বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ৬০১৭০০ / ১,২০১

৬০১.
নিচের কোন বাক্যে ব্যতিহার কর্তা রয়েছে?
  1. মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
  2. মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
  3. রাজায়-রাজায় লড়াই চলছে।
  4. আমার যাওয়া হবে না।
সঠিক উত্তর:
রাজায়-রাজায় লড়াই চলছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজায়-রাজায় লড়াই চলছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
- মূখ্য কর্তা, 
- প্রযোজক কর্তা, 
- প্রযোজ্য কর্তা, 
- ব্যতিহার কর্তা। 

• ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই চলছে।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০২.
”গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।“ - বাক্যটিতে ”গাঁয়ে” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য
  2. করণকারকে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. করণকারকে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
কর্তৃ কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

• কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

- প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি : হামিদ বই পড়ে।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
- তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
- ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৬০৩.
'কুকর্মে বিরত হও।' -  বাক্যটিতে 'কুকর্মে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৪.
‘মাঠে ধান ফলেছে।’ - বাক্যে ‘মাঠে’ কোন কারক?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. স্থানাধিকরণ
  3. বিষয়াধিকরণ
  4. কালাধিকরণ
সঠিক উত্তর:
স্থানাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানাধিকরণ
ব্যাখ্যা
আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়।

যেমন:
- তিলে তৈল আছে।
- নদীতে পানি আছে।
- মাঠে ধান ফলেছে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৬০৫.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. ক) গৃহহীনে গৃহ দাও
  2. খ) জিজ্ঞাসিব জনে জনে
  3. গ) ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
  4. ঘ) বনে বাঘ আছে
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
ব্যাখ্যা
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- পাপে বিরত হও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৬.
'জল পড়ে পাতা নড়ে' বাক্যে ‘জল’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

• “জল পড়ে পাতা নড়ে” — এই বাক্যে "জল" শব্দটি কর্তা কারক।

কারণ:
‘পড়ে’ ক্রিয়াটির কর্তা হচ্ছে ‘জল’।
এখানে 'জল' নিজেই কাজটি (পড়া) করছে — অর্থাৎ, বৃষ্টি পড়ছে বা জল নিজেই পড়ছে।

কর্তা নির্ধারণের প্রশ্ন: "কে পড়ে?" উত্তর: "জল"।

বিভক্তি:
শূন্য বিভক্তি (কোনো বিভক্তি চিহ্ন নেই)।

সুতরাং:
সঠিক উত্তর: কর্তায় শূন্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০৭.
'তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।' - এখানে 'জলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

• সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার:
- 'এ' বিভক্তি:
→ তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

তে বিভক্তি:
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

য় বিভক্তি:
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৮.
"আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তৃকারক
  4.  অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

→ আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।
এখানে,
"প্রভাতে" শব্দটি কাল বা সময় নির্দেশ করছে, অর্থাৎ অধিকরণ কারক (কালাধিকরণ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০৯.
'এ', 'য়' বিভক্তিগুলো শব্দের সাথে যুক্ত হয় কোন কারকে?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।

অন্যদিকে,
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
যেমন:
- আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১০.
'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'- বাক্যে 'পেন্সিলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।' – এখানে 'পেন্সিলে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।  

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• বাক্যটি- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।' 
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- এবং ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬১১.
বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে কী বলে?
  1. কালাধিকরণ
  2. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  4. ভাবাধিকরণ
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
ব্যাখ্যা
ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

অন্যদিকে,
অভিব্যাপক আধারাধিকরণ:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম।

ভাবাধিকরণ:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন:
- রাতটা দু:খে কাটলো।
- সে ফুর্তিতে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১২.
কোন কারক ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় নির্দেশ করে?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

অন্যদিকে, 
--------------
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা:
- আমরা রোজ স্কুলে যাই।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- আমার ভাত খাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১৩.
‘বেদেয় চেনে সাপের হাঁচি।’ - বাক্যে ‘বেদে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্তা বা কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে।

কর্তায় ‘এ’ বিভক্তির প্রয়োগ:
- লোকে তো কত কথাই বলে।
- পাগলে কী না বলে।

স্বারন্ত শব্দের পর ‘এ’ ‘য়’-তে রূপান্তরিত হয়।
যেমন:
- বেদেয় চেনে সাপের হাঁচি।
- মায়ে বলে, ব্যাটায় শোনে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৬১৪.
‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’ - এখানে 'বিপদে" কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. অপাদান কারকে ৭মী
  4. অধিকরণ কারকে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যূত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- পাপে বিরত হও।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে রক্ষা করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৫.
"রাজায় রাজায় লড়াই করছে" - এ বাক্যতে 'রাজায় রাজায়' কী?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. ব্যতিহার কর্তা
  4. ণিজন্ত কর্তা
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা- 
-মূখ্য কর্তা;
- প্রযোজক কর্তা; 
- প্রযোজ্য কর্তা;
- ব্যতিহার কর্তা।

• ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৬.
"শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।" এখানে "শিক্ষক" কোন ধরনের কর্তা?
  1. প্রযোজক
  2. মুখ্য
  3. ব্যতিহার
  4. প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক
ব্যাখ্যা

প্রযোজক কর্তা:
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
যেমন -
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
এ বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬১৭.
"রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।" বাক্যে 'দুয়ার' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. করণ
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন: 
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। (কোথায় বাঁধা? দুয়ারে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সজিব ব্যাকরণে ভাল। (কী বিষয়ে ভাল? ব্যাকরণে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সকালে সূর্য ওঠে। (কখন ওঠে? সকালে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

৬১৮.
ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ১মা
  2. কর্তায় ২য়া
  3. কর্মে ২য়া
  4. কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার। যথা:
১. মুখ্য কর্তা,
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন -
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।
- ভাইয়ে ভাইয়ে বেশ মিল। - বাক্যে 'ভাইয়ে ভাইয়ে' - তে ৭মী বিভক্তি ব্যবহার হওয়ায়, এটি কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬১৯.
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. অন্ধকারে জেগে ওঠা।
  2. অহংকারে পতন ঘটে।
  3. আমারে করহ তোমার বীণা।
  4. আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়।
সঠিক উত্তর:
আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়।
ব্যাখ্যা
আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়। - অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি

অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন -
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। 

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।'
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- আচার ব্যবহারে ভদ্র-অভদ্র চেনা যায়

অন্যদিকে, 
- অন্ধকারে জেগে ওঠা। = অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- অহংকারে পতন ঘটে। = করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 
- আমারে করহ তোমার বীণা। = কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২০.
‘এ কাগজে ভালো লেখা হবে না।’ - এই বাক্যে 'কাগজে' কোন কারক?  
  1. কর্ম কারক 
  2. কর্তা কারক 
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- কারক শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে’। 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, √কৃ + অক(ণক)।
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

♣ করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 
- যেমন: 
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
• চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে। 
চেষ্টায় সব হয়। 
• এ কাগজে ভালো লেখা হবে না।
• দস্যুদল গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬২১.
‘সে ভাত খেয়েছে।’ বাক্যে ‘ভাত’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
শিক্ষককে জানাও।
অসহায়কে সাহায্য করো।

• সাধারণত পশুপাখি বা সচেতন পদার্থের ক্ষেত্রে কর্মে শূন্য বিভক্তি হয়:
- দুটো পাখি দেখছি।
- সে ভাত খেয়েছে।
দাঁত মাজো।

অন্যদিকে,
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৬২২.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় কর: পাপে বিরত হও।
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) করণে ৫মী
  3. গ) অপাদানে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৫মী
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- গাছ থেকে পাতা পড়ে,
- পাপে বিরত হও,
- সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৬২৩.
'শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।' - বাক্যে 'শাক দিয়ে' কোন কারক?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. করণে তৃতীয়া
  3. অপাদানে তৃতীয়া
  4. অধিকরণে তৃতীয়া
সঠিক উত্তর:
করণে তৃতীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। 'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- শাক দিয়ে মাছ ঢেকো না।
[বাক্যকে কী দিয়ে মাছ ঢেকো না? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'শাক দিয়ে'। সুতরাং 'শাক দিয়ে' করণে তৃতীয়া বিভক্তি।] 

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োেগ রয়েছে-
• করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
• করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
• করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
• করণ কারকে এ-বিভক্তি- গ্যাসে গাড়ি চলে।
• করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৪.
করণ কারকে এ-বিভক্তি এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) টাকায় টাকা হয়
  2. খ) গ্যাসে গাড়ি চলে
  3. গ) রফিক তাশ খেলে
  4. ঘ) তার কথা যেন মধুতে মাখা
সঠিক উত্তর:
খ) গ্যাসে গাড়ি চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্যাসে গাড়ি চলে
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
 যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে - 
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৫.
'বিপদে মোরে রক্ষা করো।'- এখানে 'বিপদে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাই। 
 
অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদ ধরে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে' 'কীসের থেকে' এসব প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- বিপদে মোরে রক্ষা করো।
[কোথা থেকে? বিপদে (বিপদ থেকে), তাই 'বিপদে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬২৬.
'আকাশের ঐ তারার সনে কইব কথা নাই বা তুমি এলে' - বাক্যে 'তারার' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৬ষ্ঠী
  2. সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৪র্থী
  4. কর্মে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
কর্মে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- ঐ দেখা যায় তালগাছ, ঐ আমাদের গাঁ।
- আকাশের ঐ তারার সনে কইব কথা নাই বা তুমি এলে। (কর্মে ৬ষ্ঠী)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৭.
'গৃহহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' এই বাক্যে 'গৃহহীন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূণ্য
  2. কর্মকারকে শূণ্য
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে শূণ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে শূণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে শূণ্য
ব্যাখ্যা
• 'গৃহহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' এই বাক্যে 'গৃহহীন' কর্তৃকারকে শূণ্য বিভক্তি।

• কর্তৃকারক:

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
- যেমন – খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)। মেয়েরা ফুল তোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬২৮.
'ত্যাগে তিনি নিরহঙ্কার।' - বাক্যে ‘ত্যাগে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার। (অধিকরণে সপ্তমী)।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৯.
'আয়ু যেন পদ্ম পাতায় নীর' বাক্যে 'পদ্ম পাতায়' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• ‘আয়ু যেন পদ্ম পাতায় নীর’ এই বাক্যে ‘পদ্ম পাতায়’ হচ্ছে অধিকরণ কারক। 
এখানে 'পদ্ম পাতায়' দ্বারা আধার অর্থ প্রকাশ পেয়েছে তাই এটি অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা-
আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
অধিকরণ তিন প্রকার
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

• ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন –
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে), রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

• অভিব্যাপক:
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক বলে।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে।)

• বৈষয়িক :
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬৩০.
অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) তিলে তৈল আছে
  2. খ) ছাদে পানি আছে
  3. গ) কপালের লিখন যায় না খণ্ডন
  4. ঘ) বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে  - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি 
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলে?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) বিশেষ্য ও সর্বনামের
  4. ঘ) বিশেষ্য ও বিশেষণের
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য ও সর্বনামের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য ও সর্বনামের
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

কারক ছয় প্রকার :
কর্তা কারক
কর্ম কারক
করণ কারক
অপাদান কারক
অধিকরণ কারক ও
সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩২.
বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে ব্যক্তিবাচক কর্মপদটিকে বলে-
  1. দ্বিকর্মক
  2. গৌণ কর্ম
  3. সমধাতুজ কর্ম
  4. মুখ্য কর্ম
সঠিক উত্তর:
গৌণ কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌণ কর্ম
ব্যাখ্যা
• বাক্যে দুইটি কর্ম থাকলে বস্তুবাচক কর্মটিকে প্রধান বা মুখ্য কর্ম ও ব্যক্তিবাচক কর্মটিকে গৌণ কর্ম বলে।
- যেমন -বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।
- কাকে দিয়েছেন? আমাকে।
- কী দিয়েছেন? ল্যাপটপ
- আমাকে- (গৌণ কর্ম) ও ল্যাপটপ- (মুখ্য কর্ম)।

• তবে দুইটি একই ধরনের কর্ম থাকলে প্রথম কর্মটিকে উদ্দেশ্য কর্ম ও দ্বিতীয়টিকে বিধেয় কর্ম বলে।
- যেমন- ‘দুধকে মোরা দুগ্ধ বলি, হলুদকে বলি হরিদ্রা’।
- এখানে ‘দুধ’ ও ‘হলুদ’ উদ্দেশ্য কর্ম, ‘দুগ্ধ’ ও ‘হরিদ্রা’ বিধেয় কর্ম।

• কর্তা নিজে কাজ না করে কর্মকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিলে তাকে প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম বলে।
- যেমন : মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩৩.
"মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।"- নিম্নরেখ অংশটি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন –
 বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে। (এখানে, মেঘ থেকে বৃষ্টি বিচ্যুত হওয়া নির্দেশ করে)
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৩৪.
নিচের কোনটি ভাবাধিকরণের উদাহরণ?
  1. ক) বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়
  2. খ) আমি ঢাকায় যাই
  3. গ) তিলে তৈল হয়
  4. ঘ) সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক ৩ প্রকার। যথা-কালাধিকরণ, আধারাধিকরণ এবং ভাবাধিকরণ।
যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোন রূপ বা ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
যেমন - ‘কান্নায়’ শোক কমে, সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৬৩৫.
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে; এখানে 'জনে জনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে ৭মী
  2. খ) কর্মকারকে ৭মী
  3. গ) অপাদানে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মকারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে; এখানে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী । 

কর্ম কারক
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে ।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন-
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায় ।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো ।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূখ্য কর্ম)। 
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।(গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট প্রয়ােগ)।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৬৩৬.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য পদের সঙ্গে যুক্ত হয়-
  1. নির্দেশক
  2. বিভক্তি
  3. বচন
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা 'টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলো পদের রা' বা 'গুলো হলো বচনের উদাহরণ।
• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। তখনই বা 'এখনও পদের ই বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৩৭.
অধিকরণ কারক কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ৩ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
ক. কালাধিকরণ।
খ. আধারাধিকরণ।
গ. ভাবাধিকরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৬৩৮.
"এ, য়, তে" - কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. সপ্তমী বিভক্তি
  3. চতুর্থী বিভক্তি
  4. পঞ্চমী বিভক্তি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৩৯.
"পুকুরে মাছ আছে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

• "পুকুরে মাছ আছে।" - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পুকুরে'।
তাই,
'পুকুরে' শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪০.
‘পাপে বিরত হও।’ এখানে 'পাপে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তৃ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৪১.
সর্বশিষ্যে জ্ঞান দেন গুরু মহাশয়। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের ৭মী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. কর্ম
  2. অপাদান
  3. অধিকরণ
  4. কর্তৃ
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনেসর্বশিষ্যে জ্ঞান দেন গুরু মহাশয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৪২.
'তিলে তৈল হয়।' - বাক্যে 'তিলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৫মী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'তিলে তৈল হয়' - অপাদানে সপ্তমী। 
কিন্তু,
'তিলে তৈল আছে'-- অধিকরণে সপ্তমী।

------------- 
• অপাদান কারক:

- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘তিলে তৈল হয়।’ - বাক্যকে 'কি হতে' বা 'কি থেকে' উৎপত্তি? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে থেকে’। সুতরাং ‘তিলে’ অপাদান কারকে ৭মীবিভক্তি হবে।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৩.
'বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।' - এখানে 'শিশুরা কোথায় সুন্দর?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মাতৃক্রোড়ে'। তাই 'মাতৃক্রোড়ে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৪.
কোনো প্রান্তরের গাছের ছায়ায় বসে ছিল সে।- বাক্যে 'ছায়ায়' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছিল।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

এরূপ- 
- কোনো প্রান্তরের গাছের ছায়ায় বসে ছিল সে। 
[কোথায় বসে ছিল? উত্তর পাওয়া যায় 'ছায়ায়'। সুতরাং 'ছায়ায়' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।] 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪৫.
"কত ধানে কত চাল হয় আমি তা জানি।" - এখানে "ধান" কোন কারক?
  1. করণ
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

• কত ধানে কত চাল হয় আমি তা জানি। ('ধান' থেকে 'চাল' উৎপন্ন হয়েছে। তাই 'ধান' অপাদান কারক)

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪৬.
কোনটি করণ কারকের উদাহরণ?
  1. ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
  2. আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
  3. আমরা রোজ স্কুলে যাই।
  4. জমি থেকে ফসল পাই।
সঠিক উত্তর:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

অন্যদিকে,
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
যেমন:
- আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।

-----------------
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমরা রোজ স্কুলে যাই।

-----------------
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৪৭.
"সে আমাকে সাহায্য করবে।" - এ বাক্যে "আমাকে" শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারকে ২য়া বিভক্তি
  2. কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি
  3. অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -

• "সে আমাকে সাহায্য করবে।"- 
এখানে,
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- "সে আমাকে সাহায্য করবে।" - এখানে 'কাকে' সাহায্য করবে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আমাকে'।
তাই 'আমাকে' কর্মকারক। আবার, এর সাথে যুক্ত হয়েছে 'কে' - দ্বিতীয়া বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪৮.
"খুব মিহি ধূসর বর্ণের ছাই আকাশ থেকে পড়েছে।" - বাক্যে 'আকাশ থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৫মী
  2. অপাদানে ৫মী
  3. করণে ৫মী
  4. কর্মে ৫মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৫মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৫মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- কুব মিহি ধূসর বর্ণের ছাই আকাশ থেকে পড়েছে। অপাদানে ৫মী।

অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪৯.
‘র ও এর’- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. পঞ্চমী বিভক্তি
  4. ষষ্ঠী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:  
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার। যথা:

বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫০.
সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ কারক নহে। কারণ -
  1. ক) বিভক্তি যুক্ত হয় না
  2. খ) কর্তার সাথে সম্পর্ক থাকে না
  3. গ) কর্তা নিজে ক্রিয়া সমাধান করেন
  4. ঘ) ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক থাকে না
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক থাকে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক থাকে না
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদের ক্রিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকার কারণে সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদকে কারক বলা হয় না।
যেমন: মতিনের ভাই বাড়ি যাবে। এখানে ‘মতিনের’ সঙ্গে ‘ভাই’-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু ‘যাবে’ ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

৬৫১.
“স্কুল পালিয়ে কেউ রবীন্দ্রনাথ হয় না” - কোন কারকে কী বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ষষ্ঠী
  2. খ) করণে তৃতীয়া
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অধিকরণে শূণ্য
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
কোথা থেকে / কী হতে / কীসের হতে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে পাওয়া যায় অপাদান কারক। “স্কুল পালিয়ে কেউ রবীন্দ্রনাথ হয় না” এই বাক্যে কোথা থেকে পালায় প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বলে তা আপাদান কারক। এবং পালায় এর সাথে এ যুক্ত হওয়ায় তা সপ্তমী বিভক্তি। অপাদানে সপ্তমীর আরেকটি উদাহরণঃ কত ধানে কত চাল হয় তা আমি জানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬৫২.
‘পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়।’- এখানে ‘পাগলে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)
- পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়। (কে বলে? পাগলে- কর্তায় সপ্তমী)

এরূপ-
- গরুতে গাড়ি টানে।- এই বাক্যে ‘গরুতে’ কর্তৃকারক।
[কারণ গাড়ি টানার কাজ গরু নিজেই করছে। সুতরাং এখানে ‘গরুতে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫৩.
'অধ্যয়নে বিরত হতে নেই।' এখানে 'অধ্যয়নে' কোন কারক?
  1. করণ কারক 
  2. অধিকরণ কারক 
  3. কর্মকারক 
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

এরূপ-
- অধ্যয়নে বিরত হতে নেই।  
[কি/কিসের থেকে বিরত হতে নেই? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অধ্যয়নে'। সুতরাং 'অধ্যয়নে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৬৫৪.
'পূজা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।'- এই বাক্যে ‘ফুল দিয়ে’ কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) সম্প্রদান কারক
সঠিক উত্তর:
খ) করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক
 
যেমন:
- 'পূজা ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - পূজা কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৫.
'গুরু' দক্ষিণা দাও। - বাক্যে 'গুরু' কোন কারক?
  1. সম্প্রদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- 'সম্প্রদান' অর্থ স্বেচ্ছায় দান।
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোনো কিছু দান করা হয়, সেই দান গ্রহীতাকে সম্প্রদান কারক বলে।

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: গুরু দক্ষিণা দাও।
চতুর্থী বিভক্তি: দরিদ্রকে দান কর।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
সপ্তমী বিভক্তি: দীনে দয়া কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৫৬.
'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - এখানে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. সম্প্রদানে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।  
- সমিতিতে চাঁদা দাও। 
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে ৭মী)।

অন্যদিকে, 
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫৭.
লোকমুখে এই কথা শুনেছি’। কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অপাদান
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
উদাহরণ
বিচ্যুত : ছাদ থেকে পানি পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় ইত্যাদি।
গৃহীত : দুধ থেকে দই হয়। বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।
জাত : জমি থেকে আমরা ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
বিরত : পাপে বিরত হও। মিথ্যা বলা ছাড়।
দূরীভূত : দেশ থেকে পাপাচার দূর করতে হবে।
রক্ষিত : বিপদ থেকে আমায় বাঁচাও।
আরম্ভ : বুধবার থেকে দুর্নীতিবিরােধী অভিযান চলবে।
ভীত : বাঘে ভীত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়ে, দিয়া ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি : বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।                                         
(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : বাবাকে বড় ভয় পাই।
(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি : যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি : বিপদে মােরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
---------------------------- 
⇒ অনুরূপভাবে, 'লোকমুখে এই কথা শুনেছি।' - এখানে কোথা হতে প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় লোকমুখে। অতএব ‘লোকমুখ’ এ বিভক্তিযোগে অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৮.
গগণে গরজে মেঘ। 'মেঘ' কোন কারক?
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) করণকারক
  4. ঘ) কর্তৃকারক 
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্তৃকারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্তৃকারক 
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
উপরোক্ত বাক্যটিতে 'মেঘ' হলো কর্তৃকারক। এখানে বাক্যটিতে 'মেঘ' ক্রিয়া সম্পাদন করছে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৯.
'গাড়ি স্টেশন ছাড়ে' এখানে 'স্টেশন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে শূন্য
  2. কর্তাকারকে শূন্য
  3. অধিকরণে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
সঠিক উত্তর:
অপাদানে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• 'রেলগাড়িটি স্টেশন ছেড়েছে' বাক্যে-
'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে বোঝায়। 
- এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। 
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬০.
'কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• 'কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।'- এখানে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদান কারকের উদাহরণ। 
----------------------- 
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।
 
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
 
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
যেমন:
 শিক্ষককে জানাও।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬১.
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাকে কোন কারক বলে?
  1. কর্তৃ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

​কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬৬২.
'গৌরবির ভেতরটা ভয়ে শুকিয়ে গেল।' বাক্যে 'ভয়ে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

এরূপ,
- গৌরবির ভেতরটা ভয়ে শুকিয়ে গেল। 
[যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। সুতরাং ভয়ে অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৩.
'দেশ থেকে অতিথি পাখি চলে গেছে।' এখানে 'দেশ' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৬৪.
‘একটি গান শোনাও।’- বাক্যে ‘গান’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন:
- একটি গান শোনাও।
[বাক্যে শোনানোর ক্রিয়া গানকে কেন্দ্র করে সম্পাদন করা হয়েছে। সুতরাং গান কর্ম কারকে শূন্যবিভক্তি।]

এরূপ,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
[এখানে, 'কাকে সাহায্য করো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অসহায়কে'। সুতরাং, 'অসহায়কে' এখানে কর্ম কারক।]

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৫.
শব্দের পদ হতে হলে এতে যোগ করার প্রয়োজন হয় -
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিভক্তি
ব্যাখ্যা

- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
যেমন:
- দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্য চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহেও যাওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছেন।
- ওপরের বাক্যটিতে ‘রা’ (অভিযাত্রী + রা), 'এর’ (মানুষ + এর), ‘র’ (কল্পনা + র), ‘এ’ (মঙ্গলগ্রহ + এ) প্রভৃতি চিহ্নগুলােকে বিভক্তি বলা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬৬.
'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - 'পাতায় পাতায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
(খ) তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
(গ) পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
(ঘ) সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - এখানে 'কোথায় পড়ে নিশির শিশির?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'পাতায় পাতায়'। তাই 'পাতায় পাতায়' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬৭.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. প্রতিপাদিক
  3. নৃপাদিক
  4. ধাপাদিক
সঠিক উত্তর:
প্রাতিপাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতিপাদিক
ব্যাখ্যা

[উল্লেখ্য, মূল পরীক্ষার অপশনে 'প্রাতিপদিক' এর পরিবর্তে 'প্রাতিপাদিক' ছিল। বিষয়টি স্পেলিং মিস্টেক বিধায় উত্তর হিসেবে অপশন-ক রাখা হয়েছে।] 

প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে 'নাম প্রকৃতি' ও বলা
হয়ে থাকে। নামপদের যেই অংশকে আর বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, তাই প্রাতিপদিক।
যেমন:
হাত, বই, কলম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

৬৬৮.
কাচের জিনিস অতি সহজে ভাঙে। - এখানে 'কাচের' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  2. কর্মে ৬ষ্ঠী
  3. করণে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
করণে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- কাচের জিনিস অতি সহজে ভাঙে। (করণে ৬ষ্ঠী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৯.
করণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমার দেখা পাবে না।
  2. বসন্তে কোকিল ডাকে।
  3. টাকায় কি না হয়।
  4. সুখের চেয়ে স্বস্তি বড়।
সঠিক উত্তর:
টাকায় কি না হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাকায় কি না হয়।
ব্যাখ্যা
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ- 
করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) -তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা।

বসন্তে কোকিল ডাকে - অধিকরণ কারক। 
সুখের চেয়ে স্বস্তি বড় - অপাদান কারক। 
আমার দেখা পাবে না - কর্ম কারক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
‘ম’ কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের পাটি দাতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৭১.
'আজ সেখানে গিয়েছিলাম।'- বাক্যে 'আজ' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
যথা :
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

এরূপ- 
- আজ সেখানে গিয়েছিলাম। 
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কখন?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজ'। সুতরাং 'আজ' অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
৬৭২.
‘ছাগলে কি না খায়’- কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃকারক
  2. খ) কর্মকারক
  3. গ) করণকারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে। 

উদাহরণ-
পাগলে কি না বলে (কে বলে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
ছাগলে কি না খায় (কে খায়) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে (কে খেয়েছে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬৭৩.
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
তোমার পায়ে নখের আঁচড়ও লাগবে না।
  1. ক) কর্মে শূন্য
  2. খ) করণে ৫মী
  3. গ) অপাদানে ৬ষ্ঠী
  4. ঘ) করণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
ঘ) করণে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন –
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

"তোমার পায়ে নখের (নখ দ্বারা) আঁচড়ও লাগবে না।"- বাক্যে নখ শব্দের সাথে -র (ষষ্ঠী বিভক্তি) যুক্ত হয়েছে। 
- তাই এটি করণে ৬ষ্ঠী। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৪.
"রাতে মশা দিনে মাছি।" - বাক্যে 'রাতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রুহামা বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।
- রাতে মশা দিনে মাছি। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৫.
'রাশেদ বাড়িতে নেই'- এখানে ‘বাড়িতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারকে
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• রাশেদ বাড়িতে নেই- এখানে বাড়িতে অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয়, ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। 
- এ কারকে সাধারণত 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়। 
-------------- 
কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্মকারক বলে। 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৬.
"দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাদের আবার দুঃখ কীসের?" - বাক্যে ‘দুঃখে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাদের আবার দুঃখ কীসের? (অধিকরণে সপ্তমী)।

অন্যদিকে,
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৭.
‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল।’— বাক্যে ‘সাপের’ কোন কারক ও কোন বিভক্তি নির্দেশ করছে?
  1. কর্মকারকে ষষ্ঠী
  2. করণ কারকে ষষ্ঠী
  3. অপাদান কারকে ষষ্ঠী
  4. কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

- এখানে ‘সাপের’ শব্দটি অপাদান কারক নির্দেশ করছে এবং এটি ষষ্ঠী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।
• বাক্য: ‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল’।
- এখানে ‘সাপের’ শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
-  কারণ, যদি প্রশ্ন করা হয়- কিসের ভয়ে লাফালাফি করছে, তাহলে উত্তর হবে সাপের ভয়ে।
- ছেলেরা সাপের ভয় থেকে লাফালাফি করছে, অর্থাৎ ভয় পাওয়ার উৎস বা হেতু বোঝানো হচ্ছে।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন ‘এর’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল’ বাক্যটিতে সাপের হচ্ছে অপাদানে ষষ্ঠী বিভক্তি।
-----------------------------------------
- অপাদান কারকের কিছু উদাহরণ:
- যেমন:
 • বাস স্টেশন ছেড়েছে।
- বাক্যে 'স্টেশন' থেকে বাসটি বিচ্যুত হয়েছে। 
- এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
• এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
- এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
- তাই 'কুকুরের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৭৮.
কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে কোনটিতে?
  1. বাড়িতে কেউ নেই।
  2. গরুতে দুধ দেয়।
  3. জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
  4. লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
সঠিক উত্তর:
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
ব্যাখ্যা
কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
- কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে - কর্ম কারকে ৭মী

অন্যদিকে,
বাড়িতে কেউ নেই - অধিকরণ কারকে ৭মী।
গরুতে দুধ দেয় - কর্তা কারকে ৭মী।
লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব - করণ কারকে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৯.
'ছেলেরা মাঠে বল খেলে'- এখানে করণ কারক প্রকাশ করে কোনটি?
  1. ক) ছেলেরা
  2. খ) মাঠে
  3. গ) বল
  4. ঘ) খেলে
সঠিক উত্তর:
গ) বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বল
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় তাই করণ কারক। প্রশ্নোক্ত বাক্যে ছেলেরা বল দিয়ে খেলে। তাই বল করণ কারক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৬৮০.
কোন কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়?
  1. কর্ম 
  2. অধিকরণ 
  3. করণ 
  4. অপাদান 
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ 
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

অন্যদিকে, 
অপাদান কারক - যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
করণ কারক - 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
কর্ম কারক - যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৮১.
'পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়'- নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• 'পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।'- নিম্নরেখ শব্দগুলো কর্তা কারকের উদাহরণ। 
-------------------- 
• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

যেমন -
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮২.
'জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়' বাক্যে 'সাধনায়' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়।' (উপায় = সাধনা), করণে ৭মী বিভক্তি। 
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৩.
'তিলে তৈল হয়' এখানে 'তৈল' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

• 'তিলে তৈল হয়'  এখানে ক্রিয়াকে কী দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর হয় 'তৈল' ।
- তাই 'তৈল' কর্ম কারক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৮৪.
'কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।' - বাক্যে 'টেবিল থেকে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৫.
‘দেশের জন্য সেবা কর’ ‘দেশের’ জন্য কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্মে ষষ্ঠী
  4. সম্প্রদানে ষষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (সম্প্রদানে ৪র্থী)।
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- যাকাতের টাকা ঠিকমত দিন। (সম্প্রদানে ষষ্ঠী)।
- 'দেশের জন্য সেবা কর' এখানে 'দেশের' সম্প্রদানে ষষ্ঠী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৬.
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে কোন কারক বলে?
  1. কর্মকারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬৮৭.
'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।' বাক্যে 'ঘাটে' কোন কারক? 
  1. অধিকরণ কারক 
  2. করণ কারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে।
- ছেলেটি অঙ্কে কাচা।
- নদীতে পানি আছে।

এটি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

• সামীপ্যে অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬৮৮.
‘বুলবুলিতে ধান খেয়েছে।’- এখানে 'বুলবুলিতে' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণকারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

উদাহরণ-
পাগলে কি না বলে (কে বলে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
ছাগলে কি না খায় (কে খায়) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে (কে খেয়েছে) : কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬৮৯.
'শুক্রবার থেকে পরীক্ষা'- বাক্যে নিম্নরেখ অংশটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৫মী
  2. করণে ২য়া
  3. অপাদানে ৫মী
  4. কর্মে ২য়া
  5. অধিকরণে ২য়া
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৫মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৫মী
ব্যাখ্যা
• 'শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'শুক্রবার থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত:গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : শুক্রবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬৯০.
প্রভাতে উদিল রবি লোহিত বরণ‘ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে ৭মী
  2. খ) অপাদানে ৭মী
  3. গ) করণে ৩য়া
  4. ঘ) কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• 'প্রভাতে উদিল রবি লোহিত বরণ' - বাক্যে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
এবং এতে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে ৭মী প্রকাশ করেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯১.
কাব্যভাষায় কর্মকারকে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. -ই
  2. -র
  3. -রে
  4. -কে
সঠিক উত্তর:
-রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-রে
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯২.
"থানায় এজাহার দাও।" - বাক্যে 'থানায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বা তে বিভক্তি:বাড়িতে কেউ নেই। থানায় এজাহার দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯৩.
'কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা।' - এই বাক্যে কর্মকারক কোনটি?
  1. কবির
  2. সৃষ্টি করা
  3. কাব্য
  4. সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা' - এই বাক্যে 'কাব্য' কর্মকারক

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না। কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৯৪.
'পুকুরে মাছ আছে।’- বাক্যটিতে ‘পুকুরে’কোন প্রকার অধিকরণ কারক নির্দেশ করে? 
  1. ঐকদেশিক অধিকরণ
  2. অভিব্যাপক অধিকরণ
  3. বৈষয়িক অধিকরণ
  4. কালাধিকরণ 
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকদেশিক অধিকরণ
ব্যাখ্যা

‘পুকুরে মাছ আছে।’— বাক্যটিতে ‘পুকুরে’ শব্দটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ এর উদাহরণ।
----------------------------------------
• অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ কারক সময়, ভাব বা স্থানের বিশেষ অংশ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং 
- এটি সপ্তমী বিভক্তিতে প্রকাশ পায়।
- অধিকরণ কারকের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে:
১. কালাধিকরণ: যখন ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়। যেমন – “প্রভাতে সূর্য উঠে।” এখানে ‘প্রভাতে’ সময় নির্দেশ করছে।
২. ভাবাধিকরণ: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যদি অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে। সবসময় সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহার হয়।
৩. আধারাধিকরণ: ক্রিয়ার স্থান বা আধারের সাথে সম্পর্কিত।
-------------------------------
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
- যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

• ঐকদেশিক অধিকরণ:
- ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলতে বোঝায়— যখন কোনো বৃহৎ স্থান বা আধারের একটি নির্দিষ্ট অংশে বা কোণে কোনো ক্রিয়া বা অবস্থান সীমাবদ্ধ থাকে, তখন সেই স্থানকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলা হয়।
- এখানে স্থানটি আকারে বড় হলেও সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ক্রিয়াটি তার সমগ্র অংশ জুড়ে বিস্তৃত নয়, বরং কেবল কোনো একটি অংশে সংঘটিত হয়।
- উদাহরণ:
- “পুকুরে মাছ আছে”-
- এই বাক্যে বোঝানো হচ্ছে যে মাছ পুকুরের কোনো এক জায়গায় রয়েছে, পুরো পুকুর জুড়ে নয়। তাই এটি ঐকদেশিক আধারাধিকরণ।

- আর ও কিছু উদাহরণ-
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

• অভিব্যাপক অধিকরণ:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

• বৈষয়িক অধিকরণ:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের পুলিশরা সাহসে দুর্জয়। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৯৫.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. গৃহহীনে গৃহ দাও
  2. জিজ্ঞাসিব জনে জনে
  3. ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
  4. বনে বাঘ আছে
সঠিক উত্তর:
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

অন্যদিকে,
• ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’ প্রশ্নে ‘জনে জনে’ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।
গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি৷
• ‘বনে বাঘ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৬.
বাংলা ব্যাকরণের পদ নয় কোনটি?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) কারক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) যােজক
সঠিক উত্তর:
খ) কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কারক
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

- 'কারক' পদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯৭.
কোনটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আজকে নগদ কালকে ধার।
  2. সে কত কালের কথা।
  3. কলমের খোঁচা দিও না।
  4. কপালের লেখা খণ্ডানো যায় না।
সঠিক উত্তর:
সে কত কালের কথা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে কত কালের কথা।
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
সে কত কালের কথা।

অন্যদিকে,
আজকে নগদ কালকে ধার - অধিকরণে ২য়া।
কলমের খোঁচা দিও না - করণে ৬ষ্ঠী।
কপালের লেখা খণ্ডানো যায় না - অধিকরণে ৬ষ্ঠী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৮.
"কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়" - এ বাক্যে 'কৃষক' কোন কর্তা?
  1. ক) প্রযোজক কর্তা
  2. খ) মুখ্য কর্তা
  3. গ) প্রযোজ্য কর্তা
  4. ঘ) ভাববাচ্যের কর্তা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রযোজক কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রযোজক কর্তা
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে 'কৃষক' হচ্ছে প্রযোজক কর্তা। 

- কর্তৃকারকে বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের রীতি ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে বাক্যের কর্তা কয়েক রকমের হতে পারে।
যেমন:

মুখ্য কর্তা:
- যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়। 
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

প্রযোজক কর্তা
- মুখ্য কর্তা যখন অন্যকে দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করায় তাকে বোঝায়। 
যেমন: 
-  কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়।
এখানে 'কৃষক' হচ্ছে প্রযোজক কর্তা।

প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে মুখ্য কর্তার কাজ সম্পাদিত হয় তাকে বোঝায়। 
যেমন: 
- মিতা বাচ্চাটিকে হাঁটাচ্ছে।
এখানে 'বাচ্চাটি' হলো প্রযোজ্য কর্তা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
‘গুরুজনে ভক্তি কর।’ এখানে ‘গুরুজনে’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণকারক
  4. সম্প্রদান কারক
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
• সম্প্রদান কারক:
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে।
- বস্তু নয়-ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
যেমন:
- অন্ধজনে দেহ আলো।
- গুরুজনে ভক্তি কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০০.
শাশুড়ি না খায়া মইল।- এখানে 'শাশুড়ি' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তৃ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃ কারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।
- রাখাল গোরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। (এই বাক্যে 'রাখাল' কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- শাশুড়ি না খায়া মইল।
[এখানে কে মইল? প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় 'শাশুড়ি'। সুতরাং শাশুড়ি কর্তৃ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।