- পর্যায় সারণির গ্রুপ–১১ তে অবস্থিত মৌলগুলো (যেমন: কপার, সিলভার ও গোল্ড) প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো, এ কারণে আধুনিক পর্যায় সারণিতে এই গ্রুপের মৌলগুলোকে মুদ্রা ধাতু (Coinage Metals) বলা হয়।
ক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়।
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু।
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে।
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে।
মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়।
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু।
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়।
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে।
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
মুদ্রা ধাতু:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে।
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)।
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে।
• হ্যালোজেন:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ–17 এর মৌলগুলোকে (যেমন: F, Cl, Br, I) হ্যালোজেন বা লবণ উৎপাদনকারী বলা হয়।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।