বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা / ১২৪ · ১০০ / ১২,৪২১

.
কোনটি বঙ্গবন্ধু রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. খ) কারাগারের রোজনামচা
  3. গ) আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
  4. ঘ) আমার দেখা নয়াচীন
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত। তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন।
- ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তগত হয়।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:-
১। ‘‘শেখ মুজিব আমার পিতা’’,
২। ওরা টোকাই কেন?,
৩। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’’,
৪। দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’’,
৫। ‘‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’’,
৬। আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’’,
৭। ‘‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’’,
৮। ‘‘সাদা কালো’’,
৯। ‘‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’’,
১০।মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের,
১১। Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় , কারাগারের রোজনামচা , অসমাপ্ত আত্মজীবনী , আমার দেখা নয়াচীন।
.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট কতটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে?  [মার্চ, ২০২৬]
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ড:
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা ১১টি। যথা-

১. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : দেশের প্রথম শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯২১। 
২. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২
৩. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৪. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৫. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রাম : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৫। 
৬. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৭. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৮. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর : প্রতিষ্ঠাকাল- ২০০৬। 
৯. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ময়মনসিংহ : দেশের সর্বশেষ শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ২০১৬। 
১০. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৭৯। 
১১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৬৭।  [ব্যাখ্যা আপডেট - মার্চ, ২০২৬]

উৎস: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

.
পানিপথের ২য় যুদ্ধ কার কার মধ্যে সংঘঠিত হয়?
  1. বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী
  2. বৈরাম খাঁ বনাম হিমু
  3. আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা
  4. হিমু বনাম মারাঠা
ব্যাখ্যা

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন।
- মুঘল শাসনের ইতিহাসে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল চূড়ান্ত মীমাংসাত্মক যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ভারতে মুঘল শক্তি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারতে আফগানদের আধিপত্যের অবসান হয়।
- এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত হয়।

অন্যদিকে,
- পানি পথের প্রথম যুদ্ধ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ: আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।

.
ময়মনসিংহ জেলার পূর্ব নাম-
  1. ক) জালালাবাদ
  2. খ) ইসলামাবাদ
  3. গ) নাসিরাবাদ
  4. ঘ) সিংহগ্রাম
ব্যাখ্যা
মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট
.
মঙ্গলপাণ্ডে কোন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ভারত ছাড়ো আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয় কত সালে?
  1. ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সামাজিক সংস্কার:

- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের জোট কোনটি?
  1. যুক্তপার্টি
  2. অ্যালায়েন্স ফর বাংলা
  3. যুক্তফ্রন্ট
  4. যুক্তমোর্চ
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

• যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।

• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
Mahasthangarh is located on the bank of which river?
  1. ক) Mahananda
  2. খ) Karatoya
  3. গ) Brahmaputra
  4. ঘ) Jamuna
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়: 

- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুন্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য , গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হুয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
.
বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রে প্রথম জাতীয় সংগীত চিত্রায়ন করা হয়?
  1. ক) জীবন থেকে নেয়া
  2. খ) আমার বাংলাদেশ
  3. গ) হালদা নদী
  4. ঘ) কাঁচের দেয়াল
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান ১৯৭০ সালে তার বিখ্যাত "জীবন থেকে নেওয়া” সিনামাতে গানটির চিত্রায়ন করেন।

• জাতীয় সঙ্গীত:

 -রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়।
- বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আমার সোনার বাংলা 'কবিতার প্রথম ১০ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তা গৃহীত  হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি।
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিধান অনুযায়ী কণ্ঠে গাইতে গেলে দশ চরণ আর যন্ত্র সঙ্গীতে বাজাতে গেলে চার চরণ পর্যন্ত বাজাতে হবে।
-  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" এর রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
- ১৩১২ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গানটি রচিত হয়েছিল।
- পল্টন ময়দানে ঘোষিত স্বাধীনতার ইসতেহারে (১৯৭১ সালের ৩ মার্চ) জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- সংবিধানের ৪ (১) অনুচ্ছেদে 'আমার সোনার বাংলা' গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়েছে।
- এটি মূলত ২৫ চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা। এ কবিতার প্রথম ১০ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০.
’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি কোন প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে? 
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশ ভাগ  
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

- ’চিত্রা নদীর পাড়ে’ চলচ্চিত্রটি দেশ ভাগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের জীবনী।
- চিত্রা নদীর পাড়ে তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৮ সালের নির্মিত চলচ্চিত্র।
- এটি ১৯৯৯ সালে ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে,
• তানভীর মোকাম্মেল বিখ্যাত কয়েকটি চলচ্চিত্র:
- নদীর নাম মধুমতী, লালসালু, লালন, রাবেয়া, জীবনঢুলী ও রূপসা নদীর বাঁকে।

অন্যদিকে,
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি যুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক চিত্র তুলে ধরে।
- মাটির ময়না ২০০২ সালের বাংলাদেশি বাংলা যুদ্ধভিত্তিক নাট্য চলচ্চিত্র।
- মেঘের অনেক রং ১৯৭৬ সালে নির্মিত বাংলাদেশী বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হারুনর রশিদ।

উৎস: প্রথম আলো। 

১১.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কতটি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়। (বিভাগ ও মন্ত্রণালয় মোট ১৫টি)।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কোন বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন?
  1. পাক-৯১
  2. ম্যাক-১৭
  3. টি-৩৩
  4. এম-২৯
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান টি-৩৩ বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ঢাকার ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালের জুন মাসে কমিশন লাভ করেন। কর্মস্থল ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের রিসালপুর।
- এর পরের বছর পেশোয়ারে জেট পাইলট নিযুক্ত হবার পূর্বে করাচিতে জেট কনভার্সন কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
- ২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল।
- মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক।
- টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড।
- প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি।
- বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩.
বঙ্গ জনপদের কোন দুটি অঞ্চল প্রাচীন শিলালিপিতে উল্লেখ রয়েছে?
  1. গৌড় এবং রাঢ়
  2. বিক্রমপুর এবং নাব্য
  3. পুণ্ড্র এবং সমতট
  4. কলিঙ্গ এবং অঙ্গ
ব্যাখ্যা

বঙ্গ জনপদ :
- বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করতো। তাই জনপদটি পরিচিত 'বঙ্গ' নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি বিক্রমপুর ও আরেকটি নাব্য।
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি এ নব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বঙ্গ রাজ্যে পাঁচজন রাজার নাম পাওয়া যায়। তারা হলেন ধর্মাদীপ্ত, দ্বাদশাদীপ্ত, সুধন্যাদীপ্ত, গোপচন্দ্র এবং সমাচার দেব।

• সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট। 

• পুণ্ড্র:
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় প্রাচীন পুঞ্জ নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণহত্যাটি কোথায় হয়?
  1. আসামদিয়া
  2. মোহাম্মদপুর বিধবা পল্লী
  3. চুকনগর
  4. রায়ের বাজার
ব্যাখ্যা
চুকনগর গণহত্যা:
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা ছিল চুকনগর গণহত্যা।
- চুকনগর ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২০মে মাত্র এক প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা ৪ ঘণ্টায় ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে অন্তত ১২ হাজার নিরীহ মানুষকে।
- প্রকৃতপক্ষে এই গণহত্যায় এরচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
-  চুকনগরের পাশে ভদ্রা নদীর পানিতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা দেখেছে মিরপুর।
- একক শহর হিসেবে দেখলে মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায় চট্টগ্রামে। 
- মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় নৃশংসতার তালিকা করলে প্রথম দিকে থাকবে নীলফামারীর গোলাহাট গণহত্যা বা অপারেশন খরচাখাতা। 

উৎস: মার্চ ২৫, ২০২২, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
১৫.
বর্তমানে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ৪২৪ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
- তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

• বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১৬.
‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’-উক্তিটি কে করেন?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. আইয়ুব খান
  4. রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
জেনারেল টিক্কা খান:
- জেনারেল টিক্কা খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালে ঢাকায় সামরিক অভিযান ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার জন্য তিনি ‘বাংলাদেশের কসাই’ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬২ সালে তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
- ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টিক্কা খানকে পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ড-এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁকে জেনারেল পদে উন্নীত করেন ।
- ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা।
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পাকিস্তানে পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’।
- ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি।
- ২৫শে মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কবে উত্তোলন করা হয়?
  1. ৩ জানুয়ারি ১৯৭১
  2. ২ মার্চ ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ ১৯৭১
  4. ২৩ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনসহ দেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি মানচিত্র ব্যতীত বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকা গৃহীত হয়।
- এটির ডিজাইনার ছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
- পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে নিউক্লিয়াসের সদস্যরা তৈরি করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
১৯.
অপরাজেয় বাংলা কি?
  1. চিত্রকর্ম
  2. ভাস্কর্য
  3. ম্যুরাল চিত্র
  4. মিনার
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:

- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য যা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রায়ণ করেছে।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ।
- এর নাম দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।
- ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটি তৈরি করা শুরু হয়।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অপরাজেয় বাংলা উদ্বোধন করা হয়।
- ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এর উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট।
- এই ভাস্কর্যটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
২০.
কোনটি বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা?
  1. নেগ্রিটো
  2. অস্ট্রিক
  3. সেমেটিক
  4. বৈদিক ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা: 
- অস্ট্রিক ছিল বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা।
- এ ভাষা আর্যদের আগমনের পর ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
- আর্যদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক ভাষা। পরবর্তীকালে এ ভাষাকে সংস্কার করা হয়।
- পুরনো ভাষাকে সংস্কার করা হয়েছে বলে এ ভাষার নাম হয় সংস্কৃত ভাষা।
- প্রাচীন যুগে আর্যদের যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল স্থানভেদে এবং সময়ের বিবর্তনে তার অনেক পরিবর্তন ঘটে।
- সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়।
- অপভ্রংশ ভাষা থেকে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়।
- যেমন: কৃষ্ণ > কানু > কানাই।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'সংগ্রাম'-এর পরিচালক কে?
  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  2. হারুনর রশীদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. নারায়ণ ঘোষ মিতা
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র সংগ্রাম।
- এটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর গল্প নেওয়া হয়েছে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের ডায়েরি থেকে।
- এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য বাহিনীর বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুচন্দা, খসরু।

উৎস: প্রথম আলো।
২২.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. শশাঙ্ক
  2. মুর্শিদ কুলি খান
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. আব্বাস আলী মীর্জা
ব্যাখ্যা
• বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব ছিলেন — নবাব মুর্শিদ কুলি খান।

নবাব মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।
- আলীবর্দী খান (১৬৭৬-১৭৫৬) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২৩.
চন্দ্রদ্বীপ প্রাচীনকালে কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল?
  1. রাঢ় ও বঙ্গের মাঝামাঝি
  2. বরেন্দ্র ও সমতটের মধ্যে
  3. বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে
  4. পদ্মা ও যমুনার মধ্যখানে
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রদ্বীপ এটি ছিল বর্তমান দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ, বিশেষ করে বরিশাল কেন্দ্রিক।

জনপদ: 
প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখন্ড রাজ্য/রাষ্ট্র ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
যেমন- পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।

চন্দ্রদ্বীপ
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি (চন্দ্রদ্বীপ) বলেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২৪.
‘পিকিং মানুষ’ বলা হত কাদের?
  1. ক) প্রচীন গ্রীকদের
  2. খ) প্রাচীন আরব্যদের
  3. গ) আদি চৈনিকদের
  4. ঘ) আদি মিশরিদের
ব্যাখ্যা
চীনের আদি মানুষ
- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চীনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে।
- চীনের রাজধানী পিকিং-এর (বর্তমান বেইজিং) কাছে এই খুলি পাওয়া যায়।
- এরাই চীনের আদিম মানুষ; যাদেরকে ‘পিকিং মানুষ’ বলা হয়।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে নবােপলীয় যুগ বা নতুন পাথরের যুগে চীনে মানুষের বসবাস ছিল।
- চীনের আদিবাসিরা হােয়াংহাে ও ইয়াংসি নদীর দুই পাড়েই বাস করত।
- পরে তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এদের এক অংশ চাষাবাদ করতাে, অপর অংশটি যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত ছিল। যে অংশটি নদীর তীরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে তারা ঘরবাড়ি তৈরি করে ধীরে ধীরে সভ্য জাতিতে পরিণত হতে থাকে।
- এরা কৃষিকাজের পাশাপাশি পশু পালনও করতাে। এরাই প্রাচীন চীনা সভ্যতার স্রষ্টা।
- এই সভ্যতার স্রষ্টাদের রেশমের কাপড়, চাকাযুক্ত গাড়ি, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, তামা ও ব্রোঞ্জের অস্ত্র-শস্ত্র তৈরি করার বিদ্যা জানা ছিল।
- তারা কৃষি কাজের জন্য লাঙ্গল ব্যবহার করত। কৃষি জমিতে পানি সেচের জন্য তারা খাল কেটে নদী থেকে জমিতে পানি সরবরাহ করত।
- চীনের আদি মানুষরা নগর নির্মাণ করে উঁচু দেয়াল দিয়ে তাকে সুরক্ষিত রাখত, যাতে যাযাবরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- এরা এক ধরণের দিনপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারও তৈরি করেছিল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
যে জায়গায় বিমান রাখা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) Arsenal
  2. খ) Hangar
  3. গ) Aerodrome
  4. ঘ) Runway
ব্যাখ্যা
• Runway - বিমান উড্ডয়নের জন্য বিশেষভাবে তৈরি রাস্তা
• Arsenal - অস্ত্র বাঁ গোলাবারুদ সম্ভার
• Aerodrome বাঁ airdrome - ছোট বিমানবন্দর, বিমান ঘাঁটি
• Hangar - যেখানে বিমান রাখা হয়, বিমানের গ্যারাজ
Source: Oxford & Merriam-webster Dictionary
২৬.
ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ভারতের কোন শাসনকালীন সময়ে এসেছিলেন?
  1. পাল আমলে
  2. মুঘল আমল
  3. গুপ্ত আমলে
  4. সেন আমলে
ব্যাখ্যা

ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। 
- মুঘল শাসনামলে তিনি ভারতে এসেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। 
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৭.
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারপারসন কে?
  1. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
  2. মাননীয় অর্থমন্ত্রী
  3. মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী
  4. মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- বাংলাদেশের সংবিধান (অনুচ্ছেদ-১৫) অনুযায়ী পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সকল অঞ্চলের সকল নাগরিকের দ্রুত জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩১ জানুয়ারী ১৯৭২ সনে ‘‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন’’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সকল জনগণের দ্রুত জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই হচ্ছে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
- এই কমিশন গঠিত হয় একজন চেয়ারম্যান, একজন ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং তিন জন সদস্য সমন্বয়ে।
- পরিকল্পনা মন্ত্রী পদাধিকার বলে কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
- পরিকল্পনা কমিশনের সকল প্রশাসনিক ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘‘পরিকল্পনা বিভাগ’’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ কমিশনের চেয়ারপার্সন।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
২৮.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. কুমিল্লা
  2. সিলেট
  3. চট্টগ্রাম
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
'ভোটের আগে ভাত চাই' স্লোগানে কোন দল সত্তরের নির্বাচন বর্জন করেছিল?
  1. ন্যাপ ( ভাসানী )
  2. ন্যাপ ( মুজাফফর )
  3. নেজাম ই ইসলাম
  4. আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন 

♦ নির্বাচন কমিশন 
- ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- এই কমিশনের অধীনেই ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে মোট ২৪ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- " ভোটের আগে ভাত চাই " স্লোগানে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বা ন্যাপ ( ভাসানী ) এই নির্বাচন বর্জন করে।

♦ জাতীয় পরিষদ নির্বাচন ও ফলাফল
-  ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সমগ্র পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩ টি, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৯ টি ( ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ )।
- এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
- ময়মনসিংহ ও রাঙ্গামাটিতে দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়।

♦ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন ও ফলাফল
- ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে ৫ টি প্রাদেশিক পরিষদে ২১টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৬২১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ৩১০ টি আসনের ( ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ ) মধ্যে ২৯৮ টিতে জয়লাভ করে।

♦ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
- সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে।
- তিনি ৩ মার্চ,১৯৭১ এ অনুষ্ঠাতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১ মার্চ স্থগিত করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
৩০.
প্রাচীন বাংলায় বিজয়া দশমীর দিনে কোন উৎসব পালিত হতো?
  1. আকাশপ্রদীপ
  2. শাবোরৎসব
  3. ভাইফোঁটা
  4. অক্ষয় তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন বাংলার আচার-অনুষ্ঠান, উৎসব ও রীতি-নীতি:
- প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের প্রচুর ব্যবস্থা ছিল।
- উমা অর্থাৎ দুর্গার অর্চনা উপলক্ষে বরেন্দ্রে বিপুল উৎসব হতো।
- প্রাচীন বাংলায় বিজয়া দশমীর দিন 'শাবোরৎসব' নামে একপ্রকার নৃত্যগীতের অনুষ্ঠান হতো।
- হোলাকা বা বর্তমানকালের 'হোলি' ছিল তখন অন্যতম প্রধান উৎসব।
- স্ত্রী-পুরুষ সকলে এতে যোগদান করতো।
- ভাইফোঁটা, আকাশপ্রদীপ, জন্মাষ্টমী, অক্ষয় তৃতীয়া, দশহরা,গঙ্গাস্নান, মহাঅষ্টমীতে ব্রহ্মপুত্রস্নান ইত্যাদি অনুষ্ঠান সেকালেও প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি।

৩১.
জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কোন শ্রেণি পর্যন্ত?
  1. ষষ্ঠ শ্রেণি
  2. সপ্তম শ্রেণি
  3. অষ্টম শ্রেণি
  4. দশম শ্রেণি
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০:

• প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা:
- শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতিগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। - কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হবে।
- পরবর্তীকালে তা ৪+ বছর বয়স্ক শিশু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। 

• প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন :
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে।
- এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা

• ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা:
- প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
- শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০।

৩২.
১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তি কালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নিরূপিত সীমারেখার নাম কী?
  1. ক) ৩৮ অক্ষরেখা
  2. খ) ম্যাকনামারা লাইন
  3. গ) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত রেখা
  4. ঘ) র‍্যাডক্লিফ লাইন
ব্যাখ্যা
• র‌্যাডক্লিফ লাইন:
- ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের বিভক্তির সময় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নিরূপিত সীমারেখা-র‌্যাডক্লিফ লাইন। 
- স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি কমিশন সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ সমাপ্ত করে ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট।
- তাঁর নামানুসারে চার লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সীমান্তরেখার নাম হয় 'র‌্যাডক্লিফ লাইন'।
- তাকে কাগজে কলমে ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে ভাগ করতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিলো।
- সীমানা নির্ধারণের ত্রুটির কারণে দুই দেশের মোট ১৬২টি ছিটমহলের অধিবাসী গৃহবন্দি অবস্থায় পড়ে যায়।
- এর মধ্যে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ভারতের ছিটমহল রয়েছে ১১১টি, যার মোট ভূমির পরিমাণ ১৭ হাজার একর; আর ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহল রয়েছে ৫১টি, যার ভূমির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার একর। 
- ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে ভাগ করার জন্য পুরস্কার স্বরুপ দেশে ফিরে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নাইট উপাধি পান।

উৎস: বি্বিসি বাংলা নিউজ এবং কালেরকন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্রের বাংলাদেশ সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আগারগাঁও, ঢাকা
  2. খ) মহাখালীতে, ঢাকা
  3. গ) মিরপুর, ঢাকা
  4. ঘ) কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
ব্যাখ্যা
• ICDDR,B:
- ICDDR,B এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো -  ওরস্যালাইন।
- আইসিডিডিআর.বি (ICDDR,B/আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) ঢাকা শহরের মহাখালীতে অবস্থিত চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা এবং সেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
- আনুষ্ঠানিকভাবে এটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে।
- ICDDR,B এর পূর্ণরূপ হচ্ছে (International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh).
-  ICDDR,B এর সদর দপ্তর ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত।

উৎস:  আইসিডিডিআরবি এর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
কার উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদিত হয়?
  1. ক) শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
  2. খ) চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. গ) সুভাষচন্দ্র বসু
  4. ঘ) চিত্তরঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
- মুসলমানদের পক্ষে আব্দুল করিম, মুজিবুর রহমান, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যু হলে বেঙ্গল প্যাক্ট তার গুরুত্ব হারায়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৫.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে কত তারিখে?
  1. ১৯৭১ সালের ২৫শে নভেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ২১শে মার্চ
  3. ১৯৭১ সালের ২০শে নভেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর। 

- বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ।
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি। 
৩৬.
ছয়দফার পঞ্চম দফাটি কী ছিল? 
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  4. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

•দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

পঞ্চম দফায় বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপারে শাসনতান্ত্রিক বিধানের সুপারিশ করা হয়- 
১. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক পৃথক হিসাব রাখিতে হইবে।
২. পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পূর্ব পাকিস্তানের এখতিয়ার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের এখতিয়ারে থাকিবে।
৩. ফেডারেশনের প্রয়োজনীয় বিদেশী মুদ্রা দুই অঞ্চল হইতে সমানভাবে অথবা শাসনতন্ত্রে নির্ধারিত হারাহারি মতে আদায় হইবে।
৪. দেশজাত দ্রব্যাদি বিনাশুল্কে উভয় অঞ্চলের মধ্যে আমদানি রফতানি চলিবে।
৫. ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্বন্ধে বিদেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের, বিদেশে ট্রেড মিশন স্থাপনের এবং আমদানি-রফতানি করিবার অধিকার আঞ্চলিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করিয়া শাসনতান্ত্রিক বিধান করিতে হইবে।


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর আহবায়ক ছিলেন-
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 ভাষা আন্দোলন:
• ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

• ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর:
- তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ-এর আহ্বায়ক হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- এটি আন্দোলনের প্রথম সংগঠিত পদক্ষেপ।

• ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি:
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পুনর্গঠন (দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ) হলে এর আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- এই পুনর্গঠন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে।

• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি:
- (স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র অনুসারে) মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের সূচনা করে।

• ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি:
- বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকা ছিল।

• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। এই সভায় সরকারের ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা ভাষা শহীদদের রক্তাক্ত সংগ্রামের সূচনা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসা
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  4. মনোরঞ্জন ধর
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।

- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
বাংলাদেশের প্রথম সরকার কোথায় শপথ গ্রহণ করে?
  1. মেহেরপুরে 
  2. কলকাতায় 
  3. ঢাকায় 
  4. আগরতলায় 
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন: 
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরু হলে বিচ্ছিন্নভাবে বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪০.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে ভর্তি হয়েছিল?
  1. ক) রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. খ) সমাজ বিজ্ঞান
  3. গ) আইন
  4. ঘ) অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- মুজিব ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন।
- তিনি স্থানীয় গীমাডাঙ্গা স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- চোখের সমস্যার কারণে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর ব্যাহত হয়।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- ম্যাট্রিক পাশের পর মুজিব কলকাতায় গিয়ে ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।
- সেখান থেকেই তিনি আই.এ ও বি.এ পাশ করেন।
- তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং ১৯৪৩ সাল থেকে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
- রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এইচ. এস সোহরাওয়ার্দীর একজন একনিষ্ঠ অনুসারী। 
- ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে  অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন।
- তবে পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি।
- কারণ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দাওয়ার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্যের বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ১৯৪৯ সালের প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১.
কার উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. মওলানা আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৪২.
কোন সুলতান সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন?
  1. ক) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. খ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  3. গ) ইখতিয়ার উদ্দিন গাজী শাহ
  4. ঘ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল শুরু হয় ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের আমল থেকে। বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ছিলেন তিনি। ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁর গভর্নর বাহরাম খান মারা গেলে তাঁর বর্মরক্ষক ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ স্বাধীন সোনারগাঁ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন। সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুদীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করেন। তাঁর সময়ে মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতার আগমন ঘটে।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪৩.
বাংলার দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটান কে?
  1. শের খান শূর
  2. ইসলাম খান
  3. দাউদ কররানী
  4. মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কর্তৃক সোনারগাঁওয়ের মসনদ দখলের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়।
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের আমলে স্বাধীন সুলতানি যুগের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। যার কারণে তাকে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়।

বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের শাসকদের মধ্যে ইলিয়াস শাহী বংশের শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ এবং হুসেন শাহী বংশের আলাউদ্দিন হুসেন শাহ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

১৫৩৮ সালে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহকে পরাজিত করে আফগান নেতা শের খান শূর গৌড় দখল করে নিলে বাংলার দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে। বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সর্বশেষ শাসক হলেন গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪৪.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) রামপাল
  3. গ) মহাস্থানগড়
  4. ঘ) সোনারগাঁ
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। 
• মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখীর মাজার রয়েছে । 
• সম্রাট অশোকের সময়ের খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি পাওয়া গেছে । 
• স্থানটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি (৮ মাইল) উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৪৫.
ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে কত বছর শাসন করেন
  1. ৪০ বছর
  2. ৭০ বছর
  3. ১০০ বছর
  4. ১২২ বছর
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:

- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্রো করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার বিপক্ষে কোন ইংরেজ সেনাপতি যুদ্ধ করে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
How many persons were awarded the Bir Pratik gallantry award in recognition of their heroic contributions?
  1. 68
  2. 174
  3. 175
  4. 422
  5. 426
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদানে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
 
উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন। বর্তমানে -
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।
 
উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৪৮.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির প্রথম সুরকার কে?
  1. আবদুল লতিফ
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. আবদুল জব্বার
ব্যাখ্যা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
৪৯.
পলাশীর যুদ্ধে কোন ফরাসি সেনানায়ক বাংলার নবাবের পক্ষে লড়াই করে?
  1. আল বুকার্ক
  2. সিন ফ্রে
  3. মেজর মনরো
  4. ভান্সিটার্ট
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।
- ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।
- নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাদ।
- নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫০.
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয় কোন সালে?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
পুলিশ প্রশাসন:
- পুলিশ প্রশাসন অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।
- মহিলাদের মধ্যে পেশাধারী প্রতারণা, দেশি ও আন্তর্জাতিক চোরাচালান, হোটেল ও বিত্তবানদের গৃহে প্রমোদবালাদের অসামাজিক তৎপরতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান ও তল্লাশীর ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য কিছু আইনগত ও সামাজিক অসুবিধা থাকায় ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম স্পেশাল ব্রাঞ্চ পুলিশে ১২ জন মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশে মহিলা পুলিশ নিয়োগ শুরু হয়।
- বর্তমানে মহানগর ব্যতীত সিআইডি, ইমিগ্রেশন, জেলা সদর ও পুলিশ সদর দপ্তরেও বিভিন্ন পদবীর মহিলা পুলিশ নিয়োজিত আছে।
- দেশের অন্যান্য মহানগর পুলিশে বিভিন্ন পদবীর মহিলা পুলিশ নিয়োজিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১.
ভাষা আন্দোলনের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. নূরুল আমীন
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের সময়কালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন এবং পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন নূরুল আমীন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২.
বাংলাদেশের ইতিহাসে "অপারেশন ওমেগা" কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধে ত্রাণ কার্যক্রম
  2. মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  3. মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান
  4. মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি চেষ্টা
ব্যাখ্যা

অপারেশন ওমেগা: 
- "অপারেশন ওমেগা" ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এক মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম,
- এটা ব্রিটিশ সাংবাদিক রজার মুডি ও তাঁর সহযোগীদের উদ্যোগে সংগঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি দেখে রজার মুডি 'পিস নিউজ' ম্যাগাজিনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের জন্য স্বেচ্ছাসেবক আহ্বান করেন।
- এর মাধ্যমে সারা পৃথিবী থেকে ১১ জন স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হন এবং তারা বাংলাদেশে ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ শুরু করেন।
- অপারেশন ওমেগার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ত্রাণ সরবরাহ এবং পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ তোলা।
- এই উদ্যোগটি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ও অন্যান্য নেতাদের সমর্থন পেয়ে ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।

সূত্র: প্রথম আলো ও ডৈইলি স্টার বাংলা। 

৫৩.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ছিল কতটি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১২টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল।
- এছাড়া কয়েকটি বিভাগ মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে থাকে। 

[শুধু মন্ত্রণালয় বললে ১২ টি কিন্তু বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বললে ১৫ টি।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪.
ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় -
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:
- ১৯৫৬ সাল পাকিস্তানের জন্য যে সংবিধান প্রণীত এবং গৃহীত হয় তার মূল সুর বোঝানোর জন্য একটি প্রস্তাবনা লিখিতভাবে যুক্ত করা হয়েছিল। এই সংবিধানে ৬টি তফসিল, ১৩টি অনুচ্ছেদ এবং ২৩৪টি ধারা ছিল।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. ইসলামী প্রজাতন্ত্র: '৫৬ সালের সংবিধান অনুসারে পাকিস্তানকে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন নিষিদ্ধ হয় এবং রাষ্ট্রপতি মুসলমান হবেন- এ শর্ত যুক্ত করা হয়।
২. যুক্তরাষ্ট্র: পাকিস্তান হবে একটি যুক্তরাষ্ট্র এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের ভেতর ক্ষমতা ভাগ করে দেয়া হয়। ক্ষমতার ক্ষেত্রে তিনটি ভাগ দেখা যায়- একটি কেন্দ্রীয় সরকারের, একটি প্রাদেশিক সরকারের এবং একটি ছিল যুগ্ম তালিকাভুক্ত।
৩. সংসদীয় সরকার: কেন্দ্রে এবং প্রদেশে সংসদীয় প্রকৃতির বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এই পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রধানে পরিণত করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী ছিলেন।
৪. এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা: পাকিস্তানে গোড়া থেকেই যদিও দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা নিয়ে আলোচনা চলছিল, শেষপর্যন্ত দেশে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তিত হয়। ১০ জন মহিলা সদস্য সহ মোট ৩১০ সদস্যের পার্লামেন্ট গঠনের কথা বলা হয়। সংখ্যাসাম্য নীতির ভিত্তিতে এই আসন বণ্টন করা হয়।
৫. রাষ্ট্রভাষা: বাংলা এবং উর্দু উভয় ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।
৬. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: ১৯৫৬ সালের সংবিধানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানে পরিষ্কার ভাষায় প্রাদেশিক কার্যাবলী নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রদেশ পরিচালনার জন্য প্রাদেশিক মন্ত্রিপরিষদ, আইন পরিষদ প্রভৃতির বিষয়ে স্পষ্ট বিধান ছিল।
৭. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে সংবিধানের রক্ষকের দায়িত্বও দেয়া হয়। একটি সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রদেশগুলির জন্য আলাদা হাইকোর্টের বিধান রাখা হয়।
৮. মৌলিক অধিকার: সংবিধানে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। মৌলিক অধিকারসমূহ বিধিবদ্ধ করে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা এবং এর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হবার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়।
৯. স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: পাকিস্তান যেহেতু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দ্বারা শাসিত হবে সেহেতু সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
১০. সংবিধান সংশোধন: ১৯৫৬ সালের সংবিধানে সংশোধনের যে ব্যবস্থা রাখা হয় তাকে নমনীয় বলা যায়। সাধারণ সংশোধনীসমূহ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন করার ব্যবস্থা ছিল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির সম্মতি নেবার প্রয়োজন ছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
দেশে 'স্মার্ট কৃষি কার্ড' এর আওতায় আসবে কতজন কৃষক?
  1. ১ কোটি ৭ লাখ
  2. ১ কোটি ৯ লাখ
  3. ১ কোটি ৫ লাখ
  4. ১ কোটি ২ লাখ
ব্যাখ্যা
- সারাদেশের পাঁচ কোটি কৃষকের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে। এদের মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে স্মার্ট কৃষি কার্ড।
- এলাকা ও চাহিদাভিত্তিক কৃষি সেবা প্রদান এবং কৃষি তথ্যের ডিজিটাল বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় কৃষি তথ্যের আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।   

উৎস: www.tbsnews.net
৫৬.
Who drafted the '21-point' election manifesto of the United Front in 1954?
  1. Abul Mansur Ahmed
  2. Huseyn Shaheed Suhrawardy
  3. A. K. Fazlul Huq
  4. Abdul Hamid Khan Bhashani
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
-  ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশে পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শৃমিক পার্টি ও নেজামে ইসলামী মিলে 'যুক্তফ্রন্ট' নামক একটি নির্বাচনী আঁতাত গড়ে তোলে।
-  পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ও নেজামে ইছলামীর সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। 
-  নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
-   যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল। 
-  ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। 
-  তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
-   আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ‘কে’ ফোর্সের প্রধান ছিলেন-
  1. ক) মেজর জিয়াউর রহমান
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  4. ঘ) মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে ৩ টি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। ফোর্স তিনটি হলো- ‘জেড’ ফোর্স যা মেজর জিয়ার নেতৃত্বে, ‘এস’ ফোর্স যা মেজর শফিউল্লাহ এর নেতৃত্ব এবং ‘কে’ ফোর্স যা মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিলো।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৫৮.
নিচের কোন জনপদটি বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠেনি?
  1. বরেন্দ্র
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত
- বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র।
- সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।
- এই জনপদটি বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠেনি।    

সমতট:- কুমিল্লা , নোয়াখালী , ত্রিপুরা।
হরিকেল:- সিলেট , চট্রগ্রাম , পার্বত্য চট্রগ্রাম।
বরেন্দ্র:- বগুড়া,দিনাজপুর , রাজশাহী ও পাবনা।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯.
স্বত্ববিলোপ নীতি প্রণয়ন করেন -
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- স্বত্ববিলোপ নীতি ছিল একটি সাম্রাজ্যবাদী নীতি।
- লর্ড ডালহৌসি এই সাম্রাজ্যবাদী নীতিটি প্রণয়ন করেন।

⇒ তাঁর সাম্রাজ্যবাদী নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি সাধন করা।
- স্বত্ববিলোপ নীতির মূলকথা ছিল, ব্রিটিশের শাসনাধীন যেকোনো আশ্রিত রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে এবং তার রাজবংশে কোনো উত্তরাধিকার না থাকলে সেই রাজা সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবেন।
- এই নীতির মাধ্যমে সাঁতারা, নাগপুর, ঝাঁসি ও সম্বলপুর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই (১৮৫৩ সালে) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬০.
ইংরেজি কোন সাল থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়?
  1. ১৫৫৪ সাল
  2. ১৫৫৫ সাল
  3. ১৫৫৬ সাল
  4. ১৫৫৭ সাল
ব্যাখ্যা
পহেলা বৈশাখ:
- পহেলা বৈশাখ  বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন  লোকউৎসব।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। 
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৫৫৬ ইংরেজি সাল থেকে বঙ্গাব্দ বা বাংলা সাল গণনা শুরু হয়। 
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট  আকবর এর প্রবর্তন করেন।
- এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল; ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
- নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তারিখ-ই-এলাহী প্রবর্তনের সময়ে গ্রেগোরিয়ান ও হিজরি বর্ষের মধ্যে পার্থক্য ছিল ১৫৫৬-৯৬৩ = ৫৯৩ বছর, যা বর্তমানেও কার্যকর; অর্থাৎ বাংলা সনের সঙ্গে ৫৯৩ যোগ করলে খ্রিস্টীয় সন পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬১.
বাংলার প্রাচীন জনপথ হরিকেল-এর বর্তমান নাম কী?
  1. ফরিদপুর
  2. রাজশাহী 
  3. বগুড়া
  4. সিলেট 
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম জনপদ হরিকেল - এর অন্তর্ভূক্ত অঞ্চল বর্তমানে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত।

• প্রাচীন জনপদ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল এবং এই জনপদবাসীরাই স্ব-স্ব জনপদের নামেই পরিচিতি লাভ করে।
- প্রাচীন কাল থেকে আরম্ভ করে আনুমানিক ষষ্ঠ ও সপ্তম শতক পর্যন্ত প্রাচীন বাংলা ⎯ পুন্ড্রু, গৌড়, রাঢ়, সূহ্ম, তাম্রলিপ্ত, সমতট, বঙ্গ, বরেন্দ্র, চন্দ্রদ্বীপ ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত ছিলো।
- এই জনপদগুলো স্বতন্ত্র ও পৃথক, মাঝে মাঝে বিরোধ মিলনে একের সাথে অন্যের যোগাযোগের বিষয়টি লক্ষ করা যায়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।

• হরিকেল:
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে। চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ ⎯ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন বলে উল্লিখিত।

• পুন্ড্র: 
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান ⎯ বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• বঙ্গ:
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।
 থাকে।  

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬২.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. মোঃ নুরুল আমীন
  4. মালিক গোলাম মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর কেন্দ্রীয় সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করলে এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল
- আন্দোলনটি ১৯৪৮ সালে শুরু হয় এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত রূপ নেয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ছিলেন মালিক গোলাম মুহাম্মদ যিনি ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।
- এই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন।
- এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।

উল্লেখ্য, 
- কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ) রোজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- এর ফলে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সমবেত হয়ে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” শ্লোগান দিতে থাকে।
- পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ হয়।
- এই দিনে রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল বরকত, আব্দুস সালাম, আবুল জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন।
- এটি ছিল শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিবাদ।

উৎস:
মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ;
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট;
বাংলাপিডিয়া।

৬৩.
বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা কোন দেশের নাগরিক?
  1. আফগানিস্তান
  2. তুরস্ক
  3. চীন
  4. মরক্কো
ব্যাখ্যা
• ইবনে বতুতা: 
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা। 
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ। 
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হজরত শাহজালাল মুজারদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ। 
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন। 
- এরপর তিনি ভারতে আসেন। 
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন। 
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন। 
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন। 
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলাকে 'দোজখই- নিয়ামত পুর' অর্থাৎ প্রাচুর্য পূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ. এ. এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
  1. পোল্যান্ড
  2. জার্মানি
  3. রাশিয়া
  4. নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা

◉ ডব্লিউ. এ. এস. ওডারল্যান্ড ছিলেন একজন ডাচ (নেদারল্যান্ডসের নাগরিক) বংশোদ্ভূত মুক্তিযোদ্ধা।

ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬৫.
বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম কী?
  1. ক) জনশুমারি
  2. খ) আদমশুমারি ও গৃহগণনা
  3. গ) গৃহগণনা ও জনসংখ্যা
  4. ঘ) জনশুমারি ও গৃহগণনা
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি:

- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ এবং ২০২২ সালে।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২২ সালে ষষ্ঠ শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬৬.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কত দফা ইশতেহার ঘোষনা করে?
  1. ৬ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ২১ দফা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৪৮ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পাশাপাশি পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ, পূর্ববঙ্গ বুদ্ধিজীবী সমাজ, সাংবাদিক সংঘ বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান।
- সবকিছুকে উপেক্ষা করে ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংবিধান সভার কাছে সুপারিশ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৮.
বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ওয়াভেল
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

• চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত:
- এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি। 
- চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত হয়।
- এটি প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- জমির স্বত্বাধিকারী হওয়া ছাড়াও জমিদারগণ স্বত্বাধিকারের সুবিধার সাথে চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনীয় এক নির্ধারিত হারের রাজস্বে জমিদারিস্বত্ব লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৯.
পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিলে যৌথ বাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  2. খ) কর্নেল এমএ জি ওসমানী
  3. গ) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৭০.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কয়দিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ক) ৫৬ দিন
  2. খ) ৫৮ দিন
  3. গ) ৬৩ দিন
  4. ঘ) ৫৪ দিন
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
• তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন ।
• মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন ৷
• মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।
কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করে।
• যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মেয়াদ ছিল ৫৬ দিন ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী ।
৭১.
Part of the ancient Gaur city is located in which district of Bangladesh?
  1. ক) Faridpur
  2. খ) Chapainawabganj
  3. গ) Bogura
  4. ঘ) Shariatpur
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন গৌড় নগরী:
- ধারণা করা হয় যে, গুড় উৎপাদনের কেন্দ্র বলে গৌড় নগর ও দেশের নামের উদ্ভব হয়। আর হয়ত এই গৌড় নগরকে ঘিরেই পরে গৌড় জনপদ গড়ে উঠেছিল। 
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই  গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- গৌড় বাংলার এককালীন রাজধানী এবং অধুনা ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি নগর যার অবস্থান বর্তমান ভারত-বাংলাদশে সীমান্তর্বতী অঞ্চল। এটি লক্ষণাবতী বা লখনৌত  নামেও পরিচিত।প্র

- প্রাচীন এই দূর্গনগরীর অধকিাংশ পড়ছে র্বতমান ভারতরে পশ্চমিবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদশেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। 
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করে গর্ববোধ করতেন।

- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল - কর্ণসুবর্ণ। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, (HSC Programme), বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন-
  1. ক) সিকান্দার শাহ
  2. খ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁও দখল করে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এর পূর্ণতা দান করেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
১৩৫২ সালে সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলা জয় করেন এবং দুই বাংলাকে একত্রিত করে বৃহত্তর বাংলা গড়েন।
তার সময় থেকেই বাংলাভাষী জনগণ 'বাঙালি' হিসেবে পরিচিতি পায়।
তিনি 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' 'শাহ ই বাঙালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত]
৭৩.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে কোনজন বিমান বাহিনীর সদস্য?
  1. ক) রুহুল আমিন
  2. খ) মতিউর রহমান
  3. গ) মুন্সি আব্দু রউফ
  4. ঘ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করেন। এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তরা হলেন:

- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৪.
নিম্নের কোন বীরশ্রেষ্ঠ কোনো সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেননি?
  1. নূর মোহাম্মদ শেখ
  2. মতিউর রহমান
  3. মোস্তফা কামাল
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কোনো সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেননি। 

