বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১২ / ১২৪ · ১১,১০১১১,২০০ / ১২,৪২১

১১,১০১.
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের কবর কোথায়?
  1. ক) দিল্লি
  2. খ) আগ্রা
  3. গ) ইয়াঙ্গুন
  4. ঘ) লাহোর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
ব্যাখ্যা
শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে মিয়ানমারের রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়। সেখানেই ১৮৬২ সালে তার ‍মৃত্যুর পর তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিবিসি
১১,১০২.
বাংলাদেশের জাতীয় ওষুধনীতি প্রনয়ণ হয়েছিল কখন?
  1. ক) ১৯৮২ সালে
  2. খ) ১৯৯০ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০২১ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
• ২০১১ সালের ৩১ মে তারিখে যে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিটি জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়।
- ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতি প্রনয়ণ হয়েছিল
- ওষুধনীতির মতো ১৯৯০ সালের প্রস্তাবিত প্রথম জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির প্রাণপুরুষও ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রথম আলো।
১১,১০৩.
বর্তমান শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. ক) হাসিনা বেগম
  2. খ) আমেনা খাতুন
  3. গ) হোসনে আরা
  4. ঘ) লতিফুন্নেচ্ছা
সঠিক উত্তর:
ক) হাসিনা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাসিনা বেগম
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:

- বর্তমান শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম।
- শহীদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। 
- বর্তমান শহীদ মিনারের নকশা ও পরিকল্পনা করেন শিল্পী হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বর্তমান শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পূর্ববঙ্গ সরকারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার, মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং ভাষাশহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।
- বর্তমান শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয় ১৯৫৭ সালের নভেম্বর মাসে।
- ১৯৯৭ সালে প্রথম যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গের ওল্ডহ্যামে এবং ১৯৯৯ সালে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,১০৪.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় -
  1. ২৩ অক্টোবর, ২০০০
  2. ২৩ নভেম্বর, ২০০০
  3. ২৩ অক্টোবর, ২০০১
  4. ২৩ নভেম্বর, ২০০১
সঠিক উত্তর:
২৩ অক্টোবর, ২০০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ অক্টোবর, ২০০১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহ:
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
• জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল,
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,
• জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ,
• মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর,
• স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স,
• মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স,
• মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১১,১০৫.
ভারতবর্ষে সুলতান মাহমুদ কত বার আক্রমন করেন?
  1. ১৩ বার
  2. ১৭ বার
  3. ১১ বার
  4. ১৫ বার
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা
• সুলতান মাহমুদ: 
- সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক গজনভির মাহমুদ বা সুলতান মাহমুদ (৯৭১-১০৩০)।
- তাঁর পুরো নাম ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন। মাহমুদ-ই জাবুলি নামেও তিনি পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সবুক্তগিনের (আবু মনসুর সবুক্তগিন) জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- পিতার মৃত্যুর পর ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (১০৩০) তিনি পূর্ব ইরানীয় ভূমি এবং ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ (বর্তমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) জয় করেন।
- সামরিক মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হন।

সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ।
১১,১০৬.
মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ৭নং সেক্টর
  2. খ) ৬নং সেক্টর
  3. গ) ৮নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।   

- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে নৌ সেক্টর ছিলো ১০নং সেক্টর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টর এবং মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- সেক্টর প্রধানরা সেক্টর কমান্ডার নামে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
১১,১০৭.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে ‘বীরবিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ১৭৩ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১০৮.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ক) তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
এখানে, অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে বলতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে।

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকার:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
(তার অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিলো - প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী)
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১১,১০৯.
কোন পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করে?
  1. ক) সৈনিক
  2. খ) আজাদ
  3. গ) মর্নিং নিউজ
  4. ঘ) ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
গ) মর্নিং নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মর্নিং নিউজ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিলো অসামান্য। সৈনিক, ইত্তেফাক, আজাদ, সংবাদ, অগত্যা, পাকিস্তান অবজারভার প্রভৃতি পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে মর্নিং নিউজ পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক ইনকিলাব)
১১,১১০.
মাৎস্যন্যায় কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. ৫ম-৬ষ্ঠ শতককে
  2. ৬ষ্ঠ-৭ম শতককে
  3. ৭ম-৮ম শতককে
  4. ৮ম-৯ম শতককে
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতককে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতককে
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মান্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১১১.
বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. বায়েজীদ খান কররানি
  2. তাজ খান কররানি
  3. দাউদ খান কররানি
  4. হোসেন খান কররানি
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা

কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- কররানীদের আদি নিবাস ছিল আফগানিস্তানের বঙ্গাশ নামক স্থানে। বর্তমানে এটি কুররম নামে অভিহিত।
- পাঠানদের কররানী শাখা আফগানিস্তানে করলানি নামে পরিচিত।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- সুলায়মান কররানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়েজীদ কররানী তাঁর উত্তরাধিকারী হন।
- তিনি তাঁর পিতার নীতি পরিহার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- বায়েজীদ কররানী মাত্র অল্প কয়েকমাস বাংলা শাসন করেন।
- ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে বায়েজীদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা দাউদ কররানীকে বাংলার সিংহাসনে অভিষিক্ত করেন।
- দাউদ তাঁর ভাইয়ের স্বাধীন নীতি অনুসরণ করে নিজের নামে খুৎবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলন করেন।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দাউদ কররানী বন্দি হন এবং তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
- দাউদ কররানীর মৃত্যুদন্ডের ফলে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম শাসনের অবসান ও মুঘল শাসনের সূচনা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১১২.
কার উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. গ) কাজী মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১১,১১৩.
আইয়ূব খানের জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বুঝায়?
  1. সর্বদলীয় অংশগ্রহন 
  2. সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা 
  3. সামরিক শাসনের কাঠামো
  4. যুক্তরাষ্টীয় শাসন ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা 
ব্যাখ্যা

মৌলিক গণতন্ত্র:
- মৌলিক গণতন্ত্র একধরনের পরোক্ষ ও সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
- এই ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে সার্বজনীন ভোটাধিকারকে অগ্রাহ্য করা হয়।
- আইয়ূব খান প্রবর্তিত ব্যবস্থায় জনগণ স্থানীয় প্রতিনিধিদের নির্বাচন করতো।
- পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ও আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাতে কেবলমাত্র কিছু লোকের অধিকারে সরকার নির্বাচনের অধিকার ছিলো।

উল্লেখ্য,
- আইয়ূব খান ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি 'মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ' জারি করেন।
- এই অধ্যাদেশ বলে তিনি যে স্থানীয় সরকারের পরিকল্পনা করেন তার নামকরণ করা হয় 'Basic Democracy' বা 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে ৪ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
- প্রথম স্তরে ছিল গ্রামে 'ইউনিয়ন কাউন্সিল, পৌর এলাকায় 'ইউনিয়ন কমিটি', এবং ছোট শহরে 'টাউন কমিটি।'
- দ্বিতীয় স্তরে ছিল থানায় থানা কাউন্সিল, পৌর এলাকায় 'মিউনিসিপ্যাল কমিটি', সামরিক এলাকায় 'ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড'।
- তৃতীয় স্তরে ছিল 'জেলা কাউন্সিল' এবং চতুর্থ স্তরে ছিল 'বিভাগীয় কাউন্সিল'। 

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১১৪.
পদ্মা বহুমুখী সেতুর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ৬ কিমি
  2. খ) ৬.১৫ কিমি
  3. গ) ৭.১৫ কিমি
  4. ঘ) ৮.১৫ কিমি
সঠিক উত্তর:
খ) ৬.১৫ কিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬.১৫ কিমি
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। 
- পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

উৎস: The Daily Star Bangla, জুন ২৫, ২০২২।
১১,১১৫.
বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'Let There Be light' কে পরিচালনা করেন?
  1. জহির রায়হান
  2. মৃণাল সেন
  3. খান আতাউর রহমান
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনও আসেনি’ মুক্তি পায়।
- তাঁর লিখিত বইগুলো হচ্ছে—‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’ ও ‘আর কত দিন’।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে ‘কাঁচের দেয়াল’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে নিগার পুরস্কার, ১৯৭২ সালে গল্প সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি প্রদত্ত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭১, মরণোত্তর), ১৯৭৭ সালে শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (মরণোত্তর)সহ আরো অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

⇒ তাঁর অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- Let There Be Light,
- Stop Genocide,
- কখনো আসেনি,
- কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা প্রভৃতি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
iii) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল।
১১,১১৬.
‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) রাজা রামমোহন রায় 
  3. গ) সৈয়দ আমির আলি
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
নওয়াব আবদুল লতিফ
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতা মাদ্রাসা থেকে ইংরেজি শিক্ষা লাভ করে প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল এবং পরে কোলকাতা মাদ্রাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন। 
- ১৮৪৯ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন এবং ১৮৭৭ সালে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত করা হয়। 
- তিনি কর্মজীবনে সরকার কর্তৃক প্রথমে খান বাহাদুর ও পরে নওয়াব উপাধি লাভ করেন এবং ১৮৮৪ সালে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। 

- তাঁর সারাজীবনের কর্মের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি। 
যথা- 
১। মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি ইংরেজ সরকারের বিদ্বেষ ভাব দূর করা, 
২। মুসলমান সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং 
৩। হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী প্রতিষ্ঠা করা। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,১১৭.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার কে রচনা করেন?
  1. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল হক খান
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
- হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,১১৮.
অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন কে?
  1. টিক্কা খান
  2. এ কে নিয়াজী
  3. আলী জিন্নাহ
  4. মোনায়েম খান
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

[উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি]
১১,১১৯.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  3. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ করে: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান: কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী।
- সচিবালয়/সদর দপ্তর ছিলো: ৮ নং থিয়েটার রোড, কলকাতার।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
১১,১২০.
বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম কার নিকট পরাজিত হন?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) কর্নেল স্টুয়ার্ট
  3. গ) আর্থার ওয়েলেসলি
  4. ঘ) মেজন মনরো
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেজন মনরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেজন মনরো
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- বক্সারের যুদ্ধে ঈংরেজদের নেতৃত্ব দেন মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
- এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। অন্যদিকে, ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,১২১.
প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. ক) বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তি
  2. খ) অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান
  3. গ) জিয়ার ক্ষমতাকে বৈধতা প্রদান
  4. ঘ) এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্তকরন
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তি
ব্যাখ্যা
• ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে।
• বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়

প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
• ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

দ্বিতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
• ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন,অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।

তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
• ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১১,১২২.
মাৎস্যন্যায় বিরাজমান ছিলো কোন শতকে?
  1. ক) ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে
  2. খ) ৬ষ্ঠ-৭ম শতকে
  3. গ) ৭ম-৮ম শতকে
  4. ঘ) ৮ম-৯ম শতকে
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম-৮ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম-৮ম শতকে
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলা অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,১২৩.
বাংলাদেশে প্রথম রেল লাইন স্থাপন করা হয় -
  1. দর্শনা-কুষ্টিয়া
  2. ঢাকা-রাজশাহী
  3. দর্শনা-গোয়ালন্দ
  4. ঢাকা-যশোর
সঠিক উত্তর:
দর্শনা-কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দর্শনা-কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম রেল লাইন:
- দেশের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের রেলওয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এ দেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা- কুষ্টিয়ার জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে।
- রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬২ সালে।
- প্রথম দিকে শুধু অর্থনৈতিক কাজের জন্য রেলপথ চালু করা হয়।
- ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম এ অঞ্চলে রেলপথ স্থাপন করে।
- ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রাণাঘাট পর্যন্ত রেলপথ উদ্বোধন করে।
- প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের ১৫ নভেম্বর রানাঘাট থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ চালু করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো।
- ১৯৭৩ সালে বোর্ডের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে একে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ গঠন করা হয়।

উৎস: i) রেলপথ মন্ত্রণালয়। 
         ii) বাংলাপিডিয়া। 
১১,১২৪.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  3. কর্নেল এম এ রব
  4. কর্নেল আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।

-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।

- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

১১,১২৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. সঞ্জীবনী
  2. ধুমকেতু
  3. সমাচার দর্শন
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এই গান প্রচার করেন।

⇒ মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।
- স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে (অনুচ্ছেদ ৪.১) ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গীতবিতানের স্বদেশ পর্বে অন্তর্ভুক্ত। এর চরণসংখ্যা ২৫।
- গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।
- প্রথম চার চরণের যন্ত্রসংগীত বাজানো হয় বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে।
- দেশে ১৯৭৮ সালে জাতীয় সংগীত বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৫ সালের সঞ্জীবনী পত্রিকায় ও বঙ্গদর্শন পত্রিকায় গানটি প্রকাশিত হয়।
- গানটি গীতবিতান গ্রন্থের স্বদেশ অংশের অর্ন্তভুক্ত।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
১১,১২৬.
জাতীয় সংসদের ৩০০-তম আসন কোনটি?
  1. পঞ্চগড়
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদের মোট আসন - ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন - ৩০০টি।
- অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
- ১নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- ৩০০নং আসন - বান্দরবান।

উল্লেখ্য, 
- ১ টি করে আসন রয়েছে তিনটি জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি)।

উৎস: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।

১১,১২৭.
বাংলাদেশের জাতীয় শিশু দিবস কবে?
  1. ক) ১ এপ্রিল
  2. খ) ৫ আগস্ট
  3. গ) ১৭ মার্চ
  4. ঘ) ২৬ মার্চ
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ মার্চ
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিশু দিবস:

- ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস।
- ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করে।
- সেই থেকে ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। 
১১,১২৮.
'আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাঙ্গালিনি সুফিয়া
  2. খ) হাসন রাজা
  3. গ) লালন শাহ্‌
  4. ঘ) শাহ্‌ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাহ্‌ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শাহ্‌ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
'আমি কুল হারা কলঙ্কিনী' গানটির রচয়িতা শাহ্‌ আবদুল করিম।

 তাঁর আরও কয়েকটি বিখ্যাত গান- 
- আগে কী সুন্দর দীন কাটাইতাম। 
- কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া,
- গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে।
- বন্ধে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে, 
- গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা। 
- আসি বলে গেল বন্ধু আইল না।
- বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে। ইত্যাদি। 

লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ্‌ আবদুল করিম ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। 
- ১৯৫৪ সালে শাহ আবদুল করিম প্রণীত গণসঙ্গীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। 
তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গানের সংকলন হলো
- আফতাব সঙ্গীত (১৯৪৮),
- কালনীর ঢেউ (১৯৮১),
- ভাটির চিঠি (১৯৯৮),
- ধলমেলা (১৯৯০),
- কালনীর কূলে (২০০১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৯.
ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম কোনটি?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ: 
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়। এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো। গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে। এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৩০.
তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত প্রথম পুস্তিকার নাম কী ছিল?
  1. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
  2. বাংলা চাই
  3. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  4. বাংলা ভাষার অধিকার
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৩১.
সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) নবীন মাধব
  2. খ) মেঘলা সর্দার
  3. গ) মজনু শাহ
  4. ঘ) ভবানী পাঠক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবানী পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন। আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
এই আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক। অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,১৩২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য কতজনকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ।
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন
দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন
তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন
এবং, চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১১,১৩৩.
ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রার প্রচলন কে করেন?
  1. জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. কুতুবউদ্দিন আইবেক
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক:
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন।
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তের বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল।
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকালে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন।
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন।

⇒ মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রা প্রবর্তন করেন।
- তিনি সোনা ও রুপার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করেন।
- কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য 'দিওয়ান-ই-কোহী' স্বতন্ত্র কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধিন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনারগায়ে প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৩৪.
বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সেলিনা হায়াৎ
  3. গ) রাজিয়া বেগম
  4. ঘ) ড. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমির প্রথম নারী ও বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন কথা সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন
• গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে বাংলা একাডেমীর নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
• বাংলা একাডেমীর আগের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক নুরুল হক গত ৩০ নভেম্বর ২০২১ মারা যান।
• বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালক ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক অধ্যাপক মযহারুল ইসলাম।
• বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ।
• বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র:- বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।

১১,১৩৫.
বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন কোনটি?
  1. দূরদর্শন
  2. বাংলাদেশ টেলিভিশন
  3. এনটিভি
  4. জিটিভি
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ টেলিভিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ টেলিভিশন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন 'বাংলাদেশ টেলিভিশন'।
- ১৯৬৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়।
- ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন কর্পোরেশন নামে একটি বেসরকারী সংস্থা হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে (পি.ও নং-১১৫) বাংলাদেশ টেলিভিশন নামে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে পরিণত হয়।
- ১৯৭৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভি স্থানান্তরিত হয় রামপুরার নিজস্ব টিভি ভবনে।
- ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে রামপুরা টিভি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রথম রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়।
- বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয় ১১ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে।
- ২০১৩ সাল থেকে আইপিটিভি, মোবাইল টিভি ও ওয়েবটিভি এর মাধ্যমেও বিটিভির অনুষ্ঠানমালা দেশে ও বিদেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

১১,১৩৬.
বাংলাদেশ টেলিভিশনের রিলে কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন।
- এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়।
- ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।
- ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়।
- ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।
- বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা ২টি। যথা:
• ঢাকা।
• চট্টগ্রাম।
- উপকেন্দ্র বা রিলে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি। এগুলো হলো:
নাটোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, উখিয়া এবং রাঙ্গামাটি।

তথ্যসূত্র - বিটিভি ওয়েবসাইট।
১১,১৩৭.
প্রাচীন 'পুণ্ড্রবর্ধন' কোথায় অবস্থিত?
  1. ময়নামতি
  2. সোনারগাঁ
  3. মহাস্থানগড়
  4. পাহাড়পুর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১১,১৩৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৭ টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে।
১১ এপ্রিল তা পুনর্গঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
১১,১৩৯.
কার উদ্যোগে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদিত হয়?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. এ.কে.ফজলুল হক
  4. জওহরলাল নেহেরু
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি (১৯২৩ সাল):
- বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তিটি চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্যোগে সম্পাদিত হয়েছিল।
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস।
- ফলে বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য তিনি যে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, ইতিহাসে তা বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে খ্যাত। 
- ১৯২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তাঁর এই প্রচেষ্টা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেছিল। 
- সি.আর. দাস ফর্মুলা নামে খ্যাত বাংলা চুক্তি সম্পাদনা করতে যেসব মুসলমান নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন আব্দুল করিম, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। 
- এ ছাড়া, স্যার আব্দুর রহিম, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সমঝোতা চুক্তি সম্পাদনে সহযোগিতা ও এতে স্বাক্ষর প্রদান করেন। 
- অপরদিকে বাংলার কংগ্রেস নেতা সুভাষচন্দ্র বসু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। 
- তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,১৪০.
আলীগড় আন্দোলন কে গড়ে ‍তুলেন?
  1. ক) তিতুমীর
  2. খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. গ) সৈয়দ আহমদ খান
  4. ঘ) সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন।

• সৈয়দ আহমদ খান:

- আলীগড় আন্দোলনের মূলে ছিলো মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায রেখে মুসলমানদের উন্নয়ন সাধন। 
- এই লক্ষে সৈয়দ আহমদ খানের প্রচেষ্টায় আলীগড় বিশ্বদ্যিালয় প্রতিষ্টিত হয়।
- ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ আহমদ খান ‘মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স’ নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। 
 - সৈয়দ আহমদ খান কুরআনের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দেন।

- তিনি বেনারসে ‘ভারতীয় মুসলমানদের শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি’, নামে একটি সংস্থাও গঠন করেন।
- এ সমিতির সুপারিশে মুসলমানদেরকে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। দু’বছর পরে এটি কলেজে উন্নীত হয়।

- ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে উক্ত ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় মুসলমানদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
-  সৈয়দ আহমদ খানের আহবানে আলীগড়ে ‘মোহামেডান ডিফেন্স এসোসিয়েশন’ গঠিত হয়।
- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে স্যার সৈয়দ আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। 

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৪১.
কোন স্থানে বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম তাম্রলিপি আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আগ্রা
  3. গ) ওড়িশা
  4. ঘ) বিহার
সঠিক উত্তর:
গ) ওড়িশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওড়িশা
ব্যাখ্যা
বাংলা তাম্রলিপি:

- প্রাচীনকালে তামার পাতের ওপর দলিল,চুক্তি ও প্রয়োজনীয় বিষয় লেখা হতো।তামার পাতের ওপর লেখা এসব দলিলই ইতিহাসে তাম্রলিপি বা তাম্রশাসন নামে পরিচিত।
- তামার পাতে লিপিবদ্ধ করার পর তাতে রাজকীয় সিল দেওয়া হতো।
- ১৯৩১ সালে ওড়িশার বালাশোর জেলায় আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষায় লিখিত প্রথম তাম্রলিপি।
- ৪৯ লাইনে লিখিত এই তাম্রলিপি থেকে ‘কম্বোজ বংশ-তিলক’-এর পরিচিতিমূলক বর্ণনা পাওয়া যায়।
- এই তাম্রলিপিটি দশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে লিপিবদ্ধ করা হয়। ইর্দা তাম্রলিপি বা তাম্রপত্র নামে এটি পরিচিত।
- ওড়িশার বালাশোরে আরো একটি লিপির সন্ধান পাওয়া যায়। কলন্দ গ্রামে পাওয়ায় এর নাম ‘কলন্দ তাম্রলিপি’ দেওয়া হয়।
- তৃতীয় তাম্রলিপি হিসেবে ‘ভাতুরিয়া তাম্রলিপি’ নামে কম্বোজদের আরো একটি তাম্রপত্র পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৭ মার্চ ২০১৯।
১১,১৪২.
মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত কে ছিলেন?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৪৩.
১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি করেন-
  1. আইয়ুব খান
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. ফজলুল হক
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন
→ ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করেন।
→ তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
→ তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন।
→ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন।
→ মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
→ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
→ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
→ মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
→ এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১,১৪৪.
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি:
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় যা অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাস্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমদ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,১৪৫.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনাকারী কে ছিলেন?
  1. ক) আব্দুল মান্নান
  2. খ) বেলাল আহমেদ
  3. গ) এম আর আখতার মুকুল
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) আব্দুল মান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’
এই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান

স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি, উপস্থাপক/পাঠক/কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয় এবং জনগণের নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়করণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)

১১,১৪৬.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন কে?
  1. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  4. ফিরোজ শাহ
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা

তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৪৭.
বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. সুবাদার ইসলাম খান
  3. শেরশাহ
  4. মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
সুবাদার ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবাদার ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
• মুঘল শাসন: 
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান ।
- সুবাদার ইসলাম খান রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন।
- এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১,১৪৮.
মুক্তিযুদ্ধে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন -
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- রাজনৈতিকভাবে এই যুদ্ধকে সার্বজনীন করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সর্বসম্মতিক্রমে একটি "সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ" গঠন করেন।

উল্লেখ্য,
- সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
ক) জনাব আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (সভাপতি: ন্যাপ ভাসানী),
খ) শ্রী মনি সিং (সভাপতি: বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি),
গ) অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ (সভাপতি: ন্যাপ মোজাফ্ফর),
ঘ) শ্রী মনোরঞ্জন ধর (সভাপতি: বাংলাদেশ জাতীয় কংগ্রেস),
ঙ) জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ (প্রধানমন্ত্রী: পদাধিকারবলে),
চ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ (পররাষ্ট্রমন্ত্রী: পদাধিকারবলে)।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১,১৪৯.
প্রাচীন বাংলার একমাত্র স্বাধীন জনপদ কোনটি?
  1. সমতট
  2. গৌড়
  3. বরেন্দ্র
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৫০.
কোন রাজার শাসনামলে হিউয়েন সাং ভারতবর্ষে আসেন?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  2. হর্ষবর্ধন
  3. শশাঙ্ক
  4. গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা
হিউয়েন-সাং (চীন):
- ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালে বাংলায় আসেন।
- হিউয়েন-সাং সপ্তম শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং পুন্ডবর্ধনের রাজধানী পুন্ডনগরে আগমন করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘জিউ জি (সি-উ চি)’ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য কোথায় শুরু হয়?
  1. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. ইসলামাবাদ
  3. লাহোর
  4. করাচি
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫২.
১৯৫৮ সালের কত তারিখে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয়?
  1. ১১ সেপ্টেম্বর
  2. ১৪ সেপ্টেম্বর
  3. ৭ অক্টোবর
  4. ২৭ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

⇒ ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
১১,১৫৩.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ক) ১২ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৩ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয়।
- ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসররা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
- সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত সংখ্যা অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন।
- শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখতে ১৯৭২ সালে ঢাকার মিরপুরে মোস্তফা আলী কুদ্দুসের নকশায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,১৫৪.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সর্বপ্রথম কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. আর্জেন্টিনা
  4.  চীন
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘ -
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যখন বাঙালির বিজয় আসন্ন , তখন তিন বার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়।
- পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদের আট দেশ এবং ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো (আমি মানি না) দেয়ার কারণে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

এছাড়াও, 
- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নির্দেশে ৭টি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতায় মার্কিন রণতরি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে। 

উৎস - বিবিসি নিউজ বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
১১,১৫৫.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় কবে?
  1. ২০০৭ সালের ১ জুন
  2. ২০০৭ সালের ১ আগস্ট
  3. ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
  4. ২০০৭ সালের ১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালের ১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রীকরণ: 
- প্রাচীনকালে রাজা বা রাজকর্মচারীরাই আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচারকার্য সম্পাদন করতেন।
- আগে শাসনকার্য ও বিচারকার্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হত না। এ ব্যবস্থা স্বৈরাচারের সুযোগ করে দেয়।
- হ্যারল্ড লাস্কির মতানুসারে শাসকের হাতে বিচারের ভার ন্যস্ত থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না।
- এ রকম ক্ষেত্রে শাসন বিভাগ সহজেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র , এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৫৬.
'তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর' গানটির সুরকার কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. আনোয়ার পারভেজ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. সমর দাস
সঠিক উত্তর:
আপেল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ জয় বাংলা, বাংলার জয়:
- গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- সুরকার: আনোয়ার পারভেজ।
- শিল্পী: শাহনাজ রহমত উল্লাহ।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
১১,১৫৭.
বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. দক্ষ জনশক্তির অভাব
  2. প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব
  3. পর্যাপ্ত নীতিমালার অভাব
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।
- ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গ্রুন্টার পাউলি।
- ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

⇒ বিশ্বব্যাংক আধুনিক ব্লু ইকোনোমির সংজ্ঞায় বলেছে - ব্লু ইকোনোমি হলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষা করে সমুদ্রের ব্যবহারযোগ্য সকল ধরণের সম্পদ সঠিকমাত্রায় ব্যবহার করা। এখানে, ইকোনোমি শুধু ব্যবসায়িক দিক বুঝায় না, বরং সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাও বুঝায়।
- ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নিকট থেকে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্লু ইকোনমির বড় অংশীদার হয়। বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু হয় বাংলাদেশের।
- বাংলাদেশের 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা - ২১০০' বাস্তবায়নে ব্লু ইকোনমির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব
- দক্ষ জনশক্তির অভাব
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,১৫৮.
বাংলার প্রাচীন ইতিহাসে 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' সংগঠিত হয় কোন শাসনামলে?
  1. ক) গুপ্ত
  2. খ) পাল
  3. গ) মৌর্য
  4. ঘ) সেন
সঠিক উত্তর:
খ) পাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাল
ব্যাখ্যা
কৈবর্ত বিদ্রোহ বা বরেন্দ্র বিদ্রোহ: 
» পাল শাসকরা দীর্ঘ ৪০০ বছর বাংলা শাসন করেন।
» এঁদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন ধর্মপাল ও দেবপাল।
» রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনকালে মাছ মাংস ভক্ষণের কারণে কৈবর্ত সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
» পাল বংশের উত্তরাধিকার নিয়েও দেখা দেয় ভ্রাতৃ কলহ।
» ফলে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।
» এই অরাজকতা থেকে রক্ষা পেতে ১০৮০ খ্রিস্টাব্দে পাল কর্মচারী দিব্যের নেতৃত্বে কৈবর্ত জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ পাল রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
»  ইতিহাসে এটি কৈবর্ত বা বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
» এই বিদ্রোহে মহীপালকে পরাজিত ও নিহত করে বরেন্দ্র দখল করে নেয় দিব্য বাহিনী।
» দিব্যের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন তাঁর ছোট ভাই রুদোক ও তার পরে রুদোক পুত্র ভীম।
» মহীপালের ভাই রামপাল সামন্তদের সাহায্যে কৈবর্ত শাসক ভীমকে এক ভয়াবহ যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করেন।
»  ১০৮২ খ্রিস্টাব্দে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়।  

সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
১১,১৫৯.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন-
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড বেন্টিক
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
• ওয়ারেন হেস্টিংস:
- বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস।
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেলও ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- ওয়ারেন হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন।
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।
- ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালের ১৩ আগস্ট বাংলায় প্রথম রাজস্ব বোর্ড গঠন করেন।
- তিনি প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ (১৭৭২-১৭৭৭) প্রবর্তন করেন।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো খাজনা আদায় বৃদ্ধি এবং যথাসময়ে রাজস্ব সংগ্রহ।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬০.
ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে দেয়া স্বীকৃতি নিচের কোনটি?
  1. স্পিচ অব দ্য ওয়ার্ল্ড
  2. ফ্রিডম অব স্পিচ
  3. ফ্রিডম অব দ্য ন্যাশন
  4. মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড
সঠিক উত্তর:
মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকনির্দেশনা।
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা পূর্ব সকল ভাষণগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভাষণ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে প্রদত্ত ভাষণ।
- এই ভাষণের মাধমে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল তাদের বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা।
- এ কারণেই ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- ৩০ অক্টোবর, ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৬১.
বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে কোনটিকে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) মধুপুরের বনভূমি
  3. গ) বঙ্গোপসাগর
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহ
সঠিক উত্তর:
ক) সুন্দরবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ফুসফুস:
- বিশ্ব মানচিত্রে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অবস্থান।
- আজকের যে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমায় বঙ্গোপসাগর এবং তার কূল বরাবর সমতট ভূমিতে গাছগাছালি দিয়ে ঘেরা সবুজের আস্তরণ।
- দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন।
- সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রীষ্ম-অঞ্চলীয় (ম্যানগ্রোভ) বনভূমি।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৬২.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
⇒ এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬৩.
কোন মুঘল সম্রাটের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে?
  1. দ্বিতীয় শাহ আলম
  2. ফারুখসিয়ার
  3. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।
- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- এমনি মুমূর্ষ অবস্থায় ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা দখল করার ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৬৪.
'অন্ধকূপ হত্যা' নামক কল্প কাহিনীর জনক কে?
  1. হলওয়েল
  2. ড্রেক
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. ওয়াটসন
সঠিক উত্তর:
হলওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলওয়েল
ব্যাখ্যা
'অন্ধকূপ-হত্যা' কাহিনী:
- কথিত আছে নবাবের আদেশে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮×১৪ চওড়া বিশিষ্ট ছোট কক্ষে রাখা হয়েছিল।
- জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে এদের মধ্যে ১২৩ জন শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যায়।
- বাকী ২৩ জন কোনো রকমে বেঁচে যায়।
- হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত এ কাহিনী 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত।
- 'অন্ধকূপ-হত্যা' কাহিনীর পেছনে কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না।
- শুধু নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদেরকে উত্তেজিত করার জন্য এটি একটি কল্পিত-কাহিনী মাত্র।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১১,১৬৫.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কত তারিখে কার্যকর হয়েছিল?
  1. ২৩ এপ্রিল, ১৯৫৬
  2. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  4. ২৩ জানুয়ারি, ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
৫৬ সালের শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।

এছাড়াও,
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- আলোচনার পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়। 
- কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি।
- এ শাসনতন্ত্র দিনে দিনে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যেই এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৬৬.
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত কোনটি?
  1. ভাওয়াইয়া
  2. ভাটিয়ালি
  3. গম্ভীরা
  4. ধামাইল
সঠিক উত্তর:
ভাটিয়ালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাটিয়ালি
ব্যাখ্যা

ভাটিয়ালি:
- ভাটিয়ালি গান মূলত ভাটি অঞ্চলের (নদীবহুল নিম্নাঞ্চল) বিশেষ করে ময়মনসিংহ, সিলেট-ময়মনসিংহের হাওর-নদী অঞ্চল, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রচলিত।
- এটি মাঝি-মাল্লাদের নৌকায় ভাটার সময় গাওয়া গান, যা বিরহ, প্রকৃতি ও জীবনের অনুভূতি প্রকাশ করে।

• লোকসঙ্গীত:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত।
- রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,১৬৭.
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন কবে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৮০ সালে 
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে যৌতুক প্রথা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন অনুযায়ী যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড একসঙ্গে দেওয়া যেতে পারে।
- যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কনে বা বরের পিতামাতা কিংবা অভিভাবকের নিকট যৌতুক দাবি করে, তাহলেও একই শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হয়। যৌতুক আদান-প্রদানে সহায়তাকারী ব্যক্তিও একই শাস্তি ভোগ করবে।

- পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে এই আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইনে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের শাস্তি আরও কঠোর করা হয়। এ অনুযায়ী অপরাধী সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

- এছাড়া ১৯৮৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী, যৌতুকের কারণে কোনো নারীর মৃত্যু ঘটালে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করলে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া এবং যৌতুক গ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

- যৌতুক প্রথা বাংলাদেশের পরিবার ও সমাজ জীবনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
- এ কুপ্রথা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম পরিবারকে সচেতন করতে হবে এবং যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- কন্যাসন্তানসহ সবাইকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। নারীরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-৭ম শ্রেণি।

১১,১৬৮.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারণ ছিল -
  1. হামিদুর রহমান কমিশন
  2. মনায়েম খান কমিশন
  3. শরিফ শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
শরিফ শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরিফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।

• শরিফ শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ,১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ। এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট, ১৯৫৯।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কারণ এর কয়েকটি সুপারিশকে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চশিক্ষা সংকোচনের জন্য উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেমন ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করা, কলেজ পর্যায়ে বছর শেষে পরীক্ষা ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হওয়ার শর্ত, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত।
- এগুলোকে ছাত্ররা সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে। 
- তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ নিয়ে। ক্ষমতায় এসেই আইয়ুব খান (অক্টোবর ১৯৫৮) সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, এ সময় সব ধরনের রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ।
- ফলে রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

১১,১৬৯.
মাত্র তেরো বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন- 
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. ইলিয়াস শাহ্‌
  3. সম্রাট আকবর
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

• সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন তৃতীয় মুঘল সম্রাট।
- তাঁর পূর্ণ নাম অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- তাঁর পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেন।
- আকবরের শাসনামলে মোগল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হয়।
- তিনি সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- তাঁর দরবারে জ্ঞানী, গুণী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে তাঁর শাসনামলের বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
- সম্রাট আকবরের শাসনকালে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে তিনি বাংলা সন বা ফসলি সন প্রবর্তন করেন, যা পরে বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর দীন-ই-ইলাহি ধর্ম প্রবর্তন করেন এবং জিজিয়া কর বাতিল করেন। 

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১,১৭০.
পূর্ববঙ্গের নাম পূর্ব পাকিস্থান করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৬
  3. ১৯৬২
  4. ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা নতুন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে পাকিস্তান গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এটি ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান।
- ১৯৫৬ সালে এ সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র' করা হয়।
- এই সংবিধান চালু ছিল মাত্র দু বছর।
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।
- সংবিধান স্থগিত করার সাথে সাথে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৭১.
মুক্তিযুদ্ধোত্তর পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘মেঘের অনেক রং’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. খান আতাউর রহমান
  3. জহির রায়হান
  4. হারুনর রশীদ
সঠিক উত্তর:
হারুনর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারুনর রশীদ
ব্যাখ্যা
♣ হারুনর রশীদ: 
• তিনি 'মেঘের অনেক রং' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। 
• এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র। 
• যুদ্ধের সময় রুমা নামের একজন চিকিৎসকের স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। 
• এরপর সন্তানসহ কীভাবে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, এর মর্মস্পর্শী চিত্র রয়েছে।
• এতে অভিনয় করেছেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।

- তাঁর পরিচালিত আরেকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'আমরা তোমাদের ভুলবো না'।  

♣ চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র:    
• হাঙর নদী গ্রেনেড;
• ওরা ১১ জন;
• ধ্রুবতারা;
• সংগ্রাম;
• মেঘের পরে মেঘ।

♣ খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র:    
• আবার তোরা মানুষ হ;
• এখনো অনেক রাত।

♣ জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র:   
• Stop Genocide;
• A State Is Born.  

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো (১৮ ডিসেম্বর, ২০২১)।
১১,১৭২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯৩১ সালে
  4. ১৯৪১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নাথান কমিশন গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হলে বঙ্গভঙ্গ রদের রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টজ।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭৩.
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসামের গভর্নর নিযুক্ত হন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. ফ্রেডরিক বারোজ
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. সাইরিল র‍্যাডক্লিফ
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
ব্যামফিল্ড ফুলার:
- স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
- তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
• ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত
• ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
• পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
• 'পশ্চিমবঙ্গ' প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন এনড্রু ফ্রেজার।
• কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
• লর্ড হার্ডিঞ্জের সময়কালীন ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭৪.
ভাষা আন্দোলনে ব্যাপক অবদান রাখে যে পত্রিকা-
  1. দৈনিক সংবাদ
  2. সৈনিক
  3. শিখা
  4. ধুমকেতু
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলনে ব্যাপক অবদান রাখে 'সৈনিক' পত্রিকা।

• ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকা। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ' -এর উদ্যোক্তা গণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিসেরও মুখপত্র।
- সাপ্তাহিক সৈনিক -এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। 
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। 
- পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও  কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

১১,১৭৫.
'লাহোরের বাদশাহী মসজিদ' কোন মুঘল সম্রাটের স্থাপত্য শিল্পের বিশেষ নিদর্শন?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৭৬.
’বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি কত তারিখে পালন করা হয়?
  1. ৯ জুলাই ২০২৪ সালে
  2. ৬ জুলাই ২০২৪ সালে
  3. ৮ জুলাই ২০২৪ সালে
  4. ৭ জুলাই ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
৭ জুলাই ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুলাই ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

১১,১৭৭.
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের শর্টকোড কোনটি?
  1. ১৬১৫২
  2. ১৬১০৬
  3. ৯৯৯
  4. ৩৩৩
সঠিক উত্তর:
১৬১৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১৫২
ব্যাখ্যা
- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের শর্টকোড : ১৬১৫২
- জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন : ৯৯৯
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হটলাইন : ১০৯
- দুদক হটলাইন : ১০৬
- সরকারি তথ্য ও সেবা হটলাইন : ৩৩৩।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,১৭৮.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে কখন?
  1. ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ফরাসি:
- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশে আগত সর্বশেষ ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক কোম্পানিটি সর্বপ্রথম সুরাটে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরীতে গড়ে তোলে ফরাসি উপনিবেশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৭৯.
গ্রীসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার কে ছিলেন?
  1. ক) সফোক্লিস
  2. খ) শেক্‌সপিয়র
  3. গ) ইউরিপিদিস
  4. ঘ) এসকাইলাস
সঠিক উত্তর:
ক) সফোক্লিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সফোক্লিস
ব্যাখ্যা
সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিস:
- হােমারের ‘ইলিয়াড ও ওডিসি' মহাকাব্য এ যুগের অপূর্ব নির্দশন।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে চুড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়।
- বিয়ােগান্ত নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিল।
- এসকাইলাসকে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়। তার রচিত নাটকের নাম প্রমিথিউস বাউন্ড'।
- গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সােফোক্লিস। তিনি একশটিরও বেশি নাটক রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রাজা ইডিপাস, আন্তিগােনে ও ইলেকট্রী অন্যতম।
- আর একজন বিখ্যাত নাট্যকারের নাম ইউরিপিদিস। এরিস্টোফেনেসের মিলনান্তক ও ব্যঙ্গ রচনায় বিশেষ খ্যাতি ছিল।
- ইতিহাস রচনায়ও গ্রিকরা কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।
- হেরোডোটাস ইতিহাসের জনক নামে পরিচিত ছিলেন। হেরোডোটাস রচিত ইতিহাস-সংক্রান্ত প্রথম বইটি ছিল গ্রিস ও পারস্যের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে।
- থুকিডাইডেস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক। তাঁর বইটির শিরােনাম ছিল 'দ্য পেলােপনেসিয়ান ওয়র' ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,১৮০.
কোন মোগল সম্রাট বাংলার নাম দেন 'জান্নাতাবাদ'?
  1. ক) বাবর
  2. খ) হুমায়ুন
  3. গ) আকবর
  4. ঘ) জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
 হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬)  মুগল সম্রাট  বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
-  সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন ‘জান্নাতাবাদ’ এবং হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

উৎস: বাংলা পিডিয়া।
১১,১৮১.
অলিম্পিকে কত সাল থেকে মহিলাদের জন্য সাঁতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
  1. ক) ১৮৩৭ সালে
  2. খ) ১৮৯৬ সালে
  3. গ) ১৯০৮ সালে
  4. ঘ) ১৯১২ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯১২ সালে
ব্যাখ্যা
সাঁতার
- সাঁতারের সাহায্যে দেহের সকল অঙ্গের ব্যায়াম হয় বলে একে পূর্ণাঙ্গ ব্যায়াম বলা হয়।
- স্বাস্থ্য, জীবন রক্ষা, ক্রীড়া ও আনন্দ লাভের জন্য সকলেরই সাঁতার শেখা উচিত।
- বর্তমানে যে ধরনের সাঁতার আমরা দেখতে পাই সে সাঁতার প্রথমে ইংরেজরা শুরু করে।
- ১৮৩৭ সালে লন্ডনে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়।
- অলিম্পিকে ১৮৯৬ সাল থেকে পুরুষদের ও ১৯১২ সাল থেকে মহিলাদের সাঁতার অন্তর্ভুক্ত হয়
- ১৯০৮ সালে সাঁতারের আন্তর্জাতিক সংস্থা FINA (Federation Internationale de Nation Amateur) গঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন (BSF) প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৮২.
ছয় দফার কোন দফাটিতে রাজস্ব ও শুল্কনীতির উল্লেখ রয়েছে?
  1. তৃতীয় দফা
  2. চতুর্থ দফা
  3. পঞ্চম দফা
  4. ষষ্ঠ দফা
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৮৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ১ নং সেক্টর
  2. খ) ২ নং সেক্টর
  3. গ) ৩ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে উত্তর দিকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী, ‍বৃহত্তর কুমিল্লা, ফরিদপুর জেলার অংশ বিশেষ এবং ঢাকা শহর নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশারফ এবং মেজর এটিএম হায়দার।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১১,১৮৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্তির সংখ্যা কত?
  1. ৬৭৬ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৪২৬ জন
  4. ১৭৫জন
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়। যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) প্রথম আলো।
১১,১৮৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের -
  1. ক) ২ মার্চ
  2. খ) ৩ মার্চ
  3. গ) ৫ মার্চ
  4. ঘ) ৮ মার্চ
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
•পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
১১,১৮৬.
মেজর খালেদ মোশাররফ মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ৪ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এদের মধ্যে ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং পরবর্তীতে মেজর এটিএম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)।
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার্স ছিলো ভারতের মেলাঘর। সাব-সেক্টরের সংখ্যা ছিলো ছয়টি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১১,১৮৭.
সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' নামের উল্লেখ পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. আইন-ই-আকবরী
  2. বাঙালির ইতিহাস
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. রঘুবংশ
সঠিক উত্তর:
ঐতরেয় আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাই বঙ্গদের অঞ্চল।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৮৮.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য তারামন বিবিকে কোন খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. বীর বিক্রম
  2. বীর প্রতীক
  3. বীর উত্তম
  4. বীর মাতা
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, দৈনিক প্রথম আলো।
১১,১৮৯.
বাংলার ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন রাজা কে ছিলেন?
  1. গোপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. হর্ষবর্ধন
  4. রাজ্যবর্ধন
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম স্বাধীন রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক "স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।"
- শশাঙ্ক প্রথম জীবনে স্বাধীন রাজা ছিলেন না, গুপ্ত বংশীয় মহাসেন নামক এক রাজার সামন্ত ছিলেন।
- ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন।
- এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৯০.
নিচের কোনটি হরিকেল জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. পিরোজপুর
  2. বরিশাল
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অপরদিকে,
- সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট।
- কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

- বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,১৯১.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল -
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  3. গ) আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) যুক্তফ্রন্ট গঠন
সঠিক উত্তর:
গ) আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে।
এছাড়া, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয় ১৯৬৮ সালে, যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং ভাষা আন্দোলন হয় ১৯৫২ সালে।
১১,১৯২.
জমিদারি প্রথা রদে প্রধান ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. একে ফজলুল হক
  2. মাওলানা আব্দুর রশিদ
  3. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
একে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• জমিদারি প্রথা (১৯৫০) রদে প্রধান ভূমিকা পালন করেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে বরিশাল জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-৪৩) ছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সপ্তম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৩.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের সময় প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. ইস্কান্দার মীর্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
সংবিধান কাঠামো: 
- ১৯৪৭ সালে সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি গণপরিষদকে।
- এই গণপরিষদ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা হিসেবে কাজ করত।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত হয়।
-এ সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইস্কান্দার মীর্জা। 
- এটি ১৯৩৫ সালের আইনের রূপ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করার ক্ষমতা প্রদান করে।

উৎস: Britannica.
১১,১৯৪.
ছয় দফার কয়টি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস।
- ছয় দফার ৩টি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল।

দফাসমূহ:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৫.
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৮ মার্চ
  2. ১৮ মার্চ
  3. ২৮ মার্চ
  4. ১৮ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মার্চ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট এবং প্রাদেশিক নির্বাচন (১৯৫৪ সাল): 
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- মূলত এ নির্বাচন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও তার দোসরদের শোষণের বিরুদ্ধে এক 'ব্যালট বিপ্লব'।
- পাকিস্তান সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিভিন্ন উপদল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি প্রভৃতির কারণে নতুন নতুন রাজনৈতিক দল গঠন আবশ্যক হয়ে পড়ে।
- বিশেষ করে এ সময় পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক- শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলাম, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়।
- আগে থেকেই ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম লীগ সরকার পরাজয়ের আশঙ্কায় নানা টালবাহানা করে নির্বাচনের তারিখ বারবার পিছিয়ে দেয়।
- অবশেষে সরকার পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য করে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১১,১৯৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৪ নং সেক্টর
  4. ৬ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৭.
এসডিজির কোন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সবচেয়ে ভালো?
  1. ক) ক্ষুধামুক্তি
  2. খ) দারিদ্র্য নিরসন
  3. গ) সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ
  4. ঘ) জেন্ডার সমতা
সঠিক উত্তর:
খ) দারিদ্র্য নিরসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দারিদ্র্য নিরসন
ব্যাখ্যা
- পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ প্রকাশিত ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট : বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন-২০২০’ অনুসারে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে একমাত্র ‘দারিদ্র্য নিরসনে’ বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে।
- পাঁচটি অভীষ্ট অর্জনে অবস্থা পরিমিত মাত্রায় দুর্বল তবে অগ্রসরমান।
- ছয়টি অভীষ্ট অর্জনে অবস্থান দুর্বল ও স্থবির।
- একটি অভীষ্টের (১৫-স্থল জীবন) বাস্তবায়ন খুবই খারাপ ও অবনতিশীল।
- চারটি অভীষ্টের কোন উপাত্ত পাওয়া যায়নি।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর রিপোর্ট)
১১,১৯৮.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড কার্জন
  4. রবার্ট ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১৯৯.
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয় কোথায়?
  1. ক) নরসিংদী
  2. খ) মুন্সিগঞ্জ
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) গোপালগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বড়পোল এলাকায় ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।
গত ২৯ জুলাই ২০২০ এটি উদ্বোধন করা হয়। এটির নকশাকার ভাস্কর মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম।
ভাস্কর্যটির উচ্চতা বেদী থেকে ২২ ফুট।
(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১১,২০০.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনের অবসান হয়-
  1. ক) ১৮৫৭ সালে
  2. খ) ১৮৫৮ সালে
  3. গ) ১৮৫৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম খ্যাত সিপাহি বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতে ১৮৫৮ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটেছিলো।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় নিয়োগ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।