উত্তর
ব্যাখ্যা
⇨ ভারতের সাথে মোট ৭টি দেশের সীমানা রয়েছে। এগুলো হলো:-
১। বাংলাদেশ
২। চীন
৩। পাকিস্তান
৪। নেপাল
৫। মায়ানমার
৬। ভুটান
৭। আফগানিস্তান
তথ্যসূত্র:- https://www.mha.gov.in/sites/default/files/BMIntro-1011.pdf
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫ / ১৭ · ৪০১–৫০০ / ১,৬৩৯
ভারতীয় অংশে বাংলাদেশের ছিটমহল...
কুচবিহার - ৪৭
জলপাইগুড়ি - ৪
বাংলাদেশ অংশে ভারতের ছিটমহল...
লালমনিরহাট - ৫৯
পঞ্চগড় - ৩৬
কুড়িগ্রাম - ১২
নীলফামারি - ৪
দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহল লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত।
মশালডাঙ্গা ছিটমহল কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত।
- হিন্দুকুশ পর্বতমালা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে অবস্থিত একটি পর্বতমালা।
হিন্দুকুশ পর্বত:
- হিন্দুকুশ পর্বতমালা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে অবস্থিত একটি পর্বতমালা।
- পর্বতমালাটির সিংহ ভাগ উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে অবস্থিত।
- হিন্দুকুশ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন মধ্যযুগীয় পরিব্রাজক ইবনে বতুতা।
- এটি হিমালয় পর্বতের একটি অংশ।
- এটি প্রায় ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ এবং ১৫০ মাইল (২৪০ কিমি) চওড়া।
- পর্বতটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তিরিচমির (৭৬৯০ মিটার) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বর্ডারের নিকটে অবস্থিত।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা:
- সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা সিলেটের জাফলং-এ অবস্থিত।
- এটি জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ১ কিমি পশ্চিমে, খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- এর স্থানীয় নাম মায়াবী ঝর্ণা।
- এই অবিরাম ধারার মোট তিনটি ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় ধাপে এমন একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যার অন্য প্রান্ত এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
- চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর স্থলবন্দর।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোর জেলার বেনাপোল সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর পেট্রাপোল।
- সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মোহাদিপুর স্থলবন্দর।
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
উল্লেখ্য,
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
এগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ
- আসাম
- মেঘালয়
- ত্রিপুরা এবং
- মিজোরাম৷
এর মধ্যে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম হলো সেভেন সিস্টার্সভুক্ত।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি জেলার যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে গেছে।
• ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত গরান বনভূমি (mangrove forest)।
- কর্কটক্রান্তির সামান্য দক্ষিণে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূল ধরে বিস্তৃত ২১°৩০´-২২°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০০´-৮৯°৫৫´ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যবর্তী স্থানে এ বনের অবস্থান।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশ এ বনভূমিকে চিহ্নিত করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি উলেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর পরিমাণ মধু, মোম ও মাছ।
- সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত।
- পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট বড় দ্বীপ ছড়িয়ে আছে সুন্দরবনে।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
লিভিংস্টোন জলপ্রপাত:
- লিভিংস্টোন জলপ্রপাত গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর একটি বিশাল জলপ্রপাতের ধারা যা কঙ্গোর কিনশাসা এবং মাটাডি শহরের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর নিম্ন প্রবাহে অবস্থিত।
- এই জলপ্রপাতটি ৩৫০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ৩২টি ছোট-বড় জলপ্রপাত এবং র্যাপিডের সমন্বয়ে গঠিত।
এছাড়াও, স্ট্যানলি জলপ্রপাত:
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতিত হয় ।
- এটি বর্তমানে বোয়ামা নামে পরিচিত।
উল্লেখ্য,
- স্টবাক জলপ্রপাত: সুইজারল্যান্ড।
- অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত: ভেনিজুয়েলা।
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে।
উৎস: Britannica.
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো – আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।
• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে যে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে এগুলো হলো: রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা। ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলাও রাঙামাটি।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• ওশেনিয়া (Oceania):
- ওশেনিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল।
- মহাদেশটি অসংখ্য ছোট-বড় দ্বীপ ও একটি প্রধান মূলভূমি—Australia—নিয়ে গঠিত।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মহাদেশ হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে মোট ১৪টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে।
- আয়তন ও জনসংখ্যা—উভয় দিক থেকেই অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়ার বৃহত্তম দেশ।
- অন্যদিকে, আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট দেশ হলো Nauru।
- আর জনসংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে ছোট দেশ Tuvalu।
- অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি New Zealand-ও এই অঞ্চলের অন্যতম উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।
• ওশেনিয়াকে সাধারণত চারটি অংশে ভাগ করা হয়:
- অস্ট্রালাসিয়া — (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড);
- মেলানেশিয়া (Melanesia) — ফিজি, নিউ গিনি, ভানুয়াতু;
- মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia) — কিরিবাতি, নাউরু, পালাউ;
- পলিনেশিয়া (Polynesia) — নিউজিল্যান্ড, টোঙ্গা, সামোয়া, হাওয়াই।
উৎস: Britannica.
বাংলাদেশের প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল:
ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় –
১) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২) প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও
৩) সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- বছরের পর বছর বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
• বাংলাদেশের বনভূমি:
- বাংলাদেশের বনভূমিকে প্রধানত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি ও গরান বা স্রোতজ বনভূমি (সুন্দরবন) এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
- শাল জাতীয় এক ধরনের গজারী এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ।
• পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
• উপকূলীয় অঞ্চল যেমন - খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাদেশ বন বিভাগের ওয়েবসাইট।
• দারফুর হলো সুদানের একটি অঞ্চল।
- এখানে ২০০৩ থেকে চলমান দারফুর সংকট এখনও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
- ২০২৩ থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও RSF গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে, যার কারণে নাগরিক হতাহত, শরণার্থী বৃদ্ধি এবং জীবিকা হুমকির মুখে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি নজরকাড়া কারণ এখানে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে এবং ICC তদন্ত করছে।
- ভূগোল ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দারফুর সুদানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
উৎস: ব্রিটানিকা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:
- সর্ব উত্তরে - পঞ্চগড়(জেলা), - তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
- সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
- সর্ব পূর্বে - বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং (স্থান)।
- সর্ব দক্ষিণে - কক্সবাজার (জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন (ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• সনোরা লাইন:
- সনোরা লাইন হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোকে বিভক্তকারী একটি আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
- সোনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী সীমানার দক্ষিণাংশ।
- এই সীমান্ত অ্যারিজোনা রাজ্য (যুক্তরাষ্ট্র) ও সোনোরা রাজ্য (মেক্সিকো)-এর মধ্যে অবস্থিত।
- এই সীমান্ত অংশটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এখানে বৈধ ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম, বাণিজ্য ও অভিবাসন কার্যক্রম নিয়মিত ঘটে।
অন্যদিকে,
• আর্জেন্টিনা ও চিলি: এদের মধ্যে আন্দিজ পর্বতমালা সীমান্ত হিসেবে কাজ কর
• ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে: এদের মধ্যে সীমান্তের প্রধান অংশ পারানা নদী দ্বারা নির্ধারিত।
• কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র: এদের মধ্যে ৪৯° অক্ষাংশ বরাবর দীর্ঘতম শান্তিপূর্ণ সীমান্ত আছে।
উৎস: ব্রিটানিকা।
চর আলেকজান্ডার:
- চর আলেকজান্ডার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৪নং ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতি এসিল্যান্ড অফিসে আলেকজান্ডার নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক রেভিনিউ কালেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন।
- তার নাম অনুসারে এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় আলেকজান্ডার।
- চর আলেকজান্ডার বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকা।
⇒ বাংলাদেশের চরসমূহ:
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- হামহাম, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
প্রতিপাদ স্থান:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে সরলরেখা টানলে চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে বের হবে।
- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান- চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।
উল্লেখ্য:
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০০।
- অর্থাৎ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত বাংলাদেশ আর চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরের ঐ স্থানটি ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে অর্থাৎ ঠিক বিপরীত ঢাকার প্রতিপাদ স্থান।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- সীমান্তবর্তী স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের:
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা বান্দরবান।
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের:
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের:
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
♦ ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকা:
- ডেথ ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত।
- ডেথ ভ্যালি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক নিম্নভূমি বা গহ্বর।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু, উষ্ণ এবং শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- অবস্থান: গ্রেট বেসিন ও মোহাভে মরুভূমি এর সীমান্তবর্তী এলাকা।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু স্থান, যার সর্বনিম্ন বিন্দু বেডওয়াটার বেসিন , সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮২ ফুট নিচে।
- এটি বিশ্বের অন্যতম গরমতম স্থান, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়শই ৫০°C ছাড়িয়ে যায়।
- বার্ষিক বৃষ্টিপাত খুবই কম, মাত্র কয়েক ইঞ্চি।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
• চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।
- এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত।
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটি বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলা হয়।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।
উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি (নভেম্বর, ২০২৫) বাংলাদেশের সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাম রাজ্যের ধুবড়ি শহরে ‘লাচিত বোরফুকান নামে একটি সেনাঘাঁটি করছে ভারত সরকার।
তথ্যসূত্র: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
• পঞ্চগড়:
- ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হাজার বছরের গৌরবগাথা আর প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতিমণ্ডিত জেলা পঞ্চগড়।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় 'হিমালয় কন্যা'।
- অবস্থানগত কারণে পঞ্চগড় একটি শীতপ্রবণ জেলা।
- অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এখানে প্রচণ্ড কুয়াশাসহ শীত পড়ে।
- আর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এখানকার তাপমাত্রা ৪-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।
উল্লেখ্য,
- পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন, তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট, বারো আউলিয়ার মাজার, শাহী মসজিদ, সমতল ভূমির আরগনিক চায়ের বাগান, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, আনন্দ ধারা, ভিতরগড় ও মহারাজের দীঘি, বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, গোলক ধাম মন্দির, বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, পাহাড়ি স্বচ্ছ জলের মহানন্দা নদী, পাথর সমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, চতুর্থ চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু, খয়ার বাগানসহ বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল ময়নামতিরচর।
তথ্যসূত্র: পঞ্চগড় জেলার ওয়েবসাইট।
দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল,
- যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
• লাইন অফ কন্ট্রোল:
- LOC এর পূর্ণরূপ: Line of Control.
- লাইন অফ কন্ট্রোল ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রেখা।
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- ভারত-পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে লাইন অফ কন্ট্রোল।
- পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে পৃথক করেছে ডুরান্ড লাইন।
- জার্মানি ও ফ্রান্সকে বিভক্ত করেছে সিগফ্রেড লাইন।
- ভারত ও চীন পৃথক করেছে: লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)।
উৎস: ব্রিটানিকা।
- বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরণা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের একমাত্র শীতল পানির ঝরনা কক্সবাজার হিমছড়িতে অবস্থিত।
- শুভলং ঝরণা রাঙ্গামাটির বরকলে অবস্থিত।
- রিসাং ঝরণা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত ঝরণা বান্দরবানে অবস্থিত।
- তৈদুছড়া ঝরনা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট।
টেকটোনিক প্লেট:
- পৃথিবীর ভূত্বক কোনো স্থির বা শক্ত একক স্তর নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত, যেগুলোকে বলা হয় টেকটোনিক প্লেট।
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক প্রধানত ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত।
⇒ পৃথিবীর ভূত্বক ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো: প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate), উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate), ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), আফ্রিকান প্লেট (African Plate), অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate), ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালা, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতশ্রেণী। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং মেঘনা—এই তিনটি মহান নদী হিমালয় এবং আশেপাশের অন্যান্য পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে এসে মিলিত হয়। এই নদীগুলো প্রচুর পরিমাণে কাদা ও বালু জমা করে। এই সমস্ত পলি দিয়ে গঠিত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ (ডেল্টা)।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে টেকটোনিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি। এটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত: ভারতীয় প্লেট (Indian Plate), ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), এবং বার্মিজ প্লেট (Burmese Plate বা Burma Plate)।
- এই তিনটি প্লেটের সংযোগের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা।
- সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে দেশটি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
উৎস: i) Worldatlas.
ii) AMERICAN MUSEUM NATURAL HISTORY ওয়েবসাইট।
• গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (Tropic of Cancer) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এটি সাধারণত ২১ জুন বা তার আশেপাশের দিনে ঘটে।
- যে দিনে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেই দিনটিকে উত্তর অয়নান্ত (Summer Solstice) বলা হয়।
- এবং উত্তর গোলার্ধে এই দিনের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হয়।
- কর্কটক্রান্তি রেখা ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত এবং এটি সেই উত্তরতম অক্ষাংশ, যেখানে সূর্য সরাসরি মাথার ওপর অবস্থান করতে পারে।
- এই ঘটনা ঘটে কারণ পৃথিবীর অক্ষ টালযুক্ত (axial tilt), যার ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে।
- ফলস্বরূপ, কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যের আলো খাড়াভাবে পড়ে।
উল্লেখ্য,
- উত্তর অয়নান্তের সময় উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ অঞ্চল আলোকিত থাকে।
- এটি গ্রীষ্মকাল নির্দেশ করে।
- এবং ২১ ই জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হিসেবে পরিচিত।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি।
মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
- দ্বীপ সৃষ্টি: ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- আয়তন: ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- এখানে কিছু দর্শনীয় স্থান: আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং।
অপরদিকে,
- শাহপরীর দ্বীপ: টেকনাফের সর্ব দক্ষিণে ভূ-ভাগের খুবই নিকটবর্তী একটি দ্বীপ।
- সেন্টমার্টিন: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ।
- ভোলা: ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।
উৎস: জাতীয় তথ্যবাতায়ন।
◉ ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের দিনাজপুর অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়।
ভূ-গাঠনিক রূপরেখা:
- বাংলাদেশ দুটি প্রধান ভূ-গাঠনিক ইউনিটে বিভক্ত:
ক) উত্তর পশ্চিমের সুস্থিত প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম ও
খ) দক্ষিণ-পূর্বের মহীখাতীয় অববাহিকা।
- হিঞ্জ অঞ্চল (Hinge zone) নামের একটি সংকীর্ণ উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত একটি তৃতীয় ইউনিট দেশের প্রায় মাঝ বরাবর উপরোক্ত দুটি ইউনিটকে বিভক্ত করে রেখেছে।
⇒ সুস্থিত প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- প্রাক-ক্যামব্রীয় আগ্নেয় ও রূপান্তরজ ভিত্তিশিলার উপর সীমিত থেকে মাঝারি পুরুত্ববিশিষ্ট পাললিক শিলার আস্তর এর বৈশিষ্ট্য।
- আপেক্ষিক অর্থে এই ইউনিট ভূতাত্ত্বিকভাবে সুস্থিত এবং ভঙ্গিল বিচলনের (Fold movement) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। কিছু চ্যুতিবেষ্টিত গ্রস্ত-অববাহিকা প্রাক-ক্যামব্রীয় ভিত্তিশিলার আওতাভুক্ত অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।
- এই সব অববাহিকা পার্মিয় যুগের (আজ থেকে ২৮৬-২৪৫ মিলিয়ন বছর আগে) কয়লাবাহী শিলার ইউনিট ধারণ করে।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই সর্বাধিক প্রাচীন পাললিক শিলা।
- বাংলাদেশে প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম দুভাগে বিভক্ত: খুবই অগভীর প্রাক-ক্যামব্রীয় ভিত্তিশিলা (১৩০ থেকে ১০০০ মিটার) বিশিষ্ট উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর অবতল (Rangpur saddle) এবং মাঝারি গভীরতা সম্পন্ন (১-৬ কিমি) দক্ষিণাঞ্চলীয় বগুড়া সোপান। বগুড়া সোপানে পাললিক স্তরসমূহ হিঞ্জ অঞ্চল পর্যন্ত খুব আলতোভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বরাবর নতিশীল এবং এরপর হঠাৎ করে এই ঢাল ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে এবং পাললিক ইউনিটসমূহ অতল গভীরে নেমে দক্ষিণ-পূর্বে গভীর মহীখাতীয় অববাহিকার মধ্যে এসে পড়েছে।
⇒ দক্ষিণ-পূর্বের মহীখাতীয় অববাহিকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ব্যাপক পুরুত্বের (অববাহিকার কেন্দ্রে সর্বাধিক প্রায় ২০ কিমি) ক্লাসটিক পাললিক শিলা (clastic sedimentary rock), যার অধিকাংশ বেলেপাথর ও টারশিয়ারী যুগের কর্দম শিলা।
- বৃহত্তর ঢাকা-ফরিদপুর-নোয়াখালী-সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগর এর অন্তর্গত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯তম সমান্তরাল রেখা (49th parallel north):
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যবর্তী সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি এই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক সীমানা রেখা, যা প্রায় মাইল বিস্তৃত এবং বিশ্বের দীর্ঘতম অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবেও পরিচিত।
- উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।
- এটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাসকাচোয়ান এবং ম্যানিটোবা প্রদেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করে।
- ১৮১৮ সালের অ্যাংলো-আমেরিকান কনভেনশন এবং ১৮৪৬ সালের ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে এই সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।
উৎস: Britannica.