বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১২২ / ১২৪ · ১২,১০১১২,২০০ / ১২,৪২১

১২,১০১.
চাঁপাই নবাবগঞ্জের নাচোল কৃষক বিদ্রোহ হয় কোন সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
নাচোল বিদ্রোহ:
- নাচোল বিদ্রোহ ছিল হত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ।
- এটি একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তেভাগা আন্দোলনের অনুরূপ ছিল।
- ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর এবং ১৯৫০ সালের প্রথমার্ধে নাচোল উপজেলার ঘাসুরা, চন্ডীপুর, কেন্দুয়া, রাউতারা, জগদাই, ধারোল, শ্যামপুরা এবং নাপিত পাড়ার মতো গ্রামের চাষিরা তাদের জোতদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
- ১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারি পুলিশ ও কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
- বহু পুলিশ নিহত হয় এবং জোতদারদের ঘরবাড়ি লুট হয়।  
- জমিদার ও জোতদারগণ পুলিশের সহায়তায় পাশবিক অত্যাচারের পন্থা গ্রহণ করে।
- এতে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
- কৃষক সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইলা মিত্র, অনিমেষ লাহিড়ী, আজহার শেখ, বৃন্দাবন সাহা এবং আরও প্রায় কুড়িজন সংগ্রামী ব্যক্তি ছিলেন।
- ১৯৫০ সালের  পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনএর আওতায় সাঁওতাল চাষিদের জমির ওপর অধিকার দেওয়া হয় এবং তারা অন্যান্য সাধারণ চাষিদের মতো প্রচলিত হারে নগদে খাজনা পরিশোধের অধিকার লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১০২.
'একুশের গান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আ ন ম গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'একুশের গান' কবিতার রচয়িতা- আবদুল গাফফার চৌধুরী।

→ আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি 'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনেও এটি প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১০৩.
ঢাকা শহরে প্রথম বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০১
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৯৪৫
  4. ঘ) ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০১
ব্যাখ্যা
ঢাকায় তথা বাংলাদেশে প্রথম বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল বিংশ শতকের প্রথম বছর।
আর এর আর্থিক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহ।
৭ই ডিসেম্বর, ১৯০১ সালে প্রথম ঢাকার রাস্তায় বিদ্যুতের বাতি জ্বলে উঠে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,১০৪.
স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. ইস্কান্দার মীর্জা
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ:
- তিনি একজন  আইনজীবী, রাজনীতিক ও পাকিস্তানের স্থপতি।
- ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন এ রাজনীতিবিদ।
- ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় কাউন্সিল অ্যাক্ট পাশ হলে রাজনীতিতে জিন্নাহর উত্থান শুরু হয়। 
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর মুসলিম লীগের সঙ্গে জিন্নাহর যোগাযোগ শুরু হয়।
- জিন্নাহ পরের বছর ডিসেম্বর মাসে মুসলিম লীগের অধিবেশনে যোগ দেন।
- এ অধিবেশনে কংগ্রেসের সঙ্গে একই সুরে ‘স্বরাজ’ দাবি করার লক্ষ্যে মুসলিম লীগের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- মওলানা মোহাম্মদ আলী ও সৈয়দ ওয়াজির হাসানের অনুরোধে জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- জিন্নাহর জন্য বিশের দশক ছিল শুধুই রাজনৈতিক হতাশার।
- রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে ব্রিটিশ সরকার টালবাহানা করতে থাকে, কংগ্রেস মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে,
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে বিভিন্ন আইন পরিষদে মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষার জন্য তাদের প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহ দ্বিজাতিতত্বের প্রচারণা শুরু করেন এবং ওই  বছর ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- এ অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ গ্রহণ করা হয়।
-  লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভক্তি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ দিল্লিতে পৌঁছান।
- ১৯৪৭ সালের ৭ আগস্ট জিন্নাহ দিল্লি থেকে করাচি যান এবং ১৪ আগস্ট পকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- তাঁর নেতৃত্ব এবং তাঁর প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থার কারণেই নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান তার প্রাথমিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,১০৫.
১৯৭১ সালে আয়োজিত ‘The Concert for Bangladesh’ এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কে?
  1. ক) জর্জ হ্যারিসন
  2. খ) বব ডিলান
  3. গ) পণ্ডিত রবিশংকর
  4. ঘ) ফ্রেডি মার্কারি
সঠিক উত্তর:
গ) পণ্ডিত রবিশংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পণ্ডিত রবিশংকর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ এই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)

১২,১০৬.
ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদের পৈতৃকনিবাস কোন জেলায়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. চব্বিশ পরগণা
  3. ময়মনসিংহ
  4. মানিকগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• ভাষা শহীদ রফিক:
- যার পুরো নাম রফিক উদ্দিন আহমদ।
- পিতার নাম আবদুল লতিফ।
- জন্ম তারিখ-৩০শে অক্টোবর ১৯২৬ সাল।
- গ্রামের নাম-পারিল ।
- বতর্মানে যার নামাকরন করা হয়েছে রফিকনগর।
- ইউনিয়ন - বলধারা, থানা-সিঙ্গাইর, জেলা-মানিকগঞ্জ।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ তিনি।
- ২০০০ সালে তিনি ,মরোনাত্তক একুশে পদক লাভ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,১০৭.
চন্দ্র রাজবংশের প্রথম শক্তিধর রাজা কে ছিলেন?
  1. শ্রীচন্দ্র
  2. ত্রৈলোক্যচন্দ্র
  3. গৌবিন্দচন্দ্র
  4. কল্যাণচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ত্রৈলোক্যচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রৈলোক্যচন্দ্র
ব্যাখ্যা
চন্দ্র রাজবংশ:
- পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সবচেয়ে শক্তিধর রাজবংশ হচ্ছে চন্দ্রবংশ।
- খ্রিস্টীয় দশম শতকের শুরুতেই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রায় দেড়শ বছর এই বংশ শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।
- কুমিল্লার লালমাই পাহাড়কে সে যুগে বলা হতো রোহিতাগিরি।
- চন্দ্রবংশের রাজাদের ধর্মও ছিল বৌদ্ধ।

উল্লেখ্য,
⇒ এই বংশের প্রথম শক্তিধর রাজার নাম ত্রৈলোক্যচন্দ্র।
- তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
- শক্তিধর ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল ও চন্দ্রদ্বীপ দখল করেছিলেন।
- একে একে তাঁর অধিকারে আসে বঙ্গ ও সমতট।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র প্রায় ত্রিশ বছর শাসন করেন।

⇒ পিতার মৃত্যুর পর রাজা হন শ্রীচন্দ্র।
- শ্রীচন্দ্র বংশের গৌরব আরও বৃদ্ধি করেন।
- তিনি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে রাজধানী গড়ে তোলেন।
- তাঁর উপাধি ছিল 'পরমেশ্বর' 'পরম ভট্টারক' 'মহারাজাধিরাজ'।
- শ্রীচন্দ্র প্রায় পয়তাল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ এর পর সিংহাসনে বসেন শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র।
- কল্যাণচন্দ্রের পুত্র লড়হচন্দ্রের রাজত্বকালেও এই গৌরব ম্লান হয়নি।
- শেষ চন্দ্ররাজা ছিলেন গৌবিন্দচন্দ্র।
- তিনি লড়হচন্দ্রের পুত্র।
- তাঁর রাজত্বকালে বাইরের আক্রমণের আঘাত আসে।
- চোল সম্রাট রাজেন্দ্রচোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করলে চন্দ্রবংশের পতন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১০৮.
'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্রে কী চিত্রিত হয়েছে?
  1. গ্রামীণ জীবনের চিত্র
  2. ভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম
  3. মুক্তিযুদ্ধকালীন লড়াই
  4. মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা

আবার তোরা মানুষ হ:
- ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এটি হচ্ছে ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- এই সিনেমার মূল উদ্দেশ্য হলো- মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধ করেনি, পরে তারাই বিভিন্ন কাজে বেশি সুবিধা নিয়েছে, যা পরিচালক অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।

উৎস: দৈনিক ইনকিলাব।

১২,১০৯.
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় কবে?
  1. ১৯০৪ সালে 
  2. ১৯০৫ সালে 
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১১সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে 
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদ:
- ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন।
- বাংলা ছিল অত্যন্ত বড় একটি প্রদেশ—এর অন্তর্ভুক্ত ছিল পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা ছাড়াও বিহার ও উড়িষ্যা।
- এত বিশাল অঞ্চল কলকাতা কেন্দ্রিক প্রশাসনের মাধ্যমে সুশাসন করা কঠিন ছিল।
- বিশেষ করে পূর্ব বাংলা ও আসাম অঞ্চল দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল।
- এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কার্জন প্রস্তাব দেন বাংলাকে ভাগ করে একটি নতুন প্রদেশ গঠনের—যার নাম হবে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ।
- এর রাজধানী নির্ধারিত হয় ঢাকা।
- এবং শাসনভার দেওয়া হয় একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে।
- এই ঘোষণায় পূর্ববঙ্গের মানুষ, বিশেষত মুসলমান সমাজ, আশাবাদী হয়ে ওঠে। 

- লর্ড কার্জন ১৯০৪ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব প্রস্তুত করেন এবং সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে পূর্ববঙ্গ সফর করেন।
- ঢাকায় এসে তিনি উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে একটি টাউন হল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা পরে তাঁর নামানুসারে কার্জন হল নামে পরিচিত হয়।
- ১৯০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।

- তবে বাংলার শিক্ষিত ও অভিজাত হিন্দু সমাজের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- তাঁদের মতে, বঙ্গভঙ্গ ছিল ‘ভাগ করে শাসন করো’ নীতির অংশ—হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ব্রিটিশ শাসন টিকিয়ে রাখার কৌশল।
- ক্রমে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়।
- এবং এক পর্যায়ে তা সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের রূপ নেয়।
- পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,১১০.
খিলাফত আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ 
  3. তিতুমীর 
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ 
ব্যাখ্যা

 খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার ও জোট শক্তির কারণে তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য)কে ভেঙে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এর ফলে ভারতের মুসলিমরা উদ্বিগ্ন হন।
- কারণ তারা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন।
- ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় মনে করেছিল, খলিফা বা খলিফার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে ধর্মীয় কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পাশে থাকায় ভারতীয় মুসলিমদের অবস্থান জটিল হয়ে পড়ে।
- ধর্মীয় আনুগত্যের কারণে তারা খলিফার প্রতি অনুগত থাকতে চায়।
- কিন্তু রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারেরও সমর্থন করতে বাধ্য।
- যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ও সেভার্স চুক্তি মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
- এই প্রেক্ষাপটে খিলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে প্যান-ইসলামি রাজনৈতিক আন্দোলন।

- আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল খলিফার মর্যাদা রক্ষা ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাবিত জনমত সৃষ্টি করা।
- অন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। 
- তাঁর সহযোগীও- দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী- আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 
- আন্দোলন মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও সংযুক্ত ছিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী। 

১২,১১১.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল -
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ব বাংলাকে শিল্পায়িত করা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্তশাসনের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন

- পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে।
- লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্যই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- কিন্তু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ স্বায়ত্তশাসন প্রদানের পরিবর্তে পূর্ববাংলার জনগণের উপর শোষণ ও জাতিগত নিপীড়ন শুরু করে।
- যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করে জনগণের মনে আবেদন সৃষ্টি করেন।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মূল বক্তব্যই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১২,১১২.
‘রেইডার’ শব্দটি কোন খেলার সাথে সম্পর্কিত?
  1. রাগবি
  2. হ্যান্ডবল
  3. ভলিবল
  4. কাবাডি
সঠিক উত্তর:
কাবাডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবাডি
ব্যাখ্যা
কাবাডি:
• পাক ভারত উপমহাদেশে কাবাডি খেলা অতি প্রাচীন। 
• বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে হাডুডু নামে এই খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়।  
• ১৯৭২ সালে হাডুডু খেলাকে কাবাডি নামকরণ করা হয় এবং এ খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়।

- কাবাডি খেলায় দম নিয়ে যে বিপক্ষ খেলোয়ার কোর্টে হানা দেয় তাকে 'রেইডার' বলে। 

• আঞ্চলিক খেলা হওয়ার কারণে এই খেলার তেমন কোনো বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন ছিল না। 
• ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়।
• এই ফেডারেশন খেলার জন্য বিভিন্ন নিয়মকানুন তৈরি করে।   

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া। 
১২,১১৩.
কান্তিদেবের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. বর্ধমানপুর
  2. সমতট
  3. রোহিতগিরি
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বর্ধমানপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমানপুর
ব্যাখ্যা
• কান্তিদেব:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় হরিকেল জনপদে নবম শতকে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- এ রাজ্যের রাজা ছিলেন কান্তিদেব।
- দেব রাজবংশের সঙ্গে কান্তিদেবের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা জানা যায় না।
- বর্তমান সিলেট কান্তিদেবের রাজভুক্ত ছিল।
- তার রাজধানীর নামছিল বর্ধমানপুর।
- বর্তমান এ নামে কোনো রাজ্যের অস্তিত্ব নেই।
- এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় চন্দ্র বংশ বলে পরিচিত নতুন এক শক্তির উদয় হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১২,১১৪.
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কে?
  1. মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
  2. সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
  4. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
সঠিক উত্তর:
মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা

⇒ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর:
- DPE-এর পূর্ণরূপ: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (Directorate of Primary Education).
- এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি সংস্থা।
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

⇒ এর মূল কাজের মধ্যে রয়েছে:
• দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা,
• শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান,
• প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, এবং
• প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও সম্পাদন করা।
• প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (DPE) বর্তমান মহাপরিচালক হলেন আবু নূর মোঃ শামসুজ্জামান।

উল্লেখ্য:
- ২০২২ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হলেও ২০২৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

তথ্যসূত্র - প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১২,১১৫.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৭ সাল
  2. ১৯৯৯ সাল
  3. ২০০০ সাল
  4. ২০০১ সাল
সঠিক উত্তর:
২০০১ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সাল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর।
- রেদোয়ান আহমেদ ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।

• এই মন্ত্রণালয়ের অধীন-
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
- জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

১২,১১৬.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার কে?
  1. এস.এম. সুলতান
  2. মনিরুল ইসলাম
  3. মুস্তফা মনোয়ার
  4. কামরুল হাসান
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

• জাতীয় প্রতীক:
- জাতীয় প্রতীক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতীক।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার- কামরুল হাসান।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,১১৭.
অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র কে ছিলেন?
  1. আনিসুল হক
  2. সাদেক হোসেন খোকা
  3. মোহাম্মদ হানিফ
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ হানিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ হানিফ
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ হানিফ:
- অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।
- তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন।
- ১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল তিনি পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে তার প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন মোহাম্মদ হানিফ।
- গ্রেনেড হামলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক আহত হন মোহাম্মদ হানিফ এবং দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য স্পিøন্টার ঢুকে পড়ে।
- দুঃসহ যন্ত্রনা সহ্য করে মোহাম্মদ হানিফ ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে ৬২ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

অন্যদিকে -
- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র। 

উৎস: ২১ মার্চ ২০২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
১২,১১৮.
মুক্তিযুদ্ধে ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের নাম কী?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর মীর শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারের নাম:
• ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ: মুন্সী আব্দুর রব।

অন্যদিকে,
• ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১১৯.
'বাউল্লার চর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ফেনী
  2. লক্ষীপুর
  3. ভোলা
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ।
- এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- দ্বীপের তিন দিকে সাগর অন্যদিকে মেঘনার মোহনা।
- এর আয়তন ৯১ বর্গ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- এই দ্বীপে প্রচুর বালুর ঢিবি বা টিলা ছিল বলে স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চরও বলে ডাকত।

⇒ বাংলাদেশের বিভিন্ন চর:
- উড়ির চর: নোয়াখালী,
- চর মানিক, চর জব্বর, চর নিউটন, চর কুকরী মুকরী, চর সাকুচিয়া: ভোলা,
- চর গজারিয়া, চর আলেকজান্ডার: লক্ষীপুর,
- দুবলার চর: সুন্দরবনের দক্ষিণে,
- মুহুরীর চর: ফেনী,
- নির্মল চর: রাজশাহী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,১২০.
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা অর্থায়নের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ছাত্র বেতন
  2. বৈদেশিক সাহায্য
  3. সরকারি অর্থ বরাদ্দ
  4. স্থানীয় সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
সরকারি অর্থ বরাদ্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি অর্থ বরাদ্দ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় অর্থায়নের উৎস: 
• সরকারি অর্থ বরাদ্দ: সরকারি অর্থ বরাদ্দই প্রাথমিক শিক্ষা অর্থায়নের প্রধান উৎস। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের যাবতীয় ব্যয় সরকারি অর্থে মেটানো হয়। এ ছাড়া রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল, স্যাটেলাইট স্কুল, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রভৃতির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও সরকারি অর্থ দ্বারা পরিশোধ করা হয়।

