বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭১ / ১২৪ · ৭,০০১৭,১০০ / ১২,৪২১

৭,০০১.
‘উন্নত মম শির’ শিল্পকর্মটি কাকে নিয়ে অঙ্কিত?
  1. শহীদ মীর মুগ্ধ
  2. শহীদ আবরার ফাহাদ
  3. শহীদ ওসমান হাদি
  4. শহীদ আবু সাঈদ
সঠিক উত্তর:
শহীদ আবু সাঈদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ আবু সাঈদ
ব্যাখ্যা

উন্নত মম শির:
- ‘উন্নত মম শির’ শিল্পকর্মটি শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত।

• এটি বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের সাহস ও অটল মনোভাবকে চিত্রিত করে।
- এর শিল্পী: শহীদ কবির।
- নামটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত লাইন "বল বীর বল উন্নত মম শির" থেকে অনুপ্রাণিত।

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনের সড়কে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ।
- ভ্যুত্থানের পরে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা যেসব গ্রাফিতি করেন, তাতে আরও অনেক শহীদের প্রতিকৃতির সঙ্গে দুই বাহু প্রসারিত আবু সাঈদ উঠে এসেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে।

উৎস: প্রথম আলো।

৭,০০২.
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) লর্ড কার্জন
  2. খ) লর্ড ক্লাইভ
  3. গ) জর্জ হ্যারিসন
  4. ঘ) লুই আইকান
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্লাইভ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করার পর কোম্পানির পক্ষে লর্ড ক্লাইভ বাংলার নবাব নজম - উদ্ - দৌলাকে কাঙ্ক্ষিত ৫৩ লক্ষ টাকা দেবার বিনিময়ে রাজস্ব আদায় এবং দেওয়ানি মামলার ভার গ্রহণ করলেন ।
- দেশ শাসনের দায়িত্ব আগের মতোই নবাবের হাতে রইলো। 
- এই ব্যবস্থা ইতিহাসে দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত ।
- এই ব্যবস্থায় বাংলার নবাব সামান্য বৃত্তিভোগী কর্মচারীতে পরিণত হলেন ।
- আর প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ইংরেজ কোম্পানি এদেশের প্রকৃত প্রভু হয়ে বসলেন ।
- নবাব ও কোম্পানির মধ্যে এই ক্ষমতা ভাগাভাগির ফলে দেশশাসন ও প্রজাসাধারনের মঙ্গল বিধানের দায়িত্ব কেউই পালন করত না।
- ফলে বাংলায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ দেখা দেয় ।
- ক্ষমতাহীন নবাব সেই বিশৃঙ্খলা দমনে ব্যর্থ হন ।
- কোম্পানি নিযুক্ত রাজস্ব বিভাগের দুই সহকারী রেজা খাঁ ও সিতাব রায়ের শোষণ ও অত্যাচারে প্রজাদের দুর্দশার অন্ত ছিল না ।
- পরিণতিতে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বাংলায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০০৩.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কে পরিচিত?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. ওয়াটসন
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড বেন্টিং
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে তিনি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হন।
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে এবং দ্বৈত শাসন প্রবর্তন হয়।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্ত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে লর্ড ক্লাইভের নাম উপমহাদেশের ইতিহাসে চিরকাল মনে থাকবে।
- প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন, এবং তৃতীয় পর্যায়ে নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০০৪.
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল-
  1. ক) হরিনাতে
  2. খ) হেজামারা
  3. গ) করিমগঞ্জ
  4. ঘ) মাসিমপুরে
সঠিক উত্তর:
ক) হরিনাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হরিনাতে
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল- হরিনাতে। 

• ১নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে
-  সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৭,০০৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের অধীনে ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ২নং
  3. গ) ১০নং
  4. ঘ) ১১নং
সঠিক উত্তর:
খ) ২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২নং
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের উদ্যোগে এই গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।

ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন:
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

উৎস: দৈনিক সমকাল
৭,০০৬.
বঙ্গবন্ধু কবে 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন? 
  1. ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ 
  2. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা: 
 
• ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। 
• ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু 'অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারি করেন। 
• এর মাধ্যমে তিনি দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। 
• ১২ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 
• একই দিনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
• সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর আস্থার পরিচয় বহন করে। 
• ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত হয়। 
• এই সরকার মাত্র তিন বছর সাত মাস তিন দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পায়। 
• এই স্বল্পতম সময়ে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে সম্মানজনক ভাবমূর্তি নির্মাণে অনন্যসাধারণ অবদান রাখেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০০৭.
‍মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ জেলা কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৩ নং সেক্টর
  2. ৬ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে ১১ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমদিকে মেজর এম. আবু তাহের এবং পরবর্তীতে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।
- ১১ নং সেক্টরের সদরদপ্তর ছিলো মহেন্দ্রগঞ্জ। এই সেক্টরের অধীনে আটটি সাব-সেক্টর ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৭,০০৮.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?
  1. আবুল হাসেম 
  2. চেজীধুরী খালেকুজ্জামান
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাব:
- বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন।
- ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০০৯.
সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭০ সালে
  3. ১৯৬২ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি: 
- ১৯৭০ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ষড়যন্ত্র শুরু করে।
- জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বার বার স্থগিত ঘোষণা করলে ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ফলে বাঙালির স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭,০১০.
প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' কবে গঠিত হয়?
  1. অক্টোবর, ১৯৪৭ 
  2. সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
  3. সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ 
  4. ডিসেম্বর, ১৯৪৭ 
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর, ১৯৪৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর, ১৯৪৭ 
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- বাংলাভাষা ও বাংলালিপি সম্পর্কে দায়িত্বজ্ঞানহীন অশালীন উক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে তমদ্দুন মজলিশের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এ পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন মজলিশ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএসএম নূরুল হক ভূইয়া।
- এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন তমদ্দুন মজলিশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কাশেম।
- ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বে আবুল কাশেম ছিলেন আন্দোলনের মধ্যমনি।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তমদ্দুন মজলিশ কর্মী এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় মজলিশ কর্মী শামসুল আলমকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ’ নামে একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]

৭,০১১.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা কোনটি?
  1. বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সী
  2. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা
  3. বাংলাদেশ নিউজ সার্ভিস
  4. ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা
ব্যাখ্যা
সংবাদ সংস্থা: 
- সংবাদ সংস্থা  সংবাদ সংগ্রহ করে সংবাদপত্র, সাময়িকী ও ইলেট্রনিক্স সম্প্রচার কেন্দ্রগুলির মধ্যে বণ্টন করার প্রতিষ্ঠান।
- দি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) পাকিস্তানের প্রথম সংবাদ সংস্থা, ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- একই বছরে, ব্যক্তিমালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড প্রেস অব পাকিস্তান (ইউপিপি) কার্যক্রম শুরু করে করাচি থেকে। ঢাকায় এ সংস্থার একটি শাখা ছিল।
- আরেকটি ব্যক্তি মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা পাকিস্তান প্রেস এজেন্সি নামে (পিপিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এটি পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (পিপিআই) নাম গ্রহণ করে।
- পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম স্থানীয় মালিকানাধীন স্বাধীন সংবাদ সংস্থা ছিল দি ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা)।
- ১৯৭০ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে নয় মাস এ সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এপিপি ও পিপিআই ব্যুরো পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় এবং এপিপি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) নামে রূপান্তরিত হয়। 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস):
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) দেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (রাষ্ট্রায়ত্ত)।
- এটি ১৯৭২ সালের ১জানুয়ারি চালু হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ওয়েবসাইট।
বাংলাপিডিয়া।
৭,০১২.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'আগামী'-এর নির্মাতা কে?
  1. মোস্তফা কামাল
  2. মোরশেদুল ইসলাম
  3. হাবিবুল ইসলাম হাবিব
  4. এনায়েত করিম বাবুল
সঠিক উত্তর:
মোরশেদুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আগামী।
- চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন মোরশেদুল ইসলাম।
- এটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৭,০১৩.
কোন যুদ্ধের পর এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. প্লাসির যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধের পর এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:

- এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০১৪.
বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজনীতির নান্দনিক শিল্পী’ বলেছেন -
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) মাওলানা ভাসানী
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) শেখ হাসিনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ হাসিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজনীতির নান্দনিক শিল্পী’ বলেছেন - শেখ হাসিনা। 
৭,০১৫.
সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মান সিংহ
  2. চাণক্য
  3. টোডরমল
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
চাণক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাণক্য
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।

⇒ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

⇒ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সম্ভবত ২৪ বছর রাজত্ব করেন।
- জৈন সূত্র থেকে জানা যায় যে, পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টির দরুন দুর্ভিক্ষ হলে চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং
- তিনি মহীশূরের শ্রাবণবেলগোলা নামক স্থানে অনশন করে জৈনরীতিতে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
⇒ সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভা:
- প্রধানমন্ত্রী: আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী: টোডরমল।
- সেনাপ্রধান: মান সিংহ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১৬.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না-
  1. ক) এএইচএম কামরুজ্জামান
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৭,০১৭.
পরীবিবি কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা 
  2. শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. আজিমুসশানের মাতা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খানের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খানের কন্যা
ব্যাখ্যা

পরী বিবি:
- পরী বিবি বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- তাঁর আসল নাম ইরান দুখত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকাকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে ১৬১৮ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় ছেলে আজম শাহ নির্মাণ করেন লালবাগ দুর্গ। 
- লালবাগ কেল্লা ১৭শ শতকে নির্মিত একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ স্থাপনা।
- এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ সালে, মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ কর্তৃক।
- মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন। কিন্তু ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে কন্যা বিবি পরীর অকাল মুত্যৃতে তিনি দুর্গ নির্মাণ একটি অশুভ লক্ষণ ভেবে বন্ধ করে দেন। দুর্গের অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়। শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

৭,০১৮.
লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে কার সমাধি রয়েছে?
  1. ক) শাহজাহানের স্ত্রী
  2. খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. গ) ঈসা খানের বোন
  4. ঘ) মীর জুমলার কন্যা
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
ব্যাখ্যা
ঢাকার লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়্স্তা খানের কন্যা ইরান দুখত রহমত বানু এর সমাধি অবস্থিত।
তিনি পরীবিবি নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র মুহাম্মদ আযম এর স্ত্রী।
মৃত্যুর পর তাকে লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে সমাহিত করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৭,০১৯.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
  4. ঘ) ঢাকা প্রকাশ
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র হলো রঙ্গপুর বার্তাবহ।
এটি ছিলো একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
১৮৫৭ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,০২০.
যুক্তফ্রন্টের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- ১৫ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।

উৎস: ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০২১.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কয়জন?
  1. ১৭৩ জন
  2. ১৭৫ জন
  3. ১৭৪ জন
  4. ১৭২ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ ধরনে বিভক্ত।

যথা -
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
বীর উত্তম ৬৭ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
বীর বিক্রম ১৭৪ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।

উল্লেখ্য,
পূর্বে মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন ছিল, কিন্তু ৪ জনের খেতাব বাতিল হওয়ায় বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৭,০২২.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সালতানাতের প্রথম রাজধানী ছিল -
  1. গৌড়
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. পান্ডুয়া
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।

উল্লেখ্য,
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- ফখরুদ্দিনের রাজত্বকালকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া [Link]
২. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০২৩.
কত সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে?
  1. ১৭৫৭
  2. ১৮৫৩
  3. ১৮৫৭
  4. ১৮৫৮
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬১২ সালে।
- কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে ১৭০০ সালে।
- পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৭,০২৪.
'বুলবুল-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. মীর তকি
  2. গালিব
  3. ইকবাল
  4. তানসেন
সঠিক উত্তর:
তানসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানসেন
ব্যাখ্যা

→ তানসেনকে 'বুলবুল-ই-হিন্দ' বলা হয়।

তানসেন:
- তানসেন ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ।
- তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের রাজদরবারের সঙ্গীতজ্ঞ ও সভাকবি ছিলেন।
- তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
- তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজদরবারের নবরত্নের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
- তিনি দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৭,০২৫.
যুক্তফ্রন্ট ঘোষিত ২১ দফার ইশতেহারের দ্বিতীয় দফা ছিলো কোনটি?
  1. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
  2. জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ
  3. পাট শিল্পের জাতীয়করণ
  4. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন
সঠিক উত্তর:
জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনি জোট ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে।
- এই ইশতেহার প্রণয়নে ‍মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
২১ দফা ইশতেহারের দফা সমূহ:
- প্রথম দফা : বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
- দ্বিতীয় দফা : জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ
- তৃতীয় দফা : পাট শিল্পের জাতীয়করণ
- চতুর্থ দফা : সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭,০২৬.
জহির রায়হান নির্মিত চলচ্চিত্র না কোনটি?
  1. ক) সঙ্গম
  2. খ) ভাত দে
  3. গ) বাহানা
  4. ঘ) আনোয়ারা
সঠিক উত্তর:
খ) ভাত দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাত দে
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান -এর চলচ্চিত্রসমূহঃ কখনো আসে নি (প্রথম ছবি), সঙ্গম (তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের প্রথম টেকনিকালার ছবি), বাহানা (প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি), কাঁচের দেয়াল ( নিগার পুরস্কার পাওয়া), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), বেহুলা, আনোয়ারা। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রামান্য চিত্র - Stop Genocide নির্মান করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০২৭.
প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কী?
  1. বরিশাল
  2. কুমিল্লা
  3. রাজশাহী
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

অন্যদিকে
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। 
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০২৮.
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) হাছন রাজা
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) শাহ আব্দুল করিম
সঠিক উত্তর:
গ) লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালন শাহ
ব্যাখ্যা
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ গানটির রচয়িতা বাউল সম্রাট খ্যাত লালন শাহ।
তার অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’
- ‘মিলন হবে কত দিনে’
- ‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়’
- ‘তিন পাগলের মেলা’
- ‘সময় গেলে সাধন হবে না’।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,০২৯.
ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার কোন শাসনামলে ভারতে এসেছিলেন?
  1. পাল
  2. সেন
  3. গুপ্ত
  4. মুঘল
সঠিক উত্তর:
মুঘল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার মুঘল শাসনামলে ভারতে এসেছিলেন।

⇒ তিনি ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩০.
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামার কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. সাভার
সঠিক উত্তর:
সাভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাভার
ব্যাখ্যা
• কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন কেন্দ্র:
- কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার ঢাকার — সাভারে অবস্থিত একটি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানে উন্নত জাতের ষাঁড়ের জাত উন্নয়ন এবং পশুখাদ্য বিষয়ে গবেষণা করা হয়।

সূত্র: কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামার ওয়েবসাইট।
৭,০৩১.
১৯৫৯ সালে আইয়ুব খান কোন হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নেন?
  1. আসামিজ
  2. আরবি
  3. উর্দু
  4. রোমান
সঠিক উত্তর:
রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- আইয়ুব খান বাংলা ভাষার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন।
- তিনি রোমান হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নেন (১৯৫৯)।
- বাংলা একাডেমির তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ আলী আহসানের সভাপতিত্বে 'বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি' গঠিত হয়।
- কিন্তু বাঙালি প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী মহলে প্রচন্ড বিরোধিতায় আইয়ুবের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩২.
বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা

বঙ্গ: 
- বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করতো। তাই জনপদটি পরিচিত 'বঙ্গ' নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি বিক্রমপুর ও আরেকটি নাব্য।
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, ঢাকা, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি এ নব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

৭,০৩৩.
'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক—
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শামছুল হক
  3. আতাউর রহমান খান
  4. আবুল হাশিম
সঠিক উত্তর:
শামছুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামছুল হক
ব্যাখ্যা
• আওয়ামী মুসলীম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি - মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক - সামছুল হক
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি - আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান।

- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৭,০৩৪.
বাংলাদেশকে 'বুলগাকপুর' নামে অভিহিত করেন কে?
  1. ইবনে বতুতা
  2. জিয়াউদ্দিন বারানী
  3. আবুল ফজল
  4. তানসেন
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা
বাংলায় তুর্কি শাসন: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক,
- আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৩৫.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে ছিলেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৭,০৩৬.
কোন যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের গোড়াপত্তন হয়?
  1. ক) পানিপথের
  2. খ) পলাশীর
  3. গ) বক্সারের
  4. ঘ) পূনিয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) পলাশীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পলাশীর
ব্যাখ্যা

- নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর তাঁর দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাবি মসনদে আরোহন করেন।
- ২৩ জুন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হলে ইংরেজরা ধীরে ধীরে ভারতবর্ষ শাসন করতে থাকে।
- এই যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের গোড়াপত্তন হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭,০৩৭.
১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি পল্টন ময়দানে কে ঘোষণা দেন উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা?
  1. ক) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) লিয়াকত আলী খান
  3. গ) খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. ঘ) নুরুল আমিন
সঠিক উত্তর:
গ) খাজা নাজিমউদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খাজা নাজিমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় ঘোষণা করেন যে,
 “প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু।”

- তার এই ঘোষণায় উপস্থিত জনতা সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং রাষ্টভাষা বাংলা চাই শ্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করেন।

- ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালিত হয়। ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধিদের এক সভায় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

- এর আগে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪শে মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ঘোষণা করেন, উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উভয় স্থানেই তার এই ঘোষণা উপস্থিত জনতা ও ছাত্ররা না না ধ্বনি দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,০৩৮.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কোন শাসক?
  1. বখতিয়ার খিলজি
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ
  4. কুতুব উদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খিলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খিলজি
ব্যাখ্যা

• বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী  ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 

- ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী বিহার আক্রমণ করেন এবং ওদন্তপুরী বৌদ্ধবিহারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
- অতঃপর তারা সে স্থান থেকে মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রত্যাবর্তন করে।
- তিনি কুতুবউদ্দীন আইবকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মূল্যবান উপহার প্রদান করেন। 
- অপরপক্ষে কুতুবউদ্দীনও তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।
- অতঃপর ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চলের মধ্য নদীয়া আক্রমন করেন।
- রাজা লক্ষ্মণসেন নৌপথে তাঁর রাজধানী বিক্রমপুরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- ইতোমধ্যে বখতিয়ার খলজীর মূল বাহিনীও এসে পড়েছিল।
- ফলে নদীয়া মুসলমানদের  অধিকারে আসে।

- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

৭,০৩৯.
বাংলাদেশে খেতাবপ্রাপ্ত বীর বিক্রম কত জন?
  1. ক) ৬৮ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ৪২৬ জন
  4. ঘ) ১৭৫ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৫ জন
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর খেতাব বাতিল করে।

এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

- স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে, ২৪ মার্চ নতুন প্রজ্ঞাপনে জনাব আবদুল খালেকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়সহ তাঁকে বীর বিক্রম উপাধি দেওয়া হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)

৭,০৪০.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ৩য় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. ক) বীর প্রতীক
  2. খ) বীর উত্তম
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীর শ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
গ) বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ৩য় বীরত্বসূচক খেতাব বীর বিক্রম। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেছিল। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জন বীর উত্তম, ১৭৫ জন বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জন কে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল। [Source: Banglapedia]
৭,০৪১.
কোন সুলতানের শাসনামলে হযরত শাহাজালাল (র.) সিলেটে আগমন করেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ
  3. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ শাসনামলে হযরত শাহাজালাল (র) সিলেটে আগমন করেন।

• শাহ জালাল (র.):
- শাহ জালাল (র.) বাংলার একজন প্রখ্যাত সুফি দরবেশ।
-সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল ৩৬০ জন সাথী ও মুরিদ নিয়ে বাংলায় আসেন।
- হযরত শাহজালাল (র.) আরবের ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন।
- শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানে হযরত শাহ জালাল মুসলমান সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন।
- মুসলমান সৈন্যরা জয়লাভ করে।
- গৌর গোবিন্দ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং সিলেট মুসলমানদের শাসনাধীন হয়।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া। 
৭,০৪২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামীকে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) সার্জেন্ট শামসুল হক
  2. খ) হাবিলদার আজিজুল হক
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. ঘ) স্টুয়ার্ট মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া
৭,০৪৩.
বাংলাদেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে -
  1. ৮টি
  2. ১১টি
  3. ১৩টি 
  4. ১৭টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

⇒ এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী। 

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৭,০৪৪.
নিচের কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
  3. গ) বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠন
  4. ঘ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন
সঠিক উত্তর:
খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহকে বলা হয় ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। 

ফলাফল ও মূল্যায়ন : 
- সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল সুদূরপ্রসারী। 
- এ বিদ্রোহ সফল না হলেও এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মূলে প্রচন্ড আঘাত হানে।
-  ১৮৫৮ সালে বিদ্রোহ শেষে এক ঘোষণা বলে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন এবং অবসান হয় একশ বছরের কোম্পানি শাসন। 
- ব্রিটিশ রাজ ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি' বাতিল ঘোষণা করে। 
- সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।
-  বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়। 
- ভারতবর্ষের বিষয়াবলী দেখাশোনার জন্য ‘ভাইসরয়’ নামক একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। এভাবে ইংরেজরা তাদের শাসনকার্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৪৫.
২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় -
  1. রজত জয়ন্তী
  2. সুবর্ণ জয়ন্তী
  3. হীরক জয়ন্তী
  4. প্লাটিনাম জয়ন্তী
সঠিক উত্তর:
রজত জয়ন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রজত জয়ন্তী
ব্যাখ্যা
জয়ন্তী বা জুবিলী:
- প্রকৃত পক্ষে জুবিলীর (Jubilee) অর্থ হলো উৎসব মুখর পরিবেশে জন্মতিথি পালন।
• ২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয়: রজত জয়ন্তী (Silver Jubilee),
• ৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: সুবর্ণ জয়ন্তী / স্বর্ণ জয়ন্তী (Golden Jubilee),
• ৬০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: হীরক জয়ন্তী (Diamond Jubilee),
• ৭৫ বছর পূর্তিকে বলা হয়: প্লাটিনাম জয়ন্তী (Platinum Jubilee),
• ১০০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: শতবর্ষ (Centenary jubilee),
• ১৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: সার্ধশত (Sesquicentennial),
• ২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: দ্বিশতবর্ষ (Bicentenary/ bicentennial)।

উৎস: প্রথম আলো।
৭,০৪৬.
ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) একুশের গল্প
  2. খ) আরেক ফাল্গুন
  3. গ) একুশে ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ওরা প্রাণ দিলো
সঠিক উত্তর:
গ) একুশে ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারি'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। 

হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে। 
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। 
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা। 
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
- 'ওরা প্রাণ দিলো' একুশের প্রথম কবিতা সংকলন।
- 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হানের একুশের প্রথম উপন্যাস। 
- 'একুশের গল্প' গ্রন্থটির রচয়িতা- জহির রায়হান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০৪৭.
বাংলাদেশের LNG প্রথম টার্মিনালের চুক্তির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১৫ বছর
  2. ১৮ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২৫ বছর
সঠিক উত্তর:
১৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের LNG প্রথম টার্মিনাল:
- Excelerate Energy Bangladesh Limited (EEBL) কর্তৃক স্থাপিত MLNG টার্মিনাল।
- চুক্তি স্বাক্ষর : ১৮ জুলাই, ২০১৬।
- বাস্তবায়ন : Build Own Operate and Transfer (BOOT) ভিত্তিতে।
- অবস্থান : কক্সবাজারের মহেশখালীতে (21º32’04’’ N; 91º49’07’’E)। 
- Floating Storage Re-gasification Unit (FSRU) এর নাম : Excellence।
- আকার : দৈর্ঘ্যে ২৭৭ মিটার, প্রস্থে ৪৪ মিটার এবং ড্রাফট ১২.৫ মিটার।
- ধারনক্ষমতা : ১৩৮,০০০ ঘনমিটার।
- রিগ্যাসিফিকেশন ক্যাপাসিটি : ৫০০ এমএমএসসিএফডি।
- চুক্তির মেয়াদ : ১৫(পনের) বছর (২০১৮-২০৩২)।
- গ্যাস সরবরাহ শুরু : ১৯ আগষ্ট, ২০১৮।
- শুরু থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পরিমান : ৫৯৭,৭৮৬.৭১ এমএমএসসিএফ।
- টার্মিনাল হস্তান্তর : ১৫ বছর পর কোন ধরনের চার্জ  গ্রহন ব্যাতিত FSRU টি EEBL পেট্রোবাংলার নিকট হস্তান্তর করবে।

উৎস: রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড।
৭,০৪৮.
শেখ মুজিবুর রহমানকে কত সালে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১৯৬৯
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৫২
  4. ঘ) ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রদত্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমদ তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ অভিধায় ভূষিত করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭,০৪৯.
১৯৭১ সালে কতজন পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পন করে?
  1. ক) ৯৩ হাজার
  2. খ) ৯০ হাজার
  3. গ) ৮৮ হাজার
  4. ঘ) ৮৭ হাজার
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৩ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
- পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল করিম খন্দকার (এ.কে খন্দকার)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৭,০৫০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কতজনকে 'বীরউত্তম' খেতাবে ভূষিত করেন?
  1. ৪২৬ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,০৫১.
মুজিবনগর সরকারের বহির্বিশ্বের বিশেষ দূত হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল?
  1. ক) বিচারপতি আবু রইস চৌধুরী
  2. খ) বিচারপতি এম. এস. রহমান
  3. গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) বিচারপতি আবু জামান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৫২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) সূর্যদীঘল বাড়ি
  2. খ) ধীরে বহে মেঘনা
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
খ) ধীরে বহে মেঘনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধীরে বহে মেঘনা
ব্যাখ্যা
অপশনসমূহের মধ্যে ‘ধীরে বহে মেঘনা’ হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। এর পরিচালক আলমগীর কবির। এটি ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায়। তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩), সূর্যদীঘল বাড়ি (১৯৭৯) এবং হাজার বছর ধরে (২০০৫) চলচ্চিত্রের পরিচালক যথাক্রমে ঋতিৃক ঘটক, নিয়ামত আলী শাকের এবং কোহিনুর আক্তার সুচন্দা।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিডিনিউজ২৪)
৭,০৫৩.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. জার্মানী
  3. স্পেন
  4. গ্রিস
সঠিক উত্তর:
জার্মানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানী
ব্যাখ্যা
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভূটান ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- ভারতও একই দিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।
- স্পেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১২ মে ১৯৭২
- গ্রিস বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১১ মার্চ ১৯৭২।
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।

উৎস: বাংলাদেশ প্রতিদিন। [লিঙ্ক]
৭,০৫৪.
আগরতলা মামলার ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন -
  1. আবদুস সালাম খান
  2. মকসুমুল হাকিম
  3. এস.এ.রহমান
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
এস.এ.রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস.এ.রহমান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৫৫.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. ফরায়েজী আন্দোলন
  3. ওয়াহাবি আন্দোলন
  4. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত, আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।

⇒ উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সঠিক পথ নির্দেশ করাই এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- বাংলার ওয়াহাবিরাও তিতুমীরের নেতৃত্বে একই উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত 'তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া' আন্দোলন বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তাঁর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান, বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। ফলে কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠে শাসক-শোষক, জমিদার শ্রেণি।

⇒ জমিদারদের প্ররোচনায় ইংরেজ সরকার তিতুমীর এবং তার অনুসারীদের দমনের জন্য বারাসাতের ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজেন্ডারের নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠায়। কিন্তু তারা তিতুমীরের বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ১৫ জন ইংরেজ সৈন্য নিহত ও বহু আহত হয়। এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন বড় লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। শেষ পর্যন্ত ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে নিহত হন। এ ভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলনের। 

⇒ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর হজকরার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন। দেশের ফিরে তিনি ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৫৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোন স্থানে?
  1. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. রাওয়ালপিন্ডি
  3. লাহোর
  4. করাচি
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫৭.
ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরে অধীন অংশ নেয়?
  1. ১০নং
  2. ৪নং
  3. ২নং 
  4. ১নং
সঠিক উত্তর:
২নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং 
ব্যাখ্যা

'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৭,০৫৮.
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০ লাভ করে কোন সিনেমাটি?
  1. ক) গোর
  2. খ) বীর
  3. গ) বিশ্বসুন্দরী
  4. ঘ) ক + গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০ লাভ করেছে চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত বিশ্বসুন্দরী ও গাজী রাকায়েত পরিচালিত গোর চলচ্চিত্র দুটি। গত ২৩শে মার্চ ২০২২ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২০ প্রদান করা হয়।

পুরস্কার প্রাপ্তরা হলো:
- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক : গাজী রাকায়েত হোসেন (গোর)
- সেরা অভিনেতা : সিয়াম (বিশ্বসুন্দরী)
- সেরা অভিনেত্রী : দীপান্বিতা মার্টিন (গোর)
- শ্রেষ্ঠ খল-অভিনেতা - মো. সাহিদ হাসান মিশা সওদাগর (বীর) ।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক কালেরকণ্ঠ)
৭,০৫৯.
কোন সরকারের সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়?
  1. আইয়ুব খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. মোনায়েম খান
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৬০.
ক্র্যাক প্লাটুন কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ১ নং সেক্টর
  2. খ) ২ নং সেক্টর
  3. গ) ৩ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের উদ্যোগে এই গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল)
৭,০৬১.
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের হাতে বন্দি করার অভিযানের নাম কী?
  1. Operation Close Door
  2. Operation Blitz
  3. Operation Big Bird
  4. Operation Searchlight
সঠিক উত্তর:
Operation Big Bird
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Operation Big Bird
ব্যাখ্যা
অপারেশন বিগ বার্ড:

- ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম অপারেশন 'বিগ বার্ড'।
- ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- সেই কালরাত্রিতেই জেনারেল রাও ফরমান আলী খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সামরিক অভিযানের কোড ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঢাকায় ও দেশের অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো করা হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
- এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর জানায়-‘বিগ বার্ড ইন দ্য কেজ, অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার’ (সূত্র : উইটনেস টু স্যারেন্ডার; লেখক : সালিক সিদ্দিক)।
- অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে তিরান্নবই হাজার পাকিস্তানি সেনাসদস্য ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর, ১০ জানুয়ারি ২০২২।
৭,০৬২.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. সংগ্রাম
  2. ওরা ১১ জন
  3. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
  4. আবার তোরা মানুষ হ
সঠিক উত্তর:
ওরা ১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা ১১ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র: ওরা ১১ জন।
- এর নির্মাতা চাষি নজরুল ইসলাম।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে।
- এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’।

আরো কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’।
- সংগ্রাম, নাটক নির্মাণ করেন চাষি নজরুল ইসলাম।
- আবার তোরা মানুষ হ, চলচ্চিত্রটির প্রযোজক খান আতাউর রহমান। 
- আলোর মিছিল, এই সিনেমার নির্মাতা নারায়ণ ঘোষ মিতা।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
৭,০৬৩.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. নয়
  2. দশ
  3. এগার
  4. বার
সঠিক উত্তর:
এগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
• সেক্টর নং ১: ৫টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
• সেক্টর নং ২: এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
• সেক্টর নং ৩: এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৪: এই সেক্টরে ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৫: ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
• সেক্টর নং ৬: এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৭: এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর। 
• সেক্টর নং ৮: এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৯: এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ১০: এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
• সেক্টর নং ১১: এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,০৬৪.
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?
  1. ২০ কি.মি.
  2. ২৪ কি.মি.
  3. ২০.১ কি.মি.
  4. ২২.১ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
২৪ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ কি.মি.
ব্যাখ্যা
- চার লেন বিশিষ্ট এই এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কিলোমিটার।
- এয়ারপোর্ট-আব্দুল্লাহপুর-ধউর-বড় আশুলিয়া-জিরাবো-বাইপাইল হয়ে ঢাকা ইপিজেড পর্যন্ত হবে এর বিস্তৃতি। 
- ২০২৬ সালের জুনের ভেতর শেষ হবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ।
- প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে ঢাকার এই দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
উৎস: www.banglanews24.com
৭,০৬৫.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ নিচের কোন জনপদে ভ্রমণ করেন?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) বরেন্দ্র
  4. ঘ) রাঢ়
সঠিক উত্তর:
ক) সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমতট
ব্যাখ্যা
- চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ প্রাচীন বাংলার সমতট ও হরিকেন জনপদে ৭ম শতকে ভ্রমণ করেন।
• সমতট:

- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
কুমিল্লা, নোয়াখালী, ত্রিপুরা 
- রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়কামতা।
-  ৭ম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ভ্রমণ করেন।
• হরিকেল:
- সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
৭ম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ভ্রমণ করেন।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৬৬.
'করতলব খান' কার উপাধি?
  1. ইসলাম খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. মুর্শিদকুলী খান
  4. আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা

মুর্শিদকুলী খান ও নবাবী আমলের সূচনা:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- মুর্শিদকুলী খানের প্রাথমিক জীবন খুবই চমকপ্রদ।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- পরে তিনি সুবেদার হন।
- মুর্শিদকুলী খানের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যুগোপযোগী।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। 
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৬৭.
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চায়ের চাষ শুরু হয় কোথায়?
  1. ফটিকছড়ি
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. পাহাড়তলী
  4. মালিনীছড়া
সঠিক উত্তর:
মালিনীছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিনীছড়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চা বাগান গড়ে উঠে সিলেটের মালিনীছড়ায় ১৮৫৪ সালে।
- বর্তমানে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে মোট ১৬৭টি চা বাগান ও টি এস্টেট রয়েছে।
- সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ চা বোর্ড)
৭,০৬৮.
'টিয়ার্স অব ফায়ার' তথ্যচিত্রটির পরিচালক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সন্তু রায়
  3. সোহেল রানা
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
সন্তু রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্তু রায়
ব্যাখ্যা
টিয়ার্স অব ফায়ার:
- 'টিয়ার্স অব ফায়ার' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র।
- সন্তু রায় পরিচালিত 'টিয়ার্স অফ ফায়ার' ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারি।
- বুদ্ধিজীবীসহ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়রা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নয় মাসের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত নৃশংসতার ভয়াবহ বিবরণ দেয়।

উৎস: ৯ ডিসেম্বর, ২০১৪, The daily Star.
৭,০৬৯.
শহীদ শামসুজ্জোহা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন?
  1. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ শামসুজ্জোহা দিবস।
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ড. শামসুজ্জোহা।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী হটাও আন্দোলন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিসহ আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনিই পাক-হানাদারদের হাতে নিহত প্রথম বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।

৭,০৭০.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সম্বাদ কৌমুদী
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. বঙ্গদূত
  4. সম্বাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
-'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সমাচার দর্পণ পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়৷

- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- বঙ্গদূত পত্রিকার সম্পাদক - নীলমণি হালদার৷
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৭,০৭১.
ভারতবর্ষে 'জিজিয়া কর' রহিত করেন কে?
  1. ফারুখসিয়ার
  2. জাহাঙ্গীর
  3. শাহজাহান
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর ।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহন করেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মুঘল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলেই 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৭,০৭২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ’তেলিয়াপাড়া রণকৌশল’ কোন জেলায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. মৌলভীবাজার 
  2. সুনামগঞ্জ
  3. হবিগঞ্জ 
  4. কিশোরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
- তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার গঠনের পূর্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা) তেলিয়াপাড়ায় এক চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা, আনসার, পুলিশ, সিএসপি অফিসার এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের নিয়ে যে যুদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেটি 'তেলিয়াপাড়া রণকৌশল' নামে পরিচিত।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

⇒ এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা।

৭,০৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম যে খেতাব ভূষিত হন!
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীরউত্তম
  3. বীরবিক্রম
  4. বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীরপ্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরপ্রতীক
ব্যাখ্যা
খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা:

- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন।
- বীর উত্তম ৬৮ জন।
- বীর বিক্রম ১৭৫ জন।
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও তারামন বিবি 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৭,০৭৪.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার হলেন-
  1. ক) সমাজ সংস্কারক
  2. খ) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
  3. গ) নীল বিদ্রোহের নেত্রী
  4. ঘ) প্রথম ভারতীয় মহিলা বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
ব্যাখ্যা
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯১১-১৯৩২ খ্রি.) হলেন বাংলার একজন ব্রিটিশবিরোধী নারী বিপ্লবী।
- তিনি মাস্টার দা সূর্যসেনের সহচর ছিলেন।
- প্রীতিলতা ১৯২৭ সালে চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয় প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ১৯২৯ সালে ঢাকা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৩১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডিস্টিংশনসহ গ্রাজুয়েশন করেন।
- ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেন এবং ইংরেজদের নিকট ধরা পড়া এড়াতে সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,০৭৫.
”কৈবর্ত বিদ্রোহ” সংঘটিত হয়েছিলো কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সমতট
  2. খ) হরিকেল
  3. গ) রাঢ়
  4. ঘ) বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ
- একে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- যদিও কৈবর্ত বিদ্রোহ শুধুই জনবিদ্রোহ ছিল না, বরং তাতে যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন সামন্তদের একটি বড় অংশ।
- তার পরও বাংলার ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ একটি জনবিদ্রোহ হিসেবেই ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়।
- অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
- পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
- রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ সম্পর্কে জানার একমাত্র উৎস হচ্ছে সন্ধ্যাকর নন্দীর বিখ্যাত কাব্য রামচরিতম্। এ কাব্যের প্রধান বিষয় হলো বরেন্দ্রের পতন এবং রামপাল কর্তৃক তা পুনরুদ্ধার। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

 
৭,০৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
  2. খ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  3. গ) কর্নেল (অব.) আবদুর রহমান
  4. ঘ) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ:
 - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।
- ঐদিন হানাদার বাহিনী তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- আমরা লাভ করি প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে.জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
- রেসকোর্স ময়দানের খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল অরোরা এবং পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল এ.এ.কে নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বন্দী করা হয় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সদস্যকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি এবং  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৭৭.
মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা শহর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে ছিল- ঢাকা।

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- তার মধ্যে মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
- ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
- সিলেট- ৪ নং সেক্টর,
- রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
- বরিশাল - ৮ নং সেক্টর,

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৭৮.
মুজিবনগর দিবস কোনটি?
  1. ক) ১৭ মার্চ
  2. খ) ১৭ এপ্রিল
  3. গ) ১৭ মে
  4. ঘ) ১৭ জুন
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর দিবস:

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার - ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত। 
- ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো, ১৭ এপ্রিল ২০১২।
৭,০৭৯.
যুক্তফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা ছিল কী ছিল?
  1. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
  2. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ
  3. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা
  4. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা
সঠিক উত্তর:
বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের দফা:
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
দফাগুলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্‌বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৮০.
ইউনেস্কো কত সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৭,০৮১.
কোন সম্রাটগণ উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন?
  1. কুষাণ সম্রাটগণ
  2. সেন সম্রাটগণ
  3. শুঙ্গ সম্রাটগণ
  4. মৌর্য সম্রাটগণ
সঠিক উত্তর:
কুষাণ সম্রাটগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষাণ সম্রাটগণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।

⇒ কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণমুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন।

উল্লেখ্য,
- কুষাণ স্বর্ণমুদ্রা ভারতের অন্যান্য স্থানে কুষাণ শাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা আর বাংলায় প্রাপ্ত কুষাণ মুদ্রার অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে।
- বিশেষত, বাংলা সরাসরি কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
- তবুও বাংলা থেকে অগণিত কুষাণ-মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৮২.
বিশ্ব বিখ্যাত 'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি বাংলাদেশের কোন এলাকা থেকে শুরু হয়েছে?
  1. ক) কুমিল্লা জেলার দাউদকান্তি
  2. খ) ঢাকা জেলার রামপুরা
  3. গ) যশোর জেলার ঝিকরগাছা
  4. ঘ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ষোল শতকে সুলতান শেরশাহ কর্তৃক নির্মিত বাংলার সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত সুদীর্ঘ সড়ক।এ দীর্ঘ সড়ক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক কাজে গতি সৃষ্টি করা। এ ছাড়া, প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিক সামনে রেখে সমগ্র সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নিতবিধানও এর লক্ষ্য ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭,০৮৩.
কার নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' গঠিত হয়?
  1. ক) অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. গ) শাহেদ আলী
  4. ঘ) আবদুল গফুর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ

- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় ‘পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ’।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭,০৮৪.
পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে সর্বপ্রথম তুলে ধরেন কে?
  1. ক) অ্যান্থনি মাসকারেনহাস
  2. খ) সাইমন ড্রিং
  3. গ) মার্ক টালি
  4. ঘ) ডেভিট ফ্রস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) সাইমন ড্রিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের সময় ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।

পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন।

এই ঘটনার পর তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ট্যাংকে চড়ে তিনি ঢাকায় প্রবেশ করেন। গত ১৬ জুলাই ২০২১ সায়মন ড্রিং রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
৭,০৮৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য-
  1. স্ফুলিঙ্গ
  2. চেতনা
  3. বিজয় কেতন
  4. স্মৃতি চিরন্তন
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ড. শামসুজ্জোহা।
- এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী হটাও আন্দোলন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিসহ আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
৭,০৮৬.
গৌড়ের ’ছোট সোনামসজিদ' কার শাসনামালে নির্মিত হয়েছিল?
  1. ফকরুদ্দিন মোবারক শাহ
  2. নুসরাত শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

ছোট সোনামসজিদ: 
- গৌড় শহরের দক্ষিণ প্রান্তে বর্তমান ফিরোজাবাদ গ্রামে 'ছোট সোনামসজিদ' নির্মিত হয়েছিল।
- এ মসজিদটি ছিল আকারে ছোট। তবে এ মসজিদেও সোনালি রঙের গিলটির কারুকার্য ছিল।
- সম্ভবত এ কারণেই এটি ছোট সোনা মসজিদ নামে পরিচিত।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে জনৈক ওয়ালি মুহাম্মদ এটির নির্মাতা ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বড় সোনা মসজিদের আর এক নাম 'বারোদুয়ারী মসজিদ'।
- এতে বৃহৎ বারোটি দরজা ছিল। এ মসজিদে সোনালি রঙের গিলটি করা কারুকার্য ছিল।
- সম্ভবত এজন্যই এটি সোনা মসজিদ নামে অভিহিত হতো। এ মসজিদটি গৌড়ের বৃহত্তম মসজিদ।
- আসাম বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য হুসেন শাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- ১৫২৭ সালে নসরত শাহ এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৮৭.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক কী ছিল?
  1. হারিকেন
  2. ধানের শীষ
  3. মাথাল
  4. নৌকা
সঠিক উত্তর:
নৌকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকা
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে। 
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার। 

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোট:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।
- মুসলমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম লীগ, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, যুবলীগ, গণতন্ত্রী দল, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি।
- অমুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস, তফশিলি ফেডারেশন, গণসমিতি, অভয় আশ্রম (কুমিল্লা), পূর্ব পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল প্রভৃতি।
- কমিউনিস্ট পার্টির মুসলমান সদস্যগণ মুসলমান আসনে এবং হিন্দু সদস্যগণ হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মুসলমান আসনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং নেজামে ইসলামী 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- হিন্দু আসনে গণসমিতি, অভয় আশ্রম ও পূর্ব পাকিস্তান সমাজতান্ত্রিক দল 'সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,০৮৮.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে?
  1. তারাইনের যুদ্ধ
  2. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  3. কানৌজের যুদ্ধ
  4. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (২১ এপ্রিল, ১৫২৬ খ্রি.):
→ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। 

→  ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে বাবর কাবুল থেকে আগমন করে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদীকে পরাজিত করে লাহোর তথা সমগ্র পাঞ্জাব অধিকার করেন। 

→ 'তুযুক-ই-বাবুরী' বা 'বাবরনামা'র বিবরণ অনুযায়ী পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী। 

- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন। 

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধের ফলাফল:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা।
- এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মাধ্যমে তিন শতাধিক বছর স্থায়ী দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে।
- বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ভারতের বিপুল ধন-সম্পদ বাবরের অধীনে আসে।
- বাবর ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ‘গোলন্দাজ বাহিনী’ নামে বিশেষ একটি বাহিনী গড়ে তোলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৮৯.
ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় -
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. খিলাফত আন্দোলন
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• সিপাহী বিদ্রোহ
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় - সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭ সালে)।
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- এর ফলে ১৮৫৮ সালে 'মহারানীর রাজকীয় ঘোষণা' এবং ১৮৫৮ সালের 'ভারত শাসন আইন' দ্বারা ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।

- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী সর্বপ্রথম প্রকাশ্যভাবে বিদ্রোহ করে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ মঙ্গল পাণ্ডে।
- এরপর মে মাসে মীরাটের সেনা ছাউনিতে সিপাহীরা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে এবং কর্নেল ফিনিসকে গুলি করে হত্যা করার পর বিদ্রোহের তীব্রতা বাড়ে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান - বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন - লর্ড ক্যানিং।
- গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে ভাইসরয় নিয়োগ দেওয়া হয়। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯০.
সমতট (কুমিল্লা-নোয়াখালি) রাজ্যের উদ্ভব হয় কখন?
  1. ক) ৪র্থ শতকে
  2. খ) ৫ম শতকে
  3. গ) ৬ষ্ঠ শতকে
  4. ঘ) ৭ম শতকে
সঠিক উত্তর:
ক) ৪র্থ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪র্থ শতকে
ব্যাখ্যা

- খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতকে সমতট (কুমিল্লা-নোয়াখালি) রাজ্যের উদ্ভব হয়।
- এ অঞ্চলে যারা শাসন করেন তারা হলেন বৈন্যগুপ্ত (৫০৭ খ্রি.), খড়গ বংশ (৬২৫-৭০৫ খ্রি.), চন্দ্র (৮৬৫-১০৫৫ খ্রি.) বর্মণ (১০৫৫-১১৪৫ খ্রি.)।
- বৈন্যগুপ্ত ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ‘দশ আদিত্য’ ও ‘মহারাজাধিকার’ উপাধি ধারণ করে স্বাধীন বলে ঘোষণা করে ।
- সপ্তম শতকের প্রথম দিকে (৬২৫-৭০৫) সমতট অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী খগড় রাজবংশের শাসন চলে।
- খড়গদের রাজ্যের রাজধানী ‘কর্মান্ত বসাক’- যা বড় কামতা নামক স্থান বলে অনুমান করা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া ।

৭,০৯১.
নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন করার ক্ষেত্রে কোন কমিশনটি সমর্থনযোগ্য?
  1. সায়মন কমিশন
  2. সাদা কমিশন
  3. ইন্ডিগো কমিশন
  4. চেমসফোর্ড কমিশন
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিগো কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিগো কমিশন
ব্যাখ্যা
নীল চাষ:

- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের।
- ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- নীল চাষিরা ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।
- নীল চাষ নিয়ে দীনবন্ধু মিত্রের লেখা বিখ্যাত নাটক ‘নীলদর্পণ'।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে এদেশে নীলচাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯২.
তিস্তা সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. দিনাজপুর
  3. বাগেরহাট
  4. গাইবান্ধা
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা
তিস্তা সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র:
- তিস্তা সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র যা তিস্তা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- এটি গাইবান্ধা জেলার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
 - ১ হাজার একর জমির ওপর তিস্তা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়।
- সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করেন বাংলাদেশের বেক্সিমকো কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।
- ২ আগস্ট, ২০২৩ তিস্তা সোলার লিমিটেডের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- এ কেন্দ্র থেকে দিনে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে।

উৎস: ৩ আগস্ট ২০২৩, দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা।
৭,০৯৩.
কোন জেলা আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন?
  1. নদীয়া
  2. হুগলী
  3. বীরভূম
  4. বাঁকুড়া
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯৪.
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী পরিচালিত গণহত্যা অপারেশনের নাম কী ছিল?
  1. অপারেশন জ্যাকপট
  2. অপারেশন বিগ বার্ড
  3. অপারেশন সার্চলাইট
  4. অপারেশন কিলোফাইট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বড় শহরগুলোতে গণহত্যা শুরু করে।
- তাদের পূর্বপরিকল্পিত এই গণহত্যাটি ''অপারেশন সার্চলাইট'' নামে পরিচিত।
- এ গণহত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগে থেকেই পাকিস্তান আর্মিতে কর্মরত সকল বাঙালি অফিসারদের হত্যা কিংবা গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হয়।
- ঢাকার পিলখানায়, ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের ই বি আর সিসহ সারাদেশের সামরিক আধা-সামরিক সৈন্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
- এই হত্যাকান্ডের কথা যেন বহির্বিশ্ব না জানতে পারে সে জন্য আগেই সকল বিদেশি সাংবাদিকদের গতিবিধির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় এবং অনেককে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়।
- তবে ওয়াশিংটন পোস্টের বিখ্যাত সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব এই গণহত্যা সম্পর্কে অবগত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২৫ মার্চ রাত প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
- পাকিস্তানিদের অপারেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং জগন্নাথ হলের ছাত্রদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়।
- পুরোনো ঢাকার হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও চালানো হয় ব্যাপক গণহত্যা।
- পিলখানার ইপিআর-এর কেন্দ্রে আচমকা আক্রমণ চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় নিরস্ত্র সদস্যদের।
- দেশময় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বিচারে হত্যা করা হয় বিভিন্ন এলাকায় ঘুমন্ত নর-নারীকে। হত্যা করা হয় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদেরও।
- ধারণা করা হয়, সেই রাত্রিতে একমাত্র ঢাকা ও তার আশে পাশের এলাকাতে প্রায় এক লক্ষ নিরীহ নর-নারীর জীবনাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,০৯৫.
২১শে ফ্রেব্রুয়ারিকে ’আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কোন সংস্থা?
  1. UNESCO
  2. UNICEF
  3. UNCTAD
  4. UNWTO
সঠিক উত্তর:
UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNESCO
ব্যাখ্যা

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
-১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেসকোর ৩০তম অধিবেশন বসে।
- ইউনেসকোর সেই সভায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ফলে পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর কাছে একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পায়।
-  পরের বছর ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো।

৭,০৯৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রথম অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন কিলোফাইট
  2. অপারেশন ক্লোজ ডোর
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন ক্লিন হার্ট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সারাদেশে মানুষের কাছে যে অবৈধ অস্ত্র ছিল তা জমা নেওয়ার জন্য যে অভিযান পরিচালিত হয় তা অপারেশন ক্লোজ ডোর।
- অপারেশন ক্লিন হার্ট হল ২০০২ সালে পরিচালিত অপরাধ বিরোধী একটি যৌথ অপারেশনের নাম।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট হলো  মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি নিউজ।

৭,০৯৭.
শশাঙ্ক কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ৬১০ সালে
  2. খ) ৬২২ সালে
  3. গ) ৬৩৭ সালে
  4. ঘ) ৬৪৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- সপ্তম শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসেও শশাঙ্ক ছিলেন একজন নামকরা রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় ।
- গোটা বাংলায় নেমে আসে অন্ধকারের যুগ। প্রায় একশ বছর বাংলার ইতিহাসে যে অরাজকতা, নেতৃত্বের শূন্যতার সৃষ্টি হয় তাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯৮.
রোমান সানা কোন খেলার সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ফুটবল
  2. ক্রিকেট
  3. বাস্কেট বল
  4. আর্চারী
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
আর্চারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্চারী
ব্যাখ্যা
রোমান সানা:
- রোমান সানা আর্চারী খেলার সাথে সম্পৃক্ত।
- বিশ্বমঞ্চে নিজের কৃতিত্ব দেখিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম তারকা হয়ে উঠেছেন তীরন্দাজ রোমান সানা।
- রোমান সানার ছোটবেলা কেটেছে দাদা বাড়ি খুলনা জেলায় কয়রা গ্রামে।
- বাবা আবদুল গফুর সানা ও মা বিউটি বেগম।
- শিক্ষক হাসানের অনুপ্রেরণায় ৯ম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে প্রথম আর্চারিতে আসেন রোমান সানা।
- ২০০৮ সাল থেকে আর্চারিতে পথচলা শুরু হয়।
- টানা ৪ বছর ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এই তীরন্দাজ।
- আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অর্জনের শুরুটা হয় ২০১১ সালের ইয়ুথ আর্চারি চ্যাম্পিয়নশীপে দলগত বিভাগে সিলভার পদক অর্জনের মাধ্যমে।
- প্রথম স্বর্ণপদক আসে ২০১৪ সালে থাইল্যান্ডে৷
- ২০১৭ সালে কিরগিজস্তানে আন্তর্জাতিক আর্চারি টুর্নামেন্টেও স্বর্ণপদক অর্জন করে।
- ২০১৭ প্রথম ইসলামিক সলিডারিটি চ্যাম্পিয়নশীপে ব্যক্তিগত বিভাগে সিলভার পদক, দলগত এবং মিশ্র দলগত বিভাগে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ জুলাই ২০২১।
৭,০৯৯.
কোন ইউরোপীয় জাতি প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে?
  1. ডাচ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ইংরেজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

প্রথম চট্টগ্রামে আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে। পর্তুগিজরা এই বন্দর এলাকাকে 'পোর্তো গ্রান্দে দি বেঙ্গলা' বা 'গ্রেট পোর্ট অফ বেঙ্গল' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 
- ১৫১৭ সাল থেকে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে আসতে শুরু করে। বাণিজ্যের চেয়ে তাদের মধ্যে জলদস্যুতার বিষয়টি প্রবল ছিল। সুলতান প্রবলভাবে তাদের দমনের চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় আফগান শাসক শের শাহ বাংলা আক্রমণ করবে শুনে ভীত সন্ত্রস্ত হোসেন শাহ পর্তুগিজদের সহায়তা কামনা করেন। তখন সামরিক সহায়তার বিনিময়ে ১৫৩৭ সালে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বাণিজ্য কুঠি নির্মান করে। একই সঙ্গে তাদেরকে বন্দর এলাকার শুল্ক আদায়ের অধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ১৫৩৮ সালে শের শাহ‌-র সেনাপতি চট্টগ্রাম দখল করে।

- ১৫৮১ সাল থেকে ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সম্পূর্ণভাবে আরাকান রাজাদের অধীনে শাসিত হয়। তবে, পর্তুগিজ জলদস্যুদের দৌরাত্ম এ সময় খুবই বৃদ্ধি পায়। বাধ্য হয়ে আরাকান রাজা ১৬০৩ ও ১৬০৭ সালে শক্ত হাতে পর্তুগিজদের দমন করেন। ১৬০৭ সালেই ফরাসি পরিব্রাজক ডি লাভাল চট্টগ্রাম সফর করেন।তবে সে সময় পর্তুগিজ জলদস্যু গঞ্জালেস সন্দীপ দখল করে রাখে। পর্তুগিজ মিশনারি পাদ্রি ম্যানরিক ১৬৩০-১৬৩৪ সময়কালে চট্টগ্রামে উপস্থিতকালে চট্টগ্রাম শাসক আলামেনের প্রশংসা করে যান। ১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম মোগলদের হস্তগত হয়।

- ১৬৬৬ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানকে চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশ দেন। সুবেদারের পুত্র উমেদ খাঁর নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানীদের পরাজিত করে এবং আরাকানী দূর্গ দখল করে। যথারীতি পর্তুগিজরা আরাকানীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মোঘলদের পক্ষ নেয়। পরবর্তীতে ১৬৬৬ সালে মুঘলরা পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। 

- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) চট্টগ্রাম জেলা ওয়েবসাইট।

৭,১০০.
অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. রাও ফরমান আলী
  2. খাদিম হোসেন রাজা
  3. টিক্কা খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।