বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১৮ / ১২৪ · ১১,৭০১১১,৮০০ / ১২,৪২১

১১,৭০১.
মুর্শিদ কুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কোথায় স্থানান্তর করেন?
  1. কলকাতা
  2. রাজমহল
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. পাটনা
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১,৭০২.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. গ) কাজী মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
⇒ তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭০৩.
মুজিব নগর সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এম. মনসুর আলী
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭০৪.
ঢাকার শেষ নবাব কে ছিলেন?
  1. নবাব খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
  2. নবাব খাজা আয়াতুল্লাহ বাহাদুর
  3. নবাব খাজা সিরাজুল্লাহ বাহাদুর
  4. নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।
১১,৭০৫.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর
  2. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  3. বিচারপতি মোঃ আতাউর রহমান খান
  4. বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন:
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২ টি সাধারণ আসনে একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দলই সবকয়টি আসনে প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি।
- উক্ত ১৬২টি আসনে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দলের প্রার্থী সংখ্যা ছিল যথাঃ
• মুসলিমলীগ (কনভেনশন) ৯৩।
• মুসলিম লীগ (কাইয়ুম) ৬৫।
• মুসলিম লীগ (কাউন্সিল) ৫০।
• জামায়াতে ইসলামী ৬৯।
• জমিয়াতুল উলামা ও নেজামে ইসলামী ৪৫।
• পিডিপি ৮১।
• ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ৩৬।
• স্বতন্ত্র ১০৯।
• অন্যান্য ছোট দলসহ সর্বমোট প্রার্থী সংখ্যা ছিল ৭৬৯ জন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭০৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১ জুলাই, ২০১৯
  2. খ) ১ জুলাই, ১৯২১
  3. গ) ১ জুলাই, ১৯১৯
  4. ঘ) ১ জুলাই, ১৯২৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১ জুলাই, ১৯২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ জুলাই, ১৯২১
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭০৭.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পদবী কী ছিল?
  1. সিপাহী
  2. ক্যাপ্টেন
  3. লেফটেন্যান্ট
  4. ল্যান্স নায়েক
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ:

- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর পদবী ছিল ল্যান্স নায়েক।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর গঠন হলে তাঁর উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র যশোরের কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
 
তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৭০৮.
কোন বীরশ্রেষ্ঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ প্রঙ্গনে কাকে সমাহিত করা হয়?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহি মোস্তফা কামাল
  3. সিপাহি হামিদুর রহমান
  4. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর :
- ১৯৪৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদবিধারী ছিলেন।
- তিনি ৭ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- মৃত্যু বরণ করেন- ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে।
- বীর শ্রেষ্ঠদের মধ্যকার তিনি সর্বশেষ শহিদ হন।
- তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ প্রঙ্গনে কাকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১১,৭০৯.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের কেন্দ্র বা আদি রাজধানী 'পাটলিপুত্র' বর্তমানে কোন এলাকায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. পাটনা
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
পাটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাটনা
ব্যাখ্যা

• গুপ্তযুগে বাংলা: 
- গুপ্তযুগ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকরা সুস্পষ্ট তথ্য প্রদান করতে পারেননি।
- আনুমানিক ৩২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পাটলীপুত্র এলাকা (বর্তমান পাটনায়) গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য বর্তমান পাটনা এলাকায়, যার তৎকালীন নাম পাটলীপুত্র।
- তবে কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, গুপ্ত বংশের আদি পুরুষেরা বাংলার পশ্চিমাংশে একটি ছোট রাজ্যের সামন্ত অধিপতি ছিলেন।
- পরবর্তীকালে সমগ্র বাংলাই গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়।

এছাড়াও,
- গুপ্ত যুগে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করার মাধ্যমে শাসন করা হতো বলে জানা যায়।
- বাংলার উত্তরাংশ 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি' নামে একটি প্রদেশ অথবা প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল।
- গুপ্ত সম্রাটের নিযুক্ত একজন শাসনকর্তা দ্বারা এটি শাসিত হতো।
- ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ বৈন্যগুপ্ত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বা সমতট শাসন করতেন।
- প্রথমে তিনি গুপ্ত সম্রাটের অধীনে একজন সামন্ত শাসনকর্তা ছিলেন।
- পরে সম্ভবত তিনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- গুপ্ত যুগের শাসনামলে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল।
- সে সময় বাংলাদেশে প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল।
 
উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭১০.
কর্মচারিদের প্রেষণাদানের ক্ষেত্রে বিবেচিত মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে কোনটি পড়ে না?
  1. ক) শারীরিক চাহিদা
  2. খ) নিরাপত্তা চাহিদা
  3. গ) স্বকীয়তা চাহিদা
  4. ঘ) সামাজিক চাহিদা
  5. ঙ) জৈবিক চাহিদা
সঠিক উত্তর:
ঙ) জৈবিক চাহিদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) জৈবিক চাহিদা
ব্যাখ্যা


উৎসঃ এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১১,৭১১.
Where was the flag of Bangladesh raised for the first time?
  1. ক) University of Dhaka
  2. খ) Racecourse Field
  3. গ) Ramna Field
  4. ঘ) Dhanmondi
  5. ঙ) None
সঠিক উত্তর:
ক) University of Dhaka
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) University of Dhaka
ব্যাখ্যা
-  ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম নিজ হাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ২৩ মার্চ ১৯৭১ সালে ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসভবনে।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান।
- ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
- এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি 
১১,৭১২.
আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে কী বিপ্লব বলে আখ্যা দেন?
  1. মার্চ বিপ্লব
  2. আগস্ট বিপ্লব
  3. সেপ্টেম্ববর বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল:
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ছিলেন গণতন্ত্র বিরোধী।
- গণতন্ত্র ধ্বংসে তাঁর অপতৎপরতার অন্যতম সহযোগী ছিলেন প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাঁর একান্ত পার্শ্বচর আইয়ুব খানের হাতেই তাঁর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে।
- সামরিক শাসন জারির ২১ দিন পরেই আইয়ুব খান ইস্কান্দর মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন।
- ১৯৫৮ সালের ২৭ আক্টোবর আইয়ুব খান নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। একই সংগে তিনি প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বহাল থাকেন।
- আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে অক্টোবর বিপ্লব বলে আখ্যা দেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭১৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় (সদর দপ্তর) কোথায় ছিল?
  1. মুজিবনগর
  2. থিয়েটার রোড, কলকাতা
  3. কমিরগঞ্জ
  4. বেনাপোল
সঠিক উত্তর:
থিয়েটার রোড, কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থিয়েটার রোড, কলকাতা
ব্যাখ্যা
❐  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় (সদর দপ্তর) ছিল থিয়েটার রোড, কলকাতায়।

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে।
- বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার মুক্তির বাসনাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করা ছিল মুজিবনগর সরকারের স্মরণীয় সাফল্য ও কৃতিত্ব।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

⇒ মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)। পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়। কারণ মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের মাত্র ২ ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমা বর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।

♠ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

⇒ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব:
- মুজিবনগর সরকার শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গঠন করে।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- এই সরকার গঠনের পর থেকে অগণিত মানুষ দেশকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশে ও বিদেশে এই যুদ্ধের জনমত গড়ে তোলা ও সমর্থন আদায় করার ক্ষেত্রে এই সরকার বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।
১১,৭১৪.
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন। বর্তমানে গুরুত্বহীন।] সাম্প্রতিককালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কোন কৃষিবিজ্ঞানী বাংলাদেশ সফর করেন?
  1. প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম
  2. প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
  3. ড. আব্দুল কাদের
  4. ড. স্বামিনাথন
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর নরম্যান বোরলগ
ব্যাখ্যা

