বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ১০১২০০ / ১,২০১

১০১.
"আমার যাওয়া হয়নি" এখানে আমার -
  1. কর্তায় ষষ্ঠী
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. কর্মে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

• 'আমার যাওয়া হয়নি'- বাক্যটিতে 'আমার' কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 
-  ‘আমা’  শব্দে ৬ষ্ঠী বিভক্তি ‘র’ ব্যবহৃত হয়ে ‘আমার’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
 
কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- রাখাল গরু চড়ায়।- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- মামাকে ডাকতে হবে।- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।- কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।-  কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তি। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০২.
'দীনে দয়া কর।' এখানে 'দীন' কোন কারক?
  1. করণ
  2. সম্প্রদান
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারক:
- 'সম্প্রদান' অর্থ স্বেচ্ছায় দান। যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোনো কিছু দান করা হয়, সেই দান গ্রহীতাকে সম্প্রদান কারক বলে।

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: গুরু দক্ষিণা দাও।
চতুর্থী বিভক্তি: দরিদ্রকে দান কর।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
সপ্তমী বিভক্তি: দীনে দয়া কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১০৩.
'জলে বাষ্প হয়।'- এখানে ‘জলে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। [কুকর্মে শব্দে অপাদান কারকে সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• প্রশ্নে প্রদত্ত 'জলে বাষ্প হয়।'- বাক্যকে 'কি থেকে বাষ্প হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জলে'। সুতরাং জলে অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৪.
'ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।’- বাক্যটিতে ‘গান শেখায়’ কোন কারক নির্দেশ করে? 
  1. ঐকদেশিক অধিকরণ
  2. বৈষয়িক অধিকরণ 
  3. অভিব্যাপক অধিকরণ
  4. কালাধিকরণ
ব্যাখ্যা

‘ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।’— বাক্যটিতে ‘গান শেখায়’ বৈষয়িক অধিকরণ।
----------------------------------------
• অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ কারক সময়, ভাব বা স্থানের বিশেষ অংশ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং 
- এটি সপ্তমী বিভক্তিতে প্রকাশ পায়।
- অধিকরণ কারকের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে:
১. কালাধিকরণ: যখন ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়। যেমন – “প্রভাতে সূর্য উঠে।” এখানে ‘প্রভাতে’ সময় নির্দেশ করছে।
২. ভাবাধিকরণ: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যদি অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে। সবসময় সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহার হয়।
৩. আধারাধিকরণ: ক্রিয়ার স্থান বা আধারের সাথে সম্পর্কিত।
-------------------------------
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
- যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

•  ঐকদেশিক অধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

• অভিব্যাপক অধিকরণ:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

• বৈষয়িক অধিকরণ:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের পুলিশরা সাহসে দুর্জয়। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০৫.
লোক মুখে শুনেছি। - এখানে 'লোক মুখে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে ষষ্ঠী
  2. খ) কর্মে ষষ্ঠী
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) কর্তৃকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- লোক মুখে শুনেছি।
- ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।
এখানে উভয় বাক্যেই 'মুখ' শব্দটি অপাদান কারক। আর সাথে 'এ' বিভক্তি। 'এ' হলো সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই

 
১০৬.
‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।’- বাক্যে ‘গাছে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
-  আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।’- বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘গাছে’। সুতরাং গাছে অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৭.
বিভক্তি কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।

বিভক্তি দুই প্রকার:
১. ক্রিয়া-বিভক্তি ও
২. কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০৮.
'পড়াশোনায় মন দাও' - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপদানে শূন্য
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- ছেলেরা মাঠে খেলে।
- ছাত্রীরা পাঠাগারে পড়ে।
বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক।

ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে। কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারক।
- তারা সকালে পড়ে। - কখন 'পড়ে? সকালে। 'সকালে' অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ-
• প্রথম বা শূন্য বিভক্তি:
- শফিক চাটগাঁ থাকে।
- তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- পথ দিয়ে চল।
- বড় রাস্তা দিয়ে যেও।

•পঞ্চমী বিভক্তি:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- আহারে রুচি নেই।
বাড়িতে কেউ নেই।

• প্রশ্নে প্রদত্ত 'পড়াশোনায় মন দাও'- বাক্যেকে কোন বিষয়ে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘পড়াশোনায়’। সুতরাং পড়াশোনায় শব্দে  অধিকরণ কারকে ‘য়’ যোগে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৯.
'ঘোড়াকে চাবুক মার'- বাক্যে 'চাবুক' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন-
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কান্তে দিয়ে ধান কাটছে।

এরূপ-
- ঘোড়াকে চাবুক মার। 
[বাক্যকে ঘোড়াকে কি দিয়ে / দ্বারা মার প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'চাবুক'। সুতরাং চাবুক করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১১০.
'ঝিনুক থেকে মুক্ত মেলে'- এখানে 'ঝিনুক' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
প্রশ্নোক্ত বাক্যে ঝিনুক থেকে মুক্তা উৎপন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই তা অপাদান কারক।
এতে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১১১.
'আজকে নগদ কালকে ধার' -এখানে 'আজকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. অধিকরণে ২য়া
  3. কর্মে ২য়া
  4. করণে২য়া
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ-
- আজকে নগদ কালকে ধার।
[বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজকে'। বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে এবং এতে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং 'আজকে' অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
‘পণ্ডিতে পণ্ডিতে লড়াই করে।’- ‘পণ্ডিতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।
- পণ্ডিতে পণ্ডিতে লড়াই করে। (কে লড়াই করে? (পণ্ডিতে- কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি)।

