বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ২০ / ১২৪ · ১,৯০১২,০০০ / ১২,৪২১

১,৯০১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ২৫৭ জন
  2. ১৬৩ জন
  3. ৪৪ জন
  4. ৬৮ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃতির তথ্য:

• স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন। 

• তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১,৯০২.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোন বৃহৎ শক্তিধর দেশ জাতিসংঘে ভেটো দেয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- বর্তমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম রাশিয়া।
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয় রাশিয়া।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।

উল্লেখ্য, 
-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯০৩.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর উপাধি কী ছিল?
  1. সিপাহী
  2. সার্জেন্ট
  3. ল্যান্স নায়েক
  4. ক্যাপ্টেন
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ:
• জন্ম- ১৯৪৩ সালে ফরিদপুর জেলায়
• কর্মস্থল- মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৬৩ সালের ৮ই মে ২০ বছর বয়সে যোগদান করলেন ইপিআর-এ।
- প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ পেলেন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে।
- তাঁর ইপিআর নম্বর -১৩১৮৭।
• পদবি- ল্যান্স নায়েক
• সেক্টর- ১নং
• মৃত্যু- ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
• সমাধি- রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ার চরে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,৯০৪.
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই দুই মাস নিয়ে কোন কাল?
  1. বর্ষা
  2. শরৎ
  3. বসন্ত
  4. হেমন্ত
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
হেমন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমন্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা ঋতু ও মাসের নাম:
• গ্রীষ্ম - বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ।
• বর্ষা - আষাঢ়, শ্রাবণ।
• শরৎ - ভাদ্র, আশ্বিন।
• হেমন্ত - কার্তিক, অগ্রহায়ণ।
• শীত - পৌষ, মাঘ।
• বসন্ত - ফাল্গুন, চৈত্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯০৫.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  2. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী
  3. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  4. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
সঠিক উত্তর:
অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯০৬.
”পার্বত্য চট্টগ্রাম” প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো?
  1. বরেন্দ্র
  2. হরিকেল 
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. পুণ্ড্র 
সঠিক উত্তর:
হরিকেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিকেল 
ব্যাখ্যা

• হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলি-খিত হয়েছে।
- অনেকে ধারণা করেন যে হরিকেল জনপদ ছিল না, এটি বঙ্গের সাথে যুক্ত ছিল।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।

অন্যদিকে,
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
-  বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৯০৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র কোথায় নির্মিত হচ্ছে ?
  1. জাজিরা, শরীয়তপুর
  2. জয়দেবপুর, গাজীপুর
  3. রামু, কক্সবাজার
  4. ভাঙ্গা, ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
ভাঙ্গা, ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাঙ্গা, ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র”।
প্রকল্পটি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নির্মাণের প্রস্তাব দেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল।
- কর্কট ক্রান্তিরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার সংযোগস্থল হওয়ায় এ অঞ্চলটিতেই স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
- পরবর্তীতে প্রস্তাবটি বিবেচনায় এনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার

১,৯০৮.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ১৫৩টি
  2. ১৬৭টি
  3. ২০৯টি
  4. ২২৩টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তফ্রন্ট একটি একুশ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং এটিকে নির্বাচনী ইশতেহারের অর্ন্তভুক্ত করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো,
• আওয়ামী লীগ।
• কৃষক শ্রমিক পার্টি।
• নেজামে ইসলাম।
• গণতন্ত্রী দল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন। পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৯.
যুক্তফ্রন্ট ঘোষিত ২১-দফা কর্মসূচির প্রথম দফা কোনটি?
  1. ক) একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি
  2. খ) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
  3. গ) শহীদের স্মরণে ‘শহীদ মিনার’ করা
  4. ঘ) বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করা
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য শ্রদ্ধাভরে তাদের কর্মসূচিকে ২১টি দফায় লিপিবদ্ধ করেন। ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ৫ টি যথা - ১,১০,১৬,১৭,১৮। যুক্তফ্রন্টের ২১-দফা কর্মসূচির কয়েকটি দফা নিম্নরুপ - 

১। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।
১০। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ব্যবধান দূর করা হবে এবং বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করা হবে।
১৬। বর্ধমান হাউসকে (বর্তমান বাংলা একাডেমি) আপাতত ছাত্রাবাস এবং পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করা হবে । 
১৭। বাংলা ভাষার  জন্য শহীদের স্মরণে ‘শহীদ মিনার’ করা হবে।
১৮। একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হবে।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯১০.
রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন-
  1. ক) ফা-হিয়েন
  2. খ) মাহুয়ান
  3. গ) হিউয়েন সাং
  4. ঘ) মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
গ) হিউয়েন সাং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন।
শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী/ বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি]
১,৯১১.
হাকালুকি হাওর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ
  3. মৌলভীবাজার
  4. কিশোরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
হাকালুকি হাওর:

- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়।
- এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৯১২.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ কত খ্রিস্টাব্দে ঘটে?
  1. ক) ১৮৫৭ সালে
  2. খ) ১৭৭০ সালে
  3. গ) ১১৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৭৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭৭০ সালে
ব্যাখ্যা

- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে আর প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে।
- যার ফলে বাংলায় এক অভূতপর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৯১৩.
গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৫
  4. ঘ) ১৯৫৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
• ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৯১৪.
সেন বংশের কোন শাসক সুপণ্ডিত হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) লক্ষণ সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) বিজয় সেন
  4. ঘ) হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
খ) বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
• সেন বংশে বল্লাল সেন ছিলেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন।

• কবি বা লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর দান অপরিসীম। তিনি ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থের অসমাপ্ত অংশ তাঁর পুত্র লক্ষণ সেন সম্পূর্ণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৫.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়-
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা:
- বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।
- সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকার দেশের ছয় থেকে দশ বছর বয়সী শিশুর জন্য পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেন।
- ১৯৯০ সালে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস করা হয়।
- ১৯৯২ সালে সীমিতভাবে এবং ১৯৯৩ সাল থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: সিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৯১৬.
'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় - 
  1. ২১ অক্টোবর, ১৯৪৭
  2. ২ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ১১ মার্চ, ১৯৫০
  4. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

⇒ তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯১৭.
নিচের কোনটি ‍মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. আলোর মিছিল
  3. চিত্রা নদীর পাড়ে
  4. আবার তোরা মানুষ হ
সঠিক উত্তর:
চিত্রা নদীর পাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রা নদীর পাড়ে
ব্যাখ্যা
- 'চিত্রা নদীর পাড়ে' চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত যার পরিচালক হলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- এটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় এবং ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ সিনেমা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ সাতটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
অন্যদিকে,
- আলোর মিছিল (পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা), হাঙর নদী গ্রেনেড (পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম) এবং আবার তোরা মানুষ হ (পরিচালক খান আতাউর রহমান) হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
(সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন এবং চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্র)
১,৯১৮.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং মাঝের লালবৃত্তের ব্যাসার্ধের অনুপাত যথাক্রমে -
  1. ৫ : ৩ : ১
  2. ৫ : ৩ : ২
  3. ৪ : ৩ : ১
  4. ৪ : ৩ : ২
সঠিক উত্তর:
৫ : ৩ : ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ : ৩ : ১
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।

• পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে,
- জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- অর্থাৎ, পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থের অনুপাত = ১০ : ৬ = ৫ : ৩।
- পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং লাল বৃত্তের মাঝের অনুপাত = ১০ : ৬ : ২ = ৫ : ৩ : ১।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
iii) প্রথম আলো।
iv) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৯.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল-
  1. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের নেতৃত্বে প্রথম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় ১৯৫২ সাল।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং নির্বাচন হয় ৮-১২ মার্চ, ১৯৫৪ সালে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৯২০.
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম কী?
  1. উইংস অফ ফ্রিডম
  2. ৩৬ ডেজ ইন জুলাই
  3. শ্রাবণ বিদ্রোহ
  4. জুলাই বীরগাথা
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

শ্রাবণ বিদ্রোহ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত তথ্যচিত্ৰ ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ'।
- বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম 'শ্রাবণ বিদ্রোহ'।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

১,৯২১.
ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম কারা বাংলায় ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসে?
  1. ইংরেজ
  2. পর্তুগীজ
  3. ফরাসি
  4. ওলন্দাজ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসায়-বাণিজ্যকে মূলধন করে এদেশে এলেও ক্রমে ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২২.
দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হচ্ছে কোথায়?
  1. সোনাদিয়া
  2. মাতারবাড়ী
  3. পায়রা
  4. মিরসরাই
সঠিক উত্তর:
মাতারবাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতারবাড়ী
ব্যাখ্যা
- কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হচ্ছে। তবে এটি স্বতন্ত্র বন্দর নয়, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের টার্মিনাল বন্দর হিসেবে নির্মিত হচ্ছে।
- মাতারবাড়ী বন্দরটি স্বতন্ত্র সমুদ্রবন্দর জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বন্দরটি নির্মিত হচ্ছে।
- ২০২০ সালের মার্চে ১৭,৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।
- এর আগে কক্সবাজার জেলার সোনাদিয়া এবং পটুয়াখালী জেলার পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পগুলো থেকে সরকার সড়ে আসে।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
১,৯২৩.
বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম হৃদ কোন নদীতে বাদঁ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে?
  1. সাঙ্গু
  2. তিস্তা
  3. পদ্মা
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
কাপ্তাই হ্রদ:
- বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম হৃদ কাপ্তাই হ্রদ।
- কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার একটি কৃত্রিম হ্রদ।
- কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলি নদীর উপর বাঁধ দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ নির্মাণ করা হয়।
- প্রধানত  জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এর সৃষ্টি হলেও, এ জলাধারে প্রচুর পরিমাণে মিঠাপানির  মাছ চাষ হয়। 
- মূল লেকের আয়তন প্রায় ১,৭২২ বর্গ কিমি, তবে আশপাশের আরও প্রায় ৭৭৭ বর্গ কিমি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
- মূলত রাঙ্গামাটি জেলাতেই জলাধারটি সীমিত যার অন্তর্ভুক্ত উপজেলাসমূহ হচ্ছে রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯২৪.
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ভাস্কর্য কোনটি?
  1. স্মারক
  2. জাগ্রত চৌরঙ্গী
  3. বিজয় ৭১
  4. সংশপ্তক
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
ভাস্কর্য:

- সংশপ্তক ভাস্কর্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটির শিল্পী হামিদুজ্জামান খান।
- শিল্পী ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের শরীরে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে এতে দৃশ্যমান করা হয়েছে।
- মূল ভূমি থেকে ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২৮ ফুট।
- মূল ভাস্কর্যটি ব্রোঞ্জ ধাতুতে তৈরি। এ ছাড়া এটি নির্মাণে লাল সিরামিক ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
- দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করতে মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রামবাংলার আপামর জনতার স্বাধীনচেতা, অকুতোভয় মানসিকতার সাহসী প্রতিবিম্ব এ ভাস্কর্য।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ৭ ডিসেম্বর ২০২০।
১,৯২৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  2. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  3. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী
  4. কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:

- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র-এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার-আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী-আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী
৪. সৈয়দ আজিজুল হক-শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
- পরবর্তীতে ১৫ মে, ১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯২৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'পোড়ামাটি নীতি' নিম্নের কোন বাহিনী দ্বারা প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. ভারতীয় সেনাবাহিনী
  2. পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
  3. গেরিলা বাহিনী
  4. মিত্রবাহিনী
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy):
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' প্রয়োগ করেছিল।
- পোড়ামাটি নীতি এমন একটি সামরিক কৌশল যা দ্বারা সেনাবাহিনীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সামরিক বেসামরিক নির্বিশেষে সবাইকে হত্যার পাশাপাশি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। শত্রুর পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব এমন স্থাপনা ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পায় না খাদ্যের উৎস, পানি সরবরাহ, পরিবহন, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ায় হলো পোড়ামাটি নীতি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বেলা ১১টায় মেজর জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজাকে ফোনে চার শব্দের এক বার্তা দেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। প্রায় এক মাস আগে থেকে তৈরি হতে থাকা একটা সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এভাবেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। অভিযানটির নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
- নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগেই সেনাবহর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। ফার্মগেটে মিছিলের ওপর গুলি চালিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের সূচনা করে তারা। তারপর রাতভর চলে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে নির্বিচার মানবনিধন। 
- জেনারেল টিক্কা, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ সশস্ত্র বাঙালি ইউনিট ও ব্যক্তিদের নিরস্ত্রীকরণ এবং বাঙালি নেতাদের আটক করার পরিবর্তে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেন। সৈন্যদের প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল: “মানুষ না, মাটি চাই।” 

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই ‘অপারেশন ব্লিৎজ’ নামে এই অভিযানের কথা প্রথম ভেবেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। এর আওতায় সামরিক শাসন জারি করে সামরিক বাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১,৯২৭.
ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তুরাগ
  2. শীতলক্ষ্যা
  3. বালু
  4. বুড়িগঙ্গা
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা
ঢাকা:
- ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- প্রায় সাতশত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বন্দর নগরী ঢাকা।
- মোঘল সমাট্র জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬০৮ সালে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বিশ্বব্যাপী এ নগরীর মর্যাদা ও গুরুত্ব বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী।
- ব্রহ্মপুত্র আর শীতলক্ষ্যার পানি এক স্রোতে মিশে নতুন একটি স্রোত বয়ে চলে।
- সেই স্রোতটির নাম হয় বুড়িগঙ্গা নদী।
- বর্তমানে এটা ধলেশ্বরীর শাখাবিশেষ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯২৮.
ফ্লাইট লেফটেনান্ট মতিউর রহমান যে মার্কিন বিমানটি নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, সেই বিমানটির নাম -
  1. ক) টি - ৩৩
  2. খ) মিগ - ২১
  3. গ) এফ - ৬
  4. ঘ) মিরেজ - ৮
সঠিক উত্তর:
ক) টি - ৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টি - ৩৩
ব্যাখ্যা
• মতিউর রহমান:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ছুটিতে এসে মতিউর রহমান স্থানীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন।
- ভৈরবে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
- তাঁর লক্ষ্য ছিল বিমান ছিনতাই করে সেটি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবেন।
 - ২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল।
- মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক।
- টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড।
- প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি। বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়। 
 - মতিউর রহমানের দেশপ্রেম ও আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৯.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। এ গানটিতে তিনি বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের আবহ ও সুরকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটি পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী গানের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো এর প্রথম সুরকার’।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
১,৯৩০.
‘এস ফোর্স’-এর প্রধান কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. মেজর শফিউল্লাহ
  3. মেজর খালেদ মোশাররফ
  4. কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
মেজর শফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাহিনী গঠন:
- অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধকে আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল উপায়ে পরিচালনা করার জন্য এ দেশের বিভিন্ন বাহিনীতে চাকুরিরত সেনাদের সমন্বয়ে ‘নিয়মিত বাহিনী’ এবং সাধারণ জনতার সমন্বয়ে ‘অনিয়মিত বাহিনী বা গণবাহিনী’ নামক প্রধান দুটি বাহিনী গঠন করা হয়।
- তবে সার্বিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের এসব বাহিনী ‘মুক্তি বাহিনী’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিল।
- কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানীকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করা হয়।
- নিয়মিত বাহিনীর অধীনে আরো কিছু উপ বাহিনী গঠিত হয়। যথা-

