বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা ১০ / ১২ · ৯০১১,০০০ / ১,২০১

৯০১.
'এই বনে বাঘের ভয় নেই।' এখানে 'বাঘের' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

- এই বনে বাঘের ভয় নেই।
[বাক্যে বাঘের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং 'বাঘের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০২.
'অর্থ অনর্থ ঘটায়।' বাক্যে 'অর্থ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তায় শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা করকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

কর্তা কারকে কখনো কখনো-এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।

এরূপ-
অর্থ অনর্থ ঘটায়।

[বাক্যে ‘অর্থ’ হলো কর্তৃকারক, কারণ এটি ‘ঘটায়’ ক্রিয়াটির কাজ করছে। ‘অনর্থ’ হলো কর্মকারক, কারণ এটি ক্রিয়াটির ফল বা লক্ষ্য। এভাবে, বাক্যটি বোঝাচ্ছে যে ‘অর্থ’ (কর্তৃকারক) কাজ করে ‘অনর্থ’ (কর্মকারক) ঘটাচ্ছে। সুতরাং 'অর্থ' কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তি।]

উল্লেখ্য, 
অর্থে অনর্থ ঘটে।- বাক্যে আবার 'অর্থে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৩.
'মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'মঙ্গলবার থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৫মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ৫মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'মঙ্গলবার থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত:গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯০৪.
"দুধ থেকে দই হয়।" - এখানে "দুধ থেকে" কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• "দুধ থেকে দই হয়।" - এখানে "দুধ থেকে" - অপাদান কারকের উদাহরণ।
------------------
• অপাদান কারক:

- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯০৫.
নিচের কোনটি কর্মকারকের উদাহরণ?
  1. চাঁদ বুঝি তা জানে।
  2. সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
  3. সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
  4. বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
সঠিক উত্তর:
সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

- "সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।"
উল্লেখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সম্পত্তি'।
- অর্থাৎ বাক্যে 'সম্পত্তি' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

অন্যদিকে,
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। 

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৬.
নিচের কোনটি অপাদান সম্বন্ধ কারক?
  1. ক) দেশের লােক
  2. খ) বাঘের ভয়
  3. গ) দুঃখের দহন
  4. ঘ) রােগের কষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) বাঘের ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাঘের ভয়
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ: ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত ন্য পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। 

কারক সম্বন্ধ: কর্তৃ সম্বন্ধ: রাজার হুকুম। 
                     কর্ম সম্বন্ধ: প্রভুর দেখা, সাধুর দর্শন।
                   করন সম্বন্ধ: চোখের দেখা, হাতের লাঠি। 
                   অপাদান সম্বন্ধ: বাঘের ভয়, বৃষ্টির আপনি। 
                  অধিকরণ সম্বন্ধ: ক্ষেতের ধান, দেশের লোক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯০৭.
'এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।' - বাক্যে ‘বিষাদে’ কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. কর্তা
  3. অধিকরণ
  4. করণ
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৮.
'ঘোড়াকে চাবুক মার।' বাক্যে চাবুক কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৯০৯.
'গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।' এখানে 'গাঁয়ে' কোন কারক? 
  1. করণ কারক 
  2. কর্মকারক 
  3. কর্তৃকারক
  4. অপাদান কারক 
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক। যেমন খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)। মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

ক) প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
গ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ঘ) ষষ্ঠী বার বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

(ঙ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: 
- গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।
[ বাক্যে কে মানে না প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাঁয়ে'। সুতরাং 'গাঁয়ে' কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]

- বাপে না জিজ্ঞাসে, মায়ে না সম্ভাষে।
- পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।
- বাঘে-মহিষে খানা একঘাটে খাবে না।

য়-বিভক্তি: ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
তে-বিভক্তি:
- গরুতে দুধ দেয়।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১০.
'বিপদ থেকে বাঁচাও।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

সে অনুসারে, 
'বিপদ থেকে বাঁচাও' - বাক্যে 'বিপদ' অপাদান কারকের উদাহরণ।

• আরো কিছু অপাদান কারকের উদাহরণ:
- বিচ্যুত: সাদা মেঘে (মেঘ থেকে) বৃষ্টি হয় না - অপাদানে ৭মী।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১১.
বিভক্তিহীন নাম-শব্দকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. নাম-পদ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. কৃদন্ত শব্দ
সঠিক উত্তর:
প্রাতিপাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতিপাদিক
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
- লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯১২.
শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. করণ 
  2. কর্তা
  3. কর্ম 
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
করণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ 
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৯১৩.
'শাওন মনোবিদ্যায় ভালো'- বাক্যে ‘মনোবিদ্যায়’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক 
  3. অপাদান কারক
  4.  সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
ব্যাখ্যা

• 'শাওন মনোবিদ্যায় ভালো'- বাক্যে ‘মনোবিদ্যায়’ অধিকরণ কারক।
[বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মনোবিদ্যায়'। এখানে 'মনোবিদ্যায়' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

বৈষয়িক অধিকরণ কারক :
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯১৪.
কোন বাক্যটি কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ নির্দেশ করছে?
  1. ছেলে বই পড়ছে
  2. মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন
  3. বাঁশি বাজে
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ- বাঁশি বাজে।

→ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা:
- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলতে সেই ধরনের বাক্যকে বোঝায় যেখানে কাজটি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কে করছে তা বলা হয় না।
- এখানে ক্রিয়ার কাজের ওপর গুরুত্ব থাকে।
- বাক্যে আলাদা কোনো কর্তা থাকে না বা কর্তা অনুপস্থিত থাকে।
- কর্মটিই যেন কর্তা হিসেবে কাজ করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে।

• যেমন:
- "বাঁশি বাজে", বাক্যে 'বাঁশি' নিজেই হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা।
- “বাঁশি বাজে” বাক্যে বাঁশিই নিজে বাজছে, কে বাজাচ্ছে বলা হয় না।
- এই বাক্যে আসল কর্তা উহ্য রয়েছে।
- বাক্যের কর্মপদটিই মুখ্য হয়ে কর্তার মতো আচরণ করছে। 

কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তার কিছু উদাহরণ:
- গাড়ি চলে বাক্যে গাড়িই নিজে চলছে।
- চোর ধরা পড়েছে (এখানে চোর নিজেই ধরা পড়েছে)। 
- বই পড়া হচ্ছে (বই নিজেই পড়া হচ্ছে)।
- ঘটনাটি ঘটেছে (ঘটনাটি নিজেই ঘটেছে)। 
- ঝড় আসছে (ঝড় নিজেই আসছে)।
- জল পড়ে (জল নিজেই পড়ে)।
- পাতা নড়ে (পাতা নিজেই নড়ে)।
- বাতাস বইছে (বাতাস নিজেই বইছে)। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯১৫.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' - এখানে 'সাধনায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় প্রথমা
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. করণে প্রথমা
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনায়)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১৬.
নিচের কোনটি মৌলিক বাংলা শব্দ বিভক্তি নয়?
  1. ক) কে
  2. খ) রে
  3. গ) র
  4. ঘ) থেকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থেকে
ব্যাখ্যা
‘- থেকে’ বাংলা মৌলিক  শব্দ বিভক্তি নয়।

বিভক্তি:
বাক্যের একটি শব্দের সঙ্গে আরেকটি সগব্দের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শব্দগুলোর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত করতে হয় । এসব শব্দাংশকে বলা হয় বিভক্তি ।
যেমন -
পাখিটি গাছে বসে আছে। বাক্যটিতে গাছে ( গাছ + এ বিভক্তি )। 
 
• মৌলিক বাংলা শব্দ বিভক্তিগুলো হলো - ( ০ ), এ, তে, কে, রে, র (এর)।

তবে এছাড়াও কিছু কিছু অব্যয় শব্দ কারক সম্বন্ধ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এগুলো হলো - দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে ইত্যাদি ।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
৯১৭.
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে- এখানে বৃষ্টি শব্দটি কোন কর্তা?
  1. ব্যতিহার কর্তা
  2. মুখ্য কর্তা
  3. প্রযোজক কর্তা
  4. প্রযোজ্য কর্তা
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন-
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।- এই বাক্যে বৃষ্টি কর্তৃকারক। কারণ পড়ার কাজ বৃষ্টি নিজে করছে।
নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করছে। সুতরাং বৃষ্টি এখানে মুখ্য কর্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১৮.
কারক নির্ণয় করুন _____ লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) সম্প্রদান কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
'লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।'-বাক্যে লোভ থেকে পাপ হচ্ছে বলে লোভ অপাদান কারক আর পাপ দ্বারা মৃত্যু হচ্ছে বলে পাপ করণ কারক।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ -

- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৯.
"গাছ থেকে কাঠ পাই।" - এখানে "গাছ থেকে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  3. করণ কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

যেমন:
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
(কোথা থেকে পাই? উত্তর পাওয়া যায় ‘গাছ’ থেকে। সুতরাং ‘গাছ থেকে’ অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।) 

আরো কিছু উদাহরণ-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৯২০.
তৃতীয়া বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হতে, থেকে, চেয়ে
  2. খ) দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  3. গ) র, এর
  4. ঘ) কে, রে
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
ব্যাখ্যা
বিভক্তি মোট ৭ (সাত) প্রকার।
যথা - প্রথমা (০, অ, এ, তে, য়),
দ্বিতীয়া (কে, রে),
তৃতীয়া (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক),
চতুর্থী (কে, রে),
পঞ্চমী (হতে, থেকে, চেয়ে),
ষষ্ঠী (র, এর), এবং
সপ্তমী (এ, য়, তে)।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৯২১.
ভাবাধিকরণ কারকে সর্বদাই কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. তৃতীয়া
  2. পঞ্চমী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২২.
"উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ"- এখানে ‘উদ্যম বিহনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ১মা
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
'উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ'
বাক্যের অর্থ: অধ্যবসায় ছাড়া কার মনোবাসনা পূর্ণ হয়।

এ বাক্যের ক্রিয়া হলো পুরে অর্থাৎ পূর্ণ হওয়া। কর্তা হলো মনোবাসনা বা মনোরথ। এখন "মনোরথ কীসের দ্বারা পূর্ণ হয়" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় উদ্যম দ্বারা। তাই এটি করণ কারক হবে। এটি একটি উপায়াত্মক বা সহায়াত্মক করণ কারক।
কিন্তু অপশনে করণ কারক নেই।
-----------------
আবার, 
• যদি বলা হয় মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার উৎস কী? উত্তর হয় উদ্যম। তাই উদ্যম অপাদান কারকও হয়
• কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা বোঝালে বা গুণ বোঝালে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। সেই সূত্র ধরে এটাকে অধিকরণ কারকও বলা যায়।
------------------

এবার বিভক্তির বিবেচনায় আসলে অপশনে "অপাদানে ১মা" রয়েছে যা সঠিক নয়। এখানে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
সার্বিক বিবেচনায় প্রশ্নটির উত্তর হবে অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।
৯২৩.
'বিকালে আমরা ঘুরতে যাব'- এখানে 'বিকালে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• ''বিকালে আমরা ঘুরতে যাব'' - বাক্যে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার সময়কে বোঝাচ্ছে। 
এবং এতে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে ৭মী প্রকাশ করেছে।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২২ সংস্করণ।
৯২৪.
‘ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা’ বাক্যে 'অঙ্কে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তা কারকে ৭মী
  2. কর্ম কারকে ৭মী
  3. করণ কারকে ৭মী
  4. অধিকরণ কারকে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা - অধিকরণ কারকে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৫.
কারক সম্পর্ক বোঝাতে কোন পদের সঙ্গে বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে?
  1. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. বিশেষণ ও সর্বনাম
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. বিশেষ্য ও আবেগ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯২৬.
কোনটি কর্ম সম্বন্ধের উদাহরণ?
  1. রাজার হুকুম
  2. চোখের দেখা
  3. প্রভুর সেবা
  4. হাতের লাঠি
সঠিক উত্তর:
প্রভুর সেবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভুর সেবা
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ:
- ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন-
- মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।
- এখানে 'মতিনের' সঙ্গে 'ভাই'-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু 'যাবে' ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।
- জ্ঞাতব্য: ক্রিয়ার সঙ্গে সম্বন্ধ পদের সম্বন্ধ নেই বলে সম্বন্ধ পদকে কারক বলা হয় না।

কারক সম্বন্ধ:
(১) কর্তৃ সম্বন্ধ: রাজার হুকুম।
(২) কর্ম সম্বন্ধ: প্রভুর সেবা, সাধুর দর্শন।
(৩) করণ সম্বন্ধ: চোখের দেখা, হাতের লাঠি।
(৪) অপাদান সম্বন্ধ: বাঘের ভয়, বৃষ্টির পানি।
(৫) অধিকরণ সম্বন্ধ: ক্ষেতের ধান, দেশের লোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২৭.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।” নিম্নরেখ শব্দ কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। 
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন-
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়। :
- দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯২৮.
‘জলে বাষ্প ওঠে।’- বাক্যে ‘জলে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: 
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। 

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক। 
যেমন:
- জলে বাষ্প ওঠে।

[প্রদত্ত বাক্যকে কি হতে বাষ্প ওঠে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় জল হতে। সুতরাং ‘জলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ: 
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৯২৯.
'শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।'- এখানে 'পাঠে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন। (অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি)
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি)

এরূপ-
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
[বাক্যেকে কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'পাঠে'। সুতরাং 'পাঠে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩০.
’পাতায় পাতায় পড়ে বৃষ্টির পানি।’- বাক্যে ‘পাতায় পাতায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।

অর্থাৎ, ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
 
• ’পাতায় পাতায় পড়ে বৃষ্টির পানি।’ - বাক্যেটিকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় পাতায়। অতএব ‘পাতায়’ অধিকরণ কারক এবং এতে য় বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। তাই ‘পাতায়’ শব্দে অধিকরণে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৯৩১.
‘ঘোড়াকে চবুক মার’- বাক্যে ‘চাবুক’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• ঘোড়াকে চবুক মার।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা /কী উপায়ে মার? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চাবুক’। সুতরাং ‘চাবুক’ করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩২.
'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - নিম্নরেখ শব্দটি করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি:
• 'এ' বিভক্তি:
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

• 'তে' বিভক্তি:
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল।
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• 'য়' বিভক্তি:
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

• 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে গিয়েছে ভরি?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ধানে'। তাই, 'ধানে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৩.
'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।' - বাক্যে 'চিহ্ন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।' - বাক্যে 'চিহ্ন' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

• 'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'পায়ের কী এই বাটে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চিহ্ন'। তাই, 'চিহ্ন' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৪.
‘মূর্ছিত হইয়া বীর রথেতে পড়িল।’- বাক্যে ‘রথেতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- তিলে তৈল হয়।- বাক্যকে কি থেকে তেল হয়? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে’। সুতরাং এ বিভক্তি যোগে ‘তিলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকের এরূপ কিছু উদাহরণ হলো:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• ‘মূর্ছিত হইয়া বীর রথেতে পড়িল।’- প্রদত্ত বাক্যকে কি থেকে পড়িল প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘রথেতে’। সুতরাং 'রথেতে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। বাক্যের মধ্যে ‘রথেতে পড়িল’ শব্দে বিচ্যুত ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৯৩৫.
দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি। - নিম্নরেখ শব্দ কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অপাদান
  3. সম্প্রদান
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩৬.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ' - এ বাক্যে 'আমারে' পদটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
  2. অপাদানে ৫মী
  3. কর্তায় ২য়া
  4. কর্মে ২য়া
সঠিক উত্তর:
কর্মে ২য়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে ২য়া
ব্যাখ্যা
• 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা' বাক্যে 'আমারে' কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়।
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৯৩৭.
কোন কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়?
  1. অধিকরণ
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৮.
‘সারারাত বৃষ্টি ছিলো’- বাক্যে ‘সারারাত’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী।
৯৩৯.
‘আমি ঢাকা যাবো‘ বাক্যে ঢাকা কোন কারক?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) কর্তৃকারক
  4. ঘ) কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
‘আমি ঢাকা যাবো‘ বাক্যে ঢাকা অধিকরণ কারক। 
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ 'য়' ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা—
আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই ।
কাল (সময়) : প্রভাতে সূর্য ওঠে।
অধিকরণ তিন প্রকার :
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।
৯৪০.
“আকাশে চাঁদ উঠেছে”- এখানে 'আকাশে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে সপ্তমী
  2. খ) সম্প্রদানে চতুর্থী
  3. গ) করণে ষষ্ঠী
  4. ঘ) কর্মে শুন্য
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।

উদাহরণ-
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে)-অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। (কোথায় বাঁধা? দুয়ারে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
সকালে সূর্য ওঠে। (কখন ওঠে? সকালে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
এ বাড়িতে কেউ নেই। (কোথায় কেউ নেই? বাড়িতে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
নদীতে পানি আছে। (কোথায় আছে? নদীতে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
রবিন অঙ্কে কাঁচা। (কী বিষয়ে কাঁচা? অঙ্কে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
সজিব ব্যাকরণে ভাল। (কী বিষয়ে ভাল? ব্যাকরণে)- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪১.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়'- 'কান্নায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ৭মী
  2. অধিকরণ কারকে ৭মী
  3. কর্ম কারকে ৭মী
  4. অপাদান কারকে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৪২.
"রাজায় রাজায় লড়াই করছে" - এ বাক্যতে 'রাজায় রাজায়' কী?
  1. প্রযোজক কর্তা
  2. মুখ্য কর্তা
  3. ব্যতিহার কর্তা
  4. ণিজন্ত কর্তা
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার হয়ে থাকে।
যথা
-মূখ্য কর্তা 
- প্রযোজক কর্তা 
- প্রযোজ্য কর্তা 
- ব্যতিহার কর্তা 

ব্যতিহার কর্তা : কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: রাজায়-রাজায় লড়াই, বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪৩.
'গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।' এই বাক্যে 'গুণহীন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. কর্ম কারকে ৭মী
  3. করণ কারকে শূন্য
  4. কর্তৃ কারকে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারকে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন' এই বাক্য 'গুণহীন' কর্তৃ কারকে শূন্য বিভক্তি।

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন –
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা কর্তৃকারক)।

- এখানে কে চিরদিন পরাধীন থাকে প্রশ্নের উওরে 'গুণহীন' পাওয়া যায় তাই গুণহীন কর্তৃকারক।

- 'গুণহীন' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিযুক্ত হয়নি তাই শূন্যবিভক্তি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪৪.
‘ধনে ধনে ঘর ভরেছে’ - এই বাক্যে 'ধনে ধনে' কোন কারক? 
  1. কর্ম কারক 
  2. কর্তা কারক 
  3. সম্বন্ধ কারক 
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
⇒ করণ কারক:  
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
- যেমন: 
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
• চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।  
ধনে ধনে ঘর ভরেছে।
চেষ্টায় সব হয়। 
• এ কাগজে ভালো লেখা হবে না।
• দস্যুদল গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।     

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৪৫.
বাংলা ভাষায় বিভক্তি কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদেবিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার - ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি। 
- 'করলাম' শব্দে 'লাম' শব্দাংশটি হলো ক্রিয়া বিভক্তির উদাহরণ।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো কারক বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)। 
৯৪৬.
'গ্যাসে গাড়ি চলে।'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘গ্যাসে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব 'গ্যাসে গাড়ি চলে।' বাক্যটিকে কার দ্বারা গাড়ি চলে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় গ্যাসে। সুতরাং ‘গ্যাসে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৯৪৭.
অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সারারাত বৃষ্টি ছিল।
  2. খ) সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু।
  3. গ) বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
  4. ঘ) ভােরে সূর্য উঠে।
সঠিক উত্তর:
ক) সারারাত বৃষ্টি ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সারারাত বৃষ্টি ছিল।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ :
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : আমি ঢাকা যাব। বাবা বাড়ি নেই। সারারাত বৃষ্টি ছিলো।
খ. তৃতীয়া বিভক্তি : খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
গ. পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
ঘ. সপ্তমী বা তে বিভক্তি : এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৮.
'গুণ্ডারা পথিকের মাথায় লাঠি মেরেছে'- বাক্যে ‘মাথায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূণ্য
  2. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
  3. অধিকরণে সপ্তমী
  4. করণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- গুণ্ডারা পথিকের মাথায় লাঠি মেরেছে (অধিকরণে সপ্তমী)।
- কোথায় মেরেছে? উত্তর: মাথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৪৯.
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।-নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৯৫০.
‘কপালের লেখা না যায় খণ্ডন।’ - বাক্যে 'কপালের' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
  2. করণে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মে ৬ষ্ঠী
  4. অপাদানে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আজকে নগদ কালকে ধার।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। 
- কপালের লেখা না যায় খণ্ডন। অধিকরণে ৬ষ্ঠী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
'এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।' - বাক্যে ‘বিষাদে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. করণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে। (করণে ৭মী)।

• 'এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কী উপায়ে অরিন্দম কহিলা?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বিষাদে'। তাই, 'বিষাদে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫২.
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো। কোন কারক?
  1. ক) অপাদান
  2. খ) করণ
  3. গ) অধিকরণ
  4. ঘ) কর্ম
সঠিক উত্তর:
ক) অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অপাদান
ব্যাখ্যা
তুলনা করে থাকলে যেটির সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত আছে সেটি অপাদান, অন্যটি কর্তৃকারক হবে। যেমন :

অপাদান কারক 
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।
করিমের চেয়ে রহিম ভালো।
পাপী পশুর চেয়ে অধম।

কর্তৃকারক
সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো।
করিমের চেয়ে রহিম ভালো।
পাপী পশুর চেয়ে অধম।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৯৫৩.
কেঁদে ভাসাইত বুক।- এখানে 'কেঁদে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
উত্তর:
করণ কারক।

ব্যাখ্যা:
"কেঁদে ভাসাইত বুক" বাক্যে "কেঁদে" শব্দটি করণ কারক। কারণ, এটি ক্রিয়া সম্পাদনের মাধ্যম বা সাধন নির্দেশ করছে। এখানে "কাঁদা" হলো সেই মাধ্যম, যার দ্বারা "বুক ভাসানো" (অশ্রুতে ডুবে যাওয়া) কাজটি সংঘটিত হচ্ছে।

কারকের সংজ্ঞা অনুযায়ী:
করণ কারক: ক্রিয়ার সাধন বা মাধ্যম (যা দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হয়)।
উদাহরণ:
"কলমে লিখে" → কলমে (করণ কারক)।
"কেঁদে ভাসাল বুক" → কেঁদে (করণ কারক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৫৪.
করিমকে রহিম গতকাল মেরেছে- কর্মকারকসূচক শব্দ কোনটি?
  1. রহিম
  2. করিমকে
  3. গতকাল
  4. মেরেছে
সঠিক উত্তর:
করিমকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করিমকে
ব্যাখ্যা
• করিমকে রহিম গতকাল মেরেছে - কর্মকারকসূচক শব্দ: করিমকে

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্মকারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্মকারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্মকারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
করিমকে রহিম গতকাল মেরেছে

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫৫.
‘খেজুর রসে গুড় হয়।’- বাক্যে ‘রসে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়। 
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
[বাক্যকে কী হইতে গুড় হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় রসে। সুতরাং রসে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।] 

[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৬.
‘ভাষায় তার অদ্ভুত দখল’- বাক্যে ভাষায় কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
 
অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘ভাষায় তার অদ্ভুত দখল’- বাক্যকে কোন বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া ‘ভাষায়’। সুতরাং ‘ভাষায়’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী।
৯৫৭.
"কথায় কথা বাড়ে।" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• "কথায়" শব্দটি এখানে "কথা" (বিশেষ্য) পদের সঙ্গে "য়" (সপ্তমী) বিভক্তি যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। 
• বাক্যে "কথা" ক্রিয়াপদের সম্পাদনে উপকরণ বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে, তাই এটি করণ কারক।

করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫৮.
'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।' - 'কাননে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
 • 'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।' - 'কাননে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
(খ) তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
(গ) পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
(ঘ) সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।' - এখানে 'কোথায় কুসুমকলি সকলি ফুটিল?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'কাননে'। তাই 'কাননে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৯.
'ফুলে ফুলে শহীদ মিনার ভরে গেছে' – কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) করণে শূন্য
  4. ঘ) অধিকরণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
খ) করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'ফুলে ফুলে শহীদ মিনার ভরে গেছে' – এখানে 'ফুলে ফুলে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।  

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• 'ফুলে ফুলে শহীদ মিনার ভরে গেছে'। 
- এখানে "কিসের দ্বারা ভরে গেছে?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ফুলে ফুলে'।
- এবং ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
- সে অনুসারে এখানে 'ফুলে ফুলে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৬০.
'বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।' -  বাক্যে 'বোঁটা-আলগা' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৬১.
কর্ম কারকে কোন কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়?
  1. ক) সমধাতুজ কর্মে
  2. খ) গৌণ কর্মে
  3. গ) ধাতুর্থক কর্মে
  4. ঘ) মুখ্য কর্মে
সঠিক উত্তর:
খ) গৌণ কর্মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গৌণ কর্মে
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
কর্ম দুই প্রকার। যথা: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম। যেমন: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
সাধারণত গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক ও মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক হয়ে থাকে।
কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৯৬২.
কোন কারকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে?
  1. কর্তা
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।

যেমন:
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।

• কাব্যভাষায় কর্ম কারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯৬৩.
‘বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।’ -ইহা কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণকারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬৪.
"শরতে ধরাতল শিশিরে ঝলমল।" - এ বাক্যে 'শিশিরে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মে সপ্তমী
  2. অপাদানে সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্তৃকারকে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
করণ শব্দের অর্থ  যন্ত্র, সহায়, উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান  সহায়, তা-ই করণ কারক। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণকারক বলে ।  
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷

• বাক্যটি- ‘শরতে ধরাতল শিশিরে ঝলমল।’- 
- এখানে "কীসের দ্বারা" ঝলমল করে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়‘শিশির' দ্বারা। 
- এবং 'শিশির'এর সাথে 'এ' বা সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

তাই বলা যায়,
এই বাক্যে 'শিশিরে' করণ  কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৬৫.
'উরজাহাজ দ্বারা আগুন নিভানো হয়েছে।' বাক্যে 'উরজাহাজ' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• উরজাহাজ দ্বারা আগুন নিভানো হয়েছে।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা আগুন নিভানো হয়েছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘উরজাহাজ'। সুতরাং ‘উরজাহাজ’ করণ কারক।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৬.
'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।' বাক্যে ‘ঘরেতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯৬৭.
'তাহাতেও মনটাকে উদাস করিয়া দিত।' বাক্যে 'মনটাকে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

'তাহাতেও মনটাকে উদাস করিয়া দিত।' বাক্যে 'মনটাকে'  কর্ম কারক।

 কর্ম কারক:

- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
উল্লেখ্য,
- কী / কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে কর্ম কারক পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২৫)।

৯৬৮.
কর্মকারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) বাঘে মানুষ খায়
  2. খ) বিপদে যেন করিতে পারি জয়
  3. গ) ডাক্তারকে ডাক
  4. ঘ) তার দেখা পাইনি
সঠিক উত্তর:
ক) বাঘে মানুষ খায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাঘে মানুষ খায়
ব্যাখ্যা
কর্মকারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে - বাঘে মানুষ খায় বাক্যে।

কর্ম কারক: 
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে।

কর্ম কারকে বিভক্তির প্রয়োগ: 
- রেখো মা দাসেরে মনে। [কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি]
- বিপদে যেন করিতে পারি জয় [কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি]
- কোন কাননে ফুটল ফুল [কর্মকারকে শুন্য বিভক্তি ]
- তার দেখা পাইনি [কর্মকারকে ষষ্ঠী বিভক্তি]
- ডাক্তারকে ডাক [কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৬৯.
"পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল" - এখানে 'পাখি' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

- যেমন:
• গরুতে দুধ দেয়। 
• বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে?   
• গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।

• "পাখি সব করে রব" – এখানে 'করে' শব্দটি ক্রিয়া, এবং 'পাখি' সেই সত্ত্বা, যা কাজটি করছে।
অতএব, 'পাখি' এই বাক্যে কর্তৃকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭০.
গগনে উঠল রবি লোহিত বরণ’ চিহ্নিত শব্দের কারক ও বিভক্তি কী?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্তৃকারকে ৭মী
  4. করণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘গগনে উঠল রবি লোহিত বরণ’- বাক্যেকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘গগনে’। সুতরাং ‘গগনে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তির উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭১.
বাক্যের অন্তর্গত শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. সন্ধি
  2. পদ
  3. কাল
  4. কারক
সঠিক উত্তর:
কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) কারক।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে বাক্যের অন্তর্গত শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক বলতে শব্দগুলোর মধ্যে যে ক্রিয়াগত বা অর্থগত সম্পর্ক থাকে, তা বোঝায়। এই সম্পর্ক প্রধানত কারক অধ্যায়ে আলোচিত হয়। কারক হলো বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে ক্রিয়ার সম্পর্ক নির্দেশক। এটি বাক্যে শব্দগুলোর ভূমিকা (যেমন, কে ক্রিয়াটি সম্পাদন করছে, ক্রিয়াটি কার উপর কাজ করছে, কোথায় ক্রিয়াটি ঘটছে ইত্যাদি) নির্ধারণ করে।

উদাহরণ: রানা বই পড়ে।
রানা – কর্তৃকারক (ক্রিয়ার সম্পাদক);
বই – কর্মকারক (ক্রিয়ার উপর কাজের লক্ষ্য);
এখানে রানা এবং বই-এর পারস্পরিক সম্পর্ক ক্রিয়া (পড়ে) এর সঙ্গে কারকের মাধ্যমে প্রকাশিত।

• বাংলায় ছয়টি কারক রয়েছে:
i) কর্তৃকারক,
ii) কর্মকারক,
iii) করণকারক,
iv) সম্প্রদান কারক,
v) অপাদান কারক, এবং
vi) অধিকরণ কারক।

তাই - কারক সঠিক উত্তর।
----------------------

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) সন্ধি:
সন্ধি হলো দুটি শব্দ বা শব্দাংশের মিলনের সময় ধ্বনিগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, যেমন বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
- সন্ধি শব্দগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত, বাক্যে শব্দের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে নয়।

খ) পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত। পদ বিশ্লেষণে শব্দের শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু শব্দগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক (ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক) সরাসরি আলোচিত হয় না।

গ) কাল:
কাল হলো ক্রিয়ার সময় নির্দেশক, যেমন বর্তমান কাল, অতীত কাল, ভবিষ্যৎ কাল।
- কাল শুধু ক্রিয়ার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, শব্দের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে নয়।


উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ।
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭২.
বনে বাঘ আছে। - এখানে 'বনে' কোন কারক?
  1. ক) ঐকদেশিক অধিকরণ
  2. খ) বৈষয়িক অধিকরণ
  3. গ) অভিব্যাপক অধিকরণ
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ঐকদেশিক অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঐকদেশিক অধিকরণ
ব্যাখ্যা
- যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
- এটি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা : ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)। 
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)। 
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৩.
অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।
  2. ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
  3. চেষ্টায় সব হয়।
  4. লোকমুখে শুনেছি।
সঠিক উত্তর:
লোকমুখে শুনেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকমুখে শুনেছি।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে - লোকমুখে শুনেছি

অন্যদিকে,
- 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'। = কর্মকারক।
- ঘোড়ায় গাড়ি টানে। = কর্তৃকারক।
- চেষ্টায় সব হয়। = করণ কারক।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৪.
'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।'- এখানে 'কাননে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• 'কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।'- এখানে 'কাননে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

• অধিকরণ কারক:

যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭৫.
"জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
- "জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।" - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। - এখানে 'কোথায় কুমির?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জলে'। তাই 'জলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৬.
'ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।' - বাক্যে 'ঢাকা' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯৭৭.
সারারাত বৃষ্টি ছিল। বাক্যে 'সারারাত' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে শূন্য
  2. অপাদানে শূন্য
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্মে দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

​যেমন:
​- পুকুরে মাছ আছে। 
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। 

​এরূপ- 'সারারাত বৃষ্টি ছিল।'- বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সারারাত'। সুতরাং 'সারারাত' অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭৮.
কুকর্মে বিরত হও। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭৯.
'অনাবৃষ্টির আকাশ হইতে যেন আগুন ঝরিয়া পড়িতেছে' - বাক্যে 'আকাশ হইতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৫মী
  2. অপাদানে ২য়া
  3. অপাদানে ৫মী
  4. করণে ৫মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৫মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৫মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

 প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

পঞ্চমী বিভিক্ত:
- অনাবৃষ্টির আকাশ হইতে যেন আগুন ঝরিয়া পড়িতেছে।

ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮০.
নিচের কোন বাক্যটিতে নিম্নরেখ শব্দে কর্মকারকে প্র্রথমা বিভক্তি রয়েছে?
  1. বাবাকে ভয় পাই
  2. বাঁশি বাজে
  3. ফলে বৃক্ষের পরিচয়
  4. পাপে বিরত হও
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- অসহায়কে সাহায্য করো। 
- শিক্ষককে জানাও।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্র্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।
৯৮১.
টাকায়  টাকা হয়’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অপাদানে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

 • 'টাকায় টাকায় হয়'- বাক্যটিতে 'কি হতে উৎপন্ন হয়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়, টাকা হতে।
- আবার 'এ, য়, তে' হলো সপ্তমী বিভক্তি।
তাই বলা যায়, 'টাকায় টাকায় হয়'- বাক্যটি অপাদানে কারণে ৭মী বিভক্তি।  
 
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ -

- টাকায় টাকায় হয় = অপাদানে ৭মী বিভক্তি।
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি ।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি ।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 

[তবে বাংলা ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের 'টাকায় টাকায় হয় - করণে ৭মী' দেওয়া আছে, যা প্রকৃতপক্ষে ভুল।] 

উৎস:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলা ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮২.
'তার চোখ দিয়ে পানি পড়ে'- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৩য়া
  2. খ) করণে ৩য়া
  3. গ) অপাদানে ৩য়া
  4. ঘ) অধিকরণে ৩য়া
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে ৩য়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদানে ৩য়া
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
উদাহরণ
বিচ্যুত : ছাদ থেকে পানি পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় ইত্যাদি।
গৃহীত : দুধ থেকে দই হয়। বিশ্বাস থেকে বস্তু মেলে।
জাত : জমি থেকে আমরা ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
বিরত : পাপে বিরত হও। মিথ্যা বলা ছাড়।
দূরীভূত : দেশ থেকে পাপাচার দূর করতে হবে।
রক্ষিত : বিপদ থেকে আমায় বাঁচাও।
আরম্ভ : বুধবার থেকে দুর্নীতিবিরােধী অভিযান চলবে।
ভীত : বাঘে ভীত হয়।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়ে, দিয়া ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : বাবাকে বড় ভয় পাই।
- ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি : যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি : বিপদে মােরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।

অনুরূপভাবে, তার 'চোখ দিয়ে পানি পড়ে।' - অপাদান কারকে ৩য়া বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৩.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. গৃহহীনে গৃহ দাও
  2. জিজ্ঞাসিব জনে জনে
  3. ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
  4. বনে বাঘ আছে
সঠিক উত্তর:
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

অন্যদিকে,
• ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’ প্রশ্নে ‘জনে জনে’ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।
• গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি৷
• ‘বনে বাঘ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৪.
"মাটি দিয়ে কলসি তৈরি হয়।" - এখানে 'মাটি' কোন কারক?
  1. সম্প্রদান
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• "মাটি দিয়ে কলসি তৈরি হয়।"
- এখানে 'কিসের দ্বারা' কলসি তৈরি হয় প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মাটি' দ্বারা।
- সে অনুসারে, এখানে 'মাটি' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৯৮৫.
রাতে তারা দেখা যায়-এ বাক্যে ‘রাতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা কাল বা আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। যেমনঃ 'সে রোজ স্কুলে যায়', 'আমি বিকেলে খেলাধুলা করি', 'রাতে তারা দেখা যায়' বাক্যগুলোতে স্কুল (স্থান), বিকেল (সময়), রাত (সময়) হলো অধিকরণ কারক। অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) যুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৮৬.
'আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে?' - এখানে 'রাঘবে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- গাছ হতে ফলটি পড়ল।
- ‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে?’ - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

- যেহেতু প্রশ্নোক্ত বাক্যে রাঘবকে দেখে ভীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই তা অপাদান কারক।
- আর 'রাঘবে' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮৭.
"মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।" - বাক্যে 'থেকে' কোন ধরনের বিভক্তি?
  1. প্রথমা বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. সপ্তমী বিভক্তি
  4. তৃতীয়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা-
• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি:  কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি:  দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:  কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি:  হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি:  র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮৮.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন হয় না -
  1. ক্রিয়ার কালের
  2. যতচিহ্ন
  3. নাম বিভক্তির
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার কালের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়ার কালের
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৯৮৯.
”সে রোজ সকালে এক কাপ চা পান করে।” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন
- সে রোজ সকালে এক কাপ চা পান করে।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি, ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৯৯০.
কোনটিতে অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. গরুতে দুধ দেয়।
  2. তাকে বল।
  3. তিলে তৈল হয়।
  4. তিলে তৈল আছে।
সঠিক উত্তর:
তিলে তৈল হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলে তৈল হয়।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে - তিলে তৈল হয়

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

অন্যদিকে,
- তাকে বল। = কর্মকারক।
- গরুতে দুধ দেয়। = কর্তৃকারক।
- তিলে তৈল আছে। = অধিকরণ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯১.
‘শরতে ধরাতল শিশিরে ঝলমল।’ এখানে ‘শিশিরে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে ৭মী
  2. খ) অপাদানে ৭মী
  3. গ) কর্মে ৭মী
  4. ঘ) করণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
ঘ) করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- করণ শব্দের অর্থ  যন্ত্র, সহায়, উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান  সহায়, তা-ই করণ কারক। 
- কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে ।  
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷

• ‘শরতে ধরাতল শিশিরে ঝলমল।’ এখানে কিসের দ্বারা ঝলমল করে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যাবে ‘শিশির' দ্বারা। 
- এবং ;শিশির'এর সাথে 'এ' বা সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই বলা যায়, এই বাক্যে 'শিশিরে' করণ  কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামদু ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৯২.
'সাইফ অর্থনীতিতে ভালো।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• 'সাইফ অর্থনীতিতে ভালো।'এখানে 'অর্থনীতিতে' শব্দটি ক্রিয়ার বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা  হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বৈষয়িক আধারাধিকরণ :
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উল্লেখ্য,
আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত: ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
- বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)
সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)। 'দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী,
- ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে), রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপকআধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৯৩.
‘কলে ছাঁটা চাল ভালো নয়।’- বাক্যে 'কলে' কোন কারক?
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
খ) করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
• কলে ছাঁটা চাল ভালো নয়। বাক্যে 'কলে' হলো করণ কারক।
- ক্রিয়াকে ‘কী দিয়ে/ কী উপায়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
- এখানে ক্রিয়াকে ‘কী দিয়ে‘ ছাঁটা চাল ভালো হয় প্রশ্ন করলে উত্তরে ‘কলে‘ পাওয়া যায়।
- তাই ‘কলে‘ হলো করণ কারক।
• করণ কারক:
- করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- যে উপাদান বা উপায়ে ক্রিয়া সম্পাদন করা হয়, তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কী দিয়ে/ কী উপায়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
• উদাহরণ-
- পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে। (কী দিয়ে লেখে? কলম দিয়ে) :করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- কীর্তিমান হয় সাধনায়। (কী উপায়ে হয়? সাধনায়) : করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ডাকাতেরা গৃহকর্তার মাথায় লাঠি মেরেছে। (কী দিয়ে মেরেছে? লাঠি ): করণ কারকে শূণ্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ১ম খণ্ড।
৯৯৪.
‘অসহায়কে সাহায্য করো।’- এখানে ‘অসহায়কে’ কোন কারক?
  1. কর্তৃ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
[এখানে, 'কাকে সাহায্য করো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অসহায়কে'। সুতরাং, 'অসহায়কে' এখানে কর্ম কারক।]

কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ১৯ সংস্করণ)।
৯৯৫.
‘কোন কাননে ফুটল ফুল।’- বাক্যে ‘ফুল’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্ম কারক বলে। ক্রিয়াকে কী/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন:
- কোন কাননে ফুটল ফুল।
এই বাক্যে ক্রিয়াকে কী ফুটল দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ফুল’। সুতরাং ফুল কর্মকারকে শুন্য বিভক্তি।

কর্ম কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
- রেখো মা দাসেরে মনে। [কর্মকারকে রে/দ্বিতীয়া বিভক্তি]
- বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি]
- ডাক্তারকে ডাক। [কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৯৬.
“সানিয়া টেনিস বল দিয়ে টেনিস খেলে।”- বাক্যটিতে ‘টেনিস’ কোন কারক নির্দেশ করে? 
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা

“সানিয়া টেনিস বল দিয়ে টেনিস খেলে।” - বাক্যটিতে ‘টেনিস’ কর্ম কারক নির্দেশ করে।

 কর্মকারক চিহ্নিত করতে ক্রিয়াপদকে "কী" বা "কাকে" দিয়ে প্রশ্ন করতে হয়। 
- “সানিয়া টেনিস বল দিয়ে টেনিস খেলে।” - বাক্যটিতে ‘টেনিস’ → কর্মকারক (ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু)।
- যদি প্রশ্ন করা হয় কী খেলে তাহলে উত্তর আসবে টেনিস। 
- টেনিস ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু বিধায় টেনিস কর্মকারক। 

---------------------------------------------
• কর্মকারক: 
- কর্মকারক হলো সেই বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ, যার ওপর ক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- অর্থাৎ, যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, সেটিই কর্মকারক।

- কর্মকারকের কিছু উদাহরণ-
- রিমা আপেল খাচ্ছে → "কী খাচ্ছে?" → আপেল (কর্মকারক)।
- শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন → "কাকে পড়াচ্ছেন?" → শিক্ষার্থীদের (কর্মকারক)।
- আমি জল পান করি → "কী পান করি?" → জল (কর্মকারক)

- কর্মকারকের প্রকারভেদ:
- মুখ্য কর্ম: বস্তুবাচক, যেমন আপেল।
- গৌণ কর্ম: ব্যক্তিবাচক, যেমন ছাত্রীদের।
- মুখ্য ও গৌণ উভয় ধরনের কর্মই কর্মকারক হিসেবে গণ্য হয়।
-------------------------------------
অন্যদিকে,
- কর্তৃকারক – কাজটি যে করে তাকে বোঝায় (এখানে সানিয়া)।
- করণকারক – কী দিয়ে কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে → টেনিস বল দিয়ে; তাই টেনিস বল করণকারক। 
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৯৯৭.
কামাল বাড়িতে নেই- এখানে ‘বাড়িতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. ক) অপাদান কারকে
  2. খ) কর্মকারক
  3. গ) করণ কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• কামাল বাড়িতে নেই- এখানে বাড়িতে অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয়, ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। 
- এ কারকে সাধারণত 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়। 

কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্ম বা কর্মকারক বলে। 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৯৮.
"জিজ্ঞাসিব জনে জনে।" - বাক্যে 'জনে জনে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

যেমন:
- ঘোড়া গাড়ি টানে।
- শাহেদ বই পড়ে।

→ উল্লিখিত বাক্য দুটিতে 'ঘোড়া' এবং 'শাহেদ' যথাক্রমে 'গাড়ি' এবং 'বই'-কে আশ্রয় করে 'টানা' এবং 'পড়া' ক্রিয়া সম্পন্ন করে। সুতরাং 'গাড়ি' এবং 'বই' কর্মকারক

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯৯৯.
”আমার যাওয়া হয়নি “ - বাক্যটিতে ”আমার” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ষষ্ঠী
  2. কর্তায় সপ্তমী
  3. কর্তায় দ্বিতীয়া
  4. কর্তায় শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।

• কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

- প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি : হামিদ বই পড়ে।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
- তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
- ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১,০০০.
'জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়' এখানে 'সাধনায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. অপাদানে সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্মে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের উপকরণ বা উপায়কে বলা হয় করণ কারক। অন্যভাবে বলা যায়, কর্তা যে পদের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বলা হয় করণ কারক। ক্রিয়াপদকে কিসের দ্বারা, কিসের সাহায্যে বা কী উপায়ে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে করণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- সুজলা কলম দিয়ে লেখে (উপকরণ-কলম)। 
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায় (উপায়-সাধনায়)। 
[প্রদত্ত বাক্যকে কী উপায়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সাধনা'। সুতরাং 'সাধনায়' করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

---------------
করণ কারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার-
ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে। (অকর্মক ক্রিয়া)।
খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়। দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

গ) সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

তে বিভক্তি:
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
'এত শঠতা, এত যে ব্যথা,
তবু যেন তা মধুতে মাখা।' -নজরুল।

য় বিভক্তি:
- চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।