বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৬ / ৪২ · ১,৫০১১,৬০০ / ৪,২০৮

১,৫০১.
জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান-
  1. ক) জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)
  2. খ) অণুজীববিজ্ঞান (Micro-biology)
  3. গ) বংশগতিবিদ্যা (Genetics)
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ক) জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)
ব্যাখ্যা
জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
১,৫০২.
How many pairs of cranial and spinal nerves are present in the human body which constitute the peripheral nervous system?
  1. 24 cranial and 36 spinal
  2. 24 cranial and 64 spinal
  3. 12 cranial and 31 spinal
  4. 24 cranial and 31 spinal
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
12 cranial and 31 spinal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12 cranial and 31 spinal
ব্যাখ্যা
• করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের দেহে করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 

- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 

- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 

- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অলফ্যাক্টরি স্নায়ু: 
- অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। 
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৩.
কোন বিজ্ঞানী ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন?
  1. Watson & Crick
  2. Gregor Mendel
  3. Strasburger
  4. H.Henking
সঠিক উত্তর:
Strasburger
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Strasburger
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম (Chromosome)
• বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
• এটি নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিস্তৃত এবং সূত্রাকার ক্রোমাটিন দিয়ে গঠিত।
• বিজ্ঞানী Strasburger (1875) প্রথম ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন।
• প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে কোষে এর ডিপ্লয়েড (দুই সেট ক্রোমোজোম, যার একসেট পিতা থেকে আসে এবং আর একসেট মাতা থেকে আসে) সংখ্যা 2 হতে 1600 পর্যন্ত হতে পারে।
• একটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্যে সাধারণত 3.5 থেকে 30.0 মাইক্রন এবং প্রস্থে 0.2 থেকে 2.0 মাইক্রন হয়ে থাকে। (1 মাইক্রন = 1/1000 মিমি)।
• ক্রোমোজোমের কাজ হলো মাতাপিতা থেকে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি (Physical basis of heredity) বলে আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৫০৪.
সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে কী বলে? 
  1. ক্রোমোপ্লাস্ট 
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. লিউকোপ্লাস্ট 
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

• ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ ধারণকারী প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলা হয়। এটি উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে।

প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
 ১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 
 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
 
৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০৫.
অ্যালভিওলাই মানবদেহের কোন অঙ্গের অংশ?
  1. পেশীতন্ত্র
  2. পরিপাকতন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. স্নায়ুতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• অ্যালভিওলাই ফুসফুসের প্রধান কার্যকরী একক যা সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগের কাজ সম্পন্ন করে। এটি শ্বসনতন্ত্রের অন্যতম প্রধান অংশ।

• শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system):
- নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই এবং একজোড়া ফুসফুস নিয়ে মানুষের শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এই তন্ত্র পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে মানুষের দেহের সঞ্চিত খাদ্য থেকে জারণ প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে।
- এ শক্তি দেহের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
-  কঙ্কাল পেশী, মসৃণ পেশী এবং হৃদপেশী নিয়ে পেশীতন্ত্র গঠিত।
- মুখগহ্বর, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র নিয়ে পরিপাকতন্ত্র গঠিত।
- মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং করোটিক স্নায়ু নিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫০৬.
মানুষের রক্তের লোহিত কোষে কয় ধরণের এন্টিজেন পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

- মানুষের রক্তের লোহিত কোষে ২ ধরণের এন্টিজেন পাওয়া যায়।

এন্টিজেন: এন্টিজেন হচ্ছে বহিরাগত কোনো বস্তু বা প্রোটিন, যেটি আমাদের রক্তে প্রবেশ করলে আমাদের শরীরের নিরাপত্তাব্যবস্থা (Immune System) সেটাকে শরীরের জন্য ক্ষতিকর মনে করে তাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।
- ১৯০০ সালে ড. কার্ল ল্যান্টস্টেইনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবিষ্কার করলেন, বিভিন্ন মানুষের রক্তের লোহিত কোষে দুই ধরনের অ্যান্টিজেন পাওয়া যায়।
-  স্বাভাবিকভাবেই এই দুইটি অ্যান্টিজেনকে প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন মানুষের সিরামে (যে তরলে লোহিত কণিকা ভাসমান থাকে) দুটি অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়।
- লোহিত কোষে থাকা এই দুটি অ্যান্টিজেনকে A এবং B নাম দেওয়া হয়েছে।
- একজন মানুষের রক্তের লোহিত কোষে যদি A অ্যান্টিজেন থাকে তাহলে কোনোভাবেই তার রক্তে A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি থাকতে পারবে না; যদি থাকে তাহলে এই অ্যান্টিবডি নিজেই নিজের রক্তের লোহিত কোষকে আক্রমণ করে মৃত্যুর কারণ হয়ে যাবে।
- A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি না থাকলেও, B অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি থাকে। একইভাবে যে রক্তের লোহিত কোষে B অ্যান্টিজেন আছে সেখানে A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি আছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৫০৭.
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়? 
  1. এদের পৌষ্টিকতন্ত্র উপস্থিত
  2. এদের দেহ চ্যাপ্টা
  3. এদের দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত
  4. এদের দেহে শিখা অঙ্গ রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে
সঠিক উত্তর:
এদের পৌষ্টিকতন্ত্র উপস্থিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের পৌষ্টিকতন্ত্র উপস্থিত
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
- বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
- দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
- দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
- দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫০৮.
The average lifespan of a red blood cell in the human body is approximately:
  1. 90 days
  2. 120 days
  3. 150 days
  4. 180 days
  5. 100 days
সঠিক উত্তর:
120 days
উত্তর
সঠিক উত্তর:
120 days
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০৯.
AB গ্রুপের রক্তে কয় ধরণের এন্টিবডি আছে?
  1. এন্টিবডি নেই
সঠিক উত্তর:
এন্টিবডি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টিবডি নেই
ব্যাখ্যা

- AB গ্রুপের রক্তের সিরামে কোনো ধরণের এন্টিবডি নেই।

- গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে ৮ অ্যান্টিবডি) থাকে।
- গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে।
- গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না।
- গ্রুপ ০: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও ৮ অ্যান্টিবডি থাকে।
- দাতার লোহিত রক্তকোষের কোষঝিল্লিতে উপস্থিত অ্যান্টিজেন যদি গ্রহীতার রক্তরসে উপস্থিত এমন অ্যান্টিবডির সংস্পর্শে আসে, যা উক্ত অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সক্ষম, তাহলে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি বিক্রিয়া হয়ে গ্রহীতা বা রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৫১০.
নিচের কোন অবদানের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ক) আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য
  2. খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
  3. গ) জিনোম ইডিটিংয়ের জন্য
  4. ঘ) ক্যান্সারের চিকিৎসা আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা।
- জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

১,৫১১.
ক্রোমোজমে কোনটি থাকে না?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
- ক্রোমোজম নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত একপ্রকার ক্রোমাটিন ফাইবার বা তন্তু।
- ক্রোমজমে নিউক্লিক এসিড তথা ডিএনএআরএনএ, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণ লিপিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন দ্বারা গঠিত।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫১২.
'ক্যালসিটোনিন' হরমোন নিসৃত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?
  1. থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. যকৃত গ্রন্থি
  3. অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি
  4. পিটুইটারী গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
• থাইরয়েড গ্রন্থি:
- এই গ্রন্থি গলার উপরের অংশে উভয় পার্শ্বে অবস্থিত।
- প্রজাপতি আকৃতির চোখ বের হয়ে আসা রোগটি এ গ্রন্থির সমস্যার কারণে হয়।
- আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় ও গলগন্ড গঠন করে।
- এই গ্রন্থি বিপাকের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ গ্রন্থি থেকে ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন, থাইরক্সিন, ক্যালসিটোনিন এ তিনটি হরমোন নিঃসৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৩.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে? 
  1. অর্ধেক
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫১৪.
হৃদপিন্ডের অলিন্দের প্রসারণকে কী বলা হয়?
  1. ক) সিস্টোল
  2. খ) ডায়াস্টোল
  3. গ) মায়োজেনিক
  4. ঘ) স্পন্দন
সঠিক উত্তর:
খ) ডায়াস্টোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃদপিন্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত পরিবহন করে।
হৃদপিন্ডের স্বতঃস্ফুর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) এবং স্বতঃস্ফুর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে ।
উল্লেখ্য, অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয়ে তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে । 

অলিন্দদ্বয় যখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে তখন সারাদেহের CO2 যুক্ত রক্ত উর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে আসে এবং ফুসফুস থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে আসে।

উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫১৫.
ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?
  1. কিউলেক্স
  2. এডিস
  3. অ্যানোফিলিস
  4. সব ধরনের মশা
সঠিক উত্তর:
এডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডিস
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা।

- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়।
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি।
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে,
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস।
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট।
১,৫১৬.
সালোকসংশ্লেষণে শক্তির কোন ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তি বিপাকীয় শক্তিতে
  4. ঘ) আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা

সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে যে এরা সূর্যালােকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলােকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৫১৭.
বৃক্কের কাজ নয় কোনটি?
  1. ক) রক্ত থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য অপসারণ করা।
  2. খ) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
  3. গ) রক্ত উৎপাদন করা।
  4. ঘ) দেহের পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
সঠিক উত্তর:
গ) রক্ত উৎপাদন করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্ত উৎপাদন করা।
ব্যাখ্যা
বৃক্কের কাজ:

- রক্ত উৎপাদন করা বৃক্কের কাজ নয়।
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য অপসারণ করা।
- রক্তে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- দেহে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
- দেহের পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৮.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় অণুজীব সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়?
  1. এন্টোমোলজি
  2. মাইক্রোবায়োলজি
  3. এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ফাইকোলজি
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোবায়োলজি:
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এন্ডোক্রাইনোলজি:
- জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
• এন্টোমোলজি:
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি।
• ফাইকোলজি (Phycology) হলো শৈবাল সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৯.
জীবাশ্মবিদ্যাকে বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন কে?
  1. চার্লস রবার্ট ডারউইন
  2. জর্জেস ক্যুভিয়ে
  3. থিওডোর সোয়ান
  4. থমাস হান্ট মর্গান
সঠিক উত্তর:
জর্জেস ক্যুভিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জেস ক্যুভিয়ে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- চার্লস রবার্ট ডারউইন মানুষের বিবর্তন ব্যাখ্যা করেন এবং প্যানজেনেসিস মতবাদ প্রবর্তন করেন। পাশাপাশি প্রবাল প্রাচীরের ক্রমিক পরিবর্তনও তুলে ধরেন।
- জীবাশ্মবিদ্যাকে বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন জর্জেস ক্যুভিয়ে। তিনি লিনিয়াস প্রদত্ত প্রাণী-শ্রেণিবিন্যাসের উন্নতিও ঘটান।
- থিওডোর সোয়ান কোষ মতবাদের মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে জীবদেহ কোষে গঠিত এবং পূর্ববর্তী কোষ থেকে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।
- থমাস হান্ট মর্গান প্রমাণ করেন যে কোষের নিউক্লিয়াসের ভিতরে ক্রোমোজোম অবস্থান করে এবং ক্রোমোজোমেই অবস্থান করে জিন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৫২০.
সূর্য হতে উদ্ভিদের পাতায় পতিত আলোর শতকরা কত ভাগ সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. ১ থেকে ২ ভাগ
  2. ৩ থে ৪ ভাগ
  3. ৫ থেকে ১০ ভাগ
  4. ১০ থেকে ১৭ ভাগ
সঠিক উত্তর:
১ থেকে ২ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ থেকে ২ ভাগ
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।

- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই- অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়।
- বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর মতে সূর্যের আলো এ পৃথিবীতে আসে তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত রশ্মি বা তরঙ্গ হিসাবে এবং সৌর শক্তি ফোটন (photon) নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- সূর্যের যে আলো পৃথিবীতে আসে তা বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হয়।
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মিটার, সেন্টিমিটার, ন্যানোমিটার, মিলিমাইক্রন এবং অ্যাংস্ট্রম হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২১.
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন কত?
  1. ক) ২০০ গ্রাম
  2. খ) ১৫০ গ্রাম
  3. গ) ৩০০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪৫০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। স্ত্রীলোকের ওজন পুরুষের চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম হয়।
১,৫২২.
নিচের কোন উপাদান দেহে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে? 
  1. স্নেহ
  2. পানি
  3. ভিটামিন
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২৩.
গুচ্ছ ফল কোনটি? 
  1. জাম
  2. আতা
  3. কাঁঠাল
  4. আনারস
সঠিক উত্তর:
আতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতা
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আম, কাঁঠাল। 
- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- সরল ফল, গুচ্ছফল ও যৌগিক ফল। 
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে। যেমন- আম। এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- আবার সরল ফল দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) রসাল ফল: যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। 
যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 

খ) নীরস ফল: যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। 
যেমন- শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

৩) যৌগিক ফল: 
- একটি মজুরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫২৪.
সন্তান পুত্র বা কন্যা হওয়ার জন্য দায়ী-
  1. মা 
  2. বাবা
  3. মা-বাবা উভয়ই
  4. কেউ না 
সঠিক উত্তর:
বাবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা
ব্যাখ্যা
• মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে মা বাবার ভূমিকা:
- মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রায় একই পদ্ধতিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়। মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া।
- এর মধ্যে 22 জোড়া বা 44 টিকে অটোজোম (Autosome) এবং 1 জোড়াকে সেক্স-ক্রোমোজোম (Sex chromosome) বলা হয়। অটোজোমগুলো শারীরবৃত্তীয়, ভ্রুণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এক্স (X) এবং ওয়াই (Y) নামে পরিচিত।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- নারীদের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY।
- গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ।
- যেহে যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়, তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যজনকভাবে নিষেক ঘটাবে, তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ।
- যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায়, তাহলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা।
- আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে জাইগোটে X এবং Y ক্রোমোজোম থাকবে অর্থাৎ ক্রোমোজোম দুটি হবে XY।ফলে সন্তান হবে পুত্র।
- মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে, অর্থাৎ কন্যা বা পুত্রসন্তানের জন্ম হওয়ার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই।
- কারণ মা সব সময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে।
- অন্যদিকে পিতা X এবং Y দুধরনেরই শুক্রাণু উৎপাদন করে লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রেখে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৫২৫.
উদ্ভিদের সজীব কোষে শ্বসন কার্য কখন ঘটে?
  1. শুধু রাতে
  2. শুধু দিনে
  3. দিন-রাত্রি সব সময়
  4. সূর্যের আলোতে
সঠিক উত্তর:
দিন-রাত্রি সব সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিন-রাত্রি সব সময়
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ সঞ্চিত খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত করে এবং ফলশ্রুতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসন একটি বিপাকীয় ক্রিয়া, এ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি জীব পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। 
- নিম্নশ্রেণির কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণী অক্সিজেন ছাড়া শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন করে, তবে সকল ক্ষেত্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোষে দিন-রাত্রি সব সময় শ্বসন কার্য ঘটে। 
- শ্বসন একটি অন্তঃকোষীয় বিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের বিভিন্ন সজীব কোষে শ্বসন প্রক্রিয়াটি মুলত একই। 
- কিন্তু বিভিন্ন জীবের অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন পদ্ধতিটি ভিন্নরুপ। 
- উদ্ভিদ দেহে শ্বসন কালে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় অপেক্ষাকৃত সরল। 
- উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নাই, পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহঅভ্যন্তরে প্রবেশ করে। 
- পানিতে নিমজ্জিত উদ্ভিদগুলো সমগ্র দেহতলের সাহায্যে অক্সিজেন শোষণ করে। 

