বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোবটিক্স ও সাইবার অপরাধ

মোট প্রশ্ন৪৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোবটিক্স ও সাইবার অপরাধ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৪৭৯

.
অন্যের রচনা নিজের নাম দিয়ে প্রকাশ করলে তাকে কী বলা হয়?
  1. স্প্যামিং
  2. ফিশিং
  3. প্লেজিয়ারিজম
  4. স্ফুফিং
ব্যাখ্যা

• অন্যের রচনা বা লেখা নিজের নাম দিয়ে প্রকাশ করা হলো প্লেজিয়ারিজম। এটি একটি অসৎ কাজ, যেখানে কেউ অন্যের মেধা বা শ্রমের ফল নিজের হিসেবে দাবি করে। লেখক বা স্রষ্টার অনুমতি না নিয়ে তাদের লেখা ব্যবহার করা আইনগত ও নৈতিকভাবে ভুল। প্লেজিয়ারিজম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচলিত হলেও, এটি গবেষণা ও পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি কেবল লেখার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, গান, ছবি, কোড বা যেকোনো সৃজনশীল কাজকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সতর্কতা অবলম্বন করে নিজের কাজ তৈরি করা এবং অন্যের কাজ ব্যবহার করলে যথাযথ ক্রেডিট দেওয়া উচিত।

- সঠিক উত্তর: গ) প্লেজিয়ারিজম। 
 
• সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে "কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০"।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।
- উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো- হ্যাকিং, স্প্যামিং, স্ফুফিং, ফিশিং (Phishing), ভিশিং, স্নিকিং, প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) প্রভৃতি।

• প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism):
- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে প্রকাশ করাকে প্লেজিয়ারিজম বলে।
- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাই প্লেজিয়ারিজম।
- তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজমের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।
- বিশেষ করে অন্যের ধ্যান-ধারণা, গবেষণা, কৌশল, প্রোগ্রামিং কোড, গ্রাফিক্স, লেখা, ডেটা, ছবি, গান ইত্যাদির উৎস অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখ না করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়া হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।

.
সাইবার থেফট বলতে বুঝায়-
  1. ডেটা থেফট
  2. আইডেন্টিটি থেফট
  3. সিস্টেম থেফট
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• সাইবার থেফট বা সাইবার চুরি:
- অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য কিংবা অন্যান্য অবৈধ ব্যবহারের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে ব্যবসায়িক অথবা ব্যক্তিগত তথ্যাদি চুরি করাই হলো সাইবার চুরি।
- সাইবার থেফট দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- ডেটা থেফট (Data Theft) ও আইডেন্টিটি থেফট (Identity Theft)।
- অন্যের কম্পিউটার থেকে বিনা অনুমতিতে ডেটা কপি বা আহরণ করাকে ডেটা চুরি বা ডেটা থেফট বলে।
- কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কোনো কিছু ক্রয় করাকে ব্যক্তি পরিচয় চুরি বা আইডেন্টিটি থেফট বলে।

উৎস: ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
Which of the following is a major risk of ICT-based banking?
  1. Cyber crime
  2. Faster service
  3. Reduced paperwork
  4. 24/7 access
ব্যাখ্যা

• ICT-ভিত্তিক ব্যাংকিং-এর (অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং) প্রধান ঝুঁকি হলো সাইবার অপরাধ (Cyber crime).

 • ICT-based Banking-এর অসুবিধা:
- ICT-ভিত্তিক ব্যাংকিং-এ লেনদেন ইন্টারনেট ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হয়।
- এর ফলে নিম্নলিখিত সাইবার অপরাধের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে:
- ফিশিং (Phishing),
- ম্যালওয়্যার ও কীলগার (Keylogger),
- অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং,
- ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড স্কিমিং,
- ম্যান-ইন-দ্য-মিডল (MITM) আক্রমণ,
- ডিনায়াল অফ সার্ভিস (DoS) আক্রমণ,
- পরিচয় চুরি (Identity theft),
- এসবের ফলে গ্রাহকের অর্থ হারানো, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়া এবং ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 • ICT-based Banking-এর সুবিধা:
- Faster service,
- Reduced paperwork,
- 24/7 access.

উৎস: BIBM, IMF & World Bank.

.
ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করা কী ধরণের সাইবার অপরাধ?
  1. Spamming
  2. Cyber bully
  3. Cyber theft
  4. Spoofing
ব্যাখ্যা
• সাইবার চুরি (Cyber theft):
- অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তথ্য চুরির সাথে সাথে অনেক সময় টাকা পয়সাও চুরি হয়। 
- এ ক্ষেত্রে অপরাধীরা কোনো নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে লুকিয়ে থাকে এবং ইউজার কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত তথ্য ডেটাবেজের কপি তৈরি করে। সেই তথ্যগুলো ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে কারো অ্যাকাউন্ট থেকে তার সমস্ত টাকা নিজ অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেয়। 

• স্প্যামিং (Spamming):
- ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অচেনা ও অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল পাওয়া যায়। এ ধরনের ই-মেইলকে স্প্যাম মেইল বলে।
- কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কোনো নিদিষ্ট ই-মেইলে শত শত মেইল প্রেরণের মাধ্যমে মেমোরি দখল করে, এ পদ্ধতিকে স্প্যামিং বলে। 
- সাধারণত কোনো ওয়েব সার্ভারকে ব্যস্ত রাখা অথবা এর মেমোরি ও ষ্টোরেজ অপ্রয়োজনীয় ইনফরমেশন দ্বারা পূর্ণ করে এর পারফরমেন্সের ক্ষতি করার জন্য স্প্যামিং করা হয়।  
- এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।

• সাইবার সন্ত্রাস/উৎপীড়ক বা সাইবার বুলি (Cyber bully):
- তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কোনো কিছু করতে বাধ্য করাকে সাইবার সন্ত্রাস বা সাইবার বুলি বলা হয়। 

• স্পুফিং (Spoofing):
- নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং আক্রমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোনো ব্যক্তি বা একটি প্রোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
.
রোবটিকস শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ____ শব্দ থেকে।
  1. ক) Rebot
  2. খ) Robot
  3. গ) Rabut
  4. ঘ) Rubot
ব্যাখ্যা
Robotics শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে robot শব্দ থেকে। কম্পিউটার রোবটের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
.
কোনো কম্পিউটার 'ভাইরাস' দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা প্রকাশ করবে না নিচের কোন লক্ষণটি?
  1. ক) প্রোগ্রাম রান করতে বেশি সময় নেয়া।
  2. খ) যে কোন ডিস্কে দ্রুত এক্সেস করা যায়।
  3. গ) অপ্রত্যাশিত কোন ম্যাসেজ বা বার্তা প্রদর্শন করা।
  4. ঘ) কম্পিউটার এর মেমোরি কম দেখানো।
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটার এর লক্ষণ: 
- কোনোভাবে কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্র ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা ক্রমে ক্রমে বিস্তার ঘটে।
- সিডি, পেনড্রাইভ বা অন্য কোনোভাবে ভাইরাসযুক্ত একটি ফাইল কম্পিউটারে চালালে ভাইরাসটি সংশ্লিষ্ট কম্পিউটারের মেমোরিতে রয়ে যায়।
- ফলে সংক্রমিত ফাইলটি বন্ধ করলেও কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়।
- এভাবে মেমোরিতে অবস্থানকারী ভাইরাস পরবর্তীতে কম্পিউটারের অন্যান্য প্রোগ্রাম ও ফাইলকে আক্রমণ করে।
- সাধারণত নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ দ্বারা ভাইরাস সনাক্ত করা যায় না। কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রে নিচের লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। যেমন:
১. কোন প্রোগ্রাম রান করতে বেশি সময় নেয়া।
২. কোন ফাইল ওপেন করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগা।
৩. কম্পিউটার এর মেমোরি কম দেখানো।
৪. সিস্টেম এর সময় ও তারিখ অপ্রত্যাশিতভাবে পরিবর্তন হওয়া।
৫. নতুন প্রোগ্রাম ইন্সটল করার সময় অনেক বেশি সময় নেয়া।
৬. চলমান কাজের ফাইলগুলো বেশি জায়গা দখল দেখানো।
৭. অপ্রত্যাশিত কোন ম্যাসেজ বা বার্তা প্রদর্শন করা।
৮. হার্ড ডিস্কে ব্যাড সেক্টর দেখানো।
৯. ফোল্ডার অপশন হাইড হওয়া।
১০. সিস্টেম এর ফাইল নষ্ট হাওয়া।

অপরদিকে, কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে কোন ডিস্ক বা ড্রাইভ দ্রুত এক্সেস করা যায় না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. আইরোবট
  2. ফানুক
  3. হ্যানসন রোবটিক্স
  4. সোফিয়া
ব্যাখ্যা
• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোবট নির্মাতাকারী প্রতিষ্ঠান হলো - 
- FANUC (ফানুক)
- Yaskawa (ইয়াসকাওয়া)
- iRobot (আইরোবট) 
- Boston Dynamics (বোস্টন ডাইনামিকস)

• মানব-সদৃশ রোবট বা হিউমেনওয়েড (Humanoid) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলো–
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির 'মুরাতা বয় (Murata)'
- সনি কর্পোরেশনের কিউরিও (QRIO) এবং আইবো
- হোন্ডা কোম্পানির আসিমো (ASIMO)
- স্যামসাংয়ের রোবোরে (Roboray)
- হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিক্সের সোফিয়া।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি ম্যালওয়ার নয়?
  1. Worms
  2. Virus
  3. Cookies
  4. Trojans
ব্যাখ্যা
- Cookies ছাড়া বাকি সবগুলো ম্যালওয়ার।
- Cookies হলো ইন্টারনেট ব্রাউজারের ক্যাশ মেমোরিতে সংরক্ষিত হওয়া কিছু ফাইল যা Internet Information File নামে পরিচিত |
- ম্যালওয়্যার এর পূর্ণ শব্দরূপ হলাে Malicious Software।
- কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলাের মধ্যে রয়েছে অ্যাডওয়্যার (Adware), স্পাইওয়্যার (Spyware), ট্রোজান হর্স (Trojan Horse), ওয়ার্ম (worms) প্রভৃতি।
- আর্থিক প্রতারণা ও অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলােকেও অ্যাডভান্স লেভেল ম্যালওয়্যার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমনঃ র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware)।

[উৎসঃ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভােকেশনাল, ২০২১ সংস্করণ)]
.
নিচের সেক্টরগুলোর মধ্যে প্রধানত কোনটিতে Actuator বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) রোবটিক্স
  2. খ) ন্যানোটেকনোলজি
  3. গ) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
  4. ঘ) বায়োইনফরমেট্রিক্স
ব্যাখ্যা
প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়। রোবটের হাত-পা অথবা বিশেষভাবে তৈরি কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া করার জন্য কতগুলো বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা হলো অ্যাকচুয়েটর। কিছু জনপ্রিয় রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলোঃ FANUC, Yaskawa, Boston Dynamics, iRobot.
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০.
কোবট (Cobot) কী?
  1. কমপ্যাক্ট রোবট
  2. কলাবোরেটিভ রোবট
  3. কন্ট্রোল-বক্স রোবট
  4. ক্লাউড-বেজড রোবট
ব্যাখ্যা

"Cobot" শব্দটি Collaborative Robot এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি এমন একধরনের রোবট যা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা করে।
- এটি মানুষের সাথে সহযোগিতা করে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে, যেমন উৎপাদন, অ্যাসেম্বলি এবং অন্যান্য শিল্প কার্যক্রম। কোবটগুলি সাধারণত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়, যাতে তারা মানুষের সাথে সরাসরি ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে পারে।

রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- রোবটিক্স শব্দটি এসেছে 'রোবট' শব্দ হতে, যা প্রবর্তিত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক এর একটি নাটক থেকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- Robot শব্দটি এসেছে স্লাভিক শব্দ Robota থেকে, যার অর্থ হলো 'শ্রমিক'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।
- ইউনিমেট রোবট তৈরির প্রজেক্টের উদ্যোক্তা ছিলেন আমেরিকান জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গ।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২। Northwestern website. [লিংক] 

১১.
সিস্টেমে ঢুকে আর্থিক বা তথ্যগত ক্ষতি সাধন করে-
  1. ডার্ক হ্যাট হ্যাকার
  2. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার
  3. গ্রে হ্যাট হ্যাকার
  4. ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার
ব্যাখ্যা
যে হ্যাকার সিস্টেমে ঢুকে আর্থিক বা তথ্যগত ক্ষতি সাধন করে তাকে ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার বলে।

• হ্যাকিং (Hacking):
প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করাকে হ্যাকিং বলা হয়।

• বর্তমানে প্রধানত তিন ধরনের হ্যাকার দেখতে পাওয়া যায়। যথা-
ক. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার: সাধারণত এরা ডেটা বা সিস্টেমের ক্ষতি করে না, তবে কাজের ক্ষেত্রে ভীষণ দক্ষ হয়।
খ. ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার: বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।
গ. গ্রে হ্যাট হ্যাকার: এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোর ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
১২.
গোপনে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা কোন সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্পুফিং
  2. স্নিকিং
  3. লজিক বম্ব
  4. ট্রোজান অ্যাটাক
ব্যাখ্যা
স্নিকিং হচ্ছে গোপনে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা।

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং- ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।)
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।)
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস: ১। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
২। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
১৩.
গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের বৈশিষ্ট্য-
  1. আর্থিক ক্ষতি করে
  2. নেটওয়ার্ক এর দুর্বল দিক ঠিক করে
  3. ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে তথ্য চুরি করা
  4. সফটওয়্যার আপডেট করা
ব্যাখ্যা
নেটওয়ার্ক এর দুর্বল দিক ঠিক করা গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

হ্যাকিং (Hacking):
প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করাকে হ্যাকিং বলা হয়।
বর্তমানে প্রধানত তিন ধরনের হ্যাকার দেখতে পাওয়া যায়। যথা-
ক. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার: সাধারণত এরা ডেটা বা সিস্টেমের ক্ষতি করে না, তবে কাজের ক্ষেত্রে ভীষণ দক্ষ হয়।
খ. ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার: বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।
গ. গ্রে হ্যাট হ্যাকার: এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোর ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
১৪.
ইনফরমেশন চুরি এবং অবৈধ কাজ করা হ্যাকারদের ধরন কী?
  1. পারপল হ্যাট হ্যাকার
  2. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার
  3. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার
  4. গ্রে হ্যাট হ্যাকার
ব্যাখ্যা
ইনফরমেশন চুরি এবং অবৈধ কাজ করা হ্যাকারদের ধরন হচ্ছে - তারা ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার।

• হ্যাকিং:
- প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করাকে হ্যাকিং বলা হয়।
- বর্তমানে প্রধানত তিন ধরনের হ্যাকার দেখতে পাওয়া যায়। যথা:

১. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- একজন Black hat hacker যখন কোন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি খুঁজে বের করে, তখন দ্রুত ঐ ত্রুটি কে নিজের স্বার্থে কাজে লাগায়।
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

২. গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এ ধরনের হ্যাকাররা দুই ধরনের বৈধ এবং অবৈধ দুই ধরনের কাজ করতে পারে।
- একজন গ্রে হ্যাট হ্যাকার যখন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি গুলো খুঁজে বের করে তখন সে তার মন মত কাজ করে।
- এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোকে ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

৩. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- একজন হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি গুলো বের করে এবং ঐ সিকিউরিটি সিস্টেমের মালিককে ত্রুটির বিষয়ে দ্রুত অবহতি করে।
- সিকিউরিটি সিস্টেমটি হতে পারে একটি কম্পিউটার, একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, একটি ওয়েবসাইট, একটি সফটওয়্যার ইত্যাদি।

• গ্রিন হ্যাট হ্যাকার নামে কোনো হ্যাকার গ্রুপের অস্থিত নেই।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
১৫.
বাহিরের আক্রমণ থেকে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক রক্ষার্থে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফায়ারওয়াল
  2. এক্সেস পয়েন্ট
  3. রাউটার
  4. ম্যালওয়ার
ব্যাখ্যা
• বাহিরের আক্রমণ থেকে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক রক্ষার্থে ফায়ারওয়াল ব্যবহৃত হয়।

• ফায়ারওয়াল:

- Unauthorized ব্যবহারকারীর হাত থেকে নেটওয়ার্ক রিসোর্সকে রক্ষা কিংবা সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে ফায়ারওয়াল (Firewall)ব্যবহার করা হয়।
- অননুমোদিত ফায়ারওয়াল হলো এমন এক ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা কোনো একটি কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্ক তথা ইন্ট্রানেট ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মধ্যে অবৈধ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো কম্পিউটারের সফটওয়‍্যারের নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে ফায়ারওয়াল তৈরি করা হয়।
- সাধারণত কোনো ফায়ারওয়ালের সাথে রাউটার (Router) বা ডেডিকেটেড সার্ভার (Dedicated server) থাকে যা সম্পূর্ণ ফায়ারওয়াল হিসেবে কাজ করে।
- ফায়ারওয়াল কোনো প্রতিষ্ঠানের গেইট কিপার (Gate Keeper) হিসেবে কাজ করে যা যে কোনো ধরনের প্রবেশকে নিরাপদ এবং ডেটার ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।
- ফায়ারওয়াল হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে কিন্তু সবসময় প্রতিরোধ করতে পারে না।

উৎস:
১. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. ব্রিটানিকা।
১৬.
মঙ্গলগ্রহে প্রেরিত নাসার প্রথম রোবটটির নাম কী?
  1. ক) Curiosity
  2. খ) Spirit & opportunity
  3. গ) Preseverance
  4. ঘ) Sojourner
ব্যাখ্যা
Sojourner হল নাসার প্রেরিত মঙ্গলগ্রহে প্রথম রোবট। রোবটটি ১৯৯৭ সালে মঙ্গল গ্রহে অবরতন করে। 

- Curiosity Rover হল নাসার প্রেরিত মঙ্গলগ্রহে চতুর্থ রোবট, ২০১২ সালে মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে। 
- Spirit & opportunity রোবটটি মঙ্গলগ্রহে ২০০৪ সালে অবতরণ করে।
- Preseverance রোবটটি ২০২১ সালে মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে। 

সূত্র: নাসা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।
১৭.
সাইবার নিরাপত্তায় কোনো সিস্টেমে গোপনে ও অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করাকে কী বলে? 
  1. প্লেজিয়ারিজম
  2. স্পুফিং
  3. স্নিকিং
  4. স্প্যামিং
ব্যাখ্যা

সাইবার নিরাপত্তায় 'স্নিকিং' বলতে বোঝায় কারো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে গোপনে এবং অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করা।
- এটি হ্যাকিং বা ক্ষতিকর কার্যকলাপের একটি প্রাথমিক ধাপ।
- এটি তথ্য চুরি, সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ বা ক্ষতিকারক কাজ করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
- অন্য ধরনের আক্রমণের মতো সরাসরি ক্ষতি বা সিস্টেম ক্র্যাশ না করেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এটি গোপনে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়।

সাইবার অপরাধ:
- বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং- ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং - বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা।
- Salami Attack - অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।
- Denial of Service Attack - বেশি পরিমাণেরিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা।- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব - ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা।
- ট্রোজান এ্যাটাক - পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস:
১। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
২। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

১৮.
‘ডিজিট ৩৬০’ কী?
  1. সেন্সরযুক্ত রোবোটিক গাড়ি
  2. সেন্সরযুক্ত রোবোটিক হাত
  3. মহাকাশের একটি গ্রহ
  4. মহাকাশ অভিযানের একটি রকেট
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

মেটার সেন্সরযুক্ত রোবোটিক হাত: 

- স্পর্শনির্ভর সেন্সরযুক্ত রোবোটিক হাত তৈরি করছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।
- ‘ডিজিট ৩৬০’ নামের রোবোটিক হাতটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর মডেলকে বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করার অনুভূতি দেবে।
- এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বর্তমানের তুলনায় আরও বাস্তব ভার্চ্যুয়াল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

- দক্ষিণ কোরিয়ার ওওনিক রোবোটিকসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হচ্ছে রোবোটিক হাতটি।
- রোবোটিক হাতটি মূলত গবেষকেরা ব্যবহার করতে পারবেন।
- হাতটিতে থাকা শক্তিশালী সেন্সর স্পর্শের অনুভূতি দ্রুত জানাবে, যা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এআই মডেলকে সহজেই স্পর্শের অনুভূতি দেওয়া যাবে।
- রোবোটিক হাতের জন্য ‘ডিজিট প্লেক্সাস’ নামের সমন্বিত পদ্ধতিও তৈরি করেছে মেটা।
- নতুন এ পদ্ধতি রোবোটিক হাতের আঙুলে থাকা সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত কম্পিউটারে পাঠাবে।
- হাতটিতে মানুষের আঙুলের মতো গঠন এবং অনুভূতি থাকায় বিভিন্ন এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে।
- আগামী বছর রোবোটিক হাতটি বাজারজাত করা হবে।

তথ্যসূত্র:  প্রথম আলো।
১৯.
নিচের কোনটি সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. DDoS Attacks
  2. Fishing
  3. Cyberstalking
  4. Plagiarism
ব্যাখ্যা
• সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে "কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০"।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।

• উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো:
- হ্যাকিং,
- স্প্যামিং,
- সাইবার থেফ্ট,
- সাইবার বুলি,
- স্ফুফিং,
- ফিশিং (Phishing),
- ভিশিং,
- স্নিকিং,
- প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism),
- Cyberstalking,
- DDoS Attacks প্রভৃতি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২০.
প্রথম রোবট তৈরি করেন কে?
  1. জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গ
  2. জর্জ চার্লস ডেভল
  3. আইজাক অসিমভ
  4. কেনেথ এইচ ওলসেন
ব্যাখ্যা
• রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- রোবটিক্স শব্দটি এসেছে 'রোবট' শব্দ হতে, যা প্রবর্তিত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক এর একটি নাটক থেকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- Robot শব্দটি এসেছে স্লাভিক শব্দ Robota থেকে, যার অর্থ হলো 'শ্রমিক'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।
- ইউনিমেট রোবট তৈরির প্রজেক্টের উদ্যোক্তা ছিলেন আমেরিকান জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২১.
স্কেয়ারওয়্যার সাধারণত কীভাবে ব্যবহারকারীদের প্রতারণা করে?
  1. বাস্তব সময়ের ভাইরাস সুরক্ষা প্রদান করে
  2. মিথ্যা সতর্কতা বা পপ-আপ বার্তা দেখিয়ে
  3. সফটওয়্যার আপডেট করার জন্য প্রস্তাবনা দিয়ে
  4. ইন্টারনেট ব্রাউজিং স্পিড বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
• স্কেয়ারওয়‍্যার (Scareware):
- স্কেয়ারওয়‍্যার হলো এক ধরনের হুমকি যেখানে পপ আপ মেসেজ-এর মাধ্যমে সিস্টেমে অকেজো সফটওয়‍্যার ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- স্কেয়ারওয়‍্যারের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারী বা ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করা এবং অপ্রাসঙ্গিক সফটওয়্যার ডাউনলোড করার জন্য তাদের উস্কে দেওয়া।
- এখানে পপ-আপ ডায়ালগটিকে একটি সিস্টেম ডায়ালগ মতোই দেখায়, কিন্তু তারা সেই হিসাবে এক নয়।

উৎস: Computer Applications in Bussiness, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
কপিরাইট আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৯৬০
  2. ১৮২৬
  3. ১৭৬০
  4. ১৬৬২
ব্যাখ্যা
কপিরাইট (Copyright): 
- একজন লেখকের রচিত পুস্তক বা গ্রন্থের বা বইয়ের উপর তার মুদ্রণ, পুন:মুদ্রণ ও প্রকাশের অধিকারকে কপিরাইট বলে। 
- লেখকদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে ১৬৬২ সালে কপিরাইট আইন (Licensing of the Press Act 1662) পার্লামেন্টে পাস করে। 
- বাংলাদেশে কপিরাইট আইন প্রথম তৈরি হয় ১৯৭৪ সালে।
- পরবর্তীতে ২০০০ সালে নতুন একটি কপিরাইট আইন করা হয়, যা পরে ২০০৫ সালে সংশোধন হয়।
- কপিরাইট আইন দ্বারা সৃজনশীল কাজের মেধাস্বত্ব সংরক্ষিত হয়। 
- কপিরাইট শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ গ্রন্থস্বত্ব। 
- কপিরাইটের মাধ্যমে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য শিল্পকলা সৃষ্টিকারীর সৃষ্ট মেধাসম্পদ ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার প্রদান করা হয়। 
- কপিরাইট আইন দ্বারা একজনের বুদ্ধিবৃত্তিক বা মস্তিস্কজাত সৃষ্টিকে নকল বা পাইরেসি বা অন্যায় অনুসরণ হতে অন্য কাউকে বিরত রাখে। 
- গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতা, জাতীয় সাহিত্যকর্ম, চিত্রকর্ম, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, ভাস্কর্য, স্থাপত্যকলা, কপিরাইট দ্বারা সংরক্ষিত হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সপ্তম শ্রেণি।
২৩.
এমবেডেড সিস্টেমে "RTOS" বলতে বোঝানো হয়:
  1. Reduced Time Operating System
  2. Rapid Time Operating System
  3. Randomized Time Operating System
  4. Real-Time Operating System
ব্যাখ্যা
• "RTOS" এর পূর্ণরূপ হলো Real-Time Operating System, অর্থাৎ রিয়েল-টাইম অপারেটিং সিস্টেম।

- এটি একটি বিশেষ ধরনের অপারেটিং সিস্টেম যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (যথাসময়ে) কাজ সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দেয়। এমবেডেড সিস্টেমে, যেমন - স্বয়ংচালিত যানবাহনের কন্ট্রোলার, মেডিকেল ডিভাইস, রোবট ইত্যাদিতে RTOS ব্যবহার করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়।

- উদাহরণ:
- ধরুন একটি এয়ারব্যাগ সিস্টেম, যেখানে গাড়ি দুর্ঘটনার মুহূর্তে ঠিক সময়ে এয়ারব্যাগ খুলতে হবে। এখানে যদি সামান্য দেরি হয়, তাহলে তা মারাত্মক হতে পারে। তাই এমন ব্যবস্থায় RTOS ব্যবহৃত হয় যাতে সময়ের সঠিকতা নিশ্চিত হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার:
- এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা একটি বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশবিশেষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এমবেডেড সিস্টেমে সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম থাকে।
- এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহৃত Components হলো- Power supply, Microcontroller/micrprocessor, ROM/RAM, Timer, Counter ইত্যাদি। 

• মাইক্রোকন্ট্রোলার:
- CPU, Memory, Input/Output ডিভাইস দ্বারা গঠিত যা একতি চিপের মধ্যে অবস্থান  করে।
- Internal Computer Bus ব্যবহার করে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৪.
কোনটি ম্যালওয়ার নয়?
  1. স্পাইওয়্যার
  2. র‍্যানসমওয়্যার
  3. ফার্মওয়্যার
  4. অ্যাডওয়্যার
ব্যাখ্যা
Malware (ম্যালওয়ার):
- Malware (ম্যালওয়ার) এর পূর্ণরূপ হলো Malicious Software.
- কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়ারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে: অ্যাডওয়্যার (Adware), স্পাইওয়্যার (Spyware), ট্রোজান হর্স (Trojan Horse), র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware), ওয়ার্ম (Worms) প্রভৃতি।

ফার্মওয়্যার (Farmware):
- সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি করার সময় কম্পিউটারের মেমোরিতে যে সকল প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়া হয় তাকে ফার্মওয়্যার বলে।
- এ সকল প্রোগ্রাম কম্পিউটার ব্যবহারকারী পরিবর্তন করতে পারে না।
- ROM BIOS এর মধ্যে যে ডেটা এবং নির্দেশগুলো থাকে তা হলো ফার্মওয়্যার।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভােকেশনাল) এবং মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নিচের কোনটি প্রতারণার মাধ্যমে কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল?
  1. Phishing trip
  2. Computer virus
  3. Spyware scam
  4. Phishing scam
ব্যাখ্যা

প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য;
যেমন- ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের বিস্তারিত তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করাকে ফিশিং/ফিশিং স্ক্যাম বলে।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

২৬.
কোন ধরনের হ্যাকাররা ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় কারণে হ্যাক করে?
  1. গ্রিন হ্যাট হ্যাকার
  2. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার
  3. গ্রে হ্যাট হ্যাকার
  4. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) গ্রে হ্যাট হ্যাকার।

গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা এমন হ্যাকার যারা কখনও কখনও আইনগত বা নৈতিক সীমার মধ্যে থাকে এবং কখনও তা অতিক্রম করে। তারা মূলত সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে দুর্বলতা খুঁজে বের করে, যা ইতিবাচক কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে, তারা অনুমোদন ছাড়া এই কাজ করতে পারে বা কিছু ক্ষতিকারক কার্যকলাপে জড়িত হতে পারে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ, গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা নৈতিকতার দিক থেকে সাদা এবং কালো হ্যাটের মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। তারা সাধারণত সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য হ্যাক করে, কিন্তু কখনও কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কৌতূহলের জন্য অননুমোদিত হ্যাকিংও করে।

হ্যাকিং:
- প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করাকে হ্যাকিং বলা হয়।
- বর্তমানে প্রধানত তিন ধরনের হ্যাকার দেখতে পাওয়া যায়।
যথা:
১. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- একজন ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার যখন কোন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটি খুঁজে বের করে, তখন দ্রুত ঐ ত্রুটিকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগায়।
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

২. গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এ ধরনের হ্যাকাররা বৈধ এবং অবৈধ দুই ধরনের কাজই করতে পারে।
- একজন গ্রে হ্যাট হ্যাকার যখন একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে তখন সে তার মন মতো কাজ করে।
- এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোকে ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

৩. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- একজন হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার একটি সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো বের করে এবং ঐ সিকিউরিটি সিস্টেমের মালিককে ত্রুটির বিষয়ে দ্রুত অবহতি করে।
- সিকিউরিটি সিস্টেমটি হতে পারে একটি কম্পিউটার, একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, একটি ওয়েবসাইট, একটি সফটওয়্যার ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

২৭.
সাইবার থেফট কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
• সাইবার থেফট বা সাইবার চুরি:
- অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য কিংবা অন্যান্য অবৈধ ব্যবহারের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে ব্যবসায়িক অথবা ব্যক্তিগত তথ্যাদি চুরি করাই হলো সাইবার চুরি।
- সাইবার থেফট দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-
১. ডেটা থেফট (Data Theft) ও
২. আইডেন্টিটি থেফট (Identity Theft)।
- অন্যের কম্পিউটার থেকে বিনা অনুমতিতে ডেটা কপি বা আহরণ করাকে ডেটা চুরি বা ডেটা থেফট বলে।
- কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কোনো কিছু ক্রয় করাকে ব্যক্তি পরিচয় চুরি বা আইডেন্টিটি থেফট বলে।
- এই সাইবার চুরি থেকে বিরত থাকাটাই হলো নৈতিকতা।

উৎস: ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
What is Denial of Service (DoS) attack?
  1. Data encryption technique
  2. Unauthorized access to a system
  3. Network security protocol
  4. Overloading a system to make it unavailable
ব্যাখ্যা
• DoS (Denial of Service):
- DoS হলো এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে হ্যাকার ডিভাইসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে একটি কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসকে তার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দূরে রাখে
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে এই আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে ঐ সিস্টেম বা সাইটের যথাযথ কার্যক্রমকে ধীর গতির, বা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।

কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর যা কিছু:
• Man-in-the-Middle:
- দুই কম্পিউটারের মাঝের যোগাযোগে অন্য কম্পিউটার থেকে হ্যাকারের অনুপ্রবেশকেই ‘Man-in-the-Middle attack’ বলা হয়।
- ‘Man-in-the-Middle attack’ করা হয় টার্গেটের গোপনীয়/একান্ত এবং আর্থিক তথ্য ইত্যাদি জানা ও সংগ্রহ করার জন্য।

• Malware:
- ইহা হলো কম্পিউটারের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার।
- এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া পরিকল্পিত কোনো নেটওয়ার্কে আক্রমণ করে তথ্য বা ডেটা হাতিয়ে নেওয়া কিংবা কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে সাইবার দুর্বৃত্তরা।
 
• Ransomware:
- ইহা হচ্ছে এমন এক ধরনের ম্যালওয়্যার যা কম্পিউটারের দখল নেয় যাতে ব্যবহারকারীকে অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঢুকতে দেয় না।
- র‍্যানসমওয়্যার নামটিই প্রকাশ করে যে, কম্পিউটারের ফাইল আটকে অর্থ নেওয়ার জন্য এটা করা হয়। 
- কম্পিউটারে যত ফাইল পায় সব এনক্রিপ্ট করে ফেলে একটি বার্তা দেখানো শুরু করে। ওই ফাইল উদ্ধার করার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
- সাধারণত একটি এনক্রিপশন কি বা প্রোগ্রাম চাবি ব্যবহার করে ফাইল আটকানো হয়। ওই চাবি সম্পর্কে তথ্য কেবল আক্রমণকারীর জানা থাকে। যদি অর্থ পরিশোধ করা না হয় তখন তথ্য পুরোপুরি মুছে ফেলার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
 
• Phishing:
- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।
 
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯.
অপ্রয়োজনীয় ও অপরিচিত অ্যাড্রেস থেকে আসা মেইলকে কী বলা হয়?
  1. ক) স্পুফিং
  2. খ) স্প্যাম
  3. গ) ফিশিং
  4. ঘ) হ্যাকিং
ব্যাখ্যা
স্প্যাম এর সংজ্ঞা হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে আগত কোন  অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রাসঙ্গিক বা যুক্তিহীন  কোন তথ্য।

স্প্যাম হলো আমরা যখন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করি তখন অনেক সময় দেখতে পাই বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে কিছু মেসেজ আসে। কিন্তু এই মেসেজগুলো আমরা জানিনা কে, কেন আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। এ কাজগুলো হল স্প্যাম। আর যখন এ কাজগুলো করা হয় তাকে স্প্যামিং বলে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি), প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৩০.
কোন ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীকে সিস্টেমে প্রবেশাধিকারে বাধা দেয় এবং অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেয়?
  1. র‍্যানসমওয়্যার
  2. ওয়ার্ম
  3. স্পাইওয়্যার
  4. অ্যাডওয়্যার
ব্যাখ্যা

• র‍্যানসমওয়‍্যার হল এমন এক ধরনের ম্যালওয়্যার যা কম্পিউটার বা ফাইল লক করে দেয় বা এনক্রিপ্ট করে এবং তারপরে মুক্তিপণ (ransom) দাবি করে, যেন ব্যবহারকারী পুনরায় তার ডিভাইস বা ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে।

• ম্যালওয়্যার:
- ম্যালওয়্যার এর পূর্ণ শব্দরূপ হলো Malicious Software.

• কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- অ্যাডওয়‍্যার (Adware),
- স্পাইওয়্যার (Spyware),
- ট্রোজান হর্স (Trojan Horse),
- র‍্যানসমওয়্যার(Ransomware),
- ওয়ার্ম (worms) প্রভৃতি।

• র‍্যানসমওয়্যার:
- র‍্যানসমওয়্যার হলো এক ধরনের ম্যালওয়্যার যেটি একটি কম্পিউটার ডিভাইসকে আক্রান্ত করার পর ব্যবহারকারীকে তার মেশিনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে এবং ব্যবহারকারীর প্রবেশগম্যতা (Accessibility) সীমাবদ্ধ করে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ ফোল্ডার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ (Ransom) দাবি করে।
- কিছু র‍্যানসমওয়্যার সিস্টেমের হার্ড ড্রাইভে অবস্থিত সকল ফাইল একটি বড় কী (Large Key) দিয়ে এনক্রিপ্ট (Encrypt) করে ফেলে।
- এনক্রিপশন কী এতটাই বড় হয় যে মুক্তিপণ না দিয়ে একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব।
- এছাড়াও কেউ কেউ সরল একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সিস্টেম লক করে দেয় এবং ডিসপ্লেতে বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করে।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভোকেশনাল, ২০২১ সংস্করণ)।

৩১.
নিচের কোনটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার নয়?
  1. এজাক্স
  2. এভিজি
  3. অ্যাভাস্ট
  4. নরটন
ব্যাখ্যা
• এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার: 
- কম্পিউটারে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।
- এন্টিভাইরাস ব্যবহার করলে কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের পূর্বেই তা রোধ করে অথবা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার হলো -
এভিজি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার, অ্যাভাস্ট এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার, নরটন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার, এভিরা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার, পান্ডা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইত্যাদি।

Ajax অর্থ হলো Asynchronous JavaScript and XML. তবে এটি কোন Prgraming Lanuage না বরং কোন একটি ওয়েবসাইটের কিছু content কে কোন প্রকার Page Load ছাড়াই web server এ আদান প্রদান করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, britannica.
৩২.
কমিউনিকেশন লাইনের মধ্য দিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের সময় তথ্যকে হাতিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি কোনটি?
  1. স্প্যামিং
  2. ভিশিং
  3. স্নিফিং
  4. স্নিকিং
ব্যাখ্যা
• স্নিফিং (Sniffing):
- স্নিফিং হলো কমিউনিকেশন লাইনের মধ্য দিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের সময় তথ্যকে ক্যাপচার বা হাতিয়ে নেওয়ার একটি পদ্ধতি।
- যে ডিভাইস বা সফটওয়‍্যারের মাধ্যমে এ ধরনের কাজ করা হয় তাকে প্যাকেট স্নিফার (Packet Sniffer) বলে।
- স্নিফিং তারযুক্ত বা তারবিহীন যেকোনো ধরনের কমিউনিকেশনে হতে পারে।
- ডেটাকে এনক্রিপশনের মাধ্যমেই এ ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

- অনাকাঙিক্ষত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানােকে স্প্যামিং বলে।
- মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং বা ভয়েস ফিশিং বলা হয়।
- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্নিকিং বলে।

উৎস: ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
Phishing attack এ ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি কোনটি?
  1. ক) ফোন কল
  2. খ) টেক্সট বার্তা
  3. গ) ইমেইল
  4. ঘ) সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা
ব্যাখ্যা
- ইমেইল হল ফিশিং আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি।
- কারণ এটি যোগাযোগের একটি বহুল ব্যবহৃত রূপ এবং আক্রমণকারীদের পক্ষে একবারে প্রচুর সংখ্যক ইমেল পাঠানো তুলনামূলকভাবে সহজ।
- উপরন্তু, আক্রমণকারীদের পক্ষে একটি ইমেলকে বৈধ দেখানো এবংক্ষতিকর লিঙ্কে ক্লিক করা বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের জন্য প্রতারণা করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

উৎস : যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার ওয়েবসাইট
৩৪.
Amazon (https://www.amazon.com/) যুক্তরাষ্ট্রের খুব নামকরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে Amazon এর ওয়েব সাইটের মত করে একটি ওয়েব সাইট তৈরি করেছেন; যেটি দেখতে হুবহু Amazon এর সাইটের মত তবে ওয়েব এড্রেস https://www.amazon.cam
এটি কোন ধরণের প্রতারণার উদাহরণ ?
  1. ক) Spam
  2. খ) Spoofing
  3. গ) Phishing
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ইন্টারনেট ব্যবস্থায় কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট সেজে প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করাকে ফিশিং (Phishing) বলে।
- ইমেইল ও ইন্সট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে সাধারণত ফিশিং করা হয়ে থাকে। প্রতারকেরা তাদের শিকারকে কোনোভাবে ধোঁকা দিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়।
- ঐ ওয়েবসাইটটি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ইমেইল, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডের আসল ওয়েবসাইটের চেহারা নকল করে থাকে।
- ব্যবহারকারীরা সেটাকে আসল ওয়েবসাইট ভেবে নিজের তথ্য প্রদান করলে সেই তথ্য প্রতারকদের হাতে চলে যায়। 
৩৫.
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কোন কিছু করতে বাধ্য করাকে কী বলে?
  1. সাইবার ফোর্সিং
  2. সাইবার বুলিং
  3. ফোর্সিং এক্ট
  4. সাইবার ব্ল্যাকিং
ব্যাখ্যা
সাইবার সন্ত্রাস/ উৎপীড়ক বা সাইবার বুলি:
তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কোন কিছু করতে বাধ্য করাকে সাইবার সন্ত্রাস বা সাইবার বুলিং বলা হয়।

কাউকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, হুমকি প্রদান করা, আতঙ্ক সৃষ্টি করা
কারো ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা
সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রকাশ করা বা গুজব ছড়ানো
সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ ছড়ানো এসব কিছুই সাইবার সন্ত্রাসের অন্তর্ভূক্ত।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
৩৬.
রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. FANUC
  2. iRobot
  3. Yaskawa
  4. Roboray
ব্যাখ্যা
• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোবট নির্মাতাকারী প্রতিষ্ঠান হলো -
- FANUC (ফানুক),
- Yaskawa (ইয়াসকাওয়া),
- iRobot (আইরোবট),
- Boston Dynamics (বোস্টন ডাইনামিকস)।

• মানব-সদৃশ রোবট বা হিউমেনওয়েড (Humanoid) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলো–
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির 'মুরাতা বয় (Murata)'।
- সনি কর্পোরেশনের কিউরিও (QRIO) এবং আইবো।
- হোন্ডা কোম্পানির আসিমো (ASIMO)।
- স্যামসাংয়ের রোবোরে (Roboray)।
- হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিক্সের সোফিয়া।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭.
ই-মেইল বম্বিং বলতে বোঝায় -
  1. গোপনে ই-মেইলে প্রবেশ
  2. ভিডিও পাঠানো
  3. প্রচুর ইমেইল পাঠিয়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা
  4. ইমেইল ডিলিট করা
ব্যাখ্যা
ই-মেইল বম্বিং হচ্ছে প্রচুর ইমেইল পাঠিয়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা।

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং- ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।)
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।)
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠায়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকান্তিকত ব অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে।এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৩৮.
নিচের কোনটি রোবটের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারে না
  2. খ) বিরতিহীন কাজ করতে পারে
  3. গ) ঘুরতে ও স্থানান্তরিত হতে পারে
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
Robot (রোবট)
New Collegiate Dictionary এর মতে, রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র; যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কোন ব্যক্তি কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে কাজ করতে পারে। 

রোবট এর বৈশিষ্ট্য: 
- রোবট সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত, যা সুনির্দিষ্ট কোন কাজ অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
-  ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারে এবং ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীন কাজ করতে পারে। 
- রোবট কখনো বিরক্ত হয় না। 
- ঘুরতে ও স্থানান্তরিত হতে পারে।
- দূর থেকে লেজার রশ্মি বা রেডিও সিগন্যালের সাহায্যেও রোবট নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 
- রোবট পূর্ব থেকে দেওয়া নির্দেশ মতো কাজ করে।

অর্থাৎ অপশনে রোবট ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারে না এটি ভুল। বাকি দুটো অপশন রোবটের বৈশিষ্ট্য। 
৩৯.
Which of the following is an example of a social engineering attack?
  1. Using encryption to protect data
  2. Phishing emails designed to steal login credentials
  3. Implementing access controls based on job roles
  4. Running antivirus scans on a system
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: (খ) Phishing emails designed to steal login credentials.
• সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (Social Engineering) হলো এমন একটি সাইবার আক্রমণ পদ্ধতি যেখানে প্রযুক্তিগত কৌশলের পরিবর্তে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়।
আক্রমণকারী এখানে বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ছদ্মবেশ ধারণ করে ব্যবহারকারীকে এমন কোনো কাজ করতে প্ররোচিত করে যা তাদের গোপন তথ্য ফাঁসে সাহায্য করে। ফিশিং (Phishing) হলো এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ, যেখানে ইমেলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ধোঁকা দিয়ে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।

• সাইবার অপরাধ:
- ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে এবং এর সহযোগীতায় সংঘটিত অপরাধকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলে।

•বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ:
• ফিশিং (Phishing):
- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।

• ফ্রেকিং (Phreaking):
- বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে হ্যাক করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ফ্রেকিং বলে।

• হ্যাকিং (Hacking):
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিতভাবে অধিকার (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। যে সব ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে।

• ভিশিং (Vishing):
- মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং (Vishing) বা ভয়েস ফিশিং (Voice phishing) বলা হয়। ।

• স্প্যামিং (Spamming):
- অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।

• স্পুফিং (Spoofing):
- নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং আক্রমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোন ব্যক্তি বা একটি পোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে।

• স্নিকিং (Sneaking):
- গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।

• প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism):
- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকেই প্লেজিয়ারিজম বলে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করারই হল প্লেজিয়ারিজম।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪০.
নিচের কোনটি হ্যাকার গ্রুপ?
  1. Cozy Bear
  2. Fancy Bear
  3. Morpho
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
• infamous hacker groups to look for [1981 to 2024]
1. Chaos Computer Club
2. Legion of Doom
3. Lazarus Group
4. Tailored Access Operations
5. Dragonfly 
6. LulzSec
7. Morpho
8. REvil
9. Lizard Squad
10. Conti
11. LockBit
12. DarkSide
13. Hafnium
14. Lapsus$
15. Cozy Bear
16. Fancy Bear

উৎস:
১. [Norton]
২. বিবিসি
৪১.
DDoS আক্রমণের পূর্ণরূপ কী?
  1. Distributed Denial of Service
  2. Direct Denial of Service
  3. Data Denial of Service
  4. Digital Denial of Service
ব্যাখ্যা

◉ DDoS (Distributed Denial of Service) আক্রমণ হলো এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইস ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা ওয়েবসাইটে একসাথে বিপুল পরিমাণ অনুরোধ পাঠানো হয়।

DDoS Attack:
- DDoS এর পূর্ণরূপ Distributed Denial of Service.
- DDoS Attack হলো এক ধরণের সাইবার অপরাধ।
- DoS হলো এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে হ্যাকার ডিভাইসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে একটি কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসকে তার উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দূরে রাখে।
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে এই আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে ঐ সিস্টেম বা সাইটের যথাযথ কার্যক্রমকে ধীর গতির, বা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।
- DoS দ্বারা একটি নেটওয়ার্ককে আক্রমন করা যায় এবং DDoS দ্বারা একাধিক নেটওয়ার্কেকে আক্রমন করা যায়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪২.
তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারে কোন সমস্যাটি বৃদ্ধি পায়?
  1. কৃষি উৎপাদন
  2. সাইবার অপরাধ
  3. প্রাকৃতিক সম্পদ
  4. যোগাযোগ দক্ষতা
ব্যাখ্যা

• তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পায়।

• তথ্য প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবের মূল দিক:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণহীন বা অনৈতিক ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার সাইবার অপরাধের প্রধান কারণ।

• সাইবার অপরাধের ধারণা:
- সাইবার অপরাধ হলো কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ।
- এর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

• তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার অপরাধ:
- ব্যক্তিগত তথ্য চুরি,
- অনলাইন প্রতারণা,
- হ্যাকিং,
- ভুয়া আইডি ব্যবহার,
- অনৈতিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া,
- ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল।

• সমাজে এর প্রভাব:
- মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
- সামাজিক অস্থিরতা ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়।
- কিশোর ও তরুণ সমাজ সহজেই সাইবার অপরাধের শিকার হয়।

• সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা:
- তথ্য প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা।
- আইন ও নৈতিকতার প্রতি সচেতন থাকা।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

৪৩.
কোন ধরনের হ্যাকার অননুমোদিতভাবে কোনো সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে অর্থ উপার্জন করে?
  1. পার্পল হ্যাট হ্যাকার
  2. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার
  3. গ্রিন হ্যাট হ্যাকার
  4. গ্রে হ্যাট হ্যাকার
ব্যাখ্যা

গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা অননুমোদিতভাবে কোনো সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে অর্থ উপার্জন করে।
- গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা এমন এক ধরনের হ্যাকার, যারা বৈধ এবং অবৈধ দুই ধরনের কাজই করে।
- তারা সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই তাদের সিস্টেমে দুর্বলতা খুঁজে বের করে। এরপর তারা সেই দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করে অথবা তা ঠিক করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে।

হ্যাকিং:
- হ্যাকিং বলতে বোঝানো হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বা ব্যবহারকারীর বিনা অনুমতিতে তার কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা। যারা এই কাজ করে থাকে তাদেরকে বলা হয় কম্পিউটার হ্যাকার বা হ্যাকার।

হ্যাকারদের শ্রেণিবিভাগ:
১. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার,
২. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার,
৩. গ্রে হ্যাট হ্যাকার ইত্যাদি।

হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা কোনো সিস্টেমের উন্নতির জন্য সেটির নিরাপত্তা ছিদ্রসমূহ খুঁজে বের কর।
- এদেরকে এথিক্যাল হ্যাকারও (ethical hacker) বলা হয়।
- এরা সিস্টেমের কোন ক্ষতি করে না বরং সিকিউরিটি বৃদ্ধি করে।

ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- এ ধরণের হ্যাকাররা অবৈধ কাজ করে এবং ইনফরমেশন চুরি করে সাইবার অপরাধ করে।
- এদের ক্রেকারও বলে।

গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এরা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার ও ব্লাক হ্যাট হ্যাকারের মাঝামাঝি এক ধরনের হ্যাকার।
- এরা নেটওয়ার্কের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানায়।
- দুর্বল দিকগুলো ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪৪.
ডেটার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কী করা হয়?
  1. ম্যানিপুলেশন
  2. ভ্যালিডেশন
  3. এনক্রিপশন
  4. ডিক্রিপশন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো — গ) এনক্রিপশন। 
- ডেটার গোপনীয়তা (Data Confidentiality) রক্ষার জন্য এনক্রিপশন (Encryption) ব্যবহার করা হয়।
- এনক্রিপশন হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ডেটাকে এমনভাবে রূপান্তর করা হয় যাতে শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি বা সিস্টেমই তা পড়তে পারে।
- উদাহরণ: ইমেইল, ব্যাংকিং তথ্য, ব্যক্তিগত ডেটা ইত্যাদির নিরাপত্তা।

• অপশন আলোচনা:
- ম্যানিপুলেশন: ডেটা পরিবর্তন বা প্রক্রিয়া করা।
- ভ্যালিডেশন: ডেটার সঠিকতা যাচাই করা।
- ডিক্রিপশন: এনক্রিপ্ট করা ডেটাকে আবার মূল রূপে ফিরিয়ে আনা।
- তাই গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ব্যবহার হয় এনক্রিপশন।

• ডেটা এনক্রিপশন:
- ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডেটাকে উৎস হতে গন্তব্যে প্রেরণের পূর্বে যে বিশেষ পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হয় তাকে ডেটা এনক্রিপশন পদ্ধতি বলা হয়।
- ডেটা এনক্রিপশনের মূল অংশ চারটি। যথা-
- প্লেইন টেক্সট: যে ডাটা সাধারণভাবে করা যায়।
- সাইফার টেক্সট: মূল মেসেজ কে এনক্রিপট করার পর প্রাপ্ত টেক্সট। এনক্রিপশনের ফলে টেক্সটটা দূর্বোধ্য হয়ে যায়।
- এনক্রিপশন এলগরিদম: গাণিতিক ফর্মূলা যা মেসেজ এনক্রিপট করার সময় ব্যবহার করা হয়।
- কী: গোপন কোড যা এনক্রিপট না ডিক্রিপট করার কাজে ব্যবহার করা হয়। সাইফার টেক্সটকে প্লেইন টেক্সটে ফিরিয়ে আনার একটি প্রক্রিয়া।
 
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
What is Plagiarism?
  1. Entering a system secretly
  2. Misleading a network using false information
  3. Sending large numbers of emails to crash a system
  4. Copying someone's writing and presenting it as one’s own
ব্যাখ্যা
অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকে প্লেজিয়ারিজম বলে। 

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম: অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং: গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং: ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।)
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।)
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠায়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস: ১। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
২। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৪৬.
'Turnitin' সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোন কাজটি সম্পাদান করা যায়?
  1. ক) প্রেজেন্টেশন তৈরি
  2. খ) ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট
  3. গ) ভাইরাস প্রতিরোধ
  4. ঘ) প্লেজিয়ারিজম সনাক্তকরণ
ব্যাখ্যা
লেখাচুরি (Plagiarism):
- গবেষণাকেন্দ্রিক পরিমণ্ডলে Plagiarism অতি প্রচলিত একটি শব্দ।
- মেধাসত্ব বা সৃষ্টিশীল কাজ চুরি করাকে Plagiarism বলে।
- ভিন্ন ব্যক্তির লেখা বা যে কোন কিছু সজ্ঞানে চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়াই Plagiarism ।
- অন্য ব্যক্তির আইডিয়া ধার করে নিজের কাজে ব্যবহার করতে হলে তার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা নাম জানা না থাকলে অন্তত ‘সংগৃহীত’ উল্লেখ করে দেওয়াই বাঞ্ছনীয় এবং ন্যূনতম ভদ্রতার পরিচায়ক।
- ছবি, গানের কথা, কবিতা, গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন যে কোন গঠনমূলক রচনার ক্ষেত্রে অন্য উৎস মারফত সরাসরি বা হুবহু তথ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হলে
মূল লেখকের নাম উল্লেখ না করা অশোভন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- Plagiarism প্রতিরোধে Paraphrasing চর্চা করা যেতে পারে।
- মূল লেখার বিষয়টিকে অপরিবর্তিত রেখে জুতসই প্রতিশব্দ সহযোগে নিজের ভাষায় সারমর্ম আকারে উপস্থাপন করাকে Paraphrasing বলে।
- তবে সেক্ষেত্রেও মূল লেখকের নাম, সম্ভব হলে সন উল্লেখপূর্বক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা আবশ্যক।
- এছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাহায্যে কোন লেখায় Plagiarism হয়েছে কিনা তা সনাক্ত করা সম্ভব।
- Turnitin তেমনি একটি জনপ্রিয় সফ্টওয়্যার যা অনলাইনে ক্রয় করে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলে যে কেউ এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

সূত্র: তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
স্প্যামার কোন ধরনের সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত?
  1. ক) ফেক ওয়েব সাইট দিয়ে তথ্য চুরি করা
  2. খ) অবাঞ্ছিত ই-মেইল পাঠানো
  3. গ) কোন নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশ করা
  4. ঘ) অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দেয়া
ব্যাখ্যা
হ্যাকিং (Hacking): কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিত ভাবে অধিকার (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। যে সব ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে।

ফিশিং (Phishing): ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা ।

ভিশিং (Vishing): মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং (Vishing) বা ভয়েস ফিশিং (Voice phishing) বলা হয়।

স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয় ৷

স্পুফিং (Spoofing): নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং আক্রমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোন ব্যক্তি বা একটি পোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে।

স্নিকিং (Sneaking): গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।

প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism): অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকেই প্লেজিয়ারিজম বলে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করারই হল প্লেজিয়ারিজম।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
৪৮.
মঙ্গল গ্রহে নাসার পাঠানো রোবটযান কোনটি?
  1. ক) নাসাসিটি
  2. খ) কিউরিওনাসা
  3. গ) কিউরিওসিটি
  4. ঘ) মার্সমেলো
ব্যাখ্যা

From NASA:
Part of NASA's Mars Science Laboratory mission, Curiosity is the largest and most capable rover ever sent to Mars. It launched on November 26, 2011 and landed on Mars on Aug. 5, 2012.

Curiosity set out to answer the question:
Did Mars ever have the right environmental conditions to support small life forms called microbes?
Early in its mission, Curiosity's scientific tools found chemical and mineral evidence of past habitable environments on Mars. It continues to explore the rock record from a time when Mars could have been home to microbial life.

Key Facts about NASA's Curiosity Rover:

Launch:
7:02 a.m. PST, Nov. 26, 2011 (10:02 a.m. EST)

Launch Vehicle:
Atlas V-451 Landing: 10:32 p.m. PDT, Aug. 5, 2012 (1:32 a.m. EDT, Aug. 6, 2012)

Landing Site:
Gale Crater

৪৯.
Fancy Bear একটি -
  1. দামি পানীয়
  2. নদী
  3. রাশিয়ান হ্যাকার গ্রুপ
  4. স্কটল্যান্ড এর জায়গার নাম
ব্যাখ্যা
Fancy Bear একটি রাশিয়ান হ্যাকার গ্রুপ।
Dmitri Alperovitch, a cyber security expert and co-founder of CrowdStrike, was the first to name the cyber espionage group "Fancy Bear." 
Broken down as follows:
Fancy referring to "Sofacy," weirdly enough, a word in Fancy Bear's malware reminded the analyst who discovered it of Iggy Azalea's song "Fancy."
Bear being the codename for Russian hackers.

Source: www.cnbc.com/
৫০.
কোন ধরনের ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি বটনেট তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. Rootkits
  2. Adware
  3. Spyware
  4. Worms
ব্যাখ্যা

• বটনেট তৈরি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার হলো Worms. Worms নিজে-নিজেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়াতে সক্ষম, তাই ব্যবহারকারীর মধ্যস্থতা ছাড়াই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে দ্রুত প্রবেশ করতে পারে। একবার সিস্টেমে প্রবেশ করলে Worms নেটওয়ার্কের অন্যান্য দুর্বল কম্পিউটারগুলোকে সংক্রমিত করে এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য কম্পিউটারগুলোর একটি নেটওয়ার্ক বা “বটনেট” তৈরি করতে পারে। Rootkits, Adware, এবং Spyware সাধারণত নির্দিষ্ট তথ্য চুরির জন্য বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা বটনেট তৈরির জন্য Worms-এর তুলনায় কার্যকর নয়। তাই, দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতার কারণে Worms বটনেট আক্রমণে সবচেয়ে কার্যকর।

- সঠিক উত্তর: ঘ) Worms.
 
• বটনেট তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার (Botnet Malware):
- বটনেট হলো একটি নেটওয়ার্ক যা হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কম্পিউটার বা ডিভাইস নিয়ে তৈরি হয়।
- হ্যাকার এই কম্পিউটারগুলো ব্যবহার করে স্প্যাম ইমেইল, DDoS আক্রমণ বা অন্যান্য সাইবার অপরাধ করে।
- বটনেট তৈরি করতে যে ধরনের ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তা হলো ওয়ার্ম (Worms)।

• Rootkits:
- রুটকিট হলো ম্যালওয়্যারের একটি ধরনের যা সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে নিজের অস্তিত্ব লুকায়।
- এটি মূলত সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সাধারণত বটনেট তৈরিতে প্রধানভাবে ব্যবহার করা হয় না।

• Adware:
- অ্যাডওয়্যার হলো সেই ধরনের সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই বিজ্ঞাপন দেখায়।
- এটি প্রাথমিকভাবে আয়ের জন্য তৈরি হয় এবং বটনেট তৈরিতে খুব কম ব্যবহৃত হয়।

• Spyware:
- স্পাইওয়্যার হলো ম্যালওয়্যার যা ব্যবহারকারীর তথ্য গোপনে সংগ্রহ করে।
- এটি ব্যক্তিগত তথ্য চুরির জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বড় আকারের বটনেট তৈরি করার জন্য প্রায়ই ব্যবহৃত হয় না।

• Worms:
- ওয়ার্ম হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়ানো ম্যালওয়্যার যা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যান্য কম্পিউটারে প্রবেশ করে।
- এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে পুনরায় প্রতিলিপি করে এবং দ্রুত বড় বটনেট তৈরি করতে পারে।
- বটনেট আক্রমণে ওয়ার্ম সবচেয়ে কার্যকর এবং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ম্যালওয়্যার।

সূত্র: kaspersky. [link]

৫১.
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়াকে কী বলে?
  1. ট্রানসিয়েন্ট
  2. ব্রাউন আউট
  3. ব্লাক আউট
  4. নয়েজ
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ পাওয়ার লাইনে সাধারণত চার ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যথা-
১. ব্রাউন আউট:
- পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিত কোনো কারণে সরবরাহ লাইনে বিদ্যুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়াকে ব্রাউন আউট বলা হয়।
- সাধারণত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর অক্ষমতার কারণে এ ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে কম্পিউটার বন্ধ রাখা উচিত।
 
২. ব্লাকআউট:
- হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়াকে ব্লাক আউট বলে
- সাধারণত প্রচণ্ড ঝড়, তুফান, বজ্রপাত প্রভৃতি কারণে ব্লাক আউট হতে পারে।
- ব্লাক আউটের কারণে কম্পিউটারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে তাই ঝড়, তুফান ও বজ্রপাতের সময় কম্পিউটার বন্ধ রাখা উচিত।
 
৩. ট্রানসিয়েন্ট:
- বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সৃষ্ট ভোল্টেজ বা কারেন্টের অপেক্ষাকৃত বড় ধরনের স্পাইককে ট্রানসিয়েন্ট বলা হয়।
 
৪. নয়েজ:
- সাধারণত প্রিন্টারের শব্দ, স্পিকারের উচ্চমাত্রার শব্দ, পাওয়ার সাপ্লাই, কুলিং ফ্যান ইত্যাদি থেকে নয়েজ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- প্রিন্টার, ডিস্ক ড্রাইভ, স্পিকার ইত্যাদির নয়েজকে শাব্দিক নয়েজ এবং পাওয়ার সাপ্লাই, কুলিং ফ্যান ইত্যাদির নয়েজকে সিস্টেম নয়েজ বলা হয়।
- এ ধরনের নয়েজ কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়‍্যারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
 
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
ফিশিং বলতে কী বোঝায়?
  1. একটি কম্পিউটার ভাইরাস
  2. কম্পিউটারকে দ্রুত করার উপায়
  3. ইমেইল অ্যাটাচমেন্টের ধরন
  4. ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে চুরি করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• ফিশিং হল একটি অনলাইন প্রতারণার পদ্ধতি, যা মূলত ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। হ্যাকাররা ইমেইল, মেসেজ বা নকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য বার্তা পাঠায়। এই বার্তাগুলিতে প্রায়ই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য চাইতে পারে। ব্যবহারকারী যদি এসব বার্তায় থাকা লিঙ্কে ক্লিক করে তথ্য প্রদান করে, তবে হ্যাকাররা তা চুরি করতে সক্ষম হয়। ফিশিং সাধারণত ব্যাংকিং, অনলাইন শপিং বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটে এবং এটি কম্পিউটার ভাইরাস বা সফটওয়্যারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সুতরাং, ফিশিং হলো ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে চুরি করার পদ্ধতি। 

বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ:
ফিশিং (Phishing): ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বা ইন্টারনেট কোন নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য সত্ত্বার ছদ্মবেশ ধারণ করে বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের বিস্তারিত তথ্য, ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড এর মত সংবেদনশীল তথ্য চুরির প্রচেষ্টাকে ফিশিং (phishing) বলে।

স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।

র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware): র‍্যানসমওয়্যার এক ধরনের ম্যালওয়্যার। র‍্যানসমওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কম্পিউটার আক্রমনের করে তথ্য কুক্ষিগত করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

স্নিফিং (Sniffing): ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাওয়ার সময় হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্নিফিং।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৫৩.
সফটওয়্যার পাইরেসি বলতে কী বোঝায়?
  1. অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যার কপি বা ব্যবহার করা
  2. সফটওয়্যার আপডেট করা
  3. সফটওয়্যার বিক্রি করা
  4. সফটওয়্যার উন্নয়ন করা
ব্যাখ্যা

• অনুমতি ছাড়া কোনো সফটওয়্যার কপি করা, বিতরণ করা বা ব্যবহার করাকে সফটওয়্যার পাইরেসি বলা হয়।

• সফটওয়্যার পাইরেসি (Software Piracy):
- সফটওয়্যার পাইরেসি হলো সফটওয়্যার নির্মাতার অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যার কপি, বিতরণ বা ব্যবহার করার অবৈধ প্রক্রিয়া।
- এটি মেধাস্বত্ব আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাইরেসির মাধ্যমে সফটওয়্যার কোম্পানি ও নির্মাতারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- সফটওয়্যার পাইরেসি সাইবার অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

• সফটওয়্যার পাইরেসির ধরন:
- অবৈধভাবে সফটওয়্যার কপি করা।
- অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যার বিতরণ করা।
- লাইসেন্স ছাড়া সফটওয়্যার ব্যবহার করা।
- ইন্টারনেট থেকে অবৈধভাবে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা।

• সফটওয়্যার পাইরেসির প্রভাব:
- সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- প্রযুক্তি উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারে।

• অন্যান্য অপশন:
- সফটওয়্যার আপডেট করা → সফটওয়্যারের নতুন সংস্করণ বা উন্নত সংস্করণ স্থাপন করার প্রক্রিয়া।
- সফটওয়্যার বিক্রি করা → বৈধভাবে সফটওয়্যার বাজারজাত করার কার্যক্রম।
- সফটওয়্যার উন্নয়ন করা → নতুন সফটওয়্যার তৈরি বা বিদ্যমান সফটওয়্যার উন্নত করার প্রক্রিয়া।

উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
- Encyclopaedia Britannica,
- Computer & ICT CLOUD, Live Publications.

৫৪.
DDoS আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. কম্পিউটার হার্ডওয়্যার নষ্ট করা
  2. সার্ভার বা নেটওয়ার্ক অবরুদ্ধ করা
  3. ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা
  4. ডেটা এনক্রিপ্ট করে মুক্তিপণ চাওয়া
ব্যাখ্যা

• DDoS (Distributed Denial of Service) আক্রমণ হলো এমন একটি সাইবার আক্রমণ যেখানে আক্রমণকারী একটি সার্ভার বা নেটওয়ার্কে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক পাঠিয়ে তা অকার্যকর করে দেয়।

• DDoS Attack:
- DDoS এর পূর্ণরূপ Distributed Denial of Service.
- DDoS Attack হলো এক ধরণের সাইবার অপরাধ।
- DoS হলো এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেখানে হ্যাকার ডিভাইসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে একটি কম্পিউটার বা অন্য ডিভাইসকে তার উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দূরে রাখে।
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা ইন্টারনেট ওয়েবসাইটে এই আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে ঐ সিস্টেম বা সাইটের যথাযথ কার্যক্রমকে ধীর গতির, বা অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।
- DoS দ্বারা একটি নেটওয়ার্ককে আক্রমন করা যায় এবং DDoS দ্বারা একাধিক নেটওয়ার্কেকে আক্রমণ করা যায়।

উল্লেখ্য:
- ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা: তথ্য চুরি বা সংগ্রহের কাজ মূলত স্পাইওয়্যার (Spyware) বা ফিশিং (Phishing)-এর মাধ্যমে করা হয়, DDoS-এর মাধ্যমে নয়।
- ডেটা এনক্রিপ্ট করে মুক্তিপণ চাওয়া (Ransomware): এটি র‍্যানসমওয়্যার নামক ম্যালওয়্যারের কাজ, DDoS কোনো ফাইল লক বা মুক্তিপণ দাবি করে না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৫৫.
চিন্তা করার ক্ষমতা নিচের কোন প্রযুক্তির?
  1. বায়োইনফরমেটিক্স
  2. রোবটিক্স
  3. ইনফরমেটিক্স
  4. বায়োমেট্রিক্স
ব্যাখ্যা
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: 
- চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি কিংবা বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের সহজাত, একটি যন্ত্রকে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, সেটিকে চিন্তা করানো কিংবা বিশ্লেষণ করানোর ক্ষমতা দেওয়ার ধারণাটিকে সাধারণভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়। 
- কিছুদিন আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছিল দূর ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক বিষয়। 
- পৃথিবীর মানুষ ডিজিটাল বিশ্বে এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে যে, হঠাৎ করে অচিন্তনীয় পরিমাণ ডেটা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ডেটাকে প্রক্রিয়া করার মতো ক্ষমতাশালী কম্পিউটার আমাদের হাতে চলে এসেছে। 
- এই ডেটা বা তথ্যকে প্রক্রিয়া করার জন্য অনেক সময় সাধারণ কম্পিউটার প্রোগ্রাম যথেষ্ট নয়, এমন অ্যালগরিদম বা পদ্ধতি প্রয়োজন যার মাধ্যমে কম্পিউটার চিন্তা করে কোনো সমাধান বের করতে পারে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে ঠিক যেমনটা মানুষ বা অন্যান্য বুদ্ধিমান প্রাণী করে থাকে।
- এ ধরণের পদ্ধতি এবং অ্যালগরিদম নিয়েই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজ করে থাকে। 
- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আওতায় বেশ কিছু ক্ষেত্র রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স, কম্পিউটার ভিশন, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP), স্পিচ প্রসেসিং ইত্যাদি। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ- দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি। 
৫৬.
"ম্যালওয়্যার" কী?
  1. নেটওয়ার্ক প্রোটোকল
  2. ক্রিপ্টোগ্রাফি টেকনিক
  3. কম্পিউটার হার্ডওয়্যার
  4. ক্ষতিকর সফটওয়্যার
ব্যাখ্যা

◉ ম্যালওয়্যার (Malware) শব্দটি "Malicious Software" থেকে এসেছে, যার অর্থ ক্ষতিকর সফটওয়্যার
এটি এমন একটি প্রোগ্রাম বা কোড, যা কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসে ক্ষতি করতে, তথ্য চুরি করতে বা নিয়ন্ত্রণ নিতে ডিজাইন করা হয়।

বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার: 
ভাইরাস (Virus): ফাইলের সাথে সংযুক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়ার্ম (Worm): নিজে নিজেই ছড়ায়, অন্য ফাইলের প্রয়োজন হয় না।
র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware): ফাইল এনক্রিপ্ট করে মুক্তিপণ চায়।
স্পাইওয়্যার (Spyware): ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ গোপনে নজরদারি করে।
ট্রোজান হর্স (Trojan Horse): সাধারণ প্রোগ্রামের ছদ্মবেশে ক্ষতিকর কোড চালায়।
অ্যাডওয়্যার (Adware): বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ম্যালওয়্যার। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভােকেশনাল, ২০২১ সংস্করণ)।

৫৭.
ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাওয়ার সময় হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. স্নিকিং
  2. স্প্যামিং
  3. স্নিফিং
  4. ফিশিং
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ:
• স্নিফিং (Sniffing):
- ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাওয়ার সময় হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্নিফিং।

• ফিশিং (Phishing):
- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।

• স্প্যামিং (Spamming):
- অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।

• স্নিকিং (Sneaking):
- গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।

তথ্যসূত্র - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৫৮.
What is the primary mechanism used by the "I am not a robot" checkbox to distinguish between humans and bots?
  1. Biometric authentication
  2. Behavioral analysis
  3. Turing test
  4. Machine learning algorithms
ব্যাখ্যা
• Turing test:
- টিউরিং টেস্ট এক ধরনের সিকিউরিটি টেস্ট।
- এটি একটি নিরাপত্তামূলক পরীক্ষা। 
- ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টুরিং রোবট চেনার জন্য এক ধরনের পরীক্ষার প্রস্তাব করেন।
- একে একধরনের টুরিং টেস্টও বলা যায়। 



- কিছু কিছু ওয়েবসাইটে প্রথমবার প্রবেশ করলে বা রেজিস্ট্রেশনের সময় ‘ক্যাপচা’ (Captcha) নামে উপরের ছবির মত "I am not a robot" নামক একটা চেকবক্স আসে।
- ইংরেজি ছোট ও বড় হাতের অক্ষর, গাণিতিক অঙ্কসহ নানারকম ছবি এলোমেলো করা থাকে। এই ছবিগুলো চিনে চিনে মিলাতে হয় আসলে ছবিগুলোর বিষয়বস্তুটা কী।  
- এর দ্বারা "মানুষ বলে পরিচয় করে দেওয়া কোনো ব্যবহারকারী আসলেই মানুষ, নাকি কম্পিউটার (বট) বা রোবট" তা বোঝা যায়।

সূত্র:
১) Image Source: The Guardian.
১) BBC Science Focus
৫৯.
কোবট (Cobot) কী?
  1. কমপ্যাক্ট রোবট
  2. করপোরেট রোবট
  3. কলাবোরেটিভ রোবট
  4. কমপিউটার কন্ট্রোলড রোবট
ব্যাখ্যা

◉ "Cobot" শব্দটি Collaborative Robot এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি এমন একধরনের রোবট যা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা করে।
- এটি মানুষের সাথে সহযোগিতা করে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে, যেমন উৎপাদন, অ্যাসেম্বলি এবং অন্যান্য শিল্প কার্যক্রম। কোবটগুলি সাধারণত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়, যাতে তারা মানুষের সাথে সরাসরি ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে পারে।

রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- রোবটিক্স শব্দটি এসেছে 'রোবট' শব্দ হতে, যা প্রবর্তিত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক এর একটি নাটক থেকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- Robot শব্দটি এসেছে স্লাভিক শব্দ Robota থেকে, যার অর্থ হলো 'শ্রমিক'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।
- ইউনিমেট রোবট তৈরির প্রজেক্টের উদ্যোক্তা ছিলেন আমেরিকান জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গ।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২। Northwestern website. [লিংক] 

৬০.
2FA এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Twice-Factor Access
  2. Two-Form Authentication
  3. Two-Factor Authorization
  4. Two-Factor Authentication
ব্যাখ্যা

• 2FA এর পূর্ণরূপ হলো Two-Factor Authentication (উত্তর: ঘ)।
- এটি একটি নিরাপত্তা প্রক্রিয়া যা ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করার জন্য দুটি আলাদা ফ্যাক্টর ব্যবহার করে। সাধারণত প্রথম ফ্যাক্টর হলো ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা পিন, যা তারা জানে। দ্বিতীয় ফ্যাক্টর হতে পারে একটি মোবাইল ফোনে পাঠানো ওটিপি (One-Time Password), বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস রিকগনিশন, বা একটি হার্ডওয়্যার টোকেন। 2FA ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো অননুমোদিত অ্যাক্সেস রোধ করা, কারণ শুধুমাত্র পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে এবং তথ্য চুরির ঝুঁকি কমায়।

• টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA):
- টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) হলো একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে দুইটি ভিন্ন ধরণের ভেরিফিকেশন ফ্যাক্টর ব্যবহার করে একজন ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করা হয়। এটি পাসওয়ার্ড চুরির বিরুদ্ধে একটি বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলোকে নিরাপদ রাখতে শুধুমাত্র পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভরশীলতা এখন পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। থেকে যায় হ্যাক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। অনলাইনের এসব অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজন টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা সংক্ষেপে টুএফএ সিস্টেম।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সাধারণত দুটি ধাপে কাজ করে:
প্রথম স্তর: পাসওয়ার্ড বা পিন ইনপুট করা।
দ্বিতীয় স্তর:
- OTP (One-Time Password) মোবাইলে পাঠানো, 
- Authenticator অ্যাপে কোড তৈরি, 
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি, 
- USB Security Key.

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ- 
- পাসওয়ার্ড চুরি হলেও এক্সট্রা ভেরিফিকেশন থাকে, 
- ফিশিং ও হ্যাকিং আক্রমণ থেকে রক্ষা করে, 
- ব্যাংকিং, ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখে, 
- Unauthorized Access প্রতিরোধ করে। 

উৎস: 
- Microsoft. [link]

৬১.
নিচের কোনটি ‘Phishing Attack’-এর সঠিক উদাহরণ?
  1. ভুয়া ই-মেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা
  2. ভুয়া পরিচয়ে অন্যের কম্পিউটারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া
  3. নেটওয়ার্কে ডেটা আদান-প্রদানের সময় তথ্য হাতিয়ে নেওয়া
  4. ব্যবহারকারীকে আসল ওয়েবসাইটের পরিবর্তে ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করানো
ব্যাখ্যা
◉ ফিশিং (Phishing) হলো একটি সাইবার প্রতারণার কৌশল, যেখানে প্রতারকরা (Hackers) বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া ইমেইল, মেসেজ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে।

ফিশিং (Phishing): 
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো কাছ থেকে প্রতরণার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যাদি যেমন- নাম, পাসওয়ার্ড, ডেভিড বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করাকে বা হ্যাক করাকে বলা হয় ফিশিং।
- সাধারণত ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ফিশিং করা হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে ফিশার হ্যাকাররা ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে সংযুক্ত ব্যবহারকারীর কাছে ব্যক্তিগত তথ্য ভেরিফিকেশন বা যাচাইয়ের জন্য চায়।
- যদি কেউ এ ফাঁদে পা দেয় তাহলে ফিশার হ্যাকাররা তথ্য সংগ্রহ করে তাকে বিভিন্ন ধরনের বিপদে ফেলে দেয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) স্পুফিং (Spoofing): স্পুফিং হলো এমন এক ধরনের পদ্ধতি যেখানে সাইবার অপরাধীরা নিজের পরিচয় গোপন করে অন্যের পরিচয় বা ভূয়া ওয়েবসাইটের ঠিকানা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের কিংবা নেটওয়ার্কযুক্ত কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তথ্যাদি হাতিয়ে নেয় বা চুরি করে।

গ) স্নিফিং (Sniffing): প্লিফিং হলো কমিউনিকেশন লাইনের মধ্য দিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের সময় তথ্যকে ক্যাপচার বা হাতিয়ে নেওয়ার একটি পদ্ধতি।

ঘ) ফার্মিং (Pharming): ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে তার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটের পরিবর্তে অন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করানো বা নিয়ে যাওয়াকে বলা হয় ফার্মিং।

সূত্র: ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬২.
হ্যানসন রোবটিক্স এর তৈরি রোবট কোনটি?
  1. মুরাতা বয়
  2. আসিমো
  3. কিউরিও
  4. সোফিয়া
ব্যাখ্যা
• রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়। 
- রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এক ধরনের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের অনুরূপ কর্মকাণ্ড করতে পারে।
- রোবটিক্স শব্দটি এসেছে 'রোবট' শব্দ হতে, যা প্রবর্তিত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক এর একটি নাটক থেকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোবট হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা যন্ত্রমানব, যা মানুষের অনেক দুঃসাধ্য ও কঠিন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে।
- Robot শব্দটি এসেছে স্লাভিক শব্দ Robota থেকে, যার অর্থ হলো 'শ্রমিক'। 
- অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী 'রোবটিক্স' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯৪১ সালে প্রকাশিত 'আইজাক অসিমভ' এর সায়েন্স ফিকশন 'লায়ার'-এ। 
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল। 
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট। 
- ইউনিমেট রোবট তৈরির প্রজেক্টের উদ্যোক্তা ছিলেন আমেরিকান জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গ। 
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের হাত-পা অথবা বিশেষ ভাবে তৈরি কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া করার জন্য কতগুলো বৈদ্যুতিক মটরের সম্বন্বয়ে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা হলো অ্যাকচুয়েটর। - একে রোবটের হাত ও পায়ের পেশী বলেও অভিহিত করা যায়।
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির রোবট 'মুরাতা বয়'
- হোন্ডা কোম্পানির রোবট 'আসিমো'
- সনি কর্পোরেশনের রোবট 'কিউরিও'
- স্যামসাং এর রোবট 'রোবোরে'
- সোফিয়া হচ্ছে হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিক্স এর তৈরি রোবট।
এই রোবটগুলো প্রায় মানুষের মতোই বিশেষ কোনো কাজ করতে পারে।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি , প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৬৩.
কোনটি সাইবার ক্রাইম নয়?
  1. Debugging
  2. Trojan Horse
  3. Denial of Service (DoS) Attack
  4. Data diddling
ব্যাখ্যা

• চারটি অপশনের মধ্যে Debugging সাইবার ক্রাইম নয়।
- Debugging হলো সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামের মধ্যে থাকা ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং তা ঠিক করার প্রক্রিয়া। এটি সাধারণত নিরাপদ এবং বৈধ একটি কার্যক্রম। অন্যদিকে, Trojan Horse হলো একটি ম্যালওয়্যার যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই সিস্টেমে প্রবেশ করে ক্ষতি করে। Denial of Service (DoS) Attack হলো সার্ভার বা নেটওয়ার্ককে অকার্যকর করার জন্য করা একটি সাইবার আক্রমণ। আর Data diddling হলো ডেটা চুরি বা পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষতি করা। তাই Debugging স্বাভাবিকভাবে সাইবার ক্রাইমের আওতায় পড়ে না।

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।

- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।)
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।)
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠায়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।

- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস:
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৬৪.
অনাকাঙিক্ষত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. Spamming
  2. Sniffing
  3. Phishing
  4. Sneaking
ব্যাখ্যা
• সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে "কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০"।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।

• উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো:
• স্প্যামিং (Spamming):
- অনাকাঙিক্ষত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।


• স্নিফিং (Sniffing):

- ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাওয়ার সময় হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্নিফিং।

• ফিশিং (Phishing):

- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।

• স্নিকিং (Sneaking):

- গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৬৫.
আইজ্যাক অ্যাসিমভ রোবোটিক্সের কতটি নিয়মের কথা উল্লেখ করেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
রোবটিক্স নিয়ম বা আইন (Law):
- যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার কর্তৃক রচিত "Robotics in Practice-Management and Applications of Industrial Robots" নামক বইয়ে মুখবন্ধ লিখেন মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এবং এঙ্গেলবার্গারের সাথী আইজ্যাক অ্যাসিমভ (Isaac Asimov)।

- আইজ্যাক অ্যাসিমভ রোবট, সাইন্স-ফিকশন ও বিজ্ঞান বিষয়ক জনপ্রিয় আমেরিকান লেখক এবং বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যাপক।

- তিনি ঐ বইয়ের মুখবন্ধে রোবটিক্সের তিনটি নিয়ম, বিধি-বিধান বাআইনের (Law) কথা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো:
নিয়ম - ১ ⇒ রোবট কখনোই কোন মানুষের ক্ষতি করবে না অথবা উদাসীন্য বা অপ্রবৃত্তির মাধ্যমে কাউকে ক্ষতির সুযোগ দিবে না।
নিয়ম - ২ ⇒ প্রথম নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়ে রোবট সব সময় মানুষের নির্দেশ মেনে চলবে।
নিয়ম - ৩ ⇒ রোবট অবশ্যই তার নিজের অস্থিত্ত্ব টিকিয়ে রাখবে যতক্ষণ না প্রথম ও দ্বিতীয় নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।

- মানব কল্যাণে রোবট তৈরি করা হয়; মানুষের ক্ষতির জন্য নয়। তাই রোবট তৈরির ক্ষেত্রে এই নিয়ম বা আইনগুলোমেনে চলা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৬৬.
মানবাকৃতির রোবটগুলোকে কী বলে?
  1. ক) ইনটেলিজেন্ট রোবট
  2. খ) হোমোরোবো
  3. গ) রোম্বা
  4. ঘ) হিউমেনওয়েড
ব্যাখ্যা
• যে রোবট দেখতে মানুষের মত তাকে বলা হয় হিউমেনওয়েড

মানব-সদৃশ রোবট বা হিউমেনওয়েড (Humanoid) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলো–
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির “মুরাতা বয় (Murata)”.
- সনি কর্পোরেশনের “কিউরিও (QRIO)” এবং "আইবো"
- হোন্ডা কোম্পানির “ আসিমো (ASIMO)”
- স্যামসাংয়ের “ রোবোরে (Roboray)”.
- হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিক্সের “ সোফিয়া”।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান। 
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭.
ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ক বিভ্রান্ত করার পদ্ধতিকে কী বলা হয়?
  1. স্পুফিং
  2. স্নিকিং
  3. স্প্যামিং
  4. ট্রোজান
ব্যাখ্যা

• ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ক বিভ্রান্ত করার পদ্ধতিকে স্পুফিং বলা হয়।

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং- ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।)
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।)
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠায়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকান্তিকত ব অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস:
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৬৮.
প্রথম তৈরি হওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নামটি কী?
  1. Sophia
  2. Atlas
  3. Roomba
  4. Unimate
ব্যাখ্যা

• প্রথম তৈরি হওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম Unimate. এটি জর্জ ডেভল এবং জোয়েল ব্রেন্ডস্টাইন দ্বারা তৈরি করা হয়। Unimate মূলত গাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত হয়েছিল, বিশেষ করে জেনারেল মোটরসের ফ্যাক্টরিতে ধাতু গরম করা এবং ভারী বস্তু সরানোর কাজে। এটি মানুষের কাজের বোঝা কমানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, কারণ সেই সময়ের শ্রমিকদের জন্য এই ধরনের কাজ বিপজ্জনক এবং কঠিন ছিল। Unimate ছিল এক ধরনের প্রোগ্রামেবল রোবট আর্ম, যা নির্দিষ্ট কমান্ড অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারত। এই রোবট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

- উত্তর: ঘ) Unimate.

