বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কারক ও বিভক্তি

মোট প্রশ্ন১,২০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কারক ও বিভক্তি

PrepBank · পাতা / ১২ · ১০০ / ১,২০১

.
’পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে’ - বাক্যে ‘জল’ কোন কারকে কোন বিভক্তি ?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী
  2. কর্মকারকে শূন্য
  3. কর্তৃকারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক বা কর্তৃকারক: 
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

-'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে।- এই বাক্যে জল কর্তৃকারক।
কারণ নামার ক্রিয়া জল নিজেই সম্পাদন করছে। সুতরাং জল এখানে মুখ্য কর্তায় শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' শব্দটি কোন কর্তা?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজক কর্তা
  3. প্রযোজ্য কর্তা
  4. ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
• শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' শব্দটি প্রযোজ্য কর্তা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
১. মুখ্য কর্তা, 
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন

প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
এ বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।

তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোন কারকের ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'ছাত্ররা বল খেলে।'- বাক্যে 'বল' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
[কী দ্বারা খেলে? উত্তর পাওয়া যায়  বল দ্বারা।]

- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
.
কোন বাক্যটিতে নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে?
  1. ক) ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
  2. খ) তাকে ডেকে আন
  3. গ) ‘বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল’
  4. ঘ) সমিতিতে চাঁদা দাও
ব্যাখ্যা

নিমিত্তার্থে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়।
যেমন: বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।
সম্প্রদান কারকে কখনো দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় না।
যাকে কিছু দেওয়া হয় তা সম্প্রদান। আর যা দেওয়া হয় তা কর্ম।
যেমন: ভিখারীকে (সম্প্রদানে ৪র্থী) ভিক্ষা (কর্মে শূন্য) দাও।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি। 

.
'মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।' - বাক্যে ‘মহাতেজে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. কর্তায় ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে। (করণে ৭মী)। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) শূন্য
  2. খ) ২য়া
  3. গ) ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
-  ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ সপ্তমী বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত।
যেমন –
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।'- এখানে 'ক্লাসে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে।যেমন: ছেলেরা মাঠে খেলে। ছাত্রীরা পাঠাগারে পড়ে। বাক্যে যে পদে ক্রিয়ার আধারকে বোঝায় তাকে বলে অধিকরণ কারক।

ক্রিয়াপদ ধরে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে-এসব প্রশ্ন করলে তার উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন:
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।
[কোথায় পড়ে? ক্লাসে অর্থাৎ ক্লাসের মধ্যে। তাই ক্লাসে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

- তারা সকালে পড়ে।
[কখন পড়ে? সকালে। 'সকালে' অধিকরণ কারক।]

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- শফিক চাটগাঁ থাকে।
- তুমি এখন বাড়ি যেতে পার।

• তৃতীয়া বিভক্তি:
- পথ দিয়ে চল।
- বড় রাস্তা দিয়ে যেও।

• পঞ্চমী বিভক্তি:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।
- বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- আহারে রুচি নেই।
- এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
আলোয় আঁধার দূর হয় - বাক্যে ‘আলোয়’ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. সম্প্রদান
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
• আলোয় আঁধার দূর হয় - বাক্যে ‘আলোয়’ শব্দটি করণ কারকের উদাহরণ।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

আলোয় আঁধার দূর হয় - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আলোয়' (উপায় - আলো), তাই এটি করণ কারক।
আলোয় আঁধার দূর হয় - করণে সপ্তমী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
’লাঠির ঘায়ে সাপটি মারা পড়ল।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃ কারকে ষষ্ঠী
  2. খ) কর্ম কারকে ষষ্ঠী
  3. গ) করণ কারকে ষষ্ঠী
  4. ঘ) অপাদান কারকে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে 'নিম্নরেখ' না থাকার কারণে প্রশ্নটির উত্তর তুলে দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: ’লাঠির ঘায়ে সাপটি মারা পড়ল।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?

ব্যাখ্যা:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 
- এখানে লাঠি দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়েছে বিধায় এটি করণ করণ কারক।
- এবং 'র', 'এর' হচ্ছে ষষ্ঠি বিভক্তি। 

তাই সঠিক উত্তর - গ) করণ কারকে ষষ্ঠী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১
১১.
'পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ।' - বাক্যটিতে 'পুরাতনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।
- পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ। (অপাদানে ৭মী)।

অন্যদিকে:
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- বাবা বাড়িতে আছেন।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
দোষী ছাত্রটিকে জরিমানা করা হয়েছে।- এখানে ‘ছাত্রটিকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় দ্বিতীয়া
  2. খ) করণে দ্বিতীয়া
  3. গ) অধিকরণে দ্বিতীয়া
  4. ঘ) কর্মকারকে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
দোষী ছাত্রটিকে জরিমানা করা হয়েছে।- এখানে ‘ছেলেটিকে’ কর্মকারকে দ্বিতীয় বিভক্ত।