উদ্ভিদের শ্বসন: 
- উদ্ভিদ দেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত শর্করা জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়, এই শক্তি উদ্ভিদ দেহে বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- উদ্ভিদ দেহে দুই প্রকার শ্বসন দেখা যায়। 
যথা- 
ক) সবাত শ্বসন: অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে সবাত শ্বসন বলে। সকল উন্নত উদ্ভিদে সবাত শ্বসন ঘটে। 
খ) অবাত শ্বসন: অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। ব্যাকটেরিয়া জাতীয় আদিকোষী জীব দেহে অবাত শ্বসন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৫২৬.
ফুলের গর্ভপত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) গর্ভাশয়
  2. খ) গর্ভদণ্ড
  3. গ) গর্ভমুণ্ড
  4. ঘ) গর্ভকেশর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর্ভকেশর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর্ভকেশর
ব্যাখ্যা

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশরের অবস্থান ফুলটির কেন্দ্রে। এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র (Carpel) নিয়ে গঠিত হতে পারে।
একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ
যথা:
গর্ভাশয় (Ovary),
গর্ভদণ্ড (Style) এবং
গর্ভমুণ্ড (Stigma)।

১,৫২৭.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. লিউয়েন হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট কচ 
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫২৮.
কোনটির মাধ্যমে পেশীগুলো অস্থির সাথে যুক্ত থাকে?
  1. টেনডন
  2. স্নায়ু
  3. লিগামেন্ট
  4. ফিমার
সঠিক উত্তর:
টেনডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেনডন
ব্যাখ্যা

• টেনডন (Tendon) হলো শক্ত আঁশযুক্ত টিস্যু, যা পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে।

টেনডন:
- টেনডন হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত একটি শক্ত ফিতা বিশেষ যা পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে।
- টেনডন পেশির ফাইবার হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের ফাইবারের সাথে পারস্পরিক শক্ত বুনন কাঠামো তৈরি করে, তাই সহজে পেশি থেকে হাড় বা হাড় থেকে পেশি বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
- টেনডন বেশ শক্ত, সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যায় না।

লিগামেন্ট:
- লিগামেন্ট হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত নমনীয় বন্ধনী যা দুটি হাঁড়কে একত্রে বেঁধে রাখে।
- অস্থিসন্ধির হাড়সমূহকে যার যার অবস্থানে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে লিগামেন্ট।
- লিগামেন্টের ফাইবারসমূহ হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের বর্ধিত অংশ। লিগামেন্ট ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, আর ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে ইলাস্টিক তন্তু গঠিত।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই, গাজী আজমল স্যার।

১,৫২৯.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম সংখ্যা কতটি? 
  1. ২২টি
  2. ০২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
০২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০২টি
ব্যাখ্যা
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোসোমের ভূমিকা: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
অপর এক জোড়া বা দুইটি ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩০.
Anti-Scurvy নামে পরিচিত কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন সি
  3. ভিটামিন ই
  4. ভিটামিন কে
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- এসকরবিক এসিড Anti-Scurvy নামে পরিচিত। 
 
- Also known as ascorbic acid, vitamin C is a small carbohydrate molecule first identified in the 1920s by Albert von Szent Györgyi, who discovered that it was able to prevent and cure scurvy.
- Scurvy is a pathological life-threatening condition suffered by people who do not have access to fruits or vegetables for long periods of time.
- A decade earlier, Kazimierz Funk had prepared a list of nutritional factors, called vitamins, whose deficiencies cause severe diseases in humans.
- In his list, Funk used the letter "C" to designate a factor still unidentified, but known to prevent scurvy.
- Later on, Szent Györgyi and Haworth chemically identified "C" as ascorbic acid, and named it so because ascorbic means "anti-scurvy." Over the next century, what we now know as vitamin C became one of the most popular drugs in human history.

Source: nature.com
১,৫৩১.
সাইনুসাইটিস রোগের জন্য দায়ী কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Haemophilus influenzae
  2. খ) Neisseria meningitidis 
  3. গ) Listeria monocytogenes 
  4. ঘ) Citrobacter koseri 
সঠিক উত্তর:
ক) Haemophilus influenzae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Haemophilus influenzae
ব্যাখ্যা

সাইনুসাইটিস রোগের জন্য দায়ী হচ্ছে Haemophilus influenzae. 
এছাড়াও Streptococcus, Moraxella catarrhalis ও দায়ী। তবে,
Haemophilus influenzae এর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা, ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি করে তাকে সাইনুসাইটিস বলে।

উপসর্গ:
১। মাথা ব্যথা, সামনের অংশে।
২। মুখে ব্যথা, মুখ ভার ভার অনুভব হওয়া।
৩। নাক ভার হয়ে থাকা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়া অথবা নাক ব্লকেজ মনে হওয়া।
৪। সর্দি, জ্বর, কাশি হওয়া।
৫। গাড়, হলদে রং এর নাসাল ডিসচার্জ।
৬। ঘ্রাণ শক্তি হ্রাস পাওয়া।
৭। নিঃশ্বাসের সময় ব্যতিক্রমী ঘ্রাণ পাওয়া (Bad breath)

চিকিৎসা:
সাইনুসাইটিসের কারণে মাথব্যথা হয়েছে বলে মনে হলে যতদ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
সাইনুসাইটিস থেকে বাঁচতে সতর্কতা হিসেবে ধুলাবালি এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা, নাকের ভিতর ময়লা পানি যাতে না ঢুকে সেদিকে খেয়াল রাখা, দাঁতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া, ঠান্ডা যাতে না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা, ঘর যাতে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৫৩২.
অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিচের কোন ধরনের উৎসেচক নিঃসৃত হয় না?
  1. টায়ালিন
  2. ট্রিপসিন
  3. লাইপেজ
  4. অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা
- পাকস্থলির পেছনে এবং ডিওডেনামের দু’বাহুর মধ্যে প্রায় আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয়ে নালীযুক্ত ও নালিবিহীন উভয় প্রকার গ্রন্থি থাকে বলে একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। 
- নালিযুক্ত গ্রন্থির নিঃসৃত রসকে অগ্ন্যাশয় রস। 
- অগ্ন্যাশয় রসে থাকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামক উৎসেচক। 
- নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি হয়। 
- টায়ালিন লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৩৩.
মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়াকে বলে -
  1. কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট
  2. কার্ডিয়াক ফেইলিউর
  3. হার্ট এ্যাটাক
  4. স্ট্রোক
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক: 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। 
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ। 

স্ট্রোকের কারণ: 
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে। 
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়। 
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

লক্ষণ: 
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধের উপায়: 
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা। 
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৪.
উদ্ভিদে কত প্রকার প্রস্বেদন ঘটে? 
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন ঘটে। 
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৫.
মস এর মূলকে কি বলা হয়?
  1. অস্থানিক মূল
  2. রাইজয়েড
  3. গুচ্ছমূল
  4. প্রধান মূল
সঠিক উত্তর:
রাইজয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইজয়েড
ব্যাখ্যা
• মসবর্গীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- মসবর্গীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা থাকলেও মূল থাকে না।
- মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে, অর্থাৎ মসের মূলকে রাইজয়েড বলা হয়।
- ফুল ও ফল হয় না।
- পরিবহণ টিস্যু থাকেনা, তবে ভ্রুণ সৃষ্টি হয়।
- দেওয়াল বা পাথরের নরম আস্তরণ। উদাহরণ - রিকশিয়া। 

উৎস: উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৫৩৬.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. খনিজ লবণ
  2. প্রোটিন
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ফলের রস
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিডের মতো অম্লীয় উপাদান তৈরি হয়, যা মূত্রের অম্লতা বাড়িয়ে দেয়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

অন্যান্য অপশন:
- খনিজ লবণ দেহের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এটি সরাসরি মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।
- কার্বোহাইড্রেট বিপাকের ফলে মূলত শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এর উপজাতগুলো মূত্রের অম্লতায় বিশেষ প্রভাব ফেলে না।
- ফলের রস বিপাকের পর শরীরে ক্ষারীয় অবশিষ্টাংশ তৈরি করে যা মূত্রকে অম্লীয় করার পরিবর্তে ক্ষারীয় করে তোলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৩৭.
ডেঙ্গু ভাইরাস কোন মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. এডিস
  2. কিউলেক্স
  3. অ্যানোফিলিস
  4. সব ধরনের মশা
সঠিক উত্তর:
এডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডিস
ব্যাখ্যা

- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা। 
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। 
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি। 
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়। 
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে, 
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট।

১,৫৩৮.
নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?
  1. নেফ্রোন
  2. নিউরন
  3. থাইমাস
  4. মাস্ট সেল
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়। 
- নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। 
- নিউরন হলো ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে।
অর্থাৎ, নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে নিউরন বলে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্রন। 
- নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। 
- নিউরন কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়, এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে, সাধারণত এরা অ্যাক্ট্রন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে। 
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে, একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্রন থাকে। 
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্ট্রন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়, একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়। 
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়, স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। 
- প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে। 
- স্নায়ু তন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞাব, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৯.
স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিক তৈরি করেন কোনটি থেকে?
  1. ক) Penicillium claviforme
  2. খ) Penicillium crustosum
  3. গ) Penicillium notatum
  4. ঘ) Penicillium commune
সঠিক উত্তর:
গ) Penicillium notatum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Penicillium notatum
ব্যাখ্যা
In 1928 Scottish bacteriologist Alexander Fleming first observed that colonies of the bacterium Staphylococcus aureus failed to grow in those areas of a culture that had been accidentally contaminated by the green mold Penicillium notatum. He isolated the mold, grew it in a fluid medium, and found that it produced a substance capable of killing many of the common bacteria that infect humans. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৫৪০.
দাঁত ও হাড় গঠনের জন্য নিচের কোন ভিটামিনটি প্রয়োজন?
  1. বি
  2. সি
  3. ডি
সঠিক উত্তর:
ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডি
ব্যাখ্যা
দাঁত ও হাড় গঠনের জন্য সবধরনের খনিজ এবং ভিটামিনের প্রয়োজন আছে।
তবে ক্যালসিয়াম হাড় এবং দাঁতের প্রধান উপাদান এবং
এটা শোষণে ভিটামিন ডি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
১,৫৪১.
আমাশয় রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) Mycobacterium tuberculosis
  2. খ) Bacillus dysenteri
  3. গ) Corynebacterium diptheriae
  4. ঘ) Diplococcus pneumoniae
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) Bacillus dysenteri
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bacillus dysenteri
ব্যাখ্যা
Mycobacterium tuberculosis - যক্ষ্মা
Bacillus dysenteri - আমাশয়
Corynebacterium diptheriae - ডিপথেরিয়া
Diplococcus pneumoniae - নিউমোনিয়া
১,৫৪২.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. শ্বসন
  3. অভিস্রবণ
  4. প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 

- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে। 
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ। 
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়। 
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: 
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৩.
রক্ত কোন ধরণের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. যোজক টিস্যু
  2. পেশি টিস্যু
  3. স্নায়ু টিস্যু
  4. আবরণী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
প্রাণি টিস্যুর প্রকারভেদ:

• প্রাণি টিস্যু তার গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত চার ধরনের হয়। যথা:  
১. আবরণী টিস্যু,
২. যোজক টিস্যু,
৩. পেশি টিস্যু এবং
৪. স্নায়ু টিস্যু।
 
রক্ত:
• রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
• ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
• উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
 
• রক্তরস (Plasma): রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং 8-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 
 
• রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা (Erythrocyte বা Red blood corpuscles বা RBC), 
- শ্বেত রক্তকণিকা (Leukocyte বা white blood corpuscles বা WBC) এবং 
- অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৪৪.
রক্তে থাকা রেড ব্লাড সেল (লোহিত কণিকা) কোথা থেকে আসে?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. তরুণাস্থি
  3. যকৃত
  4. অস্থিমজ্জা
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

• রক্তে থাকা রেড ব্লাড সেল বা লোহিত কণিকা মূলত অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়। আমাদের শরীরে অস্থিমজ্জা হাড়ের ভেতরে থাকে এবং এটি রক্তকোষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। অস্থিমজ্জায় হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থাকে, যা বিভিন্ন ধরণের রক্তকোষে পরিণত হয়, যেমন লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট। লোহিত কণিকার প্রধান কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন বহন করা। হৃদপিণ্ড, যকৃত বা তরুণাস্থি রক্তকোষ উৎপাদন করে না; এগুলো বিভিন্ন ভিন্ন ফাংশন সম্পন্ন করে। তাই, রক্তে থাকা লোহিত কণিকা আসে অস্থিমজ্জা থেকে।

- উত্তর: ঘ) অস্থিমজ্জা।

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৪৫.
DNA নেই কোনটিতে?
  1. ক) E. coli
  2. খ) TMV
  3. গ) T2 ব্যাকটেরিওফায
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
খ) TMV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) TMV
ব্যাখ্যা
• DNA নেই TMV-এ।

টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৬.
কোন খনিজ লবণের অভাবে গাছের বর্ধনশীল অংশে গজানো কচি পাতাগুলো হলদে রঙের হয়-
  1. ক) লৌহ বা আয়োডিন
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ ও ক্যালসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস ও ক্লোরিন
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ:
- নাইট্রোজেন (N) এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পাতা হলুদ হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে।
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। পাতার সরুশিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
- ফসফরাস (P) এর অভাবে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
- ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল মরে যায়। ফুল ফোঁটার সময় উদ্ভিদের কান্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
- আয়রন (Fe) এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরুশিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৭.
অগ্ন্যাশয় কোন খাদ্য উপাদানের পরিপাকে সহায়তা করে না? 
  1. স্নেহ
  2. শর্করা
  3. খনিজ
  4. আমিষ
সঠিক উত্তর:
খনিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৮.
"Necessary Evil বা, প্রয়োজনীয় অমঙ্গল" বলতে কোন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়?
  1. ট্রান্সলোকেশন
  2. প্রস্বেদন
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. ব্যাপন
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

• “Necessary Evil” বা “প্রয়োজনীয় অমঙ্গল” বলতে উদ্ভিদের প্রস্বেদন (খ) প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়। প্রস্বেদনে উদ্ভিদের পাতার রন্ধ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাষ্প আকারে বেরিয়ে যায়, যা প্রথম দৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে হতে পারে, কারণ এতে পানি অপচয় হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রস্বেদন উদ্ভিদদেহে পানি ও খনিজ লবণের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহনে সাহায্য করে, উদ্ভিদকে শীতল রাখে এবং কোষে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই ক্ষতির দিক থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রস্বেদন অপরিহার্য, এজন্য একে “Necessary Evil” বলা হয়।
 
• প্রস্বেদন (Transpiration):
- প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গ (যেমন পাতা, কাণ্ড এবং অল্প পরিমাণে লেন্টিসেল) থেকে অতিরিক্ত জল কে বাষ্প বা জলীয় বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে দেয়।
- বেশিরভাগ প্রস্বেদন ঘটে পাতার পৃষ্ঠে অবস্থিত পত্ররন্ধ্রের (Stomata) মাধ্যমে।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উদ্ভিদ শোষিত মোট জলের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত জলীয় বাষ্প হিসেবে পরিবেশে ত্যাগ করে।
- এই প্রক্রিয়া প্রধানত পত্ররন্ধ্রীয় (Stomatal), কিউটিকুলার (Cuticular) এবং লেন্টিকুলার (Lenticular) পথে ঘটে থাকে।

• প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বলার কারণ:
 - প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (Necessary Evil) বলা হয় কারণ এর দুটি বিপরীতমুখী ভূমিকা রয়েছে।

