বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ১০০ / ৪,২০৮

.
নিচের কোনটিকে ‘এনার্জি কয়েন’ বলে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) নিউক্লিওলাস
  3. গ) এটিপি
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) এটিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এটিপি
ব্যাখ্যা
ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়৷
এটি শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
হাড়ের কোষের নাম-
  1. ক) Fibroblast
  2. খ) Chondroblast
  3. গ) Ependymal cell
  4. ঘ) Osteoblast
সঠিক উত্তর:
ঘ) Osteoblast
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Osteoblast
ব্যাখ্যা
Osteoblast (Physiology) (noun): a cell which secretes the substance of bone.
.
সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে জীবজগতের জন্য প্রধানত কোন খাদ্য উৎপন্ন হয়?
  1. শর্করা
  2. খনিজ লবণ
  3. লিপিড 
  4. প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

.
নিচের কোনটি নিউরনের অংশ নয়?
  1. ক) কোষদেহ
  2. খ) সিন্যাপস
  3. গ) ডেনড্রাইট
  4. ঘ) অ্যাক্সন
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
দেহের বিশেষ সংবেদী কোষ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলো একত্রে স্নায়ু টিস্যু গঠন করে৷ স্নায়ু টিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত৷
একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে৷
যথাঃ কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।
প্রলম্বিত অংশ দুধরনেরঃ ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন।
পরপর দুটি নিউরনের সন্ধিস্থলে অর্থাৎ প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস (Synapse) বলে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
পানি পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পানি পরাগী ফুল সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
  2. পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
  3. পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র।
  4. পানি পরাগী ফুলের সুগন্ধ নেই।
সঠিক উত্তর:
পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বিলিরুবিন কোথায় তৈরী হয়?
  1. প্লীহায়
  2. পিত্তথলিতে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
ব্যাখ্যা

- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে ও অস্থিমজ্জায় এবং জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 
- হিমগ্লোবিনের লৌহযুক্ত প্রস্থেটিক গ্রুপ ভেঙে যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় হলুদ বিলিরুবিন তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- রক্তের বিলিরুবিন যকৃতে গ্লুকো-ইউরোনিক অ্যাসিডযুক্ত হয়ে জল দ্রাব্য হয় এবং পিত্তের মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। 
- সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অর্ধেক বিলিরুবিন থেকে ইউরোবিলিনোজেন উৎপন্ন হয় যা অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে শেষে হলুদ ইউরোবিলিন হিসাবে মূত্রে পৌছায় বলে মূত্রের রং হলুদ হয়। 
- দেহে বিলিরুবিন বেশি হলে তাকে জন্ডিস বলে। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
একটি সম্পূর্ণ ফুলের অংশ নয় কোনটি?
  1. দলমন্ডল
  2. ডিম্বক
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. পুংস্তবক
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
ব্যাখ্যা
• ডিম্বক একটি সম্পূর্ণ ফুলের অংশ নয়।

• ফুল:

- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ থাকে। যথা:
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।
- এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।

২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়।
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে।
- সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।

৩. দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।

৪। পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ?
  1. চন্দ্রমল্লিকা
  2. শসা
  3. ডালিয়া
  4. লেটুস
সঠিক উত্তর:
শসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
• আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant):
- পুষ্পায়নে দিনের আলো কোনো প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
• ছোটদিনের উদ্ভিদ (Short Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 8-12 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
• বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 12-16 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন।যেমন: লেটুস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মানুষের শ্বসন অঙ্গ কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে? 
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
হিস্টোলজিতে, রক্তকে কোন ধরনের টিস্যু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়?
  1. আবরণী টিস্যু
  2. স্নায়ু টিস্যু
  3. যোজক টিস্যু
  4. পেশি টিস্যু
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
• যোজক টিস্যু (Connective Tissue):
• যোজক বা কানেকটিভ টিস্যুতে মাতৃকার (Matrix) পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম।
• গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে কানেকটিভ টিস্যু প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা-
(i) ফাইব্রাস যোজক টিস্যু;
(ii) স্কেলিটাল যোজক টিস্যু;
(iii) তরল যোজক টিস্যু। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের মূল কাজ কী? 
  1. ডিম্বাণু উৎপাদন হ্রাস
  2. স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
  3. জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো- 

শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
DNA প্রতিলিপনের সময় কোন এনজাইম কাজ করে? 
  1. হেলিকেজ
  2. লিপেজ
  3. পেপটেজ
  4. অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
হেলিকেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলিকেজ
ব্যাখ্যা

• DNA প্রতিলিপন (DNA Replication) হলো জীবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি কোষ তার DNA অণুর অনুলিপি তৈরি করে, যাতে নতুন কোষে একই জিনগত তথ্য স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া ঘটে কোষ বিভাজনের আগে, বিশেষ করে ইন্টারফেজের S পর্বে।

- প্রথম ধাপে DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন (Double helix) খুলে যায়, যাতে প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন DNA তৈরির টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করতে পারে।
- এই কাজটি সম্পন্ন করে হেলিকেজ (Helicase) এনজাইম

• DNA প্রতিলিপনের প্রধান ধাপ তিনটি:
- Initiation (সূচনা),
- Elongation (বিস্তার),
- Termination (সমাপ্তি)। 

• হেলিকেজের কাজ:
- হেলিকেজ DNA-এর দুইটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলকে আলাদা করে।
- এটি হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে ডাবল হেলিক্স খুলে দেয়।
- ফলে একটি “Replication fork” তৈরি হয়, যেখানে DNA পলিমেরেজ কাজ শুরু করতে পারে।
- এটি মূলত প্রতিলিপনের সূচনাবিন্দু (Origin of replication) থেকে উভয় দিকে DNA খুলতে থাকে।
- এরপর DNA পলিমেরেজ নতুন নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে।
- প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সঠিক জিনগত তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৩.
লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. ফুলের বীজ উৎপাদন বন্ধ হয়
  2. ফুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়
  3. ফুলের রঙ নষ্ট হয়
  4. ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- টিউলিপ ফুল "টিউলিপ ব্রেকিং ভাইরাস" (Tulip breaking virus) দ্বারা আক্রান্ত হলে পাপড়িতে সাদা বা হলুদ রঙের শিখার মতো দাগ বা রেখা তৈরি হয়, যা ফুলটিকে অনন্য এবং আরও আকর্ষণীয় করে তোলে

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে -
  1. ক) Penicillium
  2. খ) Azetobactor
  3. গ) Mucor
  4. ঘ) Amebae
সঠিক উত্তর:
ক) Penicillium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Penicillium
ব্যাখ্যা
প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষার প্রবণতা দেখা যায়৷
এদের দেহে অণুবীজবাহী অঙ্গের উৎপত্তি হয়৷
বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে৷ Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
১৫.
ডিএনএ এর নাইট্রোজেন বেস নয় কোনটি?
  1. ক) অ্যাডেনিন
  2. খ) গুয়ানিন
  3. গ) সাইটোসিন
  4. ঘ) ইউরাসিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরাসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
- জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- যথা- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
- RNA তে ও চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে। 
- শুধু থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৬.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রোটিন থাকে -
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৬৩%
  3. গ) ৬৮%
  4. ঘ) ৭৩%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
ব্যাখ্যা

কোষের সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্তভাগে অবস্থিত ধূসর বর্ণের ও শক্তি উপাদানের বিশেষ ধরনের অঙ্গগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। একে কোষের পাওয়ার হাউজও বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, এবং সামান্য পরিমানে ডিএনএ ও আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, এএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
রক্ত কী দ্বারা গঠিত?
  1. রক্ত রস
  2. তরল কলা
  3. যোজক কলা
  4. রক্তরস ও রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
রক্তরস ও রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস ও রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ফার্ণ
  2. মস
  3. সাইকাস
  4. মটরশুটি
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:

- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
নিচের কোনটি ঔষধি গাছ?
  1. ক) পাট
  2. খ) ধনিয়া
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) তুলা
সঠিক উত্তর:
গ) অর্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্জুন
ব্যাখ্যা
অর্জুন একটি ঔষধি গাছ। 

