বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা / ১২৪ · ৬০১৭০০ / ১২,৪২১

৬০১.
প্রাচীন বাংলার বরেন্দ্র জনপদ অঞ্চল নয় কোনটি?
  1. রাজশাহী
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. দিনাজপুর
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। 

উল্লেখ্য,
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের অংশ ছিল।
- এছাড়াও মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান-ও গৌড় জনপদের অংশ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত “সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি” এর সদস্য ছিলেন না-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) মনিসিংহ
  3. গ) মনোরঞ্জন ধর
  4. ঘ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি বা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। 

উৎস:- নবম - দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৩.
ইলবার্ট বিল প্রণয়নের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

ইলবার্ট বিল:
- ১৮৮৩ সালে ইলবার্ট বিল প্রণয়নের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড রিপন। 

উল্লেখ্য,
- লর্ড রিপন ভারতে আসার আগে কোন ভারতীয় বিচারকরা কোন অভিযুক্ত ইংরেজের বিচার করতে পারত না।
- এই বৈষম্য দূর করতে লর্ড রিপনের পরামর্শে তার আইন সচিব ইলবাট একটি বিলের খসড়া রচনা করেন।
- এই খসড়া বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ অভিযুক্তের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়।
- এই খসড়া বিলই ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।

• ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের বিশেষত বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ও সার্বজনীন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
- ইলবার্ট বল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথমে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) এবং পরে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬০৪.
আইন বাস্তবায়নগত সকল ক্ষমতা কোন বিভাগের এখতিয়ারে থাকে?
  1. ক) বিচার বিভাগ
  2. খ) আইন বিভাগ
  3. গ) নির্বাহী বিভাগ
  4. ঘ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
গ) নির্বাহী বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্বাহী বিভাগ
ব্যাখ্যা
শাসন বিভাগ
• শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
• রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
• প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান। মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।
• মন্ত্রীদের মধ্যে দায়দায়িত্ব বন্টন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সরকার ব্যবস্থার প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
• তবে আইন বাস্তবায়নগত সকল ক্ষমতা শাসন/নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. রফিকুল ইসলাম
  2. জিয়াউর রহমান
  3. জাহিদুল আলম
  4. খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৬.
ভারতীয় ইতিহাসের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কোনটি?
  1. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
→সিপাহী বিদ্রোহ'কে ভারতীয় ইতিহাসের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করা হয়।

• সিপাহী বিদ্রোহ:

- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
- ব্রিটিশদের প্রায় দু'শ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত হয়।
- শুরুর দিকের আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন।
- এবং এগুলো খুব বেশী সফলতার মুখ দেখেনি।
- কিন্তু ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ব্রিটিশদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
- 'সিপাহী বিদ্রোহ'কে ভারতীয় ইতিহাসের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
• সিপাহী বিদ্রোহের কারণসমূহ:
- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ কোন একক কারণে হয়নি।
- লর্ড ডালহৌসীর 'সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি ও স্বত্ব বিলোপ নীতি।
- মোঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে অপমাণিত ও অসম্মান করা।
- মূল্যবান ধাতু ও ধনসম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার ।
- সামরিক বাহিনীতে 'Enfield Rifle' নামক এক প্রকার নতুন অস্ত্রের প্রচলন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য়পত্র, এইচ এসএসসি।
৬০৭.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কত তারিখ পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে আটক এবং বন্দী করার কথা স্বীকার করে?
  1. ২৯ মার্চ
  2. ১ এপ্রিল
  3. ৭ এপ্রিল
  4. ১০ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার:
- ২৫ মার্চ দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- গ্রেফতারের তিনদিন পর তাকে বিমানযোগে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
- সেখানে তাকে লায়াল্পুর (বর্তমান ফয়সালাবাদ) জেলে বন্দী করে রাখা হয়।
- এরপর ১০ এপ্রিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে বন্দী এবং হেফাজতে নেয়ার কথা ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান সরকার ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৬০৮.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন মোগল সম্রাট -
  1. দ্বিতীয় আলমগীর
  2. শের শাহ
  3. দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- ১৮৫৭ সালের সংগ্রামের নানাবিধ কারণ ছিল।
- এসব কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
The National Parliament Building of Bangladesh was inaugurated -
  1. ক) 15 January, 1984
  2. খ) 28 January, 1982
  3. গ) 15 February, 1984
  4. ঘ) 28 January, 1984
সঠিক উত্তর:
খ) 28 January, 1982
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 28 January, 1982
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংসদ ভবন  রাজধানী ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনটির স্থপতি আমেরিকার  লুই আই কান।
- ১৯৫৯ সালে প্রথম ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সটির পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ২১৫ একর জমির উপর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনটির নির্মাণ করা হয়।
- ১৯৮২ সালের প্রথম দিকে ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয় এবং একই বছর ২৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট জাস্টিস আব্দুস সাত্তার এটির উদ্বোধন করেন।
- ১৯৮২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এ ভবনে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৬১০.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. গোলাম মোহাম্মদ
  4. খাজা নাজিমউদ্দিন
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমউদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
 ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
-  ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ছিলেন মালিক গোলাম মুহাম্মদ।
- পূর্ব বাংলার গভর্নর: ফিরোজ খান নুন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: নুরুল আমিন।
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী: খাজা নাজিমউদ্দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১১.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯১৮ সালে
  3. ১৯২০ সালে
  4. ১৯২৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০ সালে
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১২.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাঈদ এর পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. মিঠাপুকুর
  2. পীরগঞ্জ
  3. তারাগঞ্জ
  4. পীরগাছা
সঠিক উত্তর:
পীরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

আবু সাঈদ:
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের  শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো

৬১৩.
১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে কোন সংগঠন?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রলীগ
  3. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  4. আওয়ামী লীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৬১৫.
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
  1. সামরিক প্রশিক্ষণ
  2.  সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ
  3.  কর সংগ্রহ
  4. ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি। তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে। 
-  হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে।
- ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়। 
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনভূক্ত সমগ্র অঞ্চলকে তিনি কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত করেন।
- অত্যাচারী জমিদার নীলকরদের মোকাবেলায় একটি সুশৃংখল লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।
- জমিদার-নীলকরদের সঙ্গে দুদু মিয়ার বাহিনীর বেশ কয়েকবার সরাসরি সংঘর্ষ বাঁধে। 
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় দুদু মিয়াকে বন্দী করা হয়।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুক্তি পান।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঊনিশ শতকের শেষ প্রান্তে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎস:
i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
আলাউদ্দিন হুসেন শাহকে কোন নামে পরিচিত ছিলেন? 
  1. বাংলার জাহাঙ্গীর
  2. বাংলার আকবর
  3. বাংলার শাহরিয়ার
  4. বাংলার বাবর
সঠিক উত্তর:
বাংলার আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার আকবর
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি 'বাংলার আকবর হিসেবে' পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৬১৭.
মুক্তিযুদ্ধে ‘বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত ডা. সেতারা বেগমের পদবি কি ছিল?
  1. ক) সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
  2. খ) লেফটেন্যান্ট
  3. গ) মেজর
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল।
- এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে।
- এর নাম ছিল ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’।
- এখানে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।
- এটি প্রথমে স্থাপিত হয় সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সোনামুড়ায়।
- পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তা স্থানান্তর করা হয় আগরতলার কাছাকাছি বিশ্রামগঞ্জে।
- ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি। 

উৎস: প্রথম আলো।
২৫ ডিসেম্বর ২০২০।
৬১৮.
মুজিবনগর সরকারের কতটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল?
  1. ৫টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৯.
বঙ্গবন্ধু কবে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন?
  1. ক) ২৮ জানুয়ারী, ১৯৭৫
  2. খ) ২৭ জানুয়ারী, ১৯৭৫
  3. গ) ২৬ জানুয়ারী, ১৯৭৫
  4. ঘ) ২৫ জানুয়ারী, ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫ জানুয়ারী, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫ জানুয়ারী, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু:
- বিপ্লব' বলতে একটি ব্যবস্থার আমূল বা মৌলিক পরিবর্তন বোঝায়।
- ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় 'বাংলাদেশ বিপ্লব ৭১' হিসেবে চিহ্নিত।
- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশের আর্থ- সামাজিক ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী আনেন।
- চতুর্থ সংশোধনী পাস করে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির বদলে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) কায়েম হয় ২৫ জানুয়ারি
- বঙ্গবন্ধু একে 'সিস্টেম চেইঞ্জ' বা 'দ্বিতীয় বিপ্লব' হিসেবে অভিহিত করেন। 

উৎস: sangbad.net.bd, যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৬২০.
দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে? 
  1. উরুগুয়ে 
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. আর্জেন্টিনা
  4. পানামা 
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী দ্বিতীয় দেশ  ভারত (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১)।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি (১১ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
- বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম স্বীকৃতি দানকারী দেশ- ভেনিজুয়েলা (২ মে, ১৯৭২)।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ ও প্রথম আলো।  

৬২১.
'জুলাই ঘোষণাপত্র' কত তারিখে ঘোষনা করা হয়?
  1. ২ আগস্ট, ২০২৫
  2. ৩ আগস্ট, ২০২৫
  3. ৪ আগস্ট, ২০২৫
  4. ৫ আগস্ট, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
- জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে 'জুলাই ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - জুলাই ঘোষণাপত্র।

৬২২.
Which is the third highest gallantry award in Bangladesh?
  1. Bir Protik
  2. Bir Bikram
  3. Bir Sreshtha
  4. Bir Uttam
  5. None
সঠিক উত্তর:
Bir Bikram
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bir Bikram
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীর বিক্রম।

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
 
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
 
উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।
 
উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
 
৬২৩.
বাংলাদেশে প্রথম অস্থায়ী সরকার কখন গঠিত হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬২৪.
কোন মুঘল সুবাদার ঢাকার ‘ধোলাই খাল’ কে খনন করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. মীর জুমলা
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
- বাংলার মুঘল সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) বারোভূঁইয়াদের দমন করার উদ্দেশ্যে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী ‘রাজমহল’ থেকে ‘ঢাকা’য় স্থানান্তর করেন।
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নতুন নাম রাখা হয় ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- তিনি ১৬১১ সালে মুসা খানকে পরাজিত করার মাধ্যমে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করেন। তার সময়েই সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধীনে আসে।
- ধোলাই খাল পুরানো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক-আবাসিক এলাকা। ঢাকার প্রথম মুগল সুবাদার ইসলাম খান এটি খনন করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
৬২৫.
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে বাংলায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন?
  1. ১৬০০
  2. ১৬১২
  3. ১৬৪৫
  4. ১৬৩৩
সঠিক উত্তর:
১৬৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৩৩
ব্যাখ্যা
- ১৬৩৩ সালে বাংলায় প্রথম হরিহরপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

• ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬৩৩ সালে বাংলায় প্রথম হরিহরপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়এবং ১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬২৬.
অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

লর্ড ওয়েলেসলি:
- গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ: ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দ।
- প্রবর্তিত নীতি: অধীনতামূলক মিত্রতানীতি।
- শাসন দৃষ্টিভঙ্গি: রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তার ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী।
- রাজ্য শাসনে অবদান: নিতান্তই সামান্য।
- সংস্কার: কৃষি ও বিচার ব্যবস্থায় কিছু সংস্কার।
- জমি জরিপের জন্য নিযুক্ত: ড. ফ্রান্সিস বুকানন।
- তথ্য সংগ্রহ: কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের জন্য কলেজ প্রতিষ্ঠা।
- লক্ষ্য: প্রশাসন ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের সমন্বয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৭.
বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক কোনটি?
  1. ক) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  2. খ) মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাজেয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাজেয় বাংলা
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা
- বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক অপরাজেয় বাংলা। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্ত্বরে ৬ ফুট উঁচু বেদির ওপর নির্মিত। মূল ভাস্কর্যের উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট। 
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রদের গৌরবময় ত্যাগকে স্মরণীয় করার জন্য অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করা হয়। 
- মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এটি নির্মাণ করেন।
- ১৯৭৩-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এই ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ চলে।
- এই ভাস্কর্যে অসম সাহসী তিনজন তরণ-তরুণি মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- দুইজন তরুণ রাইফেল হাতে শত্রুর মোকাবেলায় দৃড়প্রতিজ্ঞ আর ঔষধের ব্যাগ কাঁদে তরুণি মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিবেদিত প্রাণ।
- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের ছাত্র-সমাজের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র-সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬২৮.
বাংলার প্রথম রাজা ছিলেন-
  1. ধর্মপাল
  2. লক্ষণ সেন
  3. গোপাল
  4. শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম ও স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক।
- শশাঙ্ক ৬০০ থেকে ৬২৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজত্ব করেন বলে ধারণা করা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে পরিচিত রাজা শশাঙ্ক।
- শশাঙ্ক রাজ্য বাংলার উত্তর , উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধের বিস্তৃত ছিল।
- তিনি শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- রাজধানীর নাম: কর্ণসুবর্ণ।
- উপাধি: মহাসামন্ত।
- গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- পাল বংশের শেষ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠা গোপাল।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষণ সেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৯.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) মোশতাক আহমেদ
  3. গ) কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে এবং এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৩০.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. শাহজাহান সিরাজ
  3. এম. ইউসুফ আলী
  4. আবদুল মান্নান
সঠিক উত্তর:
এম. ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬৩১.
নিচের কোন তিনটি জেলায় সুন্দরবনের বিস্তৃতি রয়েছে?
  1. খুলনা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা
  2. বাগেরহাট, খুলনা ও বরগুনা
  3. সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
  4. বরগুনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর
সঠিক উত্তর:
সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:

- সুন্দরবন  বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত গরান বনভূমি (mangrove forest)।
- কর্কটক্রান্তির সামান্য দক্ষিণে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূল ধরে বিস্তৃত ২১°৩০´-২২°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০০´-৮৯°৫৫´ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যবর্তী স্থানে এ বনের অবস্থান।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশ এ বনভূমিকে চিহ্নিত করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি উলে­খযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর পরিমাণ মধু, মোম ও মাছ।
- সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত।
- পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট বড় দ্বীপ ছড়িয়ে আছে সুন্দরবনে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৩২.
স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের পতন ঘটে কীভাবে?
  1. বিজয় সেনের হাতে
  2. সম্রাট অশোকের হাতে
  3. মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের হাতে
  4. চালুক্য বংশের রাজা কীর্তিবর্মণের হাতে
সঠিক উত্তর:
চালুক্য বংশের রাজা কীর্তিবর্মণের হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালুক্য বংশের রাজা কীর্তিবর্মণের হাতে
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। 
-  এই রাজ্যকে ঐতিহাসিকরা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য নামে আখ্যা দিয়েছেন। 
- স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো। এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
-  এসব থেকে জানা যায় যে, গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচার দেব নামে তিনজন রাজা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য শাসন করেছেন।
- উল্লিখিত ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
- তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন। এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।

⇒ ধারণা করা হয়, দাক্ষিণাত্যের চালুক্য বংশের রাজা কীর্তি বর্মণের হাতে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের পতন ঘটেছিল। 
- তবে কারো কারো মতে স্বাধীন গৌড় রাজ্যের উত্থান ঘটলে বঙ্গরাজ্যের পতন ঘটে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের পতনের পেছনে কিছু সামন্ত রাজার উত্থানকেও দায়ী করা হয়। কারণ সপ্তম শতকের পূর্বেই দক্ষিণ বাংলার সমতট রাজ্যে ভদ্র, খড়গ, রাঢ় প্রভৃতি বংশের স্বাধীন সামন্ত রাজাদের উত্থান ঘটেছিল।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৩.
BEPZA কীসের অধীন?
  1. শিল্প মন্ত্রণালয়
  2. অর্থ মন্ত্রণালয়
  3. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
  4. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ব্যাখ্যা
- BEPZA (Bangladesh Export Processing Zones Authority) ১৯৮০ সালে গঠিত হয়।
- এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটির কাজ হলো দেশের সম্ভাবনাময় স্থানে রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
- বেপজার অধীনে বর্তমানে দেশে ৮টি চালু সরকারি ইপিজেড রয়েছে।
- চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণাধীন রয়েছে।
(তথ্যসূত্রঃ বেপজা ওয়েবসাইট)
৬৩৪.
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. শাহেদ আলী
  2. আবুল কাসেম
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র: 
- ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল 'সৈনিক' পত্রিকা, এটি সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশিত হত।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ' এর উদ্যোক্তাগণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন, এবং সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিশেরও মুখপত্র।
- পত্রিকাটিতে তৎকালীন বাংলা ভাষার প্রতিযশা সকল লেখকগণ লিখে বাংলা ভাষা সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।
- সাপ্তাহিক সৈনিক-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন শাহেদ আলী, পরবর্তীতে এর সম্পাদক ছিলেন আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো আর্কাইভ।
৬৩৫.
১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সুইডেনের স্টকহোমে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন -
  1. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  2. এম আর সিদ্দিকী
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. আবদুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
আবদুর রাজ্জাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
দেশের বাহিরে মুজিবনগর সরকারের মিশন:

• পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  যুদ্ধের সময় বিদেশের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশের মিশন স্থাপন করে।
• বহির্বিশ্বের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে মিশনের প্রতিনিধিদল। 
• কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতি স্থানে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা হয়। 
• জাতিসংঘ, আফগানিস্তান, সিরিয়া-লেবানন, নেপাল, শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ড, জাপান প্রভৃতি দেশের সমর্থন আদায়ের জন্য কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে।

• বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রধান ছিলেন- 
- কলকাতায় হোসেন আলী,
- দিল্লিতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, 
- ওয়াশিংটনে এম আর সিদ্দিকী,
- স্টকহোমে আবদুর রাজ্জাক, 
• ইউরোপে বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। 
• উল্লেখ্য, বিদেশে কলকাতাতে প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা হয়েছিল। 
• মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৬.
বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আলীবর্দী খান
  2. সুজাউদ্দিন খান
  3. সরফরাজ খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৩৭.
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ গঠনের সাথে জড়িত ব্যাক্তি নয় কে?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. কাজী আরেফ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
মাওলানা ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটা অসম্ভব বিবেচনা করে তৎকালীন ছাত্র সমাজের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ১৯৬২ সালে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দেন জনাব সিরাজুল আলম খান, জনাব আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।
- এই সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত ছিল।

উল্লেখ্য,
- পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে সুস্পষ্ট দু’টি ধারা বিদ্যমান ছিল।
- একটি ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব রাজনীতির ধারা এবং অপর অংশের ঝোঁক ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি।
- সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নিজস্ব রাজনীতির ধারার তিনজন ছাত্রনেতা ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন।
- তিন সদস্যের এই ক্ষুদ্র সত্তা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৬৩৮.
'জীবনঢুলী' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. মোরশেদুল ইসলাম
  3. নাসিরউদ্দীন ইউসুফ
  4. তারেক মাসুদ
সঠিক উত্তর:
তানভীর মোকাম্মেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা

জীবনঢুলী:
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ‘জীবনঢুলী’ নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।
- জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) ১৯ জানুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬৩৯.
কোন শাসকের আমলে সমগ্র বাংলা পরিচিতি হয়ে ওঠে 'বাঙ্গালা' নামে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারাক শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. শের শাহ
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলা প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। 
- তার সময় থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ ‘বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় ‘বাঙালি' নামে।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ ও ‘সুলতান-ইবাঙ্গালাহ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ইলিয়াসশাহ জাজনগর (উড়িষ্যা) আক্রমণ করেন এবং ৪৪টি হাতিসহ অনেক ধনসম্পদ লাভ করেন।
- তিনি বিহার আক্রমণ করেন এবং আরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে চম্পারণ, গোরক্ষপুর ও কাশী জয় করে তাঁর রাজ্যভুক্ত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪০.
ক্র্যাক প্লাটুন কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
  2. খ) স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
  3. গ) আকাশ বাণী থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধত্তোর অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন। ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফ এই বাহিনী গড়ে তুলেন। ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ আজাদ, শহিদ আবু বকর, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(সূত্র: রোর বাংলা)
৬৪১.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করেন কত জন?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৬৪২.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন- তাজউদ্দীন আহমদ। 

মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
• তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
• এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৬৪৩.
জুলাই ঘোষণাপত্রের কত নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে?
  1. ২৬ নং 
  2. ২৫ নং 
  3. ২৮ নং 
  4. ২৭ নং 
সঠিক উত্তর:
২৭ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭ নং 
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৭ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে।
- ২৭ নং ধারা:  বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

অন্যদিকে, 
- ২৫ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
- ২৬ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ুসহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
- ২৮ নং ধারা: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

উৎস: প্রথম আলো।

৬৪৪.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. আবুল হাশেম
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

• হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজ কর্তৃক 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলে আখ্যায়িত হন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন - দ্বিতীয় পত্র - এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।

৬৪৫.
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি ১০ নং আদেশমূলে স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় প্রতিষ্ঠা করেন দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।
- বিএসসি প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ মাস পর জাতির পিতার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় বিএসসি বহরের প্রথম জাহাজ হিসেবে যুক্ত হয় এম.ভি. বাংলার দূত নামক জাহাজটি।
- বিএসসি প্রতিষ্ঠার মাত্র ২৯ মাস অর্থাৎ নভেম্বর ১৯৭৪ এর মধ্যে ১৪ টি সমুদ্রগামী জাহাজ সংগৃহীত হয়।
- তারপর থেকে বিএসসি এ যাবত সর্বমোট ৪৪ টি জাহাজ সংগ্রহ করেছে।
- এ সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন আইন-২০১৭ জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়েছে।
- এ কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মুখ্য উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক নৌ-পথে নিরাপদ ও দক্ষ শিপিং সেবা প্রদান করা এবং বাংলাদেশের আমদানী ও রপ্তানী পণ্য নিজস্ব জাহাজ দ্বারা পরিবহন করা।

উৎস: বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৬৪৬.
মুজিবনগর সরকার কত তারিখে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৬৪৭.
আলীবর্দী খান সরফরাজ খানকে পরাজিত করেন কোন যুদ্ধে? 
  1. বক্সারের যুদ্ধে
  2. মহিশূরের যুদ্ধে
  3. গিরিয়ার যুদ্ধে
  4. পলাশির যুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
গিরিয়ার যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিয়ার যুদ্ধে
ব্যাখ্যা

আলীবর্দী খান:
- আলীবর্দী খান বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব।
- তিনি প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত মির্জা মুহম্মদের পুত্র।
- মির্জা মুহম্মদ ছিলেন আওরঙ্গজেব-এর দ্বিতীয় পুত্র মির্জা আজম শাহের দরবারের একজন কর্মচারী।

উল্লেখ্য, 
- ১৭৪০ সালে গিরিয়ার যুদ্ধে নবাব সরফরাজ খান কে পরাজিত করেন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৬৪৮.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে কত দফা দাবি পেশ করা হয়?
  1. ৬ দফা
  2. ১৩ দফা
  3. ৯ দফা
  4. ১১ দফা
সঠিক উত্তর:
১১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ দফা
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ সালে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালের সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
-  ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৬৪৯.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তিত হয় -
  1. ক) ১৭ এপ্রিল ১৯৯১
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  3. গ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
ব্যাখ্যা
সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং একই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বলবৎ হয়।
 -গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি,
- তফসিল আছে ৭টি,
- মূলনীতি আছে ৪টি,
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।

সূত্রঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫০.
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আবাসিক হলের নাম কী?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল
  2. শেখ হাসিনা হল
  3. শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল
  4. শেখ রাসেল হল
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল
ব্যাখ্যা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত।
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ (২৮ নং আইন) বলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ আইন বলে ঢাকার  জগন্নাথ কলেজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
- ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কর্মকান্ড শুরু হয়।
- বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১.১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- সাবেক সরকারি জগন্নাথ কলেজ ২০০৫ সালে ৪টি অনুষদের অধীনে (কলা, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) ২০টি বিভাগ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে।
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ০৬টি অনুষদ, ০২টি ইনস্টটিউিট, ৩৬টি বিভাগ রয়েছে।
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আবাসিক হলের নাম বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল।
- ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি. বাংলাবাজারে অবস্থিত 'বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল'- এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- ২০ অক্টোবর ২০২০-মঙ্গলবার সকাল ৯.৩০ মিনিটে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এর শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

উৎস: i) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৫১.
'ছয় দফা' কোথায় উত্থাপন করা হয়?
  1. ঢাকায়
  2. লাহোরে
  3. করাচিতে
  4. রাওয়ালপিন্ডিতে
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
ব্যাখ্যা
মুক্তির সনদ:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত 'ছয় দফা' উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ওই কনভেনশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
- ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫২.
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ কোথায় নির্মাণ করা হয়?
  1. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
  2. ঢাকার সাভারে
  3. রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে
  4. ঢাকার মিরপুরে
সঠিক উত্তর:
ঢাকার মিরপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার মিরপুরে
ব্যাখ্যা
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
- এর স্থপতি ছিলেন মোস্তফা আলী কুদ্দুস।
- ১৯৭২ সালে এই স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শেষ হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৩.
মুক্তিবাহিনীকে প্রথমে কী নামে ডাকা হতো?
  1. সংগ্রাম বাহিনী
  2. স্বাধীনতা বাহিনী
  3. মুক্তিফৌজ
  4. বিজয় বাহিনী
সঠিক উত্তর:
মুক্তিফৌজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিফৌজ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- শুরুতে এর নাম ছিল মুক্তিফৌজ। 

⇒ ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে মুক্তিফৌজ ও মুক্তিবাহিনী গঠন করে।

⇒ মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের মূলত দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: প্রথম শ্রেণীর সদস্যরা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, অন্যভাগ আসে ইতিপূর্বে শহর ও গ্রামে সংগঠিত সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন শাখার সদস্য ও তাদের অনুসারী বেসামরিক জনগণ থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৫৪.
‘ইলবার্ট বিল’ এর বিষয়বস্তু কী ছিলো?
  1. ক) সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণ
  2. খ) গর্ভনরের উপদেষ্টা কাউন্সিলে ভারতীয়দের অন্তর্ভুক্তি
  3. গ) জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ করা
  4. ঘ) ইউরোপীয় ও ভারতীয় বিচারকদের সমমর্যাদা প্রদান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরোপীয় ও ভারতীয় বিচারকদের সমমর্যাদা প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরোপীয় ও ভারতীয় বিচারকদের সমমর্যাদা প্রদান
ব্যাখ্যা
লর্ড রিপনের সময়ে ১৮৮৩ সালে তার আইন পরিষদের সদস্য সি. পি. ইলবার্ট উত্থাপিত বিল ‘ইলবার্ট বিল’ নামে পরিচিত। এই বিলে ব্রিটিশ ভারতে কর্মরত ইউরোপীয় ও দেশীয় বিচারকদের সমমর্যাদা প্রদান করা হয়।
১৮৭২ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করে বিধান করা হয় কলকাতা ব্যতীত অন্যত্র দেশীয় বিচারকগণ ইউরোপীয় অপরাধীদের অপরাধের বিচার করতে পারবেন না।
লর্ড রিপন এই আইন সংশোধন করে সমমর্যাদা প্রদান করতে ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন। কিন্তু ইউরোপীয়দের বিরোধিতায় তা করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ইলবার্ট বিল সংশোধন করে দেশীয় বিচারক কর্তৃক ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষেত্রে জুরিবোর্ড গঠনের বিধান করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬৫৫.
‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি’ চালু হয়েছে কোথায়? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা

জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি:
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি’।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর এই বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- এ বৃত্তির অধীনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে।
- এ বছর ৭২৫টি প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মোট শিক্ষার্থী ৩১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি, যা দেশে উচ্চশিক্ষায় মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশ।
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ আছে ২ হাজার ২৫৭টি।
- জুলাই গণ-অভ‍্যুত্থানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩২ জন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]

৬৫৬.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে কী রয়েছে?
  1. শাপলা
  2. ধানের শীষ
  3. সূর্য
  4. তারকা
সঠিক উত্তর:
শাপলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাপলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল।

⇒ এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

⇒ এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না।
- শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৫৭.
মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম কী?
  1. সুবর্ণগ্রাম
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. সমতট
  4.  চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অপরদিকে,
- চন্দ্রদ্বীপ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার একটি ছোট অঞ্চল।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৮.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল-
  1. ১১ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ৬ দফা
  4. ৪১ দফা
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার
 নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৯ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর 
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
 - সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- তন্মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ সকল নৌ চলাচল, বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল ১০ নং সেক্টর বা নৌ সেক্টর। এ সেক্টরের কোন নির্দিষ্ট সেক্টর কমান্ডার ছিল না। । এ সেক্টর গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত তৎকালীন পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি কর্মকর্তা।
- কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। 
- এপ্রিল থেকে ৩ই নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট এম হামিদুল্লাহ। আর এই সেক্টরের সদর দপ্তর  হিসেবে ভারতের আসামের মহেন্দ্রগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। 
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল ও রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা  ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ  নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয়।
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। 
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়।
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’।
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। এই সেক্টরের  সদর দপ্তর  ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  হরিনা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬০.
মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় কাকে?
  1. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ 
  3. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  4. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

⇒ তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬৬১.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ক) ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী পরিচালিত অভিযান
  2. খ) বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সামরিক টাস্কফোর্স
  3. গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  4. ঘ) ভারতের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত অভিযান
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬ টি নৌযান ধ্বংস হয়। মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডো চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬৬২.
২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র কে প্রথম পাঠ করেন?
  1. শেখ মুজিবর রহমান
  2. আখতার মুকুল
  3. জিয়াউর রহমান
  4. এম এ হান্নান
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বেই চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নানের নিকট স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন। বাণীটি স্বাধীনতার দলিলপত্র তৃতীয় খন্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রিণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. মুক্তার আলি
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আকরাম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা
পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার ভাষা কমিটির সভাপতি ছিলেন মাওলানা আকরাম খাঁ। 

⇒ পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'।
- কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
সিলেট অঞ্চল কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সিলেট
  2. কুমিল্লা
  3. নোয়াখালী
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
হরিকেল:

- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৫.
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে।
- ৭ মে ১৯৫৪ অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহীদ দিবস ঘোষণা করে।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে।
- সংবিধান প্রণয়নের আগে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিল উত্থাপন করেন।
- উক্ত বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- এই প্রক্রিয়া বাংলার ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৬.
ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান কত তারিখে শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। 
- ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন। 
- ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৬৭.
শায়েস্তা খানের কন্যা ইরান দুখতের মাজার অবস্থিত-
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) লালবাগ
  3. গ) ময়নামতি
  4. ঘ) নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
খ) লালবাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালবাগ
ব্যাখ্যা
- শায়েস্তা খানের কন্যা ছিলেন পরী বিবি।
- তাঁর আসল নাম ইরান দুখত। 
- পরীবিবির মাজার লালবাগ কেল্লার অভ্যান্তরে দরবারগৃহ থেকে ২৭৫ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত।
- ইরান দুখত শাহাজাদা আযমের বাগদত্তা ছিলেন কিন্তু বিয়ের পূর্বে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
৬৬৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. উইলিয়াম জোন্স
  2. উইলিয়াম হান্টার
  3. স্যার টমাস উইলিয়াম
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
স্যার টমাস উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার টমাস উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ কবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে পুনঃ সমাহিত করা হয়?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ।
- তিনি ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৪নং সেক্টরের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের পদবী ছিল- সিপাহী।

উল্লেখ্য,
- ২৮শে অক্টোবর ১৯৭১, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধলই আক্রমণে সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার্থে শত্রুর বাঙ্কার ধ্বংস করতে গিয়ে শত্রুর মেশিনগান বাস্টের আঘাতে শাহাদত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে দাফন করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
- শাহাদাতের ৩৬ বছর পর ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তার দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে পুনঃ সমাহিত করা হয়। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৬৭০.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন-
  1. ওলন্দাজ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ইংরেজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
- ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।

• পর্তুগিজ:
-পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন,
কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
-পর্তুগিজরা বাংলায় ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৬৭১.
কোন সম্রাট 'বাদশাহ আলমগীর' উপাধি নিয়ে মুঘল সিংহাসনে আরোহন করেন?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. হুমায়ূন
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
আওরঙ্গজেব:
- ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মুঘল সিংহাসনে বসেন।
- ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
- ঐতিহাসিক স্টেন্সি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মুঘল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।
- তিনি আকবর অপেক্ষা বৃহত্তর সাম্রাজ্য শাসন ও বিশালতর সৈন্যবাহিনীর অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি সরল ও পবিত্র জীবনযাপন করতেন।
- আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য বিজয়কে তিন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২- ১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
- এ সময়ে শম্ভুজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মুঘল- মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭২.
ঢাকা প্রথম বাংলার রাজধানী হয় কত সালে?
  1. ১৬২০ সালে
  2. ১৬২৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৭৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে
ব্যাখ্যা
• ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা পাঁচবার বাংলার রাজধানী হয়।
- ১৬১০, ১৬৬০,  ১৯০৫, ১৯৪৭, ১৯৭১ সাল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৩.
ক্র্যাক প্লাটুন স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন সেক্টরের অধীনে অংশ নেয়?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ১০ নং সেক্টর
  3. ২ নং সেক্টর
  4. ৪ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

ক্র্যাক প্লাটুন:
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৬৭৪.
নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি কোন সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন?
  1. হাজং
  2. গারো
  3. খাসিয়া
  4. মুন্ডা
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
ব্যাখ্যা
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
৬৭৫.
ধর্মপাল নির্মাণ করেছেন -
  1. শালবন বিহার
  2. সোমপুর বিহার
  3. মহাস্থানগড়
  4. রামসাগর দীঘি
সঠিক উত্তর:
সোমপুর বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমপুর বিহার
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
৬৭৬.
ইবনে বতুতা কবে বাংলায় সফর করেন?
  1. ১২৪৬ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলায় সফর করেন এবং শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ইবনে বতুতা: 
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে, জুলাই মাসে।
- তিনি চট্টগ্রামের সাদকাঁও শহরে (বর্তমান চাটগাঁও) পৌঁছান ৯ জুলাই ১৩৪৬ সালে।
- বাংলায় সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কামরূপ অঞ্চলে অবস্থানরত বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল) সাক্ষাৎ লাভ করা।
- সেখান থেকে তিনি সরাসরি কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে যান।
- এরপর ১৫ দিনের নদীপথ পেরিয়ে ১৪ আগস্ট ১৩৪৬ সালে সোনারগাঁ (সুনুরকাঁও) পৌঁছান এবং সেখান থেকে জাভার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
- বাংলায় তাঁর সফরকাল ছিল মোটামুটি দুই মাসেরও কম (জুলাই-আগস্ট ১৩৪৬)।
- এই স্বল্প সময়ে তিনি বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনী পরবর্তীতে ‘রেহ্লা’ নামে আরবি ভাষায় সংকলিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৬৭৭.
বর্তমান শিক্ষানীতির আলোকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদকাল কত? 
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৮ বছর
  4. ১০ বছর
সঠিক উত্তর:
৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ বছর
ব্যাখ্যা

• প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়:
- 'জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০' অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত সরকার।
- তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।
- রয়েছে শিক্ষক সংকট। নানান সংকটের মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- এজন্য আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে প্রাথমিক শিক্ষা।
- প্রাথমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা উপযোগী নয় বলে আপাতত প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছরেই রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইত্তেকাফ। (Link)

৬৭৮.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৬৭৬ জন
  2. ৬৭৭ জন
  3. ৬৭৮ জন
  4. ৬৭৯ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৬৭৯.
'আসাদ গেট' কোন আন্দোলনের প্রতীক?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ছয় দফা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
আসাদ গেট:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮০.
তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী কে রচনা করেন?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
সম্রাট জাহাঙ্গীর:
- সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। 
- ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রকার গোঁড়ামী পছন্দ করতেন না ।
- ফকির, দরবেশ, জ্ঞানী-গুণীদের তিনি সমাদর করতেন।
- সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়। 
- সম্রাট নিজে চিত্রকর ও কবি ছিলেন। 
- তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী রচনা করে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দেন। 
- এটি ছিল তাঁর আত্মজিবনী যেখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। 
- সাহিত্যের উৎকর্ষতার কারণে তাঁর সময়কালকে অনেকে মধ্যযুগীয় ভারতীয় সাহিত্যের ‘অগাস্টাস যুগ' বলে অভিহিত করেন। 

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮১.
ওয়ারেন হেস্টিংস প্রবর্তন করেন -
  1. পাঁচসালা বন্দোবস্তু
  2. কাগজি মুদ্রা
  3. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
  4. দ্বৈত শাসন
সঠিক উত্তর:
পাঁচসালা বন্দোবস্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচসালা বন্দোবস্তু
ব্যাখ্যা
- রাজস্ব খাতে আয় বৃদ্ধির জন্য ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ মূল্যে জমিদারী ইজারা দেয়ার নিয়ম প্রবর্তন করেন যা 'পাঁচসালা বন্দোবস্তু' নামে পরিচিত।

• ওয়ারেন হেস্টিংস:
- তিনি কলকাতায় কোম্পানির একজন লেখক বা কেরাণী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে কিছু পরিবর্তন সাধন করেন।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের শাসনামলে তাঁর সীমান্ত বা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এক প্রধান ঘটনা হলো ইঙ্গ মারাঠা যুদ্ধ (১৭৭৫ খ্রি:)।
- মারাঠাদের উত্তরাধিকার সংঘর্ষে ইংরেজদের হস্তক্ষেপের ফলেই ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধের শুরু হয়। 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের পররাষ্ট্র নীতির অপর প্রধান ঘটনা ছিল ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ।
- রাজস্ব খাতে আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ মূল্যে জমিদারী ইজারা দেয়ার নিয়ম প্রবর্তন করেন।
- যা 'পাঁচসালা বন্দোবস্তু' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন- রবার্ট ক্লাইভ।

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন-  লর্ড কর্নওয়ালিস ।
- ১৭৯৩ সালে তিনি এটি প্রবর্তন করেন।
- একে দশশালা বন্দোবস্থ বলা হয়।

• ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. এম মনসুর আলী
  4. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৬৮৩.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন -
  1. শিকদার
  2. ফৌজদার
  3. সুবাহদার
  4. ওয়াজির
সঠিক উত্তর:
শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিকদার
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৪.
In which year was the 'The Bengali Language Implementation Act' enacted?
  1. in 1952
  2. in 1954
  3. in 1956
  4. in 1985
  5. in 1987
সঠিক উত্তর:
in 1987
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1987
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
- দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তভু‌র্ক্ত করেন।
- সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ তিন অনুসারে বাংলা ভাষার ব্যবহার আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ করার জন্য ১৯৮৭ সালে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রবর্তন করা হয়।
- মাত্র চারটি ধারার সে আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।’
- ওই আইনের ৩(২) ধারায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘কোন কর্মস্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন, তাহলে তা বেআইনী ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- সরকারি কর্মকর্তাদের এ আইন অমান্যের জন্য ৩(৩) ধারায় শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
- শাস্তি হিসেবে এ আইন আমান্যকারী ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- ১৯৮৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সব আইন, অধ্যাদেশ, বিধিবিধান ও প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি বাংলায় প্রণীত হচ্ছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, প্রথম আলো।
৬৮৫.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কত সালে?
  1. ১৯৩৪
  2. ১৯৩৭
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৪৯
সঠিক উত্তর:
১৯৩৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৭
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:

- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া
৬৮৬.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কোন জনপদ ভ্রমণ করে তার বিবরণী লিখে যান?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. সমতট
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণের নিকটবর্তী রক্তমৃত্তিকা,পুন্ডনগর এর সংলগ্ন এলাকা,সমতট ও তাম্রলিপি জনপদ ভ্রমণ করে তার বিবরণী লিখে যান

হিউয়েন সাং:

- হিউয়েন সাং ছিলেন একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পর্যটক।
- তিনি ৭ম শতকে বাংলায় আসেন।
- তিনি বাংলার বেশ কয়েকটি জনপদ ভ্রমণ করেন এবং তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে সেগুলোর বিশদ বিবরণ দেন।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।

• সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন। ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান। হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন। কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন। হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- হিউয়েন-সাং-এর গ্রন্থ জিউ জি (সি-উ চি) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।
- বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ ও বৌদ্ধ ধর্ম নির্দেশনায় ব্যুৎপত্তি অর্জন হিউয়েন-সাং-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলেও ভারতে অবস্থানকালে তিনি অন্যান্য কাজও করেছেন।
- বাংলায় ভ্রমণকৃত বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ছিল প্রধানত কর্ণসুবর্ণের নিকটবর্তী  রক্তমৃত্তিকা,  পুন্ড্রনগর ও এর সংলগ্ন এলাকা,  সমতট ও  তাম্রলিপ্তি।
- তাঁর বিবরণ বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সহায়তা করে। কোথাও কোথাও তাঁর বিবরণ পক্ষপাতদোষে দুষ্ট হলেও সাত শতকের বাংলার ইতিহাস, বিশেষ করে শশাঙ্কের শাসনাধীন গৌড় রাজ্য সম্বন্ধে তিনি আলোকপাত করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬৮৭.
কে অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. জওহরলাল নেহরু
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. বিপিনচন্দ্র পাল
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.
৬৮৮.
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে প্রথম ধর্মঘট কখন হয়?
  1. ক) ৭ মার্চ ১৯৪৯
  2. খ) ১১ মার্চ ১৯৪৮
  3. গ) ১১ মার্চ ১৯৪৭
  4. ঘ) ১৭ মার্চ ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
খ) ১১ মার্চ ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১ মার্চ ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ একটি স্মরণীয় দিন। গণপরিষদের ভাষা-তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দেওয়া ছাড়াও পাকিস্তানের মুদ্রা ও ডাকটিকেটে বাংলা ব্যবহার না করা এবং নৌবাহিনীতে নিয়োগের পরীক্ষা থেকে বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাখার প্রতিবাদস্বরূপ ওইদিন ঢাকা শহরে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটিদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৬৮৯.
তিতুমিরের ওয়াহাবি আন্দোলন কার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ছিল?
  1. সৈয়দ আহমদ শহীদ
  2. সৈয়দ আহমদ খান
  3. সৈয়দ আমির আলি
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ শহীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ শহীদ
ব্যাখ্যা
তিতুমিরের সংগ্রাম: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- উভয় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কার করা।
- ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৯০.
ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করেন -
  1. তিতুমীর
  2. মোহাম্মদ আলী
  3. দুদু মিয়া
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯১.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে প্রতীক কী ছিল?
  1. হাতপাখা
  2. কুলা
  3. নৌকা
  4. হারিকেল
সঠিক উত্তর:
নৌকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকা
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট :
 - ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।

১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।

-নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'। 
-যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬৯২.
মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. মৌলভীবাজার
  3. কক্সবাজার
  4. শেরপুর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান:
- মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত।
- এটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এর মোট আয়তন ৩৯৫.৯২ হেক্টর।
- এখানকার বনের প্রকৃতি হলো ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বন।
- এ উদ্যানটি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনাধীন। 
- এসব স্থানীয় গ্রাম কিংবা পাড়া গুলো মূলতঃ কৃষিকাজ, লবন চাষ ও মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য,
- রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কারনে এ সকল জনগোষ্টিতে ক্রমান্বয়ে জন সংখ্যার চাপ বাড়ছে।
- এখানে জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল শতবর্ষী গর্জন বনকে রক্ষা করা।
- এই উপমহাদেশে যে অল্প কিছু গর্জন বন আজও মাথা উঁচু করে আছে, এ বনটি তার মধ্যে অন্যতম।
- এই জাতীয় উদ্যানের প্রধান বৃক্ষরাজির মধ্যে বিশালাকৃতির গর্জন ছাড়াও রয়েছে ঢাকিজাম, ভাদি, তেলসুর ও চাপালিশ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৯৩.
"দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন"-এর প্রধান কে?
  1. ড. ইফতেখারুজ্জামান
  2. ড. বদিউল আলম মজুমদার
  3. সফর রাজ হোসেন
  4. ড. আবদুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
ড. ইফতেখারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. ইফতেখারুজ্জামান
ব্যাখ্যা

 দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন:
- ৩ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে "দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন" গঠন করা হয়েছে।

• উক্ত কমিশনের প্রধান: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
- এছাড়াও উক্ত কমিশনের সদস্য- জনাব মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম, অধ্যাপক মোস্তাক খান, জনাব মাহদীন চৌধুরী, ড. মাহবুবুর রহমান, জনাব ফারজানা শারমিন, ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।

অন্যদিকে,
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
- নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।
- পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন।
- দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

৬৯৪.
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহার স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য নিচের কোনটি?
  1. সংশপ্তক
  2. স্মৃতি অম্লান
  3. স্ফুলিঙ্গ
  4. স্মৃতি চিরন্তন
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:

- ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ শামসুজ্জোহা দিবস।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ড. শামসুজ্জোহা।
- এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী হটাও আন্দোলন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিসহ আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- তিনিই পাক-হানাদারদের হাতে নিহত প্রথম বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
৬৯৫.
'ঋজুক ঝর্ণা' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) বান্দরবানে
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
খ) বান্দরবানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বান্দরবানে
ব্যাখ্যা
বান্দরবানে অবস্থিত কয়েকটি ঝর্ণাঃ
- ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Falls)
- ট্রিপল ঝর্ণা (Triple Falls)
- জাদিপাই ঝর্ণা (Jadipai Falls)
- চিংড়ি ঝর্ণা (Shrimp Fountain)
- জোড়া ঝর্ণা বা যমজ ঝর্ণা (Twin Falls or Double Falls)
- রূপমুহুরী ঝর্ণা (Rupmuhuri Falls)
- বাকলাই ঝর্ণা (Baklai Falls)
- কুমারী ঝর্ণা (Kumari Falls)
- দামতুয়া ঝর্ণা(Damtuya Falls)
- রেনিক্ষ্যং ঝর্ণা (Renikkhyng Falls)
- শৈলপ্রপাত (Shaoilo Propat)
- তিনাপ সাইতার (Tinap Saitar)
- নাফাখুম (Nafakhum)

উৎসঃ বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
৬৯৬.
ছয়দফা আন্দোলনের শহীদ নন কে?
  1. আসাদ
  2. মুজিবুল হক
  3. মনুমিয়া
  4. উপরের কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
আসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদ
ব্যাখ্যা
আসাদ ছয়দফা আন্দোলনের শহীদ নন।

ছয় দফা কর্মসূচি:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচীর মূল বক্তব্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।

⇒ ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ।
- বিপরীতে সেদিন ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তানিরা।
- কিন্তু ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও রাজপথে নেমে আসে ছয় দফার সমর্থনে।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন।
- জান্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ১১ জন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৬৯৭.
একুশের প্রথম সংকলনের নাম কী ছিল?
  1. ভাষার দাবি
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. একুশের স্মৃতি
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• প্রথম সংকলন:
- একুশের প্রথম সংকলনের নাম একুশে ফেব্রুয়ারি। 
- সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- সংকলনটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান।
- সংকলনে ‘সকল ভাষার সমান মর্যাদা’ শিরোনামে আলী আশরাফের একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়।

⇒ এ সংকলনে শামসুর রাহমান, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, আবদুল গণি হাজারী, ফজলে লোহানী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আনিস চৌধুরী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, জামালুদ্দিন, আতাউর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক এবং হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা ছাপা হয়। গল্প ছাপা হয় শওকত ওসমান, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, আনিসুজ্জামান, সিরাজুল ইসলাম এবং আতোয়ার রহমানের। গান ছিল আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ও তোফাজ্জল হোসেনের।

- এ ছাড়া সংকলনে ‘একুশের ইতিহাস’ শিরোনামে একটি রচনা ছিল, যেটি কবির উদ্দিন আহমদের লেখা।
- ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনের স্কেচ করেন মূর্তজা বশীর।
- হাসান হাফিজুর রহমানের অনুরোধে উৎসর্গপত্র লিখে দেন আনিসুজ্জামান।
- সংকলনটি ছাপেন এম এ মুকিত, পাইওনিয়ার প্রেস থেকে। 
- ক্রাউন সাইজে ছাপা ১৮৩ পৃষ্ঠার এ সংকলনের দাম রাখা হয় দুই টাকা আট আনা।
- এটি প্রকাশের পর প্রকাশকের আস্তানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। 
- শেষ পর্যন্ত সংকলনটিকে নিষিদ্ধ করে সরকার। 
- পরে ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খান মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

এছাড়াও,
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর রচিত ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ একুশের প্রথম কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো

৬৯৮.
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা

- বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়' নামক অরাজক অবস্থার অবসান ঘটাতে প্রকৃতিপুঞ্জ বা জনগণ গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে।  

পাল বংশ:
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ছিলেন- গোপাল।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- মাত্ন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি। অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৯.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ প্রথম কোথায় শুরু হয়?
  1. রংপুর
  2. বর্ধমান
  3. বিহার
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।

উল্লেখ্য,
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। ফলে তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০০.
মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন -
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রেসিডেন্ট মির্জা দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- প্রেসিডেন্ট মির্জা সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- তখন সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- প্রেসিডেন্ট মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।

⇒ আইয়ুব খান:
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।
- ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন।
- অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ - হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- আইয়ুব খান ৫ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
- তাঁর প্রশাসনিক কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর ছিল ইউনিয়ন কাউন্সিল।
- মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্যরা ছিলেন ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য।
- এরাই জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে ভোট দানের ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।