বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

মোট প্রশ্ন১,৬৩৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক ভৌগলিক অঞ্চল, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনীতির গুরুত্ব

PrepBank · পাতা / ১৭ · ৪০১৫০০ / ১,৬৩৯

৪০১.
কোন দেশটির সাথে ভারতের সীমানা রয়েছে?
  1. ক) মালদ্বীপ
  2. খ) শ্রীলংকা
  3. গ) তাইওয়ান
  4. ঘ) আফগানিস্তান 
ব্যাখ্যা
⇨ ভারতের মোট সীমান্তবর্তী এলাকা ১৫১০৬.৭ কি.মি.
⇨ ভারতের সাথে মোট ৭টি দেশের সীমানা রয়েছে। এগুলো হলো:-
১। বাংলাদেশ 
২। চীন 
৩। পাকিস্তান 
৪। নেপাল 
৫। মায়ানমার 
৬। ভুটান 
৭। আফগানিস্তান 

তথ্যসূত্র:- https://www.mha.gov.in/sites/default/files/BMIntro-1011.pdf
৪০২.
ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে কোন সমভূমি গঠিত?
  1. বদ্বীপ সমভূমি
  2. পাদদেশীয় সমভূমি
  3. স্রোতজ বনভূমি
  4. উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছে।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি:  হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।

• বন্যাপ্রবণ সমভূমি: ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।

• স্রোতজ সমভূমি:  খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

• উপকূলীয় সমভূমি:  নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।  এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।

• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে, তাদের বলে-
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) উপগ্রহ
  3. গ) নক্ষত্র
  4. ঘ) মহাকাশ
ব্যাখ্যা
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলাে আছে তাদের নক্ষত্র বলে। নক্ষত্রগুলাে হলাে জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
৪০৪.
‘মশালডাঙ্গা’ ছিটমহলটি কোন জেলায় অবস্থিত ছিলো?
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) নীলফামারি
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

ভারতীয় অংশে বাংলাদেশের ছিটমহল...
কুচবিহার - ৪৭
জলপাইগুড়ি - ৪

বাংলাদেশ অংশে ভারতের ছিটমহল...
লালমনিরহাট - ৫৯
পঞ্চগড় - ৩৬
কুড়িগ্রাম - ১২
নীলফামারি - ৪
দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছিটমহল লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত।
মশালডাঙ্গা ছিটমহল কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

৪০৫.
নিম্নের কোনটি ইউরেশিয়ান রাষ্ট্র?
  1. বুলগেরিয়া
  2. ইরাক
  3. তুরস্ক
  4. লেবানন
ব্যাখ্যা
তুরস্ক:
- বর্তমানে দেশটি তুর্কিয়ে (TURKIYE) প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- আগে দেশটি ‘তুর্কি’ নামে পরিচিত ছিল।
- এক সময়ে অটোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তুরস্ক।
- কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে দেশটি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে।
- তুরস্কের বেশিরভাগ অংশ এশিয়া ও কিছু অংশ ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- রাজধানী: আঙ্কারা।
- বৃহত্তম নগরী ইস্তাম্বুল।
- মুদ্রা: লিরা।

উল্লেখ্য,
- তুরস্ককে বলা হয় ইউরেশিয়ান রাষ্ট্র
- এর ইস্তানবুল শহরের একাংশ পড়েছে ইউরোপে এবং বাকি অংশ পড়েছে এশিয়ায়।
- এটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে বসফরাস প্রণালী দ্বারা।
- তাই ইস্তানবুল শহরকে ইউরেশিয়ান শহর বলা হয়।
- ইস্তানবুল শহরের পূর্বনাম কনস্ট্যান্টিনোপল।

অন্যদিকে,
- বুলগেরিয়া ইউরোপ উপমহাদেশর দেশ।
- ইরাক এশিয়া উপমহাদেশর দেশ।
- লেবানন এশিয়া উপমহাদেশর দেশ।

উৎস: Britannica.
৪০৬.
হিন্দুকুশ পর্বতমালা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ভারত
  2. আফগানিস্তান
  3. কাজাখস্তান
  4. নেপাল
ব্যাখ্যা

- হিন্দুকুশ পর্বতমালা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে অবস্থিত একটি পর্বতমালা।

হিন্দুকুশ পর্বত:

- হিন্দুকুশ পর্বতমালা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে অবস্থিত একটি পর্বতমালা।
- পর্বতমালাটির সিংহ ভাগ উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে অবস্থিত।
- হিন্দুকুশ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন মধ্যযুগীয় পরিব্রাজক ইবনে বতুতা।
- এটি হিমালয় পর্বতের একটি অংশ।
- এটি প্রায় ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ এবং ১৫০ মাইল (২৪০ কিমি) চওড়া।
- পর্বতটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তিরিচমির (৭৬৯০ মিটার) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বর্ডারের নিকটে অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪০৭.
সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?  
  1. মাটিরাঙ্গা, খাগড়াছড়ি 
  2. রুমা,  বান্দরবান
  3.  জাফলং, সিলেট
  4.  মিরসরাই, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা:
- সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা সিলেটের জাফলং-এ অবস্থিত।
- এটি জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ১ কিমি পশ্চিমে, খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। 
- এর স্থানীয় নাম মায়াবী ঝর্ণা।
- এই অবিরাম ধারার মোট তিনটি ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় ধাপে এমন একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যার অন্য প্রান্ত এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।

তথ্যসূত্র: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

৪০৮.
'অরুণাচল প্রদেশ' কোথায় অবস্থিত?
  1. উত্তর-পূর্ব ভারতে
  2. উত্তর-পশ্চিম ভারতে
  3. দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে
ব্যাখ্যা
অরুণাচল প্রদেশ:
- অরুণাচল প্রদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি অঙ্গরাজ্য।
- এর দক্ষিণে আসাম, পশ্চিমে ভুটান, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে চীন, এবং পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দেশসমূহ।
- অরুণাচল রাজ্যের রাজধানী: ইটানগর।
- এই রাজ্যের প্রধান নদী হল ব্রক্ষপু্ত্র যা অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
৪০৯.
পদ্মা ও মেঘনা একত্রে কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) মাওয়া
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) মুন্সীগঞ্জ
  4. ঘ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মেঘনা: 
- আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। 
- আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। 
- মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চল হচ্ছে ২৯,৭৮৫ বর্গকিলােমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১০.
দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর-
  1. পেট্রাপোল
  2. কৃষ্ণনগর
  3. মোহাদিপুর
  4. ডাউকি
ব্যাখ্যা

- চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর স্থলবন্দর।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোর জেলার বেনাপোল সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর পেট্রাপোল।
- সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মোহাদিপুর স্থলবন্দর।

৪১১.
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কোনটি?
  1. প্রাইয়া দো ক্যাসিনো
  2. পাদ্রে আইল্যান্ড ন্যাশনাল সি-শোর
  3. নাইনটি মাইল বিচ
  4. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
ব্যাখ্যা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত:
- বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
- ইংরেজ ক্যাপ্টেন মি. হেরাম কক্স (Captain Hiram Coxs)-এর নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয় কক্সবাজার।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার বা ৭৫ মাইল।
- বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এটি।
- এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ‘প্রাকৃতিক বালুর’ ও অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত বলা হয়। 
- সমুদ্রের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সংরক্ষিত বনভূমি সমৃদ্ধ ৯৬ কিলোমিটার পাহাড়ের সারি এখানকার অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বলে বিবেচিত।
- সমুদ্র সৈকতের পথ ধরে ১০-১২ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে হিমছড়ি পিকনিক স্পট।
- এখানকার ঝর্ণা, ঝাউবন, পাহাড় আর বনানীর সৌন্দর্য্য চিত্তাকর্ষক। কক্সবাজারের সন্নিকটেই বৌদ্ধ তীর্থস্থান রামু।
- কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্র মাঝে রয়েছে মহেশখালী দ্বীপ।

অন্যদিকে,
- প্রাইয়া দো ক্যাসিনো: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এটি। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রসৈকত প্রাইয়া দো ক্যাসিনো। দৈর্ঘ্যে এটি প্রায় ১৫০ মাইলের বেশি। 
- নাইনটি মাইল বিচ: এটা বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। এ সমুদ্রসৈকতের দৈর্ঘ্য ৯০ মাইল। সৈকতটি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায়।
- পাদ্রে আইল্যান্ড ন্যাশনাল সি-শোর: যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত পাদ্রে আইল্যান্ড ন্যাশনাল সি-শোর। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণে এর অবস্থান। সৈকতের দৈর্ঘ্য ৭০ মাইল। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের স্বীকৃতি পেয়েছে পাদ্রে আইল্যান্ড। 

উৎস: i) প্রথম আলো
ii) BBC.
৪১২.
ভারতের বিন্ধ্যা কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয়
  2. সঞ্চিত
  3. ভঙ্গিল
  4. চ্যুতি-স্তূপ
ব্যাখ্যা
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত:
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়।
- এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
⇒ কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়। ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে।
- ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়।
- চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে।

⇒ ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যূতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত নয় –
  1. ক) মেঘালয়
  2. খ) মিজোরাম
  3. গ) আসাম
  4. ঘ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য অবস্থিত। উত্তরে মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। তবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নয় এরূপ ভারতের মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল রাজ্য বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত। (সূত্রঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং বাংলাপিডিয়া)
৪১৪.
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের সর্ব নিম্নভাগ হচ্ছে -
  1. হাইল হাওর
  2. হাকালুকি হাওর
  3. টাংঙ্গুয়া হাওর
  4. বুরবুক হাওর
ব্যাখ্যা
হাওড় অঞ্চল মূলতঃ সিলেটের উত্তর পূর্বাংশের পাহাড়ি অঞ্চল ব্যতীত পুরো এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৪৫০৫.২০ বর্গ কি. মি.।
সসার আকৃতির নিম্নভূমি গত ২০০ বছরে প্রায় ৯ থেকে ১২ মিটার নিচে ডেবে গেছে।
হাওড় অঞ্চলটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: মধ্যভাগ, সুসাং অঞ্চল, মেঘালয়, পাদভূমি অঞ্চল এবং সিলেটের মধ্যভাগের নিম্নভূমি।
মধ্যভাগের উচ্চতা সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি।
এ অঞ্চলে বিল ও হাওড়ের বিন্যাস নদীর বিচ্ছিন্ন অংশ, প্রাকৃতিক বাঁধ, নিচু চর ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত।
উচু পাড়গুলিকে কান্দা বলে। সুসাং অঞ্চলে সুসাং পাদদেশিয় সমভূমি এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র  প্লাবন ভূমির মাঝখানে নিম্নভূমি আছে যা বন্যার সময় গভীর পানিতে মগ্ন হয়। মেঘালয় পাদভূমির অঞ্চলে রক্ষা নদী থেকে লুবা নদী পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও হাওড় অঞ্চলের অন্তর্গত।
এখানে সর্বনিম্ন ভাগ হচ্ছে টাঙ্গুয়া হাওড় এলাকা। মধ্য সিলেটের হাওড় সমূহের মধ্যে হাকালুকি হাওড় অন্যতম।
জুরি ও কুশিয়ারা নদী বাহিত পলি দ্বারা এ হাওড় দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

উৎস: এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৫.
ভৌগোলিকভাবে 'গুয়াম' বা 'মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ' কোথায় অবস্থিত?
  1. পলিনেশিয়া
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. মিলেনেশিয়া
  4. মাইক্রোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোনেশিয়া:
- মাইক্রোনেশিয়া পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- মাইক্রোনেশিয়া বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- বৃহত্তম দ্বীপ গুয়াম মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত, যার পরিমাপ ৫৬১ বর্গ কিমি।
- গুয়াম মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত দ্বীপ যা গুয়াম এবং উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ উভয়ই নিয়ে গঠিত।
- মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে ক্যারোলিন দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে, যেখানে মোট প্রায় ৫০০টি প্রবাল দ্বীপ রয়েছে।
- ক্যারোলিন দ্বীপপুঞ্জ দুটি দেশ, ফেডারেটেড স্টেটস অফ মাইক্রোনেশিয়া এবং পালাউ নিয়ে গঠিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৪১৬.
নিচের কোন জেলায় ক্রান্তীয়  চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি দেখা যায়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল 
  3. রাঙামাটি 
  4. দিনাজপুর 
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪১৭.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রংপুর
  3. খুলনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
→ চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
→ খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
→ রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
→ রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
→ ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
→ সিলেট বিভাগের সবগুলো জেলাই সীমান্ত সংলগ্ন। জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
 
তথ্যসূত্র: ডিএমপি নিউজ (সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০)।
৪১৮.
কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. ক) মৌসুমী বায়ু
  2. খ) নিয়ত বায়ু
  3. গ) মেরু বায়ু
  4. ঘ) সায়মুম বায়ু
ব্যাখ্যা
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে সৃষ্ট বায়ু স্থানীয় বায়ু নামে পরিচিত।
স্থানীয় বায়ুসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সায়মুম : আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু
- খামসিন : মিশর
- চিনুক : রকি পর্বত
- সিরক্কো : উ. আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালি
- মিস্ট্রাল : ফ্রান্সের মালভূমি
- পাম্পেরু : আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে
- লু : ভারত প্রভৃতি।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪১৯.
Which Indian state is located north of Bangladesh?
  1. ক) Meghalaya
  2. খ) West Bengal
  3. গ) Tripura
  4. ঘ) Nagaland
ব্যাখ্যা

-- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত  বঙ্গোপসাগর।
-- বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের- পশ্চিমবঙ্গ।
--  বাংলাদেশের উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য
-- পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২০.
মিয়ানমারের কোন দুইটি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী?
  1. কাচিন ও রাখাইন
  2. রাখাইন ও শান
  3. রাখাইন ও চিন
  4. কাচিন ও কায়াহ
ব্যাখ্যা
মিয়ানমার:
- দেশটি বার্মা নামেও পরিচিত।
- রাজধানী: নেপিদো।
- মুদ্রা: কিয়াট।
- প্রধান ভাষা: বার্মিজ।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: মিন্ট সোয়ে।
- সীমান্তরক্ষী বাহিনী: বর্ডার গার্ড পুলিশ (BGP)।
- মিয়ানমারের জাতীয় সংসদ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট।

⇒ প্রশাসনিকভাবে, মিয়ানমার সাতটি রাজ্য, সাতটি অঞ্চল এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত (Nay Pyi Taw)। রাজ্যগুলো হল:
১. কাচিন রাজ্য- (রাজধানী: কাচিন)।
২. কায়াহ রাজ্য- (রাজধানী: লোপেইয়া)।
৩. কিন্টা রাজ্য- (রাজধানী: হেপি)।
৪. চিন রাজ্য- (রাজধানী: হাক্কা)।
৫. মোন রাজ্য- (রাজধানী: মারগু)।
৬. রাখাইন রাজ্য- (রাজধানী: সিতওয়ে)।
৭. শান রাজ্য- (রাজধানী: তালিঙ্গি)।

উল্লেখ্য,
- মিয়ানমারের দুইটি রাজ্য রাখাইন ও চিন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের ২৭১ বর্গকিলোমিটার-এর সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ৩টি জেলা হলো রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।

উৎস: Britannica.
৪২১.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের মোট কয়টি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
  1. ৪ টি 
  2. ৫ টি 
  3. ৬ টি 
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।

এগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ
- আসাম
- মেঘালয়
- ত্রিপুরা এবং
- মিজোরাম৷
এর মধ্যে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম হলো সেভেন সিস্টার্সভুক্ত।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি জেলার যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪২২.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদী?
  1. রায়মঙ্গল
  2. ঘোড়ামারা
  3. সোনাই
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers):
- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে। 
- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers) রয়েছে। 
- নদী গুলো হল: রায়মঙ্গল, ইছামতী-কালিন্দী, বেতনা-কোদালিয়া, ভৈরব-কপোতাক্ষ, মাথাভাঙ্গা, গঙ্গা, পাগলা, আত্রাই, পুনর্ভবা, তেতুলিয়া, টাংগন, কুলিক বা কোকিল, নাগর, মহানন্দা, ডাহুক, করতোয়া, তালমা, ঘোড়ামারা, দিওনাই-যমুনেশ্বরী, বুড়িতিস্তা, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, চিল্লাখালি, ভোগাই, সোমেশ্বরী, দামালিয়া/যালুখালী, নয়াগাঙ, উমিয়াম, যাদুকাটা, ধলা, পিয়াইন, শারি-গোয়াইন, সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই-বারদল, জুরি, মনু, ধলাই, লংলা, খোয়াই, সুতাং, সোনাই, হাওড়া, বিজনী, সালদা, গোমতী, কাকরাই-ডাকাতিয়া, সিলোনিয়া, মুহুরী, ফেনী, কর্ণফুলি, নিতাই, সাংগু, মাতামুহুরী, এবং নাফ।
- বাংলাদেশ-ভারত আন্ত:সীমান্ত নদী হল ৫৪টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্ত:সীমান্ত নদী হল ৩টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪২৩.
ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোন রেখাটি বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে?
  1. আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা
  2.  মূল মধ্যরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

- ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে গেছে।

• ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৪২৪.
'চর কুকড়ি মুকড়ি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. নোয়াখালী
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪২৫.
সমুদ্র সমতল থেকে কোন শীলাস্তুপ কমপক্ষে কত মিটার উচু হলে একে পর্বত বলা যাবে?
  1. ক) ৫০০
  2. খ) ৬০০
  3. গ) ৯০০
  4. ঘ) ১০০১
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উচু ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শীলাস্তুপকে পর্বত বলে।
সাধারণত ৬০০ - ১০০০ মিটার উচু, স্বল্পবিস্তৃত শীলাস্তুপকে পাহাড় বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় কত বর্গকিলোমিটার?
  1. ৫,২০৯ বর্গ কিলোমিটার
  2. ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  3. ৭,৫৪৮ বর্গ কিলোমিটার
  4. ৮,৪৯২ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন  বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত গরান বনভূমি (mangrove forest)।
- কর্কটক্রান্তির সামান্য দক্ষিণে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূল ধরে বিস্তৃত ২১°৩০´-২২°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০০´-৮৯°৫৫´ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যবর্তী স্থানে এ বনের অবস্থান।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশ এ বনভূমিকে চিহ্নিত করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি উলে­খযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর পরিমাণ মধু, মোম ও মাছ।
- সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত।
- পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট বড় দ্বীপ ছড়িয়ে আছে সুন্দরবনে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪২৭.
লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. কঙ্গো
  4. জিম্বাবুয়ে
ব্যাখ্যা

লিভিংস্টোন জলপ্রপাত:
- লিভিংস্টোন জলপ্রপাত গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর একটি বিশাল জলপ্রপাতের ধারা যা কঙ্গোর কিনশাসা এবং মাটাডি শহরের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর নিম্ন প্রবাহে অবস্থিত।
- এই জলপ্রপাতটি ৩৫০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ৩২টি ছোট-বড় জলপ্রপাত এবং র‌্যাপিডের সমন্বয়ে গঠিত।

এছাড়াও, স্ট্যানলি জলপ্রপাত:
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতিত হয় ।
- এটি বর্তমানে বোয়ামা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- স্টবাক জলপ্রপাত: সুইজারল্যান্ড।
- অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত: ভেনিজুয়েলা।
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে।

উৎস: Britannica.

৪২৮.
কোনটি গোলাপি শহর নামে পরিচিত?
  1. লক্ষ্ণৌ
  2. যোধপুর
  3. আহমেদাবাদ
  4. জয়পুর
ব্যাখ্যা
জয়পুর: 
- জয়পুর ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
- ১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসকে শহরে স্বাগত জানাতে মহারাজা রাম সিং শহরটিকে গোলাপী রঙে সাজিয়ে তুলেছিলেন। 
- লর্ড অ্যালবার্ট প্রথমবারের মতো ‘pink city’ নামটি ব্যবহার করেন
- এইভাবেই শহরের আরেক নাম পিংক সিটি বা গোলাপী শহর নামে পরিচিত হয়।

উৎস: রাজস্থানের ট্যুরিজমের ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
৪২৯.
“পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয় কাকে?
  1. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
  2. আমাজন রেইনফরেস্ট
  3. কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক
  4. সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ
ব্যাখ্যা
আমাজন রেইনফরেস্ট:
- আমাজন রেইনফরেস্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনের নাম।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজন রেইনফরেস্ট পৃথিবীর ২০% অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- আমাজন রেইনফরেস্টকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

উল্লেখ্য, 
- কঙ্গো রেইনফরেস্ট: কঙ্গো রেইনফরেস্ট পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। এটি পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত।
- কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক: মালয়েশিয়ায় অবস্থিত কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক ২০০০ সালে ইউনেসকো দ্বারা ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ: শ্রীলঙ্কার সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ ১৯৭৮ সালে ইউনেসকো দ্বারা অভয়ারণ্য এবং ১৯৯৮ সালে জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৪৩০.
বাংলাদেশে কোন স্টেশনে সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়?
  1. সিলেট
  2. কক্সবাজার
  3. সন্দ্বীপ
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সিলেটে সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। 

বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি:

- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান তিনটি প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্য পরিলক্ষিত হয়। যথা: শীতকাল, গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকাল।
- সাধারণত বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
- আবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে বাংলাদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুও বলা হয়।

⇒ বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বাংলাদেশে সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত রাজশাহী অঞ্চলের লালপুরে (১১৭.৫ সেন্টিমিটার) এবং সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত সিলেট অঞ্চলের লালাখালে (৬৩৭.৫ সেন্টিমিটার) পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৩১.
কোন বিভাগের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. খুলনা
  2. রংপুর
  3. বরিশাল
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো – আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে যে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে এগুলো হলো: রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা। ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলাও রাঙামাটি।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৩২.
আয়তনে দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশের বৃহত্তম দেশ কোনটি?
  1. পেরু
  2. ব্রাজিল
  3. চিলি
  4. কলম্বিয়া
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম।
- স্বাধীন দেশ - ১২ টি।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশ  - ১২ টি
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ। 
 
তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
৪৩৩.
পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী কোনটি?
  1. ক) আন্দিজ পর্বতমালা
  2. খ) হিমালয় পর্বতমালা
  3. গ) কারাকোরাম পর্বতমালা
  4. ঘ) রকি পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী হলো উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা।
- এই পর্বতমালা ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
- কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়েছে।

• পর্বতমালা:

- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী হলো দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার সাতটি দেশজুড়ে বিস্তৃত।

- দৈর্ঘ্যে বিশ্বে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে  হিমালয় পর্বতমালা।
- তবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ ‘মাউন্ট এভারেস্ট’ হিমালয়ে অবস্থিত।
- কারাকোরাম পর্বত অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ায়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৪৩৪.
দেশে প্রথমবারের মতো কোন জেলার জলাভূমিকে ‘জলাভূমি–নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করেছে সরকার?
  1. রাজশাহী
  2. কুমিল্লা
  3. ময়মনসিংহ
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
- দেশে প্রথমবারের মতো রাজশাহী জেলার দুটি জলাভূমিকে ‘জলাভূমি–নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করেছে সরকার।
 - পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন শাখা-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

• অভয়ারণ্য দুটি হলো রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলজোয়ানা মৌজার ১ দশমিক ৬৫ একর জলাভূমি।
এবং গোদাগাড়ী উপজেলার বিলভালা মৌজার ১৫ দশমিক শূন্য ৮ একর জলাভূমি।

-  জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানবসৃষ্ট চাপে এই জলাভূমির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।
- অভয়ারণ্য ঘোষণার ফলে এখন থেকে এই এলাকাগুলোতে পাখি ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত হবে।
- একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য শিক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হবে।

উৎস: প্রথম আলো লিংক
৪৩৫.
বান্দরবান, খাগড়াছড়ি অঞ্চলের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. ক) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. খ) প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  3. গ) সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার ।

• ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, 
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
⇒ রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
- এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়।
  এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ,
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়। 
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
- প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
'পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি'র ২৫ বছর পূর্তি হয় -
  1. ক) ২ ডিসেম্বর, ২০২০ সালে
  2. খ) ২ ডিসেম্বর, ২০২১ সালে
  3. গ) ২ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে
  4. ঘ) ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
• পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি:
- ২ ডিসেম্বর ২০২২ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি’।
- বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
- পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি’।

 উৎস: লাইভ এম সি কিউ সাম্প্রতিক সমাচার ও প্রথম আলো।
৪৩৭.
মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা কোনটি?
  1. পঞ্চগড়
  2. খুলনা
  3. যশোর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:

- বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে - 
 → একটি ভারত এবং
 → অপরটি মিয়ানমার।

 → ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা -৩২টি।
 → ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সংযোগ রয়েছে।
 → মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত থাকা জেলাগুলো হলো - কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
 → ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
বাংলাদেশের কোথায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় দেখা যায়?
  1. কুমিল্লা
  2. গাজীপুর
  3. রাঙামাটি
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

অন্যদিকে -
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৯.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোন মহাসাগরের উপর দিয়ে গেছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৪০.
ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নয় কোনটি?
  1. অরুণাচল
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
ব্যাখ্যা
⇒ সেভেন সিস্টার্সের অরুণাচল রাজ্যটির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলো হচ্ছে - আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড।
- ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নয় মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল রাজ্য।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৪৪১.
বাংলাদেশের মোট সীমানা কত?
  1. ক) ৫১৩৮ কিলোমিটার
  2. খ) ৫১৫০ কিলোমিটার
  3. গ) ৫১৪৪ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৫১৪০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা - ৫১৩৮কি.মি.[সূত্র:বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ],৪৭১২ কি.মি. [সূত্র:মাধ্যমিক ভূগোল]
বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা - ৪৪২৭ কি.মি.[সূত্র:বি.জি.বি.] ,৩৯৯৫কি.মি. [সূত্র:মাধ্যমিক ভূগোল]
বাংলাদেশ-ভারত সীমারেখা - ৪১৫৬কি.মি. [সূত্র:বি.জি.বি.], ৩৭২৫কি.মি. [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমারেখা - ২৭১কি.মি.[সূত্র:বি.জি.বি.], ২৮০কি.মি.[সূত্র:মাধ্যমিক ভূগোল]
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা - ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪ কি.মি.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা - ১২ নটিক্যাল মাইল
৪৪২.
পলিনেশিয়া (Polynesia) — অঞ্চলের অন্তর্গত দেশ কোনটি?
  1. টোঙ্গা
  2. অস্ট্রেলিয়া 
  3. ভানুয়াতু
  4. কিরিবাতি
ব্যাখ্যা

ওশেনিয়া (Oceania):
- ওশেনিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। 
- মহাদেশটি অসংখ্য ছোট-বড় দ্বীপ ও একটি প্রধান মূলভূমি—Australia—নিয়ে গঠিত।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মহাদেশ হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে মোট ১৪টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে।
- আয়তন ও জনসংখ্যা—উভয় দিক থেকেই অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়ার বৃহত্তম দেশ।
- অন্যদিকে, আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট দেশ হলো Nauru।
- আর জনসংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে ছোট দেশ Tuvalu।
- অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি New Zealand-ও এই অঞ্চলের অন্যতম উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।

• ওশেনিয়াকে সাধারণত চারটি অংশে ভাগ করা হয়: 
- অস্ট্রালাসিয়া — (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড);
- মেলানেশিয়া (Melanesia) — ফিজি, নিউ গিনি, ভানুয়াতু; 
-  মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia) — কিরিবাতি, নাউরু, পালাউ;
- পলিনেশিয়া (Polynesia) — নিউজিল্যান্ড, টোঙ্গা, সামোয়া, হাওয়াই। 

উৎস: Britannica. 

৪৪৩.
সেভেন সিসটার্স ভুক্ত কয়টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে?
  1. ক) ৫ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৬ টি
  4. ঘ) ৪ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত চারটি রাজ্যসহ মোট ৫টি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ
- আসাম
- মেঘালয়
- ত্রিপুরা এবং
- মিজোরাম৷
এর মধ্যে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম হলো সেভেন সিস্টার্সভুক্ত।
সেভেন সিস্টার্সভুক্ত মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৪৪৪.
বাংলাদেশের প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রধান ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল: 
ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় –
১) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২) প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও
৩) সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।

সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- বছরের পর বছর বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৫.
সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ১৬ মার্চ, ১৯৭৪ সালে।
  2. ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
  3. ১৬ জুন, ১৯৭৪ সালে।
  4. ১৬ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
ব্যাখ্যা
মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি:
- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি‌।
- ৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে।
- এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।

উৎস: Live MCQ Lecture এবং প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদন। লিঙ্ক
৪৪৬.
'ফকল্যান্ড দ্বীপ' কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আমেরিকা
  2. খ) উত্তর আমেরিকা
  3. গ) আফ্রিকা
  4. ঘ) এশিয়া
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ আমেরিকা: 
- আয়তনে চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকা।
- এ মহাদেশ দেখতে ত্রিকোণোকৃতির । 
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান সেরো আকাঙ্কাগুয়া। 
- ফকল্যান্ড দ্বীপ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আটলান্টিক সাগরে অবস্থিত বিরোধপূর্ণ ফকল্যান্ড দ্বীপকে আর্জেন্টিনার সমুদ্রসীমার অংশ বলে রায় দিয়েছে জাতিসংঘের মহিসোপানের সীমা নির্ধারণবিষয়ক কমিশন।
- জাতিসংঘের ঘোষণার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার সমুদ্র এলাকা ১৭ লাখ বর্গ কিলোমিটার বেড়েছে। 

অন্যদিকে,
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত। 
- এর মধ্যে আয়তনে বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল। যার আয়তন ৮৫,১৫,৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ক্ষুদ্রতম দেশ সুরিনাম। 
- ফকল্যান্ড দ্বীপ এ মহাদেশে অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী 'আমাজন'।
- আমাজন নদীর উৎস স্থল আন্দিজ নেভাদা মিসমি পর্বতের চূড়া থেকে।
- এ মহাদেশের অন্তর্গত ইকুয়েডরকে ‘চির বসন্তের দেশ' বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও World Atlas এবং প্রথম আলো পত্রিকা নিউজ।
৪৪৭.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ৩০
  2. ৩২
  3. ৩৩
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
-  মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৪৮.
'ফালুজা' শহরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিরিয়া
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) লিবিয়া
ব্যাখ্যা
ফালুজা শহরটি ইরাকে অবস্থিত।
অপরদিকে -
- দামেস্ক, আলেপ্পো, পালমিরা, ইদলিব ও কোবানি শহরগুলো সিরিয়ায় অবস্থিত।

এছাড়াও -
- কানকুন শহরটি মেক্সিকোতে অবস্থিত।
- ক্রেমলিন শহরটি মস্কোতে অবস্থিত।
- গুয়ান্তানামো বে বন্দিশালা কিউবায় অবস্থিত।
- তাহরিয়ার স্কোয়ার কায়রো, মিশরে অবস্থিত।
- ট্রাফালগার স্কোয়ার শহরটি লন্ডনে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৪৯.
কবে দিন-রাত্রি সমান হয়?
  1. ২৩শে সেপ্টেম্বর
  2. ২১শে জুন
  3. ২১শে মার্চ
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
২৩শে সেপ্টেম্বর:
- ২১শে জুনের পর উত্তর মেরু সূর্য থেকে দূরে সরতে থাকে এবং দক্ষিণ মেরু নিকটে আসতে থাকে।
- এতে উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিন ছোটো ও রাত বড়ো এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দিন বড়ো ও রাত ছোটো হতে থাকে।
- ২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবী এমন এক স্থানে অবস্থান করে যখন উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে।
- এই দিন সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে (৯০° কোণে) সুমেরুবৃত্তে ও কুমেরুবৃত্তে ৬৬.৫° কোণে এবং মেরুদ্বয়ে ০° কোণে পতিত হয়।
- তাই ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান হয়।

২১শে মার্চ:
- ২২শে ডিসেম্বরের পর পৃথিবী আপন কক্ষপথে আরও অগ্রসর হলে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের নিকট আসে এবং দক্ষিণ মেরু দূরে সরে যায়।
- এতে উত্তর গোলার্ধে দিন বড়ো ও রাত ছোটো হতে থাকে।
- অবশেষে ২১শে মার্চ পৃথিবী আপন কক্ষপথের এমন এক স্থানে পৌঁছে যেখানে উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে।
- ২১শে মার্চের দিন ২৩শে সেপ্টেম্বরের মতো দিবা-রাত্রি সমান হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৫০.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবনের জন্য বিখ্যাত?
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
  2. সিলেট অঞ্চলের বনভূমি
  3. উপকূলীয় বনভূমি
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বনভূমি:
- বাংলাদেশের বনভূমিকে প্রধানত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি ও গরান বা স্রোতজ বনভূমি (সুন্দরবন) এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গ কিলোমিটার।
- শাল জাতীয় এক ধরনের গজারী এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ।
• পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
• উপকূলীয় অঞ্চল যেমন -  খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ বন বিভাগের ওয়েবসাইট।

৪৫১.
দারফুর হলো____একটি অঞ্চলের নাম।
  1. সুদানের
  2. উগান্ডার
  3. সিরিয়ার
  4. ইয়েমেনের
ব্যাখ্যা

• দারফুর হলো সুদানের একটি অঞ্চল। 

- এখানে ২০০৩ থেকে চলমান দারফুর সংকট এখনও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
- ২০২৩ থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও RSF গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে, যার কারণে নাগরিক হতাহত, শরণার্থী বৃদ্ধি এবং জীবিকা হুমকির মুখে।
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি নজরকাড়া কারণ এখানে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে এবং ICC তদন্ত করছে।
- ভূগোল ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দারফুর সুদানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৫২.
’কালপুরুষ’ কী?
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. অধিবাসী
  3. প্রণালী
  4. চিত্রকর্ম
ব্যাখ্যা
• নক্ষত্রমণ্ডলী (Constellation):
- মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় কয়েকটি নক্ষত্র বিশেষ আকৃতিতে মিলে জোট বেঁধেছে।
- এভাবে আমাদের পরিচিত আকৃতিতে দেখা নক্ষত্রদলকে নক্ষত্রমণ্ডলী বলে। প্রাচীনকালে
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক একটি নক্ষত্রদলকেকাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করে বিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করে বিভিন্ন নামদিয়েছেন।
- এদের কোনোটা দেখতে ভল্লুকের মতো, কোনোটা শিকারির মতো।
- এদের মধ্যে সপ্তর্ষিমন্ডল (GreatBear),
- কালপুরুষ (Orion),
- ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia),
- লঘুসপ্তর্ষি (Little Bear), বৃহৎ কুকুরমণ্ডল (Canis Major) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• কালপুরুষ:
- আকাশের সবচেয়ে পরিচিত তারামন্ডল হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- এই মন্ডলটি খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
- শিকারী নামে সুপরিচিত এই মন্ডলের উল্লেখযোগ্য তারাগুলো মহাকাশের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করায় পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে একে দেখা যায়।
- উত্তর গোলার্ধে শীত শেষ সময় হতে বসন্তের প্রাথমিক সময় পর্যন্ত কালপুরুষ মন্ডলটি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৫৩.
আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ কোনটি?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে।
এর মধ্যে আয়তনে:
- সবচেয়ে বড় : চট্টগ্রাম বিভাগ (৩৩,৯০৪ বর্গ কিমি)
- সবচেয়ে ছোট : ময়মনসিংহ বিভাগ (১০,৫৫২ বর্গ কিমি)।
জনসংখ্যায়:
- সবচেয়ে বড় : ঢাকা বিভাগ
- সবচেয়ে ছোট : বরিশাল বিভাগ
- সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৩টি
- সবচেয়ে কম ৪টি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।
(তথ্যসূত্রঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৪৫৪.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য কত?
  1. ২০০ কি.মি
  2. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  3. ১৫৫ কি.মি
  4. ১২ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের আয়তন: ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি.।
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ: বাংলাদেশ।
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলে অবস্থিত।
- সমুদ্রতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে ঢাকার উচ্চতা ২৫ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে নারায়নগঞ্জ এবং রাজশাহীর উচ্চতা ৮ মিটার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫,১৩৮ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা  উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৫৫.
'ট্রপিক অব ক্যান্সার' বাংলাদেশের কোন দিকে অতিক্রম করেছে?
  1. পূর্ব-পশ্চিমে
  2. পূর্ব-দক্ষিণে
  3. উত্তর-দক্ষিণে
  4. উত্তর-পশ্চিমে
ব্যাখ্যা
'ট্রপিক অব ক্যান্সার' বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিমে অতিক্রম করেছে।

ট্রপিক অব ক্যান্সার:

- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে -
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের জেলা-
  1. ফেনী
  2. কক্সবাজার
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:

- সর্ব উত্তরে - পঞ্চগড়(জেলা), - তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
- সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
- সর্ব পূর্বে - বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং (স্থান)। 
- সর্ব দক্ষিণে - কক্সবাজার (জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন (ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৫৭.
সনোরা লাইন কোন দুটি দেশের সীমানা নির্দেশ করে?
  1. আর্জেন্টিনা ও চিলি
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  3. ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে
  4. কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

• সনোরা লাইন:
- সনোরা লাইন হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোকে বিভক্তকারী একটি আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
- সোনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যবর্তী সীমানার দক্ষিণাংশ।
- এই সীমান্ত অ্যারিজোনা রাজ্য (যুক্তরাষ্ট্র) ও সোনোরা রাজ্য (মেক্সিকো)-এর মধ্যে অবস্থিত।
- এই সীমান্ত অংশটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এখানে বৈধ ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম, বাণিজ্য ও অভিবাসন কার্যক্রম নিয়মিত ঘটে।

অন্যদিকে,
• আর্জেন্টিনা ও চিলি: এদের মধ্যে আন্দিজ পর্বতমালা সীমান্ত হিসেবে কাজ কর
• ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে: এদের মধ্যে সীমান্তের প্রধান অংশ পারানা নদী দ্বারা নির্ধারিত।
• কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র: এদের মধ্যে ৪৯° অক্ষাংশ বরাবর দীর্ঘতম শান্তিপূর্ণ সীমান্ত আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৫৮.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ কোথায় সর্বাপেক্ষা কম?
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ৯০° উত্তর অক্ষাংশে
  3. ২২.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা (Equator):
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত।
- ভূ-গোলককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা।
- নিরক্ষরেখার মান হলো ০°।
- এই অক্ষরেখার অপর নামসমূহ হলো বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাধিক।

অন্যদিকে,
⇒ ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে আহ্নিক গতি সর্বাপেক্ষা কম।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।
- অন্যদিকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা কম তাই এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা কম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৯.
বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় কোন বায়ুর প্রভাবে?
  1. ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
  2. খ) উত্তর-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
  3. গ) দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
  4. ঘ) উত্তর-পশ্চিম অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৬০.
'চর আলেকজান্ডার' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. লক্ষ্মীপুর
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

চর আলেকজান্ডার:
- চর আলেকজান্ডার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৪নং ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ শাসনামলে রামগতি এসিল্যান্ড অফিসে আলেকজান্ডার নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক রেভিনিউ কালেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন।
- তার নাম অনুসারে এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় আলেকজান্ডার।
- চর আলেকজান্ডার বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকা।

⇒ বাংলাদেশের চরসমূহ:
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৬১.
'মাধবকুণ্ড' জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবানে
  2. খাগড়াছড়িতে
  3. কক্সবাজারে
  4. মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা

- হামহাম, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৪৬২.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ফিলিপাইন
  2. জাপান
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ব্রুনাই
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - জাপান।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৩.
ঢাকার প্রতিপাদ স্থান কোথায় অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগরে
  2. ভারত মহাসাগরে
  3. আটলান্টিক মহাসাগরে
  4. উত্তর মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে সরলরেখা টানলে চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে বের হবে।
- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান- চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।

উল্লেখ্য:
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০০।
- অর্থাৎ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত বাংলাদেশ আর চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরের ঐ স্থানটি ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে অর্থাৎ ঠিক বিপরীত ঢাকার প্রতিপাদ স্থান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৪.
তিয়েন আনমেন স্কয়ার কোন দেশে অবস্থিত?
  1. তুরস্ক
  2. মিশর
  3. জাপান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
তিয়েন আনমেন স্কয়ার
-তিয়েন আনমেন স্কয়ার চীনের রাজধানী বেইজিং শহরে অবস্থিত। 
-১৯৮৯ সালের ৪ জুন তিয়েন আনমেন স্কয়ারে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের দাবীতে  দাবিতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভে শত শত ছাত্র-শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার।
-সেই বছর এপ্রিল থেকে সরকারের দুর্নীতি বন্ধ ও গণতন্ত্রের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনশন শুরু করে।
-পরে তার সঙ্গে যোগ দেন শ্রমিকেরা। 
-ওই ঘটনা নিয়ে এরপর কোনোরকম আলোচনা নিষিদ্ধ করে চীন। 

উল্লেখ্য,
- চীন আয়তনে বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম দেশ এবং জনসংখ্যায় ২য় বৃহত্তম।
- চীনের মুদ্রা - ইউয়ান।
- আধুনিক চীনের জনক - সান ইয়াত সেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা। 
৪৬৫.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) মানিকগঞ্জ
  4. ঘ) নড়াইল
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে। (সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬৬.
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে কোন উপজেলা অবস্থিত?
  1. থানচি
  2. রুমা
  3. কয়রা
  4. শিবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- সীমান্তবর্তী স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।

বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের:
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা বান্দরবান।

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের:
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের:
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৬৭.
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. হবিগঞ্জ
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. মুন্সীগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

নিচু ভূমি:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে নিচু ভূমিগুলো সাধারণত হাওর, বাওর, বিল এবং খাল এসব নিয়েই গঠিত।
- হাওর ও বিল সাধারণত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে সিলেট, ​​সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলা জুড়ে অবস্থিত।
- তাই কিশোরগঞ্জে নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

কিশোরগঞ্জ জেলা:
- হাওর-বাওর ও সমতলভূমির বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতির একটি বিস্তীর্ন জনপদ হলো কিশোরগঞ্জ জেলা।
- ২৪ ডিগ্রী ০২ মিনিট থেকে ২৪ ডিগ্রী ৩৮ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ নরসুন্দা নদী বিধৌত এ জেলার উত্তরে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ, দক্ষিণে নরসিংদী, পূর্বে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মনবাড়ীয়া এবং পশ্চিমে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা অবস্থিত।
- লোকজ সাহিত্য সংস্কৃতিতে এ জেলার রয়েছে বিশাল ঐতিহ্য।
- এ জেলার লোকজ সংগীত, পালা, কীর্তন, কিস্সা, জারী, বিয়ের প্রবাদ-প্রবচন, পুঁথি, টপ্পা, নৌকা বাইচের গান, হাস্য রসাত্মক ধাঁ ধাঁ ইত্যাদি আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে আজও স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল রেখেছে।
- কিশোরগঞ্জের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নরসুন্দা নদী।

নদ-নদী: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, মেঘনা, কালনী, সুতী, নরসুন্দা, ঘোড়াউত্রা, ধনু, বৌলাই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি।
প্রশাসন: ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার একটি মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় রূপান্তরিত হয়। কিশোরগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৯ সালে।
অর্থনীতি: কিশোরগঞ্জের অর্থনীতির চালিকাশক্তি অনেকটা হাওরের ওপর নির্ভরশীল। হাওরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় যা দেশের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম। 
জলবায়ু: কিশোরগঞ্জের জলবায়ু উষ্ণ। কিশোরগঞ্জের গড় তাপমাত্রা ২৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত হয় ২২৫০ মি.মি.।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪৬৮.
বাংলাদেশ কোন রেখার উপর অবস্থিত?
  1. ক) মকরক্রান্তি
  2. খ) ট্রপিক অব ক্যাপ্রিকন
  3. গ) ট্রপিক অব ক্যানসার
  4. ঘ) আর্কটিক বৃত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী
৪৬৯.
নিম্নের কোন স্থানের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে সবচেয়ে বেশি?
  1. সুন্দরবন
  2. বগুড়া
  3. ময়মনসিংহ
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে ভিবিন্ন অঞ্চলের উচ্চতা:

- বাংলাদেশের সমভূমি উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন।
- সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে বাকি অঞ্চলগুলো
-যেমন- দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার,
- বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার,
- ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার এবং
- নারায়ণগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।

- সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর।

উল্লেখিত প্রশ্নে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার যা সবচেয়ে বেশি।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
৪৭০.
'ক্রিমিয়া উপদ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ চীন সাগর
  2. খ) কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে
  3. গ) কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণে
  4. ঘ) পূর্ব চীন সাগর
ব্যাখ্যা
- ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি কৃষ্ণ সাগরের উত্তরে অবস্থিত।
- এটি নিয়ে রাশিয়া - ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ হয় ২০১৪ সালে। 
- রাশিয়া "ক্রিমিয়া উপদ্বীপ" দখল করে রাশিয়ার অংশ করে নেয় ২০১৪ সালে।
- ক্রিমিয়ার ৬০ ভাগ অধিবাসী রাশিয়ান জাতিগোষ্ঠীর।
- এতে রাশিয়া সেখানে একটি গণভোট আয়োজন করে যেখানে অধিকাংশ রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেয়।
- কিন্তু জাতিসংঘ সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তা স্বীকৃতি দেয়নি।
- কৃষ্ণসাগর কিংবা ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেবাস্তাপুল বন্দর যা ক্রিমিয়ায় অবস্থিত।
- এই বন্দর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ইয়াল্টা কনফারেন্স ক্রিমিয়ার ইয়াল্টা শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।

সূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং বিবিসি ওয়ার্ল্ড।
৪৭১.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রকার বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. সংঘর্ষ বৃষ্টি
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উল্লেখ্য,
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা, জলবায়ু ও অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।

⇒ পরিচলন বৃষ্টি:
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭২.
সিয়াচেন হিমবাহ কোন দুইটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ক) ভারত ও চীন
  2. খ) ভারত ও পাকিস্তান
  3. গ) চীন ও পাকিস্থান
  4. ঘ) চীন ও নেপাল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সিয়াচেন হিমবাহ, বিশ্বের দীর্ঘতম পর্বত হিমবাহগুলির মধ্যে একটি, যা ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু যুদ্ধক্ষেত্র। সূত্রঃ ব্রিটানিকা।
৪৭৩.
ডেথ ভ্যালি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. ব্রাজিল
  3. লিবিয়া
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

♦ ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকা:
- ডেথ ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত।
- ডেথ ভ্যালি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক নিম্নভূমি বা গহ্বর।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু, উষ্ণ এবং শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- অবস্থান: গ্রেট বেসিন ও মোহাভে মরুভূমি এর সীমান্তবর্তী এলাকা।
- এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু স্থান, যার সর্বনিম্ন বিন্দু বেডওয়াটার বেসিন , সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮২ ফুট নিচে।
- এটি বিশ্বের অন্যতম গরমতম স্থান, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়শই ৫০°C ছাড়িয়ে যায়।
- বার্ষিক বৃষ্টিপাত খুবই কম, মাত্র কয়েক ইঞ্চি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৪৭৪.
‘চিকেন নেক’ খ্যাত ভূখণ্ডটি ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. মিজোরাম
  3. নাগাল্যান্ড 
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

• চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।
- এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত।

- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটি বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলা হয়। 
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি (নভেম্বর, ২০২৫) বাংলাদেশের সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে আসাম রাজ্যের ধুবড়ি শহরে ‘লাচিত বোরফুকান নামে একটি সেনাঘাঁটি করছে ভারত সরকার। 

তথ্যসূত্র: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৪৭৫.
বাংলাদেশের কোন জেলাকে ‘হিমালয় কন্যা’ বলা হয়?
  1. কুয়াকাটা 
  2. পঞ্চগড়
  3. চট্টগ্রাম
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

• পঞ্চগড়:
- ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হাজার বছরের গৌরবগাথা আর প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতিমণ্ডিত জেলা পঞ্চগড়।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় 'হিমালয় কন্যা'।

-  অবস্থানগত কারণে পঞ্চগড় একটি শীতপ্রবণ জেলা।
- অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এখানে প্রচণ্ড কুয়াশাসহ শীত পড়ে।
- আর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এখানকার তাপমাত্রা ৪-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন, তেঁতুলিয়া জিরো পয়েন্ট, বারো আউলিয়ার মাজার, শাহী মসজিদ, সমতল ভূমির আরগনিক চায়ের বাগান, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, আনন্দ ধারা, ভিতরগড় ও মহারাজের দীঘি, বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, গোলক ধাম মন্দির, বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, পাহাড়ি স্বচ্ছ জলের মহানন্দা নদী, পাথর সমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, চতুর্থ চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু, খয়ার বাগানসহ বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল ময়নামতিরচর।

তথ্যসূত্র: পঞ্চগড় জেলার ওয়েবসাইট।

৪৭৬.
দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল কোথায় অবস্থিত? 
  1. হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট
  2. কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
  3. পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
  4. আদিতমারী, লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা

দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল,
- যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৭৭.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা কত?
  1. ৩৩টি
  2. ৩২টি
  3. ৩০টি
  4. ৩১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:

- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী মোট জেলা ৩ টি। 
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি জেলার যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বান্দরবান এবং কক্সবাজার জেলার সাথে ভারতের কোনো সীমানা নেই। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা ৪,১৫৬ কিলোমিটার (সূত্র: BGB)

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, BGB এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৭৮.
চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমির দেখা মেলে কোন জেলায়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রংপুর 
  4. টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৭৯.
‘চর লরেন্স’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নোয়াখালীতে
  2. খ) সুন্দরবনে
  3. গ) রাজশাহীতে
  4. ঘ) ভোলায়
ব্যাখ্যা
চর লরেন্স, চর শাহাবানী, চর শ্রীজনী, চর কাদিয়া, ঠেঙ্গার চর ইত্যাদি নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায় অবস্থিত।
৪৮০.
'লাইন অফ কন্ট্রোল' কোন দুটি দেশের সীমান্তবর্তী রেখাকে চিহ্নিত করে?
  1. চীন-ভারত
  2. ভারত-নেপাল
  3. ভারত-পাকিস্তান
  4. আফগানিস্তান-পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

• লাইন অফ কন্ট্রোল:
- LOC এর পূর্ণরূপ: Line of Control.
- লাইন অফ কন্ট্রোল ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রেখা।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- ভারত-পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে লাইন অফ কন্ট্রোল।
- পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে পৃথক করেছে ডুরান্ড লাইন।
- জার্মানি ও ফ্রান্সকে বিভক্ত করেছে সিগফ্রেড লাইন।
- ভারত ও চীন পৃথক করেছে: লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)। 

 উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৮১.
বাংলাদেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রধান কয়লার খনি -
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ কয়লা ও বাংলাদেশ 
- বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রধান খনিজ পদার্থ - কয়লা।
- বাংলাদেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রধান কয়লার খনি - পাঁচটি।
- সেগুলোর মধ্যে
১.দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র,
২.জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র,
৩.রংপুর জেলার খালাশপীর কয়লাক্ষেত্র, 
৪. ফুলবাড়ী, দিনাজপুর এবং
৫.দিনাজপুরের দীঘিপাড়ায় অবস্থিত কয়লাক্ষেত্র।

- এই পাঁচটি কয়লাক্ষেত্রে বর্তমানে মোট ২৬৬৫ মিলিয়ন মে. টন কয়লা মজুদ আছে।

এছাড়াও, 
- পীট কয়লা পাওয়া গেছে-ফরিদপুর, খুলনা, সিলেট, বি-বাড়িয়া, এবং ময়মনসিংহ।
- বাংলাদেশে প্রধান খনিজ পদার্থ - প্রাকৃতিক গ্যাস।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবি: গ্যাসক্ষেত্র - ২৯ টি। সর্বশেষ ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র, পাবনা।
- সর্বপ্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবি: হয় -১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
-  সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র -তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- সমুদ্র উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্র - সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া।

তথ্যসূত্র - খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪৮২.
কোন দেশকে নিশীথ সূর্যের দেশ বলা হয়?
  1. ক) ডেনমার্ক
  2. খ) নরওয়ে
  3. গ) সুইডেন
  4. ঘ) ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
নিশীথ সূর্যের দেশ নামে পরিচিত নরওয়ে। উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এখানে সূর্য পুরোপুরি অস্তমিত হয় না। আবার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সূর্য ওঠেই না।
Source: britannica
৪৮৩.
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা অভিন্ন নদী নয় কোনটি?
  1. ক) সাঙ্গু
  2. খ) মাতামুহুরী
  3. গ) নাফ
  4. ঘ) টাঙ্গন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক বা আন্তসীমান্ত নদী ৫৭টি।
এর মধ্যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের অভিন্ন নদী ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সাথে অভিন্ন নদী ৩টি।
মিয়ানামার থেকে বাংলাদেশে আসা অভিন্ন নদী তিনটি হচ্ছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও নাফ। টাঙ্গন ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪৮৪.
মার্বেল কোন ধরনের শিলা?
  1. ক) আগ্নেয় শিলা
  2. খ) রূপান্তরিত শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) মিশ্র শিলা
ব্যাখ্যা
- মার্বেল হলো রূপান্তরিত শিলা।
- রূপান্তরিত শিলা হলো পাললিক ও আগ্নেয় শিলার পরিবর্তিত রূপ যা আগ্নেয় ও পাললিক শিলা হতে ভিন্নধর্মী।
- রূপান্তরিত শিলাগুলোর কয়েকটি উদাহরণ হলোঃ প্লেট, মার্বেল,  কোয়ার্টজাইট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হিমছড়ি
  2. খ) রিসাং
  3. গ) সীতাকুণ্ড
  4. ঘ) শুভলং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরণা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের একমাত্র শীতল পানির ঝরনা কক্সবাজার হিমছড়িতে অবস্থিত।
- শুভলং ঝরণা রাঙ্গামাটির বরকলে অবস্থিত।
- রিসাং ঝরণা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত ঝরণা বান্দরবানে অবস্থিত।
- তৈদুছড়া ঝরনা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট।

৪৮৬.
বাংলাদেশ কোন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  2. ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ 
  3. বার্মিজ ও ইন্ডিয়ান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

টেকটোনিক প্লেট:
- পৃথিবীর ভূত্বক কোনো স্থির বা শক্ত একক স্তর নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত, যেগুলোকে বলা হয় টেকটোনিক প্লেট।
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক প্রধানত ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। 

⇒ পৃথিবীর ভূত্বক ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো: প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate), উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate), ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), আফ্রিকান প্লেট (African Plate), অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate), ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালা, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতশ্রেণী। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং মেঘনা—এই তিনটি মহান নদী হিমালয় এবং আশেপাশের অন্যান্য পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে এসে মিলিত হয়। এই নদীগুলো প্রচুর পরিমাণে কাদা ও বালু জমা করে। এই সমস্ত পলি দিয়ে গঠিত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ (ডেল্টা)।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে টেকটোনিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি। এটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত: ভারতীয় প্লেট (Indian Plate), ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), এবং বার্মিজ প্লেট (Burmese Plate বা Burma Plate)।
- এই তিনটি প্লেটের সংযোগের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা।
-  সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে দেশটি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। 

উৎস: i) Worldatlas.
ii) AMERICAN MUSEUM NATURAL HISTORY ওয়েবসাইট।

৪৮৭.
প্রেইরি তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) দক্ষিণ আমেরিকা
  2. খ) ইউরেশিয়া
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) সাব সাহারা
ব্যাখ্যা
তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:

- প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
- প্যাম্পাস ও ল্যানোস (দক্ষিণ আমেরিকা)
- সাভানা (আফ্রিকা)
- স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা)
৪৮৮.
‘শাত-ইল-আরব’ জলপথের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ইরাক
  3. গ) পারস্য উপসাগর
  4. ঘ) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- ‘শাত-ইল-আরব’ জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- এর মালিকানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে। 
- এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নাম আলজিয়ার্স চুক্তি।
- ১৩ জুন ১৯৭৫ সালে স্বাক্ষরিত হয় আলজিয়ার্স চুক্তি।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।
- কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করে ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে যুদ্ধ চলে।

তথ্যসূত্র:- হিস্টরি.কম এবং ব্রিটানিকা।
৪৮৯.
গ্রীষ্মকালে সূর্য কোন রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. বিষুব রেখা
  4. অর্কটিক সার্কেল
ব্যাখ্যা

গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (Tropic of Cancer) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এটি সাধারণত ২১ জুন বা তার আশেপাশের দিনে ঘটে।
- যে দিনে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেই  দিনটিকে উত্তর অয়নান্ত (Summer Solstice) বলা হয়।
- এবং উত্তর গোলার্ধে এই দিনের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হয়।
- কর্কটক্রান্তি রেখা ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত এবং এটি সেই উত্তরতম অক্ষাংশ, যেখানে সূর্য সরাসরি মাথার ওপর অবস্থান করতে পারে।
- এই ঘটনা ঘটে কারণ পৃথিবীর অক্ষ টালযুক্ত (axial tilt), যার ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে।
- ফলস্বরূপ, কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যের আলো খাড়াভাবে পড়ে।

উল্লেখ্য, 
- উত্তর অয়নান্তের সময় উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ অঞ্চল আলোকিত থাকে।
- এটি গ্রীষ্মকাল নির্দেশ করে।
- এবং ২১ ই জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯০.
কোথায় বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত পরস্পরকে ছুঁয়েছে?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মায়ানমারের সাথে ৩টি।
এর মধ্যে একমাত্র রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মায়ানমার উভয় দেশের সীমান্ত রয়েছে।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন৷
৪৯১.
Which of the following desert is located in Mongolia?
  1. ক) Gobi Desert
  2. খ) Sahara Desert
  3. গ) Takla Makan Desert
  4. ঘ) Kalahari Desert
ব্যাখ্যা
• গোবী মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
• মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
• মরুভূমিটি আনুমানিক ১৩ লক্ষ (১২ লক্ষ ৯৫ হাজার) বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট।

• বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৯২.
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ-  
  1. ভোলা 
  2. কুতুবদিয়া
  3. সেন্টমার্টিন 
  4. মহেশখালী 
ব্যাখ্যা

মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
-  দ্বীপ সৃষ্টি: ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- আয়তন: ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- এখানে কিছু দর্শনীয় স্থান: আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং।

অপরদিকে, 
- শাহপরীর দ্বীপ: টেকনাফের সর্ব দক্ষিণে ভূ-ভাগের খুবই নিকটবর্তী একটি দ্বীপ।
- সেন্টমার্টিন: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ।
- ভোলা: ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।

উৎস: জাতীয় তথ্যবাতায়ন। 

৪৯৩.
ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়?
  1. সিলেট
  2. দিনাজপুর
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. মধ্যভাগের উচ্চভূমি
ব্যাখ্যা

◉  ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের দিনাজপুর অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়। 

ভূ-গাঠনিক রূপরেখা: 
- বাংলাদেশ দুটি প্রধান ভূ-গাঠনিক ইউনিটে বিভক্ত:
ক) উত্তর পশ্চিমের সুস্থিত প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম ও
খ) দক্ষিণ-পূর্বের মহীখাতীয় অববাহিকা।
- হিঞ্জ অঞ্চল (Hinge zone) নামের একটি সংকীর্ণ উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত একটি তৃতীয় ইউনিট দেশের প্রায় মাঝ বরাবর উপরোক্ত দুটি ইউনিটকে বিভক্ত করে রেখেছে।

⇒ সুস্থিত প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- প্রাক-ক্যামব্রীয় আগ্নেয় ও রূপান্তরজ ভিত্তিশিলার উপর সীমিত থেকে মাঝারি পুরুত্ববিশিষ্ট পাললিক শিলার আস্তর এর বৈশিষ্ট্য।
- আপেক্ষিক অর্থে এই ইউনিট ভূতাত্ত্বিকভাবে সুস্থিত এবং ভঙ্গিল বিচলনের (Fold movement) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। কিছু চ্যুতিবেষ্টিত গ্রস্ত-অববাহিকা প্রাক-ক্যামব্রীয় ভিত্তিশিলার আওতাভুক্ত অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।
- এই সব অববাহিকা পার্মিয় যুগের (আজ থেকে ২৮৬-২৪৫ মিলিয়ন বছর আগে) কয়লাবাহী শিলার ইউনিট ধারণ করে।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই সর্বাধিক প্রাচীন পাললিক শিলা।
- বাংলাদেশে প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম দুভাগে বিভক্ত: খুবই অগভীর প্রাক-ক্যামব্রীয় ভিত্তিশিলা (১৩০ থেকে ১০০০ মিটার) বিশিষ্ট উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর অবতল (Rangpur saddle) এবং মাঝারি গভীরতা সম্পন্ন (১-৬ কিমি) দক্ষিণাঞ্চলীয় বগুড়া সোপান। বগুড়া সোপানে পাললিক স্তরসমূহ হিঞ্জ অঞ্চল পর্যন্ত খুব আলতোভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বরাবর নতিশীল এবং এরপর হঠাৎ করে এই ঢাল ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে এবং পাললিক ইউনিটসমূহ অতল গভীরে নেমে দক্ষিণ-পূর্বে গভীর মহীখাতীয় অববাহিকার মধ্যে এসে পড়েছে।

⇒ দক্ষিণ-পূর্বের মহীখাতীয় অববাহিকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ব্যাপক পুরুত্বের (অববাহিকার কেন্দ্রে সর্বাধিক প্রায় ২০ কিমি) ক্লাসটিক পাললিক শিলা (clastic sedimentary rock), যার অধিকাংশ বেলেপাথর ও টারশিয়ারী যুগের কর্দম শিলা।
- বৃহত্তর ঢাকা-ফরিদপুর-নোয়াখালী-সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগর এর অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৯৪.
দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয় -
  1. ভেনেজুয়েলা
  2. ইকুয়েডর
  3. আর্জেন্টিনা
  4. কিউবা
ব্যাখ্যা
কিউবা হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ।

• দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম
- স্বাধীন দেশ - ১২ টি।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশ  - ১২ টি
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ 
 
তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
৪৯৫.
বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ কত?
  1. ক) ২৫%
  2. খ) ১৪%
  3. গ) ১৩%
  4. ঘ) ১৭%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আয়তনের ১৭% এলাকা জুড়ে বনভূমি অবস্থিত। বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ ৭৬ হাজার হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭%। বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট ১৩.২৮% এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত।
সূত্রঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট
৪৯৬.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং কর্কটক্রান্তি রেখা কোন জেলায় মিলিত হয়েছে?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. ফরিদপুর
  3. সিলেট
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা:
- ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩°৫ উত্তর অক্ষরেখা) ছেদবিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।
- কর্কটক্রান্তি এবং ৯০° দ্রাঘিমার ছেদবিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অবস্থিত।
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে ১২ জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, সেখানে কেউ যেতে পারে না।
- এর মধ্যে শুধু দুটি ছেদ বিন্দু পড়েছে স্থলভাগে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪৯৭.
৪৯তম সমান্তরাল রেখা কোন দুটি দেশের মধ্যে প্রধান সীমান্ত হিসেবে পরিচিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো
  3. যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
  4. উত্তর কোরিয়া- দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা

৪৯তম সমান্তরাল রেখা (49th parallel north):
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যবর্তী সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি এই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক সীমানা রেখা, যা প্রায় মাইল বিস্তৃত এবং বিশ্বের দীর্ঘতম অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবেও পরিচিত।
- উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।
- এটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাসকাচোয়ান এবং ম্যানিটোবা প্রদেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করে।
- ১৮১৮ সালের অ্যাংলো-আমেরিকান কনভেনশন এবং ১৮৪৬ সালের ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে এই সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।

উৎস: Britannica.

৪৯৮.
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় কোন জেলাকে?
  1. ক) নাটোর
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• বগুড়া জেলা:
- উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় বগুড়া জেলাকে।
- সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন বগড়াগণ ১২৭৯ থেকে ১২৮২ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তার নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে বগড়া বা বগুড়া।

- বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি  জেলা।
- বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
- এটি শিল্পের শহর নামে পরিচিত।
- বগুড়া  জেলায় প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস রয়েছে।
- বগুড়া  জেলার মধ্যে বাঙ্গালী, করতোয়া, যমুনা ও নাগর নদী উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: বগুড়া জেলার ওয়েবসাইট।

৪৯৯.
নিচের কোন দেশে স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই?
  1. লিবিয়া
  2. মোনাকো
  3. নাউরু
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নদীবিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫০০.
৯০ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং কর্কটক্রান্তি রেখা কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) চুয়াডাঙ্গা
  2. খ) মানিকগঞ্জ
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। এই রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ধোপাডাঙ্গা মৌজার একটি ফসলি ক্ষেতের উপর মিলিত হয়েছে। এই স্থানকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির' নির্মাণ করতে যাচ্ছে। (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ৩ জুলাই ২০১৯)