• সেনা ব্যাটেলিয়ন
- এই বাহিনীটি গঠিত হয় তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তার রাইফেল্স বা ইপিআর এর বাঙালি সদস্যদের সমন্বয়ে।
- এই বাহিনীকে পরে তিনটি আলাদা ব্রিগেডে বা ফোর্সে বিভক্ত করা হয়। ব্রিগেড প্রধানগণ হলেন- 
১. এস ফোর্স- মেজর শফিউল্লাহ।
২. জেড ফোর্স- মেজর জিয়াউর রহমান।
৩. কে ফোর্স- মেজর খালেদ মোশাররফ। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩১.
ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের প্রধান দু'টি বধ্যভূমি -
  1. ক) পিলখানা ও সেনানিবাস
  2. খ) জগন্নাথ হল ও ইকবাল হল
  3. গ) শিয়ালবাড়ি ও রায়ের বাজার
  4. ঘ) রমনা ও রেসকোর্স
সঠিক উত্তর:
গ) শিয়ালবাড়ি ও রায়ের বাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিয়ালবাড়ি ও রায়ের বাজার
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিজীবী হত্যা

- জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পরাজয় নিশ্চিত জেনে আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী অপহরণ ও হত্যাকান্ড দ্রুত ঘটানো হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার গভর্নর হাউসে বোমাবর্ষণের পর ডা. মল্লিক মন্ত্রিসভার পদত্যাগের পর পাকবাহিনীর সকল আশা ধূলিসাৎ হলে ইতোমধ্যে আটককৃত কিংবা নতুন আটককৃত বুদ্ধিজীবীদের সরাসরি হত্যা করা হয়।
- ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের মিরপুর শিয়ালবাড়ি ও মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়।
- স্থানীয় পর্যায়ে আরো অনেক বধ্যভূমিতে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়।
- আবার কারো কারো লাশও পাওয়া যায়নি।
- স্বাধীনতার পর লাশের স্তুপে যাঁদের পাওয়া গিয়েছে তাঁদের সকলের হাত-পা-চোখ বাঁধা ছিল।
- কারো হাত নেই, কারো চোখ বা হৃৎপিন্ড নেই। এগুলো নরপিশাচদের নির্যাতনের স্বাক্ষর বহন করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩২.
ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড জেমসফোর্ড 
  2. লর্ড কার্জন 
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা

ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় ব্রিটিশ গভর্নর বা শেষ ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

⇒ ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ১৯৭৯ সালের ২৭ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের অদূরে ডোনেগাল বে-তে তাঁর নৌযানে এক বিস্ফোরণে নিহত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.

১,৯৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. মনোরঞ্জন ধর
  4. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
- আহবায়ক ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৩৪.
কোথায় বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়?
  1. লাহোর
  2. করাচি
  3. ইসলামাবাদ
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
করাচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করাচি
ব্যাখ্যা

-• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯৪৮–১৯৫০)
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সেই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
- বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার এই চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়, যা তথাকথিত ভাষা সংস্কারের নামে বাংলা ভাষার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিরোধিতা করে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
- ভাষার অধিকার রক্ষায় নতুন করে আন্দোলনের সংগঠিত প্রয়াস শুরু হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- এই কমিটির নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এবং জনগণের সচেতনতা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হয়ে ওঠে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি।

১,৯৩৫.
কাফকো সার কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙাদিয়া
  2. চন্দ্রঘোনা
  3. পতেঙ্গা
  4. মাতারবাড়ী
সঠিক উত্তর:
রাঙাদিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙাদিয়া
ব্যাখ্যা

- কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যৌথ প্রকল্প।
- এটি চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলার রাঙাদিয়ায় অবস্থিত যা ১৯৯৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন শুরু করে।
- বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সেক্টর, জাপান, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডের যৌথ সহায়তায় এটি স্থাপিত হয়।
- কাফকো উৎপাদিত সার হলো দানাদার ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়া সার।
- এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬.৮ লক্ষ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া এবং ১.৫ লক্ষ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া।
(তথ্যসূত্র: কাফকো ওয়েবসাইট)

১,৯৩৬.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) রংপুর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। সূত্র- বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৭.
ছয়দফা দাবি কোথায় উথাপন করা হয়?
  1. চট্টগ্রামে
  2. করাচীতে
  3. লাহোরে
  4. ঢাকায়
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
ব্যাখ্যা
ছয়দফা দাবি:
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে।
- তিনি ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলনও গড়ে তোলেন।
- ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ছয়দফার আন্দোলনে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৮.
পাঁচ পীরের মাজার কোথায়?
  1. সোনারগাঁয়ে
  2. রাজশাহীতে
  3. ঢাকা শহরে
  4. খুলনা শহরে
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁয়ে
ব্যাখ্যা
পাঁচ পীরের মাজার:

- পাঁচ পীর বাংলায় পীরানী বিশ্বাসের বিবর্তনে এক তাৎপর্যপূর্ণ উত্তরণ।
- দূরদূরান্তে ইসলামের বিস্তৃতির ফলে মুসলিম জনগণ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্পর্শে আসে।
- সোনারগাঁয়ের পাঁচ পীরের মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- দরগাহর পাশে একটি মসজিদ আছে।
- মসজিদের গায়ে নির্মাণের তারিখ সম্বলিত কোনো লিপি সংস্থাপিত নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন [লিংক]
১,৯৩৯.
কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  2. খ) অপরাজেয় বাংলা
  3. গ) সাবাশ বাংলাদেশ
  4. ঘ) মুক্ত বাংলা
সঠিক উত্তর:
খ) অপরাজেয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপরাজেয় বাংলা
ব্যাখ্যা
কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে স্থাপিত অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য। এটি ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এর স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ। অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের ভূমিকার পটভূমিতে নির্মিত। জাগ্রত চৌরঙ্গী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য যা গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত। সাবাশ বাংলাদেশ এবং মুক্তবাংলা ভাস্কর্য যথাক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,৯৪০.
বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭
  2. ৬৫
  3. ৬৯
  4. ৬৩
সঠিক উত্তর:
৬৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
১,৯৪১.
বাংলাদেশে নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রথমবার কোন সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. পঞ্চম
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. ষষ্ঠ 
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম সংসদ নির্বাচন:
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৭৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।
- এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫.৪৫ শতাংশ।
- এ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে।
- আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি  একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়।
- স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনটি আসনে জয়লাভ করেন। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।
 
তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলাট্রিবিউন। 

১,৯৪২.
নাথান কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে কী ছিলো?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ প্রশমন
  2. খ) ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) ইংরেজি শিক্ষার প্রসার
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠন করে।

নাথান কমিশনের সদস্যরা হলেন:
- আর. নাথানিয়েল (প্রধান)
- ডব্লিউ কুচলু
- অ্যাডভোকেট রাসবিহারী ঘোষ
- নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
- নওয়াব সিরাজুল ইসলাম
- উকিল আনন্দচন্দ্র রায়
- মুহম্মদ আলী
- এইচ.আর জেমস
- ডব্লিউ.এ.টি আর্চবোল্ড
- সতীশচন্দ্র আচার্য
- ললিত মোহন চ্যাটার্জী
- সি.ডব্লিউ পীক ও
- শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওহীদ।

নাথান কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ডি.এস ফ্রেজার।
এই কমিশন একই বছরের হেমন্তে তার রিপোর্ট সরকারের নিকট পেশ করে। কমিশন ঢাকায় একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,৯৪৩.
যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে কতটি মুসলিম আসন লাভ করে?
  1. ২৩৭টি
  2. ২১৫টি
  3. ১৪২টি
  4. ২২৮টি
সঠিক উত্তর:
২১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১৫টি
ব্যাখ্যা
নির্বাচনী ফলাফল: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে। 
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- যুক্তফ্রন্টের শরিকদলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যা নিম্নরূপ হয়: আওয়ামী লীগ ১৪২, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলামী ১৯, গণতন্ত্রী দল ১৩ (১টি আসনে দলীয় পরিচয় অস্পষ্ট)।
- ৭২টি অমুসলমান আসনের ২৪টিতে জাতীয় কংগ্রেস, ২৭টিতে তফশিলি ফেডারেশন (রসরাজ মন্ডল গ্রল্প), সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট ১৩টি (এর মধ্যে গণতন্ত্রী দল ৩টি), কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বৌদ্ধ ২টি, খ্রিস্টান ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯৪৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাব প্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. নেদারল্যান্ডস
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. পোল্যান্ড
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৫.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২৫০ টি
  2. খ) ২৭৫ টি
  3. গ) ২২৩ টি
  4. ঘ) ২৯৮ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২২৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২২৩ টি
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য ছিল - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।

- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। 
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৪৬.
Which is the following countries was the first to recognize Bangladesh as an independent state?
  1. ক) Bhutan
  2. খ) Russia
  3. গ) Libya
  4. ঘ) India
সঠিক উত্তর:
ক) Bhutan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Bhutan
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি:
- প্রথম দেশ : ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- দ্বিতীয় দেশ : ভারত (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ : পূর্ব জার্মানি (১১ জানু. ১৯৭২)
- প্রথম আফ্রিকান/মুসলিম দেশ : সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২)
- প্রথম আরব মুসলিম দেশ : ইরাক (৮ জুলাই ১৯৭২)
- আলজেরিয়া : ১৬ জুলাই ১৯৭৩
- ইন্দোনেশিয়া : ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।

(সূত্রঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট  এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন)
১,৯৪৭.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি মুসলিম আসন লাভ করে?
  1. ২৮৮টি
  2. ২৩৬টি
  3. ২২৩টি
  4. ২১৫টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ এবং পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান শরিক দলগুলো ছিল:
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- এ. কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি,
- মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম,
- হাজী মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল এবং
- খিলাফতে রব্বানী পার্টি।

নির্বাচনের ফলাফল: 
- নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- ফলে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে। 
- যুক্তফ্রন্টের শরিকদলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যা নিম্নরূপ হয়: আওয়ামী লীগ ১৪২, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলামী ১৯, গণতন্ত্রী দল ১৩ (১টি আসনে দলীয় পরিচয় অস্পষ্ট)।
- ৭২টি অমুসলমান আসনের ২৪টিতে জাতীয় কংগ্রেস, ২৭টিতে তফশিলি ফেডারেশন (রসরাজ মন্ডল গ্রুপ), সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট ১৩টি (এর মধ্যে গণতন্ত্রী দল ৩টি), কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বৌদ্ধ ২টি, খ্রিস্টান ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।
- ফলে, যুক্তফ্রন্ট মোট আসন লাভ করে ২১৫টি+৮টি+১৩টি=২৩৬টি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৮.
কয়টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ক) ৩টি  
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৬টি  
  4. ঘ) ৭টি  
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি  দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র।
১,৯৪৯.
‘গাবখান চ্যানেল’ বাংলাদেশের যে জেলায় অবস্থিত -
  1. চট্টগ্রাম
  2. ফেনী
  3. ঝালকাঠি
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ঝালকাঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝালকাঠি
ব্যাখ্যা
গাবখান চ্যানেল:
- গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
- ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে ১৬ কিমি দীর্ঘ এ গাবখান চ্যানেল।
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
- এর ঝালকাঠি অংশে সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীর মোহনা এবং পিরোজপুর অংশে কচা নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- ঝালকাঠি জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি ৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে।
- ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশরা ঝালকাঠি পৌর শহরের গাবখান থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াঝড়ি পর্যন্ত খনন করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯৫০.
নীল বিদ্রোহ কত সালে শুরু হয়েছিল?
  1. ১৮৫৭ সালে
  2. ১৮৫৮ সালে
  3. ১৮৫৯ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- নীল বিদ্রোহ ১৮৫৯-৬২ সালে বাংলায় সংঘটিত নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের একটি সফল প্রতিরোধ আন্দোলন।
- এই বিদ্রোহে কৃষকরা নীলকুঠি আক্রমণ, খাজনা বন্ধ এবং লাঠিয়ালদের প্রতিহত করে, যা বাংলায় নীল চাষের অবসান ঘটায়। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলায় ইংরেজ আমলে নীল চাষ শুরু হয়।
- বাংলাদেশে নীলের ব্যবসা ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের।  ফরিদপুর, ঢাকা, পাবনা, যশোর, রাজশাহী, নদীয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো।
- ১৮৫৯ সালে যশোর ও নদীয়ায় এ আন্দোলনের সূচনা হয়। দ্রুত এ আন্দোলন নীল চাষের আওতাভুক্ত অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৮৬২ সালে রায়তদের অনুকূলে সরকারি হস্তক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার। নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। 
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

