বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ৩০১৪০০ / ৪,২০৮

৩০১.
লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ক) ১ মাস
  2. খ) ২ মাস
  3. গ) ৩ মাস
  4. ঘ) ৪ মাস
ব্যাখ্যা

রক্ত কণিকার মধ্যে লােহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লােহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতাে দ্বি-অবতল।
এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস।
লাল অস্থিমজ্জায় লােহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি

৩০২.
মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার শতকরা পরিমাণ -
  1. ৪৫%
  2. ৬৫%
  3. ৫৫%
  4. ৯১%
ব্যাখ্যা
মানবদেহ (রক্ত): 

• রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
• রক্তের উপাদান প্রধানত দুইটি। যথা: রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। 
• রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
• রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা।
• সাধারণত মানুষের শরীরের ওজনের ৮% রক্ত থাকে।
• একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার । 
• রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
•  মানুষের রক্তের PH: 7.35 - 7.45।
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬০ ফারেনহাইট)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৩০৩.
নিচের কোনটি ভিটামিন-সি-এর উৎস নয়?
  1. ডিমে
  2. কলিজায়
  3. বাঁধাকপিতে
  4. পেয়ারায়
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড। 
- পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন সি থাকে। 
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। 
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি। 
ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি ছাড়া সকল ভিটামিন রয়েছে। 
 
অন্যদিকে, 
- দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন এ থাকে। 
- ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন বি থাকে। 
- ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৪.
মানবদেহে দৈহিক ওজনের কত শতাংশ পানি থাকে? 
  1. ৪০-৫০% 
  2. ২০-৩০%
  3. ৬০-৭৫% 
  4. ৮০-৯০%
ব্যাখ্যা

পানি (Water): 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য, এটি দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- দেহকোষ গঠন এবং কোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব না। পানির মাধ্যমে শরীর গঠনের নানা প্রয়োজনীয় উপাদান শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পরিবাহিত হয়। 
- এটি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়া পানি শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
- শরীরে পানির উৎস: খাবার পানি, পানীয় যেমন- চা, দুধ, কফি, শরবত এবং বিভিন্ন খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল। 

- শরীর থেকে মোট নির্গত পানির পরিমাণ গৃহীত পানির পরিমাণের সমান হলে শরীরে পানির সমতা বজায় থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- গরম আবহাওয়ায়, কঠোর পরিশ্রমে দেহে পানির অভাব দেখা দেয়। এ সময় পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। 
- ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঘনঘন প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানির অভাব হতে পারে। শরীরে পানির অভাব হলে তীব্র পিপাসা হয়, রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, ত্বক কুঁচকে যায়।
- পানির অভাবে স্নায়ু ও পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
- দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়।
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
- অত্যধিক বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণেও শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যেতে পারে। শরীরে পানির অভাব নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, খাবার স্যালাইন তা পূরণ করে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৫.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ
  3. গ) অতিমাত্রায় সম্পদ আহরণ
  4. ঘ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

মানব সৃষ্ট কারণঃ
১। বাসস্থান ধ্বংস- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা। বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

২। এক্সপ্লয়টেশন- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩। অতিমাত্রায় পশু চারণ- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

৪। পলিনেটর ধ্বংস- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

৫। পরিবেশ দূষণ- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৬.
রক্তের লাল রং হওয়ার কারণ কী? 
  1. শ্বেতকণিকার সংখ্যা
  2. হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতি
  3. অক্সিজেনের পরিমাণ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে, এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
জাইগোট সর্বদা-
  1. হ্যাপ্লয়েড
  2. ডিপ্লয়েড
  3. ট্রিপ্লয়েড
  4. ট্রেট্রাপ্লয়েড
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের প্লয়িডি লেভেল:
- মানুষের শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু উভয়েই হ্যাপ্লয়েড (n) অর্থাৎ একপ্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট।
- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
- নিষেকের ফলে জাইগোট তৈরি হয়।
- জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n) বা দুই প্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট।
- সস্যের এন্ডোস্পার্ম ট্রিপ্লয়েড (3n) বা তিন প্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৩০৮.
আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে নিচের কোনটি?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
শর্করা:
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য।
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস:
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস।
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে।
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

প্রাণিজ উৎস:
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৯.
দ্বিপদ নামকরেণে প্রথম অংশটি নির্দেশ করে-
  1. গণ
  2. প্রজাতি
  3. পরিবার
  4. শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে প্রথম নামটি 'গণ' নির্দেশ করে।

• দ্বিপদ নামকরণ:

- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম।
- এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক।
- যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo Sapiens I
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩১০.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

• জন্ডিস:
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে।
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১১.
What substance is hemoglobin?
  1. ক) affectionate
  2. খ) Carbohydrates
  3. গ) non-vegetarian
  4. ঘ) Vitamins
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩১২.
রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে কোন ভিটামিন কাজ করে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন সি
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। 

• ভিটামিন কে এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে কে ভিটামিন পাওয়া যায়। 

• ভিটামিন কে এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

• ভিটামিন কে এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- ভিটামিন কে এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৩.
মানবদেহে কোন ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ভেরিওলা ভাইরাস
  2. র‍্যাবিস ভাইরাস
  3. অ্যাডিনো ভাইরাস
  4. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে "ভেরিওলা ভাইরাস" ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে। 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে, তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

- ভাইরাস নানা রকম প্রাণীর মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে, ফলে প্রাণীর অকাল মৃত্যু সংঘটিত হয়। 

২। প্রাণীর ন্যায় উদ্ভিদের প্রায় ৩০০ ধরনের রোগ ভাইরাস দিয়ে সংঘটিত হয়। 
- এতে ফসলের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পায়। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

৩। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস: মানুষের উপকারি কিছু ব্যাকটেরিয়াকে ফায ভাইরাস ধ্বংস করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৪.
খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে—
  1. ক) O2
  2. খ) H2
  3. গ) CO2
  4. ঘ) H2O
ব্যাখ্যা
• খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে CO2.
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (বোর্ড বই)।
৩১৫.
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি?
  1. এটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
  2. এটির অভাবে রিকেটস রোগ হয়
  3. এটির অভাবে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৬.
পানিতে সালোকসংশ্লেষণের হার কত শতাংশ?
  1. ক) ০.০৩
  2. খ) ০.০০৩
  3. গ) ০.৩
  4. ঘ) ০.০০৩৩%
ব্যাখ্যা

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে।
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
- বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৭.
সালোকসংশ্লেষণের এর মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে কোষের কোন অঙ্গাণু?
  1. ক) সাইটোপ্লাজম
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) গলজি বস্তু
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ। ক্লোরোফিল অনুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৮.
কোষের প্রাণশক্তি বলা হয় কোনটিকে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. প্লাস্টিড
  4. গলজি বস্তু
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের পাওয়ার হাউজ।
- রাইবোজোম হলো কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- প্লাস্টিড হলো উদ্ভিদ কোষে খাদ্য তৈরির কারখানা।
- নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক এবং প্রাণশক্তি। ১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। লোহিত রক্তকণিকা, অণুচক্রিকা ইত্যাদি কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩১৯.
মানব হৃদপিন্ড কয় প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
মানব  হৃদপিন্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট 

- উপরে দুটি অলিন্দ ( ডান এবং বাম অলিন্দ)
- নিচে দুটি নিলয়( ডান এবং বাম নিলয় )

- ডান নিলয় এবং ডান অলিন্দ এর সংযোগস্থলে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা থাকে। 
- বাম নিলয় এবং বাম অলিন্দের সংযোগস্থলে ডাইকাসপিড কপাটিকা থাকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান বই। 
৩২০.
নিচের কোনটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ?
  1. ক) ক্লোরেলা
  2. খ) ধান
  3. গ) পাইনাস
  4. ঘ) ফার্ণ
ব্যাখ্যা

সাইকাস, পাইনাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ। এদের ফুলে ডিম্বাশয় না থাকায় ডিম্বকগুলাে নগ্ন থাকে।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বাের্ড বই

৩২১.
কোন বিজ্ঞানী রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) আন নাফিস
  2. খ) ইবনে সিনা
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে ১৬২৮ সালে রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
সূত্রঃ ২৯তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৩২২.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য হচ্ছে-
  1. অবীজী উদ্ভিদ
  2. দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
  3. প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• টেরিডোফাইটা:
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি।

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য:

- এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক।
- এরা অবীজী উদ্ভিদ।
- দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত।
- এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
- জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে।
- গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে।
- ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়।
- এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৩.
মানুষ (Homo sapiens) কোন শ্রেণীর প্রাণী?
  1. ত্রিস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. একস্তরী 
  4. স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা

- ভ্রূণীয় বিকাশের স্তরের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণী বলা হয়। মানুষের ভ্রূণীয় অবস্থায় তিনটি স্তর যেমন- এক্টোডার্ম (Ectoderm - বহিঃস্তর), মেসোডার্ম (Mesoderm - মধ্যস্তর) এবং এন্ডোডার্ম (Endoderm - অন্তস্তর) পরিলক্ষিত হয়। এই তিনটি স্তর থেকেই পরবর্তীতে মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্র গঠিত হয়। 

ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী প্রাণী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৪.
গ্রন্থি টিস্যুতে রূপান্তরিত হতে পারে কোনটি?
  1. ক) আবরণী টিস্যু
  2. খ) স্নায়ু টিস্যু
  3. গ) পেশি টিস্যু
  4. ঘ) যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue) এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ (lining) হিসেবে কাজ করে।
তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়।
এই টিস্যুর আরও চারটি কাজ হলাে: অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা (protection), প্রােটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা (secretion), বিভিন্ন পদার্থ শােষণ করা (absorption) এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহন (transcellular transport)।

 আবরণী টিস্যু কোনাে অঙ্গের বা নালির ভিতরের ও বাইরের অংশ তৈরি করে থাকে। আবার এই টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শােষণ, ব্যাপন, পরিবহন এই সব কাজে অংশ নেয়। আবরণী টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জনন টিস্যুতে পরিণত হয় এবং দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে।


[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
৩২৫.
সাইটোকাইনেসিস মূলত শুরু হয় ক্যারিওকাইনেসিসের কোন দশাতে?
  1. ক) প্রোফেজ
  2. খ) মেটাফেজ
  3. গ) এনাফেজ
  4. ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা
ক্যারিওকাইনেসিসকে নিউক্লিয়াসের বিভাজন বলে, নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় সাইটোকাইনেসিস যা মূলত টেলোফেজ দশাতেই শুরু হয়।
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩২৬.
উচ্চ পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে; কারণ উচ্চ পর্বত চূড়ায়-
  1. ক) অক্সিজেন কম
  2. খ) ঠাণ্ডা বেশি
  3. গ) বায়ুর চাপ বেশি
  4. ঘ) বায়ুর চাপ কম
ব্যাখ্যা
পর্বতের চূড়ায় বায়ুর চাপ কম হওয়ার কারণে পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করলে নাক দিয়ে রক্তপাত হতে পারে।

উৎসঃ  নবম দশম শ্রেণির জীবজ্ঞান বই।
৩২৭.
DNA কাঁটার জন্য বিশেষ কোন এনজাইম ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  2. খ) লাইগেজ এনজাইম
  3. গ) লাইপেজ এনজাইম
  4. ঘ) লেকটেজ এনজাইম
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ: 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো - 
(ক) প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ, 
(খ) বাহক নির্বাচন, 
(গ) প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন, 
(ঘ) ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং 
(ঙ) পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন। 

প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন: 
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়। 
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। 
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়। 
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে। 
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে। 
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩২৮.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমের একক-
  1. ক) স্নায়ুটিস্যু
  2. খ) নিউরন
  3. গ) প্যারিসিম্প্যাথেটিক স্নায়ু
  4. ঘ) মেসেনসেফালন
ব্যাখ্যা
বহুসংখ্যক নিউরন বা স্নায়ুকোষের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত হয়। নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যক্রমের একক।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩২৯.
জলজ উদ্ভিদের পানিতে ভাসার জন্য কোন বিশেষ অঙ্গ সাহায্য করে?
  1.  নিউক্লিয়াস
  2. বায়ু কুঠুরী
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. রাইবোসোম
ব্যাখ্যা

- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড এবং পাতায় বিশেষ ধরনের টিস্যু থাকে, যা পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোষ এবং বৃহৎ আন্তঃকোষীয় স্থান বা বায়ুকুঠুরী দ্বারা গঠিত হয়। এই বায়ুকুঠুরী উদ্ভিদকে প্লবতা প্রদান করে, যা তাদের সহজেই পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। 

জলজ উদ্ভিদ: 
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। 
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না। 
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না। 
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো। 
- জলজ উদ্ভিদ সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। 
- অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ফাঁপা। এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে। এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩০.
অপুষ্পক উদ্ভিদ নিচের কোনটি?
  1. ফার্ণ
  2. ধান
  3. আম
  4. নারিকেল
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
- এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। 
- উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ, 
২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ এবং 
৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদে ফুলের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না, তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 
- আর আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩৩১.
একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সাধারণত কতটি অংশ নিয়ে গঠিত? 
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩২.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে?
  1. এক-দ্বিতীয়াংশ
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৩.
The largest gland in the human body, located in the upper right abdomen, is called:
  1. Thyroid gland
  2. Pancreas
  3. Kidney
  4. Liver
  5. Spleen
ব্যাখ্যা
• যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 

- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজের সাথে কত অণু অক্সিজেন উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ২অণু
  2. খ) ৪অণু
  3. গ) ৬অণু
  4. ঘ) ৮অণু
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:
যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোকশক্তি ব্যবহার করে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমন্বয়ে শর্করা (গ্লুকোজ) উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

আলো ও ক্লোরোফিল প্রভাবকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়া -
6CO+ 12H2O → C6H12O6 + 6H2O + 6O2
বা, ৬ অণু কার্বনডাই অক্সাইড + ১২ অণু পানি → ১ অণু গ্লুকোজ + ৬ অণু পানি + ৬ অণু অক্সিজেন।

অর্থাৎ, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজের সাথে ৬ অণু অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৫.
নিচের কোনটি লসিকার কাজ নয়? 
  1. পুষ্টি সরবরাহ
  2. প্রজনন
  3. প্রোটিন পরিবহন
  4. দেহ রসের সংবহন
ব্যাখ্যা
- লসিকার কাজ নয়- প্রজনন। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
• প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
• প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
• প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন কোনটি?
  1. ক) থাইরক্সিন
  2. খ) অক্সিটোসিন
  3. গ) থাইমোসিন
  4. ঘ) ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
পিটুইটারি গ্রন্থি:
- এটি মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত একটি গোলাকার ছোট গ্রন্থি।
- এ গ্রন্থি থেকে সর্বাধিক সংখ্যক হরমোন ক্ষরিত হয়।
- এসব হরমোন অন্যান্য প্রায় সকল গ্রন্থির উপর প্রভাব বিস্তার করে কাজের সমন্বয় ঘটায়।
- এজন্য এ গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
বাংলাদেশে দীর্ঘতম গাছের নাম কি?
  1. বৈলাম
  2. অর্জুন
  3. মেহগনি
  4. ইউক্যালিপটাস
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বা উঁচু গাছের নাম বৈলাম। 
- এই বৃক্ষ ২৪০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। 
- বর্তমানে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার ডুলাহাজাড়ায় বৈলাম বৃক্ষ দেখা যায়। 
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির গহীন অরণ্যে পাওয়া যায়। 
- বৃক্ষটি বর্তমানে বিপন্নের পথে। 

উৎস: দৈনিক সমকাল পত্রিকা।
৩৩৮.
কোনটিকে প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা বলা হয়?
  1. ক) মাইট্রোকন্ডিয়া
  2. খ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে।
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৩৯.
একটি সিন্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে সময় লাগে-
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ০.৮ সেকেন্ড
  3. ০.২ সেকেন্ড
  4. ০.৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
হৃদস্পন্দন:
- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং
- একটি হৃদস্পন্দনে সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়। এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনা যায় স্টেথোস্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৩৪০.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কয়টি লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম থাকে?
  1. ২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু ।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪১.
উদ্ভিদের মূখ্য পুষ্টি উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মুখ্য উপাদান বলা হয়। উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি এবং মাইক্রো উপাদান ৬ টি। 

উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়, এর মধ্যে ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ :
অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 

ম্যাক্রো উপাদান:

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি।
যথা - নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

মাইক্রো উপাদান:
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪২.
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে কার ক্রোমোজোম মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) পিতার
  2. খ) মাতার
  3. গ) পিতা-মাতা উভয়ের
  4. ঘ) কখনো পিতার আবার কখনো মাতার
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশে কন্যা-সন্তান প্রসব করার কারণে অজ্ঞতাবশতঃ অনেক সময় মাতাকে অপবাদ দেয়া হয়।
প্রকৃতপক্ষে প্রত্যাশিত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে মাতার কোনও ভূমিকা নেই। কেননা, মাতৃকোষে সব সময়ই কেবলমাত্র 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। অপরদিকে পিতার জননকোষ তথা শুক্রাণু 'X' এবং 'Y' ক্রোমোসোম বহন করে।
গর্ভধারণকালে কোন্ ধরনের ক্রোমোসোম (X অথবা Y) বহনকারী শুক্রাণু 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবে, তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যত সন্তানের লিঙ্গ। যদি পিতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু মাতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে উৎপন্ন জাইগোট হবে 'XX' তথা সন্তান হবে কন্যা।
অন্যদিকে যদি পিতার 'Y' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু মাতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে উৎপন্ন জাইগোট হবে 'XY' তথা ভূমিষ্ট হবে পুত্র সন্তান।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৩.
খাদ্যশক্তি কীসের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়?
  1. ওয়াট
  2. কিলো ক্যালোরি
  3. নিউটন
  4. কিলো জুল
ব্যাখ্যা

কিলো ক্যালোরি হলো খাদ্যশক্তি পরিমাপের প্রধান একক।
- ১ কিলো ক্যালোরি = ১০০০ ক্যালোরি।
- এটি ১ কেজি পানির তাপমাত্রা ১°C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় শক্তি।
- খাদ্যের লেবেলে "Cal" বা "kcal" দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা দৈনিক খাদ্য চাহিদা নির্ধারণে এটি ব্যবহার করেন।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ২৫০০ কিলো ক্যালোরি।
- খাদ্যের শক্তি হলো খাদ্যে উপস্থিত শর্করা, আমিষ ও ফ্যাট থেকে পাওয়া মোট শক্তি।
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়।
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রমে শক্তি ব্যয় হয়।
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।

অন্যদিকে,
- ওয়াট: এটি বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক।
- নিউটন: এটি বলের একক। 
- কিলো জুল: এটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক একক হলেও, বেশির ভাগ দেশে খাদ্য শক্তি বোঝাতে কিলোক্যালোরি বেশি প্রচলিত।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৩৪৪.
মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
  2. খ) ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  3. গ) ৩৯.৯° ফারেনহাইট
  4. ঘ) ৯৪.৯° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৬.৯° সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
মানবদেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩৪৫.
কোষের প্রাণশক্তি বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) প্রোটোপ্লাজম
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক এবং প্রাণশক্তি। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের পাওয়ার হাউজ।
- রাইবোজোম হলো কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- প্লাস্টিড হলো উদ্ভিদ কোষে খাদ্য তৈরির কারখানা।
- বংশগতির প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৪৬.
আদি কোষীয় জীব কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. শৈবাল
  3. ছত্রাক
  4. ব্রায়োফাইটস
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
(i) আদি কোষ এবং 
(ii) প্রকৃত কোষ। 

আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৪৭.
মানবদেহে অটোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৬ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ১ জোড়া
ব্যাখ্যা

• মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোসোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোম নারী ও পুরুষের দেহে একই রকম এবং এগুলো দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা দৈহিক গঠন নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের অটোসোম বলা হয়।
- বাকি ১ জোড়া হলো সেক্স ক্রোমোসোম।

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৮.
একবীজপত্রী উদ্ভিদে কোন ধরণের মূল দেখা যায়?
  1. ট্যাপরুট
  2. গুচ্ছ মূল
  3. পরাশ্রয়ী মূল
  4. অস্থানিক মূল
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদে গুচ্ছ প্রকৃতির মূল দেখা যায়। 

• একবীজপত্রী উদ্ভিদ:

- একবীজপত্রী উদ্ভিদ হলো সেই সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ যাদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।

• একবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:  
- এদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে।
- এদের মূল সাধারণত গুচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- পাতার শিরাগুলো সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল বিক্ষিপ্তভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- এদের ফুলের পাপড়ি সাধারণত তিন বা ছয়টির গুণিতক হয়।
- উদাহরণ: ধান, গম, ভুট্টা, কলা, নারকেল, ঘাস ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩৪৯.
নিচের কোনটি আদি কোষ?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া
  4. ব্রায়োফাইটস
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(i) আদি কোষ এবং 
(ii) প্রকৃত কোষ। 

আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৫০.
নিচের কোনটি ডিএনএ ভাইরাস?
  1. নভেল করোনা
  2. ভ্যাকসিনিয়া
  3. র‍্যাবিস
  4. মাম্পস
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩৫১.
নিচের কোনটি প্রকৃত ফল?
  1. ক) আপেল
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) চালতা
  4. ঘ) ডুমুর
ব্যাখ্যা
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলা হয়। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলা হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫২.
"বীটজবা" কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ক) টমেটো
  2. খ) কলা
  3. গ) গম
  4. ঘ) তুলা
ব্যাখ্যা
টমেটোর উন্নত জাতগুলো হলো: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা, শ্রাবণী ইত্যাদি।
কলার উন্নত জাতগুলো হলো: মোহনবাশী, কানাইভোগ, অগ্নিশ্বর, বীটজবা ইত্যাদি।
গমের উন্নত জাতগুলো হলো: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ইত্যাদি।
তুলার উন্নত জাতগুলো হলো: রুপালী, ডেলফোজ ইত্যাদি।

 সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৫৩.
কোলাজেন হলো মূলত এক ধরনের -
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
কোলাজেন:
- কোলাজেন হলো শরীরের এক ধরণের প্রোটিন ৷
- এটি টিস্যু এবং কোষের কাঠামো বা কাঠামো গঠন করে।
- এটি ত্বক, হাড়, জয়েন্ট এবং অন্যান্য টিস্যুতে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে বিশেষকরে ত্বককে। 

⇒ কোলাজেন আমাদের দেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি আঠার মতো কাজ করে যা সবকিছুকে একত্রে ধরে রাখে। এটি আমাদের ত্বক, হাড়, টেন্ডন, লিগামেন্ট এবং এমনকি আমাদের রক্তনালীতেও পাওয়া যায়। কোলাজেনকে একটি সহায়ক কাঠামো হিসেবে ভাবুন, যা শক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেহ কম কোলাজেন তৈরি করে, যার ফলে বলিরেখা, ঝুলে পড়া ত্বক, জয়েন্টে ব্যথা এবং দুর্বল হাড় দেখা দিতে পারে। এখানেই ভিটামিন সি কার্যকর হয়।

উৎস: Continental Hospitals ওয়েবসাইট।
৩৫৪.
পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি কোনটি?
  1. ক) টারসাল
  2. খ) ফ্যালানজেস
  3. গ) ফিমার
  4. ঘ) টিবিয়া-ফিবুলা
ব্যাখ্যা
পশ্চাৎপদ বা নিম্নবাহুর অস্থিসমূহ:
- প্রত্যেকটি পশ্চাৎপদ ৩০টি অস্থি নিয়ে গঠিত। যেমন- ফিমার, টারসাল, টিবিয়া-ফিবুলা, ফ্যালানজেস, মেটাটার্সাস ইত্যাদি। 

ফিমার:
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি।
- ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি।
- এর উর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল মস্তক, গ্রীবা ও ছোট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইল বিশিষ্ট।
- ফিমারের মস্তক শ্রোণিচক্রে অ্যাসিটাবুলামের সাথে যুক্ত থাকে।
- এর প্রান্তে প্যাটেল (Patella) নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড অস্থি থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
কোনটি পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. পিত্তথলি
  4. গলবিল
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি:
- যে সব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাক গ্রন্থি বা পৌষ্টিক গ্রন্থি বলে। 
- মানবদেহের পরিপাক গ্রন্থিগুলো হলো- লালা গ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি ও আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

যকৃত:
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি।
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।

পিত্তথলি:
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।

গলবিল:
-  মুখ গহ্বর ও অন্ননালির মধ্যবর্তী ছোট অংশকে গলবিল বলে।
- গ্যালেট নামক ছিদ্রের মাধ্যমে মুখ গহ্বর গলবিলে যুক্ত হয়।

বৃক্ক: 
- বৃক্ক হচ্ছে উন্নত প্রাণীদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
মানুষের মাথার চুলে স্বাভাবিকভাবে কোন প্রকার প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয়?
  1. সানফ্লাওয়ার অয়েল
  2. মিনারেল অয়েল
  3. সিবাম অয়েল
  4. গ্লিসারিন অয়েল
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৭.
নিচের কোন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নির্গত হয়? 
  1. প্যারোটিড
  2. পিটুইটারি
  3. সাবম্যান্ডিবুলার
  4. আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
ব্যাখ্যা
ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৮.
রক্তরসে কোনটি থাকে না?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) হিমোগ্লোবিন
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) ইউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
রক্তরসে শর্করা, লবণ ও ইউরিক এসিড সবই থাকে। তাই প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
অন্যদিকে, হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন অণু যা ফুসফুস থেকে দেহের টিস্যুতে অক্সিজেন বহন করে এবং টিস্যু থেকে ফুসফুসে ফিরে কার্বন ডাই অক্সাইড ফিরিয়ে দেয়।
সূত্রঃ ব্রিটানিকা।
৩৫৯.
নিচের কোনটি যৌগিক ফলের উদাহরণ? 
  1. আতা
  2. চম্পা
  3. আনারস
  4. কলা
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আম, কাঁঠাল। 

- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- সরল ফল, গুচ্ছফল ও যৌগিক ফল।  
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে। 
যেমন- আম, এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- আবার সরল ফল দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) রসাল ফল: 
- যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। 
- এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। 
যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 

খ) নীরস ফল: 
- যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। 
যেমন- শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

৩) যৌগিক ফল: 
- একটি মজুরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩৬০.
শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) এতে নিউক্লিয়াস থাকে না
  2. খ) হিমোগ্লোবিন থাকে
  3. গ) এতে ডিএনএ থাকে
  4. ঘ) এটি রক্ত জমাট বাধায় অংশগ্রহণ করে
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকার নির্দিষ্টকোন আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন। এতে DNA থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৩৬১.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. মদ্য শিল্পে
  2. রুটি শিল্পে
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
  4. এককোষীয় প্রোটিন ভাঙতে
ব্যাখ্যা
ইস্ট: 
- ইস্ট একটি ছত্রাকজাতীয় এককোষী অণুজীব। 
- এটি বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন- 
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয় ইথানল উৎপাদন ও খাদ্য ফোলাতে। 
- এটি চিনি থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। 
- এককোষী প্রোটিন (SCP) তৈরিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়, যা প্রাণীদেহের জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। 
- ইস্টে বিভিন্ন ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বিদ্যমান থাকায়, এটি স্বাস্থ্যসম্পূরক ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- খাদ্যোপযোগী এককোষী প্রোটিন উৎপাদনে এটি একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- তবে সাইট্রিক অ্যাসিড বা ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের কোনো ভূমিকা নেই। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬২.
নিচের কোনটি রক্তের প্লাজমা প্রোটিন নয়?
  1. ক) অ্যালবুমিন
  2. খ) ইউরিয়া
  3. গ) প্রোথ্রম্বিন
  4. ঘ) ফাইব্রিনোজেন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%। প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৬৩.
মানুষের শিশু বয়সে যে দুধদাঁত বা অস্থায়ী দাঁত ওঠে, তার মোট সংখ্যা কত?
  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ১৮টি
  4. ২০টি 
ব্যাখ্যা

দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধদাঁতের সংখ্যা ২০ টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৪.
কোলাজেন হলো এক ধরণের -
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

কোলাজেন:
- কোলাজেন হলো শরীরের এক ধরণের প্রোটিন।
- এটি টিস্যু এবং কোষের কাঠামো বা কাঠামো গঠন করে।
- এটি ত্বক, হাড়, জয়েন্ট এবং অন্যান্য টিস্যুতে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে বিশেষকরে ত্বককে।

⇒ কোলাজেন আমাদের দেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি আঠার মতো কাজ করে যা সবকিছুকে একত্রে ধরে রাখে। এটি আমাদের ত্বক, হাড়, টেন্ডন, লিগামেন্ট এবং এমনকি আমাদের রক্তনালীতেও পাওয়া যায়। কোলাজেনকে একটি সহায়ক কাঠামো হিসেবে ভাবুন, যা শক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেহ কম কোলাজেন তৈরি করে, যার ফলে বলিরেখা, ঝুলে পড়া ত্বক, জয়েন্টে ব্যথা এবং দুর্বল হাড় দেখা দিতে পারে। এখানেই ভিটামিন সি কার্যকর হয়।

উৎস: Continental Hospitals ওয়েবসাইট।

৩৬৫.
পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা নয় কোনটি? 
  1. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হওয়া 
  2. পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া
  3. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া 
  4. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হওয়া 
ব্যাখ্যা

• পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস: 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৬.
কলেরা রোগের মূল কারণ কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
• কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ডায়রিয়া এবং পানি শূন্যতা (dehydration)।

- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ- 
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া। 
- বমি
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়।

প্রতিকারের উপায়- 
- বিশুদ্ধ পানি পান করা। 
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine – OCV) গ্রহণ। 
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO).
৩৬৭.
হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাস শরীরের কোথায় আক্রমণ করে?
  1. যকৃৎ
  2. হৃদপিণ্ড
  3. অগ্ন্যাশয়
  4. ফুসফুস
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের (এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে।
- হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে।
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

উৎস: NIH ওয়েবসাইট।
৩৬৮.
নিচের কোনটি শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণি?
  1. ক) ব্যাঙ
  2. খ) কুকুর
  3. গ) বানর
  4. ঘ) ভেড়া
ব্যাখ্যা
• যে প্রাণির শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের সাথে ওঠানামা করে তাকে শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণি বলে।
যেমন- ব্যাঙ একটি শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণি।

- শীতকালে শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণি নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করে। একে শীতনিদ্রা বলে।
- শীতনিদ্রায় যাওয়া প্রাণির বিপাক, শ্বসন, রক্ত সঞ্চালন অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের থাকে। এ সময় এরা খাদ্য গ্রহণ না করে দেহে সঞ্চিত স্নেহ পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পেয়ে থাকে।

• যে সকল প্রাণির তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার তারতম্যের সাথে ওঠানামা করে না, তাদেরকে উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণি বলে।
যেমন- মানুষ, বানর, গরু, ছাগল, ভেড়া, বাদুড় ইত্যাদি প্রাণি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৬৯.
যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. ক) ধমনি
  2. খ) শিরা
  3. গ) নেফ্রন
  4. ঘ) নিউরন
ব্যাখ্যা
ধমনি
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত।
- এদের গহ্বর ছোট।
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না।
- ধমনির স্পন্দন আছে।
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি বলে।
- ধমনি হৃদপিন্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়।
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical CO2  যুক্ত রক্ত ভ্রূন থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল
৩৭০.
‘লেদার ব্যাক’ হলো-
  1. ক) বিরল প্রজাতির কচ্ছপ
  2. খ) বিরল প্রজাতির পাখি
  3. গ) বিরল প্রজাতির হরিণ
  4. ঘ) বিরল প্রজাতির ডলফিন
ব্যাখ্যা
The leatherback sea turtle (Dermochelys coriacea) inhabits pelagic (open ocean) environments. Apparently following the blooms of its jellyfish prey, it moves widely throughout the oceans. The shell lengths of few individuals exceed 1.6 metres (5 feet), although some reportedly reach 2.4 metres (8 feet). সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩৭১.
নিচের কোনটির দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত?
  1. ক) মানুষ 
  2. খ) অ্যামিবা
  3. গ) তিমি মাছ 
  4. ঘ) বট গাছ
ব্যাখ্যা
- প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে তৈরি। একটিমাত্র কোষ দিয়ে প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয়। বিভাজনের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি জীবদেহের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ  বৈশিষ্ট্য।


- কোনো কোনো জীবের দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত, এদের বলা হয় এককোষী (unicellular) জীব। যেমন: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম ইত্যাদি। এককোষী জীব বিভাজনের মাধ্যমেই একটি থেকে অসংখ্য এককোষী জীব উৎপন্ন করে।


- আবার অনেক জীব একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত, এদের বলা হয় বহুকোষী (multicellular) জীব। যেমন: মানুষ, বট গাছ, তিমি মাছ ইত্যাদি জীব কোটি কোটি কোষ দিয়ে গঠিত।


- এককোষী নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একসময় কোটি কোটি কোষের একটি পরিণত মানুষের সৃষ্টি হয়। আবার কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টি হয়ে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়।


- জীবের বৃদ্ধি ও প্রজননের উদ্দেশ্যে কোষ বিভাজনের (cell division) মাধ্যমে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে থাকে।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩৭২.
অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়−
যথাঃ
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration) ও
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৩.
ভাইরাস কোন ধরনের গঠনবিশিষ্ট? 
  1. এককোষী
  2. অকোষীয়
  3. বহু কোষী
  4. জনন কোষী
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
ভাইরাস হচ্ছে অকোষীয়। 
• এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

ভাইরাসের জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৪.
ডারউইনবাদ কিসের ওপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. অভিযোজন নির্বাচন
  2. পরিবেশগত চাপ
  3. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  4. জীন পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
ডারউইনবাদ প্রাকৃতিক নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব:
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন।
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক -বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।
- জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন।
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৫.
খাদ্যের শক্তি পরিমাপের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা মূলত কোন একক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়? 
  1. ক্যালরি 
  2. কিলোওয়াট 
  3. কিলোক্যালরি 
  4. কিলোজুল 
ব্যাখ্যা

খাদ্য শক্তি পরিমাপের একক: 
- শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। 
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি হচ্ছে তাপ শক্তি। 
- তাপ শক্তির একক হচ্ছে ক্যালরি। 
- পদার্থবিজ্ঞানের হিসেবে এক কিলোগ্রাম (1000 গ্রাম) পানির উষ্ণতা 1 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে 1000 ক্যালরি বা 1 কিলোক্যালরি তাপের প্রয়োজন হয়। 
- পুষ্টিবিদেরা খাদ্যের শক্তি বোঝানোর জন্যেও "ক্যালরি” শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খাদ্যের ক্যালরি আসলে কিলোক্যালরি। 
উল্লেখ্য, বিভ্রান্তি এড়াতে এখানে খাদ্য শক্তি বোঝানোর জন্য খাদ্য ক্যালরি অথবা কিলোক্যালরি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 
- আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, খাদ্যের শক্তিমূল্য প্রকাশের ক্ষেত্রে খাদ্য ক্যালরি কিংবা কিলোক্যালরির পরিবর্তে কিলোজুল একক ব্যবহার করা উচিত। 
এক্ষেত্রে, 1 খাদ্য ক্যালরি = 1 কিলোক্যালরি = 4.2 কিলোজুল (প্রায়)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৬.
শ্বসনে উৎপন্ন রাসায়নিক শক্তি কোন রূপে সংরক্ষিত হয়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. প্রোটিন
  3. এটিপি
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত এটিপি (ATP) হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য এটিপি (ATP) কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ এটিপি (ATP) তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৭.
যে কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাকে কী বলা হয়?
  1. প্লাজমা কোষ
  2. প্রকৃত কোষ
  3. আদি কোষ 
  4. ডিপ্লয়েড কোষ 
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা-
১) আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২) প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৭৮.
গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া কোষের কোথায় ঘটে?
  1. সাইটোপ্লাজম
  2. মাইটোকন্ডিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

• গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া (Glycolysis Process):
- গ্লাইকোলাইসিস হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গ্লুকোজ অণু ভেঙে দুইটি পাইরুভেট (Pyruvate) অণুতে রূপান্তরিত হয়।
- এটি কোষে শক্তি উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করে।
- গ্লাইকোলাইসিসে ATP এবং NADH উৎপাদিত হয়, যা পরে মাইটোকন্ড্রিয়ায় আরও শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই, তাই এটি অ্যানারোবিক প্রক্রিয়া হিসেবেও পরিচিত।
- গ্লাইকোলাইসিস ঘটে সাইটোপ্লাজমে, মাইটোকন্ড্রিয়ায় নয়, নিউক্লিয়াস বা ক্রোমোজোমে নয়।  

- সুতরাং, গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া কোষের কোথায় ঘটে তা হলো - সাইটোপ্লাজম।  
- সঠিক উত্তর: ক) সাইটোপ্লাজম। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

৩৭৯.
কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
  1. ক) এমাইলেজ
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) রেনিন
  4. ঘ) ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩৮০.
নিচের কোন গ্রন্থিটি ইনসুলিন নিঃসরণ করে?
  1. অ্যাড্রেনালিন
  2. পিটুইটারি
  3. থাইম্যান
  4. অগ্ন্যাশয়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- বাংলাদেশে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা লক্ষ লক্ষ।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮১.
একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত পার্থক্যের ফলে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রাণিক বৈচিত্র্য
  4. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বুঝায়। 
- পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্নতর হয়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা বৃদ্ধির ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যগণের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- একই প্রজাতি কিন্তু তাদের গড়ন, আকার, রোগ-প্রতিরোধ এবং পরিবেশ প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন। এই পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। কারণ জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়। 
- প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্দিষ্ট জিন থাকে। বিভিন্ন কারণে এই জিনের গঠন এবং বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে, তাকেই বলা হয় বংশগতীয় বৈচিত্র্য। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান, রাসায়নিক উপাদান এবং জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই ধীর এবং ধারাবাহিক। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়, তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
- একটি ছোট পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যেসব উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 
- বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ এক একটি জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮২.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহণ করে কোনটি?
  1. ক) কৈশিকনালী
  2. খ) শিরা
  3. গ) ধমনি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে সকল রক্তবাহী নালি হৃৎপিন্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনি বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু গহ্বর ছোট এবং এর গহ্বরে কপাটিকা থাকে না।
- ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি
৩৮৩.
অলিন্দের সম্প্রসারণের স্থিতিকাল কত?
  1. ০.৭ সেকেন্ড
  2. ০.৫ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.৩ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
হৃদচক্র: 
- হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে। 
- এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে। 
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। 
- এক বারের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃদস্পন্দন বা হার্টবিট (Heart Beat) বলে। 
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার, গড়ে ৭৫ বার। 
- হৃদপিণ্ডের প্রতি স্পন্দনে হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের যে চক্রাকার প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে হৃদচক্র বা কার্ডিয়াক চক্র বলে। 
- কার্ডিয়াক চক্র চলাকালীন হৃদপিণ্ডের মধ্যে কিভাবে রক্ত সংবহন হয় তা পর্যায়ক্রমিক ৪টি দশায় সম্পন্ন হয়। 
যেমন- 
ক. অলিন্দের সংকোচন (Atrial diastole), 
খ. অলিন্দের সম্প্রসারণ (Atrial systole), 
গ. নিলয়ের সংকোচন (Ventricular systole) এবং 
ঘ. নিলয়ের সম্প্রসারণ (Ventricular diastole)। 

অলিন্দের সম্প্রসারণ: 
- অলিন্দের সম্প্রসারণের স্থিতি ০.৭ সেকেন্ড। 
- এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। 
- এতে ডান অলিন্দটি সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা ও ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভা এর মাধ্যমে এবং বাম অলিন্দটি পালমোনারি শিরার মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করে। 
- এ সময় অলিন্দ নিলয়ী কপাটিকাগুলো বন্ধ থাকে। 
- অলিন্দের প্রসারণ সমাপ্তি হওয়ার পরপরই আবার অলিন্দের সংকোচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

অন্যদিকে, 
- অলিন্দের সংকোচনের স্থিতি ০.১ সেকেন্ড। 
- নিলয়ের সংকোচনের স্থিতি ০.৩ সেকেন্ড। 
- নিলয়ের সম্প্রসারণের স্থিতি ০.৫ সেকেন্ড। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
নিষেকের পর ডিম্বক কীসে রূপান্তরিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ
  3. টেস্টা
  4. সস্য
ব্যাখ্যা
নিষেকের পর ডিম্বক বীজে রূপান্তরিত হয়।

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন
নিষেকক্রিয়ার পূর্বে --- নিষেকক্রিয়ার পরে
গর্ভাশয় ----------------- ফল
গর্ভাশয় ত্বক ------------ ফলত্বক
ডিম্বক ------------------ বীজ
এক্সাইন ---------------- টেস্টা
ইন্টাইন ---------------- টেগমেন
ভ্রূণপোষক টিস্যু ------- নিঃশেষ হয়ে যায়
ডিম্বাণু (নিষিক্ত) -------- ভ্রূণ
সস্য মাতৃকোষ -------- সস্য
সাহায্যকারী কোষ ----- নষ্ট হয়ে যায়
প্রতিপাদ কোষ -------- নষ্ট হয়ে যায়
মাইক্রোপাইল -------- মাইক্রোপাইল
হাইলাম -------------- হাইলাম
ডিম্বকনাড়ী ---------- বীজবৃন্ত

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৫.
নিচের কোনটি প্রোটিন?
  1. ক) এনজাইম
  2. খ) অ্যান্টিবডি
  3. গ) হরমোন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে।
-  আর অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
- প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি। 
- প্রোটিন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন জি. মুলার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। 
- প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু।
-  একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত প্রকার প্রোটিন তৈরি হয়।
- জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিরাজমান। 
- জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন। এগুলো সবই প্রোটিন। 
- সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮৬.
মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিলিটার রক্তে কতগুলো শ্বেত রক্তকণিকা থাকে?
  1. ক) ৪-১০ হাজার
  2. খ) ১৫-৩০ হাজার
  3. গ) ১ লাখ থেকে ১.১০ লাখ
  4. ঘ) ১ মিলিয়ন+
ব্যাখ্যা
রক্তের তিনটি কনিকার মধ্যে শ্বেত কনিকা অন্যতম। এদের গড় আয়ু ১-১৫ দিন। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে না। নিউক্লিয়াস এবং ডিএনএ থাকে। এটি ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিলিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকনিকা থাকে। কিন্তু এই সংখ্যা বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হলে লিউকোমিয়া বা ব্লাডক্যান্সার দেখা দেয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
৩৮৭.
মানব মস্তিষ্কের কোন অংশ আবেগ অনুভূতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে?
  1. সেরেব্রাম
  2. থ্যালামাস
  3. হাইপোথ্যালামাস
  4. সেরেবেলাম
  5. মেডুলা অবলংগাটা
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

(১) অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৮.
রক্তে Platelet এর কাজ কী?
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. রক্তের ঘনত্ব ও সান্দ্রতা রক্ষা করা
  3. রক্তের PH ঠিক রাখা
  4. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
• অণুচক্রিকার কাজ:
(i) অস্থায়ী প্লেটলেট প্লাগ (platelet plug) সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে।
(ii) রক্তজমাট ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) ক্ষরণ করে।
(iii) প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনে সাহায্য করে।
(iv) ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে।
(v) দেহের কোথাও ব্যথার সৃষ্টি হলে নিউট্রোফিল ও মনোসাইটকে আকৃষ্ট করতে রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে।
(vi) রক্তবাহিকার এন্ডোথেলিয়ামের অন্তঃপ্রাচীর সুরক্ষার জন্য গ্রোথ-ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে।
(vii) সেরোটনিন (serotonin) নামক রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশে রক্তবাহিকাকে দ্রুত সঙ্কোচনে উদ্বুদ্ধ করে।
(viii) স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অণুচক্রিকা থাকলে রক্তনালির ভিতরে অদরকারী রক্তজমাট সৃষ্টি, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে,
- লোহিত রক্তকনিকার কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন করা।
- ঘনত্ব ও সান্দ্রতা রক্ষা করা
- রক্তের PH ঠিক রাখা

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৮৯.
প্রোটিন গঠনের জন্য কোন মৌলিক উপাদান অপরিহার্য?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- নাইট্রোজেন (N) হলো প্রোটিনে একটি বিশেষ মৌল, যা অ্যামিনো গ্রুপ (-NH2) গঠনে অপরিহার্য।

প্রোটিন:
-
প্রোটিন হলো জীবজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ।
- এটি অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে গঠিত।
- প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডে থাকে নাইট্রোজেন (N), যা অ্যামিনো (-NH2) গ্রুপে থাকে।
- অন্য উপাদান যেমন কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন প্রোটিনের অংশ হলেও, নাইট্রোজেন প্রোটিনের মূল ভৌত কাঠামো গঠনে অপরিহার্য।
-
নাইট্রোজেন ছাড়া প্রোটিন তৈরি সম্ভব নয়। 

অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রধান উপাদানগুলো:
- নাইট্রোজেন (N), 
- কার্বন (C), 
- হাইড্রোজেন (H) ও 
- অক্সিজেন (O)। 

 তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান।

৩৯০.
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোন খনিজ উপাদানটি সাহায্য করে? 
  1. পটাসিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯১.
১ গ্রাম ফ্যাট থেকে প্রায় কত কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়? 
  1. ৪ কিলোক্যালরি
  2. ৬ কিলোক্যালরি
  3. ৯ কিলোক্যালরি
  4. ১২ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
খাদ্যের কাজ: 
- মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই, খাদ্য দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য কাজ করে থাকে। 
যেমন- 
১। দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ: 
- মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সৃষ্টির পর হতে ২০/২৫ বছর বয়স পর্যন্ত দেহ গঠন ও বৃদ্ধিসাধন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- এছাড়া কায়িক শ্রম, রোগ-বালাই, ইত্যাদিতে দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্য মানব দেহে এসব গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। 
যেমন- দেহের পেশি গঠনে প্রোটিন ও অস্থি বা হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম কাজ করে। 

২। তাপ ও শক্তি উৎপাদন: 
- দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা বজায় রাখা ও অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পাদন করে দেহকে সচল রাখার জন্য খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 
- দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয় বলেই দেহ সচল ও সক্রিয় থাকে। 
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য হতে দেহে সর্বাধিক তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য হতে উৎপন্ন শক্তিও দেহে অতি প্রয়োজনীয়। 
যেমন- ১ গ্রাম শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়), ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) এবং ১ গ্রাম ফ্যাট হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি: 
- খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে জীবাণু ও রোগের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। 
- প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

৪। দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ: 
- মানবদেহে প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক কর্মক্রিয়া চলতে থাকে। 
- হৃৎপিণ্ড (Heart), ফুসফুস (Lung), পাকস্থলী (Stomatch), মস্তিষ্ক (Brain), বৃক্ক (Kidney), যকৃত (Liver) ইত্যাদি সবসময় সক্রিয় অবস্থায় থাকে। 
- এনজাইম ও হরমোনসমূহ শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈব রাসায়নিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এছাড়া বিপাক, পরিপাক, শোষণ ইত্যাদি কাজ সংঘটিত হয়। 
- এসব কাজে প্রোটিন, খনিজ লবণ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, পানি ইত্যাদি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯২.
মানবদেহের কোন অংশে বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়?
  1. রক্তনালিতে
  2. অগ্ন্যাশয়ে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internal respiration)। 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 
 
- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৩.
পেনিসিলিনের আবিষ্কারক কে?
  1. ক) আলেকজেন্ডার ফ্লেমিং
  2. খ) লুই পান্তর
  3. গ) লিয়েন হুক
  4. ঘ) রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিনের আবিষ্কার করেন।

- Penicillium notatum থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কার করা হয়।
- বর্তমানে Penicillium chrysogenum থেকে বানিজ্যিক ভিত্তিতে পেনিসিলিন তৈরি করা হয়।
- পেনিসিলিনটি কান, নাক এবং গলার ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া এটি সাইনাস, ত্বক, নিম্ন শ্বাস নালীর, পেট, অন্ত্র, কিডনি এবং মূত্রাশয়ের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্যও ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৪.
‘বায়োটেকনোলজি বা Biotechnology’ শব্দের প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) স্ট্রাসবুর্গার
  2. খ) কার্ল এরেকি
  3. গ) ওয়াটসন
  4. ঘ) জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা

হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (১৯১৯) সর্বপ্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের একটি উন্নয়নশীল ফলিত শাখা।
Biotechnology শব্দটি Biology এবং Technology এর সমন্বয়ে গঠিত।
Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কিত বিদ্যা এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি।
অর্থাৎ Biotechnology হলো Biological Science এর সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত বিদ্যা। ১৯৭০ এর পর থেকে এ শব্দটি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৩৯৫.
রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে আসে যে নালী তাকে কী বলে?
  1. ভেইন
  2. আর্টারি
  3. ক্যাপলারি
  4. নার্ভ
ব্যাখ্যা
• রক্তনালী:
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা (Vein) বলে।
- ক্যাপিলারি হলো ক্ষুদ্র রক্তনালী যা আর্টারি ও ভেইনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

অন্যদিকে,
- নার্ভ হলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, যা রক্তনালী নয় এবং রক্ত বহন করে না।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৯৬.
কোনটি এককোষী জীবের উদাহরণ?
  1. গরু
  2. অ্যামিবা
  3. বৃক্ষ
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
জীবের বৈশিষ্ট্য: 
- জীবদেহ জীবকোষ (Cell) দ্বারা গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি জীব মাত্র একটি কোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা এককোষী (Unicellular) জীব। 
- বৃক্ষ, গুল্ম, পশু-পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব অসংখ্য জীবকোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা বহুকোষী (Multicellular) জীব। 
- জীবকোষে সজীব প্রোটোপ্লাজম থাকে। 
- নিউক্লিয়াসসহ অন্যান্য কোষাঙ্গাণু প্রোটোপ্লাজমে অবস্থান করে। তাই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়। 
- জড়বস্তু কোন জীবকোষ দ্বারা গঠিত নয় এবং জড়বস্তুতে কোন প্রোটোপ্লাজম নেই। 
- জীবের বংশবৃদ্ধির (Reproduction) তথা শিশু জীব জন্ম দেয়ার ক্ষমতা থাকে যা জড়বস্তুতে নেই। 
-  জীবদেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় (Physiological) কার্যকলাপ, যেমন- শ্বসন, পরিপাক, বৃদ্ধি, উত্তেজনায় সাড়া দেয়া, পরিবেশের সাথে অভিযোজন ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- জড় বস্তুতে কোন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ঘটে না। 
- জীবের মৃত্যু আছে, জড় বস্তুর মৃত্যু নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৭.
প্রোটিস্টার কোষের ক্রোমাটিন পদার্থে কী থাকে? 
  1. ডিএনএ 
  2. আরএনএ 
  3. প্রোটিন 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

প্রোটিস্টা (Protista): 
প্রোটিস্টা (Protista) জগতের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। 
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯৮.
দুধকে জমাট বাঁধায়-
  1. ল্যাকটোজ
  2. কেসিন
  3. গ্যালাক্টোজ
  4. রেনিন
ব্যাখ্যা

- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- কারণ এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

৩৯৯.
কোন পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. ক্রিয়েটিনিন
  3. ইউরোক্রোম
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
• ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়। 

• মূত্র:
- নেফ্রনের রেনাল টিউবিউলসে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেটের নির্বাচিত পুনঃশোষণের পর যে খড় বর্ণের, তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ও অম্লধর্মী তরল রেচন বর্জ্য মূত্রথলিতে জমা হয় তাকে মূত্র বলে।

• একজন সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ১.৫ লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
- মূত্রের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে ৯৫% (৯৫-৯৭%) পানি এবং ৫% (৩-৫%) কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থের মধ্যে জৈব ও অজৈব উপাদান রয়েছে।
- খাদ্যে তরল পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকলে মূত্রের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ও শরীরে ঘাম বেশি হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যায়।
- খাদ্যের প্রকৃতিও অনেক সময় মূত্রের পরিমাণের পার্থক্য ঘটায়। লবণাক্ত খাবার সাধারণত মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়।

• দেহে দৈনিক স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মূত্র (> ২.৫ লিটার) উৎপাদিত হলে তাকে পলিউরিয়া (polyuria),
- মূত্রের পরিমাণ <৪০০ মি.লি. হলে অলিগোরিয়া (oliguria) এবং
- মূত্রের পরিমাণ<১০০ মি.লি. হলে অ্যানুরিয়া (anuria) বলে।
• কিছু দ্রব্য মূত্রের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাড়িয়ে দেয়। এসব দ্রব্য ডাইইউরেটিকস (diuretics) বা মূত্রবর্ধক নামে পরিচিত। পানি, লবণাক্ত পানি, চা ও কফি এ ধরনের দ্রব্য।

• মূত্রের বৈশিষ্ট্য:
→ বর্ণ: স্বাভাবিক মূত্র হালকা হলুদ বা খড় বর্ণের (straw colour)। মূত্রে ইউরোক্রোম (urochrome) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়। 
→ পরিমাণ: প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের মূত্রের পরিমাণ ৫০০-২৫০০ মিলিলিটার। পানি পানের মাত্রা, খাদ্যের ধরন ইত্যাদির ওপর মূত্রের উৎপাদন নির্ভর করে।
→ আপেক্ষিক গুরুত্ব: মূত্রের স্বাভাবিক আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১- ১.৫০।
→ বিক্রিয়া: তাজা মূত্র স্বচ্ছ ও হালকা অম্লধর্মী। মূত্রের গড় pH মান হচ্ছে প্রায় ৬.৫। 
→ গন্ধ: মূত্রের গন্ধ অনেকটা অ্যারোমেটিক (aromatic)। মূত্রে জৈবপদার্থ থাকার জন্য এমন গন্ধ হয়। এছাড়া দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ ইউরিনোড এর উপস্থিতির জন্য মূত্রে গন্ধ হয়।
- স্বাভাবিক মূত্রকে ফেলে রাখলে অ্যামোনিয়ার গন্ধ হয়। মূত্রের ইউরিয়া জীবাণুর সংস্পর্শে এসে অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৪০০.
বিলিরুবিন দেহের কোথায় তৈরি হয়? 
  1. যকৃতে
  2. প্লীহাতে
  3. কিডনিতে
  4. পিত্তথলিতে
ব্যাখ্যা
বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।