বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সন্ধি

মোট প্রশ্ন২,০৭৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সন্ধি

PrepBank · পাতা / ২১ · ১০১২০০ / ২,০৭৪

১০১.
'প্রাদুর্ভাব' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাদু + ভাব 
  2. প্রাদুঃ + ভাব 
  3. প্রাদুঃ+ ভাবঃ
  4. প্রাদু + ভাবঃ
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব 
ব্যাখ্যা

'প্রাদুর্ভাব' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- প্রাদুঃ + ভাব।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধি :
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
- ১. বিসর্গ + স্বর এবং
- ২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়। যেমন -
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ বাদ = আশীর্বাদ,
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

এরূপ - নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, নির্জন, বহির্গত, দুর্লোভ, দুরন্ত ইত্যাদি।

ব্যতিক্রম: ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সঙ্গে 'র' এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন -
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০২.
'জন + এক = জনৈক' - কোন প্রকার সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০৩.
'দ্রবণ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাওয়া যায়-
  1. ক) দ্র + অন
  2. খ) দ্রো + অন
  3. গ) দ্র + ওন
  4. ঘ) দ্রো + বন
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রো + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্রো + অন
ব্যাখ্যা
এ, ঐ, ও, ঔ - কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়। যেমন -

• এ + অ = অর্ + অ
নে + অন = নয়ন। শে + অন = শয়ন।

• ঐ + অ = আয়্ + অ
নৈ + অক = নায়ক। গৈ + অক = গায়ক ৷

• ও + অ = অব্ + অ
পো + অন = পবন। লো + অন = লবণ।
একইভাবে, দ্রো + অন = দ্রবণ।

• ঔ + অ = আব্ + অ
পৌ + অক = পাবক । =

• ও + আ = অব্ + আ
গো + আদি = গবাদি ।

• ও + এ = অব্ + এ
গো + এষণা = গবেষণা।

• ও + ই = অব্ + ই
পো + ইত্র = পবিত্র।

• ঔ + ই = আব্ + ই
নৌ + ইক = নাবিক ।

• ঔ + উ = আব্ + উ
ভৌ + উক = ভাবুক


সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৪.
 ‘তদ্রুপ’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + রূপ
  2. তদ + রূপ
  3. তৎ + রুপ
  4. তদ + রুপ
সঠিক উত্তর:
তৎ + রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + রূপ
ব্যাখ্যা

 • ‘তদ্রুপ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + রূপ = তদ্রুপ।

এরুপ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- উৎ + ঘাটন = উদ্ঘাটন।
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ। 
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন। 
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

১০৫.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) সম + তান্ = সন্তান
  2. খ) সম্ + তন্ = সন্তান
  3. গ) সম্ + তান = সন্তান
  4. ঘ) সন + তান = সন্তান
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ + তান = সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ + তান = সন্তান
ব্যাখ্যা
• সন্ধির ক্ষেত্রে  ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।

যেমন
- শম্ + কা =শঙ্কা, 
- সম্ + চয় = সঞ্চয়, 
- সম্ + তান = সন্তান, 
- সম্ + তাপ = সন্তাপ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৬.
‘সদিচ্ছা’- এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সৎ + দিচ্ছা
  2. সদ + ইচ্ছা
  3. সৎ + ইচ্ছা
  4. সত + ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
সৎ + ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম:
ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি ক, চ, ট, তু, পৃ-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলাে যথাক্রমে গ, জু, ডু, ড়, দৃ, বৃ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

⇒ ব্যঞ্জন ও স্বরধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির কিছু উদাহরণ হলো:
• প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত।
• ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ।
• ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু।
• ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।
• ষট্ + আনন = ষড়ন।
• সৎ+ অর্থক = সদর্থক।
• সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা।
• মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৭.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
  2. পত + অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
  3. পাতা + অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
  4. পত্র + অঞ্জলি =  পতঞ্জলি 
সঠিক উত্তর:
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
ব্যাখ্যা

• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:

- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০৮.
'স্বাধীন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) স্বা + অধীন
  2. খ) স + অধীন
  3. গ) সা + অধীন
  4. ঘ) স্ব + অধীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্ব + অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্ব + অধীন
ব্যাখ্যা
স্ব + অধীন = স্বাধীন, স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা, সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০৯.
‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষট্ + যন্ত্র
  2. ষড় + যন্ত্র
  3. ষঢ় + যন্ত্র
  4. ষড়ঃ + যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ষট্ + যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্ + যন্ত্র
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
- ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
১১০.
‘তদবধি’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ততঃ + অবধি
  2. তৎ + অবধি
  3. ততঃ + অবোধি
  4. তত + বধি
সঠিক উত্তর:
তৎ + অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + অবধি
ব্যাখ্যা
• ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১১১.
'নিস্পন্দ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিস্‌ + স্পন্দ
  2. নিঃ+ স্পন্দ
  3. নিষ্‌ + স্পন্দ
  4. নিদ্‌ + স্পন্দ
সঠিক উত্তর:
নিঃ+ স্পন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ+ স্পন্দ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্ব কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়।
যেমন-
• নিঃ+ স্পন্দ = নিঃস্পন্দ কিংবা নিস্পন্দ।
• নিঃ + স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ।
• দুঃস্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১১২.
'গতানুগতিক' এর সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. গতি + আনুগতিক
  2. গত + আনুগাতিক
  3. গতা + অনুগতিক
  4. গত + অনুগতিক
সঠিক উত্তর:
গত + অনুগতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গত + অনুগতিক
ব্যাখ্যা
• 'গতানুগতিক' এর সন্ধিবিচ্ছেদ- গত + অনুগতিক।

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ+ অ = আ; নর+ অধম = নরাধম। এরূপ- হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত,গতানুগতিক ইত্যাদি।
- অ + আ = আ; হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ; যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি। -
- আ + আ = আ; বিদ্যা+আলয় বিদ্যালয়। এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১৩.
নিম্নের কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধির গঠনের প্রকার নয়?
  1. ক) ব্যঞ্জন + স্বর
  2. খ) ব্যঞ্জন + বিসর্গ
  3. গ) স্বর + ব্যঞ্জন
  4. ঘ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যঞ্জন + বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যঞ্জন + বিসর্গ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধির গঠনের প্রকার ৩ টি -
ব্যঞ্জন + স্বর
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১১৪.
নিম্নের কোন শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) অতীত
  2. খ) পরমেশ
  3. গ) মতৈক্য
  4. ঘ) উল্লাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) উল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উল্লাস
ব্যাখ্যা
• ‘উল্লাস‘- এর সন্ধি বিচ্ছেদ- উৎ+ লাস

মতৈক্য শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ মত + ঐক্য; এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
পরমেশ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ পরম + ঈশ; এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
আশাতীত শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ আশা + অতীত; এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র ( এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ )
- বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক ( এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ )
- উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল )

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৫.
'মৃত্যুঞ্জয়' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. ক) মৃত: + জয় 
  2. খ) মৃত্যম + জয় 
  3. গ) মৃত্য: + জয়
  4. ঘ) মৃত + জয়
সঠিক উত্তর:
খ) মৃত্যম + জয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৃত্যম + জয় 
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় (বিশেষণ) 
অর্থ: মৃত্যুকে জয় করেছে এমন, অমর। 
সন্ধি বিচ্ছেদঃ 
মৃত্যুঞ্জয় = মৃত্যম + জয় 
১১৬.
নিচেরে কোনটি সঠিক?
  1. ক) সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়
  2. খ) নতুন শব্দ তৈরি হয়
  3. গ) উচ্চারণের সহজতা আসে
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উপরের সবগুলোই সঠিক
'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন ।
সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য :
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু
১১৭.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ
  2. খ) পুত্র + অ = পৌত্র
  3. গ) দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র
  4. ঘ) শক্তি + অ = শক্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) শক্তি + অ = শক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শক্তি + অ = শক্ত
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ হলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যযোগে গঠিত শব্দ৷
এরূপ-
- যদু + অ = যাদব
- পুত্র + অ = পৌত্র
- দুহিতৃ + অ = দৌহিত্র
- শক্তি + অ = শাক্ত
- পতঞ্জলি + অ = পাতঞ্জল
- তিল + অ = তৈল
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১১৮.
‘বিপচ্ছায়া’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপ + চ্ছায়া
  2. বিপথ + ছায়া
  3. বিপত্তি + ছায়া
  4. বিপদ + ছায়া
সঠিক উত্তর:
বিপদ + ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদ + ছায়া
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম: ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ হয়।
যেমন:
- দ্ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া;
- ত্ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ;
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা;
- দ্ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৯.
'প্রাদুর্ভাব' -এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাদুর + ভাব
  2. প্রাদুঃ + ভাব 
  3. প্রাদু + ভাব 
  4. প্রাদুঃ+ ভাবঃ
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব 
ব্যাখ্যা

'প্রাদুর্ভাব' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- প্রাদুঃ + ভাব।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধি :
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
- ১. বিসর্গ + স্বর এবং
- ২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়। যেমন -
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ বাদ = আশীর্বাদ,
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

এরূপ - নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, নির্জন, বহির্গত, দুর্লোভ, দুরন্ত ইত্যাদি।

ব্যতিক্রম: ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সঙ্গে 'র' এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন -
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২০.
‘মহীন্দ্র’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহি + ঈন্দ্ৰ
  2. মহি + ইন্দ্ৰ
  3. মহী + ঈন্দ্ৰ
  4. মহী + ইন্দ্ৰ
সঠিক উত্তর:
মহি + ইন্দ্ৰ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহি + ইন্দ্ৰ
ব্যাখ্যা
• 'মহীন্দ্র' এর সঠিক সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ- মহি + ইন্দ্র = মহীন্দ্র।

• সূত্র: 
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন- 
সুধী+ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
মহি + ইন্দ্র = মহীন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১২১.
ইত্যাদি -
  1. ইত্যা + আদি
  2. ইতা + আদি
  3. ই + তাদি
  4. ইতি + আদি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইতি + আদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতি + আদি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য বা য ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- উপরি + উপর = উপর্যুপরি,
- প্রতি + এক = প্রত্যেক, 
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি, 
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত, 
- ইতি + আদি = ইত্যাদি।
এরূপ- অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার, যদ্যপি, আদ্যন্ত, প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: 'প্রাতরাশ'
  1. প্রতি + রাশ
  2. প্রাতঃ + রাশ
  3. প্রাত + আশ
  4. প্রাতঃ + আশ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
ব্যাখ্যা
• 'প্রাতরাশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ : 'প্রাতঃ + আশ'। 
 
• কিছু বিসর্গ সন্ধির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো : 
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১২৩.
'বাচস্পতি' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বাচসঃ + পতি
  2. বাচস + পতি
  3. বাচঃ + পতি
  4. বাচ + পতি
সঠিক উত্তর:
বাচঃ + পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচঃ + পতি
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
 
• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৪.
'প্রত্যুষ' - শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতি + ঊষ
  2. প্রত্য + ঊষ
  3. প্রত্য + উষ
  4. প্রতি + উষ
সঠিক উত্তর:
প্রতি + উষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + উষ
ব্যাখ্যা
• 'প্রত্যুষ' - শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ : প্রতি + উষ = 'প্রত্যুষ'। 


- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য’ বা য ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
•  প্রতি + উষ = 'প্রত্যুষ'। 
• অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
• ইতি + আদি = ইত্যাদি ।
• প্ৰতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
• মসী + আধার = মস্যাধার ।
• প্রতি + এক = প্রত্যেক ৷
• নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৫.
কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি ভুল?
  1. বন + পতি = বনস্পতি
  2. পুনঃ + রায় = পুনরায়
  3. সম্‌ + তাম = সন্তাপ
  4. বিপদ + জাল = বিপজ্জাল
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + রায় = পুনরায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + রায় = পুনরায়
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি:
•  অ-কারের পরস্থিত স্-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স্-জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও-কার হয়।
যেমন-
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + হর = মনোহর,
- তপঃ +  বন = তপোবন ইত্যাদি।

• অ-কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন-
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- অন্তঃ ধান = অন্তর্ধান,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ।
এরূপ – পুনর্জন্ম, পুনর্বার, প্রাতরুথান, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বন + পতি = বনস্পতি; নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।
- সম্‌ + তাম = সন্তাপ; ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে 'ম্' ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
- বিপদ + জাল = বিপজ্জাল ; ত্ ও দ্‌ - এরপর জ্ ও ঝ থাকলে ত্ ও দ্‌- এর স্থানে জ্ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৬.
‘মিথ্যুক’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মিথ্যা+উক
  2. খ) মিথ্যা+থ্যুক
  3. গ) মিথ+থ্যুক
  4. ঘ) মিথ্যা+অক
সঠিক উত্তর:
ক) মিথ্যা+উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিথ্যা+উক
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।
• সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়। যেমন-
- আ+উ = উ (আ লোপ), যেমন- মিথ্যা+উক = মিথ্যুক
- অ+এ = এ (অ লোপ), যেমন- শত+এক = শতেক।
- আ+আ = আ (একটি আ লোপ), যেমন- শাঁখা+আরি = শাঁখারি।
- ই+এ = ই (এ লোপ), যেমন- কুড়ি+এক = কুড়িক।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৭.
শিরঃ + ছেদ = ?
  1. ক) শিরচ্ছেদ
  2. খ) শিরোশ্ছেদ
  3. গ) শিরশ্ছেদ
  4. ঘ) শিরোচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
গ) শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়। অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে শিশ ধ্বনি হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৮.
নিম্নের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক)  বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি
  2. খ) এক+দশ = একাদশ
  3. গ) গো +পদ = গোষ্পদ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- কিছু ব্যঞ্জন সন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
যেমন:
 বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি
এক+দশ = একাদশ
গো +পদ = গোষ্পদ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৯.
'নমস্কার' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নমঃ + কার
  2. নম + কার
  3. নমসঃ + কার
  4. নবঃ + কার
সঠিক উত্তর:
নমঃ + কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নমঃ + কার
ব্যাখ্যা

• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার। এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
 
যেমন: 
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩০.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) পশু + অধম = পশ্বধম
  2. খ) পশু + অধম = পশ্বাধম
  3. গ) মন + অন্তর = মন্বন্তর
  4. ঘ) মনু + অন্তর = মনন্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পশু + অধম = পশ্বধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পশু + অধম = পশ্বধম
ব্যাখ্যা

'উ' বা 'ঊ' ধ্বনির সঙ্গে অন্য স্বরধ্বনি মিললে উ বা ঊ–র জায়গায় ব–ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন বানানে আগের ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়৷
যেমন-
উ + অ = ব্ + অ = ব:

- অনু + অয় = অন্বয়
- পশু + অধম = পশ্বধম
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর
- সু + অচ্ছ = স্বচ্ছ
- সু + অল্প = স্বল্প

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩১.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. গো + পদ = গোষ্পদ।
  2. বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
  3. মনষ্‌ + ঈষা = মনীষা।
  4. পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
সঠিক উত্তর:
পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু সন্ধি আছেঃ
সম্‌ + কার = সংস্কার
সম, + কৃত = সংস্কৃত
এরূপ - সংস্কৃতি, পরিষ্কৃত ইত্যাদি।
ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোন কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার মানে নিপাতনে সিদ্ধ।
গো + পদ = গোষ্পদ।
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
মনষ্‌ + ঈষা = মনীষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

১৩২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. পো + ইত্র = পবিত্র
  2. উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  3. কৃষ্ + তি = কৃষ্টি
  4. পৎ + হতি = পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
পৎ + হতি = পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৎ + হতি = পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

- ত ও দ এর পর হ থাকলে ত ও দ এর স্থলে দ এবং হ এর স্থলে ধ হয়।
যেমন-
• উৎ + হার = উদ্ধার,
• পদ্ + হতি = পদ্ধতি ইত্যাদি।
- ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়।
যেমন-
• উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- ষ- এর পর ত বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত ও থ এর স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
• কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি,
• ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ।
- এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়।
যেমন-
• পো + ইত্র = পবিত্র,
• গৈ + অক = গায়ক,
• নে + অন = নয়ন,
• নৈ + অক = নায়ক,
• পো + অন = পবন,
• গো + এষণা = গবেষণা,
• নৌ + ইক = নাবিক,
• গো + আদি = গবাদি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৩.
'অত্যুন্নতি' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অত্যু + উন্নতি
  2. খ) অতি + উন্নতি
  3. গ) অত্যুৎ + উন্নতি
  4. ঘ) অতীত + উন্নতি
সঠিক উত্তর:
খ) অতি + উন্নতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতি + উন্নতি
ব্যাখ্যা
• 'অত্যুন্নতি' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ- অতি + উন্নতি

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বরসন্ধির উদাহরণ হল-

অতি + উচ্চ = অত্যুচ্চ।
অপর + অপর = অপরাপর।
অতি + ঐশ্বর্য = অত্যৈশ্বর্য।
অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
অভি + উত্থান = অভ্যুত্থান।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মনঃ + তাপঃ = মনস্তাপ
  2. চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
  3. নিষঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
  4. ইতঃ + তত = ইতঃস্তত
সঠিক উত্তর:
চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম / সূত্র:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ্‌ থাকলে ষ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

• সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়। 
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা।
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র। 
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়। 
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
- ইতঃ + তত = ইতস্তত। 
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৫.
ব্যাঞ্জনসন্ধি কখন গঠনের নিয়ম কোনটি?
  1. ক) স্বর+ব্যঞ্জন
  2. খ) ব্যঞ্জন + স্বর
  3. গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত, ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর+ব্যঞ্জন
২. ব্যঞ্জন + স্বর
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩৬.
'পুনর্মিলন' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পূর্ণ+মিলন
  2. পুনঃ+মিলন
  3. পুন+মিলন
  4. পুনরায়+মিলন
সঠিক উত্তর:
পুনঃ+মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ+মিলন
ব্যাখ্যা
• 'পুনর্মিলন' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - পুনঃ+মিলন। 
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 
- এখানে বিসর্গ র’ হয়ে যায়।  

• বিসর্গসন্ধি:
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
- বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি।
- বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন।
- বিসর্গ 'র্‌’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ।
- বিসর্গ শ্‌ / ষ্‌ / স্‌ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩৭.
'তনূর্ধ্ব' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তনু + ঊর্ধ্ব
  2. তনু + উর্ধ্ব
  3. তনূ + উর্ধ্ব
  4. তনুঃ + উর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
তনু + ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তনু + ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের হষ-উ বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রষ-উ বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঊ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-উ-কার হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- লঘু + উর্মি = লঘূর্মি,
- তনু + ঊর্ধ্ব = তনূর্ধ্ব,
- বধূ + উক্তি = বধূক্তি,
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব,
- বধূ + উচিত = বধূচিত,
- ভূ + উর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব,
- সরযূ + উর্মি = সরযূর্মি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) অদ্যাবধি
  2. খ) দুরাবস্থা
  3. গ) পশ্বধম
  4. ঘ) শীতাতপ
সঠিক উত্তর:
খ) দুরাবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুরাবস্থা
ব্যাখ্যা

- দুরাবস্থার শুদ্ধরূপ দুরবস্থা। এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- বিসর্গ সন্ধি টি হচ্ছে- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।

সোর্সঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৯.
'সর্বাঙ্গীণ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সর্ব + অঙ্গীন
  2. খ) সর্বাঙ্গ + ঈন
  3. গ) সর্ব + নীন
  4. ঘ) সর্বঙ্গ + ঈন
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বাঙ্গ + ঈন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বাঙ্গ + ঈন
ব্যাখ্যা
নীন (ঈন্‌)- প্রত্যয়ঃ
সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
কুল + নীন = কুলীন
নব + নীন = নবীন
তেমনিভাবে,
সর্বাঙ্গ + ঈন = সর্বাঙ্গীণ
 
সর্বাঙ্গীণ শব্দের অর্থ পূর্ণাঙ্গ, সম্পূর্ণ। 

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, পৃষ্ঠা নংঃ ৯২; আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৪০.
‘নবােঢ়া’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নব + ঊঢ়া
  2. খ) নবঃ + উঢ়া
  3. গ) নবাে + ঊঢ়া
  4. ঘ) নব + উয়া
সঠিক উত্তর:
ক) নব + ঊঢ়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নব + ঊঢ়া
ব্যাখ্যা
নবোঢ়া: 
নব+ঊঢ়া = নবোঢ়া স্বরসন্ধির উদাহরণ।
অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয় মিলে ও-কার হয়;ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন -
অ + উ = ও [সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়]
আ + উ = ও [যথা + উচিত = যথোচিত]
অ + ঊ = ও [গৃহ + ঊর্ধ = গৃ্হোর্ধ্ব]
আ + ঊ = ও [গঙগা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি]
এরূপ - নীলোৎপল, চলোর্মি, নবোঢ়া, ফলোদয়, পরোপকার ইত্যাদি।

[নবোঢ়া/নবোঢ়া] (বিশেষ্য) নতুন বিবাহিতা স্ত্রী; নতুন বৌ; নববধূ।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) নব+ঊঢ়া; বহুব্রীহি সমাস}।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম  শ্রেণি ), বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৪১.
সন্ধির নিয়মানুসারে কোনটির সন্ধি হয়?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) কটাক্ষ
  3. গ) পশ্চাধর
  4. ঘ) দেশান্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশান্তর
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়মানুসারে অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার বা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়। 
যেমনঃ নব + অন্ন = নবান্ন
শশ + অঙ্ক = শশাঙ্ক
দেশ + অন্তর = দেশান্তর
সিংহ + আসন = সিংহাসন 

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

১৪২.
'দুর্যোগ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুর্‌ + যোগ
  2. দুরঃ + যোগ
  3. দু + যোগ
  4. দুঃ + যোগ
সঠিক উত্তর:
দুঃ + যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + যোগ
ব্যাখ্যা
• ‘দুর্যোগ’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'দুঃ + যোগ'।

‘দুর্যোগ’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:  
- অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
নিঃ + আকার = নিরাকার,
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৩.
'যথেষ্ট' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথা + এষ্ট
  2. যথা + ইষ্ট
  3. যথা + ঈষ্ট
  4. যথ + ইষ্ট
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• আ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
• আ+ ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
• অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
• আ+ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ। 

এরূপ- রমেশ, নরেন্দ্র, নরেশ, স্বেচ্ছা, শ্রবণেন্দ্রিয়, পূর্ণেন্দু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ক্ট = ক্ + ট
  2. খ) ক্ম = ক্ + ন
  3. গ) ঙ্ক = ঙ্ + ক
  4. ঘ) ত্থ = ত্ + থ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ম = ক্ + ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ম = ক্ + ন
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়।
১) স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ, যেমনঃ ক্ট = ক্ + ট, জ্জ = জ্ + জ, ন্ট = ন্ + ট ইত্যাদি।
২) অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণঃ ক্ম = ক্ + ম, ঙ্ক = ঙ্ + ক, ত্থ = ত্ + থ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৪৫.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
  2. খ) শব্দের আকার ছোটো করতে সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।
  3. গ) সন্ধির ফলে ভাষা সুন্দর ও সাবলীল হয়।
  4. ঘ) সন্ধি অর্থ পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধি অর্থ পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধি অর্থ পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
ব্যাখ্যা
সন্ধির প্রয়োজন বহুবিধ। যেমন:
১। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
২। শব্দের আকার ছোটো করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।
৩। সন্ধির ফলে ভাষা সুন্দর ও সাবলীল হয়।
৪। উচ্চারণ সহজ করার জন্যে সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
৫। উচ্চারণের সৌকর্য ও শ্রুতিমাধুর্য বৃদ্ধি, ভাষার প্রাঞ্জলতা সৃষ্টি ও ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করতে সন্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
১৪৬.
'পরমৌষধ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + ওষধ
  2. পরমা + ঔষধ
  3. পরম + ঔষধ
  4. পরমৌ + ঔষধ
সঠিক উত্তর:
পরম + ঔষধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম + ঔষধ
ব্যাখ্যা
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ- ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
অ + ও = ঔ     বন + ওষধি = বনৌষধি, জল + ওকা = জলৌকা, জল+ ওঘ = জলৌঘ
আ + ও = ঔ    মহা + ওষধি = মহৌষধি, গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ
অ + ঔ = ঔ    পরম + ঔষধ = পরমৌষধ, চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য, দিব্য + ঔষধ= দিব্যৌষধ
আ + ঔ = ঔ   মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য, মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য, মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ]
১৪৭.
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) উদ্ধার
  2. খ) অতীত
  3. গ) পরিচ্ছদ
  4. ঘ) পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
খ) অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতীত
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে,
- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
ই + ই = ঈ।
যেমন - অতি + ইত = অতীত
---------
অপশনের অন্যান্য শব্দগুলোর মধ্যে -
উদ্‌ + হার = উদ্ধার - ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
পরি + ছদ = পরিচ্ছদ - ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
পুরঃ + কার = পুরস্কার - বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৮.
'পুনরুত্থান'-এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুণ+ উত্থান
  2. পূণঃ + উত্থান
  3. পুণঃ + উত্থান
  4. পুনঃ + উত্থান 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উত্থান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উত্থান 
ব্যাখ্যা

• 'পুনরুত্থান'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ- পুনঃ + উত্থান।

• বিসর্গসন্ধি:
- 'পুনরুত্থান' ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধির উদাহরণ। 
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন একটি সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণের সুবিধার্থে রূপ বদলায়।
- অনেক ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায়, কখনও ‘র্’ বা ‘স্’-জাত বিসর্গে রূপান্তরিত হয়, আবার কোথাও ‘ও’-কারে বা দীর্ঘ স্বরে পরিবর্তিত হয়।

• ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধি:
- শব্দের শেষে থাকা র্ → বিসর্গ হয়ে পরবর্তী স্বরের সঙ্গে মিললে আবার র ধ্বনিতে ফিরে আসে।
- উদাহরণ:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান।
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪৯.
'গোষ্পদ'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গোঃ + পদ
  2. গো + পদ
  3. গৌ + পদ
  4. গৈ + পদ
সঠিক উত্তর:
গো + পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো + পদ
ব্যাখ্যা
• 'গোষ্পদ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - গো + পদ। এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
যেসব সন্ধির নিদিষ্ট কোন নিয়ম নেই, তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫০.
‘একচ্ছত্র' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) এক: + ছত্র
  2. খ) এক: + ছত্র:
  3. গ) এক + ছত্র
  4. ঘ) একচ + ছত্র
সঠিক উত্তর:
গ) এক + ছত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এক + ছত্র
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। 
যথা
অ + ছ = চ্ছ             এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ            কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ              পরি + ছদ = পরিচ্ছদ, বি + ছেদ = বিচ্ছেদ । 

এরূপ – মুখচ্ছবি, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলােকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ।]
১৫১.
'বনৌষধি' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বন + ঔষধি
  2. বন + ওষধি
  3. বন + ঔষুধি
  4. বন + ঔষূধি
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
- মহা + ঋষি = মহর্ষি।
- শীত + ঋত = শীতার্ত।
- জন + এক = জনৈক।
- বন + ওষধি = বনৌষধি
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫২.
'অ/আ+ঋ = অর্‌' নিয়মে সাধিত সন্ধিশব্দ কোনটি?
  1. ক) জনৈক
  2. খ) মহর্ষি
  3. গ) গঙ্গোর্মি
  4. ঘ) সূর্যোদয়
সঠিক উত্তর:
খ) মহর্ষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহর্ষি
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয় মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন,
অ + ঋ = অর্‌ - দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
আ + ঋ = অর্‌ - মহা + ঋষি = মহর্ষি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।  
১৫৩.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধি নয়?
  1. ক) মহর্ষি
  2. খ) প্রাতরাশ
  3. গ) মনোহর
  4. ঘ) তপোবন
সঠিক উত্তর:
ক) মহর্ষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহর্ষি
ব্যাখ্যা
মহর্ষি = মহা+ঋষি, যা বিসর্গ সন্ধি নয়।
প্রাতরাশ, তপোবন, মনোহর এগুলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৫৪.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত? 
  1. নিশ্ছিদ্র
  2. উজ্জ্বল
  3. মানোত্তীর্ণ
  4. সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
নিশ্ছিদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্ছিদ্র
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দটি হলো - নিশ্ছিদ্র।
• শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ, নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বা ছ্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ হয়। এবং ৎ বা দ্‌ -এর পরে জ্‌ বা ঝ্‌ থাকলে ত্ দ্‌ স্থানে জ্‌  হয়। যেমন - উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল।

- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার  হয়। যেমন- সম্ + সার = সংসার, সম্ + গ্রাম = সংগ্রাম। 

- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ, মান + উত্তীর্ণ = মানোত্তীর্ণ।

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫৫.
বিসর্গ সন্ধি নয় কোনটি?
  1. আবিষ্কার
  2. তিরস্কার
  3. পরিষ্কার
  4. পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি নয় - পরিষ্কার = পরি + কার।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার। 
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ - পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৬.
'বাচস্পতি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বাচস্‌ + পতি = বাচস্পতি
  2. বাচঃ + পতি = বাচস্পতি
  3. বাচ্‌ + পতি = বাচস্পতি
  4. বাচসঃ + পতি = বাচস্পতি
সঠিক উত্তর:
বাচঃ + পতি = বাচস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচঃ + পতি = বাচস্পতি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্ ও স্ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়। র্ ও স্ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত। বস্তুত বিসর্গ র্ এবং স্ এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্ - জাত বিসর্গ ও
২. স্ - জাত বিসর্গ।

- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র ও স্ এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
• বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
• ভাঃ + কর = ভাস্কর,
• অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
• নমঃ + কার = নমস্কার,
• পুরঃ + কার = পুরস্কার, 
• নিঃ + কর = নিষ্কর, 
•  বহিঃ + কৃত = বহিষ্কৃত,
• অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫৭.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি?
  1. কুলটা
  2. গোষ্পদ
  3. গবাক্ষ 
  4. প্রৌঢ়
সঠিক উত্তর:
গোষ্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোষ্পদ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি:
- পর্ + পর পরস্পর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = যোড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক +  দশ = একাদশ।

-------------------
 কতগুলো স্বর সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
যথা: কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়), গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়), প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়), অন্য + অন্য = অন্যান্য, মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৫৮.
‘বিপচ্চয়’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপ + চ্চয়
  2. বিপদ + চ্চয়
  3. বিপথ + চয়
  4. বিপদ + চয়
সঠিক উত্তর:
বিপদ + চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদ + চয়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম: ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ হয়।
যেমন:
- দ্ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া;
- ত্ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ;
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা;
- দ্ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৯.
'গবাক্ষ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬০.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধি?
  1. পরস্পর
  2. পুরস্কার
  3. পরিচ্ছেদ
  4. উল্লাস
সঠিক উত্তর:
পুরস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরস্কার
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- পরস্পর = পর + পর,
- পরিচ্ছেদ = পরি + ছেদ,
- উল্লাস = উৎ + লাস।

কিন্তু পুরস্কার = পুরঃ + কার।
১৬১.
'উচ্ছেদ' শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ নিচের কোনটি?
  1. ক) উচ + ছেদ
  2. খ) উচ্‌ + ছেদ
  3. গ) উৎ + ছেদ
  4. ঘ) উত্‌ + ছেদ
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + ছেদ
ব্যাখ্যা

ত্‌ কিংবা দ্‌ এর পরে চ কিংবা ছ থাকলে ত্‌ বা দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়।
যেমনঃ
উৎ + চারণ = উচ্চারণ
চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র
উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
তদ্‌ + ছবি = তচ্ছবি 


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬২.
"উল্লঙ্ঘন" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উত্ + লঙ্গন
  2. উদ্ + লঙ্ঘন
  3. উল্ + লঙ্ঘন
  4. উৎ + লঙ্ঘন
সঠিক উত্তর:
উৎ + লঙ্ঘন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + লঙ্ঘন
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ত্ ও দ এর পর ল্ থাকলে ত্ ও দ্‌-এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়।

যেমন:
- উৎ + লাস = উল্লাস। 
- উৎ + লঙ্ঘন = উল্লঙ্ঘন,
- উৎ + লেখ = উল্লেখ,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৩.
কোন সন্ধির উদাহরণটি সঠিক নয়?
  1. ক) নাত + জামাই = নাজ্জামাই
  2. খ) বদ + জাত = বজ্জাত
  3. গ) হাত + ছানি = হাছানি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) হাত + ছানি = হাছানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাত + ছানি = হাছানি
ব্যাখ্যা
চ বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ বর্গীয় ধ্বনীর দ্বিত্ব হয়৷ যেমনঃ নাত + জামাই = নাজ্জামাই, বদ + জাত = বজ্জাত, হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৬৪.
“রান্না” -এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) রান + না
  2. খ) রাঁদ + না
  3. গ) রান্ন + আ
  4. ঘ) রাঁধ্‌ + না
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাঁধ্‌ + না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাঁধ্‌ + না
ব্যাখ্যা
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌/ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমনঃ উৎ + নতি = উন্নতি; ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি; রাধ্‌ + না = রান্না; মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৬৫.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি?
  1. ক) অন্যান্য
  2. খ) মার্তণ্ড
  3. গ) অহর্নিশ
  4. ঘ) পরস্পর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরস্পর
ব্যাখ্যা
যেসকল ব্যঞ্জন সন্ধিকে কোনো নিয়মের মধ্যে ফেলা যায় না সেসকল ব্যঞ্জন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
পরস্পর = পর্‌ + পর।
এটি ব্যঞ্জন সন্ধি হলেও কোনো নিয়মে ফেলা যায় না।
পক্ষান্তরে অন্যান্য, মার্তণ্ড নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি, আর অর্হনিশ বিশেষ নিয়মে সাধিত বিসর্গ সন্ধি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)।
১৬৬.
'মৃন্ময়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃদ + ময় = মৃন্ময়
  2. মৃন + ময় = মৃন্ময়
  3. মৃত + ময় = মৃন্ময়
  4. মৃৎ + ময় = মৃন্ময়
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময় = মৃন্ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময় = মৃন্ময়
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌  এবং পরে ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়। কিন্তু, ৎ/দ্‌-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্‌ সন্ধিতে ল্ হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।

যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৭.
'সর্বংসহা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্বঙ্গ + সহা
  2. সর্ব + সহা
  3. সর্বম্ + সহা
  4. সর্বং + সহা
সঠিক উত্তর:
সর্বম্ + সহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বম্ + সহা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম: 
আগে ম্ এবং পরে অন্তঃস্থ ব্যঞ্জন (য/র/ল/ব) বা উষ্মধ্বনি (শ/স/হ) থাকলে সন্ধিতে ম্ স্থানে অনুষার ( ং) হয়।
যেমন:
- সম্ + যত = সংযত,
- সম্ + যুক্ত = সংযুক্ত, 
- সম্ + রাগ = সংরাগ,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ, 
- সর্বম্ + সহা = সর্বংসহা, 
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + শোধন = সংশোধন
- সম্ + লগ্ন = সংলগ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৮.
তৃষ্ণার্ত এর সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) তৃষ্ণা + আর্ত
  2. খ) তৃষ্ণা + ঋত
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) তৃষ্ণা + ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৃষ্ণা + ঋত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী আ+ঋ = আর হয়। সুতরাং তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত; ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্ত। তৃষ্ণা + ঋত। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৬৯.
'কুলটা' শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭০.
‘নীরব’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নির্ + অব
  2. নীঃ + রব
  3. নীর্ + অব
  4. নিঃ + রব
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রব
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
র পরে থাকলে র-জাত বিসর্গ লোপ পায় এবং বিসর্গের পূর্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন:
- নিঃ + রব = নীরব।
- নিরঃ + রন্ধ্র = নীরন্ধ্র।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭১.
কোন ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে?
  1. অনুসর্গ প্রক্রিয়ায়
  2. উপসর্গ প্রক্রিয়ায়
  3. কারক নির্ণয়ে
  4. পদ পরিবর্তনে
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ প্রক্রিয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ প্রক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
 - পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন 'আমি এখন চা আনতে যাই' বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র অনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই' বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭২.
'নিঃ + আশা' সন্ধির নিয়ম কী?
  1. ইঃ + অ = ই + র
  2. ইঃ + আ = ই + রা
  3. ই + অ = উ + র
  4. ই + আ = ই + রা
সঠিক উত্তর:
ইঃ + আ = ই + রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইঃ + আ = ই + রা
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• নিয়ম: ইঃ + অ = ই + র্‌:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন।
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• নিয়ম: ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার।
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• নিয়ম: উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• নিয়ম: উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা।
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৩.
'স্বাগত' শব্দটি কোন সন্ধি?
  1. বিসর্গসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জনসন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'স্বাগত' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন-
- সু + অল্প = স্বল্প
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৪.
'পরিচ্ছদ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরিঃ + ছদ
  2. পরি + ছদ
  3. পরিঃ  + চ্ছদ
  4. পরিচ + ছদ
সঠিক উত্তর:
পরি + ছদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরি + ছদ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ; এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ মুখচ্ছবি, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৭৫.
'প্রত্যাবর্তন' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. প্রতি + বর্তন
  2. প্রঃ + আবর্তন
  3. প্রতি + আবর্তন
  4. প্রত্যা + বর্তন
সঠিক উত্তর:
প্রতি + আবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + আবর্তন
ব্যাখ্যা
• ‘প্রত্যাবর্তন' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = প্রতি + আবর্তন।

সূত্র:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য ( ্য) ফলা হয়।
- য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + উক্তি = অত্যক্তি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
এরূপ-প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭৬.
'ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন' নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. তরুচ্ছায়া
  2. সদর্থক
  3. অবিন্ধন
  4. বিমুগ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিমুগ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমুগ্ধ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্, ভ্ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।
যেমন:
- বুধ্ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
----------------
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া। 
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব।
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + অর্থক = সদর্থক;
- অপ্‌ + ইন্ধন = অবিন্ধন;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৭.
'বনস্পতি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. ক) বনস্‌ +পতি
  2. খ) বন্য +পতি
  3. গ) বনঃ +পতি
  4. ঘ) বন্‌ +পতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্‌ +পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্‌ +পতি
ব্যাখ্যা
• 'বনস্পতি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ বন্‌+পতি

- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
- ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারে যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য।
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ।
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি।
- একাদশ = এক + দশ।
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি।
- গোষ্পদ = গো + পদ।
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি।
- পরস্পর = পর + পর।
- তস্কর = তদ্‌ + কর। 
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক ইত্যাদি।
==============
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (পুরাতন সংস্করণ) অনুসারে, তস্কর এর সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + কর।
ভাষা শিক্ষা -( ড. হায়াৎ মামুদ ) অনুসারে, তস্কর এর সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + কর। 
তবে, ভাষা শিক্ষা -( ড. হায়াৎ মামুদ ) এর বইয়ে তস্কর নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধির নিয়মে দেয়া আছ (তস্কর এর সন্ধি বিচ্ছেদ - তদ্‌ + কর)।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) অনুসারে, তস্কর এর সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + কর। 
সুতরাং অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে - তস্কর এর সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ + কর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৮.
'নীরোগ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নীঃ + রোগ
  2. নিঃ + রোগ
  3. নি + রোগ
  4. নির + য়োগ
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রোগ
ব্যাখ্যা

'নীরোগ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + রোগ

বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৯.
(ই + ই = ঈ) নিয়মে গঠিত সন্ধি সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অতীন্দ্রিয়
  2. পরীক্ষা
  3. সতীশ
  4. সতীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
অতীন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতীন্দ্রিয়
ব্যাখ্যা
• সূত্র: ই-কার বা ঈ-কারের পর ই-কার বা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
ই + ই = ঈ; অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়
ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
ঈ + ঈ = ঈ; সতী + ঈশ = সতীশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮০.
‘অত্যধিক’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. ক) অতি+ধিক
  2. খ) অত্যা+অধিক
  3. গ) অতি+অধিক
  4. ঘ) অত্যা+ধিক
সঠিক উত্তর:
গ) অতি+অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতি+অধিক
ব্যাখ্যা
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে ই বা ঈ ‘য’ হয় এবং য- ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন- অতি+অধিক = অত্যধিক, অতি+অন্ত = অত্যন্ত, প্রতি+অহ = প্রত্যহ, আদি+অন্ত = আদ্যন্ত, যদি+অপি = যদ্যপি, পরি+অন্ত = পর্যন্ত। এরূপ- প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, অত্যাশ্চর্য, অত্যুক্তি,অভূত্থান, অগ্নুৎপাত, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
১৮১.
‘প্রত্যাবর্তন' শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রত্য + আবর্তন
  2. প্রতি + বর্তন
  3. প্রতি + আবর্তন
  4. প্রতিঃ + বর্তন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রতি + আবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + আবর্তন
ব্যাখ্যা
• 'প্রত্যাবর্তন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - প্রতি + আবর্তন।
 
সুত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য বা য () ফলা হয়।
য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
ই + এ = য্‌ + এ  প্রতি + এক = প্রত্যেক।
ই + উ = য + উ  অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
ই + অ= য + অ  অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
ই + আ = য + আ  ইতি + আদি = ইত্যাদি।
ঈ + অ = য + আ  নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
ঈ + আ = হ্ + আ  মসী + আধার = মস্যাধার ।
 
এরূপ- অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার, যদ্যপি, আদ্যন্ত, প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
'সংশয়' - শব্দটি কোন প্রকার সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

'সংশয়' - শব্দটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:

- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  

যেমন:
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮৩.
‘উত্তমর্ণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি
  1. ক) উত্তম+মর্ণ
  2. খ) উত্তম+ঋণ
  3. গ) উত্তম+উম্ম
  4. ঘ) উত্তম+ঋত
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তম+ঋণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তম+ঋণ
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তমর্ণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে- উত্তম+ঋণ = উত্তমর্ণ।

• প্রথম পদের শেষে অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি এবং পরের পদের প্রথমে ঋ-ধ্বনি থাকলে দুয়ের সন্ধিতে আর্ হয়। বানানে অ আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যৃক্ত হয় এবং র্-ধ্বনি রেফ হয়ে পরের ব্যঞ্জনের ওপরে বসে। 

• [অ+ঋ = অর্] - দেব+ঋষি = দেবর্ষি, উত্তম+ঋণ = উত্তমর্ণ, সপ্ত+ঋষি = সপ্তর্ষি, অধম+ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।
• [আ+ঋ = অর্] - রাজা+ঋষি = রাজর্ষি, মহা+ঋষি = মহর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৪.
'পরমেশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরঃ + ঈশ
  2. পরম + ঈশ
  3. পরমঃ + ঈশ
  4. পরম + ইশ
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন—
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- পরম + ঈশ =পরমেশ।
- মহা + ঈশ =মহেশ।

• এরূপ –পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, স্বেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৫.
সন্ধির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনটি?
  1. ক) সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ প্রত্যয় সাধিত শব্দ
  2. খ) সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ সমাস সাধিত শব্দ
  3. গ) সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ প্রত্যয় অথবা সমাস সাধিত শব্দ
  4. ঘ) সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ প্রত্যয়, সমাস অথবা উপসর্গ সাধিত শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ প্রত্যয় অথবা সমাস সাধিত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ প্রত্যয় অথবা সমাস সাধিত শব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির মতে, সকল সন্ধিবন্ধ শব্দ সমাস সাধিত শব্দ, কিন্তু সকল সমাস সাধিত শব্দ সন্ধিবন্ধ নয়।

বোর্ড বইয়ের (সপ্তম শ্রেণি বাংল দ্বিতীয় পত্র) মতে, সকল সন্ধিবদ্ধ শব্দ প্রত্যয় বা সমাস সাধিত শব্দ। এটিই ঠিক। সাধারণত অন্তঃসন্ধি হয় প্রত্যয় সাধিত শব্দের ক্ষেত্রে আর সমাস সাধিত শব্দের ক্ষেত্রে বহিঃসন্ধি হয়।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
১৮৬.
বিসর্গ সন্ধি নয় কোনটি?
  1. নমস্কার
  2. পরিষ্কার
  3. নিষ্কর
  4. আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি নয় - পরিষ্কার = পরি + কার।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ - পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৭.
'অহংকার' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহন্‌ + কার
  2. অহঃ + কার
  3. অহম্ + কার
  4. অহং + কার
সঠিক উত্তর:
অহম্ + কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহম্ + কার
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধি:
আগে ম্ এবং পরে ক্‌ /খ্‌ /গ্‌ /ঘ্‌ -এর যেকোনোটি থাকলে ম্ স্থানে অনুষার (ং) বা অঙ (ঙ) হয়। কিন্তু ম-এর পর চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত যে কোনো ধ্বনি থাকলে পূর্বপদের ম্-স্থানে ঐ বর্গের পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার,
- সম্ + কীর্ণ = সংকীর্ণ, 
- সম্ + খ্যা = সংখ্যা/সঙ্খ্যা
- সম্ + গীত = সংগীত,
- সম্ + গত = সঙ্গত, 
-  সম্+ ঘাত সংঘাত,
- কিম্ + চিৎ কিঞ্চিৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৮.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. ক) শীত+ঋত=শীতার্ত
  2. খ) পরম+ইশ=পরমেশ
  3. গ) বন+ঔষধি=বনৌষধি
  4. ঘ) যথা+ইস্ট=যথেষ্ট
সঠিক উত্তর:
ক) শীত+ঋত=শীতার্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শীত+ঋত=শীতার্ত
ব্যাখ্যা
শীত+ঋত=শীতার্ত, পরম+ঈশ=পরমেশ, বন+ওষধি=বনৌষধি, যথা+ইষ্ট=যথেষ্ট।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
১৮৯.
‘পরোপকার‘ শব্দের সন্ধির নিয়ম নীচের কোনটি?
  1. ক) অ-কার + উ
  2. খ) আ-কার + ঊ
  3. গ) আ-কার + উ
  4. ঘ) অ-কার + ঊ
সঠিক উত্তর:
ক) অ-কার + উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ-কার + উ
ব্যাখ্যা

পরোপকার শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ: পর + উপকার
প্রথম শব্দের শেষে অ-কার + দ্বিতীয় শব্দে উ-কার। তাই এটি সঠিক উত্তর।

আ-কার + ঊ এর উদাহরণ:
গঙ্গোমির্ = গঙ্গা + ঊর্মি, মহা + ঊর্মি = মহোর্মি
আ-কার + উ এর উদাহরণ:
যথোচিত = যথা + উচিত
মহোৎসব = মহা + উৎসব
অ-কার + ঊ-কার এর উদাহরণ:
চলোর্মি = চল + ঊর্মি
এক + ঊন = একোন

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১৯০.
'শিরশ্ছেদ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. শিরো + চ্ছেদ
  2. শিরঃ + চ্ছেদ
  3. শিরঃ + ছেদ
  4. শিরোঃ + ছেদ
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + ছেদ
ব্যাখ্যা
• 'শিরশ্ছেদ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - শিরঃ + ছেদ। 
----------------
• সন্ধির নিয়ম: 
- আগে বিসর্গ ও পরে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ্ হয়। শ্ পরের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র,
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- নিঃ + চল = নিশ্চল,
- নিঃ + চিহ্ন = নিশ্চিহ্ন,
- নিঃ + চুপ = নিশ্চুপ,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- দুঃ + চেষ্টা = দুশ্চেষ্টা,
- নভঃ + চর = নভশ্চর,
- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯১.
'মন্বন্তর' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. মনন + অন্তর
  2. মনু + অন্তর
  3. মনা + অন্তর
  4. মন + অন্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + অন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + অন্তর
ব্যাখ্যা
• 'মন্বন্তর' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - মনু + অন্তর

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- উ + অ = ব + অ; সু + অল্প = স্বল্প, মনু + অন্তর = মন্বন্তর
- উ + আ = ব + আ; সু + আগত = স্বাগত।
- উ + ই = ব + ই; অনু + ইত = অন্বিত।
- উ + ঈ = ব + ঈ; তনু + ঈ = তন্বী।
- উ + এ = ব + এ; অনু + এষণ – অন্বেষণ।

এরূপ- পশ্বধম, পশ্বাচার, অন্বয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ;বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯২.
নিচের কোনটিতে বিসর্গ 'র' হয়ে যায়?
  1. ক) দুষ্কর
  2. খ) আশীর্বাদ
  3. গ) নীরব
  4. ঘ) পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
খ) আশীর্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আশীর্বাদ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি।
• বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান = তিরোধান, তপঃ+বন = তপোবন।
• বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ।
• বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার।
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৩.
সন্ধির সূত্র কাজে লাগে কখন?
  1. ক) সমাস প্রক্রিয়ায়
  2. খ) প্রত্যয় প্রক্রিয়ায়
  3. গ) উপসর্গ প্রক্রিয়ায়
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷ সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
* তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা। 
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন আমি এখন চা আনতে যাই বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র মনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৪.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. অভী + ইস্পা = অভীপ্সা।
  2. ক্ষিতী + ইশ = ক্ষিতীশ
  3. গিরি + ঈশ = গিরীশ
  4. অধী + ঈশ্বর = অধীশ্বর
সঠিক উত্তর:
গিরি + ঈশ = গিরীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরি + ঈশ = গিরীশ
ব্যাখ্যা
⇒ সন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• ই + ই = ঈ (ঈ-তে রূপান্তর):
⇒ অতি + ইত = অতীত;
⇒ অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট;
⇒ প্রতি + ইতি = প্রতীতি;
⇒ অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• ই + ঈ = ঈ (ই-ধ্বনির লোপ):
⇒ গিরি + ঈশ = গিরীশ;
⇒ ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ;
⇒ অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর;
⇒ অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৫.
'সন্ধি' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সন্‌ + ধি
  2. সমঃ + ধি
  3. সম্‌ + ধি
  4. সম্‌ + অধি
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + ধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
সন্ধি শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ — সম্‌ + ধি।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে অন্য ধ্বনির পরিবর্তন হয়।
সূত্র: ম্‌ + ধ = ন্ধ, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, অষ্টম শ্রেণি।
১৯৬.
'পুনরপি' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুন + অপি
  2. পুনঃ + অপি
  3. পুনর + অপি
  4. পু + নরপি
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + অপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + অপি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থ ব, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।

যেমন:
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- পুনঃ + অপি = পুনরপি,
- অহঃ + অহ = অহরহ।
এরূপ - পুনর্জন্ম, পুনর্বার, প্রাতরুত্থান, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৭.
নীচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সন্ধির মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়
  2. খ) সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন
  3. গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
  4. ঘ) বিসর্গ সন্ধি খাঁটি বাংলায় হয় না
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি হয়
ব্যাখ্যা

'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১৯৮.
'পুনরুক্ত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুন + রুক্ত
  2. পুন + উক্ত
  3. পুনঃ + উক্ত
  4. পুনর্ + উক্ত
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়।
যেমন:
→ পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার, 
→ প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ, 
→ পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি, 
পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৯৯.
"হাচ্ছানি" শব্দর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হা + ছানি
  2. হাতঃ + ছানি
  3. হাত + ছানি
  4. হাঃ + ছানি
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- চ-বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত-বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত-বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ-বর্গীয় ধ্বনির দ্বিত্ব হয়। অর্থাৎ ত-বর্গীয় ধ্বনি ও চ-বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।

যেমন:
- নাত + জামাই = নাজ্জামাই,
- বদ্ + জাত = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০০.
উৎ + শ্বাস- এটি কোন সন্ধি?
  1. ক) নিপাতনে সিদ্ধ
  2. খ) স্বরসন্ধি
  3. গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. ঘ) জটিল সন্ধি
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
• উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস 
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
- ত্ (ৎ) ও দ্‌ এর পর শ্‌ থাকলে ত্‌ ও দ্‌ এর স্থানে চ্‌ এবং শ্‌ এর স্থানে ছ উচ্চারিত হয়। 
- ত্‌ + শ = চ্‌ + ছ = চ্ছ [ উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস ]

অনুরূপভাবে,  উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।