কোষ বিভাজন: - যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। - জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মায়োসিস কোষ বিভাজন। ১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: - যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। ২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: - যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। ৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: - যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০২.
উদ্ভিদের জন্য নিচের কোনটি বেশি পরিমাণে প্রয়োজন?
ক
দস্তা (Zn)
খ
নাইট্রোজেন (N)
গ
লৌহ (Fe)
ঘ
বোরন (B)
সঠিক উত্তর: খ
নাইট্রোজেন (N)
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
নাইট্রোজেন (N)
খ
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (ক) ম্যাক্রো উপাদান (Macro nutrient): - উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। - এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০) ও সালফার (S)।
(খ) মাইক্রো উপাদান (Micro nutrient): - উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। - এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৩.
সবুজ দূর্বাঘাস কিছুদিন ইট দিয়ে ঢাকা রাখলে কী রঙ ধারণ করবে?
ক
ক) সাদা
খ
খ) কালো
গ
গ) নীল
ঘ
ঘ) বেগুনী
সঠিক উত্তর: ক
ক) সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) সাদা
ক
ব্যাখ্যা
সবুজ দূর্বাঘাস কিছুদিন ইট দিয়ে ঢাকা রাখলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিকোপ্লাস্টে পরিণত হয়ে যায় বলে ঘাসের রঙও সাদা হয় তখন। উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,১০৪.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
ক
সাইকাস
খ
মটরশুটি
গ
মস
ঘ
ফার্ণ
সঠিক উত্তর: ক
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
সাইকাস
ক
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: - বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। - সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। - প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল। - এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। - এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। - এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। - এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৫.
মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণের রক্তে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে কোন অঙ্গ?
ক
জরায়ু
খ
নাভি
গ
অমরা
ঘ
ডিম্বাশয়
সঠিক উত্তর: গ
অমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অমরা
গ
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta): - যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। - ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। - ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। - নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। - এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। - প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়।
- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। - ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। - অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। - অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। - অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। - বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। - অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। - অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। - অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। - এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। - গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১০৬.
নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় কোনটিতে পরিবর্তিত হয়?
ক
ফল
খ
বীজ
গ
ভ্রূণ
ঘ
সস্য
সঠিক উত্তর: ক
ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ফল
ক
ব্যাখ্যা
- নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিবর্তিত হয়।
• নিষেকক্রিয়া: - আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া বলা হয়। - একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে। - সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদ, ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ, টেরিডোফাইটস্, ব্রায়োফাইটস্, শৈবাল প্রভৃতি উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া ঘটে। - নিষেক ক্রিয়ার ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট উৎপন্ন হয়।
• বীজ সৃষ্টি: - গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়। - জাইগোট বিভাজন ও পরিস্ফুটনের মাধ্যমে একটি ভূণ গঠন করে। একটি ভ্রূণে থাকে বীজপত্র, ভূণকান্ড, ভূণমূল ও সস্য বা এন্ডোস্পার্ম।
• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন:
পটাশিয়াম: - উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। - পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। - পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। - কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। - এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: - দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। - এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো- ১. পাচক রস:পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ। ২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। ৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ।
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। - মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না। - কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৯.
রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের স্বচ্ছ যে রস পাওয়া যায়, তাকে কী বলে?
ক
লসিকা
খ
প্লাজমা
গ
সিরাম
ঘ
অ্যান্টিজেন
সঠিক উত্তর: গ
সিরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
সিরাম
গ
ব্যাখ্যা
সিরাম: - রক্ত থেকে রক্তকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধার জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন আছে, সেটাকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে তরলটি রয়ে যায়, তাকে সিরাম বলে। অর্থাৎ, রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের যে স্বচ্ছ রস পাওয়া যায়, তাকে সিরাম বলে। - রক্তরস বা প্লাজমা এবং সিরামের মাঝে মূল পার্থক্য হলো রক্তরসে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে, সিরামে সেটি থাকে না।
রক্তরস বা প্লাজমা: - রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। - রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। - অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O, CO, এবং N, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১০.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
ক
Carolus Linnaeus
খ
Theophrastus
গ
George Benthum
ঘ
De Candolle
সঠিক উত্তর: ক
Carolus Linnaeus
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
Carolus Linnaeus
ক
ব্যাখ্যা
• শ্রেণিবিন্যাসের জনক (Father of Classification): - জীবজগতের বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ও চিহ্নিত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়। - আধুনিক জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করেন ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)। - তিনি জীবদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি (Binomial Nomenclature) প্রবর্তন করেন। - এই পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের নাম দুটি অংশে গঠিত হয়—গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species)। - তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Systema Naturae” জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - Theophrastus উদ্ভিদবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত, কিন্তু শ্রেণিবিন্যাসের জনক নন। - George Bentham ও De Candolle উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক নন।
সুতরাং, জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসের জনক হলেন Carolus Linnaeus. সঠিক উত্তর: ক) Carolus Linnaeus.
উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১১.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমের সংখ্যা-
ক
১ জোড়া
খ
২ জোড়া
গ
২৩ জোড়া
ঘ
২২ জোড়া
সঠিক উত্তর: ক
১ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
১ জোড়া
ক
ব্যাখ্যা
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা: - মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। - এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। - অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। - লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। - অপর এক জোড়া বা ২টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। - সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। - লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১২.
কোন নিউরোট্রান্সমিটার মুড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
ক
অ্যাসিটাইলকোলিন
খ
ডোপামিন
গ
গ্লুটামেট
ঘ
GABA
সঠিক উত্তর: খ
ডোপামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ডোপামিন
খ
ব্যাখ্যা
◉ ডোপামিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার, যা সুখ, প্রেরণা এবং পুরস্কারমূলক অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।
ডোপামিন: - ডোপামিন মস্তিষ্কে তৈরি একটি নিউরোট্রান্সমিটার (দুটি স্নায়ু কোষের মধ্যে রাসায়নিক বার্তাবাহক)। - এটি মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ এবং শরীরের স্নায়ু এবং পেশী কোষের মধ্যে বার্তা যোগাযোগ করতে সহায়তা করে। - এটি শরীরের নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়, মেজাজ, স্মৃতি, মনোযোগ, অনুপ্রেরণা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। - এটি শরীরের অনেক কাজের সাথে জড়িত যেমন উত্তেজনা এবং ঘুম, জ্ঞান এবং আচরণ, মেজাজ, স্তন্যদান, শিক্ষা ইত্যাদি। - এটি একটি সত্যিকারের চাপের পরিস্থিতিতে শরীরের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন বিপদ সনাক্ত করা এবং এটি থেকে পালানো। - ডোপামিনের ঘাটতি হলে উদাসীনতা, বিষণ্নতা ও পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। - অতিরিক্ত ডোপামিন স্কিজোফ্রেনিয়া ও আসক্তির (Addiction) সাথে সম্পর্কিত।
উৎস: i) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ii) Care Hospitals Website. [Link]
১,১১৩.
জেনেটিক কোডের আবিষ্কারক-
ক
ক) রোনাল্ড রস
খ
খ) খোরানা
গ
গ) জোহানসন
ঘ
ঘ) স্ট্রাসবুর্গার
সঠিক উত্তর: খ
খ) খোরানা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) খোরানা
খ
ব্যাখ্যা
- জিন সাধারণত প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে তাদের প্রকাশ ঘটায়। জিনের নিউক্লিওটাইডের পরম্পরা অনুযায়ী জীবকোষ অ্যামাইনো এসিড তৈরি করে। - অ্যামাইনো এসিড থেকে প্রোটিন উৎপন্ন হয়। - প্রোটিনে অ্যামাইনো এসিডের ক্রম আর জিনে নিউক্লিওটাইডের ক্রম অভিন্ন রকম হয়ে থাকে। - নিউক্লিওটাইডের ক্রম আর অ্যামাইনো এসিডের ক্রমের এই সম্পর্ককে জেনেটিক কোড বলে। - ড. হর গোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড আবিষ্কার করেন।
১,১১৪.
এন্টিবায়োটিকের কাজ-
ক
ক) রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
খ
খ) জীবাণু ধ্বংস করা
গ
গ) ভাইরাস ধ্বংস করা
ঘ
ঘ) দ্রুত রোগ নিরাময় করা
সঠিক উত্তর: খ
খ) জীবাণু ধ্বংস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) জীবাণু ধ্বংস করা
খ
ব্যাখ্যা
- এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস বা তার বৃদ্ধি রহিত করে।
- এক ধরনের পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয় এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন। - পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১১৫.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে কে?
ক
ক) নিউট্রোফিল
খ
খ) ইওসিনােফিল
গ
গ) বেসােফিল
ঘ
ঘ) হেপারিন
সঠিক উত্তর: ক
ক) নিউট্রোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) নিউট্রোফিল
ক
ব্যাখ্যা
গ্র্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷ এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত। গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার। যথা: নিউট্রোফিল, ইওসিনােফিল এবং বেসােফিল।
- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে। - ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে। - বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,১১৬.
খাদ্যের কোন উপাদান 'খাদ্যপ্রাণ' হিসেবে পরিচিত?
ক
শর্করা
খ
ভিটামিন
গ
আমিষ
ঘ
পানি
সঠিক উত্তর: খ
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ভিটামিন
খ
ব্যাখ্যা
• খাদ্য উপাদান: - বর্ণ, গন্ধ, ঘনত্ব, আকার, আকৃতি, গঠন, প্রকৃতি ইত্যাদি দিক থেকে যাবতীয় খাদ্যকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। - এদেরকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। - খাদ্যের উপাদান ৬টি। যথা:
১. আমিষ বা প্রোটিন: - আমিষ জাতীয় খাদ্য প্রধানত দেহ গঠন, বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণের কাজ করে। - প্রোটিন হতে দেহের প্রয়োজনে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ও অভ্যন্তরীণ ক্রিয়ায় প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা রাখে। - মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, পনির, ছানা, ডাল, শিমের বিচি, বাদাম, মটরশুঁটি ইত্যাদি প্রোটিনের ভালো উৎস।
২. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট: - শর্করা বা শ্বেতসারজাতীয় খাদ্য হতে প্রধানত তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়। - ভাত, রুটি, ভুট্টা, গম, যব, চিড়া, মুড়ি, চিনি, মধু, মিষ্টি ফল, ফলের রস, গুড়, আলু ইত্যাদি শর্করার ভালো উৎস।
৩. স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট: - স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের প্রধান কাজ দেহের জন্য তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। - ফ্যাট জাতীয় খাদ্য হতেই সর্বাধিক পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। - মাছ ও মাংসের তেল ও চর্বি, ঘি, মাখন, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, নারিকেল তেল, অন্যান্য তেল, বাদাম, ডিমের কুসুম ইত্যাদি স্নেহ জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস।
৪. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: - ভিটামিন ৬ প্রকার। - যথা: ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই এবং কে। - সুষম খাদ্যের ভিটামিন খাদ্য উপাদান 'খাদ্যপ্রাণ' হিসেবে পরিচিত। - রোগ প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ রাখাই ভিটামিনের প্রধান কাজ। - সব ধরনের শাক-সবজি, ফল, ঢেকি ছাঁটা চাল, তেল বীজ, অঙ্কুরিত বীজ ইত্যাদি ভিটামিনের উৎস।
৫. খনিজ লবণ বা মিনারেল: - দেহের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-বিক্রিয়া, হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত তৈরি, মস্তিষ্কের বিকাশ, দেহের পানি সমতা রক্ষা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনে বিভিন্ন খনিজ পদার্থসমূহ অপরিহার্য। - কয়েকটি উল্লেখযোগ্য খনিজ লবণ হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ বা আয়রণ, আয়োডিন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি। - দুধ, ছোট মাছ, মাংস, ডিমের কুসুম, ডাল, শাক-সবজি, বিভিন্ন ফল, ডাবের পানি, লবণ ইত্যাদি বিভিন্ন খনিজ লবণের উৎস।
৬. পানি: - একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের প্রায় ৭০% পানি। - দেহ অভ্যন্তরের সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংঘটন, রক্ত সঞ্চালন, পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচলে পানি অপরিহার্য। - দেহের সামগ্রিক সজীবতা রক্ষায় পানি প্রয়োজন। - পানি ছাড়া বেঁচে থাকা যায় না, তাই পানির অপর নাম জীবন।
উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৭.
কোন ধমনি থাইরয়েড গ্রন্থি ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে?
ক
সার্ভিকাল ধমনি
খ
ইলিয়াক ধমনি
গ
মেসেন্টেরিক ধমনি
ঘ
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
সঠিক উত্তর: ঘ
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
ঘ
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: - দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। যেমন - ⇒ আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। ⇒ থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। ⇒ সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। ⇒ ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। ⇒ সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। ⇒ ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। ⇒ বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। ⇒ মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। ⇒ জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। ⇒ ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৮.
যেসব প্লাস্টিডে রঞ্জক থাকে না, সেগুলোকে কী বলা হয়?
ক
ক্লাইমোপ্লাস্ট
খ
লিউকোপ্লাস্ট
গ
ক্রোমোপ্লাস্ট
ঘ
ক্লোরোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর: খ
লিউকোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
লিউকোপ্লাস্ট
খ
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: - প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। - প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। - প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ১। ক্লোরোপ্লাস্ট, ২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং ৩। লিউকোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্ট: - সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। - পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। - প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। - এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।
ক্রোমোপ্লাস্ট: - ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। - এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। - ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ।
লিউকোপ্লাস্ট: - যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। - যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। - এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১৯.
নিচের কোনটি উৎপাদক হিসেবে কাজ করে?
ক
ক) ব্যাকটেরিয়া
খ
খ) শেওলা
গ
গ) মানুষ
ঘ
ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর: খ
খ) শেওলা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) শেওলা
খ
ব্যাখ্যা
উৎপাদক (Producer) : • সাধারণত উচ্চতর উদ্ভিদ ও শেওলা জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। • এ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে অক্সিজেন তৈরি হয়, যা জীব পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। এক্ষেত্রে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং শর্করা খাদ্যে আবদ্ধ থাকে । • যে সকল উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটনে সক্ষম তাদেরকে প্রাথমিক উৎপাদক (primary producer) বলে।
খাদক (Consumer) : বাস্তুসংস্থানের পরভোজী জীবগুলিকে খাদক বলা হয়। এরা সবুজ উদ্ভিদ কর্তৃক তৈরিকৃত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। খাদক হিসেবে প্রধানত প্রাণিদেরকে বুঝানো হয়ে থাকে, কেননা প্রাণিরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে অক্ষম। ফলে খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল । খাদককে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়ে থাকে, যথা- প্রথম স্তরের খাদক দ্বিতীয় স্তরের খাদক তৃতীয় স্তরের খাদক
উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২০.
মানুষের রক্ত লাল রঙের হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
ক
রক্তে লাল তন্তুর উপস্থিতি
খ
রক্তে লৌহ আয়নের বৃদ্ধি
গ
হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
ঘ
রক্তে অক্সিজেনের উপস্থিতি
সঠিক উত্তর: গ
হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
গ
ব্যাখ্যা
রক্ত: - প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। - একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। - মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। - রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। - হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। - কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২১.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
ক
সেলুলোজ
খ
কাইটিন
গ
লিপিড
ঘ
প্রোটিন
সঠিক উত্তর: খ
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কাইটিন
খ
ব্যাখ্যা
• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়। - এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত। - কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে। - এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। - কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো। - উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইস্ট এবং অন্যান্য ফাংগাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।
• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: - কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে। - আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে। - বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। - এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
তথ্যসূত্র: - NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২২.
মানুষের হার্টে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?
ক
২টি
খ
৩টি
গ
৪টি
ঘ
৫টি
সঠিক উত্তর: গ
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
৪টি
গ
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
• হৃৎপিণ্ড: - হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প। - হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। - মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। - হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে। - মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। - ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে। - দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। - ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে। - বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। - ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৩.
'সালোকসংশ্লেষণ' জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
ক
Morphology
খ
Physiology
গ
Cytology
ঘ
Ethnobiology
সঠিক উত্তর: খ
Physiology
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
Physiology
খ
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology) :
জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ - এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
প্রাণীকোষে কোষগহবর থাকে না, তবে কোন কোন কোষে যদি থাকেও আকারে খুবই ছোট।
উদ্ভিদকোষে কোষগহবর থাকে এবং আকারে বড় হয়। এ কারণে, উদ্ভিদ কোষে নিউক্লিয়াস একপাশে এবং প্রাণীকোষে নিউক্লিয়াস মাঝামাঝি থাকে। নানা প্রকার জৈব এসিড, লবণ, শর্করা, আমিষ ইত্যাদি কোষ গহবরে দ্রবীভূত অবস্থায় থেকে কোষরস প্রস্তুত করে।
উৎস: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান (১৭-১৮ পৃষ্ঠা)।
১,১২৫.
দ্বিপদ নামকরণের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ কী নির্দেশ করে?
ক
গণ
খ
শ্রেণি
গ
প্রজাতি
ঘ
পরিবার
সঠিক উত্তর: ক
গণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
গণ
ক
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ: - বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। - প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। - জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। - বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। - শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। - প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। - ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। - একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। - দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ প্রথায় একটি জীবের নাম দুইটি অংশে বিভক্ত হয়। প্রথম অংশে গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশে প্রজাতি (Species) থাকে। যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. - বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৬.
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য -
ক
শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১
খ
খাদ্যে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে
গ
সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে
ঘ
উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর: ঘ
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
উপরের সবগুলোই
ঘ
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ- ১। একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে। ২। খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১ । ৩। সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাকসব্জি থাকতে হবে। ৪। খাদ্যের প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে। ৫। সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।
সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরির জন্য কতকগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার । যথা— ১। ব্যক্তি বিশেষের লিঙ্গ, পেশা ও শারীরিক অবস্থা । ২। খাদ্যের মূল্যমান সম্পর্কে জ্ঞান । ৩। দেহের ক্ষয় পূরণ ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করা ৪ । খাদ্যে পরিমাণ মতো ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির উপস্থিতি। ৫। ঋতু, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জ্ঞান। ৬। পরিবারের আর্থিক বিষয় বিবেচনা করা ও সদস্য সংখ্যা।
- এছাড়া খাদ্য তৈরি, পরিবেশন ও গ্রহণের সময় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দৈনিক ৭/৮ গ্লাস পানি পান করা। - টাটকা সবুজ শাকসব্জি, মৌসুমী ফল-মূল প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় থাকা আবশ্যক।
সূত্র: ৫৮ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৭.
বাংলাদেশে ইপিআই (EPI) কর্মসূচীতে কয়টি রোগের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
ক
৭টি
খ
৮টি
গ
১০টি
ঘ
১১ টি
সঠিক উত্তর: গ
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
১০টি
গ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি(ইপিআই): - শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার এবং শিশুর পঙ্গুত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়। - শুরুতে ছয়টি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে ১০টি রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এগুলো হলো: - শিশুদের যক্ষ্মা, পোলিওমাইলাইটিস, ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি, এমআর (হাম, রুবেলা), নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া। - মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি জনিত রোগসমূহ।
উৎসঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ICDDR,B ওয়েবসাইট।
১,১২৮.
কোনটি কোলেস্টেরল নয়?
ক
Glucagon
খ
HDL
গ
LDL
ঘ
Triglycerides
সঠিক উত্তর: ক
Glucagon
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
Glucagon
ক
ব্যাখ্যা
গ্লুকাগন কোলেস্টেরল নয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত একধরনের হরমোন। গ্লুকাগন শরীরে অধিক পরিমাণে দেখা গেলে ডায়াবেটিস হতে পারে।
কোলেস্টেরল: - কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ। - এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। - লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। - তিন প্রকার লিপোপ্রোটিন দেখা যায়। যথা: ১. HDL (High-Density Lipoprotein, or “good” cholesterol)-কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
২. LDL (Low-Density Lipoprotein, or “bad” cholesterol)-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। - সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়।
৩. Triglycerides লিপোপ্রোটিন বা কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১,১২৯.
নিম্নলিখিত কোন ফুলে বায়ু দ্বারা পরাগায়ন হয়?
ক
গোলাপ
খ
ভুট্টা
গ
সূর্যমুখী
ঘ
জুঁই
সঠিক উত্তর: খ
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ভুট্টা
খ
ব্যাখ্যা
◉ ভুট্টা (Maize) একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদ। এর পুরুষ ফুল (Tassel) বাতাসে পরাগ ছড়িয়ে দেয় এবং স্ত্রী ফুল (Silk) সেই পরাগ গ্রহণ করে।
বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন: - যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে। - বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট, ফলে এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়। - এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। - এ জাতীয় উদ্ভিদের ফুলে অসংখ্য পরাগরেণু সৃষ্টি হয়, কেননা বায়ুর মাধ্যমে পরাগরেণু স্থানান্তরের সময় অনেক পরাগরেণু নষ্ট হয়ে যায়। - বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়। - পাইনাস, ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।
অন্যান্য অপশনসমূহ, গোলাপ, সূর্যমুখী ও জুঁই হচ্ছে পতঙ্গ পরাগী ফুল।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩০.
শ্রেণিবিন্যাসে দ্বিপদ নামকরণ প্রথা কে প্রবর্তন করেন?
ক
জন রে
খ
ক্যারোলাস লিনিয়াস
গ
অ্যারিস্টটল
ঘ
লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর: খ
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ক্যারোলাস লিনিয়াস
খ
ব্যাখ্যা
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: - পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। - প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। - এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। - প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। - কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। - শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। - প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। - একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens । - বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৩১.
একটি আদর্শ পাতায় কতটি অংশ থাকে?
ক
ক) ২টি
খ
খ) ৩টি
গ
গ) ৫টি
ঘ
ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর: খ
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) ৩টি
খ
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের কাণ্ড বা তার শাখা-প্রশাখার পর্ব থেকে পাশের দিকে উৎপন্ন চ্যাপ্টা অঙ্গটি হলো পাতা। - পাতা সাধারণত চ্যাপ্টা ও সবুজ বর্ণের হয়। - নিম্ন শ্রেণির উদ্ভিদে পাতা থাকে না। - তবে ফার্ন ও মস জাতীয় উদ্ভিদে পাতার ন্যায় অঙ্গ থাকে। মসের পাতা প্রকৃত পাতা নয়। একটি পাতার বিভিন্ন অংশ: - আদর্শ পাতায় তিনটি অংশ থাকে। ১. পত্রমূল, ২. বৃত্ত ও ৩. ফলক।
আদর্শ পাতার উদাহরণ : আম, জবা ইত্যাদি।
উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,১৩২.
হৃৎচক্রের স্বাভাবিক সময়কাল কত?
ক
ক) ০.৮ সেকেন্ড
খ
খ) ০.৫ সেকেন্ড
গ
গ) ৭৫ সেকেন্ড
ঘ
ঘ) ৬০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর: ক
ক) ০.৮ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) ০.৮ সেকেন্ড
ক
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা: প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির হৃৎস্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০-৮০ বার। প্রতি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন করতে সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের যে চক্রাকার ঘটনাবলি অনুসৃত হয় তাকে কার্ডিয়াক চক্র বা হৃৎচক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয়, তবে হৃৎচক্রের সময়কাল = ৬০/৭৫ সেকেন্ড = ০.৮ সেকেন্ড। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাট্রিয়াল চক্র এবং ভেন্ট্রিকুলার চক্র উভয়েরই স্থিতিকাল ০.৮ সেকেন্ড। সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,১৩৩.
কোন সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুটি উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত করবার কাজে নিয়োজিত?
ক
ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ
খ) প্লাস্টিড
গ
গ) গলজি বস্তু
ঘ
ঘ) কোষগহবর
সঠিক উত্তর: খ
খ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) প্লাস্টিড
খ
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড নামক সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুটি উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত করবার কাজে নিয়োজিত।
সজীব উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে বর্ণহীন অথবা বর্ণযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড (Plastid) বলে। একে বর্ণাধারও বলে।
প্লাস্টিডের কাজগুলো হল– (i) খাদ্য প্রস্তুত করা। (ii) খাদ্য সঞ্চয় করা । (iii) উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
সূত্র- ২৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৪.
কোন প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়?
ক
শ্বসন
খ
ব্যাপন
গ
প্রস্বেদন
ঘ
অভিস্রবণ
সঠিক উত্তর: ঘ
অভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অভিস্রবণ
ঘ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: - অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। - দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণুর কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে। - এ প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে। - অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া। - উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। - অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি শোষণ বুঝতে হলে, অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। - পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিসমিস ফুলে ওঠে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৫.
Biotechnology শব্দটির প্রবর্তন করেন কে?
ক
ক) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
খ
খ) উইলিয়াম বেটসন
গ
গ) কার্ল এরেকি
ঘ
ঘ) কার্ল করেন্স
সঠিক উত্তর: গ
গ) কার্ল এরেকি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) কার্ল এরেকি
গ
ব্যাখ্যা
• হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (১৯১৯) সর্বপ্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের একটি উন্নয়নশীল ফলিত শাখা।
• Biotechnology শব্দটি Biology এবং Technology এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কিত বিদ্যা এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। অর্থাৎ Biotechnology হলো Biological Science এর সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত বিদ্যা। ১৯৭০ এর পর থেকে এ শব্দটি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
• জৈবপ্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরির বিশেষ প্রযুক্তি। এটি মূলত জীববিদ্যাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি কৃষি, খাদ্য বিজ্ঞান, এবং ঔষধশিল্পে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম দশম ও জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,১৩৬.
এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান -
ক
প্রোটিন
খ
ক্যালসিয়াম
গ
ভিটামিন
ঘ
লবণ
সঠিক উত্তর: ক
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
প্রোটিন
ক
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: - অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। - অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। - এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে।
হরমোন: - মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। - এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০ টি অ্যামাইনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। - আর আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড। - মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়।
এনজাইম: - এনজাইম এক ধরণের প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় পদার্থ। - জীবকোষ অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত। - প্রতিটি জীবের পরিপাক, শ্বসন, জনন ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। - এ সমস্ত জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি ও হার কতকগুলি প্রোটিন জাতীয় যৌগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। - যে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ অতি অল্প মাত্রায় বিদ্যমান থেকে জীবদেহে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে কিন্তু বিক্রিয়ার পরে নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে এনজাইম বলে।
উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যাচ্ছে, এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান হচ্ছে- প্রোটিন।
উৎস: (প্রাণিবিজ্ঞান + উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৭.
করোটিতে মোট কতটি অস্থি থাকে?
ক
২৯
খ
৩১
গ
৩২
ঘ
৩৩
সঠিক উত্তর: ক
২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
২৯
ক
ব্যাখ্যা
• অক্ষীয় কঙ্কাল: - কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। - অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা - (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর।
• করোটি: - মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। - করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে।
• মেরুদণ্ড: - অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
• বক্ষপিঞ্জর: বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৮.
কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?