কর্মকারক: কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।(গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট প্রয়ােগ)।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
”পূজা অঙ্কে কাঁচা।” বাক্যটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
 যেমন:
- পূজা অঙ্কে কাঁচা।
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালে সংস্করণ)।

১৪.
‘আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম’ - বাক্যটিতে 'আমরা' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. কর্তা
  3. করণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
যেমন -
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল ।

আবার,
- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন – পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৫.
'বাবা বাড়ি নেই' - বাক্যটিতে বাড়ি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
- 'বাবা বাড়ি নেই'- এখানে 'বাড়ি' অধিকরণে শূন্য বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : আমি ঢাকা যাব। বাবা বাড়ি নেই।
খ. তৃতীয়া বিভক্তি : খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
গ. পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
ঘ. সপ্তমী বা তে বিভক্তি : এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
১৬.
কোনটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আজকে নগদ কালকে ধার।
  2. কলমের খোঁচা দিও না।
  3. রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
  4. গৃহহীনে গৃহ দাও।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
→ আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

অন্যদিকে,
আজকে নগদ কালকে ধার - অধিকরণে ২য়া।
কলমের খোঁচা দিও না - করণে ৬ষ্ঠী।
গৃহহীনে গৃহ দাও - সম্প্রদানে সপ্তমী বিভক্তি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
'তাস খেলে পড়া নষ্ট করো না।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. করণকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি
  4. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'তাস খেলে পড়া নষ্ট করো না।' - নিম্নরেখ শব্দটি করণকারকে শূন্য বিভক্তি। 

করণ কারক:
- করণ শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক, উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই বলে করণ কারক।
ক্রিয়াকে কীসের দ্বারা বা কী উপায়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন: 
- 'তাস খেলে পড়া নষ্ট করো না।' - এই বাক্যে পড়া নষ্ট করার উপকরণ হলো ''তাস''। 
- এর সাথে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি অর্থাৎ এটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
আমরা বান্দরবানে ঘুরতে যাচ্ছি।- এ বাক্যে 'বান্দরবানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে শূন্য
  2. খ) কর্মে দ্বিতীয়া
  3. গ) অধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) সম্প্রদানে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।
- আমরা বান্দরবানে ঘুরতে যাচ্ছি।

এ বাক্যে 'বান্দরবানে' শব্দে  'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়ে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
'সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে।'- এখানে 'সৌন্দর্যে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
"বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছিল।" - বাক্যে ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'স্কুলে'।

 এরূপ-
- সৌন্দর্যে কার না রুচি আছে। 
[বাক্যকে 'কোনো বিষয়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সৌন্দর্যে'। তাই বাক্যে 'সৌন্দর্য' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
'হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে' বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি?
  1. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. তৃতীয়া বিভক্তি
  4. চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২১.
'জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।' - বাক্যে 'কর্ম' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।' - বাক্যে 'জন্ম' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।
- জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।' - এখানে 'কী হোক ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কর্ম'। তাই 'কর্ম' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২.
”শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে” এখানে পাঠে শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. অপাদানে পঞ্চমী
  3. কর্মে পঞ্চমী
  4. অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন। (অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি)
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি)

এরূপ-
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
[বাক্যেকে কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পাঠে'। সুতরাং 'পাঠে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩.
অধিকরণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
  2. বিকাল পাঁচটায় দেখা হবে।
  3. চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
  4. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় দেখা হবে
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। 
যেমন-
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।

• করণ কারক:
যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

• সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কোন কারক পাওয়া যায়?
  1. করণ
  2. কর্তা
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২৫.
'গাছ থেকে পাতা পড়ে।' এখানে 'গাছ' কোন কারক?
  1. অপাদান 
  2. করণ 
  3. কর্ম 
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।

[অপাদান কারক হলো সেই কারক যা কোনো কিছুর উৎস, বিচ্ছেদ, বা প্রস্থান বোঝায়। এখানে “গাছ থেকে” বলতে পাতার পতনের উৎস বা স্থান (গাছ) বোঝানো হচ্ছে। সুতরাং, “গাছ থেকে” বাক্যাংশে “গাছ” শব্দটি অপাদান কারকে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং “থেকে” পঞ্চমী বিভক্তি। 

এরূপ-
- দুধ থেকে দই হয়।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬.
'বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।' বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার: ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২৭.
অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
  2. সুতায় কাপড় হয় না।
  3. ঘোড়ায় গাড়ি টানে।
  4. টাকায় টাকা হয়।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারকের প্রয়োগ ঘটেছে - টাকায় টাকা হয়

