ব্যাখ্যা
এর সঠিক সন্ধি- বিচ্ছেদ হবে: অতঃ + এব= অতএব।
নিয়ম: বিসর্গের পর অ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে সন্ধিতে পূর্ববর্তী বিসর্গ লোপ পায়।
যেমন: শিরঃ + উপরি= শিরোপরি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২০ / ২১ · ১,৯০১–২,০০০ / ২,০৭৪
• স্বরসন্ধি: স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন-
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
যথা + উচিত = যথোচিত।
গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।
গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
এরূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
পূর্বপদের অন্ত্য-বিসর্গের পর ক/দ/খ/প/ফ/র/শ/স্ থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ অপরিবর্তিত বা অক্ষত থাকে।
যেমন
- অধঃ + ক্রম = অধঃক্রম,
- মনঃ কষ্ট = মনঃকষ্ট।
- অধঃ + ক্ষেপ = অধঃক্ষেপ,
- মনঃ + ক্ষুণ্ণ = মনঃক্ষুণ্ণ।
- অতঃ + পর = অতঃপর,
- বহিঃ + প্রকাশ = বহিঃপ্রকাশ।
- অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
- দুঃ + শাসন = দুঃশাসন,
- নিঃ + শেষ = নিঃশেষ।
- দুঃ+ স্বপ্ন = দুঃস্বপ্ন,
- নিঃ + সন্দেহ = নিঃসন্দেহ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
বিসর্গসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধির সম্পর্কঃ
সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী শব্দ বা পদের শেষে ‘র্’ বা ‘স্’ থাকলে তাদের বদলে ‘ঃ’ বা অঘোষ ‘হ’ উচ্চারিত হয়।
এর উপর ভিত্তি করে বিসর্গকে ২ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
র-জাত বিসর্গঃ ‘র্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে র-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : অন্তর- অন্তঃ, প্রাতর- প্রাতঃ, পুনর- পুনঃ, ইত্যাদি।
স-জাত বিসর্গঃ ‘স্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে স-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : নমস- নমঃ, পুরস- পুরঃ, শিরস- শিরঃ, ইত্যাদি।
নমঃ + কার = নমস্কার।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
স্বরবর্ণ পরে থাকলে এ-ধ্বনির জায়গায় অয়্, ঐ-ধ্বনির জায়গায় আয়, ও-ধ্বনির জায়গায় অব্ এবং ঔ-ধ্বনির জায়গায় আব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনি বানানে সন্ধিজাত য়, ব্ কিংবা র্-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
শে + অন = শয়ন,
নে+ অন = নয়ন,
নৈ + অক = নায়ক,
গৈ + অক = গায়ক,
ভো + অন = ভবন,
পো + অন = পবন,
পৌ + অক = পাবক,
ভৌ + উক = ভাবুক,
নৌ + ইক = নাবিক,
দ্রৌ + অক = দ্রাবক ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন + স্বর = ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম সাধিত শব্দ-
• প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত,
• ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু,
• মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ / ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে 'ন্' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর - ক) মহা + ঋষি
স্বরসন্ধির ক্ষেত্রে,
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ (') রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
- উদাহরণ:
অ + ঋ = অর্ → দেব + ঋষি = দেবর্ষি
আ + ঋ = অর্ → মহা + ঋষি = মহর্ষি
- এরূপ: অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
বরঞ্চ (বরোন্চ):
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - বরম্ + চ
শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় আগত।
শব্দটির অর্থ - বরং।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য:
- সন্ধি ও সমাস—উভয়ই শব্দগঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলেও এদের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
১) সন্ধি ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব শাখায় আলোচিত হয়, কারণ এতে মূলত ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনির মিলন ঘটে।
- অন্যদিকে, সমাস আলোচিত হয় শব্দতত্ত্বে, কারণ এতে ধ্বনির নয়, বরং পদের মিলন ঘটে।
২) সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ করা এবং ভাষায় ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা। ফলে সন্ধিতে শব্দের অর্থের চেয়ে ধ্বনির পরিবর্তনই মুখ্য হয়ে ওঠে।
- সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে সংক্ষেপ করা—অর্থাৎ পরস্পর অর্থসঙ্গত একাধিক পদকে একপদে রূপান্তর করা। এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হয়।
৩) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—
- সন্ধিবদ্ধ পদ সবসময়ই সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ সেখানে ধ্বনির মিলনের পাশাপাশি অর্থগত সংযোগও থাকতে পারে।
- কিন্তু সমাসবদ্ধ পদ সব সময় সন্ধিবদ্ধ নাও হতে পারে; অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধ্বনিগত পরিবর্তন ছাড়াই কেবল পদের সংযোগে সমাস গঠিত হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ: অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
• পূর্বপদের অন্ত্য-বিসর্গের পর ক/দ/খ/প/ফ/র/শ/স্ থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ অপরিবর্তিত বা অক্ষত থাকে।
যেমন
- অধঃ + ক্রম = অধঃক্রম,
- মনঃ কষ্ট = মনঃকষ্ট।
- অধঃ + ক্ষেপ = অধঃক্ষেপ,
- মনঃক্ষুণ্ণ = মনঃক্ষুণ্ণ।
- অতঃ + পর = অতঃপর,
- বহিঃ + প্রকাশ = বহিঃপ্রকাশ।
- অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
- দুঃ + শাসন = দুঃশাসন,
- নিঃ+ শেষ = নিঃশেষ।
- দুঃ+ স্বপ্ন = দুঃস্বপ্ন,
- নিঃ সন্দেহ = নিঃসন্দেহ।
• বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ(ঃ) স্থানে য হয়।
- এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন:
- চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ।
- আবিঃ + কার = আবিষ্কার।
- নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি,
- নিঃ + ফল = নিষ্ফল।
- দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি,
- চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ।
- ভ্রাতুঃ পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে ক্ + ন থাকলে গঙ + ন হয়৷
যেমন- দিক্ + নির্ণয় = দিগ্নির্ণয় বা দিঙ্নির্ণয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
• স্ব + ঈর = স্বৈর একটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
সন্ধির নিয়ম:
- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ- ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
নিয়ম: অ + ও = ঔ:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- জল + ওকা = জলৌকা,
- জল + ওঘ = জলৌঘ।
নিয়ম: আ + ও = ঔ:
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ।
নিয়ম: অ + ঔ = ঔ;
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
- দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ই-কার কিংবা ঈ-কার এর পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ 'য' হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লিখা হয়। যেমন - ইতি + আদি = ইত্যাদি, অতি + উক্তি = অত্যুক্তি, প্রতি + এক = প্রত্যেক।
সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই।
• 'কৃদন্ত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - কৃৎ + অন্ত।
সন্ধির সূত্র:
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
এরূপ- বাগীশ, তদন্ত, বাগাড়ম্বর, কৃদন্ত, সদানন্দ, সদুপায়, সদুপদেশ, জগদিন্দ্র ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- সু + অল্প = স্বল্প,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
স্বর-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন,
গো + পদ = গোষ্পদ,
এক + দশ = একাদশ,
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
• 'মনঃকষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - মনঃ + কষ্ট।
বিসর্গসন্ধি:
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি;
• বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন;
• বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ;
• বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার;
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ/ দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
উৎ + নীত = উন্নীত,
ক্ষুধ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র,
উৎ + লাস = উল্লাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'নিশ্চেষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + চেষ্ট।
---------------------
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'পুনরুত্থান'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ- পুনঃ + উত্থান।
• বিসর্গসন্ধি:
- 'পুনরুত্থান' ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধির উদাহরণ।
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন একটি সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণের সুবিধার্থে রূপ বদলায়।
- অনেক ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায়, কখনও ‘র্’ বা ‘স্’-জাত বিসর্গে রূপান্তরিত হয়, আবার কোথাও ‘ও’-কারে বা দীর্ঘ স্বরে পরিবর্তিত হয়।
• ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধি:
- শব্দের শেষে থাকা র্ → বিসর্গ হয়ে পরবর্তী স্বরের সঙ্গে মিললে আবার র ধ্বনিতে ফিরে আসে।
- উদাহরণ:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান।
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- ম্- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন:
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + শয় = সংশয়,
- সম্ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সন্ধিবিচ্ছেদ:
- 'তিরোধান,' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ- তিরঃ + ধান।
- এটি মূলত বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী গঠিত।
- বিসর্গ (:) যখন ‘ধ’ ব্যঞ্জনবর্ণের আগে আসে, তখন বিসর্গটি ‘ও-কার’ (:) হয়ে ‘র’-এর সাথে যুক্ত হয়।
- এই নিয়ম অনুযায়ী তিরঃ + ধান = তিরোধান হয়েছে।
------------------
• বিসর্গসন্ধি:
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন এক ধরনের সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণ সুবিধার জন্য রূপ পরিবর্তন করে।
- বিসর্গের পরে যে ব্যঞ্জন আসে তার প্রকার অনুযায়ী বিসর্গের পরিবর্তন ঘটে
- কয়েকটি বিসর্গ সন্ধি-
- মনোযোগ = মনঃ+যোগ,
- মনোরথ = মনঃ+রথ,
- পুরোহিত = পুরঃ+হিত,
- নির্জন = নিঃ+জন,
- আশীর্বাদ = আশীঃ+বাদ),
- দুরন্ত = দুঃ+অন্ত,
- প্রাদুর্ভাব = প্রাদুঃ+আভাব,
- প্রাতরাশ = প্রাতঃ + আশ,
- দুরাচার = দুঃ + আচার
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + হর = মনোহর,
- নিরবধি = নিঃ + অবধি,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।