বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৪২ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৪,২০৮

৩,২০১.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৯৩.৬° ফারেনহাইট
  2. ৩৭° সেলসিয়াস
  3. ৮৭.৬° ফারেনহাইট
  4. ৩৪° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩৭° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)।

• মানবদেহ:
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%।
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া (৪৪ টি)ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৩,২০২.
কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Mangifera indica
  2. Nymphaea nouchali
  3. Musa paradisiaca
  4. Artocarpus heterophyllus
সঠিক উত্তর:
Artocarpus heterophyllus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা
• কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম  Artocarpus heterophyllus।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
-  যেমন: গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum
- এখানে Solanum গণ নাম এবং tuberosum প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম।
- এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলে।
- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।
- এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
- কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২০৩.
নিচের কোনটি ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. ইথিলিন
  2. অক্সিন
  3. সাইটোকাইনিন
  4. অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
ব্যাখ্যা

• অক্সিন (Auxins):
- ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে অক্সিন।
- সার্থক পলিনেশনের পরপরই গর্ভাশয়ে অক্সিন তৈরি বেড়ে যায়।
- পরাগনালিকা যখন বাড়তে থাকে তখন পরাগনালিকা হতে একপ্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়, যার প্রভাবে ট্রিপটোপাফ্যান অক্সিন এ পরিবর্তিত হয়।

অক্সিনের শারীরবিজ্ঞানিক প্রভাব:
১। অক্সিনের প্রভাবে কোষ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
২। অক্সিন উদ্ভিদ কর্তৃক অধিক পানি গ্রহণে সহায়তা করে। 
৩। অক্সিন শীর্ষমুকুলের বৃদ্ধিতে প্রাধান্য সৃষ্টি করে। 
৪। অক্সিন মূল সৃষ্টি সূচনা করে। এতে মূলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৫। পরাগায়ন ও নিষেক ছাড়া ফল সৃষ্টিতে অব্জিন সহায়তা করে।
৬। অক্সিন শ্বসনের হার বৃদ্ধি করে।
৭। অক্সিনের প্রভাবে পাতা ও ফলের বোঁটায় অ্যাবসিশন স্তর সৃষ্টিতে বাধার সৃষ্টি হয়, তাই পাতা ও ফল ঝরে যায় না।

অন্যদিকে,
- ইথিলিন: এটি একমাত্র গ্যাসীয় হরমোন যা ফল পাকানোর পাশাপাশি পাতা ও ফুলের ঝরে পড়াকে ত্বরান্বিত করে।
- সাইটোকাইনিন: এটি কোষের জরা বা বার্ধক্য রোধ করে এবং মূলত ডিএনএ সংশ্লেষণে অংশ নেয়।
- অ্যাবসিসিক অ্যাসিড: এটি প্রতিকূল পরিবেশে (যেমন- খরা) স্টোমাটা বন্ধ করে উদ্ভিদের পানি হ্রাস কমায়।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩,২০৪.
মূলের কোন অংশ মাটি থেকে খাদ্য শোষণ করে?
  1. ক) বর্ধিষ্ণু অঞ্চল
  2. খ) স্থায়ী অঞ্চল
  3. গ) বিভাজন অঞ্চল
  4. ঘ) মূলরোম অঞ্চল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূলরোম অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূলরোম অঞ্চল
ব্যাখ্যা

মূল নিম্নলিখিত কাজসমূহ করে থাকেঃ
১। মূল উদ্ভিদকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে ফলে ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।
২। মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ শোষণ করে। আমরা জানি, মূলে মূলরোম অঞ্চল বলে একটি অংশ থাকে। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রোম উৎপন্ন হয় যার মাধ্যমে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,২০৫.
পালংশাক সবজি হিসেবে -
  1. ক) অম্লধর্মী
  2. খ) ক্ষারধর্মী
  3. গ) স্নেহধর্মী
  4. ঘ) শর্করা
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষারধর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষারধর্মী
ব্যাখ্যা
বেশকিছু খাদ্যদ্রব্য আছে যেগুলো কিছুটা ক্ষারধর্মী এবং ফলে এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এসব খাদ্যের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগ শাকসবজি। যেমন- ব্রকলি, পুঁইশাক, পালংশাক, গাজর, শিম, বিট, লেটুসপাতা, মাশরুম, ভুট্টা, আলু, ফুলকপি ইত্যাদি। উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২০৬.
কোন রক্তগ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়?
  1. O
  2. A
  3. B
  4. AB
সঠিক উত্তর:
AB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
AB
ব্যাখ্যা

- AB রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (universal recipient) বলা হয় কারণ এই গ্রুপের একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো রক্ত ​​গ্রুপের (A, B, O, এবং AB) কাছ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারেন। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২০৭.
অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয় কোনটি?
  1. সেরেব্রাম
  2. সেরেবেলাম
  3. থ্যালামাস
  4. হাইপোথ্যালামাস
সঠিক উত্তর:
সেরেবেলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
• সেরেবেলাম পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০৮.
পদ্মা কোন জাতীয় ফসল?
  1. ক) তরমুজ
  2. খ) আম
  3. গ) কলা
  4. ঘ) পেয়ারা
সঠিক উত্তর:
ক) তরমুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তরমুজ
ব্যাখ্যা
- তরমুজ: পদ্মা, মধুবালা (হলদে জাতের তরমুজ)।
- আম: মোহনভোগ, কিষানভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া। 
- কলা: অগ্নিশ্বর, কাঁনাইবাশি, মোহনবাশী, মেহেরসাগর, অমৃতসাগর।
- পেয়ারা- কাঞ্চন নগর, স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৩,২০৯.
কোনটির অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়?
  1. রাইবোফ্ল্যাভিন
  2. থায়ামিন
  3. নিয়াসিন
  4. সায়ানোকোবালামিন
সঠিক উত্তর:
রাইবোফ্ল্যাভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোফ্ল্যাভিন
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
ভিটামিন বি-২ বা রাইবোফ্ল্যাভিন এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়।
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২১০.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত মিলিমিটার অব মার্কারি?
  1. ক) ১০০/৫০
  2. খ) ১৪০/৭০
  3. গ) ১২০/৮০
  4. ঘ) ১৫০/৯০
সঠিক উত্তর:
গ) ১২০/৮০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২০/৮০
ব্যাখ্যা
রক্তনালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রাচীর গাত্রে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃদপিণ্ডের নিলয়ের সংকোচন অবস্থায় রক্তচাপ বেশি থাকে এবং এ চাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- অপরদিকে ভেন্ট্রিকলের প্রসারণ অবস্থায় রক্তচাপ সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে আসে। একে বলা হয় ডায়াস্টোলিক চাপ।
- একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ হলো ১১০-১২০ মি.মি. (পারদ) এবং স্বাভাবিক ডায়াস্টোলিক চাপ ৭০-৮০ মি.মি. (পারদ)।
- এজন্য মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ গড়ে ১২০/৮০ মি.মি. (পারদ)।
৩,২১১.
দুধের মধ্যে বিদ্যমান শর্করা কোনটি?
  1. ল্যাক্টোজ
  2. গ্যালাক্টোজ
  3. ফ্রুক্টোজ
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
ল্যাক্টোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাক্টোজ
ব্যাখ্যা
শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১২.
কাণ্ডের কোন অংশ থেকে পাতা উৎপন্ন হয়?
  1. মুকুল 
  2. পর্ব 
  3. পর্বমধ্য
  4. মূল
সঠিক উত্তর:
পর্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্ব 
ব্যাখ্যা

কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে।
১। পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

২। পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

৩। মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪। পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,২১৩.
'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলা হয়-
  1. ক) মাইট্রোকন্ডিয়াকে
  2. খ) ক্লোরোপ্লাস্টকে
  3. গ) রাইবোজোমকে
  4. ঘ) নিউক্লিয়াসকে
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লোরোপ্লাস্টকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লোরোপ্লাস্টকে
ব্যাখ্যা
সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।
রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করার তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,২১৪.
মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে ক্যারিওকাইনেসিস হচ্ছে -
  1. নিউক্লিয়াসের বিভাজন
  2. সাইটোপ্লাজমের বিভাজন
  3. ক্রোমোজোমের বিভাজন
  4. নিউক্লিওপ্লাজমের বিভাজন
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াসের বিভাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াসের বিভাজন
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস কোষ বিভাজন দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াসের এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে।
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
ক্যারিওকাইনেসিস পর্যায় কে পাঁচটি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে।
ধাপগুলো - প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
৩,২১৫.
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?
  1. রবার্ট হুক
  2. অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক
  3. এডওয়ার্ড ডোনার
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। 
- ১৬৭৫ সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী এন্টনি ভন লিউয়েন হুক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।
- তাকে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 

• কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 
(১) কক্কাস,
(২) ব্যাসিলাস,
(৩) স্পাইরিলাম এবং
(৪) কমা আকৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩,২১৬.
সালোক সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান নয় কোনটি?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. পানি
  3. আলো
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।

- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- মূল মাটির নিচে থাকে এবং এটি উদ্ভিদের অসবুজ অংশ তাই এখানে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,২১৭.
বাংলাদেশে নগ্নবীজী উদ্ভিদের প্রজাতির সংখ্যা কত?
  1. ০৩টি
  2. ১৯৫টি
  3. ০৫টি
  4. ৪৭টি
সঠিক উত্তর:
০৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০৫টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
'বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ' অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বর্ণনাকৃত উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা হলোঃ
- ব্যাকটেরিয়া ১৭১টি
- ছত্রাক ২৭৫টি
- শৈবাল ২২৪৫টি
- মস জাতীয় উদ্ভিদ ২৪৮টি
- ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ ১৯৫টি
- নগ্নবীজী উদ্ভিদ ০৫টি
- আবৃতবীজী উদ্ভিদ ৩৬১১টি
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,২১৮.
সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায়-
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. এর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন: 
- সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ। 
- হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টোল। 
- হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে। 
- হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে। আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২১৯.
দাঁতের ভেতরের নরম ফাঁপা অংশটির নাম কী?
  1. ক) এনামেল
  2. খ) দন্তমজ্জা
  3. গ) সিমেন্ট
  4. ঘ) মুকুট 
সঠিক উত্তর:
খ) দন্তমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দন্তমজ্জা
ব্যাখ্যা

দাঁতের ভেতরের ফাঁপা অংশটিকে দন্তমজ্জা বলে।
মানুষের মুখে অবস্থিত একটি শক্ত অঙ্গ দাঁত। এটি খাদ্য চর্বণ ও কর্তনের কাজে ব্যবহূত হয়। বেশির ভাগ মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে দাঁতই হচ্ছে সবচেয়ে শক্ত অঙ্গ। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মুখগহ্বরের ওপরে ও নিচের চোয়ালে সাধারণত ১৬টি করে মোট ৩২টি দাঁত থাকে।
প্রতিটি দাঁত নিন্মলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত-
ডেন্টিন- দাঁত প্রধানত ডেন্টিন নামক শক্ত উপাদান নিয়ে গঠিত।
এনামেল- দাঁতের মুকুট অংশে ডেন্টিনের উপরিভাগে এনামেল নামক কঠিন উপাদান থাকে। এনামেল এবং ডেন্টিন ক্যালসিয়াম ফসফেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং ফ্লোরাইড দিয়ে তৈরি।
দন্তমজ্জা- ডেন্টিনের ভেতরের নরম ফাঁপা অংশটিকে দন্তমজ্জা বলে। এর ভেতরে শিরা, স্নায়ু, ও নরম কোষ থাকে। দন্তমজ্জার মাধ্যমে ডেন্টিন অংশে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
সিমেন্ট- সিমেন্ট নামক পাতলা আবরণ দাঁতের মূল অংশ ডেন্টিনকে আবৃত রাখে। এই সিমেন্টের সাহায্যে দাঁত মাড়ির সাথে আটকানো থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান 

৩,২২০.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি, কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. রাতকানা
  3. এনিমিয়া
  4. কোয়াশিয়রকর
সঠিক উত্তর:
হাইপো-থাইরয়ডিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইপো-থাইরয়ডিজম
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম বা গলগণ্ড রোগ হয়।
- ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি থাকলে আয়োডিনের অভাবজনিত হাইপো-থাইরয়ডিজম রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই গলগণ্ড (Goitre) বলে।
- গলগন্ড (Goiter) খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। 
- "Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism."

উৎস: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health এবং বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৩,২২১.
ক্লোনিং পদ্ধতি জন্ম নেয়া প্রথম ক্লোন উটের নাম-
  1. ক) সিসি
  2. খ) প্রমিথিয়া
  3. গ) টেট্রা
  4. ঘ) ইনজাজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইনজাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইনজাজ
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি জন্ম নেয়া প্রথম ক্লোন উটের নাম ইনজাজ, প্রথম ক্লোন বিড়াল সিসি, প্রথম ক্লোন ঘোড়া প্রমিথিয়া এবং প্রথম ক্লোন বানর শাবক টেট্রা। দুবাইয়ের রিপ্রোডাকটিভ বায়োটেকনোলজি সেন্টারের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ড. নিসার ওয়ানি জানান, জবাই করা একটি মাদি উটের ডিম্বাশয়ের কোষগুচ্ছ ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ভ্রূণ অন্য একটি মাদি উটের গর্ভাশয়ে স্থাপন করা হয়। সেই গর্ভে বেড়ে ওঠা ভ্রূণ থেকে ২০০৯ সালে ইনজাজ নামের মাদি উটের জন্ম হয়। সূত্র : ডেইলি মেইল ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,২২২.
নিচের কোনটি উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস নয়?
  1. টোবাকো মোজাইক ভাইরাস
  2. পেপিলোমা ভাইরাস
  3. বীন মোজাইক ভাইরাস
  4. টুংরো ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
পেপিলোমা ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেপিলোমা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং সৃষ্ট রোগের নাম:
• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস - তামাকের মোজাইক রোগ।
• বীন মোজাইক ভাইরাস - সিমের মোজাইক রোগ।
• বুশিস্টান্ট ভাইরাস - টমেটোর বুশিস্টান্ট রোগ।
• টুংরো ভাইরাস - ধানের টুংরো রোগ।
• বানচি টপ ভাইরাস - কলার বানচি টপ রোগ।
• পট্যাটো মোজাইক ভাইরাস - গোলালুর মোজাইক রোগ।

পেপিলোমা ভাইরাস প্রানীদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। পেপিলোমা ভাইরাসের কারণে মানুষের এনোজেনিটাল ক্যান্সার হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,২২৩.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি উপজাত দ্রব্য? 
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরোফিল
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। 
- এই প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কাণ্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত রাখে। 
- উদ্ভিদে সঞ্চিত এই খাদ্যের উপরেই মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক (biochemical) বিক্রিয়া। 

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছায় এবং স্টোমা বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে। 
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। 
- বায়ুমণ্ডলে 0.03% এবং পানিতে 0.3% CO2 আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত দ্রব্য (by-product)। 
- এটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (oxidation-reduction process)। এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২২৪.
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২২৫.
ফটোসিন্থেসিস গাছের কোন অংশে হয়?
  1. ক) গাছের সবুজ অংশে
  2. খ) গাছের সকল অংশে
  3. গ) কান্ডে
  4. ঘ) মূলে
সঠিক উত্তর:
ক) গাছের সবুজ অংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাছের সবুজ অংশে
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ/ ফটোসিন্থেসিস :
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়াটিতে সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোক শক্তিকে ATP এবং NADPH+H নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।




- সালোকসংশ্লেষণের জন্য ক্লোরোফিল অপরিহার্য উপাদান। ক্লোরোফিল সবুজ পাতার প্লাস্টিডে থাকে। তাই সবুজ পাতাই সালোকশংশ্লেষণের প্রধান স্থান।

উৎস: মাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল।
৩,২২৬.
‘লিথোফাইটিক শৈবাল' পাওয়া যায়-
  1. পাথরের গায়ে
  2. জলাশয়ে পানির নিচে
  3. অন্য শৈবালের গায়ে
  4. উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে
সঠিক উত্তর:
পাথরের গায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরের গায়ে
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২২৭.
নিচের কোনটি ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ?
  1. ক) হৃদপিণ্ডের পেশী
  2. খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  3. গ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর পৌষ্টিকনালী
  4. ঘ) মানুষের হাতের পেশী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষের হাতের পেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষের হাতের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের হাত ও পায়ের পেশী হল ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ। 

মানব দেহের যে সকল পেশী স্ব-ইচ্ছাই সংকুচিত, প্রসারিত বা চালনা করা যায় তাকে ঐচ্ছিক পেশী বলে ।
ঐচ্ছিক পেশির উদাহরণ – মানুষের পায়ের পেশি ।

মানব দেহের যে সকল পেশি ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত, প্রসারিত বা চালনা করা যায় না তাকে অনৈচ্ছিক পেশি বলে ।
অনৈচ্ছিক পেশির উদাহরণ – পাকস্থলীর গাত্রের পেশি

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,২২৮.
HIV ভাইরাসের আক্রমণে কী ঘটে?
  1. দেহের হাড় দুর্বল হয় 
  2. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয় 
  3. দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমে 
  4. দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় 
সঠিক উত্তর:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয় 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রামক রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)। 
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি রোগ বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রামক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্তগর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। 
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২২৯.
বর্ণহীন প্লাস্টিড কোনটি?
  1. ক) ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. ঘ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
খ) লিউকোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৩০.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. লিপিড
  4. প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।

- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইয়েস্ট এবং অন্যান্য ফাঙ্গাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।

• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। 
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৩,২৩১.
নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয় কোন কোষ বিভাজনে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) মিয়োসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিয়োসিস
ব্যাখ্যা
- মিয়োসিস সাধারণত জনন মাতৃকোষে ঘটে। 
- এই কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস দু’বার কিন্তু ক্রোমোসোম মাত্র একবার বিভক্ত হয়।
- একটি মাতৃকোষ হতে চারটি হ্যাপয়েড অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।
- ক্রোমোসোমের স্বতন্ত্র বিন্যাস ঘটে।
- এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কোষগুলো কখনই মাতৃকোষের সমগুণসম্পন্ন হয় না।। 

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩২.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ২০০০ কিলোক্যালরি
  2. ২২৫০ কিলোক্যালরি
  3. ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ২৭০০ কিলোক্যালরি
সঠিক উত্তর:
২৫০০ কিলোক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি: 
-খাদ্যের মধ্যে নিহিত শক্তিকে খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি হিসেবে মাপা হয়।
- ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক।
- এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ (ডিগ্রি) সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ তাপশক্তি হচ্ছে এক ক্যালরি।
- এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলোক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)।
- খাদ্যের ক্যালরিকে কিলোক্যালরি দিয়ে বোঝানো হয়।
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর প্রায় ২০০০ kcal-এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৩,২৩৩.
কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. HIV
  2. TIV
  3. Nobel Corona
  4. TMV
সঠিক উত্তর:
TIV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
TIV
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,২৩৪.
একটি ফুলের সবগুলো স্তবককে ধারণ করে কোনটি?
  1. পুংকেশর
  2. গর্ভকেশর
  3. থ্যালামাস
  4. দলমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
থ্যালামাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ্যালামাস
ব্যাখ্যা
ফুল: 
- যে ফুলে পাঁচটি অংশ যেমন- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দল বা পাপড়ি, পুংকেশর ও গর্ভকেশর দেখা যায়, সে ফুলগুলোকে বলে সম্পূর্ণ ফুল। 
- আর যদি এই পাঁচটি অংশের মধ্যে একটি বা দুটি অংশ না থাকে, তবে সে ফুলগুলোকে বলে অসম্পূর্ণ ফুল। 
- কখনো কখনো ফুলে এই পাঁচটি অংশ ছাড়াও বৃতির নিচে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকে, একে উপবৃতি বলে। 
যেমন- জবা ফুলে এমন উপবৃতি দেখা যায়। 
- আবার কোনো কোনো ফুলে বৃন্ত থাকে, এগুলোকে সবৃন্তক ফুল এবং যে ফুলগুলোয় বৃন্ত থাকে না সেগুলোকে অবৃন্তক ফুল বলে। 

ফুলের বিভিন্ন অংশ: 
বৃতি: 
- ফুলের সবচেয়ে বাইরের স্তবককে বৃতি বলে। 
- সাধারণত এরা সবুজ রঙের হয়। 
- বৃতি খণ্ডিত না হলে সেটি যুক্ত বৃতি, কিন্তু যখন এটি খণ্ডিত হয় তখন বিযুক্ত বৃতি বলে। 
- এর প্রতি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে। 
- বৃতি ফুলের অন্য অংশগুলোকে বিশেষত কুঁড়ি অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করে। 

দলমণ্ডল: 
- এটি বাইরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবক। 
- কতগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে, এর প্রতিটি অংশকে পাপড়ি বা দলাংশ বলে। 
- পাপড়িগুলো পরস্পর যুক্ত (যেমন-ধুতরা) অথবা পৃথক (যেমন-জবা) থাকতে পারে, এরা বিভিন্ন রঙের হয়। 
- দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকা-মাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে। 
- এরা ফুলের অন্য অংশগুলোকে রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। 

পুংস্তবক বা পুংকেশর: 
- এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক, এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। 
- পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। 
- পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়, পরাগরেণু থেকে পুং জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- এরা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। 

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর: 
- এটি ফুলের চতুর্থ স্তবক, এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয়। 
- একের অধিক গর্ভপত্র সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে যুক্তগর্ভপত্রী, আর আলাদা থাকলে বিযুক্তগর্ভপত্রী বলে। 
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড থাকে। 
- গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বক সাজানো থাকে, ডিম্বকে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। 
- এরা পুংস্তবকের মতো সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। 
- বৃতি ও দলমণ্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক এবং পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বলে। 

থ্যালামাস ও পুষ্প পত্রাধার: 
- থ্যালামাস ও পুষ্প পত্রাধার একটি ফুলের উপরের সবগুলো স্তবককে ধারণ করে। 

পুষ্পমঞ্জরি: 
- কান্ডের শীর্ষমুকুল বা কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে, ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে। 
- পরাগায়নের জন্য পুষ্পমঞ্জরির গুরুত্ব খুব বেশি। 
- এ শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি ও বৃদ্ধি সসীম হলে তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,২৩৫.
কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে কী বলে? 
  1. পর্ব 
  2. পর্বমধ্য
  3. পত্রকক্ষ
  4. সন্ধি
সঠিক উত্তর:
পত্রকক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রকক্ষ
ব্যাখ্যা

কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে।
১। পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

২। পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

৩। মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের শ্রেণিকরণ: 
- কাণ্ড বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে এদের প্রাথমিকভাবে দুইভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-১) সবল কাণ্ড ও ২) দুর্বল কাণ্ড। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪। পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩,২৩৬.
বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. সীভ ভাজক টিস্যু
  4. রিব ভাজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
সীভ ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীভ ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ:
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা - 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

১। মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয়, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

২। রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা। 

৩। প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয়, তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৩৭.
বটের বীজের বিস্তার ঘটে কিসের সাহায্যে?
  1. ক) পাখি
  2. খ) পানি
  3. গ) বাতাস
  4. ঘ) এর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাখি
ব্যাখ্যা
• পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। পরাগায়ন ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- পরাগায়ন দু'প্রকার। যথা: স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন।

• স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
- সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

• পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

• পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলা হয়। অভিযোজনগুলো নিম্নরূপ:

পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত।
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন, জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র।
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন, ধান।

পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন, পাতাশ্যাওলা।

প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়। তবে ছোট হলেও ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে।
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। যেমন, কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
- বটের বিস্তার ঘটে পাখির সাহায্যে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩,২৩৮.
নিচের কোনটি সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনের প্রথম পর্যায়?
  1. ক) গ্লাইকোলাইসিস
  2. খ) অ্যাসিটাইল কো-এ
  3. গ) ক্রেবস চক্র
  4. ঘ) ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ক) গ্লাইকোলাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্লাইকোলাইসিস
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে ২ অনু পাইরুভিক এসিড উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোন অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না, তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৩৯.
রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় - 
  1. লৌহ ও প্রোটিনের সমন্বয়ে
  2. কপার এবং লিপিডের সমন্বয়ে
  3. জিংক এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  4. ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
সঠিক উত্তর:
লৌহ ও প্রোটিনের সমন্বয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ ও প্রোটিনের সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৪০.
মেডুলা কী?
  1. ক) হৃদপিণ্ডের ভেতরের অংশ
  2. খ) বৃক্কের প্রাচীরের ভেতরের অংশ
  3. গ) বৃক্কের প্রাচীরের বাহিরের অংশ
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড আবৃতকারী পর্দা
সঠিক উত্তর:
খ) বৃক্কের প্রাচীরের ভেতরের অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃক্কের প্রাচীরের ভেতরের অংশ
ব্যাখ্যা
বৃক্কের প্রাচীরের ভেতরের অংশটিকে মেডুলা বলে। 

- মেডুলা হচ্ছে বৃক্কের ভেতরের অংশ।
- মেডুলা গাঢ় রঙের এবং কিছুটা কালচে রঙের হয়।
- মেডুলায় সাধারণত ৮-১২টি রেনাল পিরামিড থাকে।
- এদের অগ্রভাগ প্রসারিত হয়ে পিড়কা গঠন করে।
- এটি মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে।
- মেডুলা বা সুষুম্নাশীর্ষক হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন নিয়ন্ত্রণ করে।

সূত্র-  ১৪৫ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৪১.
নিচের কোন প্রাণীটি অপ্রতিসাম্য?
  1. অ্যামিবা
  2. যকৃত কৃমি
  3. সমুদ্র তারা 
  4. ভলভক্স
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
ব্যাখ্যা

- অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই এবং এটি ক্রমাগত তার রূপ পরিবর্তন করে। এই কারণে, অ্যামিবার শরীরকে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য (asymmetrical) প্রাণী। 

প্রতিসাম্য: 

- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৪২.
কোনো গাছের সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. ক্লোরোসিস
  2. ফ্লোরোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. সাইটোকাইনোসিস
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোসিস
ব্যাখ্যা
- কোনো গাছের সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়- ক্লোরোসিস। 

ক্লোরোসিস: 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৪৩.
সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে?
  1. 2%
  2. 5%
  3. 10%
  4. 15%
সঠিক উত্তর:
2%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2%
ব্যাখ্যা
• বাস্তুতন্ত্র:
- প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদ এবং প্রাণী এই দুই ধরনের জীবের সাথে জড় পদার্থের মধ্যে যে শক্তি আর বস্তুর আদান-প্রদান হয়, তাকে বলা হয় মিথস্ক্রিয়া, আর এ ধরনের মিথস্ক্রিয়ায় আন্তঃসম্পর্ক ঘটে, পৃথিবীর এরকম যেকোনো অঞ্চলই হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)।
- বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উপাদান তিনটি। যথা-
১. জীব সম্প্রদায়,
২. পরিবেশের জড় পদার্থ এবং 
৩. ভৌত পরিবেশ
- যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস সূর্য।
- সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার 2% সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে
- বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকেরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল খেয়ে জীবন ধারণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৩,২৪৪.
প্লাস্টিডের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খাদ্য সঞ্চয় করা
  3. উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৪৫.
রক্ত জমাট বাঁধানো কোনটির কাজ?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেতকণিকা
  3. লসিকা
  4. অণুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট: 

• মানুষের রক্ত কণিকা ৩ ধরনের। যথা: ১. লোহিত রক্ত কণিকা; ২. শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩. অণুচক্রিকা। 
• অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট বা থ্রম্বোসাইট হলো নিউক্লিয়াসবিহীন।
• এটি গোলাকার বা ডিম্বাকার বা রড আকৃতির হয়ে থাকে। 
• এর ব্যাস দুই থেকে তিন মাইক্রোমিটার এবং আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ১০ দিন।
• পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়।
• এটি লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট।
• অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।
• ‘ভিটামিন কে’ রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
• রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি। 

৩,২৪৬.
কোন উদ্ভিদের দেহে ক্লোরোফিল নেই?
  1. মস
  2. টেরিস
  3. স্পাইরোগাইরা
  4. এগারিকাস
সঠিক উত্তর:
এগারিকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগারিকাস
ব্যাখ্যা
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 
- জর্জ বেনথাম ও ডাল্টন হুকার এর প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী উদ্ভিদ জগৎকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
• উদ্ভিদজগৎ: অপুষ্পক উদ্ভিদ [সমাঙ্গবর্গীয় (শৈবাল, ছত্রাক), মসবর্গীয়, ফার্নবর্গীয়] + সপুষ্পক উদ্ভিদ [নগ্নবীজী, আবৃতবীজী (একবীজপত্রী, দ্বিবীজপত্রী)]। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তারা শৈবাল। যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। যেমন: এগারিকাস। 

২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু এদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,২৪৭.
বাংলাদেশের প্রথম GM উদ্ভিদ জাত কোনটি?
  1. ক) Bt- গম
  2. খ) Bt- বেগুন
  3. গ) Bt- ধান
  4. ঘ) Bt- কলা
সঠিক উত্তর:
খ) Bt- বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bt- বেগুন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৩-২০১৪ সালে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন বিটি বেগুন নামে ৪ টি জাত বাংলাদেশে সীমিত আকারে চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত করেন ।
- বর্তমানে বাংলাদেশ এর ৬৪ জেলার ২৭০০০ কৃষক বিটি বেগুন চাষ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৮.
মানবদেহে রক্তচাপ মাপা হয় কোন যন্ত্রে? 
  1. ব্যারোমিটার
  2. স্পিগমোম্যানোমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
সঠিক উত্তর:
স্পিগমোম্যানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পিগমোম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

• স্পিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা মানবদেহের রক্তচাপ পরিমাপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

- রক্তচাপ হলো রক্তের চাপ যা ধমনী প্রাচীরের উপর প্রয়োগ করে, এবং এটি মানবদেহের স্বাস্থ্য নিরীক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।

এটি সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত:
- কফ (Cuff): বাতাস ভর্তি ব্যান্ড যা বাহুর চারপাশে বাঁধা হয়।
- মনিটর বা ম্যানোমিটার: যা চাপের মান দেখায়, যা ম্যানুয়াল বা ডিজিটাল হতে পারে।

রক্তচাপ পরিমাপের প্রক্রিয়া:
- ব্যান্ডকে বাহুর উপরে বাঁধা হয় এবং কফে বাতাস ভর্তি করা হয়, যাতে রক্ত প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।
- স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে ধমনীতে রক্ত প্রবাহের শব্দ শুনে সিস্টোলিক (উচ্চচাপ) এবং ডায়াস্টোলিক (নিম্নচাপ) মান নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণ ব্যবহার:
- হাসপাতালে ও ক্লিনিকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা।
- বাড়িতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ডিজিটাল স্পিগমোম্যানোমিটার ব্যবহার।
- হৃদরোগ ও রক্তচাপ জনিত রোগ নিরীক্ষণ।
 
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৩,২৪৯.
নিচের কোন উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে?
  1. কার্বন (C)
  2. হাইড্রোজেন (H)
  3. ফসফরাস (P)
  4. অক্সিজেন (O)
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস (P)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস (P)
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P) উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মলিবডেনাম (Mo)।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানত: পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে।
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫০.
নিচের কোনটি শ্বেত রক্ত কণিকার অংশ নয়?
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) বেসোফিল
  3. গ) ক্রিয়েটিনিন
  4. ঘ) নিউট্রোফিল
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়েটিনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়েটিনিন
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
- এর p" মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪।
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস।
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- রক্তের প্রকারভেদ- 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫১.
ভিটামিন ডি এর উৎস কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) কলা
  3. গ) আম
  4. ঘ) মাছের তেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাছের তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাছের তেল
ব্যাখ্যা
মাছের তেলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 

- স্বাভাবিক খাদ্যের মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে, খাদ্যের যে এলিমেন্ট গুলি আমাদের বৃদ্ধি পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা ত্বরান্বিত করে, সেগুলোই হলো ভিটামিন।

- ভিটামিন এর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. খুব অল্প মাত্রায় আমাদের দেহে এটা প্রয়োজন। 
২.ভিটামিন প্রাণীদেহের অর্গানিক ক্যাটালাইস্ট। 
৩.ম্যাক্সিমাম ভিটামিন কো-এনজাইম রূপে উৎসেচক এর সঙ্গে সঙ্গবদ্ধ হয়ে ক্রিয়া করে।
৪.বেশিরভাগ ভিটামিন মেটাবলিজম-এ ড্যামেজ হলেও পাচন ক্রিয়া এর ওপর কোন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৫২.
দুধ হচ্ছে -
  1. ক) জেল
  2. খ) ইমালশন
  3. গ) দ্রবণ
  4. ঘ) সাসপেনশন
সঠিক উত্তর:
খ) ইমালশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইমালশন
ব্যাখ্যা
ইমালশন
- কলয়েড কনা ও মাধ্যম অর্থাৎ ডিসপারসড ও ডিসপারশন উভয় দশাই যদি তরল হয় তবে সে দ্রবনকে ইমালশন বলা হয়।
- দুধ একটি ইমালশন, কারণ দুধে যে চর্বি থাকে সেটিও তরল আবার যে পানিতে চর্বি কণাগুলো থাকে সেটিও তরল।
- চর্বির কণা হলো কলয়েড কণা।
- চর্বি কণা আর মাধ্যম পানি উভয়ই তরল হওয়ার কারণে দুধ এক প্রকার ইমালশন।
৩,২৫৩.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ২০ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ১২ ধরনের
সঠিক উত্তর:
২০ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার।
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 

- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ।
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ।
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস:
বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৫৪.
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জিনগত উপাদান কী?
  1. DNA
  2. RNA
  3. প্রোটিন
  4. লিপিড
সঠিক উত্তর:
RNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
RNA
ব্যাখ্যা

• ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস, যার জিনগত উপাদান হলো একক-সুতোয় (single-stranded) RNA।

- এটি Orthomyxoviridae পরিবারভুক্ত।
- ভাইরাসটির RNA আটটি অংশে বিভক্ত থাকে, যা বিভিন্ন প্রোটিন কোড করে।
- এই RNA গঠন ভাইরাসকে দ্রুত মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম করে, ফলে নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয় (যেমন: H1N1, H3N2)।
- DNA ভাইরাসের মতো এটি DNA ব্যবহার করে না, বরং RNA থেকেই প্রোটিন তৈরি করে প্রতিলিপি (replication) সম্পন্ন করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

৩,২৫৫.
কোন হরমোনের প্রভাবে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়?
  1. ফ্লোরিজেন
  2. ভার্নালিন
  3. ফেরোমন
  4. জিবেরেলিন
সঠিক উত্তর:
ফেরোমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোমন
ব্যাখ্যা
সমন্বয়: 
- বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়। 
- উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। 
- হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
- প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

হরমোনাল প্রভাব: 
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। 
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। 
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। 
যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় এবং খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ ফেরোমন হরমোনের কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। 
- কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। 
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। 
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৬.
পরিণত মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কয়টি অস্থি নিয়ে গঠিত?
  1. ২৯০টি
  2. ২০৬টি
  3. ৩০০টি
  4. ৩০৬টি
সঠিক উত্তর:
২০৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৬টি
ব্যাখ্যা

• মানুষের দেহের কঙ্কালতন্ত্র প্রধানত অস্থি বা হাড় নিয়ে গঠিত। এটি দেহকে একটি দৃঢ় কাঠামো প্রদান করে, বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে এবং মাংসপেশীর সংযুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন সম্ভব করে। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দেহে সাধারণত ২০৬টি অস্থি থাকে। এই অস্থিগুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভক্ত, যেমন খুলি, হাত ও পায়ের হাড়, কাঁধ ও পিঠের হাড়। শিশুরা জন্মের সময় অনেক বেশি অস্থি নিয়ে জন্মায়, কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে কিছু অস্থি একত্রিত হয়ে সংখ্যা কমে ২০৬ হয়। তাই, মানুষের কঙ্কালতন্ত্র মূলত ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

- সঠিক উত্তর: খ) ২০৬ টি।

মানব কঙ্কাল: 
- মানব দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল।
- অস্থি (Bone) ও তরুণাস্থি (Cartilage) দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে দেহের ভার বহন করে এবং পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট ২০৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত।
- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত, মগজ ইত্যাদি দেহের কোমল অঙ্গসমূহকে অস্থির আবরণে সুরক্ষিত রাখে।
- অস্থিগুলো ঐচ্ছিক মাংসপেশি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকায় ইচ্ছাকৃত অঙ্গ সঞ্চালন ও চলাফেরা করা সম্ভব হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৫৭.
প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয়-
  1. ICZN
  2. IUCN
  3. ICBN
  4. IZCN
সঠিক উত্তর:
ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICZN
ব্যাখ্যা
 International Code of Zoological Nomenclature (ICZN):

• প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN.

• দ্বিপদী নামকরণ : কোন জীবের গণ ও প্রজাতি এ দুটো অংশ নিয়ে ICZN-এর নিয়মাবলি অনুযায়ী নামকরণ করাকে দ্বিপদী নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens.
- সুইডেনের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ক্যারোরাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক।
• আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
• উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
• প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল।
• নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।


ছবির উৎস: ICZN এর ওয়েবসাইট 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ICZN এর ওয়েবসাইট ।
৩,২৫৮.
লসিকায় কত ভাগ পানি থাকে? 
  1. ৫৫ ভাগ
  2. ৬০ ভাগ
  3. ৭৮ ভাগ
  4. ৯৪ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৯৪ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৪ ভাগ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
• প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
• প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
• প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
• দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৯.
শৈবালের বৈশিষ্ট্য কি?
  1. ক) এরা স্ব-ভোজী
  2. খ) এরা পরজীবী
  3. গ) এরা এককোষী
  4. ঘ) এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে না
সঠিক উত্তর:
ক) এরা স্ব-ভোজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এরা স্ব-ভোজী
ব্যাখ্যা
শৈবাল স্ব-ভোজী হয়ে থাকে। অর্থাৎ, এরা নিজের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে থাকে। 

শৈবালের বৈশিষ্ট্যাবলী-  
১। এরা সবাই অপুষ্পক।
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে।
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না ।
৪ । এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না।
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী। কোন কোন শৈবালের জননাঙ্গ বহুকোষী হয়। জননাঙ্গ বহুকোষী হলে তা বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে না ।
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী।
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না ।
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত।
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না।
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।

সূত্র: ১২২ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৩,২৬০.
বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে কতটুকু গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয়?
  1. ৯০ ঘন সে.মি.
  2. ১২০ ঘন সে.মি.
  3. ১২৪ ঘন সে.মি.
  4. ১২৫ ঘন সে.মি.
সঠিক উত্তর:
১২৪ ঘন সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৪ ঘন সে.মি.
ব্যাখ্যা
• বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ১২৪ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গঠন ও কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন।
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা। 

• রেচনের শারীরবৃত্তকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য উৎপাদন।
- মূত্র সৃষ্টি। 

• বিজ্ঞানী কুশনীর মতে ৩ টি ধাপে মূত্র সৃষ্টি হয়। যথা-
- অতিপরিস্রাবন।
- নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ।
- সক্রিয় ক্ষরণ। 

• নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ:
- মানবদেহে প্রতি মিনিটে ১২৫ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট উৎপন্ন হয়।
- এর মধ্যে নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণের মাধ্যমে ১২৪ ঘন সে.মি. পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 
- বাকি ১ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট মূত্র তৈরি করে।
- অর্থাৎ সাধারণত প্রতি মিনিটে কেবল ১ ঘন সে.মি. মূত্র উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩,২৬১.
কোনটি Micro Nutrients?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. ভিটামিন
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা

আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলাে মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়ােজন হয়।
ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলাে মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়ােজন হয়।
যেকোনাে খাদ্য উপাদানই প্রয়ােজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়।
খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি।

উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,২৬২.
কলেরা ভ্যাকসিন কোন ধরণের টিকা?
  1. মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
  2. নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা
  3. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা
  4. দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
ব্যাখ্যা

টিকার প্রকারভেদ:
মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
এগুলো হলো-
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine):
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine):
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি।
- উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine):
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule):
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine):
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৬৩.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়?
  1. ক) অ্যানিমিয়া
  2. খ) লিউকেমিয়া
  3. গ) থ্যালাসেমিয়া
  4. ঘ) পলিসাইথিমিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) লিউকেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিউকেমিয়া
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।


- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।


- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:


১। পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।


২। অ্যানিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া।


৩। লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।


৪। লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়।


৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।


৬। পারপুরা: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।


৭। থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।


- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,২৬৪.
জীবিত অস্থিতে পানির পরিমাণ-
  1. ২০ -৩০ %
  2. ৩০ - ৪০ %
  3. ৪০ - ৫০ %
  4. ৭০ - ৮০ %
সঠিক উত্তর:
৪০ - ৫০ %
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০ - ৫০ %
ব্যাখ্যা
• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ।
- এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে।
- এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
- এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।
- জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত।
- অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬৫.
'বাস্ট তন্তু' কোন টিস্যুর গঠনে অংশগ্রহণ করে?
  1. ভেসেল টিস্যু
  2. জাইলেম টিস্যু
  3. ফ্লোয়েম টিস্যু
  4. যোজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম টিস্যু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- ১) জাইলেম টিস্যু ও ২) ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) ট্রাকিড, খ) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, গ) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও ঘ) জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) সীভ নল, খ) সঙ্গী কোষ, গ) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ঘ) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৬৬.
উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন ব্যক্তিদের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ সর্বদা -
  1. ৮৮ মিমি পারদচাপের বেশি
  2. ৯২ মিমি পারদচাপের বেশি
  3. ৯০ মিমি পারদচাপের বেশি
  4. ৯৫ মিমি পারদচাপের বেশি
সঠিক উত্তর:
৯৫ মিমি পারদচাপের বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫ মিমি পারদচাপের বেশি
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপকে ডাক্তারি ভাষায় হাইপারটেনশন (Hypertension) বলে। শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করতে থাকে, তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে।
রক্তের চাপ যদি কম থাকে তা হলে তাকে নিম্নরক্তচাপ বলে। হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃদপিন্ড থেকে ধমনির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমিন গাত্রে কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ যদি হয় সব সময় ১৬০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক সব সময় ৯৫ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি থাকে, তবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলা যায়।
উত্তেজনা, চিন্তা, বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা বা অন্য কোনো কারণে যদি রক্তচাপ সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে, তবে তাকে হাইপারটেনশন বলা যাবে না এবং এ অবস্থায় কোনো ওষুধরেও প্রয়োজন হয় না।
উচ্চ রক্তচাপ বংশগত (Genetic High blood pressure) হতে পারে। উচ্চরক্তচাপ ভীতির কোনো কারণ নয় তবে নিয়মিত ঔষধ সেবনে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

সুত্রঃ হৃদযন্ত্রের যত কথা, বিজ্ঞান, এসএসসি।
৩,২৬৭.
রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয় কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) অনুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা ৩ ধরনের। যথা- ১. লোহিত রক্তকণিকা, ২. শ্বেত রক্তকণিকা ও ৩. অনুচক্রিকা। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়, মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬৮.
দুধ থেকে দই তৈরিতে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো-
  1. E. coli
  2. Bacillus subtilis
  3. Lactobacillus
  4. Clostridium
সঠিক উত্তর:
Lactobacillus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lactobacillus
ব্যাখ্যা
• দুধ থেকে দই তৈরিতে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো Lactobacillus.

অন্যদিকে,
• E. coli. - মানব ইনসুলিন তৈরিতে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ব্যকটেরিয়া।
• Bacillus subtilis - সাবটিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়।
• Clostridium - পাট থেকে পাটের আঁশ পৃথক করতে এই ব্যাকটেরিয়ার অবদান রয়েছে।

ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি ।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
• মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
• একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
• পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
• দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
• বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,২৬৯.
উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়-
  1. পাতাকে
  2. কাণ্ডকে
  3. মূলকে
  4. শাখাকে
সঠিক উত্তর:
পাতাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতাকে
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিল নামক রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোকের শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- এই শক্তির সাহায্যে তারা বায়ু থেকে গ্রহণকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং মাটি থেকে আহরিত পানি (H2O) কে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় উপ-উৎপাদ হিসেবে অক্সিজেন (O2) নির্গত হয়।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭০.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠ দুইটিকে কি বলে?
  1. Anterior
  2. Posterior
  3. Ventricles
  4. Atria
সঠিক উত্তর:
Ventricles
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ventricles
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ থাকে। 

• হৃৎপিণ্ড: 
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।

• হৃৎপিণ্ডের অবস্থান:
 - হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।

• হৃৎপিণ্ডের গঠন:
- মানব হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি ডান ও বাম অলিন্দ (Atria) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃৎপিণ্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

অপশন আলোচনা:
→ Anterior Chamber: কর্নিয়া এবং আইরিশের মাঝে অবস্থিত।
→ Posterior Chamber: আইরিশের পিছে এবং ল্যান্সের সামনে এর অবস্থান।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭১.
ম্যালকোলজিতে নিচের কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) পাখি
  2. খ) উভচর ও সরীসৃপ
  3. গ) শামুক-ঝিনুক
  4. ঘ) কীটপতঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গ) শামুক-ঝিনুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামুক-ঝিনুক
ব্যাখ্যা
• জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে।
• ম্যালকোলজি (Malacology): ম্যালকোলজিতে শামুক- ঝিনুক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
• এন্টোমলজি (Entomology): এন্টোমলজিতে কীট-পতঙ্গ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
• হারপেটোলজি (Herpetology): হারপেটোলজিতে উভচর ও সরীসৃপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
• অর্নিথোলজি (Ornithology): অর্নিথোলজিতে পাখি ও পাখি সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়াদি আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৭২.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কত জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. 23 জোড়া
  2. 22 জোড়া
  3. 46 জোড়া
  4. 1 জোড়া
সঠিক উত্তর:
22 জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22 জোড়া
ব্যাখ্যা
• মানব দেহের কোষে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে ৷

- মানব দেহের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে ৷
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম ।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই ।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৩.
মানবদেহে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস কোন খাদ্য উপাদান?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

- আমিষ বা প্রোটিন হলো মানবদেহে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস। প্রোটিন মূলত অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের অণুতে নাইট্রোজেন উপস্থিত থাকে। অন্যান্য প্রধান খাদ্য উপাদানের (শর্করা ও স্নেহ) তুলনায় আমিষই শরীরে কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে, যা দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য অপরিহার্য। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,২৭৪.
নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. COD > BOD
  2. COD < BOD
  3. COD = BOD
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
COD > BOD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
COD > BOD
ব্যাখ্যা
প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological/Biochemical Oxygen Demand - BOD):
পানিতে উপস্থিত অনুজীব কর্তৃক জৈব ও অজৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড BOD বলে।
পানির উৎকর্ষতা নির্ধারণে BOD নির্দেশক রূপে কাজ করে।

রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand - COD):
পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না।
এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়। এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে। পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) বলে।

উল্লেখ্য যে, কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়। পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি।

উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৫.
বাংলাদেশের জাতীয় পশুর বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. ক) Homo sapiens
  2. খ) Tenualosa ilisha
  3. গ) Panthera tigris
  4. ঘ) Copsychus saularis
সঠিক উত্তর:
গ) Panthera tigris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Panthera tigris
ব্যাখ্যা

Copsychus saularis L. (দোয়েল) - জাতীয় পাখি
Tenualosa ilisha Hamilton (ইলিশ) - জাতীয় মাছ
Panthera tigris L. (বাঘ) - জাতীয় পশু

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,২৭৬.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন কোথা থেকে সংগ্রহ করে?
  1. ক) বাতাস
  2. খ) পানি
  3. গ) বায়ুমন্ডল
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
  5. ঙ) কার্বন
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানি থেকে সংগ্রহ করে।কার্বন ও অক্সিজেন বায়ুমন্ডল থেকে গ্রহণ করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,২৭৭.
রোগ-প্রতিরোধ বিদ্যার জনক কাকে বলা হয়?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. রবার্ট হুক
  3. রবার্ট কচ
  4. লিউয়েন হুক
সঠিক উত্তর:
এডওয়ার্ড জেনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডওয়ার্ড জেনার
ব্যাখ্যা
- এডওয়ার্ড জেনার রোগ-প্রতিরোধ বিদ্যার জনক।

 - এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner):
- অবদান: প্রথম সফল ভ্যাকসিন তৈরি করেন।
- বিখ্যাত কাজ: ১৭৯৬ সালে গরুর গুটি বসন্ত (Cowpox) থেকে গুটি বসন্ত (Smallpox) রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন।

অন্যদিকে,
- অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক: তিনি প্রথম জীবন্ত এককোষী জীব (Microorganisms) আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট কচ: রোগজীবাণু তত্ত্ব (Germ Theory) প্রমাণ করেন এবং টিউবারকিউলোসিসের (TB) জীবাণু আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট হুক : Micrographia" বইয়ে কোষ (Cell) সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন এবং "Cell" শব্দটি ব্যবহার করেন।

উৎস: National Library of Medicine ওয়েবসাইট।
৩,২৭৮.
ডোপামিন হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
  1. মস্তিষ্ক
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. পিটুইহারি গ্রন্থি
  4. লিভার
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
- মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে - পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,২৭৯.
কোনটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) গম
  2. খ) দাঁতমর্দন
  3. গ) ধান
  4. ঘ) গোলাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
একক গুঁড়িবিহীন ঝোপজাতীয় মাঝারি ধরনের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে গুল্ম বলে। যেমন- জবা, গোলাপ, রঙ্গন। গুল্ম বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। গুল্মের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলে। যেমন- কালকাসুন্দা, দাঁতমর্দন। ছোট ও নরম কাণ্ড বিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে। যেমন- ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,২৮০.
'Floriculture' বিশেষভাবে কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. ক) ফুল
  2. খ) শাক-সবজি
  3. গ) ফল
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফুল
ব্যাখ্যা
পুষ্প ও সুদৃশ্য গাছপালার চাষ কৃষি বিজ্ঞানের অন্তর্গত উদ্যানতত্ব বা Horticulture বিষয়ের একটি প্রধান বিভাগ।
উদ্যানের গাছপালা মূলতঃ তিন প্রকার। যথাঃ- শাক-সবজি,ফল ও ফুল।
প্রথম দুটির ব্যবহার খাদ্যরূপে এবং তৃতীয়টির গুরুত্ব চিত্ত বিনোদনে।
ফুল ও সুদৃশ্য গাছপালা উৎপাদনের কলাকৌশল সাধারণভাবে পুষ্পোদ্যান বিদ্যা বা Floriculture নামে অভিহিত।


Floriculture শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন Flos ও Floris থেকে। 
 (flos, floris = a flower, cultura= cultivation)।
Floriculturist বলতে পুষ্পোদ্যানবিদ বা পুষ্পোদ্যান বিশারদ কে বুঝায়।
আর যে ব্যক্তি পুষ্প ও সুদৃশ্য গাছপালার চাষ করেন অথবা বিক্রয় করেন তিনি Florist নামে পরিচিত।

উৎস : স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,২৮১.
Which is the main organ of the circulatory system?
  1. Skin
  2. Heart
  3. Liver
  4. Kidney
  5. Lungs
সঠিক উত্তর:
Heart
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Heart
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮২.
মেরুদণ্ড কতটি অস্থিখণ্ডক (vertebra) দ্বারা গঠিত?
  1. ৩০ 
  2. ২৯
  3. ৩৩
  4. ২৩ 
সঠিক উত্তর:
৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩
ব্যাখ্যা

মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

কশেরুকার প্রকারভেদ: 
- দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানের ভিত্তিতে ৩৩টি কশেরুকাকে ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) গ্রীবাদেশীয় (cervical) কশেরুকা- ৭টি, 
(২) বক্ষদেশীয় (thoracic) কশেরুকা- ১২টি, 
(৩) কটিদেশীয় (lumbar) কশেরুকা- ৫টি, 
(৪) শ্রোণিদেশীয় (sacral) কশেরুকা- ৫টি (একীভূত) ও 
(৫) পুচ্ছদেশীয় (coccygeal) কশেরুকা- ৪টি (একীভূত)। 
- পুচ্ছ অঞ্চলের ৪টি কশেরুকা একীভূত হয়ে যথাক্রমে ১টি স্যাক্রাম (sacrum) ও ১টি কক্কিক্স (coccyx) গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৮৩.
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে Amino Acid এর সংখ্যা-
  1. ক) ২২টি
  2. খ) ২০ টি
  3. গ) ১০ টি
  4. ঘ) ৮ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ টি
ব্যাখ্যা
সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।
৩,২৮৪.
ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান নিম্নের কোনটি?
  1. ক) আরএনএ
  2. খ) ডিএনএ
  3. গ) ইউরাসিল
  4. ঘ) আরএনএ ও হ্যালিক্স
সঠিক উত্তর:
খ) ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডিএনএ
ব্যাখ্যা
ডিএনএ (DNA)
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে।
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড।
- রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে একটি অক্সিজেন অণু কম থাকায় একে Deoxyribo' বলা হয়।
- এতে ফসফরিক অ্যাসিড আছে তাই প্রকৃতিগতভাবে এটি একটি অ্যাসিড। একে যেহেতু নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় তাই সামগ্রিকভাবে একে ‘Deoxyribo Nucleic Acid (DNA)' বলে।
- অনেকগুলো নিউক্লিয়োটাইড একত্রে তৈরি করে পলিনিউক্লিয়োটাইড।
- DNA দ্বিসূত্রক এবং সর্পিলাকার। একটি সূত্র অন্যটির পরিপূরক। সূত্র দুটি নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক দ্বারা আবদ্ধ।
- একটি সূত্রের অ্যাডিনিন অন্য সূত্রের একইস্থানে অবস্থিত থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে।
- আবার একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮৫.
সবুজ উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে?
  1. পরাগায়ন
  2. খাদ্যচক্র
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. নাইট্রোজেন চক্র
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮৬.
কোন রঞ্জক পদার্থের জন্য টমেটো লাল রঙের হয়?
  1. ক) এরিথ্রিন
  2. খ) লাইকোপেন
  3. গ) জ্যান্থফিল
  4. ঘ) ফাইকোসায়ানিন
সঠিক উত্তর:
খ) লাইকোপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাইকোপেন
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র সৃষ্টি করে৷ ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে৷ টমেটোর যে লাল রঙ তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়ে থাকে৷
ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারন করে৷
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,২৮৭.
মানুষের শরীরে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভিটামিন 'ডি' তৈরির শেষ ধাপটি কোথায় সম্পন্ন হয়?
  1. অন্ত্রে
  2. ত্বকে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। 
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো। এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৮৮.
কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন ও কাজ নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Physiology
  2. Embryology
  3. Morphology
  4. Cytology
সঠিক উত্তর:
Cytology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cytology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা:
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে।
- এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো-
অঙ্গসংস্থান (Morphology):
- এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে।

শারীরবিদ্যা (Physiology):
- জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

ভ্রূণবিদ্যা (Embryology):
- ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়।
- জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

কোষবিদ্যা (Cytology):
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ।
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়

বংশগতিবিদ্যা (Genetics):
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়।
- বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

বাস্তুবিদ্যা (Ecology):
- জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

বিবর্তন (Evolution):
- আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল, কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
- জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৮৯.
উদ্ভিদ কোন পুষ্টি উপাদান বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. আয়রন 
  2. কার্বন 
  3. সালফার 
  4. হাইড্রোজেন 
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৯০.
নিচের কোন ধাপটি শ্রেণিবিন্যাসের আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত নয়?
  1. ক) সুপার কিংডম
  2. খ) ফ্যামিলি
  3. গ) গণ
  4. ঘ) বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) সুপার কিংডম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুপার কিংডম
ব্যাখ্যা

একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে মূলত আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত সাতটি ধাপ আছে।
যথাঃ ১) রাজ্য (Kingdom)
২) পর্ব (Phylum)
৩) শ্রেণি (Class)
৪) বর্গ (Order)
৫) গোত্র (Family)
৬) গণ (Genus)
৭) প্রজাতি (species)


উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,২৯১.
শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় শ্বসনের কয়টি পর্যায় থাকে? 
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internall respiration) । 

- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 

- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯২.
সরিষা কোন ধরণের উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. গুল্ম
  3. উপগুল্ম
  4. বীরুৎ
সঠিক উত্তর:
বীরুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরুৎ
ব্যাখ্যা
• বিরুৎ উদ্ভিদ:
- যেসকল উদ্ভিদ আকারে ছোট হয় ও এদের কাণ্ড নরম সেসকল উদ্ভিদকে বিরুৎ উদ্ভিদ বলে। 
- বিরুৎ বা হার্ব (Herb) হল নরম, সবুজ এবং কোমল কান্ডযুক্ত এক ধরনের উদ্ভিদ।

• সরিষা বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। 

• সরিষার বৈশিষ্ট্য:
- সরিষা Brassicaceae (Cruciferae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম- Brassica campestris (সরিষা) / Brassica juncea (রাই সরিষা)।
- কাণ্ড: নরম, সবুজ, শাখান্বিত (কাঠিন্য নেই)।
- আয়ু: একবর্ষজীবী (একটি মৌসুমেই জীবনচক্র সম্পন্ন করে)।
- উচ্চতা: ০.৫–১ মিটার।

• অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
- তেল উৎপাদন: বীজে ৩০–৪০% তেল থাকে। এটি রান্না ও শিল্পে ব্যবহার ব্যবহার করা হয়।
- সার হিসাবে: খৈল মাটিতে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৩,২৯৩.
'Species Plantarum' বইটির রচয়িতা-
  1. ক) বেন্থাম ও হুকার
  2. খ) থিয়োফ্রাস্টাস
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) জ্যাঁ ল্যামার্ক
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন। এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা নামে পরিচিত।
- তাঁকে শ্রেণি বিন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত বইঃ Species Plantarum।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৯৪.
পিত্তরস কোন অঙ্গের মাধ্যমে ডিওডেনামে পৌঁছায়? 
  1. খাদ্যনালি
  2. শিরা
  3. পিত্তনালি
  4. রক্তনালি
সঠিক উত্তর:
পিত্তনালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তনালি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯৫.
হৃদপিণ্ড সম্পর্কে কোনটি সত্য নয়?
  1. বক্ষগহবরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝে অবস্থিত
  2. চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট
  3. উপরের প্রকোষ্ঠ দুইটিকে অলিন্দ এবং নিচের দুইটিকে নিলয় বলে
  4. অলিন্দের প্রাচীর পুরু এবং নিলয়ের প্রাচীর পাতলা
সঠিক উত্তর:
অলিন্দের প্রাচীর পুরু এবং নিলয়ের প্রাচীর পাতলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলিন্দের প্রাচীর পুরু এবং নিলয়ের প্রাচীর পাতলা
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ড: 
- পেশিবহুল ত্রিকোণাকার, ফাপা, চার প্রকোষ্ঠযুক্ত পাম্পের মতো যন্ত্র যার সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে হৃদপিণ্ড বলে।

হৃদপিণ্ডের বৈশিষ্ট্য: 
- বক্ষগহবরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝে অবস্থিত।
- হৃদপেশি নামক বিশেষ অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- পেরিকার্ডিয়াম নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুইটিকে অলিন্দ এবং নিচের দুইটিকে নিলয় বলে।
- অলিন্দের প্রাচীর পাতলা এবং নিলয়ের প্রাচীর পুরু।
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে তিন পাল্লাবিশিষ্ট ট্রাই কাসপিড কপাটিকা এবং বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে দুই পাল্লা বিশিষ্ট বাই কাসপিড কপাটিকা বিদ্যমান।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৩,২৯৬.
বড় দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. কার্পাস
  2. আলু
  3. ভুট্টা
  4. ডালিয়া
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ: 
- সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না, কখনও দিন ছোট ও রাত বড় আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে। 
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
যথা- 
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ: 
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ। 
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, তামাক, শিম, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি ছোট দিনের উদ্ভিদ। 

২। বড় দিনের উদ্ভিদ: 
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ। 
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে। 
যেমন- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ। 

৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ। 
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে। 
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়। 
যেমন- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯৭.
উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান-
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকাঃ 
ফসফরাস: মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান । ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।
নাইট্রোজেন: উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
ম্যাগনেসিয়াম: ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরােফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
পটাশিয়াম: পত্ররন্ধ্র খেলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শােষণে সাহায্য করে। কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
৩,২৯৮.
কোনটিকে সংযোগকারী জীব (Connecting Link) বলা হয়?
  1. ক) প্লাটিপাস
  2. খ) রাজকাঁকড়া
  3. গ) লিমুলাস
  4. ঘ) মানুষ
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাটিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
সংযোগকারী জীব (Connecting Link)
- জীবজগতে যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে তাদেরকে সংযোগকারী জীব (Connecting link) বলা হয়।
- উদাহরণ:  প্লাটিপাস।
- প্লাটিপাসের মধ্যে সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী দুই ধরনের প্রাণীরই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- প্লাটিপাস সরীসৃপের মতো ডিম পাড়ে।
- অপরদিকে স্তন্যপায়ীর মতো এদের শরীর লোমে ঢাকা, বুকে রয়েছে দুগ্ধগ্রন্থি।
- শুধু তা-ই নয়, এদের ডিম ফুটে শাবক জন্মালে এরা শাবককে স্তন্য পান করায়।
- সংযোগকারী প্রাণীদের অধিকাংশই পৃথিবীর পরিবর্তনের সাথে কার্যকরীভাবে অভিযোজিত হতে সক্ষম না হওয়ায় ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 
- এছাড়া, Gnetum (নিটাম) নামক গুপ্তবীজী উদ্ভিদে ব্যক্তবীজী এবং গুপ্তবীজী দুই ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৯৯.
মানবদেহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) চোখ
  2. খ) কান
  3. গ) নাক
  4. ঘ) জিহ্বা
সঠিক উত্তর:
খ) কান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কান
ব্যাখ্যা

কানের অংশ হলো তিনটি- বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। অন্তঃকর্ণের স্যাকুলাস ও ইউট্রিকুলাস শরীরের ভারসাম্য রক্ষার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত।
এটি দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্ককে সাহায্য করে এবং দেহ অবস্থানের অনুভূতির উদ্রেক করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৩০০.
অ্যান্টিবডি কী ধরনের জৈব যৌগ? 
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড
  3. গ্লাইকোপ্রোটিন
  4. লিপিড
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোপ্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোপ্রোটিন
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামাইনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG), 
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA), 
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM), 
৪।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD) এবং 
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।