ক
রাইবোসোম
খ
ক্লোরোপ্লাস্ট
গ
মাইটোকন্ড্রিয়া
ঘ
পারোক্সিসোম
সঠিক উত্তর: ক
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
রাইবোসোম
ক
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে 'রাইবোসোম' পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না।
• রাইবোসোম: - সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম। - রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। - রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই। - সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে। - আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়।
• ক্লোরোপ্লাস্ট: - সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। - ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। - ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। - এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। - ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন): - সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। - ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে। - এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন। - ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু।
• মাইটোকন্ড্রিয়া: - প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। - কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়। - এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে। - দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। - মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।
• পারোক্সিসোম: - পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। - অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়। - এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার। - এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে। - এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। - ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। - পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৯.
কোন খনিজ উপাদান হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের এনামেল মজবুত রাখে?
ক
আয়োডিন
খ
আয়রন
গ
ক্যালসিয়াম
ঘ
সোডিয়াম
সঠিক উত্তর: গ
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ক্যালসিয়াম
গ
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: - খনিজ উপাদানসমূহ দেহের বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সুস্থতা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - দেহে খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও খনিজ লবণ দেহের জন্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান। - দেহ গঠনে এসব অজৈব খনিজ পদার্থের অংশগ্রহণ দেহ ওজনের প্রায় ৪% হয়ে থাকে। - মূলত খাদ্যবস্তু পোড়ালে যে সাদা ছাই অবশিষ্ট থাকে তাই অজৈব খনিজ লবণ। - এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের খনিজ লবণ শনাক্ত করা গেছে। - এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ (লৌহ), আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), ক্লোরিন, কপার (তামা) ইত্যাদি।
ক্যালসিয়াম (Calcium): - দেহে প্রয়োজনীয় সবকটি খনিজ উপাদানের মধ্যে ক্যালসিয়ামের (Ca) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। - একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে প্রায় ১২০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। - দেহে মোট ক্যালসিয়ামের ৯৯% হাড় ও দাঁতে থাকে, অবশিষ্ট ১-১.৫% ক্যালসিয়াম থাকে দেহরসে। - দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। এছাড়া কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক, কলমিশাক, কালো কচুশাক, শুঁটকি মাছ, পনির, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা ইত্যাদিতে যথেষ্ট পমিাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
ক্যালসিয়ামের কাজ: ১। হাড় ও দাঁতের গঠন ও মজবুত করতে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। ক্যালসিয়ামের সাথে ফসফরাস যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট তৈরি করে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের এনামেল মজবুত রাখে। ২। এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ৩। স্নায়ু পেশি তথা স্নায়ুবিক উদ্দীপনা ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে। ৪। হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন বজায় রাখে।
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত অবস্থা: ১। দীর্ঘদিন ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। হাড়ের গঠন দুর্বল ও খর্বকায় হয়। হাড় বাঁকা হয়ে যায়। শিশুদের রিকেট রোগ হয়। ২। বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়। ৩। প্রাপ্ত বয়স্কদের হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়। ৪। স্নায়ুবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। মাংসপেশির খিঁচুনি, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। ৫। ভিটামিন ডি এর বিপাক ব্যাহত হয়।
উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
কোন পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
ক
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
খ
প্রোটিন জাতীয় পদার্থে
গ
শর্করা জাতীয় পদার্থে
ঘ
খনিজ জাতীয় পদার্থে
সঠিক উত্তর: ক
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
ক
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: - ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। - ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। - শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়, এই তাপ দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। - খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। - যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। - যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। - তেল বা চর্বি বা স্নেহ জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। - স্নেহ জাতীয় পদার্থের প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,১৪১.
নিচের কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়?
ক
ভেসেল
খ
বাস্ট তন্তু
গ
সঙ্গী কোষ
ঘ
সীভ নল
সঠিক উত্তর: ক
ভেসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ভেসেল
ক
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: - এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। - এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। - জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- ১. জাইলেম টিস্যু ও ২. ফ্লোয়েম টিস্যু।
জাইলেম টিস্যু: - জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা। - ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। - পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু।
ফ্লোয়েম টিস্যু: - ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। - ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪২.
হাইড্রা কোন পর্বের প্রাণী?
ক
ক) Cnidaria
খ
খ) Platyhelminthes
গ
গ) Nematoda
ঘ
ঘ) Annelida
সঠিক উত্তর: ক
ক) Cnidaria
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) Cnidaria
ক
ব্যাখ্যা
হাইড্রা হল নিডারিয়া পর্বের প্রাণী।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য- 1. এই পর্বের প্রাণীদের দেহের ভেতরে একটি মাত্র গব্বর বা গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহবর থাকে। 2. এই পর্বের প্রাণীদের দেহত্বকে ,এমন কি কর্ষিকার গায়ে নিডোব্লাস্ট দংশক ধ্বংস কোষের ভেতরে নিমাটোসিস্ট নামক চাবুকের মত এক প্রকার অঙ্গাণু থাকে যা আত্মরক্ষা ও খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে। 3. নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের জীবনচক্রে পলিপ ও মেডুসা দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে। একে মেটাজেনেসিস বলে।
সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
১,১৪৩.
জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা নিচের কোনটি থেকে তৈরি করা হয়?
ক
শৈবাল
খ
ছত্রাক
গ
ভাইরাস
ঘ
ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর: গ
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ভাইরাস
গ
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: - বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। যথা- ১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। ২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। ৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। ৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। ৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। ৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৪৪.
লসিকায় পানির পরিমাণ কত?
ক
ক) ৬%
খ
খ) ৭০%
গ
গ) ৮৪%
ঘ
ঘ) ৯৪%
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) ৯৪%
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) ৯৪%
ঘ
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় (Tissue) পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে । এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” (Lymph vessels) বলে। অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে।
লসিকা: •এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। •এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। •লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। •মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৪৫.
HIV ভাইরাস প্রধানত মানবদেহের কোন কোষ ধ্বংস করে?
ক
লোহিত রক্ত কণিকা
খ
প্লাটিলেট
গ
ম্যাক্রোফেজ
ঘ
নিউট্রোফিল
সঠিক উত্তর: গ
ম্যাক্রোফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ম্যাক্রোফেজ
গ
ব্যাখ্যা
এইডস (AIDS) রোগ: - AIDS হলো Acquired Immunodeficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। - Human Immunodeficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। - HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। - এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। - বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। - আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। - ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
এইডস (AIDS) রোগের বিস্তার: - বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন- • নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, • সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, • সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, • সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, • সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, • দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৬.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়?
ক
গেওয়া
খ
গরান
গ
গজারি
ঘ
সুন্দরী
সঠিক উত্তর: গ
গজারি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গজারি
গ
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে। - বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। সুন্দরবনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে: - সুন্দরী - গরান - গেওয়া - কেওড়া - গোলপাতা ইত্যাদি। অন্যদিকে, - গজারী বা শাল হলো পত্রপতনশীল বৃক্ষ। (তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
১,১৪৭.
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়-
ক
যকৃত
খ
কিডনি
গ
পাকস্থলী
ঘ
হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর: ক
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
যকৃত
ক
ব্যাখ্যা
• জন্ডিসে শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি যকৃত বা লিভারে আক্রান্ত হয়। - কোনাে ব্যক্তি ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জন্ডিস দেখা দেয়। - জন্ডিস দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। - বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। - জন্ডিস আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহত্বক, মুখ, চোখ এবং থুথু হলুদ বর্ণের হয়।
উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৮.
অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান কী?
ক
ট্রাকিয়া
খ
ট্রাকিড
গ
জাইলেম তন্তু
ঘ
জাইলেম প্যারেনকাইমা
সঠিক উত্তর: ক
ট্রাকিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ট্রাকিয়া
ক
ব্যাখ্যা
ট্রাকিয়া বা ভেসেল: - ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। - এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। - এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। - ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। - এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। - এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে।
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। - সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। - প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। - এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৯.
কোন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে ?
ক
TMV
খ
রুবিওলা
গ
T2 ফায
ঘ
নিপাহ
সঠিক উত্তর: গ
T2 ফায
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
T2 ফায
গ
ব্যাখ্যা
• T2 ব্যাকটেরিওফায: - ফায একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ ভক্ষণ করা। - প্রকৃত অর্থে ফায হলো ঐসব ভাইরাস যারা জীবদেহে অবস্থিত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। - ফায এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করে এবং এক সময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ধ্বংস হয়। - তাই যে সমস্ত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলা হয়। যেমন- T2 ব্যাকটেরিওফায। - T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের লাইটিক চক্রটি ৫টি ধাপে সংঘটিত হয়। - যথা: ধাপ-১ : সংযুক্তি, ধাপ-২ : ফায প্রবেশ, ধাপ-৩ : অনুলিপন, ধাপ-৪ : বিভিন্ন দেহাংশ একত্রিত হওয়া এবং ধাপ-৫ : নতুন ভাইরাস মুক্তি।
উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫০.
নিচের কোনটি রিট্রোভাইরাস?
ক
হার্পিস ভাইরাস
খ
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
গ
করোনা ভাইরাস
ঘ
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
সঠিক উত্তর: ঘ
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
ঘ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা: পোষক দেহে কীভাবে সংক্রমণ ও বংশবৃদ্ধি হয় তার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন- সাধারণ ভাইরাস ও রিট্রোভাইরাস।
HIV একটি রিট্রোভাইরাস। এখানে ভাইরাল RNA থেকে DNA তৈরি হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,১৫১.
একটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে -
ক
ক) শর্করা
খ
খ) আমিষ
গ
গ) ভিটামিন
ঘ
ঘ) স্নেহ
সঠিক উত্তর: ক
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) শর্করা
ক
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড - যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। - শর্করাকে নিচু স্তরেরেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফল-মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। - পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে শর্করা।
ভিটামিন তৈরিতে- মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter, Aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন ‘বি’, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।
সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৩.
মানুষের বৃদ্ধি হরমোন কী নামে পরিচিত?
ক
গ্লুকাগন
খ
সোমাটোস্ট্যাটিন
গ
সোমাটোট্রপিন
ঘ
ইনসুলিন
সঠিক উত্তর: গ
সোমাটোট্রপিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
সোমাটোট্রপিন
গ
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের বৃদ্ধিতে দুটি হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে। - একটি হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত গ্রোথ হরমোন (Growth Hormone, GH) এবং অন্যটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (Thyroxine)। • বৃদ্ধি হরমোন: - যে হরমোন দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাকে গ্রোথ হরমোন বলা হয়। - মানুষের গ্রোথ হরমোন সাধারনভাবে সোমাটোট্রপিন নামে পরিচিত।
• দেহের বৃদ্ধিতে গ্রোথ হরমোনের ভূমিকা: - গ্রোথ হরমোন ১৯১টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত এক শিকল বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রোটিন অণু। - মানুষের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধিতে এ হরমোন প্রধান ভূমিকা রাখে বলে একে গ্রোথ হরমোন বলা হয়।
• মানুষের বৃদ্ধিজনিত অধিকাংশ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ এ হরমোন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন- - পেশির বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে প্রোটিন পরিপাকের ফলে সৃষ্ট সরল ও তরল অ্যামিনো এসিড কোষে গৃহীত হয় ও এদের গ্রহণ মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে, কোষে প্রোটিন সংশ্লেষের হার বেড়ে যায় ও পেশির বৃদ্ধি সাধন ঘটে। - দেহের ক্ষয়রোধ: সাধারণত ক্ষুধার্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেহের ক্ষয় রোধ হয়। - কঙ্কালতন্ত্রের বৃদ্ধি: তরুণাস্থির আয়তন বৃদ্ধি, অস্টিওরাস্টের আবির্ভাব, অস্থিতে ক্যালসিয়াম আয়ন সঞ্চয়, কনড্রিওসাইট ও অস্টিওসাইটের পূর্ণতা প্রাপ্তি ইত্যাদি সব কার্যক্রম এ হরমোন দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়। - আয়ন বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে খাদ্যবস্তু থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন আয়ন বিশেষ করে ক্যালসিয়াম আয়ন পৌষ্টিকনালি থেকে শোষিত হয় এবং বৃক্ক থেকে বিভিন্ন আয়ন শোষণের মাধ্যমে দেহে আয়ন বৃদ্ধি ঘটায়। এসব আয়ন দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক।
- পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস। অন্যদিকে, পারকিনসন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা এ রোগের অন্তর্ভুক্ত।
পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease): - পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। - এই রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে, এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়। - স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন। - ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। - ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। - বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরও অকার্যকর হয়ে উঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
- পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। - প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে, ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। - এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ, মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন- চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া এমন নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। - ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার মাধ্যমে রোগী অনেকটা সুস্থ থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫৫.
নিম্নের কোনটি ফুলের প্রজনন অঙ্গ হিসেবে সরাসরি কাজ করে?
ক
দল ও বৃন্ত
খ
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
গ
দল ও বৃতি
ঘ
বৃন্ত ও পুষ্পাধার
সঠিক উত্তর: খ
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
খ
ব্যাখ্যা
প্রজনন অঙ্গ: ফুল - প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। - ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। - একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। - যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। - এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। - বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। - যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। - পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫৬.
কোন রক্তের গ্রুপে কোন এন্টিজেন নেই?
ক
ক) Group A
খ
খ) Group B
গ
গ) Group AB
ঘ
ঘ) Group O
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) Group O
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) Group O
ঘ
ব্যাখ্যা
রক্তের O গ্রুপে কোন এন্টিজেন নেই। রক্তের AB গ্রুপে কোন এন্টিবডি নেই। রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ (Blood Group) বলে। আমেরিকার জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন। রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। অনেক সময় একে ল্যান্ডস্টেইনার এর ব্লাড গ্রুপ বলে। চার ধরনের রক্তের গ্রুপ আছে—A, B, AB এবং O। অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির ওপর ভিত্তি করে মূলত রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়।
সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
১,১৫৭.
Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
ক
শেলী
খ
ডলি
গ
মলি
ঘ
নেলী
সঠিক উত্তর: খ
ডলি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ডলি
খ
ব্যাখ্যা
- Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ডলি। - ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী। - ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই। - ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে। - ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি। - ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।
উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
১,১৫৮.
পিত্তরসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
ক
অম্লীয়, লালচে তরল
খ
অম্লীয়, বাদামী তরল
গ
ক্ষারজাতীয়, স্বচ্ছ তরল
ঘ
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল
সঠিক উত্তর: ঘ
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল
ঘ
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): - মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। - যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। - যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। - একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। - এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। - পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। - পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ, এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। - যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৯.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না?
ক
প্যারাসিটামল
খ
এন্টিবায়োটিক
গ
এসপিরিন
ঘ
অ্যাসিটামিনোফেন
সঠিক উত্তর: গ
এসপিরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
এসপিরিন
গ
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।
• ডেঙ্গু জ্বর: - ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। - এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস। - এটি একটি RNA ভাইরাস। - এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)। - এর পোষক দেহ হলো মানুষ। - প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। - ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে। - সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়। - ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়। - মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে। - প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm৩ এর অনেক নিচে নেমে আসে। - ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।
উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,১৬০.
Which is not a part of the forebrain?
ক
Cerebrum
খ
Thalamus
গ
Cerebellum
ঘ
Hypothalamus
ঙ
None
সঠিক উত্তর: গ
Cerebellum
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
Cerebellum
গ
ব্যাখ্যা
⇒ সেরেবেলাম অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়। - এটি পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মস্তিষ্ক: - কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে। - প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে। - মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। - মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা- (১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।
(১) অগ্রমস্তিষ্ক: - অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। - এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস।
• সেরেব্রাম: - মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)। - প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব। - সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট। - সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
• থ্যালামাস: - সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত। - থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।
• হাইপোথ্যালামাস: - এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত। - এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে। - স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। - ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। - পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।
তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬১.
গয়টার বা গলগন্ড মানবদেহের কোন গ্রন্থির সাথে সম্পর্কিত?
ক
ক) পিটুইটারি
খ
খ) যকৃত
গ
গ) থাইরয়েড
ঘ
ঘ) লালাগ্রন্থি
সঠিক উত্তর: গ
গ) থাইরয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) থাইরয়েড
গ
ব্যাখ্যা
গয়টার (Goitre) প্রচলিত অর্থে গলগণ্ড বলতে থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোনাে ফোলাকে বােঝায়। গলগণ্ডের কিছু বিশেষ ধরনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গয়টার নামে ডাকা হয়, অর্থাৎ সব গলগণ্ড গয়টার নয়। টিউমার, ক্যান্সার, প্রদাহসহ নানা কারণে থাইরয়েড ফুলে যেতে পারে, সেগুলাে গয়টার নয়। গয়টার থাইরয়েড গ্রন্থির কোনাে নির্দিষ্ট রােগ বােঝায় না, বরং থাইরয়েডের বিভিন্ন রােগের এক সাধারণ বহিঃপ্রকাশকে বােঝায়। নানা কারণে গয়টার হতে পারে। খাবারে আয়ােডিনের অভাব গলগণ্ডের অন্যতম কারণ। সমুদ্র থেকে দূরে উত্তর বঙ্গ এবং পার্বত্য এলাকার মাটিতে আয়ােডিন কম থাকায় ওই সব অঞ্চলের মানুষের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
১,১৬২.
Photosynthesis takes place in-
ক
ক) Roots of the plants
খ
খ) Stems of the plants
গ
গ) Green parts of the plants
ঘ
ঘ) All parts of the plants
সঠিক উত্তর: গ
গ) Green parts of the plants
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) Green parts of the plants
গ
ব্যাখ্যা
Photosynthesis takes place inside plant cells in small things called chloroplasts. Chloroplasts (mostly found in the mesophyll layer) contain a green substance called chlorophyll. Photosynthesis takes place in green parts of the plants. উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,১৬৩.
কোনটি স্বাভাবিক অঙ্গজ জননের সাহায্যে বংশবিস্তার করে?
ক
লেবু
খ
জবা
গ
পুদিনা
ঘ
পটল
সঠিক উত্তর: ঘ
পটল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
পটল
ঘ
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে জনন: - দেহ অঙ্গের মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। - এটি দুই ভাবে হতে পারে। যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: - স্বাভাবিক অঙ্গজ জননে কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওল কচু ইত্যাদি।
- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যথা- পাঁথরকুচি।
কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: - শাখা কলম: কতিপয় উদ্ভিদের শাখা কেটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি ।
- গুটি কলম: অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায়, তখন শিকড়সহ শাখাটি থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়। যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি।
- দাবা কলম: এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়। যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি। উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৪.
নিচের কোনগুলো রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন?
ক
থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন
খ
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
গ
সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন
ঘ
মেলাটোনিন ও কর্টিসল
সঠিক উত্তর: খ
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
খ
ব্যাখ্যা
• ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে।
• অগ্ন্যাশয় (Pancreas): - অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। - এটি একাধারে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। - বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। - অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে। - এসব এনজাইম যথাক্রমে আমিষ, স্নেহজাতীয় খাদ্য ও শর্করা পরিপাকে সহায়তা করে। - অগ্ন্যাশয় দেহের অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা ও দেহতাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়: - অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। - এই অংশ থেকে ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়। - ইনস্যুলিন রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশে সহায়তা করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। - গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তর করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। - এই দুই হরমোনের সম্মিলিত ক্রিয়ায় রক্তের গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকে। - গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এরা বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
• অন্যান্য অপশন: - থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন → বিপাক ও জরুরি প্রতিক্রিয়ায় জড়িত হরমোন। - সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন → পরিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন। - মেলাটোনিন ও কর্টিসল → ঘুমচক্র ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।
উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,১৬৫.
নিচের কোন উদ্ভিদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে?
ক
ধান
খ
সরিষা
গ
পাইনাস
ঘ
ইস্ট
সঠিক উত্তর: গ
পাইনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
পাইনাস
গ
ব্যাখ্যা
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে কোনো গর্ভাশয় থাকে না, কিন্তু ডিম্বক থাকে। ফলস্বরূপ নিষেকের পরে ডিম্বক বীজে পরিণত হলেও গর্ভাশয় না থাকায় কোনো ফল তৈরি হয় না। এজন্য এদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। সাইকাস, পাইনাস, থুজা হলো এ ধরনের উদ্ভিদ। - ধান, সরিষা হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। এদের বীজ ফলের ভিতরে থাকে। - ইস্ট এক ধরনের ছত্রাক। এদের কোনো বীজ তৈরি হয় না। এরা স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,১৬৬.
ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে উৎপন্ন মেলানিনের প্রধান কাজ কী?
ক
জীবাণু ধ্বংস করা
খ
ত্বক মসৃণ রাখা
গ
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
ঘ
ঘাম নিঃসরণ করা
সঠিক উত্তর: গ
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
গ
ব্যাখ্যা
• মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
• প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা:
- ত্বক মানুষের শরীরের প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। - এটি দেহকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
• সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা: - ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের কোষে মেলানিন (melanine) নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন হয়, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
• যান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি: - ত্বকের বাইরের স্তরটি দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণ দ্বারা গঠিত, যা দেহের ভেতরে জীবাণু, বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশে একটি কার্যকর বাধা সৃষ্টি করে।
• ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া: ত্বক কেটে গেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে, ত্বকে উপস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণুকে গ্রাস করে দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
• অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি: - ঘাম ও তেল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH মানকে অম্লীয় (pH = 3–5) করে তোলে। এর ফলে অধিকাংশ অণুজীব দীর্ঘ সময় ত্বকে টিকে থাকতে পারে না।
• উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা: কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থান করে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা ক্ষতিকর অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে।
• লাইসোজাইমের কার্যকারিতা: ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে উপস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে।
• লিপিড স্তরের সুরক্ষা: - ত্বকের নিঃসৃত লিপিড পদার্থ অণুজীবের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৭.
কোন প্রাণীর দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত থাকে?
ক
স্কাইফা
খ
অরেলিয়া
গ
মানুষ
ঘ
অ্যামিবা
সঠিক উত্তর: ক
স্কাইফা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
স্কাইফা
ক
ব্যাখ্যা
- 'স্কাইফা' প্রাণীর দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত থাকে।
ভ্রূণীয় স্তর: - ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক. একস্তরী প্রাণী: - এরা সরল ধরনের প্রাণী। - এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) ।
খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: - যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) ।
গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: - যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- মানুষ (Homo sapiens) ।
ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: - যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) ।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৮.
প্রাণিদেহে আবরণী টিস্যু কয় ধরনের?
ক
২ ধরনের
খ
৩ ধরনের
গ
৪ ধরনের
ঘ
৫ ধরনের
সঠিক উত্তর: খ
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
৩ ধরনের
খ
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:
- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (ক) আবরণী টিস্যু, (খ) যোজক টিস্যু, (গ) পেশি টিস্যু এবং (ঘ) স্নায়ু টিস্যু।
আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না। • কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।
• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-
১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।
২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।
৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর। কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৯.
টিস্যু কালচারের সুবিধা কোনটি?
ক
ক) রোগমুক্ত চারা উৎপাদন
খ
খ) বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ
গ
গ) স্বল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়
ঘ
ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) উপরের সবগুলো
ঘ
ব্যাখ্যা
টিস্যু কালচার : টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার সুবিধাগুলো হলো- ১। একটি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদাংশ হতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়। ২। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না, তাদের চারাপ্রাপ্তি ও অল্প খরচে সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়। ৩। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। ৪। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত থাকা যায়। ৫। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং ৬। সঠিক বীজ সংগ্রহ ও মজুদ করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭০.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
ক
ডিপথেরিয়া
খ
নিউমোনিয়া
গ
ব্রঙ্কাইটিস
ঘ
যক্ষ্মা
সঠিক উত্তর: গ
ব্রঙ্কাইটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ব্রঙ্কাইটিস
গ
ব্যাখ্যা
ব্রঙ্কাইটিস:
• ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ । • শ্বাসনালী হলো ফুসফুসের সাথে বাইরের বাতাসের সংযোগকারী নল। • ব্রঙ্কাইটিস তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।
⮚ লক্ষণ: • কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। • কাশির সাথে কফ থাকে। • জ্বর হয়। • শরীর ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়।
⮚ প্রতিকার: • ধূমপান বন্ধ করতে হবে। • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ।
Image: Human Lung (Britannica)
উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭১.
নিচের কোনটি বংশগতির প্রধান উপাদান?
ক
মাইটোকন্ড্রিয়া
খ
ক্রোমোজোম
গ
কোষ প্রাচীর
ঘ
প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর: খ
ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ক্রোমোজোম
খ
ব্যাখ্যা
• বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
• ক্রোমোজোম: - এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। - Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। - Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। - প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। - মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। - এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। - অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। - অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। - সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। - লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। - ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ডিএনএ (DNA) এবং প্রোটিন (হিস্টোন প্রোটিন)। - ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট অংশকে জিন (Gene) বলা হয়, যা বংশগতির কার্যগত একক।
অন্যান্য অপশনসমূহ: - মাইটোকন্ড্রিয়া: এটি কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণু বা 'পাওয়ার হাউস'। এটি বংশগতির প্রধান উপাদান নয়। -কোষ প্রাচীর: এটি উদ্ভিদকোষের বাইরের শক্ত আবরণ যা কোষকে সুরক্ষা ও আকার দেয়। এর বংশগতিতে সরাসরি ভূমিকা নেই। - প্লাস্টিড: এটি প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায় এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সঞ্চয় (যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট, সালোকসংশ্লেষণে সাহায্যকারী) এর সঙ্গে যুক্ত।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭২.
বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয় কোনটি?
ক
বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
খ
বৃক্ক প্রতিস্থাপন
গ
কম পরিমান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
ঘ
ডায়ালাইসিস
সঠিক উত্তর: ক
বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
ক
ব্যাখ্যা
• বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয়।
• বৃক্ক: - বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।
• বৃক্ক বিকল: - রোগ-ব্যাধির কারণে বৃক্কের সক্ষমতা কমে যাওয়াকে বৃক্ক বিকল (kidney failure) বলে। • বৃক্কের বৈকল্য দুই রকমের। যথা- - দীর্ঘস্থায়ী (chronic), - তাৎক্ষণিক (acute) ।
• বৃক্ক বিকল প্রতিকারে করনীয়: → নিয়ন্ত্রিত আহার: - কম পরিমাণ প্রোটিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। - কম প্রোটিন গ্রহণ করলে কম ইউরিয়া তৈরি হবে যা বৃক্কের জন্য উপকারী হবে। - আহারের সময় কম লবণ গ্রহণ করা।
→ ডায়ালাইসিস: নিয়ন্ত্রিত আহারের পরও যদি রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বেশি হয় তাহলে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিতে হবে।
→ বৃক্ক প্রতিস্থাপন: যদি ডায়ালাইসিসে কাজ না হয় তাহলে সর্বশেষ চিকিৎসা হিসেবে বৃক্ক প্রতিস্থাপন করতে হবে।
রক্ত: - রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। - মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। - রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। - মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। - রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। যথা- • লোহিত রক্তকণিকা, • শ্বেত রক্তকণিকা এবং • অণুচক্রিকা।
উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৪.
