বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সন্ধি

মোট প্রশ্ন২,০৭৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সন্ধি

PrepBank · পাতা ১১ / ২১ · ১,০০১১,১০০ / ২,০৭৪

১,০০১.
অ / আ + ও / ঔ = ঔ সূত্রের উদহারণ কোনটি ?
  1. ক) সূর্যোদয়
  2. খ) স্বেচ্ছা
  3. গ) জলৌকা
  4. ঘ) অত্যন্ত
ব্যাখ্যা

- অ / আ + ও / ঔ = ঔ সূত্রের উদহারণ হলো 
- জল + ওকা = জলৌকা 
( অ + ও = ঔ )
- আরো কিছু উদাহরণ:
- বন + ওষধি = বনৌষধি 
- মহা + ওষধি = মহৌষধি 
- পরম + ঔষধি = পরমৌষধি
- মহা + ঔৎসুক্য= মহৌৎসুক্য

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]

১,০০২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) অতি + অন্ত= অত্যন্ত
  2. খ) ইতি + আদি= ইত্যাদি
  3. গ) প্রতি + এক= প্রত্যেক
  4. ঘ) যথো + উচিত= যথোচিত
ব্যাখ্যা
যথো + উচিত= যথোচিত; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
এর সন্ধি বিচ্ছেদ: যথা + উচিত= যথোচিত

সন্ধির নিয়ম:
অ- কার কিংবা আ- কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও- কার হয়, ও- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়। 
যেমন: যথা + উচিত= যথোচিত; সূর্য + উদয়= সূর্যোদয়; গৃহ + ঊর্ধ্ব= গৃহোর্ধ্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,০০৩.
'স্বল্প' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্ব + অল্প
  2. স্‌ + অল্প
  3. সু + অল্প
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
সু + অল্প = স্বল্প, 
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০০৪.
'নরাধম' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নর + আধম
  2. নরঃ + অধম
  3. নর + অধম
  4. নরা + আধম
ব্যাখ্যা

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- নর + অধম = নরাধম,
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কথা + অমৃত = কথামৃত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০০৫.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি অশুদ্ধ?
  1. মহ + অর্ঘ = মহার্ঘ
  2. হত + আশ = হতাশ
  3. ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত
  4. স্ব + অধীন = স্বাধীন
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং এই আ-কার পূর্ব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সূত্র: অ + অ = আ:
• নব + অন্ন = নবান্ন;
• স্ব + অধীন = স্বাধীন;
• প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক;
• হত + আশ = হতাশ;
• সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত।

সূত্র: আ + অ = আ:
• আশা + অতীত = আশাতীত;
• মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ;
• ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত;
• যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০০৬.
'সূর্যোদয়' - শব্দটি কোন নিয়মে গঠিত?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে 
  2. স্বরসন্ধির নিয়মে 
  3. বিসর্গসন্ধির নিয়মে 
  4. স্বর+ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
সূত্র- অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০০৭.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহম্‌ + কার = অহংকার
  2. কুজ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা
  3. তদ + অবধি = তদবধি
  4. সুব্‌ + অন্ত = সুবন্ত
ব্যাখ্যা
• সঠিক উওর - অহম্‌ + কার = অহংকার
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশনগুলোও ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 
- যাদের শুদ্ধরূপ -
→ কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা,
→ তৎ + অবধি = তদবধি,
→ সুপ্‌ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০৮.
‘ষোড়শ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষো + দশ
  2. ষট্ + দশ
  3. ষষ্ + দশ
  4. ষোড় + অশ
ব্যাখ্যা
• 'ষোড়শ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - ষট্ + দশ। 
এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ।  

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০০৯.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. শৈ + অন = শয়ন
  2. গৈ + অক = গায়ক
  3. নৈ + অক = নায়ক
  4. পো + অন = পবন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - শৈ + অন = শয়ন
- এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - শে + অন = শয়ন।

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১০.
‘নায়ক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) না + অক
  2. খ) নৈ + অক
  3. গ) না + য়ক
  4. ঘ) নো + অক
ব্যাখ্যা
‘নায়ক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'নৈ + অক' 

‘নায়ক' শব্দের সন্ধির নিয়ম: 
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়। 

যেমন-
-  গৈ + অক = গায়ক,
-  নে + অন = নয়ন, 
- নৈ + অক = নায়ক, 
- পো + অন = পবন, 
- গো + এষণা = গবেষণা,
-  নৌ + ইক = নাবিক, 
- পো + ইত্র = পবিত্র, 
- গো + আদি = গবাদি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০১১.
'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. নবঃ + কার
  2. নমসঃ + কার
  3. নম + কার
  4. নমঃ + কার
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্‌ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,  
- পদঃ + খলন = পদস্খলন, 
- নিঃ + কর = নিষ্কর,  
- দুঃ + কর = দুষ্কর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১২.
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে কী বলে? 
  1. সন্ধি
  2. সমাস
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। 
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল। 
যেমন - আমি এখন চা আনতে যাই' বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র অনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই' বলা যায় না। 
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ-প্রত্যয় দিয়ে এবং সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে। 
- সন্ধি তিন প্রকার। 
যথা- 
১। স্বরসন্ধি, 
২। ব্যঞ্জনসন্ধি ও 
৩। বিসর্গসন্ধি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০১৩.
দ্ + ছ = চ্ছ; নিয়মে সাধিত সন্ধি কোনটি?
  1. বিপচ্ছায়া
  2. পরিচ্ছদ
  3. উচ্ছেদ
  4. কথাচ্ছলে
ব্যাখ্যা
⇒ ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ হয়।
যেমন:
- দ্ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া;
- ত্ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ;
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা;
- দ্ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।