১। প্রয়োজনীয়তা (Necessity):
- এটি শিকড় থেকে বহু উপরে অবস্থিত পাতায় জল ও খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য একটি টান (Transpiration Pull) সৃষ্টি করে।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে (কুলিং ইফেক্ট)।

২। অমঙ্গল (Evil):
- এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প নির্গত হওয়ার কারণে তীব্র শুষ্ক পরিবেশে বা উচ্চ তাপমাত্রায় উদ্ভিদ পানিশূন্যতায় ভোগে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং প্রয়োজনে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
- এই কারণে, প্রক্রিয়াটি না হলেও নয় (Necessary), আবার অতিরিক্ত হলে তা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকরও (Evil)।
- এই দ্বৈত ভূমিকার (অপরিহার্যতা ও ক্ষতিকরতা) জন্য বিজ্ঞানী ইভান জে. কুর্তিস একে 'Necessary Evil' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১,৫৪৯.
কোলেস্টেরলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে কোন অংশে?
  1. যকৃত
  2. মস্তিষ্ক
  3. প্লিহা
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ এবং মস্তিষ্কে কোলেস্টেরলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
 

কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম-উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)।
- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে মন্দ কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ২০০ mg/dL এরকম। রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
- স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালি অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালি গহ্বর ছোট হয়ে যায়।
- এ কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা arteriosclerosis বলে।

উৎস:  বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণী।

১,৫৫০.
লাউ ও কুমড়া জাতীয় গাছের কাণ্ডে কি ধরনের ভাস্কুলার বাণ্ডল দেখা যায়?
  1. কেন্দ্রিক
  2. অরীয়
  3. সমপার্শ্বীয়
  4. সমদ্বিপার্শ্বীয়
সঠিক উত্তর:
সমদ্বিপার্শ্বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমদ্বিপার্শ্বীয়
ব্যাখ্যা
ভাস্কুলার বাণ্ডলের প্রকারভেদ:
- পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বাণ্ডলের মধ্যে জাইলেম ও ফ্লোয়েম বিভিন্নভাবে অবস্থান করে।
- এদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ভাস্কুলার বাণ্ডলকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- (ক) সংযুক্ত, (খ) অরীয় ও (গ) কেন্দ্রিক।

ক) সংযুক্ত: 
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করলে সে বাণ্ডলকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 
- সংযুক্ত বাণ্ডল আবার দুই রকম।
যথা- 
১। সমপার্শ্বীয়:
- যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে তাকে সংযুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 

২। সমদ্বিপার্শ্বীয়:
- যখন কোন সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডলের মাঝখানে জাইলেম থাকে এবং তার উভয় দিকে ফ্লোয়েম অবস্থান করে এবং উভয় পাশে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 

- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ এর মধ্যে লাউ ও কুমড়া জাতীয় গাছের কাণ্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বাণ্ডল দেখা যায়।

(খ) অরীয়:
- যে সকল ক্ষেত্রে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডল সৃষ্টি করে এবং পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে।
- মূলে এ রকম ভাস্কুলার বাণ্ডল থাকে।

(গ) কেন্দ্রিক: 
- যে ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ফ্লোয়েমকে কিংবা ফ্লোয়েম জাইলেমকে ঘিরে থাকে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে।
- কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বাণ্ডল আবার দুই রকম।
যথা-
A. জাইলেম কেন্দ্রিক:
- এক্ষেত্রে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে ঘিরে রাখে।
যেমন- Pteris, Lycopodium।
B. ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক:
- এক্ষেত্রে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম ফ্লোয়েমকে ঘিরে রাখে।
যেমন- Dracaena।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫১.
প্রোটিনে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ১১%
  2. ১৩%
  3. ১৬%
  4. ২১%
সঠিক উত্তর:
১৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬%
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হল- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (০₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
• লাইসিন,
• ট্রিপটোফ্যান,
• লিউসিন,
• ভ্যালিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন,
• মিথিওনিন,
• থ্রিওনিন।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৫২.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বন্যা
  4. বাসস্থান ধ্বংস
সঠিক উত্তর:
বাসস্থান ধ্বংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসস্থান ধ্বংস
ব্যাখ্যা
মানব সৃষ্ট কারণ:
• বাসস্থান ধ্বংস:
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা।
- বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

•  এক্সপ্লয়টেশন:
- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

• অতিমাত্রায় পশু চারণ:
- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

• পলিনেটর ধ্বংস:
- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

• পরিবেশ দূষণ:
- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- জীববৈচিত্র্য অবনতির প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, দাবানল প্রভৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৩.
অগ্রমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ -
  1. মেডুলা অবলংগাটা
  2. হাইপোথ্যালামাস
  3. থ্যালামাস
  4. সেরেব্রাম
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
ব্যাখ্যা
অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

⇒ সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ সেরেব্রাম।
- এটি মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৪.
মানুষের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল কতগুলো অস্থি নিয়ে গঠিত?
  1. ৮০ টি
  2. ১২৬ টি
  3. ১৮০ টি
  4. ২০৬ টি
সঠিক উত্তর:
১২৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৬ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল ১২৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত। 

• কঙ্কালতন্ত্র:

- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।
- মানুষের ৩০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত অস্থির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। 
• মানবশিশু জন্মের সময় দেহে প্রায় ৩০০টি অস্থি থাকে। তবে পরিণত মানব অন্তঃকঙ্কাল মোট ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

• মানুষের অন্তঃকঙ্কালতন্ত্রকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয়,
যথা- ১. অক্ষীয় কঙ্কাল এবং ২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।
→ অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton): কঙ্কালতন্ত্রের যে অংশগুলো দেহের লম্ব অক্ষ বরাবর অবস্থিত সেগুলোকে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
• মোট ৮০টি অস্থির সমন্বয়ে অক্ষীয় কঙ্কাল গঠিত।
- করোটির অস্থিসংখ্যা - ২৯ টি। 
- মেরুদণ্ডের অস্থিসংখ্যা - ২৬ টি। 
- বক্ষপিঞ্জর অস্থিসংখ্যা- ২৫ টি । 

→ উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton): কঙ্কালতন্ত্রের যে অংশগুলো অক্ষীয় কঙ্কালের দুপাশে প্রতিসমভাবে অবস্থান করে সেগুলোকে উপাঙ্গীয় কঙ্কাল বলে।
• মোট ১২৬টি অস্থির সমন্বয়ে উপাঙ্গীয় কঙ্কাল গঠিত।
- বক্ষ অস্থিচক্রের অস্থিসংখ্যা- ৪ টি । 
- বাহুর অস্থিসংখ্যা - ৬০ টি । 
- শ্রোণিচক্রের (pelvic girdle) অস্থিসংখ্যা- ২ টি। 
- পায়ের অস্থিসংখ্যা- ৬০ টি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৫৫৫.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. গলন
  2. বাষ্পীভবন
  3. প্রস্বেদন
  4. সালোকসংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া


- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়। 
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৬.
হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ কী?
  1. হরমোন উৎপাদন
  2. বর্জ্য পদার্থ অপসারণ
  3. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
  4. শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা
সঠিক উত্তর:
শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে তা শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেওয়া।

হিমোগ্লোবিন:
-
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার একটি জটিল প্রোটিন, যার মধ্যে লৌহ বা আয়রন থাকে। 
- এই আয়রনের কারণেই হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন অণুগুলোকে সহজে ধারণ করতে পারে। 
- এটি ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের টিস্যু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তা সরবরাহ করে।
- এই প্রক্রিয়ায়, হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে কোষে পৌঁছে দিয়ে কোষের বিপাকক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
- এর ফলে জীবিত কোষগুলো ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
- এছাড়া হিমোগ্লোবিন কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়।
- হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণেই রক্ত লাল দেখায়।
- এছাড়াও, রোগ প্রতিরোধে শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) কাজ করে।
- খাদ্য হজমে এনজাইম ও পাচকরস ভূমিকা রাখে।
- রক্ত জমাট বাঁধায় প্লেটলেট ও ফাইব্রিনোজেন কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৫৫৭.
অতিবেগুনী রশ্মির সাহায্যে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয়-
  1. ক) লিভারে
  2. খ) কিডনিতে
  3. গ) অগ্ন্যাশয়ে
  4. ঘ) অন্ত্রে
সঠিক উত্তর:
খ) কিডনিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কিডনিতে
ব্যাখ্যা
সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমে থাকা কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরী হয়। সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয় কিডনিতে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫৫৮.
রক্ত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. হৃৎপিণ্ডে
  2. প্লীহায়
  3. অস্থি মজ্জায়
  4. যকৃতে
সঠিক উত্তর:
অস্থি মজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থি মজ্জায়
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম। 
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB। 
১,৫৫৯.
উদ্ভিদে কয়টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে?
  1. ৬ টি
  2. ১০ টি
  3. ১৬ টি
  4. ৬০ টি
সঠিক উত্তর:
৬০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০ টি
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে, এই উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদন বলে।
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ম্যাক্রো উপাদান
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

২. মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn). মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১,৫৬০.
সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে কোনটি বেশি পাওয়া যায়?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ম্যাগনেশিয়াম
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়। 

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬১.
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্তের কোন উপাদানটি স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

• ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষ ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে, যা মূলত রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট (অনুচক্রিকা) কে প্রভাবিত করে। তবে ডেঙ্গুর সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রায়শই বিপজ্জনক লক্ষণ হলো প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া। অনুচক্রিকা রক্ত জমে যাওয়া এবং রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরের ইমিউন সিস্টেমের মাধ্যমে অনুচক্রিকার উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং তাদের ধ্বংস বৃদ্ধি করে। এর ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে এবং হেমোরেজিক অবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর রক্তে অনুচক্রিকার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়, যা চিকিৎসার জন্য বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন।

- সঠিক উত্তর: গ) অনুচক্রিকা। 

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৬২.
কচু শাকে কোন মূল্যবান খাদ্য উপাদানটি রয়েছে?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) থায়ামিন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কচু নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
১) কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, সি,ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচুর শাক খাওয়ানো উচিত।
২) কচুতে আছে আয়রন, যা রক্ত শূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৩) কচুতে আছে নানা রকমের ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য দারুন উপকারি।
৪) কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমানে পানি থাকে,তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটায় রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।
৫) কচুর শাকে পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে।
৬) কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।
৭) কচু খেলে রক্তের কোলেস্টরল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য ওল কচুর রস বেশ উপকারী।
8) নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৯) কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়; কারণ কচুতে ক্যালসিয়াম অক্সলেট আছে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
১,৫৬৩.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিকে অন্য কী নামে ডাকা হয়? 
  1. ট্রান্সক্রিপশন
  2. রেপ্লিকেশন
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. জিন ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। 
- এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৬৪.
নিচের কোনটি RNA এর নাইট্রোজেন বেস নয়?
  1. ক) অ্যাডেনিন
  2. খ) গুয়ানিন
  3. গ) সাইটোসিন
  4. ঘ) থায়ামিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) থায়ামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থায়ামিন
ব্যাখ্যা
জীবের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
- RNA তে ও চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল। থায়ামিন এর পরিবর্তে এখানে ইউরাসিল থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৫.
মানুষের পায়ে মোট কতটি অস্থি থাকে?
  1. ক) ১৪টি
  2. খ) ২৮টি
  3. গ) ৬০টি
  4. ঘ) ২০৬টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০টি
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে পা (দুটি) এ মোট অস্থি সংখ্যা ৬০টি
• মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা-
১. অক্ষীয় কঙ্কাল এবং
২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল
- অক্ষীয় কঙ্কালে ৮০টি এবং উপাঙ্গীয় কঙ্কালে ১২৬টি অস্থি রয়েছে। 
- উপাঙ্গীয় কঙ্কালে ১২৬টি অস্থির মধ্যে পা (দুটি) এ মোট অস্থি সংখ্যা ৬০টি। 
- প্রতিটি অগ্রপদে ও পশ্চাৎপদে ৩০টি করে অস্থি রয়েছে। 
- পায়ের অস্থি সমূহ: ফিমার- ২টি, টিবিয়া- ২টি, ফিবুলা- ২টি, প্যাটেলা- ২টি, টার্সাল- ১৪টি, মেটাটার্সাল- ১০টি, ফ্যালাঞ্জেস- ২৮টি।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৬৬.
পাতার মাধ্যমে প্রজনন ঘটে থাকে-
  1. পাথরকুচি
  2. আম
  3. আদা
  4. কাঁকরোল
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রজনন:

• যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন ।

• যৌন প্রজনন: 
- বীজের মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন হয়।
- সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- উদাহরণ: ধান, আম, জাম, গম ইত্যাদি।  

• অযৌন জনন: যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন।

১. স্পোর/ অনুবীজ উৎপাদন: নিম্ন শ্রেণির অপুষ্পক উদ্ভিদ স্পোর বা অনুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করে। উদাহরণ: শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি।
২. অঙ্গজ প্রজনন: দেহ অঙ্গের মাধ্যমে (মূল, কান্ড, পাতা প্রভৃতি) প্রজনন হয়।
- মূলের মাধ্যমে: মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল প্রভৃতি।
- পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি (পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে তার থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়)। 
- রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে: আলু, আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, রসুন , আনারস, কলা ইত্যাদি।


উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
১,৫৬৭.
কোনটি মসবর্গীয় উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1. টেরিস
  2. স্পাইরোগাইরা
  3. ব্রায়াম
  4. এগারিকাস
সঠিক উত্তর:
ব্রায়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রায়াম
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৫৬৮.
ভাইরাসের দেহে কোষের সংখ্যা কত? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. অসংখ্য 
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস মূলত অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১,৫৬৯.
কোন অঙ্গাণুটি জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে? 
  1. লাইসোসোম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. রাইবোসোম
সঠিক উত্তর:
লাইসোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
লাইসোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে (Lyso = হজমকারী ; Somo = বস্তু) অবস্থিত কতগুলো হাইড্রোলাইটিক এনজাইম একটি পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। এদের লাইসোসোম বলে। 
- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে দ্য দূ'বে এদের আবিষ্কার করেন। 
- কিছু স্প্রাইম মোল্ড, ছত্রাক, শৈবালসহ অধিকাংশ প্রাণী কোষে লাইসোসোম পাওয়া যায়। 
- তবে বেশির ভাগ উদ্ভিদ কোষে লাইসোসোম অনুপস্থিত। 
- সাধারণত দু'ধরনের লাইসোসোম পাওয়া যায়। 
যথা- 
১। ডাইজেসটিভ গহ্বর এবং 
২। রেসিডিউয়াল বস্তু। 

গঠন: 
- লাইসোসোম সাধারণত গোলাকার তবে অসমানও হতে পারে। 
- এদের আয়তন সাধারণত ০.২-০.৮ মাইক্রন। 
- প্রতিটি লাইসোসোম লিপোপ্রোটিন নির্মিত আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে। এর ভেতরে গাঢ়, দানাদার গহ্বরযুক্ত পদার্থ থাকে। 
- এতে টিস্যু বিগলনকারী এনজাইম ছাড়াও প্রায় ৪০ ধরনের এনজাইম থাকে। 
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে লাইসোমের উৎপত্তি। 

কাজ: 
১। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারী জীবাণু ভক্ষণ। 
২। তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিলে কোষস্থ উপাদান ও অঙ্গাণুকে বিগলিত করে ধ্বংস করে যাকে অটোফ্যাগি (Autophagy) বলে। 
৩। পর্যাপ্ত পরিমাণ এনজাইম থাকায় এরা প্রায় সব ধরনের জৈবিক বস্তু হজম করতে পারে। 
৪। লাইসোসোম জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস (Autolysis) প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে। ফলে সম্পূর্ণ কোষটিই পরিপাক হয়ে যেতে পারে। 
৫। বিভিন্ন ধরনের বস্তু নিঃসরণ করে। 
৬। বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে কোষের অন্যান্য ক্ষুদ্রাঙ্গকে রক্ষা করে। 
৭। পরিপাক কাজে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭০.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি  বলে। পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট - 

- এপিকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
- মায়োকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- এন্ডোকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায় ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৫৭১.
জেরোফাইট উদ্ভিদ কোন ইকোসিস্টেমের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট
  2. খ) ট্রপিক্যাল সিজনাল ফরেস্ট
  3. গ) মরুভূমি
  4. ঘ) পত্রঝরা বন
সঠিক উত্তর:
গ) মরুভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মরুভূমি
ব্যাখ্যা
মরুপরিবেশে দিন ও রাত্রির তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০° সে. পর্যন্ত হয়। এখানে যে সকল উদ্ভিদ অভিযোজিত অবস্থায় আছে তাদেরকে জেরোফাইট (Xerophyte) বলে।
এখানে বর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবী উভয় প্রকার উদ্ভিদ জন্মায়।
সাধারণত বছরে একবারই বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সাথে সাথেই আগের বছরের বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং খুব অল্প দিনেই বিকশিত হয়ে ফুল-ফলে ভরে যায়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭২.
স্বাভাবিকভাবে একজন সুস্থ মানুষের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কত থাকে?
  1. ২.৫–৪.০ mmole/L
  2. ৩.৯–৫.৬ mmole/L
  3. ৮.০–১০.০ mmole/L
  4. ৫.৬–৭.৮ mmole/L
সঠিক উত্তর:
৩.৯–৫.৬ mmole/L
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩.৯–৫.৬ mmole/L
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ: 
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- এটি গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে। 
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯-৫.৬ mmole\L কিংবা (৭০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)। 
- ডায়াবেটিস হলে রক্তে এর পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়। 

- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। 
- ডায়াবেটিস হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে। 
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। 
- শর্করার মাত্রার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন ধরনের ডায়াবেটিসও আছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৩.
'Species Plantarum' বইটির লেখক কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) মেন্ডেল
  3. গ) ডারউইন
  4. ঘ) লিনিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 'Species Plantarum' বইটি রচনা করেন। এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে, কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৪.
রেচনতন্ত্রের প্রধান কাজ কী?
  1. পুষ্টি শোষণ 
  2. হরমোন সৃষ্টিকরণ 
  3. শারীরিক তাপ নিয়ন্ত্রণ
  4. অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
ব্যাখ্যা

রেচনতন্ত্র: 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭৫.
কোনটি রক্তের কাজ নয়?
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন পরিবহন করা
  4. জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করা
সঠিক উত্তর:
জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করা
ব্যাখ্যা

• রক্ত জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করে না কারণ এনজাইমগুলো সাধারণত নালিপথের (duct) মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায়, রক্তের মাধ্যমে নয়।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

• রক্তের কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৭৬.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) হেপারিন
সঠিক উত্তর:
গ) অণুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। হেপারিন রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৫৭৭.
মানুষের করোটিক স্নায়ু-
  1. ১০ জোড়া
  2. ৩১ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 

- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৮.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি এসিড দিয়ে
  2. সাইট্রিক এসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে এসিড দিয়ে
  4. অক্সালিক এসিড দিয়ে
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনাে এসিড দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনাে এসিড দিয়ে
ব্যাখ্যা
• প্রােটিন তৈরি হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে।

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
- প্রােটিন গঠনকারী অ্যামাইনাে অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এই ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলাে হলাে:
১. লাইসিন,
২. লিউসিন,
৩. আইসােলিউসিন,
৪. মিথিওনিন,
৫. ট্রিপটোফ্যান,
৬. ভ্যালিন,
৭. ফিনাইল অ্যালানিন,
৮. থ্রিওনিন।

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১,৫৭৯.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান কয়টি?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১২
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন -
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং
২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান (macro-nutrient বা macro-element): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। ম্যাক্রো উপাদান 9 টি, যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০), সালফার (S)।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান (micro-nutrient বা micro-element): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট 7 টি, যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), ক্লোরিন (Cl) এবং লৌহ (Fe)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮০.
নিচের কোনটি দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান?
  1. ক) গ্লাইকোজেন
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ফ্রুক্টোজ
  4. ঘ) সুক্রোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুক্রোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুক্রোজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ হলো এক শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ হলো দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন হলো বহু শর্করা পুষ্টি উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৮১.
বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ বলতে কী বুঝায়?
  1. শরীরের ওজন কম
  2. সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
  3. অতিরিক্ত ওজন
  4. মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
• বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয় 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮২.
T2 ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় কিভাবে?
  1. এমাইটোসিস পদ্ধতিতে
  2. লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
  3. লিয়োজেনিক চক্রের মাধ্যমে
  4. খ ও গ উভয় প্রক্রিয়ায়
সঠিক উত্তর:
লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

ভাইরাস এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় সংখ্যাবৃদ্ধির ক্ষমতা সম্পন্ন যা উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
T2 ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় লাইটিক চক্র বা লাইসোজেনিক চক্রের মাধ্যমে।
এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এককোষী জীবসমূহ (ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি) বংশবৃদ্ধি করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৫৮৩.
কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিশ্বাস নেয়?
  1. ক) পটকা মাছ
  2. খ) শুশুক
  3. গ) হাঙ্গর
  4. ঘ) জেলী ফিস
সঠিক উত্তর:
খ) শুশুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শুশুক
ব্যাখ্যা
- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org

- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।
১,৫৮৪.
অপুষ্পক উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. ধান
  2. নারিকেল
  3. ছত্রাক
  4. সাইকাস
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন - ছত্রাক (মাশরুম), নস্টক, ক্লোরেলা ইত্যাদি সবই অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয়, তাকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন - ধান, নারকেল, সাইকাস এদের সবারই ফুল হয়। 
- সাইকাসের ফুলে গর্ভাশয় উপস্থিত থাকে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৫৮৫.
নিচের কোনটির অভাবে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায়?
  1. ক) হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. খ) ম্যাগনেশিয়াম
  3. গ) ক্লোরোফর্ম 
  4. ঘ) অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেশিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্লোরোফিলের প্রধান উপাদান হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেশিয়াম।

লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। কাজেই, মাটিতে এসব খনিজের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায়।
বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায় আর অক্সিজেনের ঘনত্ব কমে গেলে সালোকসংশ্লেষনের হার বেড়ে যায়। তবে, অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে সালোকসংশ্লেষন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৫৮৬.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. ক) মাছ
  2. খ) সাপ
  3. গ) টিকটিকি
  4. ঘ) চিংড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিংড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিংড়ি
ব্যাখ্যা
মশা, মাছি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো এরা অমেরুদণ্ডী প্রানী৷
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫৮৭.
কোনটি ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. - ৭° থেকে ১০৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে
  2. আকার ০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার
  3. এরা এককোষী
  4. বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
সঠিক উত্তর:
- ৭° থেকে ১০৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- ৭° থেকে ১০৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- এরা মাইনাস ১৭° থেকে ৮০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচে। 
- ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার।
- এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
- এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
- এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। 
- এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান।
- ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
- এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
- এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে ।

উৎস: Live MCQ লেকচার শীট।
১,৫৮৮.
কড মাছের তেলে কোন ধরণের ভিটামিন অধিক পরিমাণে রয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন কে
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
কড মাছের তেলে ভিটামিন এ এর পরিমাণ অধিক পরিমাণে রয়েছে।

উৎস : ভিটামিন এ এর ভালো প্রাণিজ উৎসগুলো হলে-ডিম, দুধ, ছানা, মাখন, ঘি, পনির, কলিজা, ও কড় মাছের তেল। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা আম, গাঢ় সবুজ শাক, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল এবং লাল শাক, কচু শাক, পুঁই শাক, পাট শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, পুদিনা পাতা ইত্যাদি ভিটামিন এ এর উদ্ভিজ্জ উৎস।

ভিটামিন এ এর কাজ- 
১। দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে ।
২। দাঁত ও অস্থি গঠনে সহায়তা করে
৩। দেহের বিভিন্ন আবরককলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্ণিয়া, বৃক্ক ইত্যাদি স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৪ । রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ।

অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। দীর্ঘদিনের অভাবে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ১৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৯.
সবুজ উদ্ভিদের প্রস্তুতকৃত খাবার কোনটি? 
  1. ক) C6H12O6
  2. খ) Na3AlF6
  3. গ) P2O5
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) C6H12O6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) C6H12O6
ব্যাখ্যা
সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
এই খাবার তৈরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড অপরিহার্য। 
সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার বিক্রিয়া নিন্ম্রুপ; 

১,৫৯০.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

• হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯১.
ত্বকের এপিডার্মিস কোষে সৃষ্ট কোন পদার্থ অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. থায়ামিন
  2. মেলালিন
  3. ক্যারোটিন
  4. গোয়ানিন
সঠিক উত্তর:
মেলালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলালিন
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- মানবদেহে 'ত্বক' প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। 
- ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH= 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯২.
সরীসৃপ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়
  2. খ) দেহত্বক সাধারণত আঁশবিহীন
  3. গ) শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
  4. ঘ) বায়ুথলি উপস্থিত
সঠিক উত্তর:
গ) শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
ব্যাখ্যা

মেরুদন্ডী প্রাণিদের মধ্যে সরীসৃপই প্রথম পূর্ণ বিকশিত স্থলচর প্রাণি। শুষ্কতা, পানি ধরে রাখা, স্থলে বিচরণ, রক্তসংবহনজনিত সমস্ত বাঁধা অতিক্রম করে সরীসৃপরা পৃথিবীর সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
এদের প্রজাতির সংখ্যা ৯,৮৩১টি।

বৈশিষ্ট্য-
১। শীতল রক্তবিশিষ্ট স্থলচর প্রাণী, এরা বুকে ভর দিয়ে চলে।
২। সরীসৃপের দেহ শুষ্ক ও এপিডার্মিস উদ্ভূত আঁইশে আবৃত।
৩। হৃদপিন্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
৪। সরীসৃপের ডিম চামড়ার মতো বা চুনময় খোলকে আবৃত থাকে।
৫। নিষেক অভ্যন্তরীণ, লার্ভা দশা নেই।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯৩.
সালোকসংশ্লেষণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে উৎপন্ন করে-
  1. ক) শুধু গ্লুকোজ
  2. খ) কার্বনিক এসিড
  3. গ) প্রচুর শক্তি
  4. ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- ক্লোরোফিল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, পানি ও আলো।
উৎপাদিত হয়- কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ, পানি এবং অক্সিজেন (উপজাত হিসেবে)। ক্লোরোফিল ও আলো ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন হয় না।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৯৪.
ডিমের সাদা অংশে থাকে -
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) গ্লুকোজ
  4. ঘ) লিনোলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালবুমিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালবুমিন
ব্যাখ্যা
ডিমের সাদা অংশে ‘অ্যালবুমিন’ নামক প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন। এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে।
Source: Britannica
১,৫৯৫.
অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড কোনটি?
  1. ক) লাইসিন
  2. খ) লিউসিন
  3. গ) মিথিওনিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এসমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে ।

এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো- 
১। লাইসিন
৫। ট্রিপটোফ্যান
২। লিউসিন
৬। ভ্যালিন
৩। আইসোলিউসিন
৭। ফিনাইল অ্যালানিন
৪। মিথিওনিন
৮। থ্রিওনিন

দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ছানা ইত্যাদিতে প্রায় সবকটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।

সূত্র: ৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৯৬.
মানবদেহে কোনটির অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. নিয়াসিন
  2. থায়ামিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
-
এই ভিটামিন কোলাজেন গঠনের জন্য অপরিহার্য এবং এর অভাবে মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত পড়ে যাওয়া, ত্বকে রক্তক্ষরণ এবং ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

• ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু, আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- থায়ামিন (ভিটামিন বি১): এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি২): এর অভাবে "অ্যারিবোফ্ল্যাভিনোসিস" রোগ হয়। এতে ঠোঁট ফাটা, জিহ্বায় ঘা এবং চোখের সমস্যা হয়, কিন্তু স্কার্ভি হয় না।
- নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩/নিকোটিনিক অ্যাসিড): এর অভাবে পেলাগ্রা রোগ হয়। এই রোগে ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া, মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১,৫৯৭.
কোনটি লোহিত রক্তকণিকার কাজ নয়?
  1. ক) দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা
  2. খ) কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা
  3. গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
  4. ঘ) রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
ব্যাখ্যা

লােহিত কণিকার কাজঃ

১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
৩. হিমােগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৯৮.
হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-
  1. ভেইন
  2. আর্টারি
  3. ক্যাপিলারি
  4. নার্ভ
সঠিক উত্তর:
আর্টারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্টারি
ব্যাখ্যা
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে
আসে, তাদের শিরা (Vein) বলে।
- ক্যাপিলারি হলো ক্ষুদ্র রক্তনালী যা আর্টারি ও ভেইনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- নার্ভ হলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, যা রক্তনালী নয় এবং রক্ত বহন করে না।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৫৯৯.
যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে কী বলে?
  1. মাইক্রোকক্কাস
  2. স্ট্যাফাইলোকক্কাস
  3. স্ট্রেপটোকক্কাস
  4. ডিপ্লোকক্কাস
সঠিক উত্তর:
ডিপ্লোকক্কাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিপ্লোকক্কাস
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস: 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (ক) কক্কাস, (খ) ব্যাসিলাস, (গ) স্পাইরিলাম এবং (ঘ) কমা আকৃতি। 
(ক) কক্কাস: 
- গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। 
যথা-১। মাইক্রোকক্কাস, ২। ডিপ্লোকক্কাস, ৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ৪। স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ৫। সারসিনা। 
১। মাইক্রোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Micrococcus denitrificans. 
২। ডিপ্লোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে ডিপ্লোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Diplococcus pneumoniae. 
৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া অনিয়মিত গুচ্ছাকারে সাজান থাকে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Staphylococcus aureus. 
৪। স্ট্রেপটোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া চেইনের মত সাজানো থাকে তাকে স্ট্রেপটোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Streptococcus lactis. 
৫। সারসিনা: 
- যে সকল গোলাকার ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত দলে অবস্থান করে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে তাদেরকে সারসিনা বলে। 
উদাহরণ- Sarcina lutea. 

খ) ব্যাসিলাস: 
- দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Bacillus subtilis, B. ulbus, B. anthracis ইত্যাদি। 

(গ) স্পাইরিলাম: 
- কুন্ডলাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে। 
উদাহরণ- Spirillum volutans, S. minus ইত্যাদি। 

(ঘ) কমা: 
- কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Vibrio cholerae. 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০০.
কোন ধরনের টিস্যু থেকে মধু নিঃসৃত হতে পারে?
  1. ক) তরুক্ষীর টিস্যু
  2. খ) গ্রন্থি টিস্যু
  3. গ) জাইলেম টিস্যু
  4. ঘ) আবরণী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রন্থি টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রন্থি টিস্যু
ব্যাখ্যা
গ্রন্থি টিস্যু- এক বা একাধিক কোষের সমন্বয়ে গঠিত টিস্যু থেকে যখন কোন পদার্থ নিঃসৃত হয় তখন তাকে গ্রন্থি টিস্যু বলা হয়। এ টিস্যুর কোষগুলো সজীব। এদের কোষে সাধারণত কোন গহ্বর থাকে না। এসব কোষ থেকে মধু, এনজাইম, রেজিন, ট্যানিন, গঁদ, মিউসিলেজ, তেল, পানি ইত্যাদি নিঃসৃত হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়