• প্রফেসর নরম্যান বোরলগ: 
- ১৯৯৯ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি বিজ্ঞানী প্রফেসর নরম্যান বোরলগ বাংলাদেশ সফর করেন।
- প্রফেসর নরম্যান বোরলগ ১৯৯৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি "সবুজ বিপ্লব"-এর জনক হিসেবে পরিচিত।
- এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
- বোরলগ খাদ্য সুরক্ষা এবং টেকসই কৃষি অর্জন এবং প্রচারের জন্য তাঁর স্বপ্নের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার।

১১,৭১৫.
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের কোন দেশটি সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. চিলি
  2. ব্রাজিল
  3. আর্জেন্টিনা
  4. ভেনিজুয়েলা
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা
স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- প্রথম আরব দেশ: ইরাক (৮ জুলাই, ১৯৭২)।
- ইরান: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

উল্লেখ্য:
- প্রথম মুসলিম দেশ ও প্রথম আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশ: মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ: পূর্ব-জার্মানি (১১ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রথম: ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- ব্রাজিল: ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা: ২৫ মে ১৯৭২।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- ফ্রান্স: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
১১,৭১৬.
নিচের কোন জেলা আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন?
  1. বাঁকুড়া
  2. নদীয়া
  3. হুগলি
  4. বীরভূম
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭১৭.
কোন গভর্নর জেনারেল সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা:
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো সদ্য বিধবা নারীকে স্বামীর চিতায় সহমরণ বা আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করার এক অমানষিক ও অমানবিক প্রথা।
- সতীদাহ প্রথা ছিল মূলত সামাজিক ও ধর্মীয় হত্যাকাণ্ড। 

⇒ ১৭৯৯ সালে উইলিয়াম কেরি এই প্রথা বন্ধের প্রয়াস নেন।
- গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির কাছে তিনি সতীদাহ বন্ধের আবেদন জানান।
- এরপর রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহবিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮২৮ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন। লর্ড বেন্টিঙ্কের কাছে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। লর্ড বেন্টিঙ্ক রামমোহনের যুক্তির সারবত্তা অনুভব করে আইনটি পাসে উদ্যোগী হন। ব্রিটিশ শাসনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সতীদাহ প্রথাকে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাস করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৮৩২ সালে প্রিভি কাউন্সিল রক্ষণশীল হিন্দুদের আপিল খারিজ করে লর্ড বেন্টিঙ্কের আদেশ বহাল রাখেন। এই বিজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় আকবর রামমোহনকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর ভারতবর্ষ থেকে সতীদাহ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করতে আরও তিন দশক লেগে যায়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭১৮.
শহীদ আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. ইংরেজি
  3. ব্যবসা প্রসাশন
  4. লোক প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো।
১১,৭১৯.
বার ভূইঁয়াদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভূইঁয়া কে ছিলেন?
  1. ক) চাঁদ রায়
  2. খ) কেদার রায়
  3. গ) কন্দন রায়
  4. ঘ) ঈসা খাঁ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈসা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈসা খাঁ
ব্যাখ্যা
- মুঘল আমলে পূর্ববঙ্গের জমিদারগণ বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিলো।
- এদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। ঈসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তারপুত্র মুসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার হন।
- বারোভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদ রায় ও কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুর বা মুন্সিগঞ্জের জমিদার। চন্দ্রদ্বীপের জমিদার ছিলেন পরমানন্দ রায়। ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন বাহাদুর গাজি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১১,৭২০.
Ode কী?
  1. ক) শোককবিতা
  2. খ) পত্রকাব্য
  3. গ) খণ্ড কবিতা
  4. ঘ) কোরাসগান
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোরাসগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোরাসগান
ব্যাখ্যা
Ode:
- কবিতাবিশেষ (গাথাকবিতা);
- সাধারণত অনিয়মিত ছন্দে রচিত ও মহৎ অনুভূতি প্রকাশক এই কবিতা প্রায়ই কোনো বিশেষ ঘটনা বা বস্তুর মহিমাকীর্তন করে।
- কোরাসগান: সমবেত সংগীত; বৃন্দগীতি, (কবিতার) স্তবক।
উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান।
১১,৭২১.
কোন পাল রাজা কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করেন?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. দেবপাল
  4. রামপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭২২.
'বেঙ্গল প্যাক্ট' এর প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ 
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. জহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ 
ব্যাখ্যা

- বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (সি.আর দাশ)।

• বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩:
- ব্রিটিশ বিরোধী অহিংস খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করলে, মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
- আন্দোলন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তা বন্ধ ঘোষণা করার পর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত হতে থাকে।
- অপরদিকে, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রাদেশিক আইনসভার দ্বিতীয় নির্বাচন ১৯২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবার কথা।
গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিপক্ষে ছিলেন না।
- অপরদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি আর দাশ) এর নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন।
- সি আর দাশের প্রস্তাব কংগ্রেস সম্মেলনে গৃহীত হয়নি এমতাবস্থায়, তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর গঠন করেন স্বরাজ পার্টি।
- সি.আর দাশ ছিলেন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের পক্ষের মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি ব্রিটিশদের সহযোগিতা করতে চাননি বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজ প্রদেশ বাংলায় মুসলমান নেতৃবৃন্দের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্যে ১৯২৩ সনে এক চুক্তি সাক্ষর করেন যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭২৩.
কোন সুলতানের শাসনকালে আল-বারুনি কিতাবুল হিন্দ গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন? 
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. ময়জুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুড়ি
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. কুতুবউদ্দিন আইবেক 
সঠিক উত্তর:
সুলতান মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান মাহমুদ
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- গজনির সুলতান মাহমুদ (৯৭১–১০৩০ খ্রিঃ) ছিলেন মধ্যযুগীয় গজনি সাম্রাজ্যের একজন শক্তিশালী ও বিখ্যাত শাসক।
- তাঁর সাম্রাজ্য বর্তমান আফগানিস্তান, উত্তর-পূর্ব ইরান এবং উত্তর ভারতের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল।
- সুলতান মাহমুদ গজনিকে একটি সমৃদ্ধশালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন, যা বাগদাদের সমকক্ষ বিবেচিত হত।
- তিনি শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।
- এর ফলে তাঁর রাজসভা বিদ্বানদের মিলনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
- তাঁর শাসনামলে মুসলিম দার্শনিক আল বেরুনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুল হিন্দ রচনা করেন।
- তাঁর শাসনামলেই ইরানের কবি ফেরদৌসি শাহনামা মহাকাব্য রচনা করেন। 

উল্লেখ্য,
- সুলতান মাহমুদ মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রায় ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন,।
- তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধনসম্পদ লুণ্ঠন এবং সাম্রাজ্য বিস্তার।
- তার সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযান ছিল সোমনাথ মন্দির লুন্ঠন।
- এই ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি অনেক সোনা অর্জন করেন।
- তিনিই প্রথম শাসক যিনি ‘সুলতান’ উপাধি ধারণ করেছিলেন।

