বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮৯ / ১২৪ · ৮,৮০১৮,৯০০ / ১২,৪২১

৮,৮০১.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয় -
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা:
- আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
- তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন এবং একই সাথে - জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এর উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
 - নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত।
- ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে।
- রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
- কমিশনের দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১২ জানুয়ারি সোমবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত। 
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার।
- রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি বুধবার।  
- সিইসি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা চলবে আগামী ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘন্টা আগ পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
- ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

৮,৮০২.
নিচের কোন অঞ্চল সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. নোয়াখালী
  2. চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮০৩.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন না কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৮,৮০৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. সাধারণ পরিষদ
  3. ছাত্র ইউনিয়ন
  4. ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮০৫.
বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৮৫ সাল
  2. খ) ১৯৮৪ সাল
  3. গ) ১৯৮২ সাল
  4. ঘ) ১৯৮৩ সাল
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮২ সাল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় ১৯৮২ সালে
- এর অধীনে ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর প্রথম ৪৫টি থানাকে এবং পরবর্তীতে ৪৬০টি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।

- ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে।
- এখনও পর্যন্ত মোট ৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৮,৮০৬.
মুক্তিযুদ্ধে 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন সেক্টরের অধীনে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৭
সঠিক উত্তর:
খ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২
ব্যাখ্যা
ক্র্যাকপ্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে গঠিত একটি গেরিলা বাহিনী। এটি ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরে সক্রিয় ছিল।
উৎসঃ দৈনিক ভোরের কাগজ
৮,৮০৭.
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের কোন রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে দেয়?
  1. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি
  2. পাকিস্তানপন্থী জাতীয়তা
  3. সাম্যবাদী রাজনীতি
  4. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর সূচনা হলেও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- দুই পর্বে বিভক্ত এই আন্দোলন ।
- ১৯৪৮ সালে অনেকটা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- এবং শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হলেও ১৯৫২ সালের আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- বাঙালি জাতির পরবর্তীকালে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনে প্রেরণা আসে ভাষা আন্দোলন থেকে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে,।
- প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮০৮.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. রাজীব গান্ধী
  2. অটল বিহারি বাজপেয়ি
  3. জওহর লাল নেহেরু
  4. ইন্দিরা গান্ধী
সঠিক উত্তর:
ইন্দিরা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ভারতের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 
- দীর্ঘ নয় মাস ভারত প্রায় এককোটি শরণার্থীর ভরণ-পোষণের সকল খরচ বহন করে। 
- মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং প্রদান, অস্ত্র সরবরাহ, রসদ প্রদান এসবই করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। 
- মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনী। 
- শেষ পর্যন্ত যৌথবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। 
- ভারত শরণার্থী খাতে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও রসদ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করে। 
- তাছাড়া পাকিস্তানি বাহিনী ও যৌথ বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধে ভারতের প্রায় চার হাজার অফিসার ও জওয়ান শহীদ হয়েছেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের অবস্থান ছিল ভারতে। 
-তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, পত্র-পত্রিকা প্রভৃতি কেবল মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি, বিশ্ব জনমত গঠন করা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করা ইত্যাদি কাজগুলোও তারা করেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮০৯.
একুশের প্রথম গান রচনা করেন-
  1. ক) আলতাফ মাহমুদ
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আ. ন. ম. গাজীউল হক
  4. ঘ) আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
গ) আ. ন. ম. গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আ. ন. ম. গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ. ন. ম. গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।
- ৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- ১৯৫৩-৫৪ সাল পর্যন্ত ওই গানটি গেয়েই প্রভাতফেরি করা হতো।
- গানটির সুরকার ছিলেন গাজীউল হক নিজেই। 

- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।” - এই গানটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৮,৮১০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কত তারিখে আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ১৫ জুলাই, ২০২৪
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪
  3. ১৭ জুলাই, ২০২৪
  4. ১৮ জুলাই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শহীদ আবু সাঈদ:
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।
৮,৮১১.
Which ruler fell in the 1969s coup?
  1. Zulfikar Ali Bhutto
  2. Ayub Khan
  3. Yahiya Khan
  4. Iskander Mirza
সঠিক উত্তর:
Ayub Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ayub Khan
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- এ আন্দোলনের ফলে আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮১২.
উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?
  1. ভাস্করবর্মা
  2. রাজ্যবর্ধন
  3. হর্ষবর্ধন
  4. বাণভট্ট
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
- তাঁর লক্ষ্য ছিল কনৌজের মৌখরীরাজাদের আক্রমণ থেকে নিজ রাজ্যকে রক্ষা করা।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্টের রচিত হর্ষচরিত ও তার সমসাময়িক হিউয়েন সাং এর বর্ণনায় শশাঙ্কের উত্তর ভারতের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিবরণ রয়েছে।
- শশাঙ্কের সাথে রাজ্যবর্ধনের যুদ্ধে রাজ্যবর্ধন নিহত হন।
- রাজ্যবর্ধনের ভাই হর্ষবর্ধন রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শশাঙ্কের উপর ভীষণ ক্রুদ্ধ হন এবং এক বিশাল বাহিনীসহ শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন।
- তবে শশাঙ্কের বিরুদ্ধে হর্ষবর্ধন যে বিশেষ সাফল্য লাভ করতে পারেননি তা শশাঙ্কের গঞ্জাম তাম্রশাসন থেকেই প্রমাণিত হয়।
- শশাঙ্ক হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মার হাত থেকে নিজ রাজ্য রক্ষা করতে পেরেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮১৩.
জাতীয় সংসদে ‘উপজেলা বাতিল’ বিলটি কখন পাস করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৭৬
  2. খ) ১৯৮২
  3. গ) ১৯৮৬
  4. ঘ) ১৯৯২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯২
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তৎকালীন সরকার পূর্বের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা বাতিল করে এবং মৌলিক গণতন্ত্রের দ্বিতীয় স্তরে অবস্থিত থাকা কাউন্সিলকে ভেঙ্গে দিয়ে ‘থানা উন্নয়ন কমিটি’ গঠন করে।
- পরবর্তী ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘থানা পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এরও পরে ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক এক অধ্যাদেশ বলে থানা প্রশাসনকে পুনবিন্যাস করেন এবং এ সময় থানাকে ‘উন্নীত থানা পরিষদ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।
- ১৯৮৩ সালে আরও এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে উন্নীত থানাকে উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং এর ফলে ৬৪ জেলার ৪৬০টি উপজেলার সৃষ্টি হয়।
- সামরিক শাসনের অবসানের পর ১৯৯১ সালে তৎকালীন সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে উপজেলা ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় থানা ব্যবস্থা চালু করে।
- ১৯৯২ সালের ২৬ জানুয়ারি 'উপজেলা বাতিল' বিলটি সংসদে পাসের মাধ্যমে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল হয়।

- পরে ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ আইনের মাধ্যমে পুনরায় উপজেলা ব্যবস্থা চালু করে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বোর্ড বই, প্র. মো. মোজাম্মেল হক।
৮,৮১৪.
মুজিবনগর সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮১৫.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর 
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। 

⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮১৬.
কোনটি কৃষক আন্দোলন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) নীল বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ভারতে সংঘটিত কৃষক আন্দোলনগুলোর মধ্যে নীল বিদ্রোহ অন্যতম। ১৮৫০ এর দশকের শেষ ভাগে নদীয়া ও যশোরাঞ্চলে নীল চাষীদের দ্বারা নীল বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। এরপর তা নীল চাষের অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার নীল সমস্যা সমাধানে ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে সরকার আইনের মাধ্যমে নীল চাষ কৃষকদের ইচ্ছাধীন করলে নীল বিদ্রোহ প্রশমিত হয়। কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হলে ১৮৯২ সালে বাংলা থেকে নীল চাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৮১৭.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. এম হোসেন আলী
  3. অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
-পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

উৎস: ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮১৮.
'সীমান্ত গান্ধী' নামে কে পরিচিত ছিলেন?
  1. ক) জিয়াউল হক
  2. খ) করমচাঁদ গান্ধী
  3. গ) ইন্দিরা গান্ধী
  4. ঘ) আব্দুল গাফফার খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল গাফফার খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল গাফফার খান
ব্যাখ্যা

• গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি:
- ব্রিটিশ ভারতের অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন খান আব্দুল গাফ্ফার খান
- আব্দুল গাফফার খান সীমান্ত গান্ধী নামে যিনি বেশী পরিচিত ছিলেন।
- উত্তর- পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তার অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল।
-  সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি প্রচার ও ধারণ করায় তাকে 'সীমান্ত গান্ধী' উপাধীতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা এবং বিডিনিউজ২৪।

৮,৮১৯.
তমদ্দুন মজলিশ কর্তৃক প্রকাশিত "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  2. ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
  4. ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

উল্লেখ্য,
বাজারের গাইড বই এমনকি অনেক বোর্ড বইতে "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" পুস্তিকাটি প্রকাশের তারিখ হিসাবে ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া যা সঠিক নয়।
তবে পরীক্ষায় প্রশ্নের অপশনে যদি ১৬ সেপ্টেম্বর না থাকে তাহলে ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর করা যাবে।
৮,৮২০.
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এর কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা যায় -
  1. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
  2. শিল্পবিপ্লব
  3. অনাবৃষ্টি ও খরা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লব : একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর প্রেক্ষাপট :
- ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।
- তখন থেকেই এ দেশে ব্যাপক সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে ইংরেজরা।
১. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
- বাংলার নবাবের হাতে থাকে নামে মাত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা। রাজস্ব আদায় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে।
- ফলে ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।
-  দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে থাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, আর রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের পূর্ণ কর্তৃত্ব পায় কোম্পানি।
-  ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি খাজনা আদায়ের নামে সীমাহীন শোষণ আর লুণ্ঠন করে পাচার করতে থাকে।
২. অনাবৃষ্টি ও খরা
- পাশাপাশি সেই সময় (১৭৬৮-১৭৬৯) অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- কিন্তু অব্যহত থাকে ইংরেজদের খাজনা আদায়।
 ৩. শিল্পবিপ্লব
- ১৭৬৫-১৭৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপেক্ষা বেশি দুর্নীতিপূর্ণ, বেশি অত্যাচারী ও লুণ্ঠন প্রবৃত্তির তথাকথিত সভ্য সরকার পৃথিবীর বুকে আর দেখা যায়নি।
- অন্যদিকে, ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের উড্ডয়নকাল ১৭৬০-১৭৮০ খ্রি. ধার্য করেন।
- ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি প্রকৃত অর্থে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্র রচনা করে। 
- আটলান্টিক তীরে পশ্চিমের সেই শিল্পবিপ্লবের রসদ যোগাতে গিয়ে ব্রিটিশ শাসনাধীন বাংলায় নেমে আসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। 
- জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ, প্রায় ১ কোটি মানুষ এই দুর্ভিক্ষে মারা যায়।

- সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় -এর ‘আনন্দমঠ‘ উপন্যাস থেকে এই মন্বন্তরের ভয়াবহতার এক সকরুণ চিত্র পাওয়া যায়।
- এই সময় এই অঞ্চলের জনগন তাদের নিজ মাতৃভূমিতেই সব ধরণের মৌলিক বা মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে একে একে জীবন সংগ্রামে পরাজিত হতে থাকে। 
- খাদ্যভাবে শীর্ণ লোকরা দলে দলে মারা যায়। অন্নহীন কঙ্কালসার মৃত্যু দেহগুলো রাস্তাঘাটে পড়ে থাকে। 
- গ্রামবাংলায় যখন এই মৃত্যুর মিছিল চলছিল, তখন কলকাতায় শেতাঙ্গ সমাজে আমোদণ্ডপ্রমোদ, বিলাসিতা, নাচ, সুরাপানে আনন্দণ্ডউচ্ছল জীবনযাপনে রত ছিল।
- অথচ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে পঙ্গু করে দেয়।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া।  
২. বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
৩. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪. ব্রিটানিকা।
৫. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৮২১.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের কাছে কোন ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়?
  1. রাজস্ব আদায়
  2. দেশ রক্ষা
  3. প্রশাসনিক
  4. উল্লিখিত সব
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনিক
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:

- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসন অনুসারে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮২২.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কত সালে বাংলায় আসেন ?
  1. ক) ৫৩৪ সালে
  2. খ) ৫৩০ সালে
  3. গ) ৪৩৮ সালে
  4. ঘ) ৬৩৮ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালে বাংলায় আসেন।
৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং পুন্ডবর্ধনের রাজধানী পুন্ডনগরে আগমন করেন। 
- নালন্দা থেকে ৬০০ লি(ছয় লিতে এক মাইল) অতিক্রম করে কজংগলে আসেন সেখানে কিছুদিন অতিবাহিত করার পর ৯০০ লি পুর্ব দিকে পদ্মা পার হয়ে পুন্দ্রনগর আসেন সেখানেই অনেক দিন কাটান। 
- পুন্ডনগর হল বর্তমানে বাংলাদেশের মহাস্থানগড়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৮,৮২৩.
ভারত ছাড় আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়-
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯২০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২
- ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
-  ১৯৪২ সালের ৯ আগস্ট ভোরে কংগ্রেস নেতাদের গ্রেপ্তার দেশব্যাপী এক নজিরবিহীন গণরোষের সৃষ্টি করে, যা বাংলার শহরগুলিতে, বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে  এ আন্দোলন  ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
- ভারত ছাড় আন্দোলন চলাকালীন  ‘পঞ্চম বাহিনী’র সুচিন্তিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে। 
- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়। ⇒
- প্রথম পর্বে  শহরগুলিতে হরতাল, ধর্মঘট, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ ছিল লক্ষণীয় বিষয়। 
- দ্বিতীয়  পর্যায়ে জঙ্গি ছাত্ররা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে ও তারা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয় ।
- তৃতীয় পর্ব শিক্ষিত যুবক সম্প্রদায় ও কৃষক দলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা এবং গেরিলা যুদ্ধ। 
-  আন্দোলনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করা হয় এবং আন্দোলন দমন করতে সরকার আকাশ থেকে মেশিনগান ব্যবহার করেছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন হয়।
- ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৮২৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩টি
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে ৩ টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। ফোর্স তিনটি হলো- জেড ফোর্স, এস ফোর্স এবং কে ফোর্স।

- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

তথ্যসূত্র- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৮,৮২৫.
ঢাকা বাংলার রাজধানী হয়-
  1. স্বাধীন নবাবি আমলে
  2. সুলতানি আমলে
  3. মুগল আমলে
  4. ব্রিটিশ আমলে
সঠিক উত্তর:
মুগল আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুগল আমলে
ব্যাখ্যা
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ সালে)।
- শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বারোভূঁইয়াদের নেতামুসা খানকে পরাজিত করতে পারলেই তাঁর পক্ষে অন্যান্য জমিদারকে বশীভূত করা সহজ হবে।
- সেজন্য তিনি রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- কারণ মুসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁ ঢাকার অদূরে ছিল।
- বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান কয়েকজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন।
- বারোভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন।
- মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ সালে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে।
- সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে
- মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন।
- এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৮২৬.
দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হতে যাচ্ছে-
  1. বাগেরহাট
  2. মাতারবাড়ী
  3. ভাসানচর
  4. পটুয়াখালী
সঠিক উত্তর:
মাতারবাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতারবাড়ী
ব্যাখ্যা

- দেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হতে যাচ্ছে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে।
- ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই সমুদ্র বন্দরটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।

৮,৮২৭.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে বাংলায় সুবাদারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলায় সুবাদারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলায় সুবাদারী প্রতিষ্ঠা:

- মোগল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যকে অনেকগুলো প্রদেশে ভাগ করেছিলেন।
- এই প্রদেশগুলোকে বলা হতো 'সুবা'। সুবার শাসনকর্তাকে বলা হতো সুবাদার।
- আকবরের সময় থেকে বাংলায় সুবাদার নিয়োগ করা শুরু হয়।
- তবে বারভূঁইয়াদের দাপটে বাংলায় মোগল সুবা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান। তিনি ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেন। এরপর থেকে বাংলার সুবাদারদের মাধ্যমে পুরো বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮২৮.
প্রাচীন সমতট জনপদ কোন কোন বর্তমান অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. রাজশাহী ও বগুড়া
  2. সিলেট ও ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল ও পটুয়াখা
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা ও নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮২৯.
খিলাফত আন্দোলনে কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?
  1. মাওলানা কারামত আলী
  2. মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগিশ
  3. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা

খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়। 
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৩০.
‘সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ বইটির লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ আহমদ খান
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) মাওলানা মোহাম্মদ আলী
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর মুসলমানরা ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয়ে পড়ে। কেননা সরকারের ধারণা ছিল, সংগ্রামের মূলে মুসলমানরা দায়ী। ইংরেজ সরকারের এ মনোভাব পরিবর্তনের জন্য সৈয়দ আহমদ খান ‘সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ ও ভারতের রাজ ভক্ত মুসলমান’ নামে দুইটি বই লিখেন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৮,৮৩১.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. আবদুল মতিন
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৮,৮৩২.
From which year has the International Mother Language Day been observed?
  1. 1998
  2. 1999
  3. 2000
  4. 2001
  5. None
সঠিক উত্তর:
2000
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2000
ব্যাখ্যা
২০০০ সালে থেকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালন শুরু হয়।

ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা: 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়। 
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।
 
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৩৩.
একুশের প্রথম ভাষা শহীদ কে ছিলেন?
  1. শহীদ আবুল বরকত
  2. শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
  3. শহীদ  শফিউর রহমান
  4. শহীদ আবদুস সালাম 
সঠিক উত্তর:
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

• প্রথম ভাষা শহীদ:
- একুশের প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ। 
- তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ এবং মায়ের নাম রাফিজা খানম। 
- রফিক উদ্দিনের জন্ম ১৯২৬ সালে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। 
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদ হন। 
- ঘটনার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাকে আশ্রয় নেন। 
- ওই সময় পুলিশের গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে যায়।
- মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখনই মারা যান তিনি।
- ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহর উপস্থিতিতে তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুল গফুর।
- আত্মীয়স্বজনকে না জানিয়ে গোপনে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। 
- ভাষা শহীদ রফিক ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো

৮,৮৩৪.
বর্তমানে বাংলাদেশের বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা -
  1. ৬৭ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৪ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
⇒ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন। ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন। কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

⇒ ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৮,৮৩৫.
Who was the founder of 'Karrani dynasty' in Bangla?
  1. Bayazid Karrani
  2. Daud Karrani
  3. Sulemon Karrani
  4. Taz Khan Karrani
সঠিক উত্তর:
Taz Khan Karrani
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Taz Khan Karrani
ব্যাখ্যা
কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাজ খানের তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৩৬.
আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক ছয় দফার কততম দফায় 'সংসদীয় পদ্ধতির সরকার' থাকার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত ছিল?
  1. ক) ২য়
  2. খ) ৩য়
  3. গ) ১ম
  4. ঘ) ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
গ) ১ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১ম
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮ - ১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।

ছয়দফা দাবিগুলো হচ্ছেঃ
প্রথম দফাঃ
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ হবে সার্বভৌম।
দ্বিতীয় দফাঃ
ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে শুধু দুটি বিষয়, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক, এবং অপর সব বিষয় ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত রাজ্যসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
তৃতীয় দফাঃ
- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সমগ্র পাকিস্তানের জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটিই মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থাকবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে তার ব্যবস্থা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট বিধি সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
চতুর্থ দফাঃ
- দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাজ্যের হাতে থাকবে। তবে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে কিংবা উভয়ের স্বীকৃত অন্য কোনো হারে আদায় করা হবে।
পঞ্চম দফাঃ
- দুই অংশের মধ্যে দেশিয় পণ্য বিনিময়ে কোনো শুল্ক ধার্য করা হবে না এবং রাজ্যগুলো যাতে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে সংবিধানে তার বিধান রাখতে হবে।
ষষ্ঠ দফাঃ
- প্রতিরক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আধা-সামরিক রক্ষীবাহিনী গঠন, পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন করতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৩৭.
”ভুলব না, ভুলব  না, একুশে ফ্রেব্রুয়ারি ভুলব না” গানের রচয়িতা কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আ ন ম গাজীউল হক
  4. আলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আ ন ম গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ ন ম গাজীউল হক
ব্যাখ্যা

- একুশের প্রথম গান রচনা করেন- ভাষা সৈনিক আ ন ম  গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরণ- ”ভুলব না, ভুলব  না, একুশে ফ্রেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- ”দূর হটো দূর হটো আই দুনিয়াওলালো, হিন্দুস্থান হামারা হায়”- জনপ্রিয় হিন্দি গান থেকে এ গানের সুর নেওয়া হয়।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফ্রেবুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় গানটি গাওয়া হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৮৩৮.
'মাৎস্যন্যায়' যুগের অবসান ঘটে কোন রাজবংশের আগমনের মাধ্যমে? 
  1. সেনদের আগমনে
  2. মৌর্যদের আগমনে
  3. পালদের আগমনে
  4. গুপ্তদের আগমনে
সঠিক উত্তর:
পালদের আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালদের আগমনে
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮৩৯.
নিচের কোন ব্যক্তি মোঘল সম্রাট নয়?
  1. ক) আকবর
  2. খ) বাহাদুর শাহ
  3. গ) শাহজাহান
  4. ঘ) শের শাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শের শাহ
ব্যাখ্যা
• মোঘল সম্রাট:
- মোঘল সম্রাট - বাবর, আকবর, হুমায়ুন, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব।

অপরদিকে -
- শেরশাহ হলেন শূর শাসনের শ্রেষ্ঠ শাসক।
- শেরশাহ ছিলেন আফগান শাসক।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮৪০.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কবে?
  1. ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  2. ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  3. ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  4. ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সঠিক উত্তর:
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট:
- ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
- তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন এবং একই সাথে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এর উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে।
- রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
- কমিশনের দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১২ জানুয়ারি সোমবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি বুধবার।
- ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। 

উৎস: নির্বাচন কমিশন।

৮,৮৪১.
‘টুসু গান’ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গান?
  1. বৃহত্তর ময়মনসিংহ
  2. বৃহত্তর সিলেট
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
বৃহত্তর সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহত্তর সিলেট
ব্যাখ্যা
টুসু গান:
- লোকজীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের জীবনকাহিনী সবথেকে বেশী ধরা পড়ে যে গানে তা হল টুসু গান।
- টুসু উৎসব একটি লোকোৎসব। 
- এ উৎসব শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিনে এবং শেষ হয় পৌষ সংক্রান্তির দিন।
- টুসু একজন লৌকিক দেবী, যাকে কুমারী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং কুমারী মেয়েরাই এই পূজা ও ব্রত করে থাকেন।
- এটি একটি কৃষিভিত্তিক উৎসব। 

উল্লেখ্য,
- মূলত এ গানটি গাওয়া হয় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের চা বাগানগুলোয়।
- সাধারণত বালিকা ও তরুণীরা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ গান গেয়ে থাকেন।
- গানের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে তাৎক্ষণিক তরুণীরা গান রচনা করে পরিবেশন করেন।
- সামনের মানুষজন, প্রকৃতি, আবহাওয়া, সুখ–দুঃখ, মান–অভিমান, বিরহ, আনন্দ নিয়ে তাঁরা গান রচনা করে গেয়ে থাকেন।

উৎস: ১৫ জানুয়ারী ২০২৪, প্রথম আলো।
৮,৮৪২.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের একক দল হিসেবে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' কতটি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২২৩টি
  2. খ) ১৪৩টি
  3. গ) ৭২টি
  4. ঘ) ৪৮টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪৩টি
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তান সৃ্ষ্টির পর ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল:-
- মোট আসন : ৩০৯টি
- মুসলিম আসন : ২৩৭টি
- অমুসলিম আসন : ৭২টি
- যুক্তফ্রন্ট লাভ করে : ২২৩টি আসন

• যুক্তফ্রন্টের প্রাপ্ত ২২৩ টি আসনের মধ্যে দলওয়ারী প্রাপ্ত আসন:-
- আওয়ামী মুসলিম লীগ - ১৪৩ টি
- কৃষক শ্রমিক পার্টি - ৪৮ টি
- নেজামে ইসলাম  - ১৯ টি
- গণতন্ত্রী পার্টি  - ১৩ টি

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৪৩.
প্রথম জীবনে অশোক ছিলেন -
  1. উজ্জয়িনীর শাসনকর্তা
  2. সৌরাষ্ট্র
  3. মহীশুরের শাসনকর্তা
  4. কলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উজ্জয়িনীর শাসনকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজ্জয়িনীর শাসনকর্তা
ব্যাখ্যা
অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন। 
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৪৪.
ভারতে স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কবে?
  1. ১৭৪৩ সালের ২২শে মার্চ
  2. ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
  3. ১৮৯৩ সালের ২২শে মার্চ
  4. ১৮৪৩ সালের ২২শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষকরা জমির উপর তাদের মালিকানা হারায়।
- ১৯৫০ সালের ‘পূর্ববঙ্গ জমিদার অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে’র ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার বিলুপ্তি হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮৪৫.
দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কত হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩১ হাজার মেগাওয়াট
  2. খ) ৪২ হাজার মেগাওয়াট
  3. গ) ৫৬ হাজার মেগাওয়াট
  4. ঘ) ৬২ হাজার মেগাওয়াট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬২ হাজার মেগাওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬২ হাজার মেগাওয়াট
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০ বছর মেয়াদী। এটির মেয়াদকাল ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত।
-২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। এই সময়ে গড় প্রবৃদ্ধি হার হবে ৯.৯ শতাংশ।
-২০৪১ সাল নাগাদ চরম দারিদ্র্য হার ০.৬৮ শতাংশে এবং উচ্চ দারিদ্র্য হার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে।
-২০২১ হতে ২০৪১ অর্থবছরের মধ্যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর গড়ে ৩১০০ মেগাওয়াট বৃদ্ধির মাধ্যমে ৬২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উৎসঃ পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
৮,৮৪৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নৌ-কমান্ডোর সেক্টর -
  1. ক) সেক্টর ১
  2. খ) সেক্টর ১০
  3. গ) সেক্টর ১১
  4. ঘ) সেক্টর ২
সঠিক উত্তর:
খ) সেক্টর ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেক্টর ১০
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৮,৮৪৭.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- প্রথম দফায় জাতীয়করণ করা হয় ৩৬০১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮,৮৪৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ৫ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৪ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- বর্তমান মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। 
- ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৪৯.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ২ নং সেক্টরে
  2. ৩ নং সেক্টরে
  3. ৬ নং সেক্টরে
  4. ১১ নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন।

বীরশ্রেষ্ঠ:

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

• সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে ব্রাক্ষ্মণবাড়ীয়া জেলা ২ নং সেক্টরের অধীন ছিল।
- এ সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রগুলো হল আকছিনা, আখাউড়া, আসাদনগর, আড়াইবাড়ী, ইব্রাহীমপুর, কালীকচ্ছা, কুল্লাপাথর, চন্দ্রপুর, চারগাছ, চেকপোস্ট সড়ক, ঝগড়ার চর, তারাগণ, তুল্লাপাড়া, দেবগ্রাম, দরুইন, দুর্গারামপুর, দশদোনা, নবীনগর সদর, ফুলবাড়ীয়া, বায়েক, মীরপুর, লতোয়ামুড়া, শাহবাজপুর, হরিয়াবহ এবং ক্ষীরণাল।
- ১৮ এপ্রিল আখাউড়া উপজেলার দরুইনে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল শহীদ হন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৫০.
কোন ইউরোপীয় ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন?
  1. ফ্রান্সিস ড্রেক
  2. ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান
  3. ভাস্কো-ডা-গামা
  4. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
ব্যাখ্যা

- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো ডা গামা প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে ১৪৯৮ সালে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। তিনি আফ্রিকা ঘুরে কেপ অব গুড হোপ পেরিয়ে কালিকটে পৌঁছান।

• পর্তুগিজ:

- বাণিজ্যকে মূলধন করে পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজরা এ উপমহাদেশে আসলেও ক্রমে তাঁরা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে।
- ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন - ভাস্কো-ডা-গামা।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮৫১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. বাংলা ভাষা সংগ্রাম কমিটি
  4. বাংলা ভাষা বাংলা কমিটি
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

উল্লেখ্য:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৫২.
গণতন্ত্রের সূচনা হয় কোথায়?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) মিশর
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) স্পেন
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয়। গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক। পরবর্তীতে অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা)
৮,৮৫৩.
নিম্নের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. জলাঙ্গী
  3. তালপাতার সেপাই
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা

জলাঙ্গী:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- রচনা করেছেন শওকত ওসমান।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শওকত ওসমান চারটি উপন্যাস রচনা করেন। উপন্যাসগুলো হচ্ছে 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' (১৯৭১), 'দুই সৈনিক' (১৯৭২), 'জলাঙ্গী' (১৯৭৩) এবং 'নেকড়ে অরণ্য'

অন্যদিকে,
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি উপন্যাসটি।
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস ওঙ্কার।

উৎস: যুগান্তর।

৮,৮৫৪.
তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. কামুদ্দিন আহমেদ
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮৫৫.
কণিষ্ক প্রবর্তিত অব্দকে বলা হয় -
  1. হর্ষাব্দ
  2. গুপ্তাব্দ
  3. শকাব্দ
  4. বিক্রম সম্বৎ
সঠিক উত্তর:
শকাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শকাব্দ
ব্যাখ্যা
কণিষ্ক:
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- শুধুমাত্র বিজেতা ও সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতারূপেই নয়, বৌদ্ধধর্ম, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছেন।
- তাঁর রাজত্বকালে চতুর্থ বা শেষ বৌদ্ধ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান'-এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- কণিষ্কের প্রচেষ্টায় বৌদ্ধ ধর্ম ভারত ও ভারতের বাইরে প্রসার লাভ করে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৫৬.
কত বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন?
  1. ক) ১৩ বছর
  2. খ) ১৫ বছর
  3. গ) ১৭ বছর
  4. ঘ) ২৩ বছর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ বছর
ব্যাখ্যা
• সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।

- পলাশী যুদ্ধের কারণ ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- এসময় তাকে নানামুখি ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে একটি পরিবারিক ষড়যন্ত্র।
- যা নবাব কৌশলে দমন করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরিবারের বাইরেও ষড়যন্ত্রের আরেক জাল বিস্তৃত হতে থাকে।
- এর সঙ্গে জড়িত হয় দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি, নবাবের দরবারের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি, নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরো অনেকে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করতে থাকে। 
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- এ যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ নামে খ্যাত। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৫৭.
‘মােরা একটি ফুলকে বাঁচাবাে বলে যুদ্ধ করি’ বিখ্যাত এ বাংলা গানটির রচয়িতা কে?
  1. মোস্তফা মজুমদার
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. নজরুল ইসলাম বাবু
  4. আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

 মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটি দারুণভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের।
- ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- গানটির শিল্পী আপেল মাহমুদ।
- ‘জয়বাংলার গান’ রূপে পরিচিত গোবিন্দ হালদারের সঙ্গীতগুলো 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে প্রচারিত হত।

উৎস: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৮৫৮.
আগরতলা মামলার কোন আসামিকে সেনানিবাসে হত্যা করা হয়েছিল?
  1. ক) ড. শামসুজ্জোহা
  2. খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. গ) আব্দুর রাজ্জাক
  4. ঘ) আসাদুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
- আগরতলা মামলার আসামি জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা ও ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসাদুজ্জামান নিহত হলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়।
- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব সরকার মামলা প্রত্যাহার করে নেয় ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলকে মুক্তি প্রদান করে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৫৯.
পায়রা সমুদ্র বন্দরের অবস্থান-
  1. ক) কলাপাড়া,পটুয়াখালী
  2. খ) নোয়াপাড়া,বরিশাল
  3. গ) টেকনাফ,কক্সবাজার
  4. ঘ) পতেঙ্গা,চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) কলাপাড়া,পটুয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কলাপাড়া,পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
- পায়রা সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর।
- এটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত।
- পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩ আগস্ট ২০১৬।

তথ্যসূত্র:- patuakhali.gov.bd
৮,৮৬০.
পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বন্দরে প্রথম বাণিজ্য করতে আসে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কালিকট
  3. কোচিন
  4. গোয়া
সঠিক উত্তর:
কালিকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকট
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৬১.
When was the first regime implemented in Pakistan?
  1. 21th March, 1956
  2. 22th March, 1956
  3. 23th March, 1956
  4. 24th March, 1956
সঠিক উত্তর:
23th March, 1956
উত্তর
সঠিক উত্তর:
23th March, 1956
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বিল:
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা, ১৩টি অংশ, ২৩৪টি বিধিএবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল।
- এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৬২.
'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' গানটির গীতিকার (রচয়িতা) কে?
  1. নজরুল ইসলাম বাবু
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর: 
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার। 

- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

♣ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- উপন্যাস:
• পূরবী ও 
• নতুন সকাল। 

- নাটক:
• সিরাজ-উদ-দৌলা ও  
• মহাকবি আলাউল। 

অন্যদিকে:
- নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা কালজয়ী দুটি গান- 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' এবং 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার'। 
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। 

- একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যাঁরা’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা ও গীতিকার গোবিন্দ হালদার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো (২৬ মার্চ ২০২৩ ও ১৭ জানুয়ারি ২০১৫), দ্যা ডেইলি ষ্টার বাংলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২)।
৮,৮৬৩.
স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. নাইজেরিয়া
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. মিশর
  4. সেনেগাল
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৮,৮৬৪.
‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রের কাহিনি কোন উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. আর্তনাদ
  3. আলোহারা 
  4. আগুনের পরশমণি
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
- গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র,
- এটি পরিচালনা করেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ।
- এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এবং এর কাহিনি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে রচিত।
- চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।
- গেরিলা মুক্তির পর ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: প্রথম আলো।
৮,৮৬৫.
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১২ এপ্রিল,১৯৭৩
  2. ১৬ মার্চ,১৯৭৩
  3. ৭ মার্চ,১৯৭৩
  4. ৭ মার্চ,১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ,১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ,১৯৭৩
ব্যাখ্যা
প্রথম নির্বাচন: 
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩ সালে।
- নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ঃ ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারঃ বিচারপতি এম ইদ্রিস।
- স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের এটিই ছিল সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।
- মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন লাভ করে।
- এই নির্বাচনের সূত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
- তিনি ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- মোট আসন: ৩০০।
- সংরক্ষিত মহিলা আসন: ১৫ টি।
- অংশগ্রহণকারী মোট দল: ১৪ টি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ।
৮,৮৬৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম কোন বিদেশি মিশনে উত্তোলিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. কলকাতা
  3. লন্ডন
  4. আগরতলা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ সে পতাকাটিই ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করে।
- এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা ওড়ান তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।

- এই জাতীয় পতাকাটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৬ জুন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে এই পতাকা তৈরি করেন কয়েকজন ছাত্রনেতা।
- জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ছাত্রনেতা কাজী আরেফ আহমেদ, শিব নারায়ণ দাস সহ ২২ জন।

- বিদেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল। 
- ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

- স্বাধীনতার পর পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। পতাকার মাপ ও রঙ নির্ধারণ করে পরিমার্জন করা হয় পতাকা।
- যা আজ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

- সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝখানে লাল বৃত্ত, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

উৎস:  বিডিনিউজ-২৪।

৮,৮৬৭.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কে?
  1. ক) খাজা নাজিমউদ্দিন
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
সঠিক উত্তর:
গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কংগ্রেস, মুসলিমলীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মুসলিমলীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি কোয়ালিশন সরকার গঠন করে।
এই সরকারে বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তিনি (১৯৩৭-১৯৪১) এবং (১৯৪১-১৯৪৩) দুটো মন্ত্রিসভায় ‍মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৮৬৮.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কত জনকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়েছিল?
  1. ৬৭৩ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৫ জন
  4. ৬৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৬৯.
গ্রাম আদালতের সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ১০ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
- গ্রামীণ পর্যায়ে সংগঠিত বিভিন্ন অপরাধ ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিস্পত্তির প্রাথমিক প্রচেষ্টা হল গ্রামীণ আদালত। 
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে দুই করে মোট ৫ পাঁচ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠন করা হয়। 
- এ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ দেশের যেকোন আদালতে মামলা করতে পারে।    

তথ্যসূত্র-  গ্রাম আদালত আইন ২০০৬।
৮,৮৭০.
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বেকার হোস্টেল কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) টুঙ্গিপাড়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) সাভার
সঠিক উত্তর:
গ) কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কলকাতা
ব্যাখ্যা
বেকার হোস্টেল:
- ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল।
- ছাত্রাবাসটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড নরম্যান বেকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রাবাসটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ৮ স্মিথ লেনে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২-৪৭ সাল পর্যন্ত।
- উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে।
- তিনি ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে।
- এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ।
- ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।

উৎস: ২৯ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।
৮,৮৭১.
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত? 
  1. ৪২৬ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭২ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৮,৮৭২.
বাতিঘরের জন্য কোন দ্বীপ বিখ্যাত?
  1. বঙ্গবন্ধু দ্বীপ
  2. হাতিয়া
  3. সোনাদ্বিয়া দ্বীপ
  4. কুতুবদিয়া
সঠিক উত্তর:
কুতুবদিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
বাতিঘর:
- বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কুতুবদিয়া দ্বীপ।
- কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলায় একটি দ্বীপ উপজেলা।
- চান্স এন্ড ব্রাদার্স কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত স্থপতি নেয়ার বার্মিংহাম এর তত্ত্বাবধানে ১৮৪৬ সালের দিকে কুতুবদিয়ায় আটতলা তথা আটকক্ষ বিশিষ্ট বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়।
- ১২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গোলাকৃতি আলোক স্তম্ভের প্রতিটি কক্ষে মূল্যবান কাঁচ খচিত জানালা ছিল।
- কক্ষের চারদিকে রেলিং ছিল।
- সর্বোচ্চ কক্ষে বাতিঘরটি প্রজ্জ্বলন করা হতো।
- ১৯ মাইল দূর থেকে নাবিকরা এ বাতিঘর থেকে আলো প্রত্যক্ষ করে দিক চিহ্নিত করতো।
- শংখ নদীর তীব্র স্রোতের তোড়ে বাতিঘরটি ধ্বংস হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে বাতিঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হলে গভীর সমুদ্রে চলাচলরত নাবিক ও মাঝিমাল্লাদের কথা মাথায় রেখে তদানীন্তন সরকার ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে একই এলাকায় অর্থাৎ এর দু’কিলোমিটার পূর্বে বাঁধের ভেতরে প্রায় সাত একর জমিতে আরো একটি বাতিঘর নির্মাণ করে।
- ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পুনঃ নির্মিত বাতিঘরটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৮৭৩.
'তারা মসজিদ' নির্মাণ করেন কে?
  1. ঈসা খান
  2. আলী জান ব্যাপারী
  3. মির্জা গোলাম পীর 
  4. নবাব সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মির্জা গোলাম পীর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মির্জা গোলাম পীর 
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

৮,৮৭৪.
কত সাল থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?
  1. ১৯৯৯ সাল
  2. ২০০০ সাল
  3. ২০০১ সাল
  4. ১৯৯৮ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সাল
ব্যাখ্যা
• মাতৃভাষা দিবস:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর:
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- সকল সদস্য রাষ্ট্রকে দিবসটি উদ্যাপনের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হয়।​

• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:

- ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অন্যান্য আরো অনেকে।
- ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে।​

• বর্তমান প্রেক্ষাপট:
- ২১শে ফেব্রুয়ারি বা বাংলাভাষা শুধু বাংলাদেশের মানুষের কথা বলে না, এটি এখন বিশ্বের সকল ভাষার অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক।​

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।​
৮,৮৭৫.
ইবনে বতুতা বাংলায় কার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন?
  1. হযরত শাহপরান (রহ.)
  2. হযরত শাহজালাল (রহ.)
  3. হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.)
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
হযরত শাহজালাল (রহ.)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হযরত শাহজালাল (রহ.)
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতা মরোক্কোর বিখ্যাত পর্যটক। বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ১৩৩৪ সালে তিনি মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সময়ে দিল্লি আসেন।
- পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ সফর করে ১৩৪৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তিনি বাংলায় প্রবেশ করেন। তখন বাংলার শাসক ছিলেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- ১৩৪৬ সালের জুলাই ও আগস্ট এই দুইমাস তিনি বাংলায় অতিবাহিত করেন। তার বাংলা সফরের উদ্দেশ্য সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ. এর দর্শন লাভ।
- তার ভ্রমণ সংক্রান্ত বিখ্যাত বই হলো কিতাবুল রেহালা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৭৬.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রথম অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন-
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৩ সালে
  3. গ) ১৯৩৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৩৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা। তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৭৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ দফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  2. ২ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৩ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৪ আগস্টই, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৮,৮৭৮.
ইস্কান্দার মির্জা কোন সরকারকে উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. মালিক ফিরোজ খান
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
মালিক ফিরোজ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিক ফিরোজ খান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৭৯.
আদম পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) তুরস্ক
  2. খ) সিরিয়া
  3. গ) শ্রীলংকা
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রীলংকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রীলংকা
ব্যাখ্যা
আদম পাহাড় বা এডামস পিক শ্রীলংকায় অবস্থিত। মুসলমানদের বিশ্বাস পৃথিবীতে আগমনের সময় এই পাহাড়েই হযরত আদম (আ) সর্বপ্রথম পদার্পণ করেন।
একইভাবে বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে এটি গৌতম বুদ্ধের বাম পায়ের ছাপ এবং হিন্দুরা বিশ্বাস করে এটি তাদের দেবতা শিবের পায়ের ছাপ। ফলে আদম পাহাড় একই সাথে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের নিকট পবিত্র ভূমি হিসেবে পরিচিত।
(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৮,৮৮০.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন বলবন
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

এছাড়াও,
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন (১৩৪৬)।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

উৎস:i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮৮১.
বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম কত চরণ বাজানো হয়?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৬
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
ক) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গানের প্রথম ১০ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।
- গানটির প্রথম ১০ চরণ কণ্ঠসংগীত এবং প্রথম ৪ চরণ যন্ত্রসংগীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৮৮২.
'কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা বন্টন' ছয় দফার কততম দফার বিষয়বস্তু?
  1. দ্বিতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা বন্টন)
বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফা: প্রতিরক্ষা বিষয়ক।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৮৩.
'সিপাহী বিদ্রোহ' কোথায় সূচনা হয়?
  1. দিল্লি
  2. ব্যারাকপুর
  3. পাঞ্জাব
  4. মীরাট
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
ব্যাখ্যা
• সিপাহী বিদ্রোহ:
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- এর ফলে ১৮৫৮ সালে 'মহারানীর রাজকীয় ঘোষণা' এবং ১৮৫৮ সালের 'ভারত শাসন আইন' দ্বারা ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় - সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭ সালে)।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী সর্বপ্রথম প্রকাশ্যভাবে বিদ্রোহ করে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ মঙ্গল পাণ্ডে।
- এরপর মে মাসে মীরাটের সেনা ছাউনিতে সিপাহীরা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে এবং কর্নেল ফিনিসকে গুলি করে হত্যা করার পর বিদ্রোহের তীব্রতা বাড়ে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

উল্লেখ্য,
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান - বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন - লর্ড ক্যানিং। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৮৪.
বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• বাংলার মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে — আবদুল লতিফের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
-------------------------- 
• নওয়াব আবদুল লতিফ:

- বাংলার মুসলমানদের মধ্যে নবজাগরণ আসে — নওয়াব আবদুল লতিফ তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা মাদরাসায় ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।
- শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল।
- এবং পরে কোলকাতা মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদে যোগদান করেন।
- ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে কোলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত করা হয়।
- ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ও আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু করা হয়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

উল্লেখ্য, 
বাংলার মুসলিমদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে মুসলিমদের প্রভাব বিস্তার এবং পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কলকাতায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমিতি’ (Mohammedan Literary Society of  Calcutta) গঠন ছিল আবদুল লতিফের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৮৮৫.
’তাম্রলিপ্তি’ কী?
  1. চিত্রকর্ম
  2. জনপদ
  3. লিপি
  4. সংগীত
সঠিক উত্তর:
জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনপদ
ব্যাখ্যা
• তাম্রলিপ্তি:
- হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাভ্রলিপ্তি জনপদ।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তান্দ্রলিপ্তির প্রাণকেন্দ্র।
- সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।
- প্রাচীন মানব বসতিস্থল তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত এর অবস্থান ছিল গঙ্গা নদী যেখানে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে তার কাছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮,৮৮৬.
সেন বংশের কোন রাজা ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন?
  1. সামন্ত সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মণ সেন:
- লক্ষ্মণসেন (আনু. ১১৭৮-১২০৬ খ্রি)  সেন বংশের তৃতীয় শাসক।
- লক্ষ্মণসেন প্রায় ২৮ বছর রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন গৌড়, কলিঙ্গ, কামরূপ ও কাশীতে বিজয় অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- তিনিই সেনদের মধ্যে প্রথম রাজা যিনি ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন।
- ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ূধ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৮৭.
‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি কার লেখা?
  1. ক) সুখওয়ান্ত সিং
  2. খ) রফিকুল ইসলাম
  3. গ) আর্চার কে ব্লাড
  4. ঘ) এ টি এম হায়দার
সঠিক উত্তর:
ক) সুখওয়ান্ত সিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুখওয়ান্ত সিং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং রচিত।
এটির পুরো নাম হলো ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার সিন্স ইন্ডিপেন্ডেন্স : দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ (১৯৯৮)।
মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে কর্মরত ছিলেন।
(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো এবং আমাজন ডটকম)
৮,৮৮৮.
নিম্নোক্ত কোন ব্রিটিশ ভাইসরয়ের সময় প্রথম 'ভারতীয় শিক্ষা কমিশন' গঠন করা হয়?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

• হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৮৯.
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কোচ কে ছিলেন?
  1. ননি বসাক
  2. শামসুল হক
  3. শংকর হাজরা
  4. তানভীর মাজহারুল তান্না
সঠিক উত্তর:
ননি বসাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ননি বসাক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: 
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

তথ্যসূত্র - ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।
৮,৮৯০.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য পূর্ব বাংলার আইন পরিষদে সংরক্ষিত আসন ছিল-
  1. ২২৩টি
  2. ২৩৭টি
  3. ৩১০টি
  4. ৩০৯টি
সঠিক উত্তর:
২৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩৭টি
ব্যাখ্যা

- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ২৩৭টি এবং অমুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ৭২টি।
- এই দুইয়ের যোগফলে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন সংখ্যা হয় ৩০৯টি।
- যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এর মধ্যে ছিলো - মুসলিম আসন ২২৩টি এবং অমুসলিম আসন ১৩টি।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮,৮৯১.
যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কবে?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
-  ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
-  যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসন ছিল।
- যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি।
- মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮৯২.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন ঢাকার
  1. ক) রেসকোর্স ময়দানে
  2. খ) প্রেসিডেন্সি ভবনে
  3. গ) পার্লামেন্ট ভবনে
  4. ঘ) রমনা পার্কে
সঠিক উত্তর:
ক) রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:

- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
- ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো:
• চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা।
• সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
• গণহত্যার তদন্ত করা।
• নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
- ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনআরন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৮৯৩.
'কবর' নাটকের বিষয়বস্তু -
  1. ক) পাণিপথের যুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক (একাঙ্ক) কবর।
- রণেশ দাসগুপ্তের অনুরোধে জেলে থাকাকালীন সময়ে তিনি এটি ১৯৫৩ সালে রচনা করেন এবং তখনই রাজবন্দীদের দ্বারা সেটি অভিনীত হয়েছিল।
- ১৯৫৫ সালের আগস্ট মাসে সংবাদ পত্রিকার আজাদী সংখ্যায় কবর প্রথম প্রকাশিত হয়। এর ১০ বছর পর হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনের দ্বিতীয় সংস্করণে নাটকটি পুনর্মুদ্রিত হয় এবং ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের শাহীন বুক ক্লাব থেকে অপর দুটি নাটিকা ‘মানুষ’ ও ‘নষ্টছেলে’র সঙ্গে কবর শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।
- একুশে ফেব্রুয়ারির পটভূমিতে রচিত প্রথম নাটক এটি।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
সুত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা। 

৮,৮৯৪.
কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থাকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা

বিচার ব্যবস্থা:
- কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, একে ফৌজদারি ও দেওয়ানি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
- বাংলা বিহার এ উড়িষ্যাকে মোট ১২টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একটি ভ্রাম্যমান কোর্ট স্থাপন করা হয়।
- এই আদালতের প্রত্যেকটিতে দুজন ইংরেজ বিচারক এবং আইন ব্যাখ্যার জন্য কাযি ও মুফতি নিযুক্ত করা হয়।
- লর্ড বেটিঙ্ক সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন।
- তিনি ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সর্বপ্রথম জুড়ি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন এবং ভারতীয়দের জুরির সদস্য নিযুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮৯৫.
সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' দেশের নাম পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) পুরাণে
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) ঐতরেয় আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
গ) আইন-ই-আকবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন-ই-আকবরী
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ' বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
- বাংলার অন্যান্য ভৌগোলিক ইউনিটের মতো বঙ্গের ভৌগোলিক গূঢ়ার্থও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে।

দেশবাচক শব্দ হিসাবে 'বঙ্গ' বা 'বাঙ্গাল' শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় - আবুল ফজল রচিত 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে।

অন্যদিকে,
- ঐতরেয় আরণ্যক -এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
- বৌধায়ন ধর্মসূত্রে একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে বঙ্গ নামের উল্লেখ রয়েছে, যারা আর্যসভ্যতার সীমার বাইরে কলিঙ্গের পাশেই বসবাস করত।
- পুরাণে এদের উল্লেখ রয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেমন অঙ্গ, মগধ, মুদগরক, পুন্ড্র, বিদেহ, তাম্রলিপ্তি ও প্রাগজ্যোতিষ-এর সাথে।
- রামায়ণ এ অযোধ্যার সাথে বঙ্গের মৈত্রীবন্ধনের কথার উল্লেখ রয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।
৮,৮৯৬.
আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (The Proclamation of Independence) কবে জারি করা হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৫ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এবং ১৭ এপ্রিল দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- এ সরকারই মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বেসামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দান করে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
- ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী এসব নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
⇒ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- ১২ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতারে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ৬ সদস্য বিশিষ্ট অস্থায়ী সরকার গঠনের সংবাদ প্রচার করা হয়।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান এবং ইতিহাস, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৮,৮৯৭.
ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. মনি সিং
  2. মুজাফফর আহমেদ
  3. আব্দুল হালিম
  4. আবদুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
মুজাফফর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুজাফফর আহমেদ
ব্যাখ্যা
⇒ কমরেড মুজাফফর আহমদকে ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ বলা হয়।

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ১৭ অক্টোবর প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেক প্রজাতন্ত্রের তাসখন্দ শহরে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের উদ্যোগে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সে সময় ভারত জুড়েও চলছিল বিক্ষোভ, ধর্মঘট, হরতাল, উত্তাল গণআন্দোলন।
- এই অবস্থার পটভূমিতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টির ভারতীয় দলটির জন্ম দেশের বাইরে।
- মোট ৭ জন সদস্য নিয়ে তাসখন্দে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।
- মুহম্মদ শফিক এই কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ব্রিটিশ সরকার ভারতের বিশেষ করে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন ঠেকাতে পারেনি।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়।
- প্রথম থেকে মুজাফফর আহমদের নেতৃত্বে এবং আব্দুল হালিম, আবদুর রাজ্জাক খাঁ ও শামসুল হুদা প্রমুখের প্রচেষ্টায় অবিভক্ত বাংলায় কোলকাতাকে কেন্দ্র করে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের সূত্রপাত ঘটে।
- কমরেড মুজাফফর আহমদ শুধু বাংলা নয়, ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৮৯৮.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন
  2. ভারতের পূর্ণ সংবিধান প্রণয়ন
  3. ভারতীয়দের জন্য পৃথক নির্বাচন
  4. সর্বজনীন ভোটাধিকার
সঠিক উত্তর:
সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন-১৯৩৫:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন হলো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত একটি আইন যা ভারতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে।
- এই আইনটি ১৯১৯ সালের আইনের ব্যর্থতার পর প্রণীত হয়।

⇒ বৈশিষ্ট্য:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ ভারতের সকল প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যসমূহ নিয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।
- এ আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় আইনসভা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট করা হয়। এর উচ্চকক্ষটি রাজ্যসভা (Council of state) ও নিম্নকক্ষটি ব্যবস্থাপক পরিষদ (House of Assembly) বলে অভিহিত হবে। উচ্চকক্ষের সর্বমোট প্রতিনিধি হবেন ২৬০ জন এবং নিম্নকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ৩৭৫ জন।
৩. এ আইনের মাধ্যমে শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয় যথা: কেন্দ্রীয় বিষয়, প্রাদেশিক বিষয় ও যুগ্ম বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত বিষয়সমূহ যথা: দেশরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক, মুদ্রা, আয়কর, যোগাযোগ, তথ্যদপ্তর প্রভৃতি ন্যস্ত করা হয়। অপরদিকে, প্রাদেশিক সরকারের হাতে প্রাদেশিক বিষয়াবলী যথা-আইনশৃংখলা, পুলিশ, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রভৃতি বিষয় পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া যুগ্মা তালিকাভুক্ত বিষয়সমূহ যথা- ফৌজদারি আইন, বিচার প্রণালী, উইল প্রভৃতি কেন্দ্র ও প্রদেশ উভয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত রাখা হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করে। প্রাদেশিক বিষয়সমূহের উপর প্রদেশের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হয় এবং প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে আইনসভার নিকট জবাবদিহি করার বিধান করা হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু করে। গভর্ণর জেনারেল ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের নিকট প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক সম্পর্ক, ধর্মীয় বিষয়, উপজাতি প্রভৃতি বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। অপরদিকে অন্যান্য বিষয়াবলী গভর্ণর জেনারেল ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত করা হয়।
- এ আইনে ভারতবর্ষের জন্য একটি ফেডারেল কোর্ট বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়। একজন প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে তা গঠিত হবে।
- এ আইন দ্বারা সিন্ধু ও উড়িষ্যা নামে দুটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংখ্যা অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখা হয়।
- এই আইনে বার্মাকে (বর্তমান মায়ানমার) ভারতবর্ষ থেকে পৃথক করা হয়।
- এ আইনের মাধ্যমে ভোটদানকে উৎসাহিত করা হয় এবং ভোটার হবার যোগ্যতা শিথিল করা হয়।
- এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলমানদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন বরাদ্দ রাখা হয়।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের যেকোন প্রকার সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিমার্জনের ক্ষমতা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতে রাখা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৮৯৯.
জগদ্দল বিহার কোথায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. নওগাঁ
  3. বান্দরবান
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা
- জগদ্দল বিহার নওগা জেলার ধামুরহাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি নির্মাণ করেন পাল রাজা রামপাল।
- একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীতে এই বিহার নির্মিত হয় বলো ধারণা করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৮,৯০০.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. ফিরোজ খান নুন
  4. ইস্কান্দার মির্জা
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।