বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা৫৩প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১২৪ / ১২৪ · ১২,৩০১১২,৩৫৩ / ১২,৪২১

১২,৩০১.
মুক্তিযুদ্ধে 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) খুলনা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
ক্র্যাকপ্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে গঠিত একটি গেরিলা বাহিনী। এটি ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরে সক্রিয় ছিল।
উৎসঃ দৈনিক ভোরের কাগজ
১২,৩০২.
বাংলাদেশের ‘জাতীয় প্রতীক’-এ নিচের কোনটির উল্লেখ নেই?
  1. শাপলা
  2. তারকা
  3. ধানের শীষ
  4. দোয়েল
সঠিক উত্তর:
দোয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোয়েল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল যা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল।
- শাপলা ফুলটিকে বেষ্টন করে আছে ধানের দুটি শীষ।
- চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয়পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

⇒ জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ‘জাতীয় প্রতীক’-এ দোয়েল-এর উল্লেখ নেই।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৩০৩.
নিচের কোনটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পূর্বসূরী নয়?
  1. রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন
  2. বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ
  3. ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস
  4. ইস্ট বেঙ্গল রেঞ্জার্স
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেঞ্জার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেঞ্জার্স
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পূর্বসূরী:
- রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন : ২৯ জুন ১৭৯৫
- ফ্রন্টিয়ার গার্ডস : ১৮৬১ সালে
- বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ : ১৮৯১ সালে
- ইস্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস : ১৯২০ সালে
- ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস : ১৯৪৭ সালে
- বাংলাদেশ রাইফেলস : ১৯৭১ সালে
- বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ : ২০ ডিসেম্বর ২০১০।

(তথ্যসূত্র: বিজিবি ওয়েবসাইট)
১২,৩০৪.
'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৯১৯ সাল
  2. ১৯১৪ সাল
  3. ১৯১৬ সাল
  4. ১৯১৭ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯১৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৯ সাল
ব্যাখ্যা
'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ১৯১৯ সালে সংঘটিত হয়।

• জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড:
- রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরে আয়োজিত এক সভায় জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে ইংরেজ বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু নিরস্ত্র লোক মারা যায়।
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত। 
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি  ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩০৫.
বাংলাদেশকে 'বুলগাকপুর' নামে অভিহিত করেন- 
  1. জিয়াউদ্দিন বারানী 
  2. ইবনে বতুতা
  3. হিউয়েন সাং
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী 
ব্যাখ্যা

বাংলায় তুর্কি শাসন: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক,
- আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৩০৬.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে কোন সংগঠনটি?
  1. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. স্বাধীনতা সংগ্রাম কমিটি
  4. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২,৩০৭.
স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে লর্ড ডালহৌসী নিম্নের কোন দেশীয় রাজ্যটি সর্বপ্রথম অধিকার করে নিয়েছিলেন?
  1. উদয়পুর
  2. ভগতপুর
  3. সাতারা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাতারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতারা
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি।
- লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রণয়ন করেন।

⇒ তাঁর সাম্রাজ্যবাদী নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি সাধন করা।
- স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল, ব্রিটিশের শাসনাধীন যেকোনো আশ্রিত রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশে কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সেই রাজা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবেন।
- এই নীতির মাধ্যমে সাঁতারা, নাগপুর, ঝাঁসি ও সম্বলপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই (১৮৫৩ সালে) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৩০৮.
মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর কোন বংশের আবির্ভাব ঘটে?
  1. ক) শুঙ্গ
  2. খ) শক
  3. গ) পহ্লব
  4. ঘ) কুষাণ
সঠিক উত্তর:
ক) শুঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শুঙ্গ
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর শুঙ্গ ও পরে কন্ব বংশের আবির্ভাব ঘটে। ধারণা করা হয় তারা কিছু ছোট অঞ্চলের ওপর শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারপর গ্রিক, শক, পহ্লব, কুষাণ প্রভৃতি বিদেশি শক্তি ভারতবর্ষে আক্রমণ করে।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১২,৩০৯.
সম্রাট আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ক) ১৫৮৪
  2. খ) ১৫৮৫
  3. গ) ১৫৬৪
  4. ঘ) ১৫৬৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৫৮৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৫৮৪
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ষপঞ্জি ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন।
• এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
• ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
• নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
• এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১২,৩১০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র?
  1. ফাগুন হাওয়ায়
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. বাঙলা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
- 'হাঙর নদী গ্রেনেড' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন রচিত হাঙর নদী গ্রেনেড-এর কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত।
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অবলম্বনে রচিত এই উপন্যাসটিতে ফুটে উঠেছে দেশের স্বাধীনতার জন্য এক মায়ের সর্বোচ্চ ত্যাগ।
- হাঙর নদী গ্রেনেড ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়।
- এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- সংগীত পরিচালনা করেছেন শেখ সাদী খান।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন জেড এইচ পিন্টু।
- চলচ্চিত্রটিতে চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুচরিতা, সোহেল রানা, অরুণা বিশ্বাস, অন্তরা, ইমরান, দোদুল ও আশিক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ফাগুন হাওয়ায় ও বাঙলা ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো।
১২,৩১১.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম আরব দেশ কোনটি?
  1. জর্ডান
  2. সৌদি আরব
  3. ইরান
  4. ইরাক
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃত লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
১২,৩১২.
Which Governor General of British India abolished the practice of 'Sati Pratha'?
  1. William Bayley
  2. Lord William Bentinck
  3. Warren Hastings
  4. Lord Amherst
  5. Lord Dalhousie
সঠিক উত্তর:
Lord William Bentinck
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord William Bentinck
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।

⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩১৩.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদ নন কে?
  1. মিলন
  2. সালাম
  3. বরকত
  4. শফিউর
সঠিক উত্তর:
মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেনসঃ
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,৩১৪.
রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আগারগাঁও
  2. খ) মহাখালী
  3. গ) সেগুনবাগিচা
  4. ঘ) শাহবাগ
সঠিক উত্তর:
খ) মহাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাখালী
ব্যাখ্যা
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR-Institute of Epidemiology, Disease Control and Research) রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত। এটি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি সরকারি গবেষণা ইনস্টিটিউট যা বাংলাদেশে মহামারী ও সংক্রামক ব্যাধি গবেষণা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয় নিয়ে কাজ করে। IEDCR এর বর্তমান পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন।

(তথ্যসূত্র: IEDCR ওয়েবসাইট)
১২,৩১৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  4. মাতৃভাষা বাংলা চাই
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- এই সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন যা এই আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

১২,৩১৬.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থল পাকিস্তানের করাচিতে ছিল?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহী হামিদুর রহমান
  3. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
  4. সিপাহী মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের করাচিতে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের সমাধিস্থল ছিল।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান তাদের অন্যতম।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন। এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন। অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে,
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 
- সিপাহী হামিদুর রহমানের সমাধিস্থল প্রথমে ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা এলাকার হাতিমেরছড়া গ্রামের স্থানীয় একটি পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে। পরে, ২০০৭ সালের ১১ই ডিসেম্বর, তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
- সিপাহী মোস্তফা কামালের সমাধিস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে অবস্থিত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১২,৩১৭.
যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কোথায়?
  1. লাহোর
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রণ্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রণ্ট  ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।
- মুসলিম আসনগুলোতে ভোট প্রদানের শতকরা হার ছিল ৩৭.৬। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া , স্বাধীনতার দলিল পত্র।

১২,৩১৮.
বাংলাদেশের LNG প্রথম টার্মিনাল কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়
  2. কক্সবাজারের মহেশখালীতে
  3. পটুখালীর খেপুপারায়
  4. বাগেরহাটের মংলায়
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের LNG প্রথম টার্মিনাল কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত।

বাংলাদেশের LNG প্রথম টার্মিনাল
:
- Excelerate Energy Bangladesh Limited (EEBL) কর্তৃক স্থাপিত MLNG টার্মিনাল।
- চুক্তি স্বাক্ষর : ১৮ জুলাই, ২০১৬।
- বাস্তবায়ন : Build Own Operate and Transfer (BOOT) ভিত্তিতে।
- অবস্থান: কক্সবাজারের মহেশখালীতে (21º32’04’’ N; 91º49’07’’E)।
- Floating Storage Re-gasification Unit (FSRU) এর নাম : Excellence।
- আকার : দৈর্ঘ্যে ২৭৭ মিটার, প্রস্থে ৪৪ মিটার এবং ড্রাফট ১২.৫ মিটার।
- ধারনক্ষমতা : ১৩৮,০০০ ঘনমিটার।
- রিগ্যাসিফিকেশন ক্যাপাসিটি : ৫০০ এমএমএসসিএফডি।
- চুক্তির মেয়াদ : ১৫(পনের) বছর (২০১৮-২০৩২)।
- গ্যাস সরবরাহ শুরু : ১৯ আগষ্ট, ২০১৮।
- শুরু থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পরিমান : ৫৯৭,৭৮৬.৭১ এমএমএসসিএফ।
- টার্মিনাল হস্তান্তর : ১৫ বছর পর কোন ধরনের চার্জ গ্রহন ব্যাতিত FSRU টি EEBL পেট্রোবাংলার নিকট হস্তান্তর করবে।

উৎস: রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড।
১২,৩১৯.
কোন সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়?
  1. ইন্দিরা সম্মেলন
  2. কাশ্মীর সম্মেলন
  3. কাগমারী সম্মেলন
  4. লাহোর সম্মেলন
সঠিক উত্তর:
লাহোর সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোর সম্মেলন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌছান।
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন৷ বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩২০.
হুসেইন মো. এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন কবে?
  1. ক) ১৮ অক্টোবর ১৯৮১
  2. খ) ২৪ মার্চ ১৯৮২
  3. গ) ১২ জুন ১৯৮২
  4. ঘ) ৬ ডিসেম্বর ১৯৮২
সঠিক উত্তর:
খ) ২৪ মার্চ ১৯৮২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৪ মার্চ ১৯৮২
ব্যাখ্যা
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ান। তিনি প্রায় ৯ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন।
- এরশাদ ১৪ জুলাই ২০১৯ মারা যান।

(সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)
১২,৩২১.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১২টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 

মুজিবনগর সরকার:

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
⇒ সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের এই অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য,
- শুধু মন্ত্রণালয় বললে ১২টি কিন্তু বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বললে ১৫ টি।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
১২,৩২২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে -
  1. ৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশকে সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়।
- যুদ্ধকালীন সরকারকে আশ্রয়দান, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও ভরণ-পোষণ, বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও সহানুভূতি, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা সহ শেষ দিকে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
১২,৩২৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'সেক্রেটারি অব স্টেট' কে ছিলেন?
  1. থমাস জেকসন
  2. হেনরি কিসিঞ্জার
  3. উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স
  4. এন্থোনি ব্লিংকেন
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের:
- প্রেসিডেন্ট: রিচার্ড নিক্সন,
- পররাষ্ট্রমন্ত্রী (Secretary of State: উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স,
- জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি: জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ,
- জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা: হেনরি কিসিঞ্জার,
- পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত: জোসেফ এস. ফারল্যান্ড,
- ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল: আর্চার কে. ব্লাড,
- ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত: কেনেথ বি. কিটিং।

উৎস: U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।
১২,৩২৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের কয়টি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার:
-  ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। 
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা।
- এ সভায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর সামনে পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার এবং সভার ঘোষণাপত্র ও প্রস্তাব পাঠ করেন এম এ রশিদ। 
- এ ইশতেহারে বলা হয় ‘৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ।
- স্বাধীনতার ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের তিনটি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়।
 - লক্ষ্য তিনটি হলো: 
১. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ঠ বাঙালি জাতি সৃষ্টি করা হবে,
২. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করা হবে এবং
৩. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করা হবে।

উল্লেখ্য,
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয়।
- এ সভায় বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচিত করা হয়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,৩২৫.
নিচের কোন দিনটি ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ৫ মার্চ
  3. গ) ৭ জুন
  4. ঘ) ৭ জুলাই
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ জুন
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
• একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
• ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
• এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩২৬.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. আব্দুল মান্নান এম.এন.এ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মান্নান এম.এন.এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মান্নান এম.এন.এ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:

- বস্তুত বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরু হয় ২৬ মার্চ দুপুর ২ টায় কালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের মাধ্যমে।
- ২৭ থেকে ৩০ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র চালু থাকে।
- ৩০ এপ্রিল এটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে বেতারকর্মীগণ ত্রিপুরা রাজ্যের বাগফা নামক স্থান থেকে ৩ এপ্রিল পুনরায় অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করেন। ২৫ মে পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি চালু ছিল।
- বিচ্ছিন্নভাবে ১০ এপ্রিল থেকে পরবর্তী কয়েকদিন শিলিগুড়ি থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একটি বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র চালু রাখা হয় যে কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের প্রথম বেতার ভাষণ প্রচার করা হয়।
- মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ২৫ মে থেকে একটি বেতার কেন্দ্র চালু করা হয়। এর নাম 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।
- বেতার কেন্দ্রটি ছিল কোলকাতায়।
- এই বেতার কেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আব্দুল মান্নান এম.এন.এ-র উপর।
- ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চালু ছিল।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩২৭.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
  1. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  2. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  3. ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ
  4. সিপাহী হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সিপাহী হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
মিরপুরে অবস্থিত বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ২ জন বীরশ্রেষ্ঠকে বর্তমানে সমাহিত করা হয়েছে।
তারা হলেন -
১. বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান
২. বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।

• বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, ঝিনাইদহ জেলা শহরের অদুরে কালিগঞ্জের খদ্দখালিশপুর গ্রামে।
- বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সনে আনসার বাহিনীতে অল্প সময়ের জন্য চাকুরী করেন এবং ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১ খ্রি: তৎকালীন সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ১ ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। সাহসী এ সৈনিক মাতৃভূমির স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন অপারেশনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।
- ১৯৭১ সনের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মৌলভীবাজার জেলাস্থ কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান বিস্তৃত ধলই সীমান্ত চৌকিতে হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাহিনীকে পরাস্থ করার উদ্দেশ্যে সহযোদ্ধাসহ তিনি সশস্ত্র আক্রমন চালান। ধলই সীমান্তে শত্রু সেনা চৌকির সন্মুখ যুদ্ধে অমিত সাহসে চৌকির ৫০ গজের মধ্যে পৌছেঁ যান এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে উক্ত সীমান্ত চৌকি ও সংলগ্ন এলাকা মুক্ত করেন এবং সেখানেই শত্রু সেনার বুলেট বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানকে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে,
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সালে শহীদ হন। তাকে প্রথমে পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমান বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,৩২৮.
ব্রিটিশ ভারতে কোন ভাষার পরিবর্তে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষা চালু হয়?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) উর্দু
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে ভারতের দাপ্তরিক বা সরকারি ভাষা ছিলো ফারসি। ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখল করার পর ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষার পরিবর্তে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষা চালু করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১২,৩২৯.
মীর শওকত আলী মুক্তিযুদ্ধের কত নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৫ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
৫ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

এছাড়াও,
= ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৩০.
কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খানকে গণহত্যা বন্ধ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহবান জানিয়েছিলেন?
  1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. চীন
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান।
- তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।
- সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
- জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে বাতিল করে দেয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৩৩১.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কোথায় উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
  1. লাহোর অধিবেশনে
  2. পাকিস্তান গণপরিষদে
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. পূর্ব বাংলা আইন পরিষদে
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান গণপরিষদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান গণপরিষদে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে দেশভাগের পর নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে প্রথম ভাষা সৈনিক তিনি।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি 'বাংলা ভাষা' ব্যবহারেরও প্রস্তাব পেশ করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের বিরোধিতায় এ প্রস্তাব গৃহিত হয়নি।
- ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে পাক হানাদার বাহিনী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে কুমিল্লার নিজ বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করে।

উল্লেখ্য,
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন আইনজীবী, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি থাকতেন কুমিল্লা শহরে।
- ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকবাহিনী তাকে কুমিল্লার বাসা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৩২.
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে কয়টি পূর্বশর্ত আরোপ করেন?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: 
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। 
- ভাষণটি ইতিহাসে 'বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ' নামে অভিহিত হয়েছে। 
- উক্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দুটি উদ্দেশ্য লক্ষ করা যায়,
যথা:
১. ‘এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'
-এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। 

২. উক্ত ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে চারটি পূর্বশর্ত আরোপ করেন, যথা:
ক) অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে,
খ) অবিলম্বে সৈন্যবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
গ)  প্রাণহানি সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে এবং
 ঘ) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩৩৩.
সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠক কোন মাসে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) জানুয়ারি
  2. খ) ফেব্রুয়ারি
  3. গ) মাৰ্চ
  4. ঘ) মে
সঠিক উত্তর:
খ) ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য

- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিশেষ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ গণআন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সুসংগঠিত হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার বিরোধী মানসিকতা জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হয়। জনগণ সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়।

- আন্দোলনের তীব্রতায় আইয়ুব সরকার জনগণের নিকট নতি স্বীকার করে এবং ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে একটি সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠক ডাকতে বাধ্য হন। এ গোলটবিল বৈঠকে তিনটি বিষয়ে নেতৃবর্গ ঐকমত্যে পৌঁছান। যথা-

- যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতির প্রবর্তন,
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং
- প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩৩৪.
Which country first gave recognition (স্বীকৃতি) to Bangladesh?
  1. ক) India
  2. খ) Russia
  3. গ) Bhutan
  4. ঘ) Nepal
সঠিক উত্তর:
গ) Bhutan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Bhutan
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ ভারত।
- তবে বিগত ২৯তম এবং ১৭তম বিসিএস পরিক্ষার প্রশ্ন অনুয়ায়ী বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভারত এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
অন্যদিকে,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো এবং নিউইয়র্ক টাইমস। 
১২,৩৩৫.
নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?
  1. নাগাল্যান্ড
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন ভূমি সীমানা নেই।

♦ বাংলাদেশের সীমান্ত:
→ বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
→ বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
→ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
→ মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
→ বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

♦ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত:
→ ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।
→ এটি পৃথিবীর ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
→ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
→ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যসমূহ: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ওয়ার্ল্ড এটলাস ও Statistica.com

১২,৩৩৬.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিশ
  2. সুজাউদ্দৌলা
  3. মেজর হেক্টর মুনরো
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং Britannica.

১২,৩৩৭.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) এ কে ফজলুল হক
  3. গ) খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ঘ) আবুল হাশেম
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৯৪৬-৪৭ সালে)। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১২,৩৩৮.
শশাঙ্ক কোন শতকে গৌড়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ষষ্ঠ শতকে
  2. সপ্তম শতকে
  3. অষ্টম শতকে
  4. নবম শতকে
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতকে
ব্যাখ্যা

গৌড় নগরী:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী। 
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

⇒ শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৩৩৯.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্য 'বিজয় গাঁথা' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা সেনানিবাস
  2. খ) রংপুর সেনানিবাস
  3. গ) সিলেট সেনানিবাস
  4. ঘ) যশোর সেনানিবাস
সঠিক উত্তর:
খ) রংপুর সেনানিবাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রংপুর সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্য 'বিজয় গাঁথা' রংপুর সেনানিবাসে অবস্থিত। ভাস্কর্যটি নির্মাণে রংপুর সিটি কর্পোরেশন অর্থ সহায়তা দিয়েছে। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]
১২,৩৪০.
নিচের কোন দুইজন খেতাবধারী মহিলা মুক্তিযোদ্ধা?
  1. ক্যাপ্টেন হালিমা ও তারামন বিবি
  2. ক্যাপ্টেন সুফিয়া বেগম ও পরিজন বিবি
  3. ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
  4. ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও জাহানারা বেগম
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম:

- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
১২,৩৪১.
বর্তমান কোন কোন অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন বাংলার পুন্ড্র জনপদ গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর
  2. খ) ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট
  3. গ) সিলেট, চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রাম
  4. ঘ) ঢাকা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ক) রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,              
• বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল - ঢাকা, ফরিদপুর , ময়মনসিংহ, বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
• বরেন্দ্র - বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা।
• হরিকেল -  সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৪২.
আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রে কয় স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো ছিল?
  1. ক) ২ স্তর
  2. খ) ৩ স্তর
  3. গ) ৪ স্তর
  4. ঘ) ৫ স্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ স্তর
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র
- মৌলিক গণতন্ত্র’ ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ- এর ব্যবস্থা করা।
- চারটি স্তর ছিল:
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়),
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে),
(৩) জেলা কাউন্সিল এবং
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩৪৩.
'বঙ্গভঙ্গ' কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  3. লর্ড লিনলিথগো
  4. লর্ড ওয়াভেল
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
 - ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৩৪৪.
মীর কাশিম কোন যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. তুকারোইয়ের যুদ্ধ
  2. বক্সারের যুদ্ধ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. পানিপথের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
 
⇒ মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল। নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

১২,৩৪৫.
আর্যদের ধর্মগ্রন্থের নাম কী ছিল?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. গীতা
  4. বেদ
সঠিক উত্তর:
বেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদ
ব্যাখ্যা
আর্য জাতি ও তাদের ইতিহাস:
- সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর একটি জাতি ভারতে প্রবেশ করতে থাকে। 
- ইতিহাসে এরা আর্য নামে পরিচিত। 
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম — বেদ।
- বেদের ধর্ম খুব নিষ্ঠার সাথে পালন করতো আর্যরা। 
- বেদের অনুসারী এই আর্যরা ভারতে গড়ে তোলে এক সভ্যতা। 
- ইতিহাসে তা আর্য সভ্যতা বা বৈদিক সভ্যতা নামে পরিচিত। 
- বেদ শুধু ধর্ম গ্রন্থই ছিল না। এতে সাহিত্যের গুণও ছিল। 
- এভাবে আর্য সভ্যতা ভারতবর্ষে এক উন্নত সাহিত্যের জন্ম দেয় যা বৈদিক সাহিত্য নামে পরিচিত। আর্য সভ্যতা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে একটি নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছিল। 
- এই সভ্যতাই ধাতু যুগের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ভারতকে।
- বেদের এর অপরনাম শ্রুতি। এর কারণ, লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে দীর্ঘকাল বেদ ছিল মানুষের স্মৃতিতে বিধৃত। 
 
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৩৪৬.
১৯৫৬ সালের সংবিধান চালু ছিল-
  1. ক) মাত্র ৭ মাস
  2. খ) মাত্র ২৪ মাস
  3. গ) মাত্র ১৮ মাস
  4. ঘ) মাত্র ১২ মাস
সঠিক উত্তর:
খ) মাত্র ২৪ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাত্র ২৪ মাস
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৩৫ সালের আইন ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা নতুন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়।
- মূলনীতি কমিটি ১৮ মাস পরে তাদের সুপারিশ ও প্রতিবেদন পেশ করে।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রতিবেদন প্রকাশের পর পূর্ব বাংলায় ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং কমিটির সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
- মূলনীতি কমিটি ১৯৫২ সালে দ্বিতীয় এবং ১৯৫৩ সালে তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- ১৯৫৫ সালে গভর্ণর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে সংবিধান রচিত হয়।
- এই সংবিধান চালু ছিল মাত্র দু বছর। 
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।
- সংবিধান স্থগিত করার সাথে সাথে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৩৪৭.
কত সালে পূর্ব বাংলার নাম 'বাংলাদেশ' করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭০ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার নাম 'বাংলাদেশ' নামকরন করেন। 

-  ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, "আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ"।
- ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন।
- পরে শেখ মুজিবুর রহমান "বাংলাদেশ" নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন।
- এই নাম দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে "বাংলা" এবং স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে "দেশ"।
- এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে "বাংলাদেশ" নামকরণ করা হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।
১২,৩৪৮.
বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ-
  1. ক) শহীদ আব্দুল জব্বার
  2. খ) শহীদ আবুল বরকত
  3. গ) শহীদ শফিউর রহমান
  4. ঘ) রফিকউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রফিকউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রফিকউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ রফিক। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পারিল গ্রামের উত্তরপাড়ায় ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল লতিফ এবং মাতার নাম রাফিজা খাতুন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২,৩৪৯.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার কতদিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ৫০ দিন
  2. ৫৬ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৪৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার: 
- ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- পাকিস্তান সরকার পূর্ববাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।
- আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় কড়ায়।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৩৫০.
১৯৬৬ সালের ৬ দফার কয়টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তার মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়ক দফা ছিল তিনটি।
যথা: 
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৫১.
ঢাকার ধোলাইখাল কে খনন করেন?
  1. ইসলাম খান
  2. সরফরাজ খান
  3. মুর্শিদ কুলি মান
  4. ঈশা খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
• বাংলার মুঘল সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) বারোভূঁইয়াদের দমন করার উদ্দেশ্যে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী ‘রাজমহল’ থেকে ‘ঢাকা’য় স্থানান্তর করেন।
• তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নতুন নাম রাখা হয় ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
• তিনি ১৬১১ সালে মুসা খানকে পরাজিত করার মাধ্যমে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করেন। তার সময়েই সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধীনে আসে।
• ধোলাই খাল পুরানো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক-আবাসিক এলাকা। ঢাকার প্রথম মুগল সুবাদার ইসলাম খান এটি খনন করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৫২.
গৌড় জনপদভুক্ত বাংলাদেশের একমাত্র জেলা-
  1. ফরিদপুর
  2. পটুয়াখালী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
গৌড় জনপদ:
- বর্তমান অবস্থান:
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।

• বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।

পুণ্ড্র জনপদ:
- বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।

বরেন্দ্র জনপদ:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

হরিকেল জনপদ:
- সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।

চন্দ্রদ্বীপ জনপদ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
- এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

সমতট জনপদ:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৩৫৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ২০০০ সালে
  2. খ) ২০০১ সালে
  3. গ) ২০০২ সালে
  4. ঘ) ২০০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স, মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।