অন্যদিকে, 
• মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন ভারতের মুসলিম শাসনের সূচনাকারী।
• ময়জুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুড়ি ছিলেন আফগানিস্তানের ঘুড় বংশের শাসক।
- তিনি হচ্ছেন ভারতবর্ষের মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
• কুতুবুদ্দিন আইবেক হচ্ছে দিল্লী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।  

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭২৪.
বাংলাদেশের প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার কে?
  1. ক) সাদেকা হালিম
  2. খ) বেগম কবিতা খানম
  3. গ) রোকেয়া হায়দার
  4. ঘ) নাজমুন মালা
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম কবিতা খানম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম কবিতা খানম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে সাবেক সচিব কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের সদস্য তিনি।
বেগম কবিতা খানম ১৯৫৭ সালে নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
২০১৩ সালে তিনি রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

[উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।]
১১,৭২৫.
তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো- 
  1. দৈনিক বাংলা
  2. সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. দৈনিক সংগ্রাম
  4. সাপ্তাহিক ইনকিলাব
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭২৬.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে প্রথম শহীদ হয়েছিল কে? 
  1. আবদুস সালাম
  2. রফিক উদ্দিন
  3. আবুল বরকত
  4. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান
  5. শফিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
রফিক উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক উদ্দিন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সোয়া তিনটা। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ।
- ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন।
- তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
 
অন্যদিকে,
• আবুল বরকত:
- পরিচয়: তার ডাক নাম আবাই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এর ছাত্র।
- জন্মস্থান: তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর অঞ্চলের বাবলা গ্রামে।

• আবদুস সালাম:
- জন্মস্থান: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে
- পরিচয়: তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন' ছিলেন।

• শফিউর রহমান:
- শফিউর রহমান ছিলেন হাইকোর্টের কর্মচারী।

• মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান
- ১৯৬৯ সালে অভ্যুত্থানে শহিদ হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭২৭.
এগার দফা আন্দোলন কখন হয়েছিল?
  1. ১৯৬৬ সালে
  2. ১৯৬৮ সালে
  3. ১৯৬৯ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
১১ দফা আন্দোলন:
- ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ছয় দফা কর্মসূচি অনেকটাই থেমে যায়।
- ঠিক এ সময়ে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- পরে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ডাকসু’র দপ্তরে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’–এর নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
- ঘোষণা করা হয় ১১ দফা কর্মসূচি, যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা, শিল্প, স্বায়ত্তশাসন, ভোটাধিকার ইত্যাদির মতো বিষয় তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর নেতৃবৃন্দ ‘ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে এবং তাদের ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- ১১ দফার মধ্যে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত ৬ দফার সাথে ছাত্র সমস্যাকেন্দ্রিক দাবি দাওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংক্রান্ত দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৭২৮.
বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন কারা?
  1. অর্ধশিক্ষিত মুসলমানেরা
  2. শিক্ষিত হিন্দু নেতারা
  3. পূর্ব বাংলার নেতারা
  4. বাংলা কৃষকেরা
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিত হিন্দু নেতারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষিত হিন্দু নেতারা
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- প্রধানত প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সেই সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করেন। 
- পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং অনুসঙ্গী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে।

অন্য দিকে -
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয়।
- এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ।
- বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
- অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের শিক্ষিত হিন্দু নেতারা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭২৯.
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা নয় কোনটি?  
  1. সরকারি সেবার মান
  2. ইউটিলিটি সেবার অপ্রতুলতা
  3. শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা
  4. রাজনৈতিক অস্থিরতা
সঠিক উত্তর:
শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা নয়: শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা। 
- বরং, বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের  সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সস্তা ও প্রচুর শ্রমশক্তি। 


• বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা: 

- বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) হলো এমন এক ধরনের বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়িক স্বার্থে অন্য দেশে বিনিয়োগ করে। 
- বিনিয়োগ ব্যয় বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অনেকগুলো উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনায় প্রতিযোগী দেশগুলোর থেকে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।  
- বাংলাদেশে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধির পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, যা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং অবকাঠামোগত কারণে উদ্ভূত।

- বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে চারটি প্রধান বাধার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যথা: 
১. সরকারি সেবার মান,
২. ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন) সেবার অপ্রতুলতা, 
৩. দুর্নীতি,
৪. বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর বোঝাপড়ায় ঘাটতি।

এছাড়াও,
• বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সমূহ: 
১. প্রশাসনিক লাল ফিতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা,
২. স্বচ্ছতার অভাব,
৩. অপর্যাপ্ত অবকাঠামো,
৪. রাজনৈতিক অস্থিরতা,
৫. আইনি ও বিচারিক দুর্বলতা,
৬. জমি অধিগ্রহণ ও সম্পত্তি অধিকারের সমস্যা,
৭. কর ব্যবস্থা ও নীতিগত অস্থিরতা। 

তথ্যসূত্র: সমকাল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও সামষ্টিক অর্থনীতি, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (Link) 

১১,৭৩০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক কোন শতকে বাংলা শাসন করেন?
  1. ক) ষষ্ঠ শতক
  2. খ) পঞ্চম শতক
  3. গ) অষ্টম শতক
  4. ঘ) সপ্তম শতক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সপ্তম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সপ্তম শতক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা। তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন। ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক “স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।”

শশাঙ্কের প্রাথমিক জীবন ও উত্থান: 
শশাঙ্কের বংশ বা বাল্যজীবন সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায় না। 
অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, শশাঙ্ক প্রথম জীবনে স্বাধীন রাজা ছিলেন না, গুপ্ত বংশীয় মহাসেন নামক এক রাজার সামন্ত ছিলেন। শশাঙ্ক কখন এবং কিভাবে গৌড়দেশে সার্বভৌম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন তাও সঠিকভাবে বলা যায় না। 
তবে ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। 
এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল। 
কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী। 
বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ ।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৭৩১.
ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যা করার জন্য বোমা ছুঁড়েছিলেন কে?
  1.  ক্ষুদিরাম বসু
  2. সুর্য সেন
  3.  বাঘা যতীন
  4. তিতুমীর
সঠিক উত্তর:
 ক্ষুদিরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ক্ষুদিরাম বসু
ব্যাখ্যা

• বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন:
- বয়কট ও স্বদেশী আন্দোলনের ব্যর্থতা বাংলার স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিক যুব সমাজকে সশস্ত্র বিপ্লবের পথে ঠেলে দেয়। 
- সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশস্বাধীন করার যে গোপন তৎপরতার সূত্রপাত ঘটে, তাকেই বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন বলা হয়ে থাকে।
- এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঞ্চলে অতর্কিতে বোমা হামলা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী হত্যা, গেরিলা পদ্ধতিতে খণ্ডযুদ্ধ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে চলে আসতে থাকে। 
১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত এই সংগ্রাম জোরদার হলেও এর আগেই সংগ্রাম শুরু হয়ে ছিল।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যা করার জন্য ক্ষুদিরামের বোমা হামলার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করে।
- এই আন্দোলন কোলকাতা কেন্দ্রিক হলেও ছড়িয়ে পড়ে পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চলেও।
-এই সময় বিপ্লবীরা ইংরেজ কর্মকর্তা, ইংরেজদের হত্যা, বোমা হামলার মধ্য দিয়ে ইংরেজ সরকারের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- কোলকাতায় গোপনে বোমা তৈরির কারখানা স্থাপিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- ১৯০৮ সালে তাঁকে হত্যার দায়িত্ব পড়ে প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের উপর।
- কিন্তু কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত বোমা মারলে গাড়ির ভেতরে একজন ইংরেজ মহিলা ও তাঁর মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। 
- মুজফ্ফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যৃ হয়।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৩২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন অভিযুক্তকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) সার্জেন্ট শামসুল হক
  2. খ) লেফটেন্যান্ট আবদুর রউফ
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. ঘ) কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
-১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ এই মামলার মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন:
- কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
- স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান
- প্রাক্তন এলএস সুলতান উদ্দিন আহমেদ
- সিডিআই নূর মোহাম্মদ
- আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি
- ফ্লাইট সার্জেন্ট মাহফিজউল্লাহ
- প্রাক্তন কর্পোরাল আবুল বাশার
- মোহাম্মদ আবদুস সামাদ
- প্রাক্তন হাবিলদার দলিল উদ্দিন
- রুহুল কুদ্দুস সিএসপি
- ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক
- ভূপতিভুষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী
- বিধানকৃষ্ণ সেন
- সুবেদার আব দুর রাজ্জাক
- প্রাক্তন হাবিলদার ক্লার্ক মুজিবুর রহমান
- প্রাক্তন ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক
- সার্জেন্ট জহুরুল হক
- মো. খুরশীদ
- খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান সিএসপি
- হাবিলদার আজিজুল হক
- মাহফুজুল বারী
- সার্জেন্ট শামসুল হক
- শামসুল আলম এএমসি
- ক্যাপ্টেন মো. আবদুল মোতালেব
- ক্যাপ্টেন এ শওকত আলী মিয়া
- ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা এএমসি
- ক্যাপ্টেন এ.এন.এম নুরুজ্জামান
- সার্জেন্ট আবদুল জলিল
- মো. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
- লে. এস.এম.এম রহমান
- প্রাক্তন সুবেদার এ.কে.এম তাজুল ইসলাম
- মোহাম্মদ আলী রেজা
- ক্যাপ্টেন খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ এএমসি এবং
- লে. আবদুর রউফ।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- মামলার বিচারের জন্যে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন এম আর খান এবং মুকসুমুল হাকিম।
- বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম, আব্দুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- সরকার পক্ষের কৌশুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল টি এইচ খান।
- প্রবল আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া)
১১,৭৩৩.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র?
  1. জঁ ক্যা ১৯৭১
  2. দ্য লাস্ট কমান্ড
  3. দ্য ট্রুথ অব সেভেনটি ওয়ান
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
জঁ ক্যা ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জঁ ক্যা ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নাম ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’।
- ছবিটি নির্মাণ করছেন ‘ভুবন মাঝি’ ও ‘গণ্ডি’ খ্যাত পরিচালক ফাখরুল আরেফিন খান।
- এটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেখানে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ফ্রান্সের এক তরুণ, জঁ ক্যা, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (PIA) একটি বিমান ছিনতাই করেন।
- তার একমাত্র দাবি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০ টন ওষুধ পাঠানো।
- এই সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক জঁ ক্যা-কে কেন্দ্র করেই ছবির কাহিনি গড়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো।
১১,৭৩৪.
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 'তমদ্দুন মজলিশ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) নুরুল হক ভূঁইয়া
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. গ) আব্দুল মতিন
  4. ঘ) গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিস:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে 'তমদ্দুন মজলিস' সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তমদ্দুন মজলিস স্বাধীনতা লাভের এক মাস পর ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর গঠন করে ‘পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ’।

- ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করে।
- ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিশ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৩৫.
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে বই মেলা শুরু হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৬০
  2. খ) ১৯৭৮
  3. গ) ১৯৮০
  4. ঘ) ১৯৮২
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
• বই মেলা শুরু হয়:
- ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রী চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসের সামনের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার শুরু করেন।
- এই ৩২টি বই ছিলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমানে মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থানকারী বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই।
- ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমী মহান একুশে মেলা উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ হ্রাসকৃত মূল্যে একাডেমী প্রকাশিত বই বিক্রির ব্যবস্থা করে।
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
- ১৯৭৫ সালে একাডেমী মাঠের কিছু জায়গা চুনের দাগ দিয়ে প্রকাশকদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়।
- ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর অনুষ্ঠানসূচিতেও এই কার্যক্রমের কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
 - ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমীর তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমীকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন।
- ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। 

তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ পত্রিকা।
১১,৭৩৬.
গ্রিনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় কত ঘণ্টা আগে?
  1. ৬ ঘণ্টা
  2. সাড়ে ৫ ঘণ্টা
  3. সাড়ে ৬ ঘণ্টা
  4. ৫ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
• গ্রিনিচ মান সময়: 
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় — ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৩৭.
লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে কাকে সমাহিত করা হয়েছে?
  1. মরিয়ম
  2. ইরান দুখত
  3. জাহানারা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইরান দুখত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান দুখত
ব্যাখ্যা
লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে পরী বিবিকে (ইরান দুখত) সমাহিত করা হয়েছে।

লালবাগ কেল্লা:

- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
- পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত রেহমত বানু।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
১১,৭৩৮.
নীল বিদ্রোহের সূচনা হয় কোথায়?
  1. ক) বারাসাত
  2. খ) পাবনা
  3. গ) হুগলি
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ক) বারাসাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বারাসাত
ব্যাখ্যা
- ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে কাঁচামাল সংগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ব্রিটেনের বাংলা উপনিবেশ। 
- বস্ত্র শিল্পের রঞ্জক হিসেবে নীলের চাষ ও তা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফার সম্ভাবনা সূত্র খুঁজে পায় নীলকরেরা। 
- রায়তদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করে তারা। কিন্তু অলাভজনক হওয়ায় রায়তেরা নীলচাষে অনাগ্রহ প্রকাশ করে ।
- নীলকরদের অত্যাচারে ঐক্যবদ্ধ কৃষক সমাজ ১৮৫৯ - ৬২ খ্রি. পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত সময়ে নীল বিদ্রোহ গড়ে তোলে।
- নীল বিদ্রোহের সূচনা হয় বারাসাতে। 
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে নদীয়া, পাবনা, মুর্শিদাবাদ ও অন্যান্য নীলচাষভুক্ত এলাকায়।
- ১৮৬০ খ্রি. নীল বোনার মৌসুম শুরু হলে একযোগে সকল চাষী নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। 
- অন্যদিকে নীলকরেরাও গ্রামে গ্রামে লাঠিয়াল পাঠিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে, শারীরিক নির্যাতন ও আদালতে হয়রানিমূলক মামলা করে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করে ।
- সরকার ১৮৬০ খ্রি. নীল কমিশন গঠন করে।
- কমিশনের সুপারিশে রায়তের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে নীলচাষে বাধ্য করাকে আইনত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়। 
১১,৭৩৯.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে কতটি  বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

১১,৭৪০.
বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাশ করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসংগত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসিকে সাহায্য করেন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
১১,৭৪১.
ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সর্বপ্রথম প্রণীত আইন কোনটি?
  1. মর্লি-মিন্টু সংস্কার আইন, ১৯০৯
  2. ভারতীয় কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৮৬১
  3. ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
  4. রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হওয়ার পর ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের সরকার সর্বপ্রথম বাংলা তথা ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে।
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- এই অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলা এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্সির শাসনভার ও নিয়ন্ত্রণ একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হয়, যা ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল ও ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিল’ নামে পরিচিত ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে।
- এই আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ও দায়িত্ব সংজ্ঞায়িত করে দেওয়া হয়।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো কোম্পানি ও তার কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ করা।
- কিন্তু তা সত্ত্বেও দূর্নীতি রোধ হয়নি।

⇒ রেগুিলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এ রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দোষ-ত্রুটি থাকলেও তা উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৪২.
কণিষ্কের রাজধানী ছিল-
  1. কণিষ্কপুর
  2. পেশোয়ার
  3. তক্ষশীলা
  4. সারনাথ
সঠিক উত্তর:
পেশোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশোয়ার
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৪৩.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি তারকা রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে ৪টি তারকা রয়েছে।

জাতীয় প্রতীক: 

- জাতীয় প্রতীক  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতীক।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। - এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৪৪.
দেশের প্রথম উড়াল সড়ক (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  2. ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  3. ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  4. ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
সঠিক উত্তর:
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
ব্যাখ্যা
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে:
- ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
- ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে। 
- উড়াল সড়কটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত যাবে।
- ঢাকা শহরের যানজট নিরসনসহ ভ্রমণে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই উড়াল সড়ক তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। 
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে দ্রুতগতির প্রথম উড়ালসড়ক (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) উদ্বোধন করেছেন।
- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রান্তের কাওলা অংশে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি প্রথম ধাপের এ উদ্বোধন করেন।

উৎস: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো। 
১১,৭৪৫.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলা সন পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট হুমায়ূন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

⇒ আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন। আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল। তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৪৬.
First lt, Governor of newly formed province of Eastern Bengal and assam in 1905 was -
  1. Bampfylde Fuller
  2. Warren Hastings
  3. Lord Hardinge
  4. Lord Curzon
  5. Andrew Henderson
সঠিক উত্তর:
Bampfylde Fuller
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bampfylde Fuller
ব্যাখ্যা
ব্যামফিল্ড ফুলার:
- স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর। 
- তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। 
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৪৭.
গণপরিষদের অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন কত তারিখ?
  1. ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংরাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৪৮.
তালিবাবাদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) নরসিংদী
  2. খ) খুলনা
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূ-উপগ্রহকেন্দ্র। তালিবাবাদ গাজিপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত। ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রের জন্য এই জায়গা প্রসিদ্ধ হয়ে আছে।
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১১,৭৪৯.
সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন কে?
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) সুজাউদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খান (১৬৬৪ - ১৬৮৮:
- তিনি মগদের উৎপাত থেকে বাংলার জনগণের জান-মাল রক্ষা করেন।
- তিনি সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন
- সুবাদার শায়েস্তা খান কুচবিহার, কামরূপ, ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চলে মুঘল শাসন সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়। 

• শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 
- স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ” হিসেবে অভিহিত করা যায়।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছোট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধি সৌধ, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
১১,৭৫০.
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমী মুক্তিবাহিনীর কোন গেরিলা দলের সদস্য ছিলেন?
  1. ক) বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স
  2. খ) ক্র্যাক প্লাটুন
  3. গ) মুজিব বাহিনী
  4. ঘ) হান্টার বাহিনী
সঠিক উত্তর:
খ) ক্র্যাক প্লাটুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্র্যাক প্লাটুন
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম এবং এটিএম হায়দার বীর উত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
১১,৭৫১.
Which force conducts Operation Jackpot?
  1. ক) Pakistani invasion forces
  2. খ) Air force
  3. গ) joint forces
  4. ঘ) Naval commanders of the Liberation Army
সঠিক উত্তর:
ঘ) Naval commanders of the Liberation Army
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Naval commanders of the Liberation Army
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এইদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়।
- এতে পাকবাহিনীর ২৬টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৫২.
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের হত্যাকাণ্ডকে পাকিস্তানি সেনারা কী নাম দিয়েছিল?
  1. অপারেশন জ্যাকপট
  2. অপারেশন কিলো ফ্লাইট
  3. অপারেশন বিগ বার্ড
  4. অপারেশন সার্চ লাইট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চ লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চ লাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ, ১৯৭১ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উল্লেখ্য,
⇒ সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।

অন্যদিকে,
- অপারেশন জ্যাকপট: এটি ছিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডোদের একটি সফল অভিযান। 
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট: এই অপারেশনের মাধ্যমে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কয়েকটি বিমানকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়, যা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে।
- অপারেশন বিগ বার্ড: এই অপারেশনটিও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ গেরিলা আক্রমণ যা শত্রুদের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.
১১,৭৫৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন কে?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. কমরেড মনি সিং
  3. মওলানা ভাসানী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
- তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একজন মুখপাত্র হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে।
- বাংলার শোষিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার মুক্তির বাসনাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করা ছিল মুজিবনগর সরকারের স্মরণীয় সাফল্য ও কৃতিত্ব।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১১,৭৫৪.
বাংলাদেশ চা বোর্ড কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৭
  3. ১৯৭৪
  4. ১৯৮২
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ চা বোর্ড চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- ১৯৫১ সালে প্রথম পাকিস্তান টি বোর্ড গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে চা অধ্যাদেশ-১৯৭৭ এর মাধ্যমে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।
- চা বোর্ড বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। দেশে ১৬৭টি চা বাগান রয়েছে।
(সূত্র: বাংলাদেশ চা বোর্ড)
১১,৭৫৫.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কত তারিখে শাহাদাত বরণ করেন?
  1. ক) ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১ অক্টোবর ১৯৭১
  3. গ) ১ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলার রূপসা নদীর তীরে পাকবাহিনীর গোলাবর্ষণে আহত অবস্থায় রাজাকারদের হাতে শাহাদাতবরণ করেন।
পরবর্তীতে, স্থানীয় জনগণ তাকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে সমাহিত করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১১,৭৫৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ১১টি
  4. ঘ) ৮টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৫৭.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান কে ঘটান?
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. ধর্মপাল
  4. দেবপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন। 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৫৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন-
  1. কামাল উদ্দিন ইউসুফ
  2. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  3. স্যার এ. এফ. রহমান
  4. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
• বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
উৎসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।

১১,৭৫৯.
পদাধিকারবলে এশিয়াটিক সোসাইটির প্রধান-
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. জাতীয় সংসদ
  4. তথ্য মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

• পদাধিকারবলে রাষ্ট্রপতি যেসব সংস্থার প্রধান:
- এশিয়াটিক সোসাইটি,
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক,
- পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর,
- বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও
- বাংলাদেশ স্কাউট ইত্যাদি।

১১,৭৬০.
How many freedom fighters received gallantry awards for contributions in our Liberation War ____ 1971?
  1. ক) 712
  2. খ) 512
  3. গ) 175
  4. ঘ) 676
সঠিক উত্তর:
ঘ) 676
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 676
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭ জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬ জন।

==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭ জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।
১১,৭৬১.
মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় -
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. ২৬ মার্চ
  3. ১৫ আগস্ট
  4. ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

- ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকসহ নাম না–জানা আরও অনেকে শহীদ হন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য,
- একুশে ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতে রাখা হয়।

উৎস: প্রথম আলো।

১১,৭৬২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) বীর
সঠিক উত্তর:
খ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য হলো গাজীপুর চৌরাস্তায় নির্মিত জাগ্রত চৌরঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ সংঘটিত হয় গাজীপুরে ১৯শে মার্চ ১৯৭১ । এ চেতনার অংশ হিসেবে ১৯৭৩ সালে এটি স্থাপিত হয়। এর শিল্পী আবদুর রাজ্জাক। এটির উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)
১১,৭৬৩.
কোন ভাষা শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. ক) রফিক
  2. খ) জব্বার
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) বরকত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বরকত
ব্যাখ্যা

- শহীদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৮ সালে ভর্তি হোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে।
- ১৯৫২ সালে এম.এ. ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১১,৭৬৪.
ময়মনসিংহ বিভাগ কয়টি জেলা নিয়ে গঠিত?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৭ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ টি
ব্যাখ্যা
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ময়মনসিংহ বিভাগ যাত্রা শুরু করে। মোট চারটি জেলা তথাঃ ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা এবং শেরপুর। এর আয়তন ১০৬৬৯ বর্গ কিমি এবং জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ। মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত।
সূত্রঃ মনময়সিংহ বিভাগ ওয়েবসাইট।
১১,৭৬৫.
Which division of Bangladesh has no border with India?
  1. Rajshahi
  2. Khulna
  3. Chittagong
  4. Barisal
সঠিক উত্তর:
Barisal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Barisal
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত:

- বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি।
- ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আছে।
- ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- অর্থাৎ ২টি বিভাগের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে। 

তথ্যসূত্র - বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
১১,৭৬৬.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম কী?
  1. ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্স
  2. ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার
  3. এগ্রিমেন্ট অব বাংলাদেশ 
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল: INSTRUMENT OF SURRENDER 1971
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম INSTRUMENT OF SURRENDER.
- এটি তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়। একটি প্রস্থ ভারত সরকার এবং দ্বিতীয় প্রস্থ পাকিস্তান সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। তৃতীয় প্রস্থটি রয়েছে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিবাহিনী-মিত্রবাহিনী যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমপর্ণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান। ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ -ই - আর্কাইভ।
ii)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১১,৭৬৭.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল নয় কোনটি?
  1. ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয়
  2. ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান হয়
  3. ব্রিটিশ সরকার ও পার্লামেন্টের হাতে ভারত শাসনের দায়িত্ব অর্পিত হয়
  4. মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল
সঠিক উত্তর:
ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান হয়
ব্যাখ্যা
- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল হিসেবে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের অবসান হয় নি।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সংগ্রামের ব্যর্থতার কারণ-
১. সুনির্দিষ্ট, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং একক নেতৃত্বের অভাব।
২. সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও রসদের অভাব।
৩. শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণি, অধিকাংশ দেশীয় রাজা, জমিদার, সৈন্যদের একটি অংশের অসহযোগিতা।
৪. অপর দিকে ইংরেজদের উন্নত সামরিক কৌশল, উন্নতমানের অস্ত্র, সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তাদের জয়ী করেছে।

প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্ব: 
১. এর ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয়ব্রিটিশ সরকার ও পার্লামেন্টের হাতে ভারত শাসনের দায়িত্ব অর্পিত হয়।
২. ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে স্বত্ববিলোপ নীতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য নিয়ম বাতিল করা হয়। তাছাড়া এই ঘোষণা পত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয়দের চাকরি প্রদান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৬৮.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল কত?
  1. ক) ৭০.৮ বছর
  2. খ) ৭১.১ বছর
  3. গ) ৭১.৮ বছর
  4. ঘ) ৭২.৩ বছর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭২.৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭২.৩ বছর
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩:

- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী প্রতি বর্গ কিমি জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১৫৩ জন।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল - ৭২.৩ বছর।
- দারিদ্র্যের হার ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- সাক্ষরতার (৭+) হার- ৭৬.৪%।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার- ১.৩০%।
- পুরুষ-মহিলা অনুপাত - ৯৮.১ : ১০০।
- স্থির মূল্যে GDP প্রবৃদ্ধির হার - ৬.০৩%।
- চলতি মূল্যে মাথাপিছু জাতীয় আয় - ২,৭০,৪১৪ টাকা (২,৭৬৫ মা.ড)।
- চলতি মূল্যে মাথাপিছু GDP - ২,৫৯,৯১৯ টাকা।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।
১১,৭৬৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল কত নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১ নং
  2. ৪ নং
  3. ৯ নং
  4. ২ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল-এর জন্ম হয়।
- মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।
- প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, কুমিল্লায়।

উল্লেখ্য,
- তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মোতায়েন করে।
- মোস্তফা কামালের গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রায় ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়ে।
- পাকিস্তানিরা মরিয়া হয়ে মোস্তফা কামালের অবস্থানের উপর মেশিনগান এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে থাকে।
- এক পর্যায়ে মোস্তফা কামালের এল.এম.জি-র গুলি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তিনি মারাত্বক জখম হন।
- তখন পাকিস্তানি সৈনিকরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
- দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সমাহিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১,৭৭০.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মোট গ্যালারির সংখ্যা কত?
  1. ক) ৬ টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ছয়টি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যের পরিচয় এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র। দ্বিতীয় গ্যালারিতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ-পরবর্তী পাকিস্তানি শাসন-শোষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় গ্যালিরিতে প্রদর্শিত হয়েছে একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন, ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যা, স্বাধীনতার ঘোষণা, প্রাথমিক প্রতিরোধ ও শরণার্থীদের জীবনচিত্র। দোতলার তিনটি গ্যালারিতে রয়েছে প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক, পাকিস্তান সেনা ও তাদের দোসরদের বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং বাঙালির বিজয় দৃশ্য। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৭১.
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (BMTF) গাজীপুরে অবস্থিত। 


গাজীপুরে অবস্থিত দর্শনীয় এবং গুরুত্বপুর্ণ স্থানসমূহঃ
জাগ্রত চৌরঙ্গী
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(ডুয়েট)
ছায়াবীথি
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা
বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিণ্টিং প্রেস (টাকশাল),
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী,
ভাওয়াল রাজবাড়ী,
কাশিমপুর জমিদারবাড়ী
বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ১

উৎস : gazipur.police.gov.bd
১১,৭৭২.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪ নং
  2. ৫ নং
  3. ৭ নং
  4. ১০ নং
সঠিক উত্তর:
১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'বীরশ্রেষ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার। 

⇒ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
⇒ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ: ১নং সেক্টর। কর্মস্থল: ই পি আর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস)।
⇒ সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২নং সেক্টর। কর্মস্থল: সেনাবাহিনী।
⇒ সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪নং সেক্টর। কর্মস্থল: সেনাবাহিনী।
⇒ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭নং সেক্টর। কর্মস্থল: সেনাবাহিনী।
⇒ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ: ৮নং সেক্টর। কর্মস্থল: ই পি আর।
⇒ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: পশ্চিম পাকিস্তান। কর্মস্থল: বিমান বাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১১,৭৭৩.
ভাষা আন্দোলনের ফলে কোনটি ঘটে?
  1. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ
  2. ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান
  3. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ
  4. পাকিস্তান রাষ্ট্রের পতন
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ: 
- ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন।
- এটি শুধু ভাষার মর্যাদার জন্যই গড়ে ওঠে নি।
- ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে
- অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্যায় হিসেবে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠাকে বাঙালিরা বেছে নেয়।
- এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাই ষাটের দশকে স্বৈরশাসন বিরোধী ও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে আন্দোলনে প্রেরণা জোগায়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৭৪.
আলাউদ্দিন খলজী সিংহাসনে আরোহণ করেন -
  1. ক) ১২৯২ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১২৯১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১২৯৫ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন খলজী সিংহাসনে বসেন।