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: 

- বীর শ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন দক্ষ পাইলট ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ২০ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে একটি বিমান ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়নকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে তিনি শাহাদত বরণ করেন।
- বাংলাদেশ সরকার তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে। ২০০৬ সালে তার দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনঃসমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে: 
- সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ৮ নং সেক্টরের যুদ্ধ করেন।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট। 
৭৫.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. পূর্ব জার্মানি
  3. স্পেন
  4. গ্রিস
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- একইদিনে চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- স্পেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ১২ মে, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো এবং নিউইয়র্ক টাইমস।
৭৬.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল -
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. এনফিল্ড রাইফেলের প্রবর্তন
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনাকার্টা
  2. খ) মদিনা সনদ
  3. গ) বিল অব রাইটস
  4. ঘ) জেনেভা কনভেনশন
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান হলো মদিনা সনদ। মদিনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী ইহুদী, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ও ‍মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতির জন্যে হযরত ‍মুহাম্মদ (স.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে ‘মদিনা সনদ’ রচনা করেন। এতে ৪৭টি ধারা ছিলো।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৮.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন কে?
  1. মোঃ নূরুল আমীন
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. ফিরোজ খান নুন
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন সময় পূর্ব বাংলার গভর্ণর ছিলেন ফিরোজ খান নুন।
- ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে খাজা নাজিমুদ্দিনের একটি উক্তি থেকে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।
- ২৭ জানুয়ারি নাজিমুদ্দিন ঘোষণা দেন, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'।
- পূর্ববাংলা আইন পরিষদের অধিবেশনে ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ভাষা প্রশ্নে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
- এই অধিবেশনের সরকারি কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
- পরিস্থিতির লক্ষ করে সরকারি দল রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- কিন্তু এই বিলের ওপর এক সংশোধনী প্রস্তাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য কেন্দ্রের নিকট সুপারিশ করা হয়।
- এরপর বিধান সভা ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবী করা হয়।
- কিন্তু গভর্নর ফিরোজ খান নুনের এক ঘোষণায় ২৪ ফেব্রুয়ারি অধিবেশনের অবসান ঘটে।
- দৈনিক আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন এসব ঘটনার প্রতিবাদে আইনসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- অনুরূপভাবে 'নওবেলাল' সম্পাদক মাহমুদ আলী মুসলিম লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি ঢাকার ছাত্র-জনতা এসব ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
Which ruler was forced to resign due to popular uprising in 1990?
  1. General Ziaur Rahman
  2. General Khaled Musharraf
  3. General Shafiullah
  4. General Hussain Muhammad Ershad
  5. None of them
ব্যাখ্যা
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের। 
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
 
উল্লেখ্য,
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।
 
নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান -
- বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'। 
 
উৎস: ৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিবিসি বাংলা।
৮০.
'Monsoon Revolution' কোনো দেশের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শ্রীলংকা
  2. ভারত
  3. বাংলাদেশ
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution):
- মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত।

- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে 'Monsoon Revolution' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে তারুণ্যের এই অভ্যুত্থান প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

তথ্যসূত্র: human rights watch প্রতিবেদন। [Link]

৮১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
  1. ওহিউল্লাহ
  2. রফিকউদ্দিন আহমদ
  3. আব্দুল বরকত
  4. আব্দুস সালাম
ব্যাখ্যা

প্রথম শহীদ:
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ ছিলেন রফিকউদ্দিন আহমদ।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
- তাকে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।
 • প্রেক্ষাপট: 
- পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা এক জনসভায় ঘোষণা করেন, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” 
- এর প্রতিক্রিয়ায় ৩১ জানুয়ারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দলের সভায় আলাউদ্দিন রহমান খানের সভাপতিত্বে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। 
- কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুবের নেতৃত্বে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ) রোজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- এর ফলে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সমবেত হয়ে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” শ্লোগান দিতে থাকে। 
- পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ হয়। 
- এই মিছিলে রফিকউদ্দিন আহমদের সঙ্গে শহীদ হন আব্দুল বরকত, আব্দুস সালাম, আবুল জব্বার প্রমুখ।
- নয় বছরের শিশু ওহিউল্লাহও পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

উৎস:
মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ;
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট;
বাংলাপিডিয়া।

৮২.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মান রক্ষা করেন শহীদ জব্বার, রফিক, বরকত, সালাম; ঐ দিনটি ছিল ফাল্গুন মাসের-
  1. ক) ৬ তারিখ
  2. খ) ৮ তারিখ
  3. গ) ৯ তারিখ
  4. ঘ) ১০ তারিখ
ব্যাখ্যা
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ৮ ফাল্গুন,১৩৫৮ তারিখ ছিল।
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল.বৃহস্পতিবার।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া
৮৩.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে অ্যাসেম্বলিতে বসবার জন্য বঙ্গবন্ধু কয়টি শর্ত দিয়েলিলেন?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অ্যাসেম্বলিতে বসবার জন্য বঙ্গবন্ধু কয়টি শর্ত দিয়েলিলেন ৪ টি।

• ৭ মার্চের ভাষণ:

- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।

• ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলোঃ
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা। 
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
- গণহত্যার তদন্ত করা।
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

• ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনটারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪.
শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম থেকে কাদের বিতাড়িত করেন?
  1. আরাকান ও মারাঠা জলদস্যু
  2. ব্রিটিশ ও পর্তুগিজ জলদস্যু
  3. মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যু
  4. ডাচ ও ফরাসি জলদস্যু
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
- তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে, অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন হবে? 
  1. ৬০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ১২০ দিন
  4. ১৮০ দিন
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তী সরকার: 
- কমিশন আইনসভার মেয়াদ শেষ হবার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙ্গে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেয়া পর্যন্ত, একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করছে;
- এই সরকারের প্রধান 'প্রধান উপদেষ্টা' বলে অভিহিত হবেন।
- আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ (পনের) দিন পূর্বে অথবা আইনসভা ভেঙ্গে গেলে,
- পরবর্তী অন্যূন ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে।
- প্রধান উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করবেন।
- অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন হবে,
- তবে যদি নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হয় তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণমাত্র এই সরকারের মেয়াদের অবসান ঘটবে।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন [লিঙ্ক]

৮৬.
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০ কার নেতৃত্বে প্রণীত হয়?
  1. প্রফেসর শামসুল হক
  2. অধ্যাপক কবীর চৌধুরী
  3. ড. কাজী খলিকুজ্জমান
  4. ড. মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
’রাজবন বিহার’ কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. কুমিল্লা 
  4. নওগাঁ
ব্যাখ্যা

রাজবন বিহার: 
- অবস্থান: রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি পাবর্ত্য জেলা।
- রাজবন বিহার শুধুমাত্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়;
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই এখানে প্রবেশাধিকার রয়েছে।
- নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ বিহারে দেখা যাবে স্বর্গীয় সিড়ি।
- বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধ্যানের বিশাল গর্ত।
- আরও আছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় মূর্তি।
- যে জিনিসটি বিশেষ দ্রষ্টব্যজনক সেটি হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মগুরু শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে)'র মৃতদেহ ভক্তদের দেখার জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও,
• কুমিল্লার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিহার হলো: শালবন বিহার, কুটিলা মুড়া, চন্দ্রমুড়া, রূপবন মুড়া, ইটাখোলা মুড়া এবং সতের রত্নমুড়া।
• সোমপুর মহাবিহার (বর্তমান নওগাঁ জেলায় অবস্থিত) এবং জগদ্দল বিহার (বর্তমান নওগাঁ জেলায় অবস্থিত)।

উৎস: জাতীয় তথ্যবাতায়ন।

৮৮.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়-
  1. ক) ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর
  2. খ) ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর
  3. গ) ১৯৫৭ সালের ২৫ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালের ৮ জুন
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা ও মন্ত্রীপরিষদ বাতিল করেন।
- ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৯.
What was the former name of Bhasan Char?
  1. ক) Thengar Char
  2. খ) Char Kodom
  3. গ) Nijhum Dweep
  4. ঘ) Char Piya
ব্যাখ্যা
ভাসান চর:

- ভাসান চর ঠেঙ্গারচর নামে পরিচিত।

- হাতিয়ায় মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি পৃথক চর হচ্ছে ঠেঙ্গারচর ও জালিয়ার চর (ভাসানচর)। 
- রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের কাজ চলছে জালিয়ার চর তথা ভাসানচরে।

বিভিন্ন চরসমূহ,

- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর খাতা নিজাম প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন : দুবলার চর, পাটনি চর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলা ট্রিবিউন, ২২ অক্টোবর ২০১৭।
৯০.
কবে বঙ্গভঙ্গ বাস্তবায়ন করা হয়?
  1. ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এর বাস্তবায়ন হয়।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- এই প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম -
  1. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  4. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন “জাতীয় শিক্ষা কমিশন” যা ২৬ জুলাই ১৯৭২ সালে গঠিত হয়।
- “জাতীয় শিক্ষা কমিশন” এর চেয়ারম্যান ছিলেন ড. কুদরত-ই-খুদা।
- ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমিশনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিত।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯২.
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোথায় অবস্থিত?
  1. সাভার
  2. আড়াইহাজার
  3. ঈশ্বরদী
  4. জয়দেবপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (BARRI):
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ প্রতিষ্ঠানটি সর্বতোভাবে নিয়োজিত রয়েছে।
- প্রধান কার্যালয় - গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর।
- মহাপরিচালক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পরিচালক।

• বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ২০১৫ অনুযায়ী বিএআরআই এর ম্যান্ডেট নিম্নরূপ:
- ধান, পাট, চা, তুলা ও চিনি জাতীয় ফসল ব্যতীত অন্যান্য সকল ফসলের (দানাদার
ফসল, কন্দাল ফসল, তৈলবীজ ফসল, ডাল ফসল, ফুল, ফল, সবজি ফসল, মসলা ফসল ইত্যাদি) গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা।

ইনস্টিটিউটের কার্যাবলী:
- গবেষণার বিষয়াবলির বিস্তৃত রূপরেখা প্রণয়ন ও অনুমোদন;
- ইনস্টিটিউটের 'ম্যান্ডেটে' উল্লিখিত ফসলসমূহের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, মানসম্পন্ন উৎপাদন প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির স্থিতিশীল ও উৎপাদনশীল - কৃষি গবেষণার উদ্যোগ গ্রহণ করা:
- কৃষি কাজ দক্ষতার সহিত সম্পন্ন করিবার জন্য কৃষকগণকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও তথ্যাবলি সরবরাহ করা;
- কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার উপর গবেষণা পরিচালনার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গবেষণা কেন্দ্র, উপকেন্দ্র, প্রকল্প এলাকা ও খামার স্থাপন করা;
- ফসলের নতুন জাত ও ইহাদের পরিচর্যার উপর পরীক্ষণ ও প্রদর্শনী পরিচালনা করা।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট।
৯৩.
’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ প্রথম নারী শহীদ কে?
  1. নাঈমা সুলতানা
  2. সাবিনা আক্তার 
  3. তানজিলা নাযিয়া
  4. নাহিদা খাতুন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
- ৮৪৪ জন জুলাই শহীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছিল।
​- তবে আটজন শহীদের নাম বাতিল করেছে।
​- বর্তমানে গেজেটেড শহীদ ৮৩৬ জন।
- এর মধ্যে ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জন নারীর নাম রয়েছে।
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
- প্রথম নারী শহীদ নাঈমা সুলতানা।
- সময়: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

উৎস: প্রথম আলো।

৯৪.
”গাঙ্গে দেশ’ কোন রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত ?
  1. ক) গৌড়
  2. খ) পুন্ড্রনগর
  3. গ) গুপ্ত
  4. ঘ) গঙ্গারিডাই
ব্যাখ্যা

গাঙ্গে দেশ’ কোন রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত। নদী তীরে, নদীর নামে ‘গাঙ্গে’ ছিল একটি বাণিজ্য শহর।
- টলেমির ‘গঙ্গারিডাই’ এবং ‘পেরিপ্লাস’ গ্রন্থের লেখকের ‘গাঙ্গে দেশ’ এর উল্লেখ পাওয়া যায় । 
- টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। 

কালিদাসের রঘুবংশ-এ বঙ্গের যে বিবরণ পাওয়া যায় তা অভিন্ন অর্থই ব্যক্ত করে। তাই প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদকে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখকদের ‘গঙ্গারিডাই’-এর সমতুল্য গণ্য করা যেতে পারে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯৫.
জেলহত্যা সংঘটিত হয় কবে?
  1. ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫
  2. ৩রা নভেম্বর ১৯৭৬
  3. ৩রা নভেম্বর ১৯৭৭
  4. ৩রা নভেম্বর ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- তাজউদ্দীন আহমদ
- এম মনসুর আলী এবং
- এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
এই হত্যাকাণ্ড ইতিাহসে জেলহত্যা নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা)
৯৬.
বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত ছিলেন -
  1. ক) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. খ) এ. এম. এ. মুহিত
  3. গ) হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
  4. ঘ) বিচারপতি এম. এ. রহমান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত

- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭.
প্রথম তৈরি শহীদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়-
  1. ক) ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. গ) ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ঘ) ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়।
-এটি ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান অনানুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৯৮.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ১৭৫ জন
  3. গ) ৪২৬ জন
  4. ঘ) ৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
 বীরত্বসূচক খেতাব
-  বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন। 
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
• বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
• বীর উত্তম - ৬৮ জন
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০০১ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক পুরস্কার এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
কোন ভ্রমণকারী বাংলাকে 'ধনসম্পদপূর্ণ নরক' হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. ফা হিয়েন 
  2. হিউয়েন সাং
  3. ইবনে বতুতা 
  4. মেগানিস্থিস
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কে?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) সৈয়দ মইনুল হোসেন
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
▪ বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত যা সম্মিলিত প্রয়াস নামেও পরিচিত। এটির স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।
▪  ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
▪ ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এটি উদ্বোধন করেন।
▪ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মোট সাতটি স্তম্ভ রয়েছে যা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।