বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০৯ / ১২৪ · ১০,৮০১১০,৯০০ / ১২,৪২১

১০,৮০১.
প্রাচীন কোন জনপদের অবস্থান বাংলাদেশের বাইরে ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. হরিকেল
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা
প্রাচীন রাঢ় জনপদের অবস্থান বাংলাদেশের বাইরে ছিল।

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় জনপদ বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি বড় অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

অন্যদিকে,
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলাে পুণ্ড্র। বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- চট্টগ্রাম ও সিলেট প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদের অংশ ছিল।
- বরেন্দ্র জনপদ: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮০২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ এর পরিচালক কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2.  সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. আলমগীর কবির
  4. চাষী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

ওরা ১১ জন:
- 'ওরা ১১ জন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র।
- প্রযোজক: মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- পরিচালক: চাষী নজরুল ইসলাম (এটি তার পরিচালনায় প্রথম সিনেমা)।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে। এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো।

১০,৮০৩.
১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান দায়িত্ব পালন করে কারা?
  1. শান্তি কমিটি
  2. আল বদর বাহিনী
  3. মুক্তিবাহিনী
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
আল বদর বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল বদর বাহিনী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন ও বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সমর্থক রাজনীতিবিদদের ও ধর্মভিত্তিক দলের সমন্বয়ে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠে।
- পাকিস্তানি বাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।

উল্লেখ্য,
- পকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী সংগঠন হিসেবে রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করা হয়।
- রাজাকারদের প্রশিক্ষণ দিতো পাকিস্তানি বাহিনী এবং প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল এক সপ্তাহ।
- আলবদর বাহিনী বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব পালন করে

⇒ যৌথ বাহিনীর ঢাকার উপকণ্ঠে আগমণ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর গভর্ণর মালিকের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে।
- এ সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস এর সহযোগিতায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়।
- যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- তবে ১০-১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
- বাংলাদেশের ইতিহাস এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
- হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮০৪.
'ভারতীয় স্বাধীনতা আইন' প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
  2. খ) ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৪৮ সালের ১৪ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই
ব্যাখ্যা
ভারতীয় স্বাধীনতা আইন:

- ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে 'ভারতীয় স্বাধীনতা আইন' পাস হয়।
- এই আইন বলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- পাকিস্তান ছিল এক অস্বাভাবিক রাষ্ট্র।
- বিশাল ভারতবর্ষের পূর্ব ও পশ্চিম দুই প্রান্তে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার ব্যবধানে দুই ভিন্ন ভূখন্ড নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়।
- স্বাধীনতা লাভের সময় পাকিস্তানকে ৫টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮০৫.
Which of the following is the seventh division of Bangladesh?
  1. ক) Sylhet
  2. খ) Barisal
  3. গ) Rangpur
  4. ঘ) Mymensingh
  5. ঙ) Dhaka
সঠিক উত্তর:
গ) Rangpur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Rangpur
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বর্তমান বিভাগ:

- বাংলাদেশের ৭ নাম্বার বিভাগ হচ্ছে রংপুর।
- বাংলাদেশের বর্তমান বিভাগ ৮ টি।
- যথাঃ = চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ।
- এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহ এবং সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় ঢাকা বিভাগ এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ।
- সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে (১৩ টি) এবং সবচেয়ে কম চারটি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

তথ্যসূত্র - স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।
১০,৮০৬.
'জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে কোন মন্ত্রণালয়?
  1. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  2. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ‘জনসংখ্যা নীতি ২০২৫’ প্রকাশ করেছে - স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
- নীতির রূপকল্প হচ্ছে, ‘জনসংখ্যার পরিকল্পিত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও জনমিতির লভ্যাংশ অর্জন করা এবং একটি সুস্থ, সুখী ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।
- জনসংখ্যা দিবসের অনুষ্ঠানে ২২ পৃষ্ঠার এই জনসংখ্যা নীতি প্রকাশ করা হয়।
- বাংলাদেশ জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ এর মূল লক্ষ্য - ৬টি।যথা-
- স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জন।
- পরিবার পরিকল্পনার অপূর্ণ চাহিদা, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু, বাল্যবিবাহসহ সব ধরনের ক্ষতিকর আচরণ কমানো।
- চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের সুবিধা অর্জনে পরিকল্পনা গ্রহণ।
- অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ।
- জেন্ডার সমতা ও জেন্ডার লভ্যাংশ অর্জন।
- ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ। ১. স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। ও ২.স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভাগ তিনটি যথা- ১. পরিকল্পনা বিভাগ। ২.পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ৩. বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ। 

উৎস: স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ও প্রথম আলো অনলাইন নিউজ।

১০,৮০৭.
নিচের কোনটি যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক দল নয়?
  1. ক) গণতন্ত্রী দল
  2. খ) নেজামে-ই-ইসলাম
  3. গ) খিলাফত-ই রাব্বানী
  4. ঘ) কৃষক-শ্রমিক পার্টি
সঠিক উত্তর:
গ) খিলাফত-ই রাব্বানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খিলাফত-ই রাব্বানী
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট গঠন  - ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস - সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
• যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি। এগুলো হলো - 
১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক-শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হক) 
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী) 
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)
• যুক্তফ্রন্টের সভাপতি - হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য - এ.কে. ফজলুল হক, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক - নৌকা।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৮০৮.
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দাদাভাই নওরোজী
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন রাজা রামমোহন রায়।

সতীদাহ প্রথা
:
- বহুকাল আগে থেকেই হিন্দু সমাজে অনেক কুপ্রথা প্রচলিত হয়েছিল।
- এর অন্যতম হচ্ছে সতী।
- সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পোড়ানো হতো।
- ১৭৯৯ সালে উইলিয়াম কেরি এই প্রথা বন্ধের প্রয়াস নেন।
- গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির কাছে তিনি সতীদাহ বন্ধের আবেদন জানান।
- এরপর রাজা রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহবিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- লর্ড বেন্টিঙ্কের কাছে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন।
- এই সূত্রে ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অনুমোদনে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮০৯.
হলওয়েল বর্ণিত অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে নিম্নের কে জড়িত?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. নবাব আলীবর্দী খান 
  3. শের শাহ 
  4. ইসলাম খান চিশতী 
সঠিক উত্তর:
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা জড়িত।


⇒ ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা হলো অন্ধকূপ হত্যা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮১০.
ইউনেস্কো কবে ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ ঘোষণা করে?
  1. ক) ৩০ জুন ২০১৬
  2. খ) ৩০ অক্টোবর ২০১৭
  3. গ) ৩০ নভেম্বর ২০১৮
  4. ঘ) ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০ অক্টোবর ২০১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০ অক্টোবর ২০১৭
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণকে ৩০ অক্টোবর ২০১৭ ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য এতিহ্য’ ঘোষণা করে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্ত করে।
(সূত্র: ডযেচভেলে)
১০,৮১১.
শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলা ও গুলির ঘটনা কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

শরিফ ওসমান হাদি:
- শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের একজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মী ও লেখক।
- ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- পরবর্তীতে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আধিপত্যবাদ ও পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
- ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।
- গুলি মাথায় লেগে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন (বয়স ৩২)।
- তাঁর মৃত্যু দেশব্যাপী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- তিনি বাংলাদেশের যুব আন্দোলন ও স্বাধীন চিন্তার একটি প্রতীক হয়ে থাকবেন।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা পত্রিকার রিপোর্ট।

১০,৮১২.
জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি ?
  1. বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান
  2. সরকারি হাসপাতাল বৃদ্ধি
  3. প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা
  4. আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করা
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

• জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে:
- সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা;
- সমতার ভিত্তিতে সেবা গ্রহীতা কেন্দ্রিক মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবার সহজপ্রাপ্যতা বৃদ্ধি ও বিস্তার করা;
- রোগ প্রতিরোধ ও সীমিতকরণের জন্য সেবা গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।
- জনগণের নিজ পকেট হতে স্বাস্থ্য সেবার ব্যয় কমিয়ে আনা এবং বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয় হতে জনগণকে সুরক্ষা দেয়া।
- সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সংবিধান অনুযায়ী ও আন্তর্জাতিক সনদসমূহ অনুসারে চিকিৎসাকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও এ নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র: জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ২০১১, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

১০,৮১৩.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে নদী বন্দরসমূহ কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১০ নং
  2. ১১ নং
  3. ৭ নং
  4. ৮ নং
সঠিক উত্তর:
১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং
ব্যাখ্যা
সেক্টর সমূহ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিল যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।

১০ নং সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে নদী বন্দরসমূহ ১০ নং সেক্টর  এর অধীনে ছিল।
- এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন।
- এই সেক্টরে কোনো সাবসেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার।
- প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।

এছাড়াও, অন্যান্য সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম, 
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ,
- ৪নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ,
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ,
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৮১৪.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে কোন শাসকের পতন ঘটে?
  1. আইয়ুব খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. মোনায়েম খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- এ আন্দোলনের ফলে আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮১৫.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে রাজশাহী জেলা কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ৫ নং
  2. ৭ নং
  3. ৬ নং
  4. ৮ নং
  5. ৪ নং
সঠিক উত্তর:
৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- সমগ্র রণাঙ্গনকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসেই সমগ্র রণাঙ্গনকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করেন।

• সেক্টরগুলো ছিল:
→ ৭ নং সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ।
- ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে গঠিত হয় ৭ নং সেক্টর।
- এই সেক্টরে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালিত হয় ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে।
- মেজর নাজমুল হক সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ।
- এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
- বালুরঘাটের নিকটবর্তী তরঙ্গপুরে হেডকোয়ার্টার ছিল।

এছাড়াও,
• সেক্টর নং ৫:
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ।
- মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার।
- এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

• সেক্টর নং ৬:
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার।
- এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রথম আলে।
১০,৮১৬.
’দিনাজপুর’ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্গত ছিলো?
  1. সমতট
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু। প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল পুণ্ড্র, যা সম্ভবত পুণ্ড্র নামক এক জনগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল।
- এই জনপদটি বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।
- এর রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর, যা পরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
- মহাস্থানগড়কে পুণ্ড্রনগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করা হয়।

- পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার অন্যতম সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
- এখানে পাথরের চাকতিতে খোদাই করা একটি ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে, যার নাম মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি।
- ধারণা করা হয়, এটি বাংলাদেশে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১০,৮১৭.
'ময়ূর সিংহাসন'-এর নির্মাতা কে?
  1. নাদির শাহ
  2. সন্রাট হুমায়ুন
  3. ঈশা খান
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
ময়ূর সিংহাসন:
- ১৭শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান সোনার তৈরি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- সিংহাসনটিতে রূপার সিড়ি দিয়ে আরোহণ করা হতো। সিংহাসনের পেছনে দুটি ময়ূরের ছবি ছিল, যারা তাদের অনিন্দ্যসুন্দর পেখম ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আর এই পেখমগুলো খচিত ছিল নানা রকম দুষ্প্রাপ্য আর অতিমূল্যবান রত্নপাথর দিয়ে। এর মাঝে ছিল নীলকান্ত মণি, পান্না, চুনি কিংবা পদ্মরাগ মণি, মুক্তা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর। সিংহাসনের ৪টি পায়া নিরেট স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত ছিল এবং ১২টি মরকত মণির স্তম্ভের উপর চন্দ্রাতপ ছাদ আচ্ছাদন করা হয়েছিল। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মোহাম্মদ শাহের শাসনামলে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহ ভারতবর্ষ অভিযানকালে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় সিংহাসনটি।
- এর সৌন্দর্য দেখে পাগল হয়ে নাদির শাহ সিংহাসনটি সঙ্গে নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে অর্থাৎ বর্তমান ইরানে।
- ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপরই আসল ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
১০,৮১৮.
তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তিকার নাম কী ছিল?
  1. বাংলার রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  2. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
  3. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  4. পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা  চাই
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- ১৯৪৭ সালে সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। 
- তমদ্দুন মজলিস সভা-সমিতি ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে। 
- ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। 
- যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১০,৮১৯.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন -
  1. আব্দুল মান্নান
  2. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. হোসেন তৌফিক ইমাম
সঠিক উত্তর:
হোসেন তৌফিক ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন তৌফিক ইমাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার 
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন - হোসেন তৌফিক ইমাম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -- আব্দুল মান্নান।
- সেই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রীসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন -- মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল। 

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
১০,৮২০.
'তেভাগা আন্দোলন' মূলত কাদের আন্দোলন?
  1. ক) শ্রমিক
  2. খ) বর্গাচাষি
  3. গ) জেলে
  4. ঘ) বাস্তুহারা
সঠিক উত্তর:
খ) বর্গাচাষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্গাচাষি
ব্যাখ্যা
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- তেভাগা শব্দের আভিধানিক অর্থ ফসলের তিন অংশ। প্রচলিত অর্থে ভাগচাষি তাদের ভাগচাষের অধিকারস্বরূপ উৎপাদনের সমান অংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অধিকারী।
-  ভূমি নিয়ন্ত্রণের শর্তাদি অনুযায়ী শস্য ভাগাভাগির বিভিন্ন পদ্ধতি বর্গা, আধি, ভাগি ইত্যাদি নামে পরিচিত। 
- ১৯৪৬-৪৭ সালে ভূমিমালিক এবং ভাগচাষিদের মধ্যে উৎপাদিত শস্য সমান দুই ভাগ করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে বর্গাদাররা প্রবল এই আন্দোলন গড়ে তোলে।
-  এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। 
-  আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। 
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
১০,৮২১.
ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে-
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০০
  3. ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
  4. ১৭ নভেম্বর ১৯৯৭
সঠিক উত্তর:
১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষাসহ সকল সংগ্রাম ও আন্দোলনের উৎস ও প্রেরণা।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়।
- ১৫ মার্চ ২০০১ ঢাকার সেগুনবাগিচায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি এ আনান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। 
- ২০১০ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাকে পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়: ১৯৫৬ সালে।
- ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে  পালিত হচ্ছে: ২০০০ সাল থেকে।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অবস্থিত: ঢাকার সেগুন বাগিচায়।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয় বাংলা একাডেমি।

উৎস: ¡) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। 
          ¡¡) ইউনেস্কো ওয়েবসাইট।
১০,৮২২.
'আলোকিত মানুষ চাই' - এটি কোন প্রতিষ্ঠানের শ্লোগান?
  1. ক) জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র
  2. খ) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
  3. গ) সুশাসনের জন্য নাগরিক
  4. ঘ) পাবলিক লাইব্রেরী
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
- ‘আলোকিত মানুষ চাই’ হলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শ্লোগান।
- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার বাংলা মটরে।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র একটি এনজিও যা শিক্ষার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।

(তথ্যসূত্র:- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
১০,৮২৩.
১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. আবু নায়েম চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু আহমেদ খন্দকার
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
- এই সরকারের বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
 ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র: - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮২৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় কখন?
  1. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ২২ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ: 
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে।
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮২৫.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনের বর্তমান রূপটির রূপকার-
  1. ক) কামরুল হাসান
  2. খ) শিব নারায়ণ দাস
  3. গ) রফিকুন্নবী
  4. ঘ) এ এন সাহা
সঠিক উত্তর:
ক) কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনের বর্তমান রূপটির রূপকার শিল্পী কামরুল হাসান
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি রয়েছে তা গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। 
- ‘জাতীয় পতাকা’ গাঢ় সবুজ রঙের হবে এবং ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকিবে।
- মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইন হিসেবে বিবেচ্য করা হয় শিব নারায়ণ দাসকে। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৮২৬.
বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র 'মুখ ও মুখোশ' মুক্তি পায় কত সালে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

‘মুখ ও মুখোশ’:
- বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।
- দিনটি ছিল ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট। চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে।
- এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩১ মে, ২০২৩।

১০,৮২৭.
Bhutan recognized Bangladesh on -
  1. ক) 5 December, 1971
  2. খ) 6 December, 1971
  3. গ) 7 December, 1971
  4. ঘ) 8 December, 1971
সঠিক উত্তর:
খ) 6 December, 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 6 December, 1971
ব্যাখ্যা
- পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, ভুটানই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি বেতারবার্তার মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
- ভারত না ভুটান- কে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল, এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
- কারও মতে, ভারত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- এর এক দিন পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান।
- সব ধরনের বিভ্রান্তি পাশ কাটিয়ে শহীদুল হক বলেন, ভুটান ও ভারত দুই দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- তবে ভারতের কয়েক ঘণ্টা আগে ভুটান স্বীকৃতি দিয়ে বেতারবার্তা পাঠায়।

উৎস: প্রথম আলো।
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৪।
১০,৮২৮.
বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক কে ছিলেন?
  1. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  2. মজনু শাহ
  3. তিতুমীর
  4. চেরাগ আলি
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮২৯.
১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে নিযুক্ত হন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৩০.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়-
  1. ১০এপ্রিল ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  3. ১১ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১০এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া
১০,৮৩১.
১৯৭১ সালে কোন গ্রামের নামকরণ ‘মুজিবনগর’ করা হয়?
  1. ক) মানিকনগর
  2. খ) বৈদ্যনাথতলা
  3. গ) বুড়িপোতা
  4. ঘ) আমঝুপি
সঠিক উত্তর:
খ) বৈদ্যনাথতলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৈদ্যনাথতলা
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

১০,৮৩২.
How many points were formulated during the 1969 People's Uprising?
  1. 6 points
  2. 9 points
  3. 4 points
  4. 11 points
সঠিক উত্তর:
11 points
উত্তর
সঠিক উত্তর:
11 points
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৩৩.
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে কতটি আসনে নির্বাচন হয়?
  1. ২৫০টি
  2. ৩০০টি
  3. ৩০১টি
  4. ৩০৯টি
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি) জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৩৪.
‘সাবাশ বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যটির শিল্পী কে?
  1. ক) হামিদুজ্জামান
  2. খ) মৃনাল সেন
  3. গ) শামীম শিকদার
  4. ঘ) নিতুন কুণ্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিতুন কুণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিতুন কুণ্ড
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য "সাবাশ বাংলাদেশ" রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি - নিতুন কুণ্ড
- ১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এটি উদ্বোধন করেন।
- কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাবাশ বাংলাদেশ কবিতার নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট।
১০,৮৩৫.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় কবে?
  1. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৭ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৯ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়: ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পত্রিকা রিপোর্ট।
১০,৮৩৬.
বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন কে?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. মোঃ নূরুল আমীন
  3. ফিরোজ খান নুন
  4. বর্ণিত কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন সময় পূর্ব বাংলার গভর্ণর ছিলেন ফিরোজ খান নুন।
- ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে খাজা নাজিমুদ্দিনের একটি উক্তি থেকে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।
- ২৭ জানুয়ারি নাজিমুদ্দিন ঘোষণা দেন, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'।
- পূর্ববাংলা আইন পরিষদের অধিবেশনে ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ভাষা প্রশ্নে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
- এই অধিবেশনের সরকারি কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
- পরিস্থিতির লক্ষ করে সরকারি দল রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- কিন্তু এই বিলের ওপর এক সংশোধনী প্রস্তাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য কেন্দ্রের নিকট সুপারিশ করা হয়।
- এরপর বিধান সভা ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবী করা হয়।
- কিন্তু গভর্নর ফিরোজ খান নুনের এক ঘোষণায় ২৪ ফেব্রুয়ারি অধিবেশনের অবসান ঘটে।
- দৈনিক আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন এসব ঘটনার প্রতিবাদে আইনসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- অনুরূপভাবে 'নওবেলাল' সম্পাদক মাহমুদ আলী মুসলিম লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি ঢাকার ছাত্র-জনতা এসব ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়।

অন্যদিকে,
- পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন। তিনি ১৯৪৮ সালে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৫২ সালে নাজিমউদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৩৭.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধিনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:

- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র -  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০,৮৩৮.
কোন বাংলার প্রাচীন জনপদ নাম সমতট নামে পরিচিত?
  1. উত্তর-পূর্ব
  2. দক্ষিণ-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. উত্তর-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব
ব্যাখ্যা
• সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৩৯.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদে বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত মন্ত্রিসভা কী নামে পরিচিত?
  1. ক) ছায়া মন্ত্রিসভা
  2. খ) বিরোধী মন্ত্রীসভা
  3. গ) টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীসভা
  4. ঘ) কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
ক) ছায়া মন্ত্রিসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছায়া মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা

- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদে বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত মন্ত্রিসভা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নামে পরিচিত।
- সরকারি দল ও মন্ত্রিসভাকে চাপে রাখার জন্যে বিরোধী দল কর্তৃক ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। -সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদের সমন্বয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করা হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বিকল্প সরকার হলো বিরোধীদল।
- গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া হল বিরোধী দলের কাজ ।

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান,স্নাতক শ্রেণি।

১০,৮৪০.
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম কত সালে আওয়ামী-লীগের সভাপতি হন?
  1. ক) ১৯৯৬ সালে
  2. খ) ১৯৭৮ সালে
  3. গ) ১৯৮১ সালে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ - ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

সোর্স: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।

১০,৮৪১.
মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১ নং সেক্টর
  2. খ) ২ নং সেক্টর
  3. গ) ১১ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৫ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিল ।
Source: dhakadiv.gov.bd
১০,৮৪২.
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কখন যৌথ বাহিনী গঠন করেন?
  1. ক) ২০ নভেম্বর
  2. খ) ৭ নভেম্বর
  3. গ) ২১ নভেম্বর
  4. ঘ) ৩ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিকল্পনার ফলে একাত্তরের মে মাস থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গনে সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা শুরু করে।
- জুন মাস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে পাকিস্তানি বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে।
- মূলত মধ্য নভেম্বর থেকে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সম্মুখ যুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিতে থাকে।
- ১৩ই নভেম্বর ট্যাংকসহ দুই ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সৈন্য যশোরে ঘাঁটি স্থাপন করে।
- পাকিস্তানি বাহিনীর উপর আরও সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথবাহিনী গঠন করে
- মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়।
- যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর সহায়তাকারী ভারতীয় বাহিনীকে মিত্রবাহিনী বলা হতো।
- যৌথবাহিনী গঠনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৮৪৩.
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. সফিপুর, গাজীপুর
  2. ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম
  3. জলদিয়া, চট্টগ্রাম
  4. ক্যান্টনমেন্ট, কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন একাডেমীর অবস্থানঃ
- বাংলাদেশের মিলিটারি একাডেমি - ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম;
- পুলিশ একাডেমী - সারদা, রাজশাহী;
- মেরিন একাডেমি - জলদিয়া, চট্টগ্রাম এবং
- আনসার একাডেমি - সফিপুর, গাজীপুর।
উৎসঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১০,৮৪৪.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

শহিদ আবু সাঈদ:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা, মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

১০,৮৪৫.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কোথায় রাজধানী স্থাপন করেন?
  1. গৌড়
  2. সোনারগাঁও
  3. একডালা
  4. বিহার
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।

⇒ ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

⇒ ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল। 
- তিনি তাঁর রাজ্যে অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেন। 

⇒ ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন (১৩৪৬)।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৪৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কবে উত্তোলন করা হয়েছিলো?
  1. ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, প্রথম আলো রিপোর্ট।
১০,৮৪৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন কখন?
  1. ক) ১৯৬৬
  2. খ) ১৯৬৯
  3. গ) ১৯৭০
  4. ঘ) ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- তিনি ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলনও গড়ে তোলেন।
- ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ছয়দফার আন্দোলনে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৪৮.
উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কোন যুগের সম্রাটগণ?
  1. কুষাণ
  2. গুপ্ত
  3. মৌর্য
  4. শুঙ্গ
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- উমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।
- কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণ মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন যেগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
- ভারতের অন্যান্য স্থানে কুষাণ শাসনের সাথে সংশিষ্ট মুদ্রা আর বাংলায় প্রাপ্ত কুষাণ মুদ্রার অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে।
- বিশেষত, বাংলা সরাসরি কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
- তবুও বাংলা থেকে অগণিত কুষাণ-মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোর প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা কষ্টকর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকগণ  ধারণা করেন, খুব সম্ভবত এই মদ্রুাগুলো বাংলায় এসেছে বাণিজ্যিক কারণে বিভিন্ন বণিকের হাত ধরে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।
- এই মুদ্রাগুলোর প্রাপ্তি থেকে বাংলাদেশে সরাসরি কুষাণ শাসনের কথা চিহ্নিত করা না গেলেও ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের
রাজনৈতিক কাঠামোতে কুষাণদের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে।
- লিপিমালা ও আনুসাঙ্গিক তথ্যের অপ্রতুলতায় মৌর্যযুগ পরবর্তীকালের বাংলাদেশের ইতিহাস অনেকটাই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।
- বিশেষ করে একটিমাত্র শুঙ্গানুকৃতির টেরাকোটা আর কিছু কুষাণ মুদ্রার সূত্র ধরে এই সময়ের ইতিহাস নির্মাণ অনেক কঠিন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০,৮৪৯.
নাসিরাবাদের বর্তমান নাম কি?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) জাহাঙ্গীরনগর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী।
ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি।
নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে।
বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে।
এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট
১০,৮৫০.
নিচের কোন দলটি যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. নেজাম-ই-ইসলামী
  2. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
  3. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  4. তফশিলি ফেডারেশন
সঠিক উত্তর:
তফশিলি ফেডারেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তফশিলি ফেডারেশন
ব্যাখ্যা
- তফশিলি ফেডারেশন যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। 

চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৫১.
‘বঙ্গভঙ্গ’ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০৫
  2. খ) ১৯১১
  3. গ) ১৯০৬
  4. ঘ) ১৯০৯
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০৫
ব্যাখ্যা

১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জন এক ঘোষণায় বাংলাকে দুইভাগে বিভক্ত করেন তাই ইতিহাসে ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে বাংলা প্রদেশ গঠিত ছিল।
১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ করেন।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়।
উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

১০,৮৫২.
চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কোথায়?
  1. সোমপুর বিহার
  2. মহাস্থানগড়
  3. লালমাই পাহাড়
  4. বরেন্দ্রভূমি
সঠিক উত্তর:
লালমাই পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।

চন্দ্র রাজবংশ:

- পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সবচেয়ে শক্তিধর রাজবংশ হচ্ছে চন্দ্রবংশ।
- খ্রিস্টীয় দশম শতকের শুরুতেই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রায় দেড়শ বছর এই বংশ শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।
- কুমিল্লার লালমাই পাহাড়কে সে যুগে বলা হতো রোহিতাগিরি।
- চন্দ্রবংশের রাজাদের ধর্মও ছিল বৌদ্ধ।

উল্লেখ্য,
⇒ এই বংশের প্রথম শক্তিধর রাজার নাম ত্রৈলোক্যচন্দ্র।
- তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
- শক্তিধর ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল ও চন্দ্রদ্বীপ দখল করেছিলেন।
- একে একে তাঁর অধিকারে আসে বঙ্গ ও সমতট।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র প্রায় ত্রিশ বছর শাসন করেন।

⇒ পিতার মৃত্যুর পর রাজা হন শ্রীচন্দ্র।
- শ্রীচন্দ্র বংশের গৌরব আরও বৃদ্ধি করেন।
- তিনি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে রাজধানী গড়ে তোলেন।
- তাঁর উপাধি ছিল 'পরমেশ্বর' 'পরম ভট্টারক' 'মহারাজাধিরাজ'।
- শ্রীচন্দ্র প্রায় পয়তাল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ এর পর সিংহাসনে বসেন শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র।
- কল্যাণচন্দ্রের পুত্র লড়হচন্দ্রের রাজত্বকালেও এই গৌরব ম্লান হয়নি।
- শেষ চন্দ্ররাজা ছিলেন গৌবিন্দচন্দ্র।
- তিনি লড়হচন্দ্রের পুত্র।
- তাঁর রাজত্বকালে বাইরের আক্রমণের আঘাত আসে।
- চোল সম্রাট রাজেন্দ্রচোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করলে চন্দ্রবংশের পতন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৫৩.
বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনীর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. মেজর হেক্টর মুনরো
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর হেক্টর মুনরো
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.

১০,৮৫৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার ৫ম দফাটি কী ছিল?
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  2. রাজস্ব
  3. প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  4. বৈদেশিক মুদ্রা
সঠিক উত্তর:
বৈদেশিক মুদ্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদেশিক মুদ্রা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৫৫.
একমাত্র খেতাব প্রাপ্ত বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. পোল্যান্ড
  3. জার্মানি
  4. হাঙ্গেরি
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৫৬.
কত সদস্য নিয়ে যুক্তফ্রন্টের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১৩ জন
  2. ১৪ জন
  3. ১৫ জন
  4. ১৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ জন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:

- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে
- ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- যুক্তফ্রন্টের ১৪ জন সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৫৭.
ডায়মন্ড জুবিলী কত বছরে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৫০ বছরে
  2. ৬০ বছরে
  3. ৭৫ বছরে
  4. ৮০ বছরে
সঠিক উত্তর:
৬০ বছরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০ বছরে
ব্যাখ্যা
জয়ন্তী:

- জুবিলীর (Jubilee) অর্থ হলো উত্সব মুখর পরিবেশে জন্মতিথি পালন। আর এটাকে বাংলায় বলা হয় জয়ন্তী।
-  ২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : রজত জয়ন্তী।
- ৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সুবর্ণ জয়ন্তী / স্বর্ণ জয়ন্তী।
- ৬০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : হীরক জয়ন্তী।
- ৭৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : প্লাটিনাম জয়ন্তী।
- ১০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : শতবর্ষ।
- ১৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সার্ধশত।
- ২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : দ্বিশতবর্ষ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৮৫৮.
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ হয় ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর।
- পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮১ সালে।
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় ১৯৯০ সালে।
- প্রাথমিকভাবে ১৯৯২ সালে ৬৮টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৯২ সালে।
- সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয় ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ সালে।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১০,৮৫৯.
তৎকালীন পাকিস্তানে কত সালে বাংলা ভাষাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ছাত্ররা ১৪৪ ধারা জারি অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকতসহ জাতির আরও অনেক সূর্য-সন্তানেরা। 
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

⇒ বাংলা ভাষার স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন হয়। 
- ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু’বছর পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১০,৮৬০.
একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব কোথায় গৃহীত হয়?
  1. নিউইয়র্ক
  2. প্যারিস
  3. জেনেভা
  4. লন্ডন
সঠিক উত্তর:
প্যারিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারিস
ব্যাখ্যা

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয়।
- একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১০,৮৬১.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে নিচের কোনগুলো পরিলক্ষিত হয়?
  1. শাপলা, পাট, ধান
  2. পান, পাট, ধান
  3. শাপলা, পাট, পান
  4. শাপলা, পান, ধান
সঠিক উত্তর:
শাপলা, পাট, ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাপলা, পাট, ধান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল যা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল।
- শাপলা ফুলটিকে বেষ্টন করে আছে ধানের দুটি শীষ।
- চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয়পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৬২.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. হামিদুজ্জামান
  3. লুই আই কান
  4. তানভীর কবির
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১০,৮৬৩.
জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা-
  1. আতাউর রহমান খান
  2. আ স ম আব্দুর রর
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আসাদুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
আসাদুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা লক্ষ্য করা যায়।
- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান (দ্বিতীয় সংসদ)।    
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- ষষ্ঠ সংসদ দেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ যার স্থায়িত্ব ছিলো মাত্র ১২ দিন। 

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
১০,৮৬৪.
পাহাড়পুরে অবস্থিত 'সোমপুর বিহার' -এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) রাজা ধর্মসেন
  2. খ) লক্ষণ সেন
  3. গ) রাজা বিক্রমাদিত্য
  4. ঘ) রাজা ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের দ্বিতীয় এবং শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন ধর্মপাল।
- তিনি প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১) রাজত্ব করেন।
- পাল সাম্রাজ্য এবং প্রতিপত্তি বিস্তারে ধর্মপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- তিনি ‘বিক্রমশীলদেব’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- ভাগলপুরের ২৪ মাইল পূর্বে তিনি ‘বিক্রমশীল বিহার’ নামে বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণ করেন।
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার সোমপুর বিহারেরও প্রতিষ্ঠাতা রাজা ধর্মপাল। 
- এই সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার হিসেবে স্বীকৃত। 
- এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৬৫.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
  2. অনন্য মামুন
  3. শ্যাম বেনেগাল
  4. শিহাব শাহীন
সঠিক উত্তর:
অনন্য মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্য মামুন
ব্যাখ্যা
রেডিও:

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্র ‘রেডিও’।
- চলচ্চিত্রটির প্রযোজক মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অনন্য মামুন।
- অভিনয় করেছেন রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, লুৎফর রহমান জর্জ, নাদের চৌধুরী, প্রাণ রায় এবং এলিনা শাম্মীসহ অনেকেই।
- একটি গ্রামে ঐতিহাসিক সেই ৭ মার্চের ভাষণ শোনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প।