• স্থানীয় সাহায্য: স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তি, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের দান, স্থানীয় ভাবে চাঁদা আদায় ইত্যাদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে ধরা হয়। প্রাথমিক ভাবে স্কুল স্থাপন করার সময় এই উৎসের অবদান অনস্বীকার্য। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে অবস্থিত বিদ্যালয়সমূহের জন্যও এ ধরনের অর্থায়ন ও সহযোগিতা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই

• অপ্রকাশিত উৎস: পিতা-মাতা কর্তৃক শিশুদের পোশাক পরিচ্ছদ ও কাগজ কলমের জন্য খরচ ইত্যাদি অপ্রকাশিত উৎস হিসেবে গণ্য করা যায়।

• বিদেশি সাহায্য: আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অর্থ সাহায্য যা সরকারি উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে, একটি উল্লেখখযোগ্য অর্থায়নের উৎস।

সূত্র: স্কুল অব এডুকেশন, এমএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,১২১.
কোন শাসকের আমলে ‘বারোদুয়ারি মসজিদ’ নির্মিত হয়েছিল?
  1. ক) সুলতান ইলিয়াস শাহ
  2. খ) সুলতান হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নুসরত শাহ
  4. ঘ) সুলতান হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতান নুসরত শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতান নুসরত শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন
- মুসলমান শাসকগন ইসলামের গৌরবকে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং নিজেদের শাসনকালকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রাসাদ, মসজিদ, কবর, দরগাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেছিলেন।
- মসজিদ নির্মাণকে মুসলমান শাসকগণ অতিশয় পূণ্যের কাজ বলে বিবেচনা করতেন।
- ‘কদম রসূল’ গৌড়ে অবস্থিত।
- মহানবীর পদচিহ্নের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
- এটি ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহের পুত্র সুলতান নাসিরুদ্দিন নুসরত শাহ নির্মাণ করেছিলেন।

- এই ভবনের এক কক্ষে একটি কালো কারুকার্যখচিত মর্মর বেদির উপরে হযরত মুহম্মদ (স) এর পদচিহ্ন সংবলিত একখন্ড প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।
 - গৌড়ের সুবিখ্যাত ‘বড় সোনামসজিদ’ বা ‘বারোদুয়ারি মসজিদ’ নুসরত শাহ আমলের কীর্তি।
- বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট নগর এবং রাজশাহী জেলার বাঘা নামক স্থানে তিনি দুইটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,১২২.
কার অধিনায়কত্বে ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হয়
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. সফিউল্লাহ
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত ও অনিয়মিত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।
- খালেদ মোশাররফের অধিনায়কত্বে ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১২৩.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি-
  1. ক) তানভীর কবির
  2. খ) অস্কার বাদল
  3. গ) হামিদুর রহমান
  4. ঘ) হামিদুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকার/স্থপতি হলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে হামিদুর রহমানের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া।
১২,১২৪.
বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইন জারি করা হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু কার্যকলাপ প্রতিহত করা এবং কিছু গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
- আইনটি নিরাপত্তা আইন ১৯৫২, জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ এবং বাংলাদেশ তফসিলি অপরাধ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫০) এর ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১২,১২৫.
মৌলিক অধিকারের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সংবিধানে উল্লেখ থাকে
  2. সরকার কর্তৃক অলঙ্ঘনীয়
  3. সরকার কর্তৃক লঙ্ঘনীয়
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার:
- যে সব অধিকার সংবিধানে উল্লেখ থাকে এবং সরকার কর্তৃক অলঙ্ঘনীয় সেগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে।
- এসব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধানে উল্লেখ থাকে।
- মৌলিক অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকরা সুসভ্যভাবে জীবন-যাপন করতে পারে।
- এ অধিকার সরকারের স্বৈরাচার রোধ করে।
- যে কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত থাকে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১২৬.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু কোথায় ভাষণ দিয়েছিলেন?
  1. রেসকোর্স ময়দানে
  2. প্রেসিডেন্ট ভবনে
  3. পার্লামেন্ট ভবনে
  4. রমনা পার্কে
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিয়েছিলেন।

৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১২,১২৭.
Which is the westernmost place of Bangladesh?
  1. ক) Jagir Jot
  2. খ) Thanchi
  3. গ) Manakasha
  4. ঘ) Akhanithong 
সঠিক উত্তর:
গ) Manakasha
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Manakasha
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:

• সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
• সর্ব উত্তরে - পঞ্চগড়(জেলা), - তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
সর্ব পূর্বে - বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং (স্থান)। 
সর্ব দক্ষিণে - কক্সবাজার (জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন (ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)। 


তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।  Manakasha Jagir Jot Akhanithong 
১২,১২৮.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আব্দুল লতিফ
  4. প্রিন্স মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক গান:
- "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”
- এটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ছাত্রমিছিলে গুলি চালানোর প্রেক্ষাপটেই রচিত হয়েছিল কবিতাটি।
- এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও মোহাম্মদ সুলতান কর্তৃক প্রকাশিত "একুশে ফেব্রুয়ারি" সংকলনে 'একুশের গান' হিসেবে ছাপা হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে।
- এটি প্রথমে সুর করেন আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন- আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ড সৌমিত্র শেখর।
১২,১২৯.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. সমতট
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা

রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,১৩০.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের নাম কী?
  1. গণভবন
  2. বঙ্গভবন
  3. পদ্মা
  4. যমুনা
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভবন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভবন:
- বঙ্গভবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন।
- ঢাকার দিলকুশা এলাকায় অবস্থিত।
- গোড়ার দিকে এটি ছিল ভারতের ব্রিটিশ ভাইসরয়ের অস্থায়ী সরকারি বাসভবন।
- পরে পূর্ববাংলার গভর্নরের সরকারি বাসস্থান।
- তখন এই ভবন গভর্নর হাউজ নামে পরিচিত ছিল।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় পূর্ববাংলা ও আসাম সরকার জায়গাটির একাংশ ক্রয় করে সেখানে ভারতের ভাইসরয়ের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করে।
- পূর্ববাংলায় তার সফর ও অবস্থানকালে ভাইসরয় ১৯১১ সাল পর্যন্ত এখানেই বাস করতেন।
- ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এটি গভর্নর হাউজ নামেই পরিচিত ছিল। 
- পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এখানে বসবাস করতেন।
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি এর নামকরণ হয় বঙ্গভবন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৩১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য উইলিয়াম ওডারল্যান্ড কোন রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন?
  1. বীর উত্তম
  2. বীর প্রতীক
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর শ্রেষ্ট
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি:
-  অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক উইলিয়াম ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশি যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম  ঢাকায় আসেন।
- প্রথমদিকে তিনি দখলদার পাকবাহিনীর পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে আগেভাগেই মুক্তিযোদ্ধাদের তা জানিয়ে দিতেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর  কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৩২.
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম রেলব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় কবে?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৪ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা থেকে জগতী পর্যন্ত ৫৩ কি.মি. রেললাইন উদ্বোধন করা হয়।
- জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের স্টকটন থেকে ডার্লিংটন পর্যন্ত বিশ্বের প্রথম রেলপথ উদ্বোধন করা হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১২,১৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন?
  1. ক) জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
  2. খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  3. গ) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
- পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল করিম খন্দকার (এ.কে খন্দকার)
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,১৩৪.
মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৩০ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা

মাস্টারদা সূর্য সেন:
- মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন। ডাক নাম কালু।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১২,১৩৫.
"জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই।।" - বিখ্যাত গানটির গীতিকার কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. ডি এল রায়
  3. দাউদ হায়দার
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
"জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই।।" - বিখ্যাত গানটির গীতিকার সিকান্দার আবু জাফর। 
- গানটির সুরকার ছিলেন শেখ লুৎফর রহমান। 
- তাঁর রচিত এই গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। 

সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক, 
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাওল,
- শকুন্ত উপাখ্যান।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- পূরবী।

তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৩৬.
'Let There Be Light' ছবিটির পরিচালক কে ছিলেন?
  1. তারেক মাসুদ
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান 
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- 'Let There Be Light' ছবিটির পরিচালক ছিলেন জহির রায়হান। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।
- তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের গল্প শাখায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনও আসেনি মুক্তি পায়।
- তাঁর অন্যান্য চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।
- জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত স্টপ জেনোসাইড ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৩৭.
বাংলাদেশে মেট্রোরেলের কোচ কোন দেশে থেকে আমদানি করা হয়েছে?
  1. জাপান
  2. চীন
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা

মেট্রোরেল:
- ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় গণপরিবহণের জন্য ‘ঢাকা মেট্রোরেল’ হলো ‘জাইকা’-এর অর্থায়নে একটি সরকারি প্রকল্প।
- প্রকল্পটি রাষ্ট্রায়ত্ত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পরিচালনা করছে।
- প্রকল্পের জন্য মোট ৫টি রুট লাইন প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন ১, ২, ৪, ৫, এবং ৬।
- এর দৈর্ঘ্য ১২৯ কি.মি.।
- মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয় ২৬ জুন, ২০১৬ সালে।
- বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালু হয় ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে।
- ডিএমটিসিএলের বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটির নাম ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬।
- মেট্রোরেলের প্রথম যাত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- মেট্রোরেলের প্রথম চালক মরিয়ম আফিজা।
- সাধারণ যাত্রীদের জন্যে মেট্রোরেল উন্মুক্ত করা হয় ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে।
- বাংলাদেশে মেট্রোরেলের কোচ  জাপান থেকে আমদানি করা হয়েছে।
- মেট্রোরেলের কোচগুলোর নির্মাতা জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম।

উৎস: Dhaka Metro Mass Rapid Transit System ওয়েবসাইট, এবং প্রথম আলো।

১২,১৩৮.
শশাঙ্ক কোন শতকের শেষের দিকে ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. পঞ্চম শতকে
  2. ষষ্ঠ শতকে
  3. সপ্তম শতকে
  4. অষ্টম শতকে
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ শতকে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন গৌড় রাজ্য: 
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের অবসানের পর ষষ্ঠ শতকে 'পরবর্তী গুপ্ত বংশ' বলে পরিচিত গুপ্ত উপাধিধারী রাজাগণ উত্তর বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন।
- ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ ভূখণ্ডই গৌড় জনপদ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- মৌখরি ও চালুক্যরাজগণের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে বাংলায় গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
- এ সুযোগে সামন্তরাজা শশাঙ্ক ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে ক্ষমতা অধিকার করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,১৩৯.
ওআইসির কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) দ্বিতীয়
  4. ঘ) পঞ্চম
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- OIC (Organization of Islamic Co-operation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দায়।
- ওআইসির বর্তমান সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসঃ ওআইসি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

১২,১৪০.
কয়টি রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
- নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৪১.
'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' কোন নামে পরিচিত ছিল?
  1. ক) সড়ক-ই-আজম
  2. খ) সড়ক-ই-শেরশাহ
  3. গ) সড়ক-ই-সালতানাত
  4. ঘ) সড়ক-ই-সিল্ক
সঠিক উত্তর:
ক) সড়ক-ই-আজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সড়ক-ই-আজম
ব্যাখ্যা
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড  
• ষোল শতকে সুলতান শেরশাহ কর্তৃক নির্মিত বাংলার সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত সুদীর্ঘ সড়ক। এ দীর্ঘ সড়ক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক কাজে গতি সৃষ্টি করা।
• এর মাধ্যমে রাজধানী আগ্রার সঙ্গে সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে যুক্ত করা হয়েছিল। মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণপশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
• ‘সড়ক-ই-আজম’ নামে পরিচিত এ সড়ককে ঘিরে আরও কিছু কর্মতৎপরতার প্রমাণ মেলে।
• ব্রিটিশ আমলে সৈন্য চলাচলের সুবিধা এবং ডাক বিভাগের উন্নতির উদ্দেশ্যে সড়কটির সংস্কার করে কলকাতা থেকে পেশওয়ার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। এ সময়ই সড়কটির নাম দেওয়া হয় ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৪২.
স্বাধীনতা সংগ্রামের একমাত্র নৌ সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১ নম্বর সেক্টর
  2. খ) ১০ নম্বর সেক্টর
  3. গ) ৩ নম্বর সেক্টর
  4. ঘ) ৫ নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

১২,১৪৩.
দেশ ভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গের সীমানা নির্ধারণের লক্ষ্যে কোন কমিশন গঠিত হয়?
  1. ক্রিপস কমিশন
  2. হান্টার কমিশন
  3. ফ্লাউড কমিশন
  4. রেডক্লিফ কমিশন
সঠিক উত্তর:
রেডক্লিফ কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডক্লিফ কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়।
এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন।
এরা হলেন:
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।
কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামানুসারে এই কমিশন রেডক্লিফ কমিশন নামে অধিক পরিচিত।
১২ আগস্ট ১৯৪৭ রেডক্লিফ কমিশন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর গুরুত্ব প্রদান করে তাদের প্রস্তুতকৃত রিপোর্ট প্রদান করে।

(তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড : পৃষ্ঠা-৪৩)
১২,১৪৪.
সর্বপ্রথম ‘পাট্টা’ (ভূমি স্বত্বের দলিল) ও ‘কবুলিয়াত’ (চুক্তি দলিল) প্রথা চালু করেন-
  1. হুসেন শাহ
  2. মুহম্মদ খান
  3. শের শাহ
  4. জালাল খাঁ
সঠিক উত্তর:
শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শের শাহ
ব্যাখ্যা
শূর শাসনের সূচনা করেন আফগান শাসক শের শাহ। তিনি ১৫৩৮ সালে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
চৌসা (১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দ) ও কণৌজের (১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ) যুদ্ধে শের শাহ মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে পরাজিত করে দিল্লীর সিংহাসন দখল করেন।
শের শাহের আমলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে -
- শের শাহ বাংলায় ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন।
- তিনি ‘দাম’ নামক মুদ্রার প্রচলন করেন।
- সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা তিনি।
- পাট্টা ও কবুলিয়াত প্রথা চালু করেন শের শাহ।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
১২,১৪৫.
কয়টি নদী বন্দরে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয়?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১২,১৪৬.
ক্রিপস মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল- 
  1. ভারতকে সামরিক সাহায্য প্রদান
  2. রাজনৈতিক প্রস্তাব উপস্থাপন
  3. ভারতীয় সমর্থন লাভ
  4. খ+গ 
সঠিক উত্তর:
খ+গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ+গ 
ব্যাখ্যা

• ক্রিপস মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল-
- রাজনৈতিক প্রস্তাব উপস্থাপন; 
- ভারতীয় সমর্থন লাভ। 
-------------------
• ক্রিপস মিশন:
- ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালের ২৩ মার্চ ভারতে আগমন করে।
- এর নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস।
- এই মিশনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিল এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
- ক্রিপস শ্রমিক দলের একজন চরমপন্থি সদস্য এবং হাউস অব কমন্স-এর নেতা ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

- ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালে ভারত পাঠানোর মূল প্রেরণা ছিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের ওপর ভিত্তি করে-
• এর একটি প্রধান কারণ ছিল- 
- ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাধারণ জনগণকে সংঘবদ্ধ করে গণঅভ্যুত্থন ঘটানো, যাতে ব্রিটিশদের যুদ্ধ তৎপরতা—বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ—প্রভাবিত হয়।

• আরেকটি কারণ-
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ব্রিটিশরা জাপানিদের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হারায়—যেমন সিঙ্গাপুর (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২), রেঙ্গুন (৮ মার্চ ১৯৪২) এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ (২৩ মার্চ ১৯৪২)।
- এই হার পুরো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলে।
- ফলে ব্রিটিশরা বুঝতে পারে যে, তারা ভারতের জনগণের সমর্থন ছাড়া এই যুদ্ধ এবং উপনিবেশিক শাসন চালিয়ে যেতে পারবে না।
- এই অবস্থায় ভারতের রাজনৈতিক সমর্থন অর্জনের জন্য ব্রিটিশরা কিছু রাজনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে।
- এবং এ কারণেই ১৯৪২ সালে ক্রিপস মিশন ভারত পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১২,১৪৭.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য নিম্নের কোন নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত হন নি?
  1. সেতারা বেগম
  2. তারামন বিবি
  3. কাঁকন বিবি
  4. সবাই খেতাবপ্রাপ্ত
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- বাঙালির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এ মুক্তিসংগ্রামের আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে মোট ৬৭৬ বীর যোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
- তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন।
- একজন হলেন ডা. সেতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি; যাদের ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারামন বিবির হাতে তুলে দেন বীর প্রতীক সম্মাননা। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর সবাইকে ছেড়ে যান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক।

⇒ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে এ মহীয়সী নারীর সাহসী আবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালে জেনারেল ওসমানী চিঠি দিয়ে তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা জানান। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

অন্যদিকে,
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরের গুপ্তচরের কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন গ্যাজেট প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১২,১৪৮.
সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. ওবায়দুল্লাহ 
  3. বুদাইল 
  4. মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন কাসিম
ব্যাখ্যা

সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন- মুহাম্মদ বিন কাসিম।

সিন্ধু আভযানের ঘটনা :
- ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন-ইউসুফ সিন্ধু বিজয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন।
- ওবায়দুল্লাহ ও বুদাইল নেতৃত্বে প্রথম দুই অভিযান ব্যর্থ হয়।
- তিনি তৃতীয় অভিযান পাঠালেন, এই অভিযানের নেতৃত্ব দিলেন তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র ও জামাতা মুহম্মদ বিন-কাসিমকে।
- তরুণ সেনানায়ক ছিলেন অসীম মনোবলের অধিকারী।
- নেতৃত্ব দেয়ার সকল গুণাবলীই তাঁর ছিল।
- মুহম্মদ মাকরানের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হলেন।
- মাকরানের শাসকের সাথে তিনি বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।
- মাকরানের শাসক মুহম্মদকে আরও একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করেন।
- তখনকার সময় সিন্ধু রাজা দাহিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জাঠ ও মেওয়াট গণ মুসলমানদের পক্ষে যোগ দেয়। 
- হাজ্জাজ জলপথেও মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য একদল সৈন্য পাঠান।
- এছাড়া 'বলিস্ত' নামক একপ্রকার যন্ত্রও হাজ্জাজ পাঠিয়েছিলেন।
- বলিস্ত ছিল এক ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র

 এই যমুহম্মদ বিন-কাসিম প্রথমেই দেবল বন্দর অবরোধ করেন।
- তিনি ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান সেনানায়ক।
- দেবলের প্রধান মন্দিরের চূড়ায় একটি লাল নিশান উড়ানো ছিল।
- তিনি বলিস্ত দিয়ে পাথর ছুড়ে নিশানটি ধ্বংস করে ফেলেন।
- এতে দেবলের সৈনিকদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।
- তাদের ধারণা ছিল মন্দিরের চূড়ায় যতক্ষণ নিশান উড়বে ততক্ষণ বাইরের কোন শত্রু দেবল দখল করতে পারবে না।

- মুসলমানদের দখলে এলো দেবল বন্দর।
- দেবল দখলের পর মুহম্মদ বিন-কাসিম সিন্ধু নদের তীর ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম শহরগুলো একের পর এক জয় করলেন। 

- কিন্তু রাওয়ার দুর্গ দখলের ব্যাপারে মুহম্মদ বিন-কাসিমকে প্রচণ্ড বাঁধার মুখে পড়তে হয়।
- এখানে রাজা দাহির এক বিশাল সৈন্যবাহিনীর সমাবেশ ঘটান।
- মুহম্মদ বিন-কাসিম নৌকার সেতু তৈরি করে সিন্ধু নদ পার হন।
- অতঃপর দাহিরের বাহিনীর সাথে মুসলমানদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়।
- রাজা দাহির বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ ত্যাগ করেন। 

- রাওয়ার দুর্গ দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদ অধিকার করেন। 
- এরপর সিন্ধুর রাজধানী আলোর দুর্গের পতন ঘটে। 
- আলোর জয় করে তিনি সিন্ধু অঞ্চলে সুশাসনের ব্যবস্থা করেন। 
- এরপর মুহম্মদ বিন-কাসিম আরও উত্তরে অগ্রসর হয়ে মলতান জয় করেন। 
- মুলতানের পথে তিনি বাড়ী নদীর তীরে অবস্থিত উচু দখল করেন।
- মূলতান দখল করতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
- মুলতান রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় যোদ্ধারা প্রায় দু'মাস মুলতান দুর্গ রক্ষায় সক্ষম হয়। 
- অবশেষে তাদের সকল প্রতিরোধ চূর্ণ করে মুহম্মদ বিন-কাসিম মুলতান দখল করতে সক্ষম হন। 
- মুলতান দখলের মধ্য দিয়ে রাজা দাহিরের রাজ্যের পুরোটাই মুসলমানদের অধিকারে চলে আসে।

উল্লেখ্য,
-  ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,১৪৯.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে নৌবাহিনীর কতজন সদস্য রয়েছেন?
  1. ১৪ জন
  2. ২১ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৮ জন
সঠিক উত্তর:
২১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।

বিভিন্ন বাহিনীতে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা:
- বিমান বাহিনী - ২৮ জন।
- সেনাবাহিনী - ২৮৮ জন।
- নৌবাহিনী - ২১ জন।
- বাংলাদেশ রাইফেল্স  - ১৪৯ জন।
- মুজাহিদ/ আনসার - ১৪ জন।
- গণবাহিনী - ১৭৫ জন।
- বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ১২০ জন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
১২,১৫০.
8-14 বছর বয়সী ঝরে পড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দ্বিতীয়বার শিক্ষার সুযোগ প্রদান করার লক্ষ্যে নিম্নের কোন প্রকল্প চালু রয়েছে?
  1. রস্ক
  2. এস আই এম এফ
  3. ই এম এফ
  4. আইএসডিএস
সঠিক উত্তর:
রস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রস্ক
ব্যাখ্যা
- The Ministry of Primary and Mass Education is working towards that end.
- There are 63,601 Government Primary Schools providing free primary education, there are several mass literacy programs.
- ROSC Phase - 2 (Reaching Out of School Children) is an endeavor of the Government undertaken in 2013
to provide a second chance to education for the disadvantaged children aged 8-14 years
who never had the chance to enroll in the primary schools or who had to drop out for reasons of other necessities. 
- The idea is to reduce the number of dropouts by creating scopes for (i) equitable access to primary education (ii) retention and (iii) completion of quality primary education.
Source: https://dpe.portal.gov.bd/
১২,১৫১.
বাংলাদেশে মা ও শিশুর কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে -
  1. UNFPA
  2. UNESCO
  3. UNICEF
  4. UNHCR
সঠিক উত্তর:
UNICEF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNICEF
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ত্রাণ সাহায্য প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিসেফ।
- ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে আসছে।
- ইউনিসেফের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
- ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফ শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পায়।
- ১৯৫১ সালে ঢাকায় ইউনিসেফের অফিস প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৭সাল থেকে ইউনিসেফ নিয়মিতভাবে এ দেশের মা ও শিশুর উন্নয়নে কাজ করছে।

উৎসঃ ইউনিসেফের ওয়েবসাইট।
১২,১৫২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন স্থানে?
  1. ক) পল্টন ময়দান
  2. খ) লালদিঘীর ময়দান
  3. গ) মধুর ক্যান্টিন
  4. ঘ) রেসকোর্স ময়দান
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেসকোর্স ময়দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেসকোর্স ময়দান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান)।
- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা” স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৫৩.
Bhasanchar is in the district of
  1. ক) Rangamati
  2. খ) Cox's Bazar
  3. গ) Noakhali
  4. ঘ) Laxmipur
সঠিক উত্তর:
গ) Noakhali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Noakhali
ব্যাখ্যা
- ভাসানচর মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ।
- এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়ন এর অন্তর্গত।
- ভাসানচরকে রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতদের আবাসনের স্থান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘আশ্রায়ণ-৩’ নামে একটি প্রকল্প বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে - - - - - রোহিঙ্গাদের আবাসনসহ জীবন-জীবিকার জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।

- রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা মাথায় রেখে এই আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয় সরকার।
-প্রকল্পটিকে আশ্রয়ণ-৩ নামকরণের কারণ, পরবর্তী সময়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর এই চর বাংলাদেশের ভূমিহীন মানুষের আবাসনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক পত্রিকা নিউজ।
১২,১৫৪.
হোসেনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর কাসিম
  3. মীর মুরাদ
  4. মীর জুমলা
সঠিক উত্তর:
মীর মুরাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মুরাদ
ব্যাখ্যা
হোসেনী দালান:
- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল।
- ৬১ হিজরির ১০ মুহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে আল-হোসেনের শহীদত্বকে স্মরণ করার জন্য ইমারত নির্মাণ করা ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি সাধারণ রীতি।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।
- শাহ সুজা নিজে সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- সৈয়দ মুরাদ একদা স্বপ্নে আল হোসেনকে একটি ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- তিনিই এই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- ইমারতটি সম্ভবত একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীকালে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ইমারতটির সংস্কার করা হয় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর এর কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৫৫.
১৯৪৭ সালে শরৎচন্দ্র বসু কোন ধরনের রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন?
  1. রাজতন্ত্র
  2. ইসলামিক স্টেট
  3. ফেডারেল ইউনিয়ন
  4. সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা শুরু হয়।
- এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়।
- এ প্রেক্ষাপটে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি স্বাধীন ও অখণ্ড বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা শরৎচন্দ্র বসু। ইতিহাসে এটি ‘বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব’ নামে পরিচিত।

• ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দী অখণ্ড বাংলাকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গঠনের প্রস্তাব দেন এবং এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম এই রাষ্ট্রের একটি রূপরেখাও প্রণয়ন করেন। পরে শরৎ বসু অখণ্ড বাংলাকে একটি 'সোস্যালিস্ট রিপাবলিক' হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
১২,১৫৬.
আওয়ামীলীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু ‘নৌকা’ পছন্দ করেন কবে?
  1. ক) ১ মার্চ ১৯৬৯
  2. খ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  3. গ) ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭০
  4. ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।
১ এপ্রিল ১৯৭০ আওয়ামীলীগের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত এবং ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
(সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
১২,১৫৭.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত 'জয়যাত্রা' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে ছিলেন?
  1. সুভাষ দত্ত
  2. তৌকির আহমেদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মোরশেদুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
তৌকির আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৌকির আহমেদ
ব্যাখ্যা

‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত 'জয়যাত্রা' চলচ্চিত্রের পরিচালক তৌকির আহমেদ।
- জয়যাত্রা সিনেমায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সম্পৃক্ততা ছিল। 
- ২০০৪ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। 

• বাংলাদেশের বিখ্যাত সম্পাদক, কাহিনীকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন এর কাহিনী নিয়ে সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ।
- ‘জয়যাত্রা’ তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ভিত্তিক এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিঃ।
- চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আজিজুল হাকিম, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত, চাঁদনী।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ পরিচালক তৌকির আহমেদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক ২০০৪ পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: প্রথম আলো।

১২,১৫৮.
কোন দেশটি ঊর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) শ্রীলংকা
  2. খ) জাপান
  3. গ) বাংলাদেশ
  4. ঘ) ভূটান
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন।
- বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- এর স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।
- ছেঁড়া দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা দ্বীপ।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে রাতে নৌ চলাচলের সুবিধার জন্য ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাতিঘর আছে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,১৫৯.
কোন চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে? 
  1. আবার তোরা মানুষ হ
  2. মাটির ময়না
  3. মেঘের অনেক রং
  4. চিত্রা নদীর পাড়ে
সঠিক উত্তর:
চিত্রা নদীর পাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রা নদীর পাড়ে
ব্যাখ্যা

- ’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে।

- ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনী।
- চিত্রা নদীর পাড়ে তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৮ সালের নির্মিত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৯৯ সালে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

• তানভীর মোকাম্মেল বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী, লালসালু, লালন, রাবেয়া, জীবনঢুলী ও রূপসা নদীর বাঁকে।

অন্যদিকে,
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি যুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক চিত্র তুলে ধরে।
- মাটির ময়না ২০০২ সালের বাংলাদেশি বাংলা যুদ্ধভিত্তিক নাট্য চলচ্চিত্র।
- মেঘের অনেক রং ১৯৭৬ সালে নির্মিত বাংলাদেশী বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হারুনর রশিদ।

উৎস: প্রথম আলো। 

১২,১৬০.
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কতজনের খেতাব বাতিল করা হয়?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৪ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ জন
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য সর্বমোট ৬৭৬ জন ব্যক্তিত্বকে চারটি খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন, বীর প্রতীক ৪২৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিল:

- ২০২১ সালের ৬ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

যে ৪জনের খেতাব বাতিল হলো তারা হলেন:
• লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  
• লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
বীর উত্তম: ৬৭ জন।
বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১২,১৬১.
জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করেন কোন আওয়ামীলীগ নেতা?
  1. ক) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) চৌধুরী খালেকুজ্জামান
  3. গ) মাওলানা আকরাম খাঁ
  4. ঘ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার স্বীকৃতি 
• ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
• আওয়ামীলীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারি মতান্তরে ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন ।
• বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৬২.
বিবিসি বাংলার শ্রোতা জরিপে কোন গানটি প্রথম স্থান লাভ করে?
  1. ক) মানুষ মানুষের জন্য
  2. খ) আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো
  3. গ) আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  4. ঘ) পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল
সঠিক উত্তর:
গ) আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
ব্যাখ্যা
বাংলা গানের শ্রোতা জরিপ:

- বিবিসি বাংলার শ্রোতা জরিপে প্রথম স্থান লাভ করে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি।
- গানটির রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• ২য় স্থানে রয়েছে 'মানুষ মানুষের জন্যে'।
- গানটি সুরকার ও শিল্পী - ভূপেন হাজারিকা; বাংলা রূপান্তর -গীতিকার শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
• ৩য় স্থানে রয়েছে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- গানটির গীতিকার - আবদুল গাফফার চৌধুরী ও সুরকার - আলতাফ মাহমুদ।
• ৪র্থ স্থানে রয়েছে 'কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই'।
- শিল্পী -মান্না দে, গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, সুরকার - সুপর্ণকান্তি ঘোষ।
• ৫ম স্থানে রয়েছে 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনল যারা'।
- গানটির সুরকার - আপেল মাহমুদ, গীতিকার - গোবিন্দ হালদার।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ৩ মে ২০০৬।
১২,১৬৩.
বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে কবে?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
  2. ১২ জানুয়ারি ১৯৮০
  3. ১০ জুলাই ১৯৮২
  4. ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
সঠিক উত্তর:
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম আইনসভা কমপ্লেক্স।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে এবং উদ্বোধন করা হয় ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি।
- এই ভবনে প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে ১৯৮২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। এটি ছিলো দ্বিতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন।
- এটির স্থপতি এস্তোনীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লুই আই কান।
- জাতীয় সংসদ ভবন ২১৫ একর জমির উপর অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয়)
১২,১৬৪.
৬-দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) লাহোর
  3. গ) দিল্লি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৬৫.
ঐতিহাসিক ছয়দফা দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ১৭ জুন
  2. ৭ জুলাই
  3. ১৭ জুলাই
  4. ৭ জুন
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা দিবস পালিত হয় ৭ জুন।
ছয়দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলেনে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন সংবলিত ছয়দফা দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৮-২০ মার্চ ১৯৬৬ আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয়। ২৩শে মার্চ সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা দাবী তুলে ধরেন।
- ৭ জুন ছয়দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়। এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ‘ছয়দফা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
- ছয়দফাকে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ বলা’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১২,১৬৬.
কোন জনপদ থেকে 'বাঙালি' জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল?
  1. বরেন্দ্র
  2. রাঢ়
  3. বঙ্গ
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- 'বঙ্গ' একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে 'বঙ্গ' বলে একটি জাতি বাস করতো।
- তাই জনপদটি পরিচিত হয় 'বঙ্গ' নামে।
- প্রাচীন শিলালিসিতে বঙ্গের দুইটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি 'বিক্রমপুর', আর অন্যটি 'নাব্য'। 
- বর্তমানে নাব্য বলে কোনো জায়গার অস্তিত্ব নেই।
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদ ছিল খুব শক্তিশালী অঞ্চল।
- 'বঙ্গ' থেকে 'বাঙালি' জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১২,১৬৭.
বাংলার সুবাদার হিসাবে ইসলাম খান চিশতীকে নিযুক্ত করেন-
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৬৮.
কার গল্প অবলম্বনে 'হাঙর নদী গ্রেনেড' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র হাঙর নদী গ্রেনেড।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর কাহিনিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে একজন মা তার বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেয় পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে।

উল্লেখ্য,
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: প্রথম আলো।
১২,১৬৯.
'শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়' কোন জেলায় স্থাপিত হবে?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. খুলনা
  3. গোপালগঞ্জ
  4. নীলফামারী
সঠিক উত্তর:
খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা
ব্যাখ্যা
- খুলনায় প্রতিষ্ঠিত হবে দেশের ৫০তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
- এটি দেশের পঞ্চম সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
- যার সম্ভাব্যতা যাচাই, সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রাথমিক বাজেট বরাদ্দ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
- এখন এটি মাঠ পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নিয়ে কাজ চলছে।
উৎসঃ বাংলাদেশ গেজেট এবং দৈনিক পত্রিকা।
১২,১৭০.
সেন আমলে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন -
  1. বল্লাল সেন
  2. বিজয় সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৭১.
ফকির-সন্ন্যাসীরা কার পক্ষ নিয়ে ইংরেজদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. মীরজাফর
  2. মীরকাশিম
  3. মীর মদন
  4. নবাব আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
মীরকাশিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীরকাশিম
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসীরা মীরকাশিমের পক্ষ নিয়ে ইংরেজদের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন।

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:

- ফকির-সন্ন্যাসীরা ছিল বাংলার অধিবাসী। এরা ছিল হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায় ভুক্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এক একটি দল।
- এরা ধর্মীয় সম্প্রদায় গোষ্ঠি হিসেবে পরিচিত ছিল।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিদ্রোহী হতে এবং অস্ত্র ধারণ করতে হয়।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলতে থাকে।

⇒ বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
- এর আগে নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
- এই ডাকে সাড়া দিয়ে ফকির-সন্ন্যাসীরা নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করে।
- যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাশিম পালিয়ে গেলেও ফকির-সন্ন্যাসীরা তাদের ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে।

⇒ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন তিনি।
- ফলে তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৭২.
বাংলাদেশ কত সালে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাশ করে?
  1. ক) ১৯৭১
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৮১
  4. ঘ) ১৯৮৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৮৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৮৭
ব্যাখ্যা

১৯৮৭ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাশ করে।
সিয়েরালিয়ন বাংলা ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে।
বর্তমানে ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলা ভাষার অবস্থান বিশ্বে ৭ম।

১২,১৭৩.
স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু 
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা

লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ১৯৭৯ সালের ২৭ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের অদূরে ডোনেগাল বে-তে তাঁর নৌযানে এক বিস্ফোরণে নিহত হন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,১৭৪.
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জেলা কোনটি?
  1. নারায়ণগঞ্জ
  2. মেহেরপুর
  3. রাঙ্গামাটি
  4. ঝালকাঠি
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

নারায়নগঞ্জ:
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ।
- এর আয়তন ৬৮৪.৩৭ বর্গকিলোমিটার।
- ১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠিত।
- নারায়ণগঞ্জ সোনালী আশ পাটের জন্য প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত।
- নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর।
- নারায়ণগঞ্জের মধ্য দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী প্রবাহিত।

উল্লেখ্য,
- আয়তন অনুযায়ী বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা হলো রাঙ্গামাটি।
- মেহেরপুর জেলার আয়তন ৭১৬.০৮ বর্গ কিলোমিটার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২,১৭৫.
ভাষা শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কে? 
  1. রফিক
  2. জব্বার
  3. বরকত
  4. সালাম
সঠিক উত্তর:
বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরকত
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন।
- তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে।
- কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু।
- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাংশে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রদের সভা হয়।
- ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
- পুলেশের গুলিতে  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুল জববার,  আবুল বরকত নিহত হয়।
- আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,১৭৬.
তিতুমীরের নেতৃত্বে কোন বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ফকির বিদ্রোহ
  2. খ) কৃষক বিদ্রোহ
  3. গ) সিপাহী বিদ্রোহ
  4. ঘ) সন্যাসী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষক বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
তিতুমীরের কৃষক বিদ্রোহ
• মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিতুমীর প্রথম জীবনে নদীয়া জেলার জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
• পরবর্তীতে তিনি হজ্জ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যান। সেখানে গিয়ে ওহাবী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন।
• তিতুমীর দেশে ফিরে একদিকে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন অপরদিকে জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। 
• শীঘ্রই পশ্চিম বাংলার বিশাল অঞ্চল জুড়ে তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। অত্যাচারী নীলকর, জমিদার ও ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে একাধিক জায়গায় তিতুমীরের বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। 
• চূড়ান্ত সংঘর্ষ বাঁধে বারাসাতের অদূরে নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে। সেখানে তিতুমীর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে শাসকগোষ্ঠির আক্রমণের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। 
• আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কর্ণেল সুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 
• ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মুখ যুদ্ধে ৫০ জন সহযোদ্ধাসহ তিতুমীর শহীদ হন।
• এভাবে তিতুমীরের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৭৭.
কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. ক) দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  2. খ) সামাজিক চেতনা
  3. গ) অসাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
বাংলায় ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি:

- বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- এর ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,১৭৮.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. ক) চাপালিশ
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) তেলসুর
  4. ঘ) সেগুন
সঠিক উত্তর:
খ) গেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গেওয়া
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। সুন্দরবনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তেলসুর, চাপালিশ ও সেগুন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
১২,১৭৯.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৯৬ খ্রি:
  2. খ) ১৯৯৭ খ্রি:
  3. গ) ১৯৯৯ খ্রি:
  4. ঘ) ২০০০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৯ খ্রি:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৯ খ্রি:
ব্যাখ্যা
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১২,১৮০.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কোন স্থানে?
  1. লখনৌ
  2. পাঞ্জাবে
  3. বিহারে
  4. পশ্চিমবঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বিহারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারে
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২,১৮১.
প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন হয় কবে?
  1. ১ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭২
  3. ৭ মার্চ, ১৯৭২
  4. ১৩ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মুদ্রার নাম একই ধরনের। তবে বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়। ১ টাকার ও ১০০ টাকার নোট।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।

১২,১৮২.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কতটি রাজ্যের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:

- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,১৮৩.
যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. গোলাম মুহাম্মদ
  4. ইস্কান্দার মির্জা
সঠিক উত্তর:
গোলাম মুহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।

⇒ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৮৪.
'রেহেনা মরিয়ম নূর' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন-
  1. ক) জেরেমি চুয়া
  2. খ) আবদুল্লাহ মােহাম্মদ সাদ
  3. গ) রাজীব মহাজন
  4. ঘ) আজমেরী হক বাঁধন
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ মােহাম্মদ সাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ মােহাম্মদ সাদ
ব্যাখ্যা
'রেহেনা মরিয়ম নূর' একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। এটি ২০২১ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পায়।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেন - প্রতিভাবান তরুন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা - আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ।
- ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রূপদান করেন: বাংলাদেশী অভিনেত্রী - আজমেরী হক বাঁধন।
- চলচ্চিত্রটি ২০২১ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সার্তে রিগা পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ইতিহাস গড়েছে৷ 

একজন মানুষকে জীবনে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়৷ কোনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সত্যিই কঠিন৷ কোনো সিদ্ধান্তের জন্য যদি তাকে কঠিন মূল্য দিতে হয় এবং তা জেনেও কেউ তার অবস্থানে অবিচল থাকলে তাকে দৃঢ় চরিত্রের বলতেই হয়৷ তেমনই এক চরিত্র রেহানা মরিয়ম নূর৷

তথ্যসূত্র: ডয়েচভেলে ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
১২,১৮৫.
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ইবনে বতুতাকে কোন পদে নিযুক্ত করেন?
  1. সেনাপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. কাজী
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৮৬.
মানসিংহ কোন ভাটির জমিদারকে পরাজিত করেন?
  1. ক) চাঁদ রায়
  2. খ) কেদার রায়
  3. গ) ঈসা খান
  4. ঘ) মুসা খান
সঠিক উত্তর:
খ) কেদার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কেদার রায়
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল:

- মানসিংহ কেদার রায়কে পরাজিত করেন।
- আকবরের সেনাপতি খান জাহান রাজমহলের যুদ্ধে জয়লাভ করে রাজধানী তাঁড়া অধিকার করেন।
- প্রকৃতপক্ষে অনেক যুদ্ধ করেও আকবর বাংলাদেশ জয় করতে পারেননি। সমগ্র বাংলায় অধিকার প্রতিষ্ঠার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক আফগান এবং হিন্দু জমিদার এবং ভূঁইয়া ইত্যাদি স্বাধীন হয়ে যায় এবং কেন্দ্রীয় শক্তির শাসন অস্বীকার করে। মোগলদের পক্ষে সহজে তাদের দমন করা সম্ভব হয়নি।
- প্রথমদিকে বাংলায় মোগল অধিকার মালদহ-দিনাজপুর হয়ে উত্তরে ঘোড়াঘাট এবং পূর্বে করতোয়া পর্যন্ত সীমিত ছিল।
- বাংলায় মোগলদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বড় বাধা ছিল ভাটি এলাকা।
- ভাটির জমিদারদের মধ্যে চাঁদ রায় ও কেদার রায় প্রসিদ্ধ ছিলেন।
- ভাটির জমিদারদের মধ্যে ঈসা খান ও তাঁর পুত্র মুসা খান ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তারা উভয়ে মোগলদের দীর্ঘদিন প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১২,১৮৭.
মৌর্য শাসনামলে বাংলার পূর্বনাম কী ছিলো?
  1. তাম্রলিপ্ত
  2. গঙ্গারিডই
  3. বঙ্গ
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
গঙ্গারিডই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গারিডই
ব্যাখ্যা
• মৌর্য শাসনামলে বাংলা:
- গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় গঙ্গারিডই নামে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা।
- এ সময়কালকে মৌর্য শাসনামল বলে ধারণা করা হয়।
- পণ্ডিতদের ধারণা হলো, 'গঙ্গারিডই' ছিল বর্তমানকালের বাংলা।
- আর্যদের আগমনের আগেই বাংলায় মৌর্য বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- 'গঙ্গারিডই' (বাংলার পূর্বনাম) রাজ্যের রাজধানীতে সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় তৈরি হতো, যা সুদূর পশ্চিমা দেশে রপ্তানি হতো।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার সীমানা বিস্তৃত হয়। মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় প্রাচীন পুণ্ড্ররাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