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়

অন্যদিকে,
- 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।' = কর্মকারক।
- এ সুতায় কাপড় হয় না। = করণ কারক।
- ঘোড়ায় গাড়ি টানে। = কর্তৃকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
"সে নদীতে সাঁতার কাটে" বাক্যে “নদীতে” শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্বন্ধে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• "সে নদীতে সাঁতার কাটে" বাক্যে “নদীতে” শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- নদীতে এখন জোয়ার আসবে।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- "সে নদীতে সাঁতার কাটে" - এখানে 'কোথায় সাঁতার কাটে?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'নদীতে'। তাই 'নদীতে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
‘গেলাসে করে দাও।’- বাক্যে ‘গেলাসে’ কোন কারক?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

• অতএব ‘গেলাসে করে দাও।’- বাক্যটিকে কী উপায়ে দাও প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘গেলাসে’। সুতরাং ‘গেলাসে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৩০.
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলে?
  1. ক) বিশেষণ পদের
  2. খ) অব্যয় পদের
  3. গ) নাম পদের
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ পদের
ব্যাখ্যা
কারক শব্দের অর্থ-যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৩১.
‘আচরণে মানুষের পরিচয়।’- এখানে ‘আচরণে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- আচরণে মানুষের পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা/ কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় “আচরণে”। সুতরাং ‘আচরণে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

- ভাসছে যেন আলগা স্রোতে।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে ভাসছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় স্রোতে। সুতরাং ‘স্রোতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
"তিলে তৈল আছে।" - এখানে 'তিলে' কোন ধরনের কারক?
  1. সম্প্রদান কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• 'তিলে তৈল আছে'- এখানে 'তিলে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। 

অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : তিলে তৈল আছে (তিলের সারা অংশব্যাপী)।   

উল্লেখ্য,
'তিলে তৈল হয়' - অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩.
"কষ্ট না করিলে কেষ্ট মিলে না।" এখানে 'কষ্ট' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• "কষ্ট না করিলে কেষ্ট মিলে না।" এখানে 'কষ্ট' কর্মকারক। 
• কি বা কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

• কর্মকারক:

- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩৪.
পয়মন্তি এলো। এখানে ‘পয়মন্তি’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক: 
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)
যেমন,
পয়মন্তি এলো- এই বাক্যে ক্রিয়াকে কে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পয়মন্তি'।
তাই, এখানে ‘পয়মন্তি’ কর্তৃকারক।
-------------------------------------- 
• কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ: 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি। 
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি। 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
নিচের কোনটি শব্দের পরে বসে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ ও বিভক্তি শব্দের পরে বসে।

• ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার - ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি
'করলাম' শব্দে 'লাম' শব্দাংশটি হলো ক্রিয়া বিভক্তির উদাহরণ।
'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো কারক বিভক্তির উদাহরণ।

• অনুসর্গ- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কীত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

অন্যদিকে,
• যেসকল শব্দাংশ ধাতুর পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬.
‘আমি বই পড়ি’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে প্রথমা
  4. অপাদানে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
যেমন;
- “আমি বই পড়ি”- এ বাক্যে পড়ার কাজটি বইকে অবলম্বন করে হয়েছে।
তাই এটা কর্মকারক এবং ‘বই’ এর সাথে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি অর্থাৎ এটি একটি শূন্য বা প্রথমা বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭.
অপাদান কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জমি থেকে ফসল পাই
  2. খ) বাবা বাড়িতে আছেন
  3. গ) ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না
  4. ঘ) শিক্ষককে জানাও
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক
যে কারকে ক্রিয়ার উত্স নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন –
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অন্যদিকে, 
শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না = সম্বন্ধ কারক
বাবা বাড়িতে আছেন = অধিকরণ কারক

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮.
‘তিনি চোখে দেখেন না’- বাক্যে চোখে’ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অধিকরণে সপ্তমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

• অতএব ‘তিনি চোখে দেখেন না’- বাক্যটিকে কার দ্বারা বা মাধ্যমে দেখেন না জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চোখে’। তাই ‘চোখে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
"মন আমার নাচেরে আজিকে।" - বাক্যে "আজিকে" কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
 
যেমন:
অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪০.
'তোমার দেখা পেলাম না।' - বাক্যে ‘তোমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ২য়া
  2. কর্ম কারকে ষষ্ঠী
  3. করণ কারকে ২য়া
  4. কর্মকারকে ৩য়া
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১.
'মাতালদের ওই ভাঁটিশালায় নটিনী আজ বীণাপাণি।' - বাক্যে ‘ভাঁটিশালায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

 
‘মাতালদের ওই ভাঁটিশালায় নটিনী আজ বীণাপাণি।’- এখানে 'ভাঁটিশালায়' হলো  অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
• ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
• উদাহরণটিতে ক্রিয়াকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে 'ভাঁটিশালায়' উত্তর পাওয়া যায় তাই 'ভাঁটিশালায়' হলো অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
 
অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
 
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।
 
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২.
'ঝিকে মেরে বৌকে শিখানো' এ বাক্যে 'ঝিকে' পদটি-
  1. কর্তায় ৪র্থী
  2. কর্মে ২য়া
  3. করণে ৪র্থী
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
ডাক্তার ডাক।
শিক্ষককে জানাও।
ঝিকে মেরে বৌকে শিখানো - কর্মে ২য়া

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩.
"ছাগলে কী না খায়।" - বাক্যে 'ছাগলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্তায় ৭মী
  3. করণে ২য়া
  4. কর্তায় ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪৪.
"সুখে থেকো, এই দোয়া করি।"- নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণকারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

প্রদত্ত বাক্যটি - 
"সুখে থেকো, এই দোয়া করি।

• উল্লিখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে (করি) 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'দোয়া'। 
অর্থাৎ,
বাক্যে 'দোয়া' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।"
৪৫.
“কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ”- “কলসটি” কোন কারকে কোন বিভক্তি
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) স্থানাধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) আধারাধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) কালাধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

কালাধিকরণঃ
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

ভাবাধিকরণঃ
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
হাসিতে মুক্তা ঝরে।
জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।

আধারাধিকরণঃ
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিকঃ
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য(নৈকট্য) অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (ঘাটের কাছে)
‘দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে। (দুয়ারের কাছে)
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপকঃ
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)
কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ। (কলসের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে আছে) 

৩. বৈষয়িকঃ
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬.
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়। এখানে 'যুদ্ধে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান
  2. সম্প্রদান
  3. অধিকরণ
  4. করণ
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক, 
২. অভিব্যাপক এবং 
৩. বৈষয়িক।

• বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন -
- রাকিব ব্যাকরণে কাঁচা, কিন্তু অঙ্কে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না' - এখানে 'সাবানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে প্রথমা
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্তায় প্রথমা
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)। (করণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮.
'গলার সবর বেদনায় করুণ হয়ে এল।' এখানে 'বেদনায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

এরূপ-
- গলার সবর বেদনায় করুণ হয়ে এল।
[গলার সবর কী উপায়ে করুণ হয়ে এল? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বেদনায়'। সুতরাং 'বেদনায়' করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা অ সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯.
"কত ধানে কত চাল তা আমি জানি।" কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

- কত ধানে কত চাল তা আমি জানি। অপাদানে ৭মী বিভক্তি।
- ধান হতে উৎপত্তি বুঝিয়েছে তাই অপাদান কারক।

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি হয়?
  1. ক) তৃতীয়া
  2. খ) পঞ্চমী
  3. গ) ষষ্ঠী
  4. ঘ) সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
-  ‘এ’, ‘য়’, ‘তে’ সপ্তমী বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত। 

যেমন –
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫১.
তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল পড়তে লাগল। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্তৃকারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল পড়তে লাগলো।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২.
আলোয় অন্ধকার দূরীভূত হয়। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) কর্ম
  3. গ) করণ
  4. ঘ) অপাদান
ব্যাখ্যা

আলোর দ্বারা অন্ধকার দূর হওয়া বোঝাচ্ছে। এখানে আলো একটি সহায়ক উপায় বা উপকরণ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৫৩.
"ছাগলে বাঘে এক ঘাটে জল খায়" - বাক্যটিতে "ছাগলে বাঘে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. কর্তা কারকে ৭মী
  4. সম্প্রদান কারকে  ৭মী
ব্যাখ্যা

• “ছাগলে বাঘে এক ঘাটে জল খায়” বাক্যে ‘ছাগলে বাঘে’ পদটি কর্তৃকারক বা ব্যতিহার কর্তার উদাহরণ।
- যেহেতু ছাগল ও বাঘ একত্রে জল খাওয়ার কাজ সম্পাদন করছে, তাই এ পদটি ব্যতিহার কর্তা হিসেবে চিহ্নিত।
- বিভক্তি: ‘ছাগল’ + এ এবং ‘বাঘ’ + এ, অর্থাৎ ‘এ’ বিভক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সপ্তমী বিভক্তির একটি উদাহরণ।
- সুতরাং, “ছাগলে বাঘে এক ঘাটে জল খায়”  বাক্যটিতে "ছাগলে বাঘে" কর্তা কারকে ৭মী বিভক্তি। 

• কর্তৃকারক:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। 
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ: 
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৫৪.
'ঘােড়ায় গাড়ি টানে' বাক্যে 'ঘােড়ায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে ৭মী
  2. খ) সম্প্রদান কারকে ৭মী
  3. গ) কর্তৃকারকে ৪র্থী
  4. ঘ) কর্তৃকারকে ২য়া
ব্যাখ্যা
“ঘােড়ায় গাড়ি টানে” বাক্যে 'ঘােড়ায়'- কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

• বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির। 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
'বাঘে মানুষ খায়' এখানে 'মানুষ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক 
  2. কর্তা কারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. করণ কারক 
  5. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

• বাঘে মানুষ খায় বাক্যে বাঘের খাওয়ার কাজ 'মানুষ' অবলম্বনে সম্পাদিত হয়েছে বলে 'মানুষ' কর্ম কারক।

----------------------
• কর্ম কারক:

প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যাকে অবলম্বন করে বা আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে কর্ম কারক বলে।
যেমন:
- রানু বই পড়ে। রানুর পড়ার কাজ 'বই' অবলম্বনে সম্পাদিত হয় বলে 'বই' কর্ম কারক। ক্রিয়ার বিষয়কে বলে 'কর্ম'।
- খুকি ভাত খায়। খুকি কী খায়? ভাত। 'ভাত' কর্ম কারক।
- 'বিহগে ললিত গীত শিখায়েছ ভালোবেসে'। শেখানো কাকে অবলম্বনে হয়েছে? বিহগকে। তাই 'বিহগে’ কারক। 

কর্ম কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক। বই এনো। বাঘে মানুষ খায় ইত্যাদি।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক। রেখো মা দাসেরে মনে ইত্যাদি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
সপ্তমী বিভক্তি: বিপদে যেন করিতে পারি জয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৬.
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। - 'দুয়ারে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ সপ্তমী
  2. সম্প্রদান চতুর্থী
  3. অপাদান সপ্তমী
  4. করণ সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আকাশে চাঁদ উঠেছে। (কোথায় উঠেছে? আকাশে)।
- রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা। (কোথায় বাঁধা? দুয়ারে) - অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- সজিব ব্যাকরণে ভাল। (কী বিষয়ে ভাল? ব্যাকরণে)।
- সকালে সূর্য ওঠে। (কখন ওঠে? সকালে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৭.
"ছাত্ররা বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক? 
  1. করণ
  2. অধিকরণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছাত্ররা বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫৮.
সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. কপালের লিখন না যায় খণ্ডন।
  2. তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।
  3. তােমার দেখা পেলাম না।
  4. নিজের চেষ্টায় বড় হও।
ব্যাখ্যা
• কারক ছয় প্রকার। যথা:
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল

অন্যদিকে, 
- কপালের লিখন না যায় খণ্ডন = অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- নিজের চেষ্টায় বড় হও = করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯.
বিপদে যেন করিতে পারি জয়- বাক্যটিতে ‘বিপদে’ কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারকে ৭মী
  2. খ) সম্প্রদান কারকে চতুর্থী
  3. গ) অপাদান কারকে ষষ্ঠী
  4. ঘ) করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
• বিপদে যনে করিতে পারি জয়- বাক্যটিতে ‘বিপদে’ কর্ম কারকে সপ্তমীর এ বিভক্তি।

•  কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন: সেলিম বই পড়ে। - এ বাক্যের কর্ম হলাে বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

•  কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০.
'তিনি ব্যাকরণে পন্ডিত'- কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়
সেটিই অধিকরণ কারক।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
- 'তিনি ব্যাকরণে পণ্ডিত।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে পণ্ডিত?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ব্যাকরণে'। এখানে 'ব্যাকরণে' তিনি পণ্ডিত হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬১.
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে- বাক্যে 'ক্রিকেট' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে শূন্য
  2. খ) অপাদানে শূন্য
  3. গ) কর্মে শূন্য
  4. ঘ) অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক: 
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।

"ছেলেরা ক্রিকেট খেলে" এখানে 'ক্রিকেট'-কে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়েছে। 
- এবং এতে কোনো বিভক্তি ব্যবহৃত হয় নি। 
- তাই এটি কর্মে শূন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৬২.
'আমার ভাত খাওয়া হলো না।' - বাক্যে 'ভাত' কোন কারক?
  1. করণ
  2. অপাদান
  3. কর্ম
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

যেমন:
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক। আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৩.
'আমি ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। - নিম্নরেখ অংশটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• 'আমি ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছি।' - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছাতার নিচে'।
তাই,
নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 

উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৪.
অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার রয়েছে কোনটি?
  1. পাখিতে বাসা বেঁধেছে।
  2. সবুজ ঘাসে ছেয়ে গেছে মাঠ।
  3. এই মেঘে বৃষ্টি হবে।
  4. তুমি যে আমার কবিতা।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক। যেমন -
→ বিচ্যুত: এই মেঘে বৃষ্টি হবে। (অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি)।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- পাখিতে বাসা বেঁধেছে। (কর্তা কারকে সপ্তমী)।
- তুমি যে আমার কবিতা। (কর্তা কারকে ষষ্ঠী)।
- সবুজ ঘাসে ছেয়ে গেছে মাঠ। (করণে কারকে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
‘তার কথা যেন মধুতে মাখা।’- বাক্যে ‘মধুতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
 
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।'- নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।'- কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।
 
করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

তার কথা যেন মধুতে মাখা।- বাক্যটিকে কার দ্বারা জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মধু’। তাই ‘মধুতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
"এক যে ছিল চাঁদেরকোনায় চরকা কাটা বুড়ি।" - বাক্যে 'চাঁদেরকোনায়' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বা তে বিভক্তি:বাড়িতে কেউ নেই। এক যে ছিল চাঁদেরকোনায় চরকা কাটা বুড়ি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭.
হইতে, থেকে, চেয়ে - বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি? 
  1. পঞ্চমী বিভক্তি
  2. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. তৃতীয়া বিভক্তি
  4. সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে
- ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৮.
‘গরুতে দুধ দেয়‘ বাক্যে ‘গরুতে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
‘গরুতে দুধ দেয়‘ - বাক্যে কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়- বাক্যে ‘ফুল’ কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃকারক
  2. খ) কর্ম কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার –
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় সবই হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
নদীতে মাছ আছে’ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. ক) কর্তায় সপ্তমী
  2. খ) অধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) কর্মে তৃতীয়া
  4. ঘ) অধিকরণে তৃতীয়া
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। এ কারকে সপ্তমী অর্থ্যাৎ ‘এ’, ‘য়’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কতিপয় অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণঃ
- তিলে তৈল আছে,
- নদীতে মাছ আছে,
- বনে বাঘ আছে,
- আকাশে চাঁদ উঠেছে,
- সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৭১.
'জনম তব কোন মহাকূলে?' - 'মহাকূলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'জনম তব কোন মহাকূলে?' - 'মহাকূলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
(খ) তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
(গ) পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
(ঘ) সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- জনম তব কোন মহাকূলে?

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'জনম তব কোন মহাকূলে?' - এখানে 'জনম কোথায়?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - 'মহাকূলে'। তাই 'মহাকূলে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২.
ডাক্তার ডাক। বাক্যে 'ডাক্তার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. অপাদানে সপ্তমী
  3. কর্মে শূন্য 
  4. করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম। 
- যেমন: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে। 

• কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার: 

প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। 
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম।
- নজরুল পড়লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।

৭৩.
নিচের কোনটি ঐকদেশিক অধিকরণ কারকের উদাহরণ?
  1. বনে বাঘ আছে।
  2. তিলে তৈল আছে।
  3. কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ।
  4. নদীতে পানি আছে।
ব্যাখ্যা
যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া সম্পাদন হয় তাকে বলে অধিকরণ কারক।
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।


আধারাধিকরণ:
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিক:
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

২. অভিব্যাপক:
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)
কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ। (কলসের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে আছে) 

৩. বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
সফিক অঙ্কে কাঁচা।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়। 

কালাধিকরণ:
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম। 
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়। যেমন-
রাতটা দু:খে কাটলো।
সে ফুর্তিতে আছে। 



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
'বনে বাঘ আছে।'- এখানে 'বনে' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন: 
- বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,  নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৫.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' - এই বাক্যে 'সাধনায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৬.
'এবারের সংগ্রাম দেশগড়ার সংগ্রাম' বাক্যে 'দেশগড়ার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী
  3. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  4. কর্তা কারকে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
→ এবারের সংগ্রাম দেশগড়ার সংগ্রাম। কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী।

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
→ আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭.
‘পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।’- বাক্যে ‘পাতায়’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান: আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

• ‘পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।’- বাক্যকে (কোথায় পড়ে?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘পাতায়’। সুতরাং ‘পাতায়’ অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮.
নিচের কোনটি অভিব্যাপক আধারাধিকরণের উদাহরণ?
  1. নদীতে পানি আছে।
  2. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  3. পুকুরে মাছ আছে।
  4. বনে বাঘ আছে।
ব্যাখ্যা
অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

অন্যদিকে,
ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯.
"শরতে শাপলা ফোটে।" - বাক্যে "শরতে" কোন কারক নির্দেশ করে?
  1. কালাধিকরণ
  2. বিষয়াধিকরণ
  3. ভাবাধিকরণ
  4. স্থানাধিকরণ
ব্যাখ্যা
কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- শরতে শাপলা ফোটে।

অন্যদিকে,
স্থানাধিকরণ:
- যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে স্থানাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- জলে কুমির থাকে।

ভাবাধিকরণ:
- একটি ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে নির্ভরশীল ক্রিয়াপদটি ভাববাচকে পরিণত হয়ে অধিকরণ হলে, তাকে ভাবাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

বিষয়াধিকরণ:
- কোনো বিষয়ে দক্ষতা বা অক্ষমতা প্রকাশে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হলে, তাকে বিষয়াধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- তিনি ইংরেজিতে ভালো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮০.
'হাতের তৈরি জিনিস আমার প্রিয়'- বাক্যে ‘হাতের’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. করণে ২য়া
  3. করণে ষষ্ঠী
  4. অপাদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 

যেমন:
- হাতের তৈরি জিনিস আমার প্রিয়।
- কি দ্বারা তৈরি? উত্তর: হাত দ্বারা।
-  এবং 'র', 'এর' হচ্ছে ষষ্ঠি বিভক্তি।
- তাই সঠিক উত্তর - গ) করণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২২)
৮১.
'আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।'- এখানে 'সাহসে' কোন কারক?
  1. অপাদান 
  2. করণ 
  3. অধিকরণ 
  4. কর্ম 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা:
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
-  কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।
• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার: ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• বৈষয়িক অধিকরণ:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
[ বাক্যকে কোন বিষয়ে দুর্জয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সাহসে'। সুতরাং 'সাহসে' অধিকরণ কারক।] 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।

৮২.
‘পৃথিবীতে কে কাহার’? - এই বাক্যে ‘পৃথিবীতে’ পদটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
  2. খ) কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. গ) কর্মকারকে ৫মী বিভক্তি
  4. ঘ) অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক: 
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন –
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।

একইভাবে,
‘পৃথিবীতে কে কাহার’? এই বাক্যে ‘পৃথিবীতে’ পদটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৩.
'ছায়ায় বস।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'ছায়ায় বস।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- ছায়ায় বস।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'ছায়ায় বস।' - এখানে 'কোথায় বস?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছায়ায়'। তাই 'ছায়ায়' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৪.
'রাজায় রাজায় লড়াই' এখানে রাজায় রাজায় কী জাতীয় কর্তা?
  1. ব্যতিহার
  2. প্রযোজক
  3. প্রযোজ্য
  4. মুখ্য
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন: 
রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে, 
প্রযোজ্য কর্তা: 
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন: 
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।
 
প্রযোজক কর্তা: 
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
 
মুখ্য কর্তা:
- যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫.
"ছিলাম নিশিদিন আশাহীন প্রবাসী।"- এখানে 'নিশিদিন' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ছিলাম নিশিদিন আশাহীন প্রবাসী। 
[ বাক্যটিকে 'কখন ছিলাম?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'নিশিদিন'। সুতরাং 'নিশিদিন' অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

অধিকরণ কারকে অন্যান্য বিভক্তি
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি বরিশাল যাবো।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৬.
'অকালে সব এক হয়ে গেল।'- বাক্যে 'অকালে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- অকালে সব এক হয়ে গেল।

[প্রদত্ত বাক্যকে কখন দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'অকালে'। সুতরাং 'অকালে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮৭.
"শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকে"- বাক্যে 'বিদ্যালয়' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরনে শূন্য
ব্যাখ্যা

• বাক্যটিতে 'বিদ্যালয়' শব্দটি কর্তায় শূন্য বিভক্তি, কারণ বিদ্যালয় নিজেই বন্ধ থাকার কাজটি করছে, তাই এটি কর্তা। এই কর্তাকে কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলা হয়।  স্থান নিজেই যদি কাজটি করে তবে স্থানটি কর্তাকারক।

ব্যাখ্যা: 
কর্তৃকারক: কর্তা বা উদ্দেশ্য যা কাজ করে বা যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়, তাকে কর্তৃকারক বলে। এখানে, 'বিদ্যালয়' নিজেই বন্ধ থাকার কাজটি করছে, তাই এটি কর্তা।
শূন্য বিভক্তি: কোনো বিভক্তি চিহ্ন না থাকলে তাকে শূন্য বিভক্তি বলে। 'বিদ্যালয়' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন যুক্ত নেই, তাই এটি শূন্য বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৮.
‘পাপ থেকে পুণ্য পৃথক’- বাক্যে ‘পাপ থেকে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
• পঞ্চমী বা  ‘হতে, থেকে’ বিভক্তি: পাপ থেকে পুণ্য পৃথক।
• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯.
"আমার ছেলেকে বকবে না।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  2. কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  3. করণকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
  4. কর্মকারকে চতুর্থী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

• "আমার ছেলেকে বকবে না।" - 
- নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ। কারণ, বাক্যটিকে 'কাকে দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ছেলেকে’। এর সাথে 'কে' দ্বিতীয়া বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

আরো উদাহরণ:
অসহায়কে সাহায্য করো। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- শিক্ষককে জানাও। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
- বাঁশি বাজে। ( কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি)।
- তাঁকে বল। ( কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯ ও ২০২২)।
৯০.
তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।- বাক্যটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) সম্প্রাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক। 

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা' বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
'এই নদীর মাছ বড়।' - বাক্যে 'নদীর' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে শূন্য
  2. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  3. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।
- এই নদীর মাছ বড়। অধিকরণে ৬ষ্ঠী

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২.
বাক্যের প্রতিটি শব্দের সঙ্গে অন্বয় সাধনের জন্য যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের কি বলে?
  1. সমাস
  2. বিভক্তি
  3. কারক
  4. সম্বন্ধ পদ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের প্রতিটি পদের সঙ্গে অন্বয় সাধনের জন্য যেসব বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের  বিভক্তি বলে। 

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদ একটি পদে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
 যেমন:
- দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম।
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর (শ্রীকৃষ্ণ)।

• কারক বলতে মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সম্পর্ককে নির্দেশ করে।

• ক্রিয়াপদরে সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন
-মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।
[এখানে 'মতিনের' সঙ্গে 'ভাই' এর সর্ম্পক আছে, কিন্তু 'যাবে' ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৩.
কোন বাক্যটিতে অধিকরণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
  2. বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
  3. আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।
  4. পাগলে কিনা বলে।
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

→ আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।
এখানে,
"প্রভাতে" শব্দটি কাল বা সময় নির্দেশ করছে, অর্থাৎ অধিকরণ কারক (কালাধিকরণ)।

অন্যদিকে,
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব। = করণ কারক।
- পাগলে কিনা বলে = কর্তৃকারক।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। = অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪.
"সে তুর্কি নাচন নাচিল।" - বাক্যে "তুর্কি নাচন" কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• 'সে তুর্কি নাচন নাচিল'- বাক্যে 'তুর্কি নাচন' কর্মকারকের উদাহরণ। 

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে "কী / কাদের/ কাকে দ্বারা" প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'সে তুর্কি নাচন নাচিল' - এখানে 'কী' নাচিল প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তুর্কি নাচন'। তাই 'তুর্কি নাচন' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
--------------------- 
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন - 
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫.
বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে? 
  1. বিভক্তি
  2. কারক
  3. প্রত্যয়
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে।
আবার,
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে নামপদ বলে। 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- অর্থ্যাৎ, বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ) অনুসারে, 
কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

অন্যদিকে,
 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৯৬.
কোনটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. আহারের আমাদের শৌখিনতার গন্ধও ছিল না।
  2. আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
  3. কাচের জিনিস অতি সহজে ভাঙে।
  4. বলাইয়ের বাবা ওকে তার কোল থেকে নিয়ে গেল।
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
আহারের আমাদের শৌখিনতার গন্ধও ছিল না।
আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
বলাইয়ের বাবা ওকে তার কোল থেকে নিয়ে গেল।

অন্যদিকে,
কাচের জিনিস অতি সহজে ভাঙে - করণে ৬ষ্ঠী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭.
"ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তাকারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• "ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।" - নিম্নরেখ শব্দটি — করণ কারকের উদাহরণ।

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।' (উপায় = ব্যবহারেই)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

• "ব্যবহারেই ইতরভদ্র চেনা যায়।" - 
- এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে/কীভাবে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ব্যবহারেই'। তাই নিম্নরেখ শব্দটি করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮.
"ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত"- বাক্যে ‘আজ’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
⇒ অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

• বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

⇒ "ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত"- বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারক। বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কাল প্রকাশ করছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে - এখানে কি বুঝাতে অপাদান কারক হয়েছে?
  1. গৃহীত
  2. দূরীভূত
  3. জাত
  4. বিচ্যুত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) বিচ্যুত
'মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে' বাক্যে 'বিচ্যুত' বোঝাতে অপাদান কারক হয়েছে। অপাদান কারক বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায় যেখান থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত (যেমন - মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়া), জাত (যেমন - দুধ থেকে দই), গৃহীত (যেমন - ঘি থেকে ঘি), আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত বা রক্ষিত হয়। 

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও 'হইতে', 'হতে', 'থেকে', 'দিয়া', 'দিয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১০০.
ভাবাধিকরণ কারকে সর্বদাই কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. পঞ্চমী
  2. ষষ্ঠী
  3. সপ্তমী
  4. চতুর্থী
ব্যাখ্যা

ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।