তথ্যসূত্র - দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩।
১০,৮৬৬.
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে নিচের কোন ঘটনার অবদান ছিল?
  1. পাকিস্তানের সংবিধান রচনা
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ছয় দফা
  4. এগারো দফা
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (বাংলা ভাষায় পাঠ্য পুস্তুক রচনার উদ্দেশ্যে) ও বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সালে ঢাকার বর্ধমান হাউজে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
- যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু অল্পদিনেই তাদের পতন হওয়ায় সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া। 
১০,৮৬৭.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান কে?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দীন মােঃ বখতিয়ার খলজি
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।

⇒ ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

⇒ ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৬৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৫ নং সেক্টর
  4. ৬ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো বেলোনিয়া সূচিবুূ্যহ প্রতিরক্ষা।
- ১ নং ও ২ নং সেক্টরের বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে ২১ জুন পর্যন্ত বেলোনিয়া সূচিব্যুহের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল।
- ২ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি নিয়মিত কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৬৯.
নিম্নের কোন ব্যক্তি বিপ্লবী নন?
  1. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
  2. আশালতা সেন
  3. লীলা নাগ
  4. সাহেরা খাতুন
সঠিক উত্তর:
সাহেরা খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহেরা খাতুন
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।

আশালতা সেন:
- আশালতা সেন ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, সক্রিয় কর্মী, কবি ও সমাজসেবক এবং অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।

উল্লেখ্য,
- উপরের উল্লেখিত সাহেরা খাতুন নামে কোন বিপ্লবী ব্যক্তি নেই।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৮৭০.
'মৌলিক গণতন্ত্র' এর মাধ্যমে কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন?
  1. জিন্নাহ
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. আইয়ুব খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' এর মাধ্যমে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র:

- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
- তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
- ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
- প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
- মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়।
- নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরা মৌলিক গণতন্ত্রী বা বিডি মেম্বার ছিল।
- জনগণের মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচন করা ছাড়া কোনো দায়িত্ব ছিল না।
- বিডি মেম্বার ছিল প্রকৃত নির্বাচক।
- তারাই প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন।
- এই মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান ১৯৬০ সালে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- এছাড়া তিনি সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতাও লাভ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৮৭১.
মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. হেমন্ত সেন
  4. গনেশ
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।

৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৮৭২.
শালবন বিহার কোন রাজবংশের কীর্তি?
  1. দেব
  2. রাঢ়
  3. পাল
  4. চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব
ব্যাখ্যা
• শালবন বৌদ্ধ বিহার:
- শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি এই বৌদ্ধ বিহার।
- এতে ৭ম-১২শ শতকের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।
- শালবন বৌদ্ধ বিহার দেব বংশের কীর্তি।

• নির্মাণ:
- ধারণা করা হয় যে খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়।
- খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়।
- চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

সূত্র: কুমিল্লা জেলার ওয়েবসাইট।
১০,৮৭৩.
দেশের কোন জেলাকে 'হিমালয়ের কন্যা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. পঞ্চগড়
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. লালমনিরহাট
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
'হিমালয়ের কন্যা' পঞ্চগড়:
- দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয় কন্যা।
- পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার ও শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। ফলে ভৌগোলিকভাবেই পঞ্চগড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চগড় জেলার তিন দিকেই ভারতীয় সীমান্ত। 
- এ জেলার উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুঁড়ি জেলা, উত্তর পূর্ব ও পূর্বে জলপাইগুঁড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং বাংলাদেশের নীলফামারী জেলা, পশ্চিমে ভারতে পুর্নিয়া ও উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বে ঠাকারগাঁও ও দিনাজপুর জেলা অবস্থিত।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) যুগান্তর।
১০,৮৭৪.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের পদবী কি ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) ল্যান্স নায়েক
  3. গ) হাবিলদার
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠগণ ও তাদের পদবী:
১. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
২. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
৩. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
৪. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
৫. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
৬. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
৭. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৮৭৫.
কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়?
  1. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. শামসুল আলম
  3. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সাল।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- এই সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন যা এই আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৭৬.
প্রাচীন 'হরিকেল জনপদটি' কোন কোন বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত?
  1. রাজশাহী ও রংপুর  
  2. চট্টগ্রাম ও সিলেট 
  3. রাজশাহী ও খুলনা
  4. খুলনা ও ঢাকা
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও সিলেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও সিলেট 
ব্যাখ্যা

→ প্রাচীন 'হরিকেল জনপদটি' চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত।

♦ প্রাচীন জনপদ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল এবং এই জনপদবাসীরাই স্ব-স্ব জনপদের নামেই পরিচিতি লাভ করে।
- প্রাচীন কাল থেকে আরম্ভ করে আনুমানিক ষষ্ঠ ও সপ্তম শতক পর্যন্ত প্রাচীন বাংলা – বরেন্দ্র, পুন্ড্র, গৌড়, রাঢ়, সুহ্ম, তাম্রলিপ্ত, সমতট, বঙ্গ, চন্দ্রদ্বীপ ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত ছিলো।
- এই জনপদগুলো স্বতন্ত্র ও পৃথক, মাঝে মাঝে বিরোধ মিলনে একের সাথে অন্যের যোগাযোগের বিষয়টি লক্ষ করা যায় ৷

♦ হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা উল্লেখ আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

♦ অন্যান্য জনপদের অবস্থান:
● পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান - বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল ।

● বঙ্গ:
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয় ৷

● গৌড়:
- বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীর অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিল।

● রাঢ়:
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

● সমতট:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

● বরেন্দ্র:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিল।

● চন্দ্ৰদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

● তাম্রলিপ্ত:
- বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

তথ্যসূত্র -
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ওয়েবসাইট।

১০,৮৭৭.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ (Indemnity Ordinance) কী?
  1. বিচারকার্যকে সহযোগিতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন
  2. রাষ্ট্রপতি ঘোষিত আইন
  3. বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন
  4. সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আইন
সঠিক উত্তর:
বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন
ব্যাখ্যা

- ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে।

- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- দ্বিতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় (এরশাদের ক্ষমতাকে বৈধকরণ) এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।
- ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
- ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৮৭৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কে?
  1. এম খাদেমুল বাশার
  2. মীর শওকত আলী
  3. রফিকুল ইসলাম
  4. এম. আবু তাহের
সঠিক উত্তর:
এম. আবু তাহের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. আবু তাহের
ব্যাখ্যা
⇒ ১১ নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের।
- মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