অন্যদিকে,
• তাম্রলিপ্ত একটি প্রাচীন জনপদ।
-বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তর প্রাণকেন্দ্র। 

- বঙ্গ, সমতট, বাংলার প্রাচীন জনপদ।

উৎস: ইতিহাস, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৮৮.
বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন।
- এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়।
- ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।
- ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়।
- ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।
- বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা ২টি। যথা:
• ঢাকা।
• চট্টগ্রাম।
- উপকেন্দ্র বা রিলে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি। এগুলো হলো:
নাটোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, উখিয়া এবং রাঙ্গামাটি।

তথ্যসূত্র - বিটিভি ওয়েবসাইট।
১২,১৮৯.
ছয় দফাকে ঘিরে ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত পুস্তিকার নাম কী ছিল?
  1. ছয় দফা: আমাদের অধিকার, আমাদের দাবি
  2. ছয় দফার ডাক: জাতির আশা, মানুষের অধিকার
  3. আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি
  4. আমাদের সংগ্রাম, ছয় দফা আমাদের অস্তিত্বের দাবি
সঠিক উত্তর:
আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে পৌঁছান।
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে তিনি ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন।
- তিনি সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৯০.
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সার্জেন্ট জহুরুল হককে কবে হত্যা করা হয়?
  1. ১৯৬৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ই জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থান: 
- হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়।
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে।
- মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। 
- এরপর আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়।
- ক্ষিপ্ত জনতা সরকারি পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান ও মর্নিং নিউজ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়।
- ঢাকা শহর সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- ২৪শে জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও হরতালে বহু মানুষ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ও আহত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- জনতা আগরতলা মামলার বিচারপতির বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। 
- ১৯৬৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,১৯১.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে  উপস্থিত ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
  4. মেজর জিয়াউর রহমান 
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান:

• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।  
• রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণ করেন জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী।
• আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৯৩ হাজার সৈন্য উপস্থিত ছিলেন। 
• যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার। 
• ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে ঢাকায় আগত কাদের সিদ্দিকীও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,১৯২.
কোন কোন অঞ্চল নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী
  2. খ) জলপাইগুড়ি, সিলেট, আসাম
  3. গ) মালদহ, পার্বত্য ত্রিপুরা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করেন যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, পার্বত্য ত্রিপুরা, জলপাইগুড়ি এবং মালদহ জেলা নিয়ে গঠিদ হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ। ঢাকা ছিলো নবগঠিত প্রদেশের রাজধানী এবং প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন ব্যামফিল্ড ফুলার।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতাকে।

কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে এবং সহিংস আন্দোলন শুরু করে। সূত্রপাত ঘটে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জের সময়ে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
এতে করে ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় দুই বাংলা একত্রিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,১৯৩.
সার্জেন্ট জহুরুল হককে কত তারিখ গুলি করা হয়?
  1. ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সাল
  2. ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সাল
  3. ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সাল
  4. ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সাল
সঠিক উত্তর:
১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সাল
ব্যাখ্যা
সার্জেন্ট জহুরুল হক:
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সার্জেন্ট জহুরুল হকের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
- ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সার্জেন্ট জহুরুল হককে।
- মামলায় তাকে করা হয়েছিল ১৭ নম্বর আসামি।
- কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে সেলের হাবিলদার মঞ্জুর শাহ তাকে গুলি করে।
- তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যাকাণ্ডের ফলে আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন তুঙ্গে উঠে।
- গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খানের সামরিক সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৯৪.
মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহকারী সাইমন ড্রিং কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া 
  2. নেদারল্যান্ডস
  3. যুক্তরাজ্য
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

সাইমন ড্রিং:
- ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম সাইমন ড্রিংয়ের।
- মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সাংবাদিক হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।
- আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রকৃত বন্ধু এবং সহযোদ্ধার।
• দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।
- তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।
কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লণ্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়।
- ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর লন্ডনে ফিরে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জেনে আবার তিনি ঢাকায় আসেন।
- একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

উৎস: দৈনিক সমকাল, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা ও সংগ্রামের নোটবুক।

১২,১৯৫.
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নূর হোসেন কত তারিখে শহীদ হন?
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৬ আগস্ট
  3. গ) ৪ নভেম্বর
  4. ঘ) ১০ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
নূর হোসেন:

- ১৯৮৭ সালে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহীদ হন।
- তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নূর হোসেনের পৈতৃক নিবাস পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলাধীন ঝাটিবুনিয়া গ্রামে।
- নূর হোসেন ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদক।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর জোটবদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি’ গ্রহণ করে।
- এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল এরশাদ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায়।
- সেদিন নূর হোসেন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন।
- তিনি গায়ের জামা খুলে উদোম বুক ও পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক,গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২,১৯৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত কত?
  1. ৫:২
  2. ৩:৫
  3. ৮:৪
  4. ৫:৩
সঠিক উত্তর:
৫:৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫:৩
ব্যাখ্যা

-  জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং  দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০:৬ বা ৫:৩ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা  অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং  দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০:৬ বা ৫:৩ অনুপাতে আয়তাকার,
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে।
- পতাকার সবুজ অংশ হবে প্রসিয়ন গাঢ় সবুজ এইচ-২ আর.এস, হাজারে ৫০ ভাগ হিসেবে, লাল বৃত্তের অংশ হবে প্রসিয়ন উজ্জ্বল কমলা রং এইচ-২ আর.এস, হাজারে ৬০ ভাগ হিসেবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং PEOPLE’S REPUBLIC OF BANGLADESH FLAG RULES, 1972 ।

১২,১৯৭.
আমরা অনশন ভাঙব না’ কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. বায়ান্নর দিনগুলো
  2. চাষার ‍দুক্ষু
  3. একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. আমার পথ
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
ব্যাখ্যা
বায়ান্নর দিনগুলো:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নার দিনগুলো’ তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে অতিবাহিত দিনগুলোর স্মৃতিবিজড়িত সংকলন। 
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকার সময় তা লেখা বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য,
- বায়ান্নর দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধু ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং ঢাকার রাজপথে জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কথা বর্ণনা করেছেন।
- এই স্মৃতিচারণে ব্যক্ত হয়েছে তাঁর অনশনকালে জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আচরণ, নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর নানা কৌশল ইত্যাদি।
- এতে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ছাত্রজনতার মিছিলে পুলিশের গুলিচালনার খবর।
- 'আমরা অনশন ভাঙব না’-এটি বায়ান্নর দিনগুলো থেকে উদ্ধৃত।
- এ সময় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১২,১৯৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. রাষ্ট্রভাষা বাংলা কমিটি
  3. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা পরিষদ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১৯৯.
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে এরশাদ সরকারের পতনের পর কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন?
  1. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. আব্দুস সাত্তার
  4. আবদুর রহমান বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
শাহাবুদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহাবুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশ:
- মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সরকার দেশের প্রথম সংবিধান গ্রহণ করে। 
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হন।
- এ সময় সামরিকবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের একটা পর্যায়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন।
- চট্টগ্রাম সফরকালে সামরিক বাহিনীর একদল অফিসারের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হন।
- পরবর্তী এক বছরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনা প্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে।
- দীর্ঘ ৯ বছর শাসনের পর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে এক গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারে পতন ঘটে।
- ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ।
- প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের অধীন ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে দ্বাদশ সংশোধনী বিল গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠলে ওই বছরের ১৯শে নভেম্বর জোট তিনটি আলাদা সমাবেশ থেকে একযোগে রূপরেখাটি ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য হিসেবে – ‘একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বভৌম সংসদ গঠনের লক্ষ্যে এরশাদের পতন।
- রূপরেখাটি ঘোষণার সতের দিনের মাথায় ওই রূপরেখার ভিত্তিতেই এরশাদ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন।
- রূপরেখায় থাকা ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৯১ সালের সাতাশে ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.
১২,২০০.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসকি উক্তির শূন্যস্থানটি পূরণ করুন : “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো তবুও এ দেশের মানুষকে ............।”
  1. ক) স্বাধীনতা দেব
  2. খ) মুক্ত করবো
  3. গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
  4. ঘ) মুক্তি সংগ্রাম শিখাব
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
ব্যাখ্যা
রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
উৎসঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান