বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিকস

মোট প্রশ্ন৬২৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিকস

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৬২৫

.
মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. তথ্য স্থায়ীভাবে জমা রাখা
  2. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করা
  3. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করা
  4. তথ্য প্রদর্শন করা
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসর: 
- সমন্বিত (Integrated Circuit) বর্তনী আবিষ্কারের ফলে বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোতে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং গাণিতিক/যুক্তি ইউনিটগুলো একই সঙ্গে মাইক্রোপ্রসেসরে থাকে। ফলে আধুনিক কম্পিউটারে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকেই বুঝায়। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যের উপর কম্পিউটারের ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- মাইক্রোপ্রসেসরের প্রধান কাজগুলো হলো- 
১. ইনপুট ও আউটপুট অংশগুলোর সংগে কাজের সমন্বয় সাধন করা। 
২. গাণিতিক/যুক্তির কাজ করা। 
৩. কম্পিউটারের স্মৃতিতে সঞ্চিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা।  
৪. স্মৃতি ও গাণিতিক/যুক্তি অংশের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ এবং অন্যান্য অংশের সাথে তথ্য বিনিময়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। 
- এই সমস্ত কাজ সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে প্রয়োজনীয় বর্তনী থাকে। 
- উপরে উল্লিখিত কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরের সংগঠনকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নিয়ন্ত্রণ অংশ, 
২। গাণিতিক/যুক্তি অংশ এবং   
৩। স্মৃতি । 


উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে ট্রানজিস্টর কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞাঃ দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

সুতরাং একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে।
গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকারঃ
(১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং
(২) n-p-n ট্রানজিস্টর।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত কোনটি? 
  1. মেসনের প্রবাহ
  2. নিউট্রনের প্রবাহ
  3. ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. প্রোটনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• বিটা রশ্মি মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। যখন কোনো অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে, তখন এটি অতিরিক্ত শক্তি মুক্তি পায়। এই শক্তি মুক্তির সময় নিউক্লিয়াস ইলেকট্রন নির্গত করে, যাকে আমরা বিটা কণা বা বিটা রশ্মি বলি। বিটা কণা একটি ক্ষুদ্র, নেতিবাচক চার্জযুক্ত কণা, যা দ্রুত গতিতে নির্গত হয়। তাই বিটা রশ্মির সাথে ইলেকট্রনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং এটি পারমাণবিক বিকিরণের এক গুরুত্বপূর্ণ ধরন।

- সঠিক উত্তর: গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
সূর্য রশ্মি থেকে বিকিরণের প্রধান উৎস হিসেবে কোন রশ্মি বের হয়? 
  1. এক্স রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে এর শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

এক্স রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে 10-8 m পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহকে বলা হয় X-ray বা এক্স রশ্মি। 
- বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তার নাম অনুসারে এই রশ্মিকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। 
- গামা রশ্মি থেকে এর কম্পাঙ্ক কম বলে এর শক্তিও অপেক্ষাকৃত কম। 
- এই রশ্মি মানুষের দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় বা টিউমার জাতীয় শক্ত টিস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এই রশ্মির সাহায্যে ফটো তুলে দেহের ভেতরের হাড় এবং টিউমার সনাক্ত করা হয়। 

অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- এই রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পান -
  1. ক) বেল বার্ডিন
  2. খ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  3. গ) উইলিয়াম শকলি
  4. ঘ) উপরের সকলে
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য ১৯৫৬ সালে বেল বার্ডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
.
নিচের কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর। যেমন—জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই সেমিকন্ডাক্টর চিহ্নিত করা হয় না।
- কেননা কিছু সংকরও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু সেগুলো সেমিকন্ডাক্টর নয়। 

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
- এর আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।
- এতে কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় (0K, শূন্য কেলভিন) এরা অপরিবাহী।
-  একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
 - দু প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বৃদ্ধি করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
-  এদের পরিবহণ ও যোজনব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর কম।

জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী হলেও অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয় , বরং এটি একটি পরিবাহী পদার্থ। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
.
ট্রান্সফরমারে বিভব বৃদ্ধি করলে কী ঘটে?
  1. শক্তি কমে যায়
  2. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়
  4. তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

- ট্রান্সফরমারে যখন ভোল্টেজ বা বিভব বৃদ্ধি করা হয় (যাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার বলা হয়), তখন শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুযায়ী তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট কমে যায়। যেহেতু ট্রান্সফরমারের আদর্শ অবস্থায় ইনপুট ক্ষমতা এবং আউটপুট ক্ষমতা সমান থাকে (P = V × I), তাই ভোল্টেজ (V) বৃদ্ধি পেলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে তড়িৎ প্রবাহের (I) মান হ্রাস পেতে হয়। 

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। 
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে কোনটি?
  1. ইনডাক্টর
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ইনভার্টার
ব্যাখ্যা

• রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
অন্যদিকে,
- ইনডাক্টর হলো একটি ইলেকট্রনিক উপাদান যা চুম্বকীয় ক্ষেত্রে শক্তি সঞ্চয় করে এবং এসি প্রবাহের পরিবর্তনে বাধা দেয়।
- ট্রান্সফরমার কেবল এসি ভোল্টেজের মান কমায় বা বাড়ায় কিন্তু প্রবাহের প্রকৃতি এসি থেকে ডিসিতে পরিবর্তন করতে পারে না।
- ইনভার্টার রেকটিফায়ারের ঠিক বিপরীত কাজ করে অর্থাৎ এটি ডিসি বিদ্যুৎকে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে।

• রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- একমুখীকারক দুই প্রকার। যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।

.
স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা ______।
  1. কম থাকে
  2. বেশী থাকে
  3. সমান থাকে
  4. যেকোনোটিই হতে পারে
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুন্ডলী থাকে।
- কুন্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুন্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুন্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- ট্রান্সফরমার যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।
- ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী থাকে।
- অপর দিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্সরে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:

• তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (আলফা, বিটা ও গামা) নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
• এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নিউক্লীয় ও স্বাভাবিক ঘটনা। 
• পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি তারাই মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
• যেমন: ইউরোনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি।
• ভরের বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে (বেশি হতে কম) আলফা রশ্মি > বিটা রশ্মি > গামা রশ্মি।
• ভেদন ক্ষমতার বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে: গামা রশ্মি > বিটা রশ্মি> আলফা রশ্মি।

উল্লেখ্য,
• 1896 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল (Henry Becquerel) সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
• তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য দুটি একক রয়েছে, যথা- 
(১) কুরী (Curie) এবং (২) বেকেরেল (Becquerel)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১.
এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার কোথায় দেখা যায়? 
  1. শিল্প ক্ষেত্রে
  2. চিকিৎসা ক্ষেত্রে
  3. গোয়েন্দা বিভাগে
  4. বৈজ্ঞানিক গবেষণায়
ব্যাখ্যা
এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- এক্স-রে শিল্পে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ধাতুর ঢালাইয়ের ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি শনাক্তকরণ, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান, এবং ঝালাইয়ের ত্রুটি নির্ণয় ইত্যাদি। 
- এছাড়া টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান পরীক্ষা এবং ক্ষতিকর বস্তু সনাক্তকরণেও এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

২। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্স-রের সবচেয়ে ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। 
- এক্স-রের ভেদন ক্ষমতার মাধ্যমে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়, যা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। 
- কোমল এক্স-রে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে, কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করতে পারে না। এর মাধ্যমে হাড়ের ফাঁটল, দুর্ঘটনায় প্রবেশ করা ধাতব বস্তু, পাকস্থলিতে পাথর, ফুসফুসের ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের আলসার ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব। 
- বর্তমান সময়ে ক্যান্সার চিকিৎসা এবং কিছু চর্মরোগ নিরাময়ে এক্স-রের ভূমিকা অপরিহার্য। 

৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়: 
- এক্স-রে কেলাসের গঠন এবং অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং গবেষণার জন্য একটি অপরিহার্য সরঞ্জাম। 

৪। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- এক্স-রে গোয়েন্দা বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল। 
- এটি চোরাচালানী বা নিষিদ্ধ বস্তু, বিস্ফোরক, গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- এমনকি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও এক্স-রের ব্যবহার দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোনটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হিসেবে পরিচিত?
  1. FPGA
  2. VLSI
  3. LSI
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপে হাজার হাজার বা মিলিয়ন ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপাদান একত্রিত করা। FPGA হলো প্রোগ্রামেবল লজিক ডিভাইস যা বিভিন্ন ডিজাইন অনুযায়ী কনফিগার করা যায়। LSI (Large Scale Integration) এবং VLSI (Very Large Scale Integration) হল বড় আকারের ইন্টিগ্রেশন প্রযুক্তি, যেখানে ক্রমশ আরও বেশি ট্রানজিস্টর একটি চিপে সংযুক্ত করা হয়।
- তাই FPGA, LSI এবং VLSI - তিনটিই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদাহরণ। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) সবগুলোই।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের সুবিধা সমূহ- 
১. এটি আকারে বেশ ছোট্ট। 
২. অনেক জটিল সার্কিট একটি একক চিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাই এটি একটি জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিটের নকশাকে সহজতর করে। এছাড়াও এটি সার্কিটের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. আইসিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
৪. অধিক উৎপাদনের কারণে এগুলো কম খরচে পাওয়া যায়।
৫. আইসিগুলো খুব অল্প শক্তি গ্রহণ করে।
৬. প্যারাসাইটিক ক্যাপাসিট্যান্স প্রভাব না থাকায় এদের অপারেটিং গতি অনেক উচ্চ হয়।
৭. মূল সার্কিট থেকে খুব সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

১৩.
এক্স-রে কোন সালে আবিষ্কৃত হয়? 
  1. ১৮৮৫ সালে
  2. ১৮৯৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 

এক্স-রের ব্যবহার: 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। 
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়। 
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
কোন পদার্থ পরম শূন্য তাপমাত্রায় অন্তরকের ন্যায় কাজ করে?
  1. অতিপরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ 
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা

• পরম শূন্য তাপমাত্রায় তাপীয় শক্তির অভাবে অর্ধপরিবাহীর ইলেকট্রনগুলো যোজন ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে যেতে পারে না। ফলে কোনো মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় এটি একটি নিখুঁত অন্তরকের ন্যায় আচরণ করে।

• অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
Gamma rays in electric and magnetic fields- 
  1. are scattered
  2. are not scattered
  3. travel in curved paths
  4. are partially scattered
  5. are scattered in electric fields but not in magnetic fields
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত হয় না (not scattered), কারণ গামা রশ্মি আধান নিরপেক্ষ (কোনো চার্জ নেই), ফলে এটি তড়িৎ ক্ষেত্র বা চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিচ্যুত বা বক্র পথে চালিত হয় না, বরং সরলরেখায় চলে যায়। 

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মি আলোর বেগের ন্যায় গতিশীল। 
- বেগের কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- গামা রশ্মিটি ফটোগ্রাফিক পেণ্টটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৬.
পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে কী তৈরি হয়?
  1. রেডন ও থোরিয়াম
  2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন 
  3. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
  4. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
ব্যাখ্যা

• বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

• পারমাণবিক শক্তি:
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

উৎস:
১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।

১৭.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
  2. কোবাল্ট আইসোটোপ
  3. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
  4. আয়োডিন আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১৮.
ভেদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. গামা < আলফা < বিটা
  2. আলফা < বিটা < গামা
  3. বিটা < গামা < আলফা
  4. গামা < বিটা < আলফা
ব্যাখ্যা
• ভেদন ক্ষমতার ক্ষেত্রে সঠিক ক্রম হলো আলফা < বিটা < গামা। 

• ভেদন ক্ষমতা:
- ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) বলতে বোঝায় কোনো বিকিরণ পদার্থের কতটুকু গভীরে বা কতদূর ভেদ করে যেতে পারে।
- এটি নির্ভর করে কণার শক্তি, ভর ও আধান-এর উপর।

• তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়।
- আলফা
- বিটা
- গামা 

• আলফা কণার ধর্ম:
- আলফা কণার ধনাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 3.2 × 10-19 C । 
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- এ কণা তীব্র আয়নায়ন সৃষ্টি করতে পারে।
- এর ভর বেশি হওয়ায় ভেদনক্ষমতা কম।

• বিটা কণার ধর্ম:
- এ কণা ঋণাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 1.6 × 10 -19 C ।
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এ কণা অত্যন্ত দ্রুত নির্গত হয়। এর দ্রুতি আলোর দ্রুতির শতকরা 98 ভাগ পর্যন্ত হতে পারে।
- এ কণা অতি উচ্চ দ্রুতিসম্পন্ন ইলেকট্রনের প্রবাহ। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

• গামা রশ্মির ধর্ম:
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এ রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয় না।
- এর বেগ আলোর বেগের সমান অর্থাৎ ৪.3 × 108 ms-1
- আলফা ও বিটা কণার চেয়ে এ রশ্মির ভেদনক্ষমতা বেশি। এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত ভেদ করে যেতে পারে।

• তিনটি বিকিরণের মধ্যে গামা রশ্মি সবচেয়ে বেশি ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। সবচেয়ে কম ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি হলো আলফা। বিটা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১৯.
রাদারফোর্ড, পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির তেজস্ক্রিয়তার ওপর গবেষণার প্রধান অবদান কী ছিল? 
  1. রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার
  2.  তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ
  3. নিউট্রনের গঠন ব্যাখ্যা 
  4. আলফা রশ্মির শক্তি পরিমাপ
ব্যাখ্যা

• মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক অবদান
- মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি ইউরেনিয়াম যৌগ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে, কিছু পদার্থ নিজে থেকেই শক্তিশালী বিকিরণ নির্গত করে, যা বাহ্যিক কোনো প্রভাব ছাড়াই ঘটে।তাঁরা গবেষণার মাধ্যমে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়াম (Ra) ও পোলোনিয়াম (Po) আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কার তেজস্ক্রিয়তার ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং আধুনিক পরমাণুবিজ্ঞানের ভিত্তি গঠনে সহায়তা করে।
- মেরি কুরি 1903 সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (বেকেরেল ও পিয়ের কুরির সঙ্গে) এবং 1911 সালে রসায়নে এককভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁরা প্রমাণ করেন যে তেজস্ক্রিয়তা কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়, বরং এটি পরমাণুর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনজনিত প্রক্রিয়া।

- রাদারফোর্ড তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে বিশ্লেষণ করে তিনটি প্রধান রশ্মি শনাক্ত করেন 
(i) আলফা (α) রশ্মি: ধনাত্মক চার্জযুক্ত, ভারী ও কম অনুপ্রবেশক্ষম।
(ii) বিটা (β) রশ্মি: ঋণাত্মক চার্জযুক্ত, ইলেকট্রন সদৃশ কণা।
(iii) গামা (γ) রশ্মি: কোনো চার্জ নেই, তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ, প্রবেশক্ষমতা সর্বাধিক।

উল্লেখ্য,
ক) রেডিওঅ্যাক্টিভ ধাতু আবিষ্কার - পিয়ের কুরি ও মেরি কুরির একটি অবদান কিন্তু,
খ) তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রকার নির্ধারণ - সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।
মেরি ও পিয়ের কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন, কিন্তু এটি তাদের প্রধান অবদান নয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

২০.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে?
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় মৌল। 
    অপশনের গ) তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে।

    সূত্র - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
    ২১.
    আলফা কণিকার চার্জ কোনটি? 
    1. শূন্য 
    2. ধনাত্মক 
    3. ঋণাত্মক 
    4. পরিবর্তনশীল 
    ব্যাখ্যা

    আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
    ১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
    ২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব
    ৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
    ৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
    ৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
    ৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
    ৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়, এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
    ৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
    ৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ২২.
    পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস নিচের কোনটি? 
    1. সৌরকোষ
    2. ডায়নামো
    3. ব্যাটারি 
    4. ডিসি জেনারেটর
    ব্যাখ্যা

    - পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস হচ্ছে 'জেনারেটর বা ডায়নামো'।

    তড়িৎ প্রবাহ: 
    - তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
    অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
    - তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
    - তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
    যথা- 
    ১. পর্যায়বৃত্ত বা এসি প্রবাহ: 
    - যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
    - বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
    - এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
    - পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
    - দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
    - পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
    যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

    ২. অপর্যায়বৃত্ত বা একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
    - যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
    - তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
    - আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

    উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

    ২৩.
    ট্রানজিস্টরকে কোন কাজে ব্যবহার করা যায়?
    1. শুধুমাত্র তাপ উৎপাদনে
    2. উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে
    3. ব্যাটারি চার্জ করার জন্য
    4. আলো তৈরি করার জন্য
    ব্যাখ্যা

    ট্রানজিস্টর (Transistor): 
    - ট্রানজিস্টর একটি ইংরেজি শব্দ। Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে।
    - ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপণ্ড সংঘটিত করেছে। ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন, ডব্লিউ ব্রাটেন ও ডব্লিউ সক্লে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিনজনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
    - ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
    - দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
    - গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার।
    যথা- ১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং ২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ২৪.
    ডায়োডের কোন অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বলা হয়?
    1. গেট 
    2. সোর্স 
    3. ক্যাথোড
    4. অ্যানোড 
    ব্যাখ্যা

    - ডায়োডের অ্যানোড অংশকে ফরোয়ার্ড টার্মিনাল বা ধনাত্মক টার্মিনাল বলা হয়। ডায়োডের কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, যখন অ্যানোডকে ব্যাটারির পজিটিভ (+) প্রান্তের সাথে এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ (-) প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন ডায়োডটি 'ফরোয়ার্ড বায়াস' অবস্থায় থাকে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেয়। 

    ডায়োড: 
    - ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
    - দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
    - ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
    - একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
    - ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
    - রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
    - ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
    - সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ২৫.
    ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সাধারণত কত?
    1. 2-10 Hz
    2. 2-10 kHz
    3. 2-10 MHz
    4. 2-10 GHz
    ব্যাখ্যা

    - ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ডের কম্পাঙ্ক সাধারণত 2 থেকে 10 মেগাহার্টজ (MHz) এর মধ্যে থাকে। 

    ইকোকার্ডিওগ্রাফি: 

    - ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়। 
    - শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
    - শব্দ তরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
    - আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়। 
    - আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
    - উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিণ্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10 MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
    - টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540 ms-1 এবং রক্তের মধ্যে 1570 ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়। 
    - আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃৎযন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে। 
    - যত বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ২৬.
    যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে কোনটি?
    1. বৈদ্যুতিক মোটর
    2. জেনারেটর
    3. ট্রান্সফর্মার
    4. ট্রানজিস্টর
    ব্যাখ্যা
    কয়েকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং কাজের ধরণ:

    • বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
    • ডায়নামো বা জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
    • লাউড স্পিকার তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
    • এমিটার - বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ করে।
    • ভোল্টমিটার- বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
    • ট্রান্সফরমার - একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সির কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।

    উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পদার্থবিজ্ঞান বই।
    ২৭.
    কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত রশ্মি নিচের কোনটি? 
    1. রঞ্জন রশ্মি
    2. গামা রশ্মি
    3. বিটা রশ্মি
    4. আলফা রশ্মি
    ব্যাখ্যা
    আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
    - আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
    - বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
    - অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
    - চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
    - তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
    - রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
    - কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
    - কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ২৮.
    Among the following, which substance is not radioactive?
    1. Na
    2. Rn
    3. Ra
    4. Th
    5. U
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয়তা: 
    - কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    - ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
    - পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 

    - তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
    - উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। 
    - এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

    অন্যদিকে, 
    - তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয় - সোডিয়াম (Na)। 
    - সোডিয়াম হলো একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক Na এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১১। 
    - এটি পর্যায় সারণীর তৃতীয় পর্যায়ে এবং প্রথম শ্রেণীতে অবস্থিত। 

    উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ২৯.
    নিচের কোন রশ্মিটি আসলে ইলেকট্রন-
    1. ক) আলফা
    2. খ) বিটা
    3. গ) গামা
    4. ঘ) কোনোটিই না
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় যা আসলে ইলেকট্রন, কিন্তু আমরা জানি নিউক্লিয়াসে ইলেকট্রন থাকে না। সেজন্য নিউক্লিয়াসের ভেতরের একটি নিউট্রনকে প্রোটনে পরিবর্তিত হতে হয়।
    উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
    ৩০.
    ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণে কী উৎপন্ন হয়?
    1. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
    2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন
    3. হিলিয়াম ও ক্রিপ্টন
    4. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
    ব্যাখ্যা

    • ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটে যখন ভারী ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস একটি নিউট্রন শোষণ করে অস্থিতিশীল হয়ে ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে দুটি মাঝারি ভরের মৌল উৎপন্ন হয়, সঙ্গে বের হয় অতিরিক্ত নিউট্রন ও বিপুল পরিমাণ শক্তি। সাধারণত উৎপন্ন মৌল দুটি হলো ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম। এই অতিরিক্ত নিউট্রন আবার অন্য ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মূল কারণ। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম।
     
    • পারমাণবিক শক্তি:
    - ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
    - যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
    - পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
    - পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
    ১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
    ২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

    - পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
    - নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
    - অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
    - তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

    উৎস:
    ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
    ২. ব্রিটানিকা।

    ৩১.
    অতিবেগুনি রশ্মির প্রধান উৎস কোনটি? 
    1. সূর্য 
    2. তেজস্ক্রিয় মৌল 
    3. চাঁদ 
    4. এক্স-রে টিউব 
    ব্যাখ্যা

    অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray): 
    - এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
    - অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
    - সূর্য রশ্মি এই অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
    - অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
    - চোখের জন্য অতিবেগুনি রশ্মি বেশ ক্ষতিকর। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৩২.
    পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়? 
    1. ১ টি
    2. ২ টি
    3. ৩ টি
    4. ৪ টি
    ব্যাখ্যা
    রেকটিফায়ার: 
    - যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
    - একমুখীকারক দুই প্রকার। 
    যথা- 
    (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
    (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

    পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার: 
    - পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। 
    - চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
    - রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়। 
    - অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৩৩.
    গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা কেমন? 
    1. α-কণিকার চেয়ে বেশি 
    2. β-কণিকার চেয়ে কম 
    3. β-কণিকার চেয়ে বেশি 
    4. আয়নিত করার ক্ষমতা নেই 
    ব্যাখ্যা

    গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
    ১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
    ২। গামা রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
    ৩। গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
    ৪। গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
    ৫। গামা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
    ৬। গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
    ৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
    ৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

    অন্যদিকে,
    - আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৩৪.
    তড়িচ্চালক শক্তির একক কোনটি?
    1. ক) জুল
    2. খ) ওহম
    3. গ) এম্পিয়ার
    4. ঘ) ভোল্ট
    ব্যাখ্যা

    তড়িচ্চালক শক্তিঃ কোষ বা উৎসকে এক কুলম্ব পরিমান আধানকে তার নিম্ন বিভব প্রান্ত থেকে উচ্চ বিভব প্রান্তে আনতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয় তাকে কোষ বা উৎসের তড়িচ্চালক শক্তি বলে।
    একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
    এর একক ভোল্ট (V)। 

    খোলা বর্তনীতে কোষের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্যই কোষের তড়িচ্চালক শক্তি।

    সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

    ৩৫.
    এক্স-রে হচ্ছে মূলত - 
    1. উচ্চ শক্তির নিউট্রন
    2. উচ্চ শক্তির প্রোটন
    3. উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন
    4. উচ্চ শক্তির পজিট্রন
    ব্যাখ্যা
    এক্স-রে: 
    - দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন কোন ধাতুতে আঘাত করলে তা থেকে উচ্চভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন যে বিকিরণ উৎপন্ন হয়, তাকে X-Ray বলে। 
    - সুতরাং এক্স-রে হচ্ছে মুলত উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ। 
    - ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 

    - এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়। 
    যেমন - 
    • এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য। 
    • এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে। 

    উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৩৬.
    নিচের কোনটি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়? 
    1. দৈর্ঘ্য
    2. ভর 
    3. সময় 
    4. তাপমাত্রা 
    ব্যাখ্যা

    - তাপমাত্রা একটি থার্মোডাইনামিক রাশি এবং এটি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়।

    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 

    - বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
    - ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
    - আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
    যথা -
    প্রথম স্বীকার্য: 
    - স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
    দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
    - শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

    ৩৭.
    ফোটন কণার মাধ্যমে কোন বল পরিবাহিত হয়?
    1. Electromagnetic force
    2. Strong nuclear force
    3. Weak nuclear force
    4. Gravitational force
    ব্যাখ্যা
    • ফোটন:
    - ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল - (Electromagnetic force) বহন করে।
    - ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
    - প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
    - কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

    ফোটন কণার ধর্মসমূহ-
    - প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
    - শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে।
    - কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।

    - প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক।
    - ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়।
    - ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

    - নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না।
    - ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৩৮.
    কোন পরিস্থিতিতে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়?
    1. বিভব হ্রাস করলে 
    2. বিভব বৃদ্ধি করলে 
    3. শক্তি রূপান্তর না করলে 
    4. সবগুলোই
    ব্যাখ্যা

    ট্রান্সফরমার: 
    - যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
    - ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
    - ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
    - ট্রান্সফরমারে মূলত দুইটি কুণ্ডলী থাকে। 
    - কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।  
    - একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
    - এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৩৯.
    নিচের কোনটিতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়?
    1. টেপরেকর্ডার
    2. রেডিও
    3. টেলিভিশন
    4. উপরের সবকয়টি
    ব্যাখ্যা
    ট্রান্সফর্মার:

    • ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সিকে কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।
    • ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

    • আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার (Step up Transformer): যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
    - উদাহরণ: দূরদূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

    অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার (Step down Transformer): যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
    - উদাহরণ: অবরোহী বা স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষণ, বিএড প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৪০.
    ট্রান্সফর্মার তৈরিতে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
    1. ক) স্থায়ী চুম্বক
    2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
    3. গ) সংকর চুম্বক
    4. ঘ) সিরামিক চুম্বক
    ব্যাখ্যা
    কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
    ১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
    ২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

    অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

    স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

    উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৪১.
    সমন্বিত বর্তনী প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য কী? 
    1. চিপের সংযোগের পিন সংখ্যা কমানো
    2. চিপের অভ্যন্তরে তাপ ধরে রাখা
    3. সার্কিট বোর্ডে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা
    4. চিপের উপাদানগুলির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা
    ব্যাখ্যা

    • সমন্বিত বর্তনী বা IC (Integrated Circuit) প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটিকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং বাইরের সার্কিট বোর্ডের সাথে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

    • সমন্বিত বর্তনী বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit): 
    - ১৯৫২ সালের দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় ষাটের দশকে। 
    - পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করার সময় এই প্রক্রিয়াটিকে আর একটুখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। 
    - তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় যার নাম দেওয়া হয় ইন্টিগ্রেডেট সার্কিট (আইসি, IC) বা সমন্বিত বর্তনী। 
    - প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অল্প জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো শুরু হলো এবং তার নাম দেওয়া হলো প্রথমে লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (LSI), পরে ভেরি লার্জ স্কেল ইন্ট্রেগ্রেশন (VLSI)।
    - এই সার্কিটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্যাকেজ করা হতো যেন সরাসরি সার্কিট বোর্ডে ব্যবহার করা যায়।
    - মাইক্রোকম্পিউটার, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ভিডিও ক্যামেরা এবং যোগাযোগের উপগ্রহ এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ছাড়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

    ৪২.
    ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
    1. তড়িৎ বিভব
    2. তাড়িতচৌম্বক আবেশ
    3. জারণ-বিজারণ
    4. তড়িৎ প্রতিসরণ
    ব্যাখ্যা

    সঠিক উত্তর: খ) তাড়িতচৌম্বক আবেশ।

    • ট্রান্সফরমার (Transformer):
    - ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
    - এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
    - এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
    - একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
    - এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
    - যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৪৩.
    নিচের কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
    1. মোবাইল
    2. টেলিফোন
    3. ই-মেইল 
    4. রেডিও 
    ব্যাখ্যা

    রেডিও (Radio): 
    - রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
    - রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
    - রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
    - রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
    - রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 

    অন্যদিকে, 
    - অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
    - ইমেইল এর মাধ্যমে প্রেরক ও গ্রহণকারী উভয়ে বার্তা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

    ৪৪.
    পারমাণবিক চুল্লিতে “কন্ট্রোল রড” এর কাজ কী?
    1. তাপ শোষণ
    2. নিউট্রন শোষণ করে বিভাজন নিয়ন্ত্রন
    3. তড়িৎ উৎপাদন
    4. জ্বালানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা
    ব্যাখ্যা
    • পারমাণবিক চুল্লিতে কন্ট্রোল রড নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। 
     
    • কন্ট্রোল রড:
    - পারমাণবিক চুল্লির কন্ট্রোল রড হল এমন একটি উপাদান যা পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন (ফিশন) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
    - এটি চুল্লির মধ্যে শৃঙ্খল বিক্রিয়ার হার (চেইন রিয়াকশন) কমাতে বা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

    • পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন (nuclear fission) অর্থাৎ নিউট্রনের সাহায্যে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে।
    - এ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে “কন্ট্রোল রড” ব্যবহার করা হয়।

    • কন্ট্রোল রড সাধারণত বোরন (Boron), ক্যাডমিয়াম (Cadmium) বা হ্যাফনিয়াম (Hafnium)-এর মতো উপাদানে তৈরি, যা অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে।
    - এর ফলে, ফিশন প্রতিক্রিয়ার হার কমানো বা বাড়ানো যায় — অর্থাৎ এটি চুল্লির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
    - এই উপাদানগুলি নিউট্রন শোষণ করতে খুব কার্যকর।
    - যখন রডগুলি চুল্লির মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, তখন তারা নিউট্রন শোষণ করে এবং চেইন রিঅ্যাকশনকে ধীর করে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
    - অন্যদিকে, রডগুলি বের করে নিলে চেইন রিঅ্যাকশন আরও দ্রুত হতে শুরু করে।
    - এই রডগুলি পারমাণবিক চুল্লির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চুল্লিটিকে নিরাপদ রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    তথ্যসূত্র:
    - ব্রিটানিকা।
    - International Atomic Energy Agency (IAEA) – Reactor Safety Guidelines.
    ৪৫.
    ট্রানজিস্টর প্রথম আবিষ্কৃত হয় কোন প্রতিষ্ঠানে? 
    1. এমআইটি
    2. নাসা 
    3. আইবিএম 
    4. বেল ল্যাবরেটরি 
    ব্যাখ্যা

    ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
    - ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। 
    - ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। 
    - ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর। 
    - এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস। 
    - ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে। 
    - আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। 
    - বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
    - সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়। 
    - ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

    উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৪৬.
    ট্রানজিস্টর প্রথম কবে আবিষ্কার করা হয়? 
    1. ১৯৩৮ সালে
    2. ১৯৪৮ সালে
    3. ১৯৫৬ সালে
    4. ১৯৬৩ সালে
    ব্যাখ্যা
    ট্রানজিস্টর: 
    - ট্রানজিস্টর (Transistor) হচ্ছে একটি ইংরেজি শব্দ। 
    - Transfer এবং Resistor এই দুটি পৃথক ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে Transistor শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
    - ট্রানজিস্টরকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা যায়। 
    - ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স এর জগতে বিপ্লব সংঘটিত করেছে। 
    - ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরির তিনজন গবেষক জে. বার্ডিন (J.Bardeen), ডবিউ ব্রাটেন (W. Brattain) ও ডবিউ সক্লে (W. Shockley) ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 
    - এই গুরত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তিন জনকে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। 
    - ট্রানজিস্টর দুর্বল তড়িৎ সংকেতকে বিবর্ধন করতে পারে এবং উচ্চগতিসম্পন্ন সুইচ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। 
    - দুটি একই ধরনের অর্ধপরিবাহীর (n-টাইপ অথবা p-টাইপ) মাঝখানে এদের বিপরীত ধরনের (p-টাইপ অথবা n-টাইপ) অর্ধপরিবাহী বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে যুক্ত করে যে যন্ত্র বা কৌশল (Device) তৈরি করা হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে। 
    - একটি জাংশন ট্রানজিস্টর দুটি p-n জাংশনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর তিনটি প্রান্ত রয়েছে। 
    - গঠন ও প্রকৃতি অনুসারে জাংশন ট্রানজিস্টর দুই প্রকার। 
    যথা- 
    (১) p-n-p ট্রানজিস্টর এবং 
    (২) n-p-n ট্রানজিস্টর। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৪৭.
    এক্স-রে এক ধরনের-
    1. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
    2. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
    3. শব্দ তরঙ্গ
    4. সবগুলোই
    ব্যাখ্যা
    অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
    -  যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
    -  ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বা তড়িৎচৌম্বকীয় ( যেমন, রেডিও , এক্স রে আলো) তরঙ্গ হল অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ। 

    এক্স-রে 

    - জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
    - এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
    - এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
    - এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
    - এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
    - এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
    - এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
    - এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
    - এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

    এক্স-রের ব্যবহার :
    - স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
    - পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
    - এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
    - রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
    - দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

    -  তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
    ১) কোমল এক্স-রে,
    ২) কঠিন এক্স-রে।
    -  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
    - কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

    তথ্যসূত্র - ১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
    ২. ব্রিটানিকা।
    ৪৮.
    একটি ব্যাটারিতে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে? 
    1. দুইটি
    2. চারটি
    3. তিনটি
    4. ছয়টি
    ব্যাখ্যা
    ব্যাটারি: 
    - ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
    - একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
    - ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
    - ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। 
    যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 

    - ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
    - আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
    - একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ V, সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০ V । 
    - বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি, আবার ২২০ V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

    উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৪৯.
    CT scan শব্দটির পূর্ণরূপ কী? 
    1. Compact Tomography Scan
    2. Close Tomography Scan
    3. Complete Tomography Scan
    4. Computed Tomography Scan
    ব্যাখ্যা
    সিটি স্ক্যান (CT scan): 
    - সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan). 
    - যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
    - সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
    - এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 
    - সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায। 
    - যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
    - সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পার্শ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
    - মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
    - সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
    - সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৫০.
    এক্সরে কোনটিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে? 
    1. কাচ
    2. প্লাস্টিক
    3. ফটোগ্রাফিক প্লেট
    4. কাঠ
    ব্যাখ্যা
    এক্সরে (X-ray): 
    - ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
    - পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
    - গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

    এক্সরের প্রকারভেদ: 
    - এক্সরে দুই প্রকার। 
    যথা- 
    ১। কোমল এক্সরে: 
    - এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
    - কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

    ২। কঠিন এক্সরে: 
    - এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
    - কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

    এক্সরের ধর্ম: 
    ১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
    ২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
    ৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
    ৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
    ৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
    ৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
    ৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
    ৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
    ৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
    ১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
    ১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
    ১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
    ১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৫১.
    নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়? 
    1. W = mg
    2. E = m2c
    3. F = ma
    4. E = mc2
    ব্যাখ্যা

    • ভর-শক্তি সমীকরণ: 
    - আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2.
    - এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
    - নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
    - সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
    অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

    উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৫২.
    ডায়োড প্রধানত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? 
    1. রেকটিফায়ার হিসেবে
    2. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
    3. তাপ শক্তি উৎপাদনে
    4. শব্দ তরঙ্গ রূপান্তরে
    ব্যাখ্যা
    ডায়োড: 
    - ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
    - দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
    - ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
    - একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
    - ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
    - রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
    - ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
    - সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৫৩.
    কসমিক-রে নামক রশ্মির আবিষ্কারক কে?
    1. আলবার্ট আইনস্টাইন 
    2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 
    3. কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসন 
    4. আইজ্যাক নিউটন
    ব্যাখ্যা

    মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
    - বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। 
    - ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়। 
    - কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস। 
    - মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
    - ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
    - বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। 

    উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

    ৫৪.
    ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
    1. অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ 
    2. বাইনারী আকারে পরিমাপযোগ্য
    3. সঞ্চালনের সময় বিকৃত হয় 
    4. শুধুমাত্র শব্দ তরঙ্গের প্রতিরূপ 
    ব্যাখ্যা

    ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
    - বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়।
    - কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ।
    - বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
    যথা- 
    ১. এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি, 
    ২. ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি এবং 
    ৩. মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি । 

    মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
    - এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলে। 
    - শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 
    - চাপ, তাপমাত্রা, রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, তরল পদার্থের স্তর ইত্যাদি ক্রম-পরিবর্তনশীল বিষয় সংগৃহীত উপাত্ত এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি গ্রহণ করে। এই উপাত্তগুলোকে ডিজিটাল ইলেট্রনিক পদ্ধতিতে যথাযোগ্য সংখ্যা ও সংকেতে রূপান্তর করে পাঠ নেয়া হয়। 
    - এনালগ এবং ডিজিটাল সংকেতের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো- 
    ১. এনালগ সংকেত একটি অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ এবং ভৌত পরিমাপযোগ্য অপরদিকে ডিজিটাল সংকেত একটি বিচ্ছিন্ন তরঙ্গ এবং সংখ্যা (বাইনারী পদ্ধতি) দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
    ২. এনালগ সংকেতকে সাইন তরঙ্গ দিয়ে এবং ডিজিটাল সংকেতকে চৌকো তরঙ্গ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
    ৩. ডিজিটাল সংকেতের তুলনায় এনালগ সংকেত সঞ্চালন অনেক ব্যয়বহুল এবং বেশি শক্তি খরচ হয়। 
    ৪. এনালগ সংকেতের তুলনায় ডিজিটাল সংকেত সঞ্চালন পদ্ধতি অনেক সহজ। 
    ৫. এনালগ সংকেত তরঙ্গ আকারে এবং ডিজিটাল সংকেত 0 এবং 1 অর্থাৎ বাইনারী আকারে সংরক্ষণ করা হয়। 
    ৬. মোডেমের মাধ্যমে এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে এবং ডিজিটাল সংকেতকে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করা যায়। 
    ৭. কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদানের জন্য ডিজিটাল সংকেতে বাইনারী পদ্ধতি ব্যবহার করে। 
    ৮. ডিজিটাল সংকেত প্রেরণ করা তুলনামূলক সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রায় ত্রুটিমুক্ত। 
    ৯. এনালগ সংকেত হলো শব্দ তরঙ্গের প্রতিরূপএটি সঞ্চালনের সময় পথিমধ্যে বিকৃত হয়ে যায়, গুণগত মান ঠিক থাকে না এবং তীব্রতা হ্রাস পায়। 
    ১০. এনালগ সংকেতের তুলনায় ডিজিটাল সংকেত সঞ্চালন হার অনেক দ্রুত এবং সংকেতের গুণগত মান উন্নত। 
    ১১. রেডিও, টিভি, টেলিফোন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিতে এনালগ সংকেত ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে কম্পিউটার, সিডি, ডিভিডি, মোবাইল, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট কম্যুনিকেশন ইত্যাদিতে ডিজিটাল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৫৫.
    n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধান আধান বাহক কোনটি?
    1. নিউট্রন
    2. হোল 
    3. মুক্ত ইলেকট্রন 
    4. ধনাত্মক আয়ন
    ব্যাখ্যা

    অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
    - একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
    - দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
    - প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
    - একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

    - p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
    - যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়।
    - আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
    - p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৫৬.
    থাইরয়েড ক্যান্সারের জন্য অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপিতে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়? 
    1. আয়োডিন 
    2. কার্বন 
    3. ফসফরাস 
    4. স্ট্রনশিয়াম 
    ব্যাখ্যা

    রেডিওথেরাপি: 
    - রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজী 'Radiation Therapy' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। 
    - এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগ যেমন- ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যাধির চিকিৎসা করা হয়। 
    - সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। 
    - এটি টিউমার কোষের অভ্যন্তরস্থ ডিএনএ (DNA)-কে ধ্বংসের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি করার ক্ষমতা বিনষ্ট করে ফেলে। 

    - রেডিওথেরাপি দুই ধরনের। 
    যথা- 
    (১) বাহ্যিক রেডিওথেরাপি: 
    - বাহ্যিক রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে শরীরের বাহির থেকে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে, কোবাল্ট বিকিরণ, ইলেকট্রন বা প্রোটন বীম ব্যবহার করা হয়। 
    - শরীরের যে স্থানে টিউমারটি অবস্থিত, সেই দিকে তাক করে বীমটি প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় অল্প সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
    - তবুও এর মূল উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে যত বেশি সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজে থেকে এই ক্ষতি মেরামত করে ফেলে। 

    (২) অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপি: 
    - অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে রোগীকে শরীরের ভেতর থেকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। 
    - এ প্রক্রিয়ায় রোগী তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর দেহে তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। 
    - রক্তের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এ তরল পদার্থে তেজস্ক্রিয় ফসফরাস, হাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন ব্যবহার করা হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৫৭.
    কোয়ান্টাম তত্ত্ব কে আবিষ্কার করেন?
    1. রাদারফোর্ড
    2. ফ্যারাডে
    3. ম্যাক্স প্ল্যাংক
    4. আইনস্টাইন
    ব্যাখ্যা
    আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
    - ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বিজ্ঞানীরা দেখতে লাগলেন প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞান দিয়ে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
    - ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন। 
    - ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে।
    - কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। 
    - কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না।
    - ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
    - পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
    ৫৮.
    ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
    1. কার্বন 
    2. সিলিকন 
    3. কপার
    4. গোল্ড
    ব্যাখ্যা
    • ট্রানজিস্টর:
    - ট্রানজিস্টার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
    - প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p নিঃসারক ভূমি সংগ্রাহক ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়
    - ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।
    - ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
    - বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
    - ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৫৯.
    কোন তত্ত্বটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করে?
    1. কণা তত্ত্ব
    2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
    3. তরঙ্গ তত্ত্ব
    4. হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি
    ব্যাখ্যা

     • আলোক তড়িৎ ক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ধাতব পৃষ্ঠে আলো (বা উচ্চ কম্পাঙ্কের বিকিরণ) আপতিত হলে সেখান থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন ম্যাক্স প্লাঙ্কের 'কোয়ান্টাম তত্ত্ব' (Quantum Theory) ব্যবহার করে সফলভাবে এই ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে আলো শক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নয়, বরং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা 'কোয়ান্টা' (যাকে ফোটন বলা হয়) হিসেবে কাজ করে।

     • কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
    - ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
    - এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
    - প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
    - এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
    - প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
    - কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
    - এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

     • কণা তত্ত্ব: 
    - এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
    - এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

     • তরঙ্গ তত্ত্ব: 
    - আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
    - তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
    - এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

    উল্লেখ্য:
    - হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি: এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি মূলনীতি যা কোনো কণার অবস্থান ও ভরবেগ একসাথে সঠিকভাবে নির্ণয় করা অসম্ভব বলে জানায়, কিন্তু এটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যাকারী তত্ত্ব নয়।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৬০.
    কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন কে? 
    1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক 
    2. নিউটন 
    3. আইনস্টাইন
    4. গ্যালিলিও 
    ব্যাখ্যা

    কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
    - ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
    - এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
    - প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
    - প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৬১.
    সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে -
    1. আলফা রশ্মি
    2. বিটা রশ্মি
    3. গামা রশ্মি
    4. রঞ্জন রশ্মি
    ব্যাখ্যা

    - তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।

    - আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।

     -জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি।
    - গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি, নাসা ওয়েবসাইট।

    ৬২.
    C-14 আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা কয়টি?
    1. ৬টি
    2. ৮টি
    3. ৭টি
    4. ১০টি
    ব্যাখ্যা
    কার্বোনের আইসোটোপ এবং তাদের মৌলিক কণিকার সংখ্যা:

    - C-12:  6টি প্রােটন এবং 6টি নিউট্রন,
    - C-13:  6টি প্রােটন এবং 7টি নিউট্রন,
    - C-14:  6টি প্রােটন এবং ৪টি নিউট্রন।

    - এখানে, C14 বলতে আসলে ১৪ পারমানবিক ভর বিশিষ্ট কার্বনকে বুঝানো হয়েছে। আমরা জানি ভর হলো নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি। কার্বনের প্রোটন সংখ্যা ৬ তাই C14  এ নিউট্রনের সংখ্যা (১৪ - ৬) বা ৮টি।
    - কার্বনের এই তিনটি আইসােটোপের মাঝে C14 অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।

    উৎস: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান।
    ৬৩.
    যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে, তাদেরকে কী বলে? 
    1. পরিবাহী
    2. অপরিবাহী
    3. কুপরিবাহী
    4. অর্ধপরিবাহী
    ব্যাখ্যা
    পরিবাহী: 
    - যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই আধান বা তড়িৎ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
    যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
    - মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
    - পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 

    অর্ধপরিবাহী: 
    - যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
    যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
    অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
    - পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
    - এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

    অপরিবাহী: 
    - যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
    যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
    - মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
    - অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। 

    উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৬৪.
    ট্রানজিস্টর কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
    1. একমুখীকরণে
    2. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করতে
    3. বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে
    4. উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে রূপান্তরে
    ব্যাখ্যা

    • ট্রানজিস্টর একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র যা মূলত দুর্বল সংকেতকে শক্তিশালী করতে (বিবর্ধক বা Amplifier) এবং ইলেকট্রনিক সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে (সুইচ বা Switch) ব্যবহৃত হয়।

    • ট্রানজিস্টর: 
    - ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
    যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
    - ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
    - ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
    - আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
    - ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
    - বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
    - সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
    - ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

    অন্যান্য অপশন:
    - একমুখীকরণে বা এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে মূলত ডায়োড ব্যবহৃত হয়।
    - বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করতে ধারক বা ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয় যা বৈদ্যুতিক আধান ধরে রাখে।
    - উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে রূপান্তরে ট্রান্সফর্মার (Step-down) ব্যবহার করা হয় যা মূলত এসি বিভব পরিবর্তন করে।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৬৫.
    গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
    1. এর ভর ও চার্জ আছে 
    2. এটি আলোর গতির সমান বেগে চলে 
    3. এটি ইলেকট্রিক ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় 
    4. এটি অণু-পরমাণু আয়নিত করতে পারে না 
    ব্যাখ্যা

    - গামা রশ্মির বেগ সব সময় আলোর বেগের সমান। 

    গামা রশ্মি (Gamma Ray): 

    - গামা রশ্মি আসলে একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
    - গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
    - এ গামা রশ্মির শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
    - যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের হয়ে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
    - গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
    - গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
    - গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

    ৬৬.
    ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
    1. ডায়োড
    2. অ্যামপ্লিফায়ার
    3. রেকটিফায়ার
    4. ফিউজ
    ব্যাখ্যা

    • অ্যামপ্লিফায়ার (Amplifier): অ্যামপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা কোনো দুর্বল বা ছোট সিগন্যালকে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে সেটিকে শক্তিশালী বা বড় সিগন্যালে রূপান্তর করে আউটপুট দেয়। এটি মূলত ট্রানজিস্টরের সাহায্যে এই কাজটি সম্পন্ন করে।

    • ট্রানজিস্টর: 
    - ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
    - n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
    - n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
    - মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
    - এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
    - এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
    - ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামে পরিচিত। 
    - নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

    অন্যান্য অপশন:
    - ডায়োড: এটি তড়িৎ প্রবাহকে কেবল একদিকে চালিত করে এবং সিগন্যাল বড় করতে পারে না।
    - রেকটিফায়ার: এটি মূলত এসি (AC) বিদ্যুৎকে ডিসি (DC) বিদ্যুতে রূপান্তর করার একটি প্রক্রিয়া বা যন্ত্র।
    - ফিউজ: এটি সার্কিটের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহৃত হয়; অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি পুড়ে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

    ৬৭.
    অর্ধপরিবাহীতে কি মেশালে পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে?
    1. ক) আয়োডিন
    2. খ) সোডিয়াম
    3. গ) ফসফরাস
    4. ঘ) ইউরেনিয়াম
    ব্যাখ্যা
    সেমিকন্ডাক্টরের সাথে ফসফরাস মেশালে ফসফরাসের মুক্ত ইলেকট্রন থাকার কারণে সেটার সহযোগীতায় সেমিকন্ডাক্টর কন্ডাক্টর বা পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে।
    উৎসঃ নবম-দশম
    ৬৮.
    এক্স-রে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কেমন? 
    1. অত্যধিক 
    2. মধ্যম 
    3. খুব কম 
    4. নেই 
    ব্যাখ্যা

    এক্সরে রশ্মির ধর্ম: 
    ১। এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
    ২। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
    ৩। এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
    ৪। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
    ৫। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
    ৬। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
    ৭। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
    ৮। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
    ৯। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
    ১০। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
    ১১। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
    ১২। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
    ১৩। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৬৯.
    ইনটিগ্রেটেড সার্কিট (IC) প্রথম তৈরি করেছিলেন কে? 
    1. জ্যাক কেলবি 
    2. এডউইন হাবল 
    3. জন হুইলার 
    4. জর্জ লেমাইটার 
    ব্যাখ্যা

    সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
    - ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
    - আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
    - ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
    - আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
    - মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
    - সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
    - সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
    যেমন-
    ১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

    ২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

    ৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 
    - ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
    - আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

    ৭০.
    রেকটিফায়ারকে কী বলা হয়? 
    1. রেজিস্টর 
    2. কন্ডেন্সার 
    3. একমুখীকারক
    4. ট্রান্সফরমার
    ব্যাখ্যা

    রেকটিফায়ার: 
    - যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
    - ​রেকটিফায়ারকে একমুখীকারক বলা হয়।  
    - একমুখীকারক দুই প্রকার।
    যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৭১.
    ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয় কোনটির আবিষ্কারের মাধ্যমে?
    1. রোবট
    2. কম্পিউটার
    3. ট্রানজিস্টর
    4. টেলিভিশন
    ব্যাখ্যা
    • ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। 
     
    • ট্রানজিস্টর:
    - তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
    - এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়। 

    • ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
    - ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
    - এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।

    তথ্যসূত্র:
    - মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
    - ব্রিটানিকা। 
    ৭২.
    তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
    1. হিলিয়াম
    2. ক্রিপ্টন
    3. আর্গন
    4. জেনন
    ব্যাখ্যা

    গাইগার-মূলার (GM) কাউন্টার হলো একটি তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকারী যন্ত্র। এর ভেতরে নিম্ন চাপে মূলত আর্গন (Argon) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (যেমন: আলফা বা বিটা কণা) টিউবের ভেতর প্রবেশ করে, তখন এটি আর্গন পরমাণুকে আয়নিত করে। এই আয়ননের ফলে একটি ক্ষণস্থায়ী বিদ্যুৎ প্রবাহ বা পালস তৈরি হয়, যা যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করা যায়।

    • আর্গন গ্যাস: 
    - বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
    - রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
    - ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
    - তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

    উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৭৩.
    আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী কোনটি ধ্রুব রাশি নয়?
    1. ভর
    2. স্থান
    3. সময়
    4. উপরের সবকটি
    ব্যাখ্যা
    • আপেক্ষিক তত্ত্ব:
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
    - তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়।
    - এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
    - বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
    - কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
    - উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
    - আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
    - ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
    - মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৭৪.
    আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ___। 
    1. মাইক্রোবায়োলজি
    2. ন্যানোটেকনোলজি
    3. থার্মোডাইনামিক্স
    4. বায়োটেকনোলজি
    ব্যাখ্যা

    • আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি, যা চিপের দ্রুততা, ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

    - প্রসেসর বা CPU (Central Processing Unit) হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক, যা ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। আধুনিক প্রসেসরের কার্যকারিতা মাইক্রোচিপের আকার ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

    ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology):
    - ন্যানোটেকনোলজি হলো অণু ও পরমাণুর মাত্রার প্রযুক্তি (1-100 ন্যানোমিটার)।
    - এর মাধ্যমে অত্যন্ত ছোট, দ্রুত ও কম শক্তির চিপ তৈরি করা যায়।
    - আধুনিক প্রসেসর, মেমোরি চিপ, সেন্সর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এটি ব্যবহৃত হয়।

    ব্যবহার ও সুবিধা:
    - মাইক্রোচিপে ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর তৈরি করা।
    - কম শক্তি খরচে বেশি গতি।
    - কম স্থান দখল, তাই স্মার্টফোন ও ল্যাপটপকে ছোট ও দ্রুত করা যায়।
    - উন্নত কোডিং, ডেটা প্রসেসিং ও AI অ্যাপ্লিকেশনে সহায়তা।

    তথ্যসূত্র:
    - NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
    - ব্রিটানিকা [লিংক]

    ৭৫.
    রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
    1. তিনটি
    2. চারটি
    3. পাঁচটি
    4. দুইটি
    ব্যাখ্যা

    • রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।

    • টেলিভিশন:
    - টেলিভিশন শব্দের অর্থ দূরদর্শন।
    - ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী লজি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
    - টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের।
    - এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র।
    - একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

    • রঙিন টেলিভিশন:
    - রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
    - রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
    - রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহৃত হয়।
    - রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
    - এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
    - ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
    - ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

    উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৭৬.
    ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তর কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়? 
    1. + এবং −
    2. S এবং P
    3. ০ এবং ১
    4. L এবং M
    ব্যাখ্যা
    ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
    - বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
    যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
    - বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
    যথা- 
    ১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
    ২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
    ৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system)। 

    ডিজিটাল পদ্ধতি: 
    - ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
    - এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়, এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
    - ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
    - ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
    - দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
    যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
    - ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিংবা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
    - ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৭৭.
    সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole)' শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
    1. গ্যালিলিও
    2. স্টিফেন হকিং
    3. জোহানেস কেপলার
    4. জন হুইলার
    ব্যাখ্যা

    • বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর' শব্দটি ব্যবহার করেন।

    • কৃষ্ণগহ্বর:
    - কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
    - কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
    - একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে।
    - মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
    - আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
    - ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

    উৎস: নাসা এবং ব্রিটানিকা।

    ৭৮.
    কোন তত্ত্বটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করে?
    1. তরঙ্গ তত্ত্ব
    2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
    3. আইনস্টাইনের তত্ত্ব
    4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
    ব্যাখ্যা

    কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
    - ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
    - এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
    - প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
    - এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
    - প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
    - কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
    - এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

    তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
    - এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
    - এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
    - এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
    - এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

    কণা তত্ত্ব: 
    - এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
    - এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

    তরঙ্গ তত্ত্ব: 
    - আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
    - তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
    - এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৭৯.
    ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
    1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
    2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
    3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
    4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
    ব্যাখ্যা
    ট্রানজিস্টর (Transistor): 
    - 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
    - এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
    - এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
    - ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
    - কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৮০.
    কোন কণার মাধ্যমে কণার ভর ব্যাখ্যা করা হয়?
    1. ইলেকট্রন
    2. প্রোটন
    3. নিউট্রন
    4. হিগস বোসন
    ব্যাখ্যা

    • Standard Model অনুযায়ী কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়, যা ভরের উৎস হিসেবে কাজ করে।

    • স্ট্যান্ডার্ড মডেল ও হিগস বোসন:
    - আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী এক্সিলারেটর (Accelerator) তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে কণাকে অত্যন্ত উচ্চ শক্তিতে ত্বরিত করা যায়।
    - ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার গঠন ও আচরণ ব্যাখ্যার জন্য Standard Model ব্যবহৃত হয়।
    - Standard Model অনুযায়ী মৌলিক কণার মাধ্যমে সকল পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করা হয়।
    - এই মডেলে কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন (Higgs boson) নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়।
    - ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
    - আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics) একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
    - কঠিন পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics) অর্ধপরিবাহী পদার্থের ওপর গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

    ৮১.
    কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর কণিকার নাম কী? 
    1. কোয়ার্ক
    2. নিউট্রন
    3. প্রোটন
    4. ফোটন
    ব্যাখ্যা
    কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
    - ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
    - এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
    - প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
    - প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৮২.
    কোন ধরনের ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি থাকে? 
    1. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
    2. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
    3. সমান প্যাঁচসংখ্যার ট্রান্সফরমার
    4. ভোল্টেজ পরিবর্ধক ট্রান্সফরমার
    ব্যাখ্যা
    ট্রান্সফরমার: 
    - চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
    - যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
    - তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
    - এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
    - যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
    - যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৮৩.
    MRI যন্ত্রে প্রধানত কোন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? 
    1. গামা রশ্মি ও এক্স-রে
    2. রেডিও তরঙ্গ ও আলোক তরঙ্গ
    3. এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড
    4. শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
    ব্যাখ্যা

    - এমআরআই (Magnetic Resonance Imaging) স্ক্যানার মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির বিস্তারিত চিত্র তৈরি করতে দুটি প্রধান শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র শরীরের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনগুলোকে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সারিবদ্ধ করতে বাধ্য করে। আবার রেডিও তরঙ্গ যখন সারিবদ্ধ প্রোটনগুলোতে প্রয়োগ করা হয়, তখন তারা শক্তি শোষণ করে এবং পরবর্তীতে সেই শক্তি সংকেত হিসাবে নির্গত করে, এই সংকেতগুলো একটি কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়া করে বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়। 

    এমআরআই(MRI): 

    - এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
    - এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
    - নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
    - এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
    - এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
    - প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
    - পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
    - ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

    ৮৪.
    রুপার আপেক্ষিক রোধ কত?
    1. ক) 1.59 × 10-8 Ωm
    2. খ) 1.68 × 10-8 Ωm
    3. গ) 2.44 × 10-8 Ωm
    4. ঘ) 2.50 × 10-8 Ωm
    ব্যাখ্যা

    একক দৈর্ঘ্য এবং একক প্রস্থচ্ছেদ ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো একটি পরিবাহী তার প্রস্থচ্ছেদের অভিলম্বভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহে যে পরিমাণ বাধা প্রদান করে তাকে তার আপেক্ষিক রোধ বলে।
    আপেক্ষিক রোধের একক ও'ম মিটার ( Ω-m)।

    রুপার আপেক্ষিক রোধ 1.59 × 10-8 Ωm

    সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

    ৮৫.
    তেজস্ক্রিয় মৌলের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্ভর করে- 
    1. চাপের উপর
    2. তাপমাত্রার উপর
    3. রাসায়নিক বিক্রিয়ার উপর
    4. কোনোটিই নয়
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity): 
    - হেনরি বেকরেল 1896 সালে ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করেন। 
    - পরবর্তিতে বিজ্ঞানী (মাদাম) মেরি কুরি থোরিয়াম মৌলেও ইউরেনিয়ামের মত ধর্ম দেখতে পান। পরবর্তিতে মেরি কুরি এবং পিয়েরে কুরি ইউরেনিয়াম আকরিক থেকে পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম নিস্কাশন করেন। এদের তেজস্ক্রিয়তা কয়েক হাজার গুণ বেশি। 
    - তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরাম এক রহস্যময়ী কণা এবং রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    - কোনো অস্থায়ী নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নিঃসরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় বলে। 
    - তেজস্ক্রিয় বিকিরণকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বলে। 
    - তেজস্ক্রিয় মৌলের যে পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ঘটে তাকে জনক পরমাণু বলে। 
    - নিউক্লিয়াসে থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হবার পর যে পরমাণুটি পড়ে থাকে তাকে দুহিতা পরমাণু বলে। 

    তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
    ১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিরামহীন ঘটনা। 
    ২। তেজস্ক্রিয় পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ কোনো মৌলের যেকোনো যৌগের তেজস্ক্রিয় ধর্ম অভিন্ন। 
    ৩। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 
    ৪। তেজস্ক্রিয়তা তেজস্ক্রিয় পদার্থের তাপমাত্রা, চাপ, রাসায়নিক সংযোগ, আলো, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র ইত্যাদির উপর নির্ভর করে না। 
    ৫। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল পদার্থের নিউক্লিয়াসে। 
    ৬। তেজস্ক্রিয়তার বিকিরণ ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা ও তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ প্রবাহের সমষ্টি। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৮৬.
    বিটা কণিকার চার্জ কী? 
    1. নিরপেক্ষ চার্জ
    2. ধনাত্মক চার্জ
    3. ঋণাত্মক চার্জ
    4. কোনো চার্জ নেই
    ব্যাখ্যা

    তেজস্ক্রিয়তা: 
    - প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
    যেমন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
    - স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    - ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্মি। 
    - পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    - তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
    যথা: প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা। 

    বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
    ১। বিটা কণিকা খুব হালকা। এরা ইলেকট্রন প্রবাহ। এর ভর 9.1×10-31 কেজি। 
    ২। বিটা কণিকা ঋণাত্মক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান - 1.6×10-19 কুলম্ব। 
    ৩। তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়। এর বেগ প্রায় 0.9×108 ms-1 পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
    ৪। এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
    ৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম। 
    ৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
    ৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশি। 
    ৮। জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
    ৯। ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৮৭.
    বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে নিচের কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
    1. তড়িচ্চৌম্বকীয় শক্তি
    2. যান্ত্রিক শক্তি
    3. রাসায়নিক শক্তি
    4. তাপ শক্তি
    ব্যাখ্যা

    শক্তির রূপান্তর: 
    - লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
    - মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
    - জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
    - বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
    - মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

    উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৮৮.
    পরিবাহী পদার্থকে তাপ দিলে এর রোধের কী ধরণের পরিবর্তন হয়?
    1. বৃদ্ধি পায়
    2. হ্রাস পায়
    3. অপরিবর্তিত থাকে
    4. কোনটি নয়
    ব্যাখ্যা

    - পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

    পরিবাহী:

    - যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
    - যেমন-রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
    -  পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
    - পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
    - পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

    উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৮৯.
    একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায়-
    1. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি কর।
    2. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
    3. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে।
    4. সবগুলোই
    ব্যাখ্যা
    তড়িৎ মোটর: 
    - তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
    - যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
    - ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
    - একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো- 
    ১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
    ২। আর্মেচার, 
    ৩। কম্যুটেটর, 
    ৪। ব্রাশ এবং 
    ৫। বহিঃবর্তনী। 

    - কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
    - মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
    যথা- 
    ১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
    ২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
    ৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
    ৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৯০.
    আইনস্টাইনের দ্বিতীয় স্বীকার্য অনুযায়ী আলোর বেগের কোন বৈশিষ্ট্য সত্য?
    1. আলোর বেগ পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল
    2. আলোর বেগ নির্দিষ্ট জড় প্রেক্ষাপটের জন্য পরিবর্তনশীল
    3. আলোর বেগ আলোর উৎসের গতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়
    4. শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রেক্ষাপটের পর্যবেক্ষকের জন্য সমান
    ব্যাখ্যা

    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব:
    - বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা।
    - ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
    - আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
    যথা -
    প্রথম স্বীকার্য:
    - স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।

    দ্বিতীয় স্বীকার্য:
    - শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৯১.
    নিচের কোনটি পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
    1. নিউক্লিয়ার ফিশন
    2. নিউক্লিয়ার ফিউশন
    3. তাপীয় বিক্রিয়া
    4. রাসায়নিক বিক্রিয়া
    ব্যাখ্যা
    নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
    - যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
    - সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া। 
    - নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়। 

    নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
    - যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পারমাণু ভেঙ্গে একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
    - নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

    উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
    ৯২.
    গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি সত্য নয়?
    1. দৃশ্যমান আলোর চেয়ে শক্তি কম
    2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট
    3. এটি কম্পাঙ্ক বেশি রাখে
    4. এটি জীবনের জন্য ক্ষতিকর
    ব্যাখ্যা

    - গামা রশ্মি হলো তড়িৎচৌম্বকীয় বর্ণালীর সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। এর শক্তি দৃশ্যমান আলোর শক্তির তুলনায় কয়েক হাজার গুণ বেশি হতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রানুসারে, বিকিরণের শক্তি তার কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যস্তানুপাতিক। যেহেতু গামা রশ্মির কম্পাঙ্ক অনেক বেশি, তাই এর শক্তিও অনেক বেশি। 

    গামা রশ্মি: 
    - 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray । 
    - গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
    - দৃশ্যমান আলোর চেয়ে গামা রশ্মির শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
    - তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
    - পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
    - প্রাণী দেহের জন্য গামা রশ্মিটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৯৩.
    নিম্নের কোনটি ফোটন কণার ধর্ম নয়? 
    1. তড়িৎ নিরপেক্ষ
    2. নিশ্চল ভর শূন্য
    3. নিউটনের বলবিদ্যার দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়
    4. আলোর সমবেগে চলে
    ব্যাখ্যা
    ফোটন কণা: 
    - ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
    - ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
    - প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
    - কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

    ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
    ১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
    ২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
    ৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
    ৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৯৪.
    এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে এর ভেদন ক্ষমতা কী হয়? 
    1. অসীম হয়ে যায়
    2. বৃদ্ধি পায়
    3. কমে যায়
    4. অপরিবর্তিত থাকে
    ব্যাখ্যা
    এক্সরে (X-ray): 
    - ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
    - পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
    - গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

    এক্সরের প্রকারভেদ: 
    - এক্সরে দুই প্রকার।
    যথা- 
    ১। কোমল এক্সরে: 
    - এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
    - কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

    ২। কঠিন এক্সরে: 
    - এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
    - কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

    এক্সরের ধর্ম: 
    ১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
    ২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
    ৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
    ৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
    ৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
    ৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
    ৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
    ৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
    ৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
    ১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
    ১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
    ১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
    ১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৯৫.
    NASA কোন দেশের গবেষণা কেন্দ্র-
    1. রাশিয়া
    2. যুক্তরাষ্ট্র
    3. যুক্তরাজ্য
    4. ভারত
    ব্যাখ্যা
    • NASA:
    - NASA এর পূর্ণরূপ হলো National Aeronautics and Space Administration.
    - NASA হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
    - নাসা'র সদরদপ্তর ওয়াশিংটন ডিসি তে অবস্থিত।
    - এটি ১৯৫৮ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।
    - ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল হলো এটির উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।

    উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
    ৯৬.
    কোন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না? 
    1. বোসন কণা
    2. প্রোটন কণা
    3. ইলেকট্রন কণা
    4. নিউট্রন কণা
    ব্যাখ্যা
    বোসন: 
    - মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
    - এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
    - বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
    - এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
    - স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
    যথা: 
    ১। গেজ বোসন ও 
    ২। হিগস বোসন। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ৯৭.
    আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত কয়টি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত? 
    1. দুইটি
    2. তিনটি 
    3. চারটি 
    4. পাঁচটি 
    ব্যাখ্যা

    আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
    - তার আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
    - বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
    - ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
    - মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
    - আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। 
    যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
    - আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
    যথা- 
    প্রথম স্বীকার্য: 
    - স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

    দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
    - শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ৯৮.
    কোনটি পেটের আলসার নির্ণয়ের অন্যতম একটি উপায়?
    1. ক) কোমোথেরাপি
    2. খ) এক্সরে
    3. গ) এন্ডোসকপি
    4. ঘ) রেডিও থেরাপি
    ব্যাখ্যা
    এন্ডোসকপি যন্ত্র সাধারণত একটি বাঁকানো টেলিস্কোপ। এই যন্ত্রের দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্যদিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়।
    আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহব্বরে প্রবেশ করে।
    এই আলো ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত
    আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে-তা দেখতে পারেন।

    এন্ডোসকপির মাধ্যমে চিকিৎসকগন শরীরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পাকস্থলীতে যে কোনো ধরনের অস্বস্থিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন।  পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালী, স্ত্রী প্রজননতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এন্ডোসকপি ব্যবহার নির্ধারণ করেন। এছাড়া পেটের আলসার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি করা হয়।

    উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
    ৯৯.
    সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোনটি?
    1. জার্মেনিয়াম
    2. ফসফরাস
    3. সিলিকন
    4. বোরন
    ব্যাখ্যা

    • সঠিক উত্তর: গ) সিলিকন।
    কারণ: সিলিকন সেমিকন্ডাক্টরের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত, কারণ এটি সহজে পাওয়া যায়, তাপ সহনশীল এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য।
     
    অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor): 
    - আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর। 
    - যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
    অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
    যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
    - সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ। 
    - পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
    অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১০০.
    আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য কয়টি? 
    1. একটি 
    2. দুইটি 
    3. তিনটি 
    4. চারটি 
    ব্যাখ্যা

    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
    - বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
    - ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 
     
    বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
    - আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুইটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
    - ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
    যথা - 
    ১। প্রথম স্বীকার্য: 
    - স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
     
    ২। দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
    - শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 
     
    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।