বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

এসিড, লবণ, ক্ষার

মোট প্রশ্ন২২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

এসিড, লবণ, ক্ষার

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২২১

.
কৃষিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধ করতে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  2. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
  4. কপার সালফেট
ব্যাখ্যা

কৃষিতে ব্যবহৃত লবণ: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় তা মূলত -
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) ইথেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল, গ্যাস বা কয়লা।
- তেল, গ্যাস বা কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে।
- মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় সেটি মূলত মিথেন (CH4), এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়। 

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটির উপর কোনো এসিডের শক্তিমাত্রা নির্ভর করে না?
  1. ক) দ্রাবকের প্রকৃতি
  2. খ) প্রান্তীয় পরমাণুর জারণ অবস্থা
  3. গ) হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকার
  4. ঘ) এসিডের বিয়োজন ধ্রবক
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
এসিডের তীব্রতা বা শক্তিমাত্রা নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-
- এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকঃ এসিডের বিয়োজন ধ্রুবকের মান যতো বেশি হয়, এসিডটি ততো বেশি শক্তিশালী হয়।
- হাইড্রাসিডের ঋণাত্মক আয়নের আকারঃ ঋণাত্মক আয়নের আকার যতো বড় হয়, অণুর বিয়োজন ততো বেশি হয় অর্থাৎ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি হয়।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ অবস্থাঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা যতো বেশি, ঐ এসিডের তীব্রতা ততো বেশি।
- কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকারঃ অক্সিজেন পরমাণুযুক্ত এসিডসমূহের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা সমান হলে তখন যেটির কেন্দ্রীয় পরমাণুর আকার ছোটো হবে সে এসিডের তীব্রতা বেশি হবে।
- দ্রাবকের প্রকৃতিঃ দ্রাবকের প্রোটন গ্রহণ করার ক্ষমতাভবা ক্ষারকত্ব বেশি হলে এতে দ্রবীভূত এসিডের আয়নীকরণ বৃদ্ধি পায়।

.
"ফেনলফথ্যালিন" নির্দেশক ক্ষারকে কোন রং প্রদর্শন করে?
  1. গোলাপী
  2. নীল
  3. বেগুনী
  4. বর্ণহীন
ব্যাখ্যা
• ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক হলো-
- লিটমাস কাগজ - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।

- মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল।
- মিথাইল রেড এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

- মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

সুত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই।
.
HCl + NaOH → NaCl + H2O -এই বিক্রিয়ায় NaCl কী ধরনের লবণ?
  1. অম্লীয়
  2. ক্ষারীয় 
  3. পূর্ণ সরল
  4. আংশিক লবণ
ব্যাখ্যা

- NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড) একটি পূর্ণ সরল (Neutral) লবণ কারণ এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড (HCl) এবং একটি শক্তিশালী ক্ষার (NaOH) এর প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। শক্তিশালী অ্যাসিড ও শক্তিশালী ক্ষার সম্পূর্ণরূপে একে অপরকে প্রশমিত করে। 

লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 
যেমন- 
• HCl + NaOH → NaCl + H2
• এসিড + ক্ষার → লবণ + পানি 

- এছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। এই লবণগুলোর মধ্যে কোনোটি অম্লীয়, আবার কোনোটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
১) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3 ইত্যাদি। 
২) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3 ইত্যাদি। 
৩) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) হাইড্রোজেন সালফাইড
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন সালফাইড:
- এটি একটি রাসায়নিক যৌগ। এর রাসায়নিক সংকেত H2S.
- ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
- এটি বর্ণহীন গ্যাস।
- এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
- সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
- জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।
.
লাল লিটমাসকে নীল করে-
  1. ক) এসিড
  2. খ) ক্ষারক
  3. গ) পানি
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
লিটমাস পেপার এসিডে ডুবালে সেটি নীল লিটমাস লাল হয়। আবার, ক্ষারকের দ্রবণে ডুবালে লাল লিটমাসকে নীল করে এবং লবনের দ্রবনে লিটমাস পেপার ডুবালে তার রংয়ের কোন পরিবর্তন হবে না।
সূত্রঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
.
পিঁপড়ার কামড়ে জ্বালাপোড়া করে কোন রাসায়নিক পদার্থের কারণে?
  1. ফরমিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. জিংক সালফাইড
ব্যাখ্যা
• ফরমিক এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়া হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়।
- এসব জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, যা নিষ্ক্রিয় করতে জিংক কার্বোনেট, বেকিং সোডা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে,
- আপেল, টমেটোতে ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়।
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড পাওয়া যায়।
- সাপের বিষে জিংক সালফাইড  পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
.
'মিথাইল অরেঞ্জ' নির্দেশক ক্ষারকে কোন রং প্রদর্শন করে?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) কমলা
  4. ঘ) হলুদ
ব্যাখ্যা
- মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক হলো-

• লিটমাস কাগজ - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।
• মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল, এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।
•  ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

সুত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই
১০.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সোডা লেমন
  2. ভিনেগার
  3. চুন
  4. সালফিউরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH- 
• KOH → K+ + OH- 
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে। 
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। 
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি। 
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
রাসায়নিক প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে প্রধানত নতুন কোন যৌগগুলো উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষার ও লবণ
  2. এসিড ও ক্ষার
  3. এসিড ও হাইড্রোজেন
  4. লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা

• প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে পরস্পরকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ফলস্বরূপ লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

• প্রশমন বিক্রিয়া:
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়।
- যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য স্বর্ণকারগণ কোন অ্যাসিড ব্যবহার করে থাকেন?
  1. সালফিউরিক অ্যাসিড
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
  4. ইথানয়িক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
সোনার বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য যে অ্যাসিড ব্যবহার করা হয় তা হলো নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃)

কীভাবে কাজ করে:
- নাইট্রিক অ্যাসিড অনেক ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে, কিন্তু খাঁটি সোনার সাথে বিক্রিয়া করে না, কারণ সোনা রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
- সোনার একটি ছোট নমুনার উপর নাইট্রিক অ্যাসিড প্রয়োগ করা হলে,
- যদি এতে তামা বা রূপার মতো অমিশ্রণ থাকে, তাহলে এগুলো নাইট্রিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে গলে যায় এবং বুদবুদ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যায়।
- যদি সোনা খাঁটি হয়, তাহলে কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না।

উৎস: www.caratlane.com
১৩.
দুর্বল এসিড কোনটি? 
  1. সালফিউরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

