহার – ১৭৮.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (১৯.০০%) [দ্বিতীয়]
- ক্যাপটিভ – ১৬৪.৩ বিলিয়ন ঘনফুট (১৮%) [তৃতীয়]
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার – ১০০.৬ বিলিয়ন ঘনফুট। (১১.০০%)।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৬৪.
নিচের কোন জেলাগুচ্ছ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঢাকা, রাজবাড়ী, মাদারীপুর
  2. বরিশাল, পটুয়াখালী, চাঁদপুর
  3. কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান
  4. রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এই অঞ্চলে খরার কারণগুলো নিম্নরূপ:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: এই অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: এই অঞ্চলে নদীপ্রবাহের পরিমাণ কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়, যার ফলে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংকট দেখা দেয়।
- আবহাওয়ার চক্র: এই অঞ্চলের আবহাওয়ার চক্রের কারণে খরার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম থাকে, যার ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়?
  1. পুনর্বাসন
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
পুনর্বাসন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সাধারণভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যে কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলোর সমন্বিতরূপকে বুঝায়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- নতুবা দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে মানবজীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ।
- দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত আলোচিত বিষয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য:
১. দুর্যোগকালীন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
২. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের জন্য স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।

‘‘পুনর্বাসন’’ অর্থ-
- দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা অধিকতর ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। 
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মানসিক, অর্থনৈতিক ও ভৌত কল্যাণ সাধনসহ তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা;
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, অন্যত্র স্থানান্তর করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদির সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট খামার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা;
- পুকুর, নদী-নালা, খাল, বিল, জলাধারে মৃত মানুষ, গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদি অপসারণের ত্বড়িৎ ব্যবস্থা করা এবং এদের বিষাক্ত পানি শোধনের ব্যবস্থা করাসহ মানুষ ও জীব-জন্তুর জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষাক্ততা অপসারণের লক্ষ্যে বিষাক্ত জীবাণু ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থাসহ এটি হতে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
১৬৬.
নিচের কোনটি জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত?
  1. অক্ষাংশ
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
- অর্থাৎ জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়।
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৭.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা -
  1. ক) প্রশান্ত মহাসাগরের নিকট
  2. খ) বাল্টিক সাগর ও নর্দিক অঞ্চল
  3. গ) ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
• টর্নেডো: 
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। 
 
• টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য টর্নেডোর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচিত হলো-
১. টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ু চাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
২. বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
৩. টর্নেডোর উত্তোলন ক্ষমতা অনেক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর বেগে টর্নেডোর বায়ু উপরের দিকে উত্থিত হয় এবং পথে যা পায় তাই তুলে নেয়।
৪. ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে আসে ।
৫. টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
৬. টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
৭. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
৮. সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।
৯. টর্নেডো ব্যাপক জানমাল ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
'ভেঙ্গী ভ্যালী' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) বান্দরবন
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
- কাপ্তাই থেকে প্লাবিত উপত্যকা বা ভ্যালি ভেঙ্গি ভ্যালি নামে পরিচিত। এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি : খাগড়াছড়ি
- সাজেক ভ্যালি : রাঙামাটি
- বালিশিরা ভ্যালি : মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
১৬৯.
বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের কত শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ২০%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় একটি বিধ্বংসী দুর্যোগ হিসেবে প্রমাণিত।
- ভারত মহাসাগর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
- যা বৈশ্বিক ৮৫ শতাংশ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কারণ। 
- ভারত মহাসাগরের হটস্পট নিকোবার এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকট থেকে সৃষ্ট নিম্নচাপ প্রায়শ বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় এবং বাংলাদেশে এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বরে আঘাত হানে।

উৎস: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
১৭০.
কোন দেশগুলো মেডিসিন লাইন/সীমানা দ্বারা বিভক্ত?
  1. ব্রাজিল ও বলিভিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  3. জার্মানি ও পোল্যান্ড
  4. মিশর ও সুদান
ব্যাখ্যা

 যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মেডিসিন লাইন দ্বারা বিভক্ত।

মেডিসিন লাইন/সীমানা (Medicine Line):
- মেডিসিন লাইন (Medicine Line) হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমানা।
- বিশেষ করে ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা (49th parallel) বরাবর টানা সীমারেখাকে বোঝাতে মেডিসিন লাইন ব্যবহার করা হয়।
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা  (49° N latitude) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি অংশ যা প্রধানত সোজা রেখা।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ অরক্ষিত (unfortified) সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি প্রায় ৫,৫২৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত। 
- এই সীমান্ত ১৮৪৬ সালের ওরেগন ট্রিটি (Oregon Treaty) দিয়ে নির্ধারিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- কানাডার স্থানীয়রা এই লাইনটিকে মেডিসিন লাইন হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। 

অন্যদিকে,  
- ওডার-নীস লাইন হলো জার্মানি এবং পোল্যান্ডের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা।
- ২২° উত্তর অক্ষরেখা (22°N parallel) মিশর এবং সুদানের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা। এটি হালায়েব ত্রিভুজ (Hala'ib Triangle) নামেও পরিচিত।

উৎস: i) Americas.org
ii) History.com

১৭১.
সংঘর্ষ বৃষ্টিতে কোন দুটি বায়ু মুখোমুখি হয়?
  1. শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ
  2. গরম বায়ু
  3. উষ্ণ ও শীতল
  4. ঘন ও শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:

- সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
নিচের কোনটি বাংলাদেশ সরকার প্রণীত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নয়?
  1. CDMP
  2. SFDRR
  3. NPDM
  4. NDMAC
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত অপশন সমূহের মধ্যে SFDRR (Sendai Framework for Disaster Risk Reduction) হলো জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১৫ সালে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলনে গৃহীত পরিকল্পনা।
- এই পরিকল্পনার মেয়াদকাল ২০১৫-২০৩০। SFDRR পরিকল্পনায় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সাতটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে
- NDMAC : National Disaster Management Advisory Committee
- DDMC : District Disaster Management Committee
- UZDMC : Upazila Disaster Management Committee.
- UDMC: Union Disaster Management Committee
- CDMP: Comprehensive Disaster Management Programme
- NPDM: National Plan for Disaster Management

সূত্রঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা - ২০১৫, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর
১৭৩.
বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কী?
  1. কালবৈশাখী
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. টর্নেডো
  4. সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
সিলেট এলাকায় কোন প্রকারের বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ঘূর্ণিবাত
  2. পরিচলন
  3. শৈলোৎক্ষেপ
  4. সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা

বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- বৃষ্টিপাতের ৪টি প্রকারভেদ হলো: পরিচলন বৃষ্টিপাত, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত, সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।
​ 
⇒ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
​ 
এছাড়াও
​- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৫.
টাঙ্গুয়ার হাওর স্থানীয় লোকজনের কাছে কোন নামে পরিচিত?
  1. ছয়কুড়ি কান্দার নয়কুড়ি বিল
  2. সাতকুড়ি বিলের আটকুড়ি হাওর
  3. দশকুড়ি হাওরের পাঁচকুড়ি বিল
  4. নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল
ব্যাখ্যা

টাঙ্গুয়ার হাওর:
- সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর স্থানীয় লোকজনের কাছে 'নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল' নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাওর টাঙ্গুয়ার হাওর।
- টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলাধীন ১০টি মৌজা নিয়ে বিস্তৃত একটি হাওর।
- এ হাওরটিতে ছোটবড় ১২০টি বিল রয়েছে।
- ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিমি, এর মধ্যে ২৮০২.৩৬ হেক্টর জলাভূমি রয়েছে।
- প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
- এখানে ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ পাওয়া যায়।
- টাঙ্গুয়ার হাওরে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৫০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৭৬.
আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. আগুন
  2. ম্যাগমা
  3. লবণ
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা:
- আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান ম্যাগমা।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশ থেকে (প্রায় ২০০ কি.মি.) ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরেই জমাটবদ্ধ হয় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- এই ম্যাগমা যখন ভূ-ত্বকের গভীর থেকে ফাঁটল বরাবর সজোরে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এসে প্রবাহিত হয় তখন তাকে লাভা বলে।

• আগ্নেয় শিলা সৃষ্টির প্রথমে পৃথিবী উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিন্ড ছিল। এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরো তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

• অভ্যন্তরে উত্তপ্ত ম্যাগমা শীতল ও কেলাসিত হয়ে আগ্নেয় শিলা গঠিত হয়।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ের শিলা বলে একে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই এই শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা।
- এই শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই।

- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
বাংলাদেশে 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করেছিল - 
  1. যুক্তরাজ্য
  2. রাশিয়া
  3. ভারত
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা।
১৭৮.
কর্কটক্রান্তি রেখা কোনটি?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৪.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ২৫.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ২৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কর্কট ক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখার অপর নাম ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
- বছরে সূর্য একবার বিষুবরেখা অতিক্রম করে উত্তর গোলার্ধের সর্বশেষ যে স্থান পর্যন্ত পরিক্রমা করে (২৩.৫ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশ ) আবার বিষুবরেখার দিকে ফিরে আসে, সেই কাল্পনিক রেখাটিকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলে ।
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. ঘন ঘন বন্যা
  2. সমুদ্র দূষণ
  3. ত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ঘন ঘন বন্যাব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।

Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।
- ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গ্রুন্টার পাউলি।
- ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

⇒ বিশ্বব্যাংক আধুনিক ব্লু ইকোনোমির সংজ্ঞায় বলেছে - ব্লু ইকোনোমি হলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষা করে সমুদ্রের ব্যবহারযোগ্য সকল ধরণের সম্পদ সঠিকমাত্রায় ব্যবহার করা। এখানে, ইকোনোমি শুধু ব্যবসায়িক দিক বুঝায় না, বরং সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাও বুঝায়।
- ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নিকট থেকে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্লু ইকোনমির বড় অংশীদার হয়। বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু হয় বাংলাদেশের।
- বাংলাদেশের 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা - ২১০০' বাস্তবায়নে ব্লু ইকোনমির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব।
- দক্ষ জনশক্তির অভাব।
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৮০.
এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?
  1. পানি নিষ্কাশন
  2. সেচ প্রকল্প
  3. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
১৮১.
In which continent is the Nile River located?
  1. ক) North America
  2. খ) Asia
  3. গ) Africa
  4. ঘ) Europe
ব্যাখ্যা
নীল নদ:

- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদ/নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত.
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
১৮২.
পৃথিবীতে কয়টি উচ্চচাপ বলয় আছে?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
বায়ুচাপ বলয়:
- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।

• এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১৮৩.
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে যে দেশে -
  1. আফগানিস্তান
  2. ভুটান
  3. তাজিকিস্তান
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
সবচেয়ে বেশি পাহাড় আছে যে দেশে:
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল ভুটানে।
- এর ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাহাড়ে আবৃত।
- তিব্বত ও ভারতের মধ্যে স্থলবেষ্টিত এই দেশ।
- পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি ‘ল্যান্ড অফ দ্য থান্ডার ড্রাগন’ নামেও পরিচিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,৭৬০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দেশ।
- ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেতিবাচক দেশ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ২য় স্থানে রয়েছে তাজিকিস্তান (৯১.৯%)।
- ২য় স্থানে রয়েছে কিরগিজস্তান (৯০.৭%)।

উৎস: Worldatlas.
১৮৪.
বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে কতটি ভাগে ভাগ করা করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের উপাদান:
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমন্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমন্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমন্ডল (Heterosphere) বলে।

• বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা করা যায়। যথা-
ক. গ্যাসীয় উপাদান (Composition of Gases):
খ. জলীয়বাষ্প (Water Vapour):
গ. ধূলিকণা (Dust):



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৫.
বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্র কোন অংশে অবস্থিত?
  1. উত্তরাংশে
  2. দক্ষিণাংশে
  3. পূর্বাংশে
  4. পশ্চিমাংশে
ব্যাখ্যা
দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলি হচ্ছে সিলেট, ছাতক, তিতাস, রশিদপুর, কৈলাশটিলা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, সেমুতাং, কুতুবদিয়া, বেগমগঞ্জ, কামতা, ফেনী, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, জালালাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা, শাহবাজপুর, সালদানদী, সাংগু, বিবিয়ানা ও মৌলভীবাজার।
অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের পূর্বাংশের ইন্দোবার্মা ভাঁজুসমূহের সন্নিকটস্থ স্থলভাগে অবস্থিত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৮৬.
কত বছরের গড় আবহাওয়াকে কোনো অঞ্চলের জলবায়ু বলে?
  1. ১০-২০ বছর
  2. ২০-৩০ বছর
  3. ২৫-৪০ বছর
  4. ৩০-৪০ বছর
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।
- অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত  ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক:
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ :
১. অক্ষাংশ ২. উচ্চতা ৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব ৪. স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান ৫. সমুদ্রস্রোত ৬. ভূমির ঢাল ৭. ভূ-প্রকৃতি ৮. বায়ুপ্রবাহ ৯. বায়ুর চাপ এবং ১০. বনভূমির অবস্থান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
কত ডিগ্রি অক্ষরেখা উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া কে পৃথক করেছে?
  1. ১৭° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৪° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- ৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা : উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
অন্যদিকে,
- ১৭° উত্তর অক্ষরেখা : উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
- ২৪° উত্তর অক্ষরেখা : পাকিস্তান ও ভারত
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা : যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে পৃথক করেছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১৮৮.
কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশী নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ঢাকা
  2. চট্রগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
নদ-নদী ও বাংলাদেশ
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে জালের মত ছড়িয়ে আছে ১০০৮ টি নদী। 
- এই দেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রবাহকে মানবদেহের প্রাণস্বরূপ রক্ত সংবহনতন্ত্রের সাথে তুলনা করা যায়।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।

- সবচেয়ে বেশী নদী প্রবাহিত হচ্ছে - ঢাকা বিভাগে।
- এই বিভাগে নদীর সংখ্যা - ২২২ টি।
- সবচেয়ে বেশী নদী প্রবাহিত হচ্ছে - সুনামগঞ্জ জেলায়(৯৭টি)।