অর্জুন গাছের উপকারী দিকসমূহ- 
- অর্জুন গাছের ছাল, ফল ও পাতা তিনটিই ওষুধী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে অর্জুন গাছের ছালই ভেষজ চিকিৎসায় বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- অর্জুন গাছের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিণ্ডের পেশি শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
- অর্জুন গাছের রসে রক্ত পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে পথ্য হিসেবে অর্জুনের রস হর হামেসা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- অর্জুন খাদ্য হজম ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্যতন্ত্রের শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
- অর্জুন গাছের রস চর্ম ও যৌনরোগে উপকার করে। যৌন উদ্দীপনা বাড়াতেও অর্জুনের রস সাহায্য করে বলে ভেষজবিদরা বলে থাকেন।
- শরীরে খোস-পাচড়া দেখা দিলে অর্জুন গাছের ছাল বেটে লাগালে ভালো হয়ে যায়।

সূত্র- বিবিসি ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
২০.
পেনিসিলিয়াম কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ছত্রাক বহুকোষী জীব। এদের আগে উদ্ভিদ জগতের সদস্য মনে করা হতো। বর্তমানে এদের উদ্ভিদ জগৎ থেকে আলাদা একটি জগতে স্থান দেওয়া হয়। দেহে প্লাস্টিড (ক্লোরোফিল) না থাকায় ছত্রাক পরভোজী বা মৃতজীবী।
যেমন- মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১.
চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) শর্করা
  3. গ) রাফেজ
  4. ঘ) স্নেহ
সঠিক উত্তর:
গ) রাফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাফেজ
ব্যাখ্যা
রাফেজ/ আঁশযুক্ত খাদ্য: 
শস্যদানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খােসা, শাঁস, বীজ এবং উদ্ভিদের ডাঁটা, মূল ও পাতায় আঁশ থাকে। এগুলে মূলত কোষপ্রাচীরের সেলুলােজ এবং লিগনিন।
রাফেজ পানি শােষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
রাফেজযুক্ত খাবার বিষাক্ত বর্জনীয় বস্তুকে খাদ্যনালি থেকে পরিশােষণ করে। 
খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে।
আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
২২.
লোহিত রক্তকণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহা ও অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
  3. হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনি ও অস্থিমজ্জায়
সঠিক উত্তর:
যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
• ভ্রূণাবস্থায় এবং প্রাথমিক জীবনে লোহিত রক্তকণিকা যকৃতেও তৈরি হয়। ভ্রূণাবস্থায় প্লীহা-তেও লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় - তবে, যকৃতের তুলনায় তা খুব অল্প পরিমাণ।
তাই, সঠিক উত্তর - খ) যকৃত ও অস্থিমজ্জায় - কারণ উভয় অঙ্গই লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্থিমজ্জাই প্রধান স্থান।

• রক্তসংবহন তন্ত্র:
- যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে।
- রক্ত, হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।

• রক্ত ও রক্তের উপাদান:
- রক্ত ঘন লাল রঙের একটি তরল পদার্থ, এটি এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু।
- রক্তের স্বাদ ক্ষারধর্মী।
- রক্তের উপাদান দুইটি।
- যথা: রক্তরস ও রক্তকণিকা।

• রক্তকণিকা:
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে।
যথা-

ক. লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে।
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে -পৌঁছায়।
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম।
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।

গ. অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়।
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৩.
কোন আলোক রশ্মি ত্বকে ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) অতি বেগুনি রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
খ) অতি বেগুনি রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতি বেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
- সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হয়। এই ভিটামিন সূর্যালােকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়।
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D– এর প্রধান উৎস।
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।

ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শােষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরিতে কাজে লাগে। ভিটামিন D–এর অভাবে শিশুদের রিকেট রােগ হতে পারে।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৪.
মানুষের দেহের শ্বেত ও লোহিত রক্তকণিকার অনুপাত কত?
  1. ১ : ৭০০
  2. ৭০০ : ১
  3. ১ : ৮০০
  4. ৮০০ : ১
সঠিক উত্তর:
১ : ৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ৭০০
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্তকণিকা ও লোহিত কণিকা অনুপাত ১ : ৭০০।
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের মানবদেহে অবস্থিত লোহিত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪৫ - ৫০ লাখ (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)।
- অন্যদিকে, শ্বেত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪-১০ হাজার (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)। 

• শ্বেতকণিকা:
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১- ১৫ দিন।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৫.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক কোনটি?
  1. নিউরোগ্লিয়া
  2. সাইন্যাপস
  3. নিউরন
  4. নেফ্রন
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক হলো নিউরন (গ)। নিউরন হলো একটি বিশেষায়িত স্নায়ুকোষ, যা উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রধান অংশ হলো ডেনড্রাইট, কোষদেহ এবং অ্যাক্সন। ডেনড্রাইট উদ্দীপনা গ্রহণ করে, কোষদেহ তা প্রক্রিয়াজাত করে এবং অ্যাক্সন সেই স্নায়ুবার্তা অন্য কোষে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের সব কার্যকলাপ- যেমন চিন্তা, অনুভূতি, চলাচল ও প্রতিফল ক্রিয়া- নিউরনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। নিউরোগ্লিয়া সহায়ক কোষ, সাইন্যাপস সংযোগস্থল এবং নেফ্রন কিডনির একক, তাই সঠিক উত্তর নিউরন।
 
• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body):
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন:
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon):
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

২৬.
কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. সেরেব্রাম
  2. সেরেবেলাম
  3. পনম
  4. কর্পোরা
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
ব্যাখ্যা

• সেরেব্রাম-  অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

অপশন আলোচনা:
ক) সেরেব্রাম — এটি অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান ও সবচেয়ে বড় অংশ, তাই সঠিক উত্তর।
খ) সেরেবেলাম — এটি পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের নয়।
গ) পনস (পনম) — এটি মধ্যমস্তিষ্ক/পশ্চাৎমস্তিষ্কের সংযোগকারী অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়।
ঘ) কর্পোরা (কর্পাস ক্যালোসাম বোঝালে) — এটি অগ্রমস্তিষ্কের ভেতরে সেরেব্রামের দুই অর্ধকে যুক্ত করে, তবে সাধারণ MCQ-তে একে সরাসরি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ হিসেবে ধরা হয় না।
 
তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব খাদ্যসার পদার্থ কোনটি?
  1. ক) ইউরিয়া
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) অ্যান্টিটক্সিন
  4. ঘ) গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
রক্তরস:
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
- রক্তরসে প্রায় ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থ: 
খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি)।
• রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি)।
• প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন ইত্যাদি)।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থ
- সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, এবং গ্যাসীয় পদার্থ- O2, CO2, N2 ইত্যাদি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৮.
ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কোন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে?
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. বাইনারি ফিশন
  4. কনজুগেশন
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
ব্যাখ্যা

- বাইনারি ফিশন (দ্বিবিভাজন) হলো একটি অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় একটি একক ব্যাকটেরিয়াল কোষ দুটি অভিন্ন (জেনেটিক্যালি আইডেন্টিকাল) অপত্য কোষে বিভক্ত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
⇒ ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
⇒ এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
⇒ এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
⇒ এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
⇒ এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
⇒ এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান, এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
⇒ ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
⇒ এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
⇒ এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
⇒ এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
⇒ কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
ডিপথেরিয়া রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) Mycobacterium
  2. খ) Bacillus
  3. গ) Corynebacterium
  4. ঘ) Diplococcus
সঠিক উত্তর:
গ) Corynebacterium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Corynebacterium
ব্যাখ্যা

Mycobacterium tuberculosis - যক্ষ্মা
Bacillus dysenteri - আমাশয়
Corynebacterium diptheriae - ডিপথেরিয়া
Diplococcus pneumoniae - নিউমোনিয়া

৩০.
কোন জাতীয় বিপাকের বিপাকের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন - জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

৩১.
যকৃৎ-এর ক্ষুদ্র একক লোবিউলে কী তৈরি হয়? 
  1. পিত্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. ইনসুলিন 
  4. কোলেস্টেরল 
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস 
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২.
মানবদেহের ক্রোমোসোমের গড় দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ কত মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
গ) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬
ব্যাখ্যা

মানবদেহের ক্রোমোসোমের গড় দৈর্ঘ্য ৪-৬ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে।

প্রশ্নে সর্বোচ্চ মাইক্রোমিটার চাওয়া হয়েছে বিধায়, ৬ কে সঠিক উত্তর হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
প্রজাতি অনুসারে, ক্রোমোসোমের দৈর্ঘ্য সাধারণত ০.২৫-৫০ মাইক্রোমিটার এবং ব্যাস ০.২-২.০ মাইক্রোমিটার হয়।
কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর অবস্থিত নিউক্লিয় জালক থেকে উৎপন্ন নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত যে-সুতোর মতো অংশ জীবদেহের বংশগত বৈশিষ্ট বহন করে এবং জীবের এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে পরিবাহিত করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩৩.
'তারামাছ' কোন পর্বের প্রাণী?
  1. মলাস্কা
  2. একাইনোডার্মাটা
  3. নিডারিয়া
  4. অ্যানেলিডা
সঠিক উত্তর:
একাইনোডার্মাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাইনোডার্মাটা
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:

- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক।
- পানি সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।
-  দেহ কন্টকযুক্ত।
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত।
উদাহরণ - তারামাছ, সমুদ্র শসা ইত্যাদি।

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- অধিকাংশ প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত।
- সিলেন্টেরন নামক গহবর দেখা যায়। 
- নিডোব্লাস্ট নামে বিশেষ কোষ দেখা যায়।
উদাহরণ - হাইড্রা, ওবেলিয়া ইত্যাদি।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৩৪.
রেশম তন্তু কোন প্রোটিন দিয়ে তৈরি?
  1. ক) কেরাটিন
  2. খ) প্রোটামিন
  3. গ) ফাইব্রেয়ন
  4. ঘ) প্রোলামিন
সঠিক উত্তর:
গ) ফাইব্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফাইব্রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি।

_________________________
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
কোনটি রক্তবাহিকা নয় -
  1. ধমনি
  2. শিরা
  3. কৈশিক জালিকা
  4. কপাটিকা
সঠিক উত্তর:
কপাটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপাটিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত হয় রক্ত, হৃদপিণ্ড ও রক্ত জালিকা দিয়ে। 
হৃদপিণ্ড হৃদ পেশী দিয়ে তৈরি। 
রক্ত বাহিকা ৩ ধরনের - ধমনি, শিরা, কৈশিক জালিকা। 

রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃদপিণ্ড মানব ও অন্য প্রানিদেহে পাম্পের মত কাজ করে। 

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
৩৬.
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
  1. স্যালমোনেলা
  2. ই. কোলাই
  3. ল্যাক্টোব্যাসিলাস
  4. রাইজোবিয়াম
সঠিক উত্তর:
রাইজোবিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইজোবিয়াম
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রধান ব্যাকটেরিয়ার হলো রাইজোবিয়াম। এটি মাটিতে বা গাছের মূলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজ করে। বিশেষ করে শিম, মটরশুঁটি, সয়াবিনের মতো ফলনশীল শস্যের মূলগুঁড়োর নডিউলে এই ব্যাকটেরিয়া বাস করে। রাইজোবিয়াম বাতাস থেকে নাইট্রোজেন ধরে নিয়ে আমোনিয়ার আকারে রূপান্তরিত করে, যা গাছের জন্য পুষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের জন্য রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমে। অন্য দিকে, স্যালমোনেলা এবং ই. কোলাই সাধারণত মানুষের অন্ত্রে রোগ সৃষ্টি করে, আর ল্যাক্টোব্যাসিলাস দুধজাত খাবারে ল্যাকটোজ ফার্মেন্টেশনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলো নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী নয়।

• নাইট্রোজেন সংবন্ধন:
- নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন গ্যাসকে এমন একটি রূপে পরিবর্তন করা হয় যা উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীব ব্যবহার করতে পারে।
- সাধারণভাবে, বায়ুর নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় থাকে এবং সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- এই গ্যাসকে অ্যামোনিয়াম (NH4 +) বা অন্যান্য উপযোগী যৌগে রূপান্তরিত করাই হলো নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ। 

• নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের গুরুত্ব:  
- উদ্ভিদের পুষ্টি: নাইট্রোজেন উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড এবং ক্লোরোফিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অণু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- খাদ্য শৃঙ্খল: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত অ্যামোনিয়াম ও অন্যান্য যৌগ উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে অন্যান্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে।
- পরিবেশের ভারসাম্য: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ পরিবেশে নাইট্রোজেনের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

• রাইজোবিয়াম হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া যা শিম জাতীয় উদ্ভিদের (লিগিউম) শিকড়ের সাথে মিথোজীবী সম্পর্ক গঠন করে।

• রাইজোবিয়ামের কার্যপ্রণালী:
- এটি শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে প্রবেশ করে এবং নডিউল (গুটিকা) তৈরি করে।
- নডিউলের ভিতরে ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেনেজ এনজাইমের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় N2 কে NH3 তে রূপান্তর করে।
- উদ্ভিদ এই অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রোটিন তৈরি করে, এবং ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ থেকে কার্বোহাইড্রেট পায়।
 
• কৃষিতে রাইজোবিয়ামের গুরুত্ব:
- রাইজোবিয়াম সমৃদ্ধ জৈব সারের ব্যবহার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমায়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 

৩৭.
বৃক্কে অবস্থিত প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩ সে.মি. (প্রায়)
  2. ৭ সে.মি. (প্রায়)
  3. ৯ সে.মি. (প্রায়)
  4. ১০ সে.মি. (প্রায়)
সঠিক উত্তর:
৩ সে.মি. (প্রায়)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ সে.মি. (প্রায়)
ব্যাখ্যা
• বৃক্কে অবস্থিত প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.।

• একটি নেফ্রনের গঠন:
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়।
- এদেরকে নেফ্রন বলে।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক।
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে।
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.।

• প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। যথা-
১. রেনাল করপাসল,
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা,
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু,
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু,
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা ও
৬. সংগ্রাহী নালিকা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদ?
  1. সাইকাস
  2. ধান
  3. মাশরুম
  4. নারকেল
সঠিক উত্তর:
মাশরুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাশরুম
ব্যাখ্যা

- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- ছত্রাক (মাশরুম), নস্টক, ক্লোরেলা ইত্যাদি সবই অপুষ্পক।

- ধান, নারকেল, সাইকাস এদের সবারই ফুল হয়। এরা সপুষ্পক উদ্ভিদ।
- সাইকাসের ফুলে গর্ভাশয় উপস্থিত থাকে না।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৩৯.
ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা কোন উদ্ভিদের মধ্যে অনুপস্থিত? 
  1. ফার্ন
  2. নগ্নবীজী
  3. দ্বিবীজপত্রী
  4. একবীজপত্রী
সঠিক উত্তর:
একবীজপত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবীজপত্রী
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু (Complex tissues): 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

ফ্লোয়েম (Phloem): 
- উদ্ভিদ কাণ্ডে এরা জাইলেমের সাথে একত্রে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ তৈরি করে। 
- সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু নিয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গঠিত হয়। 
- জাইলেম যেমন খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে, তেমনি ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে। 

(i) সিভকোষ (Sieve cell): 
- এগুলো বিশেষ ধরনের কোষ। দীর্ঘ, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত এবং জীবিত এ কোষগুলো লম্বালম্বিভাবে একটির উপর একটি সজ্জিত হয়ে সিভনল (Sieve tube) গঠন করে। এ কোষগুলো চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত সিভপ্লেট দিয়ে পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। 
- সিভকোষে প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর ঘেঁষে থাকে বলে একটি কেন্দ্রীয় ফাঁপা জায়গার সৃষ্টি হয়, যেটা খাদ্য পরিবহনের নল হিসেবে কাজ করে। 
- এদের প্রাচীর লিগনিনযুক্ত, পরিণত সিভকোষে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- সকল ধরনের গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ এবং সিভনল থাকে। 
- পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা এদের প্রধান কাজ। 

(ii) সঙ্গীকোষ (Companion cell): 
- প্রতিটি সিভকোষের সাথে একটি করে প্যারেনকাইমা জাতীয় কোষ অবস্থান করে, এদের কেন্দ্রিকা বা নিউক্লিয়াস বেশ বড়। 
- ধারণা করা হয় এই নিউক্লিয়াস সিভকোষের কার্যাবলি কিছু পরিমাণে হলেও নিয়ন্ত্রণ করে। এ কোষ প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ এবং পাতলা প্রাচীরযুক্ত। 
- ফার্ন ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে এদের উপস্থিতি নেই। 

(iii) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchayma): 
- ফ্লোয়েমে উপস্থিত প্যারেনকাইমা কোষগুলোই ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা, এদের কোষ সাধারণ প্যারেনকাইমার মতো পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজমযুক্ত। 
- এরা খাদ্য সঞ্চয় করে এবং খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে। 
- ফার্ন জাতীয় (Pteridophyta) উদ্ভিদ, নগ্নবীজী (Gymnosperm) উদ্ভিদ এবং দ্বিবীজপত্রী (Dicotyledonous) উদ্ভিদের ফ্লোয়েম টিস্যুতে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থাকে। একবীজপত্রী উদ্ভিদে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থাকে না। 

(iv) ফ্লোয়েম ফাইবার বা তন্তু (Phloem fibre): 
- স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়, এগুলো এক ধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এদের বাস্ট ফাইবারও বলে, পাটের আঁশ এক ধরনের বাস্ট ফাইবার। 
- উদ্ভিদ অঙ্গের গৌণবৃদ্ধির সময় এ ফাইবার উৎপন্ন হয়, এসব কোষের প্রাচীরে কূপ দেখা যায়। 
- ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে পাতায় উৎপাদিত শর্করা এবং মূলে সঞ্চিত খাদ্য একই সাথে উপরে নিচে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
ভাইরাস জনিত রোগ নয়-
  1. ক) জন্ডিস
  2. খ) কুষ্ঠ
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) চোখ ওঠা
সঠিক উত্তর:
খ) কুষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুষ্ঠ
ব্যাখ্যা
কুষ্ঠ বা লেপ্রোসি একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ।
সূত্রঃ ৩৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৪১.
মানুষের রক্তের গ্রুপকে কী দ্বারা শ্রেণিবিন্যাস করা হয়? 
  1. রক্তের চাপ ও গতির ভিত্তিতে 
  2. হরমোন ও এনজাইমের ভিত্তিতে
  3. রক্তের রঙ ও ঘনত্বের ভিত্তিতে
  4. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
ব্লাড গ্রুপ বা রক্তের গ্রুপ: 
- অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- নিচের সারণিতে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো- 

- গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
- গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
- গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
- গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২.
উদ্ভিদের ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় কোনটির প্রভাবে?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্ট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট এর প্রভাবে উদ্ভিদের ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের সবুজ বর্ণ ব্যাতিত অন্য যেকোন রকমের রঙের প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে ।
অনেক ফুল বা ফলের রঙ সবুজ বর্ণ ব্যাতিত অন্য বর্ণের হয় ক্রোমোপ্লাস্ট এর কারণেই ।

ক্রোমোপ্লাস্ট এর কাজসমূহ- 
১) ক্রোমোপ্লাস্ট পরোক্ষ ভাবে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে 
২) উদ্ভিদের সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য সব বর্ণ গুলি ক্রোমোপ্লাস্ট প্রদান করে থাকে। 
৩) ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে উদ্ভিদ এর ফুল রঙিন প্রকৃতির হয় যার ফলে দেখতে সৌন্দর্য পরায়ণ হয় এছাড়া কীটপতঙ্গ আকর্ষিত হয় যার ফলে পরাগমিলনে সুবিধা হয়। 

সূত্র- ১২ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৩.
রাফেজ বা আঁশের কাজ -
  1. ক) খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করা।
  2. খ) দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করা।
  3. গ) দেহ থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করা।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- আঁশ বা রাফেজ খাদ্য উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি মূলত খাদ্যের মধ্যে থাকা দীর্ঘ তন্তুময় বা আঁশসদৃশ্য অংশ। উদ্ভিজ্জ খাদ্যের সেলুলোজ অংশই রাফেজ বা আঁশ। শাক-সবজি, খোসাসমেত টাটকা ফল, মটরশুঁটি, ধনিয়া, ডাল, শস্যবীজ ইত্যাদিতে রাজেফ বা আঁশ পাওয়া যায়।

- এটি আমাদের দেহে কোনো পুষ্টি যোগায় না। তবে, খাদ্যের মধ্যে অবস্থান করে অন্যান্য খাদ্যের সাথে গৃহীত হয় এবং সরাসরি খাদ্য নালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়ে অপরিপাককৃত অবস্থায় মলের সাথে নির্গত হয়।

- এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, স্থুলতা ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করে। রাফেজ বা আঁশ কোনো খাদ্য উপাদান না হলেও মানবদেহের জন্য অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান যা সুস্থ জীবনের জন্য অতি জরুরী ।

- আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্য উপাদানের সাথে ২০-৩০ গ্রাম রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাদ্যের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। 

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব- 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।

সূত্র: ২১ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
নিচের কোন ধমনি গলবিলে রক্ত বহন করে? 
  1. লিঙ্গুয়াল ধমনি
  2. ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
  3. অক্সিপিটাল ধমনি
  4. ফেসিয়াল ধমনি
সঠিক উত্তর:
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
ব্যাখ্যা
বহিঃক্যারোটিড ধমনি: 
- এটি মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বহিঃক্যারোটিড ধমনি থেকে উৎপন্ন শাখাগুলো - 
সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি ও ল্যারিংক্সে রক্ত বহন করে। 
লিঙ্গুয়াল ধমনি: জিহ্বা ও সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থিতে রক্ত বহন করে। 
ফেসিয়াল ধমনি: মুখমণ্ডল, চোখ, সাব-ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং মুখমণ্ডলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি: গলবিলে রক্ত বহন করে। 
- এছাড়া বহিঃক্যারোটিড ধমনি আন্তঃম্যাক্সিলারি ও সুপারফিসিয়াল টেমপোরাল ধমনিতে বিভক্ত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরীর জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
Microsporum - নামক একপ্রকার ছত্রাকের জন্য মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরি করে।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৪৬.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগ নয় কোনটি?
  1. হাম
  2. যক্ষ্মা
  3. ডিপথেরিয়া
  4. সিফিলিস
সঠিক উত্তর:
হাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম
ব্যাখ্যা

ভাইরাসজনিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: কোভিড-১৯, পোলিও, জন্ডিস, জলাতঙ্ক, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: কলেরা, যক্ষ্মা, আমাশয়, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, মেনিনজাইটিস, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৭.
বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) ক্রোমোজোম
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) ডিএনএ
  4. ঘ) অটোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডিএনএ
ব্যাখ্যা
জেনেটিক্স বা বংশগতির ভৌত ভিত্তি হলো ক্রোমোজোম৷ আর রাসায়নিক ভিত্তি হলো ডিএনএ (DNA) যার পূর্ণরূপ Deoxyribo Nucleic Acid.
DNA থাকে ক্রোমোজোমের ভেতর আর ক্রোমোজোম থাকে নিউক্লিয়াসের ভেতর।
বিজ্ঞানী Watson ও Crick ১৯৫৩ সালে DNA অণুর Double Helix বা দ্বিসূত্র কাঠামোর বর্ণনা দেন৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮.
পরিণত বয়সের আদর্শ রক্তচাপ কত?
  1. 90/60 mmHg
  2. 100/70 mmHg 
  3. 140/90 mmHg
  4. 120/80 mmHg
সঠিক উত্তর:
120/80 mmHg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
120/80 mmHg
ব্যাখ্যা

- পরিণত বয়সের আদর্শ রক্তচাপ হলো 120/80 mmHg, যা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ধরা হয়। 

রক্তচাপ (Blood Pressure): 
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে, একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে। 

আদর্শ রক্তচাপ: 
- চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত 120/80 mmHg মানের কাছাকাছি। 
- রক্তচাপকে দুটি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় যেখানে প্রথমটি উচ্চমান এবং দ্বিতীয়টি নিম্নমান। রক্তের উচ্চ চাপকে সিস্টোলিক (Systolic) চাপ বলে, যার আদর্শ মান 120 mmHg নিচে। নিম্নচাপকে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপ বলে, এই চাপটির আদর্শ মান 80 mmHg নিচে। এই চাপটি হৃৎপিণ্ডের দুটি বিটের মাঝামাঝি সময় রক্তনালিতে সৃষ্টি হয়। 
- দুই ধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে ধমনিঘাত বা নাড়িঘাত চাপ (Pulse pressure) বলা হয়। 
- সাধারণত সুস্থ অবস্থায় হাতের কব্জিতে রেট তথা হৃৎস্পন্দনের মান প্রতি মিনিটে 60-100 mmHg । 
- হাতের কব্জিতে হালকা করে চাপ দিয়ে ধরে পালস রেট বের করা যায়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) বা সংক্ষেপে বিপি যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়। 
- এই যন্ত্র দিয়ে ডায়াস্টোলিক ও সিস্টোলিক চাপ দেখে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯.
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইম-
  1. ক) টায়ালিন
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) রেনিন
  4. ঘ) লাইপেজ
সঠিক উত্তর:
ক) টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টায়ালিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন।
টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে।
উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫০.
নিম্নলিখিত কোনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভাইরাস পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
  2. এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
  3. ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম।
  4. ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না।
সঠিক উত্তর:
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় এমন অপশনটি হলো খ) এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না। কারণ বাস্তবে ভাইরাসে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন একই পোষক কোষে একাধিক ভাইরাস সংক্রমণ করে। ক) বিকল্পটি সঠিক, কারণ ভাইরাস শুধু পোষক কোষের ভেতরেই সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। গ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মিউটেশন খুব দ্রুত ঘটে, যা তাদের অভিযোজনে সাহায্য করে। ঘ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়াসহ কোনো কোষীয় অঙ্গাণু থাকে না। তাই খ) অপশনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
• এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১.
মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে কয়টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না?
  1. ক) লাল
  2. খ) কমলা
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) বেগুনি
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ
ব্যাখ্যা
আলােক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়।
সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।
আলাের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরােফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালােকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৫৩.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে গাছের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়?
  1. মলিবডেনাম
  2. বোরন
  3. লৌহ
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা
• বোরন (B) এর অভাবজনিত লক্ষণ:
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়।
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে,
- মোলিবডেনাম অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক।
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
৫৪.
'ভাইরাস' একটি-
  1. এককোষী জীব
  2. বহুকোষী জীব
  3. কোষহীন জীব
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
ব্যাখ্যা
ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৫.
অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ক্লোরিন
  3. ফ্লুরাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক।
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে।
- এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি।
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা:
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে।
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়।
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) – এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৫৬.
উদ্ভিদের শুকনো বীজ, কাঠ, ইত্যাদি পানির সংস্পর্শে আসলে পানি শোষণ করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ইমবাইবিশন
  2. খ) অভিস্রবণ
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) পরিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
ক) ইমবাইবিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা
ইমবাইবিশন
- উদ্ভিদের শুকনো বীজ, কাঠ, ইত্যাদি পানির সংস্পর্শে আসলে এগুলো পানি শোষণ করে।
- শুকনো বস্তুর এ ধরনের পানি শোষণ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইমবাইবিশন।
- সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিন, পেকটিন, প্রোটোপ্লাজমের প্রোটিন এবং উদ্ভিদ কোষের অন্যান্য জৈব রাসায়নিক পদার্থের ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পানি শোষণের ক্ষমতা রয়েছে।
- ইমবাইবিশনের মাধ্যমে পানি শোষণের ফলে এসব জিনিসের আয়তন বাড়ে। 

অভিস্রবণ
- একই দ্রাবকবিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা রাখলে দেখা যায় দ্রাবক পাতলা দ্রবণ থেকে (অর্থাৎ দ্রাবকের পরিমাণ যেখানে বেশি) পর্দার ভেতর দিয়ে ঘন দ্রবণের দিকে যায়।
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব এক না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এরই নাম অভিস্রবণ।
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মাটি থেকে পানি শোষণ করে।

ব্যাপন
- যে প্রক্রিয়ায় কোনও পদার্থের অণু নিজস্ব গতি শক্তির সাহায্যে বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলা হয়।
- এটি একটি ভৌত প্রক্রিয়া।
- একই তাপমাত্রা এবং চাপে কোনও পদার্থের বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ব্যাপিত হবার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলা হয়।
- একই বায়ু চাপে কোনও একটি দ্রবণ এবং দ্রাবকের ব্যাপন চাপের যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তাকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বলা হয়।
- উদ্ভিদের পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এ ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি থাকা কোষগুলো পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৭.
নিচের কেনাটি আমিষের গঠনের একক?
  1. কার্বন
  2. অ্যামিনো অ্যাসিড
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
- আমিষের গঠন একক কোনটি অ্যামাইনো অ্যাসিড।

• আমিষের গঠন:

- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো-
- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়।
- তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- অর্থাৎ, পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য।
- এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।
 
উৎস:  সাধারণ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৫৮.
জীব দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় কোন ধরনের খাদ্য থেকে-
  1. ক) শর্করা
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
ব্যাখ্যা
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা, ডাল, চিনা বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান
৫৯.
ফাইলেরিয়া কৃমি কোন পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী?
  1. ক) Platyhelminthes
  2. খ) Cnidaria
  3. গ) Annelida
  4. ঘ) Nematoda
সঠিক উত্তর:
ঘ) Nematoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Nematoda
ব্যাখ্যা

ফাইলেরিয়া কৃমি নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

এ পর্বের অনেক প্রানিরা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য প্রাণীর রক্তে এবং অন্ত্রে বসবাস করে। এই ধরনের পরজীবী বিভিন্ন প্রাণীর ও মানবদেহে বাস করে নানারকম ক্ষতি সাধন করে। তবে, এদের অনেকে মুক্তজীবী, যারা পানি ও মাটিতে বসবাস করেন।
নেমাটোডা প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. নেমাটোডা ( Nematoda ) পর্বের প্রাণীদের দেহ লম্বা, নলাকার, সুতার ন্যায়, অখণ্ডায়িত ও দু'দিক ক্রমশ সরু।
২. দেহ নমনীয় ও ইলাস্টিন নির্মিত অকোষীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
৩. নেমাটোডা ( Nematoda ) পর্বের প্রাণীদের পৌষ্টিকনালি সোজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত । পৌষ্টিক গ্রন্থি অনুপস্থিত। এ কারণে এসব প্রাণীর দেহকে 'নলের ভেতর নল’ (‘tube within a tube) ধরনের গঠনের মতো দেখায়।
৪.এদের অপ্রকৃত সিলোম বা সিউডোসিলোম (pseudocoelom) উপস্থিত এবং অখণ্ডায়িত
৫. মুখছিদ্র সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠ দ্বারা পরিবেষ্টিত।
৬. নেমাটোডা বা গোলকৃমি ত্রিস্তরী প্রাণী; দেহে অঙ্গ-তন্ত্র গঠিত হয়।
৭.শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত। রেচনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র উপস্থিত।

নেমাটোডা বা গোলকৃমির পর্বের প্রাণীদের বৈজ্ঞানিক নাম
গোলকৃমি- Ascaris lumbricoides
চোখ কৃমি - Loa loa
হুকওয়ার্ম - Ancylostoma duodenale
মাইক্রোফাইলেরিয়া - Microflaria sp.
গুড়াকৃমি - Enterobius vermicularis
ফাইলেরিয়া কৃমি বা গোদকৃমি - Wuchereria bancrofti
চাবুক কৃমি - Trichinella spiralis
বিড়ালের গোলকৃমি - toxocara cati

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান, Animal Diversity Website (animaldiversity.org)

৬০.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কী বলে?
  1. ক) সাইটোকাইনেসিস
  2. খ) নিউক্লোকাইনেসিস
  3. গ) প্লুটোকাইনেসিস
  4. ঘ) ক্যারিওকাইনেসিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যারিওকাইনেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যারিওকাইনেসিস
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
- মাইটোসিস বিভাজনটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
- প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াসের এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয়।
- নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি। 
- সাধারণভাবে মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে পাঁচটি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। ধাপগুলো—
১. প্রোফেজ,
২. প্রো-মেটাফেজ,
৩. মেটাফেজ,
৪. অ্যানাফেজ ও
৫. টেলোফেজ।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৬১.
নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিনের অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান কোনটি? 
  1. পটাসিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
'Plate Tectonic Theory' সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) জেভিয়ার লি-পিনচন
  2. খ) হার্ভে জে অল্টার
  3. গ) চার্লস এম রাইস
  4. ঘ) আলফ্রেড ওয়েগনার
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলফ্রেড ওয়েগনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলফ্রেড ওয়েগনার
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের তলদেশ, মহাদেশ, মালভমি, পর্বত প্রভৃতি গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে সর্বাধুনিক মতবাদ পাত সঞ্চালন মতবাদ (Plate Tectonic Theory)।
এ মতবাদটি ১৯১২ সালে আলফ্রেড ওয়েগনার (Alfred Wegner) সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন যা মহাদেশীয় ভূ-ভাগ সঞ্চালন মতবাদ নামে পরিচিত ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে ফরাসী ভূ-বিজ্ঞানী জেভিয়ার লি-পিনচন (Xebier-le-Pinchon) এ মতবাদ প্রদান করেন। 
উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
৬৩.
নিচের কোনটিকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়?
  1. ক) কোষপ্রাচীর
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) প্রোটোপ্লাজম
  4. ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
গ) প্রোটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা

প্রোটোপ্লাজম উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের সকল মৌলিক ও জৈবিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে।
নিউক্লিয়াস কোষের প্রাণকেন্দ্র যা কোষের যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
জীবনের অস্তিত্ব প্রকাশে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বিত প্রোটোপ্লাজম মূল কোষের প্রতিনিধিত্ব করে, এ জন্যই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি

৬৪.
রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Panthera tigress
  2. Panthera tigris
  3. Panthera tigris tigris
  4. Panthera tigris attaica
সঠিক উত্তর:
Panthera tigris tigris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Panthera tigris tigris
ব্যাখ্যা
• রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম- Panthera tigris tigris

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈজ্ঞানিক নাম: 
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens; 
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphaea nouchali; 
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম- Oryza sativa; 
- আমের বৈজ্ঞানিক নাম- Mangifera indica; 
- কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম- Artocarpus heterophyllus; 
- মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম- Apis indica; 
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম- Copsychus saularis; 
- আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম- Periplaneta americana; 
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম- Hilsa ilisha. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫.
Spirogyra কী?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) মস
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শৈবাল
ব্যাখ্যা
Spirogyra: 
• Spirogyra একটি সাধারণ সূত্রাকার সবুজ শৈবাল। এরা খাল, বিল, পুকুর, ডোবা প্রভৃতি স্বাদু পানিতে প্রচুর পরিমাণে জন্মে। অনেকগুলি Spirogyra একত্রে এক প্রকার পিচ্ছিল আবরণী দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে। এদের অনেকগুলো প্রজাতি স্রোতস্বিনী নদী, খাল ও ঝর্ণার পানিতেও জন্মায়।

খাদ্য তৈরী :
Spirogyra-র দেহে ক্লোরোফিল থাকায় এরা সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা (Carbohydrate) জাতীয় খাদ্য তৈরী করে থাকে, অর্থাৎ এরা স্বভোজী।

• বৃদ্ধি:
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে এদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। কোষ বিভাজনের কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল নেই। দেহের যে কোন কোষ এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, অর্থাৎ বৃদ্ধি নিবেশিত।

• বংশবৃদ্ধি ও জনন:
Spirogyra তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সমাধা করে থাকে-
১. অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি,
২. অযৌন জনন,
৩. যৌন জনন

• Spirogyra উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
১. এটি গাঢ় সবুজ বর্ণের সূত্রাকার শৈবাল।
২. এদের দেহের বহিরাংশ পিচ্ছিল।
৩. এরা সাধারণত স্থির মিঠা পানিতে বাস করে ।
৪. এদের ক্লোরোপ্লাস্ট সর্পিলাকার বা স্পাইরাল ।
৫. প্রত্যেক কোষে বড় কোষ গহ্বর এবং একটি নিউক্লিয়াস থাকে ।
৬. কোষের ক্লোরোপ্লাষ্টে পাইরিনয়েড থাকে।
৭. যৌন জনন কনজুগেশন প্রক্রিয়ায় ঘটে।
৮. কনজুগেশন দুভাবে ঘটে । যথা-
    - সোপানাকার বা মই আকার কনজুগেশন
    - পার্শ্বীয় কনজুগেশন
৯. উদ্ভিদ হ্যাপ্লয়েড তবে জাইগোস্পোর ডিপ্লয়েড ।

• Spirogyra-র অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
১. জলজ পরিবেশে খাদ্য শৃংখলের প্রাথমিক উৎপাদক হিসেবে Spirogyra ব্যবহৃত হয়।
২. অনেক দেশে মানুষ Spirogyra-কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
৩. Spirogyra-তে প্রচুর ভিটামিন-এ ও ই আছে।
৪. মাছ চাষের পুকুরে Spirogyra চাষ করা হয়।

সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান -
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) লবণ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রোটিন
ব্যাখ্যা
- প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। আর অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
-  প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি। প্রোটিন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন জি. মুলার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। 

- প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু। 
- একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত প্রকার প্রোটিন তৈরি হয়।
- জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিরাজমান। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন। এগুলো , সবই প্রোটিন।
-  সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৭.
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কোন রক্ত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়? 
  1. প্লাজমা
  2. অনুচক্রিকা
  3. লোহিত কণিকা
  4. শ্বেত কণিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
ব্যাখ্যা
এইডস: 
- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ কোন খনিজ উপাদানের ভালো উৎস?
  1. আয়োডিন
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম 
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯.
নিচের কোনটিকে আদর্শ খাদ্য বলে?
  1. ভাত
  2. মাছ
  3. দুধ
  4. ফল
সঠিক উত্তর:
দুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধ
ব্যাখ্যা
- শিশুর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য দুধ অপরিহার্য। দুধ পুষ্টিকর খাদ্যসমূহের অন্যতম।
- পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এটি আদর্শ খাদ্য। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন, অজৈব লবণ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ক্লোরিন) ও পানি খাদ্যের সকল উপাদানই দুধে বিদ্যমান।
- দুধের গড় উপাদানে আছে ৮৭.৬% পানি, ৩.৭% চর্বি, ৩.২% প্রোটিন, ৪.২% ল্যাকটোজ ও ০.৭২% খনিজ, ভিটামিন বি-১২ (২৬.১%)। 
- একশ মিলিলিটার দুধ থেকে ৬৫.৩ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
- এছাড়া দুধে আয়রনের পরিমাণ ০.২৭ মিলিগ্রাম।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট, National Library of Medicine.
৭০.
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে কী বলে?
  1. পুষ্টি
  2. পরিপোষক
  3. মুখ্য উপাদান
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
পরিপোষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপোষক
ব্যাখ্যা
পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়ােজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পুরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Nutrition.
অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭১.
তুলায় সেলুলোজের পরিমাণ শতকরা -
  1. ৫০ ভাগ
  2. ৯৪ ভাগ
  3. ৬০ ভাগ
  4. ৮০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৯৪ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৪ ভাগ
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঁঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCl বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অস্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। 
- তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 

সেলুলোজের বৈশিষ্ট্য: 
- সেলুলোজ গন্ধহীন, স্বাদহীন, সাদা ও কঠিন জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- এটি পানিতে অদ্রবণীয়, এটি অবিজারক। 
- এর আণবিক ওজন দু'লক্ষ থেকে কয়েক লক্ষ। 
- এটি ফাইবার সদৃশ ও শক্ত এবং এর কোন পুষ্টিগুণ নেই। 

সেলুলোজের কাজ: 
- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান, একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মো ব্যবহৃত হয়।
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ। 
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. রাজকাঁকড়া
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩.
ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. ক) কোয়াশিয়রকর
  2. খ) মেরাসমাস
  3. গ) অস্টিওপোরোসিস
  4. ঘ) পারকিনসন
সঠিক উত্তর:
গ) অস্টিওপোরোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অস্টিওপোরোসিস
ব্যাখ্যা

- অস্টিওপোরোসিস রোগ হয় ক্যালসিয়ামের অভাবে।
- কোয়াশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ হয় আমিষ বা প্রোটিনের অভাবে।
- রিকেটস রোগ হয় ভিটামিন ডি এর অভাবে।
- পারকিনসন মানুষের মস্তিষ্কের একটি রোগ।

৭৪.
হাঁটুতে কান থাকে
  1. বাঁদর এর
  2. পিপিলিকার
  3. সাপ এর
  4. ফড়িং এর
সঠিক উত্তর:
ফড়িং এর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফড়িং এর
ব্যাখ্যা
- ফড়িং ওডোনাটা বর্গভুক্ত ও এপিপ্রোকটা উপবর্গের এক ধরনের বড় যৌগিক চোখবিশিষ্ট পতঙ্গ।
- এদের দুই জোড়া শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পাখা আছে। এ পাখার সাহায্যে ফড়িং উড়ে বেড়ায়। ব
- সে থাকার সময় পাখা অনুভূমিক এবং শরীরের সঙ্গে সমকোণে থাকে।
- ফড়িং এর হাটুতে কান থাকে। 



উৎস: royalsocietypublishing.org [লিঙ্ক]।
৭৫.
কোন খাদ্য উপাদান থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. ভিটামিন
  4. চর্বি
সঠিক উত্তর:
চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্বি
ব্যাখ্যা
• চর্বি - থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়।

- চর্বি হল এমন একটি খাদ্য উপাদান যা শরীরে সবচেয়ে বেশি শক্তি (ক্যালরি) উৎপন্ন করে। এর কারণ হল:

- প্রতি গ্রাম চর্বিতে থাকে 9 ক্যালোরি, যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের তুলনায় অনেক বেশি। যেমন:

- প্রোটিন: প্রতি গ্রামে 4 ক্যালোরি
- কার্বোহাইড্রেট: প্রতি গ্রামে 4 ক্যালোরি
- চর্বি: প্রতি গ্রামে 9 ক্যালোরি

শরীর চর্বিকে এমনভাবে সংরক্ষণ করে যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করতে পারে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, যে খাদ্য পদার্থে বেশি চর্বি থাকবে, তার শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতাও তত বেশি হবে।

খাদ্য উপাদান: 

- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
৭৬.
অক্সিন ও ইথিলিন কিসের উদাহরণ? 
  1. হরমোন 
  2. প্রোটিন 
  3. ভিটামিন 
  4. এনজাইম 
সঠিক উত্তর:
হরমোন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এই হরমোনগুলো কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
যেমন- ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭.
ইনসুলিন হচ্ছে -
  1. ক) এক ধরনের এনজাইম
  2. খ) এক ধরনের হরমোন
  3. গ) এক ধরনের ঔষধ
  4. ঘ) এক ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের হরমোন
ব্যাখ্যা
প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়।
কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়৷

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই৷
৭৮.
ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?
  1. ভিটামিন বি ১২
  2. ভিটামিন বি ৬
  3. ভিটামিন বি ১
  4. ভিটামিন বি ৯
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি ৯
ব্যাখ্যা
- ফলিক এসিডের অপর নাম ভিটামিন বি ৯। 

ফলিক এসিডের উৎস: 
- কলিজা, মাংস, মাছ, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ও বিচিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড পাওয়া যায়। 

ফলিক এসিডের কাজ: 
১. হিমোগ্লোবিনের লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ফলিক এসিড প্রয়োজন হয়। 
২. বংশগতির জন্য দায়ী জিন এর গঠন উপাদান নিউক্লিয়িক এসিডের ডিএনএ অণুর গঠনে বা সংশ্লেষণে কাজ করে। 
৩. কোষ বিভাজনে ও বর্ধনে কাজ করে। 

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
এক গ্রাম তৈল বা চর্বি = কত ক্যালরি?
  1. 9.2 cal
  2. 9.0 cal
  3. 9.3 cal
  4. 9.4 cal
সঠিক উত্তর:
9.0 cal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9.0 cal
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)। 
৮০.
নিচের কোনটিতে লিপিড দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) পানি
  2. খ) ক্লোরোফরম
  3. গ) বেনজিন
  4. ঘ) অ্যাসিটোন
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
ব্যাখ্যা
পানিতে লিপিড দ্রবীভূত হয় না। 

লিপিড:
- লিপিড একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত।
- এগুলো সাধারণত স্নেহ পদার্থ নামে পরিচিত। মাছ, মাংসের চর্বি, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদিতে লিপিড বিদ্যমান থাকে।
- লিপিড কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সমন্বয়ে গঠিত কিন্তু এখানে তুলনামূলকভাবে কার্বোহাইড্রেট হতে কম পরিমাণে অক্সিজেন থাকে।
- লিপিড সম্পৃক্ত বা অসম্পৃক্ত যৌগিক পদার্থ।
- এটি পানিতে অদ্রবণীয় কিন্তু ইথার, জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
রাইবোসোমের প্রধান কাজ কী? 
  1. শক্তি উৎপাদন 
  2. প্রোটিন সংশ্লেষণ 
  3. লিপিড ভাঙা 
  4. ডিএনএ সংরক্ষণ 
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন সংশ্লেষণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন সংশ্লেষণ 
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- আবার সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়ও রাইবোসোম থাকতে পারে। 
- মুক্ত রাইবোসোম আদি কোষের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। 

রাইবোসোমের কাজ: 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন
- রাইবোসোম আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, 
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং 
- এ ধরনের সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮২.
Which of the following is not present in pancreatic juice? 
  1. Pepsin 
  2. Lipase
  3. Trypsin
  4. Amylase
  5. None of the them
সঠিক উত্তর:
Pepsin 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pepsin 
ব্যাখ্যা

- অগ্ন্যাশয় রসে পেপসিন (Pepsin) থাকে না, পেপসিন পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং এটি প্রোটিন হজমে সাহায্য করে। 

অগ্ন্যাশয়: 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির পেছনে এবং ডিওডেনামের দু'বাহুর মধ্যে প্রায় আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয়নালি পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে যকৃত অগ্ন্যাশয়নালি গঠন করে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে নালীযুক্ত ও নালিবিহীন উভয় প্রকার গ্রন্থি থাকে বলে একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। 
- নালিযুক্ত গ্রন্থির নিঃসৃত রসকে অগ্ন্যাশয় রস এবং নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি হয়। 
- অগ্ন্যাশয় রসে থাকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামক উৎসেচক। 
- অগ্ন্যাশয় রস খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, খাদ্যের পরিপাকে অম্ল ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা দেহ তাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে, ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) কর্ণিয়া
  3. গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
মানবদেহে প্রধানত কত প্রকার রক্ত কণিকা রয়েছে?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম। 
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB.
৮৫.
আয়রনের অভাবে উদ্ভিদের কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়? 
  1. উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায় 
  2. উদ্ভিদের পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থান হালকা হয়ে ক্লোরোসিস রোগের সৃষ্টি হয় 
  3. উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হয়ে যায় 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

আয়রন (Fe): 
- আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পাতা কখনো কখনো বিবর্ণ হয়। 
- উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

সালফার (S): 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
মানুষ কোন পর্বের অর্ন্তভুক্ত?
  1. ক) মলাস্কা
  2. খ) কর্ডাটা
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) অ্যামফিবিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ডাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ডাটা
ব্যাখ্যা
মানুষ (Homo Sapiens) হলো কর্ডাটা (Chordata) পর্বের প্রাণি।

কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. ভ্রূণ অবস্থায় অথবা সারা জীবন পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর নিরেট (Solid), দণ্ডাকৃতির (Rod-shaped) ও স্থিতিস্থাপক (Elastic) নটোকর্ড (Notochord) বর্তমান যা মেরুদণ্ডীদের (Vertebrates) পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২. নটোকর্ডের (Notochord) পৃষ্ঠদেশ (Dorsal side) বরাবর ফাঁপা ও নলাকার স্নায়ু-রজ্জু (Nerve cord) উপস্থিত। মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে এটির অগ্রপ্রান্তে মস্তিষ্ক (Brain) এবং এর পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal cord) গঠিত হয়।
৩. উন্নত কর্ডেট (Higher Chordates) ছাড়া অধিকাংশ প্রাণীতে সারা জীবন অথবা জীবনের যে কোন দশায় গলবিলে পার্শ্বীয়ভাবে কয়েক জোড়া ফুলকা রন্ধ্র (Gill slits) বর্তমান।
৪. মেরুদণ্ডীদের অন্তঃকঙ্কাল বিশিষ্ট দু’জোড়া পদ (অগ্রপদ ও পশ্চাৎ পদ) বর্তমান।
৫. এন্ডোস্টাইল (Endostyle) উপস্থিত যা পরবর্তীতে থাইরয়েড গ্রন্থিতে (Thyroid glands) রূপান্তরিত হয়।
৬. পায়ু (Anus) পরবর্তী পেশীবহুল ও স্থিতিস্থাপক লেজ (Tail) উপস্থিত।
৭. উন্নত পরিপাকতন্ত্র পরিপাক গ্রন্থিবিশিষ্ট এবং পাকস্থলী (Stomach) ও অন্ত্র (Intestine) সুস্পষ্টভাবে আলাদা।
৮. রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির। অঙ্কীয় দিকে অবস্থিত হৃদযন্ত্র, পৃষ্ঠীয় ও অঙ্কীয় রক্তনালী নিয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত। হেপাটিক পোর্টাল তন্ত্র (Hepatic portal system) উন্নত প্রকৃতির।
৯. জলজ শ্বসন (Aquatic respiration) ফুলকার (Gill) সাহায্যে এবং বায়বীয় শ্বসন (Arial respiration) ফুসফুসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
১০. অধিকাংশ প্রাণীতে কোমলাস্থি (Cartilage) অথবা অস্থি (Bone) নির্মিত কঙ্কাল দৈহিক অবকাঠামো তৈরি করে।
১১. বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সকলেই একলিঙ্গ (Dioecious) প্রাণী।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
৮৭.
ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. লিপিড
  2. কোলাজেন
  3. লিগনিন 
  4. পেপটিডোগ্লাইকান
সঠিক উত্তর:
পেপটিডোগ্লাইকান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেপটিডোগ্লাইকান
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর মূলত একটি কার্বোহাইড্রেট পলিমার দ্বারা গঠিত যাকে পেপটিডোগ্লাইকান বা মিউরিন বলা হয়। এটি শর্করা এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত একটি জালের মতো গঠন, যা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
- এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১। ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২। এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩। এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪। এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক; তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫। এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
৬। এদের কোষপ্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭। ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮। এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯। এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০। এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার ডিএনএ (DNA) অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

অ্যদিকে, 
- লিপিড বা চর্বি জাতীয় উপাদান সাধারণত কোষ ঝিল্লিতে বেশি থাকে। যদিও গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরের স্তরে কিছু পরিমাণ লিপোপলিস্যাকারাইড থাকে, তবে এটি মূল গঠনগত উপাদান নয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন? 
  1. ৫০টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৩টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
রক্ত আমাশয়ের জীবাণুর নাম-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) সিলেগাসনি
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত আমাশয়ের প্রধাণ কারণ হলো এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যার নাম শিগেলা। এই শিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়া দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
৯০.
ডারউইনের মতবাদ প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৭৫৯ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন।
- ১৮৫৯ সালে ''Origin of species by means of natural selection'' নামে একটি বইয়ে এসব বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে তাঁর মতবাদ 'ডারউইনিজম' প্রকাশ করেন।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯১.
বুদ্ধাঙ্ক (IQ) এর পরিমাপ অনুযায়ী প্রতিভাবানদের বুদ্ধাঙ্ক মাত্রা-
  1. ক) IQ > 90
  2. খ) IQ < 130
  3. গ) IQ > 120
  4. ঘ) IQ > 100
সঠিক উত্তর:
গ) IQ > 120
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) IQ > 120
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন করার পদ্ধতি হলো বুদ্ধাঙ্ক।
- ইংরেজিতে একে বলা হয় - Intelligence quotient বা IQ.
- কারো IQ নির্ণয় করা বেশ কষ্টসাধ্য একটা বিষয়। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম. টারম্যান সর্বপ্রথম ১৯১৬ সালে বুদ্ধাংক পরিমাপের গাণিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। যাকে তিনি নাম দেন IQ বা Intelligence Quotient.

তার আবিস্কৃত গানিতিক সূত্রটি হলো
বুদ্ধাংক (IQ) = (মানসিক বয়স / প্রকৃত বয়স ) × ১০০

উৎস: শিক্ষা মনোবিজ্ঞান- ২, প্রোগ্রাম: Bachelor of Agriculture Education, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি? 
  1. জিংক 
  2. ম্যাঙ্গানিজ 
  3. কার্বন 
  4. বোরন 
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩.
'ভলভক্স' কোন প্রতিসাম্য প্রাণীর উদাহরণ?
  1. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
  2. গোলীয় প্রতিসাম্য
  3. অরীয় প্রতিসাম্য
  4. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
গোলীয় প্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪.
শর্করা জাতীয় খাদ্য যে কাজে ব্যয় হয় -
  1. দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
  2. ক্ষয়রোধের জন্য
  3. পুষ্টির অভাব পূরণে
  4. হাড় গঠনে
সঠিক উত্তর:
দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
ব্যাখ্যা

Carbohydrates serve as energy sources and as essential structural components in organisms; in addition, part of the structure of nucleic acids, which contain genetic information, consists of carbohydrate.

শর্করার কাজ
১। দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
২। শক্তি যোগান দেয়া
৩। প্রোট্রিনের অপচয় রোধ করা
৪। বিপাকীয় কাজে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করা
৫। সেলুলোজ নামক আঁশযুক্ত শর্করা দেহের অপাচ্য পদার্থ বের করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে সাহায্য করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা

৯৫.
আদিকোষে পাওয়া যায়-
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  3. রাইবোজোম
  4. প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

• আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell) :
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না।
- এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না।
- তবে রাইবোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬.
পারপুরা রোগে রক্তের কোন উপাদানের সংখ্যা কমে যায়? 
  1. শ্বেত রক্ত কণিকা 
  2. লোহিত রক্ত কণিকা 
  3. অনুচক্রিকা 
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন-
অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এই রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

পলিসাইথিমিয়া: 
- দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াকে পলিসাইথিমিয়া রোগ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭.
তরল যোজক টিস্যু কয় প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু: 
- তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। 
- মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা। 
- তরল যোজক টিস্যু দু'প্রকারের হয়। 
যথা- ক) রক্ত এবং খ) লসিকা। 

লসিকা: 
- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়। 
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়। 
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে, এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়। 
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮.
হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে -
  1. লোহিত রক্তকণিকায়
  2. শ্বেত রক্তকণিকায়
  3. অণুচক্রিকায়
  4. প্লাজমায়
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকায়
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ।
লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়।
রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যত দেখা দেয়।

[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৯৯.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) কর্ণিয়া
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
ব্যাখ্যা

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০.
শিশু যখন ৯ মাস বয়সে পৌঁছায়, তখন কোন টিকা দেওয়ার সুপারিশ থাকে?
  1. Diphtheria and Tetanus Vaccine
  2. BCG Vaccine
  3. Measles Vaccine
  4. Oral Polio Vaccine
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
ব্যাখ্যা

• ৯ মাস বয়সে শিশুকে সাধারণত Measles Vaccine (গ) দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এটি শিশুদের ক measles রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, যা খুব সংক্রামক এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। Diphtheria, Tetanus, এবং Pertussis এর জন্য শিশুকে আগেই DTP টিকা দেওয়া হয়, আর BCG টিকা জন্মের সময় দেওয়া হয় যা যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা দেয়। Oral Polio Vaccine বিভিন্ন ডোজে জন্মের পর থেকে প্রদান করা হয়, তবে ৯ মাস বয়সে মূল লক্ষ্য থাকে measles প্রতিরোধ। তাই ৯ মাস বয়সে শিশুর টিকাকরণে Measles Vaccine প্রধান এবং অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।