উত্তর
ব্যাখ্যা
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় - তৎসম বা সংস্কৃত।
অর্থ:
- আম গাছ।
- আম।
সূত্র: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৮ / ১১ · ৭০১–৮০০ / ১,০৫৭
অর্ধ-তৎসম শব্দ:
বাংলা ভাষায় কিছু শব্দ সংস্কৃত থেকে কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়। এই শব্দগুলোকে বলে অর্ধ-তৎসম শব্দ।
অর্ধ-তৎসম মানে হচ্ছে - আধা সংস্কৃত।
যেমন -
জ্যোৎস্না - জ্যোছনা
শ্রাদ্ধ - ছেরাদ্দ
গৃহিনী - গিন্নী ইত্যাদি।
অর্ধ-তৎসম শব্দগুলো মূলত সংস্কৃত শব্দের কথ্য রূপ। এই কারণে মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের নতুন সংস্করণে উৎস অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার থেকে 'অর্ধ-তৎসম' শ্রেণীটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
'বিয়ে' শব্দ তেমনি একটি 'অর্ধ-তৎসম' শব্দ।
কেননা, এই শব্দটির মূল সংস্কৃত শব্দ হচ্ছে - বিবাহ।
আর বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, 'বিবাহ' শব্দের কথ্য রূপ হচ্ছে - বিয়ে।
তদ্ভব শব্দ হওয়ার জন্য মূল সংস্কৃত শব্দটির অবশ্যই একটি প্রাকৃত রূপ থাকতে হয়। কেননা, সংস্কৃত শব্দ যখন প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, তখন সেগুলো তদ্ভব শব্দ হিসাবে গণ্য হয়। এখানে, বিবাহ শব্দটি প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় নি। সামান্য পরিবর্তিত হয়ে 'বিয়ে' শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে।
তাই, 'বিয়ে' শব্দটি তদ্ভব না হয়ে 'অর্ধ-তৎসম' হয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (নতুন ও পুরাতন সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
আরবি শব্দঃ
বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দ গুলোকে দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
• ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ
আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান,তওবা, তসবি, যাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল।
• প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ
আদালত, আলেম, এলেম, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
শব্দ:
- অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বলা হয় শব্দ।
- এক বা একাধিক ধ্বনি একত্রিত হয়ে যখন মনের ভাব প্রকাশ করে, তখন তাকে বলা হয় শব্দ।
- শব্দ হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- অর্থগতভাবে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। যৌগিক শব্দ,
২। রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং
৩। যোগরূঢ় শব্দ।
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন- পাঠক, মিতালি, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক ইত্যাদি।
রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ:
- যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।
যেমন- সন্দেশ, জ্যাঠামি, প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন- পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
যৌগিক শব্দ:
- যে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং ব্যবহারিক অর্থ একই, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলা হয়।
- অর্থাৎ শব্দের মূল গঠন অনুযায়ী অর্থ এবং ভাষায় প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।
- উদাহরণ:
- পাঠক, গুণবান, ভাড়াটে, মেয়েলি, শয়ন, মিতালি, নায়ক, নয়ন, গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা, মলম, কলম।
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং ব্যবহারিক অর্থ মিলছে না, অর্থাৎ প্রকৃতির অর্থ থেকে বিচ্যুত অর্থ বহন করে, সেগুলোকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ:
- মন্দির, ফলাহার, কারচুপি, তৈল, ভাজা, সন্দেশ, গবেষণা, রাখাল, প্রবীণ, শ্বশুর, পাঞ্জাবী, হস্তী, দারুণ, বাঁশি, হরিণ, মন্ডপ।
• যোগরূঢ় শব্দ:
- যেসব শব্দ সমাস বা ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে পৃথক কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে যোগরূঢ় শব্দ বলা হয়।
- এর কিছু উদাহরণ:
- শাখামৃগ – সমাস বিশ্লেষণে এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলে লম্বা লেজ এবং লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির বনচর স্তন্যপায়ীকে বোঝায়, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারিক অর্থে এটি কেবল বানরকে নির্দেশ করে।
- পঙ্কজ – মূলত ‘পঙ্কে জন্মায় এমন কিছু’, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থে শুধুমাত্র পদ্মফুল।
- সরোজ – ‘সরোবরে জন্মায় এমন কিছু’, ব্যবহারিক অর্থে শুধু পদ্মফুল।
- রাজপুত – ‘রাজার পুত্র’, ব্যবহারিক অর্থে একটি নির্দিষ্ট জাতি বোঝায়।
- মহাযাত্রা – ‘মহাসমারোহে যাত্রা’, ব্যবহারিক অর্থে মৃত্যু বোঝায়।
- জলধি – ‘জল ধারণ করে এমন কিছু’, ব্যবহারিক অর্থে শুধুমাত্র সমুদ্র।
- জলদ – ‘জল দেয় এমন কিছু’, ব্যবহারিক অর্থে মেঘ বোঝায়।
- আরও কিছু উদাহরণ- দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, তুরাঙ্গম, আদিত্য।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
শব্দ:
- শব্দকে অর্থগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১. যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন:
- গায়ক,
- দৌহিত্র,
- কর্তব্য,
- বাবুয়ানা,
- চিকামারা,
- মধুর,
- শয়ন,
- গুণবান।
২. রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন:
- হস্তী,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ।
৩. যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।যেমন:
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- আদিত্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• তৎসম শব্দ নয় - খিদে।
- 'খিদে' অর্ধ-তৎসম শব্দ। এটি সংস্কৃত 'ক্ষুধা' শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'খিদে' হয়েছে।
------------------
• তৎসম শব্দ:
যে সকল শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে অবিকৃত অবস্থায় বাংলা ভাষায় এসেছে এবং এখনও তা অবিকৃত অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 'তৎসম' একটি পারিভাষিক শব্দ । 'তৎ' অর্থ 'তার' এবং ‘সম’ অর্থ ‘সমান'। শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘তার সমান'। অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
যেমন : সূর্য, চন্দ্র, পর্বত, রবি, শশি, নক্ষত্র, মনুষ্য, পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ধর্ম, কর্ম, ভোজন, শয়ন, সত্য, ক্ষমা, ক্ষমতা, ঘৃত, চর্ম, জল, জলদ, অদ্য, ক্ষতি, কুণ্ডল, দীক্ষিত, বন্য, মুক্তি, ভবন, পত্র, প্রস্তর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু শব্দ আছে যা বিদেশী ভাষা থেকে এসেছে কিন্তু এখন তা বাংলা ভাষার অন্তর্ভূক্ত।যেমনঃ আরবি, ফারসি, হিন্দি ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলো তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
বিবিধ শব্দ: আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• যোগরূঢ় শব্দ সমূহঃ
- পঙ্কজ,
- আদিত্য,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- জলদ,
- দশানন,
- বহুব্রীহি,
- গোঁফখেজুরে ইত্যাদি।
• রূঢ়ি শব্দ সমূহঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ,
- হরিণ,
- কুশল,
- পাঞ্জাবি,
- মন্দির,
- ফলাহার,
- কারচুপি,
- রাখাল,
- কদর্য,
- শুশ্রূষা ইত্যাদি শব্দগুলো রূঢ়ি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
অর্ধতৎসম বা ভগ্ন সংস্কৃত শব্দ :
সংস্কৃতকে মানদণ্ড ধরে নিয়েই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে যে, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত যেসব শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলো অর্ধতৎসম শব্দ। এই শব্দগুলো মানুষের মুখে মুখেই পাল্টেছে এবং এর থেকে এমন ধারণা করাও অসংগত হবে না যে, সাধারণ বাংলা ভাষী জনগণের আসলে সংস্কৃতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদানের কোনো আগ্রহ ছিল না। তাই তারা তাদের মতো করে সংস্কৃত অনেক শব্দকে সহজ করে নিয়েছে।
অর্ধতৎসম শব্দের কয়েকটি উদাহরণ হলো : জ্যোৎস্না > জোছনা, শ্রাদ্ধ> ছেরাদ্দ, গৃহিণী> গিন্নি, বৈষ্ণব> বোষ্টম, কুৎসিত > কুচ্ছিত, সত্য > সত্যি প্রভৃতি।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
মৌলিক শব্দঃ
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।
অন্যদিকে, গায়ক শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
সাধিত শব্দ:
যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় বা ভাঙা যায় এবং ভগ্ন অংশের সুস্পষ্ট অর্থ থাকে সেরকম বিভাজ্য শব্দকে সাধিত শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ থেকেই সাধারণত সাধিত শব্দ গঠন করা হয়। সাধিত শব্দ মাত্রেই বিশ্লেষণযােগ্য। সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
উদাহরণ :
(ক) অকাজ (অ+কাজ) , এখানে ‘অ’ উপসর্গ।
(খ) নাম প্রকৃতির সঙ্গে শব্দ-বিভক্তি বা কারক-বিভক্তি যােগ করে– মানুষকে (মানুষ + কে); এখানে 'মানুষ’ নাম-প্রকৃতি এবং ‘কে’ শব্দ-বিভক্তি।
(গ) ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া-বিভক্তি যােগ করে। যেমন : পড়া (পড়ু+আ); এখানে ‘পড়’ ধাতু এবং ‘আ’ কৃৎ প্রত্যয়।
(ঘ) শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় যােগ করে। যেমন : ঢাকাই (ঢাকা+আই); এখানে ‘ঢাকা’ একটি শব্দ এবং ‘আই' তদ্ধিত প্রত্যয়। এরকম : মেঘলা (মেঘ + লা)।
(ঙ) সমাসবদ্ধ করে। যেমন : রাজপুত্র (রাজার পুত্র); নীলাকাশ (নীল যে আকাশ) ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - তৈল, গবেষণা, বাঁশি।
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃতের শব্দভাণ্ডার থেকে সব সময়েই প্রয়ােজনীয় শব্দাবলি বাংলা ভাষায় গ্রহণ করা হয়। যে-সব সংস্কৃত শব্দ অপরিবর্তিত রূপে হুবহু বাংলায় এসেছে সে-সব শব্দকে ‘তৎসম শব্দ’ বলা হয়।
- তৎসম শব্দের উদাহরণ : ডিম, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, আকাশ, স্থল, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
অপরদিকে,
''হারাম'' আরবি শব্দ৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায় তা-ই পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
যেমন -
- সপ্তাহ বলতে আমরা সাত দিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি।
- সপ্ত (সাত) অহ (দিনক্ষণ) = সপ্তাহ।
- এখানে দিন একটি একক।
- এরূপ সাতটী দিন বা সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- চাঁদ, গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- বিমল = বি + মল।
- চলন্ত = চল + অন্ত
- শয়ন = শী + অন।- সাধিত শব্দ।
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, বন্ধুত্ব, প্রশাসন, দায়িত্ব, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- সংস্কৃতের শব্দভাণ্ডার থেকে সব সময়েই প্রয়ােজনীয় শব্দাবলি বাংলা ভাষায় গ্রহণ করা হয়। যে-সব সংস্কৃত শব্দ অপরিবর্তিত রূপে হুবহু বাংলায় এসেছে সে-সব শব্দকে ‘তৎসম শব্দ’ বলা হয়।
- প্রাচীন-ব্যাকরণ রচয়িতারা ‘তৎ' অর্থাৎ ‘তা’ বলতে বােঝাতেন ‘সংস্কৃত’ (এখন বলি প্রাচীন ভারতীয় আর্য) ভাষাকে। আর ‘সম’ শব্দের অর্থ ‘সমান। তৎসম শব্দের অর্থ সংস্কৃতের সমান অর্থাৎ সংস্কৃত।
- বাংলা সাধু ভাষার শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ শব্দ তৎসম।
- তৎসম শব্দের উদাহরণ : অঞ্চল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, আকাশ, স্থল, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমী অভিধান।
• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- কুপন,
- ডিপো,
- রেস্তোরাঁ,
- আঁতেল,
- ওলন্দাজ,
- দিনেমার,
- কাফে,
- আঁতাত,
- বুর্জোয়া,
- রেনেসাঁ, রেনেসাঁস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- পঙ্কজ, আদিত্য, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, অসুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
'দোকান' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
আরো কয়েকটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ:
- খোদা
- নামাজ
- দোজখ
- রোজা
- চশমা
- তোশক
- কারখানা
- আমদানি
- জানোয়ার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক।
যোগরূঢ় শব্দ - মহাযাত্রা, পঙ্কজ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
- যেমন- জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।
অন্যদিকে,
- তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।যেমন:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- হস্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'কুচ্ছিত' অর্ধ-তৎসম শব্দ।
• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
- তৎসম মানে সংস্কৃত৷ আর অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।
উদাহরণ:
বোষ্টম, জ্যোছনা, গিন্নি, কুচ্ছিত, ছেরাদ্দ- এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ বৈষ্ণব, জ্যোৎস্না, গৃহিণী, কুৎসিত, শ্রাদ্ধ থেকে আগত।
উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) বইয়ে অর্ধ-তৎসম কে শব্দের শ্রেনিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
তারিখ পূরণবাচক শব্দ:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারোই (১১ই), বারোই (১২ই), তেরোই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরোই (১৫ই), ষোলোই (১৬ই), সতেরোই (১৭ই), আঠারোই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।
অন্যদিকে,
- দ্বাদশ,
- পনেরোতম ও
- ষোড়শ সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
গোসল ধর্মসংক্রান্ত আরবি শব্দ।
ফারসি শব্দের আরও উদাহরণ :
নমুনা, বদমাশ, হাঙ্গামা, আমদানি, রফতানি, চশমা, বান্দা, রোজা, ফেরেশতা
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)
দারোগা (বিশেষ্য)
অর্থ :
থানার অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী; পুলিশের ইন্সপেক্টর বা সাবইন্সপেক্টর।
দারোগা ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
=================
উল্লেখ্য - মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) অনুসারে - দারোগা তুর্কি ভাষার শব্দ।
কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য।
# মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইয়ের কয়েকটি বিদেশি শব্দের উৎস সম্পর্কিত ‘ভুল বা বিভ্রাট’ নিয়ে আলোচনা ও সমাধান সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে অ্যাপের প্রিমিয়াম সেকশন থেকে আমাদের তথ্যকল্পদ্রুম এর ১, ১২ ও ১৩ নাম্বার পোস্টগুলো দেখুন।
ফেসবুক পোস্ট লিংক:
লিংক - ১
লিংক - ২
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কতিপয় মিশ্র শব্দ-
ডাক্তার-বাবু - ইংরেজি + তৎসম
খ্রিস্টাব্দ - ইংরেজি + তৎসম
চৌ-হদ্দি - ফারসি + আরবী
হাট-বাজার - বাংলা + ফারসি
কালি-কলম - সংস্কৃত + আরবি
পকেট-মার - ইংরেজি + বাংলা
ডাক্তার-খানা - ইংরেজি + ফারসি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
যৌগিক শব্দঃ যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় উক যোগে লাজুক শব্দটি গঠিত হয় যা একটি যৌগিক শব্দ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা - ড.হায়াৎ মামুদ