ফুসফুসের প্রদাহকে কী বলে?
ক
নেফ্রাইটিস
খ
নিউমোনিয়া
গ
হেপাটাইটিস
ঘ
ব্রঙ্কাইটিস
সঠিক উত্তর: খ
নিউমোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
নিউমোনিয়া
খ
ব্যাখ্যা
নিউমোনিয়া ও ফুসফুস: - মানুষের শ্বসন অঙ্গ হচ্ছে একজোড়া ফুসফুস (lungs)। বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুস আকারে বড়, তিন লোব বিশিষ্ট। - ফুসফুসের আবরণকে বলা হয়- প্লুরা। - ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে। - নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। - নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। - অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। - এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। - যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস এবং কিডনির প্রদাহকে নেফ্রাইটিস বলে।
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৫.
লাইপেজ এনজাইম কোন ধরনের খাদ্য হজমে সাহায্য করে?
ক
স্নেহ
খ
খনিজ
গ
প্রোটিন
ঘ
শর্করা
সঠিক উত্তর: ক
স্নেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
স্নেহ
ক
ব্যাখ্যা
আমিষ: - আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। - আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। - আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। - শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। - অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। - ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। - লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। - অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। - মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। - টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে।
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের৷ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ৷ প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,১৭৭.
রক্ত জমাট বাঁধায় কোন ধাতুর আয়ন সাহায্য করে?
ক
ক) সোডিয়াম
খ
খ) ম্যাগনেসিয়াম
গ
গ) ক্যালসিয়াম
ঘ
ঘ) আয়রন
সঠিক উত্তর: গ
গ) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) ক্যালসিয়াম
গ
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকা: - ইংরেজিতে এদেরকে প্লেইটলেট (Platelet ) বলে। এগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে। - এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না। - অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ। - অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। - পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। - অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরো বেশি হয়। - অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। - যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। - থ্রমবিন পরবর্তী কালে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। - ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। - এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। - তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে। উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৮.
মানবদেহে মূত্র তৈরির পদ্ধতি কতটি?
ক
২টি
খ
৩টি
গ
৪টি
ঘ
৫টি
সঠিক উত্তর: খ
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
৩টি
খ
ব্যাখ্যা
মানবদেহে মূত্র তৈরির পদ্ধতি: - মানবদেহের বৃক্কে তিনটি পদ্ধতিতে মূত্র তৈরি হয়। যথা- ১) অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন (ultrafiltration). ২) নির্বাচিত পুনঃশোষণ (Selective reabsorption). ৩) নালিকা কর্তৃক ক্ষরণ (Tubular secretion).
• অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন: - নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস আল্ট্রাফিল্টার বা অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। - এ অংশে যে পরিস্রাবন কৌশল সংঘটিত হয় তা সাধারণ পরিস্রাবন থেকে আলাদা। এক্ষেত্রে পরিস্রাবন প্রক্রিয়াটি চাপ প্রয়োগের ফলে সম্পন্ন হয় বলে একে আল্ট্রাফিলট্রেশন বলে।
• নির্বাচিত পুনঃশোষণ: - নিকটবর্তী প্যাচানো নালিকা দিয়ে পরিসুত তরল থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপাদান যেমন- গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফেট, ভিটামিন ইত্যাদি সক্রিয় পদ্ধতিতে পুনঃশোষিত হয়।
• নালিকা কর্তৃক ক্ষরণ: - বিপাকে সৃষ্ট কিছু অপ্রয়োজনীয় উপজাত পদার্থ, যথা- ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, সেরোটোনিন ইত্যাদি নিকটবর্তী প্যাচানো নালিকার চারপাশে রক্তজালক থেকে সক্রিয় পরিবহনের মাধ্যমে গ্লোমেরুলার পরিস্রুতের সাথে যুক্ত হয় এবং মূত্রের সাথে অপসারিত হয়।
তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৯.
নিচের কোনটি RNA ভাইরাস?
ক
HIV
খ
TMV
গ
র্যাবিস
ঘ
সবগুলোই
সঠিক উত্তর: ঘ
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
সবগুলোই
ঘ
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা- ১. DNA ভাইরাস: - যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। - DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস। - Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।
২. RNA ভাইরাস: - যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। - RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস। - Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।
উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,১৮০.
মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করেন বিজ্ঞানী-
ক
ক) আইজাক নিউটন
খ
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
গ
গ) টমাস আলভা এডিসন
ঘ
ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর: খ
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
খ
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
১,১৮১.
বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান উদ্ভিদ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
ক
অক্সিজেন
খ
নাইট্রোজেন
গ
আর্গন
ঘ
কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর: খ
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
নাইট্রোজেন
খ
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং গাছকে সবুজ ও সতেজ করতে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়। - বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া। - সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। - বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%। - বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। - নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮২.
নিচের কোনটি ভূ-গর্ভস্থ মূল?
ক
শালগম
খ
আলু
গ
পেঁয়াজ
ঘ
আদা
সঠিক উত্তর: ক
শালগম
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
শালগম
ক
ব্যাখ্যা
• প্রধান মূলের রূপান্তর: - মূল কখনো কখনো বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। - মুলা, গাজর ও শালগম আমরা সবাই দেখেছি এবং খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। - শালগম, গাজর, মূলা রূপান্তারিত মূল এর উদাহরণ।
• ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড: - প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গোজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়। - এ ধরনের কাণ্ডকে ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড বলে। - আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, থানকুনি, দুর্বাঘাস, আমরুল প্রভৃতি উদ্ভিদের রূপান্তরিত কাণ্ড।
উৎস: সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
১,১৮৩.
নিচের কোনটি অম্লীয় দ্রবণ নির্দেশ করে?
ক
pH > 7
খ
pH = 7
গ
pH < 7
ঘ
ক ও খ উভয়
সঠিক উত্তর: গ
pH < 7
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
pH < 7
গ
ব্যাখ্যা
• pH < 7, দ্রবণের অম্লীয়তা নির্দেশ করে।
• pH স্কেল: - কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। - pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। - pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। - কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ, pH = -log[H+] -pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। - pH মিটারে pH স্কেল থাকে। - দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। - দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। - দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং - দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৪.
পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে -
ক
স্ক্লেরাইড
খ
ভেসেল
গ
জাইলেম
ঘ
ফ্লোয়েম
সঠিক উত্তর: ঘ
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ফ্লোয়েম
ঘ
ব্যাখ্যা
- ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে। - জাইলেম খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৫.
আলু বংশবৃদ্ধি করে -
ক
স্টোলনের মাধ্যমে
খ
বাল্বের মাধ্যমে
গ
টিউবারের মাধ্যমে
ঘ
রাইজোমের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর: গ
টিউবারের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
টিউবারের মাধ্যমে
গ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন: • টিউবার - কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। যেমন - আলু।
• স্টোলন - কিছু কিছু উদ্ভিদের শাখা কান্ড জননের জন্য পরিবর্তিত হয়। এদের স্টোলন বলে। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। যেমন - কচু, পুদিনা।
• বাল্ব - এরা অতিক্ষুদ্র কান্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। যেমন - পেঁয়াজ, রসুন।
• রাইজোম - এরা মাটির নিচে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। পর্বসন্ধিতে শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। অনুকূল পরিবেশে মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। যেমন - আদা।
• অফসেট - জলজ উদ্ভিদের শাখাকান্ড বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। যেমন - কচুরিপানা।
• বুলবিল - কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথ না হয়ে একটি পিন্ডের আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল পরবর্তীতে মাটিতে খসে পড়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। যেমন - চুপড়ি আলু।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
১,১৮৬.
পোকা নিধনে ব্যবহৃত হয় -
ক
ক) ইথিলিন
খ
খ) ফেরোমন
গ
গ) অক্সিন
ঘ
ঘ) ক্লোরিন
সঠিক উত্তর: খ
খ) ফেরোমন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) ফেরোমন
খ
ব্যাখ্যা
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। - হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। - নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। - নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। - সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। - এ কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। - শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। - ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব।
সূত্র: ১৩৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৭.
হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
ক
মাইক্রোপ্রোপাইগেশন
খ
পার্থেনোকার্পি
গ
গর্ভাধান
ঘ
সিনগ্যামি
সঠিক উত্তর: খ
পার্থেনোকার্পি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পার্থেনোকার্পি
খ
ব্যাখ্যা
• পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বা অপুংজনি: - উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে সাধারণত ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর মিলন তথা নিষেকের ফলে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিম্বাণু নিষিক্ত না হয়ে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টি করে থকে। - যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণুটি নিষেক ছাড়াই ভ্রূণ সৃষ্টি করে এবং ডিম্বক স্বাভাবিক বীজে পরিণত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বা অপুংজনি বলে।
• পার্থেনোকার্পি: - হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি (parthenocarny) বলে। উদাহরণ- লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি।
অন্যদিকে, • অতি ক্ষুদ্র একটু টিস্যু থেকে অসংখ্য চারা সৃষ্টি করার পদ্ধতি কে বলা হয় মাইক্রোপ্রোপাগেইশন।
• পরাগনালিকা হতে ভ্রূণথলিতে নিক্ষিপ্ত দুটি পুংগ্যামিটের মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত ও একীভূত হয়ে যায় অর্থাৎ নিষেকক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ প্রকার মিলনকে সিনগ্যামি (syngamy) বলে।
• অপেক্ষাকৃত বড় ও নিশ্চল স্ত্রীগ্যামিটের (ডিম্বাণুর) সাথে ছোট ও সচল পুংগ্যামিটের শুক্রাণুর) যৌন মিলনকে ফার্টিলাইজেশন (fertilization) তথা নিষেকক্রিয়া, নিষেক বা গর্ভাধান বলে।
তথ্যসূত্র: - জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,১৮৮.
ডান ফুসফুস কতটি খণ্ডে বিভক্ত?
ক
এক খণ্ডে
খ
দুই খণ্ডে
গ
তিন খণ্ডে
ঘ
চার খণ্ডে
সঠিক উত্তর: গ
তিন খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
তিন খণ্ডে
গ
ব্যাখ্যা
ফুসফুস: - ফুসফুস শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। - বক্ষগহ্ববরের ভেতর হৃদপিন্ডের দু'পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। - এটি স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। - ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে ও বাম ফুসফুস দু'খণ্ডে বিভক্ত।
- ফুসফুস দু'ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। - দু'ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ লাগে না। - ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। - বায়ু থলিগুলোই হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)। - বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়, প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। - এ বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকাগুলোর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৯.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কয়টি ক্রোমোজম থাকে?
ক
৪০টি
খ
৪২টি
গ
৪৪টি
ঘ
৪৬টি
সঠিক উত্তর: ঘ
৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
৪৬টি
ঘ
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম:
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজম। - এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু । - Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। - Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজম শব্দটি ব্যবহার করেন। - প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। - মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে। - এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় অটোসোম। - অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। - লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। - অপর এক জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোক্রোমোজমমোসোম। - সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম। - লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯০.
ক্যালভিন চক্রে CO2 গ্রহিতা কোনটি?
ক
৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
খ
৩-ফসফোগ্লিসার্যাল্ডিহাইড
গ
রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
ঘ
জাইলুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
সঠিক উত্তর: গ
রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
গ
ব্যাখ্যা
• ক্যালভিন চক্রে CO2 গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট।
• C3 উদ্ভিদ: - যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাদের C3 উদ্ভিদ বলে।
• C3 প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মেলভিন কেলভিনের নামানুসারে। - C3 উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র-এর প্রথম ধাপে রুবিসকো (RuBisCO) এনজাইম বায়ুমণ্ডলীয় CO2 কে রাইবুলোজ-১, ৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত করে ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে। - কাজেই ক্যালভিন চক্রে CO2 এর গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট। - ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড এক অণু H2O গ্রহন করে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড উৎপন্ন করে। - ২, ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ। - বেশিরভাগ উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে থাকে, তাই এদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়। • C3 চক্রের কার্যাবলী: - কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ: C3 উদ্ভিদের পাতার স্টোমাটা (stomata) দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা হয়। - কার্বন ফিক্সেশন: RuBisCO এনজাইম কার্বন ডাই অক্সাইডকে RuBP-এর সাথে যুক্ত করে একটি C3 যৌগ (৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড) তৈরি করে। - শর্করা তৈরি: C3 যৌগটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
তথ্যসূত্র: - মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,১৯১.
কোনটি গুচ্ছ ফলের উদাহরণ?
ক
আনারস
খ
কাঁঠাল
গ
কলা
ঘ
শরীফা
সঠিক উত্তর: ঘ
শরীফা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
শরীফা
ঘ
ব্যাখ্যা
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। - আনারস, কাঁঠাল হলো যৌগিক ফলের উদাহরণ। - আম, জাম, কলা, শিম ইত্যাদি হলো সরল ফল। সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি
১,১৯২.
হাইলামের মধ্য দিয়ে কোনটি বৃক্কে প্রবেশ করে?
ক
ইউরেটার
খ
পেলভিস
গ
রেনাল ধমনি
ঘ
রেনাল শিরা
সঠিক উত্তর: গ
রেনাল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
রেনাল ধমনি
গ
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বাহ্যিক গঠন: - প্রত্যেক বৃক্ক নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজ বা বাংলা "৫” সংখ্যার মতো এবং কালচে লাল রংয়ের। - একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার। - একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম। - বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। - অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। - হাইলামের মধ্য দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বহির্গত হয় এবং রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। - বৃক্কে প্রবেশকারী রেনাল শিরা দেহের সবচেয়ে বড় শিরা। - সম্পূর্ণ বৃক্ক ক্যাপসুল (capsule) নামক তন্তুময় যোজক টিস্যুর সুদৃঢ় আবরণে বেষ্টিত। - বৃক্কের অগ্রপ্রান্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (adrenal gland) টুপির মতো আচ্ছাদন তৈরি করে সংযুক্ত থাকে।
বৃক্কের অন্তর্গঠন: - বৃক্কের লম্বচ্ছেদে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ দেখা যায়। যেমন- বাইরে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত গাঢ় অঞ্চলটি কর্টেক্স রেনাল ক্যাপসুল (cortex), মধ্যখানে হালকা লাল রঙের মেডুলা (medulla) এবং ভিতরে সাদাটে পেলভিস (pelvis)।
• শিমুল অপুষ্পক উদ্ভিদ নয়। - শিমুল সপুষ্পক উদ্ভিদ।
• অপুষ্পক উদ্ভিদ: যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল ও ফল হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। যেমন- ক্লোরেলা, নস্টক, শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ন ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,১৯৪.
উদ্ভিদের কিসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রস্বেদন হয়?
ক
ক) পত্ররন্ধ্র
খ
খ) কিউটিকল
গ
গ) লেন্টিসেল
ঘ
ঘ) মুলো রুম
সঠিক উত্তর: ক
ক) পত্ররন্ধ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) পত্ররন্ধ্র
ক
ব্যাখ্যা
পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদন (stromatal transpiration): পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে। এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনাে উদ্ভিদের মােট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে। উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৫.
অস্থি বিন্যাস অনুযায়ী মানুষের অন্তঃকঙ্কালকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
ক
৬
খ
৫
গ
৪
ঘ
২
সঠিক উত্তর: ঘ
২
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
২
ঘ
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: - ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে। - মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত। - এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে। কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না। - মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা— (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton) ।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৬.
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা হয় কোথায়?
ক
ক) শারীরবিদ্যা (Physiology)
খ
খ) হিস্টোলজি (Histology)
গ
গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
ঘ
ঘ) কোষবিদ্যা (Cytology)
সঠিক উত্তর: গ
গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
গ
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যাঃ জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালােকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলােচিত হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। হিস্টোলজিঃ জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলােচনা করা হয়। ভ্রূণবিদ্যাঃ জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। (উৎসঃ ১ থেকে ৪০ নং সবগুলো প্রশ্নের ব্যাখ্যাই ৯ম- ১০ম শ্রেণির জীববিজ্ঞান থেকে নেয়া)
১,১৯৭.
উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য?
ক
আয়রন
খ
পটাশিয়াম
গ
ফসফরাস
ঘ
নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর: গ
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ফসফরাস
গ
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকার কথা নিচে বর্ণনা করা হলো- ১। নাইট্রোজেন: - নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। - উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। - নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। - খাদ্যপ্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়।
২। ম্যাগনেসিয়াম: - ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। - এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে।
৩। পটাশিয়াম: - উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। - পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। - পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। - কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। - এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
৪। ফসফরাস: - মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। - ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। - উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
৫। আয়রন: - আয়রন সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, কাজেই বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। - ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৮.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কোন অংশে বেশি ক্লোরোসিস দেখা যায়?
ক
কাণ্ড
খ
মূল
গ
বয়োবৃদ্ধ পাতা
ঘ
কচি পাতা
সঠিক উত্তর: ঘ
কচি পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
কচি পাতা
ঘ
ব্যাখ্যা
সালফার: - সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। - সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। - সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। - সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। - গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৯.
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ক
পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
খ
ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে অক্ষম
গ
ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
ঘ
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না
সঠিক উত্তর: ক
পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
ক
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: - ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। - তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন- ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: • ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। • পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। • এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। • ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। • ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী।
ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: • ভাইরাস অকোষীয়। - এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। • এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। • এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। • ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। • জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০০.
মানবদেহের কোষে কত জোড়া অটোজোম থাকে?
ক
ক) ২০ জোড়া
খ
খ) ২১ জোড়া
গ
গ) ২২ জোড়া
ঘ
ঘ) ২৩ জোড়া
সঠিক উত্তর: গ
গ) ২২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) ২২ জোড়া
গ
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি। - এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোসোম এবং ২২ জোড়া বা ৪৪ টি থাকে অটোসোম। - অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। - বাকি এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম। যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে।