বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ১০০ / ১,৩০২

.
বৈষ্ণব পদাবলি কাব্যের রস কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৭টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
.
কোনটি আলাওল রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. রাগতালনামা
  2. সিকান্দরনামা
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
আলাওল: 
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অভিজাত পরিবারের সন্তান হিসেবে আলাওল বাল্যকালে বাংলা, সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন।

আলাওল রচিত গ্রন্থ: 
- সিকান্দরনামা, 
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- রাগতালনামা।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মাপুরাণ' গ্রন্থের রচয়িতা - বিজয় গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) দুররে মজলিশ 
  2. খ) সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল
  3. গ) সিকান্দারনামা
  4. ঘ) রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি। 
-আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য 'নূরনামা' 
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়। 
কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা 
- নূরনামা 
- দুররে মজলিশ 
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক 
- হানি-ফার লড়াই 
অন্যদিকে, 
আলাওল রচিত গ্রন্থ:
- সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল 
- সিকান্দারনামা 
 -রাগতালনামা 
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
 
.
কবিগানের আদি কবিয়াল কে?
  1. নিতাই বৈরাগী
  2. গোঁজলা গুঁই
  3. হরু ঠাকুর
  4. এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা

• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে 'দুঃখের কবি' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড় চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
নবদ্বীপের রাজা রামপ্রসাদ সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কবিগুঞ্জন
  2. কবিরঞ্জন
  3. কবিকঙ্কণ
  4. দুঃখের কবি
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"। তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন কভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

তাঁর বিখ্যাত গান-
'মন রে কৃষি কাজ জানো না', 'ডুব দেরে মন কালী বলে', 'মা আমায় ঘুরাবি কত' ইত্যাদি।

অনদিকে, 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) চৈতন্যমঙ্গল
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। 
- এর রচয়িতা মালাধর বসু।  
- শ্রীকৃষ্ণবিজয়  একটি আখ্যানকাব্য।
- এটি সংস্কৃত ভাগবতের দশম ও একাদশ অধ্যায় অনুসরণে রচিত।
- ভাগবতে হিন্দুধর্মের তত্ত্বকথা ও শ্রীকৃষ্ণের জীবনবৃত্তান্ত আছে; শ্রীকৃষ্ণবিজয়েও কৃষ্ণের জন্ম থেকে মহাপ্রয়াণ পর্যন্ত জীবনবৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে।
- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসারে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। 

- কৃত্তিবাসের রামায়ণ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মহুয়া
  3. চন্দ্রাবতী
  4. রূপবতী
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মধ্যযুগের শেষ কবি বলা হয়-
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. মালাধর বসু
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০.
‘শনিবারের চিঠি’ কি ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. ক) তথ্য সমৃদ্ধ
  2. খ) হাস্যরসাত্নক
  3. গ) নীতিকথা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
‘শনিবারের চিঠি পত্রিকা’ এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

শনিবারের চিঠি পত্রিকা
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা  হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন:
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- অশোক চট্টোপাধ্যায়
- সুবিমল রায়
- মোহিতলাল মজুমদার
- সজনীকান্ত দাস
- যোগানন্দ দাস
- নীরদ চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১.
মধ্যযুগের মহিলাকবি চন্দ্রাবতী'র পিতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ কানাই
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তাঁর পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
বিদ্যাপতির ব্রজবুলিতে রচিত শ্রেষ্ঠ কীর্তি কোনটি?
  1. ব্রজকিশোর
  2. রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ
  3. ব্রজলীলা
  4. গীতগোবিন্দ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'গঙ্গাবাক্যাবলী' গ্রন্থ রচনা করেন -
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১৪.
মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘মৈথিল কোকিল‘ বলা হয়?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।  তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫.
'দুঃখবর্ণনার কবি' বলা হয় কাকে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. জ্ঞানদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'দুঃখবর্ণনার কবি' হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরধে তিনি এই কাব্য লেখেন। 
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেন। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনিই প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন। জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।
• মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 

• জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম। এজন্য তিনি মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিলো- 
  1. রায়বাহাদুর 
  2. কবিকণ্ঠহার 
  3. রাজা
  4. রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল - রায়গুণাকর। 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭.
'পদ্মাবতী' কাব্যটি কোন কবির কাব্যানুবাদ?
  1. ক) মালিক মুহম্মদ জায়সী
  2. খ) নিজামী গঞ্জভী
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগন ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যানুবাদ। 

উল্লেখ্য, ‘পদ্মাবতী’ নাটকের রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৮.
'রেখাচিত্র' আত্মজীবনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবুল মনসুর
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
রেখাচিত্র, লেখকের রোজনামচা, দুর্দিনের দিনলিপি আবুল ফজলের আত্মজীবনী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি।
তাঁর রচিত প্রবন্ধ- শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি, বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি।
মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৯.
কোন সুলতানের রাজত্বকালে শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ 
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ 
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
--------------
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
• ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
• গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
• বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২০.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা কে?
  1. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. আলাওল
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী':
- সতের শতকের কবি দৌলত কাজী 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার (রাজত্বকাল ১৬২২-৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
- পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়কাল কত?
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রি.
  2. ৯৫০-১২৫০ খ্রি.
  3. ৯৫০-১২০০ খ্রি.
  4. ১২০১-১৮০০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ: 
- গবেষকগণ সময়ের প্রবণতা ও সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। একেই সাহিত্যের যুগবিভাগ বলে।

• বাংলার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ এরকম:
- প্রাচীন যুগ ৯৫০-১২০০ খ্রি.,
- মধ্যযুগ ১২০১- ১৮০০ খ্রি.;
- আধুনিক যুগ ১৮০০ খ্রি.- বর্তমান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বভাব কবি-
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) মুকন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে স্বভাব কবি গোবিন্দচন্দ্র দাস। বিদ্যাপতির মত ব্রজবুলি ভাষায় অলঙ্কার সমৃদ্ধ পদ রচনা করায় তাকে 'বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য' বলা হয়ে থাকে। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২৩.
‘আফৎনামা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. মুহম্মদ খান
  3. রাধারমণ গোপ
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. আসাউদ্দীন
  2. নেজাম শাহ সুর
  3. মোবারক খান
  4. হামিদ খান
ব্যাখ্যা

 দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫.
দশারথি রায় কোন ধারার কবি?
  1. ক) কবিগান
  2. খ) টপ্পাগান
  3. গ) পাঁচালী গান
  4. ঘ) পুঁথিসাহিত্য
ব্যাখ্যা
কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল এবং এই ধারায় দশারথি রায় শক্তিশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। 
- 'দাশু রায়' নামে তিনি খ্যাত ছিলেন। 
- তিনি নিজেই পাঁচালী দল বেঁধে গান গাইতেন। 
- তাঁর পাঁচালী-পালা ১০ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২৬.
বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচিত হয়-
  1. ক) ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র  সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়। 

⇒ মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর  পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
কবি গােবিন্দদাস কার ভাবশিষ্য ছিলেন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. শ্রীচৈতনাদেব
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি ছিলেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• বিদ্যাপতির মতো ব্রজবুলি ভাষায় অলঙ্কার সমৃদ্ধ পদ রচনা করায় তাকে 'বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য' বলা হয়ে থাকে।

গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।

উল্লেখ্য, 
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন এবং 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২৮.
গঠনগত দিক থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কী ধরনের রচনা?
  1. চম্পুকাব্য
  2. গানের সংকলন
  3. নাট্যগীতি
  4. রূপক কবিতা
ব্যাখ্যা
• গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থের গঠন:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত একটি যাত্রার পালা ছিল বলে মনে করা হয়। কাব্যটি সংস্কৃত গীতগোবিন্দের অনুরূপ গীতি এবং সংলাপবহুল নাট্যলক্ষণাক্রান্ত রচনা বলে তা নাট্যগীতিকাব্য হিসেবেও আখ্যাত হয়েছে। এ কাব্যে নাট্যরসাশ্রয়ী ঘটনা ও সংলাপ থাকলেও তা বর্ণনামূলক কাব্যের মর্যাদার অধিকারী। কোথাও কবি নিজে কাহিনির মধ্যে উপস্থিত থেকে সংলাপের সঙ্গে বর্ণনা যোগ করেছেন, আবার কোথাও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গীতিসংলাপমূলক এই আখ্যানকাব্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান।

--------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২৯.
গোরক্ষবিজয় সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবদুল করিম
  2. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  3. আলি আহমদ
  4. নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
-  নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
-  আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।
 - এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।
 -  গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পন্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়। তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০.
আলাওলের হপ্তপয়কর কোন ভাষার কাব্যের অনুবাদ?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. হিন্দি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
'হপ্তপয়কর' কাব্য:
- 'হপ্তপয়কর' সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ের রচনা। এটি আলাওল রচিত কাব্য।
- আরাকান রাজসভায় আলাওল এই কাব্য রচনা করেন। সম্ভবত ১৬৬৫ এর রচনাকাল।
- প্রসিদ্ধ কবি নিজামির পারসি / ফারসি ভাষায় বর্তমান কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র বহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তার সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১.
মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ছিলেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
ভারতচন্দ্র রায় (১৭১২-১৭৬০) বাংলা মঙ্গলকাব্য ধারার ও মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।

ফরাসি কোম্পানির দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ভারতচন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন। মহারাজা তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

কবি প্রায়ই তাঁকে কবিতা শুনিয়ে আনন্দ দিতেন। মহারাজা তাঁর কবি প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে সতের শতকের কবি মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের অনুকরণে অন্নদামঙ্গল রচনার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশ পেয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কাব্য। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এ কাব্য রচনা পড়ে খুশি হন এবং এতে বিদ্যা ও সুন্দরের কাহিনি সংযোজনের নির্দেশ দেন। কবি তাঁর এ নির্দেশ মেনে নেন এবং কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনিও এতে সংযোজন করেন।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন এবং জমি দান করে মুলাজোরে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ভারতচন্দ্র সেখানে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরীক্ষিত, রামতনু এবং ভগবান নামে তিন পুত্র রেখে যান।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগ সন্ধিক্ষণের কবি।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের কবি। 
• আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩২.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। 

• রামনিধি গুপ্ত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে গীতরত্ন (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩.
‘লায়লী মজনু' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

• ‘লায়লী মজনু' কাব্য:
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- ‘লায়লী মজনু’ কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত। 
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান। 
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী মজনু ও
• ইমাম বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪.
মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. শূন্যপুরাণ
  3. রামায়ণ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
•  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির - গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫.
"গুলে বকাওলী" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. বৈষ্ণব সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর
প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৬.
'চন্দ্রাবতী' কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. দৌলত কাজী
  3. বিদ্যাপতি
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭.
দৌলত কাজী কোন কাব্য অবলম্বনে 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' রচনা করেন?
  1. উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের 'শিকওয়া'
  2. হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ'
  3. ফারসি কবি জামীর 'লায়লী ওয়া-মজনুন'
  4. আরবি উপাখ্যান 'আলিফ লায়লা'
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮.
কবিগানের প্রথম কবি কে?
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  2. গোঁজলা পুট
  3. ভবানী
  4. হরু ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• কবিগানের আদি কবিয়াল : 'গোঁজলা পুট (গুই)'। 

• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩৯.
কোন কবি 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত?
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ মাধব
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত - বিদ্যাপতি।

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪০.
পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলাকবি যিনি রামায়ণ রচনা করেন তিনি হলেন-
  1. ক) কুক্কুরীপা
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) ইন্দ্রবতী
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী ছিলেন সপ্তদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজবংশী বা বংশদাস এর বিদুষীকন্যা । চন্দ্রাবতী রামায়ণ রচনা করে পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলাকবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন। তাঁর রচিত রামায়ণের রচনাকাল কত ছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় নি। তবে তার পিতা সপ্তদশ শতাব্দীর লােক ছিলেন। তাই, ধারণা করা হয় তার রামায়ণ সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪১.
'জঙ্গনামা' কাব্যের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রেম
  2. শোক
  3. যুদ্ধ
  4. সামাজিক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২.
'হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী' পদটির রচয়িতা কে?
  1. সরহপা
  2. ভুসুকুপা
  3. সরহপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য গুলো হলঃ
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. ছত্র খণ্ড
  2. বংশী খণ্ড
  3. বাণ খণ্ড
  4. জন্ম খণ্ড
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি -
১. কৃষ্ণ ( পরমাত্মা),
২. রাধা ( জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪৪.
রামায়ণের মূল গ্রন্থটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. হিন্দি
  2. বাংলা
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• 'রামায়ণ':
- রামায়ণের মূল গ্রন্থটি বাল্মীকি' রচিত। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫.
"সত্যনারায়ণের পাঁচালী" রচনা করেন কে?
  1. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কাশীরাম দাস
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৪৬.
বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের প্রবর্তক কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
  2. আলাওল
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- মুসলমান কবিরা পনের-ষোল শতকে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে প্রত্যক্ষ অবদান সৃষ্টিতে সক্ষম হন। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এই রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা প্রণয়কাহিনি।
- ফারসি বা হিন্দি সাহিত্যের উৎস থেকে উপকরণ নিয়ে রচিত অনুবাদমূলক প্রণয় কাব্যগুলোতে প্রথমবারের মত মানবীয় বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। - - মধ্যযুগের কাব্যের ইতিহাসে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর আধিপত্য ছিল, কোথাও কোথাও লৌকিক ও সামাজিক জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও দেবদেবীর কাহিনির প্রাধান্যে তাতে মানবীয় অনুভূতির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে নি। এই শ্রেণির কাব্যে মানব-মানবীর প্রেমকাহিনি রূপায়িত হয়ে গতানুগতিক সাহিত্যের ধারায় ব্যতিক্রমের সৃষ্টি করেছে।
- রোমান্টিক কবিরা তাঁদের কাব্যে ঐশ্বর্যবান, প্রেমশীল, সৌন্দর্যপূজারী, জীবনপিপাসু মানুষের ছবি এঁকেছেন। 
- বাংলার মুসলমান কবিগণের মধ্যে প্রাচীনতম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর চৌদ্দ শতকের শেষে বা পনের শতকের প্রথমে 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য রচনা করার মাধ্যমে এই ধারার প্রবর্তন করেন।
- তারপর অসংখ্য কবির হাতে এই কাব্যের বিকাশ ঘটে এবং আঠার শতক পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত হয়।

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা। এটি একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৭.
‘বুলবুলিস্তান’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা: 
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবির নাম কী?
  1. দৌলত কাজী
  2. আলাওল
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি- শাহ মুহম্মদ সগীর।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তার হাতে রচিত হয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’।
- তাঁর রচিত 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের স্তুতি আছে।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
নিচের কোনটি আরাকান রাজসভায় রচিত বাংলা সাহিত্য?
  1. জয়নবের চৌতিশা
  2. চন্দ্রাবতী
  3. গোরক্ষ বিজয়
  4. ময়নামতির গান
ব্যাখ্যা

• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য — 'চন্দ্রাবতী'।

• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য: 

- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।

• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা দান করেছিলেন।
- আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার, 
- শমসের আলী ইত্যাদি।

অন্য অপশনের সাহিত্য রচয়িতাগণ:
» গোরাক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
» জয়নবের চৌতিশা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
» ময়নামতির গান --- ভবানী দাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫০.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থটিতে গদ্যপদ্য মিলিয়ে কতটি অধ্যায় আছে?
  1. ৩১টি
  2. ২৫টি
  3. ২৬টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল-সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে।
- তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫১.
'পদাবলী'র প্রথম কবি কে?
  1. শ্রীচৈতন্য
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলী।
- পদাবলীর আদিকবি বাঙালী কবি - জয়দেব, তিনি পদাবলী রচনা করেছেন সংস্কৃত ভাষায়।
- অবাঙালী কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়। বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি চণ্ডীদাস।

তথ্যসূত্র: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

যেহেতু এই প্রশ্নে কোন ভাষার সেটা উল্লেখ করা নেই এবং 'জয়দেব' অপশনে নেই; তাই সঠিক উত্তর হিসাবে 'বিদ্যাপতি'কে নেওয়া হয়েছে।
৫২.
কোনটি কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কাব্য?
  1. পদ্মাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মধুমালতী
  4. সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
⇒ 'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিক পুথি পাওয়া গেছে। তবে কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

অন্যদিকে,
- মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভুক্ত একটি কাব্য।
- 'মধুমালতী' গ্রন্থের রচয়িতা মুহম্মদ কবীর।
- ‘সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্যের রচয়িতা দৌলত কাজী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস ‘খোয়াবনামা ’ কত সালে প্রকাশিত?
  1. ১৯৮৭ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭):
তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস ‘খোয়াবনামা’ ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলে কোঠার সেপাই’ ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ।
তাঁর রচিত কিছু সাহিত্যকর্ম :
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম ইত্যাদি৷

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
৫৪.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ 
  3. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৫.
'সোনাভান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ হামজা
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
পুঁথি সাহিত্যের আদি কবি, প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- আমির হামজা, ইউসুফ জুলেখা, সোনাভান, সত্যপীরের পুঁথি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৫৬.
আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. হপ্ত পয়কর
  3. তোহফা
  4. সিকান্দরনামা
ব্যাখ্যা
• আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: 'পদ্মাবতী'। 
- ১৬৪৮ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
-----------------
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭.
'অন্নদামঙ্গল' কোন যুগের কাব্য?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' - মধ্যযুগের কাব্য। 

------------------- 
• প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে বাংলা ভাষার কালক্রম ৩টি যুগে বিভক্ত।
যথা:
১. প্রাচীন বাংলা:
- ১০ম থেকে ১৩৫০ শতক। নিদর্শন: চর্যাপদ বা বৌদ্ধগান ও দোহা।

২. মধ্যযুগ:
- ১৩৫০ থেকে ১৮ শতক। আদি-মধ্যযুগের বাংলা (১৩৫০ থেকে ১৫শতক) এবং অন্ত্য-মধ্যযুগের বাংলা (১৬ শতক থেকে ১৮ শতক) নিদর্শন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, রামায়ণ, মনসাবিজয়, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, মহাভারত, পদ্মাবতী।

৩. আধুনিক যুগের বাংলা:
- ১৯ শতক থেকে বর্তমান।
============== 
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। 
যথা: 
• শিবনারায়ণ, 
• কালিকামঙ্গল এবং 
• মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
=============
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৮.
মধ্যযুগে একক লেখক রচিত বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. রামায়ণ 
  3. অন্নদামঙ্গল 
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড় চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।


শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯.
বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপােষকতার জন্য বিখ্যাত শাসক-
  1. ক) আলীবর্দী খাঁ
  2. খ) মুর্শিদ কুলি খাঁ
  3. গ) ইসলাম খাঁ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপােষকতার জন্য বিখ্যাত শাসক আলাউদ্দিন হােসেন শাহ। তার পৃষ্ঠপােষকতায় (আনুমানিক ১৪৯৪ সালে) বিজয় গুপ্ত মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬০.
বাংলা গানের চারণকবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) মুকুন্দ দাস
  4. ঘ) দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
- মুকুন্দদাস (১৮৭৮-১৯৩৪) ছিলেন  বাংলা গানের চারণকবি।
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- পরে গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত হন।
- এ সময়ে সারা দেশে ব্রিটিশবিরোধী  স্বদেশী আন্দোলন চলছিল।
- বরিশালের কংগ্রেসনেতা অশ্বিনীকুমার দত্তের নিকট স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে মুকুন্দদাস  দেশাত্মবোধক গান ও  যাত্রা রচনা করে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন।
- বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তাঁর গান প্রকাশিত হয়; মাতৃপূজা (১৯০৮) নামে গানের একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১.
অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. আলাওল 
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি-  শাহ মুহম্মদ সগীর। 

• শাহ্ মুহম্মদ সগীর:

- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কে রচনা করেন?
  1. ভবানী দাস
  2. আবদুল লতিফ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. শুকুর মাহমুদ
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
‘কাজল রেখা’ একটি-
  1. গীতিকা
  2. পালা
  3. রূপকথা
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা

- কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে লেখা রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় না। এটি ময়মনসিংহ গীতিকার অংশ।
উল্লেখযোগ্য গীতিকা:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬৪.
'দিগদর্শন' পত্রিকা প্রকাশিত হয়-
  1. ক) এপ্রিল, ১৮১৮
  2. খ) মে, ১৮১৮
  3. গ) জুলাই, ১৮১৮
  4. ঘ) জুন, ১৮১৮
ব্যাখ্যা
প্রথম বাংলা পত্রিকা/সাময়িকপত্র/মাসিক পত্রিকা - দিগদর্শন‌।
পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় এপ্রিল, ১৮১৮ সালে।
প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা - সমাচার দর্পণ। এর সম্পাদকও ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় মে, ১৮১৮ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৫.
‘ইতিহাসমালা’ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) তারিণীচরণ মিত্র
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮০১ সালে বংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩টি বাংলা গদ্যপুস্তক রচনা করেন।
তাঁরমধ্যে উইলিয়াম কেরি রচনা করেন,
-কথোপকথন
-ইতিহাসমালা।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-মাহবুবুল আলম। 

৬৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের বিষয়বস্তু কী?
  1. গৌতম বুদ্ধের জীবনকথা
  2. শিব ও পার্বতীর বিবাহ
  3. রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা
  4. রাম ও সীতার প্রেমকাহিনি
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
'সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি'- কবি আবদুল হাকিম কাদের সম্পর্কে এ উক্তি করেছেন?
  1. বাংলাদেশে যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে
  2. নিজ দেশ ত্যাগ করে যারা বিদেশে যায়
  3. দেশি ভাষায় বিদ্যা লাভ করে যে তৃপ্ত নয়
  4. যারা বাংলাকে হিন্দুয়ানি ভাষা বলে মনে করে
ব্যাখ্যা
"যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি ॥"
কবি আবদুল হাকিম তাদের সম্পর্কে এ উক্তি করেছেন  বাংলাদেশে যারা বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে। 

'বঙ্গবাণী'কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের 'নূরনামা' কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।

বঙ্গবাণী
যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ।
সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন॥
সর্ববাক্য বুঝে প্রভু কিবা হিন্দুয়ানী।
বঙ্গদেশী বাক্য কিবা যত ইতি বাণী॥
মারফত ভেদে যার নাহিক গমন।
হিন্দুর অক্ষরে হিংসে সে সবের গণ॥
যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি ॥
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়॥
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি।
দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি ॥
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংকলন)।
৬৮.
“কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।।”
- কোন কবির লেখা?
  1. ভূসুকুপা
  2. লুইপা
  3. শবরপা
  4. ঢেণ্টনপা
ব্যাখ্যা

উপরিউক্ত কবিতাংশটি লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম কবিতার অন্তর্গত।
লুইপাকে চর্যাপদের আদি কবি বলে বিবেচনা করা হয়।
যদিও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও রাহুল সংস্কৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না। কারো কারো মতে উড়িষ্যায় তাঁর জন্ম।

- সংকৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেন। একটি গ্রন্থের নাম ‘অভিসময়বিঙ্গ।’

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৬৯.
'বিভাগসার' স্মৃতিগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) গোবিন্দদাস
  2. খ) চন্ডীদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) জয়দেব
ব্যাখ্যা
• 'বিভাগসার' স্মৃতিগ্রন্থটি রচনা করেন- বিদ্যাপতি
 
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৭০.
ব্রজবুলিতে রচিত বৈষ্ণব পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. জয়দেব
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি। ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই বিদ্যাপতির শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

• বিদ্যাপতি:

• বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।

• বংশপরম্পরায় তাঁরা মিথিলার রাজপরিবারে উচ্চপদে চাকরি করতেন। বিদ্যাপতি নিজেও মিথিলারাজ দেবসিংহ ও শিবসিংহের সভাসদ ছিলেন। শ্রীহরি মিশ্রের অধীনে বিদ্যাপতি শিক্ষাগ্রহণ করেন। শস্ত্র, শাস্ত্র, রাজনীতি এবং সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁদের পারিবারিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন। শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন। কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

• মৈথিলী ভাষায় রচিত বিদ্যাপতির এই পদসঙ্গীত কালক্রমে বঙ্গদেশে বিস্তার লাভ করে এবং স্থানীয় ভাষার প্রভাব ও কীর্তন গায়কদের দ্বারা বিকৃত ও রূপান্তরিত হয়। এ থেকেই ব্রজবুলি নামে আখ্যায়িত এক শ্রেণির বৈষ্ণব পদভাষার উদ্ভব ঘটে।

• প্রধানত বাংলা ও মৈথিলী ভাষার মিশ্রণে এটি গঠিত হলেও এতে কিছু হিন্দি শব্দও অনুপ্রবেশ করে। উনিশ শতক পর্যন্ত এই ব্রজবুলিতে বৈষ্ণব পদ রচিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ভাষায়ই ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেন। চৈতন্যদেব স্বয়ং বিদ্যাপতির পদ মুগ্ধ হয়ে শুনতেন। কীর্তন ও পদসঙ্গীত ছিল চৈতন্য প্রবর্তিত বৈষ্ণবধর্মের মূল স্তম্ভস্বরূপ। তাই চৈতন্যদেব আস্বাদন করতেন বলেই বিদ্যাপতির পদের মর্যাদা ও বিস্তার বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

• পরবর্তীকালে একাধিক বাঙালি ও অবাঙালি কবিও ‘বিদ্যাপতি’ ভণিতায় পদ রচনা করেন। কাব্যগীতির উচ্চ প্রতিভূরূপে বিদ্যাপতির এ পদগুলি অতুলনীয় মর্যাদা লাভ করে। উনিশ শতকের শেষদিকে বিদ্যাপতি সম্পর্কে গবেষণার সূত্রপাত হয়। নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত সর্বপ্রথম বিদ্যাপতি রচিত পদাবলির প্রামাণ্য সঙ্কলন প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, 
• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়।
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।
• ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১.
‘চৌতিশা’ কী?
  1. ক) চৌত্রিশজন কবির রচিত কাব্যের বিভিন্ন অংশের সংকলন
  2. খ) নায়িকার চৌত্রিশ দিনের দুঃখের বর্ণনা
  3. গ) নায়ক-নায়িকার চৌত্রিশ অক্ষরে ইষ্টদেবতার জন্য স্তব রচনা
  4. ঘ) বিপন্ন নায়ক-নায়িকার জন্য রচিত চৌত্রিশ পঙক্তির কবিতাবিশেষ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মঙ্গলকাব্যে বিপন্ন নায়ক-নায়িকা চৌত্রিশ অক্ষরে ইষ্টদেবতার যে স্তব রচনা করে তাকে চৌতিশা বলে।
ব্যঞ্জণবর্ণের ক থেকে হ পর্যন্ত বর্ণ পদের আদিতে প্রয়োগ করে এই চৌতিশা রচিত হত।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭২.
গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 
  2. শ্রীজীব গোস্বামী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।
-  বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন। 

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৩.
আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যটি অনুবাদ করা হয়-
  1. ফার্সি উপাখ্যান থেকে
  2. হিন্দি উপাখ্যান থেকে
  3. আরবি উপাখ্যান থেকে 
  4. ভারতীয় পুরাণ থেকে
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ। অর্থ্যাৎ, এটি হিন্দি উপাখ্যান নির্ভর।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪.
কবি আলাওল রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  2. রাগতালনামা
  3. সপ্তপয়কর
  4. গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা

• কবি আলাওল রচিত কাব্য নয়- 'গুলে বকাওলী'। 

• 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য। সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে গুলে বকাওলী কাব্য রচনা করেন। এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী, উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন। 

-----------------
• আলাওল:
- আলাওল আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি। আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫.
কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল -
  1. স্বভাব কবি
  2. আদি কবি
  3. সুকবি বল্লভ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নারায়ণ দেব:
- নারায়ণ দেব মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মপুরাণ'।

অন্যদিকে,
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার প্রথম ‘স্বভাব কবি’ বলা হয় দ্বিজমাধবকে।
- কানা হরিদত্ত মঙ্গলকাব্যের আদি কবি এবং বিজয়গুপ্ত মঙ্গলকাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬.
কাকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়?
  1. ক) বিদ্যাবতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) সীতা
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাথা প্রচলিত আছে। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৭.
'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী 
  2. সৈয়দ হামজা
  3. আলাওল 
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

---------------------
• আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন। তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।

- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য দুটো পঙ্‌ক্তি লিখেন।

- আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো: ইউসুফ জোলেখা, নূরনামা, দুররে মজলিশ, লালমোতি সয়ফুলমুলুক, হানিফার লড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৮.
কখনো উপন্যাস লেখেননি -
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যঃ
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০),
- দশমী (১৯৫৬);

গদ্যগ্রন্থঃ
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে। কিন্তু কখনো কোন উপন্যাস লিখেন নাই।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৯.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি ছিলেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. রাধারমণ গোপ
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮০.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. চতুর্দশ
  2. পঞ্চদশ
  3. ষোড়শ
  4. ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য - গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮১.
‘জয়নবের চৌতিশা’ মর্সিয়া সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মুহম্মদ খান
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘জয়নবের চৌতিশা’। 
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২.
ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির কবি ছিলেন-
  1. জয়দেব
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।

--------------
• বিদ্যাপতি:
মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। 

• জয়দেব সংস্কৃত ভাষার কবি। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্য ধারার কবি ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৩.
কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম কয়টি খণ্ডে মুদ্রিত হয়?
  1. তেরোটি
  2. আটটি
  3. পাঁচটি
  4. তিনটি
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- প্রাচীন ভারতীয় সূর্যবংশীয় রাজাদের কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত।
- চতুর্দশ শতকে কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

• কৃত্তিবাস ওঝা’র ‘রামায়ণ’:
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৪.
দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী ছিলো?
  1. বাহরাম সুর
  2. নেজাম শাহ
  3. আসাউদ্দীন
  4. দৌলত হোসেন
ব্যাখ্যা
দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- চট্টগ্রামের নৃপতি নেজাম শাহ সুর বাহরাম খান কে 'দৌলত উজির' উপাধি দেন।
- বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্য নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  4. পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতি রসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররস প্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

৮৬.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন সম্পাদনা করেন কে?
  1. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. কৃষ্ণ কুমার রায়
  3. মহেন্দ্র সেন গুপ্ত
  4. বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭.
‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অনুসরণ করে সৈয়দ সুলতান রচনা করেন-
  1. শব-ই-মেরাজ 
  2. জ্ঞানপ্রদীপ
  3. নবীবংশ
  4. জ্ঞানচৌতিশা
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।

• কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য। ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮.
ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক কে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) আলাওল
  3. গ) গোবিন্দ দাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৯.
জয়নবের চৌতিশা কত শতকের সাহিত্যকর্ম?
  1. চতুর্দশ শতক
  2. পঞ্চদশ শতক
  3. ষোড়শ শতক
  4. সপ্তদশ শতক
ব্যাখ্যা
• 'জয়নবের চৌতিশা' ষোড়শ শতকের সাহিত্যিক নিদর্শন।
• যা ১৫৭০ সালের দিকে রচিত হয়েছে।

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- যে পাঁচটি গ্রন্থের জন্য তিনি খ্যাতিমান সেগুলি:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর (১৫৭৫),
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।
- রাগনামাকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯০.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. বাল্মীকি
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯১.
কোন কবি মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন?
  1. কৃত্তিবাস
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. কাশীরাম দাশ
ব্যাখ্যা

কৃত্তিবাসের রামায়ণ:
- দীর্ঘ সময় ধরে রামায়ণ কাহিনি দেশে দেশে রসসঞ্চার করে এসেছে।
- বাল্মীকির রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করে কবি কৃত্তিবাস মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন। কালের আবর্তে এই অমর কবির প্রকৃত সৃষ্টিরূপ, তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় বিলীন হয়ে গেলেও, তিনি তাঁর অমর সৃষ্টির মাধ্যমে যে অবিনশ্বর ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। 
- তাকে ড. সুকুমার সেন 'অসমসাহসিকতার নামান্তর' বলে অভিহিত করেছেন।
- কৃত্তিবাসের কবিকীর্তি আশ্রয় করেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে অনুবাদকর্মের সগৌরব সূত্রপাত ঘটেছিল।
- কবির অবদান সম্পর্কে প্রবচনময় ঐতিহ্যের সৃষ্টি হলেও তাঁর মূল সৃষ্টির আস্বাদ লাভ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে ভূদেব চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, 'ছাপাখানার কল্যাণে ঘরে ঘরে আদি ও অকৃত্রিম কৃত্তিবাসী রামায়ণের যত বিচিত্র আকারের গ্রন্থ বিরাজ করছে, তার একটিতেও এমন এক ছত্র পাওয়া দুরূহ, নিঃসংশয়ে যাকে কৃত্তিবাসের নিজের রচনা বলে দাবি করা যেতে পারে।'
- এর কারণ হিসেবে মনে করা হয় যে, সে আমলে একাধিক পুঁথি রচনা করা কবির পক্ষে সম্ভব হত না। তাই জনগণের মধ্যে পুঁথির প্রচলন হয়নি, কাব্যের প্রচলন হয়েছে পাঁচালি গানের মাধ্যমে। সে আমলে গায়েনের স্মৃতিশক্তিই ছিল কবিগণের সৃজনকীর্তির শ্রেষ্ঠ ধারক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. ছত্রখণ্ড
  3. নৌকাখণ্ড
  4. জন্মখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩.
বিদ্যাসুন্দরের কাব্য কোন মঙ্গলকাব্যের সাথে জড়িত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কলিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বল্ব।
সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী পত্যাশা করে সুন্দর পতির। 
- এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর- পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।
- কাব্যটির উৎস এগারো শতকের সংস্কৃত কবি বিলহনের চৌরপঞ্চাশিকা। 
- বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রেমকাহিনী অবলম্বনে প্রথমে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন ষোলো শতকের কবি শাহ বিরিদ খান ও দ্বিজ শ্রীধর।
- পরে কৃষ্ণরাম, বলরাম, কবিশেখর,  রামপ্রসাদ সেন,  ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ এ ধারায় কাব্য রচনা করে যশস্বী হন।
- তবে এঁদের মধ্যে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল বা কালিকামঙ্গলই শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪.
নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন-
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিদ্যাপতি
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। এবং রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল। এই কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের/মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

অন্যদিকে, 
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মোদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের কবি ছিলেন এবং তাঁর অনুরোধে তিনি রচনা করেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্য। তাঁর রচনার স্বীকৃতি স্বরূপ রাজা রঘুনাথ রায় তাকে 'কবিকঙ্কণ উপাধি দেন।

• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন- বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
• কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন। তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভের সম্পাদনায় কত সালে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' পুথি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
  1. শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  2. সত্যপীরের পাঁচালি
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও আনুকূল্যে জনৈক প্রসাদ দেব এ কাব্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তিনি কবি এবং সঙ্গীতশিল্পী উভয়কেই প্রচুর অলংকার সামগ্রী, বিলাসবহুল পোষাক-পরিচ্ছদ এবং ভ্রমণের জন্য ঘোড়া দিয়ে পুরস্কৃত করেন।
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সুকুমার সেন মুকুন্দরামের পাঁচালিকে একটি দুর্লভ শ্রেষ্ঠ পাঁচালি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটি এ শ্রেণির কাব্যের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. হলায়ূধ মিশ্র
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. বিদ্যাপতি
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৯৮.
রামায়ণ কার রচনা?
  1. কৃত্তিবাস
  2. মুকুন্দরাম
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা। 
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। 
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'। 
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন। 
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।  

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি। 
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। 
- তাঁর রচিত রামায়ণের অন্য নাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'। 
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন। 

অন্যদিকে, 
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকের নাম- কাশীরাম দাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল হক) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯৯.
চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছেন-
  1. কায়কোবাদ
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. কানাহরি দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০০.
মালাধর বসুকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. গৌড়েশ্বর
  3. বিদ্যাপতি
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।