দুর্বল এসিড: 
- সাধারণত জৈব এসিড গুলো দুর্বল হয়ে থাকে।
- বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে এ এসিডগুলো বিদ্যমান থাকে।
- তাই জৈব এসিড খাওয়ার উপযোগী।
যেমন: ইথানয়িক এসিড, টারটারিক এসিড, এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এসকরবিক এসিড, ম্যালিক এসিড ইত্যাদি।

শক্তিশালী এসিড: 
- অজৈব এসিড গুলো সাধারণত শক্তিশালী এসিড হয়ে থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।
- তাই অজৈব এসিডগুলো খাওয়া যায় না।
যেমন: হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪.
টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের মূল উপাদান কোনটি?
  1. Hydrochloric acid (HCl)
  2. Sodium chloride (NaCl)
  3. Sodium hydroxide (NaOH)
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনারগুলোর প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।
- এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড, যা ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং লেমস্কেল (পানি থেকে জমে থাকা কঠিন পদার্থ) দ্রবীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।

• টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের ব্যবহার:
- দাগ দূর করার জন্য: টয়লেটের উপর জমে থাকা শক্ত দাগ এবং পাথরের স্তর (scale) অপসারণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খুব কার্যকর।
- জীবাণু ধ্বংস করতে: এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে, ফলে টয়লেট আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

অপশন আলোচনা:
- Sodium hydroxide (NaOH): এটি একটি শক্তিশালী বেস, যা সাধারণত পাইপ পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- Sodium chloride (NaCl): এটি সাধারণ লবণ, যা টয়লেট ক্লিনারে ব্যবহার হয় না।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১৫.
মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া নিষ্ক্রিয় করতে নিচের কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যাপামিন
  2. মেলিটিন
  3. ক্যালামিন
  4. ফরমিক এসিড
ব্যাখ্যা
ক্ষারকের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য: 
- নির্দেশকের সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে রং পরিবর্তন করে। 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- এছাড়া আরো কিছু নির্দেশক আছে যেগুলো নিয়মিতভাবে পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- মিথাইল অরেঞ্জ, মিথাইল রেড, ফেনলফথেলিন ইত্যাদি রং পরিবর্তন করে। 
যেমন- 

- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH
• KOH → K+ + OH
• NH4OH → NH4+ + OH
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
-  মৌমাছি হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড় দিলে জ্বলে কারণ পিঁপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয়, যা আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। 
- আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড, মেলিটিন (Melittin) এবং অ্যাপামিন (Apamin) নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার কারণে জ্বালাপোড়াও হয় আবার আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায়। 
- যেহেতু এসব ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়ার কারণ হচ্ছে এসিড, তাই এসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে মলম, লোশন (যেমন-চুন) ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- এরকম একটি লোশন হলো ক্যালামিন (Calamine), যা মূলত জিংক কার্বোনেট (ZnCO3)। 
- বেকিং সোডা ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বাড়লে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। তখন ক্ষারক ব্যবহার করে এসিডিটিকে প্রশমিত করা যায় এবং উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায়। 
- এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ক্ষারক হলো চুন (CaO) এবং মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2)। 
- অবশ্য এ কাজে চুনাপাথরও (CaCO3) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়। 
- আবার থালা-বাসন পরিষ্কার করার জন্য যে শক্ত সাবান বা তরল সাবান ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতেও ক্ষারক থাকে। 
- এমনকি যে কাপড় কাচার সাবান ব্যবহার করা হয়, তাও তৈরি করা হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- একইভাবে শেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরি করা হয় পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে যে এন্টাসিড খাওয়া হয় তা হলো ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) নামের ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
কৃষিজমিতে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. Na2CO3
  4. CuSO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা এক প্রকারের লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- আবার বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়, ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
নীল লিটমাস কাগজ কোন অবস্থায় লালবর্ণ ধারণ করে? 
  1. pH > 7 
  2. pH < 7
  3. pH = 7
  4. সব ক্ষেত্রেই 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন।
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে; আবার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। 
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
দুধে থাকে-
  1. সাইট্রিক এসিড
  2. ল্যাকটিক এসিড
  3. নাইট্রিক এসিড
  4. এসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
- আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার গ্রহণ করে থাকি তার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের এসিড থাকে।
যেমন- 
• ভিনেগারে থাকে ইথানয়িক এসিড, 
দুধে থাকে ল্যাকটিক এসিড
• সফট ড্রিংকসে থাকে কার্বনিক এসিড, 
• কমলালেবু বা লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড, 
• তেতুলে থাকে টারটারিক এসিড, 
• চায়ে থাকে ট্যানিক এসিড। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
অ্যান্টাসিড দ্রবণে pH এর মাত্রা কত?
  1. ≤ 6.5
  2. ≥ 7.0
  3. > 10
  4. > 14
ব্যাখ্যা

পানি কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তার পরিমাপক হলো pH. এর সীমা ০-১৪, যেখানে ৭ নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে, ৭ এর নিচে অম্লতা নির্দেশ করে, এবং ৭ এর উপরে ক্ষারক নির্দেশ করে। অ্যান্টাসিড হলো ক্ষারকীয় দ্রবণ। তাই এর pH এর মাত্রা ৭.০ এর বেশি।

Source: usgs.gov

 
২০.
"আনারসে" কোন এসিড থাকে?
  1. এসকরবিক এসিড
  2. টারটারিক এসিড
  3. ম্যালিক এসিড
  4. অক্সালিক এসিড
ব্যাখ্যা
- আনারসে ও আপেল থাকে ম্যালিক এসিড।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২১.
নিচের কোনটি তীব্র ক্ষারধর্মী যৌগ নয়? 
  1. NaOH
  2. KOH
  3. NH4OH
  4. Ca(OH)2
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সকল হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রত্যেকেই জলীয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
 

ক্ষারক: 
- ক্ষারক হলো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক। 
- পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়, ক্ষারক। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
-  যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (II) অক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (III) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (III) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- অ্যামোনিয়া (NH3) ক্ষার বা ক্ষারক নয় বরং এটি একটি ক্ষার ধর্মী যৌগ। 
- অ্যামোনিয়া পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) উৎপন্ন করে। 
- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার। 
   NH3 (g) + H2O (l) → NH4OH (aq) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রােটিন তৈরি হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে।

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
- প্রােটিন গঠনকারী অ্যামাইনাে অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এই ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলাে হলাে:
১. লাইসিন,
২. লিউসিন,
৩. আইসােলিউসিন,
৪. মিথিওনিন,
৫. ট্রিপটোফ্যান,
৬. ভ্যালিন,
৭. ফিনাইল অ্যালানিন,
৮. থ্রিওনিন।