• রোবটিক্স:
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- চেক লেখক ক্যারেল ক্যাপেক ১৯২১ সালে Rossurovi Univerzilni Roboti নামে একটি সাইন্স ফিকশন গল্প লিখেন যাতে তিনি শ্রমিক বা কর্মী অর্থে সর্বপ্রথম 'robota' শব্দের ব্যবহার করেন।
- যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবটিক্সের জনক বলা হয়।

• Unimate রোবট:
- ১৯৫০ সালে আমেরিকান প্রকৌশলী, গণিতবিদ ও উদ্যোক্তা যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার এবং জর্জ চার্লস ডেভল  মিলে সর্বপ্রথম ইউনিমেট (Unimate) নামে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী রোবট উদ্ভাবন করেন।
- এটি ১৯৬১ সালে জেনারেল মোটরসের নিউ জার্সির কারখানায় প্রথম ব্যবহৃত হয়, যেখানে এটি গাড়ি উৎপাদনে গরম ধাতু ঢালাই ও সমাবেশের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- Unimation Inc. নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয় রোবটটি উৎপাদনের জন্য।

উৎস:
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২। ব্রিটানিকা।

৬৯.
সফটওয়্যারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোন ধরনের প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়?
  1. ফায়ারওয়াল
  2. এক্সেস পয়েন্ট
  3. ম্যালওয়ার
  4. রাউটার
ব্যাখ্যা

• সফটওয়্যারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফায়ারওয়াল ধরনের প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়। ফায়ারওয়াল হলো একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী ডেটা পর্যবেক্ষণ করে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন বা বাধা প্রদান করে। এটি অননুমোদিত ব্যবহারকারী, হ্যাকার এবং ক্ষতিকর আক্রমণ থেকে সিস্টেমকে রক্ষা করে। ফায়ারওয়াল হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার- উভয় রূপেই হতে পারে। অন্যদিকে এক্সেস পয়েন্ট নেটওয়ার্ক সংযোগ দেয়, ম্যালওয়ার ক্ষতিকর সফটওয়্যার এবং রাউটার ডেটা আদান-প্রদানে সাহায্য করে, কিন্তু সরাসরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।

ফায়ারওয়াল: 
- Unauthorized ব্যবহারকারীর হাত থেকে নেটওয়ার্ক রিসোর্সকে রক্ষা কিংবা সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে ফায়ারওয়াল (Firewall)ব্যবহার করা হয়। 
- অননুমোদিত ফায়ারওয়াল হলো এমন এক ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা কোনো একটি কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্ক তথা ইন্ট্রানেট ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মধ্যে অবৈধ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করে। 
- কোনো কম্পিউটারের সফটওয়‍্যারের নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে ফায়ারওয়াল তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত কোনো ফায়ারওয়ালের সাথে রাউটার (Router) বা ডেডিকেটেড সার্ভার (Dedicated server) থাকে যা সম্পূর্ণ ফায়ারওয়াল হিসেবে কাজ করে। 
- ফায়ারওয়াল কোনো প্রতিষ্ঠানের গেইট কিপার (Gate Keeper) হিসেবে কাজ করে যা যে কোনো ধরনের প্রবেশকে নিরাপদ এবং ডেটার ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। 
- ফায়ারওয়াল হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে কিন্তু সবসময় প্রতিরোধ করতে পারে না। 

উৎস:
- মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
- কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং
- ব্রিটানিকা।

৭০.
বিমল ফেসবুক পেজ থেকে গল্প সংগ্রহ করে নিজের নামে ম্যাগাজিনে ছাপিয়ে দিল। বিমলের কাজটি কোন ধরনের?
  1. প্লেজিয়ারিজম
  2. ফিশিং
  3. পাইরেসি
  4. স্ফুফিং
ব্যাখ্যা
• প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism):
- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে প্রকাশ করাকে প্লেজিয়ারিজম বলে।
- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাই প্লেজিয়ারিজম।
- তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজমের প্রচলন লক্ষ করা যায়।
- বিশেষ করে অন্যের ধ্যান-ধারণা, গবেষণা, কৌশল, প্রোগ্রামিং কোড, গ্রাফিক্স, লেখা, ডেটা, ছবি, গান ইত্যাদির উৎস অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখ না করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়া হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি মাহবুবুর রহমান।
৭১.
সোফিয়া নামের রোবটটির নির্মাতা সংস্থা কোনটি?
  1. Hanson Robotics
  2. Yaskawa
  3. Boston Dynamics
  4. iRobot
ব্যাখ্যা

• সোফিয়া নামের রোবটটি Hanson Robotics নামের একটি হংকংভিত্তিক সংস্থার তৈরি। এটি সর্বজনীনভাবে পরিচিতি লাভ করে, বিশেষ করে মানুষের মতো মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং কথোপকথনে সক্ষমতার জন্য। Hanson Robotics রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করে এবং মানবসদৃশ রোবট তৈরির লক্ষ্য রাখে। সোফিয়ার ডিজাইন এবং সফটওয়্যার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি মানুষের মুখের মিমিক্রি করতে পারে, বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারে এবং সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশনে অংশগ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে, Yaskawa, Boston Dynamics, এবং iRobot আলাদা ধরনের রোবট তৈরি করে, যেমন শিল্প রোবট, চলাফেরার রোবট বা ঘরের স্বয়ংক্রিয় রোবট, তাই সোফিয়ার নির্মাতা শুধুমাত্র Hanson Robotics।

- উত্তর: ক) Hanson Robotics.

• রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন, পরিচালনা ও প্রয়োগের বিষয় আলোচনা করা হয়, তাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- রোবট হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের মতো কাজ করতে সক্ষম।
- 'রোবটিক্স' শব্দটি এসেছে 'রোবট' থেকে, যা প্রথম ব্যবহার করা হয় চেক লেখক কারেল কাপেকের ১৯২০ সালে প্রকাশিত নাটকে।
- রোবট শব্দটি স্লাভিক শব্দ "Robota" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ 'শ্রমিক'।
- অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী, 'রোবটিক্স' শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৪১ সালে আইজাক অসিমভের সায়েন্স ফিকশন "লায়ার"-এ।

• রোবট সোফিয়া:
- রোবট সোফিয়া তৈরি করেছে হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকস।
- এর মূল নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন (David Hanson)।
- রোবট সোফিয়াকে নকশা করা হয় হলিউডের ব্রিটিশ অভিনয় শিল্পী অড্রে হেপবার্ন এর মত করে।
- রোবট সোফিয়াকে ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে সক্রিয় করা হয়।
- ২০১৭ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেয়া হয় এই রোবটকে এবং এটিই প্রথম রোবট যে কোন দেশের নাগরিকত্ব লাভ করে।
- ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অংশ নিয়েছে সিঙ্গাপুরের তৈরি ও সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়া এই রোবট সোফিয়া। এটি প্রায় ৫০ ধরনের ভাবভঙ্গি দেখাতে পারে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৭২.
What is Phreaking?
  1. Stealing information by directing users to fake websites through emails or messages
  2. Presenting false information to confuse the network
  3. Hacking telecommunication systems for malicious purposes
  4. Secretly accessing a computer or network to steal information
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) Hacking telecommunication systems for malicious purposes।

ফ্রেকিং (Phreaking): বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে হ্যাক করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ফ্রেকিং বলে।

• বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ:
- ফ্রেকিং (Phreaking): বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে হ্যাক করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ফ্রেকিং বলে।
- হ্যাকিং (Hacking): কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিতভাবে অধিকার (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। যে সব ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে।
- ফিশিং (Phishing): ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যম ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।
- ভিশিং (Vishing): মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং (Vishing) বা ভয়েস ফিশিং (Voice phishing) বলা হয়।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- স্পুফিং (Spoofing): নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং আক্রমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোন ব্যক্তি বা একটি প্রোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে।
- স্নিকিং (Sneaking): গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।
- প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism): অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকেই প্লেজিয়ারিজম বলে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করারই হল প্লেজিয়ারিজম।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৭৩.
প্রাইভেট নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কোনটি বাহ্যিক আক্রমণ প্রতিহত করে?
  1. ম্যালওয়ার
  2. রাউটার
  3. ফায়ারওয়াল
  4. এক্সেস পয়েন্ট
ব্যাখ্যা

• প্রাইভেট নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য ফায়ারওয়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফায়ারওয়াল হলো একটি সিকিউরিটি সিস্টেম যা নেটওয়ার্কের ভিতরের এবং বাহ্যিক ট্রাফিককে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং চেষ্টা, ম্যালওয়ার বা অন্যান্য ক্ষতিকর আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম। ফায়ারওয়াল ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্কে কোন ডেটা প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে কিনা তা নির্ধারণ করে, এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নীতি প্রয়োগ করে। ফলে এটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে বাহ্যিক হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখে। অন্যদিকে, রাউটার, এক্সেস পয়েন্ট বা ম্যালওয়ার সরাসরি আক্রমণ প্রতিহত করে না; রাউটার ও এক্সেস পয়েন্ট শুধু নেটওয়ার্ক সংযোগ সরবরাহ করে, আর ম্যালওয়ার হলো হুমকির উৎস। সুতরাং বাহ্যিক আক্রমণ প্রতিহত করতে সঠিক উত্তর হলো ফায়ারওয়াল।
 
• ফায়ারওয়াল:
- Unauthorized ব্যবহারকারীর হাত থেকে নেটওয়ার্ক রিসোর্সকে রক্ষা কিংবা সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে ফায়ারওয়াল (Firewall)ব্যবহার করা হয়।
- অননুমোদিত ফায়ারওয়াল হলো এমন এক ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা কোনো একটি কোম্পানির নিজস্ব নেটওয়ার্ক তথা ইন্ট্রানেট ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মধ্যে অবৈধ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো কম্পিউটারের সফটওয়‍্যারের নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে ফায়ারওয়াল তৈরি করা হয়।
- সাধারণত কোনো ফায়ারওয়ালের সাথে রাউটার (Router) বা ডেডিকেটেড সার্ভার (Dedicated server) থাকে যা সম্পূর্ণ ফায়ারওয়াল হিসেবে কাজ করে।
- ফায়ারওয়াল কোনো প্রতিষ্ঠানের গেইট কিপার (Gate Keeper) হিসেবে কাজ করে যা যে কোনো ধরনের প্রবেশকে নিরাপদ এবং ডেটার ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।
- ফায়ারওয়াল হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে কিন্তু সবসময় প্রতিরোধ করতে পারে না।

উৎস:
১. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. ব্রিটানিকা।

৭৪.
নিজের নাম ব্যবহার করে অন্যের লেখা প্রকাশ করা হলে কী বলা হয়?
  1. স্ফুফিং
  2. স্প্যামিং
  3. প্লেজিয়ারিজম
  4. ফিশিং
ব্যাখ্যা

• নিজের নাম ব্যবহার করে অন্যের লেখা প্রকাশ করা হলে তাকে প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) বলা হয়। এটি এক ধরনের বৌদ্ধিক সম্পদ চুরি, যেখানে লেখক নিজের নয়, অন্য কারও লেখা, গবেষণা বা ধারণা নিজের নাম ব্যবহার করে উপস্থাপন করে। প্লেজিয়ারিজমের ফলে লেখকের খ্যাতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এটি এক ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হয়। শিক্ষার্থী, গবেষক বা পেশাদার কেউ যদি অন্যের লেখা নিজের হিসাবে প্রকাশ করে, তা শিক্ষাগত ও আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই লেখার উৎস উল্লেখ করা এবং যথাযথভাবে কোটেশন ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- উত্তর: গ) প্লেজিয়ারিজম। 

 • সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে "কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০"।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।
- উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো- হ্যাকিং, স্প্যামিং, স্ফুফিং, ফিশিং (Phishing), ভিশিং, স্নিকিং, প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) প্রভৃতি।

• প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism):
- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে প্রকাশ করাকে প্লেজিয়ারিজম বলে।
- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাই প্লেজিয়ারিজম।
- তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজমের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।
- বিশেষ করে অন্যের ধ্যান-ধারণা, গবেষণা, কৌশল, প্রোগ্রামিং কোড, গ্রাফিক্স, লেখা, ডেটা, ছবি, গান ইত্যাদির উৎস অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখ না করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়া হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।

৭৫.
নিচের কোনটি কনজিউমার রোবট এর উদাহরণ?
  1. ক) RASSOR
  2. খ) Dextre
  3. গ) Curiosity rover
  4. ঘ) AlphaMini
ব্যাখ্যা
AlphaMini একটি কনজিউমার রোবট। 

- Ubtech একটি চাইনিজ রোবট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান যা বিভিন্ন ধরণের কনজিউমার রোবট তৈরি করে থাকে। 
- AlphaMini একটি কনজিউমার রোবট যা  Ubtech এর তৈরি।
- AlphaMini একটি সহজেই বহনযোগ্য। 
- এই রোবটটি চৌদ্দটি সার্ভো মোটর সহযোগে গঠিত, যা রোবটটির নড়াচড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

সূত্র:  Ubtech Website [লিঙ্ক]
৭৬.
কোনটি দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উদাহরণ?
  1. স্প্রেডশীট সফটওয়্যার
  2. ওয়েব ব্রাউজার
  3. ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট যেমন সিরি ও আলেক্সা
  4. ইমেইল ক্লায়েন্ট
ব্যাখ্যা

• দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, যেমন সিরি বা আলেক্সা। এই ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর কথাবার্তা বা কমান্ড বোঝে এবং তার ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করে, অনলাইন সার্চ করে, মিউজিক বাজায় বা ঘরোয়া স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে স্প্রেডশীট সফটওয়্যার, ওয়েব ব্রাউজার বা ইমেইল ক্লায়েন্ট মূলত তথ্য প্রদর্শন ও সংরক্ষণ বা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিন্তাশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই প্রতিদিনের জীবনে AI-এর সরাসরি উদাহরণ হলো ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট।

• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা, Artificial Intelligence (AI) হচ্ছে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয়।
- মানুষ যেভাবে চিন্তা করে তেমনি কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটারে সেভাবে চিন্তা ভাবনার রূপদান করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) বলে।
- AI এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কম্পিউটারকে উন্নত করা।

• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কিছু স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য:
- কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ।
- সমস্যার কারণ নির্ণয়পূর্বক সমাধানের পথ নির্দেশ।
- সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা।
- সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা।
- নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন।
- ভাষা বুঝার ক্ষমতা।
-  অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাবার মত সক্ষমতা।
- মানুষের মত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো।
- পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় অনুধাবন এবং সাড়া দেয়ার ক্ষমতা।
- ভুল, অপ্রাসঙ্গিক এবং অসম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পরিচালনা।
- জটিল অবস্থা অনুধাবন ও পরিচালনার ক্ষমতা।
- নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা; ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
ফায়ারওয়াল ব্যবহৃত হয়-
  1. সংবেদনশীল ডেটা রক্ষা করতে
  2. কম্পিউটার এর গতি বৃদ্ধি করতে
  3. রিড-রাইট অপারেশনের জন্য
  4. কম্পিউটারের সহায়ক মেমরি হিসেবে
ব্যাখ্যা
• ফায়ারওয়াল:
- ফায়ারওয়াল হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা নেটওয়ার্ককে অননুমোদিত প্রবেশ বা হ্যাকিং থেকে রক্ষা করে।
- ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল ডেটা রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।
- অবাঞ্চিত ব্যবহারকারীর হাত হতে সিস্টেম রক্ষা করা বা সাইবার আক্রমণ এড়াতে ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা হয়।
- ফায়ারওয়ালকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একটি সিস্টেম হিসেবে গণ্য করা হয় যার সাহায্যে ব্যবহারকারীকে সংরক্ষিত কোন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার অনুমতি প্রদান করা কিংবা বাধা প্রদান করা হয়।
- ফায়ারওয়াল প্রটেক্টেড সিস্টেমে সাধারণত নেটওয়ার্কের ভিতর থেকে বাহিরের সবকিছু ব্যবহার করা যায়, তবে অন্য কোন অবাঞ্চিত ব্যবহারকারী এই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে না। শুধুমাত্র বৈধ ব্যবহারকারীগণ এটি ব্যবহার করতে পারেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৮.
তুর্লা কোন দেশের হ্যাকিং গ্রুপ?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. লেবানন
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
তুর্লা রাশিয়ার হ্যাকিং গ্রুপ। উন্নত ক্রমাগত হুমকি এই হ্যাকিং গ্রুপের নামও দেওয়া হয়েছে তুর্লা ।
- আর্টস টেকনিকা-এ ড্যান গুডিন তুর্লাকে ''রাশিয়ান গুপ্তচর'' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- তখন থেকে তুর্লাকে বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন স্নেক, ক্রিপ্টন এবং ভেনোমাস বিয়ার ইত্যাদি।
- তুর্লা ২০০৮ সাল থেকে সরকার ও সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

উৎস: Britannica.com
৭৯.
স্পুফিং (Spoofing) কী?
  1. সার্ভারে বেশি মেইল পাঠিয়ে সিস্টেমকে অকার্যকর করা
  2. অন্যের লেখা নিজের নামে চালানো
  3. ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা
  4. অতিরিক্ত অনুরোধ পাঠিয়ে সার্ভার অকেজো করা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর - গ) ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম: অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং: গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং: ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা।)
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।)
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠায়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস: ১। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
২। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৮০.
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাউকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিকে কী বলে?
  1. Cyberstalking
  2. Piracy
  3. Phishing
  4. Spamming
ব্যাখ্যা

• অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাউকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিকে Cyberstalking বলা হয়। Cyberstalking হলো ইন্টারনেট বা ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে বারবার হুমকি, ভীতিপ্রদর্শন বা কুপ্রভাব সৃষ্টি করার কার্যক্রম। এটি শুধুমাত্র হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং কেউ কারো ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধান, নজরদারি বা অপ্রীতিকর বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেও পারে। Cyberstalking সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইমেল, মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন বা অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। এটি অপরাধের শ্রেণীতে পড়ে এবং ভুক্তভোগীর মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। তাই অনলাইন হুমকি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

- উত্তর: ক) Cyberstalking.

• সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে "কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০"।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।

• উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো:
- হ্যাকিং,
- স্প্যামিং,
- সাইবার থেফ্ট,
- সাইবার বুলি,
- স্ফুফিং,
- ফিশিং,
- ভিশিং,
- স্নিকিং,
- প্লেজিয়ারিজম,
- Cyberstalking,
- DDoS Attacks, প্রভৃতি

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৮১.
রোবটের চলাচল ও কর্মকান্ডসহ সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করে কোন অংশ?
  1. ক) প্রোগ্রামকৃত প্রসেসর
  2. খ) অ্যাকচুয়েটর
  3. গ) মুভেবল বডি
  4. ঘ) পাওয়ার সিস্টেম
ব্যাখ্যা
রোবট
- কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাহায্যে রোবট নিয়ন্ত্রিত হয়।
- রোবটের ইনপুট যন্ত্রপাতি (যেমন বিভিন্ন ধরনের সেন্সর) সাহায্যে পরিবেশ থেকে ইনপুট নেয়।
- অতঃপর প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণের পর অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে আউটপুট প্রকাশিত বা প্রদর্শিত হয়।
- একটি সাধারণ রোবটে নিচের উপাদান বা অংশগুলো থাকে:-

প্রোগ্রামকৃত মস্তিষ্ক বা প্রসেসর:
- রোবটের মধ্যে এক বা একাধিক প্রসেসর থাকে যাতে রোবটকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রোগ্রাম সংরক্ষিত থাকে।
- এটি রোবটের মূল অংশ যা রোবটের চলাচল ও কর্মকান্ডসহ সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করে।

পাওয়ার সিস্টেম:
- সাধারণত লেড এসিড ব্যাটারী দিয়ে রোবটের পাওয়ার দেওয়া হয়।
- এই ব্যাটারী রিচার্জেবল অর্থাৎ এতে পুনরায় চার্জ করা যায়। তাই কাজ করার পূর্বে রোবটকে চার্জ দেওয়া হবে ।

ইলেকট্রিক সার্কিট:
- রোবটের হাইড্রোলিক ও নিউমেট্রিক সিস্টেমেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।

অ্যাকচুয়েটর (Actuator):
- রোবটের হাত-পা অথবা বিশেষ ভাবে তৈরি কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া করার জন্য কতগুলো বৈদ্যুতিক মটরের সম্বন্বয়ে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা হলো অ্যাকচুয়েটর। একে রোবটের হাত ও পায়ের পেশী বলেও অভিহিত করা যায়।

অনুভূতি (Sensing):
- অনুভূতি মানুষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সেন্সরের মাধ্যমে রোবটেও মানুষের মত অনুভূতি তৈরি করা হয়।
- কাজেই অনুভূতি রোবটের একটি বিশেষ উপাদান।
- রোবটের হাত বা পা কোন একটি জায়গায় স্পর্শ করলে সেই জায়গা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।
- মানুষের চোখের ন্যায় রোবটের ক্যামেরা দিয়ে সামনের পা পিছনের দৃশ্য নেওয়া হয়।
- কাজের প্রয়োজনে রোবটকে ৩৬০° কোণে ঘুরানো যেতে পারে ।

ম্যনিপিউলেশন বা পরিবর্তন করা (Manipulation):
- রোবটের আশেপাশের বস্তুগুলোর অবস্থান পরিবর্তন বা বস্তুটি পরিবর্তন করার পদ্ধতিকে বলা হয় ম্যনিপিউলেশন।
- সাধারণত রোবটের হাত-পা এই পরিবর্তনের যাবতীয় কাজ করে থাকে।
- রোবটের হাতে কতগুলো আঙ্গুল থাকবে যা নড়াচড়া করে কোন বস্তু ধরতে পারবে।
- পায়ের সাহায্যে সামনে পিছনে বা ডানে-বামে চলাচল করতে পারবে।

মুভেবল বডি:
রোবটে চাকা, যান্ত্রিক পা এবং স্থানান্তর করা যায় এমন যন্ত্রপাতি যুক্ত থাকে ।

সূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ( একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি), প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান
৮২.
সিস্টেমে ঢুকে আর্থিক বা তথ্যগত ক্ষতি ঘটায় -
  1. গ্রে হ্যাট হ্যাকার
  2. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার
  3. ডার্ক হ্যাট হ্যাকার
  4. ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো ঘ) ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার।
ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকাররা কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং ব্যক্তিগত, আর্থিক বা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে। তারা সাধারণত লাভ বা ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে হ্যাকিং করে। অন্যদিকে, হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে এবং সমস্যাগুলো ঠিক করে, আর গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা মাঝে মাঝে অনুমতি ছাড়া হ্যাক করে কিন্তু ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকে না। ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকারদের কাজ অবৈধ এবং ক্ষতিকর।

• হ্যাকিং (Hacking):
প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের ক্ষতিসাধন করাকে হ্যাকিং বলা হয়।

• বর্তমানে প্রধানত তিন ধরনের হ্যাকার দেখতে পাওয়া যায়। যথা-
ক. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার:
- সাধারণত এরা ডেটা বা সিস্টেমের ক্ষতি করে না, তবে কাজের ক্ষেত্রে ভীষণ দক্ষ হয়।

খ. ব্ল‍্যাক হ্যাট হ্যাকার:
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর্থিক তথ্যাদি হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

গ. গ্রে হ্যাট হ্যাকার:
- এরা নেটওয়ার্কের দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং দুর্বল দিকগুলোর ঠিক করার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৮৩.
নিচের কোনটি এন্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার নয়?
  1. ক) Avira
  2. খ) Avast
  3. গ) Norton
  4. ঘ) Cindrella
ব্যাখ্যা
কতিপয় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার- Symantec, McAfee, AVG Anti-Virus, AVIRA, AVAST Anti-Virus, TREND micro, ESET NOD32, Kaspersky Anti-Virus, Microsoft Security Essential, ZoneAlarm Anti-Virus, Cobra Anti-Virus, Bitdefender, Norton Anti-Virus, Panda Anti-Virus, PC Tool Anti-Virus ইত্যাদি। অপরদিকে, AIDS, Bye Bye, Bad boy, Cindrella, CIH, I love you ইত্যাদি কতিপয় ভাইরাস।
[সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণীর (উন্মুক্ত বিশ্বঃ) কম্পিউটার ও আইসিটি বোর্ড বই এবং লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ]
৮৪.
কোনটি ম্যালওয়ার নয়?
  1. BIOS
  2. ট্রোজান হর্স
  3. স্পাইওয়্যার
  4. র‍্যানসমওয়্যার
ব্যাখ্যা
Malware (ম্যালওয়ার):
- Malware (ম্যালওয়ার) এর পূর্ণরূপ হলো Malicious Software.
- কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়ারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে: অ্যাডওয়্যার (Adware), স্পাইওয়্যার (Spyware), ট্রোজান হর্স (Trojan Horse), র‍্যানসমওয়্যার (Ransomware), ওয়ার্ম (Worms) প্রভৃতি।

ফার্মওয়্যার (Farmware):
- সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি করার সময় কম্পিউটারের মেমোরিতে যে সকল প্রোগ্রাম স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়া হয় তাকে ফার্মওয়্যার বলে।
- এ সকল প্রোগ্রাম কম্পিউটার ব্যবহারকারী পরিবর্তন করতে পারে না।
- ROM BIOS এর মধ্যে যে ডেটা এবং নির্দেশগুলো থাকে তা হলো ফার্মওয়্যার।

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভােকেশনাল) এবং মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর জনক কে?
  1. অ্যালান টুরিং 
  2. চার্লস ব্যাবেজ
  3. জ্যাক কেলবি
  4. হাওয়ার্ড আইকিন
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - Al):
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) হলো বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয়।
- মানুষ যেভাবে চিন্তা করে তেমনি কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটারে সেভাবে চিন্তা ভাবনার রূপদান করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) বলে।

⇒ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর প্রবর্তক John McCarthy।
- ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের MIT এর John McCarthy সর্বপ্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শব্দটি উল্লেখ করেন।
- তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জনক হিসেবে কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালান টুরিং-কেও ধরে নেয়া হয়।
- কারন ১৯৫০ সালে তাঁর করা টুরিং টেস্ট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তি স্থাপন করে।
- তবে অনন্য প্রতিভাবান অ্যালান টুরিং পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবেই বেশি সমাদৃত।
- আর কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন ম্যাকার্থীকেই অধিকাংশের মতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

⇒ AI এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কম্পিউটারকে উন্নত করা যাতে কম্পিউটার চিন্তা করার ক্ষমতা, পাশাপাশি দেখতে পারা, শুনতে পারা, হাঁটা এবং অনুভব করার ক্ষমতা পায়।

উৎস: i) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৮৬.
রোবটের মধ্যে অবস্থিত প্রোগ্রামকৃত মস্তিষ্ককে কী বলা হয়?
  1. ক) সেন্সিং ব্রেইন
  2. খ) ম্যানিপুলেটিভ ব্রেইন
  3. গ) রিপ্রোগ্রামেবল ব্রেইন
  4. ঘ) অ্যাকচুয়েটিং ব্রেইন
ব্যাখ্যা
রিপ্রোগ্রামেবল ব্রেইন: রোবট এর মধ্যে অবস্থিত প্রোগ্রাম কৃত মস্তিষ্ক যা কম্পিউটারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
যদি কোন কারনে রোবটের আচরণ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে এর ভেতরে থাকা কম্পিউটার টিভি প্রোগ্রাম করা হলেই চলে।
 
সেন্সিং: মানুষের মত অনুভুতি তৈরিতে সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় । সেন্সরের মাধ্যমে রোবট এর মধ্যে মানুষের মত অনুভূতি তৈরি করা যায় ।

অ্যাকচুয়েটর: অ্যাকচুয়েটর হল রোবটের হাত-পা অথবা বিশেষভাবে তৈরি কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া করার জন্য কতকগুলো বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ ব্যবস্থা।

ম্যানিপুলেশন: রোবটের আশেপাশের বস্তুগুলোর অবস্থান পরিবর্তন বা বস্তুটিকে পরিবর্তন করার পদ্ধতিকে বলা হয় ম্যানিপুলেশন।

উৎস: মাধ্যমিক কম্পিউটার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ( প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)
৮৭.
অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে গোপন প্রবেশকে সাইবার নিরাপত্তায় কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. স্প্যামিং
  2. স্পুফিং
  3. প্লেজিয়ারিজম
  4. স্নিকিং
ব্যাখ্যা

• অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে গোপনে প্রবেশ করার ঘটনাকে সাইবার নিরাপত্তায় স্নিকিং (Sneaking) বলা হয়। স্নিকিং বলতে বোঝায়, কোনো ব্যক্তি বৈধ অনুমতি বা অধিকার ছাড়াই কৌশলে অন্যের কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা তথ্যব্যবস্থায় প্রবেশ করা। এ ধরনের কাজে সাধারণত নিরাপত্তা দুর্বলতা, পাসওয়ার্ড চুরি বা গোপন কৌশল ব্যবহার করা হয়। স্নিকিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, পরিবর্তন বা নষ্ট করা সম্ভব, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সাইবার নিরাপত্তায় স্নিকিং একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

• সাইবার অপরাধ:
- বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিকিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং- ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং - বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা।

- Salami Attack - অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন।
- Denial of Service Attack - বেশি পরিমাণেরিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা।- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব - ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা।
- ট্রোজান এ্যাটাক - পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস:
১। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
২। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৮৮.
গোপনে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা কোন সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্পুফিং
  2. স্নিফিং
  3. লজিক বম্ব
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

স্নিফিং হচ্ছে গোপনে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা ।

• সাইবার অপরাধ:
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ হয়ে থাকে। নিচে অতি সংক্ষিপ্তভাবে অপরাধসমূহের তালিকা দেওয়া হলো:
- কম্পিউটার সিস্টেম অথবা নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করা।
- ইলেকট্রনিক ফর্মে থাকা তথ্য চুরি করা।
- প্লেজিয়ারিজম- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করা।
- স্নিফিং- গোপনে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজের আওতায় আনা।
- স্পুফিং- ভুল তথ্য দিয়ে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করা।
- ই-মেইল বম্বিং (বিশাল ই-মেইল পাঠানোর মাধ্যমে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- Data diddling (কম্পিউটার প্রসেসিং এর পূর্বে কোন ডেটাকে কম্পিউটার থেকে সরিয়ে ফেলা এবং প্রসেসিং সম্পন্ন হবার পর পুনরায় সে ডেটাকে কম্পিউটারে স্থাপন করা। )
- Salami Attack (অবৈধ আর্থিক বিনিময় কিংবা আর্থিক ক্ষতি সাধন। )
- Denial of Service Attack (বেশি পরিমাণে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে সিস্টেম ক্র্যাশ করা)।
- ভাইরাস/ওয়ার্ম আক্রমণ।
- স্প্যামিং (Spamming): অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
- লজিক বম্ব (ইভেন্ট নির্ভর প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিস্টেমে এ্যাটাক করা)।
- ট্রোজান এ্যাটাক (পরোক্ষভাবে কারো সিস্টেমে প্রবেশ করে সিস্টেমের কন্ট্রোল গ্রহণ করা।
- ইন্টারনেটের ব্যবহার্য সময় বা ইউনিট চুরি।
- ওয়েব সাইট হ্যাক করে তথ্য পরিবর্তন করা।

উৎস:
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-২, ভোকেশনাল।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৮৯.
শিল্পোৎপাদন ব্যবহারে উপযোগী সর্বপ্রথম রোবটটির নাম কী?
  1. ক) Roomba
  2. খ) Azuma hikari
  3. গ) Sophia
  4. ঘ) Unimate
ব্যাখ্যা
১৯৫০ সালে আমেরিকান প্রকৌশলী, গণিতবিদ, ও উদ্যোক্তা Joseph Frederick Engelberger এবং একই দেশের উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবক George Charles Devol মিলে সর্বপ্রথম Unimate নামে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী রোবট উদ্ভাবন করেন।

- Roomba হল একটি জনপ্রিয় হোম রোবট, যা ঘরের মেঝে পরিষ্কারের কাজে অত্যন্ত দক্ষ। 
- আজুমা হিকারি 'Tiny Holographic Wife' নামে পরিচিত। 
- রোবট সোফিয়া তৈরি করেছেন হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনসন রোবটিক্স।

সূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান। 
৯০.
একজন সাইবার অপরাধী নিজেকে আইটি সাপোর্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে একজন কর্মচারীর কাছ থেকে লগইন ক্রেডেনশিয়াল নিয়ে নেয়। এটি কোন আক্রমণের ধরন?
  1. ডিডস
  2. কী-লগিং
  3. ফিশিং
  4. সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
ব্যাখ্যা

• উক্ত ঘটনাটি সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আক্রমণ। এখানে সাইবার অপরাধী নিজেকে আইটি সাপোর্ট কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কর্মচারীর বিশ্বাস অর্জন করে এবং সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে লগইন ক্রেডেনশিয়াল সংগ্রহ করে। এই ধরনের আক্রমণে প্রযুক্তিগত দুর্বলতার চেয়ে মানুষের মনস্তত্ত্বকে টার্গেট করা হয়। কর্মচারী মনে করে সে বৈধ সহায়তা পাচ্ছে, তাই নিজের সংবেদনশীল তথ্য স্বেচ্ছায় দিয়ে দেয়। এটি ডিডস বা কী-লগিং নয়, কারণ এখানে কোনো সিস্টেমে ট্রাফিক আক্রমণ বা কিবোর্ড ইনপুট রেকর্ড করা হচ্ছে না। যদিও ফিশিংয়ের সাথে মিল আছে, তবে সরাসরি মানবিক প্রতারণার কারণে এটি সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। সঠিক উত্তর: ঘ) সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং।
 
• সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (Social Engineering):
- সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো এমন একটি সাইবার আক্রমণ যেখানে অপরাধী মানুষের বিশ্বাস, ভয় বা অসতর্কতাকে কাজে লাগায়।
- এই আক্রমণে সরাসরি প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নয়, বরং মানবিক দুর্বলতাকে টার্গেট করা হয়।
- অপরাধী নিজেকে আইটি সাপোর্ট, ব্যাংক কর্মকর্তা বা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়।
- এর মাধ্যমে সে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লগইন আইডি, পাসওয়ার্ড বা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে।
- এখানে ব্যবহারকারী নিজেই অজান্তে তার তথ্য অপরাধীর হাতে তুলে দেয়।
- প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় অপরাধী নিজেকে আইটি সাপোর্ট পরিচয় দিয়ে ক্রেডেনশিয়াল নিয়েছে, যা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্পষ্ট উদাহরণ।

• ফিশিং (Phishing):
- ফিশিং হলো সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি উপধরন।
- সাধারণত ভুয়া ইমেইল, এসএমএস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য চুরি করা হয়।
- তবে প্রশ্নে সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে আইটি সাপোর্ট পরিচয় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণ ফিশিংয়ের চেয়ে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

• কী-লগিং (Key Logging):
- কী-লগিং হলো একটি প্রযুক্তিগত আক্রমণ যেখানে সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে কিবোর্ডে টাইপ করা তথ্য রেকর্ড করা হয়।
- এখানে ব্যবহারকারীর সাথে সরাসরি প্রতারণা করে তথ্য নেওয়া হয় না।
- তাই প্রশ্নের ঘটনার সাথে এটি সম্পর্কিত নয়।

• ডিডস (DDoS):
- ডিডস আক্রমণে একসাথে অনেক ডিভাইস থেকে সার্ভারে অতিরিক্ত অনুরোধ পাঠানো হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো সিস্টেম অচল করে দেওয়া।
- এটি কোনোভাবেই লগইন তথ্য চুরির সাথে সম্পর্কিত নয়।

সুতরাং, একজন সাইবার অপরাধী নিজেকে আইটি সাপোর্ট পরিচয় দিয়ে কর্মচারীর কাছ থেকে লগইন ক্রেডেনশিয়াল নেওয়ার আক্রমণের ধরন হলো  
সঠিক উত্তর: ঘ) সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। 

উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
- IBM. [link]

৯১.
‘রোবটিক্স’ শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. চার্লস ডেভল
  2. আইজাক আসিমভ
  3. হেনরি হোন্ডা
  4. এলান টুরিং
ব্যাখ্যা
• রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়। 
- রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এক ধরনের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের অনুরূপ কর্মকাণ্ড করতে পারে।
- রোবটিক্স শব্দটি এসেছে 'রোবট' শব্দ হতে, যা প্রবর্তিত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক এর একটি নাটক থেকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোবট হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা যন্ত্রমানব, যা মানুষের অনেক দুঃসাধ্য ও কঠিন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে।
- Robot শব্দটি এসেছে স্লাভিক শব্দ Robota থেকে, যার অর্থ হলো 'শ্রমিক'। 
- অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী 'রোবটিক্স' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯৪১ সালে প্রকাশিত 'আইজাক আসিমভ' এর সায়েন্স ফিকশন 'লায়ার'-এ। 
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল। 
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট। 
- ইউনিমেট রোবট তৈরির প্রজেক্টের উদ্যোক্তা ছিলেন আমেরিকান জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গ। 
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
৯২.
নিচের কোনটি একটি এম্বেডেড সিস্টেমে ব্যবহৃত প্রচলিত ইনপুট ডিভাইস?
  1. Motor
  2. Button
  3. Speaker
  4. LED
ব্যাখ্যা
• এম্বেডেড সিস্টেমে ইনপুট ডিভাইস হলো সেইসব যন্ত্রাংশ যেগুলোর মাধ্যমে বাহ্যিক তথ্য বা সংকেত সিস্টেমে প্রবেশ করে।

- Button (বোতাম): এটি একটি ইনপুট ডিভাইস। বোতামে চাপ দিলে একটি সিগন্যাল তৈরি হয় যা প্রসেসরের কাছে যায়, এবং সে অনুযায়ী কাজ হয়।

- LED, Speaker, Motor: এগুলো আউটপুট ডিভাইস। অর্থাৎ, সিস্টেম থেকে বাহিরে তথ্য বা ক্রিয়া প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার:
- এমবেডেড কম্পিউটার হলো একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার সিস্টেম যা একটি বৃহৎ সিস্টেম বা মেশিনের অংশবিশেষ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।
- এমবেডেড সিস্টেমে সাধারণত একটি মাইক্রোপ্রসেসর বোর্ড এবং কিছু সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম সম্বলিত রম থাকে।
- আধুনিক এম্বেডেড সিস্টেমে মাইক্রোকন্ট্রোলার এর ব্যবহার হয়।

• এমবেডেড কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ হলো:
- গাড়ি,
- সেলফোন ও স্মার্টফোন,
- প্রিন্টার,
- মাইক্রোওয়েভ,
- ওয়াশিং মেশিন,
- এয়ার কন্ডিশন(এসি),
- ঘড়ি,
- থার্মোস্ট্যাট,
- ভিডিও গেমস্,
- ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং,
- ATM,
- সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
ব্রুট ফোর্স আক্রমণের জন্য কোন ধরনের সিস্টেম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. এনক্রিপশন ব্যবহৃত সিস্টেম
  2. যাদের কোনো অথেনটিকেশন নেই
  3. দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ডযুক্ত সিস্টেম
  4. দুর্বল বা ছোট পাসওয়ার্ডযুক্ত সিস্টেম
ব্যাখ্যা

• ব্রুট ফোর্স আক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম হলো দুর্বল বা ছোট পাসওয়ার্ডযুক্ত সিস্টেম (ঘ)। কারণ ব্রুট ফোর্স আক্রমণে আক্রমণকারী সম্ভাব্য সব পাসওয়ার্ড একে একে চেষ্টা করে সঠিকটি বের করার চেষ্টা করে। যদি পাসওয়ার্ড ছোট, সহজ বা সাধারণ শব্দভিত্তিক হয়, তাহলে অল্প সময়েই তা ভেঙে ফেলা সম্ভব। বিপরীতে, দীর্ঘ ও জটিল পাসওয়ার্ড ভাঙতে অনেক বেশি সময় ও রিসোর্স লাগে। এনক্রিপশন ব্যবহৃত সিস্টেম তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং যাদের কোনো অথেনটিকেশন নেই, সেখানে ব্রুট ফোর্সের প্রয়োজনই পড়ে না। তাই দুর্বল পাসওয়ার্ডই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

সাইবার অপরাধ: 
- যেসব অপরাধ অনলাইন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে হয়ে থাকে সেগুলোকে সাইবার অপরাধ বলে। 
- সাইবার অপরাধ সংঘটনে কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেট অবশ্যই ব্যবহৃত হয় আবার কথনো কখনো ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক নিজেই সাইবার আক্রমণের শিকার হয়। 
- সাইবার অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলতে পারে। তাই সাইবার অপরাধ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক ঝুঁকি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার উপায় সম্পর্কে জানা সকলের জন্য অতীব জরুরি। 
- ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ রয়েছে, যার মাধ্যমে তথ্যের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। 

- নিচে কিছু সাইবার অপরাধ উল্লেখ করা হলো- 
১। হ্যাকিং (Hacking): 
- সাধারণত অনুমতি ব্যতীত কোনো ওয়েবসাইট বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তা ব্যবহার করা অথবা তার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়াকে হ্যাকিং বলে। 
- যে হ্যাকিং করে তাকে হ্যাকার (hcaker) বলে। হ্যাকিং বৈধ ও অবৈধ দুইই হতে পারে। 
- কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের সিস্টেমের সিকিউরিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হ্যাকার নিয়োগ করেন, এই নিয়োগ প্রাপ্ত হ্যাকারদের কাজকে বৈধ হ্যাকিং বলে। এরা সিস্টেম সিকিউরিটি চেক করে; তবে সিস্টেমের কোন ক্ষতি করে না। যেমন-UNIX সিস্টেম চেক করার জন্য অনেক বৈধ হ্যাকার রয়েছে, এদেরকে হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার বলা হয়। 
- আবার অবৈধভাবে যারা হ্যাকিং করে তাদেরকে ক্রেকার (craker) বলে। অবৈধ হ্যাকার বা ক্রেকাররা ইন্টারনেট এবং অন্যান্য নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ডেটা চুরি অথবা নষ্ট করে দেয়। ফলে সহজেই ক্ষতি সাধন করতে পারে। এদেরকে ব্লাক হ্যাট হ্যাকার বলে। 
- হ্যাকিং অপরাধের প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়। 
- হ্যাকাররা অন্যের ই-মেইল দেখতে পারে, ওয়েব সার্ভারে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারে অথবা নেটওয়ার্কে ফাইল চুরি করতে পারে। 

২। ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack): 
- ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধীরা মানুষের বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট যেমন- ব্যাংক, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইমেইল অ্যাকাউন্ট, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইসেও অবৈধভাবে প্রবেশ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে এবং ঐ গুলো নিয়ে একের পর এক অনুমান নির্ভর চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে তারা সফলও হয় এবং সফল হলে তারা ঐ ব্যক্তির বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে। ঐ চুরি করা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে থাকে। এটি এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যা অবশ্যই একটি গুরুতর সাইবার অপরাধ। এই ধরনের সাইবার হামলা ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack) নামে পরিচিত। পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কি-গুলোর বিভিন্ন সংমিশ্রণ নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে চেষ্টা করে। এটি ট্রায়াল এবং এরর (trial and error) এর উপর নির্ভর করে স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে সঠিকভাবে প্রতিটি বিকল্প খুঁজে সফল না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে চেষ্টা চালিয়ে যায়। 
অর্থাৎ, এই ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক সাইবার আক্রমণে অনুমানভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড চুরি করা হয়। 

৩। ডেটা ইন্টারসেপশন (Data Interception): 
- ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানের সময় প্রাপক এবং প্রেরকের মধ্যবর্তী কেউ তা আড়ি পেতে চুরি করতে পারে, এই চুরি হবার প্রক্রিয়াটি ডেটা ইন্টারসেপশন নামে পরিচিত। 
- সাধারণত সফটওয়্যার বা অ্যাপস-এ এন্ড টু এন্ড ডেটা এনক্রিপশন করা থাকলে, মধ্যবর্তী কারও পক্ষে তথ্য (ম্যাসেজ, ছবি, ভিডিয়ো, ভয়েস কল রেকর্ড, ডকুমেন্ট ইত্যাদি) চুরি করা অসম্ভব হয়ে যায়। 
- এনক্রিপশন (Encryption) হলো মেসেজ, ডেটা বা তথ্যকে এনকোড করার এমন একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যা অনুমোদনহীন কেউ পড়তে বা বুঝতে পারে না। এর ফলে অনুমোদনহীনদের কাছে মেসেজ, ডেটা বা তথ্য দুর্বোধ্য হয়ে থাকে। 
- নেটওয়ার্কের পাবলিক পথ দ্বারা যে সকল গোপনীয় ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাদেরকে সাধারণত বিশেষ কোডের মাধ্যমে এনক্রিপ্ট করে প্রেরণ করা হয়, অর্থাৎ ডেটার গোপনীয়তা রক্ষা বা সিকিউরিটির জন্য ডেটাকে এনক্রিপ্ট করা হয়। 

৪। ডি ডস আক্রমণ (DDoS-Distributed Denial of Service): 
-  ডিজিটাল জগতে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অফ সার্ভিস বা ডি ডস আক্রমণ হলো একই সময়ে একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট টার্গেটে আক্রমণ করা। 
- DDoS আক্রমণে একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইস কোনো ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবাকে প্রচুর পরিমাণে ট্র্যাফিকের সাথে প্লাবিত করতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে এটি ধীরগতির হয়ে যায় বা ক্রাশ (crash) হয়ে যায়। 
- এর উদ্দেশ্য হলো সিস্টেমটিকে মোহাবিষ্ট করা যাতে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা এটি অ্যাক্সেস বা ব্যবহার করতে না পারে। 

৫। সাইবার বুলিং (Cyber bullying): 
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কোনো কিছু করতে বাধ্য করাকে সাইবার বুলিং বা সাইবার সন্ত্রাস বলা হয়। 
- কাউকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, হুমকি প্রদান করা, আতঙ্ক সৃষ্টি করা, অনুমতি ব্যতীত কারো ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা, সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রকাশ করা বা গুজব ছড়ানো, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ ছড়ানো এসব কিছুই সাইবার সন্ত্রাসের অন্তর্ভুক্ত। 
- সাইবার সন্ত্রাসের জন্য মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাবলেট ইত্যাদি যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট, ম্যাসেজ, ই-মেইল ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ  প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪.
অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল বা মেসেজ পাঠানোর প্রক্রিয়া কী নামে পরিচিত? 
  1. Sneaking
  2. Phishing
  3. Spamming
  4. Sniffing
ব্যাখ্যা

• সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে "কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০"।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।

• উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো:
• স্প্যামিং (Spamming):
- অনাকাঙিক্ষত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।

• স্নিফিং (Sniffing):
- ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাওয়ার সময় হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্নিফিং।

• ফিশিং (Phishing):
- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।

• স্নিকিং (Sneaking):
- গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৯৫.
কোনটিতে রোবটের ব্যবহার করা হয়?
  1. জটিল সার্জারি চিকিৎসায়
  2. ব্যক্তির স্বাক্ষর শনাক্তকরণে
  3. নতুন জাতের বীজ উৎপাদনে
  4. টেনিস বলের আকৃতি তৈরিতে
ব্যাখ্যা
- জটিল সার্জারি চিকিৎসায় রোবট ব্যবহৃত হয়। 
- নতুন জাতের বীজ উৎপাদনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহৃত হয়। 
- টেনিস বলের আকৃতি তৈরিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। 
- ব্যক্তির স্বাক্ষর শনাক্তকরণে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। 


উৎস :  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বোর্ড বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৬.
প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা দেশ কোনটি?
  1. ডেনমার্ক
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• সাইবার ক্রাইম:
- ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।
- ইংল্যান্ড বিশ্বে প্রথম সাইবার আইন প্রণেতা হিসেবে তৈরি করে ''কম্পিউটার মিসইউজ অ্যাক্ট ১৯৯০''।
- ইংল্যান্ডে জাতীয় ই-অপরাধ ইউনিট গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
- বাংলাদেশে ২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।
- ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তৈরি করা হয় ২০০০ সালে।

- উল্লেখযোগ্য কিছু সাইবার অপরাধ হলো:
• হ্যাকিং
• স্প্যামিং
• সাইবার থেফ্ট
• সাইবার বুলি
• স্ফুফিং
• ফিশিং
• ভিশিং
• স্নিকিং
• প্লেজিয়ারিজম

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
৯৭.
হ্যাকাররা সিস্টেমে অবৈধ অ্যাক্সেস বা মূল্যবান তথ্য হস্তক্ষেপ করার জন্য ব্যবহারকারীর অজান্তে ওয়েবসাইটের ইউআরএল-এ কিছু প্যারামিটার পরিবর্তন করে, এই প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. Tampering
  2. Ransomware
  3. Spyware
  4. Scareware
ব্যাখ্যা
• ট্যাম্পারিং (Tampering):
- একটি ওয়েব-ভিত্তিক আক্রমণ যেখানে আক্রমণকারী ব্যবহারকারীর অজান্তে ওয়েবসাইটের ইউআরএল (URL)-এ কিছু প্যারামিটার পরিবর্তন করে।
- URL ব্যবহারকারীর কাছে বৈধ বলে মনে হয়।
- হ্যাকাররা সিস্টেমে অবৈধ অ্যাক্সেস বা মূল্যবান তথ্য হস্তক্ষেপ করার জন্য ট্যাম্পারিং করে থাকে।
- অবৈধ অনুমোদনের মাধ্যমে, ব্যবহারকারীর দ্বারা প্রবেশ করা কিছু প্যারামিটার নির্দিষ্ট ইউআরএল বা ওয়েব পৃষ্ঠায় পরিবর্তন করা হয়।
- যখন ক্লায়েন্ট এবং সার্ভারের মধ্যে কিছু তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে তখন সেটি হ্যাকার দ্বারা চালিত হয়।
- এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর বিবরণ পরিবর্তন করেও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাকে প্রভাবিত করা হয়।

উৎস: Computer Applications in Business, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮.
'সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩' এর কততম ধারায় হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ধারা-১৩
  2. ধারা-১৯
  3. ধারা-৩২
  4. ধারা-৪১
ব্যাখ্যা
• ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’: 
- সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ, দমন ও এই অপরাধের বিচার এবং আনুতোষিক বিষয়ে নতুন বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদে ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ পাস হয়।
- পূর্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২টি ধারা বাতিল করে নতুন আইনে ৬০টি ধারা করা হয়।

অজামিনযোগ্য ধারা:
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কার্যক্রম স্থগিত করে নতুন এই আইনে চারটি অজামিনযোগ্য ধারা রাখা হয়েছে। 
ধারাগুলো হলো:
- ধারা-১৭: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বে-আইনি প্রবেশ।
- ধারা-১৯: কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ইত্যাদির ক্ষতিসাধন ও দণ্ড।
- ধারা-২৭: সাইবার সন্ত্রাসীকার্য সংঘটনের অপরাধ ও দণ্ড।
- ধারা-৩২: হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড।

 
- সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ৩২ ধারার বিধান হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড:
যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

- ব্যাখ্যা:-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “হ্যাকিং” অর্থ-
(ক) কম্পিউটার তথ্য ভাণ্ডারের কোনো তথ্য চুরি, বিনাশ, বাতিল, পরিবর্তন বা উহার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাসকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধন; বা
(খ) নিজ মালিকানা বা দখলবিহীন কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমেঅবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতিসাধন।
৯৯.
Which of the following is not an antivirus software?
  1. AVG
  2. Avast
  3. Norton
  4. Trojan Horse
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) Trojan Horse

• এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার:
- কম্পিউটারে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।
- এন্টিভাইরাস ব্যবহার করলে কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের পূবেই তা রোধ করে অথবা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার হলো-
- এভিজি,
- অ্যাভাস্ট,
- নরটন,
- এভিরা,
- পান্ডা, ইত্যাদি।

• কম্পিউটার ভাইরাস:
- প্রখ্যাত গবেষক ফ্রেড কোহেন কম্পিউটার ভাইরাসের নামকরণ করেন।
- মূলত কম্পিউটার ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করার পর একপর্যায়ে সম্পূর্ণ কম্পিউটারকে সংক্রমিত করে অচল করে দেয়।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কম্পিউটার ভাইরাস হলো-
- ভিবিএস/হেল্পার,
- ওয়ার্ম,
- ভিবিএস/আকুই,
- ট্রোজান হর্স,
- এক্স ৯৭এম/হপার,
- বুট সেক্টর ভাইরাস,
- জেরুজালেম,
- স্টোন,
- ঢাকা ভাইরাস,
- ভিয়েনা,
- সিআইএইচ, ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০.
অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে পাঠানোর বিষয়টিকে কী বলা হয়?
  1. Spamming
  2. Spoofing
  3. Sniffing
  4. Phishing
ব্যাখ্যা

• ইন্টারনেটে যখন কোনো বাণিজ্যিক প্রচার বা বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ইমেইল বা মেসেজ ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই পাঠানো হয়, তাকে Spamming বলে।
- স্প্যামিং মূলত ব্যবহারকারীকে বিরক্ত করে এবং সিস্টেমের ব্যান্ডউইথ অপচয় করে। তাই ব্যবহারকারীদের স্প্যাম চিহ্নিত করা ও সতর্ক থাকা জরুরি।

• বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ: 
• ফ্রেকিং (Phreaking): 
- বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে হ্যাক করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ফ্রেকিং বলে। 

• হ্যাকিং (Hacking): 
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিতভাবে অধিকার (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। 
- যে সব ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে। 

• ফিশিং (Phishing): 
- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা। 

• ভিশিং (Vishing): 
- মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং (Vishing) বা ভয়েস ফিশিং (Voice phishing) বলা হয়। 

• স্প্যামিং (Spamming): 
- অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। 
- এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়। 

• স্নিফিং (Sniffing): 
- ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাওয়ার সময় হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্নিফিং। 

• স্পুফিং (Spoofing): 
- নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং আক্রমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোন ব্যক্তি বা একটি পোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে। 

• স্নিকিং (Sneaking): 
- গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে। 

• প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism): 
- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকেই প্লেজিয়ারিজম বলে। 
- কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করারই হল প্লেজিয়ারিজম। 

উৎস: 
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।