১,৯৫১.
কোন দেশটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছিলো?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. কানাডা
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
- এদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ নামে নৌবহর প্রেরণ করে।
- তবে মার্কিন জনগণ, গণমাধ্যম ও কিছু কংগ্রেসম্যান পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানায় এবং বাঙালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
অন্যদিকে,
- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।
- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালিসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণ ও প্রচারমাধ্যমসমূহে পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়।
- লন্ডন ছিলো বহিবির্শ্বে বাংলাদেশের প্রধান প্রচারকেন্দ্র।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৯৫২.
লাহোর প্রস্তাব কবে উত্থাপিত হয়?
  1.  ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  2. ১৯৪০ সালের ১৭ মে
  3. ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
  4. ১৯৪৭ সালের ১৫ জুলাই
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory):
-
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা হলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
- এই তত্ত্বমতে ব্রিটিশ ভারতের হিন্দু ও মুসলিম দুটি পৃথক জাতি, যাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস, জীবনধারা ও রীতিনীতি এতটাই ভিন্ন যে তারা একসাথে একটি রাষ্ট্রে থাকতে পারে না।
- তাই মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র, পাকিস্তান, প্রয়োজন।
∗ লাহোর প্রস্তাব:
- এই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 
- যেখানে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অংশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারত ভাগের ভিত্তি রচিত হয় এবং এটি পরবর্তীতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- আর দ্বিজাতি তত্ত্বের ফলেই ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে দুটি পৃথক রাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ভারত, প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৫৩.
বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠার যোগ্যতা অর্জনের জন্য কোন বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি?
  1. ক) মাথাপিছু আয়
  2. খ) মানবসম্পদ
  3. গ) অর্থনৈতিক ঝুঁকি
  4. ঘ) শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিক্ষা
ব্যাখ্যা
স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি। সূত্রঃ প্রথম আলো।
১,৯৫৪.
এ দেশের সরকারি কাজে 'ফারসি' ভাষা চালু করেন কে?
  1. ক) হুসেন শাহ
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) রাজা টোডরমল
  4. ঘ) ইংরেজরা
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা টোডরমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা টোডরমল
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৯৫৫.
শোলাকিয়া ইদগাহ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) নেত্রকোনা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) জামালপুর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
শোলাকিয়া ইদ জামাত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অন্যতম সর্ববৃহৎ ইদের জামাত। কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ইদগাহ ময়দানে ঐতিহ্যবাহী এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৯৫৬.
প্রাচীন 'কর্ণসুবর্ণ' বলতে বর্তমান কোন স্থানকে বুঝায়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. নদীয়া
  3. আগ্রা
  4. পাটনা
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা
 কর্ণসুবর্ণ:
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড়ের রাজা  শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৭.
‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক)’ গঠণের প্রেক্ষাপট-
  1. ক) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) সামরিক শাসন
  3. গ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  4. ঘ) ৭০ এর নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
ক) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর সমন্বয়ে ‘ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক)’ গঠিত হয়।
- এই জোটে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিলো।
- পাকিস্তানে ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবিতে এই জোট গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৮.
তমদ্দুন মজলিশের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সৈনিক
  3. গ) ইত্তেফাক
  4. ঘ) মিল্লাত
সঠিক উত্তর:
খ) সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈনিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন হলো তমদ্দুন মজলিস। এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদকমন্ডলীর প্রথম সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী। পরবর্তীতে সভাপতি হন আবদুল গফুর। একটি আজিমপুর থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ এবং মিল্লাত পত্রিকা বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের উদ্যোগে প্রকাশিত হতো।
সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৯.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল-
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ব্রিটেন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
গ) রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্য থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

১,৯৬০.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. নিউ ইয়র্ক
  2. নয়াদিল্লি
  3. লন্ডন
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

প্রবাসে বাঙালিদের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন স্থাপিত হয় কলকাতায়।

- এটি ছিল পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনের পরিবর্তিত রূপ যেখানে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলীর নেতৃত্বে বাঙ্গালী কর্মকর্তারা আনুগত্য প্রকাশ করেন।
- এটি ছিল বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম দূতাবাস। 

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে।
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।
- এতে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই এপ্রিল মাসে প্রবাসী বাঙালি মহিলাদের একটি প্রতিবাদ মিছিল লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।
- জুন মাসে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে লন্ডনে মিছিলের আয়োজন করে।
- মিছিল শেষে এই প্রতিবাদকারীগণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনেও বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১,৯৬১.
কোথায় বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত পরস্পরকে ছুঁয়েছে?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
সীমান্ত জেলা:

- বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি এবং জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- যার ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- কিন্তু ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে। 

তথ্যসূত্র - বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
১,৯৬২.
সহপাঠির অনুভূতি বুঝতে পারা কোন ধরনের লক্ষণ?
  1. ভাষাগত
  2. জ্ঞানগত
  3. আবেগগত
  4. ইচ্ছাগত
সঠিক উত্তর:
আবেগগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগগত
ব্যাখ্যা

- সহপাঠির অনুভূতি বুঝতে পারা হলো আবেগগত বুদ্ধিমত্তা।
- সহপাঠির অনুভূতি বুঝতে পারা মানে অন্যের মনের ভাব, দুঃখ, আনন্দ বা চাপ অনুভব করতে সক্ষম হওয়া।
- এটি সরাসরি আবেগ বা অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।
- এ ধরনের ক্ষমতাকে বলা হয় আবেগগত বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence)।
- আবেগগত বুদ্ধিমত্তার একটি প্রধান অংশ হলো সহানুভূতি।

তথ্যসূত্র - Harvard Division of Continuing Education.

১,৯৬৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দ্বিতীয় খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরবিক্রম
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীরউত্তম
  4. ঘ) বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
গ) বীরউত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- উল্লেখ্য, বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,৯৬৪.
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য নন -
  1. ক) কাজী সালাউদ্দীন
  2. খ) জাকারিয়া পিন্টু
  3. গ) শেখ আব্দুল হাকিম
  4. ঘ) মতিউর মুন্না
সঠিক উত্তর:
ঘ) মতিউর মুন্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মতিউর মুন্না
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন শেখ আব্দুল হাকিম। 
- তিনি ২৮ আগস্ট ২০২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- শেখ আব্দুল হাকিম স্বাধীনতার আগে দিলকুশা স্পোর্টিংয়ে খেলা শুরু করেন।
- পাকিস্তান যুব দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যোগ দেন।
- ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে প্রথম জাতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
- তিনি ১৯৭৫ সালের মারদেকা কাপের দলেও ছিলেন। 
- স্বাধীনতার পর তিনি ওয়াপদা, ওয়ারীতে খেলতেন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, অক্টোবর ২০২২ এবং সমকাল।
১,৯৬৫.
১৯৪৭ সালে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা’ রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন কে?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
'স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলার' পরিকল্পনা

- ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগ এবং এর পাশাপাশি বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলসহ অনেক কংগ্রেস নেতাও ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের সিদ্ধান্তকে মেনে নেন ।

- বাঙালি জাতির এ দুঃসময়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও অবিভক্ত বাংলার সে সময়ের মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবুল হাশিম ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা প্রদেশকে বিভক্তির বিরোধিতা করেন।
- শরৎচন্দ্র বসু, কিরণ শংকর রায়, সত্য রঞ্জন বক্সীর মতো প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক কংগ্রেস ও ফরোয়ার্ড ব্লক নেতাগণও বাংলাকে বিভক্ত করার বিরোধিতা করেন।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসব প্রগতিশীল নেতার সাথে পরামর্শ করে ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা’ রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

- 'স্বাধীন বাংলা' রাষ্ট্রগঠন আন্দোলনের নেতাগণ বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলার কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল নেতাগণ ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি যৌথ কমিটি গঠন করেন।
- এ যৌথ কমিটি ১৯৪৭ সালের ২০ মে স্বাধীন বাংলার ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি রূপরেখাও প্রণয়ন করে।

এ রূপরেখা অনুযায়ী স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলার ভবিষ্যৎ সংবিধানের বৈশিষ্ট্য হবে নিম্নরূপ:

১। বাংলা হবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। ভারতের অবশিষ্ট অংশের সাথে এর সম্পর্ক কীরূপ হবে তা স্বাধীন বাংলার পরিচালক ও সংগঠকবন্দই নির্ধারণ করবেন।
২। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার আইনসভা গঠিত হবে যুক্ত নির্বাচন ও সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে।
৩। স্বাধীন বাংলার প্রস্তাব গৃহীত হলে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
৪। অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন মুসলমান। তবে মন্ত্রিসভায় সমান সংখ্যক মুসলমান ও হিন্দু মন্ত্রী থাকবেন।
৫। স্বাধীন বাংলার সামরিক ও পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য সকল চাকরিতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সংখ্যাসাম্যের ব্যবস্থা থাকবে।
৬। সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি গণপরিষদ গঠিত হবে। গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা হবে ৩০ জন, এর মধ্যে ১৬ জন হবেন মুসলমান এবং ১৪ জন হবেন হিন্দু। তাঁরা বর্তমান আইনসভার মুসলমান ও অমুসলমান সদস্যগণের দ্বারা পৃথকভাবে নির্বাচিত হবেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৯৬৬.
ঐতিহাসিকগণ কাকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৭.
রাঢ় জনপদ বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হতো?
  1. পূর্ব বাংলা 
  2. উত্তর বাংলা
  3. দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
  4. পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চল
ব্যাখ্যা

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকে বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।

• রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ। এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৬৮.
স্বাধীন বাংলাদেশে ১০০ টাকার নোট কবে প্রথম চালু করা হয়?
  1. ক) ১৬ মার্চ, ১৯৭২
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  3. গ) ৪ মার্চ, ১৯৭২
  4. ঘ) ৪ জানুয়ারি, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
৪ মার্চ, ১৯৭২ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ১ টাকা ও ১০০ টাকার নোট চালু করা হয়।

- ১৯৭২ সালে ১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট প্রচলন হয়।
- ১৯৭৫ সালে : ৫০ টাকার নোট
- ১৯৭৭ সালে : ৫০০ টাকার নোট
- ১৯৮০ সালে : ২০ টাকার নোট
- ১৯৮৯ সালে : ২ টাকার নোট
- ২০০৮ সালে : ১০০০ টাকার নোট
- ২০২০ সালে : ২০০ টাকার নোট।

(সূত্র: প্রথম আলো)
১,৯৬৯.
'সুতরাং' ছবির নায়িকা কে ছিলেন?
  1. শবনম
  2. ববিতা
  3. শাবানা
  4. কবরী
সঠিক উত্তর:
কবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবরী
ব্যাখ্যা
সুতরাং:
- সুতরাং ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্ব একটি পাকিস্তানি বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।
- ছবিটি পরিচালনা করেছেন সুভাষ দত্ত.
- তিনি এই ছবিতে একটি গ্রামের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
- সুভাষ দত্ত ছাড়াও ছবির প্রধান প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন কবরী, রানী সরকার, বেবী জাসমীন, বেবী জামান, মেছবাহ, আকবর, মঞ্জুর, ইনাম, সিরাজ, মেহেদী, খান জইনুলসহ আরো অনেকে।
- সৈয়দ শামসুল হক এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা করেছিলেন এবং সকল গানের গীতিকার ছিলেন.

উল্লেখ্য,
- এটি কবরী অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।
- সুভাষ দত্তের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র।
- এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সত্য সাহার চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালনার অভিষেক ঘটে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্মাননা লাভ করেছিল।
- ১৯৬৫ সালে ফ্রাংকফুর্ট চলচ্চিত্র উৎসবে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার লাভ করে।

উৎস: BBC.
১,৯৭০.
ICDDR,B কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (ICDDR,B- International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh) ১৯৬০ সালের দিকে সিয়াটো জোটের The Cholera Research Laboratory (CRL) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে এটি ICDDR,B নামধারণ করে।

ICDDR,B ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত। ICDDR,B অন্যতম সাফল্য হলো খাবার স্যালাইন উদ্ভাবন
প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী পরিচালক হলেন বর্তমান নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। তিনি গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

(তথ্যসূত্র: ICDDR,B ওয়েবসাইট)
১,৯৭১.
'বুলন্দ দরওয়াজা' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ের স্থাপনা?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. হুমায়ুন
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭২.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বনভূমি কোনটি?
  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  2. ভাওয়াল বনাঞ্চল
  3. মধুপুর বনাঞ্চল
  4. সিলেট বনাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল:

- বাংলাদেশের বৃহত্তম বনভূমি হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল।
- দেশের মোট বনভূমির ৪০ শতাংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে।
- সারা দেশে যে পরিমাণে বৃক্ষ বেড়েছে, তার ৭৮ শতাংশ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। 
- বৃক্ষের বেশির ভাগই প্রাকৃতিক বন কেটে ও কৃষিজমিতে রোপণ করা ফলবাগান ও কাঠবাগান।
- দেশের মোট বনভূমি ও জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে।
- হাতি, চিতাসহ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সেখানে এখনো বাস করে।

তথ্যসুত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২২ মার্চ ২০২২।
১,৯৭৩.
পলাশির যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৬ সালের ২৩শে জুন
  2. ১৭৫৬ সালের ২১শে জুন
  3. ১৭৫৭ সালের ২১শে জুন
  4. ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধের ঘটনা: 
- পলাশির যুদ্ধ বাংলা তথা এ উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ইতোমধ্যে রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।
- নবাবের বিজয় আসন্ন জেনে মীর জাফর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।
- মীর জাফরের ষড়যন্ত্রে নবাব পরাজিত হন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৯৭৪.
কোন নগরীতে মোঘল আমলে সুবে বাংলার রাজধানী ছিল?
  1. ক) গৌড়
  2. খ) সোনারগাঁ
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) হুগলী
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
১৬১০ সালে বাংলায় মোঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মোঘল পূর্ব যুগে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম শাসকগণ ঢাকার চারদিকে বিভিন্ন অবস্থানে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
- এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রাজধানী হলো - সোনারগাঁ, বিক্রমপুর, ভাওয়াল ইত্যাদি।

পরবর্তীতে,
- ইসলাম খানের হাত ধরে ১৬১০ সালে বাংলায় মোঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
- ঢাকার নতুন নামকরণ করা হয় - জাহাঙ্গীরনগর।
- বাংলায় মোঘল শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো - ঢাকা।

উৎস: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট।
১,৯৭৫.
'বেতবুনিয়া ভূ উপগ্রহকেন্দ্র' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।
- সেগুলো হলো:
i) রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
ii) গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
iii) ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫), ও
iv) সিলেট (১৯৯৭)।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫) ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯৭৬.
টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের কোন নদীর উজানে নির্মিত?
  1. পদ্মা
  2. সুরমা
  3. বরাক
  4. মেঘনা
সঠিক উত্তর:
সুরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরমা
ব্যাখ্যা

টিপাইমুখ বাঁধ:
-বাংলাদেশের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানে ভারতের বরাক নদীর ওপর নির্মিতব্য বাঁধটি টিপাইমুখ বাঁধ নামে পরিচিত।
- এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত সরকার এই কাজ করেছে।
-  ১৯৩০-এর দশক থেকে আসামের কাছাড় উপত্যকায় এক ভয়াবহ বন্যা হওয়ার পর থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা করা হয়; যার অংশ হিসেবে ১৯৫৪ সালে ভারতের Central Water Commission (CWC) একটি বহুমুখী জলাধারের জন্য সমীক্ষার কাজ হাতে নেয়।
- এই বাঁধের উচ্চতা ১৬২.৮ মিটার।

[টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের  কোন নদীর  উজানে নির্মিত তখন উত্তর হবে -  সুরমা ও কুশিয়ারা। আর যদি প্রশ্নে ভারতের কোন নদীর উজানে নির্মিত, উত্তর হবে - বরাক নদী। আর প্রশ্নে বাংলাদেশ বা ভারত না থাকে তাহলে অপশন অনুযায়ী উত্তর করতে হবে।]

উৎস: কালের কন্ঠ ও নয়া দিগন্ত পত্রিকা রিপোর্ট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৯৭৭.
মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি যুদ্ধ করেন কোন সেক্টরে?
  1. ১১
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি:

- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১।
১,৯৭৮.
শিক্ষার মূল লক্ষ্য কি?
  1. মানুষকে সৎ হিসেবে গড়ে তোলা
  2. মূল্যবোধ জাগানো ও ব্যক্তির গুণাবলির যথার্থ বিকাশ
  3. বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা
  4. বৃত্তিমূলক দক্ষতা বাড়ানো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ জাগানো ও ব্যক্তির গুণাবলির যথার্থ বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ জাগানো ও ব্যক্তির গুণাবলির যথার্থ বিকাশ
ব্যাখ্যা
শিক্ষার সাধারণ উদ্দেশ্য:

- ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ও ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে তোলা ও তাদের চিন্তা-চেতনায় দেশাত্ববোধ, জাতীয়তাবোধ এবং তাদের চরিত্রে সুনাগরিকের গুণাবলির যেমন: ন্যায়বোধ, অসাম্প্রদায়িক-চেতনাবোধ, কর্তব্যবোধ, মানবাধিকার সচেতনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, শৃঙ্খলা, সৎ জীবনযাপনের মানসিকতা, সৌহার্দ্য, অধ্যবসায় ইত্যাদি বিকাশ ঘটানো।
- জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত করে প্রজন্ম পরম্পরায় সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা।
- দেশজ আবহ ও উপাদান সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার উজ্জীবন এবং তার জীবনঘনিষ্ঠ জ্ঞান বিকাশে সহায়তা করা।
- দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা; শিক্ষার্থীদেরকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশে সহায়তা করা।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯৭৯.
মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টর ছিলো নিচের কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন (১ নং সেক্টর)

⇒ ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• সাব-সেক্টর ঋষিমুখ — কমান্ডার ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম।
• সাব-সেক্টর শ্রীনগর — কমান্ডার ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান (পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান)।
• সাব-সেক্টর মনুঘাট — কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান।
• সাব-সেক্টর তবলছড়ি — কমান্ডার সুবেদার আলী হোসেন।
• সাব-সেক্টর ডিমাগিরী — কমান্ডার জনৈক সুবেদার।
• এ সেক্টরে প্রায় ১০,০০০ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- নিয়মিত বাহিনী (ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী) ছিল প্রায় ২,০০০ জন।
- গণবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৮,০০০।
- গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৯৮০.
নিপোর্ট (NIPORT) কী ধরনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান?
  1. জনসংখ্যা গবেষণা
  2. নদী গবেষণা
  3. মিঠাপানি গবেষণা 
  4. বন্দর গবেষণা
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা গবেষণা
ব্যাখ্যা

NIPORT:
- NIPORT এর পূর্ণরূপ National Institute of Population Research and Training.
- NIPORT হল বাংলাদেশের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।
- এটি মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ।
- এর মূল কাজ:
• জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে গবেষণা পরিচালনা করা,
• সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া,
• নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা ।

→ উল্লেখ্য:
- নিপোর্টের আওতায় ১৪টি আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (RPTI) আছে।
- এছাড়া এর আওতায় রয়েছে ২১টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (RTC)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।

১,৯৮১.
কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
  2. পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৭৮৪
  3. ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
  4. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৮৬১
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন, ১৮৫৮
ব্যাখ্যা

 • ভারত শাসন আইনম - ১৮৫৮:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট 'ভারত শাসন আইন' নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮২.
চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন -
  1. মুর্শিদ কুলি খান
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৩.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় এ কে ফজলুল হক কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
  2. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার
  3. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী
  4. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
সঠিক উত্তর:
অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,৯৮৪.
বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় কোন বিদেশি মিশনে?
  1. কলকাতা
  2. টোকিও
  3. ওয়াশিংটন
  4. নিউইয়র্ক
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
- বিদেশি কোন দুতাবাস হিসেবে ভারতের কলকাতা মিশনে বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়। 
- ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল, রবিবার কলকাতার পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশন অফিসের সব বাঙালি কর্মকর্তা–কর্মচারী একযোগে আনুগত্য প্রকাশ করল বাংলাদেশ সরকারের প্রতি।
- কার্যালয়ের নাম পাল্টে হয়ে গেল ‘গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক মিশন।
- মিশনের ছাদে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলীর নেতৃত্বে ওড়ানো হলো স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
- প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করল।

সূত্র: প্রথম আলো।
১,৯৮৫.
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গঠিত দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' কবে গঠিত হয়?
  1. ৩রা মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১২ই মার্চ, ১৯৪৮
  3. ৪ঠা মার্চ, ১৯৪৮
  4. ২রা মার্চ, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
২রা মার্চ, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২রা মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- এ সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের এক সভায় শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
-  মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ, ১৯৪৮ সালে দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১,৯৮৬.
কোন রাজবংশের শাসনামলে শালবন বিহার নির্মিত হয়?
  1. দেব
  2. সেন
  3. পাল
  4. চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব
ব্যাখ্যা

• শালবন বৌদ্ধ বিহার:
- শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি এই বৌদ্ধ বিহার।
- এতে ৭ম-১২শ শতকের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।
- শালবন বৌদ্ধ বিহার দেব বংশের কীর্তি।
- ধারণা করা হয় যে খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়।
- খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়।
- চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

তথ্যসূত্র: কুমিল্লা জেলার ওয়েবসাইট।

১,৯৮৭.
মুক্তিযুদ্ধে অস্থায়ী সরকার কোন জেলায় গঠিত হয়?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) যশোর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিতি।
- ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমান মেহেরপুর জেলা)  ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর।
- ১০ এপ্রিল ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মুজিবনগর প্রশাসনের সকল কর্মকান্ডের বৈধকরণ করা হয়।
- যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মৌলিক আইনের ভিত্তি ছিল এই স্বাধীনতার সনদ।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এটিই ছিল দেশের সংবিধান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৮.
মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী কোন এলাকায় সক্রিয় ছিল?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. মানিকগঞ্জ
  3. মাগুরা
  4. সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা

হেমায়েত বাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বাহিনী- হেমায়েত বাহিনী। 
- হেমায়েত বাহিনী স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী গেরিলা বাহিনী। 
- হেমায়েত বাহিনী- মূলত বরিশাল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর এবং বাগেরহাট ও যশোরের কিছু অঞ্চলে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
- এই বাহিনী নদী ও উপকূল ব্যবহার করে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করত।
- এবং নদী উপকূলীয় এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলত এবং বেশ কিছু এলাকা মুক্তও করেছিল।