এরূপ-
- গরুতে গাড়ি টানে।- এই বাক্যে ‘গরুতে’ কর্তৃকারক।
[কারণ গাড়ি টানার কাজ গরু নিজেই করছে। সুতরাং এখানে ‘গরুতে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
১১৩.
‘সবাই মিলে বিদ্যালয় পরিষ্কার করল।' - ‘সবাই' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক 
  3. করণ কারক 
  4. অপাদান কারক 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- সবাই মিলে বিদ্যালয় পরিষ্কার করল।
এখানে ‘সবাই’ হলো কর্তৃকারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯)।
১১৪.
"আজকে আমার যাওয়া হবে না।" - বাক্যে 'আজকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
  3. অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ-
- আজকে আমার যাওয়া হবে না।
[বাক্যকে 'কখন দ্বারা 'প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজকে'। সুতরাং 'আজকে' অধিকরণ কারক। এবং এর সাথে দ্বিতীয়া বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৫.
ডাক্তার ডাক’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারনে শূন্য
  2. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  3. কর্মকারকে শূন্য
  4. অপাদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার ডাক' এই বাক্যে 'ডাক্তার' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি। 
- বাক্যটিতে “ডাক্তার” শব্দটিকে আশ্রয় করেই কর্তার কাজ। তাই এটি কর্মকারকের উদাহরণ।
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: ‘ডাক্তার’ ডাক৷

• কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। 

কর্মকারকের প্রকারভেদ: 
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম - নাসিমা ফুল তুলছে। 
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম - ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও। 
• সমধাতুজ কর্ম - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয় - দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা(বিধেয় কর্ম)। 

কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
- ১মা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক, বই এনো, বাঘে মানুষ খায়। 
- ২য়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক, তাকে বল।
- ৬ষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
- ৭মী বিভক্তি: ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৬.
'কুমকুম বাংলা ব্যাকরণে ভালো।'- এখানে 'ব্যাকরণে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

এরূপ-
• কুমকুম বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
[বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ব্যাকরণে'। এখানে ব্যাকরণে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৭.
'সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা'-এই বাক্যে 'ঔষধ' শব্দ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. সম্প্রদানে সপ্তমী
  3. অধিকরণে শূন্য
  4. কর্তৃকারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার : মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।

যেমন:
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৮.
‘সুখের চেয়ে শান্তি বড়।’- বাক্যে ‘সুখের চেয়ে’ কোন কারক?
  1. করণে ৫মী
  2. সম্বন্ধে ৫মী
  3. অপাদানে ৫মী
  4. কর্মে ৫মী
  5. অধিকরণে ৫মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। 

এরূপ-
- সুখের চেয়ে শান্তি বড়।
[বাক্যকে (কিসের চেয়ে?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সুখের চেয়ে’। সুতরাং সুখের চেয়ে অপদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৯.
‘নৌকায় নদী পার হলাম' এখানে 'নৌকায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৭মী
  4. ঘ) সম্প্রদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
- বাক্যে 'নৌকায়' করণে ৭মী।

• করণ কারক: 
- করণ শব্দটির অর্থ - যন্ত্র, সহায়ক, উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই বলে করণ কারক। কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন -
‘নৌকায় নদী পার হলাম’ - এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘নৌকায়’। এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি ‘য়’ যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২০.
ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণকে, কোন কারক বলে?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২১.
'অন্ধজনে দেহ আলো।' এখানে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
  2. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়- ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
- সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) চতুর্থী বা কে বিভক্তি: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে না দিলে কর্মকারক হবে। যেমন ধোপাকে কাপড় দাও।)
(খ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: সৎপাত্রে কন্যা দান কর। সমিতিতে চাঁদা দাও। 'অন্ধজনে দেহ আলো'।

জ্ঞাতব্য: নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন- 'বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২২.
"কৃষক হাল দিয়ে জমি চাষ করছে।" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মকারকে তৃতীয়া
  3. করণ কারকে তৃতীয়া
  4. অপাদান কারকে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ কারক অর্থ কার্য সম্পাদনের যন্ত্র বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
যেমন- আমরা কানে শুনি। কী দিয়ে শুনি? কান দিয়ে। 'কান' করণ কারক।

- এককথায়, ক্রিয়াকে কী দিয়ে বা কী উপায়ে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
যেমন:
- পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে।

• "কৃষক হাল দিয়ে জমি চাষ করছে।" - 

এই বাক্যে, 
হাল দিয়ে: এখানে "হাল" কাজ সম্পাদনের মাধ্যম বা উপকরণ বোঝায়, যা করণ কারক নির্দেশ করে।
এবং, দিয়ে: তৃতীয়া বিভক্তির চিহ্ন।
তাই,
বাক্যটিতে  হাল দিয়ে করণ কারকে তৃতীয়া" বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৩.
'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।'- এখানে 'ঘাটে'-
  1. কালাধিকরণ
  2. ভাবাধিকরণ
  3. অধিকারাধিকরণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।'- এখানে 'ঘাটে' ঐকদেশীয় আধারাধিকরণ। 

