বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৩ / ৪২ · ২,২০১২,৩০০ / ৪,২০৮

২,২০১.
ডাইব্যাক হয় কিসের অভাবে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) সালফার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে যাকে ডাইব্যাক বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০২.
মানব দেহের কোনটি কোষ অর্জিত প্রতিরক্ষায় জড়িত?
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) T-লিম্ফোসাইট
  3. গ) ম্যাক্রোফেজ
  4. ঘ) নাল কোষ
সঠিক উত্তর:
খ) T-লিম্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) T-লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
• মানব দেহের T-লিম্ফোসাইট কোষ অর্জিত প্রতিরক্ষায় জড়িত।
• মানবদেহে প্রধানত লিম্ফয়েড অঙ্গ ও শ্বেত রক্তকণিকাগুলো দেহের প্রতিরক্ষার কাজে অংশগ্রহন করে থাকে।
- ইমিউন তন্ত্রের লিম্ফয়েড অঙ্গগুলো প্রাথমিক বা মূখ্য ও গৌন অঙ্গ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মানব দেহের যেসব কোষ অর্জিত প্রতিরক্ষায় জড়িত সেগুলো হলো:
১. B-লিম্ফোসাইট (B-Lymphocyte): কোষ অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রস নির্ভর প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করে। 
২. T-লিম্ফোসাইট (T-Lymphocyte): অ্যান্টিবডির মাধ্যমে কোষ নির্ভর প্রতিরক্ষা দিয়ে থাকে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৩.
কোন উদ্ভিদের শ্বাসমূল আছে?
  1. পাইনাস
  2. কেয়া
  3. সুন্দরী
  4. বট
সঠিক উত্তর:
সুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরী
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। 
যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি। 
- সুন্দরী বা গরান উদ্ভিদের শ্বাসমূল আছে। 
- রাস্নায় পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল দেখা যায়। 
- আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
২,২০৪.
Agaricus কোন ধরনের ছত্রাক? 
  1. মৃতজীবী ছত্রাক 
  2. বাতাসজ ছত্রাক 
  3. জলজ ছত্রাক 
  4. জীবন্ত ছত্রাক 
সঠিক উত্তর:
মৃতজীবী ছত্রাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃতজীবী ছত্রাক 
ব্যাখ্যা

- Agaricus একটি মৃতজীবী ছত্রাক। 
- এর সাধারণ নাম মাশরুম। 
- Agaricus মানুষের কাছে 'ব্যাঙের ছাতা' নামেও পরিচিত। 
- Agaricus ভেজা মাটিতে, মাঠে-ময়দানে, কাঠের উপরে, খড়ের গাঁদা, গোবর প্রভৃতি পঁচনশীল জৈব পদার্থের উপর জন্মায়। 
- বৃষ্টির দিনে এরা অধিক পরিমাণে জন্মায়। 
- অনেক সময় সবুজ ঘাসের লনে Agaricus এর কোন কোন প্রজাতি দলবদ্ধভাবে একটি বৃত্তের আকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বৃত্তকে পরিচক্র (Fairy ring) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২০৫.
কোনটি Biological coin নামে পরিচিত? 
  1. FTP
  2. ATP
  3. NADPH
  4. NADH
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৬.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদসমূহকে কয়টি শ্রেণি ভাগ করেন?
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক। তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,২০৭.
ধমনি এবং শিরার মধ্যে কোন পার্থক্যটি সঠিক নয়?
  1. ধমনির প্রাচীর পুরু এবং শিরার প্রাচীর পাতলা
  2. ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
  3. ধমনির গহ্বর ছোট, শিরার গহ্বর বড়
  4. ধমনি দিয়ে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়, শিরা দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়
সঠিক উত্তর:
ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
ব্যাখ্যা
ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৮.
বীজ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কখন শুরু হয়? 
  1. রোপণের সময়
  2. ফসল কাটার পর
  3. চারা রোপণের সময়
  4. বীজ উৎপাদনের সময় থেকে
সঠিক উত্তর:
বীজ উৎপাদনের সময় থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ উৎপাদনের সময় থেকে
ব্যাখ্যা

বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া: 
- বীজ উৎপাদন থেকেই বীজ সংরক্ষণের শুরু এবং জমিতে এর বপন বা রোপণের মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ। 
- বীজ সংরক্ষণ বলতে বীজের উৎপাদন, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকেই বোঝায়। 
- বীজ শস্য উৎপাদনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার- 
১) কেবল বীজের জন্যই ফসলের চাষ করা; 
২) নির্বাচিত জমির আশপাশের জমিতে ঐ নির্দিষ্ট বীজ ফসলের অন্য জাতের আবাদ না করা; 
৩) বীজ উৎপাদনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ সংগ্রহ করা; 
৪) বীজের চারা বৃদ্ধিকালে জমি থেকে ভিন্ন জাতের গাছ তুলে ফেলা; 
৫) বীজের ক্ষেত ঘন ঘন পরিদর্শন করা যাতে (ক) আগাছা দমন (খ) ভিন্ন জাতের গাছ তোলা ও (গ) রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়; 
৬) ফসলের পরিপক্বতার দিকে দৃষ্টি রাখা; 
৭) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ফসল কাটা, মাড়াই করা ও ঝাড়া ইত্যাদি। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২০৯.
হৃদযন্ত্রের প্রসারণকে কী বলে?
  1. সিস্টোল
  2. ডায়াস্টোল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
• হৃদপিন্ড:
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দু'ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃদপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা -
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।
২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।
৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। অন্তঃস্তরটি হৃদপিন্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।

- হৃদপিন্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে।
- এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং
- সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,২১০.
একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষকে বলা হয়-
  1. ক) নেফ্রন
  2. খ) নিউরন
  3. গ) ম্যাক্রোফেস
  4. ঘ) মলিকুলার সেল
সঠিক উত্তর:
খ) নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউরন
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষকে বলা হয় নিউরন।
• নিউরন: স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যকরী একককে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলে। 
- মস্তিষ্ক কোটি কোটি স্নায়ুকোষ (নিউরন) দিয়ে তৈরি। 
- এই একটি মাত্র মানব মগজে রয়েছে ১,০০০ কোটি স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেল। 
- আর এগুলো একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১১.
চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) ভিটামিন ই
  2. খ) ভিটামিন কে
  3. গ) ভিটামিন বি কমপ্লিক্স
  4. ঘ) ভিটামিন এ
সঠিক উত্তর:
গ) ভিটামিন বি কমপ্লিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিটামিন বি কমপ্লিক্স
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১২.
কোন অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে ভ্রূণে স্থানান্তরিত হয়?
  1. IgG
  2. IgD
  3. IgE
  4. IgM
সঠিক উত্তর:
IgG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgG
ব্যাখ্যা

• IgG (Immunoglobulin G) হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে।

অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপেig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দুধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:

- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-( gamma), α-(alpha), µ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-

১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA .
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।

২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে।gD.
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ Ig পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE.
- এটি দুর্লভ।g.
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG.
- রক্ত, লসিকা, অস্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট Ig-এর ৫-১০% IgM.
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

২,২১৩.
নিচে কোনটি ডিএনএ (DNA) এর কাজ?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
  3. কম্পিউটার মেমোরি সংরক্ষণ
  4. কোষের আবরণী গঠন
সঠিক উত্তর:
জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।

• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

২,২১৪.
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিচের কোনটি? 
  1. হুপিংকাশি
  2. সর্দি
  3. জলবসন্ত
  4. হেপাটাইটিস
সঠিক উত্তর:
হুপিংকাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুপিংকাশি
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- বিজ্ঞানী এন.ডব্লিউ.পিরি (N.W. Piri) এবং এফ.সি.বাওডেন (F.C. Bawden) ১৯৩৭ সালে ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে ভাইরাস দেহ গঠিত এই কথা বলেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৫.
ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২ভাগে
  2. খ) ৩ভাগে
  3. গ) ৪ভাগে
  4. ঘ) ৫ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ভাগে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল ধরনের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-

১. ছোট দিনের উদ্ভিদ:
সয়াবিন, আলু, কসমস, ইক্ষু, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি।

২. বড় দিনের উদ্ভিদ:
পালংশাক, লেটুস, আফিম, ঝিঙ্গা, যব ইত্যাদি।

৩. দিন নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
সূর্যমুখী, টমেটো, শসা, কার্পাস, আউশ ধান ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,২১৬.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. Archimedes
  2. Charles Darwin
  3. Oppenheimer
  4. John Dalton
সঠিক উত্তর:
Charles Darwin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Charles Darwin
ব্যাখ্যা
• বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক হলেন চার্লস ডারউইন। তিনি "The Origin of Species" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা "Natural Selection" এর মাধ্যমে প্রজাতির ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করেন। ডারউইনের মতে, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জীবেরা বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য উত্তরসূরিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ে জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। আর্কিমিডিস, ওপেনহেইমার বা জন ডাল্টন বিবর্তন তত্ত্বের সাথে জড়িত নন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) Charles Darwin.

বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৭.
নিচের কোনটিতে আয়োডিন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) এগারিকাসে
  2. খ) মিউকরে
  3. গ) লাইকেনের
  4. ঘ) শৈবালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৈবালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
২,২১৮.
ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন বি ৯
  2. খ) ভিটামিন বি ১
  3. গ) ভিটামিন বি ৬
  4. ঘ) ভিটামিন বি ১২
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন বি ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন বি ৯
ব্যাখ্যা
- ফলিক এসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত এক প্রকার বি ভিটামিন। 
- ফলিক এসিডের অন্য নাম ভিটামিন বি ৯। 

• এর কাজ:
- রক্তকণিকা তৈরিতে অংশ নেয়।
- বংশগতির অন্যতম উপাদান ডিএনএ (DNA) গঠনে কাজ করে।
- কোষ গঠন ও বিভাজনে কাজ করে।

 - কলিজা, মাছ, মাংস, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি এর ভালো উৎস।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; https://www.hsph.harvard.edu/
২,২১৯.
মানব শরীরে অটোজোম কতজোড়া?
  1. ক) ২৩ জোড়া
  2. খ) ২০ জোড়া
  3. গ) ২২ জোড়া
  4. ঘ) ২১ জোড়া
সঠিক উত্তর:
গ) ২২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২২ জোড়া
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- বাকি এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম। যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,২২০.
কোন ধরনের স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশকে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয়? 
  1. সংবেদী স্নায়ু 
  2. মিশ্র স্নায়ু 
  3. মোটর স্নায়ু 
  4. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু 
সঠিক উত্তর:
মোটর স্নায়ু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটর স্নায়ু 
ব্যাখ্যা

করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২২১.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. 8 - 10 mg/dl
  2. 50 - 80 mg/dl
  3. 100 - 200 mg/dl
  4. 200 - 500 mg/dl
সঠিক উত্তর:
100 - 200 mg/dl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
100 - 200 mg/dl
ব্যাখ্যা
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/dl.

• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (HDL)ও  নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL)।
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২২.
কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো জিনগত বৈচিত্র্য। মানুষের শরীরের গঠন, ত্বকের রঙ, চোখের আকৃতি, চুলের গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে জিন বা বংশগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করা মানুষের মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে জিনগত পরিবর্তন ঘটে। এই জিনগত বৈচিত্র্যই মঙ্গোলয়েডদের চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল ও সরু চোখ এবং নিগ্রয়েডদের ঘন কোঁকড়ানো চুল ও গাঢ় ত্বকের রঙের মত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) জিনগত বৈচিত্র্য।


জীব-বৈচিত্র্য:

- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়।
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়।

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।

যথা-
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity):
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
- আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি ।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে।
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৩.
মেসোফিল টিস্যু কোথায় থাকে?
  1. মূলে
  2. মজ্জায়
  3. পাতায়
  4. বীজে
সঠিক উত্তর:
পাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৪.
কোন গ্রন্থি নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে?
  1. ক) শ্বসনতন্ত্র
  2. খ) স্নায়ুতন্ত্র
  3. গ) পরিপাকতন্ত্র
  4. ঘ) রেচনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) পরিপাকতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিপাকতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়। পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২,২২৫.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে ___।
  1. জাইলেম 
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. কর্টেক্স
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।

ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।

ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube), 
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell), 
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber), 
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma), 

অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

২,২২৬.
কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে ইনসুলিন গঠিত ?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৫২টি
  3. গ) ৫৩টি
  4. ঘ) ৫৪টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫১টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন একটি  হরমোন।
ইহা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান হয় গ্লোকোজের উচ্চ মাত্রাকে হ্রাস করে ফলে রক্ত স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লোকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

• ইনসুলিন ৫১টি অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রােটিন ।

অ্যামিনো এসিড (Amino acid) হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক। জৈব এসিডের এক বা একাধিক হাইড্রোজেন পরমাণু অ্যামিনো মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ফলে উৎপন্ন জৈব এসিডকে অ্যামিনো এসিড বলে।


SOURCE: জীব বিজ্ঞান  ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
২,২২৭.
গাছের শারীরিক বৃদ্ধি হয় কোন সারে?
  1. ক) TSP
  2. খ) MP
  3. গ) SSP
  4. ঘ) Urea
সঠিক উত্তর:
ক) TSP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) TSP
ব্যাখ্যা
টিএসপি এবং ইউরিয়া উভয়ই উদ্ভিদের শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে এ ক্ষেত্রে টিএসপি সার উদ্ভিদের শারীরিক বৃদ্ধিতে বেশি ভূমিকা পালন করে। তাই এটিকে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরা হয়েছে। Source: ais.gov.bd
২,২২৮.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়? 
  1. স্ফোনোডন
  2. প্লাটিপাস
  3. ভেড়া
  4. রাজকাঁকড়া
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,২২৯.
লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের কোথায় সঞ্চিত থাকে?  
  1. ফুসফুসে
  2. বৃক্কে
  3. হৃৎপিণ্ডে
  4. প্লীহায়
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৩০.
অনেকগুলো এ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে কী গঠিত হয়?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রোটিন
ব্যাখ্যা
• অনেকগুলো এ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠিত হয়।
- প্রোটিন ছাড়া প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব না। এ জন্য প্রোটিনকে একটি মুখ্য বা প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন মিলে এ্যামাইনো এসিড গঠিত হয়।
- অনেকগুলো এ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে প্রোটিন অণু গঠিত হয়।
- প্রোটিনকে ভাঙ্গলে প্রথমে এ্যামাইনো এসিড এবং সবশেষে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন অণু পাওয়ার যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩১.
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. অভিস্রবণ
  4. ইমবাইবিশন
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে।
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের এই প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

২,২৩২.
তাপমাত্রা 45°C ছাড়ালে শ্বসন হার- 
  1. বেড়ে যায় 
  2. কমে যায় 
  3. বন্ধ হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
কমে যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে যায় 
ব্যাখ্যা

শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 

শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI ও MgCl এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

২,২৩৩.
অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড কতটি?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ২০টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
অ্যামাইনো এসিড: 
- ২০টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- এগুলো হল: লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন। 
- এই আটটি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীর সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২,২৩৪.
প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  2. থাইমাস গ্রন্থি
  3. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
• প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 
• থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়  থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 
• থাইমোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়  থাইমাস গ্রন্থি থেকে।
• অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে।

উৎস - মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, বোর্ড বই
২,২৩৫.
AIDS এর বিস্তার ঘটে না- 
  1. নারী পুরুষের যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
  2. সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে
  3. সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করলে
  4. একই জামা-কাপড় পরিধান করলে
সঠিক উত্তর:
একই জামা-কাপড় পরিধান করলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একই জামা-কাপড় পরিধান করলে
ব্যাখ্যা
• AIDS এর বিস্তার ঘটে না- একই জামা-কাপড় পরিধান করলে।

• AIDS এর বিস্তার:

- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যেমন-
- সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার,
- সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ,
- সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু,
- সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা,
- দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী
- নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ ইত্যাদি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩৬.
কাণ্ডের কোন অংশ থেকে পাতা বের হয়? 
  1. পর্বমধ্য
  2. মুকুল
  3. পর্ব
  4. কাণ্ডের অগ্রভাগ
সঠিক উত্তর:
পর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্ব
ব্যাখ্যা
কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 
১। পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

২। মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল পত্রকক্ষে জন্মে, তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

৩। পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,২৩৭.
গাছের পাতা বেগুনি হয় কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে? 
  1. লৌহের অভাবে
  2. ফসফরাসের অভাবে 
  3. নাইট্রজের অভাবে
  4. ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাসের অভাবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাসের অভাবে 
ব্যাখ্যা
• ফসফরাস (P):
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা-পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।

• ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

• লৌহ (Fe):
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৩৮.
মানুষের দেহের ওজনের প্রায় কত শতাংশ পানি?
  1. ৩০–৪৫%
  2. ৫০–৫৫%
  3. ৬০–৭৫%
  4. ৮০–৯০%
সঠিক উত্তর:
৬০–৭৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০–৭৫%
ব্যাখ্যা

পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। 
- মানুষের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৩৯.
জীবনের ভৌত ভিত্তি কাকে বলে?
  1. প্রোটোপ্লাজম
  2. সাইটোপ্লাজম
  3. কোষপ্রাচীর
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা

পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রোটোপ্লাজম বলে একে জীবনের ভিত্তি বলা হয়।

এর তিনটি অংশ, যথা - কোষ ঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি

২,২৪০.
কোন হরমোনকে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়?
  1. ইনসুলিন
  2. থাইরক্সিন
  3. কর্টিসল
  4. অ্যাড্রেনালিন
সঠিক উত্তর:
কর্টিসল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্টিসল
ব্যাখ্যা
◉ কর্টিসল অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্টিসল হরমোন:
- কর্টিসল হরমোনকে স্ট্রেস হরমোনও বলা হয়।
- মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় এই হরমোন বেড়ে যায়।
- কর্টিসল হল একটি স্টেরয়েড হরমোন।
- কর্টিসল গ্লুকোজ বিপাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
- অ্যাড্রেনালিনও স্ট্রেসের সময় নিঃসৃত হয়, তবে এটি তাৎক্ষণিক "ফাইট-অর-ফ্লাইট" প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
- থাইরক্সিন বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস:
১) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২) National Center for Biotechnology Information.
২,২৪১.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণে অংশ নেয়? 
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট 
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্ট
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট-  উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণে অংশ নেয়। 


উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।

বর্ণের তারতম্য অনুসারে প্লাস্টিডের শ্রেণীবিভাগ মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা লিউকোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্ট।

লিউকোপ্লাস্ট- রঞ্জকবিহীন বর্ণহীন প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের বিভিন্ন বিপাকে অংশ নেয় তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। এরা বর্ণহীন প্লাস্টিড। দেখতে দন্ডাকার বা গোলাকার।

ক্রোমোপ্লাস্ট- অসবুজ রঙিন প্লাস্টিড যারা উদ্ভিদের নানা ধরনের কাজে সাহায্য করে তাদের ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। এরা হলদে ও কমলা রঙের প্লাস্টিড। এতে কমলা রঙের ক্যারোটিন এবং হলুদ রংয়ের জ্যান্থোফিল রঞ্জক থাকে। 

ক্লোরোপ্লাস্ট- সবুজ রঞ্জক যুক্ত প্লাস্টিড যারা সালোকসংশ্লেষে সরাসরি অংশ নেয় তাদের ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। ক্লোরোপ্লাস্টের সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল এবং কমলা রঞ্জক ক্যারোটিন থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,২৪২.
কোনটি প্রাণীপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1. কদম 
  2. ধান 
  3. জবা 
  4. সরিষা 
সঠিক উত্তর:
কদম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদম 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগ স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। 
- যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এ সময়ে ঐ ফুলের পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাহকটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগ পরবর্তী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়, এভাবে পরাগায়ন ঘটে। 

প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন: 
- প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। 
যেমন: কদম, শিমুল, কচু ইতাদি। 

অন্যদিকে, 
- ধান বায়ুপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ। 
- জবা ও সরিষা পতঙ্গপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৪৩.
এক্স সিটু কনজারভেশন এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ন্যাশনাল পার্ক
  2. খ) অভায়ারণ্য
  3. গ) বোটানিক গার্ডেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বোটানিক গার্ডেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বোটানিক গার্ডেন
ব্যাখ্যা
ইন সিটু কনজারভেশন (In situ conservation) : মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু কনজারভেশন বলে।
যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ সুন্দরবনের কর্দমাক্ত, লবণাক্ত ও সিক্ত পরিবেশে জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দরবনে বিচরণ করে। সুন্দরী গাছ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের এরূপ বাস্তুতন্ত্রে সংরক্ষণ করা হলো ইন সিটু কনজারভেশন।
ন্যাশনাল পার্ক, অভয়ারণ্য ও মৎস্য অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ইন সিটু পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যায়।

এক্স সিটু কনজারভেশন (Ex situ conservation) : জীববৈচিত্র্যের উপাদানসমূহকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাই হলো এক্স সিটু কনজারভেশন। যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হলো এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৪৪.
স্নেহ পদার্থ কোনটির সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড ও ফলিক এসিড
  2. খ) ফলিক এসিড ও গ্লিসারল
  3. গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
  4. ঘ) ফ্যাটি এসিড ও থায়ামিন
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
ব্যাখ্যা
- স্নেহ পদার্থকে শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান বলা হয়।
- স্নেহ পদার্থে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
- কার্বনের দহন ক্ষমতা বেশি থাকায় স্নেহ পদার্থের অণু থেকে বেশি তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
- স্নেহ পদার্থ ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ।
- স্নেহ পদার্থ পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
- স্নেহ পদার্থে ২০ প্রকার চর্বি জাতীয় এসিড পাওয়া যায়।
- চর্বি জাতীয় এসিড দুই প্রকার। যথা- ১. অসম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় এসিড ও ২. সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় এসিড।

সূত্র- ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২,২৪৫.
Identify the mineral whose deficiency is associated with goitre.
  1. Sulfur
  2. Iodine
  3. Chromium
  4. Molybdenum
  5. Nickel
সঠিক উত্তর:
Iodine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Iodine
ব্যাখ্যা
- 'আয়োডিন' -এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। 

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের ৬টি উপাদান শর্করা, স্নেহ পদার্থ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবন এবং পানি প্রধানত আমাদের দেহে ৩টি কাজ করে। 
১. বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ। 
২. তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান। 
৩. রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা প্রদান। 

খনিজ লবন: 
- কয়েক রকমের খনিজ পদার্থ রয়েছে, খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য। 
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। 
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং সামুদ্রিক মাছ ও লবনে আয়োডিন পাওয়া যায়। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ, লৌহের অভাবে রক্তশূন্যতা, ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেটস ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪৬.
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?
  1. ক) গৃহস্থালির ছাই
  2. খ) হাড়ের গুঁড়ো
  3. গ) সরিষার খৈল
  4. ঘ) মাছের কাঁটা
সঠিক উত্তর:
গ) সরিষার খৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরিষার খৈল
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার: সরিষার খৈল, তিল-তিসি-বাদামের খৈল, শুকনো রক্ত ইত্যাদি।
• ফসফরাস সমৃদ্ধ সার: হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো ইত্যাদি।
• পটাশ সমৃদ্ধ সার: কচুরিপানার ছাই, কাঠের ছাই ইত্যাদি।

২,২৪৭.
মানুষের রক্তে pH কত?
  1. ৫.৪
  2. ৬.৪
  3. ৭.৪
  4. ৮.৪
সঠিক উত্তর:
৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৪
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্ত:
- মানুষের রক্তে pH ৭.৪।
- রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
- মানুষের দেহে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
- রক্ত মানুষের দেহের ৮%।
- রক্তের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা,
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
২,২৪৮.
নিচের কোন উদ্ভিদটি পতঙ্গ পরাগী ফুলের উদাহরণ? 
  1. কুমড়া
  2. ধান
  3. পাতা শ্যাওলা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
• পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

• বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

• পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

• প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪৯.
স্পোর উৎপাদন কিসে সাহায্য করে? 
  1. জীবাণুদের বৃদ্ধিতে
  2. খাদ্য উৎপাদনে
  3. উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
  4. জনন কোষের সৃষ্টিতে
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
ব্যাখ্যা
প্রজনন বা জনন: 
- যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। 
- প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-অযৌন ও যৌন জনন। 

অযৌন জনন: 
- যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। 
- নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। 
- অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন। 

ক) স্পোর উৎপাদন: 
- প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। 
- উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে, এদের অণুবীজথলি বলে। 
- একটি অণুবীজথলিতে সাধারণত অসংখ্য অণুবীজ থাকে, তবে কখনো কখনো একটি খলিতে একটি অণুবীজ থাকতে পারে। 
- থলির বাইরেও অণুবীজ উৎপন্ন হয়, এদের বহিঃঅণুবীজ বলে। বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে। 
- Mucor এ থলির মধ্যে অসংখ্য অণুবীজ উৎপন্ন হয়। 
- Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। 

খ) অঙ্গজ জনন: 
- কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে। 
- এ ধরনের জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়। 
- যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,২৫০.
দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. সয়াবিন
  2. তামাক
  3. আফিম
  4. কার্পাস
সঠিক উত্তর:
আফিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফিম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫১.
কোষ প্রাচীর এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো-
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. পলিস্যাকারাইড
  4. পেকটিন
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
কোষ প্রাচীর: 
- প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর। 
- এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। 
- এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ। 
- তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে। 
- কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। 
যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর। 

অন্যদিকে, 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।  
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। 
- শৈবাল এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫২.
জীব-বৈচিত্র্যের কোন প্রকারটি একই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়? 
  1. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  2. জিনগত বৈচিত্র্য
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুসংস্থানগত বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৩.
করোটিকার অস্থিসন্ধি কোন ধরনের অস্থিসন্ধি?
  1. নিশ্চল অস্থিসন্ধি
  2. ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি
  3. পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি
  4. সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিশ্চল অস্থিসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্চল অস্থিসন্ধি
ব্যাখ্যা
• করোটিকার অস্থিসন্ধি নিশ্চল ধরনের অস্থিসন্ধি। 

• অস্থিসন্ধি:

- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলা হয়। 

• প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- অস্থিসন্ধি বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

• অস্থিসন্ধির প্রকারভেদ:
→ নিশ্চল অস্থিসন্ধি (Fixed Joint): নিশ্চল অস্থিসন্ধিগুলো অনড়, অর্থাৎ এগুলো নাড়ানো যায় না। যেমন- করোটিকা অস্থিসন্ধি।

→ ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি: এসব অস্থিসন্ধি একে অন্যের সাথে সংযুক্ত থাকলেও সামান্য নাড়াচাড়া করতে পারে, ফলে আমরা দেহকে সামনে, পিছনে এবং পাশে বাঁকাতে পারি।
যেমন- মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি।

→ পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি: এ সকল অস্থিসন্ধি সহজে নড়াচড়া করানো যায়। এ জাতীয় অস্থিসন্ধির মধ্যে বল ও কোটরসন্ধি, কবজাসন্ধি প্রধান।
যেমন- সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি।
• পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি ২ প্রকার।
যথা- (i) বল ও কোটরসন্ধি,
(ii) কব্জা সন্ধি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,২৫৪.
কোনটি সুষম খাদ্যের উপাদান?
  1. ক) পানি
  2. খ) খনিজ লবণ
  3. গ) চর্বি
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি।যেমন-
শর্করা
আমিষ
চর্বি
ভিটামিন
খনিজ লবণ 
পানি


উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,২৫৫.
কোনটির স্বীকৃত নিয়ম অনুসারে প্রাণীর নামকরণ করা হয়?
  1. ক) ICDN
  2. খ) ICNU
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) ICZN
সঠিক উত্তর:
ঘ) ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ICZN
ব্যাখ্যা

- আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল।
- নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৫৬.
কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়? 
  1. ডেঙ্গু
  2. জলাতঙ্ক
  3. কলেরা
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা
সঠিক উত্তর:
কলেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলেরা
ব্যাখ্যা
ভাইরাস: 
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। 
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। 
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। 

অন্যদিকে, 
- কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৭.
রক্ত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. প্লীহায়
  2. হৃৎপিণ্ডে
  3. যকৃতে
  4. লাল অস্থিমজ্জায়
সঠিক উত্তর:
লাল অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম। 
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা- 
- লোহিত রক্ত কণিকা, 
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা।  

- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।
২,২৫৮.
রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়ায় কোন অজৈব আয়নটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? 
  1. K+
  2. Mg2+
  3. Ca2+
  4. Na2+
সঠিক উত্তর:
Ca2+
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca2+
ব্যাখ্যা

- ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) রক্ত তঞ্চন (রক্ত জমাট বাঁধা) প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অজৈব আয়ন। এটি বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টরকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যার মধ্যে প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে রূপান্তর করা এবং ফাইব্রিনোজেন থেকে ফাইব্রিন নামক অদ্রবণীয় প্রোটিন সূত্র তৈরি করা প্রধান। এই ফাইব্রিন সূত্রগুলোই মূলত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে জালকের মতো কাঠামো তৈরি করে। 

অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট: 
- ইংরেজিতে অণুচক্রিকাকে প্লেইটলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে। এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থি মজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ।  
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ; অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়। 

- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। 
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রোম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে।  এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রোম্বিনকে থ্রোম্বিনে পরিণত করে। 
- থ্রোম্বিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। 
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। 
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ায় অন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) জড়িত থাকে। 
- রক্তে উপযুক্ত পরিমাণ অণুচক্রিকা না থাকলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, ফলে অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৫৯.
বাস্ট ফাইবারের উৎস কোনটি?
  1. ক) তুলা
  2. খ) আঠা
  3. গ) রবার
  4. ঘ) ছাতিম
সঠিক উত্তর:
ক) তুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুলা
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্তু বলা হয়। কোষগুলো মৃত এবং স্থূল প্রাচীরবিশিষ্ট। ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে। পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার। উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য এসব ফাইবার তৈরি হয়। এরা অনেক লম্বা ও পুরুপ্রাচীরবিশিষ্ট বলে এদের বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬০.
কোন খনিজ উপাদান পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় মূল নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকা পালন করে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. মলিবডেনাম
  3. পটাসিয়াম
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা

• পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী খনিজ উপাদান হলো পটাসিয়াম (গ)। উদ্ভিদের রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশ ও নির্গমনের ফলে অমিসীয় চাপের পরিবর্তন ঘটে। যখন রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে, তখন কোষে জল প্রবেশ করে কোষ ফুলে ওঠে এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আবার পটাসিয়াম আয়ন বের হয়ে গেলে জল বেরিয়ে যায়, কোষ শিথিল হয় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় পটাসিয়াম সরাসরি কাজ করে বলে একে মূল নিয়ন্ত্রণকারী খনিজ উপাদান বলা হয়।

পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

• নাইট্রোজেন (N): নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P): নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
• পটাসিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

• আয়রন (Fe): উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu): টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
• বোরন (B): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
• মলিবডেনাম (Mo): অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl): সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না কোন খনিজ উপাদান?

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬১.
কোন খনিজ উপাদান রক্তের লাল কণিকা বৃদ্ধি করে রক্তস্বল্পতা দূর করে?
  1. সোডিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. লৌহ
  4. পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
- লৌহ খনিজ উপাদানটি রক্তের লাল কণিকা বৃদ্ধি করে রক্তস্বল্পতা দূর করে। 

খনিজ লবণ: 

- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত। 


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,২৬২.
মানুষের শরীরের কোন অংশ বা অঙ্গ ক্ষারীয়?
  1. ক) পাকস্থলী
  2. খ) ত্বক
  3. গ) মূত্র
  4. ঘ) রক্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্ত
ব্যাখ্যা

টেবিলঃ মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের pH
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
২,২৬৩.
নিম্নের কোনটি অকোষীয় অণুজীব?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৪.
নিচের কোনটি আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো উৎস?
  1. বাদাম
  2. ডাল
  3. শাকসবজি
  4. সামুদ্রিক মাছ
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক মাছ
ব্যাখ্যা

আয়োডিন (Iodine):
- থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিনের প্রধান খনিজ উপাদান হলো- আয়োডিন।
- দেহে মোট আয়োডিনের পরিমাণ মাত্র ২০-২৫ মিলিগ্রাম। এর বেশির ভাগই ৬৫% থাইরয়েড গ্রন্থিতে থাকে। সারা জীবনে একজন মানুষের মাত্র ৩-৪ গ্রাম আয়োডিন দরকার।
- সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক উদ্ভিদ, সমুদ্রের কাছাকাছি মাটিতে উৎপন্ন ফল ও সবজি ইত্যাদিতে আয়োডিন পাওয়া যায়। 
- থাইরক্সিন হরমোনের গঠন উপাদান হিসেবে আয়োডিন দেহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরক্সিন হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
- আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যাকে সংক্ষেপে IDD (Iodine Deficiency Disorder) বলা হয়। 
- গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত, মৃত ও বিকলাঙ্গ শিশুর (cretin baby) জন্ম হতে পারে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬৫.
নিচের কোনটির জিন ধানে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন এ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমান উন্নয়ন করা হয়েছে।
যেমন, ধানে ভিটামিন A তথা বিটাক্যারােটিন জিন স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ধানের চাল থেকে প্রস্তুত ভাত খেলে আলাদা করে আর ভিটামিন A খেতে হবে না।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
২,২৬৬.
শিশুদের কোন রোগ ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়? 
  1. ডায়রিয়া
  2. রিকেটস
  3. নিউমোনিয়া
  4. ব্রঙ্কাইটিস
সঠিক উত্তর:
রিকেটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিকেটস
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। 
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। 
- এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের কাজ: 
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets) রোগ হয় যার কারণে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। 
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রো হয় যার ফলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৭.
মস উদ্ভিদের জন্য কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
  3. গ) মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত সপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. ঘ) মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
মস উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। এরা সবুজ ও স্বভোজী। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]
২,২৬৮.
ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগতকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর-ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

ক. একস্তরী- এরা সরল ধরনের প্রাাণী। এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)

খ. দ্বিস্তরী- যে সকল প্রাণীর ভ্রƒণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)।

গ. ত্রিস্তরী- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (গবংড়ফবৎস) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- মানুষ (Homo sapiens)।

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৯.
কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়? 
  1. 300-350 nm
  2. 400-480 nm
  3. 520-560 nm
  4. 750-800 nm
সঠিক উত্তর:
400-480 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
400-480 nm
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা: 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পানি এবং CO2 থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। 
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। 
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। 
- আবার আলোক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। 
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। 
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। 
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭০.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৩৭° ফারেনহাইট
  2. ৭৬.৪° ফারেনহাইট
  3. ৯৮.৬° ফারেনহাইট
  4. ২৭৩° ফারেনহাইট
সঠিক উত্তর:
৯৮.৬° ফারেনহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮.৬° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
• মানবদেহ: 
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%। 
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,২৭১.
কোন শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ?
  1. বেসোফিল
  2. নিউট্রোফিল
  3. মনোসাইট
  4. ইওসিনোফিল
সঠিক উত্তর:
মনোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোসাইট
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য:

১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

প্রকারভেদ: 

- গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং;
(খ) গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট:
- এ ধরনের শ্বেত কণিকাগুলোর সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ।
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুই রকমের, যথা- লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
- দেহের লিম্ফনোড, টনসিল, প্লিহা, ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়।
- লিম্ফোসাইটগুলো ছোট কণিকা।
- মনোসাইট বড় কণিকা। কিন্তু এর নিউক্লিয়াস বড় বাকে অন্যদিকে তবে তার নিউক্লিয়াস ছোট ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার আবৃতির হয়।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে। এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- Lymphocites রক্তে বৃদ্ধি তেমন ক্ষতির কারণ নয় তবে অতিরিক্ত পরিমাণ বৃদ্ধি ক্যান্সারের লক্ষণ।

(খ) গ্রানুলোসাইট:
- এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত।
- গ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকাগুলো নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার যথা-
(১) নিউট্রোফিল;
(২) ইওসিনোফিল ও;
(৩) বেসোফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টাসিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় না।

উৎস: বিজ্ঞান (ইউনিট ৩), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ওপেন স্কুল।
২,২৭২.
খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ভিটামিন
  2. খনিজ লবণ
  3. পানি
  4. স্নেহ
সঠিক উত্তর:
স্নেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেহ
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান ছয়টি - শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 
শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হচ্ছে দেহ পরিপোষক খাদ্য।
খাদ্যের স্নেহ ও শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য।
আমিষ যুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য।
খাদ্যের উপাদান দুই ধরনের - (১) মুখ্য উপাদান ( শর্করা, আমিষ ও স্নেহ )
                                            (২) সহায়ক উপাদান ( ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি )

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
২,২৭৩.
ঐচ্ছিক পেশি সাধারণত দেহের কোন অঙ্গে থাকে? 
  1. হৃৎপিণ্ড 
  2. বৃক্ক 
  3. গলবিল 
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
গলবিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলবিল 
ব্যাখ্যা

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। 
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে, এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৭৪.
কৃমি বিস্তারে প্রধানত কোন নিয়ামকটি সহায়তা করে?
  1. ক) দূষিত বায়ু
  2. খ) দূষিত খাদ্য
  3. গ) দূষিত মাটি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) দূষিত খাদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দূষিত খাদ্য
ব্যাখ্যা
দূষিত খাদ্য প্রধানত কৃমি বিস্তারে সহায়তা করে। 

কৃমি হচ্ছে একরকমের পরজীবী প্রাণী, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে বাস করে সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
লক্ষণসমূহ- 
১. কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা।
২. কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
৩. অনেক সময় বক্র কৃমির এক মুখ শিশুদের এপেনডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে, ফলে এপেনডিসাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কৃমির ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ- 
- পেটে ব্যথা
- বমি
- শরীর দুর্বল লাগা
- ডায়রিয়া
- রক্তশূন্যতা
- ওজন কমে যাওয়া।

সূত্র- ১২১ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৫.
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন কোনটি?
  1. মাছ
  2. ডিম
  3. বাদাম
  4. মাংস
সঠিক উত্তর:
বাদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদাম
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ: 
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্য প্রোটিনের উৎস প্রাণী, তাই এগুলো প্রাণিজ প্রোটিন। 
- অপরদিকে ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ ইত্যাদির উৎস উদ্ভিদ, তাই এগুলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 
- শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব ঘটলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। 
- এ রোগের কারণে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। 
- শিশুদেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হলে শিশু পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টিতে ভোগে। 

প্রোটিনের কাজ: 
১. প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা। 
যেমন- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত। 
২. দেহে শক্তি উৎপন্ন করা। 
৩. দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,২৭৬.
জন্ডিসের কারণ হিসেবে দায়ী বিলিরুবিন মানবদেহের কোন অংশে তৈরি হয়?
  1. মস্তিস্ক
  2. লিভার
  3. কিডনি
  4. ফুস্ফুস
সঠিক উত্তর:
লিভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিভার
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন (Bilirubin) হলো একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ যা যকৃত বা লিভারে লাল রক্তকণিকার (RBC) ভাঙনের ফলে তৈরি হয়।  লোহিত রক্তকণিকা ১২০ দিন পরপর  যখন  ধ্বংস হয়, তখন হিমোগ্লোবিন ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। 

এই প্রক্রিয়া যেসব ধাপে ঘটে:
-  যকৃতের কাফার কোষে RBC ভাঙে → হিম(আয়রন)  → বিলিভারডিন → বিলিরুবিন। 
- লিভার বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে পিত্ত (Bile) এর মাধ্যমে তা নিঃসৃত করে দেয়। 
- যদি এই বিলিরুবিন লিভার থেকে নিঃসরণের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়, তবে তা রক্তে অত্যধিক হয়ে যায় এবং ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়, যাকে জন্ডিস (Jaundice) বলে।

অন্যদিকে,  
• মস্তিষ্ক: বিলিরুবিন তৈরি হয় না, তবে অতিরিক্ত বিলিরুবিন (বিশেষ করে নবজাতকদের ক্ষেত্রে) ব্রেইনে ক্ষতি করতে পারে।

কিডনি: রক্ত পরিশোধন করে রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে। কিন্তু এখানে বিলিরুবিন তৈরি হয় না। 

• ফুসফুস: এখানে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। এটি বিলিরুবিন সংশ্লিষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- National Institute of Health (NIH).
২,২৭৭.
ব্যাকটেরিয়া কোন ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত? 
  1. জনন কোষ 
  2. দেহ কোষ 
  3. প্রকৃত কোষ 
  4. আদি কোষ
সঠিক উত্তর:
আদি কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি কোষ
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান যে প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell । 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত।

- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৭৮.
Which two components are primarily present in the chemical structure of a virus?
  1. Carbohydrate and Protein
  2. Lipid and Carbohydrate
  3. Starch and Glycogen
  4. Nucleic Acid and Protein
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Nucleic Acid and Protein
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nucleic Acid and Protein
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৭৯.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. প্লাজমা 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. লিউকোসাইট 
  4. প্লেটলেট 
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৮০.
রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) 32p
  2. খ) 60Co
  3. গ) 30p
  4. ঘ) 39q
সঠিক উত্তর:
ক) 32p
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 32p
ব্যাখ্যা
ক্যান্সার:

- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131 I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায়।
- এ আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32p এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান, নবম শ্রেণি।
২,২৮১.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. নাইট্রিক অক্সাইড
  4. সালফার ডাইঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড: 
দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে
- কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) এর রাসায়নিক সংকেত হলো CO যা একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম। 
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে। 
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। 
- কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
• দুর্বলতা, 
• বমি বমি ভাব, 
• মাথা ঘোরানো, 
• ক্লান্তি, 
• ক্ষুধা, 
• মাথা ব্যাথা, 
• অজ্ঞান হওয়া, 
• খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website [লিঙ্ক]।
২,২৮২.
নিচের কোনটি সম্পূর্ণ ফুলের উদাহরণ?
  1. ক) কুমড়া
  2. খ) লাউ
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) ঝিঙ্গা
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাপ
ব্যাখ্যা

- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথাঃ পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
- যে ফলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমনঃ জবা, ধুতুরা, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- এই ৫টির যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমনঃ লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, লালপাতা ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

২,২৮৩.
প্লাজমা কী?
  1. রক্তের কঠিন অংশ।
  2. রক্তের তরল অংশ।
  3. হাড়ের তরল ।
  4. মজ্জার উপাদান।
সঠিক উত্তর:
রক্তের তরল অংশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তের তরল অংশ।
ব্যাখ্যা
প্লাজমা বা রক্তরস হল রক্তের একটি তরল উপাদান। রক্তের দুইটি উপাদান হলো রক্তরস ও রক্তকণিকা। 
রক্তরস রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৫৫% অংশ নিয়ে গঠিত এবং এতে প্রধানত পানি (৯০-৯২%), পাশাপাশি বিভিন্ন দ্রবীভূত পদার্থ থাকে।

রক্তরসের উপাদান:
পানি : রক্তের প্রধান উপাদান ও  মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

প্রোটিন (Plasma Proteins): অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন প্রভৃতি প্রোটিন থাকে।  

- গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড: কোষের শক্তির উৎস

ইলেকট্রোলাইট: সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি – কোষীয় কার্যকলাপে সহায়তা করে

- হরমোন ও এনজাইম: শরীরের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়

- বর্জ্য পদার্থ: যেমন: ইউরিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড – এগুলো রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়
  
• রক্তরস বা প্লাজমার কাজ:
- কোষগুলিকে ভেসে থাকতে সহায়তা করে (RBC, WBC, Platelets)। 
- পুষ্টি, হরমোন ও বর্জ্য পরিবহন করে। 
- অসুখে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। 
- রক্তচাপ ও pH ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- জমাট বাঁধার উপকরণ সরবরাহ করে (ফাইব্রিনোজেন)। 

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
২,২৮৪.
পানিতে কত শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে?
  1. 0.03%
  2. 0.003%
  3. 0.3%
  4. 0.0003%
সঠিক উত্তর:
0.3%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.3%
ব্যাখ্যা
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। 
- CO2 বায়ুমণ্ডলে 0.03% এবং পানিতে 0.3%  আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত দ্রব্য (by-product)। এটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (oxldation-reduction process)। 
- এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান। 
২,২৮৫.
মানুষের লালায় কোন ধরনের এনজাইম থাকে? 
  1. লাইপেজ
  2. টায়ালিন
  3. ট্রিপসিন
  4. গ্লুকাগন
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাক ক্রিয়া: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের পৌষ্টিক নালির অভ্যন্তরে জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানগুলো নির্দিষ্ট উৎসেচক বা এনজাইম এবং প্রাণরস বা হরমোনের উপস্থিতিতে বিশ্লেষিত হয়ে শোষণযোগ্য এবং দ্রবণীয় সরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- এ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রথমত সরল দ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে কোষ আবরণীর ভিতর দিয়ে অতি সহজে কোষের ভিতরে প্রবেশ করে।
- সবশেষে রক্ত এই পরিপাককৃত সরল উপাদানগুলোকে দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে। 

মুখে পরিপাক: 
- মুখগহ্বরে দাঁত ও জিহ্বার সাহায্যে খাদ্য চিবানোর ফলে খাদ্যবস্তু ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়।
- এ সময় লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়ে খাদ্যের সাথে মিশে যায়। লালা খাদ্যবস্তুকে গলাধঃকরণে সাহায্য করে।
- লালায় টায়ালিন বা স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক বা এনজাইম থাকে
- এটি অ্যামাইলেজ নামেও পরিচিত এবং শর্করা হজমের প্রাথমিক ধাপে সহায়তা করে।
- এটি শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে।
- মুখগহ্বরে আমিষ বা স্নেহজাতীয় খাদ্যের কোনোরূপ পরিবর্তন হয় না।
- মুখগহ্বর থেকে খাদ্যদ্রব্য পেরিস্টালসিস (Peristalsis) প্রক্রিয়ায় অন্ননালির মধ্য দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে।
- পৌষ্টিক নালিগাত্রের পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে খাদ্যদ্রব্য সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
- অন্ননালিতে খাদ্যের কোনো পরিপাক ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- ট্রিপসিন প্রোটিন হজমকারী এনজাইম।
- লাইপেজ একটি চর্বি হজমকারী এনজাইম।
- গ্লুকাগন একটি হরমোন যা লিভারে গ্লুকোজ উৎপন্ন করার জন্য কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৮৬.
নিচের কোনটির মাধ্যমে স্থলজ উদ্ভিদ খনিজ শোষণ করে?
  1. মূলরোম
  2. পত্ররন্ধ্র
  3. জাইলেম
  4. ফ্লোয়েম
সঠিক উত্তর:
মূলরোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলরোম
ব্যাখ্যা
• খনিজ লবণ শোষণ: 
- উদ্ভিদ দেহাভ্যন্তরে বিভিন্ন শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করতে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন পড়ে। 
- সাধারণত দেহাভ্যন্তরে এগুলো তৈরি হয় না; বাইরে থেকে, বিশেষ করে মাটি থেকে এসব খনিজ লবণ শোষণ করে নিতে হয়।
- উদ্ভিদের শারীরিক পরিপূর্ণতার জন্য এগুলো আবশ্যকীয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, উদ্ভিদের জন্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার (গন্ধক) 'সলিবডেনাম বোরন, নিকেল ও ক্লোরিন-এই অত্যাবশ্যকীয়।

• লবণ পরিশোষণ অঙ্গ :
- স্থলজ উদ্ভিদের মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চলের নব গঠিত কোষগুলোই লবণ পরিশোষণে অধিক কার্যক্ষম।
- মূলরোম দিয়েও কিছু লবণ পরিশোষিত হয়ে থাকে।
- ধারণা করা হয় যে, নিমজ্জিত জলজ উদ্ভিদের সব অঙ্গই লবণ পরিশোষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

• স্থলজ উদ্ভিদে পত্ররন্ধ্র, জাইলেম ও ফ্লোয়েম দ্বারা লবন শোষণ হয় না। বরং মূলরোম দিয়ে শোষন হয়। 
- পত্ররন্ধ্র দ্বারা গ্যাসীয় পরিবহন হয় এবং জাইলেম-ফ্লোয়েম হলো উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যু। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২,২৮৭.
Hydra কোন অঙ্গের সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ করে?
  1. শুঁড়
  2. সিলিয়া
  3. কর্ষিকা
  4. ফ্যারিংস
সঠিক উত্তর:
কর্ষিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ষিকা
ব্যাখ্যা

হাইড্রা:
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে।
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে
- হাইড্রা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে।
- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে।
- Hydra পুনরায় উৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত।
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী, এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে।
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৮৮.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
  1. পরিকল্পিত সেচ
  2. রাসায়নিক সার প্রয়োগ
  3. ভালোভাবে জমি কর্ষণ
  4. আগাছা পরিষ্কারকরণ
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পিত সেচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পিত সেচ
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদন কৌশল:
• সেচ ও পানি নিষ্কাশন:
- জমির চারপাশে আইল দিয়ে ভারী সেচ দিলে মাটির দ্রবণীয় লবণ চুঁইয়ে ফসলের মূলাঞ্চলের নিচে চলে যায়।
- আবার মূলাঞ্চলের নিচ বরাবর গভীরতায় যদি নিষ্কাশন নালা তৈরি করে জমির পানি বের করে দেওয়া যায় তাহলে মূলাঞ্চলের নিচের লবণও ধুয়ে জমির বাইরে চলে যায়।
- এ অবস্থায় মাটিতে জো আসার সাথে সাথে জমি চাষ দিয়ে ফসল বুনতে হবে। হালকা বুনটের মাটিতে এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর।

এছাড়াও,
লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের চাষ, পানির বাষ্পীভবন হ্রাসকরণ, বপন পদ্ধতির পরিবর্তনের মাধ্যমে লবণাক্ততা কমানো সম্ভব।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
২,২৮৯.
Penicillium কিসের সাহায্যে বংশ বৃদ্ধি করে?
  1. ক) কনিডিয়া
  2. খ) অঙ্গজ জনন
  3. গ) দেহের খন্ডায়ন
  4. ঘ) বংশ বৃদ্ধি করে না
সঠিক উত্তর:
ক) কনিডিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কনিডিয়া
ব্যাখ্যা
Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে।
- কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে।
- দেহের খন্ডায়ন অঙ্গজ জননেরই একটি অংশ। সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এধরনের জনন দেখ যায়।

উদাহারন:  Spirogyra, Mucor ইত্যাদি।

 সূত্র: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
২,২৯০.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২টি
  2. ২৩টি
  3. ৪২টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- ক্রোমোজোম হচ্ছে বংশগতির প্রধান উপাদান। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন Strasburger (১৮৭৫) কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন Weldeyer ১৮৮৮ সালে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৯১.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

২,২৯২.
ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Labeo ilisha
  2. Tenualosa ilisha
  3. Cirrhinus ilisha
  4. Saccharum officinarum
সঠিক উত্তর:
Tenualosa ilisha
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tenualosa ilisha
ব্যাখ্যা
ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Tenualosa ilisha

• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) - এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali ইত্যাদি।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২,২৯৩.
Where are red blood cells primarily stored in the human body?
  1. Heart
  2. Liver
  3. Kidneys
  4. Spleen
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Spleen
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Spleen
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ। এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 

- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯৪.
কোনটিকে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়?
  1. NAD
  2. NADP
  3. GTP
  4. ATP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস হিসেবে এটিপি এর ভূমিকা: 
- জীব কর্তৃক তার দেহে শক্তির উৎপাদন এবং ব্যবহারের মৌলিক কৌশলই হলো জীবনীশক্তি। 
- শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এ প্রক্রিয়ার প্রথমে আলোক পর্যায়ে ATP এবং NADPH নামক জৈব যৌগের সৃষ্টি হয়। এগুলোই হলো জীবনীশক্তি (Bioenergy)। 
- পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণের কার্বন বিজারণ পর্যায়ে এ শক্তি শর্করা এবং অন্যান্য জৈব যৌগের অণুর রাসায়নিক বন্ধনীতে সঞ্চিত এবং আবদ্ধ হয়। 
- জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতিনিয়ত হাজারো ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- এ সকল বিক্রিয়া জীবনীশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। 

- কিছু শক্তিসমৃদ্ধ যৌগ উচ্চশক্তি ধারণ করে। 
- প্রয়োজনে উচ্চ শক্তিসমৃদ্ধ যৌগগুলো অন্যান্য বিক্রিয়ায় শক্তি যোগায়। 
- উচ্চ শক্তি সম্পন্ন যৌগের মধ্যে রয়েছে ATP, GTP, NAD, NADP, FADH, ইত্যাদি। 
- ATP শক্তি জমা রাখে এবং দরকার হলে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। 
- এজন্য এটিপিকে (ATP) জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP সৌর শক্তি গ্রহণ করে ATP এ পরিণত হয়। 
- আলোর উপস্থিতিতে ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলা হয়। 

- এ প্রক্রিয়ায় এটিপি এর তৃতীয় ফসফেট বন্ধনীতে প্রায় ৭৩০০ ক্যালরি সৌর শক্তি আবদ্ধ হয়। 
- এটিপি হলো মুক্ত শক্তির বাহক, এর ফসফেট বন্ধনীর মধ্যে শক্তি আবদ্ধ থাকে। 
- জৈব সংশ্লেষণ, পরিবহন এবং অন্যান্য বিপাকীয় কাজে শক্তির দরকার হলে ATP ভেঙ্গে ADP ও AMP তৈরি হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্যবিদ্যালয়।
২,২৯৫.
হৃদপিণ্ডের বাইরে আচ্ছাদিত করা পাতলা ঝিল্লিটিকে কী নামে চিহ্নিত করা হয়?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের বাইরে থাকা পাতলা ঝিল্লিটিকে পেরিকার্ডিয়াম বলা হয়। এটি একটি দোতলা ঝিল্লি যা হৃদপিণ্ডকে ঘিরে রাখে এবং রক্ষা করে। পেরিকার্ডিয়ামের বাইরের স্তরটি শক্ত এবং ফাইব্রাস দিয়ে গঠিত, যা হৃদপিণ্ডকে শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা করে, আর ভিতরের স্তরটি সেরোস ঝিল্লি, যা হৃদপিণ্ডের পৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত। এই ঝিল্লি হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক গতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং তার চারপাশে ছোট পরিমাণের তরল রাখে, যা ঘর্ষণ কমায়। তাই হৃদপিণ্ডের বাইরের এই ঝিল্লিটিকে পেরিকার্ডিয়াম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: গ) পেরিকার্ডিয়াম।

হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৯৬.
কোনটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ?
  1. পাতার কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. এরেনকাইমা
  3. পাতার মেসোফিল টিস্যু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পাতার মেসোফিল টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতার মেসোফিল টিস্যু
ব্যাখ্যা
• পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ।
 
• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়।
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৭.
নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?
  1. ক) পাট
  2. খ) মূলা
  3. গ) গম
  4. ঘ) যব
সঠিক উত্তর:
ক) পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাট
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের ফুল ধরনের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
- ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. ছোট দিনের উদ্ভিদ:
সয়াবিন, আলু, কসমস, ইক্ষু, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি।

২. বড় দিনের উদ্ভিদ:
পালংশাক, লেটুস, আফিম, ঝিঙ্গা, যব, মূলা ইত্যাদি।

৩. দিন নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
সূর্যমুখী, টমেটো, শসা, কার্পাস, আউশ ধান ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,২৯৮.
ভালো কোলেস্টরল নিচের কোনটিকে বলা হয়?
  1. ক) এলডিএল
  2. খ) এইচডিএল
  3. গ) এমডিএল
  4. ঘ) টিডিএল
সঠিক উত্তর:
খ) এইচডিএল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এইচডিএল
ব্যাখ্যা
- HDL-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- আর ট্রাই-গ্লিসারাইড চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে।
- ট্রাই-গ্লিসারাইড মানুষের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।
 
- মানবদেহের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- LDL-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- সাধারণত মানুষের রক্তে শতকরা ৭০ ভাগ LDL থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২,২৯৯.
TT টিকা এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Tetanus Toxin
  2. Tuberculosis Toxin
  3. Tetanus Toxoid
  4. Typhoid Toxoid
সঠিক উত্তর:
Tetanus Toxoid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tetanus Toxoid
ব্যাখ্যা
• TT  টিকা এর পূর্ণরূপ Tetanus Toxoid.
- সাধারণত ধনুষ্টকার রোগ প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষার টিকা: বিসিজি B.C.G(Bacillus Calmette-Guérin)। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকারের টিকা: ডিপিটি (D.P.T)। 
- পোলিও টিকা: ওপিভি OPV( Oral Polio Vaccine)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৩০০.
উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) কোষগহবর
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজম
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে থাকে।

উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত (রঞ্জক যুক্ত বা রঞ্জক বিহীন) অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।
প্লাস্টিডের কাজ (Function of Plastid)-
১. খাদ্য প্রস্তুত করা
২. খাদ্য সঞ্চয় করা এবং
৩. উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি