- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড এবং পাতায় বিশেষ ধরনের টিস্যু থাকে, যা পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোষ এবং বৃহৎ আন্তঃকোষীয় স্থান বা বায়ুকুঠুরী দ্বারা গঠিত হয়। এই বায়ুকুঠুরী উদ্ভিদকে প্লবতা প্রদান করে, যা তাদের সহজেই পানিতে ভাসতে সাহায্য করে।
জলজ উদ্ভিদ:
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে।
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না।
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না।
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো।
- জলজ উদ্ভিদ সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে।
- অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ফাঁপা। এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে। এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।