বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ১০০ / ৭,১৯১

.
জাতিসংঘের মতে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু শরণার্থী হবে -
  1. ক) ২ কোটি
  2. খ) ১ কোটি
  3. গ) ৩ কোটি
  4. ঘ) ৪ কোটি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘের মতে ২০৫০ সালে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৩ ফুট।
• বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ভূমি ডুবে যাবে ১৭%।
• বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী হবে আনুমানিক ৩ কোটি

তথ্যসূত্র:- জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
.
আপালেশিয়ান পর্বতমালা মূলত কোন কোন দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা
  3. কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
ব্যাখ্যা

আপালেশিয়ান পর্বত:
- আপালেশিয়ান পর্বতমালা উত্তর আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা জুড়ে বিস্তৃত।
- কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা পর্যন্ত প্রায় ৩,২০০ কিমি (২,০০০ মাইলের বেশি) বিস্তৃত। 
- এটি রকি পর্বতমালার চেয়ে প্রাচীন পর্বত। 
- এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নর্থ ক্যারোলিনার মাউন্ট মিচেল। 
- এই অঞ্চলটি কয়লা, লোহা এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। 

উৎস: Britannica.

.
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখা কত কিলোমিটার?
  1. ২৫০ কিলোমিটার
  2. ২৮০ কিলোমিটার
  3. ৩০০ কিলোমিটার
  4. ৩২০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তরেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার, এটা মূলত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

বাংলাদেশের সীমা:
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণপূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

.
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আয়তন কত?
  1. ১৫৯৫হেক্টর
  2. ১৬৯৫ হেক্টর
  3. ১৭৯৫ হেক্টর
  4. ১৮৯৫ হেক্টর
ব্যাখ্যা
• রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় এ অভয়ারণ্যের অবস্থান।
- রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বর্তমানে এই অভয়ারণ্যের আয়তন ১৭৯৫ হেক্টর।
- এটি একটি শুকনো ও চিরহরিৎ বন এবং সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বনভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।[লিঙ্ক]
.
UDMC এর পূর্ণরূপ-
  1. Union Disaster Management Committee
  2. Union Disaster Management Community
  3. Union Disaster Management Centre
  4. Union Disaster Management Council
ব্যাখ্যা
• UDMC:
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
'এল নিনো’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
  1. ছোট ছেলে
  2. বড় ছেলে
  3. ছোট মেয়ে
  4. বড় মেয়ে
ব্যাখ্যা
এল-নিনো  (El Nino) 
‘এল-নিনো’একটি স্প্যানিশ শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে। 
‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী। এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১২ মাস। 
এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়। এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।  
এল-নিনো সাধারণত প্রতি চার থেকে সাত বছরে একবার দেখা যায়।

অপরদিকে,   
লা-নিনা (La Lina)
‘লা-নিনা’ও একটি স্প্যানিশ শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে। 
‘লা-নিনা’  শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ। 
লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে  কমে যায়। 
দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।  এর স্থায়ীত্ব ১-৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
দুই থেকে সাত বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।  

সূত্র: National Oceanic and Atmospheric Administration  
.
'মদক তং' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

সাকা হাফং:
- সাকা হাফং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত একটি পাহাড়।
- স্থানীয়ভাবে এই শৃঙ্গকে 'মদক তং' নামেও ডাকা হয়।
- এর অবস্থান ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে, যেগুলোর অবস্থান মূলত বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকায়।
- এদের মধ্যে তাজিংডং অন্যতম, এটা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত এবং সরকারিভাবে একে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: প্রথম আলো।

.
দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হাতিয়া
  2. খ) গোয়াইনঘাট
  3. গ) কলমাকান্দা
  4. ঘ) টেকনাফ
ব্যাখ্যা
- রাতারগুল হলো দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাভূমির বন। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এ বনের আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর।
- এ বনের প্রধান বৃক্ষের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও পিটালী উল্লেখযোগ্য।
- এ বনের বৃক্ষ বছরের প্রায় অর্ধেক সময় আংশিক জলমগ্ন থাকে।
(সূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কোনটি?
  1. কেওক্রাডাং
  2. জয়ন্তিকা
  3. লুসাই
  4. গারো
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড়:
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড়।
- এটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতশ্রেণির একটি অংশকে গারো পাহাড় বলে।
- এর কিছু অংশ রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যে ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- এর মোট আয়তন প্রায় আট হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এ পাহাড়েই অবস্থিত।
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

অন্যদিকে,
- তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০.
কন্যাকুমারী অন্তরীপ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) ভারত
  3. গ) শ্রীলঙ্কা
  4. ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ ভারতের তামিলনাড়ুর নিকট ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- গার্দাফুই অন্তরীপ আরব সাগরে অবস্থিত।
- উত্তমাশা অন্তরীপ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের নিকট দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- চার্চিল অন্তরীপ কানাডার নিকট হাডসন উপসাগরে অবস্থিত।
১১.
চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা -
  1. পার্পল লাইন
  2. লাইন অব ডিমারকেশন
  3. লাইন অব কন্ট্রোল
  4. ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের সীমানা:
⇒ পার্পল লাইন: ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
⇒ সনেরা লাইন: মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ওডার-নেইস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ব্লু লাইন: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সীমানা।
⇒ লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
⇒ ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ রেডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
⇒ লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল / ম্যাকমোহন লাইন: চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
⇒ লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১২.
পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি কোনটি?
  1. তিব্বত মালভূমি
  2. গোলান মালভূমি
  3. দাক্ষিণাত্য মালভূমি
  4. পামীর মালভূমি
ব্যাখ্যা

তিব্বত মালভূমি:
- পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি তিব্বত মালভূমি।
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ সমভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমি প্রায়ই পর্বতবেষ্টিত হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বতীয় মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল উচ্চভূমি।
- তিব্বতীয় মালভূমির আয়তন প্রায় ২,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫,০০০ বর্গমাইল)। 
- এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩,০০০ - ১৫,০০০ ফুট (৪,০০০ - ৫,০০০ মিটার) উঁচু।

⇒ তিব্বত মালভূমির উত্তরে রয়েছে ‘কুনলুন’ পর্বত এবং দক্ষিণে হিমালয়; পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতমালা; পূর্বে হেংতুয়ান পর্বতমালা।
- এখানে আরও রয়েছে গাংদেস পর্বতমালা - নাইনকেন তাংগুলা পর্বতমালা এবং এর শাখা।

উৎস: i) Britannica
ii) World atlas.

১৩.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ফিল্ড 'তিতাস গ্যাসক্ষেত্র' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) নারায়নগঞ্জ
ব্যাখ্যা
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র:
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। এরপর সিলেট অঞ্চলে আরও বেশকিছু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হওয়ার পর যখন ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে একটি বিরাট গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় তখন বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে নতুন আরেক এক দিগন্তের সূচনা হয়।
১৯৬৪ সালের ২০ নভেম্বর এ গ্যাসক্ষেত্রটি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড নামে জন্মলাভ করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এই গ্যাসক্ষেত্রটি পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি আবিষ্কার করেছিল।
• এক নজরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রঃ
- প্রাথমিক মজুদ - ৮,১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট
- উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ (2P) - ৬৩৬৭ বিলিয়ন ঘনফুট
- উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা - ২৬টি।

উৎসঃ বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২০।
১৪.
স্পেনকে মরক্কো থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী? 
  1. হরমুজ প্রণালী
  2.  জিব্রাল্টার প্রণালী
  3.  দারদানেলিস  প্রণালী 
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

প্রণালী :
- প্রণালী হলো এমন এক সংকীর্ণ জলপথ, যা দুটি বৃহৎ জলভাগকে একত্রে সংযুক্ত করে এবং পাশাপাশি দুটি ভূখণ্ডের মাঝে স্বাভাবিকভাবে বিভাজন তৈরি করে।
- এটি মূলত প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হলেও কখনো কখনো মানবসৃষ্ট পথও হতে পারে।

- কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর মধ্যে জিব্রাল্টার প্রণালী অন্যতম :
• জিব্রাল্টার প্রণালী :
 - এ প্রণালী ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং
- ইউরোপের স্পেনকে আফ্রিকার মরক্কো থেকে পৃথক করেছে।

  অন্যদিকে,
- হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং
- ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পৃথক করেছে।
- দারদানেলিস প্রণালী মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং তুরস্কের ইউরোপীয় ও এশীয় অংশকে পৃথক করেছে।
- বসফরাস প্রণালী কৃষ্ণ সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং তুরস্কের এশিয়া ও ইউরোপ অংশকে পৃথক করেছে।

উৎস : Britannica.

১৫.
প্লাইস্টোসিন যুগের বৃহত্তম উঁচুভূমি কোনটি?
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. লালমাই পাহাড়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
বাকল্যান্ড বাঁধ কোন নদীর তীরে শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ?
  1. ক) কর্ণফুলী
  2. খ) বুড়িগঙ্গা
  3. গ) শীতলক্ষ্যা
  4. ঘ) তুরাগ
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৭.
সেভেন সিস্টার্সের কতটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা

সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- এগুলো হলো- অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- সেভেন সিস্টার্সের (আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়) এই চারটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।
- সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া।
- এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয় ১৯৭২ সালে।
- সেভেন সিস্টার্সের মোট আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- আসামের গুয়াহাটিকে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১৮.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় কত তারিখে?
  1. ক) ২১ শে মার্চ ও ২৩ শে সেপ্টেম্বর
  2. খ) ২২ শে মার্চ ও ২৪ শে সেপ্টেম্বর
  3. গ) ২৪ শে মার্চ ও ২৬ শে মার্চ
  4. ঘ) ২৮ শে মার্চ ও ২৫ শে মার্চ
ব্যাখ্যা
২১ শে মার্চ ও ২৩ শে সেপ্টেম্বর এই দুদিন নিরক্ষরেখার উপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান হয়। সেদিনকে বিষুব (Equinox) বলে। ২১শে মার্চ উত্তর গােলার্ধে বসন্তকাল তাই একে বাসন্ত বিষুব (Vernal equinox) বলে। ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল। তাই ঐ দিনকে শারদ বিষুব (Autumnal equinox) বলে। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
১৯.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দূরত্ব
  2. সময়
  3. ওজন
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। 
২০.
পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) সুদৃঢ়
  2. খ) স্তরীভূত
  3. গ) ভারী
  4. ঘ) জীবাশ্মহীন
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা
•পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে। এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। 
পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য
ক) স্তরীভূত : পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা স্তরীভূত অর্থাৎ খনিজ উপাদানসমূহ স্থুল বা সূক্ষ্ম স্তরে স্তরে বিন্যস্ত থাকে। এই স্তরগুলো সাধারণত আনুভূমিকভাবে সজ্জিত থাকে।
খ) জীবাশ্ম বিশিষ্ট : পাললিক শিলাস্তরে জীবাশ্মের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যে সকল জীব এই শিলাঞ্চলে বাস করে তাদের মৃতদেহ কালক্রমে পলির নিচে চাপা পড়ে। এর ফলে এদের দেহের কঠিন অংশ প্রস্তরীভূত হয়ে জীবাশ্মে পরিণত হয়।
গ) অকেলাসিত : এটি কখনও উত্তপ্ত অবস্থা হতে শীতল হয়ে সৃষ্টি হয় না, বিধায় এই শিলা অকেলাসিত শিলা।
ঘ) তরঙ্গচিহ্ন : এটি তরঙ্গ চিহ্নযুক্ত শিলা। জলভাগের তলদেশে এই জাতীয় শিলার সৃষ্টি হয় বলে এর মধ্যে তরঙ্গচিহ্ন বর্তমান থাকে। আবার বায়ু দ্বারা গঠিত পাললিক শিলায়ও বাতাসের দ্বারা তরঙ্গ চিহ্নের সৃষ্টি হয়।
ঙ) কোমলতা : আগ্নেয় শিলার ভগ্নাংশ সঞ্চিত হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয় বলে এই শিলা অন্য শিলা থেকে অপেক্ষাকৃত কোমল থাকে।    

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
‘এডেন’ সমুদ্রবন্দর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ইয়েমেন
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ইটালি
ব্যাখ্যা
এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এডেন ইয়েমেনের প্রধান সমুদ্রবন্দর। অবস্থানগত কারণে এডেন বন্দর পরাশক্তিগুলোর নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সিংহভাগ তেলবাহী জাহাজ এই রুটেই চলাচল করে। যার কারণে ইয়েমেনে চলামান গৃহযুদ্ধের অন্যতম নিয়ামক হলো এডেন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ।
(সূত্র: এনাসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং আল জাজিরা)
২২.
সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত?
  1. প্রায় ৬ কিমি
  2. প্রায় ৯ কিমি
  3. প্রায় ২১ কিমি
  4. প্রায় ২৭ কিমি
ব্যাখ্যা

• সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ:
 - বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ অংশে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে ৯ কিমি দক্ষিণে গড়ে ওঠা একটি ছোট দ্বীপ।
- মায়ানমারের উত্তর-পশ্চিম উপকূল থেকে ৮ কিমি পশ্চিমে নাফ নদীর মুখে দ্বীপটি অবস্থিত।
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান।
- স্থানীয় জনসাধারণ এটিকে নারিকেল জিনজিরা নামে চেনে। সর্বতোভাবে দ্বীপটি সমতল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা থেকে ৩.৬ মিটার উপরে।
- মূল ভূখন্ড এবং দ্বীপের মধ্যবর্তী ৯.৬৬ কিমি প্রশস্ত প্রণালী দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমের উন্মুক্ত সাগরের তুলনায় অনেক অগভীর।
- এখানে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে ১০-১৫ কিমি প্রবাল প্রাচীর।
 
- দ্বীপটি ৭.৩১৫ কিমি দীর্ঘ এবং উত্তর-উত্তরপশ্চিম এবং দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক জুড়ে বিন্যস্ত।
- ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া এবং এ অংশ ২,১৩৪ মিটার দীর্ঘ ও ১,৪০২ মিটার প্রশস্ত।
- দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশটি দক্ষিণ পাড়া হিসেবে পরিচিত, যা ১৯২৯ মিটার দীর্ঘ এবং এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ পূর্ব দিকে বিস্তৃত একটি সংকীর্ণ লেজের মতো এলাকা, যার সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ৯৭৫ মিটার।
- একটি সংকীর্ণ কেন্দ্রীয় অঞ্চল বা মধ্য পাড়া দুইটি অংশকে সংযুক্ত করেছে। বেল্ট বা ফিতার মতো এই অঞ্চলটির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ যথাক্রমে ১৫২৪ মিটার ও ৫১৮ মিটার এবং সংকীর্ণতম অংশটি গলাচিপা নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৩.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. প্রতিকূলতা
  2. বিপদাপন্নতা
  3. দুর্যোগ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ:
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
দিনাজপুর জেলায় বড়পুকুরিয়ায় কিসের খনি প্রকল্প কাজ চলছে?
  1. ক) কঠিন শিলা
  2. খ) কয়লা
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) সাদামাটি
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তোলনযোগ্য মজুত ৬৪ মিলিয়ন টন এবং বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ মিলিয়ন টন।

- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া যায়।
- ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে এবং
- ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২৫.
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় Green Climate fund বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কি পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করেছে?
  1. ক) ৮০ বিলিয়ন ডলার
  2. খ) ১০০ বিলিয়ন ডলার
  3. গ) ১৫০ বিলিয়ন ডলার
  4. ঘ) ২০০ বিলিয়ন ডলার
ব্যাখ্যা

UNFCCC এর উদ্যোগে কপ - ১৬ সম্মেলনে ২০১০ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে Green Climate Fund গঠিত হয়।

2009: The general concept for GCF is first proposed at the Conference of the Parties (COP) to the UNFCCC in Copenhagen, Denmark (COP 15).
2010: The COP in Cancun, Mexico (COP 16), decides to establish GCF.
Source:
https://www.greenclimate.fund/about/timeline

এর প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেন শহরে অবস্থিত।
এর আকার হবে - ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা সরবরাহ করবে বিশ্বের উন্নত দেশ সমূহ এবং এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকিতে থাকা দরিদ্র্য ও উন্নয়শীল দেশ সমূহকে অর্থসংস্থান করা হবে।
এই ফান্ড থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া উন্নয়নশীল বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশের জন্যেও GCF ফান্ড থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
উন্নত দেশসমূহ এ ফান্ডে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে।
(সূত্রঃ Green Climate Fund ওয়েবসাইট)

In 2009 at COP 15 in Copenhagen, in decision 2/CP.15, in the context of meaningful mitigation actions and transparency on implementation, developed countries decided to commit to a goal of mobilizing jointly USD 100 billion dollars a year by 2020 to address the needs of developing countries. Parties decided that this funding would come from a wide variety of sources, public and private, bilateral and multilateral, including alternative sources of finance, and that new multilateral funding for adaptation would be delivered through effective and efficient fund arrangements, with a governance structure providing for equal representation of developed and developing countries.
Source: un.org

২৬.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর
  2. উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগর 
  3. আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক ও উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে
- আর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২৭.
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব কোনটি?
  1. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
  2. খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
  3. পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা।
- খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।

অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব: 
- বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে,
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে,
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়,
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়,
- খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
ii) বিবিসি বাংলা [৩০ জুন ২০২৪]
২৮.
পরিবেশ উন্নয়নে কবে বাংলাদেশ জাতীয় বন-নীতি গ্রহণ করেছে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

'জাতীয় বন-নীতি':
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালে 'জাতীয় বন-নীতি' ঘোষণা করে।

জাতীয় বননীতির উদ্দেশ্য:
- বনজ সম্পদের বিনাশ ও বনের অবক্ষয় রোধকল্পে যথাযথ কর্মসূচি এবং প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০% ঘনত্ব সম্পন্ন দেশের বৃক্ষাচ্ছাদিত (tree cover) এলাকার পরিমাণ ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যূনপক্ষে ২০% বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকাসমৃদ্ধ এবং সম্প্রসারণ করা।
- সরকারি বনভূমির কঠোর সংরক্ষণ, বনের বৃদ্ধি, বন বাস্তুতান্ত্রিক সেবার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনজদ্রব্য, বাজার প্রভাবের আওতাধীন রেখে বন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের স্বার্থে বন প্রত্যয়নপত্র প্রদান (Forest Certification) ব্যবস্থা চালু করা।
- সরকারি বনের বাইরে শহর এলাকাসহ সরকারি এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি  বনের উপর বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার জন্য সকল প্রকার অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন কার্যক্রম এবং বনের বাইরে (off-forest) কর্মসংস্থান সৃষ্টি উৎসাহিত করা।
- রক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য আবাসস্থলে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন করা।
- বন বাস্তুতন্ত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাভূমির জল-বিভাজিকা (catchment) চিহ্নিত করা এবং কঠোর প্রাকৃতিক রক্ষিত এলাকা (strict protected area) হিসেবে ঘোষণা করা।
- ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও বছর জুড়ে নদীপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপিত বনভূমির ৩০% এলাকা 'রক্ষিত এলাকা'য় সম্প্রসারণ করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জনসংখ্যার চাপ, শহরায়নসহ বিদ্যমান এবং উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলার জন্য বন বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম জোরদার করা।
- বাস্তুতান্ত্রিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পরিশোধ, বন বাস্তুতান্ত্রিক পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০০৯ (Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, 2009)-এ চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট সুপারিশসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
- বিবৃত নীতিমালা এবং এর অধীনে প্রণীত কার্যক্রম যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা সেল প্রতিষ্ঠা করা।
- কাঠ ও কাঠের বিকল্প সক্ষম কারখানা স্থাপন সহজীকরণ এবং সেইসাথে কাঠের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- বিভিন্ন বহুপাক্ষিক পরিবেশ চুক্তি সম্পর্কিত বাংলাদেশের অঙ্গীকারসমূহ যেমন CITES, CBD, UNCED, Ramsar ইত্যাদি যাতে পরিপালিত হয় তা নিশ্চিত করা।
- বনায়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে নারীর সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করা হবে।
- নীতির রূপরেখাকে কার্যে পরিণত করার লক্ষ্যে সমানুপাতিক আর্থিক সংশ্লেষ এবং যথার্থ জবাবদিহিতাসহ যথপোযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৯.
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ নিচের কোনটি?
  1. সুমাত্রা
  2. নিউগিনি
  3. গ্রিনল্যান্ড
  4. বোর্নিও
ব্যাখ্যা

• গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
- এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- গ্রীনল্যান্ড (স্থানীয় ভাষায় কালালিত নুনাত) পরিচিত এর বিশাল তুন্দ্রা অঞ্চল ও বিশাল হিমবাহের জন্য।
- গ্রীনল্যান্ডের রাজধানীর নাম নুক (ডেনিশ ভাষায় গোথহোব)।

অপরদিকে,
- নিউ গিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- বোর্নিও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- মাদাগাস্কার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৩০.
তুলনামূলকভাবে কম দুর্যোগপ্রবণ জেলা কোনটি?
  1. খুলনা
  2. ময়মনসিংহ
  3. সুনামগঞ্জ
  4. নওগাঁ
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র এবং প্রবাহমান নদীসমূহ থেকে অবস্থানগত দূরত্বের কারণে দেশের ছয়টি জেলা তুলনামূলকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যে কম ‍ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
জেলাসমূহ হলো:
- ময়মনসিংহ
- শেরপুর
- গাজীপুর
- নীলফামারী
- মাগুরা এবং
- ঝিনাইদহ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০)
৩১.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ প্রধানত কোন জলবায়ুর অর্ন্তগত?
  1. ভূমধ্যসাগরীয় 
  2. মৌসুমী 
  3. নিরক্ষীয় 
  4. মহাদেশীয় 
ব্যাখ্যা

• মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের বর্ণনা:
- মৌসুমী বায়ু দ্বারা সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত জলবায়ুকে মৌসুমী জলবায়ু বলে।
- বিশ্বের যেসব অঞ্চল দিয়ে মৌসুমী জলবায়ু প্রবাহিত হয় সেসব অঞ্চলকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- মৌসুমী অঞ্চলের জলবায়ু মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের গতি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।

• অঞ্চল ও দেশ সমূহ:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার (বার্মা), থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, কম্পুচিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, জাপান ও ফিলিপাইনের অংশ বিশেষে এ জলবায়ু বিরাজ করে।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
ভারতের কোন অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমানা বিদ্যমান?
  1. ক) পশ্চিমবঙ্গ
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) আসাম
  4. ঘ) মিজোরাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫ টি রাজ্যের সীমানা রয়েছে।
যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ।
এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমানা বিদ্যমান।
৩৩.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা -
  1. ময়মনসিংহ
  2. ফরিদপুর
  3. ঝিনাইদহ
  4. ঠাকুরগাঁও
ব্যাখ্যা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী:

- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- চিংড়ি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা সাতক্ষীরা।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা বগুড়া।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২।
৩৪.
তিব্বতের আংশিক ভূখণ্ডে ব্রহ্মপুত্র নদকে কী নামে ডাকা হয়?
  1. সিন্ধু
  2. সালউইন
  3. ইয়ারলুং সাংপো
  4. মেকং 
ব্যাখ্যা

• ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট উৎপন্ন হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ শুরু হয় তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে।
- এখানে মানস সরোবর হ্রদের কাছাকাছি একটি ছোট হিমবাহ (বরফের অংশ) রয়েছে। 
- সেই হিমবাহকে আংসি হিমবাহ বলা হয়।
- আবার এই হিমবাহকে চেমায়ুংডুং হিমবাহ নামেও ডাকা হয়।
- নদীর মূল উৎস এই হিমবাহ থেকে পানি গলে বের হয়ে প্রবাহ শুরু করে।
- উৎপত্তিস্থলে নদীটি ইয়ারলুং সাংপো নামে প্রবাহিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৯০০ কিলোমিটার।
- তিব্বতের উচ্চভূমি অতিক্রম করার পর এটি ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- পরে এটি ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনা। 

উৎস: 
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. বাংলাপিডিয়া।

৩৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী -
  1. পদ্মা নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. যমুনা নদী
  4. কর্ণফুলী নদী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী। 
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে ।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৬.
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের ক্ষেত্রে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ঝড়
  3. গ) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. ঘ) লবণাক্ততা
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে। এগুলো হলোঃ মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে। ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৩৭.
সুমেরুবৃত্ত বলা হয় -
  1. উত্তর মেরু
  2. দক্ষিণ মেরু
  3. পূর্ব মেরু
  4. পশ্চিম মেরু
ব্যাখ্যা
সুমেরুবৃত্ত (Arctic Circle):
- ২১ শে জুন তারিখে সূর্য ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে (কর্কটক্রান্তি) লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ঐ দিন উত্তর গোলার্ধে মেরুবিন্দু অর্থাৎ ৯০° উত্তর থেকে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা দিন থাকে।
- এ জন্য ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে উত্তর মেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত নামে অভিহিত করা হয়।

অন্যদিকে,
⇒ কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle):
- ২২ শে ডিসেম্বর তারিখে সূর্য ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখায় (মকরক্রান্তি) লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- উক্ত তারিখে দক্ষিণ মেরু বিন্দু অর্থ্যাৎ ৯০° দক্ষিণ থেকে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা দিন থাকে।
- ফলে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle) নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. নিয়ত বায়ু
  2. অসাময়িক বায়ু
  3. সাময়িক বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ (Movement of Wind): 
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়। 
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল।
- নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
- ঘূর্ণায়মান পৃথিবীপৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
- ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।

• বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা-
- নিয়ত বায়ু,
- সাময়িক বায়ু,
- স্থানীয় বায়ু
- অনিয়মিত বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়?
  1. ক) মেসোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) এক্সোমন্ডল
  4. ঘ) স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল
• বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
• এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়
• ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
• ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
• ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।      
৪০.
পৃথিবীতে কয়টি দেশ আছে যারা অপর দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত?
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৩ টি
  4. ঘ) ৪ টি
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীতে মাত্র তিনটি দেশ আছে যারা অপর একটি দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত।
- দেশগুলো হলো:
১. লেসোথো,
২. সানমারিনো এবং
৩. ভ্যাটিকান সিটি।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৪১.
ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী কোনটি?
  1. সালফার ডাই অক্সাইড
  2. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  3. নাইট্রিক অক্সাইড
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন হলো প্রধান।
 
- ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলেরই অংশ। ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার ওপর থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এ স্তরের বিস্তৃতি।
- ওজোন স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে আটকে দেয়। তাই মানুষসহ পৃথিবীতে প্রাণ টিকে থাকার জন্য ওজোন স্তর খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের ওজোন স্তরে বড় ধরনের ছিদ্র তৈরি হচ্ছে। তখন পৃথিবীতে সিএফসি বা ক্লোরোফ্লোরোকার্বনের (CCl2F2) ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
- সূর্যের আলোয় সিএফসি এর অণু ভেঙে ক্লোরিন আলাদা হয়ে যায়। মুক্ত ক্লোরিন তখন ওজোন গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়ায় ক্লোরিন মনোঅক্সাইড (ClO) ও অক্সিজেন অণু (O2) তৈরি করে। 
- এর ফলে ওজোন স্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়। এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
- এছাড়াও N2O, NO, CH4, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।
 
উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) থিম্পু
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) নয়াদিল্লি
  4. ঘ) মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

২০১৬ সালে সার্কের বর্তমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (SAARC Disaster Management Centre (SDMC) ৪টি আঞ্চলিক সংস্থার সমন্বয়ে পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদরদপ্তর - গুজরাট, ভারত।
৪টি আঞ্চলিক সংস্থা হচ্ছে -
১) সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (নয়া দিল্লী),
২) সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র (ঢাকা),
৩) সার্ক বন কেন্দ্র (থিম্পু) ও
৪) সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (মালে)।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উপরের ৪টি সংস্থাই বিলুপ্ত (২০১৬ সাল থেকে)।
উৎসঃ Live MCQ content (Upcoming) ও সার্ক ওয়েবসাইট।

৪৩.
বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মরুকরণ
  2. ভূমিকম্প
  3. বন্যা
  4. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
ব্যাখ্যা
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো- মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৪.
বাংলাদেশের সর্বপূর্বের উপজেলা কোনটি?
  1. থানচি
  2. তেতুলিয়া
  3. টেকনাফ
  4. শিবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:
- সর্বপূর্বের স্থান : আখাইনঠং।
- উপজেলা : থানচি।
- জেলা : বান্দরবান।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে:
- স্থান : বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা : তেঁতুলিয়া।
- জেলা : পঞ্চগড়।

সর্ব দক্ষিণে:
- স্থান : ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন;
- উপজেলা : টেকনাফ;
- জেলা : কক্সবাজার।

সর্বপশ্চিমে:
- স্থান : মনাকষা;
- উপজেলা : শিবগঞ্জ;
- জেলা : চাপাইনবাবগঞ্জ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৫.
পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের স্থলভাগে বেশিভাগ ভূমিরূপ -
  1. পর্বত
  2. মালভূমি
  3. সমভূমি
  4. পাহাড়
ব্যাখ্যা
⇒ পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের স্থলভাগে বেশিভাগ ভূমিরূপ - সমভূমি।

ভূ-পৃষ্ঠের গঠন: 

- পৃথিবীর ভূমিরূপ সর্বত্র একরকম নয়। স্থলভাগে রয়েছে সুউচ্চ পর্বত, মালভূমি, পাহাড় ও সমভূমি।
- সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ক্রিয়ার ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন হয়।
- ভূমিরূপের পরিবর্তন ক্রিয়া কখনো দ্রুত, কখনো ধীরে ধীরে, আবার কখনো আকস্মিকভাবে ঘটে।
- সাধারণভাবে বৃহত্তর ভূমিরূপের পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষুদ্রতর ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
- স্থলভাগের ভূমিরূপ পর্বত, মালভূমি, সমভূমি।
- পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা ৫৮ ভাগ সমভূমি।
- পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা ১৮ ভাগ পার্বত্য অঞ্চল।
 - পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা ২৪ ভাগ মালভূমি ও পাহাড়।

উল্লেখ্য, 
- মহাসাগর তলদেশের ভূমিরূপ মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি, গভীর সমুদ্রখাত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৪৬.
ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত কতটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলায়।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫ টি রাজ্যের সীমানা রয়েছে।

যথা: 
→ আসাম, 
→ মিজোরাম, 
→ ত্রিপুরা, 
→ মেঘালয়, 
→ পশ্চিমবঙ্গ।

- ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড এই তিনটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ও প্রথম আলো।
৪৭.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান কোনটি?
  1. বারিপাত
  2. বায়ুর আর্দ্রতা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু:
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
 
জলবায়ু:
 - কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো:
- বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা ও বারিপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৮.
ভূ-পৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশেল সংযোগ স্থলকে বলে -
  1. ক) উষা
  2. খ) গোধূলি
  3. গ) গুরুবৃত্ত
  4. ঘ) ছায়াবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• ছায়াবৃত্ত:
- পৃথিবীর আলোকিত এবং অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে ছায়াবৃত্ত বলে।
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়।
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।

উৎস: নবম - দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৪৯.
'Line of Control' যে দু'টি দেশের সীমান্তে অবস্থিত-
  1. ক) ভারত - বাংলাদেশ
  2. খ) ভারত - পাকিস্তান
  3. গ) উত্তর কোরিয়া - দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ঘ) পাকিস্তান - আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সীমারেখা:
 
- লাইন অব কন্ট্রোল : পাকিস্তান ও ভারত
- LAC (Line of Actual Control) : চীন ও ভারত
- গ্রিন লাইন : ইসরাইল ও জর্ডান/ফিলিস্তিন
- ব্লু লাইন : ইসরাইল ও লেবানন।

(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৫০.
SMOG হচ্ছে -
  1. ক) ঘন কুয়াশা
  2. খ) দূষিত বাতাস
  3. গ) ধোঁয়া
  4. ঘ) কালো ধোঁয়া
ব্যাখ্যা
'SMOG' অর্থ দূষিত বাতাস। Smoke এবং Fog এর সমন্বয়ে SMOG শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে।

Smog, community-wide polluted air. Its composition is variable.
- The term is derived from the words smoke and fog, but it is commonly used to describe the pall of automotive or industrial origin that lies over many cities.
- The term was probably first used in 1905 by H.A. Des Voeux to describe atmospheric conditions over many British towns.

[source: britannica.com]
৫১.
নিম্নের কোন পর্বতমালা ইউরোপে সর্বাধিক বিস্তৃত?
  1. আল্পস পর্বতমালা
  2. আন্দিস পর্বতমালা
  3. রকি পর্বতমালা
  4. অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালা। 
ব্যাখ্যা

- ইউরোপের দীর্ঘতম পর্বতমালা আল্পস পর্বতমালা। এটিই ইউরোপে সর্বাধিক বিস্তৃত।

• আল্পস পর্বতমালা:

- আল্পস পর্বতমালা ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা।
- অবস্থান: দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার। 

৫২.
নীল নদ কোন সাগরে পতিত হয়ছে? 
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. আরব সাগর
  3. লোহিত সাগর
  4. কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা

• নীল নদ:
- নীল বিশ্বের দীর্ঘতম নদী।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে মিশরের নীল নদের উৎপত্তি। 
- এটি বিষুবরেখার দক্ষিণ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়।
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার (৪,১৩২ মাইল)।
- নীল অববাহিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশ:তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।
- নীল নদের সর্বাধিক দূরবর্তী উৎস হল কাগেরা নদী, যা বুরুন্ডিতে অবস্থিত।
- নীল নদ আফ্রিকার অর্থনীতি ও কৃষিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে, বিশেষত মিশরের সভ্যতার বিকাশে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-‘মিশর নীল নদের দান’ বলেছেন - ইতিহাসের জনক ‘হেরোডোটাস’।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।  

৫৩.
কোন নদীতে জোয়ার ভাটা হয় না?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) গোমতী
ব্যাখ্যা

যেসব নদী সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত নয়, সেসব নদীতে জোয়ার-ভাটা হয় না। সমুদ্রের পানি পূর্ণিমায় চাঁদের আকর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠে তার সংযুক্ত নদীতে পানি প্রবাহিত করে। ফলে নদীতে নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।
 - কুমিল্লার গোমতী নদীতে জোয়ার-ভাটা নেই। 
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো

৫৪.
নিচের কোন সমুদ্রবন্দরটি কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত?
  1. ক) ভ্লাডিভস্তক
  2. খ) সেন্ট পিটার্সবার্গ
  3. গ) সেভাস্তাপুল
  4. ঘ) রটারডাম
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে সেভাস্তাপুল সমুদ্রবন্দর কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত। এটি রাশিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপে অবস্থিত। সেভাস্তাপুল কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌবহরের সবচেয়ে বড় ঘাটি।

অন্যদিকে,
- নেদারল্যান্ডের রটারডাম সমুদ্রবন্দর উত্তর সাগরের তীরে অবস্থিত।
- সেন্ট পিটার্সবার্গ সমুদ্রবন্দর (রাশিয়া) বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত।
- ভ্লাডিভস্তক হলো প্রশান্ত মহাসাগরে রাশিয়ার প্রধান সমুদ্রবন্দর।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস এবং ব্রিটানিকা)
৫৫.
পৃথিবীর মোট আয়তনের শতকরা কতভাগ বনাঞ্চল?
  1. ক) ৩৭.৮০ শতাংশ
  2. খ) ৩০.৬০ শতাংশ
  3. গ) ২৫.৫০ শতাংশ
  4. ঘ) ১৯.৫০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে বনভূমির পরিমাণ ৩০.৬ শতাংশ।
১৯৯০ সালে এর পরিমাণ ছিলো ৩১.৬ শতাংশ যা ২০১০ সালে ৩০.৮ শতাংশে হ্রাস পায়।
এককভাবে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায় (প্রায় ৮১.৫ লক্ষ বর্গ কিমি)।
সূত্রঃ FAO ওয়েবসাইট।

৫৬.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কোন রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ?
  1. আসাম
  2. মেঘালয়
  3. মিজোরাম
  4. পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা

পশ্চিমবঙ্গ: 
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- এই সীমান্ত বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ জেলার সাথে সংযুক্ত, যেমন রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা, এবং দিনাজপুরের  এলাকা। 
- পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সীমান্তের কারণে এটি দীর্ঘতম হিসেবে বিবেচিত।


• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত: 
- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। যথা: 
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম। 
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। 
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার। 
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড।

৫৭.
জোয়ার ভাটার মরাকটাল কখন হয়?
  1. অমাবস্যার তিথিতে
  2. অষ্টমী তিথিতে
  3. পূর্ণিমার তিথিতে
  4. পঞ্চমী তিথিতে
ব্যাখ্যা

- পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- এ সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের জন্য জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে। ফলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় একে তেজকটাল বলে।
- অষ্টমীর তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়।
- চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়।

৫৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে?
  1. নেত্রকোনা
  2. শেরপুর
  3. কুমিল্লা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
চীনামাটি:
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের কর্দম; প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
বাব এল-মান্দেব প্রণালী কোন দুটি সাগরকে সংযুক্ত করেছে? 
  1. কোরিয়ান সাগর ও চীন সাগর 
  2. লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
  3. ভূমধ্যসাগর ও উত্তর সাগর
  4. আটলান্টিক ও ক্যারিবিয়ান সাগর
ব্যাখ্যা

বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী।
- যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।

- প্রণালিটি আরব উপদ্বীপে অবস্থিত ইয়েমেন এবং আফ্রিকার অন্তরীপে অবস্থিত জিবুতি, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়াকে পৃথক করেছে।

• প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।
- পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ 'কান্নার দ্বার'।

অন্যদিকে,
- জিব্রাল্টার প্রণালি: আফ্রিকা থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- বেরিং প্রণালি: এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে।
- বসফরাস প্রণালি: এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

উৎস: World Atlas.

৬০.
নিম্নে উল্লেখিত ভূমিরূপসমূহের মধ্যে কোনটি হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত?
  1. ক) পার্শ্ব গিরিখাত
  2. খ) ভি-আকৃতির উপত্যকা
  3. গ) কঠিন শিলাস্তর
  4. ঘ) ইউ-আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা

হিমবাহের ক্ষয় সাধনের ফলে অনেক নতুন নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রকার হিমবাহের
বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় সাধনের ফলে নিম্নোক্ত ক্ষয়জাত ভূমিরূপের সৃস্টি করে :
১) হৈমবাহিক উপত্যকা (ইউক আকৃতির উপত্যকা - Glaciated Valley)
২) ঝুৃলন্ত উপত্যকা
৩) সার্ক বা কোরি
৪) এরিটি ও পিরামিডীয় শৃঙ্গ
৫) নুনাট্যাক
৬) রসে মতানো
৭) হিমসিড়ি ও প্যাটার্নস্টার হ্রদ
৮) শৈলময় পর্বত ও অনিয়মিত প্রস্তরখন্ড
৯) ক্রিভাসেস
১০) ঢিবি ও পুচ্ছ
১১) দানবীর সিঁড়ি
১২) ফিয়র্ড
১৩) কর্তিত স্পার
সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই।

৬১.
‘লা-নিনা’ কোন ভাষার শব্দ এবং এর দ্বারা কী বোঝায়?
  1. মালয়েশীয় : বিপৎসংকেত
  2. স্প্যানিশ : বৃষ্টিপাত ও বন্যা
  3. লাতিন : শৈত্যপ্রবাহ
  4. গ্রিক : খরা ও ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
‘লা-নিনা’ স্প্যানিশ শব্দ এবং এর দ্বারা বোঝায় বৃষ্টিপাত ও বন্যা।

লা নিনা:

- লা-নিনা (La Lina) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে।
- ‘লা-নিনা’ শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ।
- লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
- দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।
- লা-নিনার স্থায়ীত্ব ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।
- সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়।
- দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।

উৎস: i) National Oceanic and Atmospheric Administration.
ii) BBC.
৬২.
গ্রিনিচ মান মন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. প্যারিস, ফ্রান্স
  2. রোম, ইতালি
  3. লন্ডন, যুক্তরাজ্য
  4. বার্লিন, জার্মানি
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে ।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩.
বাংলাদেশে কোন সালে 'পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ আইন' প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ:
- ২০০২ সালে প্রণীত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী দেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২ অনুযায়ী -
- সকল বা যে কোন প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরী অন্য কোন সামগ্রী বা অন্য যে কোন সামগ্রী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এইরূপ সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানী, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিবার বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শতাধীনে ঐ সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২।

৬৪.
নিম্নের কোন অঞ্চলে প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায়?
  1. ভাওয়ালের গড়
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  3. সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
'শালগাছ' নিচের কোনটিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরিতে
  2. বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি নির্মাণে
  3. নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ।
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- তারপর বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।
- গড়ন ও আকৃতির কারণে শালগাছের পাতা আলাদাভাবেই চেনা যায়।

⇒ ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

⇒ ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৬.
প্যানজিয়া কী?
  1. ক) প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর মালভূমি।
  2. খ) প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর একক মহাদেশ।
  3. গ) প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর একক পর্বতমালা।
  4. ঘ) প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর একটি বিখ্যাত স্থাপনা।
ব্যাখ্যা
• প্যানজিয়া:
- প্যানজিয়া প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর একটি একক মহাদেশ
- এটি প্যানথালাসা নামক একটি মাত্র মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত ছিল।
- আজ থেকে ১১০ কোটি বছর পূর্বেও পৃথিবীতে একটি মাত্র মহাদেশ ছিল।
- মহাদেশগুলো টেকটোনিক প্লেটের উপর অবস্থিত যারা চলমান।
- এই গতি রোডেনিয়ার ভগ্নাংশগুলোকে আবার একত্র করে প্রায় ৩০ কোটি বছর পূর্বে গঠন করেছিল প্যানজিয়া।
- তবে এটি পুরোপুরি গঠিত হয় আনুমানিক ২৭ কোটি বছর পূর্বে।

উৎস:ব্রিটানিকা।
৬৭.
এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র কোনটি ?
  1. হালদা নদী
  2. চলনবিল
  3. হাকালুকি হাওর
  4. হাইল হাওর
ব্যাখ্যা

এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী ।

-হালদা নদী (Halda River) পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।

-কালুরঘাটের কাছে এটি কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে। 

-এর মোট দৈর্ঘ্য ৮০.৪৫ কিমি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৮.
কখন সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) রাত্রিতে
  2. খ) মধ্যাহ্নে
  3. গ) অপরাহ্ণে
  4. ঘ) সকালে
ব্যাখ্যা

- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত হয়। ফলে এ সময় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
- এ বায়ু সকাল ১০টা থেকে প্রবাহিত হতে থাকে।
- বিকালে (অপরাহ্ণে) এ বায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
- রাত ৩টায় স্থলবায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়কে 'পাহাড়ের রানী' বলা হয়?
  1. তাজিংডং
  2. হিমছড়ি
  3. গারো
  4. চিম্বুক
ব্যাখ্যা
• চিম্বুক পাহাড়:
- চিম্বুক পাহাড় অবস্থিত বান্দরবান জেলায়।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকের পরিচিত অনেক পুরনো। পাহাড়ের এই দৃশ্যটি অতি চমৎকার। এ পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।
- এটিকে কালাপাহাড়ও বলা হয়।
- এটিকে বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী বলা হয়।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।
৭০.
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পাহাড়সমূহ কোন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিন যুগের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  4. উপকূলীয় অঞ্চলের পাহাড়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কৃষিকাজের জন্য উপযোগী নয়।
- তবে স্থানীয় অধিবাসীগণ সীমিত পরিসরে জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
বাংলাদেশের কোথায় প্লাইসটোসিন কালের সোপান দেখা যায়?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) টাংগাইল
ব্যাখ্যা
ভু-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং 
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত। আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।

২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ: আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
• দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি,মধ্যভাগের টাংগাইলের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। 
 
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
‘নাথু লা পাস’ কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. ভারত-চীন
  2. ভারত-নেপাল
  3. চীন-নেপাল
  4. ভারত-ভুটান
ব্যাখ্যা
নাথু লা পাস:
- নাথু লা পাস ভারত ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি চীন ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত একটি গিরিপথ।
- মূলত এটি তিব্বত ও সিকিম সীমান্তে অবস্থিত।

⇒ এটি চীনের পুরাতণ সিল্ক রোডের একটি অংশ।
- এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪,৪৫০ ফুট উপরে অবস্থিত।
- বর্তমানে চীন-ভারতের বাণিজ্যের অন্যতম রুট হিসাবে এই গিরিপথটি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: সিকিমের সরকারি ওয়েবসাইট।
৭৩.
নিম্নের কোনটি 'hydro-meteorological' দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. বন্যা
  2. ভূমিধস
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত: Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭৪.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কত?
  1. ১০০০-২১০০ মি.মি.
  2. ১২০০-২৫০০ মি.মি.
  3. ১৭০০-২৫০০ মি.মি.
  4. ১৩০০-২৩০০ মি.মি.
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য :
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়। এই বনাঞ্চলে সেগুন, মেহগনি, রাবার ইত্যাদি গাছ জন্মে।
গভীর এই বনাঞ্চলে সহজে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না বলে গাছগুলো সূর্যালোক পাওয়ার জন্য উঁচু হয়।
- অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং শান্ত বলয় বিরাজমান থাকে। ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
- এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
বিশ্বের উষ্ণতম স্থান কোনটি?
  1. সাহারা মরুভূমি
  2. ডেথ ভ্যালি
  3. দালোল
  4. দাস্ত-ই-লুত
ব্যাখ্যা
ডেথ ভ্যালি:
- বিশ্বের উষ্ণতম স্থান ডেথ ভ্যালি।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত।
- এটি উত্তর আমেরিকার সর্বনিম্ন বিন্দু।
- ডেথ ভ্যালি প্রায় ১৪০ মাইল (২২৫ কিমি) দীর্ঘ।
- উপত্যকাটি পশ্চিমে প্যানামিন্ট রেঞ্জ দ্বারা এবং পূর্বে অমরগোসা রেঞ্জের কালো এবং গ্রেপভাইন পর্বত দ্বারা আবদ্ধ।
- এটি গ্রেট বেসিন এবং মোজাভে মরুভূমির মধ্যে অনির্ধারিত সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
- এটি উষ্ণতম এবং শুষ্ক অঞ্চল।

উল্লেখ্য,
-  ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই, ডেথ ভ্যালির ফার্নেস ক্রিক এলাকায় ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

উৎস: i) BBC Science Focus. [link]
ii) Guinness World Records. [link]
৭৬.
গারো পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. কক্সবাজার
  3. ময়মনসিংহ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।
- গারো পাহাড়ের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমে রয়েছে আসাম এবং পূর্বে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়।
- গারো পাহাড় মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারোখাসি পাহাড়শ্রেণীর অন্তর্গত, মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এখানে অবস্থিত।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের ওয়েবসাইট।
৭৭.
যমুনা নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. বোয়ালখালী
  2. পুবর্ভবা
  3. হালদা
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna):
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৮.
নিচের কোনটি 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০' এর নির্দিষ্ট অভীষ্ট নয়?
  1. দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
  2. ভূমি ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার
  3. পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধি
  4. জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০: 

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে প্রাথমিকভাবে একুশ শতকের শেষের দিকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপের সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত রূপকল্প প্রণয়নের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, একটি সমন্বিত, বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি ব-দ্বীপ রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:
• রূপকল্প: “নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা”।

• অভিলক্ষ্য:  “দৃঢ়, সমন্বিত ও সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল কার্যকরী কৌশল অবলম্বন এবং পানিসম্পদ 66 ব্যবস্থাপনায় ন্যায়সঙ্গত সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলা করে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ”।

এ দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য এটিকে নির্দিষ্ট অভীষ্ট বা লক্ষ্যে রূপান্তর করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ফলাফল হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন, পানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমানো এবং তার সাথে পরিবেশগত সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা যুক্ত করে এটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করা যায়।

• অভীষ্ট: ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে উচ্চতর পর্যায়ের ৩টি জাতীয় অভীষ্ট এবং ব-দ্বীপ সংশ্লিষ্ট ৬টি নির্দিষ্ট অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ব-দ্বীপ সংশ্লিষ্ট অভীষ্টসমূহ উচ্চতর পর্যায়ের অভীষ্ট অর্জনে অবদান রাখবে।

• উচ্চ পর্যায়ের অভীষ্ট: 
- অভীষ্ট ১: ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ;
- অভীষ্ট ২: ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন; এবং
- অভীষ্ট ৩: ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জন।

• ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০'র নির্দিষ্ট অভীষ্টসমূহ: 
- অভীষ্ট ১: বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
- অভীষ্ট ২: পানির নিরাপত্তা এবং পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধি করা;
- অভীষ্ট ৩: সমন্বিত ও টেকসই নদী অঞ্চল এবং মোহনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা;
- অভীষ্ট ৪: জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং তাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা;
- অভীষ্ট ৫: অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও ন্যায়সঙ্গত সুশাসন গড়ে তোলা; এবং
- অভীষ্ট ৬: ভূমি ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ ব দ্বীপ পরিকল্পনা (সরকারি ওয়েবসাইট)। 
৭৯.
কোন জলরাশির চারদিক স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত থাকে?
  1. নদী
  2. সাগর
  3. হ্রদ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
• আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
১। মহাসাগর (Ocean),
২। সাগর (Sea),
৩। উপসাগর (Bay),
৪। হ্রদ (Lake)।

মহাসাগর (Ocean):
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে।
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- যথা:
১/ প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean),
২/ আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean),
৩/ ভারত মহাসাগর (Indian Ocean),
৪/ উত্তর মহাসাগর (North Ocean),
৫/ দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 

সাগর (Sea):
- সাগর হচ্ছে মহাদেশের উপকূলভাগে মহাসাগরের প্রান্তে অবস্থিত জলভাগ, যা প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি দ্বারা মহাসাগর থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
- সংক্ষেপে মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তন বিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে।
- যেমন- জাপান সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, লোহিত সাগর, ভূ-মধ্যসাগর।

উপসাগর (Bay):
- শুধুমাত্র একদিকে জল এবং বাকী তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত জলরাশিকে উপসাগর (Bay) বলে। যেমন:
- যেমন- মেক্সিকো উপসাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর ইত্যাদি।

হ্রদ (Lake):
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে।
- যেমন- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
বরেন্দ্রভূমির ছোট বিনুনী আকৃতির নদীগুলো কি নামে পরিচিত?
  1. ক) লোয়ার
  2. খ) সোপান
  3. গ) খাড়ি
  4. ঘ) অনুচ্চ শৈলশিরা
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি: দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত।
এর আয়তন ৯,২৮৮ বর্গকিলোমিটার বা ৩৬,০০বর্গমাইল। বরেন্দ্রভূমি প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু।
সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলটি পুনর্ভবা, আত্রাই ও যমুনা নদী দ্বারা চারটি অংশে বিভক্ত। মাটির রং লালচে হলুদ। বরেন্দ্রভূমির ছোট বিনুনী আকৃতির নদীগুলো খাড়ি নামে পরিচিত। 

সুত্র: ভুগোল ও পরিবেশ (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৮১.
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব কোন দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে? 
  1. নরওয়ে
  2. ফিনল্যান্ড
  3. সুইডেন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যথা-কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ  আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
- এসব অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে, এটা তাদের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- তবে বিপরীতভাবে, এই পরিবর্তন পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
- বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উপকূলবর্তী বহু দেশে ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের অনেক বিখ্যাত উপকূলবর্তী শহর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- ফলে জলবায়ু পরিবর্তন একদিকে কিছু দেশের জন্য উপকার আনলেও, অধিকাংশ দেশের জন্য এটি গুরুতর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৮২.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমণ্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) আয়নমন্ডল
ব্যাখ্যা
• আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

অন্যদিকে, 
• বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি সকল কিছুই ট্রপোমণ্ডলে সংঘটিত হয়।
• স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
• ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি বায়ুমণ্ডেলের কোন স্তরে শুষে নেয়?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
•এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
• এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet rays) শুষে নেয়।
• ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
• এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
• ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
•  প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৮৪.
কোন কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে?
  1. গেওয়া
  2. গরান
  3. গর্জন
  4. কেওড়া
ব্যাখ্যা
শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:
কাগজ শিল্প:
- রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

নিউজপ্রিন্ট কারখানা:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।

দিয়াশলাই শিল্প:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে।
- এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

রেয়ন শিল্প:
- চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

পরিবহন শিল্প:
- বনভূমি থেকে প্রাপ্ত গর্জন, সেগুন, চাপালিশ, প্রভৃতি গাছের কাঠ রেলথের স্লিপার, রেলগাড়ির বগি, লঞ্চ, স্টিমার, নৌকা, বাস ও ট্রাকের বডি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, রাস্তার পুল ইত্যাদি তৈরি করতে প্রয়োজন।

ভেষজ শিল্প:
- বনের গাছ-গাছড়া, লতাপাতা, মধু, প্রভৃতির উপর নির্ভর করে ভেষজ শিল্প গড়ে উঠেছে।

চামড়া শিল্প:
- সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা দ্বিতীয় পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৯° এবং ১১°
  2. ৩৪° এবং ২১°
  3. ২৭° এবং ২০°
  4. ৩২° এবং ১১°
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
→ বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° এবং ১১° সেলসিয়াস।
→ এদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা ২৭° থেকে ৩২.২° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন গড় উষ্ণতা ১৩.২° থেকে ২১° সেলসিয়াস।
→ বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬.
যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. বায়ুর আর্দ্রতা
  3. বায়ুর তাপ
  4. বায়ু চাপ
ব্যাখ্যা
বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ: 
- বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।
- বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
-বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহের ধরনের ভিন্নরূপের কারণে (ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী) পৃথিবীর সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তে আবহাওয়া ও জলবায়ুতে পার্থক্য তৈরি হয়।
- একেক স্থানের বায়ুপ্রবাহের একেক মাত্রার জলীয়বাষ্পের উপস্থিতির কারণেই বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশার মত ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থারও তারতম্য দেখা যায়। সূর্যের তাপ বিকিরণ, তাপ বিচ্ছুরন ও জমি বা মাটির তাপ শোষণ - ক্ষমতাকেও এই বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত করে। যেমন- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র হাওয়া ও ভূমির তাপ শোষণ ক্ষমতায় বায়ু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানা রকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়,ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।
- এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মেক্সিকো
  2. খ) জাপান
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- ভিসুভিয়াস পর্বত (ইতালীয়: Monte Vesuvio, লাতিন ভাষায়: Mons Vesuvius) ইতালির নেপলস উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি।
- নেপলস থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্রউপকূলের খুব কাছে এর অবস্থান।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
৮৮.
বাংলাদেশে মোট কয়টি আন্তঃসীমান্ত নদী প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ৪৭টি
  2. ৫৭টি
  3. ৬৭টি
  4. ৭৭টি
ব্যাখ্যা

আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers):
​​- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে।
​- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে।
​- বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে।
​- আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি নদী ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
​-​ ৫৪ টির মধ্যে ৫১টি নদী বস্তুতঃপক্ষে তিনটি বৃহৎ নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকাভুক্ত।
​- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি।

​উৎস: যৌথ নদী কমিশন। [Link​]

৮৯.
নিচের কোনটি সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা নয়?
  1. খুলনা
  2. বাগেরহাট
  3. পিরোজপুর
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নে পিরোজপুর সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা নয়।

সুন্দরবন:

- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি। 
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, 
[সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি নাকি ৫টি এই বিষয়ে মতানৈক্য আছে, সকল উৎস বিবেচনায় ৩টি জেলাকে অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে অপশনে ৩ না থাকলে ৫ উত্তর করবেন। বিস্তারিত জানতে তথ্যকল্পদ্রুম এর ২৩ নং পোস্ট দেখুন।] 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি ও বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৯০.
ইউরোপের ককপিট বলা হয় কোন দেশকে?
  1. ফিলিস্তিন
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ইতালি
  4. বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
- অসংখ্য উল্লেখযোগ্য যুদ্ধের ইতিহাসের কারণে বেলজিয়ামকে প্রায়ই "ইউরোপের ককপিট" বলা হয়।

বেলজিয়ামে সংঘটিত কয়েকটি প্রধান যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে:
- গোল্ডেন স্পার্সের যুদ্ধ, 
- রামিলিস যুদ্ধ, 
- ম্যালপ্লাকেটের যুদ্ধ, 
- ফন্টেনয়ের যুদ্ধ, 
- ওয়াটারলু যুদ্ধ। 

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৯১.
কোন দুটি দেশের সীমান্ত ‘ওডার-নেইসে লাইন’(Oder–Neisse Line) হিসেবে পরিচিত?
  1. জার্মানি ও ফ্রান্স
  2. জার্মানি ও পােল্যান্ড
  3. ভারত ও পাকিস্তান
  4. জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
Oder–Neisse Line:
- ওডার-নেইসে লাইন হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, আঞ্চলিক সীমান্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে স্থাপিত একটি সীমান্ত।
- এই সীমান্তে জার্মানির অনেক এলাকা পোল্যান্ডের হাতে চলে যায় এবং এটি জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি) এবং সোভিয়েত ব্লকের মধ্যে ১৫ বছর ধরে বিতর্কের বিষয় ছিল।
- ইয়ালটা সম্মেলনে জার্মানি-পোল্যান্ড সীমান্তের ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
- ১৯৫০ সালের পূর্ব জার্মানি ওডার-নেইসে লাইনকে স্থায়ী সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- পশ্চিম জার্মানি ১৯৭০ সালে ওডার-নেইসে লাইনকে বৈধ সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ওডার-নেইসে লাইন (ওডার নদী (Oder River) ও নেইসে নদী (Neisse River) বরাবর) পোল্যান্ডের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে নির্ধারিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ওডার নদী পূর্ব-মধ্য ইউরোপের নদী।
- এটি বাল্টিক সাগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নদীগুলির মধ্যে একটি।
-  এটি পোল্যান্ড এবং জার্মানির মধ্যে সীমানা তৈরি করে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৯২.
দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. মার্চ
  3. এপ্রিল
  4. জুলাই
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere) পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো অবস্থিত।
- এছাড়াও, এই গোলার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশসহ কিছু অঞ্চল রয়েছে।
- এখানকার ঋতু ও জলবায়ু উত্তর গোলার্ধের থেকে ভিন্ন।
- প্রতি বছর ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা ডটকম।

৯৩.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ কী দ্বারা গঠিত?
  1. বেলেপাথর, শেল ও কদম
  2. মার্বেল ও গ্রানাইট
  3. কাদা মাটি
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪.
নিচের কোন এলাকাটি রাস মেলার জন্য বিখ্যাত?
  1. দুবলার চর
  2. সন্দ্বীপ
  3. কুতুবদিয়া
  4. পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
• দুবলার চর:
- চাঁদপাই রেঞ্জের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দুবলার চর।
- কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে দুবলা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
- দুবলার চর মূলত জেলে গ্রাম। 
- সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের সদর দপ্তর বাগেরহাট থেকে মাছ সংগ্রহের পূর্বানুমতিসাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন।
- প্রতি বছর কার্তিক মাসে (খ্রিস্টীয় নভেম্বর) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাস মেলা এবং পূণ্যস্নানের জন্যও দ্বীপটি বিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: খুলনা জেলার ওয়েবসাইট।
৯৫.
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন গ্যাস (Hydrogen Gas) :
- হাইড্রোজেন গ্যাস বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
- এটি সবচেয়ে হালকা মৌল একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত।
- NASA-এর Universe Glossary অনুসারে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সাধারণ পদার্থের (ordinary matter) প্রায় ৭৪% হাইড্রোজেন এবং ২৪% হিলিয়াম দিয়ে গঠিত। বাকি সব মৌল (অক্সিজেন, কার্বন, আয়রন ইত্যাদি) মিলিয়ে মাত্র ২%।
- মহাবিস্ফোরণ (Big Bang)-এর প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বেশিরভাগ হাইড্রোজেন সৃষ্টি হয়।
- সকল নক্ষত্রের (সূর্যসহ) মূল জ্বালানি হাইড্রোজেন। নক্ষত্রের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পরমাণু ফিউশনের মাধ্যমে হিলিয়ামে পরিণত হয়ে বিপুল শক্তি, আলো ও তাপ উৎপন্ন করে।
- আমাদের সূর্যেরও প্রায় ৭৪% উপাদান হাইড্রোজেন।
- ছায়াপথ (Milky Way), নীহারিকা, আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম ও পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য।
- হাইড্রোজেন না থাকলে কোনো নক্ষত্র জ্বলতে পারত না, আলো-তাপের সৃষ্টি হতো না, ছায়াপথ গঠিত হতো না এবং জীবনের কোনো সম্ভাবনাই তৈরি হতো না।

উৎস : NASA Science - Universe Glossary.

৯৬.
ব্রিটিশদের তৈরি মানচিত্রের স্কেল কত?
  1. ক) ১:২৫,০০০ থেকে ১:১০০,০০০
  2. খ) ১:১২০০ থেকে ১:১৪০০
  3. গ) ১:২৮,০০০ থেকে ১:২৬০০
  4. ঘ) ২:২০০ থেকে ১:৩০০
ব্যাখ্যা
সবচেয়ে আদর্শ ও জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রিটিশদের তৈরি করা মানচিত্র যার স্কেল ছিল ১:২৫,০০০ থেকে ১:১০০,০০০ এবং আমেরিকাতে এই মানচিত্রের স্কেল থাকে সাধারণত ১:৬২,৫০০ এবং ১:১২৫,০০০। বাংলাদেশ সাধারণত ব্রিটিশ স্কেলটি অনুসরণ করে। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
৯৭.
পরিমাণের বিবেচনায় বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের অবস্থান -
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) দ্বিতীয়
  4. ঘ) প্রথম
ব্যাখ্যা
- পরিমাণের বিবেচনায় বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের অবস্থান প্রথম।

• বায়ুমন্ডল:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
- যথা: নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ,
• নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
• অক্সিজেন ২০.৭১%,
• আর্গন ০.৮০%,
• জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮.
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত কারণে বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে?
  1. ১৭ মিলিয়ন
  2. ৭০ মিলিয়ন
  3. ৩০ মিলিয়ন
  4. ৩০০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন :
• কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে গড় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। 

♣ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:  
• যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে।
• এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে ।

উৎস:
ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
নিম্নের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেনি?
  1. জামালপুর
  2. মাগুরা
  3. রাজবাড়ি
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি ট্রপিক অব ক্যান্সার নামেও পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০০.
নিচের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) স্ট্রেটাস
  2. খ) সিরাস
  3. গ) কিউম্যুলাস
  4. ঘ) নিম্বাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)