উত্তর
ব্যাখ্যা
- অ / আ + ও / ঔ = ঔ সূত্রের উদহারণ হলো
- জল + ওকা = জলৌকা
( অ + ও = ঔ )
- আরো কিছু উদাহরণ:
- বন + ওষধি = বনৌষধি
- মহা + ওষধি = মহৌষধি
- পরম + ঔষধি = পরমৌষধি
- মহা + ঔৎসুক্য= মহৌৎসুক্য
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১১ / ২১ · ১,০০১–১,১০০ / ২,০৭৪
- অ / আ + ও / ঔ = ঔ সূত্রের উদহারণ হলো
- জল + ওকা = জলৌকা
( অ + ও = ঔ )
- আরো কিছু উদাহরণ:
- বন + ওষধি = বনৌষধি
- মহা + ওষধি = মহৌষধি
- পরম + ঔষধি = পরমৌষধি
- মহা + ঔৎসুক্য= মহৌৎসুক্য
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
সু + অল্প = স্বল্প,
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- নর + অধম = নরাধম,
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কথা + অমৃত = কথামৃত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
সূত্র- অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সঠিক উত্তর: ক) শীত + ঋত
সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।
সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।
- 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে সূর্য + উদয়। 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- প্রতি + এক = প্রত্যেক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে, অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
- ততঃ + অধিক= ততোধিক।
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
‘ম’-এর পরে অন্তঃস্থ ধ্বনি (য, র, ল, ব) কিংবা উষ্ম ধ্বনি (শ, ষ, স, হ) থাকলে ‘ম’-এর জায়গায় ‘ং’ হয়।
সম্+যম = সংযম
সম্+বাদ = সংবাদ
সম্+রক্ষণ = সংরক্ষণ
সম্+লাপ = সংলাপ
সম্+শয় = সংশয়
সম্+সার = সংসার
সম্+হার = সংহার
বারম্+বার = বারংবার
কিম্+বা = কিংবা
সম্+বরণ = সংবরণ
সম্+যোগ = সংযোগ
সম্+যোজন = সংযোজন
সম্+শোধন = সংশোধন
সর্বম্+সহা = সর্বংসহা
স্বয়ম্+বরা = স্বয়ম্বরা
উল্লেখ্য, এই নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম- সম্+রাট = সম্রাট।
নিয়ম - ঃ + ট্ / ঠ্ = ষ্ট / ষ্ঠ
‘নিষ্ঠা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘নিঃ + ঠা’। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
এরূপঃ
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর: গ) গুরুচণ্ডালী দোষ।
গুরুচণ্ডালী দোষ হলো -
- ভিন্ন উৎসের শব্দের অসংগত মিশ্রণজনিত ত্রুটি।
- যখন খাঁটি বাংলা (দেশি/তদ্ভব) শব্দের সাথে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের সন্ধি করা হয়, তখন ভাষাগত বিশুদ্ধতা নষ্ট হয় এবং গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।
উদাহরণ:
ভুল নিয়ম: "হাত + অর্পণ = হাতার্পণ" (হাত = খাঁটি বাংলা, অর্পণ = তৎসম)।
সঠিক নিয়ম: "হস্ত + অর্পণ = হস্তার্পণ" (উভয়ই তৎসম)।
--------------------
• 'সন্ধি' শব্দের অর্থ - মিলন।
• সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি,
- তৎসম শব্দের সন্ধি।
• খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি।
• তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি,
- বিসর্গ সন্ধি।
-------------------------------
• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না। এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত;
- ষট্ + আনন = ষড়ানন;
- তৎ + অবধি = তদবধি;
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
নিয়ম: ইঃ + অ = ই + র্:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন।
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।
নিয়ম: ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার।
- নিঃ + আশা = নিরাশা।
নিয়ম: উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।
নিয়ম: উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা।
- দুঃ + আশা = দুরাশা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'বিপচ্চয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বিপদ + চয়'।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
• সন্ধির নিয়ম:
- ত্ ও দ্ এর পর চ্ ও ছ্- থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ্ হয়।
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ,
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া,
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়,
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর- ব্যঞ্জনসন্ধি।
- ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে:
- স্-এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ স্থানে ট ও ঠ হয়।
- যেমন:
- কৃষ + তি = কৃষ্টি।
- ষম্ + থ = ষষ্ঠ।
- ব্ষ + তি = বৃষ্টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।
উল্লেখ্য, প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য অপশনগুলোর সন্ধি-বিচ্ছেদ সঠিক।
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
আ + পদ = আস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন:
গৈ + অক = গায়ক,
গো + আদি = গবাদি,
গো + এষণা = গবেষণা,
পো + ইত্র = পবিত্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সন্ধির নিয়ম:
- ম্- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন:
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + শয় = সংশয়,
- স্বয়ম্ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সন্ধির নিয়ম:
- এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়। ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমনঃ
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি
- যথা + উচিত = যথোচিত
- নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া
- নীল + উৎসব = নীলোৎসব
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র।
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
‘ধনুর্বিদ্যা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘ধনুঃ + বিদ্যা ’। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
এরূপ, নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষাশিক্ষা,হায়াৎ মামুদ
ব্যাঞ্জনধ্বনিত্ব একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়।
যেমন, সম্ + মান = সম্মান।
বাক্+ দান = বাগদান
ষষ্ + থ = ষষ্ঠ
সম্ + চয় = সঞ্চয়
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- যথা + উচিত = যথোচিত,
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ,
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি-পরিষ্কৃত।
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation)-এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তা-ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।
বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার,
- পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - তদ্ + অবধি = তদবধি। এর শুদ্ধরূপ - তৎ + অবধি = তদবধি।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্জ, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত;
- ষট্ + আনন = ষড়ানন;
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
- ক্, চ্, ট্, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্,, দ্, ব্ হয়।
যেমনঃ
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত,
- বাক্ + অর্থ = বাগর্থ,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