• ‘পুকুরে মাছ আছে।’— বাক্যটিতে ‘পুকুরে’ শব্দটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ এর উদাহরণ।
----------------------------------------
• অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ কারক সময়, ভাব বা স্থানের বিশেষ অংশ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং
- এটি সপ্তমী বিভক্তিতে প্রকাশ পায়।
- অধিকরণ কারকের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে:
১. কালাধিকরণ: যখন ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়। যেমন – “প্রভাতে সূর্য উঠে।” এখানে ‘প্রভাতে’ সময় নির্দেশ করছে।
২. ভাবাধিকরণ: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যদি অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে। সবসময় সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহার হয়।
৩. আধারাধিকরণ: ক্রিয়ার স্থান বা আধারের সাথে সম্পর্কিত।
-------------------------------
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
- যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।
• ঐকদেশিক অধিকরণ:
- ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলতে বোঝায়— যখন কোনো বৃহৎ স্থান বা আধারের একটি নির্দিষ্ট অংশে বা কোণে কোনো ক্রিয়া বা অবস্থান সীমাবদ্ধ থাকে, তখন সেই স্থানকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলা হয়।
- এখানে স্থানটি আকারে বড় হলেও সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ক্রিয়াটি তার সমগ্র অংশ জুড়ে বিস্তৃত নয়, বরং কেবল কোনো একটি অংশে সংঘটিত হয়।
- উদাহরণ:
- “পুকুরে মাছ আছে”-
- এই বাক্যে বোঝানো হচ্ছে যে মাছ পুকুরের কোনো এক জায়গায় রয়েছে, পুরো পুকুর জুড়ে নয়। তাই এটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ।
- আর ও কিছু উদাহরণ-
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।
• অভিব্যাপক অধিকরণ:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।
• বৈষয়িক অধিকরণ:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের পুলিশরা সাহসে দুর্জয়।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।