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
২৩.
গাঢ় নাইট্রিক এসিড কোন রঙের কাচের বোতলে রাখা হয়?
  1. কালো
  2. সাদা
  3. বাদামি
  4. লাল
ব্যাখ্যা
গাঢ় নাইট্রিক এসিড: 
- নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে পানিতে দ্রবীভূত করে নাইট্রিক এসিড তৈরি করা হয়। 
- কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে NO2 গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় নাইট্রিক এসিড HNO3 তৈরি করা হয়। 
3NO2 + H2O → 2HNO3 + NO 

- গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। 
- গাঢ় নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের বর্ণ বাদামি হয়। 
- নাইট্রিক এসিড যে বাদামি কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের HNO3 আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। 
- HNO3 যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য HNO3 কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়, কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
​মাটির এসিডিটি কমাতে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট 
  2. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
  3. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫.
সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. পলিমারাইজেশন
  2. সালফোনেশন
  3. স্যাপোনিফিকেশন
  4. ফার্মেন্টেশন
ব্যাখ্যা

• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন। 

• সাবান:  
- সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের  (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড)  সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ময়লা ও তেল অপসারণ করে।

• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন।
- এ প্রক্রিয়া তে জৈব এসিডের সাথে ক্ষারের ক্রিয়ায় সাবান তৈরি হয়। 
• বিক্রিয়া:
- জৈব এসিড বা স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH ) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O
- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সবানের রাসায়নিক নাম।

অন্যদিকে, 
•  সালফোনেশন (Sulfonation): কোনো জৈব যৌগে সালফোনিক অ্যাসিড গ্রুপ (-SO3H) যুক্ত করার বিক্রিয়াকে সালফোনেশন বলে। এটি ডিটারজেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সাবান তৈরিতে নয়।

পলিমারাইজেশন: মনোমার থেকে পলিমার গঠন প্রক্রিয়াকে পলিমারাইজেশন বলা হয়।

ফার্মেন্টেশন: enzymes দ্বারা জৈব যৌগের ভাঙ্গন।

তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ,  নবম-দশম শ্রেণি। 
- রসায়ন ২য় পত্র,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

২৬.
অশ্রু বা চোখের জল হল-
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) লবণযুক্ত পানি
  4. ঘ) অ্যাকোয়া রিজিয়া
ব্যাখ্যা

অশ্রু গ্রন্থি:
উপরের চক্ষু পল্লবের কোনায় অশ্রু গ্রন্থি থাকে যা থেকে অশ্রু (Tears) তৈরি হয়।
সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও পানি সমন্বয়ে অশ্রু তৈরি হয়।
অশ্রুতে লাইসোজাইম নামক একটি এনজাইমও থাকে। অশ্রু গ্রন্থিকে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিও বলে।
কাজ: অশ্রু চোখকে সিক্ত রাখে, ধূলা ও ময়লা পরিস্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour) - লেন্সও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।
ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour) - লেন্সও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গোলকের গোলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
চুনের পানির সংকেত কোনটি?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

• চুনের পানির সংকেত হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Ca(OH)2 । 

• চুনের পানি:
- চুনের পানি হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের (Ca(OH)2 একটি স্বচ্ছ জলের দ্রবণ।

• বৈশিষ্ট্য:
- চুনের পানি বর্ণহীন ও স্বচ্ছ দ্রবণ।
- এটির প্রকৃতি ক্ষারীয়।
- চুনের পানি CO2 এর সাথে বিক্রিয়া করে দুধের মতো সাদা হয়ে যায়, কারণ এতে CaCO3​ গঠিত হয়।

• ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয় (lime water test)।
- কৃষি ও মাটির অম্লতা দূর করতে।
- বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষায়।

অন্যদিকে,
• কস্টিক সোডা (Caustic Soda)– এটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)–এর বাণিজ্যিক নাম।
• পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) – এটি কস্টিক পটাশ নামে পরিচিত।
• ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)₂) – এটি সাধারণত অ্যাসিডিটির ওষুধে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান -
  1. 0
  2. 1
  3. 7
  4. 14
ব্যাখ্যা
- pH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয় এবং ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
২৯.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. সিলভার ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) ।

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
pH স্কেলের উদ্ভাবক কে?
  1. ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. আরহেনিয়াস
  4. সোরেনসেন
ব্যাখ্যা

• pH :
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে।
- 1909 সালে ড্যানিশ প্রাণ-রসায়নবিদ সোরেনসেন কোনো দ্রবণের H+ ও OH- আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশের জন্য pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH হলো Puissance d' Hydrogen অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়নের প্রাবল্য। 

• pH pOH এর মধ্যে সম্পর্ক-
pH + pOH = 14

• বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7 I অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে এবং ক্ষার যোগ করলে pH এর মান বাড়তে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. গ্লিসারিন
  2. ফিটকিরি
  3. সােডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা
• লবণ:
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২.
তীব্র এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. জলীয় দ্রবণে অম্লধর্ম প্রকাশ করে না
  2. এটি ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে না
  3. এটি আংশিকভাবে আয়নিত হয়
  4. এটি সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা

- তীব্র এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
অন্যদিকে, সব এসিডই জলীয় দ্রবণে অম্লধর্ম প্রকাশ করে; তীব্র এসিড সাধারণত সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে এবং আংশিকভাবে আয়নিত হওয়া দুর্বল এসিডের (weak acids) বৈশিষ্ট্য। 

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এসিড ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীল লিটমাসকে লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস:
রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
Which of the following indicates an acidic value on the pH scale?
  1. 8
  2. 7
  3. 4
  4. 9
  5. 10
ব্যাখ্যা
• pH স্কেলের প্রদত্ত মানগুলোর মধ্যে এসিডিক বা অম্লীয় মান হলো 4। 

• pH:

- pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 

• pH স্কেল ব্যবহার করে একটি দ্রবণের অম্লীয় (acidic) বা ক্ষারীয় (basic) প্রকৃতি বোঝা যায়।
- দ্রবণের pH এর মান 7 হলে বোঝায় দ্রবণটি নিরপেক্ষ। 
- pH এর মান 7 এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় হয়। 
- pH এর মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় হয়। 

• pH স্কেলে কোন দ্রবণের pH এর মান 0 থেকে 6 এর মধ্যবর্তী হলে দ্রবণটির প্রকৃতি হবে এসিডিক বা অম্লীয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৪.
‘মিথাইল অরেঞ্জ’ নামক নির্দেশক এসিড দ্রবণে কি ধরনের বর্ণ নির্দেশ করে? 
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. কমলা
  4. নীল
ব্যাখ্যা
নির্দেশক:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ অম্ল–ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে নিজ বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রিয়ায় শেষবিন্দু নির্দেশ করে তাকে অম্ল ক্ষারক নির্দেশক বলে।



উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র। 
৩৫.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত লবণ নিচের কোনটি? 
  1. CuSO4
  2. NH4NO3
  3. Na2CO3
  4. KNO3
ব্যাখ্যা

- কপার সালফেট (CuSO4) যা তুঁতে নামে পরিচিত, এটি কৃষিতে ব্যাপকভাবে একটি ব্যাকটেরিয়ানাশক এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতার কারণে বহুল ব্যবহৃত হয়। 

লবণ: 

- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬.
জৈব এসিডে কোন মূলক উপস্থিত থাকে?
  1. -COOH
  2. -SO4
  3. -OH
  4. -NH2
ব্যাখ্যা

জৈব এসিডে -COOH মূলক উপস্থিত থাকে। 

এসিডের শ্রেণিবিভাগ:
জৈব এসিড (Organic Acid):
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO₃H) উপস্থিত থাকে।
- এরা অম্লধর্ম প্রকাশ করে।
- কার্বনিক এসিড ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড ছাড়া উল্লেখিত সব এসিড জৈব এসিড।
- জৈব এসিড শুধুমাত্র ফলমূলের মধ্যেই থাকে না; এটি সব অবস্থাতেই উপস্থিত থাকতে পারে।
- বাজারে কাঁচের বোতলে পাওয়া ভিনেগার মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH₃-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ।

অজৈব এসিড (Inorganic Acid):
- অজৈব যৌগ হলেও এরা টক স্বাদযুক্ত, নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করলে হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে, 
- সালফেট (-SO4),
- হাইড্রোক্সিল (-OH),
- অ্যামিনো (-NH2) মূলক জৈব এসিডের প্রধান মূলক নয়, বরং বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য থাকে।
 
 উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩৭.
pH স্কেল ব্যবহার করে কোনটি নির্ণয় করা হয়?
  1. দ্রবণের অম্লীয়তা বা ক্ষারীয়তা
  2. দ্রবণের ঘনত্ব
  3. দ্রবণের আর্দ্রতা 
  4. দ্রবণের তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
তীব্র ক্ষার নয় কোনটি?
  1. NaOH
  2. Al(OH)3
  3. КОН
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু? 
  1. সোডিয়াম
  2. বেরিয়াম
  3. লিথিয়াম
  4. সিজিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
কোনটি জৈব অম্ল?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. এসিটিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
দুর্বল এসিড: 
- সাধারণত জৈব এসিড গুলো দুর্বল হয়ে থাকে। 
- বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে এ এসিডগুলো বিদ্যমান থাকে। 
- তাই জৈব এসিড খাওয়ার উপযোগী। 
যেমন: ইথানয়িক এসিড, টারটারিক এসিড, এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এসকরবিক এসিড, ম্যালিক এসিড ইত্যাদি। 

শক্তিশালী এসিড: 
- অজৈব এসিড গুলো সাধারণত শক্তিশালী এসিড হয়ে থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। 
- তাই অজৈব এসিডগুলো খাওয়া যায় না। 
যেমন: হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা কত?
  1. 0
  2. + 1
  3. - 1
  4. + 2
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
কোনটি নীল লিটমাসকে লাল করে? 
  1. ক্ষার
  2. ক্ষারক
  3. এসিড
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়। 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে। 
যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড। 
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়। 

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. এসিড স্বাদে টক। 
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে। 
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে। 
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে। 
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
pH হল-
  1. ক) এসিড নির্দেশক
  2. খ) ক্ষার নির্দেশক
  3. গ) নিরপেক্ষতা নির্দেশক
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
কোন রাসায়নিক পদার্থের pH এর মান যদি 7 এর কম হয় তাহলে সে পদার্থটি এসিড অন্যদিকে কোন রাসায়নিক পদার্থের pH এর মান 7 এর বেশি হয় সে পদার্থটি ক্ষার এবং পদার্থটির pH এর মন যদি বরাবর 7 হয় তাহলে পদার্থটি নিরপেক্ষ।
৪৪.
নিচের কোন যৌগটির জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির?
  1. NaCl 
  2. Na2SO4 
  3. Na2CO3 
  4. FeCl3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে, তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয়মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে, তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 
- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন- FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 
- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫.
ক্ষারক মূলত কী কাজ করে? 
  1. অক্সিজেন মুক্ত করে
  2. তাপ বৃদ্ধি করে 
  3. এসিডকে প্রশমিত করে 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

• ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

• তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

• মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
ক্ষারের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে কমলা করে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

• ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
বাসাবাড়ির আইপিএস এর অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো -
  1. ক) নাইট্রিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিনেগারের হলো অ্যাসিডটক এসিড (CH3-COOH) এর 6-10% জলীয় দ্রবণ।
সার কারখানায় নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক এসিড (HPO,) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড  (HCI), নাইট্রিক এসিড (HNO3) বা সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী এসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
সোনার গহনা তৈরিতে নিচের কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. কার্বোলিক এসিড 
  3. সালফিউরিক এসিড 
  4. নাইট্রিক এসিড 
ব্যাখ্যা

- সোনার গহনা তৈরি ও পরিশোধনের কাজে প্রধানত নাইট্রিক এসিড (Nitric Acid) ব্যবহার করা হয়। স্বর্ণকাররা সোনার খাদ (যেমন- তামা বা রূপা) আলাদা করতে বা সোনা পরিষ্কার করার কাজে এই এসিডটি ব্যবহার করেন। উল্লেখ্য, খাঁটি সোনা এককভাবে কোনো শক্তিশালী এসিডে গলে না, তবে হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিডের ৩ : ১ অনুপাতের মিশ্রণ 'অ্যাকুয়া রেজিয়া' বা 'রাজকীয় অম্ল' সোনাকে দ্রবীভূত করতে সক্ষম। 

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪৯.
'Alkaline Earth Metals' নিচের কোনটি? 
  1. বেরিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০.
কোন লবণ পানিতে দ্রবণীয় নয়? 
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3)
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১.
pH-এর মান যত কম, তত বেশি- 
  1. ক্ষারীয় 
  2. এসিডিক 
  3. লবণাক্ত 
  4. নিরপেক্ষ 
ব্যাখ্যা
pH: 
- pH হলো এমন একটি রাশি, যেটি দ্বারা বোঝা যায় পানি বা অন্য কোনো জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ। 
- নিরপেক্ষ হলে pH হয় ৭, এসিডিক হলে ৭-এর কম, আর ক্ষারীয় হলে ৭-এর বেশি। 
- এসিডের পরিমাণ যত বাড়বে, pH-এর মান তত কমে। অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়ে, pH-এর মানও তত বাড়ে। 
- নদ-নদী, খালবিল ইত্যাদির জন্য pH-এর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত নদ-নদীর পানি ক্ষারীয় হয়। 
- গবেষণা করে দেখা গেছে, নদ-নদীর পানির pH যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা জলজ উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না। 
- তবে pH-এর মান যদি এর চাইতে কমে যায় বা বেড়ে যায়, তাহলে ঐ পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী আর উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। 
- মাছের ডিম, পোনা মাছ পানির pH খুব কম বা বেশি হলে বাঁচতে পারে না। 
- পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে, অর্থাৎ pH-এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বাইরে চলে আসে, যার ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২.
জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় এমন এসিডকে কী বলা হয়? 
  1. তীব্র এসিড
  2. জৈব এসিড
  3. দুর্বল এসিড
  4. লবণীয় এসিড
ব্যাখ্যা

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এটি নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
কোন এসিডের সোডিয়াম লবণকে ডিটারজেন্ট বলা হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড
  2. খ) বেনজিন সালফোনিক এসিড
  3. গ) বেনজোয়িক এসিড
  4. ঘ) সাইট্রিক এসিড
ব্যাখ্যা

সাবানঃ দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ৷
ডিটারজেন্টঃ দীর্ঘ কার্বন শিকল বিশিষ্ট বেনজিন সালফোনিক এসিডের সোডিয়াম লবণ৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

৫৪.
ক্ষারধর্মী অক্সাইড কোনটি? 
  1. NO2
  2. SO2
  3. CaO
  4. N2O
ব্যাখ্যা

অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
নিচের কোনটি দুর্লভ গ্যাস?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।

--------------------------
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
- আবার বায়ুতে এদের পরিমাণ খুবই কম (<1%); এ কারণে এদেরকে বিরল বা দুর্লভ গ্যাসও বলা হয়।
- এই গ্যাসগুলো খুব একটা ক্ষতিকরও নয়; তাই এদেরকে ‍উত্তম গ্যাসও বলা হয়।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬.
নিম্নের কোন ফলে ম্যালিক এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) কমলা
  2. খ) আনারস
  3. গ) আমলকি
  4. ঘ) টমেটো
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড;
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড;
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড;
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড;
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৭.
কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের অন্তর্ভুক্ত?
  1. pH = 2
  2. pH = 5
  3. pH = 8
  4. pH = 7
ব্যাখ্যা
বিশুদ্ধ পানির pH = 7 
 pH এর মান কমতে থাকলে এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। 
 pH এর মান বাড়তে থাকলে ক্ষারের মাত্রা বেড়ে যায়।
যে দ্রবনের বা বস্তুর pH এর মান সবচেয়ে কম উক্ত দ্রবন বা বস্তুর এসিডের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। 
তাই অপশনের ক) সঠিক

সূত্র - রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫৮.
ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়-
  1. আপেলে
  2. কমলাতে
  3. টমেটোতে
  4. কাঁঠালে
ব্যাখ্যা

- আপেল, আনারসে ম্যালিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।
অন্যদিকে,
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক অ্যাসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।
- স্ট্রবেরিতে থাকে স্যালিসাইলিক এসিড।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী

৫৯.
কোন ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়?
  1. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

ক্ষার: 
- যে সব ক্ষারক পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়।
- ক্ষার আসলে এক বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- NaOH, NH₂OH, Ca(OH)₂ এরা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) দান করে তাই এরা ক্ষার আবার ক্ষারকও।
- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক তবে পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়।
- ক্ষার বা ক্ষারক অ্যাসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারক এর জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয় এবং এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক সাধারণত কটু স্বাদযুক্ত হয়।

তীব্র ক্ষার: 
যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। যেমন- পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3, ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬০.
নিচের কোনটি ক্ষারের বৈশিষ্ট্য?
  1. পানিতে দ্রবণীয়
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্ষার:
ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. স্ট্রনসিয়াম
ব্যাখ্যা

• স্ট্রনসিয়াম (Sr) মৃৎক্ষার ধাতু। এটি পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮।

ক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে।
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে।
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়।

মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) NaOH
  2. খ) NaCl
  3. গ) Na2SO4
  4. ঘ) CuCl
ব্যাখ্যা
নিচের সারণিতে পানিতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় কিছু নমুনা লবণের উদাহরণ দেয়া হলোঃ

সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৩.
কোন দ্রবণ অম্লীয় হবে? 
  1. যার pH > ৭
  2. যার pH = ৭
  3. যার pH < ৭
  4. যার pH = ১৪
ব্যাখ্যা
pH-এর মান জানার প্রয়োজনীয়তা: 
- কোনো একটি পদার্থ এসিড, ক্ষার না নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। 
- কিন্তু তাতে কী পরিমাণ এসিড বা ক্ষার আছে, সেটি বোঝা যায় pH-এর মান পরিমাপ করে। 
- নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি যেখানে কোনো এসিড বা ক্ষার থাকে না, তার pH হয় ৭ । 
- আর যদি এতে এসিড যোগ করা হয় তাহলে pH-এর মান কমে যায়। যত বেশি এসিড যোগ করা যায়, pH-এর মান ততই কমে যায়। 
- পক্ষান্তরে যদি বিশুদ্ধ পানি বা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণে ক্ষার যোগ করা হয়, তাহলে এর pH বাড়তে থাকে। যত বেশি ক্ষার যোগ করা হয়, pH-এর মান ততই বাড়তে থাকে। 
সুতরাং বলা যায়, 
• কোনো দ্রবণের pH = ৭ হলে তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি হবে। 
কোনো দ্রবণের pH < ৭ হলে (৭ থেকে কম হলে) তা অম্লীয় বা এসিডিয় দ্রবণ হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH > ৭ হলে (৭ থেকে বেশি হলে) তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে। 
- pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি কম হবে, এসিডটি তত শক্তিশালী, আবার pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি হবে, ক্ষারকত্বও তত বেশি শক্তিশালী হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪.
ক্ষার জলীয় দ্রবণে কোন আয়ন দান করে? 
  1. Cl
  2. Na
  3. H
  4. OH-
ব্যাখ্যা

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, KOH, Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)2, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
কোনো দেশের শিল্পোন্নয়ন নিরূপণে কোন এসিডের ব্যবহারকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য।
যেমন-
• সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় তাতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় সেটি হলো কার্বোলিক এসিড। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে এসিড অত্যাবশ্যকীয় এবং সেটি হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহৃত হয়। 
কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড (HNO3) এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬৬.
পোকামাকড় দমনে কোন ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়? 
  1. ব্লিচিং পাউডার
  2. লাইম ওয়াটার
  3. মিল্ক অফ লাইম
  4. মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া
ব্যাখ্যা
প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারের ব্যবহার: 
- কাপড় কাচার সাবান তৈরি হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- সেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরিতে পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল ব্যবহার করা হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডারে যে উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলো মূলত ক্ষারীয়। 
- এন্টাসিড অ্যাসিড মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)2 ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 নামের ক্ষার যা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা অ্যাসিডিটির কারণে খাওয়া হয়। 
- মৌমাছির হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ের জ্বালা কমানোর জন্য ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা হয় যা আসলে জিংক কার্বোনেট। অনেকে বেকিং সোডাও ব্যবহার করে থাকেন। কারণ, পিঁপড়ার কামড়ে মূলত ফরমিক অ্যাসিড এবং মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড, মেলিটিন, ও অ্যাপামিন নামক অ্যাসিডডক পদার্থ নিঃসৃত হয়।  ফলে ঐ স্থান জ্বালা-পোড়া করে ও ফুলে যায় । এই অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে এ জাতীয় ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়। 
- মাটির অ্যাসিডিটি বাড়লে এর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়, তাই মাটির উর্বরতা শক্তি ফেরাতে চুন (CaO), চুনাপাথর জাতীয় ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
- 'মিল্ক অফ লাইম' নামক ক্ষারীয় বস্তু পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
এসিড লিটমাস কাগজে কী পরিবর্তন করে? 
  1. নীল থেকে লাল করে
  2. লাল থেকে নীল করে
  3. নীল থেকে সবুজ করে
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
pH স্কেলে দ্রবণের সীমা কোনটি?
  1. 0–7
  2. 7–14
  3. 0–14
  4. 1–10
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয় 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
নিচের কোনটির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না?
  1. পানি
  2. জিংক
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
এসিডের রাসায়নিক ধর্মে পানির ভূমিকা: 
- এসিডের ধর্ম কার্যকর হয় পানির উপস্থিতিতে। 
- পানির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস ভর্তি গ্যাসজারের মধ্যে শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ ধরলে দেখা যাবে লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত আছে। 
- এ গ্যাসজারের মধ্যে কঠিন ক্যালসিয়াম কার্বনেটের টুকরা ফেললে দেখা যায় কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- আবার গ্যাসজারের মধ্যে আয়রন ধাতুর টুকরা বা জিংক ধাতুর টুকরা রাখলেও কোনো রূপ বিক্রিয়া সংগঠিত হয় না। 
• HCl(g) + শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ → নীল লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। 
• HCl(g) + CaCO3(s) → কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
• HCl(g) + Fe → কোন বিক্রিয়া ঘটে না এবং H2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
বিশুদ্ধ পানির pH এর মান কত?
  1. ১২
  2. ৮.৮
  3. ৭.০
  4. ৬.২
ব্যাখ্যা
• pH:
- কোন দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার লগারিদমের ঋণাত্বক মানকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়, এর মান অনুযায়ী দ্রবণ অম্লীয় বা ক্ষারীয় হবে তা নির্ধারিত হয়।
- pH এর মান ৭ হলে তাকে নিরপেক্ষ দ্রবণ বা প্রশম দ্রবণ বলা হয়।
- pH স্কেলের বিস্তৃতি: ০ – ১৪, 
- বিশুদ্ধ পানির pH হলো ৭;
- pH এর মান ৭ এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় এবং এর বেশি হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।
- মানুষের রক্তের pH এর মান 7.4 (ঈষৎ ক্ষারীয়)। 

উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি রসায়ন বই এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৭১.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
  3. গ) তরল ব্রোমিন
  4. ঘ) ফেরিক ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রাস এসিড, সালফিউরাস এসিড, অধিকাংশ ধাতু, কার্বন, ফেরাস লবণ, সোডিয়াম থায়ো সালফেট, অক্সালিক এসিড ইত্যাদি হলো বিভিন্ন বিজারক পদার্থের উদাহরণ।
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অক্সিজেন, ওজোন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, পটাশিয়াম ক্লোরেট ইত্যাদি হলো বিভিন্ন জারক পদার্থের উদাহরণ।

৭২.
এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি 
  2. লবণ ও গ্যাস
  3. পানি ও অক্সিজেন
  4. শুধুই লবণ
ব্যাখ্যা

• এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া: এটি এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে এসিড ও ক্ষার একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ (Salt) এবং পানি (Water) উৎপন্ন হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) + NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড) → NaCl (লবণ) + H₂O (পানি)
এখানে, এসিডের H⁺ আয়ন এবং ক্ষারের OH⁻ আয়ন মিলে পানি তৈরি করে, এবং লবণ (NaCl) থাকে।

অপরদিকে, 
- লবণ ও গ্যাস: এটি শুধু কিছু বিশেষ বিক্রিয়ায় ঘটে, যেমন কার্বনেট যৌগ + অ্যাসিড।
- পানি ও অক্সিজেন: সাধারণ এসিড-ক্ষার বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় না।
- শুধুই লবণ: এটি ভুল, কারণ পানিও উৎপন্ন হয়। 

সুতরাং, এসিড ও ক্ষারের সংমিশ্রণে সর্বদা উৎপন্ন হয় লবণ ও পানি।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।    

৭৩.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-2'তে অবস্থিত মৌলগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ষার ধাতু 
  2. স্বাভাবিক ধাতু 
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
pH স্কেলের সর্বোচ্চ সীমা কত পর্যন্ত হতে পারে?
  1. 6
  2. 7
  3. 18
  4. 14
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন বা নিরপেক্ষ হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫.
নিচের কোনটি প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষের উদাহরণ নয়?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. শুষ্ক কোষ
  3. লেড–এসিড সঞ্চয়ী কোষ
  4. ভোল্টা কোষ
ব্যাখ্যা

• লেড–এসিড সঞ্চয়ী কোষ সেকেন্ডারি তড়িৎ রাসায়নিক কোষের উদাহরণ।

• তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। - তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা-
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ:
যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ:
যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৬.
ক্ষার ধাতু পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে অবস্থিত? 
  1. গ্রুপ-1
  2. গ্রুপ-2
  3. গ্রুপ-11
  4. গ্রুপ-17
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. গ্লাইসিন
  2. ভ্যালিন
  3. লিউসিন
  4. থ্রিওনাইন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। 
- এগুলো হলো:
• লাইসিন,
• ট্রিপেটোফ্যান,
• মিথিওনিন,
• ভ্যালিন,
• লিউসিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন ও
• থ্রিওনাইন। 

- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮.
নিচের কোনটি ক্ষারকীয় অক্সাইড?
  1. P4O10
  2. MgO
  3. CO
  4. ZnO
ব্যাখ্যা
- ক্ষারকীয় অক্সাইড হলো এমন অক্সাইড যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষার তৈরি করে। 
- এদের মধ্যে (MgO) ধাতব অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয় হয়। 
- MgO পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)2 গঠন করে, যা একটি ক্ষার। 

Magnesium oxide (MgO) is again a simple basic oxide, because it also contains oxide ions.

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৯.
তুঁতে বা কপার সালফেটের কৃষিতে প্রধান ব্যবহার কী? 
  1. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি
  2. পানি বিশুদ্ধকরণ
  3. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি
  4. ব্যাকটেরিয়া ও শৈবাল নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত এক ধরনের লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০.
কৃষিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে কোন লবণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. NaCl
  2. KNO3
  3. CuSO4
  4. NH4NO3
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১.
এসিডীয় দ্রবণের pH কত?
  1. 7 এর কম
  2. 7 এর বেশি
  3. 7 এর সমান
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোনো দ্রবনের pH = 7 তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি
কোনো দ্রবনের pH < 7 তা এসিডীয় দ্রবণ হবে
কোনো দ্রবনের pH > 7 তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে।

[উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণি বিজ্ঞান ,পৃষ্ঠা -১৪৫]
৮২.
NaOH কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. চুন প্রস্তুতিতে 
  2. টয়লেট ক্লিনার হিসেবে
  3. অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে
  4. দাঁত পরিষ্কার করতে
ব্যাখ্যা

NaOH বা সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষার, যা কস্টিক সোডা নামে পরিচিত। এটি শিল্পক্ষেত্রে এবং গৃহস্থালির পরিষ্কারক হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়।

- যেসব ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদের বলে ক্ষার।
- NaOH, KOH, Ca(OH)2, NH4OH এরা সবাই ক্ষার। এদের কিন্তু ক্ষারকও বলা হয়।
- কোনো ক্ষারক একটি এসিডকে প্রশমন করলে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিচ্ছন্নতা কাজে ক্ষারজাতীয় পদার্থের বেশ ব্যবহার আছে।
- যেমন: NaOH টয়লেট ক্লিনার হিসেবে, NH4OH কাচ পরিষ্কারক হিসেবে, Ca(OH)2 দেওয়াল চুনকাম করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন বই।

৮৩.
এসিড কী দান করে? 
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোক্সাইড আয়ন
ব্যাখ্যা
- এসিড জলীয় দ্রবণে প্রোটন (H+) বা হাইড্রোজেন আয়ন দান করে। 

এসিড: 

- এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়। 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে। 
যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড। 
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়। 

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. এসিড স্বাদে টক। 
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে। 
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে। 
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে। 
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪.
তীব্র এসিড + তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ কেমন হয়? 
  1. নিরপেক্ষ 
  2. এসিডিক 
  3. ক্ষারীয় 
  4. অক্সাইডিক 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। 
- লবণের ধনাত্মক আয়নটি ক্ষার থেকে আসে, তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয়মূলক (Basic radical) বলে। 
- আর লবণের ঋণাত্মক আয়নটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে, তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক (Acid radical) বলে। 
- তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ প্রকৃতির। 
যেমন- NaCl, Na2SO4 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ নিরপেক্ষ। 
- তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণের জলীয় দ্রবণ অম্লীয় প্রকৃতির। 
যেমন- FeCl3, Zn(NO3)2 ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ অম্লীয়। 
- তীব্র ক্ষার ও মৃদু এসিডের জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 
যেমন- Na2CO3, CH3COONa (সোডিয়াম ইথানয়েট) ইত্যাদির জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫.
অম্লধর্মী বাদামী গ্যাস কোনটি?
  1. N2O
  2. NO2
  3. N2O3
  4. N2O5
ব্যাখ্যা
• NO₂ অম্লধর্মী বাদামী গ্যাস।

- NO₂ একটি বাদামী বর্ণের গ্যাস, যা বায়ুর সংস্পর্শে দৃশ্যমান হয়।
- এটি সাধারণত বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে পরিচিত।
- NO₂ পানির(H₂O) এর সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) এবং নাইট্রাস অ্যাসিড (HNO₂) উৎপন্ন করে, যা অম্লীয়।
     2NO2 ​+ H2​O → HNO3 ​+ HNO2
- এর অর্থ, NO₂ পানির সাথে মিশে অম্ল তৈরি করে, তাই এটি অম্লধর্মী গ্যাস।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৬.
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে আমরা যে এন্টাসিড খাই তা হল-
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, খাদ্য পরিপাকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যার কারণে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির উদ্রেক হয়। এ এসিড কে প্রশমিত করতে আমরা এন্টাসিড হিসেবে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড নামক ক্ষার ব্যবহার করে থাকি।
৮৭.
নিচের কোনটি একটি লবণ?
  1. NH₃
  2. Na₂CO₃
  3. Ca(OH)₂
  4. NH₄OH
ব্যাখ্যা
• Na₂CO₃ (সোডিয়াম কার্বোনেট) হলো একটি লবণ,
এটি সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ও কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।

•  2NaOH+H2CO3→Na2​CO3​+2H2​O
- এখানে, NaOH একটি ক্ষার ও H2CO3 একটি দ্বিমূলীয় অম্ল প্রতিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে,
- Ca(OH)₂ ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড এটি একটি ক্ষারক, লবণ নয়।
- NH₄OHঅ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড এটি ক্ষারীয় দ্রবণ, লবণ নয়।
- NH₃অ্যামোনিয়া ক্ষারধর্মী গ্যাস লবণ নয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৮.
কোনটি পানিতে অদ্রবণীয়?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।

- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।

- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।


সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
৮৯.
pH স্কেলে কোন pH মান নিরপেক্ষ দ্রবণকে নির্দেশ করে?
  1. ১০
  2. ১৪
ব্যাখ্যা
pH-এর মান জানার প্রয়োজনীয়তা: 
- কোনো একটি পদার্থ এসিড, ক্ষার না নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। 
- কিন্তু তাতে কী পরিমাণ এসিড বা ক্ষার আছে, সেটি বোঝা যায় pH-এর মান পরিমাপ করে। 
- নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি যেখানে কোনো এসিড বা ক্ষার থাকে না, তার pH হয় ৭ । 
- আর যদি এতে এসিড যোগ করা হয় তাহলে pH-এর মান কমে যায়। যত বেশি এসিড যোগ করা যায়, pH-এর মান ততই কমে যায়। 
- পক্ষান্তরে যদি বিশুদ্ধ পানি বা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণে ক্ষার যোগ করা হয়, তাহলে এর pH বাড়তে থাকে। যত বেশি ক্ষার যোগ করা হয়, pH-এর মান ততই বাড়তে থাকে। 
সুতরাং বলা যায়, 
কোনো দ্রবণের pH = ৭ হলে তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH < ৭ হলে (৭ থেকে কম হলে) তা অম্লীয় বা এসিডিয় দ্রবণ হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH > ৭ হলে (৭ থেকে বেশি হলে) তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে। 
- pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি কম হবে, এসিডটি তত শক্তিশালী, আবার pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি হবে, ক্ষারকত্বও তত বেশি শক্তিশালী হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০.
এন্টাসিড ঔষধে মূলত কোনটি থাকে?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম অক্সাইড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
এন্টাসিড ঔষধ:
- এন্টাসিড ঔষধ হলো মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] যা সাসপেনশান ও ট্যাবলেট দুভাবেই পাওয়া যায়।
- ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] এর সাসপেনশান মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া (Milk of Magnesia) নামেই অধিক পরিচিত।
- কখনো কখনো এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও [Al(OH)3] থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯১.
'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট
  4. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২.
pH স্কেলে pH এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Preference of hydrogen
  2. Petroleum of hydrogen
  3. Potenz of hydrogen
  4. Permanent of hydrogen
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+


- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. অক্সালিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. লিনোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৯৫.
মৃদু ক্ষার কী? 
  1. যে ক্ষার এসিডের মতো আচরণ করে
  2. যে ক্ষার পানিতে দ্রবণীয় নয়
  3. যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
  4. যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: NaOH, KOH ও Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: NH4OH, Fe(OH)2, Fe(OH)3 ও Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. ক) হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  2. খ) পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সিলভার নাইট্রেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

- এসিডের প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু ধাতু বা অপর কোন ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে যে যৌগ উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO4), জিংক সালফেট (ZnSO4), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), সিলভার নাইট্রেট (AgNO3) ইত্যাদি। 
ধাতু, ক্ষারক বা ক্ষারের সঙ্গে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিক্রিয়ার ফলে হাইড্রোজেন বা জল ছাড়া অপর যে নতুন যৌগটি উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। লবণের দুটি অংশে থাকে। ধাতু বা ধাতুধর্মী তড়িৎ ধনাত্মক অংশটিকে ক্ষারকীয় মূলক এবং অধাতু বা এসিডধর্মী তড়িৎ ঋনাত্বক অংশটিকে এসিড মূলক বলে। 
- ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এটি একটি অম্ল। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

৯৭.
গ্রুপ-১৭ এর প্রথাগত নাম কি?
  1. লবণউৎপাদক পরিবার
  2. বৈদ্যুতিক পরিবার
  3. হ্যালোজেন
  4. ধাতব পরিবার
ব্যাখ্যা

• গ্রুপের প্রথাগত নাম হলো “হ্যালোজেন”, যা লবণ তৈরি করার ক্ষমতার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে।
- এটি পিরিয়ডিক টেবিলের অত্যন্ত সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ।
- এই গ্রুপের মৌলগুলো হলো: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At)।
- “হ্যালোজেন” শব্দের অর্থ লবণ উৎপাদনকারী। কারণ এই মৌলগুলো ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণত লবণ (salt) তৈরি করে।

• বৈশিষ্ট্য:
- অক্সিডাইজার হিসেবে শক্তিশালী: অন্যান্য উপাদানের ইলেকট্রন আকারে গ্রহণ করতে সক্ষম।
- এটি একটি অ-ধাতু শ্রেণি, যার বৈদ্যুতিক এবং রাসায়নিক ক্রিয়াশীলতা খুব বেশি।
- সহজে একে অপরের সাথে এবং ধাতুর সঙ্গে যৌগ গঠন করে।

• ব্যবহার:
- ফ্লোরিন (F): টুথপেস্টে ফ্লুরাইড হিসেবে।
- ক্লোরিন (Cl): পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে।
- ব্রমিন (Br) ও আয়োডিন (I): চিকিৎসা এবং রসায়ন শিল্পে ব্যবহৃত।
- এই মৌলগুলো দৈনন্দিন জীবনের অনেক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৯৮.
জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক) রাসায়নিক সার প্রয়োগ
  2. খ) জৈব সার প্রয়োগ
  3. গ) পানি সেচ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন সংবন্ধকরণ
ব্যাখ্যা

জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানি সেচ খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
Source: fao.org

৯৯.
নিচের কোনটি গাঢ় নাইট্রিক এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য? 
  1. টক স্বাদযুক্ত 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে না
  3. পানি দ্রবণে নিম্নমাত্ৰায় বিয়োজিত হয় 
  4. বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশা বের হয় 
ব্যাখ্যা

গাঢ় নাইট্রিক এসিড: 
- নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড- গ্যাসকে পানিতে দ্রবীভূত করে নাইট্রিক এসিড তৈরি করা হয়। 
- কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে NO2 গ্যাস দ্রবীভূত করে গাঢ় নাইট্রিক এসিড HNO3 তৈরি করা হয়। 
• 3NO2 + H2O → 2HNO3 + NO 
- গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বোতলের মুখ খুললে হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় এবং তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। 
- নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই বোতলের বর্ণ বাদামি হয়। 
- নাইট্রিক এসিড যে কাচের বোতলে রাখা হয় সেই কাচের বোতলের মধ্যে যদি আলো প্রবেশ করে তবে বোতলের মধ্যের HNO3 আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। 
- HNO3 যাতে আলোর উপস্থিতিতে বোতলের মধ্যে ভেঙে না যায় সেজন্য HNO3 কে বাদামি বোতলের মধ্যে রাখা হয়, কারণ বাদামি বোতলের মধ্যে আলো প্রবেশ করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০০.
হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী দ্রবণীয় যৌগগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অক্সাইড 
  2. এসিড 
  3. ক্ষার 
  4. লবণ 
ব্যাখ্যা

ক্ষারক (Base): 
- সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যেমন- 
• CaO + 2HCl → CaCl2 + H2
• 2KOH + H2SO4 → K2SO4 + 2H2
- CaO এবং KOH ছাড়াও ক্ষারকের উদাহরণ হচ্ছে সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), কপার অক্সাইড (CuO), ফেরাস অক্সাইড (FeO), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি। 
- এসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া বলে। তাই বলা হয় এসিড ক্ষারককে আর ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য 2টি শর্ত রয়েছে- 
(i) যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং
(ii) ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে।
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়।
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক, ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
- হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।