অন্যদিকে,
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। 
যথা:
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ;
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে;
- অ + ছ = চ্ছ; এক + ছত্র = একচ্ছত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১৪.
'হিতৈষী' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হিত + ঋষি
  2. হিত + এষী
  3. হিতো + এষা
  4. হিতৈ + এষী
ব্যাখ্যা
• 'হিতৈষী' এর সন্ধি বিচ্ছেদ — 'হিত + এষী'। 

• সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়।
- ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন, 
- হিতৈষী = হিত + এষী,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- সর্বৈব = সর্ব + এব, 
- হিতৈষণা = হিত + এষণা, 
- অতুলৈশ্বর্য = অতুল + ঐশ্বর্য, 
- একৈক = এক + এক, 
- তথৈব = তথা + এব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ।
১,০১৫.
'মহীন্দ্র' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মহৎ + ইন্দ্র
  2. খ) মহি + ইন্দ্র
  3. গ) মহৎ + ঈন্দ্র
  4. ঘ) মহী + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
'মহীন্দ্র' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = মহী + ইন্দ্র
- এটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
- ঈ + ই = ঈ সূত্র যোগে গঠিত সন্ধি। 

অনুরূপভাবে, 
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৬.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. আ + চর্য = আশ্চর্য
  2. ষটঃ + দশ = ষোড়শ
  3. এক্‌ + দশ = একাদশ
  4. গো + পদ = গোষ্পদ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: ষটঃ + দশ = ষোড়শ।
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: ষট্ + দশ = ষোড়শ।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১৭.
অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদা + ঐব = সদৈব
  2. মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
  3. মত + ঐক্য = মতৈক্য
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - সদা + ঐব = সদৈব। এর শুদ্ধরূপ - সদা + এব = সদৈব।

সন্ধির নিয়ম:

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
জন + এক = জনৈক, 
মত + ঐক্য = মতৈক্য, 
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০১৮.
'অহর্নিশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. অহর + নিশ
  2. অহঃ + নিশ
  3. অহর + নিশা
  4. অহঃ + নিশা
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - অহঃ + নিশা।

• বিসর্গ সন্ধি:
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০১৯.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক
  2. উৎ + নতি = উন্নতি
  3. তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র
  4. পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্, ধূ এবং পরে ন্ / ম্ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধূ স্থানে ন্ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র। 

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;
বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২০.
"পুনরাবৃত্তি" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনর + আবৃত্তি
  2. পুনরঃ + আবৃত্তি
  3. পুন + আবৃত্তি
  4. পুনঃ + আবৃত্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়।

যেমন:
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ, 
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত, 
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার, 
- পুনঃ + আবৃত্তি = পুনরাবৃত্তি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,০২১.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) সু + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা
  2. খ) ষট্ + দশ = ষোড়শ
  3. গ) সু + আগত = স্বাগত
  4. ঘ) উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
স্বেচ্ছা শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = স্ব + ইচ্ছা।
• স্বাধীন শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = স্ব + অধীন।
• স্বাগত শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সু + আগত।
 
• ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
• ষোড়শ একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- ষট্ + দশ = ষোড়শ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০২২.
‘শীতার্ত’ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + ঋত
  2. শীত + আর্ত
  3. শীত + হৃত
  4. শীত + ঝৃত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) শীত + ঋত

সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।
- 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে সূর্য + উদয়। 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- যেমন:
  - শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
  - সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
  - মহা + ঋষি = মহর্ষি,
  - শীত + ঋত = শীতার্ত,
  - জন + এক = জনৈক,
  - বন + ওষধি = বনৌষধি,
  - প্রতি + এক = প্রত্যেক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,০২৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে
  2. উৎ + লাস = উল্লাস
  3. বিপদ্‌ + জনক = বিপজ্জনক
  4. শম্ + কা = শঙ্কা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে। 

• শুদ্ধ সন্ধি - তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
  [এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন।]

--------------
• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন নিয়মে সন্ধি:
ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)। 
বিপদ্‌ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)। 
উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)। 
• বাক্ + দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)। 
শম্ + কা = শঙ্কা (এখানে কন্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ৬)। 
• সম্ + চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ)। 
• সম্ + তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন)। 
• সম্ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত রয়েছে)। 
• ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি য-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,০২৪.
'মনস্তাপ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মন + তাপ
  2. মনঃ + তাপ
  3. মনস + তাপ
  4. মনো + তাপ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে, অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
- ততঃ + অধিক= ততোধিক।
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,০২৫.
'ধর্মাধর্ম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ধর্ম + ধর্ম
  2. ধর্মঃ + ধর্ম
  3. ধর্ম + অধর্ম
  4. ধর্মা + ধর্ম
ব্যাখ্যা
• 'ধর্মাধর্ম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - ধর্ম + অধর্ম

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ; ধর্ম + অধর্ম = ধর্মাধর্ম
এরূপ - নরাধম, হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।

- অ + আ = আ; হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।

- আ + অ = আ; যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।

- আ + আ = আ; বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৬.
”সংবাদ” এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) সম্ + বাদ
  2. খ) সং + বাদ
  3. গ) স + অংবাদ
  4. ঘ) সমং + বাদ
ব্যাখ্যা

‘ম’-এর পরে অন্তঃস্থ ধ্বনি (য, র, ল, ব) কিংবা উষ্ম ধ্বনি (শ, ষ, স, হ) থাকলে ‘ম’-এর জায়গায় ‘ং’ হয়।
সম্‌+যম = সংযম
সম্‌+বাদ = সংবাদ
সম্‌+রক্ষণ = সংরক্ষণ
সম্‌+লাপ = সংলাপ
সম্‌+শয় = সংশয়
সম্‌+সার = সংসার
সম্‌+হার = সংহার
বারম্‌+বার = বারংবার
কিম্‌+বা = কিংবা
সম্‌+বরণ = সংবরণ
সম্‌+যোগ = সংযোগ
সম্‌+যোজন = সংযোজন
সম্‌+শোধন = সংশোধন
সর্বম্‌+সহা = সর্বংসহা
স্বয়ম্‌+বরা = স্বয়ম্বরা
উল্লেখ্য, এই নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম- সম্‌+রাট = সম্রাট।

১,০২৭.
‘দৈনিক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) দৈ + এক
  2. খ) দৈ + দিক
  3. গ) দিন + এক
  4. ঘ) দিন + এক
ব্যাখ্যা
‘দৈনিক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'দিন + এক'

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদঃ
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০২৮.
'নিষ্ঠা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নিস্ + ঠা
  2. খ) নিঃ + ঠা
  3. গ) নিঃ + ষ্ঠা
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নিয়ম - ঃ + ট্‌ / ঠ্‌ = ষ্ট / ষ্ঠ
‘নিষ্ঠা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘নিঃ + ঠা’। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
এরূপঃ
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২৯.
খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করলে কী দোষ হয়?
  1. বাক্যালঙ্কারগত দোষ
  2. অর্থগত দোষ
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) গুরুচণ্ডালী দোষ।

গুরুচণ্ডালী দোষ হলো -
- ভিন্ন উৎসের শব্দের অসংগত মিশ্রণজনিত ত্রুটি।
- যখন খাঁটি বাংলা (দেশি/তদ্ভব) শব্দের সাথে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের সন্ধি করা হয়, তখন ভাষাগত বিশুদ্ধতা নষ্ট হয় এবং গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।

উদাহরণ:
ভুল নিয়ম: "হাত + অর্পণ = হাতার্পণ" (হাত = খাঁটি বাংলা, অর্পণ = তৎসম)।
সঠিক নিয়ম: "হস্ত + অর্পণ = হস্তার্পণ" (উভয়ই তৎসম)।
--------------------
• 'সন্ধি' শব্দের অর্থ - মিলন।

• সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি,
- তৎসম শব্দের সন্ধি।
 
• খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি।
 
• তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি,
- বিসর্গ সন্ধি। 
------------------------------- 
• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
 
• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না। এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। 
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৩০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) বনস্পতি
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) পরস্পর
  4. ঘ) ততোধিক
ব্যাখ্যা
ততোধিক- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়। 
‘ততোধিক’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। এর যথাযথ সন্ধিবিচ্ছেদ হলো - ততঃ + অধিক = ততোধিক।

• সন্ধির নিয়ম:
অ ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ + ঃ + অ - এই তিনে মিলে ও কার হয়।
যেমন: ততঃ + অধিক = ততোধিক।

• সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- পর+পর = পরস্পর
- আ + চর্য = আশ্চর্য
- গো + পদ = গোষ্পদ 
- পর + পর = পরস্পর
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক+ দশ = একাদশ
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
- গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
- কুল+অটা = কুলটা
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৩১.
'ণিজন্ত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? 
  1. ণিচ্ + অন্ত
  2. ণিচ্ + জন্ত
  3. ণিজ্‌ + অন্ত
  4. ণিক্‌ + অন্ত
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত;
- ষট্ + আনন = ষড়ানন;
- তৎ + অবধি = তদবধি;
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,০৩২.
নিরাময় শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করুন।
  1. নিঃ + আময়
  2. নির + আময়
  3. নির + অময়
  4. নিঃ + ময়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সাথে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্যধ্বনি বা অন্তস্থ য, ব, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থানে র হয়।

যেমন:
→ নিরাময় = নিঃ + আময়,
→ আশীর্বাদ = আশীঃ + বাদ,
→ নিরাকার = নিঃ + আকার,
→ নিরাকরণ = নিঃ + আকরণ,
→ নির্জন = নিঃ + জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৩.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক? 
  1. ষট + অনন = ষড়ানন
  2. সুপ্‌ + অন্ত = সুবন্ত
  3. দিক + অন্ত = দিগন্ত
  4. নিজ + অন্ত = ণিজন্ত
ব্যাখ্যা
- "সুপ্‌ + অন্ত = সুবন্ত" একটি সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ। 

সন্ধি: 
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। 
যেমন- আশা + অতীত = আশাতীত। 

অন্যদিকে, 
- অন্যান্য শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হলো: 
• দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত, 
• ণিচ্‌ + অন্ত = ণিজন্ত এবং 
• ষট্‌ + আনন = ষড়ানন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৩৪.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়);
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়);
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়);
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ;
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড;
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৫.
অ/আ + অ/আ = আ সূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) উত্তরাধিকার
  2. খ) জনৈক
  3. গ) অতীন্দ্রিয়
  4. ঘ) নাবিক
ব্যাখ্যা
অ/আ + অ/আ = আ, উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার
অ/আ + এ/ঐ = ঐ, জন + এক = জনৈক
ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ , অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়
ঔ + অন্য স্বর = আব স্বর, নৌ + ইক = নাবিক
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
১,০৩৬.
'কিঞ্চিৎ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কিন্‌ + চিৎ
  2. কিম্ + ঞ্চিৎ
  3. কিন্‌ + ঞ্চিৎ
  4. কিম্ + চিৎ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।
যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,০৩৭.
'গোষ্পদ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ক) গোস + পদ
  2. খ) গোশ + পদ
  3. গ) গো + পদ
  4. ঘ) গোস্প + দ
ব্যাখ্যা
• 'গোষ্পদ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ গো + পদ
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
- ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারে যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য।
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ।
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি।
- একাদশ = এক + দশ।
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি।
- গোষ্পদ = গো + পদ।
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি।
- পরস্পর = পর + পর।
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৩৮.
‘সদুপায়’ কোন নিয়মে গঠিত সন্ধির উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,০৩৯.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
  2. প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়
  3. কুল + অটা = কুলটা
  4. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি যোগে সন্ধি সাধিত শব্দ ‘দিগন্ত’।
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:

সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র;
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ;
- প্র + এষণ = প্রেষণ;
- কুল + অটা = কুলটা;
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়;
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১,০৪০.
'গবেষণা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গবে+এষণা
  2. গব + এষণা
  3. গো+এষণা
  4. গবা + ইষণা
ব্যাখ্যা
⇒ সূত্র: এ,ও,ও,ঔ-কারের এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়।
যেমন:
- নে + অন = নয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গো+এষণা = গবেষণা,
- নৌ + ইক = নাবিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৪১.
'দুরাত্মা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুরহ্‌ + আত্মা
  2. দুর্‌ + আত্মা
  3. দুঃ + আত্মা
  4. দুরা্‌ + আত্মা
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
নিয়ম: ইঃ + অ = ই + র্:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন।
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

নিয়ম: ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার।
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

নিয়ম: উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা।
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

নিয়ম: উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা।
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৪২.
‘পূর্ণেন্দু’ কোন সন্ধি?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যাঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• ‘পূর্ণেন্দু’ স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• ‘পূর্ণেন্দু’ এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন- 
 অ + ই = এ; পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দু। 
অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 
অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ= পরমেশ।
আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।  

এরূপ- রমেশ. নরেন্দ্র, নরেশ, স্বেচ্ছা, শ্রবণেন্দ্রিয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র ,এস এসসি প্রোগাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,০৪৩.
‘তন্বী’ শব্দটির সঠিক সন্ধি কোনটি?
  1. ক) তনু + অবী
  2. খ) তন + ঈ
  3. গ) তনু + অবী
  4. ঘ) তনু + ঈ
ব্যাখ্যা
• উ বা ঊ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তকে উ/ঊ এর জায়গায় ব ফলা হয়।
যেমন:
- তনু + ঈ = তন্বী,
- সু + অল্প = স্বল্প,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,০৪৪.
"বৃক্ষচ্ছায়া" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বৃক্ষঃ + ছায়া
  2. বৃক্ষ + ছায়া
  3. বৃক্ষ + চ্ছায়া
  4. বৃক্ষঃ + চ্ছায়া
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• স্বরধ্বনির পরে ছ্‌ থাকলে ছ্‌ স্থানে চ্ছ হয়। 
 
যেমন:
→ স্ব + ছন্দ = স্বচ্ছন্দ, 
→ প্র + ছদ = প্রচ্ছদ, 
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া
→ কথা + ছলে = কথাচ্ছলে, 
→ পরীক্ষা + ছলে = পরীক্ষাচ্ছলে, 
→ প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৪৫.
'দ্যুলোক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দু: + লোক
  2. দুই + লোক
  3. দ্বি + লোক
  4. দিব্ + লোক
ব্যাখ্যা
‘দ্যুলোক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দিব্‌ + লোক
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি।

ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
আশ্চর্য = আ + চর্য
ষোড়শ = ষট্‌ + দশ
পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি
একাদশ = এক + দশ
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি 
গোষ্পদ = গো + পদ 
বনস্পতি = বন্‌ + পতি
পরস্পর = পর্‌ + পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৬.
 'বিপচ্চয়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপদ + চয়
  2. বিপৎ + চয়
  3. বিপঃ + চয়
  4. বিপদ + অয়
ব্যাখ্যা

• 'বিপচ্চয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বিপদ + চয়'।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম:
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ, 
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া, 
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়, 
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৪৭.
'শোক' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শুচ্ + অ
  2. √শুচ্ + ঘঞ্‌
  3. √শুচ্ + আঁক
  4. √শু + অক
ব্যাখ্যা
• ঘঞ-প্রত্যয় [(কৃদন্ত বিশেষ্য গঠনে), ঘৃ এবং ঞ ইৎ, ‘অ' থাকে]।
যেমন:
- √বস্ + ঘঞ = বাস,
- √ক্রুধ + য = ক্রোধ,
- √যুজ্ + ঘঞ = যোগ, 
- √খুদ্ + ঘঞ = খেদ, 
- √ভিদ্ + ঘঞ = ভেদ। 

বিশেষ নিয়ম:
- √পচ্ +ঘঞ্‌ = পাক,
- √শুচ্+ঘঞ্‌ = শোক। 
- কিন্তু, √নন্দি + অন = নন্দন। এক্ষেত্রে আ যোগে ‘নন্দনা’ হয় না। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯)।
১,০৪৮.
'বৃষ্টি ' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

উত্তর- ব্যঞ্জনসন্ধি।
- ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে:
- স্-এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ স্থানে ট ও ঠ হয়। 
- যেমন:
- কৃষ + তি = কৃষ্টি।
- ষম্ + থ = ষষ্ঠ।
- ব্ষ + তি = বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,০৪৯.
সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ নয় কোনটি?
  1. দেব + ঋষি = দেবর্ষি
  2. নৈ + ইক = নাবিক
  3. সম্ + বাদ = সংবাদ
  4. প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।

উল্লেখ্য, প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য অপশনগুলোর সন্ধি-বিচ্ছেদ সঠিক।

১,০৫০.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. গায়ক
  2. গবাদি
  3. গবেষণা
  4. গোষ্পদ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
আ + পদ = আস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
 যেমন:
গৈ + অক = গায়ক,
গো + আদি = গবাদি,
গো + এষণা = গবেষণা,
পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৫১.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. একাদশ
  2. ষোড়শ
  3. আশ্চর্য
  4. নরাধম
ব্যাখ্যা
নরাধম = নর + অধম, এটি তৎসম স্বরসন্ধি।
- 'একাদশ', ষোড়শ, আশ্চর্য নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। 

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। 

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ, 
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক+ দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৫২.
‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রক্ত+ উষ্ঠ
  2. রক্ত + ওষ্ঠ
  3. র + ওষ্ঠ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তোষ্ঠ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - রক্ত + ওষ্ঠ। 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫৩.
'তদ্রুপ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তদ + রুপ
  2. ত + দ্রুপ
  3. তদ + রূপ
  4. তৎ + রূপ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০৫৪.
'সংরক্ষণ' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সৎ + রক্ষণ
  2. সদ্‌ + রক্ষণ
  3. সট + রক্ষণ
  4. সম্‌ + রক্ষণ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়। 

যেমন:
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৫৫.
'অ + এ = ঐ' নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তথৈবচ
  2. মহৈশ্বর্য
  3. সদৈব
  4. হিতৈষী
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:

• অ + এ = ঐ:
জন + এক = জনৈক;
হিত + এষী = হিতৈষী

• আ + এ =ঐ:
সদা + এব = সদৈব।
তথা + এবচ = তথৈবচ।

• আ + ঐ = ঐ:
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য;
মহা + ঐক্য = মহৈক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৫৬.
'চলচিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. চলৎ + চিত্র
  2. চল + চিত্র
  3. চলচ + চিত্র
  4. চলিচ + চিত্র
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে দেওয়া আছে 'চলচিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ; যা টাইপিং মিসটেক। কিন্তু এটা 'চলচ্চিত্র' হবে।
------------------
• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র ( এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ ), 
- বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক ( এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ ), 
- উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল )। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৫৭.
‘বৃষ্টি’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. বৃষ + টি
  2. বৃ + টি
  3. বৃষ্‌ + তি
  4. বৃশ + টি
ব্যাখ্যা
• 'বৃষ্টি' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি'।  

সূত্র: ষ্‌ এর পরে ত্‌ বা থ্‌ থাকলে ত্‌ ও থ্‌ স্থানে যথাক্রমে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
কৃষ্টি - কৃষ্‌ + তি;
বৃষ+তি= বৃষ্টি;
ষষ্ঠ - ষষ্‌ + থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ। 
১,০৫৮.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. ধনুষ্টঙ্কার
  2. সংরক্ষণ
  3. দিগন্ত
  4. পরিচ্ছদ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ;
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

-------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• ইঃ + অ = ই + র্‌:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন,
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৫৯.
'বনৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কি হবে?
  1. বনঃ + ঔষধি
  2. বন + ঔষধি
  3. বনঃ + ওষধি
  4. বন + ওষধি
ব্যাখ্যা
• 'বনৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বন + ওষধি'।  

• সন্ধির নিয়ম: 
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয় ; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি ;
মহা + ওষধি = মহৌষধি ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৬০.
'নরাধম' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নর + ধম
  2. নরা + ধম
  3. নর + অধম
  4. নরা + অধম
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম
এরূপ - হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৬১.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) পতঞ্জলি
  3. গ) মার্তণ্ড
  4. ঘ) অন্যান্য
ব্যাখ্যা
যে সকল ব্যঞ্জনসন্ধি কোনাে নিয়ম না মেনে, বরং নিয়মের ব্যতিক্রম করে সন্ধি হয়, তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
- পতৎ +অঞ্জলি =পতঞ্জলি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
- এছাড়া আরো কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
•  আশ্চর্য, গোষ্পদ, বনস্পতি, বৃহস্পতি, তস্কর, পরস্পর, ষোড়শ, একাদশ, মনীষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে-

• মার্তণ্ড (মার্ত + অণ্ড),
• কুলটা (কুল + অটা),
• গবাক্ষ (গো + অক্ষ),
• প্রৌঢ় (প্র + ঊঢ়),
• অন্যান্য (অন্য + অন্য),
• শুদ্ধোদন (শুদ্ধ + ওদন) ইত্যাদি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১,০৬২.
'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তৃষ্ণা + রিত
  2. তৃষ্ণা + ঋত
  3. তৃষ্ণা + ঋতো
  4. তৃষ্ণা + আর্ত
ব্যাখ্যা
• 'তৃষ্ণার্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - তৃষ্ণা + ঋত।

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়। যেমন-
- অ+ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।
- এরূপ- ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০৬৩.
"শীতার্ত" শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শীত + তার্ত
  2. শীত + ঋত
  3. শীত + আর্ত
  4. শীত + ঋর্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
• অ + ঋ = আর; শীত + ঋত = শীতার্ত।
• আ + ঋ = আর; তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

এরূপ-ভয়ার্ত, ক্ষুধার্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৬৪.
সন্ধির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. সন্ধির ফলে ভাষা সাবলীল ও শ্রুতিমধুর হয়। 
  2. উচ্চারণে সহজতা আসে।
  3. বাক্যগত মাধুর্য সম্পাদন করে।
  4. ধ্বনির মিলন ঘটায়।
ব্যাখ্যা
• সন্ধির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয়- বাক্যগত মাধুর্য সম্পাদন করে। 
- শুদ্ধ তথ্য: ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।

-------------
• সন্ধি:

- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• সন্ধির অন্যান্য কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়
- ধ্বনি-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
- শব্দের আকার ছোট করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।
- সন্ধির ফলে ভাষা সাবলীল ও শ্রুতিমধুর হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৬৫.
"সন্দর্শন" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সু + দর্শন
  2. সুঃ + দর্শন
  3. সম্ + দর্শন
  4. সম্ঃ + দর্শন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যে কোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
- সম্ + চয় = সঞ্চয়,
- সম্ + তাপ = সন্তাপ, 
- গম্ + তব্য = গন্তব্য, 
- সম্ + দর্শন = সন্দর্শন
- সম্ + ধান = সন্ধান, 
- সম্ + নিহিত = সন্নিহিত, 
- কিম্ + নর = কিন্নর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৬৬.
'পদস্খলন' কোন সন্ধির অন্তর্গত?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  3. স্বরসন্ধি
  4. ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'পদস্খলন' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - পদঃ + খলন।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
 যেমন: 
- নমঃ + কার = নমস্কার।
- পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- নিঃ + কর = নিষ্কর।
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৬৭.
'উন্নতি' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উৎ + নতি
  2. খ) উত + নতি
  3. গ) উন্ন + তি
  4. ঘ) উন্‌ + তি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনে ব্যঞ্জনে সন্ধির নিয়ম অনুসারে,
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ন্‌/ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন- এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম - এর সঙ্গে মিল ন্ম হয়। কিন্তু, ৎ/দ - এর পর ল্‌ থাকলে ত/দ সন্ধিতে ল্‌ হয় এবং ল্‌ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে ল্ল হয়। যেমন:

উৎ + নতি = উন্নতি,
জগৎ + নাথ = জগন্নাথ,
মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৬৮.
'গবেষণা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গব + এষণা
  2. গৌ + এষণা
  3. গো + এষণা 
  4. গবে + এষণা
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

১,০৬৯.
"পদস্খলন" শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পদাঃ + স্খলন
  2. পদঃ + লন
  3. পদঃ + খলন
  4. পদ + স্খলন
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।

যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার, 
- পদঃ + খলন = পদস্খলন, 
- নিঃ + কর = নিষ্কর, 
- দুঃ + কর = দুষ্কর, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭০.
‘যথোচিত’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) য + উচিত
  2. খ) যথা + উচিত
  3. গ) যথা + চিত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়। ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমনঃ
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি
- যথা + উচিত = যথোচিত
- নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া
- নীল + উৎসব = নীলোৎসব

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৭১.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ক) পরিষ্কার
  2. খ) ষড়ানন
  3. গ) সংস্কার
  4. ঘ) আশ্চর্য
ব্যাখ্যা
• 'আশ্চর্য' একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
- এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে-  আ + চর্য।

• আরো কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হলো -
- মনীষা = মনস্‌ + ঈষা,
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
- তস্কর = তৎ + কর,
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি,
- পরস্পর = পর্‌ + পর,
- একাদশ = এক্‌ + দশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭২.
কোন শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধিতে গঠিত?
  1. ষোড়শ
  2. পদস্খলন
  3. ক্ষুন্নিবৃত্তি
  4. শয়ন
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ:
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ - পদঃ + খলন = পদস্খলন।
ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ - ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি, শে + অন = শয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৩.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি কোনটি?
  1. ক) কুলটা
  2. খ) প্রৌঢ়
  3. গ) অন্যান্য
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন -
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়),
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়)
- অন্য + অন্য = অন্যান্য
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৪.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. দিগ্ + অন্ত = দিগন্ত
  2. তদ্ + অবধি = তদবধি
  3. সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
  4. বাক্ + ইশ = বাগীশ
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
- ক, চ, ট, ত, প থাকলে এবং তাদের পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ, জ, ড (ড়), দ, ব হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- বাক্ + ঈশ = বাগীশ। 
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
- তৎ + অবধি = তদবধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৭৫.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক্ষুধ + নিবৃওি = ক্ষুন্নিবৃত্তি
  2. উত + নীত = উন্নীত
  3. তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র
  4. উদ্‌ + লাস = উল্লাস
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র।

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:

আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্‌-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্‌ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৭৬.
'কুলটা' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কুঃ + অটা
  2. কুল + অটা
  3. কু + অলটা
  4. কুৎ+ অটা
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৭৭.
কোনটি শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ক) ধনু + বিদ্যা
  2. খ) ধনুঃ + বিদ্যা
  3. গ) ধনুর + বিদ্যা
  4. ঘ) ধনূঃ + বিদ্যা
ব্যাখ্যা

‘ধনুর্বিদ্যা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘ধনুঃ + বিদ্যা ’। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
এরূপ, নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষাশিক্ষা,হায়াৎ মামুদ

১,০৭৮.
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ নয় কোনটি?
  1. ক) নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর
  2. খ) প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
  3. গ) রবী + ইন্দ্র = রবীন্দ্র
  4. ঘ) সম্‌ + কার = সংস্কার
ব্যাখ্যা
• 'রবী + ইন্দ্র = রবীন্দ্র'- সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক নয়। 
• 'রবীন্দ্র' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র'। 

'রবীন্দ্র' এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম: 
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
অতি + ইত = অতীত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘নিষ্ঠুর’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ‘নিঃ + ঠুর ’। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল, মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি হচ্ছে- সম্ + কার = সংস্কার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৯.
'নিশ্চয়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিশ্‌ + চয়
  2. নিঃ + চয়
  3. নিশঃ + চয়
  4. নিঃ + শ্চয়
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়।
যেমন:
• সূত্র: (ঃ + চ/ছ = শ + চ/ছ):
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।

• সূত্র:( ঃ + ট/ঠ = ষ + ট/ঠ):
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

• সূত্র: ( ঃ + ত/থ = স + ত/থ):
- দুঃ +তর = দুস্তর।
- দুঃ +থ = দুস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,০৮০.
'পতঞ্জলি' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পতঃ + অঞ্জলি
  2. পতন + জলি
  3. পত + অঞ্জলি
  4. পতৎ + অঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• 'পতঞ্জলি' - এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ : 'পতৎ + অঞ্জলি'। 
 
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 
- যেসব সন্ধির নিদিষ্ট কোন নিয়ম নেই তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
• বন + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোস্পদ,
• পর + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক + দশ = একাদশ,
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৮১.
'পতঞ্জলি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পতৎ + ঞ্জলি
  2. পত্‌ + অঞ্জলি
  3. পতন্‌ + অঞ্জলি
  4. পতৎ + অঞ্জলি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,০৮২.
'প্রচ্ছদ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  3. স্বর + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি, প্র + ছদ = প্রচ্ছদ
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৮৩.
সম্মান এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) সম্‌+ মাণ
  2. খ) সম্‌ + মান
  3. গ) স + মান
  4. ঘ) সন্‌+ মান
ব্যাখ্যা

ব্যাঞ্জনধ্বনিত্ব একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়।

যেমন, সম্‌ + মান = সম্মান।
বাক্‌+ দান = বাগদান
ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ
সম্‌ + চয় = সঞ্চয়
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৮৪.
'সুবন্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সুচ + অন্ত
  2. সু + অন্ত
  3. সুপ্ + অন্ত
  4. সুব্‌ + অন্ত
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দৃ, বৃ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
এরূপ- বাগীশ, তদন্ত, বাগাড়ম্বর, কৃদন্ত, সদানন্দ, সদুপায়, সদুপদেশ, জগদিন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৮৫.
'গায়ক' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গায় + অক
  2. গৌ + অক
  3. গো + অক
  4. গৈ + অক
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- গো + আদি = গবাদি,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৮৬.
"গঙ্গোর্মি" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গঙ্গা + ঊর্মি
  2. গঙ্গ + উর্মি
  3. গঙ্গ + ঊর্মি
  4. গঙ্কা + ঊর্মি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- যথা + উচিত = যথোচিত,
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ,
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৮৭.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. পুরষ্কার
  2. তিরষ্কার
  3. আবিষ্কার
  4. পরিষ্কৃত
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি-পরিষ্কৃত।

ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation)-এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তা-ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।

বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার,
- পরি + কৃত = পরিষ্কৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৮৮.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদ সঠিক?
  1. ক) শুদ্ধোদন = শুদ্ধ + ওদন
  2. খ) শুদ্ধোদন = শুদ্ব + ওদন
  3. গ) শুদ্বোদন = শুদ্ধ + ওদন
  4. ঘ) শুদ্ধোদন = শুদ্ব + ওদন
ব্যাখ্যা
যেসব সন্ধির নিদিষ্ট কোন নিয়ম নেই তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধসন্ধি বলে। যেমনঃ কুলটা = কুল + অটা, প্রৌঢ় = প্র + ঊঢ়, পরস্পর = পর + পর, অন্য+অন্য= অন্যান্য, গো+অক্ষ = গবাক্ষ, শুদ্ধোদন = শুদ্ধ + ওদন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,০৮৯.
‘কিন্তু’ শব্দটির শুদ্ধ বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কিন + তু
  2. কি + তু
  3. কি + ন্তু
  4. কিম্ + তু
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,০৯০.
‘কৃষ্টি‘ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কৃ+ক্তি
  2. কৃষ+তি
  3. কৃঃ+তি
  4. কৃষ+টি
ব্যাখ্যা
ষ- এর পর ত বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত ও থ স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি,
ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯১.
নিচের কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) উল্লাস
  3. গ) সঞ্চয়
  4. ঘ) মরূদ্যান
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরণের পরিকর্তন লক্ষ করা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যামান থাকে: মঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন,
২.বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান = তিরোধান,
৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার,  ‍পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন
৪. বিসর্গ শ্/ষ্/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর,
৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিরঃ+রব = নীরব, নিরঃ+রস = নীরস।

অন্যদিকে,
উৎ+লাস = উল্লাস
সম্+চয় = সঞ্চয়,  এই দুইটি ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
মরু+উদ্যান = মরূদ্যান , স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯২.
'গৃহোর্ধ্ব' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
- 'গৃহোর্ধ্ব' শব্দের সঠিক সান্ধি বিচ্ছেদ - গৃহ + ঊর্ধ্ব।
- এটি তৎসম স্বরসন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:
- অ- কার কিংবা আ- কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও- কার হয়, ও- কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন:
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯৩.
'সারঙ্গ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সারঃ + অঙ্গ
  2. সাম্‌ + অঙ্গ
  3. সাৎ + অঙ্গ
  4. সার + অঙ্গ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯৪.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. সদা + এব = সদৈব
  2. গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি
  3. গব + এষণা = গবেষণা
  4. শীত + ঋত = শীতার্ত
ব্যাখ্যা
এ, ঐ, ও,ঔ - কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
 অর্থাৎ
           ও + এ = অব্ + এ  ⇒ গো + এষণা = গবেষণা 
           ও + ই = অব্ + ই   ⇒ পো + ইত্র = পবিত্র
           ঔ + ই = আব্ + ই   ⇒  নৌ + ইক = নাবিক

[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯]
১,০৯৫.
'কথাচ্ছলে' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. স্বর + স্বর
  4. স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯৬.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাত + কাল = প্রাতকাল
  2. প্রাতঃ + কাল = প্রাতকাল
  3. প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
  4. প্রাতঃ + কালঃ = প্রাতঃকাল
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না।
যেমন -
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. তদ্‌ + অবধি = তদবধি
  2. সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
  3. ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
  4. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - তদ্‌ + অবধি = তদবধি। এর শুদ্ধরূপ - তৎ + অবধি = তদবধি।

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):

- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্জ, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত;
- ষট্ + আনন = ষড়ানন;
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,০৯৮.
ণিজন্ত- শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো-
  1. ক) ণিচ + অ
  2. খ) নিচ্ + অন্ত
  3. গ) ণিচ্ + অন্ত
  4. ঘ) নিচ + অন্ত
ব্যাখ্যা

- ক্‌, চ্‌, ট্‌, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্,, দ্, ব্ হয়।

যেমনঃ
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত,
- বাক্‌ + অর্থ = বাগর্থ,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

১,০৯৯.
‘সংগীত’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. সং + গিত
  2. সমঃ + গিত
  3. সং + গীত
  4. সম্ + গীত
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
- সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে’ ম ‘ হয়।
এরূপ-
- সম্ + গীত = সংগীত,
- সম্+ ধি = সন্ধি,
- সম্+ চয় = সঞ্চয়,
- সম্+তাপ = সন্তাপ,
- কিম+ভূত = কিম্ভূত,
- সম্+সার = সংসার,
- সম্+বাদ = সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ);
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১০০.
“ও + অন্য স্বর” সন্ধির নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. শয়ন
  2. নাবিক
  3. গবাদি
  4. নায়ক
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন:
⇒ ও + অন্য স্বর - গো + আদি = গবাদি।
⇒ ঔ + অন্য স্বর - নৌ + ইক = নাবিক।
⇒ এ + অন্য স্বর - শে + অন = শয়ন।
⇒ ঐ + অন্য স্বর - নৈ + অক = নায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।