- সবচেয়ে বেশী জেলায় প্রবাহিত হচ্ছে - পদ্মা (১২টি)।
- সবচেয়ে বেশী উপজেলায় প্রবাহিত হচ্ছে - মেঘনা (৩৬টি)।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের নদ এবং নদী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। লিংক
১৮৯.
গত তিন দশকে বাংলাদেশের কোন অংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে?
  1. ক) উত্তরাংশ
  2. খ) পূর্বাংশ
  3. গ) দক্ষিণাংশ
  4. ঘ) পশ্চিমাংশ
ব্যাখ্যা
গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া প্রভৃতি স্থানে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১৯০.
পৃথিবীতে কয়টি উচ্চচাপ বলয় রয়েছে? 
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

চাপ বলয়:
- পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি।
- এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।
• এগুলো হলো:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়;
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়;
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়;
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়;
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়;
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯১.
ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়।
  2. ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
  3. বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
  4. ঘূর্ণিঝড় একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone):
- প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য।
 • স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
 • ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
 •  বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
 • ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উল্লেখ্য
 গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। 
- বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের সময়কাল, নাম ও মৃত মানুষের সংখ্যা নিম্নের সারণিতে দেখানো হলো।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৪ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- SPARRSO পূর্ণরূপ: Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization (SPARRSO)
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

সূত্র: SPARRSO এর ওয়েবসাইট।
১৯৩.
বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণি ভূ-তাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ হচ্ছে-
  1. প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. টারশিয়ারী যুগের
  3. মায়োসিন যুগের
  4. ডেবোনিয়াস যুগের
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব তিন ধরণের।
যথা- 
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণী ভূতাত্ত্বিকভাবে টারশিয়ারি যুগের। এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

বাংলাদেশে অবস্থিত টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলোকে আবার দুইটি ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
i) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

ii) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টি কয়লা ক্ষেত্র বিদ্যমান? [আগস্ট - ২০২৫]
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশে মোট ৫টি কয়লা ক্ষেত্র বিদ্যমান: বড়পুকুরিয়া, দীঘিপাড়া, ফুলবাড়ি, খালাশপীর ও জামালগঞ্জ। 

কয়লা ক্ষেত্র:

- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।

সূত্র: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

১৯৫.
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আগারগাঁও
  2. খ) শাহবাগ
  3. গ) সেগুনবাগিচা
  4. ঘ) গুলিস্তান
ব্যাখ্যা
- জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অবস্থিত।
- ১৯৬০ সালে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় গ্রন্থের উন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল বুক সেন্টার অব পাকিস্তান’ এর শাখা হিসেবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যাত্রা শুরু করে।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ওয়েবসাইট)
১৯৬.
UDMC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Union Disaster Management Committee
  2. Union Development Management Council
  3. Urban Development Monitoring Council
  4. Urban Disaster Monitoring Committee
ব্যাখ্যা

UDMC:
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- DMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে।
- স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

⇒ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- NDMC: National Disaster Management Council.
- NDMAC: National Disaster Management Advisory Committee.
- DDMC: District Disaster Management Committee.
- UZDMC: Upazila Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৯৭.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. আহ্নিক গতি
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. বার্ষিক গতি
  4. বায়ুর ঘনত্ব
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
• জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো-
- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি ৷

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮.
কোনটি মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র?
  1. ক) সিপিপি
  2. খ) সিআরবি
  3. গ) বিডিপি
  4. ঘ) স্পারসো
ব্যাখ্যা

- SPARRSO (স্পারসো) এর পূর্ণরূপ- Space Research and Remote Sensing Organisation (মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র)।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।

১৯৯.
বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. মিথেন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ হিসেবে বলা হয় যে, মানুষের নেতিবাচক কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহের উপস্থিতির মাত্রার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যাকে আমরা গ্রিনহাউস প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করি।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাসগুলো হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন ও ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- শিল্পায়ন, যানবাহনের সংখ্যাগত বৃদ্ধি, বনাঞ্চল উজাড় ও কৃষির সম্প্রসারণ ইত্যাদি কর্মকান্ডের কারণে উল্লিখিত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশে অধিক বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়, খরা প্রভৃতি জলবায়ুগত পরিবর্তন সাধিত হতে পারে।
- পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল পৃথিবী ও তার পরিবেশকে এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মতো দেশসমূহকে এর বিশ্ব উষ্ণায়নের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২০০.
সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম কী? 
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. তিস্তা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

• সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা - ১২টি।

• সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা - ৩৬টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম - ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা - ২২২টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম - সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা - ৯৭টি।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।