বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪০ / ৪২ · ৩,৯০১৪,০০০ / ৪,২০৮

৩,৯০১.
কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়-
  1. প্লাস্টিডকে
  2. নিউক্লিয়াসকে
  3. মাইটোকন্ড্রিয়াকে
  4. রাইবোসোমকে
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়াকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়াকে
ব্যাখ্যা
• মাইটোকন্ড্রিয়া:
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে থাকে মাইটোকন্ড্রিয়া।
- তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বা শক্তি ঘর বলা হয়।
- এতে ক্র্যাবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ৭৩% প্রোটিন ও ২৫%-৩০% লিপিড এবং সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- আদি কোষ বা প্রাক কেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া একটি আদিকোষী জীব।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯০২.
"প্রাকৃতিক নির্বাচন" (Natural Selection) তত্ত্বটি কে প্রস্তাব করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল
  2. চার্লস ডারউইন
  3. আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস
  4. জে ল্যামার্ক
সঠিক উত্তর:
চার্লস ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস ডারউইন
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব:
- প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) ধারণাটি ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন তার বিখ্যাত বই "On the Origin of Species"-এ ব্যাখ্যা করেন।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি অভিযোজিত (adapted) প্রাণীগুলো বেঁচে থাকে এবং প্রজনন করে, আর দুর্বল বা কম অভিযোজিত প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

উদাহরণ:
- জিরাফের দীর্ঘ গলা:
- ডারউইনের মতে, প্রাচীন জিরাফদের মধ্যে কিছুদের গলা লম্বা ছিল, আর কিছুদের গলা ছোট ছিল।
- লম্বা গলার জিরাফেরা সহজেই উঁচু গাছের পাতা খেতে পারত, ফলে তারা বেশি বেঁচে থাকত ও বেশি প্রজনন করত।
- প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লম্বা গলার বৈশিষ্ট্যটি প্রাধান্য পেয়ে আজকের জিরাফ সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও Natural History Museum.com.
৩,৯০৩.
এরিল পাওয়া যায়-
  1. জয়ফলে
  2. শাপলা বীজে
  3. লিচুতে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ডিম্বকের ভেতরে এ ধরনের  পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিম্বকের ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ও শুষ্ক হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয়। রসালো ডিম্বকটি পর্যায়ক্রমে পানি হারিয়ে শুষ্ক ও কঠিন বীজে পরিণত হয়। এ ধরনের পরিবর্তনকালে অনেক ক্ষেত্রে বীজের একটি তৃতীয় স্তর সৃষ্টি হয়, একে এরিল (Aril) বলে।

এরিল লিচু ও জয়ফলে পাওয়া যায়। শাপলা বীজেও এরিল থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০৪.
ফ্ল্যাভি ভাইরাস দ্বারা মানুষের দেহ কোন রোগে আক্রান্ত হয়? 
  1. ডেঙ্গু
  2. হাম
  3. জলাতঙ্ক
  4. নিউমোনিয়া
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা
- ফ্ল্যাভি ভাইরাস দ্বারা মানুষের দেহ 'ডেঙ্গু' রোগে আক্রান্ত হয়। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০৫.
গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. ক) Ipomoea batatas
  2. খ) Solanum tuberosum
  3. গ) Colocasia esculenta
  4. ঘ) Zingiber officinale
সঠিক উত্তর:
খ) Solanum tuberosum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Solanum tuberosum
ব্যাখ্যা

গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম- Solanum tuberosum
মিষ্টি আলুর বৈজ্ঞানিক নাম- Ipomoea batatas
কচুর বৈজ্ঞানিক নাম- Colocasia esculenta
আদার বৈজ্ঞানিক নাম- Zingiber officinale

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৯০৬.
গ্লাইকোজেনের মূল গাঠনিক উপাদান কোনটি?
  1. ল্যাকটোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. β-D গ্লুকোজ
  4. α-D গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
α-D গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
α-D গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

গ্লাইকোজেন: 
- গ্লাইকোজেন হলো একটি পুষ্টিজাত পলিস্যাকারাইড। 
- এটি প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য উপাদান হলেও সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও কতিপয় ছত্রাকের (ঈস্ট) সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে বিরাজ করে। 
- গ্লাইকোজেন এর মূল গাঠনিক উপাদান α-D গ্লুকোজ। 
- হাইড্রোলাইসিস শেষে গ্লাইকোজেন হতে কেবল α-D গ্লুকোজ অণু পাওয়া যায়। 
- এর আণবিক সংকেত- (C6H10O5)n

গ্লাইকোজেন এর কাজ: 
- প্রাণীদেহের লিভার ও পেশিতে বেশি করে গ্লাইকোজেন জমা থাকে যা প্রয়োজনে গ্লুকোজে পরিণত হয়, ফলে কার্বন ও শক্তি সরবরাহ হয়। 
- রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয় এবং পেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পেশির কাজে শক্তি যোগায়।  

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯০৭.
কোন অনুজীবের দেহে কোনো নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।

• ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন
- তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০৮.
আমিষের পরিপাক শেষে কোন যৌগে রূপান্তরিত হয়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  3. ফ্যাট
  4. স্নেহ পদার্থ
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯০৯.
ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) দেহে বিভিন্ন এনজাইম বিদ্যমান
  2. খ) পোষকদেহের সজীব কোষের বাইরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে
  3. গ) DNA বা RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া কোষীয় এবং এতে আদি প্রকৃতির নিউক্লিয়াস থাকে। এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
- সজীব কোষের বাইরেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কেলাসিত করলে আর জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে না।
- ব্যাকটেরিয়াতে DNA বা RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে এবং এই নিউক্লিক এসিড সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে।
- এদের দেহে বিভিন্ন এনজাইমও থাকে এবং দেহে বিপাকক্রিয়া ঘটে।

- ভাইরাসের ক্ষেত্রে DNA বা RNA যে কোনো একপ্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে এবং তা ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৯১০.
উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থের পানি শােষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) প্রস্বেদন
  2. খ) ইমবাইবিশন
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) হাইড্রোনেশন
সঠিক উত্তর:
খ) ইমবাইবিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থের (যেমন- স্টার্চ, সেলুলােজ, জিলেটিন ইত্যাদি) পানি শােষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলা হয়।

৩,৯১১.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. তেলাপোকা
  2. রাজকাঁকড়া
  3. মশা
  4. পিঁপড়া
সঠিক উত্তর:
রাজকাঁকড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজকাঁকড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯১২.
ফুসফুসের আবরণকে বলা হয় -
  1. ক) পেরিকার্ডিয়াম
  2. খ) প্লুরা
  3. গ) পেরিঅস্টিয়াম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) প্লুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লুরা
ব্যাখ্যা
ফুসফুসের পর্দার নাম – প্লুরা;
হৃদপিন্ডের পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
এবং অস্থির আবরণীর নাম -পেরিঅস্টিয়াম।

[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৩,৯১৩.
নিচের কোন অনুজীবটি এক্যারিওটার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এক্যারিওটা বা অকোষীয়: এসব অনুজীব এতই ছোট যে তার সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচেও দেখা যায় না এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় যেমন : ভাইরাস।
সূত্র: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
৩,৯১৪.
How many types of amino acids have been found in the human body?
  1. 18
  2. 20
  3. 24
  4. 26
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
20
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20
ব্যাখ্যা
• আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 

• উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 

- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণিদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯১৫.
মহাকাশ গবেষণা খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসাবে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক্লোরেলা
  2. মিউকর
  3. ঈস্ট
  4. ফার্ণ
সঠিক উত্তর:
ক্লোরেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরেলা
ব্যাখ্যা
• শৈবাল: 
- শৈবালের সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতা নেই, তবে ক্লোরোফিল আছে।
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- শৈবালের কোষ-প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত।
- শৈবাল এককোষী এবং বহুকোষী হতে পারে।
- মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসেবে ক্লোরেলা উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরেলা এক প্রকার সবুজ এককোষী শৈবাল যা প্রোটিন খাদ্যের আদর্শ উৎস।
- ক্লোরেলা হল ক্লোরোফাইটা বিভাগের এককোষী সবুজ শৈবালের প্রায় তেরো প্রজাতির একটি প্রজাতি। 
- অন্যদিকে, ঈস্ট  এবং মিউকর হলো ছত্রাক। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 
৩,৯১৬.
উদ্ভিদে কত ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়? 
  1. তিন ধরনের
  2. পাঁচ ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. দুই ধরনের
সঠিক উত্তর:
তিন ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ধরনের
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 

- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। 
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯১৭.
রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে-
  1. মস
  2. মিষ্টি আলু
  3. রসুন
  4. গম
সঠিক উত্তর:
রসুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসুন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রজনন:
- যে জটিল প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে।
- উদ্ভিদের প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
৩,৯১৮.
অ্যান্টিবায়েটিক কোনটির উপর কোনরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন-

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায় ।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য
- ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
- অকোষীয় ভাইরাসে দু'রকমের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে একে জীব ও জড়ের মধ্যকার সেতুবন্ধন বলা হয়।
- অ্যান্টিবায়েটিক ভাইরাসের উপর কোনরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১৯.
কোষের শক্তিঘর মাইটোকন্ড্রিয়ায় শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয় কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. কোষ শ্বাসক্রিয়া
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. ডিএনএ প্রতিলিপি
সঠিক উত্তর:
কোষ শ্বাসক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ শ্বাসক্রিয়া
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়ায় সেলুলার রেসপিরেশন (কোষ শ্বাসক্রিয়া) নামক প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ (C6H12O6) ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি থেকেই ATP (Adenosine Triphosphate) গঠিত হয়।
- ATP হলো একধরনের শক্তিবাহী যৌগ। যখন কোষ কোনো কাজ করে (যেমনঃ পেশি সঙ্কোচন, স্নায়ুতন্ত্রের কাজ, কোষ বিভাজন ইত্যাদি), তখন ATP ভেঙে শক্তি প্রদান করে।
প্রতিক্রিয়া (সহজভাবে):
Glucose + Oxygen → Carbon dioxide + Water + Energy (ATP) 

অন্যদিকে, 
- সালোকসংশ্লেষণ: এটি ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টে, যেখানে সূর্যালোক থেকে খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি হয়।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ: এটি ঘটে রাইবোসোমে। এটি প্রোটিন গঠন প্রক্রিয়া।
- ডিএনএ প্রতিলিপি: এটি ঘটে নিউক্লিয়াসে। এর ফলে নতুন কোষে একই DNA তৈরী হয়। 

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান।

৩,৯২০.
গাছে ফল ধরতে ও পাকতে দেরি হয় কিসের অভাবে?
  1. বোরন
  2. ফসফরাস
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা

বোরন (B):
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।
- এটি গাছে ফুল ও ফল ধরতে সহায়তা করে। 

ফসফরাস:
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে।
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না।

সালফার: 

- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও কৃষিবিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯২১.
নিচের কোনটি প্রাণিজ শর্করা?
  1. স্টার্চ
  2. সেলুলোজ
  3. সুক্রোজ
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৯২২.
ছত্রাকের জীবন রহস্য উম্মোচন করেন কে?
  1. ক) মাকসুদুল আলম
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) মোবারক আহমদ খান
  4. ঘ) রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
ক) মাকসুদুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা


২০১২ সালে পাটসহ পাঁচশ উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন রহস্য (জেনোম সিকোয়েন্স) উম্মোচন করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
এছাড়াও তিনি ২০১০ সালে দেশি পাটের জীবনরহস্য উম্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান।
উৎসঃ ডেইলি স্টার আর্কাইভ।

৩,৯২৩.
জীবের রাসায়নিক গঠন উপাদান কি?
  1. ক) RNA
  2. খ) DNA
  3. গ) NDA
  4. ঘ) ক + খ
সঠিক উত্তর:
খ) DNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) DNA
ব্যাখ্যা
• জীবের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA
• DNA: জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA। এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২৪.
ঐচ্ছিক পেশি থাকে- i. চোখে ii. অস্থিতে iii. গলবিলে
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. i ও ii
  2. ii ও iii
  3. i ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি (Voluntary or skeleted or striated Muscle):
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে।
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে।
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে।
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত।

- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে।
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে।
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়।
- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে।
- এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে।

- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে।
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়।
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত।
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে।
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২৫.
আমিষ কী দিয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড সমন্বয়ে গঠিত হয়।
  2. খ) অ্যামাইনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত হয়।
  3. গ) ভিটামিনের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
  4. ঘ) বিভিন্ন খনিজ লবণের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত হয়।
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। 
- আমিষের গাঠনিক একক হল অ্যামাইনো এসিড
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।

সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

৩,৯২৬.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটি অপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জবা
  2. আম
  3. কাঁঠাল
  4. স্পাইরোগাইরা
সঠিক উত্তর:
স্পাইরোগাইরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৯২৭.
নিচের কোনটি উদ্ভিদে দেখাযায় কিন্তু প্রাণীতে সাধারণত নেই?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. সাইটোপ্লাজম
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো একটি বিশেষ ধরনের কোষ-অঙ্গাণু যা প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়।

- উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, যা ফটোসিন্থেসিসের জন্য অপরিহার্য।
- ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে ক্লোরোফিল, যা সূর্যালোক শোষণ করে।
- প্রাণী কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই; প্রাণী সরাসরি খাদ্য গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোষেই নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজম থাকে।
- তাই ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদকোষের অনন্য অঙ্গাণু, যা প্রাণীতে সাধারণত পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica 

৩,৯২৮.
নিলয়ের সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে তাকে কী বলা হয়? 
  1. স্বাভাবিক রক্তচাপ 
  2. সিস্টোলিক রক্তচাপ 
  3. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সিস্টোলিক রক্তচাপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিস্টোলিক রক্তচাপ 
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়। 
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় অর্থাৎ সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অর্থাৎ প্রসারণের সময় অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯২৯.
উদ্ভিদের কোন অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা ও পাতা উৎপন্ন হয়? 
  1. ফুল 
  2. ফল 
  3. মূল 
  4. কাণ্ড 
সঠিক উত্তর:
কাণ্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ড 
ব্যাখ্যা

কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

কাণ্ডের কাজ: 
- কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
- কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
- কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
- পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
- কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৯৩০.
জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাটিপাস
  2. ইকুইজিটাম
  3. স্ফোনোডন
  4. লিমুলাস
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৩১.
কোন পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক?
  1. Mollusca
  2. Cnidaria
  3. Echinodermata
  4. Chordata
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
ব্যাখ্যা

• Mollusca (মলাস্কা):
- এই পর্বের প্রাণীরা স্থলজ, মিঠাপানির ও সামুদ্রিক-তিন পরিবেশেই বাস করে।
- যেমন: শামুক (স্থলজ ও মিঠাপানির), ঝিনুক ও অক্টোপাস (সামুদ্রিক)।
- তাই Mollusca পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক নয়।

• Cnidaria (নাইডেরিয়া):
- এরা প্রধানত জলজ প্রাণি এবং অধিকাংশই সামুদ্রিক।
- যেমন: জেলিফিশ, প্রবাল, সি অ্যানিমোন।
- তবে কিছু প্রজাতি মিঠাপানিতেও বাস করে (যেমন: Hydra)।
- তাই এই পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক নয়।

• Echinodermata (ইকাইনোডারমাটা):
- এই পর্বের সকল প্রাণিই সম্পূর্ণভাবে সামুদ্রিক।
- এরা শুধু লবণাক্ত পানিতে বসবাস করে।
- যেমন: তারামাছ (Starfish), সি আর্চিন, সি কুকুম্বার।
- এদের দেহে কাঁটাযুক্ত ত্বক এবং জলবাহী তন্ত্র (Water vascular system) থাকে।
- এই পর্বের কোনো প্রাণিই স্থলজ বা মিঠাপানির নয়।

• Chordata (কর্ডাটা):
- এই পর্বের প্রাণীরা স্থলজ, জলজ ও উভচর- সব পরিবেশেই বাস করে।
- যেমন: মাছ (জলজ), ব্যাঙ (উভচর), পাখি ও মানুষ (স্থলজ)।
- তাই Chordata পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক নয়।

সুতরাং, যে পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক তা হলো - Echinodermata.
সঠিক উত্তর: গ) Echinodermata.

সূত্র: The University of Edinburgh. [link]

৩,৯৩২.
সালোক সংশ্লেষণ সংগঠিত হয় যেখানে- 
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া আছে
  2. নিউক্লিয়াস আছে
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ক্লোরোফিল আছে
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফিল আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফিল আছে
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৯৩৩.
কোন মাটির পানিধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. পলিমাটি
  2. দোআঁশ মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. এটেল মাটি
সঠিক উত্তর:
এটেল মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটেল মাটি
ব্যাখ্যা
বেলে মাটিঃ বেলে মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুবই কম। বেলে মাটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিদ্যমান মাটির কণার আকার সবচেয়ে বড়।

পলিমাটিঃ পলি মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেলে মাটির থেকে বেশি। পলি মাটি খুব উর্বর হয় এবং মাটির কনার আকার বেলে মাটির কণার চেয়ে ছোট হয়।

দোআঁশ মাটিঃ এই মাটি বালি, পলি আর কাদার সমন্বয়ে গঠিত হয়। চাষাবাদের জন্য দোআঁশ মাটি খুবই উপযোগী।

এটেল মাটিঃ এই মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি কিন্তু পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা খুবই কম।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৩৪.
একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে কত গ্রাম চর্বির প্রয়োজন?
  1. ক) ৩০-৫০ গ্রাম
  2. খ) ৪০-৫০ গ্রাম
  3. গ) ৫০-৬০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪০-৬০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) ৫০-৬০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫০-৬০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৩৫.
'' The Origin of Species by means of natural selection'' বইটির রচয়িতা কে?
  1. মেন্ডেল
  2. অ্যারিস্টটল
  3. ডারউইন
  4. নিউটন
সঠিক উত্তর:
ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডারউইন
ব্যাখ্যা
•ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন।
• তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত।
• সমুদ্রে ভ্রমণকালীন সময়ে ডারউইন, চার্লস লায়েল লিখিত ‘The Principles of Geology' নামক বইটিতে প্রস্তাবিত তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন। উক্ত বইটিতে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর চেহারা পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে ডারউইন নিজেও প্রস্তাবিত ভূ-তত্ত্বীয় পরিবর্তন এর চিহ্ন লক্ষ করেন। গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণকালে ডারউইন প্রত্যেক দ্বীপের পাখি ও কচ্ছপকে কিছুটা ভিন্ন চেহারায় দেখতে পান। 
• ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণর মাধ্যমে ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বিবর্তনের মতবাদকে যৌথ নামে ‘Darwin-Wallace's Theory' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৯৩৬.
নিচের কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়?
  1. ফসফরিক এসিড
  2. এসকরবিক এসিড
  3. ফলিক এসিড
  4. পারক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
জৈব ও খনিজ এসিড: 
- ফলমূল বা সবজিতে যে সকল এসিড থাকে এদেরকে জৈব এসিড বলে।
- এদেরকে খাওয়া যায় এবং কোনো কোনোটি মানব দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- যেমন- এসকরবিক এসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি। এর অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- অন্যদিকে কিছু কিছু এসিড আছে যেমন- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), ফসফরিক এসিড (H₃PO₄), নাইট্রিক এসিড (HNO3), পারক্লোরিক এসিড (HCIO,) ইত্যাদি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নানারকম খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি করা হয়, এদেরকে খনিজ এসিড (Mineral Acids) বলে।
- এগুলো খাওয়ার উপযোগী নয়। বরং বলা যায় এরা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- খনিজ এসিড ত্বকে লাগলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- উল্লেখ্য, ভিটামিন বি৯ হচ্ছে ফলিক এসিড। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৯৩৭.
স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. এন্ডোকার্ডাইটিস
  2. হাইপারটেনশন
  3. মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
  4. ব্রঙ্কিয়েকটেসিস
সঠিক উত্তর:
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
ব্যাখ্যা
• মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত।

• স্নায়ুরোগ:
- স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
- স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।

• স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে-

- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া,
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত,
- চলাফেরায় অসুবিধা,
- সমন্বয়ের অভাব,
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা,
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো,
- সংবেদনশীলতা হ্রাস,
- জ্ঞান হারানো।
- উদাহরণ: স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস, পারকিনসন'স প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।
- এন্ডোকার্ডাইটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৯৩৮.
স্টেরিলাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. খাদ্যের পুষ্টি বৃদ্ধি করা
  2. খাদ্যের স্বাদ উন্নত করা
  3. খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
  4. খাদ্য সংরক্ষণে ঠান্ডা রাখা
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
ব্যাখ্যা

- স্টেরিলাইজেশন একটি তীব্র তাপ প্রয়োগ পদ্ধতি যা ১০০°C -এর বেশি তাপমাত্রায় করা হয় এবং এর লক্ষ্য হল খাদ্যের মধ্যে উপস্থিত সমস্ত অণুজীব, এমনকি ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলোও সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে দেওয়া।

স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ: 

- সিলিং -এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়। 
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়। 
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়। 
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে। 

অন্যদিকে, 
- স্টেরিলাইজেশন খাদ্যের পুষ্টির পরিমাণ বাড়ায় না; বরং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদানের সামান্য হ্রাস ঘটতে পারে। 
- স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খাদ্যের স্বাদ বা পুষ্টিগুণের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু স্বাদ উন্নত করা এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। 
- ঠান্ডা রাখা (শীতলীকরণ বা ফ্রিজিং) খাদ্য সংরক্ষণের একটি আলাদা পদ্ধতি যা অণুজীবের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, কিন্তু এটি স্টেরিলাইজেশন নয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৩৯.
ডায়াবেটিস কী ধরনের রোগ?
  1. ক) ভাইরাস জনিত
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া জনিত
  3. গ) ফাঙ্গাস জনিত
  4. ঘ) হরমোন জনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরমোন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হরমোন জনিত
ব্যাখ্যা
- 'ইনসুলিন' হরমোনের অভাবে ডায়বেটিস রোগ হয়। 

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 

- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উল্লেখ্য, 
- চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয় এ তথ্যটি সত্য নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪০.
জবা কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) উপগুল্ম
  2. খ) বৃক্ষ
  3. গ) বীরুৎ
  4. ঘ) গুল্ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুল্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুল্ম
ব্যাখ্যা

- যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, সাধারণত কান্ডহীন এবং গোড়া হতে অধিক শাখা-প্রশাখা বের হয়ে ঝোপে পরিণত হয় তাদেরকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে।
- এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না। যেমন- জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৯৪১.
ভিট্রিয়াস হিউমার কোথায় থাকে?
  1. ক) লেন্স ও কর্নিয়ার মাঝে
  2. খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
  3. গ) রেটিনা ও কর্নিয়ার মাঝে
  4. ঘ) কর্নিয়া ও আইরিশের মাঝে
সঠিক উত্তর:
খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
ব্যাখ্যা

লেন্স ও কর্ণিয়ার মাঝে ফাঁকা যায়গায় এক ধরনের স্বচ্ছ লবণাক্ত জলীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। লেন্স ও রেটিনার মাঝখানের ফাঁকা যায়গাও অনুরূপভাবে এক ধরণের জেলি জাতীয় স্বচ্ছ পদার্থে পূর্ণ থাকে। এদের যথাক্রমে অ্যাকুয়াস হিউমার এবং ভিট্রিয়াস হিউমার বলা হয়।
কর্ণিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, ভিট্রিয়াস হিউমার, চক্ষুলেন্স সব কিছু মিলে একত্রে একটি উত্তল লেন্সের কাজ করে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৯৪২.
কোনটিকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বলা হয়?
  1. রাইবোজোম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা

- জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
- জীবের শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি। যথা- গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া মাইক্রোকন্ডিয়ার অভ্যন্তরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকনডিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৪৩.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়? 
  1. ভেড়া
  2. লিমুলাস
  3. প্লাটিপাস
  4. স্ফোনোডন
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৪৪.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত ডিগ্রি ফারেনহাইট?
  1. ৯৭.২
  2. ৯৮.৪
  3. ৯৮.৬
  4. ৯৮.২
সঠিক উত্তর:
৯৮.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮.৪
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের তাপমাত্রা:
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০০ ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

[মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
Medical Encyclopedia এবং আরো কিছু সোর্স অনুযায়ী -
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।এক্ষেত্রে, অপশনে ৯৮.৪ এবং ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট দুটিই থাকলে - "৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।
আবার, ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলে এর সাথে ৯৮.৪ ডিগ্রি বাদে অন্য কিছু থাকলে তখন -
"৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।]

উল্লেখ্য,
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৯৪৫.
রক্তের তরল অংশ কোন ধরনের কলা?
  1. মৃত কলা
  2. সজীব কলা
  3. যোজক কলা
  4. পরিবাহী কলা
সঠিক উত্তর:
যোজক কলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক কলা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪৬.
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনী ?
  1. ক) ফেসিয়াল ধমনি
  2. খ) অক্সিপিটাল ধমনি
  3. গ) বহি: ক্যারোটিড ধমনি
  4. ঘ) আন্তঃক্যারোটিড ধমনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আন্তঃক্যারোটিড ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আন্তঃক্যারোটিড ধমনি
ব্যাখ্যা
আন্তঃক্যারোটিড ধমনি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে।

ধমনি:

মানব দেহের এমনসব রক্তবাহী নালি যেগুলো হৃৎপিণ্ড থেকে পরিশোধিত রক্ত বহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে। ধমনি সবসময় পরিশোধিত তথা অক্সিজেনসমৃদ্ধ (অক্সিজেনেটেড) রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে; তবে ব্যতিক্রম হলো ফুসফুসীয় ধমনি এবং আমবিলিক্যাল ধমনি।

তাছাড়া--
ফেসিয়াল ধমনি:  মুখমণ্ডল ,ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে।
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
বহি: ক্যারোটিড ধমনি : মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 

 
SOURCE: জীব বিজ্ঞান (প্রাণবিজ্ঞিান) ২য় পত্র, এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৩,৯৪৭.
ফুলের মধুতে কোনটি থাকে?
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোজ
ব্যাখ্যা
শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
ফ্রুকটোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে। একে ফল শর্করাও (Fruit Sugar) বলা হয়ে থাকে।
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান। 
৩,৯৪৮.
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ কত?
  1. ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ১০০-১৫০ মিলিমিটার (mm Hg)
সঠিক উত্তর:
১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart): 

• একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রতি মিনিটে হৃৎপিণ্ড সংকুচিত ও প্রসারিত হয় ৭০ থেকে ৮০ বার এবং গড় হিসাবে ৭৫ বার। (হৃদচক্রের হার- ০.৮ সেকেন্ড)
• পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ২৫০-৩৫০ গ্রাম।
• হৃৎপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা: এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম।
• পেরিকার্ডিয়াম নামের পর্দার/ ঝিল্লির আবরণে ঢাকা থাকে পুরো হৃৎপিণ্ড।
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে প্রকোষ্ঠের সংখ্যা চারটি।
• হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।

• প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

• একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
• মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- স্ফিগমোম্যানোমিটার। 


উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৯৪৯.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস
  1. কার্বন - ডাইঅক্সাইড
  2. আলো
  3. পানি
  4. ক্লোরোফিল
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:

• যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
• সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো: ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন - ডাইঅক্সাইড ।
• সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস।

• সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%;
• লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
• ক্লোরোফিল ব্যতীত সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
• সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের প্লাস্টিডে ঘটে। 
• সালোকসংশ্লেষণ প্রকৃয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস পানি।
• উদ্ভিদের মূলে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৯৫০.
মিষ্টি আলু কোন পদ্ধতিতে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে?
  1. মূল 
  2. রাইজোম
  3. স্টোলন
  4. বুলবিল
সঠিক উত্তর:
মূল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যেমন-পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা দেখলে বুঝা যায়, তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 
(খ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট। পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 
(গ) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 
(ঘ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হলো কচুর শাখা কাণ্ড। এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 
(ঙ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা। 
(চ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

৪. পাতার মাধ্যমে: 
- কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন- পাথরকুচি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৯৫১.
আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো উৎস কোনটি? 
  1. ডাল 
  2. শাকসবজি
  3. বাদাম 
  4. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৫২.
পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয় কোনটি?
  1. সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা
  2. ঘনঘন পাতলা পায়খানা
  3. মাংসপেশির কার্যকারিতা হ্রাস
  4. নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া
সঠিক উত্তর:
ঘনঘন পাতলা পায়খানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনঘন পাতলা পায়খানা
ব্যাখ্যা
• ঘনঘন পাতলা পায়খানা হওয়া পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয়। 

• পারকিনসন:
- পারকিনসন রোগটি স্নায়ুর ক্ষয়জনিত রোগ।পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

• এ রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়।
- স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন।
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।

• পারকিনসন রোগের লক্ষণ:
- রোগীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়।
- চোখের পাতার কাঁপুনি।
- কোষ্ঠকাঠিন্য।
- খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া।
- সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা।
- কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া।
- নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩,৯৫৩.
রুই মাছের আঁইশ কোন প্রকৃতির?
  1. সাইক্লয়েড
  2. টিনয়েড
  3. গ্যানয়েড
  4. প্লাকয়েড
সঠিক উত্তর:
সাইক্লয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লয়েড
ব্যাখ্যা
রুই মাছের দেহ গঠন (বাহ্যিক): 
- রুই মাছের দেহ অনেকটা মাকু আকৃতির। 
- দেহের মধ্যভাগ কিছুটা প্রশস্ত এবং লেজ ও মাথার দিক ক্রমশ সরু হয়ে গেছে, এ ধরনের গঠনকে স্ট্রিমলাইনড গঠন বলে। 
- এদের দেহ রুপালি আঁইশ দ্বারা আবৃত, কিন্তু এদের মাথা আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে না। 
- রুই মাছ সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। 
- রুই মাছের দেহ তিন অংশে বিভক্ত। 
যথা- মাথা, দেহ কাণ্ড এবং লেজ। 
- মুখছিদ্র ছোট ও মাংসল ঠোঁট দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- মাথার পেছনের অংশে কানকো দিয়ে ঢাকা ৪ জোড়া ফুলকা আছে। 

মাথা: 
- দেহের অগ্রপ্রান্ত থেকে কানকোর পশ্চাৎ প্রান্ত পর্যন্ত অংশ হলো মাথা। 
- রুই মাছের মাথা ১০-১২ সে.মি লম্বা এবং এর পৃষ্ঠীয় ভাগ উত্তল। 
- উদর হতে মস্তকের উপরিভাগ বেশি উত্তল। 
- মুখ নিচের দিকে অবস্থিত, মুখের দু কোণা পেছনের দিকে বাঁকা, ফলে মুখ অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেখায়। 
- রুই মাছের চোখের কোনো পাতা নেই, মাথার দু-পার্শ্বে বড় বড় দুটি চোখ অবস্থিত। 
- চোখের কর্নিয়া স্বচ্ছ আবরণ দ্বারা আবৃত। 

দেহ কাণ্ড: 
- রুই মাছের কানকো শেষভাগ থেকে পায়ু পর্যন্ত অংশকে দেহ কাণ্ড বা ধর বলে। 
- দেহ কাণ্ড বেশ লম্বা, লেজের দিকে ক্রমশ সরু। 

লেজ: 
- দেহ কাণ্ডের শেষভাগে লেজ অবস্থিত। 
- প্রায় মধ্যভাগের পর থেকে লেজ দু-খণ্ডে বিভক্ত। 
- লেজ পুচ্ছপাখনা নামে পরিচিত। 

ত্বক: 
- রুই মাছের সমস্ত দেহ ত্বক দ্বারা ঢাকা থাকে। 
- ত্বকের দুটি স্তর, বাইরের স্তরটিকে বলা হয় এপিডার্মিস এবং ভেতরের স্তরটিকে বলা হয় ডার্মিস। 
- এপিডার্মিসে রঞ্জক কোষ এবং মিউকাস কোষ থাকে। 
- মিউকাস কোষ পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে দেহকে পিচ্ছিল রাখে, ফলে এদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয়। 

আঁইশ: 
- রুই মাছের দেহ বড় বড় সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। 
- এ আঁইশের মধ্যে বৃত্তাকার এক ধরনের রেখা থাকে, একে সারকুলাস বলে। 
- এ সারকুলাস পর্যবেক্ষণ করে মাছের বয়স নির্ণয় করা হয়। 
- আঁইশের কেন্দ্রকে ফোকাস বলে। 
- রুই মাছের আঁইশের বৃদ্ধি বেশি হয় গ্রীষ্মকালে ও বসন্তকালে। 

পাখনা: 
- রুই মাছের দেহে ৫ ধরনের পাখনা আছে। 
- এ পাখনাগুলো হলো মাথার কাছে বক্ষের দিকে বক্ষ পাখনা, পিঠের দিকে পৃষ্ঠ পাখনা, দেহের মাঝ বরাবর নিচের দিকে শ্রেণিপাখনা, পায়ুর একটু পেছনে পায়ু পাখনা এবং একেবারে পেছন দিকে পুচ্ছ পাখনা রয়েছে। 
- এ পাখনাগুলো এদের চলাচলে সাহায্য করে। 

পার্শ্বরেখা: 
- রুই মাছের দেহের দু-পাশেই আঁইশের নিচে এক সারি ছোট ছোট গর্ত আছে যা পার্শ্বরেখা সৃষ্টি করে। 
- এ গর্তের মধ্যে সংবেদী অঙ্গ যুক্ত থাকে। 
- এ সংবেদী অঙ্গের মাধ্যমে রুই মাছ পানির গুণাগুণ (যেমন- পিএইচ, ঘোলাত্ব ইত্যাদি) বুঝতে সক্ষম হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩,৯৫৪.
কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের পাতার শীর্ষ ও কিনারা প্রথমে হলুদ হয়ে মৃত অঞ্চল তৈরি হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম (K): 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পটাশিয়ামের অভাবে বিশেষ করে পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস হয়ে হলুদবর্ণ ধারণ করে। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস (P): 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে ফসফরাসের ঘাটতি বোঝা যায় না। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায় কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। 
- নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোসিস হয় এবং পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৫৫.
একটি কোষে রাইবোসোম কোথায় পাওয়া যায় এবং তাদের প্রধান কাজ কী?
  1. নিউক্লিয়াসে, RNA তৈরি করার জন্য
  2. মাইটোকন্ড্রিয়াতে, শক্তি তৈরি করার জন্য
  3. সাইটোপ্লাজমে, প্রোটিন সংশ্লেষণ করার জন্য
  4. সেল মেমব্রেনে, পুষ্টি শোষণের জন্য
সঠিক উত্তর:
সাইটোপ্লাজমে, প্রোটিন সংশ্লেষণ করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইটোপ্লাজমে, প্রোটিন সংশ্লেষণ করার জন্য
ব্যাখ্যা
• রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৬.
কোন কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়? 
  1. মায়োসিস 
  2. মাইটোসিস 
  3. অ্যামাইটোসিস 
  4. অ্যাপোপটোসিস 
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইটোসিস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইটোসিস 
ব্যাখ্যা

কোষ বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। 
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। 
যথা- 
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৫৭.
কোন ধরনের কোষে নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. যকৃত কোষ
  3. স্নায়ু কোষ
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকার ফলে এটি সর্বাধিক পরিমাণ হিমোগ্লোবিন ধারণ করে এবং অক্সিজেন পরিবহনের জন্য যথেষ্ট স্থান পায়।
- হিমোগ্লোবিন হলো একটি লৌহযুক্ত প্রোটিন, যা অক্সিজেন অণুকে আবদ্ধ করে এবং RBC-কে লাল রঙ দেয়।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- নিউক্লিয়াসের পাশাপাশি এতে মাইটোকন্ড্রিয়াও অনুপস্থিত থাকে।

অন্যান্য অপশন:
- শ্বেত রক্তকণিকা: এদের নিউক্লিয়াস উপস্থিত এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- যকৃত কোষ (Liver Cells): এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
- স্নায়ু কোষ (Neurons): এদেরও নিউক্লিয়াস উপস্থিত, যা কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৫৮.
প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা কার কাজ?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. রক্তরস
  3. অণুচক্রিকা
  4. লোহিত কণিকা
সঠিক উত্তর:
লোহিত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা
• লোহিত কণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- লোহিত রক্ত কণিকার প্রধান কাজ হলো প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বহন করা।
- রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৯.
কোনটির সাহায্যে দাঁত মাড়ির সাথে আটকানো থাকে?
  1. ক) ডেন্টিন
  2. খ) এনামেল
  3. গ) দন্তমজ্জা
  4. ঘ) সিমেন্ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিমেন্ট
ব্যাখ্যা

- সিমেন্ট নামক পাতলা আবরণ দাঁতের মূল অংশ ডেন্টিনকে আবৃত করে রাখে।

-এই সিমেন্ট এর সাহায্যে দাঁত মাড়ির সাথে আটকানো থাকে।
-দাঁত প্রধানত যে শক্ত উপাদান দ্বারা গঠিত, তাকে ডেন্টিন বলে।
-দাঁতের মুকুট অংশে ডেন্টিনের উপরিভাগে এনামেল নামক কঠিন উপাদান থাকে। এনামেল এবং ডেন্টিন ক্যালসিয়াম ফসফেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, এবং ফ্লোরাইড দিয়ে তৈরি।
-ডেন্টিনের ভেতরের ফাঁপা নরম অংশকে দন্তমজ্জা বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,৯৬০.
মাতৃদুগ্ধে কোন রোগ প্রতিরোধী পদার্থ থাকে?
  1. অ্যান্টিজেন
  2. অ্যান্টিবডি
  3. হরমোন
  4. এনজাইম
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবডি
ব্যাখ্যা
◉ মাতৃদুগ্ধে অ্যান্টিবডি (বিশেষ করে IgA) থাকে, যা শিশুকে নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

অ্যান্টিবডি (Antibody):
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ ।
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়।
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩,৯৬১.
রক্ত কোন ধরনের কলা?
  1. স্নায়ুকলা
  2. এপিথেলিয়াল কলা
  3. মাংসপেশিক কলা
  4. তরল যোজক কলা
সঠিক উত্তর:
তরল যোজক কলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল যোজক কলা
ব্যাখ্যা
রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।

রক্ত (Blood):
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ।
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়।
লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়।

• রক্তের উপাদান:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তের উপাদান দুইটি।
- যথা: রক্তরস ও রক্তকণিকা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত।

• রক্তরস (Plasma):
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে।
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস।
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি।
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
-যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন:
কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি।
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে।
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে।

• রক্তকণিকা:
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে।
যথা-

ক. লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে।
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে -পৌঁছায়।
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম।
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।

গ. অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়।
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে।

উৎস: ১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৬২.
বৃহদন্ত্র কতটি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা-
১) সিকাম।
২) কোলন।
৩) মলাশয়।

সিকাম:
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ।
- লম্বায় ৬ সে. মি. এবং চওড়ায় ৭.৫ সে.মি.।
- সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়।

কোলন:
- সিকামের পরবর্তী মোটা নলাকার অংশের নাম কোলন।
- এটি ৪টি অংশে বিভক্ত।
- কোলন প্রায় ১৫০-১৯০ সে.মি. লম্বা।

মলাশয়:
- বৃহদন্ত্রের শেষ প্রান্ত শ্রোণিদেশে অবস্থিত প্রশস্ত অংশটিকে মলাশয় বলে।
- এটি প্রায় ৫ সে.মি. লম্বা।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৬৩.
নিচের কোনটি অমেরুদন্ডী প্রাণী?
  1. কুমির
  2. পুঁটি মাছ
  3. জেলীফিস
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
জেলীফিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলীফিস
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডী প্রাণী:
(ক) মৎস্যকুল: 
- এ দলের প্রাণীরা পানিতে বাস করে। দেহ আঁশ দিয়ে ঢাকা। ফুলকার সাহায্যে শ্বাস কাজ চালায়।
যেমন- রুই, কাতল, পুঁটি। 

(খ) উভচর প্রাণী:
- এসব প্রাণী পানিতে এবং ডাঙ্গায় বসবাস করে। জীবনচক্রের একটা অংশ এদের পানিতে বিকাশ লাভ করে।
যেমন- ব্যাঙ। 

(গ) সরিসৃপ:
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে।
যেমন- কুমির, টিকটিকি। 

(ঘ) পাখি:
- এসব প্রাণীর দেহ পালকে ঢাকা থাকে।
যেমন- ময়না, টিয়া, ঘুঘু।

(ঙ) স্তন্যপায়ী প্রাণী:
- এসব প্রাণী মায়ের দুধ পান কর।
যেমন- বাদুড়, তিমি, মানুষ

অমেরুদন্ডী প্রাণী: 
১. প্রোটোজোয়া:
- এরা এককোষী আদি প্রাণী।
যেমন- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু। 

২. পরিফেরা:
- এসব প্রাণীর দেহ অসংখ্য ক্ষুদ ক্ষুদ্র ছিদ্র যুক্ত। এরা জলে বাস করে।
যেমন- স্পনজিলা। 

৩. সিলেনটারেটা:
- এ পর্বের বেশির ভাগ প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহের মেলো দিকটা মুখ হিসেবে কাজ করে। মুখের চারদিকে টেন্টাকল আছে।
যেমন- হাইড্রা, জেলীফিস

৪. প্লাটিহেলমিনথিস:
- এ পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের দেহ ফিতার মত চ্যাপ্টা। এরা সাধারণত পরজীবী।
যেমন- ফিতাকৃমি।

৫. নেমাথেলমিনথিস:
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকৃতি ও অখণ্ডিত। এরা সাধারণত পরজীবী।
যেমন- কেঁচোকৃমি। 

৬. অ্যানিলিডা:
- এ জাতীয় প্রাণীদের দেহ নরম এবং রিং বা বলয়ের মত খণ্ড খণ্ড অংশ দিয়ে গঠিত।
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 

৭. আর্থোপোডা:
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা এবং এদের সন্ধিযুক্ত পা রয়েছে।
যেমন- চিংড়ি, তেলাপোকা। 

৮. একাইনোর্ডামাটা:
- এসব প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ কাটাযুক্ত।
যেমন- তারামাছ। 

৯. মলাস্কা:
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম কিন্তু শক্ত খোলস দিয়ে আবৃত।
যেমন- শামুক, ঝিনুক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৬৪.
কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. গ) নিয়াসিন
  4. ঘ) কোবালামিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোবালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোবালামিন
ব্যাখ্যা

- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
- রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।
- নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
- কোবালামিন/ সায়ানোকোবালামিন/ ভিটামিন B12 এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং স্নায়ুর অবক্ষয় ঘটে।

সূত্র: মাধমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

৩,৯৬৫.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি?
  1. শ্বেতসার
  2. লিপিড
  3. গ্লাইকোজেন
  4. কাইটিন
সঠিক উত্তর:
শ্বেতসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতসার
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৬৬.
'লিউকোসাইট' এর গড় আয়ু কত দিন?
  1. ১-১৫ দিন
  2. ৫-১০ দিন
  3. ১২০ দিন
  4. ৭-১৫ দিন
সঠিক উত্তর:
১-১৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-১৫ দিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকনিকা দেখা যায়।
যথা -
লোহিত রক্তকনিকাঃ এর গড় আয়ু ১২০ দিন।
শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইটঃ এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
অনুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইটঃ এর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান।
৩,৯৬৭.
একটি মানব শিশুর দুধদাঁত থাকে কয়টি? 
  1. ২০ টি
  2. ১৮ টি
  3. ১৬ টি
  4. ২২ টি
সঠিক উত্তর:
২০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ টি
ব্যাখ্যা
দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৬৮.
ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় কী?
  1. জীবের নিজের প্রয়োজনে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি
  2. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  3. স্বল্পহারে সংখ্যাবৃদ্ধি
  4. প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকা
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। 

• চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "On the Origin of Species"–এ বিবর্তনের মূল প্রক্রিয়া হিসেবে “প্রাকৃতিক নির্বাচন”-এর ধারণা তুলে ধরেন।

• প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ হলো—
''যেসব জীব তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম, তাদের বেঁচে থাকার ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি। ফলে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।''

• ডারউইন এর মতবাদের মূল বিষয়-
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে (Variation)। 
- উত্তম বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবরা টিকে থাকে। 
- প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে শুধু যোগ্য জীবেরা বেঁচে থাকে,  অযোগ্য জীবরা বিলুপ্ত হয়।  
- উত্তরাধিকারসূত্রে গঠনগত পরিবর্তন ছড়িয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- National Geographic website – Theory of Evolution
৩,৯৬৯.
কোনটিকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. ক্রোমোজোম
  4. রাইবোজোম
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৭০.
মানবদেহে কয় স্তরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে?
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
ব্যাখ্যা
• ইম্যুনাইজেশন:
- মানুষের শরীরের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ইম্যুনাইজেশন বলে।
- মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে  তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) ত্বক, (ii) মিউকাস মেমব্রেন, (iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া, (iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং (v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) ব্যাথাদায়ক সাড়া, (ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ, (iii) কমপ্লিমেন্ট, (iv) ইন্টারফেরন এবং (v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) লিম্ফোসাইট, (ii) MHC অণু এবং (ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৯৭১.
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক লোকের হৃদপিন্ডের সিস্টোলিক চাপ কত?
  1. ক) 70 - 90 মিলিমিটার মার্কারি
  2. খ) 110 - 130 মিলিমিটার মার্কারি
  3. গ) 70 - 80 মিলিমিটার মার্কারি
  4. ঘ) 130 - 150 মিলিমিটারি মার্কারি
সঠিক উত্তর:
খ) 110 - 130 মিলিমিটার মার্কারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 110 - 130 মিলিমিটার মার্কারি
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ : রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।

হৃদপিন্ডের সংকোচনশীল অবস্থায় যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের স্বাভাবিক সিস্টোলিক প্রেসার হলো ১১০-১৩০ মি.মি. Hg গড়ে ১২০ মি.মি।

হৃদপিন্ডের শিথিল অবস্থায় যে সর্বনিম্ন চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ডায়াস্টোলিক প্রেসার হলো ৭০-৯০ মি.মি. (গড়ে ৮০ মি.মি. Hg) রক্ত চাপকে সাধারণতঃ ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৭২.
কঙ্কাল কোন দুটি উপাদানে গঠিত? 
  1. রক্ত ও পেশি
  2. অস্থি ও তরুণাস্থি
  3. স্নায়ু ও তরল পদার্থ
  4. চামড়া ও তরুণাস্থি
সঠিক উত্তর:
অস্থি ও তরুণাস্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থি ও তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা
মানব কঙ্কাল: 
- মানব দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল (Skeleton)। 
- অস্থি (Bone) ও তরুণাস্থি (Cartilage) দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে দেহের ভার বহন করে এবং পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র (Skeletal system) বলে। 
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট ২০৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত। 
- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত, মগজ ইত্যাদি দেহের কোমল অঙ্গসমূহকে অস্থির আবরণে সুরক্ষিত রাখে। 
- অস্থিগুলো ঐচ্ছিক মাংসপেশি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকায় ইচ্ছাকৃত অঙ্গ সঞ্চালন ও চলাফেরা করা সম্ভব হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৭৩.
গলবিল থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিটির নাম
  1. ক) বৃহদন্ত্র
  2. খ) ক্ষুদ্রান্ত্র
  3. গ) অন্ননালি
  4. ঘ) কৈশিক নালি
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ননালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ননালি
ব্যাখ্যা
গলবিল থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিটির নাম অন্ননালি। খাদ্যবস্তু এই নালির মধ্যে দিয়ে পাকস্থলীতে পৌছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৩,৯৭৪.
বংশগতি বিদ্যার জনক কে?
  1. ল্যামার্ক
  2. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  3. চার্লস ডারউইন
  4. জেমস ওয়াটসন
সঠিক উত্তর:
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতি বিদ্যার জনক বলা হয়। 
- তিনি ১৮৬৬ সালে মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণাকালে বংশগতির ধারক ও বাহকরূপে যে ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটি আজ 'জিন' রূপে পরিচিত হয়েছে।
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য উদ্ভিদের বংশধরদের মধ্যে কিভাবে প্রকাশ পায়, সে সম্বন্ধে তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যবান তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। 

- বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর কাঠামোর বর্ণনা দেন৷
- ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন।
- ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

উৎস: বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৭৫.
ভিটামিনসমূহ কোন ধরনের পদার্থ?
  1. পানি 
  2. খনিজ লবণ 
  3. জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
  4. অজৈব রাসায়নিক পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
ব্যাখ্যা

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 
- খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, খনিজ লবণ ছাড়াও আরও এক প্রকার সূক্ষ্ম জাতীয় উপাদানের প্রয়োজন যা খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন। 
- এই খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিনের অভাবে শরীর নানা রোগে (যেমন- রাতকানা, বেরিবেরি, স্কার্ভি ইত্যাদি) আক্রান্ত হয়।
- ভিটামিন বলতে খাদ্যের ঐ সব জৈব রাসায়নিক পদার্থকে বুঝায় যা খাদ্যে সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থাকে
- ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা তাপশক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। 

ভিটামিনের প্রকারভেদ: 
- দ্রবণীয়তার গুণ অনুসারে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. স্নেহ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, এবং ভিটামিন কে। 
২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি। 

ভিটামিনের উৎস: 
- গাছের সবুজ পাতা, কচি ডগা, হলুদ ও সবুজ বর্ণের সবজি, ফল ও বীজ ইত্যাদি অংশে ভিটামিন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৯৭৬.
হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণের নাম-
  1. পেরিকন্ড্রিয়াম
  2. পেরিঅস্ট্রিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. প্লুরা
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃদপিণ্ড: 

- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- আর হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা-
• এপিকার্ডিয়াম,
• মায়োকার্ডিয়াম ও
• এন্ডোকার্ডিয়াম।

- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।
- অস্থির আবরণের নাম: পেরিঅস্ট্রিয়াম।
- তরূণাস্থির আবরণের নাম: পেরিকন্ড্রিয়াম। 
- ফুসফুসের আবরণের নাম: প্লুরা। 

Image Source: কালের কণ্ঠ পত্রিকা
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৭৭.
মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কত? 
  1. ১৬ 
  2. ২০ 
  3. ২৪ 
  4. ২৮ 
সঠিক উত্তর:
২০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ 
ব্যাখ্যা

দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৭৮.
'মিষ্টি কুমড়া' কোন ধরনের খাদ্য?
  1. ক) শ্বেতসার
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা

মিষ্টি কুমড়া বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ।
মিষ্টি কুমড়ার শিকড় যথেষ্ট বিস্তৃত।
এই সবজিটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্য উপকারিতা।
এটি ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনে কাজ করে।
মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের ধারক।
এছাড়াও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি আমাদের দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ গঠন করে।
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রিপোর্ট।

৩,৯৭৯.
গর্ভাবস্থায় অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বহন করে কোন অ্যান্টিবডি?
  1. IgA
  2. IgM
  3. IgE
  4. IgG
সঠিক উত্তর:
IgG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgG
ব্যাখ্যা

IgG হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। যা নবজাতকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-

১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA |
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।

২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD ।
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE।
- এটি দুর্লভ Ig।
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG |
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM ।
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৩,৯৮০.
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কোন অঙ্গাণুতে সম্পন্ন হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. প্লাস্টিড
  3. নিউক্লিয়াস
  4. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিডের একটি প্রকারভেদ হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যেখানে ক্লোরোফিল থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উল্লেখ্য-
- নিউক্লিয়াস: এটি কোষের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এখানে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয় (কোষের শক্তির ঘর)।
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম: এটি মূলত প্রোটিন ও লিপিড সংশ্লেষণ এবং পরিবহনে সহায়তা করে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮১.
ইনসুলিন হরমোন কোন অঙ্গ থেকে নির্গত হয়? 
  1. থাইরয়েড
  2. লিভার 
  3. প্যানক্রিয়াস
  4. কিডনি
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৮২.
একটি গর্ভপত্রের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

স্ত্রীস্তবক : পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। স্ত্রীস্তবকে এক বা একাধিক গর্ভপত্র থাকতে পারে।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ।
যথা- গর্ভাশয় , গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক প্রজননের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এরা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়। তাই এরা অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
কিন্তু পুষ্পাক্ষ, বৃতি ও দলমন্ডল প্রজননে সরাসরি অংশ নেয় না। তাই এরা সাহায্যকারী স্তবক। তবে প্রজননে গুরুত্বপূর্ণঅবদান রাখে।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৯৮৩.
ইনসুলিন কোন অঙ্গের কোন কোষ থেকে নিঃসৃত হয়?
  1. অগ্ন্যাশয়ের α কোষ
  2. অগ্ন্যাশয়ের β কোষ
  3. যকৃৎ কোষ 
  4. হাড়ের মজ্জার কোষ 
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়ের β কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়ের β কোষ
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮৪.
মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ কোন রোগ ঘটায়?
  1. নিউমোনিয়া
  2. জলাতঙ্ক
  3. ডেঙ্গু
  4. গুটিবসন্ত
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
ব্যাখ্যা

• মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ ঘটায়। এই রোগ সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা লালা মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে, যার ফলে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, এবং অস্বাভাবিক উদ্দীপনা দেখা দেয়। পরে রোগীর মধ্যে জলের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা (hydrophobia), চিৎকার, প্রচণ্ড উদ্দীপনা, এবং বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, জলাতঙ্ক প্রায়শই মারাত্মক হয়ে যায়। তাই আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত টিকা এবং চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

- সঠিক উত্তর: খ) জলাতঙ্ক।

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮৫.
অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৬
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৩
সঠিক উত্তর:
গ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২
ব্যাখ্যা
কোষের প্রকারভেদ:

- অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 
- দেহ কোষ।
- জনন কোষ।
• দেহ কোষ,
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। যেমন— পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি।
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়।
জনন কোষ,
-  জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি।
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়।

অন্যদিকে,
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
আদি কোষ।
প্রকৃত কোষ। 

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮৬.
Photosynthesis takes place in-
  1. Roots of the plants
  2. Stems of the plants
  3. Green parts of the plants
  4. All parts of the plants
সঠিক উত্তর:
Green parts of the plants
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Green parts of the plants
ব্যাখ্যা
- ক্লোরোপ্লাস্ট নামক ছোট জিনিসগুলোতে উদ্ভিদ কোষের ভিতরে সালোকসংশ্লেষণ হয়। 
- ক্লোরোপ্লাস্টে (বেশিরভাগই মেসোফিল স্তরে পাওয়া যায়) ক্লোরোফিল নামে একটি সবুজ পদার্থ থাকে। 
- সুতরাং, সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের সবুজ অংশে সঞ্চালিত হয়।

- Photosynthesis takes place inside plant cells in small things called chloroplasts. 
- Chloroplasts (mostly found in the mesophyll layer) contain a green substance called chlorophyll. 
- So, Photosynthesis takes place in green parts of the plants

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৮৭.
নিচের কোন প্রাণীর দেহে কখনোই নটোকর্ড থাকে না?
  1. অ্যাসিডিয়া
  2. ঘাস ফড়িং
  3. অ্যাম্ফিঅক্সাস
  4. সোনাব্যাঙ
সঠিক উত্তর:
ঘাস ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘাস ফড়িং
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন দেহের পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর অবস্থিত কিছুটা নমনীয়, স্থিতিস্থাপক ও ছিদ্রযুক্ত টিস্যুর দণ্ডকে নটোকর্ড বলে।
- যেসব প্রাণীর দেহে কখনোই নটোকর্ড থাকে না তাদের ননকর্ডেট বলে। যেমনঃ কেঁচো, ঘাসফড়িং ইত্যাদি।
- যেসব প্রাণীর দেহে আজীবন বা শুধু ভ্রূণ অবস্থায় নটোকর্ড থাকে তাদের কর্ডেট বলে৷ যেমনঃ অ্যাসিডিয়া, অ্যাম্ফিঅক্সাস, ল্যাং ফিশ, মানুষ, পাখি, সোনাব্যাঙ ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৯৮৮.
পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যামিবা
  2. ঈস্ট
  3. টি-২ ফাজ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঈস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈস্ট
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮৯.
মনেরাকে ব্যাকটেরিয়া রাজ্য হিসেবে পুনঃনামকরণ করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) Carl Linnaeus
  2. খ) Margulis
  3. গ) Robert Whittaker
  4. ঘ) Thomas Cavalier Smith
সঠিক উত্তর:
ঘ) Thomas Cavalier Smith
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Thomas Cavalier Smith
ব্যাখ্যা

২০০৪ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির Thomas Cavalier Smith, জীবজগতের Protista রাজ্যকে Protozoa এবং Chromista নামে দুইটি ভাগে ভাগ করেন।
তিনি মনেরাকে ব্যাকটেরিয়া রাজ্য হিসেবে পুনঃনামকরণ করেন। এভাবে তিনি পুরো জীবজগতকে মোট ছয়টি রাজ্যে ভাগ করেছেন।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩,৯৯০.
Which system in the brain controls voluntary muscle movements?
  1. Nervous system
  2. Respiratory system
  3. Digestive system
  4. Endocrine system
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Nervous system
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nervous system
ব্যাখ্যা
• স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
যেমন- মস্তিষ্ক, সুষুম্না কাণ্ড ইত্যাদি। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 

• প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা-
(ক) কোষদেহ,
(খ) ডেনড্রন এবং
(গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
• দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
• দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়, মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 

• উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
• দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৯৯১.
মানব দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য কতটি খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান:

- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ৬টি খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়।
- খাদ্য উপাদান ৬টি। যথা:
• আমিষ বা প্রোটিন।
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট।
• স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট।
• ভিটামিন বা খাদ্যপ্ৰাণ।
• খনিজ লবণ বা মিনারেল।
• পানি।

তথ্যসুত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৯২.
হৃৎপিণ্ড কতটি স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডে বাইরের দিক থেকে যথাক্রমে এপিকার্ডিয়াম, এন্ডোকার্ডিয়াম ও মায়োকার্ডিয়াম এই তিন স্তরে গঠিত।
সূত্রঃ ২৭তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৩,৯৯৩.
নিম্নের কোনটি উভয়লিঙ্গ ফুল নয়?
  1. গোলাপ
  2. ধুতুরা
  3. কুমড়া
  4. জবা
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
ব্যাখ্যা
- কুমড়া উভয়লিঙ্গ ফুল নয়।

• ফুল: 
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে। যথা-
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
 
২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়। 
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে । - সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।
 
৩. দলমন্ডল: 
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়। 
 
৪. পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়। 
 
৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। 
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা- গর্ভাশয় (Ovary), গর্ভদন্ড (Style) ও গর্ভমুন্ড (Stigma)। 
 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলা হয়। 
- যখন কোন ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তখন সেটি উভলিঙ্গ ফুল।  যেমন গোলাপ, ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে, যেমন কুমড়া আবার দুটিই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৩,৯৯৪.
রক্তের অস্বাভাবিকতার কারণে-
  1. ক) হার্ট এটাক হয়
  2. খ) এনজিনা হয়
  3. গ) বাতজ্বর হয়
  4. ঘ) লিউকোমিয়া হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিউকোমিয়া হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিউকোমিয়া হয়
ব্যাখ্যা
রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া রক্তের অস্বাভাবিকতাজনিত রোগ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৯৯৫.
অগ্ন্যাশয় থেকে কোন উৎসেচক নিঃসৃত হয়?
  1. লাইপেজ
  2. গ্লুকাগন
  3. পেপসিন
  4. মিউকাস
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়: 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়, আর এই অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৯৬.
নিচের কোনটি ফানজাই রাজ্যভুক্ত?
  1. ক) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  2. খ) বহুকোষী শৈবাল
  3. গ) পেনিসিলিয়াম
  4. ঘ) অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
গ) পেনিসিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পেনিসিলিয়াম
ব্যাখ্যা
নীলাভ সবুজ শৈবাল এবং ব্যাকটেরিয়া মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
অ্যামিবা, এককোষি এবং বহুকোষী শৈবাল প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
ইস্ট, পেনিসিলিয়াম এবং মাশরুম ফানজাই রাজ্যভুক্ত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৯৯৭.
উদ্ভিদে ক্লোরোসিস হয় কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরােফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরাোেফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরােসিস (chlorosis) বলে।
লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরােসিস হতে পারে কেননা এগুলােও ক্লোরােফিল উৎপাদনের সাথে কোনাে না কোনােভাবে জড়িত।
ক্লোরােসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

৩,৯৯৮.
____ বেড়ে গেলে এনজিনা হয়।
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) রক্তরস
  3. গ) চর্বি
  4. ঘ) পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চর্বি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৯৯৯.
মানবদেহের পৌষ্টিক নালির অংশ নয় নিচের কোনটি?
  1. গলবিল 
  2. যকৃত
  3. মুখছিদ্র
  4. পাকস্থলী
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের পৌষ্টিক নালির অংশ নয়- যকৃত, এটি পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। 

পরিপাকতন্ত্র (Digestive system): 

- এই তন্ত্র খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য খাদ্যাংশ নিষ্কাশনের সাথে জড়িত। 
- পরিপাকতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ থাকে। 
যথা: পৌষ্টিক নালি (digestive canal) এবং পৌষ্টিক গ্রন্থি (digestive glands)। 
- মুখছিদ্র, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, রেকটাম বা মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র নিয়ে পৌষ্টিক নালি গঠিত। 
- মানুষের লালাগ্রন্থি, যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- এসব গ্রন্থির নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০০০.
জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে-
  1. ক) লাইসোজোম
  2. খ) কোষগহ্বর
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা

- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
- এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলো হজম করে ফেলে।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।