• আলাউদ্দিন খলজী: 

- সিংহাসনে আরোহণের পর জালালউদ্দিন খলজী তাঁর প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা ‘আলি ঘুরশাস্প' কে ‘আমীর-ই-তুজুক' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন।
- এই আলিই হলেন শ্রেষ্ঠ খলজী শাসক আলাউদ্দিন খলজী।
- সুলতানি সাম্রাজ্যের একজন বিখ্যাত সুলতান হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
- আলাউদ্দিনের বাল্যকাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। সম্ভবত ১২৬৬-৬৭ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন জন্মগ্রহণ করেন।

- জালালউদ্দিনের ভ্রাতুষ্পুত্র আলাউদ্দিন খলজী হলেন শ্রেষ্ঠ খলজী শাসক।
- নানাবিধ ঘটনার মধ্যদিয়ে ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৭৫.
বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি কে?
  1. ড. বেনজীর আহমেদ
  2. চৌধুরী আবদুল্লাহ আল
  3. আবুল কাশেম
  4. মাহমুদ হাসান খান
সঠিক উত্তর:
ড. বেনজীর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. বেনজীর আহমেদ
ব্যাখ্যা
২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দায়িত্ব নেন ড. বেনজীর আহমেদ।
এছাড়া র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (RAB) - এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, সালতামামী
১১,৭৭৬.
নীল কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. আর টেম্পল
  2. রেভারেন্ড জে. সেল
  3. ডব্লিউ এফ. ফারগুসন
  4. ডব্লিউ এস. সিটনকার
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ এস. সিটনকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ এস. সিটনকার
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালের ৩১শে মার্চ নীল কমিশন গঠন করে। নীল কমিশনের সদস্যবৃন্দ হলেন:
ডব্লিউ এস. সিটনকার - চেয়ারম্যান
আর টেম্পল - সরকারি প্রতিনিধি
রেভারেন্ড জে. সেল - মিশনারী প্রতিনিধি
ডব্লিউ এফ. ফারগুসন - নীলকরদের প্রতিনিধি
চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী - জমিদারদের প্রতিনিধি।
নীল কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সরকার জোরপূর্বক নীলচাষ নিষিদ্ধ করে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১১,৭৭৭.
কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন হয় কবে?
  1. ক) ১৬০৫ সালে
  2. খ) ১৬৬০ সালে
  3. গ) ১৬৯০ সালে
  4. ঘ) ১৭১০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৬৯০ সালে জব চার্নব নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারি ভাগীরথী নদীর তীরের কোলকাতা, গোবিন্দপুর এবং সুতানটি নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভের মাধ্যমে কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,৭৭৮.
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী সর্বশেষ কোন ভাষায় অনূদিত হয়েছে? [জুলাই, ২০২৪]
  1. দিবেহী
  2. তামিল
  3. সিংহলী
  4. জংখা
সঠিক উত্তর:
জংখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জংখা
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- বইটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।

উল্লেখ্য,
- সর্বশেষ ভুটানের জংখা ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে।
- ভুটানের প্রিন্সেস ডেচেন ইয়াংজোম ওয়াংচুক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক এবং জাতির পিতার দৌহিত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ভুটানিজ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেছিল ইউপিএল।

উৎস: i) ৩১ মার্চ ২০২৪, প্রথম আলো।
         ii) অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
১১,৭৭৯.
ঐতিহাসিক ছয় দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) ম্যাগনাকার্টা
  3. গ) পেটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনাকার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
এ কর্মসূচিকে বাংলার জনগণ ম্যাগনাকার্টা হিসেবে গ্রহণ করে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু এ ছয় দফাকে পূর্ব পাকিস্তানের 'বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,৭৮০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় হেমায়েত বাহিনী কোন এলাকায় গড়ে ওঠে?
  1. সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
  2. বরিশাল ও মাগুরা
  3. ভালুকা ও ময়মনসিংহ
  4. বরিশাল ও গোপালগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
বরিশাল ও গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল ও গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় হেমায়েত বাহিনী বরিশাল ও গোপালগঞ্জ এলাকায় গড়ে ওঠে।

মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম:

- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী। 

⇒ নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল ১. নিয়মিত বাহিনী ও ২. অনিয়মিত বাহিনী।
১. নিয়মিত বাহিনী:
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম. এফ. (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।
২. অনিয়মিত বাহিনী:
- ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়। এই বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল 'গণবাহিনী' বা এফ. এফ. (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এছাড়া ছাত্রলীগের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় 'মুজিববাহিনী'। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল।

⇒ আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে ওঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা), লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৭৮১.
'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটির সুরকার কে ছিলেন?
  1. ক) আনোয়ার পারভেজ
  2. খ) আমজাদ হোসেন
  3. গ) আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
  4. ঘ) মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পারভেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনোয়ার পারভেজ
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে এই গানকে আরাধ্য করেই মুক্তির পথে এগিয়ে যায় সমগ্র বাঙালি।
- এই গান স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা সংগীত; জাতীয় স্লোগানও বটে।
- এই গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- আনোয়ার পারভেজ ২০০৬ সালের ১৭ জুন মারা গেছেন।
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
- এ গান একটি যুদ্ধ, এ গান একটি স্বপ্ন, এ গান একটি বাস্তবতা।
- এ গানেই দেশের সব চাওয়ার কথা, মুক্তির স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৬ ডিসেম্বর ২০২০।
১১,৭৮২.
বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা

বঙ্গ জনপদ:
- বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল। সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৮৩.
বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তোলনকে টেকসই করতে সরকার নিম্নের কোন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে?
  1. জাতীয় নিম্ন উত্তরণ কৌশল
  2. জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশল
  3. জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল
  4. জাতীয় রূপকল্প টেকসই কৌশল
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তিকে টেকসই করতে উত্তরণের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ‘জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল’ প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে টেকসই করতে একটি জাতীয় সরল উত্তরণ কৌশল (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি) প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি।’ 

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা।
১১,৭৮৪.
কোন মুঘল সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ূন
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৮৫.
বাংলা প্রেসিডেন্সির সর্বপ্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. ক) কর্নওয়ালিস
  2. খ) লর্ড মিন্টো
  3. গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. ঘ) উইলিয়াম বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৩২-১৮১৮) প্রথমে গভর্নর (১৭৭২-১৭৭৪) এবং পরে বাংলার গভর্নর জেনারেল (১৭৭৪-১৭৮৫) নিযুক্ত হন।
- তিনি প্রথম ভারতীয় সংবাদপত্র বেঙ্গল গেজেট প্রকাশ করেন।
- তার আমলে উইলিয়াম জোন্স ১৭৮৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট ১৭৮৪ পাস করেন।
- মহাদেশের সর্বপ্রথম রাজস্ব বোর্ড স্থাপন করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সপ্তম শ্রেণী
১১,৭৮৬.
মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলয়)। 
- পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়। 
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 

উৎস: ইতিহাস তৃতীয় পত্র, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৮৭.
প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. সৌদি আরব
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. ফিলস্তিন
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

→ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।

১১,৭৮৮.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার কোন সাল থেকে প্রদান করা হয়?
  1. ১৯৭৬ সাল
  2. ১৯৭৭ সাল
  3. ১৯৭৮ সাল
  4. ১৯৭৯ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সাল
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা পদক:
- স্বাধীনতা পদক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।
- মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে।
- এ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রগুলি হলো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে স্মরণীয় অবদান, ভাষা আন্দোলনে অবদান, শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, জনসেবা, সামাজিক বিজ্ঞান, সঙ্গীত, ক্রীড়া, চারুকলা ও পল্লী উন্নয়নে অবদান।
- প্রতিটি পুরস্কারের মান একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং নগদ অর্থ।
- স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

⇒ স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫:
- জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১,৭৮৯.
Who was the first director of Bangla Academy?
  1. ক) Muhammad Nurul Huda
  2. খ) Dr. Muhammad Shahidullah
  3. গ) Dr. Muhammad Enamul Haque
  4. ঘ) Selina Hossain
সঠিক উত্তর:
গ) Dr. Muhammad Enamul Haque
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Dr. Muhammad Enamul Haque
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি:

- ১৯৫৬ সালের ১লা ডিসেম্বর ড. মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন
- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর
- পূর্ববাংলার তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী জনাব আবু হোসেন সরকার ‘উদ্বোধনী ভাষণ’ পাঠ করেন।
- ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ‘দি বেংগলি একাডেমি অ্যাক্ট ১৯৫৭’ গৃহীত হয়। এই আইনে বাংলা একাডেমিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান করা হয়।
- ১০ই আগস্ট, ১৯৫৭ তারিখে উক্ত আইন বলবৎ হয়।
- বাংলা একাডেমি কাউন্সিল এ ৬জন নির্বাচিত সদস্যের বিধান রাখা হয়।
- কাউন্সিল এর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালের ২৬শে মার্চ
- ১৯৭২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর মযহারুল ইসলাম বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক নিযুক্ত হন
- ১৯৭৮ সালের ৬ই জুন ‘দি বাংলা একাডেমি অর্ডিন্যান্স,১৯৭৮’ জারি করা হয়

তথ্যসূত্র - সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১১,৭৯০.
বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল -
  1. দ্রাবিড়
  2. পর্তুগিজ
  3. সংস্কৃত
  4. অস্ট্রিক
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯১.
মুজিবনগর সরকারের চিফ অব স্টাফ ছিলেন কে?
  1. এম.এ.জি ওসমানী
  2. এস.এ সামাদ
  3. আবদুর রব
  4. এ.কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রব
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯২.
১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধু ভারতের কোন রাজ্যে ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন?
  1. ত্রিপুরা
  2. আসাম
  3. আগরতলা
  4. মিজোরাম
সঠিক উত্তর:
ত্রিপুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পটভূমি
- সামরিক বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সদস্য মিলে ২৫০ জন বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের ১২-১৫ জুলাই ভারতের সহযোগিতা লাভে বঙ্গবন্ধু এবং আলী রেজা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা জেলায় ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন।
- পরিকল্পনাকারীদের একজন, আমির হোসেন ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে এই পরিকল্পনা ফাঁস করেন।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি এই কারণে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- আইয়ূব খান সরকার "রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য" নামে এই মামলা দায়ের করেছিল।
- প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫জন।
- গনঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১১,৭৯৩.
স্যার ফজলে হাসান আবেদ তিনি কি ছিলেন?
  1. সমাজকর্মী
  2. চিকিৎসক
  3. বিজ্ঞানী
  4. খেলোয়াড়
সঠিক উত্তর:
সমাজকর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজকর্মী
ব্যাখ্যা
♦স্যার ফজলে হাসান আবেদ,
- তিনি (২৭ এপ্রিল ১৯৩৬ - ২০ ডিসেম্বর ২০১৯) ছিলেন একজন বাংলাদেশি সমাজকর্মী।
- বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯৬২ সালে তিনি লন্ডনে অ্যাকাউন্টেন্সি বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট হন।
- পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানির সিনিয়র কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নাটকীয়ভাবে তাঁর জীবনের দিক পরিবর্তন করে দেয়।
- সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ ও ‘হেলপ বাংলাদেশ’ নামে দুটো সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

উৎস: ব্র্যাক ওয়েবসাইট।
১১,৭৯৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচির কয়টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে। 
- ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচির ৩টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল -
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩. মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা।
৪. রাজস্ব, কর, শুল্ক ব্যবস্থা।
৫. বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্রতিরক্ষা।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৯৫.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর তারিখ –
  1. ক) ১ জুলাই, ১৯২১
  2. খ) ১ জানুয়ারি, ১৯২১
  3. গ) ১ জানুয়ারি, ১৯২২
  4. ঘ) ১ জুলাই, ১৯২০
সঠিক উত্তর:
ক) ১ জুলাই, ১৯২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ জুলাই, ১৯২১
ব্যাখ্যা
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
-পি জে  হার্টস ১৯২০ সালের ১লা ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- ১৯২১ সালের ১লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবের কার্যক্রম শুরু করে।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমন্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে। 

- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট ।
১১,৭৯৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) জর্জ ওয়াকার বুশ
  2. খ) হেনরি কিসিঞ্জার
  3. গ) উইলিয়াম পি. রজার্স
  4. ঘ) জোসেফ এস. ফারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম পি. রজার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম পি. রজার্স
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের,
- প্রেসিডেন্ট : রিচার্ড নিক্সন
- পররাষ্ট্রমন্ত্রী : উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স
- জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি : জর্জ এইচ. ডব্লিউ. ‍বুশ
- জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা : হেনরি কিসিঞ্জার
- পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত : জোসেফ এস. ফারল্যান্ড
- ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল : আর্চার কে. ব্লাড
- ভারতে নিযুক্ত রাষ্টদূত : কেনেথ বি. কিটিং।
(সূত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট)
১১,৭৯৭.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন কে?
  1. ক) মতিউর রহমান
  2. খ) রুহুল আমিন
  3. গ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মুন্সি আবদুর রউফ
সঠিক উত্তর:
ক) মতিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে ৭ জন শহীদ কে সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৩ জন (সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামাল এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর), ইপিআর থেকে ২ জন (ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ) এবং বিমানবাহিনী (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান) ও নৌবাহিনী (ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন) থেকে একজন করে। এদের মধ্যে সবার আগে মারা যান ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (৮ এপ্রিল) এবং সবার শেষে মারা যান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (১৪ ডিসেম্বর)। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
১১,৭৯৮.
ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় কত তারিখে?
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. খ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ঘ) ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ৬ ডিসেম্বর ভূটান ও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন তিনবার ভেটো দেয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- মিত্র বাহিনীও মার্কিন নৌবহরের চট্টগ্রাম অবতরণের সকল ব্যবস্থাই অচল করে দেয়।
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- ভারতীয় বাহিনীর সংগে ঢাকায় আগত কাদের সিদ্দিকীও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ৯ মাস ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে এবং সূচিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ‘আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয়’।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৯৯.
ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলায় কোন ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়?
  1. ক) দ্বিজাতি তত্ত্ব
  2. খ) অসাম্প্রদায়িক মনোভাব
  3. গ) স্বজাত্যবোধ
  4. ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংহত হয় এবং অগ্রগতি লাভ করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই জনগণের মধ্যে পরবর্তীকালে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং যুগান্তর
১১,৮০০.
'তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  2. ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  3. ৫ মে, ১৯৭১ সালে
  4. ১৫ মে, ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।