• সেক্টর এলাকার বাইরে গঠিত উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক বাহিনীসমূহ:
- হেমায়েত বাহিনী – গোপালগঞ্জ, বরিশাল।
- কাদেরিয়া বাহিনী – টাঙ্গাইল। 
- আকবর বাহিনী – মাগুরা।  
- লতিফ মীর্জা বাহিনী – সিরাজগঞ্জ, পাবনা।  
- জিয়া বাহিনী – সুন্দরবন। 
- আফসার ব্যাটালিয়ন – ভালুকা, ময়মনসিংহ।
- বাতেন বাহিনী – টাঙ্গাইল। 
- হালিম বাহিনী – মানিকগঞ্জ। 

- এছাড়া ঢাকার গেরিলা দল (‘ক্র্যাক প্লাটুন’) ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাত।
- এই বাহিনীসমূহ মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় আঞ্চলিক এবং শহুরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১,৯৮৯.
মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) জীবন থেকে নেওয়া
  2. খ) রক্তাক্ত বাংলা
  3. গ) অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
  4. ঘ) আলোর মিছিল
সঠিক উত্তর:
ক) জীবন থেকে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবন থেকে নেওয়া
ব্যাখ্যা
জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে নির্মিত এটি একমাত্র চলচ্চিত্র যা মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে মুক্তি পায়। রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২), অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) এবং আলোর মিছিল (১৯৭৪) যথাক্রমে মমতাজ আলী, সুভাষ দত্ত এবং মিতা পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র যা দেশ স্বাধীনের পরে মুক্তি পায়। (সূত্রঃ রোর বাংলা, দৈনিক কালেরকণ্ঠ এবং বিডিনিউজ২৪)
১,৯৯০.
১৮৫৭ খ্রি. ব্যারাকপুরে, সর্বপ্রথম কার নেতৃত্বে সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন?
  1. অমল পান্ডে
  2. মঙ্গল পান্ডে
  3. নোমান পান্ডে
  4. অসীম পান্ডে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চের বিকেল, ব্রিটিশ ভারতের দেশীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ চলছিল ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে।
- প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছিল ‘বিতর্কিত’ এনফিল্ড রাইফেল।
- একজন সিপাহি প্রশিক্ষণের সময় চর্বিযুক্ত কার্তুজ ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানান।
- তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ইংরেজ অফিসারকেই গুলি করে বসেন।
- সেই সিপাহির নাম মঙ্গল পাণ্ডে।
- লেফটেন্যান্ট বফকে গুলি করার সময় সৈনিকদের কেউ কেউ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও বাকিরা মঙ্গল পাণ্ডের পক্ষ নেন।
- ২৯ মার্চ, ১৮৫৭ খ্রি. ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে নামক জনৈক সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রাণদন্ডে দন্ডিত করে বিদ্রোহ দমন করতে চেষ্টা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৯১.
শহীদ আবু সাঈদ কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. বাংলা বিভাগ
  2. ইংরেজি বিভাগ 
  3. রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
  4. হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি বিভাগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি বিভাগ 
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- জুলাই আন্দোলনে আবু সাইদ ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে শহীদ হয়েছিলেন।
⇒ রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

১,৯৯২.
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. সরদার শরন সিং
  2. সমর সেন
  3. আর.কে. দিক্ষিত
  4. বিজয় লক্ষ্মী পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধ ছিলেন সমর সেন।

• সমর সেন (জন্ম: ১০ অক্টোবর, ১৯১৬ — মৃত্যু: ২৩ আগস্ট, ১৯৮৭)
- তিনি ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী স্বাধীনতা - উত্তর কালের ভারতীয় কবি এবং সাংবাদিক।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেনের পৌত্র।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৯৯৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহ:
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
• জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল,
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,
• জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ,
• মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর,
• স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স,
• মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স,
• মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,৯৯৪.
চট্টগ্রাম কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৫.
ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিতে যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
  2. আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  3. আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
  4. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
- ‘ছয় দফায়’ আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা' বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

৬ দফা:

 - ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলের নেতারা একটি সম্মেলনের আহবান করেন যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ৬ দফা দাবিগুলো হলো যথাক্রমে- 
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা,
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
৩। মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা,
৬। আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা,
- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।
- বঙ্গবন্ধু এই ৬ দফা কে “আমাদের বাঁচার দাবি” হিসেবে আখ্যা দেন।
- ঐতিহাসিক এই ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’র সাথে তুলনা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৬.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ কতটি সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
  1. ১১টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
১,৯৯৭.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে কতজনকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ছয়জন
  2. সাতজন
  3. আটজন
  4. নয়জন
সঠিক উত্তর:
সাতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতজন
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে (বর্তমানে ৬৭২ জন) চারটি বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করে।
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয় সাতজনকে।
এরা হলেন:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ (সাবেক ইপিআর)
- সিপাহী মোস্তফা কামাল (সেনাবাহিনী)
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (বিমানবাহিনী)
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (সাবেক ইপিআর)
- সিপাহী হামিদুর রহমান (সেনাবাহিনী)
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন (নৌবাহিনী)
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (সেনাবাহিনী)।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
১,৯৯৮.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষার্থী  ছিলেন?
  1. বাংলা বিভাগ
  2. রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
  3. গণিত বিভাগ
  4. ইংরেজি বিভাগ
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি বিভাগ
ব্যাখ্যা

আবু সাঈদ:
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের  শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো।

১,৯৯৯.
দিনেমাররা বাংলায় আগমন করেছিলো -
  1. ক) ১৬৭৪ সালে
  2. খ) ১৬৭৬ সালে
  3. গ) ১৬৭৮ সালে
  4. ঘ) ১৬৬১ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
• দিনেমার:
- দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করেন।
- উপমহাদেশে আগমন- ১৬২০ সালে।
- বাংলায় আগমন- ১৬৭৬ সালে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০০.
কোন দুইজন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে অবস্থিত?
  1. মতিউর রহমান ও হামিদুর রহমান
  2. নূর মোহাম্মদ শেখ ও রুহুল আমিন
  3. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. হামিদুর রহমান ও রুহুল আমিন
সঠিক উত্তর:
মতিউর রহমান ও হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতিউর রহমান ও হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠের কবরস্থান:
- বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে: 
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান;
- ও  বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান এর সমাধি অবস্থিত ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

• মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যোগদানের উদ্দেশ্যে ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (T-33 Jet) ছিনিয়ে এনে ভারতের দিকে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু বিমানটি ভূপাতিত হলে তিনি শহীদ হন।

• হামিদুর রহমান:
- হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪ নম্বর সেক্টরের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর, মেলাঘর সাব-সেক্টরের বাউফাল সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি অসীম সাহসিকতা প্রদর্শন করেন।
- শত্রুর প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের মাঝেও তিনি ব্রিজের দিকে অগ্রসর হয়ে সফলভাবে আক্রমণ পরিচালনা করেন এবং ঐ যুদ্ধে শহীদ হন।

উল্লেখ্য, 
• বাকি পাঁচজন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থল:
- বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন — লোহাগাড়া, নোয়াখালী।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ — নওয়াপাড়া, যশোর।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর — শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ — বুড়িঘাটা, রাঙামাটি।
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল — আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB).