ব্যাখ্যা
উচ্চ পার্বত্যময় এলাকা বায়ুপ্রবাহের পথে বাধা হলে এর প্রভাব জলবায়ুর উপর পরিলক্ষিত হয়৷ যেমন- শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু হিমালয় অতিক্রম করতে পারে না৷ তাই ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মত তত শীতল নয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১ / ৭২ · ১,০০১–১,১০০ / ৭,১৯১
- জাদিপাই ঝর্ণাটি অবস্থান হচ্ছে - বান্দরবান জেলায়।
• জাদিপাই ঝর্ণা:
- জাদিপাই ঝর্ণাকে বলা হয় ঝর্ণার রানি। বাংলাদেশের আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলোর একটি জাদিপাই ঝর্ণা।
- আকৃতিতে দেশের সবচেয়ে বড় না হলেও গঠন আর অবস্থানের ভিত্তিতে এ ঝর্ণা অনন্য, অপরূপা। উঁচু পাহাড় আর চার দিকে সবুজের সমারোহ।
- কেওক্রাডং, জংছিয়া ও জাদিপাই তিন পাহাড়ি ঝিরি একসঙ্গে মিলিত হয়ে জাদিপাই ঝর্ণার সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে কালো পাথর বেয়ে স্বচ্ছ পানির ধারা নিচে নেমে আসে। ঝর্ণাটি পরে মিলিত হয়েছে সাঙ্গু নদীর সঙ্গে।
সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।
⇒ এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবং পার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে।
- তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
⇒ মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে।
- মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়।
- কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।
৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ হলো— প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে। ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দরের উত্তর দিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে (মোংলা বন্দরের বেলায় পশ্চিম দিক দিয়ে)।
১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের অর্থ প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্দরের আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকবে এবং ঘূর্ণিঝড়টি বন্দরের খুব কাছ দিয়ে, অথবা ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
১১ নম্বর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেতের অর্থ হচ্ছে— ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তার বিবেচনায় চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Source:banglatribune
ফুজিতা স্কেল:
- ফুজিতা স্কেল (Fujita Scale), যা F-স্কেল হিসেবেও পরিচিত, এটি টর্নেডোর তীব্রতা এবং ক্ষতির স্তরের জন্য ব্যবহৃত একটি স্কেল।
- ১৯৭১ সালে জাপানি আবহাওয়াবিদ তাতসুয়া থিওডোর ফুজিতা (Tetsuya Theodore Fujita) এটি তৈরি করেছিল।
- এই স্কেলটি টর্নেডোর শক্তি এবং তার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করে।
- ফুজিটা স্কেল বাতাসের শক্তি এবং ক্ষতির ক্ষয়ক্ষতি স্থাপনের চেষ্টা করে।
- ফুজিটা স্কেলে টর্নেডোগুলিকে F0 থেকে F5 পর্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যেখানে F0 হলো সবচেয়ে দুর্বল এবং F5 হলো সবচেয়ে শক্তিশালী।
⇒ টর্নেডো:
- টর্নেডো এক ধরনের ঝড়, যা বায়ুস্তম্ভের আকারে সৃষ্ট প্রচণ্ড বেগে ঘূর্ণায়মান ঝড় যা মেঘ (সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস, ক্ষেত্রবিশেষে কিউমুলাস) এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত থাকে।
- টর্নেডোর আকৃতি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি দৃশ্যমান ঘনীভূত ফানেল আকৃতির হয়, যার চিকন অংশটি ভূপৃষ্ঠকে স্পর্শ করে এবং এটি প্রায়শই বর্জ্যের মেঘ দ্বারা ঘিরে থাকে।
- সাধারণত কোন স্থানে নিম্নচাপ বা লঘুচাপ সৃষ্টি হলে ওই স্থানের উষ্ণ বাতাস উপরের দিকে উঠে যায় এবং তখন ওই শূন্য জায়গা পূরণের জন্য চারদিকের শীতল বাতাস দ্রুত বেগে ধাবিত হয়।
- কালবৈশাখীর মতো এভাবেই টর্নেডোর উৎপত্তি হয়। তবে কালবৈশাখীর মতো বজ্রঝড়ের সাথে আবহাওয়ার আরও কিছু উপাদান যোগ হয়ে তৈরি হয় এ টর্নেডো।
- এটি মূলত স্থলভাগে তৈরি হওয়া একটি বায়ুচাপ যা প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকে এবং খুব স্বল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকে।
- টর্নেডোর বায়ুপ্রবাহ হচ্ছে ঘূর্ণন এবং বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগের জন্যই এর ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি।
- বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টর্নেডো দেখতে সরু ফানেলের মতো হয়, যার চিকন অংশটি ভূমি স্পর্শ করে। যদিও টর্নেডো বিভিন্ন আকার কিংবা আকৃতির হতে পারে।
- শীতের শেষ থেকে বর্ষার শুরু এই সময়টাতেই টর্নেডো হানা দেয় বেশি। কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। তবে অধিকাংশই স্থায়ী হয় মিনিট দশেক।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঞ্চলে টর্নেডো বেশি হয়ে থাকে।
- অনেক সময় একটি টর্নেডো থেকে একাধিক টর্নেডো তৈরি হতে পারে যাকে টর্নেডো পরিবার বলা হয়।
উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
- বাংলাদেশের আশপাশে অবস্থিত প্রধান টেকটোনিক প্লেটগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট।
- বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটে।
- এই প্লেটের দুপাশে রয়েছে ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মিজ সাব-প্লেট।
• টেকটোনিক প্লেট:
- ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে।
- প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।
- দেশের ভেতরে ও সীমানা ঘিরে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ার মতো একাধিক ফাটলরেখা (টেকটোনিক প্লেট বাউন্ডারি চ্যুতি বা পিবিএফ) রয়েছে।
- বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটে।
- এই প্লেটের দুপাশে রয়েছে ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মিজ সাব-প্লেট।
- বাংলাদেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বে ওই দুটি প্লেটের প্রান্তসীমা।
-এই প্লেটগুলোর প্রান্তবর্তী অধিকাংশ ফাটলরেখাই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে কিংবা সংলগ্ন এলাকায়।
- ফলে এসব ফাটলরেখায় বড় কোনো ভূমিকম্পের সৃষ্টি হলে দেশের মধ্যে তার প্রভাব বিধ্বংসী হবে।
তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর আয়তন ৩৪ বর্গকিমি।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সীমানা (Boundary):
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
অন্যদিকে,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• হায়লি গুব্বি:
- ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আফার অঞ্চলে অবস্থিত হায়লি গুব্বি নামের আগ্নেয়গিরিটি অবস্থিত।
- এটি প্রায় ১২ হাজার বছর ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল
উল্লেখ্য,
- ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত থাকা একটি আগ্নেয়গিরিতে গত ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ সালে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
- এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ছাইয়ের বিশাল মেঘ লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন, ওমান ও এমনকি ভারতের কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে।
উৎস: প্রথম আলো।
বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ:
- বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।
- বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়।
- বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়।
- ক্ষমতাকেও এই বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত করে। যেমন- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র হাওয়া ও ভূমির তাপ শোষণ ক্ষমতায় বায়ু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণে নানারকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের শক্তি দ্বারাই বায়ু ঘূর্ণনযন্ত্র চালিত হয়, ফলে পৃথিবীব্যাপি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্নোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে।
- এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়।
তথ্যসূত্র - ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ভোলা সাইক্লোন বা গোর্কি:
- বাংলাদেশের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় 'ভোলা সাইক্লোন বা গোর্কি' ১৯৭০ সালে আঘাত হেনেছিল।
⇒ ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় "ভোলা" সাইক্লোন বা গোর্কি।
- প্রলয়ংকরী এ ঘূর্ণিঝড়টি মূহুর্তেই ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসে ফুলে ফেপে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। পানির প্রবল স্রোত, ঝড়ের হিংস্রতা আর কালো মেঘের পেট থেকে নিক্ষিপ্ত বজ্রপাতে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিলো উপকূলীয় ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোর প্রতিটি জনপদ।
- ওই সময়ে পুরো উপকূলজুড়ে ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিলো। এর মধ্যে শুধু ভোলাতেই লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
- তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে দ্বীপ জনপদ ভোলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা নোয়াখালী উপকূলে। সেইসময় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় নোয়াখালী উপকূলের রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এবং পটুয়াখালীর জনপদ।
- জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী,"ভোলা সাইক্লোন" পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম প্রাণঘাতী একটি ঘূর্ণিঝড়।
- তথ্য অনুযায়ী, এটি ১৯৭০-এর উত্তর ভারতীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের ৬ষ্ঠ ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। এ ঘূর্ণিঝড়ে ১৫ থেকে ২৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়ে ধংসযজ্ঞে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য,
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ বাংলাদেশ।
- গ্রীষ্মকালে কিউমুলাস মেঘের কারণে বাংলাদেশ ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টিপাত নিয়মিত ঘটনা। তবে এপ্রিল- মে মাসে সমুদ্রে যে লঘুচাপগুলো সৃষ্টি হয়, তার মধ্য দু’একটি মূলত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
- তবে বছরের শেষভাগের ঘূর্ণিঝড়গুলো অনেক বেশী শক্তিশালী আর বিধ্বংসী হয়ে থাকে।
- ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ও ছিলো বেশ বিধ্বংসী। এই ঝড় বয়ে যায়, যশোর, কুষ্টিয়া আর ফরিদপুরসহ বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশকিছু জেলার ওপর দিয়ে। সেসময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার৷ এই ঘূর্ণিঝড়ে মারা যায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ।
- ১৫ নভেম্বর ২০০৭। এদিন বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আঘাত হানে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় সিডর। আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
উল্লেখ্য,
- দেশের প্রথম সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে সরকার ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর ‘দ্য সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করে।
- এটি তিমি, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ, হাঙর ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
- বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এবং সামুদ্রিক মত্স্যসম্পদ অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের প্রধান দুটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার বিস্তৃত জলসীমার পরিমাণ ২৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর (২ হাজার ৪৩৬ বর্গকিলোমিটার), যা দেশের মোট সামুদ্রিক জলসীমার প্রায় ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বণিক বার্তা।
- মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO- Space Research and Remote Sensing Organisation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।
•মহাসাগর (Oceans):
- ভূপৃষ্ঠের বিশাল, বিস্তৃত, সুগভীর ও লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে।
- পৃথিবীর প্রায় ৭১% জায়গা জুড়ে রয়েছে এ মহাসাগর।
- পৃথিবীর মহাসাগরসমূহের জলরাশির আয়তন প্রায় ১.৩৩২ বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার।
- প্রতিটি মহাসাগরের তলে রয়েছে বিশাল বিশাল পর্বতমালা, বিস্তীর্ণ অববাহিকা এবং উপত্যকা।
- মহাসাগর শব্দটি এসেছে গ্রীক 'ওকিয়ানোজ' শব্দ থেকে।
- জলভাগের মোট আয়তন ৩৬১,৪১৯,০০০ বর্গ কিলোমিটার (৭০.৯%)।
- এবং মহাসাগরসমূহের আয়তন ৩৩৫,২৫৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
• পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর রয়েছে-
১. প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean);
২. আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean);
৩. ভারত মহাসাগর (Indian Ocean);
৪. দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean);
৫. উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean)।
উৎস: ¡) National Geography.[Link]
¡¡)ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
স্ক্যান্ডেনেভিয়ান ও নর্ডিক দুটিই উত্তর ইউরোপের বিশেষ অঞ্চল। মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতির প্রকৃতি - এসব কিছুতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক সামঞ্জস্য বিদ্যমান ও ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটাই ভিন্ন।
স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলঃ (৩টি দেশ) - নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক। উল্লেখ্য, এসকল দেশের যে বিশেষ অঞ্চল রয়েছে, সেগুলোও এই স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের অন্তর্গত।
নর্ডিক অঞ্চলঃ (৫টি দেশ) - ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ে।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও Live MCQ content (upcoming)।
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হলো ২০৩ সেন্টিমিটার।
- মাস অনুসারে জুলাই মাসে সর্বাধিক (৫২৩.০ মি.মি.) এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন (৯ মি.মি.) বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
তাছাড়া,
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা - রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা - সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান - লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান - শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস - এপ্রিল।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাপিডিয়া।
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
খনিজ সম্পদ:
- বিশ্বের যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে খনিজ সম্পদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ না হলেও যেটুকু খনিজ সম্পদ রয়েছে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- খনিজ সম্পদসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, কয়লা, কঠিন শিলা, চুনাপাথর, নুড়িপাথর প্রভৃতি।
- দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহারের শতকরা ৭১ ভাগ পূরণ করে প্রাকৃতিক গ্যাস।
- খনিজ তেল পরিশোধন করে ডিজেল, কেরোসিন প্রভৃতিতে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়।
- প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলো বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন- চুনাপাথর সিমেন্ট শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে খনিজ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত।
- এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৫০–৬৫ কিলোমিটার দূরে।
- এই কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে চালু হয়।
- বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬৭০.৬ মিটার এবং উচ্চতা ৪৫.৭ মিটার।
- বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট এবং ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি স্পীলওয়ে রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।
- এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• বাকল্যান্ড বাঁধ:
- বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
- ১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন।
- নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
- সর্বসাধারণের চাঁদায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল।
- এ প্রকল্পের জন্য প্রথম চাঁদাদাতাদের মধ্যে ছিলেন খাজা আব্দুল গণি এবং ভাওয়াল জমিদার কালীনারায়ণ রায়।
- ১৮৭০ সালে খাজা আব্দুল গণি ওয়াইজ ঘাট থেকে পশ্চিমদিকের এবং বাবু রূপলাল দাস ও রঘুনাথ দাস নর্থব্রুক হলের কাছ থেকে পূর্বদিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এইভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মিত হয় এবং পরবর্তীকালে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মিউনিসিপ্যালিটির কাছে হস্তান্তরিত হয়।
উল্লেখ্য,
- সদরঘাট (Sadarghat) বাংলাদেশের ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নদী বন্দর
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ রাশিয়া।
কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ব্রাজিল যথাক্রমে ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বৃহত্তম দেশ।
জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ চীন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস
অনেকের কনফিউশন হতে পারে তাই বিস্তারিত আলোচনা করা হলঃ
World Bank Data Center এবং ওয়ার্ল্ড এটলাসের সূত্রমতে, শুধু স্থলভাগের আয়তনের (Land area) হিসাবে চীন আয়তনে তৃতীয়।
কিন্তু জল-স্থল (Water & Land area) হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয়।
কয়েকটা ব্যাপার,
বাংলাদেশের আয়তন : ১৪৭,৫৭০ বর্গকিমি (ভূমি : ১৩৩,৯১০ বর্গকিমি, জলজ : ১০,০৯০ বর্গকিমি)
সুত্রঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
আমরা যে আয়তন জানি সেটা Land and Water মিলিয়ে Total Surface Area.
World Bank অনুসারেঃ
Total Surface area of United States: 9,831,510 (square km)
Total Surface area of China: 9,562,910 (square km)
ওয়ার্ল্ড এটলাসের সূত্রমতেঃ
United States - 9,833,517
China - 9,596,961
এছাড়াও বলে রাখা প্রয়োজন যে, ভৌগোলিক ব্যাপারগুলোর জন্য ওয়ার্ল্ড এটলাস ব্রিটানিকা থেকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।
আশা করি আর কোন কনফিউশন থাকবে না।
তিব্বত মালভূমি:
- পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি তিব্বত মালভূমি।
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ সমভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমি প্রায়ই পর্বতবেষ্টিত হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বতীয় মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল উচ্চভূমি।
- তিব্বতীয় মালভূমির আয়তন প্রায় ২,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫,০০০ বর্গমাইল)।
- এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩,০০০ - ১৫,০০০ ফুট (৪,০০০ - ৫,০০০ মিটার) উঁচু।
⇒ তিব্বত মালভূমির উত্তরে রয়েছে ‘কুনলুন’ পর্বত এবং দক্ষিণে হিমালয়; পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতমালা; পূর্বে হেংতুয়ান পর্বতমালা।
- এখানে আরও রয়েছে গাংদেস পর্বতমালা - নাইনকেন তাংগুলা পর্বতমালা এবং এর শাখা।
উৎস: i) Britannica
ii) World atlas.
খরা:
- দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা।
- খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব:
- বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে,
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে,
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়,
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়,
- খাদ্যের অভাবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ইত্যাদি।
উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা।
ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।
উৎস: Britannica.com.
⇒ 'পৃথিবীর ফুসফুস' হিসেবে পরিচিত আমাজন।
আমাজন:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল ।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান ।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে: ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী ।
তথ্যসূত্র - ওয়ার্ল্ড এটলাস।
সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বৈশিষ্ট্য: ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রীস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
• এর বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।
তথ্যসূত্র: রাঙ্গামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ:
১। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি - যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি, তাদেরকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন - হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া
২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি : যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অনেককাল আগে বন্ধ হয়ে গেছে; কিন্তু যে কোনাে সময় আবার অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে তাকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন - জাপানের ফুজিয়ামা।
৩। মৃত আগ্নেয়গিরি : যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলােকে মৃত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- ইরানের কোহিসুলতান।
(রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)