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

অধিকরণ তিন প্রকার
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

• ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।

• কালাধিকরণ:

- সময় বুঝালে কালাধিকরণ হবে। 

• আধারাধিকরণ:
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
ক. ঐকদেশীয় আধারাধিকরণ: বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। 
খ. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ: উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
গ. বৈষয়িক আধারাধিকরণ: বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১২৪.
'সকাল থেকে কাজ করো।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৩য়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারকে ৩য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অপশন অনুসারে, সঠিক উত্তর: গ) অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

বাক্য: “সকাল থেকে কাজ করো।”
এখানে “সকাল থেকে” — যে সময় থেকে কাজ শুরু হচ্ছে → সূত্র বা উৎপত্তি বোঝাচ্ছে, তাই এটি অপাদান কারক। “থেকে” হলো ৫মী বিভক্তি (অপাদান বিভক্তি)।
অপাদান সাধারণত যা থেকে কিছু শুরু বা বিচ্যুত হয়— সেই অর্থ প্রকাশ করে।
তাই “সকাল থেকে” = অপাদান কারক + ৫মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:

- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও 'হইতে', 'হতে', 'থেকে', 'দিয়া', 'দিয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১২৫.
নদীতে পানি আছে। এখানে 'নদীতে' কোন কারক?
  1. ক) ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  2. খ) অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. গ) বৈষয়িক আধারাধিকরণ
  4. ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যে উল্লেখিত 'নদীতে' হলো অভিব্যাপক আধারাধিকরণ কারকের উদাহরণ।
•অভিব্যাপক-
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন- তিলে তৈল আছে।
•অধিকরণ কারক বলতে ক্রিয়া সম্পাদনের সময় এবংআধারকে নির্দেশ করে।

•ক্রিয়াকে "কখন" ও "কোথায়" দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।

অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ '-এ' '-য়' '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

-অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

- আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:-

১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
উদাহরণ:- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
১২৬.
‘নীল আকশের নিচে আমি রাস্তা  চলেছি একা’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. সম্প্রদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'নীল আকশের নিচে আমি রাস্তা  চলেছি একা’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি 'করণ' কারকে 'শূন্য' বিভক্তি। 

• করণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়া পদকে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ বা 'কীসের সাহায্যে' প্রশ্ন করলে যে উওর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন: 
- 'নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তা চলেছি একা'। বাক্যটিতে 'রাস্তা' শব্দটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- কারণ, বাক্যের ক্রিয়াপদ 'চলেছি' কে 'কীসের সাহায্যে/ কী দিয়ে' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - রাস্তা। 

• সহজ কথায়, যন্ত্র সহায়ক বা উপায় বোঝালে করণ কারক হবে।
- এখানে রাস্তার সাহায্যে যাচ্ছে। মানে সহায়ক হচ্ছে রাস্তা তাই এটি অধিকরণ না হয়ে করণ কারক হবে। 
- প্রশ্নের ক্রিয়ার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে “চলেছি” অর্থাৎ বাক্যের কর্তা কিন্তু থেমে নেই, সে নীল আকাশের নিচে রাস্তা ব্যবহার করে তার গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।
- তার মানে, এখানে ‘রাস্তা’ কর্তার গন্তব্যস্থলে যাওয়ার একটি মাধ্যম অর্থাৎ করণ কারক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৭.
পরাজয়ে ডরে না বীর’ বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘পরাজয়ে ডরে না বীর’ বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
পরাজয়ে ডরে না বীর
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
'পাপ থেকে পুণ্য পৃথক।'- এখানে 'পাপ থেকে' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- পাপ থেকে পুণ্য পৃথক।
[বাক্যকে কিসের/কি থেকে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পাপ থেকে'। তাই 'পাপ থেকে' শব্দটি অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৯.
‘মামা বাড়িতে আছেন’ বাক্যে কোন কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- মামা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

• অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন-
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।

• করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

• সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩০.
'ছাত্ররা বল খেলে।' এখানে 'বল' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিররণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
[বাক্যকে (কী দ্বারা খেলে?) প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বল দ্বারা। সুতরাং 'বল' করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।] 

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি:
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৩১.
নিচের কোন বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারক?
  1. আমার খাওয়া হলো না।
  2. অন্নহীনে অন্ন দাও।
  3. গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।
  4. আমার ভাত খাওয়া হলো না।
ব্যাখ্যা
কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

অন্যদিকে,
কর্তৃকারক - আমার খাওয়া হলো না। গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।
সম্প্রদান কারক - অন্নহীনে অন্ন দাও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৩২.
‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।’- এখানে ‘গগনে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।’- বাক্যেকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘গগনে’। সুতরাং ‘গগনে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তির উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৩.
বর্তমানে নিম্নের কোনটি কারকের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) কর্তা কারক
  2. খ) কর্ম কাবক
  3. গ) সম্প্রদান কারক
  4. ঘ) সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি  এর সর্বশেষ সংস্করণে সম্প্রদান কারককে বাতিল করা হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩৪.
‘ভিক্ষা দাও আসিলে ভিক্ষুক।’ কোন কারকের উদাহরণ।
  1. ক) সম্প্রদান কারকে শূন্য
  2. খ) কর্ম কারকে ষষ্ঠী
  3. গ) অপাদান কারকে শূন্য
  4. ঘ) কর্তৃকারকে তৃতীয়
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।

সম্প্রদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
ভিক্ষা দাও আসিলে ভিক্ষুক।
১৩৫.
বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে কোন বিভক্তি বসে?
  1. -য় বিভক্তি
  2. -তে বিভক্তি
  3. -রে বিভক্তি
  4. -এর বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• -কে, -রে বিভক্তি:
- বাক্যে গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারণত-কে এবং-রে বিভক্তি বসে।
- ক্রিয়াকে 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়।
- যেমন : শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• -এ, -তে, -য়, -য়ে বিভক্তি
- সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে-এ, -তে,-য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়।
- কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।

• -র, -এর,-য়ের বিভক্তি
- বাক্যের মধ্যে পরবর্তীশব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বোঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে-র, -এর এবং-য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
- সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে-র বিভক্তি বসে।
- যেমন: রাজার, প্রজার,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৩৬.
"অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব হয়।" - এখানে 'অগ্রহায়ণ মাসে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

উল্লেখ্য,
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

সুতরাং,
"অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব হয়।" - এখানে 'অগ্রহায়ণ মাসে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
'গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।' বাক্যে 'গাঁয়ে' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে।- (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)
- মেয়েরা ফুল তোলে।- (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার-
• প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: 
- হামিদ বই পড়ে।

• দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- বশিরকে যেতে হবে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

• ষষ্ঠী বার বিভক্তি:
- আমার যাওয়া হয়নি।

• সপ্তমী বা এ, য়, তে বিভক্তি:
- গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।
- বাপে না জিজ্ঞাসে, মায়ে না সম্ভাষে।
- পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।
- বাঘে-মহিষে খানা একঘাটে খাবে না।

য়-বিভক্তি: ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
তে-বিভক্তি: গরুতে দুধ দেয়। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩৮.
কোথা হতে বা কি থেকে প্রশ্ন করলে উত্তরে কোন কারক পাওয়া যায়?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
[বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]

- এই বনে বাঘের ভয় নেই।
[বাক্যে বাঘের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং 'বাঘের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৯.
অধিকরণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না
  2. খ) জমি থেকে ফসল পাই
  3. গ) ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়
  4. ঘ) বাবা বাড়িতে আছেন
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক: যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
বাবা বাড়িতে আছেন
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

• অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। 
যেমন-
জমি থেকে ফসল পাই।
কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।

• করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 

 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪০.
রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, কিন্তু এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।” নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, কিন্তু এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: তাকে বল।
রে বিভক্তি :'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)।

উল্লেখ্য,
• কর্মকারক
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

• কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম। যেমন-
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে। এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।

১৪১.
'একদিন পাপের ফল ফলবে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে শূন্য
  2. খ) অধিকরণে ২য়া
  3. গ) অধিকরণে ৩য়া
  4. ঘ) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

'একদিন পাপের ফল ফলবে' - বাক্যে 'একদিন' বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
কিন্তু এতে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। তাই বাক্যটি = অধিকরণে শূন্য প্রকাশ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
'মিথ্যারে করো না উপাসনা।' বাক্যে 'মিথ্যারে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।

- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে-'কে' বিভক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
যেমন:
- মিথ্যারে করো না উপাসনা।
- পাহাড় নড়ায় সাধ্য কার?

এরূপ-
- 'মিথ্যারে করো না উপাসনা।'
[বাক্যকে 'কী/কাকে উপাসনা করো না?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মিথ্যারে'। সুতরাং, 'মিথ্যারে' কর্ম কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৩.
নিচের কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়াবিভক্তি?
  1. -আতে (করাতে)
  2. -আন (করান)
  3. -আলে (করালে)
  4. -ইয়ে (করিয়ে)
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিভক্তি:
- ক্রিয়ার দুইটি অংশ: প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি।
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলোকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে। যেমন -
• পড়ছি (পড়্‌ + ছি) ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

• পড়বেন (পড়্‌ + বেন) ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

• পড়ছিল (পড়্‌ + ছিল) ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বোঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।

উপরের উদাহরণগুলোতে '-ছি', '-বেন', '-ছিল'- এগুলো হলো ক্রিয়াবিভক্তি।

প্রযোজক ক্রিয়ার সাথে যুক্ত ক্রিয়াবিভক্তি:
- সাধারণ বর্তমান: -আন (করান)।
- ভূত অসমাপিকা: -ইয়ে (করিয়ে)।
- ভাবী অসমাপিকা: -আতে (করাতে)।
- শর্ত অসমাপিকা: -আলে (করালে)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৪.
'তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।' - বাক্যে 'লাঠির' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারক, পঞ্চমী বিভক্তি
  3. কর্ম কারক, সপ্তমী বিভক্তি
  4. করণ কারক, ষষ্ঠী বিভক্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪৫.
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বােঝাতে কোন বিভক্তি হয়?
  1. ক) -তে
  2. খ) -র
  3. গ) -এ
  4. ঘ) -কে
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে পরবর্তী শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ বােঝাতে পূর্ববর্তী শব্দের সঙ্গে র, -এর এবং -য়ের বিভক্তি যুক্ত হয়।
সাধারণত আ-কারান্ত, ই/ঈ-কারান্ত ও উ/ঊ-কারান্ত শব্দের শেষে -র বিভক্তি বসে।
যেমন - রাজার, প্রজার, হাতির, বুদ্ধিজীবীর, তনুর, বধুর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৬.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. সে বই পড়ছে
  2. সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
  3. সে ঘুমিয়ে আছে
  4. সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
ব্যাখ্যা
• সমধাতুজ কর্ম:
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন:
- 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি'- বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।

আবার,
- ‘সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না’- বাক্যে কর্মপদ চাল এবং ক্রিয়াপদ চেলেছে একই ধাতু চাল থেকে গঠিত হয়েছে। সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৭.
'কত ধানে কত চাল তা আমি জানি।' - বাক্যে 'ধানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- কত ধানে কত চাল তা আমি জানি। অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- তিলে তৈল আছে।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৮.
কি সাহসে ওখানে গেলে?- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় ৭মী
  2. খ) কর্মে ৭মী
  3. গ) করণে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
কি সাহসে ওখানে গেলে?- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি করণকারকে ৭মী বিভক্তি।  
--------------------
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• বাক্যটি- কি সাহসে ওখানে গেলে?
- এখানে যাওয়ার কাজটি 'কীভাবে/কী উপায়ে ঘটছে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় সাহসের দ্বারা।
- তাই এখানে 'সাহসে' করণ কারক হবে। 
- আবারে 'সাহসে' শব্দটিতে সপ্তমী বিভক্তি 'এ' যুক্ত হওয়ায় বাক্যটি করণ কারকে ৭মী বিভক্তি হবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৯.
লোকটা এত বেলা পর্যন্ত বিছানাতে শুয়ে আছে কেন? - বাক্যে 'বিছানাতে' কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
- বাক্যে 'বিছানাতে' হচ্ছে অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ মূলত ক্রিয়ার ঘটনাস্থল, স্থানলক্ষ্য ইত্যাদি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এর দুটি বিভক্তি - এ(এ্‌) এবং -'তে'।
যেমন:
কলমটা টেবিলে ছিল।
কলমটা টেবিলের তলায় (তলাএ্‌) পড়ে ছিল।
লোকটা এত বেলা পর্যন্ত বিছানাতে শুয়ে আছে কেন?

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১৫০.
কালির দাগ দাও’- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ২য়া
  2. করণে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: করণ শব্দটির অর্থ - যন্ত্র, সহায়ক, উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই বলে করণ কারক।
কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন:
- কালির দাগ দাও ।

এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে দাগ দেওয়া যাবে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘কালির’। এবং কালির দ্বারা দাগ দেয়ার কর্ম সম্পাদন হচ্ছে। সুতরাং ‘কালি’ করণ কারক এবং এর সাথে ষষ্ঠী বিভক্তি ‘র’ যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫১.
নিচের কোনটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কপালের লিখন যায় না খণ্ডন।
  2. খ) তিথির চেয়ে বিথী বড়।
  3. গ) তােমার দেখা পেলাম না।
  4. ঘ) আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
ব্যাখ্যা
• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কাবক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে, 
কপালের লিখন যায় না খণ্ডন = অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি ।
তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫২.
যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যে হয়। বাক্যে 'বাঘের' শব্দটি-
  1. অধিকরণে ৫মী
  2. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  3. অপাদানে ৫মী
  4. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

 প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত:
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৩.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. কর্তামশায়
  2. টাকায়
  3. একমুখো
  4. দুনিয়া
ব্যাখ্যা
• টাকা (বিশেষ্য পদ), 
অর্থ:
একশত পয়সার সমমানের মুদ্রা; মুদ্রাবিশেষ; অর্থ; ধন ইত্যাদি।

• 'টাকা' শব্দে 'য়' সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ 'টাকায়'।

--------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার। যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
১৫৪.
চক্রের প্রান্তভাগকে এক কথায় বলে-
  1. ক) চক্রেশ
  2. খ) চক্রসীমা
  3. গ) চক্রধারা
  4. ঘ) চক্রবিন্দু
ব্যাখ্যা
চক্রের প্রান্তভাগ- চক্রধারা।
১৫৫.
“সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা কে?
  1. সে
  2. চিঠি
  3. আমি
  4. কেউ নয়
ব্যাখ্যা

- “সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা - সে।

প্রযোজক কর্তা:
- প্রযোজক কর্তা কর্তৃকারকের একটি প্রকারভেদ। 
- প্রযোজক কর্তা হলো সেই কর্তা, যিনি নিজে সরাসরি কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করান।
- অন্যদিকে, যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
“সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো” —এখানে সে প্রযোজক কর্তা, কারণ সে নিজে লিখছেনা, আমাকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছে।
• “হুজুর ছাত্রদের কুরআন পড়াচ্ছেন”—এখানে হুজুর প্রযোজক কর্তা, কারণ তিনি নিজে পড়াচ্ছেন না, ছাত্রদের দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করছেন। 
• “মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন”—এখানে মা প্রযোজক কর্তা এবং শিশু প্রযোজ্য কর্তা। 

• প্রযোজক কর্তার কিছু উদাহরণ হলো:
- “মালিক শ্রমিককে দিয়ে বাড়ি তৈরি করাচ্ছেন”  → মালিক = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে অঙ্কটা কষালাম”  → আমি = প্রযোজক কর্তা।
- "কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়"  → কৃষক = প্রযোজক কর্তা।
- “সাপুড়ে সাপ খেলাচ্ছে।” → সাপুড়ে = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে কাজটি করালাম।” → আমি = প্রযোজক কর্তা। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫৬.
'ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।'- বাক্যে 'ছেলেটিকে' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
 কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন:
- সেলিম বই পড়ে।
[এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।]

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম।
১. মুখ্য কর্ম:
কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয় মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।

২. গৌণ কর্ম:
দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম।
যেমন:
- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল।
[এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।]

কর্মকারকের প্রকারভেদ:
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: রিমা ফুল তুলছে।
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
• সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর আপেক্ষিক কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মপদটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মপদটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম।
যেমন-
- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৭.
'কেঁদে মরি আঁখিজলে।' বাক্যে 'আঁখিজলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

- বাক্যে 'আঁখিজলে' শব্দটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যম বা উপায় বোঝাচ্ছে।
- যেহেতু এটি ক্রিয়ার মাধ্যম, তাই এটি করণ কারক। শব্দটির শেষে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, যা ৭মী বিভক্তি নির্দেশ করে।

করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৮.
'সোনার খাঁচায় রাখব তোমায়' - বাক্যে 'সোনার খাঁচায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• 'সোনার খাঁচায় রাখব তোমায়' - বাক্যে 'সোনার খাঁচায়' অধিকরণে সপ্তমী কারকে বিভক্তি

অধিকরণ কারক:

- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৯.
'খগড়ে কাটে গাছ'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘খড়গে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
 
করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
অতএব 'খগড়ে কাটে গাছ' বাক্যটিকে কার দ্বারা গাছ কাটে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় খড়গে বা তলোয়ারতাই ‘খড়গে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
১৬০.
'ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।' - বাক্যে নিম্নরেখ অংশটি কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৬১.
'বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. করণ কারকে শূন্য
  3. সম্প্রদান কারকে শূন্য
  4. অপাদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬২.
'রবিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'রবিবার থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৫মী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ৫মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• 'রবিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'রবিবার ’ থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৬৩.
নিচের কোনটিতে তৃতীয়া বিভক্তির ব্যবহার হয়েছে?
  1. ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
  2. হামিদ বই পড়ে।
  3. আমার যাওয়া হয়নি।
  4. চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬৪.
কোন কারকে 'দ্বারা’, 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। যথা:
১. কর্তা কারক,
২. কর্ম কারক,
৩. করণ কারক,
৪. অপাদান কারক,
৫.অধিকরণ কারক ও
৬. সম্বন্ধ কারক।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা’, 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়
যেমন -
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৫.
'রূপার চেয়ে সোনার দাম বেশি।' নিম্নরেখ শব্দটি যে কারকের দুষ্টান্ত-
  1. ক) কর্ম
  2. খ) কর্তৃ
  3. গ) করণ
  4. ঘ) অধিকরণ
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
প্রশ্নোক্ত বাক্যে কর্তা না থাকলেও 'কী' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সোনা'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৬.
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

তাই,
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কর্ম কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৬৭.
'বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।' - কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর। (করণে শূন্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৬৮.
'এ যুদ্ধে বাঁধা দিও না' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় ৭মী
  2. খ) করণে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
⇒ অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
যেমন:
• এ যুদ্ধে বাঁধা দিও না।
[বাক্যটিকে কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে বাঁধা দিও না দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘যুদ্ধে’। অতএব এখানে যুদ্ধ অধিকরণ কারক এবং শব্দে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত থাকায় ‘যুদ্ধে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
১৬৯.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে নিম্নরেখা শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭০.
সকলকে মরতে হবে’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মকারকে দ্বিতীয়া
  3. করণ কারকে দ্বিতীয়া
  4. অপাদান কারকে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা ৩ রকম হতে পারে।
যেমন-
১. কর্মবাচ্যের কর্তা (পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে),
২. ভাববাচ্যের কর্তা (আমার যাওয়া হবে না) এবং
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (কলমটা লেখে ভালো)।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

'সকলকে মরতে হবে' - এই বাক্যে সকলকে হচ্ছে ভাববাচ্যের কর্তা।
এবং এর সাথে ২য়া বিভক্তি (কে) যুক্ত হয়েছে।

সুতরাং, 
'সকলকে মরতে হবে' বাক্যে 'সকলকে' - কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭১.
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে বলা হয়?
  1. ক) কারক
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে বলা হয়- কারক। 
কারক শব্দটির অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম ও ১০ম (২০২২ সংস্করণ)।
১৭২.
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. আগুন থেকে নিরাপদ থাকা উচিত।
  2. গাছ থেকে ফল পড়ে।
  3. সাপে ভয় পাও।
  4. সকাল থেকে পড়া শুরু করো।
ব্যাখ্যা
• ‘সাপে ভয় পাও।’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে।-অপাদান কারকে পঞ্চমী। 
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।- অপাদান কারকে পঞ্চমী।
- বিরত: পাপে বিরত হও। - অপাদান কারকে সপ্তমী।

অপাদান কারক সংক্রান্ত আরও কিছু উদাহরণ:
১. জাত: মাটি থেকে ফুল জন্মায়। - অপাদান কারকে পঞ্চমী।
২. দূরীভূত: দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। - অপাদান কারকে পঞ্চমী।
৩. রক্ষিত: আগুন থেকে নিরাপদ থাকা উচিত। - অপাদান কারকে পঞ্চমী।
৪. ভীত: সাপে ভয় পাও। - অপাদান কারকে সপ্তমী।
৫. আরম্ভ: সকাল থেকে পড়া শুরু করো। - অপাদান কারকে পঞ্চমী।
৬. বিচ্যুত: গাছ থেকে ফল পড়ে। (পঞ্চমী)

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১৭৩.
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু। কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) র্কতৃ ষষ্ঠী
  2. খ) করণে ষষ্ঠী
  3. গ) অধিকরণে ষষ্ঠী
  4. ঘ) সম্প্রদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কিসের নিমিত্তিে বাঁধিনু? উত্তর : সুখের লাগিয়া। সুতরাং এটি সম্প্রদান কারক।

উৎস : ভাষা-শক্ষিা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনরি, বাংলা একাডমেি প্রমতি বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রণেরি ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বশ্বিবদ্যিালয়রে ব্যাকরণ।
১৭৪.
'ছাত্রজীবনে বেশি বেশি অধ্যয়ন করো।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করণকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
'ছাত্রজীবনে বেশি বেশি অধ্যয়ন করো।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• "ছাত্রজীবনে বেশি বেশি অধ্যয়ন করো।" বাক্যে "ছাত্রজীবনে" শব্দটি অধিকরণ কারক, যা সময় নির্দেশ করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বলে-
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বলক
ব্যাখ্যা
⇒ বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

⇒ বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

⇒ বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৬.
"কে, রে" - কোন বিভক্তি?
  1. পঞ্চমী
  2. চতুর্থী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭প্রকার।

যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৭.
হুমায়ূন বাংলা ব্যাকরণে ভালো। কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) অধিকরণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- হুমায়ূন বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

অন্যদিকে,
• অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পেই।

• করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি  অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• কর্মকারক: বাক্যে যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মকারক।
যেমন:
- চোর ধরা হয়েছে।
- ঘোড়া গাড়ি টানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৭৮.
‘শুক্রবার কলেজ ছুটি।’ বাক্যে ‘শুক্রবার’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে শূণ্য
  2. করণ কারকে শূণ্য
  3. অপাদান কারকে শূণ্য
  4. কর্ম কারকে শূণ্য
ব্যাখ্যা
⇒ অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘শুক্রবার কলেজ ছুটি।’ -বাক্যকে কখন ছুটি দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় শুক্রবার। সুতরাং ‘শুক্রবার’ অধিকরণ কারকে শূণ্য বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৯.
’এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে’ এখানে ‘বিষাদে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- ক্রিয়ার সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায় , তাই-ই করন কারক। 

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়
-  এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে। করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ )।

১৮০.
”সোমা বাংলা ব্যাকরণে ভালো।” - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
• বাবা বাড়িতে আছেন।
• বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
• সোমা বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৮১.
"বাঘে-মহিষে লড়াই চলছে।" - এখানে "বাঘে-মহিষে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. অপাদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক: 
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- "বাঘে-মহিষে লড়াই চলছে।" - এই বাক্যে ‘বাঘে-মহিষে’ কর্তৃকারকের উদাহরণ।
[কারণ "কে"/কাদের লড়াই চলছে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'বাঘে-মহিষে'। এখানে ব্যতিহার কর্তা ‘বাঘে-মহিষে’। সুতরাং এখানে ‘বাঘে-মহিষে’ কর্তৃকারকের উদাহরণ।] 
আবার, 
সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

তাই, বলা যায়, "বাঘে-মহিষে লড়াই চলছে।" - এই বাক্যে ‘বাঘে-মহিষে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮২.
অল্প শোকে কাতর— বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃ কারকে ২য়া
  2. খ) করণ কারকে ৭মী
  3. গ) অপাদান কারকে ৭মী
  4. ঘ) অধিকরণ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
- আবার, এ, য়, তে বা সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটে। 

অল্প শোকে কাতর— বাক্যে করণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে দ্বিতীয়া
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  4. কর্মে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৮৪.
'এক যে ছিলো রাজা।' - এখানে 'রাজা' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. করণ কারক
  3. কর্মকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
 দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
 তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
 ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
 সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৫.
'ঘোড়ায় গাড়ি টানে।' এখানে 'ঘোড়ায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী
  2. করণ কারকে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. কোনোটীই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যের যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সাহায্যে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়, তাকে বলা হয় কর্তৃকারক।
যেমন- শামীম কলেজে যাচ্ছে।
[এ বাক্যের কর্তা হলো বিশেষ্য পদ শামীম। অতএব শামীম হলো কর্তৃকারক।]

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

• প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: খোকন বই পড়ে।
• দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: মাসুমকে যেতে হবে।
• তৃতীয় বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসি কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

• ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

• সপ্তমী বা এ, য়, তে বিভক্তি:
- গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।
- বাপে না জিজ্ঞাসে, মায়ে না সম্ভাষে।
- পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।
- বাঘে-মহিষে খানা একঘাটে খাবেন।

• য়-বিভক্তি: ঘোড়ায় গাড়ি টানে।

•তে-বিভক্তি:
- গরুতে দুধ দেয়।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিবে কীসে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
‘জাহাজে সাগর পার হওয়া যায়।’- বাক্যে ‘জাহাজে’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• জাহাজে সাগর পার হওয়া যায়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সাগর পার হওয়া যায়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘জাহাজে’। সুতরাং ‘জাহাজে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৭.
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৮.
জমি থেকে ফসল পাই।” -বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
যেমন-

• বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
• গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
• জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
• বিরত : পাপে বিরত হও।
• দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
• আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৮৯.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।'- এখানে 'ফুলের' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে 'র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৯০.
'আমাকে একখানা বই দাও।' বাক্যে 'বই' কোন কারক? 
  1. করণ কারক 
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন:
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।

- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম) - এখানে 'আমাকে কী দাও?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বই'। তাই 'বই' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৯১.
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি? 
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. প্রথমা বিভক্তি
  3. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  4. শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:  
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯২.
"ছুরিতে কাটল ফল।" - এ বাক্যে "ছুরিতে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• বাক্যটি - "ছুরিতে কাটল ফল।" - 
- এখানে "কিসের দ্বারা কাটল?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছুরিতে'।
- এবং ৭মী বিভক্তি (এ) এর প্রয়োগ ঘটেছে। 
- সে অনুসারে এখানে 'ছুরিতে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯৩.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।'- এখানে 'ফুলের' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারকে ৪র্থী
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মকারকে ২য়া
  4. সম্বন্ধ কারকে ৬ষ্ঠী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৪.
‘দুঃখের দহন’ কোন প্রকার সম্বন্ধ পদ?
  1. ক) অভেদ সম্বন্ধ
  2. খ) কার্যকারণ সম্বন্ধ
  3. গ) ব্যাপ্তি সম্বন্ধ
  4. ঘ) উপমান-উপমেয়
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে। যেমন:
অধিকরণ সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
কার্যকারণ সম্বন্ধ : অগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
হেতু সম্বন্ধ : ধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দাহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ : ননীর পুতুল, লোহার শরীর।
নির্ধারক সম্বন্ধ : সবার সেরা, সবার ছোট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১৯৫.
'লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।' এখানে ‘জাতিতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক।
 যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ –কলম),
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। (উপায় – সাধনা)।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

কর্মকারক:
- কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কি বা ‘কাকে' জিজ্ঞেস করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম এবং ক্রিয়া পদের সঙ্গে কর্মের সম্বন্ধই কর্মকারক।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৬.
আমার যাওয়া হবে না। - বাক্যে 'আমার' কী?
  1. কর্মবাচ্যের কর্তা
  2. ভাববাচ্যের কর্তা
  3. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা
  4. কর্ম-ভাববাচ্যের কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। যেমন -
১. কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে): আমার যাওয়া হবে না
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): কলমটা লেখে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৭.
অপাদান কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।
  2. বাড়িতে কেউ নেই।
  3. ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
  4. লোকমুখে এ কথা শোনা যায়।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

 বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

এরূপ-
• লোকমুখে এ কথা শোনা যায়।
[ বাক্যকে কোথা হতে শোনা যায়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লোকমুখে'। সুতরাং 'লোকমুখে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

অন্যদিকে, 
• এ বাড়িতে কেউ নেই।- অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 
• আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।- অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 
• ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।- কর্মকারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৮.
"মাটিরে আমি যে বড়ো ভালোবাসি।" - বাক্যে 'মাটিরে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তা কারক
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।

কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়:
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।
- মাটিরে আমি যে বড়ো ভালোবাসি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৯.
'ইয়ারাই দুনিয়ায় আগুন লাগেয়া দিল।'- এখানে 'দুনিয়ায়' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।

- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- ইয়ারাই দুনিয়ায় আগুন লাগেয়া দিল।
[বাক্যে ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'দুনিয়ায়'। তাই, 'দুনিয়ায়' শব্দটি অধিকরণ কারকের সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০০.
"সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।" এই বাক্যে 'মেঘে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• "সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।" এই বাক্যে 'মেঘে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- এখানে সাদা মেঘ থেকে বৃষ্টির বিচ্যুতি বুঝাচ্ছে তাই এটি অপাদান কারক।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।