ব্যাখ্যা
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন বাংলার নারীশিক্ষার প্রবর্তক, জনহিতৈষী জমিদার, সমাজসেবক, লেখিকা এবং ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি ‘নবাব’ উপাধি লাভ করেন।
জন্ম ও শিক্ষা:
• জমিদারি ও প্রশাসন:
- পিতার মৃত্যুর পর পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি এবং মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে বিশাল জমিদারির মালিক হন।
- প্রজাবৎসল ও কর্মদক্ষ জমিদার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
•নারীশিক্ষা ও সমাজসেবা:
- ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন — ভারত উপমহাদেশে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।
- পরবর্তীকালে এটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং নামকরণ করা হয় নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজ।
- দরিদ্র নারীদের চিকিৎসার জন্য ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।
- জমিদারি এলাকায় বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করেন।
• সাহিত্যকর্ম:
- আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপজালাল।
- তত্ত্ব ও জাতীয় সংগীত, সংগীত সার ও সংগীত লহরী নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
সমকালীন সংবাদপত্র ও সাময়িকী (বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতি) আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
সম্মান ও স্বীকৃতি:
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।