বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৫ / ৪২ · ২,৪০১২,৫০০ / ৪,২০৮

২,৪০১.
শ্রেণি বিন্যাসের জনক কে?
  1. ক) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  2. খ) কেরোলাস লিনিয়াস
  3. গ) অ্যাারিস্টটল
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
খ) কেরোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কেরোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
শ্রেণিবিন্যাস:

- বিশাল প্রাণিজগৎকে সহজে সুশৃঙ্খলভাবে জানার জন্য এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- Taxonomy শাখায় জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens.
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪০২.
সিংহের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. ক) Allium cepa
  2. খ) Labeo rohita
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Panthera leo
  5. ঙ) Nymphaea nouchali
সঠিক উত্তর:
ঘ) Panthera leo
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Panthera leo
ব্যাখ্যা
Allium cepa-পিয়াজ; Labeo rohita -রুই মাছ; Apis indica- মৌমাছি ; Panthera leo-সিংহ; Nymphaea nouchali- শাপলা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,৪০৩.
একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. শ্বাসতন্ত্র
  2. স্নায়ুতন্ত্র
  3. রেচনতন্ত্র
  4. পানি সংবহনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
পানি সংবহনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি সংবহনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
Echinodermata (একাইনোডার্মাটা): 
- একাইনোডার্মাটা শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত (গ্রিক, echino = spin, কণ্টকাবৃত এবং derma = skin, ত্বক)। 
- Jacob Klein (১৭৩৪) সর্বপ্রথম কণ্টকাবৃত প্রাণীদের একাইনোডার্মাটা নামকরন করেন। 
- এ পর্বভুক্ত প্রায় সমস্ত প্রাণীদের দেহত্বক কর্কশ, কণ্টক দ্বারা আচ্ছাদিত এবং দেহত্বকের নিচে অবস্থিত চূর্ণময় পাত থেকে অসংখ্য কণ্টকাকার অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়। 

বৈশিষ্ট্য: 
- অরীয় প্রতিসম, পূর্ণাঙ্গ প্রাণী সাধারণত পঞ্চ অরীয়ভাবে এবং লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম। 
- দেহত্বক ত্রিস্তরী, দেহগহ্বরযুক্ত, প্রকৃত মস্তক, মস্তিষ্ক ও খণ্ডকবিহীন; তবে স্পষ্ট মৌখিক ও পরাঙ্গমুখ তল দেখা যায়। 
- পানি সংবহনতন্ত্র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য, পানি সংবহন নালি তরল দ্রব্য দিয়ে পূর্ণ থাকে। 
- সংবহনতন্ত্র বর্তমান, স্নায়ুতন্ত্র ও জ্ঞানেন্দ্রিয় অত্যন্ত অনুন্নত ধরনের। 
- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক, সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতায় বাস করে, স্বাধীনজীবী, মুক্ত সঞ্চারণশীল। 
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত, লিঙ্গ সাধারণত পৃথক কিন্তু সঙ্গম হয় না, জনন পদার্থ বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় ও পানিতে নিষিক্তকরণ ঘটে। 
- পরোক্ষভাবে বৃদ্ধিকালে লার্ভা দশা দেখা যায়, লার্ভা সর্বদাই দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, মুক্ত সাতারু (কতক প্রজাতিতে বৃদ্ধি সরাসরি)। 
উদাহরণ: Echinus esculentus (সমুদ্র আর্চিন), Cucumaria frondosa (সমুদ্র শশা)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৪.
মাইট্রোকন্ড্রিয়ায় লিপিডের পরিমাণ -
  1. ক) ৭০-৭৩%
  2. খ) ৪৫-৪৭%
  3. গ) ২৫-৩০%
  4. ঘ) ২১-২৩%
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫-৩০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫-৩০%
ব্যাখ্যা
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। এজন্য একে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ৭৩% প্রোটিন ও ২৫%-৩০% লিপিড এবং সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- আদি কোষ বা প্রাক কেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া একটি আদিকোষী জীব।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
২,৪০৫.
সম্পূর্ণ ফুল -
  1. ক) জবা
  2. খ) লাউ
  3. গ) ধুতুরা
  4. ঘ) ক এবং গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক এবং গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা ইত্যাদি।
এবং এর যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪০৬.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হল-
  1. Vitamin K
  2. Vitamin A
  3. Vitamin B
  4. Vitamin C
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin K
ব্যাখ্যা
- রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হলো- Vitamin K (ভিটামিন কে)। 

ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন। 
- ভিটামিন কে তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে-এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
- কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। 
- রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
- ভিটামিন কে পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ভিটামিন কে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত সমস্যা: 
- ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়, ফলে সামান্য কাটাছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 
 
উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৭.
বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক হলো-
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) ক্রোমোসোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) প্রোটোপ্লাজম
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোসোম
ব্যাখ্যা
যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে।
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিন এর সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম।
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়।
- অর্থাৎ ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক।
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়।

উৎস:  জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
২,৪০৮.
নিচের কোনটি সম্পূর্ণ ফুল?
  1. লাউ
  2. ধুতুরা
  3. শসা
  4. ঝিঙ্গা
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ ফুলের থাকে ৫টি অংশ।
যেমন- পুষ্পপত্রাধার, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
- যে ফুলের ৫টি অংশই থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।
যেমন- ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।

আর যে সকল ফুলে এক বা একাধিক অংশ অনুপস্থিত থাকে তাকে বলা হয় অসম্পূর্ণ ফুল।
যেমন- লাউ, কুমড়া, শসা, ঝিঙ্গা ইত্যাদি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৪০৯.
কোন আলোক রশ্মি ত্বকে ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. ক) বিটা রশ্মি
  2. খ) আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
  3. গ) আলফা রশ্মি
  4. ঘ) এক্সরে রশ্মি
সঠিক উত্তর:
খ) আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন D:
একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন D পাওয়া যায়। এই ভিটামিন সূর্যালােকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়।

- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D– এর প্রধান উৎস।
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।

ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শােষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। ভিটামিন D–এর অভাবে শিশুদের রিকেট রােগ হতে পারে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪১০.
নিচের কোনটিকে 'জৈব মুদ্রা' বলা হয়?
  1. ATP
  2. DNA
  3. Chlorophyll
  4. NADP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা

• ATP-কে 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।
- ATP (Adenosine Triphosphate) অণুর মধ্যে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ফসফেট বন্ধনী থাকে যা ভেঙে প্রয়োজনীয় জৈবিক শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তি কোষে জমা থাকে এবং প্রয়োজনের সময় খরচ হয় বলে একে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়।

• ATP(অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট):
- DNA এবং RNA-এর গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি হলো অ্যাডেনিন।
- এটি একটি নাইট্রোজেন বেস। এর সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাডিনোসিন।
- অ্যাডিনোসিন অণুর সাথে পর্যায়ক্রমে একটি, দুটি এবং তিনটি ফসফেট/ফসফোরিক এসিড গ্রুপ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (AMP), অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP) এবং অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) গঠন করে।
- ATP-এর রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে যে শক্তি বের হয়, সেই শক্তি দিয়ে জীবদেহের প্রতিটি জৈবনিক কাজ অর্থাৎ, মাংসপেশির সংকোচন থেকে ইন্দ্রিয়ানুভূতি, খাবার খাওয়া থেকে হজম করা, নিঃশ্বাস নেওয়া থেকে কথা বলা, চিৎকার করা থেকে হাসি-কান্না, দৈহিক বৃদ্ধি থেকে প্রজনন, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি কোষের স্বাভাবিক আয়তন বজায় রাখা- এর সবই সম্পন্ন হয়।
- আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়।
- শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙে।
- তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে।
- এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
- এজন্য ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা, ফসফেট এবং চার ধরণের নাইট্রোজেন বেস নিয়ে DNA গঠিত।
- ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু এবং পোরফাইরিন রিং নামক জটিল রাসায়নিক কাঠামো নিয়ে ক্লোরোফিল গঠিত।
- ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন থেকে উদ্ভূত কো-এনজাইম কাঠামো নিয়ে NADP গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪১১.
মানুষের দেহের মোট ওজনের শতকরা কত ভাগ ক্যালসিয়াম?
  1. ক) এক
  2. খ) চার
  3. গ) তিন
  4. ঘ) দুই
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুই
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল।
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়।
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪১২.
কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য
  2. খ) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
ব্যাখ্যা
এসিড মাটি অনুর্বর। জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে। ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়। এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়। তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য সারের চুন ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪১৩.
শ্বসনে নির্গত হয়-
  1. ক) CO2
  2. খ) O2
  3. গ) C4
  4. ঘ) N
  5. ঙ) Na
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) CO2
ব্যাখ্যা
শ্বসনের ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয় যা সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,৪১৪.
দুধে যে প্রোটিন থাকে সেটাকে বলা হয় -
  1. ক) ল্যাকটোজ
  2. খ) কেসিন
  3. গ) রেনিন
  4. ঘ) গ্যালাক্টোজ
সঠিক উত্তর:
খ) কেসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কেসিন
ব্যাখ্যা
• দুধ একটি আদর্শ খাবার।
• এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
• দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
• এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
• দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
২,৪১৫.
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম কী?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ইথেন
  3. গ) কার্বন মনোক্সাইড
  4. ঘ) ফেরিক অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম হচ্ছে কার্বন মনোক্সাইড। এই গ্যাসটি বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। 

- যেসব সংক্রামক উপাদান বায়ু দেমিসে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে সেই সব উপাদান কে বলা হয় দূষক ।
- পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে বলা হয় দূষণ।

বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ- 
১. কার্বন মনোক্সাইড এর প্রভাবে মাথাধরা, ঝিমুনি, শারীরিক শক্তি হ্রাস পায়। 
২. সালফার অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির জ্বালা, হাঁপানি, কাশি, নাকজ্বালা। 
৩.  নাইট্রোজেন অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির স্ফীতি ও ফুসফুসের জ্বালা। 
৪. সূক্ষ্মণার প্রভাবে চোখ, নাক ও গলার জ্বালা, রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা হ্রাস। 

সূত্র: Texas Commission on Environmental Quality Website [লিঙ্ক]
২,৪১৬.
উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. Ornithology
  2. Ichthyology
  3. Entomology
  4. Herpetology
সঠিক উত্তর:
Herpetology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Herpetology
ব্যাখ্যা

- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।

উৎস: প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪১৭.
ডিএনএ -এর কার্যকরী একককে কী বলা হয়?
  1. রেপ্লিকন
  2. মিউটন
  3. সিসট্রন
  4. রেকন
সঠিক উত্তর:
সিসট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিসট্রন
ব্যাখ্যা
জিনের আধুনিক ধারণা: 
- বিজ্ঞানী Avery, Macleod ও McCarty ১৯৪৪ সালে এবং Hershey ও Chasi ১৯৫২ সালের পরীক্ষা থেকে সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, DNA হলো জিনগত বস্তু। 
- আধুনিক ধারণা মতে, জিনকে বিভিন্ন একক রূপে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন-রেকন, মিউটন, রেপ্লিকন ও সিসট্রন। 

১। রেকন (Recon): 
- এটি জিন রিকম্বিনেশন এর একক। 
- DNA অণুর যে ক্ষুদ্রতম একক জেনেটিক রিকম্বিনেশনে অংশ গ্রহণ করে তাকে রেকন বলে। 
- রেকন এক অথবা দুই জোড়া নিউক্লিওটাইড দিয়ে গঠিত। 

২। মিউটন (Muton): 
- একে জিন মিউটেশনের একক বলা হয়। 
- DNA অণুর যে ক্ষুদ্রতম অংশে মিউটেশন সংঘটিত হয়, তাকে মিউটন বলে। 
- এক বা একাধিক নিউক্লিওটাইড যুগল নিয়ে মিউটন গঠিত হয়ে থাকে। 

৩। রেপ্লিকন (Replicon): 
- DNA-এর যে অংশ DNA-এর অনুলিপন নিয়ন্ত্রণ করে তাকে রেপ্লিকন বলে অর্থাৎ এটি রেপ্লিকেশন এর একক। 

৪। সিসট্রন (Cistron): 
- জিন কার্যের একক। 
- DNA অণুর যে খণ্ডাংশ কোষীয় বস্তুর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে সিসট্রন বলে। 
- Escherichia coli ব্যাকটেরিয়ার একটি সিসট্রনে প্রায় ১৫০০টি নিউক্লিওটাইড যুগল থাকে। 
- প্রতিটি সিসট্রনে অনেক রেকন ও মিউটন থাকে। তাই রেকন ও মিউটন অপেক্ষা সিসট্রনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। 
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিন ও সিসট্রন প্রায় সমতুল্য (equivalent) অর্থ বহন করে। 
- এজন্য DNA এর কার্যকরি একককে বলা হয় সিসট্রন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,৪১৮.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. লাইকেন
  2. ফার্ন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১৯.
উদ্ভিদের ক্লোরোসিস হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নাইট্রোজেনের অভাব
  2. পর্যাপ্ত পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডের অভাব
  3. সালফার এবং ক্যালসিয়ামের অতিরিক্ত উপস্থিতি
  4. পটাশিয়ামের অভাব
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেনের অভাব
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেনের অভাব হলো উদ্ভিদের ক্লোরোসিস (Chlorosis) হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান কারণগুলির মধ্যে অন্যতম।
• ক্লোরোসিস:
- ক্লোরোসিস হলো উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিলের অভাবজনিত হলুদাভ রং ধারণ।
- এর প্রধান কারণ হলো আয়রন (Fe), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), নাইট্রোজেন (N) ইত্যাদি খনিজ উপাদানের ঘাটতি, যা ক্লোরোফিল গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২০.
খনিজ লবণের প্রধান উৎস-
  1. ক) মাংস, ডিম
  2. খ) দুধ, কলা
  3. গ) সবুজ শাকসবজি
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
মাংস, ডিম, দুধ, সবুজ শাকসবজি এবং ফল (কলা) খনিজ লবণের প্রধান উৎস। খনিজ লবণ দেহের অস্থি, দাঁত, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য অপরিহার্য উপাদান। ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড় গঠনে, রক্ত জমাট বাঁধতে, স্নায়ু ব্যবস্থায় সুষ্ঠু কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে। লৌহ রক্তের লোহিত রক্তকণিকা গঠন করে। আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ ও বিপাকের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সহায়তা করে। দেহকোষ ও দেহরসের জন্য সোডিয়াম প্রয়োজন। সূত্রঃ যুগান্তর।
২,৪২১.
কোন করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত?
  1. অপটিক
  2. অলফ্যাক্টরি
  3. অডিটরি
  4. হাইপোগ্লোসাল
সঠিক উত্তর:
অডিটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিটরি
ব্যাখ্যা
অডিটরি করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

• অলফ্যাক্টরি স্নায়ু:
-অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

• অডিটরি:
- এটি মেডুলা অবলংগাটার পার্শ্বদেশ হতে উৎপত্তি লাভ করে অন্যকর্ণে বিস্তৃত হয়।
- অডিটরি স্নায়ু সংবেদী প্রকৃতির। এটি শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার অনভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।

• অপটিক:
- অপটিক করোটিক স্নায়ুটি দৃষ্টিশক্তির সাথে যুক্ত।

• হাইপোগ্লোসাল:
- হাইপোগ্লোসাল করোটিক স্নায়ুটি জিভের গতির সাথে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২২.
নিচের কোনটি যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া?
  1. ক) মুকুলােদগাম
  2. খ) বিভাজন
  3. গ) নিষেক
  4. ঘ) খণ্ডায়ন
সঠিক উত্তর:
গ) নিষেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিষেক
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগতে দুই ধরনের প্রজনন দেখা যায়, অযৌন প্রজনন (Asexual reproduction) এবং যৌন প্রজনন (Sexual reproduction)।
অযৌন প্রজনন: নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন ঘটে। মুকুলােদগাম (Budding), বিভাজন, খণ্ডায়ন ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অযৌন প্রজনন হয়।
যৌন প্রজনন: যে প্রক্রিয়ায় দুইটি বিপরীত লিঙ্গের প্রাণী পুং ও স্ত্রী জনন কোষ বা গ্যামেট (Gamete) উৎপন্ন করে এবং তাদের নিষেকের মাধ্যমে প্রজনন ঘটায় এবং সন্তান-সন্তুতি উৎপন্ন করে, তাকে যৌন প্রজনন বলে।

২,৪২৩.
পেঁয়াজ কোন ধরনের রূপান্তরিত কান্ড?
  1. ক) কন্দ
  2. খ) স্টোলন
  3. গ) টিউবার
  4. ঘ) রাইজোম
সঠিক উত্তর:
ক) কন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কন্দ
ব্যাখ্যা
কন্দঃ এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
২,৪২৪.
ট্রাইকোডার্মা কোন তাপমাত্রায় বংশবিস্তার করতে পারে? 
  1. ৫–১০° সে.
  2. ৪০–৫০° সে.
  3. ১০–১৫° সে.
  4. ২৫–৩০° সে.
সঠিক উত্তর:
২৫–৩০° সে.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫–৩০° সে.
ব্যাখ্যা

ট্রাইকোডার্মা: 
- ট্রাইকোডার্মা এক প্রকার ছত্রাক। 
- এ ছত্রাক বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার সাথে ব্যবহার করে যে সার তৈরি করা হয় তাকে ট্রাইকোডার্মা অণুজীব সার বলে। 
- ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রায় এ ছত্রাক বংশবিস্তার করতে পারে। 
- পচনশীল দ্রব্য বিয়োজনের মাধ্যমে এর জীবন চক্র সম্পন্ন হয়। 
- ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরিতে ট্রাইকোর্ডামা ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। 
- এই ছত্রাকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি অন্যান্য অণুজীবের বা ছত্রাকের চেয়ে কঠিন বস্তু যেমন কাঠের গুড়া গাছের শক্ত অংশ বিয়োজন করতে পারদর্শী। 
- মাটিতে এর কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই, তাই এটি পরিবেশ বান্ধব। 
- এ ছত্রাক গাছে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক রোগজীবাণু খেয়ে ফেলে এবং গাছের সুরক্ষা দেয়। এজন্য একে ডক্টরস ফাংগাস বলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২৫.
শ্বসন ঘটে-
  1. ক) সকালে
  2. খ) দুপুরে
  3. গ) রাতে
  4. ঘ) সবসময়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবসময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবসময়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ এবং প্রানীর প্রতিটি সজীব কোষে শ্বসন দিন রাত সবসময় ঘটতে থাকে৷
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৪২৬.
কোন ধাপে DNA এর প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়?
  1. ক) ইন্টারফেজ
  2. খ) টেলোফেজ
  3. গ) প্রোফেজ
  4. ঘ) মেটাফেজ
সঠিক উত্তর:
ক) ইন্টারফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইন্টারফেজ
ব্যাখ্যা
কোষ বিভাজন আরম্ভ হওয়ার পূর্বে ইন্টারফেজ পর্যায়েই DNA প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়।

ইন্টারফেজ দশা- ইন্টারফেজ হল কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়া পর্যায়ের প্রস্তুতির পর্ব। কোষ বিভাগের সময়, ডিএনএ দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং তারপরে কন্যা কোষগুলিতে বিতরণ করা হয়। তাই কোষ বিভাগের এই প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়োটাইড এবং সমস্ত প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
ইন্টারফেজ এর গুরুত্ব:
-ইন্টারফেজ, কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়কালে, এমন সময় হয় যখন কোষটি বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যস্ত থাকে। কোনও কোষ বিভক্ত হওয়া উচিত কিনা তা Interphase সিদ্ধান্ত নেয়।
-ইন্টারফেজের তিন-পর্যায়ের জি 1, এস, জি 2 রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলিতে, ডিএনএ প্রতিরূপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম এবং প্রোটিনগুলি সংশ্লেষিত করা হয়।
-জি ১ পর্যায়ে সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াসের অনুপাত বজায় থাকে। এস পর্যায়ে ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের নকল ঘটে এবং জি 2 পর্বে কোষটি বৃদ্ধি পায় এবং মাইটোসিসের জন্য প্রস্তুত হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৭.
মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম?
  1. ক) Mangifera Indica
  2. খ) Nymphaea Nouchali
  3. গ) Apis Indica
  4. ঘ) Panthera Tigris
সঠিক উত্তর:
গ) Apis Indica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Apis Indica
ব্যাখ্যা
• Apis Indica হল মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম।
• Mangifera Indica হল আমের বৈজ্ঞানিক নাম।
• Nymphaea Nouchali হল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম।
• Panthera Tigris হল বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২৮.
অ্যান্টিবডি কোন ধরনের জৈব উপাদান হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 
- দেহের সব অ্যান্টিবডি গামা-গ্লোবিউলিন (γ-globulin) নামে পরিচিত। আর যেহেতু অ্যান্টিবডিসমূহ দেহের সুরক্ষার কাজ করে তাই এদেরকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin, সংক্ষেপে-Ig) বলা হয়। 
- এদের আণবিক ওজন ১,৫০,০০০-৯,০০,০০০/- ডাল্টনের মধ্যে সীমিত। 
- প্লাজমা প্রোটিনের প্রায় ২০% ইমিউনোগ্লোবিউলিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৯.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়? 
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. মেটামরফোসিস
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
ব্যাখ্যা

• পরাগরেণু একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ। হ্যাপ্লয়েড কোষের নিউক্লিয়াস যখন সংখ্যাবৃদ্ধি করে বা বিভাজিত হয়, তখন তা মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। এই বিভাজনের ফলে পরাগরেণুর ভেতরে জনন নিউক্লিয়াস ও নালী নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।

- পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
-  পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
-  এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
- এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

অন্যান্য অপশন:
- মিয়োসিস: পরাগরেণু নিজে হ্যাপ্লয়েড হওয়ায় এতে পুনরায় হ্রাসমূলক বিভাজন ঘটা সম্ভব নয়।
- অ্যামাইটোসিস: এটি মূলত অতি নিম্নশ্রেণির এককোষী জীবের সরাসরি বিভাজন পদ্ধতি যা উন্নত উদ্ভিদে দেখা যায় না।
- মেটামরফোসিস: এটি প্রাণীর দৈহিক রূপান্তর প্রক্রিয়া যা কোষ বিভাজনের কোনো পদ্ধতি নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৪৩০.
অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. অ্যামিবা
  2. ভলভক্স
  3. সমুদ্র তারা
  4. যকৃত কৃমি
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তারা
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩১.
মানুষের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ যত বেশি হয় ত্বক তত -
  1. ক) সাদা হয়
  2. খ) কালো হয়
  3. গ) পুরো হয়
  4. ঘ) পাতলা হয়।
সঠিক উত্তর:
খ) কালো হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালো হয়
ব্যাখ্যা
মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ, যা মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে তৈরী হয়,যার কারণে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর চামড়া, চুল ও চোখের মণি, পাখির পালক কালো হয়।
মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়।
২,৪৩২.
নিউক্লিয়াসের নামকরণ করেন কে?
  1. ক) Fontana
  2. খ) Bowman
  3. গ) Robert Hooke
  4. ঘ) Carl Benda
সঠিক উত্তর:
খ) Bowman
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bowman
ব্যাখ্যা
১৮৪০ সালে নিউক্লিয়াসের নামকরণ করেন- Bowman. 

- ১৭৮১ সালে Fontana, নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। 
- জীব কোষের প্রোটোপ্লাজম এ নির্দিষ্ট পর্দাঘেরা ক্রোমোজোম বহনকারী সুস্পষ্ট যে বস্তুটি দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়াস বলে। অর্থাৎ কোষের প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে পর্দা দিয়ে ঘেরা কেন্দ্রীয় গঠনটিকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এর আকৃতি গোলাকার ,ডিম্বাকার, বা নলাকার।
-নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। 

- একটি সুগঠিত নিউক্লিয়াস সর্বমোট চারটি অংশ নিয়ে গঠিত ।
এগুলো হলো-
নিউক্লিয়ার ঝিল্লি 
নিউক্লিওপ্লাজম
নিউক্লিওলাস
ক্রোমোজোম

নিউক্লিয়াসের কাজসমূহ- 
১. নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়। কোষের সব ধরনের কাজ নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. নিউক্লিক এসিডের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
৩. রাইবোজোম সৃষ্টি করে।
৪. RNA সংশ্লেষণ করে।
৫. আমাদের দেহের প্রোটিন সংশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করে।
৬. ক্রোমাটিন জালিকা, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ধারণ করে।
৭. কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
৮. ভবংশগতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ ও বহন করে।
৯. নিউক্লিয়াসের বিভাজনের সময় সময় ব্যবহারযোগ্য খাদ্য সঞ্চয় করে।
১০. নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন অংশ সমূহ ধারণ করে ইত্যাদি।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৩.
রক্তে কোন লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকা ক্ষতিকর? 
  1. BDL
  2. LDL 
  3. HDL
  4. IDL
সঠিক উত্তর:
LDL 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LDL 
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein- HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein- LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৩৪.
নিচের কোন হরমোনকে 'Fight or Flight' হরমোন বলা হয়?
  1. কর্টিসল
  2. অক্সিটোসিন
  3. অ্যাড্রেনালিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অ্যাড্রেনালিন

'Fight or Flight' হলো শরীরের একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া (emergency response), যা বিপদের সময় (যেমন: হঠাৎ কোনো হুমকি বা ভয়ের মুখোমুখি হলে) শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে লড়াই করার বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রতিক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে দায়ী হরমোন হলো অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline), যাকে ইংরেজিতে Epinephrine-ও বলা হয়।

অ্যাড্রেনালিন যেভাবে কাজ করে-
যখন মস্তিষ্ক বিপদ অনুভব করে, তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (কিডনির উপরে থাকা ছোট গ্রন্থি) থেকে অ্যাড্রেনালিন খুব দ্রুত রক্তে ছেড়ে দেয়।
এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শরীরে নিচের পরিবর্তনগুলো ঘটায়:
⋅ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় (heart rate increases)। 
⋅ রক্তচাপ বাড়ে। 
⋅ ফুসফুসে বাতাসের প্রবাহ বাড়ে → শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। 
⋅ রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) ও চর্বি থেকে দ্রুত শক্তি উৎপন্ন হয়। 
⋅ পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে (যাতে লড়াই বা দৌড়ানোর জন্য শক্তি পাওয়া যায়)। 
⋅ চোখের পিউপিল বড় হয় → দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়। 
⋅ হজম প্রক্রিয়া ও অন্যান্য অ-জরুরি কাজ থেমে যায় (যাতে শক্তি বাঁচে)। 


এই সব পরিবর্তন একসাথে ঘটে বলে আমরা হঠাৎ "এনার্জি বুস্ট" অনুভব করি — যেমন ভয় পেলে হাত-পা কাঁপা, হৃৎপিণ্ড দ্রুত চলা ইত্যাদি। এজন্যই অ্যাড্রেনালিনকে "Fight or Flight" হরমোন বলা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৩৫.
কোন ক্লোনিং পদ্ধতিতে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সেল ক্লোনিং
  2. জীব ক্লোনিং
  3. জিন ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৩৬.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. সালফার
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৭.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা কত? 
  1. ১৮-২৫° সেলসিয়াস 
  2. ২২-৩৫° সেলসিয়াস 
  3. ১৫-২৮° সেলসিয়াস
  4. ৩০-৪০° সেলসিয়াস 
সঠিক উত্তর:
২২-৩৫° সেলসিয়াস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২-৩৫° সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৩৮.
নিউক্লিয়িক অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদনে মূলত কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য? 
  1. নাইট্রোজেন 
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. পটাসিয়াম 
  4. ফসফরাস 
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৩৯.
পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান-
  1. ক) ইকোলোজি
  2. খ) এনাটমি
  3. গ) ইভোলিউশন
  4. ঘ) হিস্টলজি
সঠিক উত্তর:
ক) ইকোলোজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইকোলোজি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে ইকোলোজি  বলে। 

- ইকোলজি হলো বাস্তুসংস্থান।
- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ আদান-প্রদান ও একাত্মতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তঃসম্পর্ককে ইকোলজি বলে।
- ইকোলজি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বাড়ি সংক্রান্ত আলোচনা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্মিলিত অবস্থান যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তাই মূলত ইকোলজি।
- Ernest Haeckel নামক জার্মান বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৮৬৯ সালে Ecology শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ইকোলজি হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। 

সূত্র: ১৯ পৃষ্ঠা, পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪০.
অনৈচ্ছিক পেশীর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) হৃদপিণ্ডের পেশী
  2. খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  3. গ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর পৌষ্টিকনালী
  4. ঘ) মানুষের পায়ের পেশী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষের পায়ের পেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষের পায়ের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের পায়ের পেশী হচ্ছে ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ। 

- যে পেশী অনুপ্রস্থে রেখাযুক্ত ও ব্যক্তির ইছামত নিয়ন্ত্রিত হয়,এবং যা দেহের কঙ্কালের উপর থাকে তাকে ঐচ্ছিক পেশী বা কঙ্কাল পেশী বা সরেখ পেশী বলে।

ঐচ্ছিক পেশীর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
(i) এ পেশি কলা প্রাণীর ইচ্ছা অনুসারে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
(ii) এ কোষগুলো দেহের বিভিন্ন অঙ্গে গুচ্ছাকারে থাকে এবং প্রতিটি গুচ্ছ যোজক কলার আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে।
(iii) এ কোষগুলো লম্বা সরু, নিরেট ও আনুবীক্ষণিক দণ্ডের মতো।
(iv) এর কোষগুলো সারকোলেনা নামক প্রোটোপ্লাজম নির্মিত একটি পাতলা আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে।
(v) প্রতিটি পেশি কোষের অভ্যন্তরে অতিসূক্ষ্ম কতকগুলো উপতন্তু বা মায়োফাইব্রিল থাকে এবং মায়োফাইব্রিলগুলোতে কতকগুলো সাদা ও কালো বর্ণের অণুপ্রস্থ রেখা একান্তভাবে বিন্যস্ত থাকে।
(vi) প্রতিটি কোষের সারকোলেমার সংলগ্নে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
(vii) এর সংকোচন প্রসারণ ক্ষমতা দ্রুত ও শক্তিশালী।

কাজ :
(১) ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রের গায়ে সংলগ্ন থেকে প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
(২) এ পেশি বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালন, পেশি নিয়ন্ত্রণ এবং ঐচ্ছিক চলন সম্পাদন করে।
(৩) পেশিগুলোর প্রান্তসমূহ কন্ডনের যা টেন্ডনের সাহায্যে অস্থির সঙ্গে যুক্ত থাকে।

অবস্থান : চোখ, জিহ্বা, হাত ও পায়ে এবং কংকালের গায়ে এ পেশি থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪১.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. টমেটো
  2. ধান
  3. ডাটাশাক
  4. পাট
সঠিক উত্তর:
ডাটাশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাটাশাক
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পাথওয়ে:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪২.
DNA এর ডাবল হেলিক্স স্ট্রাকচার কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  2. খ) রবার্ট ব্রাউন
  3. গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ঘ) রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
ব্যাখ্যা
- ডি এন এ এর পূর্ণরূপ হল ডিঅক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড।
- নিউক্লিয়াসের  ক্রোমোজোমে এর অবস্থান।
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রানসিস ক্রিক ডি এন এ অনুর গঠন বের করতে সক্ষম হয়েছিলো।
- এই আবিস্কারের জন্য তাদেরকে ১৯৬২ সালে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়।
- ডি এন এর গঠন ডাবল হেলিক্স ধরনের যার প্রতি প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪ আর্মস্ট্রং এবং ব্যাস হলো ২০ আর্মস্ট্রং।

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
২,৪৪৩.
মানুষের হৃদপিন্ড কয় প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
মানব হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা এবং বাম আলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ডাইকাসপিড কপাটিকা।
- আর হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪৪৪.
নিচের কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. কোষগুলো গোলাকৃতির
  2. নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
  3. বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে
  4. স্থিতিস্থাপক
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
ব্যাখ্যা


অস্থির বৈশিষ্ট্য:
- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪৫.
পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনগুলো?
  1. A ও D
  2. B ও C
  3. D ও E
  4. K ও E
সঠিক উত্তর:
B ও C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B ও C
ব্যাখ্যা

পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলো হচ্ছে B ও C

ভিটামিন শোষণ:
• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন।
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

২,৪৪৬.
পিত্তরস তৈরি করে-
  1. ক) যকৃৎ
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃৎ
ব্যাখ্যা
যকৃৎ:
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

যকৃতের কাজ:
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৭.
কোন খাদ্য উপাদান মানবদেহে অল্প পরিমাণে প্রয়োজন যাদের অণুখাদ্য বলা হয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. প্রোটিন 
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
 যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪৮.
লবণের দ্রবণে আঙুর রাখলে তা চুপসে যায় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) অন্তঃঅভিস্রবণ
  3. গ) বহিঃঅভিস্রবণ
  4. ঘ) ইমবাইবিশন
সঠিক উত্তর:
গ) বহিঃঅভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহিঃঅভিস্রবণ
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ দু'ধরনের

(১) অন্তঅভিস্রবণঃ

দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঅভিস্রবণ ঘটে। অন্তঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরােমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শােষণ করতে পারে। উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

(২) বহিঅভিস্রবণঃ দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঅভিস্রবণ ঘটে। টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিম্বা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

অন্তঅভিস্রবণ এবং বহিঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যক্রমের ফলে উদ্ভিদের কোষ থেকে কোষান্তরে পানির চলাচল ঘটে।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,৪৪৯.
বৃষ্টির পানিতে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন কে
  4. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। 
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। 
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস। 
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে। 
- স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো- ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন E ও ভিটামিন K . 
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন C

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবংবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫০.
স্পিরলিনা কী?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
খ) শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শৈবাল
ব্যাখ্যা
- সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরােফিলযুক্ত ও স্বভােজী উদ্ভিদরাই শৈবাল।
- এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে।
- এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।
- এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না।
- এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে।
- ‘স্পাইরােগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়।
- স্পিরলিনা এক ধরনের নীলাভ সবুজ শৈবাল।
- সামুদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- আয়ােডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
- মৎস্য চাষে ফাইটোপ্লাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে এর প্রধান অংশই শৈবাল।
- চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রােগ।
- পুকুরে শৈবাল ওয়াটাররুম সৃষ্টি করে ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৪৫১.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. রুটি শিল্পে
  2. মদ্য শিল্পে
  3. এক কোষীয় প্রোটিন শিল্পে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইস্ট:
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
২,৪৫২.
বাংলাদেশ কোন প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) ওরিয়েন্টাল
  2. খ) নিওট্রপিক্যাল
  3. গ) নিআর্কটিক
  4. ঘ) প্যালিআর্কটিক
সঠিক উত্তর:
ক) ওরিয়েন্টাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরিয়েন্টাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গপুর, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি এলাকাসমূহ ওরিয়েন্টাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকা ও অধিকাংশ মধ্য আমেরিকা এলাকা নিওট্রপিক্যাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড নিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- সম্পূর্ণ ইউরোপ, আফ্রিকার উত্তরাংশ ইত্যাদি এলাকা প্যালিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৪৫৩.
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ধরনের
ব্যাখ্যা

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৫৪.
কোনটি প্রাণীকোষে অনুপস্থিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) লাইসোজোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
  5. ঙ) ক্রোমাটিন তন্তু
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা
কোষপ্রাচীর ও প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষে থাকে কিন্তু প্রাণীকোষে থাকে না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,৪৫৫.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক।
  2. এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের।
  3. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
  4. এদের মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫৬.
পটাশ সমৃদ্ধ জৈব সার-
  1. কচুরিপানার ছাই
  2. হাড়ের গুঁড়ো
  3. সরিষার খৈল
  4. মাছের কাঁটা
সঠিক উত্তর:
কচুরিপানার ছাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচুরিপানার ছাই
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার: সরিষার খৈল, তিল-তিসি-বাদামের খৈল, শুকনো রক্ত ইত্যাদি।
• ফসফরাস সমৃদ্ধ সার: হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো ইত্যাদি।
• পটাশ সমৃদ্ধ সার: কচুরিপানার ছাই, কাঠের ছাই ইত্যাদি।

২,৪৫৭.
কোন প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে?
  1. তেলাপোকা
  2. ব্যাঙ
  3. হাইড্রা
  4. মাছ
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
Arthropoda পর্ব: 
- এরা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

Arthropoda পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- এ পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,৪৫৮.
প্রকৃত ফলের বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
  2. খ) গর্ভমুন্ড ফলে পরিণত হয়
  3. গ) পরাগধানী ফলে পরিণত হয়
  4. ঘ) গর্ভদন্ড ফলে পরিণত হয়
সঠিক উত্তর:
ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা
শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন- আম, জাম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৪৫৯.
নিচের কোনটি বহু মনোমারবিশিষ্ট বা পলিমার শর্করা?
  1. গ্লুকোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. সুক্রোজ
  4. ল্যাকটোজ
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা
উদাহরণ: - গ্লুকোজ
উৎস: - মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
উদাহরণ:- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎস: - চিনি ও দুধ ইত্যাদি

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা
উদাহরণ: - শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎস: -  চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি

উৎস: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই (পৃষ্ঠা - ৯২)।
২,৪৬০.
নিচের কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ক) পিঁপড়া
  2. খ) শুশুক
  3. গ) লিমুলাস
  4. ঘ) উটপাখি
সঠিক উত্তর:
গ) লিমুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণি, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।

অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সূত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৬১.
জিনের যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যালিল
  2. জেনোটাইপ
  3. ক্রোমোজোম
  4. নিউক্লিওটাইড
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
ব্যাখ্যা
অভিব্যক্তি (Evolution): 
- জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে জৈব অভিব্যক্তি বা Evolution. 
- ল্যাটিন শব্দ 'Evolveri' থেকে Evolution শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন। 
- এক সময় বলা হতো, যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দিয়ে কোনো সরলতর নিম্নশ্রেণির জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে। 
- তবে জৈব অভিব্যক্তির সব সময় ধীর গতিতে ঘটে না, পরিবেশের কারণে অনেক সময় দ্রুত ঘটতে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, জৈব অভিব্যক্তির কারণে জটিল জীব সরলতর রূপ নিয়েছে তারও উদাহরণ আছে। 
- মেক্সিকান কেভ ফিশ পানির উপরের স্তর থেকে সরে গিয়ে গভীর পানিতে অন্ধকার গুহায় বাস করতে শুরু করার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। কাজেই এখন ইভোলিউশনের সংজ্ঞা জিনের অ্যালিলের মাধ্যমে দেওয়া হয় (একটি নির্দিষ্ট জিন একাধিকভাবে থাকতে পারে, তখন সেই জিনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপকে তার অ্যালিল বলা হয়)। 
- কার্টিস-বার্নস (1989) প্রদত্ত আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, ইভোলিউশন বা জৈব অভিব্যক্তি হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক কিংবা কাছাকাছি প্রজাতির অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৬২.
নিচের কোনটি পৌষ্টিকনালির অংশ নয়?
  1. মুখগহ্বর
  2. গলবিল
  3. পাকস্থলী
  4. প্লিহা
সঠিক উত্তর:
প্লিহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লিহা
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকনালি:
- মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথ কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত।
- এর প্রধান অংশগুলো নিম্নরূপ:
• মুখ, 
• মুখগহ্বর, 
• দাঁত, 
• গলবিল, 
• অন্ননালি, 
• পাকস্থলী, 
• অন্ত্র,
• পায়ু। 

অন্যদিকে, 
- প্লিহা হলো রেটিকুলোএন্ডোথেলিয়াল তন্ত্রের অংশ

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৬৩.
দুইটি বা ততোধিক নিউরন বা স্নায়ুকোষের সংযোগস্থলকে কি বলে?
  1. ক) টেলোডেনড্রিয়া
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) অ্যাক্সন
  4. ঘ) সিন্যাপস
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
দুইটি বা ততোধিক নিউরনের সংযোগস্থলকে বলে সিন্যাপস, যেখানে এদের সংকেত বিনিময় হয়। মূলত একটি নিউরনের অ্যাক্সন এবং অপর একটি নিউরনের ডেনড্রাইটের মিলনস্থলকে সিন্যাপস বলে। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪৬৪.
আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু কোথায় দেখা যায়?
  1. হাড়ের ম্যাট্রিক্স
  2. বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল
  3. বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা
  4. অন্ত্রের প্রাচীর
সঠিক উত্তর:
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু দেখা যায়।

• প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:
- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

• আবরণী টিস্যু:
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।

• কাজ
- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে।
- ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
- এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ:
কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়।
- যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।

• কাজ
- প্রধানত ছাকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়।
- যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।

• কাজ-
- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা।
- যেমন- প্রাণীদের অস্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।

• কাজ-
- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৫.
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় -
  1. ০.৫-১.০ কেজি
  2. ২.০-৩.০ কেজি
  3. ১.৫-২.০ কেজি
  4. ৪.০-৫.০ কেজি
সঠিক উত্তর:
১.৫-২.০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৫-২.০ কেজি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। 
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। 
- পিত্তরসে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 

কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। 
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৬.
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. এনজিওপ্লাস্টি
  2. রেডিও আইসোটোপ
  3. এমআরআই
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
ব্যাখ্যা
• হৃদরোগের চিকিৎসায়  "এনজিওপ্লাস্টি" ব্যবহৃত হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি:

- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া।
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিন্ডের রক্তনালীর মধ্যের চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়।
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়।
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়।
- এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়।
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এমআরআই:
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।

• রেডিও আইসোটোপ:
- রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
২,৪৬৭.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. Pisciculture
  2. Prawn culture
  3. Mariculture
  4. Sericulture
সঠিক উত্তর:
Mariculture
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mariculture
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষবিদ্যা:
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়।

অন্যদিকে,
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়।
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়।
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,৪৬৮.
ইনসুলিন কি?
  1. ক) এক ধরনের এনজাইম
  2. খ) এক ধরনের হরমোন
  3. গ) এক ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ
  4. ঘ) এক ধরনের অস্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের হরমোন
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়। কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই৷

২,৪৬৯.
বহিঃশ্বসন কোথায় ঘটে? 
  1. পাকস্থলীতে
  2. রক্তনালিতে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internall respiration) । 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 

- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭০.
নিচের কোনটি টমেটোর রং লাল হবার জন্য দায়ী?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজোম
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র সৃষ্টি করে৷ ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে৷ টমেটোর যে লাল রঙ তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়ে থাকে৷
ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারন করে৷
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,৪৭১.
আখ গাছের জন্য ক্ষতিকর-
  1. বিছাপোকা
  2. লার্ভা
  3. মাজরা পোকা
  4. শুয়াপোকা
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
ব্যাখ্যা
- আখে বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- লাল পচা, নেতিয়ে পড়া, ক্লোরোসিস, লাল রেখা ইত্যাদি এবং বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- উইপোকা, ডগার মাজরা পোকা, কান্ডের মাজরা পোকা ইত্যাদির আক্রমণ হয়ে থাকে।
- উচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত উপযুক্ত পদ্ধতিতে এ সব রোগ এবং পোকা মাকড় দমন করা আবশ্যক। 

উৎস: ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪৭২.
Master gland বলা যা কোনটিকে?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. যকৃত
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পিটুইটারী
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারী
ব্যাখ্যা

• Master gland (মাস্টার গ্রন্থি):
- মানবদেহের যে গ্রন্থিটি শরীরের অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে Master gland বলা হয়।
- এটি বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপিত বা নিয়ন্ত্রিত করে।
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও হরমোনীয় সমন্বয়ে এই গ্রন্থিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- এজন্য একে অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের “নিয়ন্ত্রক গ্রন্থি” বলা হয়।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি Master gland নয়।

• যকৃত (Liver):
- যকৃত দেহের বিপাকীয় কাজ, পিত্তরস উৎপাদন ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
- এটি হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান গ্রন্থি নয়।
- তাই একে Master gland বলা হয় না।

• অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland):
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অ্যাড্রিনালিন, কর্টিসল ইত্যাদি হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি দেহের স্ট্রেস ও জরুরি অবস্থায় কাজ করে।
- কিন্তু এটি অন্য গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

• পিটুইটারী গ্রন্থি (Pituitary gland):
- পিটুইটারী গ্রন্থি শরীরের প্রায় সব অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, গনাড ইত্যাদি গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- এই কারণেই একে Master gland বলা হয়।

সঠিক উত্তর: ঘ) পিটুইটারী। 

সূত্র - sciencedirect journal.

২,৪৭৩.
উদ্ভিদের পুষ্পধারণের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে বলে-
  1. ক) ফসফোরাইলেশন
  2. খ) ফটোপিরিওডিজম
  3. গ) রেস্পিরেশন
  4. ঘ) ফটোলাইসিস
সঠিক উত্তর:
খ) ফটোপিরিওডিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফটোপিরিওডিজম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফটোপিরিওডিজমের গুরুত্ব অপরিসীম। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এক ঋতুর ফসল অন্য ঋতুতে ফলানো সম্ভব। এক ঋতুর ফসল উত্পন্ন ও বাজারজাত করে ভিন্ন মৌসুমের ফসল হিসেবে প্রচুর আয় করা সম্ভব। সূত্রঃ প্রথম আলো।
২,৪৭৪.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ?
  1. হাম
  2. জন্ডিস
  3. জলবসন্ত
  4. টাইফয়েড
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। 

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান. 

২,৪৭৫.
মানুষের রক্তের pH মান সাধারণত কত?
  1. ৭.৩–৭.৪
  2. ৬.৫–৭.০
  3. ৫.৮–৬.০ 
  4. ৮.৫–৮.৯
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭৬.
মানুষের দেহে কয় জোড়া লালাগ্রন্থি আছে?
  1. ক) ২ জোড়া
  2. খ) ৩ জোড়া
  3. গ) ৪ জোড়া
  4. ঘ) ৫ জোড়া
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে।

- এদের মধ্যে দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া, চোয়ালের নিচে এবং চিবুকের নিচে এক জোড়া করে মোট দুই জোড়া, এই তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে। 
- লালা হল এটি আর্দ্র রাখার জন্য মুখের মধ্যে প্রকাশ করা হয় এবং এনজাইম আছে যা খাদ্য ভেঙ্গে শুরু হয় ।
- এছাড়া মুখ ও গলার সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে লালা ।
- জিভের নীচে, মুখের পাশে (গালে এলাকায়) শুধু কানের সামনে, দাঁত ও নরম তালু বরাবর উপরের চোয়ালের এলাকায়, পাশাপাশি জাহাড়ের নীচে থাকা বিভিন্ন ধরনের লালা গ্রন্থির স্তবক রয়েছে ।
- উচ্চ পরিপাক নালীর শ্লেষ্মা (টিস্যু আস্তরণের) এবং শ্বাসনালী অংশ মধ্যে লালা গ্রন্থি ছোট ক্লাস্টার উপস্থিত হয় ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৪৭৭.
অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে কোন অবস্থা দেখা দেয়? 
  1. থ্রম্বোসাইটোসিস
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. পারপুরা 
  4. পলিসাইথেমিয়া
সঠিক উত্তর:
পারপুরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারপুরা 
ব্যাখ্যা

- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যে অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দেয়, তা হলো থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia), যার একটি উদাহরণ হলো রক্তক্ষরণজনিত রোগ পারপুরা (Purpura)

- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
যেমন-
- রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা নিম্নে দেওয়া হলো- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে, একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্ত নালিতে রক্ত জমাট বাধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- এই রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৭৮.
কোনটি গঠনমূলক খাদ্য উপাদান?
  1. রাফেজ
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে আমিষ (Protein)-কে দেহ গঠনকারী বা গঠনমূলক উপাদান বলা হয়। কারণ এটি শরীরের কোষ গঠন, টিস্যু মেরামত, পেশি তৈরি এবং বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
- অন্যদিকে, ভিটামিন ও খনিজ লবণ মূলত দেহ সংরক্ষক উপাদান (Protective foods)।
- রাফেজ হজমে সহায়তা করে।

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

যথা:
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পুরণ করে।
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন:
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৭৯.
দ্বিপদ নামকরণের ভাষা হবে -
  1. ল্যাটিন
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণের নীতিমালা: 
- কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে দ্বিপদ নামকরণ করা হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ বর্তমানে ICN - International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN - International Code of Zoological Nomenclature এর নীতিমালা অনুযায়ী। 

নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন। 
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দুইটি অংশ (পদ) থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতির পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতির পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক (ডানদিকে একটু বাঁকা) বা মোটা অক্ষরে হবে।
- হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দুইঅংশে দুইটি টানা দাগ দিতে হবে।
যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮০.
পরিবেশ ও জীবদেহের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যাকে কী বলে?
  1. বায়োলজি
  2. সোসিওলজি
  3. এনভায়রনমেন্ট
  4. ইকোলজি
সঠিক উত্তর:
ইকোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকোলজি
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে ইকোলোজি  বলে। 
- ইকোলজি হলো বাস্তুসংস্থান।
- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ আদান-প্রদান ও একাত্মতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তঃসম্পর্ককে ইকোলজি বলে।
- ইকোলজি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বাড়ি সংক্রান্ত আলোচনা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্মিলিত অবস্থান যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তাই মূলত ইকোলজি।
- Ernest Haeckel নামক জার্মান বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৮৬৯ সালে Ecology শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ইকোলজি হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। 

তথ্যসূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪৮১.
প্রতিটি বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা কোন ধরনের ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে?
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিটোনিয়াম
  3. গ) মধ্যচ্ছদা
  4. ঘ) পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) পেরিটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
বৃক্ক:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত।
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে।
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।  

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪৮২.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিনাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়। জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

- শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় ক্যারোলাস লিনিয়াসকে।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই

২,৪৮৩.
মানুষের ক্রোমোজোমের মধ্যে কত জোড়া অটোসোম থাকে?
  1. ২২
  2. ২৪ 
  3. ২০ 
  4. ২৩ 
সঠিক উত্তর:
২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৪.
উদ্ভিদে উপস্থিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম কী ধরনের কোষকলা?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) সরল টিস্যু
  3. গ) নিঃস্রাবী টিস্যু
  4. ঘ) ক্ষরণকারী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল টিস্যু
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। এরা একত্রে টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৪৮৫.
Mpox (monkeypox) কী?
  1. ভাইরাসজনিত রোগ
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত রোগ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসজনিত রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসজনিত রোগ
ব্যাখ্যা
Monkeypox:
- মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত প্রাণীজাত (জুনোটিক) রোগ।
- মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে অর্থোপক্স ভাইরাস।
- এ জাতির ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে গুটিবসন্ত ও কাউপক্স।
- এ জন্য মাঙ্কিপক্সের সাথে গুটিবসন্ত বা স্মলপক্সের মিল দেখা যায়।
- আবার মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রয়েছে দু’টো ক্লেড বা উপজাতি।
- দুটি ভিন্ন ক্লেড বিদ্যমান: ক্লেড-১ এবং ক্লেড-২।
- একটি হচ্ছে মধ্য আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ১০% পর্যন্ত হতে পারে।
- আরেকটি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যু তেমন হয়নি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের একটি বিজ্ঞানাগারে এক বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বলে একে মাঙ্কিপক্স বলা হয়।
- এ নামটি বদল করে নতুন বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়ার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে।
- কারণ এ নাম থেকে মনে হতে পারে বানরই এ রোগের জন্য দায়ী, যা সঠিক নয়।
- এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ১৯৭০ সাল থেকে প্রধানত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার ১১টি দেশে দেখা যায়।
- ২০২২-২৩ সালে ক্লেড IIb নামে পরিচিত একটি স্ট্রেন দ্বারা mpox-এর একটি বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
- আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে আর এতে ৪৫০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

⇒ লক্ষণ:
- এর সাধারণ লক্ষণগুলি হলো ত্বকের ফুসকুড়ি বা মিউকোসাল ক্ষত যা জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কম শক্তি এবং ফোলা লিম্ফ নোড সহ ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
- Mpox সংক্রামক, দূষিত পদার্থ বা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে।

⇒ প্রতিকার:
- গুটিবসন্তের জন্য উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিকস এবং কিছু দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কিছু পরিস্থিতিতে mpox- এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
- Mpox আছে এমন কারো সাথে শারীরিক যোগাযোগ এড়িয়ে Mpox প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
- টিকা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

উৎস: World Health Organization.
২,৪৮৬.
'হিমোগ্লোবিন' কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. ভিটামিন
  4. ফ্যাট
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
• হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন আমিষ/প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান-দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
২,৪৮৭.
জীববৈচিত্র্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।

বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৮.
কোন গ্রুপের রক্তে a ও b উভয় ধরনের এন্টিবডি থাকে?
  1. গ্রুপ O
  2. গ্রুপ AB
  3. গ্রুপ B
  4. গ্রুপ A
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ O
ব্যাখ্যা
• রক্তের গ্রুপ:
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে।
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে।
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়।
যেমন-
• গ্রুপ A:
এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে।

• গ্রুপ B:
এশ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে।

• গ্রুপ AB:
এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না।

• গ্রুপ O:
এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে।

উল্লেখ্য,
- O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)।
- AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৯.
নিচের কোনটি প্রাণী শ্রেণীবিন্যাসের ধাপ নয়?
  1. ক) শ্রেণি
  2. খ) গোত্র
  3. গ) দল
  4. ঘ) প্রজাতি
সঠিক উত্তর:
গ) দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দল
ব্যাখ্যা
বর্তমানে প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা-
1. Kingdom (রাজ্য)
2. Phylum (পর্ব)
3. Class (শ্রেণি)
4. Order (বর্গ)
5. Family (গোত্র)
6. Genus (গণ)
7. Species (প্রজাতি)

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯০.
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথম কোন প্রাণীর জিন নকশা উন্মোচন করেন?
  1. ক) ছাগল
  2. খ) মহিষ
  3. গ) ভেড়া
  4. ঘ) হাঁস
সঠিক উত্তর:
খ) মহিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহিষ
ব্যাখ্যা

প্রাণী হিসেবে প্রথম মহিষের জিন নকশা উন্মোচনে সফলতা লাভ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
বেসরকারি কোম্পানি লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেড চীনের বেইজিং জেনোম ইনস্টিটিউটের (বিজেআই) সহায়তায় ২০১৪ সালে এই সফলতা অর্জন করে।
মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচনের এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান উয়াং এবং লাল তীরের বিজ্ঞানী মো. মনিরুজ্জামান। মোট ১৪ জন বিজ্ঞানী দুই বছর তিন মাস সময় ধরে এই গবেষণাটি করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচিত করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: প্রথম আলো ও banglanews24.com

২,৪৯১.
হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে বাইরের স্তর কোনটি?
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
এপিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশীকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯২.
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা কোনটির প্রধান কাজ? 
  1. নিউক্লিয়াস
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোসোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

অন্যদিকে, 
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়। 
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা। হয়। 
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৩.
মায়োটম পেশী থাকে কোথায়? 
  1. Urochordata
  2. Cephalochordata
  3. Vertebrata
  4. Cyclostomata
সঠিক উত্তর:
Cephalochordata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cephalochordata
ব্যাখ্যা

মায়োটম পেশী (Myotome):
- মায়োটম হলো ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন খণ্ডিত পেশী।
- এটি দেহের পার্শ্বদেশে V বা W আকৃতির পেশীখণ্ড হিসেবে সাজানো থাকে।
- মায়োটম মূলত দেহের চলন ও সাঁতারে সাহায্য করে। - এই পেশী সাধারণত কর্ডেট প্রাণীদের দেহে খণ্ডিত আকারে দেখা যায়।
- মায়োটম পেশী নটোকর্ডের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে।

Cephalochordata-তে মায়োটম পেশী:
- Cephalochordata পর্বের প্রাণী যেমন Amphioxus (Branchiostoma)-এ মায়োটম পেশী অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
- এদের দেহে সারাজীবন খণ্ডিত মায়োটম পেশী বিদ্যমান থাকে।
- মায়োটম পেশীর সাহায্যে এরা দক্ষভাবে সাঁতার কাটতে পারে।
- Cephalochordata-কে মায়োটম পেশীর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যান্য অপশনের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
- Urochordata-তে লার্ভা অবস্থায় কিছু পেশী দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গ মায়োটম সুস্পষ্ট নয়।
- Vertebrata-তে মায়োটম ভ্রূণীয় অবস্থায় থাকলেও পরিণত অবস্থায় তা পরিবর্তিত হয়।
- Cyclostomata-তে মায়োটম আংশিকভাবে দেখা গেলেও Cephalochordata-এর মতো স্পষ্ট নয়।

সুতরাং, মায়োটম পেশী প্রধানত ও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় Cephalochordata পর্বে।

সঠিক উত্তর: খ) Cephalochordata.

সূত্র - sciencedirect journal.

২,৪৯৪.
জেরোফথ্যালমিয়া নামক রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়? 
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'বি'
  3. ভিটামিন 'সি'
  4. ভিটামিন 'ডি'
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 'এ'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন 'এ'
ব্যাখ্যা

রাতকানা (Night Blindness): 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) নামক রোগ হয়
অর্থাৎ, এই রোগের সর্বনিম্ন মাত্রা রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাব পূরণ না হলে রোগটির মাত্রা ও তীব্রতা বাড়তে থাকে। 
- জেরোফথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মাত্রা হচ্ছে রাতকানা। 
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। 
- এতে চোখের সংবেদী 'রড' কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বল্প আলোতে ভালো দেখতে পায় না, চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখা যায়। 
- রোগটা বেড়ে গেলে কর্নিয়া ঘোলাটে হয়ে যায়। 
- রাতকানা দশা থেকে শুরু করে চতুর্থ বা পঞ্চম মাত্রার জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ'-সহ কিছু ওষুধ প্রয়োগে ভালো হয়, কিন্তু রোগ চূড়ান্ত মাত্রায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছে গেলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার ছাড়া আর তেমন কিছু করার থাকে না। 
- এই রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন: মাছের যকৃতের তেল, কলিজা, সবুজ শাকসবজি, রঙিন ফল (পাকা আম, কলা ইত্যাদি) ও সবজি (মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি) এবং মলা-ঢেলা মাছ খাওয়া উচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৯৫.
মানব দেহে সাধারণভাবে অটোজোম থাকে -
  1. ক) ২৩ জোড়া
  2. খ) ২৪ জোড়া
  3. গ) ২১ জোড়া
  4. ঘ) ২২ জোড়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২২ জোড়া
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- বাকি এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম। যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪৯৬.
মাইটোসিস ঘটে কোনটিতে?
  1. ক) স্নায়ুকোষ
  2. খ) লোহিত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) দেহকোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেহকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেহকোষ
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস ঘটে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু এবং প্রাণীর দেহকোষে৷ প্রাণীর স্নায়ুকোষ, পরিণত স্তন্যপায়ীদের লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা এবং উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর কোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে না৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৪৯৭.
বীজপত্রের সংখ্যা অনুসারে গুপ্তবীজী উদ্ভিদ কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) দুই 
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই 
ব্যাখ্যা
বীজপত্রের সংখ্যা অনুসারে গুপ্তবীজী উদ্ভিদ দুধরণের হয়ে থাকে।
যথা —
একবীজপত্রী উদ্ভিদ, দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।
যেসব উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে , তাদেরকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — ধান , ভুট্টা , গম , তাল , সুপারি , নারকেল ইত্যাদি একবীজপত্রী উদ্ভিদ।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ : যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — আম , জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট, কলা ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
২,৪৯৮.
লিউকোপ্লাস্ট প্লাস্টিডের বর্ণ কীরূপ হয়ে থাকে?
  1. ক) সবুজ
  2. খ) হলুদ
  3. গ) কমলা
  4. ঘ) বর্ণহীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণহীন
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা-
১. ক্লোরোপ্লাস্ট,
২. ক্রোমোপ্লাস্ট এবং
৩. লিউকোপ্লাস্ট।

- লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না,
- ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং
- সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ। ক্লোরোফিল অনুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৯৯.
নিচের কোন উপাদানটির অভাবে গাছের কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়?
  1. ক) বোরন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ম্যাগনেশিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
ব্যাখ্যা

লৌহের অভাবে গাছের কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।
লৌহের অভাবে প্রথমে গাছের কচি পাতার রঙ হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২,৫০০.
পানিবাহিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ডায়রিয়া
  2. টাইফয়েড
  3. ম্যালেরিয়া
  4. আমাশয়
সঠিক উত্তর:
ম্যালেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যালেরিয়া
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ:

• যে সব রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়ায় তাদেরকে পানিবাহিত রোগ বলে।
• পানিবাহিত অনুজীবসমূহ মূলত দেহের পাকস্থলিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভীষ্ট অঙ্গে বা অন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়।
• পানিবাহিত রোগসমূহের মধ্যে - ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

• ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস।

• ভেক্টর বাহিত রোগ:
- মশাঃ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস।
- মাছি:  উদরাময়, আমাশয়, ক্রিমি সংক্রমণ, কালাজ্বর, চ্যাগাস ডিজিস, স্লিপিং সিকনেস, চোখের কৃমি (deer fly)।

অন্যদিকে, 
- যে সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। 
- যেমন: সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।