• ১নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
• ৫ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
• ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
• ১১ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৭৯.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন সনে গঠিত হয়?
  1. ১৯৯২ সনে
  2. ২০০০ সনে
  3. ২০০১ সনে
  4. ২০০২ সনে
সঠিক উত্তর:
২০০১ সনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সনে
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন রেদোয়ান আহমেদ।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।।
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই মন্ত্রণালয়ের অধীন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১০,৮৮০.
বর্তমানের কোন জেলা প্রাচীন জনপদ চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’।
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৮১.
প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ: 
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের  গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

• ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০,৮৮২.
মোঘল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. জহিরউদ্দিন বাবর
  2. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
  3. শাহ আলম
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
ব্যাখ্যা
মোগল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মোগল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৩.
 বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয় কত তারিখে?
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
  2.  ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ এই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে জারি করা হয়।
- এটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বলবৎ হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ এ অধ্যাপক ইউসুফ আলী মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬ষ্ঠ অফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৮৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু কত সালে আগরতলায় যাওয়ার অভিযোগ উঠে?
  1. ক) ১৯৬৭
  2. খ) ১৯৬৮
  3. গ) ১৯৬৫
  4. ঘ) ১৯৬২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬২
ব্যাখ্যা
- শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে।
- মামলায় পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছিল যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কতিপয় সেনা অফিসারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে শেখ মুজিব ভারতের সহযোগিতায় সশস্ত্র উপায়ে পূর্ব পকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। 
- এজন্য ১৯৬২ সালে তিনি গোপনে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা যান। 
- সেখানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহের সংগে দেখা করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গেও যোগাযোগ হয়। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের ভূমিকা ছিল বেশি।
- এখন প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ থেকে বলা যায় যে, মামলাটির ভিত্তি ছিল। 
- তবে পাকিস্তান সরকার যেভাবে মামলাটি সাজিয়েছিল আসলে ঘটনাটি তেমন ছিল না। তবে, অভিযুক্তরা দেশকে মুক্ত করার জন্য একটা পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত তৎকালীন ক্যাপ্টেন শওকত আলীর স্মৃতিকাহিনী পড়ে এই ধারণা হয় যে, তিনটি বিষয়কে একত্রিত করে এই মামলাটি সাজানো হয়েছিল।
(১) ১৯৬২-৬৩ থেকে লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানত নিম্ন পর্যায়ের কিছু নৌসদস্যদের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন,
(২) ক্যাপ্টেন শওকতরা একই উদ্দেশ্যে আলাপ করছিলেন মূলধারার কিছু বাঙালি অফিসারের সাথে,
(৩) সিভিল সার্ভিসের রুহুল কুদ্দুস, আহমেদ ফজলুর রহমান ও খান শামসুর রহমান এবং আরও কয়েকজন সদস্য নিজেদের মধ্যে এনিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সাথেও হয়তো তাঁদের আলাপ হয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ কোনো পরিকল্পনা তাঁরা নিতে পারেননি ।
 
শওকত আলীর মন্তব্য যে, মোয়াজ্জেম হোসেন তাড়াহুড়া করেছেন এবং তাঁর গ্রুপ গোপনীয়তা সম্পর্কে সজাগ ছিলেন না। ফলে সেনা সদস্যরা ধরা পড়েন। বঙ্গবন্ধু এই প্রয়াসের সঙ্গে হয়তো সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে হয়তো তাঁর প্রশ্রয় ছিল। 
তবে তিনি যে বাংলাদেশের মুক্তির প্রচেষ্টায় আগরতলা গিয়েছিলেন তা সত্য। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা ভেবেছেন তাও সত্য। 
পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা দফতর তা জানতো। তাই অঙ্কুরেই সে চেষ্টা বিনাশ করার লক্ষ্যে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মামলাটি সাজানো হয়েছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৫.
EPI-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Expanded Plan for Immunity
  2. Expanded Program on Immunization
  3. Effective Program for Immunization
  4. Extended Policy on Infection
সঠিক উত্তর:
Expanded Program on Immunization
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Expanded Program on Immunization
ব্যাখ্যা

ইপিআই কর্মসূচি:
- EPI -এর পূর্ণরূপ Expanded Program on Immunization. 
- এটি একটি বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচি, যার লক্ষ্য বিশ্বের সকল শিশুকে নিয়মিত টিকার আওতায় আনা।
- মূল উদ্দেশ্য: প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা প্রদান।
- বাংলাদেশে ০–১১ মাস বয়সী শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকাদান কেন্দ্রে বা হাসপাতালে নিয়ে এসে টিকা প্রদান করা হয়।

• EPI কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রধান রোগসমূহ-  
- যক্ষ্মা (BCG)
- ডিপথেরিয়া
- ধনুষ্টংকার
- হুপিংকাশি
- পোলিও
- হেপাটাইটিস বি
- হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি (Hib)
- হাম
- রুবেলা

• মূল লক্ষ্য
- শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস।
- মহামারী প্রতিরোধ।
- জাতীয় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১০,৮৮৬.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. ক) ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ইংরেজ আগমন:

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- প্রাচ্যের ধন সম্পদের প্রাচুর্য অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের মতো ইংরেজ বণিকদেরকেও এ অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যে উৎসাহিত করে।
- ইংল্যান্ডের একদল বণিক ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' নামে একটি বণিক সংঘ গঠন করে।
- এই সংঘটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাট, আগ্রা, আহমদাবাদ, মসলিপট্টমে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে এদেশে তাদের ভিত্তি মজবুত করে ফেলে।
- বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৭.
মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র বিদেশি হিসেবে 'বীর প্রতীক' খেতাব পান কে?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  3. এডওয়ার্ড কেনেডি
  4. জর্জ হ্যারিসন
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র বিদেশি হিসেবে 'বীর প্রতীক' খেতাব পান ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড।
- ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

মুক্তিযুদ্ধ:

- বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ডকে বীর প্রতীক উপাধি দেয়া হয়।
- ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।
- উইলিয়ম ওডারল্যান্ড ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় বাটা সু কোম্পানিতে চাকুরিরত ছিলেন।
- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পার্থের এক হাসপাতালে ২০০১ সালের ১৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু খ্যাতনামা সাংবাদিক সাইমন ড্রিং।
- এডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। যুদ্ধের মাঠে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, শরণার্থী শিবিরে, প্রতিবাদে বা জনমত গঠনে কঠিন সেই সময়ে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন।
- জর্জ হ্যারিসন ছিলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার জন্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ» আয়োজন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৮৮৮.
কোন শাসকের আবির্ভাবে মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে?
  1. শশাঙ্ক
  2. ধর্মপাল
  3. অশোক
  4. গোপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৯.
১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার হিসেবে কে নিযুক্ত হন?
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
• শায়েস্তা খানকে ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি (১৬৬৪-১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত সফলভাবে বাংলার সুবাদারের দায়িত্ব পালন করেন।
• তিনি মগদের উৎপাত থেকে বাংলার জনগণের জান-মাল রক্ষা করেন এবং সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
• সুবাদারির শেষ দিকে শায়েস্তা খানের সাথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরোধ বাধে এবং দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শায়েস্তা খান বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৯০.
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
◉ বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

যা কিছু বাংলাদেশে প্রথম: 

• প্রথম প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমদ।
• প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করে - মুসা ইব্রাহিম (২০১০ সালের ২৩ মে)।
• প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করেছেন - নিশাত মজুমদার।
• বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।
• প্রথম ইন্টারনেট ভিত্তিক - নিউজ এজেন্সি বিডিনিউজ।
• প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে - ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.।
• প্রথম এটিএম কার্ড চালু করে - স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। 
• বাংলাদেশের প্রথম আদম শুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৪ সালে।

'মুজিব নগর সরকার' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
• গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
• শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।  
• সদরদপ্তর ছিলো - ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা।
• সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
• মন্ত্রণালয় ছিলো - ১২টি মন্ত্রণালয় ও ৩টি বিভাগ। 
• শপথ পাঠ করান - অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

'মুজিব নগর সরকার' এর সাথে যুক্ত ব্যাক্তিবর্গ:
• প্রথম রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমদ।
• পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন - খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
• অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন - এম. মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
• মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন - এম.এ.জি ওসমানী।
• চিফ অব স্টাফ ছিলেন - কর্নেল আবদুর রব।

উৎস:
১. বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৯১.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে নিচের কোন জন বিমান বাহিনীর সদস্য?
  1. ক) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
  2. খ) রুহুল আমিন
  3. গ) মতিউর রহমান
  4. ঘ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
গ) মতিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।
বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)

১০,৮৯২.
ঐতিহাসিক ৬ দফাকে তুলনা করা হয় কিসের সাথে?
  1. ক) মুখ্য আইন
  2. খ) পিটিশন অব রাইটস
  3. গ) বিল অব রাইটস
  4. ঘ) ম্যাগনাকার্টা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাগনাকার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো। 
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 
- ঐতিহাসিক ৬ দফাকে 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে তুলনা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০,৮৯৩.
বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন কোন সালে ঘটে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ২০০১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন:
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। 
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃ প্রবর্তন করা হয়।

- এ লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে সংশোধনীর পক্ষে রায় পড়লে ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন।

- এর আগে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৯৪.
রাজশাহীর সর্বপ্রাচীন ইমারত 'বড়কুঠি' কাদের র্কীতি?
  1. ফরাসী বণিক 
  2. ইংরেজ বণিক 
  3. পর্তুগীজ বণিক 
  4. ওলন্দাজ বণিক 
সঠিক উত্তর:
ওলন্দাজ বণিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওলন্দাজ বণিক 
ব্যাখ্যা

বড়কুঠি:
- রাজশাহী অঞ্চলের সর্বপ্রাচীন ইমারত বড়কুঠি।
- এটি রাজশাহী মহানগরীর পদ্মপাড়ে অবস্থিত’।
- সুনির্দিষ্টভাবে এই ইমারতের নির্মাণকাল নির্ধারণ করা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রের বিচারে এর নির্মাণকাল অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বলে ধারণা করা হয়।
- এটি এটি ওলন্দাজরা নির্মাণ করেছিল।
- ইট নির্মিত ও সমতল ছাদবিশিষ্ট এ ইমারতটি আঠারো শতকের প্রথমার্ধে (১৭২৫ সালের আগে) ওলন্দাজ রেশম ব্যবসায়ীদের নির্মিত এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বড়কুঠি ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
- এরপর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল। 

উল্লেখ্য,
- এটি প্রথমে ওলন্দাজ বা ডাচদের বাবসা কেন্দ্র ছিল।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ডাচরা ভারতে তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৮১৪ সালে ইংরেজদের সাথে একটি চুক্তি করে বড়কুঠিসহ ভারতের সব ব্যবসা কেন্দ্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে হস্তান্তর করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) প্রথম আলো।

১০,৮৯৫.
হলওয়েল বর্ণিত 'অন্ধকূপ হত্যা'র সাথে কার নাম জড়িত?
  1. বাহাদুর শাহ
  2. সুজাউদ্দৌলা
  3. সিরাজদৌল্লা
  4. মীরজাফর
সঠিক উত্তর:
সিরাজদৌল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজদৌল্লা
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব সিরাজদৌল্লা কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

⇒ নবাব সিরাজদৌল্লা কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।

উল্লেখ্য,
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৯৬.
নিম্নের কোন আন্দোলন সবার শেষে সংগঠিত হয়েছিল?
  1. ক) আইন অমান্য আন্দোলন
  2. খ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) তেভাগা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।

- স্বদেশী আন্দোলন : ১৯০৫ সালে
- আইন অমান্য আন্দোলন : ১৯৩০ সালে
- ভারত ছাড় আন্দোলন : ১৯৪২ সালে।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৮৯৭.
মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৯৮.
পুন্ড্রনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. করতোয়া
  3. মহানন্দা
  4. বাঙ্গালী নদী
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা

পুন্ড্রনগর:
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র।
- 'পুন্ড্র' বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৮৯৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কততম দফায় ‘বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা’র কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৫তম
  2. ১৬তম
  3. ১৭তম
  4. ১৮তম
সঠিক উত্তর:
১৬তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬তম
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে। ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৯০০.
পাকিস্তানের নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য আইয়ুব খান কোন কমিশন গঠন করেন?
  1. ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
  2. কমিটি ফর ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
  3. ন্যাশনাল লেজিসলেটিভ রিভিউ বোর্ড  
  4. প্রাদেশিক প্রশাসন কমিশন
সঠিক উত্তর:
ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন
ব্যাখ্যা

• শাসনতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন:
- বাষট্টির ছাত্র আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা ঘটে আইয়ুব খান কর্তৃক পরিকল্পিত শাসনতন্ত্রকে কেন্দ্র করে।
- আইয়ুব খান ১৯৬০ সলের জানুয়ারি মাসে মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচন শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি ৯৫.৬ শতাংশ মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- এর দুদিন পর পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনার জন্য 'ব্যুরো অব ন্যাশনাল রিকনস্ট্রাকশন' (BNR) নামক একটি কমিশন গঠন করেন।
- কমিশন '৬২ সালের ২৮ এপ্রিল জাতীয় পরিষদের এবং ৬ মে প্রাদেশিক পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচনের সুপারিশ করে।
- কমিশন আইয়ুব খানের সাংবিধানিক পরিকল্পনা সম্বলিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এতে ব্রিটিশ পদ্ধতির পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র পাকিস্তানে প্রযোজ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।